Monday, March 23, 2020

করোনার আঁতুড়ঘর!




লেখক: Saalim Aurnab
"'করোনা' ভাইরাস নয়, শক্তিশালী জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র! এই বিষয়টি নিয়ে ড. ফ্রান্সিস বয়েলের দাবির আগে থেকেই চিন্তা করেছেন অনেকে। অনেকে হাস্যকর মনে করলেও বাস্তবতা হচ্ছে বিশ্ব-অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে শয়তানের দল এই কাজটা করেছে। গুপ্তগোষ্ঠী সিরিজ এর দ্বিতীয় বই গুপ্তগোষ্ঠী ইলুমিনাতি লিখতে গিয়ে খেয়াল করেছি সার্স, অ্যানথ্রাক্স, রুবেলা ও বসন্ত রোগের জীবানু কিভাবে মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ধনকুবের রথচাইল্ড পরিবার ও তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বিশ্ব অর্থনীতির উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নিরঙ্কুশ করতে গিয়ে এর থেকেও প্রাণঘাতী নানা কুকর্ম করেছে। কিন্তু বছরের পর রয়ে গেছে পর্দার অন্তরালে।
অন্যদিকে যদ্দুর জানা যায় 'জেনেটিক্যালি মডিফায়েড' ভয়ঙ্করতম করোনাভাইরাসের জন্মদাতা চীনের উহানের বায়োসেফটি ল্যাবোরেটরি লেভেল ফোর। লজ্জার বিষয় হচ্ছে এই জঘন্য কথাটি আগে থেকেই জানত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইও)। আন্তর্জাতিক একটি সাংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন আইনজীবী, রাসায়নিক মারণাস্ত্র বিরোধী সংগঠনের অন্যতম সদস্য ড. ফ্রান্সিস বয়েল।

তাঁর হিসেবে, শক্তিশালী রাসায়নিক মারণাস্ত্র করোনাভাইরাস, ছড়িয়েছে উহানের ল্যাব থেকেই। তারপর জিনের গঠন বদলে আরও ভয়ঙ্কর হয়েছে নোভেল করোনাভাইরাস। এরই মধ্যে ৩৮০ বার জিন বদলেছে নোভেল করোনাভাইরাস। ফলে সাধারণ করোনার থেকে এর বিষ অনেক বেশি যা নিছক কোনও ভাইরাসের সংক্রমণ নয় বরং ভয়ানক জীবানু অস্ত্র পরীক্ষার ফল। মূলত উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবোরেটরিতে অতি গোপনে রাসায়নিক মারণাস্ত্র বানানোর প্রক্রিয়া চলছে। সেখান থেকেই ছড়িয়েছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ। অন্যদিকে সি-ফুড মার্কেটের ব্যাপারটা নেহাতই চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা।

বিশেষ কোনো এক অজ্ঞাত কারণে, উহানের এই বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবোরেটরিকে সুপার ল্যাবোরেটরির তকমা দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বলা হয়েছিল, এই ল্যাবে ভাইরাস নিয়ে কাজ হলেও তা অনেক বেশি সুরক্ষিত ও নিরাপদ। ল্যাবোরেটরির জন্যই রয়েছে আলাদা উইং যার বাইরের পরিবেশের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। কিন্তু যতদূর জানা গিয়েছে সার্স ও ইবোলা প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছিল এই রিচার্স ল্যাব থেকেই। সেখানে রোগ প্রতিরোধ নয় বরং প্রাণঘাতী জৈব অস্ত্র বানাতেই মত্ত রয়েছে গবেষকরা। তাদের এই অন্যায় কর্মকাণ্ডের পরিণতি বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মৃত্যু।

লজ্জার বিষয় হচ্ছে নোভেল করোনাভাইরাসের কিভাবে জিনগত বদল ঘটানো হয়েছে এবং উহানের এই ল্যাবোরেটরি থেকেই যে ভাইরাস ছড়িয়েছে সেটাও জানেন 'ডব্লিউএইচও'র অনেক গবেষক। মূলত কানাডার ল্যাব থেকে করোনা চুরি করেছে চীন। তারপর তারই জিনগত বদলে তৈরি হয়েছে নোভেল করোনা যা আর কিছুই না নতুন ধাঁচের জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র। মার্কিন সিনেটর টম কটন দাবি করেছেন চীন জীবাণুযুদ্ধের জন্য বানাচ্ছিল ওই ভাইরাস।
২০১৫ সালে রেডিও ফ্রি এশিয়া তাদের রিপোর্টে দাবি করেছিল, উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে ভয়ঙ্কর, প্রাণঘাতী সব ভাইরাস নিয়ে কাজ করছেন গবেষকরা। এর অর্থ জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্রের দিকে ক্রমশ ঝুঁকছে বেইজিং। এই ফলাফল হিসেবে এর আগেও অনেক ধরণের সংক্রমণ ঘটেছে। কিন্তু সুকৌশলে সেগুলো লুকিয়ে ফেলেছে চীন। অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ চীন থেকে ঘটলেও এখন সেখানে সংক্রমণ নেই। তার মানে তারা এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছিল আগেই। কিন্তু হঠাৎ ভাইরাস ছড়িয়ে গেলে তাদের পক্ষে তা সামাল দিতে কষ্ট হয়ে যায় কিছুটা।

