Search

Loading...

Saturday, April 18, 2015

আবার আসিব ফিরে...।

এই অপারেশনে কারও মৃত্যু হয়েছে এমনটা শুনিনি। আমার বেলায় এটা ঘটলে সেটা হবে বিরল ঘটনা! অখ্যাত পত্রিকার ভেতরের পাতায় ‘বিরল ঘটনা’ হিসাবে খবরটা দু-চার লাইনে চলে আসাটা একেবারেই অলীক-অসাড় বলাটা সঠিক হবে না।

তবে এই অপারেশনে অন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটাও তোপ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া চলে না। অবশ্য এও সত্য, একজন লেখকের জন্য অন্ধ হয়ে যাওয়াটা মৃত্যুসম। তখন বাঁচা না-বাঁচা সমান...।

ছেঁড়া চাদর এবং ‘মনোনীত সদস্য’।

এ বছর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘন্টার-পর-ঘন্টা ধরে যে ঘটনা ঘটল এটা নিয়ে গুছিয়ে লেখার ক্ষমতা আমার নাই। কেবল অল্প কথায় বলি, আমাদের দাঁড়াবার আর জায়গা রইল না।
হালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাটা হচ্ছে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য। এখানে দিনদুপুরে চরম অশ্লীলতা করা যায়, সন্তানের সামনে মাকেও অপদস্ত করা যায় । চাপাতি দিয়ে কাউকে কুপিয়ে ফালা ফালা করা তো কোনও বিষয়ই না।

কালে কালে গালকাটা রমজান, পেটকাটা আবুল হবে এখানকার আসল কারিগর। এরা এদের চেলাচামুন্ডাদেরকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে নিয়ে আসবে হাতেকলমে শিক্ষা দেওয়ার জন্য। লাউয়ের উপর ব্লেড চালিয়ে পকেটকাটা বিভাগের প্রধান পকেটমারের সর্দার বাইট্টা ছগিরও পিছিয়ে থাকবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সব এলাকাগুলো নাকি এমনিতেই নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকে।সিসিটিভি নামের যে চোঙ্গাগুলো লাগানো থাকে এগুলো দিয়ে নাকি কাক-পক্ষীর গতিবিধি ধারণ করা হয়। বিশেষ-বিশেষ দিনে তো এই চাদর নাকি কয়েক স্তরের হয়ে যায়। 'এই চাদর দিয়ে মাথা ঢাকতে গিয়ে পেছনটা উদোম হয়ে যায়', এটা লিখতে পারলে আরাম পাওয়া যেত কিন্তু মাথা-পেছনটার (পাছা শব্দটা আমি এখানে লিখতে চাচ্ছি না) দোষ দেওয়াটা সমীচীন হবে না। দোষ বেচারা চাদরের। আহা, বেচারা চাদর- ছেঁড়া চাদর।

অনেকে আবার দোষ চাপাবার চেষ্টা করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার-হাজার শিক্ষার্থীর যিনি পিতা, আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের প্রতি। এই পুরো নামটা ‘আ আ ম স’ এটা ভুলে গেছি তবে দুষ্ট ছেলেরা যেটা বলে সেটা বিচিত্র কারণে মনে আছে। এখানে এটা উল্লেখ করাটা অসমীচীন মনে করছি।)।
জনাব, আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সাহেবের প্রতি কারও অঙ্গুলি নির্দেশ করার প্রতি আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই, নিন্দা জ্ঞাপন করি। কারণ জনাব আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সাহেবের দোষ দেওয়াটাও দোষ হবে। ওরে অবুঝ, প্রক্টর সাহেব দাবা খেলায় ব্যস্ত থাকেন কিন্তু আরেফিন সাহেব কী অবসর? বেচারা আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সাহেবের কতো-কতো কাজ! যেমনটা আমরা দেখেছি তেলের খনি [১] থেকে তৈল উত্তোলনে তাঁর ব্যস্ততা। এটা তো ছোট্ট একটা উদাহরণ, এমন কত্তো কত্তো কাজ তাঁর...।

১. তেলের খনি: http://www.ali-mahmed.com/2012/04/blog-post.html

Friday, April 17, 2015

মিডিয়া...!

কামারুজ্জামানের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হলো। এই বিষয়ে পুর্বের বলা অল্প কথাটাই আবারও বলি, "৪৪ বছর গেল নাকি ৪৪০ বছর তাতে কী আসে যায়- রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না"। 
প্রায়শ এমনটা দেখি বা শুনি, অনেকের কাছে এর (যুদ্ধের অপরাধের জন্য বিচার) প্রয়োজনীয়তা তুচ্ছ কারণ এরা তাদের পরিবারের কাউকে হারাননি। কিন্তু এটা জিজ্ঞেস করুন ১৯৭১ সালে যারা তাঁদের স্বজন-প্রিয়মানুষকে হারিয়েছেন। সাদী মোহাম্মদকে [১], প্রবীর শিকদারকে [২] যারা ১৯৭১ সালে তাদের স্বজনের প্রায় সবাইকে হারিয়েছিলেন। এরা কী করে ভুলে যাবেন তাদের দগদগে ক্ষত?

