Search

Loading...

Friday, August 29, 2014

‘আমাগো ল্যাকক-গবেষক’!


কর্নেল তাহেরকে নিয়ে মহিউদ্দিন আহমদের একটি লেখার (৭ নভেম্বরের সাত-সতেরো, প্রথম আলো, ঈদসংখ্যা ২০১৪) প্রেক্ষিতে, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের প্রতিক্রিয়ার (তাহেরকে নিয়ে কেন এই মিথ্যাচার? , প্রথম আলো ২১ আগস্ট ২০১৪) জবাবে মহিউদ্দিন আহমেদ আরেকটি লেখা লিখেন, প্রতিক্রিয়ার জবাব, (সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় কেন? প্রথম আলো ২৫ আগস্ট ২০১৪)।

সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় কেন? তাই তো-তাই তো, ভয় নাই উরে ভয় নাই! ওহো, একালের যুধিষ্ঠির (তিনপান্ডবের জ্যেষ্ঠ পান্ডব) চলে এসেছেন যে। এখন আমাদের উপায় কী গো- গোবর খেয়ে প্রায়শ্চিত্ত করতে হব?। মহিউদ্দিন আহমদ এই লেখায় লিখেছেন:
...আমার পান্ডুলিপির অল্প কিছু অংশ প্রথম আলো ছেপেছে এবং এটা আরও কিছু পত্রিকায় উদ্ধৃত হয়েছে। কেউ কেউ আমাকে জানিয়েছেন তথ্যগত কিছু ত্রুটি আছে। আমি এতে উপকৃত হয়েছি এবং আমার পান্ডুলিপি পরিমার্জন করেছি কিছু কিছু জায়গায়।...

ইতিপূর্বে থ্রি-মরদুদ[১] লেখাটায় আমি লিখেছিলাম, প্রথম আলো কেবল অল্প কিছু অংশই ছাপেনি অতি অসভ্য একটা কান্ডও করেছে। অসম্ভব বিতর্কিত এই লেখাটায় তথ্যসূত্র না-দিয়ে লিখেছে, স্থানাভাবে তথ্যসূত্র দেওয়া হলো না
অথচ ঈদসংখ্যা নামের ৫১২ পৃষ্ঠার এই জিনিসে আবর্জনার কিন্তু অভাব নেই। এখানে কেতুপাত সাদে পাদাং নামের খাবারের রেসিপিও আছে। এদের ভাব দেখে মনে হচ্ছে এই ...পাদাং খাবারটা না-খেলে পাঠক কোলা-ব্যাঙের ন্যায় পশ্চাদদেশ দেখিয়ে প্রথম আলো আপিসে বেদম লাফাবে!

মহিউদ্দিন আহমদ জাঁক করে এটাও লিখেছেন, ...অধ্যাপক হোসেন (আনোয়ার হোসেন) অনেকগুলো বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। আমি দেখলাম, তথ্যসূত্র অনুযায়ী আমার উল্লেখ করা সব কথাই মোটামুটি অভ্রান্ত।...
মহিউদ্দিন আহমদ ইনিয়েবিনিয়ে অনেক বিষয় টেনে নিয়ে এসেছেন অথচ আনোয়ার হোসেনের প্রশ্নগুলো একেক করে যুক্তি খন্ডন করার ধারেকাছে দিয়েও যাননি! যে নঈমের মুখ দিয়ে ভয়ংকর কথাটা বলিয়ে নিয়েছেন সেই নঈমকে নিয়ে একটি শব্দও নেই!  

