Search

Loading...

Sunday, March 27, 2016

নরকযন্ত্রণা!

ভাগ্যিস, মনুষ্যলোকে নরকের প্রকৃত অবয়ব দেখার উপায় আমাদের নাই তবে কারও-কারও নরকযন্ত্রণা, নরোম করে বললে অশেষ ক্লেশ ভোগ করার দুর্ভাগ্য হয়।

২০ মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় সোহাগী জাহান তনুর লাশ পাওয়া যায়। সুখের বিষয়, মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদেরকে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, “…আমরা অনেক বড় বড় ঘটনার রহস্য বের করেছি। এটিরও রহস্য উদঘাটন হবে”
যাক, চিন্তার কিছু নেই। আরাম করে ঘুমানো যেতে পারে। সাগর-রুনি বা ফয়সল আরেফিন দিপনের খুনের মত গতি হবে না এই খুনের। পূর্বের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাগর-রুনির হত্যাকান্ডের সুরাহা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হবে বলে আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি সম্ভবত ৪৮ মাসের স্থলে ৪৮ ঘন্টা বলে ফেলেছিলেন।

এই বিচিত্র দেশের কর্মকান্ডগুলোও বড় বিচিত্র! এখানে কেউ খুন-গুম হলে বলা চলে তারা একপ্রকারে বেঁচেই যায় কিন্তু ভয়াবহ বিপদে ফেলে যায় তাঁদের স্বজনকে। ওই স্বজনরা বেঁচে থাকে ‘জম্বি’ হয়ে। না-জীবিত না-মৃত!
উদাহরণ, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবারের লোকজন, তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহার যেহেতু কলাবাগানে বাস করেন তিনি কলাবাগান থানায় জিডি করতে গেলে থানা থেকে জানানো হয় যেহেতু তানভীর সর্বশেষ কচুক্ষেত এলাকা থেকে কথা বলেছেন তাই কাফরুল থানায় জিডি করতে হবে। কাফরুল থানায় গেলে ওখান থেকে বলা হয় ক্যান্টনমেন্ট থানার দায়িত্ব এটা। ক্যান্টনমেন্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলে ঘটনাস্থল ভাষানটেক থানার আওতাভুক্ত অতএব ভাষানটেক থানায় যান।

এই করে-করে কোনও থানাই তখন জিডি গ্রহণ করেনি। পরিবারের একজন মানুষ হারিয়ে যাওয়ার পর তাঁর স্বজনদের উপর এই যে অত্যাচার করা হলো, এই যে পাপ, এই পাপের বিচারের কী হবে?

এমনিতে বলা হয়ে থাকে এই গ্রহের সবচেয়ে ভারী হচ্ছে বাবার কাঁধে সন্তানের মৃতদেহ। সন্তানের মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে বাবা কাঁদেন না স্রেফ পাথর হয়ে থাকেন। বাবাদের হাউমাউ করে কাঁদার নিয়ম নাই। খুব ভেঙ্গে পড়লে বাথরুমের ট্যাপ খুলে দিয়ে…তখন বাথরুমের পানির স্রোতের সঙ্গে মিশে যায় বাবাটার চোখের জল।

সোহাগী জাহান তনুকে যে কেবল হত্যা করা হয়েছে তাই না অনুমান করা হচ্ছে তনু চরম শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হয়েছিলেন। এরপর পত্রিকায় আমি যে ভয়ংকর খবরটা পড়লাম আমার কেবল মনে হচ্ছিল আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। এ যে অবিশ্বাস্য, অসম্ভব! কোনও সভ্য দেশে এমনটা হতে পারে এটা আমি বিশ্বাস করি না। প্রথম আলো (২৭ মার্চ ২০১৬) থেকে আমরা জানতে পারছি: শুক্রবার বিকেলে সোহাগীর বাবা এবং বড় ভাইকে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মকর্তারা নিয়ে যান। এরপর রাত সাড়ে ১২টায় সোহাগীর মা, ভাই এবং চাচাতো বোনকে র‌্যাব-১১ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। ছাড়া হয় ভোর বেলায়! এই হচ্ছে এ দেশে জিজ্ঞাসাবাদের নমুনা! তাও শত-শত বার কী জানতে চাওয়া হয়েছে? সোহাগীর কলেজে কোনও ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কিনা? তাও শোকাহত মার কাছে! এটাও জানতে চাওয়া হয়েছে সোহাগীর বাবা-মা কেন মেয়ের বিয়ে দেননি? আজব একটা দেশ এটা...!

আমার তো মনে হয়, সোহাগীর বাবা-মা, কামরুন নাহারের চোখের জলের সঙ্গে ভেসে যায় অসমাপ্ত পদ্মাসেতু, রিজার্ভের উপচেপড়া বেসুমার টাকা, পেটমোটা জিডিপি, সাহেবসুবোদের অমৃতবাণী মধ্য আয়ের দেশ, এডিবির 'খয়রাতি ঋণ'…।

Thursday, February 18, 2016

গুডবাই ওল্ড ম্যান, গুডবাই।

নায়কোচিত [১] লেখাটায় লিখেছিলাম, এই বয়স্ক মানুষটা স্টেশনে ছিলেন যখন, তাকানো যায় না এমন এক হাহাকারকরা ভঙ্গিতে। এই মানুষটির শেকড় কোথায়, স্বজন কারা? জানা নেই। কোথায় তিনি তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন কুঁড়েঘর বা অট্টালিকা। অট্টালিকার কথা শুনে কেউ-কেউ হয়তো হাসি গোপন করছেন।
এই স্টেশনেই আমি এমন মানুষকেও [২] [৩] দিনের-পর-দিন বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকতে দেখেছি পরবর্তীতে যার চিকিৎসা হয়েছে স্কয়ারের মত হাসপাতালে তারপর ইংল্যান্ডে।

