Thursday, July 12, 2018

ট্রাম্প, তুই ল্যাংটা!

এক ইতরকে অন্য একজন পাদুকাঘাত করার পর সেই ইতর বলছে, আরেকটা দিয়া দেখ…। ইতিমধ্যে সেই ইতরকে দু-দশ চপেটাঘাত-পাদুকাঘাত করার পরও তার সেই একই রা, আরেকটা দিয়া দেখ মার্ডার হয়া যাইবি কিন্তু। পরে একজন সেই ইতরকে জিজ্ঞেস করল, মিয়া ঘটনা কী! তোমারে এত্তোগুলা জুতা মারল আর তুমি বা…! সেই ইতরের সাফ উত্তর, জুতায় তো আর গু লাগায়া মারে নেই, মারলে…।

ট্রাম্পের নামের মানুষটাকে আমি কখনও রাস্তাঘাটে পেয়ে গেলে পা ধরে সালাম করব। কারণ? এই মানুষটা অজান্তেই আমার যে কী নিদারুণ উপকার করেছে তা আর বলতে। এই গ্রহে সম্ভবত এমন কোনও অমানবিকতা নাই যেখানে আমেরিকার ‘ছেনেহের’ হাত না আছে।
কেবল ছোট্ট এই ভিডিওটা দেখলে খানিকটা আঁচ করা যাবে আমেরিকার নৃশংসতা!।

অথচ দেখো কান্ড গ্রহের ভাষা বলতে আমরা বুঝি আমেরিকার ভাষা, সাহিত্য বলতে আমেরিকার সাহিত্য, মুভি মানে হলিউডের মুভি। এমনকি ঘটা করে বিভিন্ন সেমিনার করে আমেরিকা আমাদেরকে মানবতা শেখায়। কেবল তাই না লেখালেখিও শেখায় আমেরিকা! আমাদের দেশের যে সমস্ত লেখক আমেরিকায় সাহিত্যসফর না-করেছেন তারা লেখক (!) হতে পারেননি।
আমাদের দেশের কিছু ‘বুড্ডিজীবী’, এই তালিকা দীর্ঘ। কেউ আছেন ভয়ে প্লেনের ‘জানালা’ বন্ধই করেন না কারণ খোদা-না-খাস্তা প্লেন ভুলেক্রমে পাকিস্তানের উপর দিয়ে চলে গেলে খোলা জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়বেন। অথচ যে আমেরিকা আমাদের এই যুদ্ধের কলকাঠি নেড়েছে পাকিস্তানের পশ্চাদদেশে হাত বুলিয়ে দিয়েছে সেই আমেরিকায় ‘ভরমন’ হোক বা ‘ল্যাকাপড়া’ করতে যেতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। আমেরিকায় কোনও প্রকারে যেতে পারলে আত্মা বন্ধক রাখতেও কোনও সমস্যা নেই।

বলছিলাম ট্রাম্পের পা ছুঁয়ে সালাম করার কথা। কেন-কেন? যে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারের শেষ নেই সেই আমেরিকাকে চুতিয়া বানাতে আপ্রাণ সহায়তা করেছে যে মানুষটি সে ট্রাম্প ব্যতীত আর কে! এই মানুষটা গা থেকে যেভাবে একেক করে কাপড় খুলে নগ্ন হয়ে গেছে তা অভূতপূর্ব বটে! একটা মানুষ সে যত সুদর্শন বা সুদর্শনাই হোক না কেন নগ্নগাত্র মানুষটা আর নুরা পাগলা, ক্যাটরিনা বা জরিনার মধ্যে কোনও তফাত নেই। ঝুলেপড়া ইয়ে কাকও ঠোকর দেবে কিনা এই নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ আছে।