আর মহিউদ্দিন স্যার যে বলছেন, ...তথ্যগত কিছু ত্রুটি আছে। আমি এতে উপকৃত হয়েছি এবং আমার পান্ডুলিপি পরিমার্জন করেছি কিছু কিছু জায়গায়।...
উপকৃত হয়েছেন? বাহ, বেশ তো! গবেষক সাহেব ইচ্ছা হলো ব্যস, বলা নেই কওয়া নেইলিকে দিলেন, ওমুক বলেছে তাহের ওয়েবের তার ধরে ঝুলাঝুলি করতেন। ঝুল-ঝুল ঝুলুনি... আর যায় কোথায় আমরাও স্বীকার গেলুম তাহের কেবল তার ধরে ঝুলাঝুলিই করতেন না কঠিন তারবাজিও করতেন। ফাঁকতালে কেউ যদি বলে বসে ওসময় তো ওয়েবের তারের খুটিই পোঁতা হয়নি তখন আমাদের গবেষক সাহেব সেই অংশটুকুর পরিমার্জনা করে আমাদেরকে মার্জনা করবেন। স্যারের ভাষায় বলতে হয়, ...লেখক-গবেষককে এ ক্ষেত্রে একটা ঝুঁকি নিতে হয়...
সেই ঝুঁকিটাই নিয়েছেন আমাদের কাবিল ল্যাকক-গবেষক মহোদয়।

এই লেখার অন্যত্র মহিউদ্দিন আহমদ লিখছেন:
...শুধু একটি বিষয়ে আমি নিশ্চিত হতে পারিনি। আমি লিখেছিলাম, শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে তাহের উপস্থিত ছিলেন।...
যাক, একালের যুধিষ্ঠির মহাশয়ের মনে তাহলে খানিকটা ধন্ধও কাজ করছে! ভাল-ভাল!

তিনি আরও লিখেছেন, ...আমার লেখার ভগ্নাংশ ছাপা হয়েছে। ...পাঠক আরও অনেক কিছুই জানতে পারবেন, ভাবনাচিন্তার খোরাক পাবেন, যখন বইটি আলোর মুখ দেখবে।...
বাপু রে, তা আর বলতে! শেষ পর্যন্ত লাজটা আর লুকিয়ে রাখা গেল না, না? পাঠকের ভাবনাচিন্তার জন্য দেখছি আপনি বড়ো কাতর হয়ে আছেন, হে। বাপু, টেনশন লেনেকা নেহি, প্রথম আলোর মত উঁচুমার্গের বেনিয়া থাকতে আপনাকে মার্কেটিং নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না। আহা, নির্লজ্জের মত মুখিয়ে থাকার আদৌ প্রয়োজন ছিল না।
রাম-রাম, এতো চিন্তা করলে আপনার গভেষণা ব্যহ্ত হবে না বুঝি!
আপনি বরং এই সব ছাইপাশ ইয়ে খুলে লিখতে থাকুন, ...তাহের আক্ষেপ করে নঈমকে বললেন, ওরা বড় রকমের একটা ভুল করেছে শেখ মুজিবকে কবর দিতে অ্যালাও করা ঠিক হয়নি এখন তো সেখানে মাজার হবে উচিত ছিল লাশটা বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া।..."

আপনার বইয়ের ছাপা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিঃশেষিত হবে এবং প্রথম আলোর বর্ষসেরা বইয়ের সিড়িগুলো বেয়ে তরতর করে আপনাআপনি এই বইটা যে বছরের সেরা বইয়ের মুকুট ছিনিয়ে নেবে এতে অন্তত আমার কোনও সন্দেহ নেই।

আমার সাফ কথা। অনেকে যেমন কাউকে কাউকে দেবতার পর্যায়ে নিয়ে যান। আমি কোনও প্রকারেই এদেরকে দেবতা বলে স্বীকার করি না। যেমনটা এটাও মনে করি না তাহেরের বেলায়ও। তাঁর কোনও মতাদর্শ, ভাবনা ভুল প্রমাণিত হতেই পারে। তাহরের করা কোনও অন্যায় নিয়ে আলোচনা অবশ্যই হবে। তাহের কাউকে অপছন্দ করতেই পারেন কারও প্রতি তাঁর বিস্তর ক্ষোভ থাকতেই পারে কিন্তু ...উচিত ছিল লাশটা বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া..., এমন হিংস্র, নৃশংস কথা তাহেরের মত মানুষ বলবেন এটা অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়। তাহেরের প্রতি করা অভূতপূর্ব অন্যায়, তাঁর মত কল্পনার অতীত সাহস, মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদান- এমন মানুষ এদেশে খুঁজে পাওয়া বিরল।  
এই মানুষটাকে নিয়ে মহিউদ্দিন গং এখন যেটা করছেন সেটা অন্যায়, স্রেফ একটা অন্যায়। কুৎসিত অন্ধকার ভুবনের অমানুষের কাজ। 

