Search

Loading...

Thursday, April 17, 2014

যুদ্ধ ডেকে সেনাপতি গেলেন হাওয়া খেতে



বিচিত্র এক সেনাপতি ঘোরতর যুদ্ধ বাঁধিয়ে হাওয়াই-জাহাজে চেপে চললেন হাওয়া খেতে। হাওয়াই-জাহাজের জানালায় মাথা বাড়িয়ে হাওয়া খান আর ছড়া কাটেন, যেখানে দেখিব হাওয়া, কপকপ করে চলবে খাওয়া। হাওয়া খেয়ে খেয়েহাওয়া-জল না, তর-জল।

সেনাপতি সাহেব কাঁধ ঝাঁকিয়ে জানালেন, যুদ্ধে সশরীরে থাকার আবশ্যকতা নাই। সবাই গোটা শরীর নাড়িয়ে বলল, আলবত নাই। সেনাপতির সঙ্গে তরকে মাওয়ালাত করার প্রশ্নই আসে না কারণ সেনাপতি সাহেব যুদ্ধের সমস্ত কলাকৌশল পূর্বেই বাতলে দিয়ে গেছেন। যুদ্ধ শুরুর পূর্বে প্রতিপক্ষ যখন বলবে, সাবধান, আরামে দাঁড়াও। তখন তুমিও বলবে, সাবধান, আরামে...। প্রতিপক্ষ যখন বললে পেটা গাইলা ফেলব তখন তুমিও বলবে, পেটা গাইলা ফেলব। প্রতিপক্ষ যখন তরবারি তোমার পেটে ঢুকিয়ে দেবে তখন তুমিও তার পেটে তরবরি ঢুকিয়ে দেবে। নো মার্সি- ছাড়াছাড়ি নাই।

আমাদের সিইসি মহোদয় প্রায় দেড় মাস আমেরিকা ভ্রমণ শেষে ফিরে এসে সহৃদয়তার সঙ্গে বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে যে অনিয়ম ও সহিংসতা হয়েছে আমি থাকলেও তা হত। সহিংসতা ও অনিযম স্রেফ বিচ্ছিন্ন ঘটনা।...এখন মানুষ যদি সহিংসতা করে তাহলে কমিশনের কী করার আছে। সবার মানসিকতা পরিবর্তন করে গণতন্ত্রের চর্চা করা দরকার
ঠিক, আলবত ঠিক। আমরাই খ্রাপ, খুব খ্রাপ। আমাদের বদলাতে হবে কারওয়ান মাথা কেনাবেচা করে।

তবে তিনি যে বললেন, ...তাকে কারও কাছে ছুটি চাইতে হয় না। নিজের ছুটি তিনি নিজেই নিয়েছেন...
এখানে যৎসামান্য বলার আছে। মানলাম আপনার প্রভূত ক্ষমতা- কারও কাছেই আপনাকে জবাবদিহি করতে হয় না। কিন্তু ছোট্ট্ একটা প্রশ্ন ছিল। আপনি যে দেড় মাস ইয়াংকিদের দেশে ঘুরে এলেন এটা কি আপনার নিজের টাকায় নাকি রাষ্ট্রের টাকায়? নিজের হলে এই বিষয়ে বিশেষ কথা নাই কিন্তু রাষ্ট্রের হলে কথা আছে।

ওহো, প্রভূত যে ক্ষমতার কথা বলছিলাম...। আমাদের দেশের প্রচলিত আইনে গান গাওয়া অপরাধ না, তবে...। যখন-তখন কেউ যদি টেবিলে দাঁড়িয়ে শুরু করে দেন, ধুম মাচা দে, ধুম মাচা দে, ধুম, ধু-ও-ও-ম-ম তাহলে খানিকটা গড়বড় হয়ে যায় বৈকি। অথবা কোনও মরণাপন্ন রোগির সামনে কেউ যদি গা দুলিয়ে কৌতুক বলা শুরু করে। ভাল দেখায় না, বুঝলেন...।

*সিইসি ছুটিত থাকাকালীন ভারপ্রাপ্ত সিইসির কথা শুনে মনে হচ্ছিল তিনি একটি বিশেষ দলে প্রতিনিধিত্ব করেন, সূত্র:
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/180751/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87_%E0%A6%96%E0%A6%A4_%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A6%A8_%E0%A6%A4%E0%A7%8B...%E0%A6%86%E0%A6%B0_%E0%A6%95%E0%A7%80_%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%BE
 

Wednesday, April 16, 2014

ডক্টর অভ ছি-ছি!



