Sunday, November 19, 2017

দেশপ্রেম এবং 'ভোটঘুম'!

আমাদের দেশে দাদারা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করেন এতে ইউনেসকোর গাত্রদাহ হয়। ইউনেসকো পাজি নচ্ছার একটা!
আমাদের দেশেরও অনেকের গা জ্বলে। দাদাদের দোষ ধরে।

দাদারা রেল সুবিধা চান। এই কারণে পাকিস্তান আমলেই আজমপুর নামক স্থানে রেলওয়ে বিপুল জায়গা অধিগ্রহণ করে রেখেছিল কিন্তু দাদারা সেপথ মাড়ান না কারণ এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের এয়ারপোর্ট, শহর।
এখন নতুন করে আবারও অধিগ্রহণ। এতে করে প্রয়োজন ১৫ কিলোমিটার জায়গা। জনগণের বিস্তর খতকিতাবত-পত্র চালাচালি করেও ফল ‘প্রায় একটা লাড্ডু’।
যাই হোক, এই ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে ১০ কিলোমিটার আমাদের দেশে হওয়ার কারণে নষ্ট হবে একরের-পর-একর জমি। এতে অবশ্য খুব একটা সমস্যা নেই আমরা বাসা বাঁধব বঙ্গোপসাগরে। আরও বিলীন হবে আমাদের বুকে জাপটে ধরে রাখা বুড়ো-বুড়িদের হাড়, ঐতিহ্যবাহি স্থাপনা, মন্দির-মসজিদ।
ওদিকে দাদাদের কেবল ৫ কিলোমিটার! এরমধ্যে কেবল ১ কিলোমিটার ধানক্ষেত আর ৪ কিলোমিটার শহরের উপর দিয়ে উড়ালরেল।
একারণেও অনেকের গা জ্বলে। দাদাদের দোষ ধরে।


লক্ষ-লক্ষ রোহিঙ্গা দিয়ে আমাদের দেশ ভরে যায়। আমরা দুম করে বলি প্রয়োজনে একবেলা খাব। বাহ, বেশ তো!
তো, মিয়ানমারকে রেহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে নিতে এবং নাগরিকত্ব দিতে জাতিসংঘে ওআইসির প্রস্তাবে ভোট দেওয়ার সময় দাদারা পেট ভাসিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন বিধায় ভোট দিতে পারেননি, আফসোস। হায় ঘুম, হায়!
দাদাদের এই ঘুমের কারণেও অনেকের গা জ্বলে। ঘুমকাতুরে দাদাদের দোষ ধরে।

কিন্তু আমি দোষ ধরা দূরে থাক দাদাদের দোষই দেখি না কারণ দেশপ্রেমিক হওয়া দোষের কিছু না।

Tuesday, October 3, 2017

নায়ক নায়িকাগণ।

এই মানুষটাকে নিয়ে পূর্বে যে লেখাটা লিখেছিলাম [১], ‘এই মানুষটাকে নিয়ে বিপদে আছি’। বিপদ তো আর একা আসে না সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে আসে। এই মানুষটা যেখানে বসে থাকত, একনাগাড়ে একে ৩০ ঘন্টাও বসে থাকতে দেখেছি! বসা মানে বসা, নড়চড় নেই- কাউকে বিরক্ত করা নেই।

কিন্তু প্রভাবশালী এক ‘ভদ্দরনোক’ আপত্তি করলেন, আপত্তির ভঙ্গিটা খুবই আপত্তিকর। কিছুই করার নেই, এখন সবই এদের দখলে। যতদিন পর্যন্ত একটা ‘হোম’ না-করতে পারব ততদিন এদের তামাশা দেখা ব্যতীত আমার উপায় নেই। একে এখান থেকে সরাতে হবে, দ্রুত। কিন্তু কোথায়? খুব অস্থির লাগে।
ওহো, চুলবুল পান্ডেদের মুখ চুলচুল করছে বুঝি, আরে বাহে, আফনের ঘরে লয়া যান না। বললেই হয়! বাপুরে, আমিও তো নাগরিক মানুষদের একজন!


