Search

Loading...

Tuesday, September 2, 2014

গুরু-শিষ্য!

গেছি এক উকিলের চেম্বারে। উকিল সাহেবের চেয়ার শূন্য! কারণ উকিল সাহেব আন্ডার গ্রাউন্ডে মানে অন্দরমহলে- সারাদিনের কোর্টকাচারির ধকলে বিছানায় চিত, কাত বা উপুড় হয়ে আছেন। বিভিন্ন কারণে এখানে আসা লোকজনেরা মশার কমড় খেতে খেতে ঝিমাচ্ছেন। ‘নেই কাজ তো খৈ ভাজ’- আমি অলস ভঙ্গিতে পত্রিকার পাতা উল্টাচ্ছি।

এরিমধ্যে একজন সেলফোনে উঁচু ভল্যুমে ওয়াজ চালু করে দিলেন। তিনি আবার ফাঁকে ফাঁকে এটাও জানাতে কার্পণ্য করছেন না যে অতীতে এই জিনিস তিনি অসংখ্যবার শুনেছেন। একদিন সারা রাত ধরে কেবল শুনেই গেছেন আর অঝোরে কেঁদে বুক ভাসিয়েছেন। তিনি এটাও এক ফাঁকে অন্যদের জানিয়ে দিলেন গভীর রাতে শুনলে বুঝবেন এটা কী জিনিস...।

আধুনিক প্রযুক্তির এও এক নিদর্শন। এখন কেবল আট-দশটা চোঙ্গা লাগিয়েই লোকজনকে কেবল শোনাবার ব্যবস্থা নেই এই কর্মকান্ডে সেলফোনও চলে এসেছে।
আমাদের গুণদাদা আবার আদর করে সেলফোনের নাম দিয়েছেন ‘মুঠোফোন’। হালের ৫-৬-৭ ইঞ্চি ডিসপ্লের যে ফোনগুলো এগুলো তো মুঠোয় আটকে রাখা অসম্ভব। এগুলোর নাম কী হবে ‘থাবাফোন’? আফসোস, গুণদাদাকে জিজ্ঞেস করার সুযোগ হয়নি!

যাই হোক, সেলফোন বা চালু নাম মোবাইল ফোনে এক মৌলভি সাহেব বয়ান করছেন। তিনি শুরু করলেন এভাবে, ‘এখন রাত সাড়ে বারোটা। আপনেরা কি আমাকে দেড় ঘন্টা সময় দিবেন’। লোকজনেরা সমস্বরে বললেন, ‘জ্বী হুজুর’। এর মানে রাত দুইটা পর্যন্ত আট-দশটা মাইক লাগিয়ে তিনি ধর্মউদ্ধার করবেন। আশা করছি, এই পরিধির মধ্যে অসুস্থ কোনও মানুষ বা কাকডাকা ভোরে উদয়াস্ত পরিশ্রমে খেটে খাওয়া মানুষ অথবা অন্য ধর্মের কেউ থাকবেন না।
তো বয়ানে তিনি বলছেন, “এই নবীর রাগ আছিল মারাত্তক। চেতলে রক্ষা আছিল না। একবার একজনরে নাম জিগাইলে হেতে তার নাম, বাপের নাম, দাদার নাম, দাদার দাদার নাম, হেরো দাদার নাম চৌদ্দগুষ্ঠির নাম কওয়া শুরু করলে নবী চেইতা কইলেন, তুমি আমার লগে ফাইজলামি করো। তোমারে এতো কথা জিগাইছি আমি?
হেই লোক কইল, ক্যান! আপনেরে যখন জিগান হইছিল, তুমার হাতে এইডা কিতা, তখন আপনে কি কইছিলেন মনে আছে? কইছিলেন, এইডা লাডি। ঠ্যাকায় পড়লে এইডায় আমি ভর দেই, এইডা দিয়া আমি বকরি চড়াই, সাপ-টাপ আইলে খেদাই। কতলা কথাই না তহন আপনে কইছিলেন! এহন আমি কইলে দোষ হইব ক্যান?
নবী চেইতা কইলেন, শাট আপ!
হেই লোকও কইলেন, আপনে ডাবল শাট আপ!”

