Search

Loading...

Friday, June 26, 2015

নিতান্তই গৃহপালিত...!

একজন ‘কায়কাউসের ছেলে’ নামে একটা জিনিস প্রসব করেছিল। কে পুরীষ প্রসব করবে কে করীষ এটা যার যার অভিরূচি! এই নিয়ে আমার আগ্রহ ছিল না কিন্তু তবুও তখন লিখেছিলাম [১], কেন?
কেবল একটা উদাহরণ এখানে দেই- অহেতুক রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যে ভঙ্গিতে লেখা হয়েছে এই লেখার পেছনের মানুষটাকে আমার মনে হয়েছিল ইতরবিশেষ! আর এই ইতরকে প্রথম আলো ‘জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার’-এর নামে যেভাবে জন্তু থেকে মানুষের ভুবনে নিয়ে এসেছিল এটাকে আমার কাছে মনে হয়েছিল স্রেফ ইতরামি।
আচ্ছা, এই ইতর যেভাবে রবীন্দ্রনাথের নাম ব্যবহার করেছে সেই নামের স্থলে প্রথম আলোর সর্দারদের কারও নাম বসিয়ে দিলে কেমন হয়?

আসলে প্রথম আলোর যে শ্লোগান “...চোখ খুলে দেয় প্রথম আলো”, আমার ধারণা ছিল প্রথম আলো এটা রূপক অর্থে ব্যবহার করে। ওরে, আমি কী জানি ছাই এটা বলে সত্যি-সত্যি আমাদের চোখ খুলে ফেলার কথা বলা হচ্ছে। চোখ উপড়ে ফেলে আমরা অন্ধ- তখন প্রথম আলো আমাদেরকে হাতে ধরে ধরে শেখাবে এটা, এটা একটা ‘করীষের ছেলে’!

ওরে কত রঙ্গ রে! এরপর আমরা প্রথম আলোর বিজ্ঞপ্তি থেকে জানলাম, “সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা প্রথমা প্রকাশন ঘোষিত এ বছরের ‘জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার ১৪২১’ বাতিল করা হয়েছে। ... পুরস্কারের শর্ত ছিল, পাণ্ডুলিপিটি প্রথমা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হবে।... বই প্রকাশের আগেই পাণ্ডুলিপিটির উল্লেখযোগ্য অংশ প্রকাশিত হয়ে যাওয়ায় এ পুরস্কার বাতিল করা হয়েছে বলে প্রথমা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শিগগিরই ‘জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার ১৪২২’-এর জন্য নতুন করে পাণ্ডুলিপি আহ্বান করা হবে।...”।
(প্রথম আলো ১৬ জুন ২০১৫)

শর্ত ছিল? কী আজব শর্ত রে, বাবা! আমার তো ক্যামেরুনের বাফুট প্রদেশের রাজাটার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। এই রাজার ১০০ বউ ৫০০ বাচ্চা! মজার ব্যাপার হচ্ছে রাজা হওয়ার আগে তার ছিল মাত্র ২ বউ। ওই দেশের নিয়ম হচ্ছে রাজা হতে হলে আগের রাজার সবগুলো বউ-বাচ্চাকে নিজের বউ-বাচ্চা বলে স্বীকার করে নিতে হয়।
শর্ত বলে কথা!
তো, কী আর করা দ্য কাউ- গৃহপালিত সাহিত্যিকগণ কলম দিয়ে যখন পশ্চাদদেশই চুলকাবেন তাহলে সানন্দে মেনে নিন এই শর্ত।