যাই হোক, মনে পড়ে আরে, স্কুল ঘরটা তো খালি। ওখানে একে রাখলে কারও কিচ্ছুটি বলার যো নেই। জরাজীর্ণ একটা ঘরে স্কুল। এটার দর্শনে অনেকের হাসি-কাশি মিশে একাকার হয়ে যাবে কিন্তু জরাজীর্ণ একটা ঘরও বিপদে কী কাজে লাগে এটা এখন হাড়ে হাড়ে বুঝি। (রেলওয়ের সম্প্রসারণের কারণে এই ঘরও এখন যায়-যায় অবস্থা)

ক-দিন ধরে এই মানুষটা এখানেই। সমস্যা একটাই, এ ঘরের ভেতরে থাকতে চায় না তবে বারান্দায় হলে সমস্যা নেই। আমরা আর এটা নিয়ে হুজ্জতে গেলাম না। বাপ, তোমার যেভাবে আরাম হয় সেভাবেই থাকো।
বরাবরের মতই অযাচিত সহায়তা করতে যে লোকগুলো এগিয়ে আসে এবারও তাই হল। এরা আমার মত ‘নেকাপড়া’ করা লোক না।
সুমন নামের যে ছেলেটা একে গোসল করিয়েছে গু-মুত পরিষ্কার করেছে, সেলুনে নিয়ে

চুল কাটিয়েছে এটা চোখে না-দেখলে বিশ্বাস হবে না। ওয়াল্লা, সুমনের সঙ্গে দেখলাম এর ভাল খাতির। এক পর্যায়ে দেখলাম চুকচুক করে চা-ও খাচ্ছে! ভাল-ভাল!


এর ভোলই দেখি পাল্টে গেছে।










আর চা দোকানদারের বউটা, এই মমতাময়ী তো দেখি মমতার ঝাঁপিটা উপুড় করে দেন। এদের পাশে কী ক্ষুদ্রই না মনে হয়, নিজেকে…!

সহায়ক সূত্র: 

Monday, September 25, 2017

বিপদ!



এই মানুষটাকে নিয়ে বড় বিপদে আছি। অতীতে এহেন সমস্যার সম্মুখিন যে হইনি এমন না কিন্তু এবারের বিষয়টা ভিন্ন!
আজ  ক-দিন ধরে একে দেখছি।এই মানুষটা কিছুই চেনে না। না খাবার, না পানি! এক জায়গায় একে আমি টানা সাত ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। পা ফুলে ঢোল তাতেও এর কোনও বিকার নেই। 

অতীতে এমন বাহ্যজ্ঞানহীন মানুষকে নিয়ে কাজ করার সুবাদে এটা বিলক্ষণ জানি শুকনো খাবারই ভরসা। কিন্তু শুকনো খাবার তো আর দিনের-পর-দিন বাথরুম আটকে রাখতে পারে না। কোন এক ফাঁকে লাগোয়া স্কুলের রাস্তার সামনে বাথরুম সারার কারণে স্কুলের দপ্তরি একে বেধড়ক পিটিয়েছে।
ওই দপ্তরি মানুষটার শাস্তির ব্যবস্থা করা গেছে, সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। আলোকিত প্রসঙ্গ হচ্ছে সেই দপ্তরি নামের মানুষটা তার ভুল বুঝতে পেরেছে। কেউ বলে দেয়নি কিন্তু এই মানুষটার কাছে নাকি ক্ষমা চেয়েছে। হায়, এই মানুষটা যে ক্ষমা করারও ঊর্ধ্বে! 

যাই হোক, এখানে প্রকট যে সমস্যাটা এই ক-দিনে এই মানুষটার মুখে একটা কথাও শুনিনি। একটা টুঁশব্দও না! অসহায় এই মানুষটার চেয়ে নিজেকে বড় অসহায় মনে হচ্ছে- মানুষটা স্বজনের কাছে ফেরত পাঠাবার কোনও উপায় নেই। কোথায় যাই কার কাছে যাই- এই মানুষটার একটা গতি হওয়া যে বড়ো প্রয়োজন। একটা মানুষ তার স্বজনের কাছ থেকে, তার শেকড়ের কাছ থেকে এমন করে হারিয়ে যাবে এটা কী করে হয়! 

টানেলের শেষ মাথায় কোথাও-না-কোথাও আলো থাকে, থাকতেই হয়। আমি আশাবাদী মানুষ- আমার এটা আশা করতে দোষ কি তার স্বজনের কেউ-না-কেউ তার ছবি দেখে জলভরা চোখে বুকে জাপটে ধরে তাকে তার শেকড়ের কাছে নিয়ে যাবে। এমন অসাধারণ একটা দৃশ্য কেবল কল্পনা করতেই অদেখা এক ভাললাগা পাক খেয়ে উঠে