Search

Loading...

Wednesday, November 19, 2014

হলুদ টাকা।

বিভিন্ন রঙের হয় টাকা কিন্তু কিছু টাকার রঙ হলুদ- উঠে আসে হলুদ আবর্জনা থেকে। হলুদ টাকায় সবই শস্তায় বিক্রি হয়। মিডিয়ার সুশীতল ছায়ায় বিক্রি হয়ে যান মিলন- একজন লেখক, একজন সম্পাদক তখন জমি বিক্রির দালালের সঙ্গে দাঁত প্রদর্শন করে ফিতা ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। বিক্রি হয়ে যায় খেলাও- তখন খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত একজনের বাবা যিনি আবার এই খুন ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিস্তর কলকাঠি নাড়েন। তাদের লোকজনেরা মধ্যমনি হয়ে থাকেন খেলার মাঠেও। সর্বত্রই হলুদের জয়জয়কার!
ছবি সূত্র: দৈনিক কালের কন্ঠ, ১৭.১১.২০১৪
প্রথম পাতায় বিজয়ীদের উল্লাসের বিজয় উৎসবে শামিল হয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফওয়ান সোবহান। আমাদের মত নির্বোধ পাঠকের জন্য বাড়তি তথ্যও এখানে সংযুক্ত হয়। ‘পেছনের সারিতে মাঝে’, অর্থাৎ পেছনের সারিতে মাঝের যে মানুষটা তিনিই সাফওয়ান সোবহান। আমাদের নির্বুদ্ধিতা নিয়ে কালের কন্ঠ পত্রিকাটির বিস্তর সংশয় কাজ করে বলে এখানে অতিরিক্ত আরও তথ্য যোগ হয়, ‘সানগ্লাস পরা’। ভাগ্যিস, এখানে অন্য কেউ আর সানগ্লাস পরেননি কেবল একজন চশমা পরেছেন নইলে আরও একটা ভজকট হয়ে যেত। তখন আমাদেরকে চেনাবার জন্য অন্য উপায় খুঁজতে হতো। হয়তো লিখতে হতো, গোলাপি কোট’ বা দাঁত গুণে ফেলতে হতো।

কাউকে চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে সুপারম্যান হয়ে যাওয়া। না, সুপারম্যান হয়ে যাওয়া না- সুপারম্যানের মত পোশাক পরা। সুপারম্যানের মত প্যান্টের উপর অন্তর্বাস পড়লে না-চেনার প্রশ্নই আসে না...।

Tuesday, November 18, 2014

দুই নয়ন!

এক নয়নে বাস তাঁদের, অন্য নয়নে আমার- বড় কাছাকাছি, তবুও কেউ কাউকে দেখতে পায় না!

নয়ন প্রসঙ্গে পরে আসছি। একটু মামার কথা বলি। আমাদের এক কমন মামা আছেন। গুগলমামা! ভাগিনাদের প্রতি তিনি বড়ই উদারহস্ত, না-হক পক্ষপাতিত্ব তার। কিন্তু কখনও কখনও গুগলমামা বিকট ভজকটও করে ফেলেন। তিনি আমার মত নিরীহ মানুষকে গালও খাওয়ান। বিষয়টা একটু বুঝিয়ে বলি। কেউ কেউ গুগলে রগরগে লেখা দিয়ে সার্চ দেন। দুধ লিখে কেউ সার্চ দিলেন। মানে কেবল দুধ না এর আগেপিছনে আরও কিছু শব্দ যুক্ত থাকে। পাঠককে আমি আমার চেয়েও বুদ্ধিমান মনে করি বিধায় আপাতত ‘...দুধ’ লিখেই কাজ সারছি।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার একটা লেখা আছে। জনাব, দুলা মিয়াকে নিয়ে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে দুলা মিয়ার মত অসমসাহসী আগুনমানুষ খুব একটা আছেন বলে আমার মনে হয় না। তাঁর সাহসের কথা রূপকথাকেও হার মানায়! অথচ এমন একজন মানুষের শেষশয্যা যেখানটায় হয়েছিল তার চিহ্ণও আমরা রাখিনি। অথচ দুলা মিয়ার কবরের পাশেই একজন অখ্যাত ফকিরের সমাধিকে পারলে আমরা মখমল দিয়ে মুড়িয়ে রাখি! এই নিয়ে একটা লেখা ছিল আমার, ‘আমরা দুধ বিক্রি করে শুটকি খাওয়া জাতি’ [১]