এমনিতে কাউকে পুরস্কার দিয়ে সেটা ফিরিয়ে নেওয়ার এই ভঙ্গিটা অদ্ভুতুড়ে নাকি কুতকুতে সে প্রসঙ্গ নাহয় থাকুক তবে...। ‘পুরস্কারের শর্ত ছিল, পাণ্ডুলিপিটি প্রথমা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হবে’। তা শর্ত ভঙ্গ হয়েছে? বেশ তো, শর্ত ভঙ্গ করায় প্রথমা থেকে প্রকাশিত হবে না এটা বলাটাই যে সমীচীন ছিল।
প্রথম আলো বিভিন্ন পেশার লোকজশনকে পোষে এটা আমরা জানতাম কিন্তু সাহিত্যিক পোষার শখ যে এমন তীব্র এটা আমাদের জানা ছিল না।

সহায়ক সূত্র:
১. কুতুয়া রে: http://www.ali-mahmed.com/2015/01/blog-post_27.html

Thursday, June 25, 2015

সৈয়দ মহসীন আলী, মন্ত্রীমহোদয়, করকমলেষু।

আমাদের মন্ত্রীমহোদয় একে-ওকে এন্তার কথা বলেন আমাদের জানার উপায় নেই কিন্তু সাংবাদিক মহোদয়কে 'চরিত্রহীন, লম্পট' বলেছিলেন, সাংবাদিক মহোদয়গণ চটে গেলেন।
video

ফাঁকতালে আমরাও জেনে গেলুম।


video

হালে সংসদভবনে মন্ত্রীমহোদয় গান গাইলেন। এমনিতে এই সরকারী ভবনটার তো ভাড়া-টাড়ার বালাই নেই! সরকারীভবনে বিদ্যুতবিল দেওয়া লাগে না, ক্যান্টিন ফ্রি- খরচ তেমন আর কীই-বা! তো, এখানে কেউ গান গাইলে সমস্যা কোথায়?
এমনিতে আমি বিভিন্ন সময় লিখে থাকি, প্রত্যেক জায়গার একটা নিজস্ব ভাষা আছে। গুরুগম্ভীর কোনও আলোচনায় কেউ টেবিলে উঠে ‘ধুম মাচা দে’ গেয়ে উঠলে ভাল দেখায় না ...। এখন আর এটা লেখার যো রইল না, বুঝলেন? কেবল ভালই দেখায় না, অতি উত্তম দেখায়। কেন বলছি।
স্পিকার মহোদয়কে দেখলাম সমাজকল্যাণমন্ত্রী অন্য মন্ত্রীদেরকে ভাই বলায় এই ‘ভাই’ শব্দটা এক্সপাঞ্জ করেছেন অথচ গান এক্সপাঞ্জ করেননি কারণ এটা এক্সপাঞ্জ করার মত বিষয় না। আমাদের দূর্ভাগ্য, সংসদসদস্যদের মধ্যে কোনও নৃত্যশিল্পী নেই!

অল্প দিন পূর্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নাকি এক সভায় বলছিলেন তাঁর ‘সিগারেট খাওয়া’ প্রসঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘তাঁর পোয়া’ পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে কিন্তু মুখ খুলেনি বলে তিনিসহ প্রচুর মুক্তিযোদ্ধা প্রাণে বেঁচে যান। পরে সেই পোয়াটাকে পাকবাহিনী মেরে ফেলে। এই বেদনায় সেই যে তিনি সিগারেট খাওয়া ধরলেন আজও স্টিম ইঞ্জিনের মত ভকভক করে ধোঁয়া ছাড়ছেন যত্রতত্র।
এখন আজেবাজে নিউজপোর্টালে এই ভুবনটা ভরে গেছে। তাই এমনই এক পোর্টাল থেকে আগত এই খবরটা নিয়ে গা করার কিছু ছিল না। এরিমধ্যে কেউ-কেউ বিস্তর আঁক কষে দেখিয়ে দিলেন যখন মুক্তিযুদ্ধ চলছিল তখন আমাদের সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর বয়স ছিল তেইশ বছর! অতএব...।