যে নবীর কথা এই মৌলভি সাহেব বলছেন যদিও তাঁর জন্ম ঠিক কখন হয়েছিল এটা নিয়ে মতভেদ আছে! তবে অনুমান করা হয় ৩৩০০ বছর পূর্বে। বলা হয়ে থাকে হযরত মুসা পয়দেশসহ কিতাবুল মোকাদ্দেসের পাঁচটি খন্ড লিখেছিলেন বা তাঁর উপর নাযিল হয়েছিল। পবিত্র তৌরাত, হিব্রু ভাষায় যেটাকে বলা হয়, ‘তোরাহ’। সবই জানা ছিল কিন্তু এই নবী যে দুর্ধর্ষ ইংরাজিও বললেন এটা জানা ছিল না! 'ডাবল শাট আপ'ও যে রাগ বহিঃপ্রকাশের এক মারাত্মক হাতিয়ার আমাদের মৌলভি সাহেবের কল্যাণে এটাও জানা হয়ে গেল।

Friday, August 29, 2014

‘আমাগো ল্যাকক-গবেষক’!


কর্নেল তাহেরকে নিয়ে মহিউদ্দিন আহমদের একটি লেখার (৭ নভেম্বরের সাত-সতেরো, প্রথম আলো, ঈদসংখ্যা ২০১৪) প্রেক্ষিতে, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের প্রতিক্রিয়ার (তাহেরকে নিয়ে কেন এই মিথ্যাচার? , প্রথম আলো ২১ আগস্ট ২০১৪) জবাবে মহিউদ্দিন আহমেদ আরেকটি লেখা লিখেন, প্রতিক্রিয়ার জবাব, (সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় কেন? প্রথম আলো ২৫ আগস্ট ২০১৪)।

সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় কেন? তাই তো-তাই তো, ভয় নাই উরে ভয় নাই! ওহো, একালের যুধিষ্ঠির (তিনপান্ডবের জ্যেষ্ঠ পান্ডব) চলে এসেছেন যে। এখন আমাদের উপায় কী গো- গোবর খেয়ে প্রায়শ্চিত্ত করতে হব?। মহিউদ্দিন আহমদ এই লেখায় লিখেছেন:
...আমার পান্ডুলিপির অল্প কিছু অংশ প্রথম আলো ছেপেছে এবং এটা আরও কিছু পত্রিকায় উদ্ধৃত হয়েছে। কেউ কেউ আমাকে জানিয়েছেন তথ্যগত কিছু ত্রুটি আছে। আমি এতে উপকৃত হয়েছি এবং আমার পান্ডুলিপি পরিমার্জন করেছি কিছু কিছু জায়গায়।...

ইতিপূর্বে থ্রি-মরদুদ[১] লেখাটায় আমি লিখেছিলাম, প্রথম আলো কেবল অল্প কিছু অংশই ছাপেনি অতি অসভ্য একটা কান্ডও করেছে। অসম্ভব বিতর্কিত এই লেখাটায় তথ্যসূত্র না-দিয়ে লিখেছে, স্থানাভাবে তথ্যসূত্র দেওয়া হলো না
অথচ ঈদসংখ্যা নামের ৫১২ পৃষ্ঠার এই জিনিসে আবর্জনার কিন্তু অভাব নেই। এখানে কেতুপাত সাদে পাদাং নামের খাবারের রেসিপিও আছে। এদের ভাব দেখে মনে হচ্ছে এই ...পাদাং খাবারটা না-খেলে পাঠক কোলা-ব্যাঙের ন্যায় পশ্চাদদেশ দেখিয়ে প্রথম আলো আপিসে বেদম লাফাবে!

মহিউদ্দিন আহমদ জাঁক করে এটাও লিখেছেন, ...অধ্যাপক হোসেন (আনোয়ার হোসেন) অনেকগুলো বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। আমি দেখলাম, তথ্যসূত্র অনুযায়ী আমার উল্লেখ করা সব কথাই মোটামুটি অভ্রান্ত।...
মহিউদ্দিন আহমদ ইনিয়েবিনিয়ে অনেক বিষয় টেনে নিয়ে এসেছেন অথচ আনোয়ার হোসেনের প্রশ্নগুলো একেক করে যুক্তি খন্ডন করার ধারেকাছে দিয়েও যাননি! যে নঈমের মুখ দিয়ে ভয়ংকর কথাটা বলিয়ে নিয়েছেন সেই নঈমকে নিয়ে একটি শব্দও নেই!  