যাই হোক, ওই লেখায় লিখেছিলাম মানুষটার চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন যে সমস্যাটা প্রকট আকার ধারণ করেছিল যেটা পূর্বেও বলেছিলাম সেটা হচ্ছে যেহেতু মানুষটা চলৎশক্তিহীন তাই তিনি পরিধেয় কাপড় নষ্ট করে ফেলতেন। পরিষ্কার রাখাটাই কঠিন হয়ে পড়ত। তাই বলে চিকিৎসা থেমে ছিল না। ডা. সাইফুল ইসলাম নামের মানুষটা এঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমি প্রায় নির্ভার।

গতকালই আমার যে বন্ধু, প্রদীপ কুমার সাহা মাত্র অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছে ল্যাগজেটের ঘোর যার এখনও কাটেনি তাকে প্রায় উড়িয়ে নিয়ে চললাম হাসপাতালে। আমার সাফ কথা, কে দেখেছে নেক্সট সামার কে দেখেছে নেক্সট উইন্টার। পরদিন গেলে মানুষটার দেখা পাওয়া যাবে এর নিশ্চয়তা কোথায়?
তখন সন্ধ্যা হয়-হয়। মানুষটা তখনও অঘোর ঘুমে। আমরা ফিরে আসি।

আজ যখন এই মানুষটার সামনে দাঁড়ালাম। সেই ম্যাজিক, সেই পুরনো ম্যাজিক! এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ম্যাজিশিয়ানের ম্যাজিক। ম্যাজিকের ঘোর যখন কাটে তখন কেবল লাশ উঠাও লাশ নামাও। এই লাশটার মুখ চাদর দিয়ে ঢেকে দাও।
এই মানুষটা কিছুই জানা সম্ভব হয়নি, এমনকি নামও। তাই তিনি হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছিলেন 'অজ্ঞাত' নামে। যাক, অজ্ঞাত মানুষটার নামের একটা গতি হয় নতুন একটা নামে পরিচিত হন তিনি, লাশ…।

১. নায়কোচিত: http://www.ali-mahmed.com/2016/02/blog-post_13.html
২. ঘরের ছেলে…: http://www.ali-mahmed.com/2014/01/blog-post.html
৩. অপেক্ষা: http://www.ali-mahmed.com/2013/11/blog-post_730.html

Wednesday, February 17, 2016

মাহফুজ আনাম, কতিপয় পদ্মা সেতু এবং …!

আমাদের দেশে ভুল স্বীকার করার চল নাই- যে দেশের যে চল! আমরা বৃত্তে ঘুরপাক খেতে পছন্দ করি।
এমনিতে কারও কোনও প্রকারের ভুলের কারণে তার নিজের ভুলের মাশুল বা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে, কোন প্রকারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষটির ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেটার বিভিন্ন উপায় আছে।
video
জরুরি অবস্থার সময় যাচাই না-করেই মাহফুজ আনাম তাঁর পত্রিকা ডেইলি স্টারে শেখ হাসিনার যে সংবাদটা ছাপিয়েছিলেন সেটা ডিজিএফআই দ্বারা সরবরাহকৃত ছিল। এটা তাঁর সম্পাদক জীবনের বড়ো একটা ভুল এটা মাহফুজ আনাম স্বীকার করার পর ঝড় উঠল। তাঁর বিরুদ্ধে একের-পর-এক মামলা হলো।
কিন্তু যে-বিষয় নিয়ে উচ্চবাচ্য করা হচ্ছে না সেটা হচ্ছে ডিজিএফআই দ্বারা সরবরাহকৃত সেই সংবাদটিই তখনকার অধিকাংশ পত্রিকাই ছাপিয়েছিল। ওই সমস্ত পত্রিকাগুলো এখনও চালু আছে। কিন্তু সেটা নিয়ে আমাদের বিশেষ কাতরতা নেই। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে, যে ডিজিএফআই ওই সংবাদ সরবরাহ করেছিল তাদের বিরুদ্ধে টুঁ-শব্দ নাই।

যাই হোক, এখন পর্যন্ত মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে গত সাত দিনে ৩৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে আছে রাষ্ট্রদ্রেহিতার মামলা এবং মানহানির মামলা। আমার বোধগম্য হচ্ছে না এটা, সংবাদটা ছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরের কথা কিন্তু তখন তো তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না তাহলে এখানে রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিষয়টা আসে কেমন করে? বা যারা মামলাগুলো করেছেন শেখ হাসিনার স্থলে তাদের মানহানি কেমন করে হয় সেটাও আমার বোধের বাইরে। কী জানি, এই সব আইনের দিক, আদালতের বিচার্য বিষয় সেটা মাননীয় আদালতই ভাল বুঝবেন।

সব মন্দেরই একটা ভাল দিক থাকে। এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার কোটি টাকার মানহানির অভিযোগ করা হয়েছে। ৬০ হাজার কোটি টাকায় অনায়াসে কয়েকটা পদ্মা সেতু হয়। আমাদের দেশে যত বড় বড় সেতু-টেতু আছে আশা করছি অচিরেই কাজ শুরু হবে কারণ সরকারী কোষাগারে টাকার অভাব হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নাই।
জ্যোতি-পদার্থবিজ্ঞানী গ্রেগ লাফলিনের মতে, গোটা পৃথিবীর মূল্য তিন হাজার ট্রিলিয়ন পাউন্ড (উইকির মতে, Earth is worth at least $195 quadrillion)।

মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে যে-হারে মামলা হচ্ছে এই অংক আমরা জমিয়ে গোটা গ্রহটা কিনে ফেললে আটকাচ্ছে কে…!