Search

Loading...

Wednesday, April 16, 2014

ডক্টর অভ ছি-ছি!



আমাদের দেশটা বিচিত্র তারচেয়েও বিচিত্র এ দেশের লোকজন। একজন অন্য জনকে নীচু দেখাতে গিয়ে নিজেরা হাসিমুখে পাতালে নেমে যান। প্রচলিত একটা কথা আছে, কাউকে এক হাত নীচে নামাতে হলে নিজে দু-হাত নীচে নামতে হয়।

অনেকে অনেক কিছুই বলেন ওসব গুরুত্বের সঙ্গে দেখার অবকাশ নাই কিন্তু একজন ডক্টর যখন কোনও বক্তব্য দেন তখন সেটা উদাসীন দৃষ্টিতে দেখার কোনও সুযোগ নাই। কারণ ডক্টর ডিগ্রিটা এখনও পদ্মার ইলিশের মত সহজলভ্য হয়নি যে গুচ্ছের টাকা দিলেই ঝপ করে নোংরা বাজারের ব্যাগে চলে আসবে।

খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জন্মপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদতিনি বলেন, কোকো আসলে জিয়াউর রহমানের বৈধ সন্তান কি না- এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে (দৈনিক আমাদের সময়, ১৪ এপ্রিল ২০১৪) [১]

যতটুকু জানি, ডক্টর সাহেবরা মৌলিক ভাবনা নিয়ে কাজ করেন। কোেনও ডক্টর অন্যের ভাবনা নিজের বলে চালিয়ে দিলে রিসার্চ পেপারটা, যে অধ্যাপকের অধীনে কাজ করছেন তার কাজে লাগবে বাচ্চার ইয়ে পরিষ্কার করার জন্য এতে কোনও সন্দেহ নেই। 

ড. হাছান মাহমুদ কোথায় এই প্রশ্ন উত্থাপন করলেন? ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে। কেন এই প্রশ্ন উত্থাপন করলেন? 'হুদাহুদি'। সব যদি একপাশে সরিয়ে রাখি তারপরও এমন একজন দায়িত্বশীল মানুষ, ড. হাছান মাহমুদ যখন এমনটা বলেন তখন তিনি কী একবারও ভাবেন না যে এমনটা বলা প্রকারান্তরে এ দেশের সমস্ত বীরাঙ্গনাদেরকে অপমান করা?
হায়, কে বলে নগ্ন গাত্র অশ্লীল? এমন করে বলাটা যদি অশ্লীল না হয় তবে অশ্লীল বলে আদৌ কিছু নেই...।

Monday, April 14, 2014

নতুন বছর, তোমার কাছে...



