Search

Loading...

Monday, March 2, 2015

rokomari.com এবং ফারাবী গং ...।

সম্ভবত ৫/৭ বছর পূর্বে সাদিক আলম অভিজিৎ রায়ের ‘আলোর পথে চলিয়াছে অন্ধকারের যাত্রী’ বইটা আমাকে দিয়েছিলেন। প্রচুর তথ্য-উপাত্ত নিয়ে লেখা বইটা তখন পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। আজ একটা প্রয়োজনে বইটার প্রয়োজন হলে অনেক খুঁজেও যখন পেলাম না তখন নিশ্চিত হলাম এটা কোনও মহান(!) বইচোরের কাজ!

আমার ঢাকা যাওয়া হয় কালেভদ্রে তার উপর বইমেলায় যাওয়া হয় না বেশ ক-বছর। আমার নিজের সাইটেই ‘রকমারি ডট কমের’ হাইপার লিংক ছিল কিন্তু মাথায় আসে অনেক পরে। আরে, এদের মাধ্যমেই তো বই কেনা সম্ভব। এরপর আমার জন্য বিষয়টা সহজ হয়ে গেল। আমি আমার প্রয়োজনীয় বই পাঠাতে বলে দিলেই ওরা কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়, বই বুঝে পেয়ে টাকা পরিশোধ করে দিলেই হয়। 'ওয়েটিং ফর গডো- ওয়েটিং ফর বাংলার বেকেট [১] যে লেখাটা লিখেছিলাম সেই লেখাটার উৎসও রকমারির মাধ্যমেই সংগ্রহ করা বই।

আজ আমি রকমারিকে ফোন করে বললাম ‘আলোর পথে চলিয়াছে অন্ধকারের যাত্রী’এবং অভিজিৎ রায়ের আরেকটা বই পাঠিয়ে দিতে। এরা আমাকে জানালেন, অভিজিৎ রায়ের বই তাদের লিস্টে নেই এবং কোনও প্রকারেই তাঁর বইগুলো পাঠানো সম্ভব না। কয়েক দফা কথা বলেও আমি এদের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর পেলাম না কেন এরা অভিজিৎ রায়ের বই সরিয়ে ফেলেছে বা পাঠানো সম্ভব না। আমিও এটাও অনুরোধ করেছিলাম, আপনাদের সাইটের লিস্টে নাই, বেশ, আমাকে অন্তত যোগাড় করে পাঠিয়ে দেন। উত্তর নেগেটিভ!
(অবশ্য Ripon Majumder একটা লিংক দিয়েছেন http://rokomari.com/book/20036 যেখানে একটা বই দেখাচ্ছে। )

এবার আমি দুর্দান্ত রাগ চেপে বললাম, ‘কী আশ্চর্য, আপনারা একটা ব্যাখ্যা পর্যন্ত দেবেন না! এ তো ঘোর অন্যায়! বেশ তাহলে, এই অন্যায়ের প্রতিবাদ স্বরুপ আপনাদের এখানে তালিকায় আমার যে বইগুলো দেওয়া আছে তা-ও সরিয়ে ফেলুন’।
তারা আমাকে বললেন, ‘আপনি মৌখিক ভাবে বললে তো হবে না, মেইল করে জানান’। আমি বললাম, মৌখিক ভাবে বললে সমস্যা কোথায়! আমি নিজে আপনাদের ওখান থেকে বই কিনেছি। ওখানে আমার ফোন নাম্বার বিস্তারিত সবই দেওয়া আছে তাহলে?
তাদের উত্তর, ‘তর্ক বাড়িয়ে লাভ নাই। আপনি মেইল করুন’।

