Tuesday, July 7, 2009

কবি, কষ্টটা ছড়িয়ে দাও, নীল পদ্মে

তাকিমাৎসু আকিতা। জাপানী কবি। তিনি ‘হাইকু’ (জাপানী গীতি কবিতা) লেখা শুরু করেন অল্প বয়সে। তাঁর কবিতার জন্য তিনি বিখ্যাত কিছু পুরস্কার পেয়েছেন।

তিনি চমৎকারসব স্বপ্ন দেখতেন, তীব্রভাবে ভালবাসতেন এই অসুন্দর, কুৎসিত পৃথিবীটা- অপার্থিব স্বপ্নের চোখে! তুচ্ছ করতে চাইতেন নিজের জীবনের না পাওয়ার আনন্দকে! সীমাহীন যন্ত্রণাকে বুকে লালন করে ধরতে চাইতেন, অদেখা নীল পদ্মকে!
’৯৬-এ তিনি ‘নিউজউইক’-এ এক মর্মস্পর্র্শী সাক্ষাৎকার দেন: যখন এই সাক্ষাৎকারটি দেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৭৯। ৫৫ বছরের উপরে তিনি ওয়াকায়ামা জেলার কোমাস স্যানেটেরিয়ামে একরকম বন্দী জীবন-যাপন করছিলেন!
তাঁর জন্ম দরিদ্র পরিবারে! ৮ বছর বয়সে ডাক্তার জানান, তাঁর কুষ্ঠ হয়েছে। ওই ডাক্তার ছিলেন, ভারী সহৃদয়! আকিতাকে স্কুলে যাওয়ার আগে তিনি গোপনে আকিতার চিকিৎসা করতেন। ডাক্তার অনুমান করেছিলেন, জানাজানি হয়ে গেলে আকিতাকে কুষ্ঠাবাসে পাঠিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু ডাক্তার, এই সহৃদয় মানুষটা, তাঁকে খুব বেশী দিন আগলে রাখতে পারলেন না। আকিতাকে কুষ্ঠাবাসে যেতেই হলো। ওখানেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন।

আকিতার মা মারা যান ২০ বছর বয়সে! আকিতা তাঁর মাকে নিয়ে বলেন: “আমার মা বলতেন, আমাদের পরিবারে কোন কুষ্ঠ রোগী ছিল না। মা আমাকে সবসময় বোঝাবার চেষ্টা করতেন শরীরের এই অবস্থার জন্য আমার কোন দোষ নেই। মা বলতেন, পৃথিবীতে অনেক লোক আছে যারা চুরি করে, অনেকে আবার নিজের অপকর্ম বা পাপের কথা স্বীকার করে না। মা বলতেন, তুমি তো একটা ঘটনার স্বীকার মাত্র। প্রকৃতি তোমার প্রতি অন্যায় করেছে, তাই তুমি এই রোগের সংস্পর্শে এসেছ, যাতে তোমার কোন হাত নাই! ...যখন কারো সঙ্গে কথা বলবে, তার চোখে চোখ রেখে কথা বলবে, বিন্দুমাত্র বিব্রতবোধ করবে না!”

স্যানেটেরিয়মে, এখানেই তিনি বিয়ে করেন। তিনি তাঁর প্রতি অন্যায়ের কথা বলেন এভাবে: “আমার জীবনের সবচেয়ে অবমাননাকর অধ্যায় ছিল জোর করে, আমার ইচ্ছার বিছুদ্ধে আমাকে আমার প্রজনন ক্ষমতা রহিতকরন বিষয়টি। আইন ছিল: যদি বিয়ে করি তাহলে প্রজনন ক্ষমতা বাধ্যতামূলক নষ্ট করতে হবে। আমি এটা মেনে নিতে পারছিলাম না। আমাকে যখন অপারেশন করতে চাইলো আমি কয়েকবার ছুটে বেরিয়ে গেছি। শেষে তারা আমার খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আমার অস্ত্রোপচার করে।

এখন আইনটি পরিবর্তন হতে যাচ্ছে, কিন্তু লাভ কী! যারা আমার প্রতি অন্যায় করেছিল, তাদের অনেকেই আজ মৃত। তারা বেঁচে থাকলে আমি পার্টি দিতাম। তারা নিশ্চয়ই তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতো!”