আর মহিউদ্দিন স্যার যে বলছেন, ...তথ্যগত কিছু ত্রুটি আছে। আমি এতে উপকৃত হয়েছি এবং আমার পান্ডুলিপি পরিমার্জন করেছি কিছু কিছু জায়গায়।...
উপকৃত হয়েছেন? বাহ, বেশ তো! গবেষক সাহেব ইচ্ছা হলো ব্যস, বলা নেই কওয়া নেইলিকে দিলেন, ওমুক বলেছে তাহের ওয়েবের তার ধরে ঝুলাঝুলি করতেন। ঝুল-ঝুল ঝুলুনি... আর যায় কোথায় আমরাও স্বীকার গেলুম তাহের কেবল তার ধরে ঝুলাঝুলিই করতেন না কঠিন তারবাজিও করতেন। ফাঁকতালে কেউ যদি বলে বসে ওসময় তো ওয়েবের তারের খুটিই পোঁতা হয়নি তখন আমাদের গবেষক সাহেব সেই অংশটুকুর পরিমার্জনা করে আমাদেরকে মার্জনা করবেন। স্যারের ভাষায় বলতে হয়, ...লেখক-গবেষককে এ ক্ষেত্রে একটা ঝুঁকি নিতে হয়...
সেই ঝুঁকিটাই নিয়েছেন আমাদের কাবিল ল্যাকক-গবেষক মহোদয়।

এই লেখার অন্যত্র মহিউদ্দিন আহমদ লিখছেন:
...শুধু একটি বিষয়ে আমি নিশ্চিত হতে পারিনি। আমি লিখেছিলাম, শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে তাহের উপস্থিত ছিলেন।...
যাক, একালের যুধিষ্ঠির মহাশয়ের মনে তাহলে খানিকটা ধন্ধও কাজ করছে! ভাল-ভাল!

তিনি আরও লিখেছেন, ...আমার লেখার ভগ্নাংশ ছাপা হয়েছে। ...পাঠক আরও অনেক কিছুই জানতে পারবেন, ভাবনাচিন্তার খোরাক পাবেন, যখন বইটি আলোর মুখ দেখবে।...
বাপু রে, তা আর বলতে! শেষ পর্যন্ত লাজটা আর লুকিয়ে রাখা গেল না, না? পাঠকের ভাবনাচিন্তার জন্য দেখছি আপনি বড়ো কাতর হয়ে আছেন, হে। বাপু, টেনশন লেনেকা নেহি, প্রথম আলোর মত উঁচুমার্গের বেনিয়া থাকতে আপনাকে মার্কেটিং নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না। আহা, নির্লজ্জের মত মুখিয়ে থাকার আদৌ প্রয়োজন ছিল না।
রাম-রাম, এতো চিন্তা করলে আপনার গভেষণা ব্যহ্ত হবে না বুঝি!
আপনি বরং এই সব ছাইপাশ ইয়ে খুলে লিখতে থাকুন, ...তাহের আক্ষেপ করে নঈমকে বললেন, ওরা বড় রকমের একটা ভুল করেছে শেখ মুজিবকে কবর দিতে অ্যালাও করা ঠিক হয়নি এখন তো সেখানে মাজার হবে উচিত ছিল লাশটা বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া।..."

আপনার বইয়ের ছাপা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিঃশেষিত হবে এবং প্রথম আলোর বর্ষসেরা বইয়ের সিড়িগুলো বেয়ে তরতর করে আপনাআপনি এই বইটা যে বছরের সেরা বইয়ের মুকুট ছিনিয়ে নেবে এতে অন্তত আমার কোনও সন্দেহ নেই।

আমার সাফ কথা। অনেকে যেমন কাউকে কাউকে দেবতার পর্যায়ে নিয়ে যান। আমি কোনও প্রকারেই এদেরকে দেবতা বলে স্বীকার করি না। যেমনটা এটাও মনে করি না তাহেরের বেলায়ও। তাঁর কোনও মতাদর্শ, ভাবনা ভুল প্রমাণিত হতেই পারে। তাহরের করা কোনও অন্যায় নিয়ে আলোচনা অবশ্যই হবে। তাহের কাউকে অপছন্দ করতেই পারেন কারও প্রতি তাঁর বিস্তর ক্ষোভ থাকতেই পারে কিন্তু ...উচিত ছিল লাশটা বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া..., এমন হিংস্র, নৃশংস কথা তাহেরের মত মানুষ বলবেন এটা অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়। তাহেরের প্রতি করা অভূতপূর্ব অন্যায়, তাঁর মত কল্পনার অতীত সাহস, মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদান- এমন মানুষ এদেশে খুঁজে পাওয়া বিরল।  
এই মানুষটাকে নিয়ে মহিউদ্দিন গং এখন যেটা করছেন সেটা অন্যায়, স্রেফ একটা অন্যায়। কুৎসিত অন্ধকার ভুবনের অমানুষের কাজ। 