সহায়ক সূত্র:
১. থ্রি মরদুদ: http://www.ali-mahmed.com/2014/08/blog-post_21.html

* এই লেখাটাই ফেসবুকে দেওয়ার পর Md Mustafizur Rahman
 মন্তব্য করেন:
আমি , কমুনিস্ট দেখতে পারি না , তাই প্রথম আলো সত্য হলে আমি খুশি হবো আপনার ধারণা প্রথম আলো মিথ্যা , আর যুক্তি হচ্ছে,
'সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা' এই গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়:
...২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে তাহের পাকিস্তানের কোয়েটার স্কুল অব ইনফ্রেন্ট্রি এন্ড টেকটিক্স-এ সিনিয়র টেকনিকেল কোরে অংশ নিচ্ছিলেন২৬ মার্চ সামরিক অফিসার ক্লাবে একজন পাঞ্জাবি অফিসার শেখ মুজিব সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করায় তাহের এর তীব্র প্রতিবাদ করলে তাকে বন্দি করা হয়।...
সুন্দর যুক্তি একবার যখন তাহের বংগন্ধুর উপর খুশি তার মানে সারা জীবন খুশি

আমার উত্তর:
আপনার ধারণা প্রথম আলো মিথ্যা , আর যুক্তি হচ্ছে...।
না,দুইটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছিল তাহেরের চারিত্রিক দৃঢ়তা বোঝাবার জন্য যে তাহের চতুর তেলতেলে রাজনীতিবিদ ছিলেন না যে রয়েসয়ে বলবেন।
এটাও লেখার সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল প্রথম আলো উল্লেখ করেছে স্থানাভাবে তথ্যসূত্র দেওয়া হলো না। অথচ এমন একটা ভয়াবহ অভিযোগ তাঁর প্রতি উত্থাপন করা হয়েছে, ...উচিত ছিল লাশটা বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া।..."- এই জায়গাটাই ছিল আমার লেখার মূল বিষয়। পরের লেখায় যেটা আমি বলেছি:
তাহের কাউকে অপছন্দ করতেই পারেন কারও প্রতি তাঁর বিস্তর ক্ষোভ থাকতেই পারে কিন্তু ...উচিত ছিল লাশটা বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া..., এমন হিংস্র, নৃশংস কথা তাহেরের মত মানুষ বলবেন এটা অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়।

তহেরের মত অসমসাহসী, প্রথম সারির যোদ্ধার পক্ষে এমন একটা বক্তব্য দেওয়াটা কতটুকু বাস্তবসম্মত? তাও কোথাকার এক নঈমের বরাত দিয়ে। গোটা বিষয়টাই যথেষ্ঠ সন্দেহের উদ্রেক করে। আমি আশা করেছিলাম, মহিউদ্দিন আহমদ যথার্থ তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বিষয়টা পরিষ্কার করবেন। কিন্তু তিনি সেপথ মাড়াননি!
আনোয়ার হোসেন যখন মহিউদ্দিনের এই লেখাটি নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সেই প্রতিক্রিয়ার পর মহিউদ্দিন আহমদ আরেকটি প্রতিক্রিয়া লেখেন যেখানে তিনি এই প্রসঙ্গটি সুকৌশলে এড়িয়ে যান। যেটা আমাগো ল্যাকক, গবেষক লেখাটায় আমি উল্লেখ করেছি।
মহিউদ্দিন আহমদ ইনিয়েবিনিয়ে অনেক বিষয় টেনে নিয়ে এসেছেন অথচ আনোয়ার হোসেনের প্রশ্নগুলো একেক করে যুক্তি খন্ডন করার ধারেকাছে দিয়েও যাননি! যে নঈমের মুখ দিয়ে ভয়ংকর কথাটা বলিয়ে নিয়েছেন সেই নঈমকে নিয়ে একটি শব্দও নেই!   