*কবির বিকৃত মুখের ছবিটা ইচ্ছা করেই দিলাম না। স্বপ্নের জগতের মানুষটা থাকুক স্বপ্নের মতোই- কী দরকার, অহেতুক তাঁকে দুঃস্বপ্নের চোখে দেখার!
**ঋণ: কিছু তথ্য নেয়া হয়েছে: হিদেকো তাকায়ামা, যেটা অনুবাদ করেন, অমল সাহা, ওখান থেকে।

Sunday, July 5, 2009

আমি কোথাও যেতে চাই না

video
ছেড়ে যাওয়া ট্রেন দেখলে আমার কেবলি মনে হয়, কোথাও যেন আমার যাওয়ার ছিল। বুকের ভেতর অন্য রকম, অজানা একটা চাপা কষ্ট হয়। কিন্তু ট্রেনে চেপে বসলে আমার কোখাও যাওয়ার ইচ্ছাটা বেমালুম উবে যায়। কেবল মনে হয়, আমি তো কোথাও যেতে চাই না, কোথাও না। অন্তত ঝুপঝুপ বৃষ্টিতে আমি কোথাও যেতে চাই না।
ঝুম বৃষ্টিতে আমি মরতেও চাই না। চাই না বৃষ্টিতে আমার শব ভিজুক। ধপধপে দুধ-সাদা কাপড়টায় বিচ্ছিরি দাগ লাগুক এটা মোটেও কাম্য নয়। এটাও কাম্য না ধর্মীয় অনুশাসন পালনে ব্যস্ত লোকজন বিরক্তিভরে গর্তে উঠে আসা পানিতে
আমায় ছুঁড়ে দিক।

"যেদিন মরব আমি, সেদিন কী বার হবে
বলা মুশকিল।
শুক্রবার? বুধবার? শনিবার? নাকি রবিবার?
যে বারই হোক,
সেদিন বর্ষায় যেন না ভেজে শহর, যেন ঘিনঘিনে কাদা
না জমে গলির মোড়ে। সেদিন ভাসলে পথ-ঘাট,
পূণ্যবান শবানুগামীরা বড়ো বিরক্ত হবেন।"
(শামসুর রাহমান/ নিজ বাসভূমে)

Tuesday, June 30, 2009

হোজ্জা এস্টাইল(!)

আচ্ছা বলুন তো, গাধার পিঠে চড়ে কেউ কোথাও রওয়ানা হলে আগে কে পৌঁছবে? আহা, সিম্পল উত্তর, গাধা। গাধার মাথাটাই তো সামনে থাকবে, নাকি আমার মাথা?

হোজ্জা সাহেবের গাধাও আগে পৌঁছত, অন্য কারণে। তিনি নিজস্ব স্টাইলে চলতেন, নিজের বুদ্ধিতে। গাধার পিঠে বসতেন সিংহাসনে বসার ভঙ্গিতে, জাঁক করে! ফল যা হওয়ার তাই হতো। কোথাও রওয়ানা হলে গাধা আগে পৌঁছত, সিংহাসনচ্যুত হয়ে কুঁইকুই করে হোজ্জা সাহেব অনেক, অনেক পরে।
এই তথ্য লিপিবদ্ধাকারে কোথাও পাওয়া যাবে না। কারণ যে ভদ্রলোক প্রত্যক্ষদর্শী তিনি হোজ্জার গাধার নিচে পড়ে অক্কা যান। লিখে জানিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাননি। আহা বেচারা, মরে আর বাঁচেননি!

