Search

Loading...

Saturday, February 28, 2015

রঙিন চশমা!

আজই ড. জাফর ইকবালের একটা লেখা পড়ছিলাম। দৈনিক পত্রিকায় লেখাটি তিনি লিখেছেন ‘এবারের বইমেলা’ শিরোনামে। অংশবিশেষ এখানে তুলে দিচ্ছি:
...আমি আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাউকে জিজ্ঞেস করি, ‘কী হলো? ৮টা বেজে যাচ্ছে এখনও কিছু ঘটল না’? 
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটি আমাকে আশ্বাস দিয়ে বলে, ‘ঘটবে! নিশ্চয়ই ঘটবে’। 
এবং সত্যি সত্যি ব্যাপারটি ঘটে, আশপাশে কোনো জায়গায় বিকট শব্দ করে ককটেল ফোটে। আমি মেলার শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী কিংবা মধ্যবয়স্ক মানুষের দিকে তাকাই এবং সবিস্ময়ে লক্ষ করি একটি মানুষেরও একটু ভুরু পর্যন্ত কুঞ্চিত হয় না। দেখে মনে হয় তারা সেই বিকট শব্দটি শুনতেই পায়নি। যে যার মতো মেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, কথা বলছে, বই দেখছে...।

আমি এটা পড়ে কেবল স্তব্ধ হয়ে ভাবছিলাম, এই মানুষগুলো এমন কেন? এরা কোন ভুবনে বাস করে! নাকি এই মানুষগুলোর চোখে যে রঙিন চশমা ওটা চোখে দিলে সব কিছু অন্যরকম দেখায়? এরা কী সাদাকে কালো দেখেন, কালোকে সাদা?
কেউ প্রশ্ন করতে পারেন এই দেশে তো এমন ‘অহেতুক ভাবুক’ লোকদের অভাব নেই তা কেবল জাফর ইকবাল কেন? না, অভাব আছে। রাজনীতিবিদ বা অন্য অনেকের কথাই তো আমরা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে উড়িয়ে দেই। সত্যটা হচ্ছে, ড. জাফর ইকবালকে কেউ পছন্দ করুক বা না করুক কিন্তু এই মানুষটা ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’র মত একজন মানুষ। আমাদের দেশের শিশু-কিশোরদের কাছে এই মানুষটার যাদুকরী ক্ষমতা অকল্পনীয়। কিন্তু ক্রমশ তিনি ওই প্রজন্মটাকে বাস্তবতাবিবর্জিত করে ফেলছেন, ভাবের জগতের ছানাপোনা- বাস্তবের সঙ্গে যাদের যোগাযোগ খুবই কম।

আসলে এই দেশটা কী আদৌ কোনও বসবাস যোগ্য দেশ? তাহলে মৃত্যুপুরি কাকে বলে? আমাদের দেশকে কেউ ব্যর্থ রাষ্ট্র বললে আমাদের গা জ্বালা করে ,বেশ কিন্তু তাহলে ব্যর্থরাষ্ট্রের সংজ্ঞা কী? আর কতটা ভয়াবহ হলে একটা দেশকে ব্যর্থরাষ্ট্র বলা যাবে? প্রায় দু-মাস হয়ে গেল সব অচল- হরতাল অবরোধের নামে দেশের চাকা থেমে আছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২ লক্ষ হাজার কোটি টাকা কি ছুঁয়েছে? দেখো কান্ড, এই ফাঁকে আমরা এক দলের মানুষ অন্য দলের সঙ্গে এই বাকোয়াজে লিপ্ত পূর্বের সময়ে হরতালের পরিমাণ আরও বেশি ছিল, ব্লা-ব্লা-ব্লা।

শতের উপর মানুষ আগুনে পুড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। এখনও যারা বেঁচে আছে তাদের চেয়ে যারা মরে গেছে তাঁরাই বেঁচে গেছে। আমরা যন্ত্রমানুষ এই বলে কথার খই ফোটাচ্ছি, এ আর কী, একটা লঞ্চ ডুবে গেলে তো এরচেয়েও বেশি মানুষ মারা যায়। আইনের কথা বলে সাদাপোশাকের লোকজন মানুষকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে বা কথা নেই বার্তা নেই একজন জলজ্যান্ত মানুষ গুমের নামে নাই হয়ে গেল। রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান পুলিশবাহিনী ক্রসফায়ারের নামে মেরে ফেলছে একের-পর-এক মানুষকে। ওই মানুষটাকে নাশকতাকারী বা শিবিরের ট্যাগ দিয়ে দিলে আর কোনও প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হচ্ছে না এদেরকে। কেবল একটা উদাহরণ দেই।