আমাদের দেশের অনেক বিশ্লেষক চীনের কর্মতৎপরতা নিয়ে লিখছেন। হা হুতাশ করছেন আমাদের অবস্থা নিয়ে। তাদের বোঝা উচিত ভাইরাস ছড়ানোর আগে থেকেই চীন প্রস্তুত ছিল। তাই তারা এত দ্রুত হাসপাতাল নির্মাণ করতে পেরেছে। এগুলো বোঝার জন্য পণ্ডিত হতে হয় না, চোখ-কান খোলা রাখলেই হয়। চিন্তা করে দেখুন, এই করোনাতে কার কি হয়েছে কে জানে। সবদিক থেকে লাভবান চীনই। কারণ তাদের দেশে বাইরের বিনিয়োগকারীদের সব কোম্পানি এখন নামমাত্র মূলে কিনে নিচ্ছে চীন সরকার। যা এক অর্থে আগামী এক দশকে বিশ্ব অর্থনীতির পরাশক্তির চেয়ারে বসিয়ে দেবে চীনকে।"




Saturday, March 21, 2020

মহোদয়গণ বলিলেন...অবশেষে যুদ্ধে চলিলেন।।





অনেক মন্ত্রী মহোদয়গণ হচ্ছেন ট্রাম্পের মত কখন কী বলে বসেন তা আগাম বলা মুশকিল! তাই আমাদের মত বেকুবরা এই সব নিয়ে হুজ্জতে যাই না। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী আছেন তাঁদের কথা আলাদা। যেমন ধরুন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি করোনাভাইরাস নিয়ে বললেন, "...দুই মাসের প্রস্তুতির কারণেই তুলনামূলকভাবে এখনও ভাল অবস্থানে আছে বাংলাদেশ"।
আস্থার জায়গা। বড়ই 'আশাজাগানিয়া' কথা। সাহস আসে। বুকে বল আসে।

কিন্তু আফসোস, দেশ এখন ভাল অবস্থা থেকে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে নইলে কী আর প্রেস- ব্রিফিংয়ে এঁরা মুক্তোর মালার মত জড়াজড়ি করে থাকেন, পাগল! বেয়াড়া সাংবাদিক প্রশ্ন করলে সেটাই ওঠে এসেছে মন্ত্রীর বক্তব্যে, "এখন যুদ্ধ অবস্থায় আছি। সব সিস্টেম মেনে চলা যায় না"।

যুদ্ধের আরেকটা নমুনা:
কী ভয়াবহতা, কী নিষ্ঠুরতা!

আবার ধরুন, আমাদের তথ্যমন্ত্রী মহোদয় হাছান মাহমুদের কথা। যতটুকু জানি এই মানুষটা কেবল শিক্ষিতই নন বিশ্ববিদ্যলয়ে পড়ানও। করোনার সংক্রমণ নিয়ে তিনি বললেন, "...পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তা নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম হয়েছে"

যেহেতু নিয়ন্ত্রণ নেয়া শ্যাষ তাই মাস্ক-ফাস্কের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? এটা বিশ্বাস করলুম বলেই তাঁর বক্তব্যে অবিশ্বাস করার কোনও কারণ দেখি না।




Thursday, March 19, 2020

জমিদারের নীচে না লাটসাহেবের উপরে না!