পূর্বের লেখায় বলেছিলাম এর কথা পরে বলব [১]। এর নাম সুমাইয়া। এমন চমৎকার নাম কে রেখেছে কে জানে! এর খোঁজ আমাকে দিয়েছিলেন জসীমের মা। জসীমের মার নাম আমি জানি না! সবাই বলে জসীমের মা, আমিও বলি জসীমের মা।
জসীমের মা আমাকে জানিয়ে ছিলেন, এই মেয়েটা নাকি বিচিত্র। কুকুরের সঙ্গে এর সখ্যতা। কুকুরের উপর গড়াগড়ি খাচ্ছে, কুকুরকে জড়িয়ে ধরছে। সত্য-মিথ্যা বলতে পারব না কারণ আমি নিজের চোখে দেখিনি।
প্রায় ১০/১৫ দিন ধরে একে স্টেশনে দেখছি। বিস্তারিত জানতে ইচ্ছা করেনি। কেবল এটুকুই জানি এর বাবা-মা কেউ নেই! ৫/৬ বছরের এই মেয়েটা একা-একা থাকে।
প্রথম দিকে জসীমের মাকে বলে-কয়ে একে দেখে রাখার জন্য বলেছিলাম। জসীমের মার সঙ্গে এর হৃদ্যতা দেখে চোখ ভরে গিয়েছিল। জসীমের মার সঙ্গে লেখার ছবিটায় এর এক অংশও আসেনি! ক্যামেরা নামের যন্ত্রের সেই ক্ষমতা কই। যেদিন এর চুলের জন্য এটা-সেটা নিয়ে গিয়েছিলাম সেদিনই কে যেন এর মাথা কামিয়ে দিল। মনের দুঃখে জসীমের মা এর জন্য নিয়ে যাওয়া চুলের জিনিসপত্র নিজের মাথায় পরে নিয়েছিলেন।
কপাল, জসীমের মা এখন আর এই এলাকায় নেই। মেয়েটি আবারও একা হয়ে পড়ে।
এর দেখভালের জন্য যেমন-তেমন একটা উপায় খুব জরুরি হয়ে পড়ে। এই ছোট্ট মেয়েটার অন্ধকার ভুবন সম্বন্ধে বোঝার ক্ষমতা একেবারেই নেই। জসীমের মার কাছেই শুনেছিলাম এ ছেলেদের সঙ্গেও সমান তালে খেলে, মেলামেশা করে, ঘুম পেলে ঘুমিয়ে পড়ে। যা তার জন্য অসম্ভব ঝুকিপূর্ণ।
স্টেশনেরই এক মহিলা, জান্নাতের মা (জান্নাত, এদের এমন চমৎকার নাম রাখাটা আমাকে চমৎকৃত করে) অনেক বলে-কয়ে এটা-সেটার লোভ দেখিয়ে খানিকটা দাদাগিরি করে অন্তত এটুকু রফা করা গেল যে, এই মেয়েটি রাতে জান্নাতের মার কাছে ঘুমাবে।
এই ব্যবস্থাটাই এখন পর্যন্ত চলে আসছে। কিন্তু এটা যে কোনো স্থায়ী সমাধান না এ আমি বিলক্ষণ জানি। আমার বুদ্ধিশুদ্ধি গুলিয়ে যায়, লজ্জায় নিজেকে পোকা-পোকা লাগে এরচেয়ে ভাল কোনো ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না বলে।
এর জন্য আর্থিক সহায়তাটা এখন জরুরি না, যেটা জরুরি সেটা হচ্ছে একটা নিরাপদ আশ্রয়। নতুন বছরের কাছে আপাতত আমার এটা্ই চা্ওয়া...।
...

আমার বিরুদ্ধে কঠিন অভিযোগ আছে যে আমি বিভিন্ন জনের অন্ধকার দিক নিয়ে কথা বলি। হবে হয়তো! তবে আমি যে নিজের অন্ধকারের পশুটার গায়ের গন্ধটাও বেশ টের পাই।
যেমন আমি প্রতিদিনই অপেক্ষায় থাকি সুমাইয়া নামের মেয়েটি কোথাও চলে গেলে দায় এড়িয়ে আরামের শ্বাস ফেলব। কিন্তু আমার মুখে ছাই দিয়ে সুমাইয়া দিব্যি আছে।

                        
এই যেমন আজ সকালে দেখি সুমাইয়া এবং জান্নাত কুড়িয়ে পাওয়া ছেঁড়া জুতা প্রাণপনে টানাটানি করে পরার চেষ্টা করছে। ঘটনা কিছুই না- পহেলা বৈশাখের ছোঁয়া লেগেছে এদের মাঝেও।

   
১. http://www.ali-mahmed.com/2014/04/normal-0-microsoftinternetexplorer4.html

Friday, April 11, 2014

ফিরে গেছে। ঘরের ছেলে, ঘরে...।


রেলপুলিশ এক নায়ককে নিয়ে লিখেছিলাম [১]। যথারীতি নায়কের পাশাপাশি হাত ধরাধরি করে চলে আসে খল নায়কের কথা।
মোস্তফা নামের যে মানুষটার কথা বলেছিলাম ওই মানুষটার দুর্গতির জন্যও দায়ী অন্য এক রেলপুলিশ।
ঘটনার আদ্যপ্রান্ত মোস্তফার মুখে পরে শুনেছিলাম। আমার ধারণা ছিল মোস্তফা নামের মানুষটার সেরে উঠতে অন্তত দু-তিন দিন সময় লাগবে অথচ আজ সকালেই এই মানুষটা হাসপাতাল থেকে আমার বাসায় এসে হাজির। খেটেখাওয়া শক্তপোক্ত মানুষ বলে কথা!