তো, গুগলমামা, বদ-মামা সোজা আমার এই লেখাটা দেখিয়ে দেন। এখন চিন্তা করে দেখুন, বিশেষ কারণে উত্তেজিত লোকজন যখন ‘ইয়ের দুধ’ লিখে সার্চ দিয়ে এই লেখাটা পড়া শুরু করল তখন সে তো আর আমাকে গালি না দিয়ে ‘শাবাসি’ দেবে না। মামার কারণে নিরীহ ভাগিনা বিনাদোষে গালি খায়। কী আর করা, কপাল! মামা বলে কথা!

আমি যে ওয়েব সাইটটাতে লিখি (ali-mahmed.com) গুটিগুটি পায়ে সেটার পেজ-ভিউ ৪ লক্ষ ছাড়াল।
অনেকে তাচ্ছিল্যের দেখনহাসি হাসবেন। হয়তো-বা এদের কাছে বিষয়টা হাসিকা। এদের দোষ দেই না কারণ এখন সময়টা বড় অস্থির, সব কিছুই বড়ো দ্রুত। আমার মত মানুষের পক্ষে তাল মেলানো বড়ো কঠিন। উদাহরণ দেই, এখন ফেসবুকের কল্যাণে কারও কারও ফলোয়ারের সংখ্যা লাখের উপর! অনুগত বাহিনী লেলিয়ে দিলে এরা মাত্র চার দিনেই ৪ লক্ষ পেজ-ভিউয়ের কাজটা করে ফেলতে পারবেন এতে আর সন্দেহ কী! কিন্তু আমার কাছে যে ‘সির আঁখো পে’। আঁজলাভরা শিউলি ফুল কোথায় রাখি!

এমনিতে কখনও কখনও আমি আমার নিজের লেখা নিয়ে বড়ো হতাশ হই। প্রায়শ একটা ভাবনা কাবু করে, কী লিখি, ছাই! কী হয় এই সব লেখালেখি করে, ঘন্টা। এমন মুহূর্তে আয়নার সামনে দুই নয়নের চোখাচোখি হয়। রে, নয়ন চকোর...।

১. আমরা দুধ বিক্রি করে শুটকি খাওয়া জাতি: http://www.ali-mahmed.com/2009/08/blog-post_05.html

Sunday, November 16, 2014

আহ, জী-ব-ন!

কোনও এক লেখায় লিখেছিলাম, “জীবনকে দেখতে হয় মৃত্যুপথযাত্রী একজন মানুষের চোখ দিয়ে। তখন ধূসর পাতা কী চকচকেই না মনে হয়। কুৎসিত মুখখানাও মায়া-মায়া, ঢলঢলে। পাঁজরে আটকে থাকা ছোট্ট শ্বাসটাও রাবারের মত টেনে টেনে লম্বা করার কী এক প্রয়াস!"
এই যে মানুষটা শাহেনশার (!) মত পায়ের উপর পা তুলে অঘোরে শুয়ে আছেন। ভাল করে লক্ষ করতে বোঝা যাবে বাঁ পায়ের পাতা নেই কিন্তু ‘কুচ পারোয়া নেহি’!
আমার ইচ্ছা করছিল এই মানুষটার করোটিতে উঁকি দিয়ে দেখি এর কাছে জীবনের অর্থ কী!