তো, ট্রাম্প স্যারের অজস্র কর্মকান্ড থেকে সামান্য কিছু বলি। এই লোকটা এক ‘চুতিয়া টুইটবাজ’- এই আধুনিক যুগে এটা খুব অবাক হওয়ার কিছু না। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হয়েও এই মানুষটা যে প্রকারে টুইট করে তা একটা গুয়ে হামাগুড়ি দেওয়া বাচ্চাও করবে না। জানিস-জানিস আমার ইয়েটা না তার ইয়েটা থেকে বড়…!
এই মানুষটাকে (!) বলা হয় 'আনপ্রেডিক্টেবল ট্রাম্প'- এ কখন কি বলে বসবে বা করে বসবে তা আগাম আঁচ করা মুশকিল।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান যাচ্ছিল সানফ্রান্সিসকো থেকে মেক্সিকো। যাত্রীরা ট্রাম্পকে নিয়ে তুমুল তর্কে জড়িয়ে পড়লে ঠিক তখনই বিমানের পাইলটের গলা ভেসে আসে, ‘ক্যাপ্টেন বলছি। দয়া করে আমার বিমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়ে তর্কে জড়াবেন না’।
তবে এই মানুষটা যে বদ্ধউম্মাদ বা ল্যাংটা পাগল এই একটা উদাহরণই যথেষ্ঠ! ট্রাম্প এক প্রসঙ্গে মন্তব্য করে, ‘ইভানকা আমার মেয়ে না-হলে আমি তার সঙ্গে ডেটিংয়ে যেতাম’। লোকটার লাজ-লজ্জার কোন বালাই নাই। নিজের জামাতাকে দুম করে উপদেষ্টা করে বসে।মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা নতুন খসড়া আইন নিয়ে আলোচনার শুরুটা করেছিলেন ট্রাম্পকে মাথায় রেখে, তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে।

এমনিতে এ হচ্ছে বিশ্ব মিথ্যুক! মিথ্যা বলে ধরা পড়ে, ধরা পড়ে মিথ্যা বলে। নিজে কেবল এন্তার মিথ্যাই বলে না তার লোকজনকে দিয়েও বলায়। রাজনৈতিক পত্রিকা পলিটিকো লিখেছে, ‘ট্রাম্পের মুখপাত্র মাত্র পাঁচ মিনিটের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে চারটি মিথ্যা কথা বলেন’।
এমনিতে এ কুটিলও কম না- আড়াই কোটি ডলারে তার বিরুদ্ধে করা ৩ মামলার সুরাহা করেছে!

হোয়াইট হাউসের খবর সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের ‘ইউএস প্রেস কোর’ বলা হয়। তারা ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লেখেন কারণ ট্রাম্প প্রায়স টুইটারে ব্যক্তিগতভাবে কোনও-কোনও সাংবাদিককে উপহাস করেন, মামলার হুমকি দেন এমনকি শারীরিক প্রতিবন্ধিতার জন্য ব্যঙ্গও করেন।

এও এক অভূতপূর্ব! ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর ইয়েমেনে এক সামরিক অভিযানে নিহত হন নেভি সিলের কমান্ডো উইলিয়াম রায়ার ওয়েনস। তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প কিন্তু ওয়েনসের বাবা ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি!
আর তার অভিষেকে যে সমস্ত বিক্ষোভ হয়েছে তা আমেরিকার জন্য এক বড় লজ্জা!

উন্নত বিশ্বে যে বিষয়টা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় বা ন্যাক্কারজনক মনে করা হয় সেটা হচ্ছে বর্ণবাদ। অথচ ট্রাম্প এক কট্টর বর্ণবাদী। মুসলমানদের প্রতি তার বিদ্বেষ সুপরিচিত। মেক্সিকানদের ধর্ষক, মাদক পাচারকারী বলে সম্বোধন করা, দেওয়াল তুলে দেওয়া নিয়ে গোঁ ধরা। হাইতির সবাই এইডস রোগে আক্রান্ত, নাইজেরিয়রা বস্তিতে বাস করে এই সব অনবরত বকেই যাচ্ছে।
ট্রাম্পের সব চাইতে শুয়রসুলভ আচরণ হচ্ছে, জিরো টলারেন্সের নামে হাজার-হাজার শিশু-কিশোরকে তাদের পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলা। কেবল তাই না অনেকের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা অমানবিকই না রোমহর্ষকও বটে। ভার্জিনিয়ার কিশোর আটককেন্দ্র শেনানদোহ ভ্যালে জুভেনাইল সেন্টারে অভিবাসী কিশোরদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, তাদের নিয়ম করে মারা হয়। উলঙ্গ করে ঠান্ডা ঘরে আটকে রাখা হয়। কালো ব্যাগে মুখ ঢেকে নির্যাতনও চালানো হয়।
যুক্তরাজ্য সফরের পূর্বে লোকজন ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ঢাউস পুতুল উড়ালে যথারীতি ট্রাম্পের ইতরসুলভ উত্তর, 'আ ডোন্ড কেয়া'!
এ নতুন না রাতৈনিক নেতাদের প্রতি বিক্ষোভ জানাতে গিয়ে পচা ডিম-টিম ছুড়ে মারা হয়। কিন্তু পেশাবের কী কাজ! এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ২০০ গ্যালন পেশাব জমিয়েছে ট্রাম্পের জন্য।