২৪ ফেব্রুয়ারি পত্রিকা থেকে আমরা জানতে পারছি। রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়া এবং টেকনিক্যাল মোড় থেকে ৪ জন যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ি এরা ৪জনই অতি বদ-নাশকতাকারী। এদের মধ্যে ১জন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে আর বাকী ৩জন নাশকতার সময় জনগণের হাতে গণপিটুনিতে। অথচ এই ৩জনের শরীরে মোট ৫৫টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। জনগণ গণপিটুনি দিলে এদের ৩ জনের শরীরের এতোগুলো বুলেট আসলো কেমন করে এই প্রশ্ন করা হলে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন খান বলেন, ‘জনতার মধ্যে কারও কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকতে পারে, তারা গুলি চালাতে পারে...’।

হুম, উন্নত অনেক দেশে অগা-মগাও আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পায় কিন্তু ওইসব দেশের লোকজনও কাউকে মারতে এতো গুলি খরচ করে কিনা সন্দেহ। ছায়াছবিতেও কারও শরীরে এতোগুলো গুলি কেউ করে কিনা অন্তত আমার জানা নেই। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধিকল্পে গুলি প্র্যাকটিস করার জন্য বিভিন্ন মহড়া হয়। আহা, সেইসব তো ভার্চুয়াল মহড়া এখন মহড়া হয় বাস্তবে।
টকশোত এক চুতিয়া বুদ্ধিজীবীর কথা শুনছিলাম। চুতিয়াটা বলছে, 'পুলিশ যাদেরকে মারছে তাদের মধ্যে একজনও ভাল মানুষ আছে এমনটা কি শুনেছেন...'?
লুঙ্গি নিয়ে হাইকোর্টে রুল হয়েছিল কিন্তু এই অভূতপূর্ব ঘটনা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনও রুল জারি করা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

বইমেলাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেই লেখক অভিজিৎ রায়কে প্রকাশ্যে যে প্রকারে কুপিয়ে হত্য করা হলো তা যেন আমাদেরকে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হলো কেবল ‘বেডরুম পাহারা’ (মন্ত্রীবচন) না আমরা কোথাও পাহারা দিতে পারব না। সাগর-রুনির মত অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুরও কোনও কূলকিনারা না-হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

আমরা যারা মাথা বাঁচাতে পারব না তাদের উপায় কী- আমরা কোথায় পালাব? এই দেশ ছেড়ে আমাদের আসলে পালাবার কোনও উপায় নেই। আহ, ড. জাফর ইকবালের মত একটা রঙিন চশমার বড়ো প্রয়োজন। যে চশমাটা চোখে দিলেই দিব্যি সব কিছুই ঝাঁ চকচকে, মোহনীয় রঙিন...।

Wednesday, February 25, 2015

নৈতিক-অনৈতিক এবং আমার ব্যাখ্যা।

এই লেখাটার প্রেক্ষিতে [১] কেউ-কেউ ভিন্ন মত পোষণ করেছেন কেউ আবার আমাকে মাহমুদুর রহমান মান্নার সাগরেদ বানিয়ে দিয়েছেন! বাপুরে, চোর-ডাকাতের সাগরেদ বানিয়ে দিন বুকে কষ্ট চেপে তবুও নাহয় মেনে নেব কিন্তু রাজনীতিবিদদের সাগরেদ হতে যাব কোন দুঃখে! এদের সাগরেদ হওয়ার দুঃস্বপ্নে চোখ বন্ধ করে ফেলি, ভয়ে।

আমি ওই লেখায় বলেছিলাম, “...রাষ্ট্র কখনও-কখনও কিছু কর্মকান্ড করে যেটা বাথরুম সমতুল্য যেটা প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হওয়া অসভ্যতা-অশ্লীলতার পর্যায়ে পড়ে।
আরেকটু খোলাসা করে বললে রাষ্ট্র এটা করে তার নাগরিককে রক্ষা করার নামে। রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি প্রতিষ্ঠান পুলিশ যখন কাউকে ধরে নিয়ে যায় তখন জিজ্ঞাসাবাদের সময় কেবল হালুয়া-পুরিই খাওয়ায় না এমন কিছু কায়দা-কানুন করে যেটা অনৈতিক। এখন এই কায়দা-কানুনগুলো যদি কোনও মিডিয়া ইতিবাচকভঙ্গিতে আমাদেরকে জানায় সেটা আমাদের জন্য অবশ্যই সুখের না। এটা তো মিডিয়ার কাজ না। মিডিয়া তো রাষ্ট্রের অন্ধকার দিকগুলো আলোকিত ভঙ্গিতে উম্মোচনের মুখপাত্র না।

