Search

Loading...

Saturday, February 6, 2016

‘ডাগদর কাম ল্যাকক’।

শ্রীলংকায় জন্ম নেওয়া স্যার স্ট্যানলি ডেভিডসনের ‘মেডিসিন’ কিতাবখানা কয় কোটি বিক্রি হয়েছিল জানি না তবে বাংলায় জন্ম নেওয়া অধ্যাপক এ কে এম ডা. ফজলুল হকের এই কিতাবখানা ৫০ কোটির কম বিক্রি হয়েছে বলে অন্তত আমি বিশ্বাস করি না!
অনেকেই অবিশ্বাসে মাথা নাড়ছেন এটা আমি মনশ্চক্ষে দেখতে পাচ্ছি কিন্তু আমি আঁক কষে বলে দিতে পারি।

২৩ কোটি মানুষ বাংলায় কথা বলে। প্রত্যেকে মাথাপিছু ৪-৫টা করে এই কিতাব ক্রয় করলে ৫০ কোটি কী খুব একটা বড় অংক, একশ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়াও বিচিত্র কিছু না। কামানের গোলার ন্যায় কেউ-কেউ এই প্রশ্নটা ছুড়ে দেবেন ডা. ফজলুল হকের এই কিতাব কেন প্রত্যেকে ৫ কপি করিয়া খরিদ করিবে?

আহা, এও আমাকে বলে দিতে হবে বুঝি! একটা থাকবে স্টাডিতে সাজিয়ে রাখার জন্য। আরেকটা শোয়ার ঘরে। এই কপিখানা পেটের উপর পা রেখে, না-না, ভুল বললাম; পেট ভাসিয়ে দেওয়ালের উপর পা রেখে পড়ার জন্য। অন্যটা সঙ্গের ঝোলায় সর্বদা থাকবে, বাসে-ট্রামে-যানজটে পড়ার জন্য।
বইটার নাম যেহেতু ‘পাইলস, ফিস্টুলা, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ও ক্যান্সার’ তাই টাট্টিখানায় একটা বই থাকবে না তা কী হয়! আরেকটা বই কেউ ‘হুদাহুদি’ কিনলে আটকাচ্ছে কে? এই কারণে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক মহোদয় ‘উস্কানি কিতাব’ ক্রয় করার অপরাধে সিপাহি লেলিয়ে দেবেন এমনটা শত্রুও বলবে না।
এমনিতে এই সমস্ত বইকে বই বলার নিয়ম নেই সম্ভবত, গ্রন্থ বলাটাই সমীচীন।
এই ডাগদর সাহেবের ‘পাইলস, ফিস্টুলা, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ও ক্যান্সার’ গ্রন্থখানার বিজ্ঞাপন আমাদের দেশের বহুল প্রচারিত দৈনিকগুলোতে বছরজুড়ে প্রকাশিত হয় ডাগদর সাহেবের ছবি-মোবারক, কালো গোঁফসহ। নিয়ম করে যে-হারে বিজ্ঞাপন ছাপা হয় এতে করে এই ধারণাটা দোষের হবে না যে এপার-ওপার বাংলা মিলিয়ে এমন বইয়ের বিক্রির রেকর্ড অন্য আর কারও নাই।

এমনিতে বছরজুড়ে দূরের কথা হাতে গোনা কয়েক প্রকাশনী ব্যতীত অন্যরা ফেব্রুয়ারির বইমেলা ব্যতীত বই প্রকাশ করেন না! বইমেলা এলেই বই ছাপার হিড়িক শুরু হয় এবং তথাকথিত জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকগণ অমার্যাদার সঙ্গে নিজেদের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজেরাই দেন [১]। ওরে, এটা তো কথাসাহিত্যিকদের বেলায় ইনি তো কথাসাহিত্যিক নন যে নিজের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজেই দেবেন।
অবশ্য ডাগদর সাহেবের লেখা চটি টাইপের এই জিনিষ কোন প্রকাশনী প্রকাশ করেছে এটা আমি বিস্তর চেষ্টা করেও উদ্ধার করতে পারিনি।
(এই ডাগদর সাহেবকে নিয়ে পূর্বেও লিখেছিলাম [২]। এমন বিচিত্র ডাগদর আমাদের দেশে বিরল)

