Search

Loading...

Saturday, September 24, 2016

নেমন্তন্ন!


এখানকার থানাভবন উদ্বোধন হবে, পুলিশ সুপার মহোদয় এই কাজটা করলে সমস্যা ছিল না কিন্তু স্বয়ং আইজিপি মহোদয় তকলীফ করে চলে এসেছেন। উদ্বোধন বড়ো কঠিন জিনিস এই এলাকাতেই একবার ফায়ার ফাইটিং স্টেশন উদ্বোধন করার জন্য  নাসিম সাহেব হেলিকপ্টারে করে উড়ে চলে এসেছিলেন- তিনি তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

যাই হোক, তিন টাকা দামের কলমবাজ আমি 'দাওয়াতিয়া' টাইপের মানুষ না যে ঘটা করে দাওয়াত দেওয়া হবে আর জেনে বসে থাকব। কিন্তু না-জেনে উপায় কী! জেলা শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গেছি জরুরি একটা কাজে। আমার নিজস্ব কোনও গাড়ি নাই পা-ই লোটাকম্বল, এই-ই সম্বল। যেখানে পা চলে না সেখানে ত্রিচক্রযানই ভরসা যার চালু নাম সিএনজি। ওয়াল্লা, আজ কোনও সিএনজি আখাউড়া পর্যন্ত যাচ্ছে না। কেন রে বাপু? তখন গিয়ে জানলুম ঘটনা! একজনকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, বাপ, বিষয় কী? সে আবার পুলিশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানাল, হাইওয়েতে সিএনজি ওরফে স্কুটার চলাচল নিষেধ। বেশ-বেশ, জেনে ভাল লাগল কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞাটা কেবল আজই জানা গেল, পালন করা হলো! তা ভালই, রাস্তা ফাঁকা!

আমার দাওয়াত না-পেয়ে মন খারাপ করার সুযোগ নেই কারণ স্কুলের ছেলেমেয়েরা তো নিমন্ত্রণ পেয়েছে। আজ স্কুল অলিখিত ছুটি- আনন্দই আনন্দ। আনন্দ ঝরনা!
video


Tuesday, August 30, 2016

ঠান্ডা মাথার খুনি!

স্কুলছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিসাকে মেরে ফেলা হয়েছে। ওবায়দুল নামের এক দরজি ব্যাটার ছুরিকাঘাতে রিসার মৃত্যু হয়। ঘটনাটা সবার জানা। দরজি ব্যাটা রিসার ফোন নাম্বার পাওয়ার পর রিসাকে উত্ত্যক্ত করত। এই করে-করে রিসাকে এক সময় ছুরিই মেরে বসে।
এই খুনের জন্য আইনে তার যে শাস্তি পাওনা তা নিয়ে কোনও প্রকার দ্বিমত নাই। রাষ্ট্রকে কখনও কখনও নিষ্ঠুর হতে হয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাউকে-কাউকে মেরে ফেলা ব্যতীত উপায় থাকে না।
এই দরজি ব্যাটার লেখাপড়ার দৌড় খুব একটা নাই এমনটাই প্রতীয়মান হয়। সিনেমায় যখন শিক্ষিত নায়িকাকে অশিক্ষিত নায়ক বা নায়িকাকে নায়ক উত্ত্যক্ত করে গায়ের জোরে উঠিয়ে নিয়ে আসে তখন আমরা যে বেদম হাততালি দিতে গিয়ে এমনই মশগুল থাকি যে পেছনে দাঁড়ানো ওবায়দুলকে লক্ষ করি না! বা ‘টিনের চালে ঢিল মারবেন কেন মিসকল দিন', বলে ফোন কোম্পানিগুলো ঘটা করে বিজ্ঞাপন দেয় তখন আমরা পরিবারের সবাইকে নিয়ে বিমল আনন্দে আনন্দিত হই। ভ্যালুজের তো আর এখন কোনও বালাই-ই নেই…।