এদিকে এই তথ্যে আবার অনেক স্থানে কান্নার রোল পড়ে গেল। আহা-আহা, মানুষটা বুকে পাথর বেঁধে সিগারেটের উপরই বেঁচে আছেন। একজন তো এমন একটা লেখা লিখলেন তিনি মন্ত্রী মহোদয়ের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে পূর্বে যেসমস্ত লেখাগুলো লিখেছেন তা লিখে ভারী অন্যায় করেছেন ভবিষ্যতে আর এমন অন্যায় করবেন না। ওই ভদ্রলোকের লেখা পড়ে মনে হচ্ছিল পারলে তিনি উড়োজাহাজের চাকার নীচে হাত রেখে বিচ্ছিন্ন করে ফেললে খানিকটা আরাম পাবেন।
পরে অবশ্য মন্ত্রীমহোদয়ের বিষয়টা ‘কিলিয়ার’ হলো! তিনি তাঁর পোয়া বলতে সহযোদ্ধার কথা বলেছেন। যে সহযোদ্ধাকে তিনি বড়ো ‘ছেনেহ’ করতেন।

যাই হোক, মন্ত্রীমহোদয়ের প্রসঙ্গ থাকুক। এবার অন্য প্রসঙ্গ-‘একালের কলম মুক্তিযোদ্ধাদের’ সঙ্গে আমার খানিকটা দ্বিমত আছে। আমার বক্তব্য ১৯৭১ এবং ২০১৫ এক না- যেটা আমি এক লেখায় লিখেছি, '১৯৭১ সাল এবং ২০১৪ এক না' [১]
আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করি, এই দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা কী অবলীলায়ই-না অন্যের জমি অন্যায় ভাবে নিজ দখলে রাখেন।
এখন এই নিরেট সত্যটা কি আমরা চেপে যাব? কোনও মুক্তিযোদ্ধা অন্যায়-অপরাধ করলে সেটা কি আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ বলে গণ্য হবে না? আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ফ্যাক্ট, ফ্যাক্টের সঙ্গে ফ্যান্টাসি মেশাব কেন আমরা?

সালটা সম্ভবত ২০০৬ হবে। ব্লগস্ফিয়ারে তখন মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে লিখি। মুক্তিযুদ্ধে একজনের কথা লিখতে গিয়ে সব লিখলাম কেবল এই জায়গাটা চেপে গেলাম, পাকবাহিনীর ভয়ে তিনি বাথরুমে লুকিয়েছিলেন। কিন্তু অরূপ কামাল ঠিকই চেপে যাওয়া অংশটা তুলে দিলেন। সেই দিনই এটা শিখলাম সত্যকে সত্যের মতই থাকতে দিতে হয়, এটাই সত্যের জোর- প্রকারান্তরে সত্যকে গোপন করাটাও এক প্রকারের অন্যায়। সত্যের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করলে সত্যের জোরটা নড়বড়ে হয়ে যায়।

* আজ পত্রিকা থেকে জানলাম (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৬ জুন ২০১৫, পৃ: ১১), "...সর্বশেষ ১০ জুন জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে সম্বোধন না করায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন...।" 

সহায়ক সূত্র:
১. ১৯৭১ সাল এবং ২০১৪ এক না: http://www.ali-mahmed.com/2014/03/blog-post_7.html 

Thursday, June 18, 2015

লাখের বাতি- লাখ টাকার প্রিন্স!

আগেকার সময়ে লোকজন লাখপতি হলে নাকি লাখের বাতি জ্বালাতো। এখন তো আর সেই দিন নাই রে, বাপু। এখন লাখপতি হলে লোকজন প্রিন্স হয়ে যায়। বাংলাদেশের ব্যাংকে নাকি প্রিন্স মুসার লাখ টাকা আছে! আজকাল ছিনতাইয়ের যে ভয় লোকজন ভয়ে অন্তর্বাসের ভাঁজে ‘ট্যাকাটুকা’ রাখে। মুসা সেই ঝুঁকি নেননি, তিনি ব্যাংকে রেখেছেন। মুসার বুদ্ধির আমি তারিফ করি।