সহায়ক সূত্র:
১. থ্রি মরদুদ: http://www.ali-mahmed.com/2014/08/blog-post_21.html

* এই লেখাটাই ফেসবুকে দেওয়ার পর Md Mustafizur Rahman
 মন্তব্য করেন:
আমি , কমুনিস্ট দেখতে পারি না , তাই প্রথম আলো সত্য হলে আমি খুশি হবো আপনার ধারণা প্রথম আলো মিথ্যা , আর যুক্তি হচ্ছে,
'সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা' এই গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়:
...২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে তাহের পাকিস্তানের কোয়েটার স্কুল অব ইনফ্রেন্ট্রি এন্ড টেকটিক্স-এ সিনিয়র টেকনিকেল কোরে অংশ নিচ্ছিলেন২৬ মার্চ সামরিক অফিসার ক্লাবে একজন পাঞ্জাবি অফিসার শেখ মুজিব সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করায় তাহের এর তীব্র প্রতিবাদ করলে তাকে বন্দি করা হয়।...
সুন্দর যুক্তি একবার যখন তাহের বংগন্ধুর উপর খুশি তার মানে সারা জীবন খুশি

আমার উত্তর:
আপনার ধারণা প্রথম আলো মিথ্যা , আর যুক্তি হচ্ছে...।
না,দুইটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছিল তাহেরের চারিত্রিক দৃঢ়তা বোঝাবার জন্য যে তাহের চতুর তেলতেলে রাজনীতিবিদ ছিলেন না যে রয়েসয়ে বলবেন।
এটাও লেখার সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল প্রথম আলো উল্লেখ করেছে স্থানাভাবে তথ্যসূত্র দেওয়া হলো না। অথচ এমন একটা ভয়াবহ অভিযোগ তাঁর প্রতি উত্থাপন করা হয়েছে, ...উচিত ছিল লাশটা বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া।..."- এই জায়গাটাই ছিল আমার লেখার মূল বিষয়। পরের লেখায় যেটা আমি বলেছি:
তাহের কাউকে অপছন্দ করতেই পারেন কারও প্রতি তাঁর বিস্তর ক্ষোভ থাকতেই পারে কিন্তু ...উচিত ছিল লাশটা বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া..., এমন হিংস্র, নৃশংস কথা তাহেরের মত মানুষ বলবেন এটা অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়।

তহেরের মত অসমসাহসী, প্রথম সারির যোদ্ধার পক্ষে এমন একটা বক্তব্য দেওয়াটা কতটুকু বাস্তবসম্মত? তাও কোথাকার এক নঈমের বরাত দিয়ে। গোটা বিষয়টাই যথেষ্ঠ সন্দেহের উদ্রেক করে। আমি আশা করেছিলাম, মহিউদ্দিন আহমদ যথার্থ তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বিষয়টা পরিষ্কার করবেন। কিন্তু তিনি সেপথ মাড়াননি!
আনোয়ার হোসেন যখন মহিউদ্দিনের এই লেখাটি নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সেই প্রতিক্রিয়ার পর মহিউদ্দিন আহমদ আরেকটি প্রতিক্রিয়া লেখেন যেখানে তিনি এই প্রসঙ্গটি সুকৌশলে এড়িয়ে যান। যেটা আমাগো ল্যাকক, গবেষক লেখাটায় আমি উল্লেখ করেছি।
মহিউদ্দিন আহমদ ইনিয়েবিনিয়ে অনেক বিষয় টেনে নিয়ে এসেছেন অথচ আনোয়ার হোসেনের প্রশ্নগুলো একেক করে যুক্তি খন্ডন করার ধারেকাছে দিয়েও যাননি! যে নঈমের মুখ দিয়ে ভয়ংকর কথাটা বলিয়ে নিয়েছেন সেই নঈমকে নিয়ে একটি শব্দও নেই!   

Monday, August 25, 2014

আকাশলোক থেকে ধরাধামে নেমে এলেন যিনি।


গোলাম মাওলা রনি। একজন সংসদ সদস্য এবং লেখালেখিও করেন বটে। স্যারের একটি পরিচয় অন্য পরিচয়কে ছাপিয়ে যায়। মোগল হেরেমের দুনিয়া কাঁপানো প্রেম নামে রগরগে ধারাবাহিক একটা লেখা লিখছেন। তার এই সব লেখায় পু..দন্ড, অ..কোষ, র..ক্রিয়ার যেসব বর্ণনা তার নাম না-থাকলে ধরে নিতাম রসময় গুপ্তের লেখা পড়ছি।