এরপর আমি তাদেরকে মেইল করলাম। মেইলের লেখাটা এখানে হুবহু তুলে দিচ্ছি। কেবল আমার বইয়ের নামগুলো উহ্য রাখলাম। অন্য কোনও কারণে না কেমন একটা বিজ্ঞাপন-বিজ্ঞাপন গন্ধ চলে আসছে বিধায়। মেইলটা ছিল এমন:
এডমিন, রকমারি ডট কম।
সুপ্রিয়,
আমি আপনাদের এখান থেকে প্রয়োজনে বই ক্রয় করে থাকি। কিন্তু আজ লেখক অভিজিৎ রায়ের বই পাঠাবার জন্য অনুরোধ করা হলে আপনাদের ওখান থেকে আমাকে জানানো হয়, এই লেখককের বই আপনারা আপনাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলেছেন এবং কোনও প্রকারেই অভিজিৎ রায়ের বই পাঠানো সম্ভব হবে না। বেশ ক-বার আপনাদের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেও এর সুরাহা হয়নি এবং কেন আপনারা উক্ত লেখকের বই সরিয়ে ফেলেছেন বা বিক্রয় করতে আগ্রহী নন তারও কোনও সদুত্তর মেলেনি।
আমি যতটুকু জানি অভিজিত রায়ের বই বিক্রয় করা বাংলাদেশে আইনত নিষিদ্ধ না তাহলে কেন আপনারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এটা আমার মোটেও বোধগম্য হচ্ছে না। যদিও, আপনাদেরকরা উক্ত আচরণ একজন লেখকের প্রতি চরম অপমানের, অশ্রদ্ধার। আপনাদের এই ঘৃণ্য, অন্যায় আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং আপনাদের সাইটে আমার যে বইগুলো (১. ..., ২. ..., ৩. ..., ৪. ..., ৫. ..., ৬. ..., ৭. ..., ৮. ..., ৯. ..., ১০. ..., ১১. ...) বিক্রি করার জন্য যে তালিকায় রেখেছেন তা সরিয়ে ফেলার জন্য অনুরোধ করি।
ধন্যবাদান্তে...”

এরা কেন বইগুলো সরিয়ে ফেলেছিলেন বা বিক্রয় করতে চাচ্ছিলেন না তা আমি বুঝতে পারছিলাম না। এফবিতে আমার বন্ধুদের সহায়তা চাওয়ার পর দেখা গেল ‘ফারাবী’ নামের একজন নাকি রকমারি ডট কমের কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিয়েছিল এরপর এরা বইগুলো সরিয়ে ফেলে বা বিক্রয় করা থেকে বিরত থাকে। এবং এটা নিয়ে গতবছর বইমেলার সময় খুব হইচইও হয়েছিল এমনকি মানববন্ধনও। কোনও বিচিত্র কারণে বিষয়টা আমারা চোখ এড়িয়ে গেছে বলে বিব্রত, লজ্জিত বোধ করছি। পাঠকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনাও করছি।

বাহ, ফারাবীর মত মানুষরা অতি শক্তিশালী তো! এতো শক্তিশালী মানুষদেরকে গুরুত্ব না-দেওয়ার তো কোনও কারণ দেখি না। একটু আগে শুনলাম, ফারাবীকে নাকি ধরা হয়েছে। এখন উপায়? অন্তত ফারাবীর ঠ্যাং দুইটা যেন শিকের বাইরে রাখা হয় যাতে করে আমার মত দুর্বল মানুষেরা গিয়ে ঠ্যাং ধরে কদমবুসি করতে পারে।

অভিজিৎ রায়ের উপর ফারাবী গং ক্ষেপে গেল কেন? তিনি কি এমন কোনও লেখা লিখেছিলেন যা আজগুবি, যার কোনও তথ্য-প্রমাণ নেই? যদি এমনটা হয়ে থাকে তাহলে সেই লেখাটা নিয়ে প্রতিবাদ করলে সমস্যা কোথায় ছিল? লেখার উত্তর কী চাপাতি দিয়ে? (যদিও আমরা এটা এখনও জানি না অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুর জন্য কে বা কারা দায়ী। যেহেতু ফারাবী অভিজিৎ রায়কে হুমকি দিয়ে এসেছে তাই আপাতত আলোচনায় ফারাবীই চলে আসছে।)

নাকি এরা চাচ্ছে এই গ্রহের সবাই ফারাবী গংদের মত হয়ে যাবে? মোটাদাগে বলতে হয়, তাহলে তো এই গ্রহে সবই আপেল গাছ থাকত কলাগাছ থাকত না। কথাটা সম্ভবত রবিদাদার, “I love my God because he gives me the freedom to deny him.”
বাপুরে, এই ক্ষমতাটাও তো তাঁরই দেওয়া নইলে তো এই গ্রহে অবিশ্বাসী বা অন্য ধর্মের কেউ থাকত না।!