Monday, August 25, 2014

আকাশলোক থেকে ধরাধামে নেমে এলেন যিনি।


গোলাম মাওলা রনি। একজন সংসদ সদস্য এবং লেখালেখিও করেন বটে। স্যারের একটি পরিচয় অন্য পরিচয়কে ছাপিয়ে যায়। মোগল হেরেমের দুনিয়া কাঁপানো প্রেম নামে রগরগে ধারাবাহিক একটা লেখা লিখছেন। তার এই সব লেখায় পু..দন্ড, অ..কোষ, র..ক্রিয়ার যেসব বর্ণনা তার নাম না-থাকলে ধরে নিতাম রসময় গুপ্তের লেখা পড়ছি।

৩৪তম পর্বে (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৩ আগস্ট, ২০‌১৪) প্রহরীরা ফক ফক করে হাসে। এই প্রহরীগুলোর কথা বলতে দন্তহীন মাঢ়ির ফাঁক বা বিরল দাঁতের ফাঁক দিয়ে হাওয়া বের হয় এমনটা কিন্তু না তবুও এরা ফক ফক করে হাসে! তা হাসুক, লেখকের স্বাধীনতা বলে কথা!
প্রহরী ফক ফক করে হাসতে পারলে সম্রাট কুত কুত করে হাসতে পারবেন না কেন! গোলাম মাওলা রনির সম্রাট কুত কুত করে হাসেন।
এই লেখার একস্থলে রনি লিখছেন:
...সম্রাজ্ঞির ঘোড়ায় চড়ার চেষ্টার উদ্দামতা যেন আরও বেড়ে গেল। তিনি সম্রাটের পিঠের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে নিজের দুপা দিয়ে স্বামীর দুপা সজোরে প্যাঁচ মারলেন।...শাহেনশাহের সুড়সুড়ি আরও বহু গুণে বেড়ে গেল। তিনি ওরে বাবাগো, ওরে মা গো। এই  নূরজাহান, ছাড়। দয়া করে ছাড়।
...তিনি (সম্রাজ্ঞি) শাহানশাহের ঘাড়ে সজোরে দংশন বসিয়ে দিলেন...উভয়ে প্রায় ঘন্টাখানেকের প্রাণান্ত চেষ্টার পর সেই আটক অবস্থা থেকে মুক্ত হলেন বটে কিন্তু ততক্ষণে শরীরের ঘামে উভয়ের কাপড় চোপড় ভিজে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।...

ভাষার যে কারুকাজ দেখছি আমি বাক্যহারা না-হয়ে কলমহারা হয়ে যাচ্ছি।দংশন বসিয়ে দিলেন! ওরে, পৃথিবীটাকে কেউ ধর আর সম্রাট যেখাবে বাবাগো মাগো বলে কাতর হচ্ছিলেন... বর্ণনা শুনে মনে হচ্ছে লেখক মহোদয় অকুস্থলে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। লেখক মহোদয় ওখানে কেন গিয়েছিলেন এটা নিশ্চিত জানার উপায় নেই হয়তো গুলিস্থান থেকে মান্ডার তেল নিয়ে গিয়েছিলেন। তাছাড়া সম্রাট-সম্রাজ্ঞির বিযুক্ত হতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগল। লেখক মহোদয়ের প্রায় না-লিখে আসলে উপায় ছিল না কারণ তখন তো আর তার কাছে হালের আধুনিক নিখুঁত ঘড়ি ছিল না, ছিল সূর্য-ঘড়ি, বালিঘড়ি।

যাই হোক, ঢাকার পুলিশ কমিশনারের কাছে খোলা চিঠিশিরোনামে আরেকটি লেখায় (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২২ আগস্ট ২০১৪) তিনি পরিতাপের সঙ্গে লিখছেন, ধানমিন্ড লেকের ওয়াক ওয়ে এবং আশেপাশের জায়গায় এ দেশের তরুণ-তরুণীরা যেসব অপকর্ম করে যেসব বাজে কথা বলে তা পৃথিবীর কোনো অসভ্য দেশের ছেলেমেয়েরা করে কিনা সন্দেহ।