মোস্তফা আমাকে যেটা বললেন: টিকেট না-পেয়ে ট্রেনের ছাদে যাত্রা করছিলেন এ সত্য কিন্তু মাগনা না, রেলের লোকজনকে টাকা দিয়ে। গাড়ি এখানে থামামাত্র কোনও এক রেলপুলিশ স্টেশনে খেলতে থাকা ডাঙ্গর ছেলেপেলেদেরকে বলে, ট্রেনের ছাদের লোকজনকে নামাতে। ছেলেরা মহা উসাহে ক্রিকেটস্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে লোকজনকে নামায়। এদের কাছ থেকে কিছু টাকাও হাতিয়ে নেয়।

এমন সময় মোস্তফার ফোন বেজে উঠে। সঙ্গে সঙ্গে ওই রেলপুলিশ অশ্রাব্য গালি দিয়ে ওই ছেলেদেরকে বলে, একে ধর, এর কাছে টাকাপয়সা পাওয়া যাবে। ছেলেরা স্ট্যাম্প দিয়ে মোস্তফাকে পেটাতে থাকে। ছিনিয়ে নেয় মোবাইল ফোন। যেটা ওই পুলিশকে হস্তান্তর করে। এক পর্যায়ে মোস্তফাকে পেটাতে পেটাতে ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেয়। নীচে পড়ে যাওয়ার পরও এরা স্ট্যাম্প দিয়ে নির্দয় ভাবে মোস্তফাকে পেটাতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না মোস্তফা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পর মোস্তফার কাছে থাকা ১৭০০ টাকাও এরা ছিনিয়ে নেয়।

বলি। পূর্বের লেখায় আমি অনুমান করে লিখেছিলাম, একটা মানুষ তো কেবল একটা সংখ্যা না- একজন মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবার নামের অনেকগুলো মানুষনথ-নাড়া গ্রাম্য বধু, ছোট্ট-ছোট্ট রেশমি চুড়ি পরা বালিকা, দুরন্ত বালক, খকখক করে কাশতে থাকা বুড়া-বুড়ি নামের বাবা-মা
বাস্তবেও মোস্তফার বউ, এক ছেলে, এক মেয়ে, আর বাবা-মা। ঝিনাইদহে কাজের বড়ো অভাব তাই অনেকের সঙ্গে লাঙ্গলকোটে গিয়ে দিনমজুরের কাজ করেন। একা যাত্রা করার কারণ হচ্ছে বাড়িতে অসুখ শুনে গিয়েছিলেন- এরপর ফিরছিলেন। এরপরওই এই ঘটনা।

যাই হোক, এই সব তো গেল অন্ধকারের কথা। আলোর কথাটাই বলি। বিকালে যখন মানুষটা পৌঁছে ফোন দেন, আমি ঠিকঠাক তো পৌঁছে গেছি, তখন আমি বিড়বিড় করি, ঘরের ছেলে...।

*বিষয়টা প্রাসঙ্গিক বলে খানিকটা শেয়ার করি। মোস্তফা ফিরে যাওয়ার পর ঘন্টায়-ঘন্টায় আমাকে ফোন করছেন। বারবার এটাও বলছেন, আপনারে বিরক্ত করতাছি...। এই লেখাটা যখন লিখছি তখনও ফোন, ভাইজান, ভাত খাইছেন...। অনেক দিন এমন মায়া করে কেউ বলে না! আমি অতি সাধারণ মানুষ বলেই স্বল্প শিক্ষিত এই মানুষটার আবেগ আমাকে স্পর্শ করে।

অথচ কামরুজ্জামান লিটন নামের এই মানুষটার কথা আমি ভুলে গিয়েছি সেই কবেই [২]। আজ আবারও মনে পড়ল। অন্য ভঙ্গিতে মোস্তফা মনে করিয়ে দিলেন। অতি শিক্ষিত কামরুজ্জামান লিটন নামের মানুষটা ফিরে গিয়ে আমার সঙ্গে আর কখনই যোগাযোগ করেননি, আজও না।


২. http://www.ali-mahmed.com/2011/08/blog-post_26.html

Facebook Share