কিন্তু এই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পূর্বে মিডিয়াগুলো কারাগারের সামনের রাস্তা দখল করে যেটা করেছে সেটা দেখে মনে হচ্ছিল...একেকটা কাঁপা-কাঁপা গলায় এমনসব ভঙ্গিতে বলছিল মনে হচ্ছিল এখুনি এ নির্ঘাত মুর্চ্ছা যাবে। আবার থেমে থেমে ঘটা করে বলছিল, আমরা চার দিন ধরে অপেক্ষায় আছি...। ওরে, তোকে বলেছে কে চার দিন ধরে অপেক্ষা করতে? কেউ-কেউ আবার লাইভ অনুষ্ঠানও প্রচার করছিল। পারলে এরা ফাঁসির দৃশ্যটাই লাইভ দেখিয়ে দিত। একজন তো আবার একটা শিশুকে দেখিয়ে বলছে এই ফাঁসি দেখার জন্য এ-ও চলে এসেছে।

আমাদের দেশে এখন অবৈধ টাকা হলেই একটা চ্যানেলের মালিক হয়ে বসে থাকে। চ্যাংড়া-চ্যাংড়া ছেলে-মেয়েরা ‘বুম’ হাতে অধিকাংশ সময় যেটা করে এটাকে এক কথায় বলা চলে অসভ্যতা। কতশত যে এখন মিডিয়াকর্মী আল্লা জানে। এদের অনেক আচরণ অসভ্যতাকেও ছাড়িয়ে যায়। আমরা বিভিন্ন ঘটনায় এটা প্রত্যক্ষ করেছি, রানা প্লাজা, জিহাদের মৃত্যু এমন উদাহরণের শেষ নেই। তখন উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর কাজ করাটা অসম্ভব হয়ে পড়ে। চার দিন ধরে রাস্তা আটকে এখানে বসে থাকার আদৌ এর প্রয়োজনটা কী! এরা লাশবাহী গাড়ির পেছনে পেছনেও দৌড় লাগায়। এবার নাকি ১ কিলোমিটার পূর্বে এদের আটকে দেওয়া হয়েছে বলে জল কম ঘোলা হয়নি।

আহ, মিডিয়া! এখন অনলাইনেও মিডিয়া গিজগিজ করে। নমুনা! আরেক মিডিয়া 'প্রিয় ডট কম' [৩] একটা শিরোনাম করেছে, 'সর্বস্ব হারিয়ে লায়লা নাঈম কাঁদছেন'। ঘটনা পড়ে পাঠক ভাববে অন্য কিছু কিন্তু আসল ঘটনা হচ্ছে লায়লা নঈম নামের এই বিকারগ্রস্ত মহিলার ল্যাপটপ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে- এই মহিলা আবার ল্যাপটপটা পাঠককে দেখাচ্ছেন যেন ভাইরাস গিজগিজ করছে। এই মিডিয়া-এই মহিলা দুই বিকারগ্রস্ত।

কারও মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে। কারাকর্তৃপক্ষ ব্রিফিং দেবে আজ এতোটা সময়ে ওমুকের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে, ব্যস। অনেকে বলবেন, এটা সাধারণ কোনও ঘটনা না, জনগণের এই নিয়ে বিপুল আগ্রহ ছিল বিধায় ইত্যাদি ইত্যাদি। যে দেশের জনগণ মাইক্রোফোন টেস্টিং ওয়ান-টু-থ্রি বললেই শতেক লোক জমে যায় সেই দেশে অবশ্য এটা বলা যেতেই পারে।

অবশ্য মিডিয়ার এতো কিছুর পরও অনেকের মধ্যে সংশয় কাজ করেছে কেন কামারুজ্জামানের মৃতদেহের মুখমন্ডল কোথাও দেখানো হলো না। এরা এটা বুঝতে চাইছেন নােএটা সত্য রাষ্ট্র নিরুপায় হয়ে কখনও-কখনও প্রাণহরণের মত অতি নিষ্ঠুর কাজটা করতে বাধ্য হয়- যে প্রাণ সৃষ্টি করার ক্ষমতা কারও নাই সেই প্রাণটা ছিনিয়ে নেয়। আইনের শাসনের কারণে কখনও-কখনও রাষ্ট্রের এই কাজটা না-করে উপায় থাকে না। কিন্তু এটাও মাথায় রাখাটা প্রয়োজন রাষ্ট্র ইচ্ছা করলেই মৃতদেহ নিয়ে যা-খুশি তা করতে পারে না। কিন্তু কেন, কেন এই সংশয়টা জনসাধারণের মধ্যে কাজ করে!

কারণ দেশটা বাংলাদেশ। এই দেশে আমরা প্রচুর নাটক দেখি- জজ মিয়ার নাটক, ছলিমুল্লার নাটক...। জনসাধারণের মধ্যে যেন সংশয় ঘুরপাক না-খায় এটা দেখার দায়িত্বও কিন্তু সরকারের উপর বর্তায়। তাই বিতর্ক এড়াবার জন্য যা-যা করণীয় যেমন প্রয়োজনে সরকারী মহফেজখানায় তথ্য-উপাত্তগুলো সংরক্ষণ করা ভবিষ্যতের জন্য। প্রয়োজনে ডিএনএ-এর নমুনাও রাখা যেতে পারে। তথ্য অধিকার আইনে কেউ জানতে চাইলে বিচারবিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে তার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

যেমনটা যুদ্ধঅপরাধ-যুদ্ধাপরাধী নিয়ে সরকারের এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও এই দেশের একটা অংশের মধ্যে সংশয় কাজ করে। এটার জন্যও সরকারের দায়টা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমরা যদি জানতে চাই রাজাকার নুলা মুসার [৪] বিচারের কি হলো? সরকার এই উত্তর দেবে না। দেবে না বলেই আমাদের মধ্যে সংশয়টা ঘুরপাক খায়।

১. আমার বাবার কবরস্থান: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_4.html
২. রক্তের দাগ: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_6.html
৩. প্রিয় ডট কম: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/priyocom.html 
৪. নুলা মুসা: http://www.ali-mahmed.com/2014/12/blog-post_19.html