৩৪তম পর্বে (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৩ আগস্ট, ২০‌১৪) প্রহরীরা ফক ফক করে হাসে। এই প্রহরীগুলোর কথা বলতে দন্তহীন মাঢ়ির ফাঁক বা বিরল দাঁতের ফাঁক দিয়ে হাওয়া বের হয় এমনটা কিন্তু না তবুও এরা ফক ফক করে হাসে! তা হাসুক, লেখকের স্বাধীনতা বলে কথা!
প্রহরী ফক ফক করে হাসতে পারলে সম্রাট কুত কুত করে হাসতে পারবেন না কেন! গোলাম মাওলা রনির সম্রাট কুত কুত করে হাসেন।
এই লেখার একস্থলে রনি লিখছেন:
...সম্রাজ্ঞির ঘোড়ায় চড়ার চেষ্টার উদ্দামতা যেন আরও বেড়ে গেল। তিনি সম্রাটের পিঠের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে নিজের দুপা দিয়ে স্বামীর দুপা সজোরে প্যাঁচ মারলেন।...শাহেনশাহের সুড়সুড়ি আরও বহু গুণে বেড়ে গেল। তিনি ওরে বাবাগো, ওরে মা গো। এই  নূরজাহান, ছাড়। দয়া করে ছাড়।
...তিনি (সম্রাজ্ঞি) শাহানশাহের ঘাড়ে সজোরে দংশন বসিয়ে দিলেন...উভয়ে প্রায় ঘন্টাখানেকের প্রাণান্ত চেষ্টার পর সেই আটক অবস্থা থেকে মুক্ত হলেন বটে কিন্তু ততক্ষণে শরীরের ঘামে উভয়ের কাপড় চোপড় ভিজে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।...

ভাষার যে কারুকাজ দেখছি আমি বাক্যহারা না-হয়ে কলমহারা হয়ে যাচ্ছি।দংশন বসিয়ে দিলেন! ওরে, পৃথিবীটাকে কেউ ধর আর সম্রাট যেখাবে বাবাগো মাগো বলে কাতর হচ্ছিলেন... বর্ণনা শুনে মনে হচ্ছে লেখক মহোদয় অকুস্থলে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। লেখক মহোদয় ওখানে কেন গিয়েছিলেন এটা নিশ্চিত জানার উপায় নেই হয়তো গুলিস্থান থেকে মান্ডার তেল নিয়ে গিয়েছিলেন। তাছাড়া সম্রাট-সম্রাজ্ঞির বিযুক্ত হতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগল। লেখক মহোদয়ের প্রায় না-লিখে আসলে উপায় ছিল না কারণ তখন তো আর তার কাছে হালের আধুনিক নিখুঁত ঘড়ি ছিল না, ছিল সূর্য-ঘড়ি, বালিঘড়ি।

যাই হোক, ঢাকার পুলিশ কমিশনারের কাছে খোলা চিঠিশিরোনামে আরেকটি লেখায় (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২২ আগস্ট ২০১৪) তিনি পরিতাপের সঙ্গে লিখছেন, ধানমিন্ড লেকের ওয়াক ওয়ে এবং আশেপাশের জায়গায় এ দেশের তরুণ-তরুণীরা যেসব অপকর্ম করে যেসব বাজে কথা বলে তা পৃথিবীর কোনো অসভ্য দেশের ছেলেমেয়েরা করে কিনা সন্দেহ।

ঢাকার পুলিশ কমিশনারের কাছে এই খোলা চিঠিটায় আমাদের আইনপ্রণেতা মহোদয় সমাপ্তি টানছেন এটা লিখে:
...জনাব আমি যদি আপনার চেয়ারের মালিক হতাম...তাদের প্রতি কড়া নির্দেশ থাকত আপত্তিকর অবস্থায় যাদের পাওয়া যাবে বা অসময়ে যারা স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে ওই এলাকায় ঘুরতে এসেছে তাদের সবইকে ধরে নিয়ে আসো। ছেলেমেয়ে উভয়কেই প্রথমে বেত মারো। আপত্তিকর কর্মে জড়িতদের একশত বেত এবং বাকিদের ৫০ বেত। তারপর তাদের পিতা-মাতা ও স্কুল-কলেজের নাম-ঠিকানা নাও। এদের কাছে জিজ্ঞেস কর বাবা-মা শিক্ষকরা ভাল না মন্দ। যদি ওরা মন্দ বলে তবে ওইসব বাবা-মা ও শিক্ষকদের ধরে নিয়ে আসো। মুখোমুখি করো কুলাঙ্গারদের। যদি মনে হয় ছেলেমেয়েরা সত্য বলছে , তবে বাবা-মা শিক্ষকদের পাছায় বেদম প্রহার করো। ... মাননীয় কমিশনার সাহেব আপনি যদি উপরোক্ত কাজ করতে পারেন তবে আপনার স্থান হবে খলিফা হযরত ওমর (রা.) বা খলিফা খলিফা হজরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজের (রহ.) পাশে।...

Facebook Share