ঢাকার পুলিশ কমিশনারের কাছে এই খোলা চিঠিটায় আমাদের আইনপ্রণেতা মহোদয় সমাপ্তি টানছেন এটা লিখে:
...জনাব আমি যদি আপনার চেয়ারের মালিক হতাম...তাদের প্রতি কড়া নির্দেশ থাকত আপত্তিকর অবস্থায় যাদের পাওয়া যাবে বা অসময়ে যারা স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে ওই এলাকায় ঘুরতে এসেছে তাদের সবইকে ধরে নিয়ে আসো। ছেলেমেয়ে উভয়কেই প্রথমে বেত মারো। আপত্তিকর কর্মে জড়িতদের একশত বেত এবং বাকিদের ৫০ বেত। তারপর তাদের পিতা-মাতা ও স্কুল-কলেজের নাম-ঠিকানা নাও। এদের কাছে জিজ্ঞেস কর বাবা-মা শিক্ষকরা ভাল না মন্দ। যদি ওরা মন্দ বলে তবে ওইসব বাবা-মা ও শিক্ষকদের ধরে নিয়ে আসো। মুখোমুখি করো কুলাঙ্গারদের। যদি মনে হয় ছেলেমেয়েরা সত্য বলছে , তবে বাবা-মা শিক্ষকদের পাছায় বেদম প্রহার করো। ... মাননীয় কমিশনার সাহেব আপনি যদি উপরোক্ত কাজ করতে পারেন তবে আপনার স্থান হবে খলিফা হযরত ওমর (রা.) বা খলিফা খলিফা হজরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজের (রহ.) পাশে।...

Friday, August 22, 2014

'খুদখুশি'!


আজকের অতিথি লেখক, Jannatul Nayem




"বছর কয়েক আগের কথা সেজ খালা আমাকে এবং মেরিকে খুব বকা দিলেন আমরা দুজনেই চিন্তা করে দেখলাম, আসলেই তো, এই জীবনের কোনই দাম নেই দুজন মিলে ঠিক করলাম: চল, আমরা 'খুদখুশি' করি

শুরু হলো চিন্তা-ভাবনা কেমন করে খুদখুশি করা যায়? আমি আইডিয়া দিলে মেরি বাতিল করে, মেরি দিলে আমি হারপিকও ছিল আইডিয়াতে, কিন্তু হারপিক বাথরুমে ব্যবহার হয়, ছি! ভাবতেই বমি আসছিল একটা আইডিয়া ছিল এমন, বিষ খেয়ে... মেরি সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দিল কারণ যদি না-মরি, বেচে যাই? বেঁচে গেলে তো বিশাল ঝামেলা এরপর মেরি আইডিয়া দিল ছাদ থেকে সোজা লাফ
যথারীতি আমি বাতিল করে বললাম, চার তলার উপর থেকে লাফ দিলে মর এটা ১০০ ভাগ নিশ্চিত তবে লাশের অবস্থা কি হবে জান? নিচে বস্তি, টিনের চালের উপর ড়ে কেটে-কুটে ক্ষত-বিক্ষত লাশ... সব বাদ দিলেও আমার সুন্দর চেহারা কি হবে’?

মেরি বলল, আপু তা ঠিক বল, একেবারে আলুভর্তা না-না, মাংসের ভর্তা!
আমি মাথা ঝাঁকিয়ে বললাম, মেরি তোমারটা ঠিক থাকবে মনে হয়! দু-জনের ইচ্ছায় ঠিক হলো ঘুমের ওষুধ ঘুমের ওষুধ নিরাপদ আর শান্তিতে মরতে পারব ঘুমের মধ্যে, শান্তি- শান্তি অপেক্ষা শুধ আর একটা দিনেরওষুধ কিনে আনা পর্যন্ত, তবে একটাই কাজ বাকী...