আমাদের সরকার বাহাদুর সম্ভবত হোজ্জা সাহেবের 'এস্টাইল' অনুসরণ করেন। 'ডে লাই সেভিং' নামের যে জিনিস এরা চালু করেছেন এর যথার্থতা নিয়ে কুতর্ক করার অবকাশ এখন আর নাই। চালু হয়ে গেলে এটা থামাবার যো কার? যে দেশের অধিকাংশ মানুষ ছাতার আড়ালে টাট্টি করেন, তাঁদের এই জিনিস হজম করতে সময় লাগবে বৈকি!
অবশ্য আমজনতার যেটা লাভ হয়েছে তা হচ্ছে লোডসেডিং আরও তীব্র হয়েছে!

বিচিত্রসব ঘটনা ঘটেছে। সিলেটের একজন ১৯ জুন রাত ১১টা থেকে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সমস্ত রাত ঠায় বসেছিলেন কখন ঘড়ির কাঁটা নিজে নিজে সরবে।
আরেকজন জনে জনে জিজ্ঞেস করছিলেন, এক ঘন্টা পূর্বে সূর্যকে উঠতে বাধ্য করা হবে কেমন করে?

অনেক শিক্ষিত মানুষ ট্রেন মিস করেছেন। কেউ ইসকুলে গিয়ে দেখেছেন, তালা ঝুলছে। ইত্যাদি, ইত্যাদি।

সরকার বাহাদুর ২২ জুন তথ্য বিবরণীর মাধ্যমে জানিয়েছেন, "দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় আগের পাঠদান সময়সূচি বর্তমান ঘড়ির কাঁটা অনুযায়ী অপরিবর্তিত থাকবে।"

এটা ১৯ জুনের পূর্ব থেকে প্রচার করলে, যে ঘড়ির কাঁটা ১ ঘন্টা এগিয়ে দেয়ার পর, ট্রেনের সময়সূচি, অফিস, স্কুল-কলেজ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি পূর্বের সময়েই থাকবে। তাহলে লোকজন 'এপ্রিলফুল'-এর ন্যায় 'জুনফুল' হতো না। কিন্ডার গার্টেন পড়ুয়া ছোট-ছোট শিশুদেরকে তাদের বাবা-মার হতভম্ব মুখ সকাল-সকাল দেখতে হতো না।
সরকার বাহাদুর যাও জানালেন পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে ২২ জুন। ২২ জুন না জানালেও ক্ষতিবৃদ্ধি হতো না। যারা হোজ্জা সাহেবের 'এস্টাইল' মেনে চলেন তাদের এতো কিছু জানাবার দায় কী!

Sunday, June 28, 2009

বিস্মিত হতেও ভুলে যাই!

প্রকৃতি প্রায়শ তার সন্তানকে হতবাক করে দিয়ে অলক্ষ্যে হাসি গোপন করে। ভাগ্যিস, হাসিটা আমরা দেখতে পাই না। প্রকৃতি এবং হায়েনা, এদের অদৃশ্য হাসি নিয়ে বিতর্কটা চলেই আসছে।

গত বছর মে ফ্লাওয়ার গাছটা কোথায় ছুঁড়ে মেরেছিলাম মনেও ছিল না।
ঠিক-ঠিক ৩১ মে। এ বছরের (২০০৯) মে মাসের শেষ দিন। আগুন-লাল মে ফ্লাওয়ারটা দেখে হাঁ করে তাকিয়ে রইলাম। অরি আল্লা, গত বছরের ছুঁড়ে ফেলা গাছটা আমার অজান্তেই দীর্ঘ এক বছর দিব্যি বেঁচে ছিল! কেবল বেঁচেই ছিল না, তার সমস্ত সৌন্দর্য-রূপ নিয়ে আমাকে অন্য জগতের এক চাবুক মেরে আচ্ছা করে চাবকাল! কী আর করা- কিছু চাবুক খেয়েও সুখ!
'বার্ডস অভ প্যারাডাইস', এটাও আমায় কম হতভম্ব করেনি!
..............

প্রকৃতি কখনও কখনও তার কুৎসিত রূপ দিয়েও তার সন্তানকে চমকে দেয়!

Friday, June 26, 2009

উইপেন অলওয়েজ উইপেন!