রাষ্ট্র মান্নাকে বিপদজনক মনে করলে তাকে নজরদারিতে রাখবে কি রাখবে না বা কতটুকু সীমা লঙ্ঘন করবে সে ভিন্ন তর্কের বিষয়। ধরে নিলাম তাকে নজরদারিতে রাখা হলো, তার সমস্ত আচার-আচরণ তীক্ষ দৃষ্টিতে লক্ষ রাখা হচ্ছে। বেশ তো, প্রমাণাদিসহ রাষ্ট্র তাকে আটক করুক না। প্রয়োজনে আদালতে একটা কেন দশটা কথোপকথনের প্রমাণ দাখিল করুক, তাতে সমস্যা তো নেই।

যেটা আমি পুর্বের লেখায় লিখেছিলাম, “...তখন মনে হচ্ছিল এরা দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানেরই যোগ্য চ্যালা।
আমার দেশের সম্পাদক কি করেছিলেন? তিনি বিচারপতির স্কাইপ সংলাপ বা থাবাবাবার নামে বিভিন্ন লেখা হুবহু তার পত্রিকায় ছেপে দিচ্ছিলেন, দাঁড়ি-কমাসহ। যেটা তিনি করতে পারেন না বলেই মনে করছিলাম। কিন্তু তিনি ওই অনৈতিক কাজটাই করেছিলেন।

মিডিয়া একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এরা ইচ্ছা করলেই যা খুশি তা করতে পারে না- যথেষ্ঠ ক্ষমতা ভোগ করার পাশাপাশি সীমাবদ্ধতাও আছে। আমি একজনকে ‘চু...ভাই’ বললাম আর মিডিয়া লিখে দিল তিনি ‘...ভাই’ বলেছেন এমনটা হয় না, অসমীচীন। তাই বলে কি মিডিয়া লিখবে না, লিখবে কিন্তু খানিকটা ঘুরিয়ে ‘অশ্রাব্য ভাষা’, ‘লেখার অযোগ্য ভাষা’ ব্যবহার করেছেন। পাঠক এতেই যা বোঝার বুঝে যাবে।
আর মিডিয়া যখন যেটা খুশি সেটা করলেই আমাকে মেনে নিতে হবে কেন? অন্য একটা উদাহরণ দেই। এখন পাবলিক প্লেসে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা যত্রতত্র লাগানো হয় কিন্তু কয়টা জায়গায় এটা চোখে পড়ে যে প্রকাশ্যে এটা লিখে রাখা হয়েছে, ‘ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত’ অথচ এইটাই নিয়ম। কিন্তু তেমন কেউ নিয়মটা মানছে না বলে কি এটা নৈতিক হয়ে যাবে!

রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকান্ডের জন্য মান্নাকে গ্রেফতার করা হবে এতে কোনও সমস্যা নেই কিন্তু তাকে যে প্রকারে গ্রেফতার করা হয়েছে তা নৈতিকতার বালাই নেই বলেই প্রতীয়মান হয়। রাতে কাউকে আটক করার বিষয়ে আইনের ব্যাখ্যা কি এটা আইনজ্ঞ ভাল বলতে পারবেন। অন্য বিষয় বলি। ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল , ‘ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ’ মামলায় বিচারপতি মো. হামিদুল হক ও বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ একটি রায় দিয়েছিলেন। রায়ে এও বলা হয়েছিল, হাইকোর্টের এ নির্দেশনা আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। সেই রায়ে বলা হয়েছিল:
১. আটকাদেশ দেয়ার উদ্দেশ্যে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না।
২. কাউকে গ্রেফতারের সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে।
৩. অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির আত্মীয় বা কাছের কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের বিষয়টি অবহিত করতে হবে।

মান্নার গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কি এই নিয়মগুলো পালন করা হয়েছিল? সাদা পোশাকের লোকজনেরা কি তাদের পরিচয়পত্র দেখিয়েছিলেন? অবিলম্বে কি মান্নার আত্মীয়-স্বজনকে অবহিত করা হয়েছিল?
অবিলম্বে মানে কি ২১ ঘন্টা? আমরা জানি ২১ ঘন্টা পূর্বে এই দেশের কোন সংস্থাই এটা জানাতে পারেনি মান্নাকে কারা উঠিয়ে নিয়ে গেছে? কারও পরিবারের জন্য এ এক অবর্ণনীয়, ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতা। আজ মান্নার বেলায় এটা হয়েছে বলে এতে উল্লসিত হওয়ার কোনও কারণ নাই।