আমাদের শেষ কিছু ইচ্ছা ছিলমরার পূর্বে এই সব লিখে যাওয়া মানে শেষ চিঠিএবার শুরু হলো ইচ্ছাগুলো লেখাইসস, কত যে ইচ্ছা! মেরির একটা ইচ্ছা তার পছন্দের গানগুলোর লিস্ট করা আর সেগুলি লিখে রাখা
বললাম, গান লিখে রেখে কীবে, শুনবে কে!
মেরির দ্রুত উত্তর, যখন থাকব না তখন আমার কথা মনে করে আমার মা গানগুলো শুনবে

হুম, কথায় যুক্তি আছে বটেএবার খানাপিনার লিস্ট মেরিকে বললাম, আমার মা আমার কথা মনে করে ফকির খাওয়াবে তবে কোনও ফকির আইসক্রিম, চকলেট, বাদাম, এইসব পেয়ে কতটুকু খুশি হবে তা নিশ্চিত ছিলাম না যাই হোক, মনটা খারাপ করে মেরিকে বললাম, মেরি তোমার তো বয়স হয় নাই কিন্তু আমার তো আঠারো, বিবাহ ফরয হয়েছে। বিবাহ না-করেই মরব? আচ্ছা, কাউকে কি রিকোয়েস্ট করা যায়? প্লিজ একটা দিনের জন্য আমাকে বিবাহ করেন। টাকা-পয়সা থাকলে অবশ্য ব্যাপার ছিল না
মেরি ভেবে বলল, কিন্তু সাক্ষী কই পাবে’?

মনটা তখন উদাস হয়ে গিয়েছিল এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে আমার হাত ধরার মত এমন তো কেউ নেই যার জন্য বেঁচে থাকা! খুব একটা মন খারাপ করলাম না, থাক মরতে তো হবেএখন এইসব চিন্তা করে লাভ কিআবার শুরু চিঠি লেখা মস্ত বন্ধুর নাম, ফোন নাম্বার, কাকে কি দিতে হবে কোথায় আমাদের কবর হবে। আহা, মরার প তো আর উঠে এসে বলতে পারব না, দেন-দেন এখানে আমাদের কবর দেনতাই মনে করে করে লিখলাম কিন্তু হঠাৎ মনে হল ওয়াল্লা, লিখতে লিখতে চিঠিটা চার পৃষ্ঠা হয়ে গেছে! কিন্তু এবড় চিঠি কে পড়ব?
মেরিকে নরোম সুরে বললাম, তুমি কিছুটা কমাও, যেহেতু আমি বড় তাই চিঠিতে আমার ইচ্ছাই বেশী থাকবে এটাই স্বাভাবিক

যাই হোক,শুরু হ এডিটিং আমাদের যৌথ ইচ্ছা মিলিয়ে চিঠি লেখা যখন শেষ হলো তাও গিয়ে দাঁড়ালো দুই পৃষ্ঠা! কিছুক্ষণ পরই খালু চিৎকার করে বললেন, 'এই-এই, সেহেরির সময় যে শেষ তার কোনও খবর আছে'... দুই বান্দর সারারাত জাইগা আছো, অথচ কোনও খবর নাইসাধে কি বকা খাও

আযান দিতে দিতেই খাওয়া শেষ করলামকখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি... সকালে উঠে বারান্দায় গিয়ে দেখি চারপাশ, পৃথিবীটা কত সুন্দর! গাছের খসখসে পাতাটাও মনে হয় কী চকচকে- যা দেখি তাই ভাল লাগেআহা, এখনও যে কত কিছুই দেখা হয়নিকখন যে মরার ইচ্ছাটা চলে গেছে নিজেও জানি না
মেরিকে ঘুম থেকে তুলে বললাম, ডিসিশন চেঞ্জ, জীবনে অনেক কিছুই করা হয় নাই, দেখা হয় নাই করে দেখেনি তারপর না-হয় মরার চিন্তা করা যাবে। এটাই শেষ কথা, ফাইনাল

এখন এই সব কথা মনে পড়লে হাসি পায় কিন্তু সে রাতে আমরা দুইজনই মরার জন্য খুব সিরিয়াস ছিলাম
সেই রাত! ভাগ্যিস, সেই রাতটা শেষ রাত হয়ে উঠেনি...।"

Facebook Share