এই তো সেদিন সবচেয়ে চালু এক দৈনিকে পড়লাম একজন ধর্মীয় শিক্ষক একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে লিখেছেন, “...তাঁর পায়খানা, প্রস্রাবেও সুগন্ধ হতো”। এখন এই লেখা নিয়ে কি কেউ কোনও সংশয় প্রকাশ করতে পারবে না, কোনও রেফারেন্স চাইবে না? চাইলেই কী চাপাতি চলবে?
অন্য একটা লেখাও চোখে পড়েছিল। একটা রক্তাক্ত কুকুরের ছবি এবং অভিজিৎ রায়ের ছবি পাশাপাশি দিয়ে বলা হয়েছে লোকটা কুকুরের মত মরেছে। তা লোকটার কি দোষ? তারও ব্যাখ্যা করা হয়েছে ওই লেখায়। তিনি নাকি ঈশ্বরকে নিয়ে মন্দ কথা লিখেছিলেন। ওখানে উল্লেখকরা অভিজিতের লেখার রেফারেন্সটাও পড়লাম। তিনি যেটা লিখেছিলেন, ‘ভগ’ মানে যোনি এবং কোত্থেকে কেমন করে এটা এসেছে তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অভিজিতের নিজের কোনও মনগড়া ব্যাখ্যা না কিন্তু। তাহলে? বাংলা অভিধানেই তো আছে ‘ভগ’ মানে যোনি, গুহ্যদেশ। বাছা, অভিধানকেও কী চাপাতি দিয়ে কোপানো হবে?

শোনেন, ফারাবি গং, ভুলেও কিন্তু আমাদেরকে মৃত্যুর ভয় দেখাবেন না। কেউ থুত্থুড়ে বুড়া হয়ে গু-মুতে মাখামাখি হয়ে মারা যায়, কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে, কেউবা আপনাদের মত কাপুরুষদের হাতে। কাউকে-কাউকে মেরে ফেলা যায় এ সত্য কিন্তু তার আদর্শ, তাঁর ভাবনাকে মেরে ফেলা যায় না। সেই ভাবনার রেশ ধরে তাঁর গলিত শব থেকে জন্ম নেবে, নেবেই অন্য একজন। সেই মানুষটা হাতে থাকবে জ্ঞানের এমন এক তরবারি যেটা দিয়ে সে ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে সমস্ত অন্ধকার, আপনাদের মত কাপুরুষদেরকে...।

১. ওয়েটিং ফর গডো...: http://www.ali-mahmed.com/2015/01/blog-post.html

Saturday, February 28, 2015

রঙিন চশমা!

আজই ড. জাফর ইকবালের একটা লেখা পড়ছিলাম। দৈনিক পত্রিকায় লেখাটি তিনি লিখেছেন ‘এবারের বইমেলা’ শিরোনামে। অংশবিশেষ এখানে তুলে দিচ্ছি:
...আমি আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাউকে জিজ্ঞেস করি, ‘কী হলো? ৮টা বেজে যাচ্ছে এখনও কিছু ঘটল না’? 
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটি আমাকে আশ্বাস দিয়ে বলে, ‘ঘটবে! নিশ্চয়ই ঘটবে’। 
এবং সত্যি সত্যি ব্যাপারটি ঘটে, আশপাশে কোনো জায়গায় বিকট শব্দ করে ককটেল ফোটে। আমি মেলার শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী কিংবা মধ্যবয়স্ক মানুষের দিকে তাকাই এবং সবিস্ময়ে লক্ষ করি একটি মানুষেরও একটু ভুরু পর্যন্ত কুঞ্চিত হয় না। দেখে মনে হয় তারা সেই বিকট শব্দটি শুনতেই পায়নি। যে যার মতো মেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, কথা বলছে, বই দেখছে...।