সহায়ক সূত্র:
১. সবই পেশা কিন্তু…: http://www.ali-mahmed.com/2011/02/blog-post_12.html
২. হর্স-মাউথ: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_19.html

Thursday, February 4, 2016

একালের খেলোয়াড়, মহোদয়গণ!

একজন কবি জীর্ণ ছালের আড়ালে ‘কায়কাউসের ছেলে’ নামে কেবল বিস্তর আবর্জনাই উৎপন্ন করেননি এক ধরনের সামাজিক অপরাধও করেছিলেন। কী জানি, বা হতে পারে এর মাথায় গোলমাল ছিল!
নইলে এই লোক কবিতার নামে এটা লেখে কেমন করে “…রবীন্দ্রনাথকে থাপড়াইলাম…তার ওপর মূত্র বিসর্জন করিলাম…।“ এ আবর্জনা-মাস্টারের সঙ্গে আমার মতো মানুষের জানাশোনা হতো না যদি-না প্রথম আলো ‘জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার’-এর নামে একে জন্তু থেকে মানুষের ভুবনে নিয়ে আসত।
অন্যত্র এক লেখায় যেটা আমি লিখেছিলাম:
"আচ্ছা, এই ইতর যেভাবে রবীন্দ্রনাথের নাম ব্যবহার করেছে সেই নামের স্থলে প্রথম আলোর সর্দারদের কারও নাম বসিয়ে দিলে কেমন হয়"?
এই সব স্যারদের কে বোঝাবে সব আবেগ নিয়ে খেলা করা চলে না, যা-ইচ্ছা তা লেখা যায় না। লিখলে সেটা হয় ‘কুতুয়াসাহিত্য’!

সম্প্রতি একজনের বদৌলতে আরিফ আর হোসেন নামে একজনের একটা ‘ইসটাটাস’ পড়ার দূর্ভাগ্য হয়েছে আমার। এক জায়গায় তিনি লিখেছেন, “হাতের ঝাড়ুই হবে অস্ত্র...এখন লাগবে কিছু মুক্তিবাহিনী…।”
লেখাটায় ভাল একটা উদ্যোগের কথা তিনি লিখেছেন সে ভাল কথা কিন্তু ঝাড়ু হবে অস্ত্র…এখন লাগবে কিছু মুক্তিবাহিনী, এই সব লিখতে হবে কেন?

এখন এই একটা নতুন ফ্যাশন চালু হয়েছে প্রয়োজন থাকুক বা না-থাকুক আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদেরকে যে-কোনও প্রসঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর কথা বলে লাভ নাই কারণ এদের ভাব দেখে মনে হয় সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাই কোনও-না-কোনও দলের সঙ্গে জড়িত! এর বাইরে কেউ নাই, কিচ্ছু নাই।

তো, স্যারদের বিনীত ভঙ্গিতে বলি, মুক্তিযুদ্ধ কোনও খেলা ছিল না! এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের স্বজনদের অবিরাম রক্তের স্রোত। অন্য ভুবনের সহ্যাতীত যন্ত্রণা! দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করা যায় না এমনসব কষ্ট! একটা পরিবারের ২৫ জনকে খুন করা হয়েছে ওই দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে সাদী মহাম্মদ [১] নামের যে শিশুটি বেঁচে গিয়েছিল তাঁর চোখে চোখ রাখার ক্ষমতা আমাদের কোথায়?