বেশ আগের একটা ঘটনা। সামাজিক সংস্থার একটা কাজে একজনকে সাথে নিয়ে বিসিএস ওয়ালা এক সরকারী কর্মকর্তার আপিসে গেছি। জাস্ট ফর্মালিটিজ, কাগজে তিনি একটা সই করবেন কেবল। এই বিষয়ে তাঁর অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার নেই কেবল অবগত আছেন এই-ই তার দৌড়!
এমনিতে এই ভদ্রলোক সর্বদাই বিশেষ একটা দলের লোকজন নিয়ে মজমা বসাতেন, অফিস-বাসায়ও। আমরা যারা বেকুব টাইপের মানুষ কোন দল-টল করি না কারও সাতে পাঁচে নেই এদের তিনি খালি-ঘোলা কোন চোখেই দেখতে পারতেন না। তাই আমি ঢোকার পর থেকেই আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন না। স্পষ্ট তাচ্ছিল্য, জমিদার-জমিদার একটা ভাব। বুঝলাম কোথাও একটা ভজকট হয়েছে। বমি করার জন্য তখনই ওখান থেকে বেরুনোটা খুব জরুরি ছিল।

পরে সাথের জন আমাকে জানালেন তাকে সই দেবেন (বলাবাহূল্য সাথের জন দল-টল করেন) কিন্তু আমাকে দেবেন না। ফ্রিতে আবার একটা শর্তও আছে আমার পদবী এক ধাপ নামিয়ে দিতে হবে। আমাদের দেশে এখন দুই ধরনের জমিদার আছেন। একটা শ্রেণী হচ্ছেন যারা খেয়ে না-খেয়ে জায়গা-জমি কিনে রেখেছিলেন আর আমাদের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত কিছু সরকারী কর্মচারীবৃন্দ। এরা একেকজন জমিদারের নীচে না লাটসাহেবের উপরে না।   



আরডিসি নাজিম, এই বয়স্ক মানুষটার সঙ্গে খোশগল্পে(!) মশগুল

ডিসি সুলতানার অমায়িক ফোনালাপ।


Friday, March 13, 2020

করোনা আসিলেন, হুজুর কহিলেন, পাবলিক শুনিলেন।



মি. করোনার যে সাক্ষাৎকারের ঘটনা হুজুর বললেন এরপর আর কথা চলে না।





ভারতীয়রা করোনার স্থলে শুনেছে 'গরোনা'। তাই গ্যালন-গ্যালন গরুর পেচ্ছাব সাবড়ে দিচ্ছে।

ভোদাই চীন হুদাই কামান দাগে!

Monday, March 9, 2020

Saturday, March 7, 2020

জীবন বড় সুন্দর!

একে আমি রাস্তায় পেয়েছিলাম ঠিক এই অবস্থায়:

সাগর নামের এই ছেলেটি তার জীবনের যে গল্প শোনায় তা কেবল হতভম্বই করে দেয় না ক্রমশ সরে যায় আমাদের শরীরের চকচকে কাপড় পাল্লা দিয়ে সরে পেটের পাতলা চামড়া। উম্মুক্ত হয়ে পড়ে একপেট আবর্জনা। সে দুর্ঘটনায় হারায় তার দুপা, একটা হাত।


সাগরের প্রয়োজন ছিল একটা হুইল-চেয়ারের। আমার হাতে একটা হুইল-চেয়ার ছিল যেটা ইংল্যান্ড থেকে পাঠিয়েছিলেন নাজমুল হুদা এবং তার বন্ধু তানভির হোসাইন। জরুরি অবস্থার জন্য আমি রেখে দিয়েছিলাম কিন্তু এটা সাগরকে দেয়ার চেয়ে জরুরি অবস্থা আর কী হতে পারে!
চলাফেরায় ওর বড় কষ্ট! এক হাতে যে প্রকারে এ গরম পিচের রাস্তায় শরীরটাকে টেনে-টেনে নিয়ে যায় এটা কঠিন হৃদয়ের একজন মানুষেরও বুক থেকে পাক খেয়ে উঠবে তীব্র হাহাকার।

এর বাবা-মা একে ফেলে দিয়েছে জীবনের এই কুৎসিত দিক যেমন আছে তেমনি আছে আলোকিত এক দিকও। এর ভাই একে বুকে আগলে রেখেছেন। আমি তখন খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম সাগরের ভাইকে এক নজর দেখার জন্য।

সাগরের ভাই 'ভাসানি' নামের এই পাতলা-দুবলা মানুষটার ছায়া ছড়িয়ে যায় চারদিক।

সাগর নিয়ে আমি খানিকটা ভয়ে-ভয়ে ছিলাম হুইল-চেয়ারে সাগর নিজে-নিজে উঠতে পারবে তো? কিন্তু কেবল একটা হাতের সাহায্যে সাগর যে ভঙ্গিতে হুইল-চেয়ারে উঠে এটা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।


জীবন নিয়ে একটা কথা আছে 'জীবনকে দেখতে হয় একজন মৃত্যুপথযাত্রি মানুষের চোখ দিয়ে'  এটাকে খানিকটা বদলে বলা যেতে পারে, জীবনকে দেখতে হয় সাগরের চোখ দিয়ে...।