খারাপ খবরের মিছিলের মধ্যে আনন্দদায়ক খবর। পর্নো তারকা স্টর্মি। এই ভদ্রমহিলাকে পেলে কদমবুসি করতাম। কারণ স্টর্মি সেই মহিলা যে ট্রাম্পের উদোম পশ্চাদ্দেশে আচ্ছা করে কয়েক ঘা লাগিয়েছিলেন। এই গ্রহের গ্রহবাবার ইয়েতে। ভাবা যায়!

ট্রাম্প জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন করে যখন উল্লাসে ফেটে পড়ছিল তখন ফিলিস্তিনে একের-পর-এক মানব সন্তান মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিল। এর ফল সুদূরপ্রসারী! আমেরিকা-ইসরাইল মিলে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে ফিলিস্তিনিদের পরিচয়! আমি ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারবিশের ‘আইডেনটিটি কার্ড’ কবিতার কয়েকটা লাইন এখানে জুড়ে দিচ্ছি: “লিখে রাখ প্রথম পৃষ্ঠার একেবারে ওপরে:
আমি মানুষকে করি না ঘৃণা …
কিন্তু যদি আমি ক্ষুধার্ত হই
দখলদারের মাংশও হতে পারে খাদ্য আমার
অতএব, সাবধান… 
সাবধান…
সাবধান…
আমার ক্ষুধা থেকে এবং আমার ক্ষোভ থেকে।“

কাউকে-কাউকে দুম করে বলতে শুনি, ট্রাম্প মেথরেরও অধম! দুঃখিত, আমি মেথর নামের এইসব মানুষদের কাছে ক্ষমাপূর্বক নতশিরে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি আমার সমস্ত জীবনে যত ইতর মানুষ দেখেছি তাদের মধ্যে ট্রাম্প ইতরেরও অধম। কয়েক বছর ধরে আমি ‘মেথরপট্টির’ একটা স্কুল পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার সুবাদে ওই হরিজন পল্লিতে দেখেছি ওখানকার লোকজনকেও বিব্রত হয়ে বলতে, ‘বাবু, হামাদেরও একটা ইজ্জত আছে…’।

মি. প্রেসিডেন্ট, স্যার পরিতাপের সঙ্গে আপনাকে বলি, ট্রাম্প, তুই ল্যাংটা!
ভিডিও ঋণ: Indecline 'GINGER'

Wednesday, July 11, 2018

রোগী কে?

প্রফেসর ডা. একেএম ফজলুল হক। এই ডাক্তার সাহেবকে নিয়ে ইতিপূর্বেও আমি বেশ কিছু লেখা লিখেছি [১], [২], [৩]। সব ফেলে কাউকে নিয়ে সিরিজ লেখা শুরু করলে তো সমস্যা। আমার মনে হয় এই প্রতিজ্ঞা করাটা এখন আমার জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে যে প্রফেসর ডা. ফজলুল হককে নিয়ে আর লিখিব না লিখিলে দাঁত দিয়ে চোখ কামড়াতে বাধ্য থাকিব।