এমনিতে যখন কেউ এখানে-সেখানে রাস্তায় কোনও মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে তখন আমরা না-দেখার ভান করে সরে পড়ি। বাই এনি চান্স,কেউ অভিযোগ করলেও আইনের লোকজনেরা খুব সূক্ষ ভাবে খেয়াল রাখেন সেই বীরপুঙ্গব ক্ষমতাশীন দলের পোলাপানরা কি না? ফল যা হওয়ার তাই হয় যে-কোনও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা রাজপথ বেছে নেই। রাজপথে না-গিয়ে আমরা খুব একটা আরাম পাই না। সেটা খুনের বিচার হউক বা হলের দাবী অথবা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন খুনের বিচার!

চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে জড়িত লোকজনেরা জানেন রক্তক্ষরণে সময় কতটা মূল্যবান। সেখানে রিসার বেলায় আমি কেবল চোখ বন্ধ করে ভাবছি এখানে কত,কতটা অমূল্য সময়েরই না-অপচয় হয়েছে! বাংলা ট্রিবিউন নামের নিউজ পোর্টাল জানাচ্ছে:
…সেখানে উপস্থিত ছিলেন রিশার বাবা মো. রমজান হোসেন, মা তানিয়া হোসেনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। রিশার অভিভাবকরা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রিশা ছুরিকাহত হয় স্কুলের সামনের ফুটওভার ব্রিজে। সেখান থেকে সে রক্তাক্ত অবস্থায় এসে দাঁড়ায় স্কুলের ভেতরে, তখন তার পেটের বাম দিক থেকে রক্ত পড়ছিল। কিন্তু তখন স্কুলের গাড়িটা পাশেই ছিল, কর্তৃপক্ষ তাকে গাড়িটা দেয়নি। কোনও শিক্ষক এগিয়ে আসেননি।
…স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল বলেছেন, মামলা হবে, ধরা যাবে না।’ রিশার মা বিলাপ করে বলেন, ‘আমার বাচ্চার রক্ত পড়তেছিল, কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালসহ কেউ এগিয়ে আসেননি। শিক্ষার্থীরা কোলে করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে, পেটের ভেতর থেকে নাড়ি বের হয়ে গিয়েছিল।’ এ সময় তিনি স্কুল কম্পাউন্ডে থাকা গাড়ি দেখিয়ে বলেন, ‘ওই যে কতগুলো গাড়ি, কিন্তু আমার বাচ্চাকে কেউ একটা গাড়ি দেননি। দিলে আমার বাচ্চা বাঁচতো, ওরে তাড়াতাড়ি নেওয়া যেত হাসপাতালে।’…” (সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন: http://tinyurl.com/z9p3bfq)

বাবারা যখন মাঠে-ঘাটে-আপিসে থাকেন তখন তার সন্তান থাকে স্কুল নামের এমন-এক প্রতিষ্ঠানে যেখানে শিক্ষক নামের অন্য এক পিতা। যিনি হাত ধরে-ধরে শেখান…। নামকরা স্কুল যেহেতু তাই অনুমান করছি আমাদের এই ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মহোদয়ের অফিসরুম ঠান্ডা-ঠান্ডা কুল-কুল। যথারীতি তার মাথাও ঠান্ডা থাকার কথা ওবায়দুলের মত গরম হওয়ার কথা না। রিসার পরিবারের অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে তিনি যে কাজটা করলেন এটাকে কেন ঠান্ডা মাথার খুন বলা হবে না?

Tuesday, August 9, 2016

তথ্যসেবা!