একজন মশিহুর রহমানকে [২] পাকিস্তানিদের স্বপক্ষে সই করাবার জন্য চাবুক মেরে মেরে গায়ের চামড়া খুলে ফেলা হয়েছিল। একে-একে কেটে ফেলা হয়েছিল হাত-পা তবুও তিনি সই করেননি! আমরা, এই প্রজন্মের এই ত্যাগ বোঝার মত মগজ কোথায়?  
ঠিক ১৬ ডিসেম্বরেই মুক্তিযোদ্ধা সুরুয মিয়া [৩] আত্মহত্যা করেছিলেন, কেন? এটা জানার আগ্রহ কোথায় আমাদের!

একজন উক্য চিং [৪]। যিনি ১৯৭১ সালে পাকআর্মির দ্বারা আমাদের নারীদের সম্ভ্রমহানীর প্রতিবাদে পাক-কমান্ডারসহ তার সহযোগীদের পুরুষাঙ্গ কেটে প্রকাশ্য রাস্তায় ফেলে রেখেছিলেন। এমন বীরকে আমাদের শিশুদের সামনে উপস্থাপন করার সদিচ্ছাই বা কোথায় আমাদের?
ইতিহাসের পাতায় বড়ো ম্লান ভাগিরথী [৫], রীনা [৬], প্রিনছা খেঁ [৭]। একজন দুলা মিয়ার [৮] শেষশয্যার খোঁজও আমরা পাই না। এমন কতশত উদাহরণ লিখে শেষ করাও যে যো নেই।

অথচ এখন এদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ-মুক্তিযোদ্ধা যেন একটা খেলার বিষয় হয়ে গেছে। যে যেমন করে পারছে, ইচ্ছা করছে...। এরা এটা বুঝতে চাইছে না যে-সমস্ত আবেগে আমরা থরথর করে কাঁপি সেই সমস্ত আবেগ নিয়ে খেলা করা চলে না।
আজ কেউ খেলাচ্ছলে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ঝাড়ু ধরিয়ে দিচ্ছে কাল অন্য কেউ দু-চার জন বেঁচে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে কাঠের থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের ডামি ধরিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করবে। সাহেবসুবোরা দেদারসে লাল পানি গিলে এসে উল্লাসভরে সেই প্রদর্শনী দেখবেন। হলুদ দাঁত বের করে পেটকাঁপানো হাসির উল্লাসে বলবেন, "ওয়াও, হোয়াড আ মুক্টিজুড্ডা..."।

সহায়ক সূত্র:
১. সাদী মহাম্মদ: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/1971.html
২. মশিহুর রহমান: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_06.html
৩. সুরুয মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_28.html
৪. উক্য চিং: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8752.html
৫. ভাগিরথী: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_6057.html
৬. রীনা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_7644.html
৭. প্রিনছা খেঁ: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_27.html
৮. দুলা মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_08.html 

Saturday, January 30, 2016

হানিফ সংকেত- অন্ধতমিস্র, আঁধারের শিক্ষক!

হানিফ সংকেত নামের মানুষটা ফজলে লোহানির হাত ধরে এই আলোকিত ভুবনে এসেছিলেন। ফজলে লোহানি অজানার দেশে চলে যাওয়ার পর এই মানুষটাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ক্রমশ একলা-একলি এক আলোকচ্ছটায় রূপান্তরিত হয়েছিলেন। এরপর তো ইতিহাস!

কায়দাদুরস্ত হানিফ সংকেত তাঁর ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে বছরের-পর-বছর ধরে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, এখনও! কালে কালে তিনি নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠলেন। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এ অভূতপূর্ব! এই প্রজন্মের একটা স্যালুট তিনি পাওনা হন এতে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু এই করে করে বছরের-পর-বছর কেমন করে পার করে দিলেন এটা দেখে স্যালুটটা ফিরিয়ে নেওয়াটা দোষের হবে বলে মনে করি না।
এমনিতে হেন কোনও অসঙ্গতি নেই যা নিয়ে কটাক্ষকরা তাঁর অনুষ্ঠানে উঠে আসে না। এন্তার অসঙ্গতি নিয়ে তিনি আমাদেরকে শিক্ষা দেন। ফাঁকে-ফাঁকে নাচ-গান তো আছেই।