কপালের ফের! এমন ঢোলবাজ মানুষ আমি আমার সমস্ত জীবনে তেমন একটা দেখেছি বলে তো মনে পড়ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিজের নামে অসংখ্য আইডি খুলে রেখেছেন।
নিজের একটা আইডি থেকে নিজেই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের পেজে আমন্ত্রণ জানান এমন করে, ‘দিস ইজ আওয়ার পাবলিক ফিগার পেজ’।
এমন লাজহীন একজন মানুষ বড় বিরল! নিজেই নিজেকে পাবলিক ফিগার ঘোষণা দিয়ে ঘোষণার স্তম্ভে পা ছড়িয়ে বসে থাকেন। কেন জানি না আমার চোখে ভাসে মানুষটা উবু হয়ে বিশেষ ভঙ্গিতে বসে আছেন।

প্রফেসর ডা. ফজলুল হক তার নিজের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোগিদের নিয়ে প্রচুর ভিডিও পোস্ট করেছেন। এগুলো কেবল ভয়ংকরসব ভিডিওই না। তিনি সম্ভবত রোগির গোপনীয়তা রক্ষার শপথ ভঙ্গ করেছেন। এই অধিকার একজন ডাক্তারেরও আছে বলে আমি মনে করি না। কেউ-কেউ এমনটাও বলবেন, এখানে হয়তো এটা রোগীর সম্মতিতে হয়েছে। তো?
মুমূর্ষু অবস্থায় বা চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ইশ্বরতুল্য একজন ডাক্তারের কথা ফেলে দেবে একজন সাধারণ রোগী, তাও বাংলাদেশের মত একটা দেশে। এ অকল্পনীয়!

এমনটা যদি হয়েও থাকে তাহলে আমি বলব এই মানুষগুলোকে কি পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, আপনাদের এই ভিডিওগুলো আমি আমার লোভের লকলকে জিভের জন্য জনসমক্ষে উপস্থাপন করব? এই ফজলুল হকের কাছে রোগী নামের এই মানুষগুলো একেকটা সাবজেক্ট হলেও এঁরা আমাদের কারও-না-কারও স্বজন। আমার মনে আছে আমার মার সঙ্গে যে ডাক্তার মহোদয় যেমন অসভ্য আচরণ করেছিলেন আমি ওই ডাক্তারকে নাম দিয়েছিলাম, ‘গু-ডাক্তার’ [৪]। ওদিন আমি যদি আমার মার কথা চিন্তা না করতাম তাহলে হয়তো তখন ওই ডাক্তারকে…থাক সে প্রসঙ্গ।

আচ্ছা ধরুন, কেউ যদি কোন-এক ফজু মিয়ার সাথে কেউ এমন চুক্তি করল পাওনা টাকা ফেরত না-দিতে পারলে তার শরীর থেকে ইয়েটা মানে এক পাউন্ড মাংস কেটে রাখবে তাহলে আইনের বক্তব্য কি?
এখন চিকিৎসা ব্যবসা আমুল বদলে গেছে। ওষুধ কোম্পানিগুলোর আচরণ নোংরারও অধম। এরা যে কেবল ডাক্তারদেরকেই অনৈতিক বানাচ্ছে তাই না তাদের মার্কেটিং-এর লোকজনকেও। তাই এরা যখন আপনার-আমার প্রেসক্রিপশনের ছবি উঠায় তখন আমরা বেকুব বদনে মাথা দোলাই। ওষুধ কোম্পানির লোকজনকে নাহয় চাকুরি বাঁচাতে গিয়ে নোংরামি করতে হয় কিন্তু ফজলুল হকের মত ডাক্তারকে কেন!
এখানে দেখা যাচ্ছে তিনি এক রোগির সঙ্গে বাতচিত করছেন। বাতচিতের নমুনা দেখে মনে হয় এই ডাক্তার সাহেব ডাক্তারখানা আর পায়খানা গুলিয়ে মুখপথ এবং পায়ুপথ একাকার করে ফেলেছেন। ভাগ্যিস, তিনি রোগীকে এই নির্দেশনা দেননি উবু হয়ে বসে কেমন করে বাথরুম সারতে হয় এটার ডেমো দেখাতে। ওরে, কালে-কালে তিনি না আবার রোগীকে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে বাথরুম সারার আবদার করে বসেন।