আমি এটা পড়ে কেবল স্তব্ধ হয়ে ভাবছিলাম, এই মানুষগুলো এমন কেন? এরা কোন ভুবনে বাস করে! নাকি এই মানুষগুলোর চোখে যে রঙিন চশমা ওটা চোখে দিলে সব কিছু অন্যরকম দেখায়? এরা কী সাদাকে কালো দেখেন, কালোকে সাদা?
কেউ প্রশ্ন করতে পারেন এই দেশে তো এমন ‘অহেতুক ভাবুক’ লোকদের অভাব নেই তা কেবল জাফর ইকবাল কেন? না, অভাব আছে। রাজনীতিবিদ বা অন্য অনেকের কথাই তো আমরা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে উড়িয়ে দেই। সত্যটা হচ্ছে, ড. জাফর ইকবালকে কেউ পছন্দ করুক বা না করুক কিন্তু এই মানুষটা ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’র মত একজন মানুষ। আমাদের দেশের শিশু-কিশোরদের কাছে এই মানুষটার যাদুকরী ক্ষমতা অকল্পনীয়। কিন্তু ক্রমশ তিনি ওই প্রজন্মটাকে বাস্তবতাবিবর্জিত করে ফেলছেন, ভাবের জগতের ছানাপোনা- বাস্তবের সঙ্গে যাদের যোগাযোগ খুবই কম।

আসলে এই দেশটা কী আদৌ কোনও বসবাস যোগ্য দেশ? তাহলে মৃত্যুপুরি কাকে বলে? আমাদের দেশকে কেউ ব্যর্থ রাষ্ট্র বললে আমাদের গা জ্বালা করে ,বেশ কিন্তু তাহলে ব্যর্থরাষ্ট্রের সংজ্ঞা কী? আর কতটা ভয়াবহ হলে একটা দেশকে ব্যর্থরাষ্ট্র বলা যাবে? প্রায় দু-মাস হয়ে গেল সব অচল- হরতাল অবরোধের নামে দেশের চাকা থেমে আছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২ লক্ষ হাজার কোটি টাকা কি ছুঁয়েছে? দেখো কান্ড, এই ফাঁকে আমরা এক দলের মানুষ অন্য দলের সঙ্গে এই বাকোয়াজে লিপ্ত পূর্বের সময়ে হরতালের পরিমাণ আরও বেশি ছিল, ব্লা-ব্লা-ব্লা।

শতের উপর মানুষ আগুনে পুড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। এখনও যারা বেঁচে আছে তাদের চেয়ে যারা মরে গেছে তাঁরাই বেঁচে গেছে। আমরা যন্ত্রমানুষ এই বলে কথার খই ফোটাচ্ছি, এ আর কী, একটা লঞ্চ ডুবে গেলে তো এরচেয়েও বেশি মানুষ মারা যায়। আইনের কথা বলে সাদাপোশাকের লোকজন মানুষকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে বা কথা নেই বার্তা নেই একজন জলজ্যান্ত মানুষ গুমের নামে নাই হয়ে গেল। রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান পুলিশবাহিনী ক্রসফায়ারের নামে মেরে ফেলছে একের-পর-এক মানুষকে। ওই মানুষটাকে নাশকতাকারী বা শিবিরের ট্যাগ দিয়ে দিলে আর কোনও প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হচ্ছে না এদেরকে। কেবল একটা উদাহরণ দেই।

২৪ ফেব্রুয়ারি পত্রিকা থেকে আমরা জানতে পারছি। রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়া এবং টেকনিক্যাল মোড় থেকে ৪ জন যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ি এরা ৪জনই অতি বদ-নাশকতাকারী। এদের মধ্যে ১জন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে আর বাকী ৩জন নাশকতার সময় জনগণের হাতে গণপিটুনিতে। অথচ এই ৩জনের শরীরে মোট ৫৫টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। জনগণ গণপিটুনি দিলে এদের ৩ জনের শরীরের এতোগুলো বুলেট আসলো কেমন করে এই প্রশ্ন করা হলে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন খান বলেন, ‘জনতার মধ্যে কারও কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকতে পারে, তারা গুলি চালাতে পারে...’।

হুম, উন্নত অনেক দেশে অগা-মগাও আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পায় কিন্তু ওইসব দেশের লোকজনও কাউকে মারতে এতো গুলি খরচ করে কিনা সন্দেহ। ছায়াছবিতেও কারও শরীরে এতোগুলো গুলি কেউ করে কিনা অন্তত আমার জানা নেই। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধিকল্পে গুলি প্র্যাকটিস করার জন্য বিভিন্ন মহড়া হয়। আহা, সেইসব তো ভার্চুয়াল মহড়া এখন মহড়া হয় বাস্তবে।
টকশোত এক চুতিয়া বুদ্ধিজীবীর কথা শুনছিলাম। চুতিয়াটা বলছে, 'পুলিশ যাদেরকে মারছে তাদের মধ্যে একজনও ভাল মানুষ আছে এমনটা কি শুনেছেন...'?
লুঙ্গি নিয়ে হাইকোর্টে রুল হয়েছিল কিন্তু এই অভূতপূর্ব ঘটনা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনও রুল জারি করা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

বইমেলাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেই লেখক অভিজিৎ রায়কে প্রকাশ্যে যে প্রকারে কুপিয়ে হত্য করা হলো তা যেন আমাদেরকে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হলো কেবল ‘বেডরুম পাহারা’ (মন্ত্রীবচন) না আমরা কোথাও পাহারা দিতে পারব না। সাগর-রুনির মত অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুরও কোনও কূলকিনারা না-হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

আমরা যারা মাথা বাঁচাতে পারব না তাদের উপায় কী- আমরা কোথায় পালাব? এই দেশ ছেড়ে আমাদের আসলে পালাবার কোনও উপায় নেই। আহ, ড. জাফর ইকবালের মত একটা রঙিন চশমার বড়ো প্রয়োজন। যে চশমাটা চোখে দিলেই দিব্যি সব কিছুই ঝাঁ চকচকে, মোহনীয় রঙিন...।

Wednesday, February 25, 2015

নৈতিক-অনৈতিক এবং আমার ব্যাখ্যা।

এই লেখাটার প্রেক্ষিতে [১] কেউ-কেউ ভিন্ন মত পোষণ করেছেন কেউ আবার আমাকে মাহমুদুর রহমান মান্নার সাগরেদ বানিয়ে দিয়েছেন! বাপুরে, চোর-ডাকাতের সাগরেদ বানিয়ে দিন বুকে কষ্ট চেপে তবুও নাহয় মেনে নেব কিন্তু রাজনীতিবিদদের সাগরেদ হতে যাব কোন দুঃখে! এদের সাগরেদ হওয়ার দুঃস্বপ্নে চোখ বন্ধ করে ফেলি, ভয়ে।

আমি ওই লেখায় বলেছিলাম, “...রাষ্ট্র কখনও-কখনও কিছু কর্মকান্ড করে যেটা বাথরুম সমতুল্য যেটা প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হওয়া অসভ্যতা-অশ্লীলতার পর্যায়ে পড়ে।
আরেকটু খোলাসা করে বললে রাষ্ট্র এটা করে তার নাগরিককে রক্ষা করার নামে। রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি প্রতিষ্ঠান পুলিশ যখন কাউকে ধরে নিয়ে যায় তখন জিজ্ঞাসাবাদের সময় কেবল হালুয়া-পুরিই খাওয়ায় না এমন কিছু কায়দা-কানুন করে যেটা অনৈতিক। এখন এই কায়দা-কানুনগুলো যদি কোনও মিডিয়া ইতিবাচকভঙ্গিতে আমাদেরকে জানায় সেটা আমাদের জন্য অবশ্যই সুখের না। এটা তো মিডিয়ার কাজ না। মিডিয়া তো রাষ্ট্রের অন্ধকার দিকগুলো আলোকিত ভঙ্গিতে উম্মোচনের মুখপাত্র না।

রাষ্ট্র মান্নাকে বিপদজনক মনে করলে তাকে নজরদারিতে রাখবে কি রাখবে না বা কতটুকু সীমা লঙ্ঘন করবে সে ভিন্ন তর্কের বিষয়। ধরে নিলাম তাকে নজরদারিতে রাখা হলো, তার সমস্ত আচার-আচরণ তীক্ষ দৃষ্টিতে লক্ষ রাখা হচ্ছে। বেশ তো, প্রমাণাদিসহ রাষ্ট্র তাকে আটক করুক না। প্রয়োজনে আদালতে একটা কেন দশটা কথোপকথনের প্রমাণ দাখিল করুক, তাতে সমস্যা তো নেই।

যেটা আমি পুর্বের লেখায় লিখেছিলাম, “...তখন মনে হচ্ছিল এরা দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানেরই যোগ্য চ্যালা।
আমার দেশের সম্পাদক কি করেছিলেন? তিনি বিচারপতির স্কাইপ সংলাপ বা থাবাবাবার নামে বিভিন্ন লেখা হুবহু তার পত্রিকায় ছেপে দিচ্ছিলেন, দাঁড়ি-কমাসহ। যেটা তিনি করতে পারেন না বলেই মনে করছিলাম। কিন্তু তিনি ওই অনৈতিক কাজটাই করেছিলেন।