কত বছর পূর্বে ইত্যাদি অনুষ্ঠানে ‘হোটেল সালাদিয়া’ নামের এই গানটা শোনা হয়েছিল মনে নেই। বহু বছর পর Download Free24-এর কল্যাণে ইউটিউবে গানটির খোঁজ পাওয়া গেল, কৃতজ্ঞতা। হানিফ সংকেত জানাচ্ছেন গানটা লিখেছেন লিটন অধিকারী রিন্টু এবং গেয়েছেন সান্টু। রিন্টু-সান্টু, সান্টু-রিন্টু, সান্টু-সান্টু-সান্টু, রিন্টু-রিন্টু-রিন্টু 'ইত্যাদি' অনুষ্ঠানে ঘুরেফিরে আমরা রিন্টু এবং সান্টুর নামই শুনে এসেছি।
এ আরেক একলসেঁড়ে-অসামাজিক ভাবনা! এই দেশে রিন্টু এবং সান্টু ব্যতীত গায়ক, গীতিকার নাই! সবাই বানের জলে ভেসে গেছে? আফসোস, বড়ই আফসোস- এই দেশ কবে পরিবারতন্ত্র স্বজনপ্রীতি থেকে বেরিয়ে আসবে কে জানে! যাই হোক, আমরা হোটেল সালাদিয়া গানটা শুনি:
video
সূত্র: Download Free24 (https://www.youtube.com/watch?v=yzMzyWzIGCo)
বেশ-বেশ, কেটে গেলে মুগ্ধতার রেশ এখন আমরা তাহলে ইগলসের অসাধারণ অসম্ভব বিখ্যাত ‘হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া’ গানটার কথা আলোচনায় নিয়ে আসি। যে-গানটি কোটি-কোটি শ্রোতাকে এমনই আলোড়িত করেছিল যে এই গান নিয়ে গুজবের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা এমন ডালই না মেলেছিল যে সেখানে রোদ ঢোকারও উপায় ছিল না। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। তারচেয়ে বরং গানটা শোনা যাক:
video
হায়, এরা তো ভাল করে চুরি করাও শেখেনি!  বটে রে, এহেন চৌর্যবৃত্তির জন্য আবার সুরকার গায়কেরও প্রয়োজন দেখা দেয়? যে মানুষটা ক্ষণে ক্ষণে নীতিকথা কপচান সেই মানুষটাই যখন ‘দিন দাহাড়ে’, চোখ ধাঁধানো আলোয় আয়োজন করে বছরের-পর-বছর ধরে এমনতরো কর্মকান্ড চালিয়ে যান তখন বুকের গভীর থেকে বেদনা পাক খেয়ে উঠে, আমাদের দাঁড়াবার জায়গার বড়ো অভাব...!


*কেবল হানিফ সংকেতই না এমনতরো চুরি-চামারি চলেই আসছে। যেমন জাকারিয়া স্বপন: 
http://www.ali-mahmed.com/2015/02/priyocom.html

হানিফ সংকেত, জাকারিয়া স্বপন এরা যে বিষবৃক্ষ রোপণ করেন যথারীতি সেই গাছে ফল ধরে পেকে টসটস করে। এরাই তৈরি করছেন নষ্ট এক প্রজন্ম। তখন আর চুরির বালাই থাকে না জন্ম নেয় একেকটা আস্ত ডাকাত।
অন্যদের কাছে কালো-কালো, দুবলাপাতলা-লিকলিকে হলেও আমার লেখা আমার কাছে সন্তানসম। আমার সন্তানদের পরিচয় দিতে হবে এই চোর-ডাকাতদের কাছে? মরণ!