আজকাল জঙ্গি ভাইদের নিয়ে বড়ো যন্ত্রণা হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনা। এক জঙ্গিকে আদালতে জবানবন্দী দিতে বলা হলে, তার স্পষ্ট বক্তব্য, আমি কোন মহিলার(জজ)কাছে জবানবন্দী দেব না। কারণ মহিলাদের জজ হিসাবে মানি না। ধর্মীয়মতে, মহিলাদের বাইরে কাজ করার অনুমতি নাই এবং পর্দা করা হয় নাই, ইত্যাদি ইত্যাদি। জটিলতা এড়াবার জন্য একজন পুরুষ জজের সামনে তাকে হাজির করা হলে সে তার জবানবন্দী প্রদান করে।

তো, এক জঙ্গি ভাইকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তার স্পষ্ট বক্তব্য: আমি মানবসৃষ্ট আইন মানি না, আদালত মানি না।
পুরূষ জজ সাহেব: কোন অসুবিধা নাই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আপনি ফাঁসি মেনে নিলেই হবে।
জঙ্গি ভাই (তাচ্ছিল্য করে): ফাঁসি তো আর বোমার খোসা না, বললেন আর ফাঁসি হয়ে গেল! আর ফাঁসির ভয় দেখাইয়েন না, ইয়া শায়খ বলে ঝুলে পড়ব, কিসসু হবে না। ফাঁসির দড়ি ফুলের মালা হয়ে যাবে।
পুরূষ জজ সাহেব: বোমার খোসা না, বলুন বাদামের খোসা!
জঙ্গি ভাই: চীনা বাদাম এসেছে চীন থেকে, মুরতাদ দেশের মুরতাদ বাদাম। এটা উচ্চারণ করলে এস্তেঞ্জার পরে হারপিক দিয়ে কুলি করতে হয়।

পুরূষ জজ সাহেব: আপনার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, বোমাবাজি করে মানুষ হত্যা।
জঙ্গি ভাই( চোখে শিশুর সারল্য, দাড়িতে হাত বুলিয়ে অমায়িক হাসি): কোন প্রমাণ আছে?
পুরূষ জজ সাহেব: অবশ্যই প্রমাণ আছে, আপনার রেকটামে রাখা চার্জার থেকে বোমা উদ্ধার হয়েছে।
জঙ্গি ভাই(চোখ বড়বড় করে): মারহাবা মারহাবা, চার্জারে বোমা থাকলে, এইই প্রমাণ যে আমি বোমা ফাটিয়ে মানুষ খুন করেছি?
পুরূষ জজ সাহেব: আপনাকে খুনি প্রমাণের জন্য এইটুকুই যথেষ্ঠ।
জঙ্গি ভাই এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন দেখে জজ সাহেব বললেন: লাভ নাই, কোন উকিল আপনাকে ডিফেন্ড করবে না।
জঙ্গি ভাই (ভয়ে-ভয়ে): আরে না, আমার চার্জারে এখনো একটা বোমা রয়ে গেছে কিনা, খালাশ করা প্রয়োজন! ইয়ে, আপনাদের টাট্টিখানা কই?
জজ সাহেব(আতঙ্কিত চোখে): সর্বনাশ, এইসব কি বলছেন!

জঙ্গি ভাই: হে হে হে, ভয় পাইছেন! শোনেন, আমার নামে নারী নির্যাতনের শাস্তিটাও দিয়ে দেন।
পুরূষ জজ সাহেব( অবাক হয়ে): নারী নির্যাতনের মামলা তো এটা না।
জঙ্গি ভাই: না তো কি হয়েছে? বোমা বহন করলেই যদি মানুষ খুন করা প্রমাণ হয়। তাহলে তো আমি নারী নির্যাতনেরও একটা ভয়ংকর অস্ত্র...(সেন্সর) বহন করছি। যদিও র‌্যাব ধরার সময় থেতলে বেশ খানিকটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে- বাট, উইপেন অলওয়েজ উইপেন!