কিন্তু এই ভিডিও অন্য ভিডিও-এর কাছে নস্যি। তিনি এই ভদ্রমহিলাকে যে ভাষায় জেরা করছেন এটা কেবল অসভ্যতাই না সামাজিক অপরাধও বটে।
এই ভিডিওটা আরও ভয়ংকর। 
* আমি সবগুলো ভিডিও অস্পষ্ট করে দিলাম। তারপরও এঁদের কোন স্বজন আহত বোধ করলে আগাম ক্ষমা চাচ্ছি।

সহায়ক সূত্র:
১. হর্স মাউথ: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_19.html
২. ডাগদর কাম…: http://www.ali-mahmed.com/2016/02/blog-post_6.html
৩. এমন ডাক্তার…: http://www.ali-mahmed.com/2018/03/blog-post_31.html 
৪. গু ডাক্তার: http://www.ali-mahmed.com/2011/08/blog-post_27.html

হাতুড়ি মানব!

আমরা, সাধারণ মানুষ যারা, তারা জীবন নামের একটা আলো-ছায়ার বৃত্তে আটকে অনবরত ঘুরপাক খাই। আমাদের মধ্যে থেকে কেউ-কেউ বৃত্তের বাইরে যেতে পারেন না বটে কিন্তু তাঁর একটা পা থাকে বৃত্তের বাইরে। এঁরাই আমাদের আলোর দিশারি। যাদের চালু নাম বুদ্ধিজীবী। কিন্তু আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী মহোদয়গণ এতোটাই আলোকিত হয়ে যান যে আমাদের চোখ ঝলসে যায়। কালে-কালে আমরা পরিণত হই একটা কানা জাতিতে!

আমাদের এই বুদ্ধিজীবী ভদ্রলোক গত হয়েছেন চালু করে গেছেন ‘ভাষাকন্যা’ শব্দটা। কিন্তু সৈয়দ সাহেব শব্দটার বিশদ ব্যাখ্যায় আর যাননি [১]

আমাদের গুণ দাদা! অতি বিখ্যাত ‘খিস্তি-খেউর দাদা’ [২]। ভদ্রলোককে স্বাধীনতা পদক না-দেওয়া পর্যন্ত এমন গাল ফুলিয়ে রইলেন যে একটা ব্যাঙও হার মানে [৩]। 

আমাদের আরেক সৈয়দ সাহেব, সৈয়দ আবুল মকসুদ। ঢাকার ‘লুকজন’ কেন রাস্তায় মুত্র বিসর্জন করে এটা নিয়ে ক্ষেপে লাল হয়ে গেলেন। ওসময় পত্রিকার একটা খবর ছিল এমন, "ঢাকায় ৫৫ লক্ষ মানুষের জন্য ৪৫টি পাবলিক টয়লেট"। এই হিসাবটা ক্যালকুলেটরে করার চেষ্টা আর করলেন না যে আনুমানিক ১ লক্ষ মানুষের জন্য প্রায় ১টা টয়লেট! পাবলিক মুতে খালাশ তিনি লিখে [৪]

আমাদের আনিসুজ্জামান মহোদয়। তিনিই চালু করে দিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া শ্রেষ্ঠ বাঙালি [৫]! সোজা কথা, ২৩ কোটি বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে খালেদা জিয়াই শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বাংলাদেশের কেউ দাঁড়াতে তো পারলেনই না, ভারত থেকেও কেউ না। তিনি এখন আমাদের জাতীয় অধ্যাপক।