মিডিয়া একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এরা ইচ্ছা করলেই যা খুশি তা করতে পারে না- যথেষ্ঠ ক্ষমতা ভোগ করার পাশাপাশি সীমাবদ্ধতাও আছে। আমি একজনকে ‘চু...ভাই’ বললাম আর মিডিয়া লিখে দিল তিনি ‘...ভাই’ বলেছেন এমনটা হয় না, অসমীচীন। তাই বলে কি মিডিয়া লিখবে না, লিখবে কিন্তু খানিকটা ঘুরিয়ে ‘অশ্রাব্য ভাষা’, ‘লেখার অযোগ্য ভাষা’ ব্যবহার করেছেন। পাঠক এতেই যা বোঝার বুঝে যাবে।
আর মিডিয়া যখন যেটা খুশি সেটা করলেই আমাকে মেনে নিতে হবে কেন? অন্য একটা উদাহরণ দেই। এখন পাবলিক প্লেসে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা যত্রতত্র লাগানো হয় কিন্তু কয়টা জায়গায় এটা চোখে পড়ে যে প্রকাশ্যে এটা লিখে রাখা হয়েছে, ‘ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত’ অথচ এইটাই নিয়ম। কিন্তু তেমন কেউ নিয়মটা মানছে না বলে কি এটা নৈতিক হয়ে যাবে!

রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকান্ডের জন্য মান্নাকে গ্রেফতার করা হবে এতে কোনও সমস্যা নেই কিন্তু তাকে যে প্রকারে গ্রেফতার করা হয়েছে তা নৈতিকতার বালাই নেই বলেই প্রতীয়মান হয়। রাতে কাউকে আটক করার বিষয়ে আইনের ব্যাখ্যা কি এটা আইনজ্ঞ ভাল বলতে পারবেন। অন্য বিষয় বলি। ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল , ‘ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ’ মামলায় বিচারপতি মো. হামিদুল হক ও বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ একটি রায় দিয়েছিলেন। রায়ে এও বলা হয়েছিল, হাইকোর্টের এ নির্দেশনা আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। সেই রায়ে বলা হয়েছিল:
১. আটকাদেশ দেয়ার উদ্দেশ্যে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না।
২. কাউকে গ্রেফতারের সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে।
৩. অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির আত্মীয় বা কাছের কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের বিষয়টি অবহিত করতে হবে।

মান্নার গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কি এই নিয়মগুলো পালন করা হয়েছিল? সাদা পোশাকের লোকজনেরা কি তাদের পরিচয়পত্র দেখিয়েছিলেন? অবিলম্বে কি মান্নার আত্মীয়-স্বজনকে অবহিত করা হয়েছিল?
অবিলম্বে মানে কি ২১ ঘন্টা? আমরা জানি ২১ ঘন্টা পূর্বে এই দেশের কোন সংস্থাই এটা জানাতে পারেনি মান্নাকে কারা উঠিয়ে নিয়ে গেছে? কারও পরিবারের জন্য এ এক অবর্ণনীয়, ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতা। আজ মান্নার বেলায় এটা হয়েছে বলে এতে উল্লসিত হওয়ার কোনও কারণ নাই।

আমার স্পষ্ট কথা, অপরাধ করে কোনও অপরাধি পার পেয়ে যাবে এটা আমার বক্তব্য না। মান্না নিরাসক্ত ভঙ্গিতে যে প্রকারে বিশ্ববিদ্যালয় অশান্ত করা এবং এই অশান্ত করতে গিয়ে খুন-খারাপির কথা বলেছেন সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ কিনা এর এখতিয়ার আদালতের কিন্তু আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্য এটা গভীর উদ্বেগের, ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে শ্বাস আটকে যাওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। 
এবং এমনটায় রাষ্ট্র তাকে আটকাবার প্রয়োজন বোধ করলে আটকে রাখবে এতে অন্তত আমার কোনও কাতরতা নেই কিন্তু স্বচ্ছতা থাকুক এবং যার যার দায়িত্ব সেই পালন করুক সেটাই সবার জন্য মঙ্গল।

সহায়ক সূত্র:
১. নৈতিকতার বাবা মৃত, মা মৃতপ্রায়: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_24.html