আমার স্পষ্ট কথা, অপরাধ করে কোনও অপরাধি পার পেয়ে যাবে এটা আমার বক্তব্য না। মান্না নিরাসক্ত ভঙ্গিতে যে প্রকারে বিশ্ববিদ্যালয় অশান্ত করা এবং এই অশান্ত করতে গিয়ে খুন-খারাপির কথা বলেছেন সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ কিনা এর এখতিয়ার আদালতের কিন্তু আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্য এটা গভীর উদ্বেগের, ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে শ্বাস আটকে যাওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। 
এবং এমনটায় রাষ্ট্র তাকে আটকাবার প্রয়োজন বোধ করলে আটকে রাখবে এতে অন্তত আমার কোনও কাতরতা নেই কিন্তু স্বচ্ছতা থাকুক এবং যার যার দায়িত্ব সেই পালন করুক সেটাই সবার জন্য মঙ্গল।

সহায়ক সূত্র:
১. নৈতিকতার বাবা মৃত, মা মৃতপ্রায়: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_24.html

Tuesday, February 24, 2015

নৈতিকতার বাবা মৃত, মা মৃতপ্রায়!

এর বাপ মরেছে সেই কবে, মা-টাও যায়-যায় অবস্থা। মাটা মরে গেলে বেচারা 'ইয়াতিম' হয়ে যাবে। বেচারা...!

এখন কী শ্লা নৈতিকতার কোনও বালাই-ই নেই, নাকি! মিডিয়া কী মানুষের বেডরুমেও ক্যামেরা তাক করে রাখবে? হ্যাপি-রুবেলের কথাবার্তা [১] একটি জাতীয় দৈনিকে যখন হুবহু ছেপে দিচ্ছিল তখন মনে হচ্ছিল এরা দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানেরই যোগ্য চ্যালা।
এই অসভ্যতাটা শুরু হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকে। তখন ইন্টারোগেশনের সময় শেখ সেলিম, আবদুল জলিল এবং অন্যান্যদের কথাবার্তার অডিও ক্লিপ হাতে হাতে ঘুরছিল। অবশ্য কোনও দৈনিক সেটা ছাপাবার মত অসভ্যতা করেছিল বলে আমার জানা নেই।

রাষ্ট্র কখনও-কখনও কিছু কর্মকান্ড করে যেটা বাথরুম সমতুল্য যেটা প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হওয়া অসভ্যতা-অশ্লীলতার পর্যায়ে পড়ে। কিন্তু আমরা সেসময় বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম সেই গোপন বিষয়গুলো রাষ্ট্র জনে জনে বলে বেড়াতে লাগল!
এখন আবার নতুন করে এই সব শুরু হয়েছে। বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম কেবল এই তথ্যটা দিয়েই দায় সারেনি হুবহু ছাপিয়ে দিয়েছে দাঁড়ি-কমাসহ! কেবল তাই না ইউটিউবেও আপলোড করে দিয়েছে। এদিকে এরা আবার ঘটা করে লিখেছে, 'কথোপকথন ফাঁস...'। ওরে ব্যাটা, ফাঁস কীরে আবার- কে ফাঁস করে দিল? সাদেক হোসেন খোকা না মাহমুদুর রহমান মান্না?
এই প্রশ্নটা সপাটে করতে চাই কে তৌফিক ইমরোজ খালেদী হাতে এই অডিও ক্লিপ তুলে দিল, 'ভাইবার'? ‘ভাইবার’-এর মালিক কি খালেদীর পরমআত্মীয় লাগে? নাকি মান্নাকে শুইয়ে দেওয়ার জন্য এটাও নাটকের একটা অংশবিশেষ?

ওয়েবে আমরা এমন অনেক কিছু্ই পাই যা অনৈতিক ভাবে দিয়ে দেওয়া হয় কিন্তু প্রিয় ডট কম যখন নির্বিকার ভঙ্গিতে দিনের-পর-দিন চুরি চালিয়ে যায় [২] বা বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম এহেন কর্মকান্ড করে তখন কেবল এটাই মনে হয় নৈতিকতার মার অক্সিজেন চলছে। আমি শিউরে উঠি সেই অক্সিজেনের পাইপে খালেদী এবং জাকারিয়া স্বপনের রোমশ পা দেখে, যে পাগুলো চাপা দিয়ে রেখেছে অক্সিজেনের পাইপটা।
লেখার শুরুতে যেটা বলেছিলাম, রাষ্ট্র কখনও-কখনও এমন কিছু কর্মকান্ড করে...। সম্ভবত এটা আবারও দেখতে হচ্ছে আমাদেরকে...।
*পরবর্তী লেখা: নৈতিক-অনৈতিক এবং আমার ব্যাখ্যা: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_25.html 

সহায়ক সূত্র:
১. ...আমাদের মিডিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2014/12/blog-post_19.html
২. প্রিয় ডট কম, তোমাকে কি ডাকাত....http://www.ali-mahmed.com/2015/02/priyocom.html