গুলশান হামলায় হাসনাত রেজা করিম এবং তাহমিদ হাসিব খান জড়িত থাকলে তাদের অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি হউক এতে কোনও দ্বিমত নাই। তবে হাসনাত অপরাধী চিহ্নিত হলে আমার চেয়ে হতবাক আর কেউ হবে না কারণ অতি নিকৃষ্ট কোনও অপরাধীও এমন নির্বোধ, কল্পনাতীত আচরণ করবে না।
আমার মত বোকাসোকা মানুষের মাথায় এটা আসে না যে এমন একটা দক্ষযজ্ঞে, এমন একটা ভয়ংকর কর্মকান্ডে হাসনাতের সশরীরে উপস্থিত থাকার আদৌ প্রয়োজন কী! তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম তার উপস্থিতি ব্যতীত উপায় ছিল না। বেশ, কিন্তু এমন একটা স্থান, যেখানে পুলিশ-আর্মি-জঙ্গির ফসকে যাওয়া গুলিতে যে-কারও মারা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল সেখানে প্রিয়মানুষকে, স্ত্রী-সন্তানকে রাখতে হবে কেন? এটা তো রগরগে কোনও থ্রিলারকেও হার মানায়। এই সব গুছিয়ে যদি হাসনাত এই প্ল্যানটা করে থাকে তাহলে বলতে হবে হাসনাতের মত মানুষ কেবল এই দেশেই না এই গ্রহেও বিরল! এমন একটা মানুষের পদোদক, পা চুবনেো পানি না-খেয়ে সকালে ব্রেকফাস্ট করাটা সমীচীন হবে না।

এমন একটা দেশে বসবাস করি যেখানে নিজের উপরই আস্থা হারিয়ে ফেলি সেখানে কার কথায় বিশ্বাস করব সেটাই তো বুঝে উঠতে পারি না! কী বিচিত্র এই দেশ! ৩২ দিন পর হাসনাত রেজা করিম এবং তাহমিদ হাসিব খানের খোঁজ পাওয়া গেল! কী খোঁজ, কেমনতরো খোঁজ? ৩২ দিন পর ফৌজদারি ৫৪ ধারায় পুলিশ তাদেরকে আটক করেছে। ৫৪ ধারা নামের কালো আইন নিয়ে এখানে আলোচনা করি না। তা এই ৩২ দিন ধরে এই দু-জন মানুষ কোথায় ছিলেন? এই নিয়ে ইঁদুর-বেড়াল টাইপের একটা খেলা চলছিল। পুলিশ বলে আসছিল গুলশান হামলার পর এদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর-পরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু এদের পরিবারের লোকজন ক্রমাগত বলে আসছিলেন যে এরা তাদের কাছে নাই।
প্রকারান্তরে বলা এরা পুলিশের কাছে বা সরকারের হেফাজতে আছেন। আমার মত কমবুদ্ধির লোকজনরা পড়লাম গিয়ে বিপদে- সোজা গাড্ডায়। কার কথা বিশ্বাস করব? আর সরকার তো এর দায় এড়াতে পারে না। এদের কার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল? কোনও আইনজীবী, খুব কাছের কোনও স্বজনের কাছে তাহলে তো আর তাদের পরিবারের এই নিয়ে উচ্চবাচ্য করার সুযোগ থাকত না আমরাও দু-কথা শুনিয়ে দিতে পারতাম না।

তা ৩২ দিন ধরে এই মানুষগুলো ছিলেন কোথায়? পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন? না আকাশ পাড়ি দিয়েছিলেন নাকি পাতালে সেঁধিয়ে গিয়েছিলেন? সরকার ব্যতীত এই সমস্ত তথ্যসেবা পাওয়ার তো কোনও যো নাই। আহা, সরকার বেচারা কী করবে, কত করবে- আমাদের স্বল্প করের টাকায় কত আর তথ্যসেবা দেবে? এই তো সেদিন আমাদের অর্থমন্ত্রী মহোদয় বেসরকারি খাত প্রসঙ্গে বলছিলেন, “সরকারের সহায়তা পাওয়ার জন্য বেসরকারি খাতকে আরও রাজস্বের যোগান দিতে হবে, বর্তমান রাজস্ব দিয়ে হবে না।
এ-ই এলো বলে, সরকারের তথ্যসেবা পাওয়ার জন্য সাধারণ জনগণকে আরও করের টাকার যোগান দিতে হবে, বর্তমান করের টাকায় হবে না…।