আমাদের দেশটা বিচিত্র তারচেয়েও বিচিত্র এ দেশের লোকজন। একজন অন্য জনকে নীচু দেখাতে গিয়ে নিজেরা হাসিমুখে পাতালে নেমে যান। প্রচলিত একটা কথা আছে, কাউকে এক হাত নীচে নামাতে হলে নিজে দু-হাত নীচে নামতে হয়।

অনেকে অনেক কিছুই বলেন ওসব গুরুত্বের সঙ্গে দেখার অবকাশ নাই কিন্তু একজন ডক্টর যখন কোনও বক্তব্য দেন তখন সেটা উদাসীন দৃষ্টিতে দেখার কোনও সুযোগ নাই। কারণ ডক্টর ডিগ্রিটা এখনও পদ্মার ইলিশের মত সহজলভ্য হয়নি যে গুচ্ছের টাকা দিলেই ঝপ করে নোংরা বাজারের ব্যাগে চলে আসবে।

খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জন্মপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদতিনি বলেন, কোকো আসলে জিয়াউর রহমানের বৈধ সন্তান কি না- এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে (দৈনিক আমাদের সময়, ১৪ এপ্রিল ২০১৪) [১]

যতটুকু জানি, ডক্টর সাহেবরা মৌলিক ভাবনা নিয়ে কাজ করেন। কোেনও ডক্টর অন্যের ভাবনা নিজের বলে চালিয়ে দিলে রিসার্চ পেপারটা, যে অধ্যাপকের অধীনে কাজ করছেন তার কাজে লাগবে বাচ্চার ইয়ে পরিষ্কার করার জন্য এতে কোনও সন্দেহ নেই। 

ড. হাছান মাহমুদ কোথায় এই প্রশ্ন উত্থাপন করলেন? ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে। কেন এই প্রশ্ন উত্থাপন করলেন? 'হুদাহুদি'। সব যদি একপাশে সরিয়ে রাখি তারপরও এমন একজন দায়িত্বশীল মানুষ, ড. হাছান মাহমুদ যখন এমনটা বলেন তখন তিনি কী একবারও ভাবেন না যে এমনটা বলা প্রকারান্তরে এ দেশের সমস্ত বীরাঙ্গনাদেরকে অপমান করা?
হায়, কে বলে নগ্ন গাত্র অশ্লীল? এমন করে বলাটা যদি অশ্লীল না হয় তবে অশ্লীল বলে আদৌ কিছু নেই...।

Monday, April 14, 2014

নতুন বছর, তোমার কাছে...