আমাদের জাফর ইকবাল, মহোদয়! লিখতে গেলেই এই ভদ্রলোকের প্রসঙ্গ বারবার চলে আসে। কেউ হয়তো পাকা গোঁফে তা দিয়ে দুম করে বলে বসবেন, আমি কেন তাঁর পাকা ধানে মই দিচ্ছি। বিষয়টা এমন না। স্যার কেন যেন এমন আজনবি ভাষায় কথা বলেন যা আমাদের মত সাধারণ মানুষের বোঝার যো নেই। এই যেমন বিশ্বজিৎকে যখন কোপানো হল এই ভদ্রলোক একটা ‘পানিজল’ টাইপের একটা লেখা লিখলেন। ওই লেখাটা এতই আবেগে থই থই ছিল যে ওটা পড়ার এক সপ্তাহ পর আমার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে গেল কারণ পানিজল-জলপানি চোখে ফিরে আসা আর সম্ভব ছিল না।
বিশ্বজিতের খবরটা পড়তে নাকি তাঁর এক সপ্তাহ সময় লেগেছিল, "...ঘটনার সপ্তাহ খানেক পর একটু সাহস সঞ্চয় করে আমি যখন খবরের কাগজগুলো পড়েছি...তখন আমি বুঝতে পেরেছি বিশ্বজিৎ লাল শার্ট পরেনি, রক্তে ভিজে তার শার্ট লাল হয়েছে..." [৬]
আহারে, বড় আজবোজ মানুষ তো! প্রায় ৭/৮ দিন এই ভদ্রলোকের কেবল সাহস সঞ্চয় করতেই সময় লেগে গেল! এবং তখন তিনি ফট শব্দে চট করে বুঝে গেলেন রক্তের রঙ লাল হয় এবং সেই রক্তে বিশ্বজিতের শার্ট…ব্লা-ব্লা-ব্লা।
ঋণ: মাছরাঙা টেলিভিশন
আচ্ছা থাকুক, এই সব উদাহরণ অনেক লম্বা- স্যারদের কথা বলে শেষ করা যাবে না। এতক্ষণ তবলার ঠুকঠাকের কারণটা হচ্ছে, আবদুল্লা আল মামুন নামের এক 'হাতুড়ি মানব' মাছরাঙা টেলিভিশনে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছে তাতে স্পষ্ট অজস্র প্রমাণ থাকার পরও বাংলাদেশের কোন আইন, কারও কোন শাসন তাকে স্পর্শ করেনি! ক্ষমতাশীন কেউ তাকে সামান্য বকাও দেননি!
যারা দেশ চালান তাঁরা আমাদের চেয়ে অনেক বুদ্ধি রাখেন বলেই তাঁরা ওখানে আছেন। এমনিতে নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করলে সরকারের বিপুল অর্জনও আছে। কেবল পদ্মা ব্রিজের কথাই ধরি না কেন। কিন্তু একজন আবদুল্লা আল মানুন যে একেক ঘায়ে পদ্মা ব্রিজের একেকটা স্প্যান ফেলে দিচ্ছে এটা কী তাঁদের চোখে ধরা পড়ছে না?! আফসোস, কফিনে এ এক অমায়িক পেরেক!

যাই হোক, কথা হচ্ছিল আলোকিত মানুষ নিয়ে। ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর একটা সাক্ষাৎকার পড়ে আমরা মনটা বিষণ্নতায় ছেয়ে গিয়েছিল। এক জায়গায় তিনি বলছিলেন, ‘যা ভাবি তা বলতে পারি না’। আমি জনান্তিকে বিড়বিড় করছিলাম, স্যার, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়ে এই কথা বললে আমরা কোথায় যাই কার কাছে যাই? কষ্টটা খানিক কমল দুদিন আগে তিনি কোটা সংক্রান্ত জটিলতার নৃশংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন, অল্প কিছু শিক্ষকসহ।
ঋণ: news24
অথচ এই খবরটা আমাদের দেশের এক পা এক আঙ্গুল এগিয়ে থাকা পত্রিকার কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না। পত্রিকার নাম বলার আগ্রহ পাচ্ছি না কারণ এই পত্রিকার সমালোচনা করলে এর কাটতি বেড়ে যায় এমনটাই ধারণা পত্রিকা সর্দারদের…। 

সহায়ক সূত্র:
১. শ্রদ্ধাস্পদেষু…: http://www.ali-mahmed.com/2015/05/blog-post_30.html 
২. গুণবান গুণ: http://www.ali-mahmed.com/2012/11/blog-post_28.html
৩. কবিবর…: http://www.ali-mahmed.com/2016/05/blog-post.html
৪. নরমুত্র: http://www.ali-mahmed.com/2011/02/blog-post_09.html
৫. আনিসুজ্জামান…: http://www.ali-mahmed.com/2013/03/blog-post_18.html 
৬. বিবেক নামের রাস্কেল: http://www.ali-mahmed.com/2012/12/blog-post_21.html