এই মুসার কথা আমি জেনেছিলাম, সালটা ঠিক মনে নেই। তখন সবেধন নীলমনি ইলেকট্রনিক মিডিয়া বলতে বিটিভি। বিটিভিতে মুসার একটা সাক্ষাৎকারের মত নিচ্ছিল। ফাঁকে ফাঁকে মুসার এটা-সেটা দেখাতে দেখাতে তার জুতার কালেকশন দেখানো শুরু করল। তখন তো আর লেখালেখি করি না যে লিখে রাগ কমাবো। সাদাকালো ফিলিপস ২০ ইঞ্চি টিভির স্ত্রিণে টিস্যু ছুড়ে মেরেছিলাম মনে আছে। টিস্যুর সঙ্গে ‘থুক’ ছিল এটা এখানে উল্লেখ করাটা জরুরি না। শক্ত কিছুই হয়তো ছুড়তাম কিন্তু টিভিটা আমার ছিল না, ছিল আমার বাপের। সাহস হয়নি!

যাই হোক, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ক্ষেপে চটে গেলেন। চটে গিয়ে চটি নিয়ে এলেন। হুবহু মনে নেই অনেকটা এমন; গুছিয়ে যেটা বলছিলেন যেটা হচ্ছে, ‘বিটিভি কি আমার ছেঁড়া চটিটা দেখাবে টাকা যা লাগে দেব’।
সেই প্রথম মুসা স্যারের সঙ্গে আমার ‘চিনপরিচয়’। এরপর ‘চিত্রবাংলা’ নামের আউলা-ঝাউলা টাইপের একটা পত্রিকায় মুসা মহোদয়ের বিশদ কাহিনী এই আছে-সেই আছে পড়লাম। সেখানে এটাও পড়েছিলাম প্রিন্সেস ডায়না নাকি মুসার জন্য পাগল ছিলেন। পাগল না হয়ে উপায় আছে যা একখান ‘পিগার’ রে মাইরি! তখন মুসাকে নিয়ে লিখেছিলাম [১]
মুসা একটা আবদার করেছিলেন তার পরিবারকে ‘সেভেন স্টার ফ্যামেলি’ আখ্যা দেওয়া হোক [২]

হালে মুসার সাহেবের একটা ভিডিও দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সেই ভিডিওটার শুরু হয়েছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। তারপরই বলা হচ্ছে দেশ স্বাধীন হলো, মুসা মিয়া দেশের হাল ধরলেন বৈদেশে লোক পাঠিয়ে [৩]
থাকুক সেসব পুরনো কথা। নতুন কথা হচ্ছে ফেসবুকে একটা ইভেন্ট খোলা হয়েছে মুসা লোকজনের সঙ্গে দেখা করবেন। দেখা করবেন ৭ আগস্ট অথচ এখন পর্যন্ত ২৩৪০১ জন দেখা করার জন্য অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। আমি যখন লেখাটা লিখছি এই সংখ্যাটা আরও বেড়েছে বলেই অনুমান করি। আগস্ট মাস আসতে আসতে সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বঙ্গাল বলে কথা! মুসার অনুরক্ত লোকজনেরা মুসাকে ১ টাকা করে দিয়ে আসলেও মুসা অনায়াসে ‘ক্রোড়পতি’ বনে যাবেন। তখন মুসাকে আমরা ‘কুটিপতি’ বলে সম্বোধন করব। ‘মুসা বান গিয়া ক্রোড়পতি’...।

সহায়ক সূত্র:
১. যাত্রার প্রিন্স: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_2395.html
২. সেভেন স্টার ভাঁড়: http://www.ali-mahmed.com/2011/01/blog-post_08.html
৩. একজন নুলা মুসা এবং আমাদের মিডিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2014/12/blog-post_19.html