পূর্বের লেখায় বলেছিলাম এর কথা পরে বলব [১]। এর নাম সুমাইয়া। এমন চমৎকার নাম কে রেখেছে কে জানে! এর খোঁজ আমাকে দিয়েছিলেন জসীমের মা। জসীমের মার নাম আমি জানি না! সবাই বলে জসীমের মা, আমিও বলি জসীমের মা।
জসীমের মা আমাকে জানিয়ে ছিলেন, এই মেয়েটা নাকি বিচিত্র। কুকুরের সঙ্গে এর সখ্যতা। কুকুরের উপর গড়াগড়ি খাচ্ছে, কুকুরকে জড়িয়ে ধরছে। সত্য-মিথ্যা বলতে পারব না কারণ আমি নিজের চোখে দেখিনি।
প্রায় ১০/১৫ দিন ধরে একে স্টেশনে দেখছি। বিস্তারিত জানতে ইচ্ছা করেনি। কেবল এটুকুই জানি এর বাবা-মা কেউ নেই! ৫/৬ বছরের এই মেয়েটা একা-একা থাকে।
প্রথম দিকে জসীমের মাকে বলে-কয়ে একে দেখে রাখার জন্য বলেছিলাম। জসীমের মার সঙ্গে এর হৃদ্যতা দেখে চোখ ভরে গিয়েছিল। জসীমের মার সঙ্গে লেখার ছবিটায় এর এক অংশও আসেনি! ক্যামেরা নামের যন্ত্রের সেই ক্ষমতা কই। যেদিন এর চুলের জন্য এটা-সেটা নিয়ে গিয়েছিলাম সেদিনই কে যেন এর মাথা কামিয়ে দিল। মনের দুঃখে জসীমের মা এর জন্য নিয়ে যাওয়া চুলের জিনিসপত্র নিজের মাথায় পরে নিয়েছিলেন।
কপাল, জসীমের মা এখন আর এই এলাকায় নেই। মেয়েটি আবারও একা হয়ে পড়ে।
এর দেখভালের জন্য যেমন-তেমন একটা উপায় খুব জরুরি হয়ে পড়ে। এই ছোট্ট মেয়েটার অন্ধকার ভুবন সম্বন্ধে বোঝার ক্ষমতা একেবারেই নেই। জসীমের মার কাছেই শুনেছিলাম এ ছেলেদের সঙ্গেও সমান তালে খেলে, মেলামেশা করে, ঘুম পেলে ঘুমিয়ে পড়ে। যা তার জন্য অসম্ভব ঝুকিপূর্ণ।
স্টেশনেরই এক মহিলা, জান্নাতের মা (জান্নাত, এদের এমন চমৎকার নাম রাখাটা আমাকে চমৎকৃত করে) অনেক বলে-কয়ে এটা-সেটার লোভ দেখিয়ে খানিকটা দাদাগিরি করে অন্তত এটুকু রফা করা গেল যে, এই মেয়েটি রাতে জান্নাতের মার কাছে ঘুমাবে।
এই ব্যবস্থাটাই এখন পর্যন্ত চলে আসছে। কিন্তু এটা যে কোনো স্থায়ী সমাধান না এ আমি বিলক্ষণ জানি। আমার বুদ্ধিশুদ্ধি গুলিয়ে যায়, লজ্জায় নিজেকে পোকা-পোকা লাগে এরচেয়ে ভাল কোনো ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না বলে।
এর জন্য আর্থিক সহায়তাটা এখন জরুরি না, যেটা জরুরি সেটা হচ্ছে একটা নিরাপদ আশ্রয়। নতুন বছরের কাছে আপাতত আমার এটা্ই চা্ওয়া...।
...

আমার বিরুদ্ধে কঠিন অভিযোগ আছে যে আমি বিভিন্ন জনের অন্ধকার দিক নিয়ে কথা বলি। হবে হয়তো! তবে আমি যে নিজের অন্ধকারের পশুটার গায়ের গন্ধটাও বেশ টের পাই।
যেমন আমি প্রতিদিনই অপেক্ষায় থাকি সুমাইয়া নামের মেয়েটি কোথাও চলে গেলে দায় এড়িয়ে আরামের শ্বাস ফেলব। কিন্তু আমার মুখে ছাই দিয়ে সুমাইয়া দিব্যি আছে।

                        
এই যেমন আজ সকালে দেখি সুমাইয়া এবং জান্নাত কুড়িয়ে পাওয়া ছেঁড়া জুতা প্রাণপনে টানাটানি করে পরার চেষ্টা করছে। ঘটনা কিছুই না- পহেলা বৈশাখের ছোঁয়া লেগেছে এদের মাঝেও।

   
১. http://www.ali-mahmed.com/2014/04/normal-0-microsoftinternetexplorer4.html

Facebook Share