"...এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দিয়ে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিয়েছে। বলেন, আলহামদুলিল্লাহ...!"
তিনি জানলেন কীভাবে শামীম জাহান্নামে যাবেন! এটা তো কেবল পরম করুণাময়ের এখতিয়ার—আর কারও না—মানুষ তো দূরের কথা জিন্দা অলিরও না। এই ক্ষমতা তো সেই মানুষের হাতে না, যে মানুষ ৫ মিনিট অক্সিজেন ছাড়া থাকলে পেছন দিয়ে শেষ বাতাস বেরিয়ে যায়! আব্বাসী কী জিন্দা অলিকেও ছাড়িয়ে গেছেন!
"এখন যদি বলি, আল্লাহ 'কোরান-এ কারিমে' ফেসবুক কিভাবে চালাবেন, দিয়েছেন, বিশ্বাস করবেন?...সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নম্বর আয়াত..." :
কেউ কি এই মানুষটার ঘাড় ধরে জানতে চেয়েছে কোরানের কোথায় আছে এটা, দেখা? সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নম্বর আয়াত এটা:
![]() |
| সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৩ । কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান |
এই আব্বাসী, হামজারা যে ধর্ম বেচে টাকার বিনিময়ে ওয়াজ করে লক্ষ-লক্ষ টাকা আয় করেন আমরা দেখি এই বিষয়ে পবিত্র কোরানে কি বলা আছে?
১. "আল্লাহ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি। (সূরা বাকারা ২:১৭৪)
২. "... আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না।..." (সূরা বাকারা ২:৪১)
৩. "...বলো, এর জন্য আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না। এ তো শুধু বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ। (সূরা আনআম ৬:৯০) —কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
ওয়াজের নামে টাকা নিয়ে, আগুন দিয়ে পেট ভরে যে টাকা কামাচ্ছেন —আবার সরকারকে ১ পয়সা ট্যাক্সও দেন না, এই বিষয়ে আপনাদের মত কী [৪]!
এই আব্বাসী, যিনি নিজেই নিজেকে 'গ্রান্ড মুফতি' দাবী করেন! কে তাকে গ্রান্ড মুফতির খেতাব দিয়েছে এই বিষয়ে কোন তথ্য কারও কাছে নাই! তিনি প্রায়শই একটা বদ্ধ উম্মাদের ন্যায় আচরণ করেন!
টাকার বিনিময়ে ওয়াজের নামে আমাদেরকে জানান, গুইসাপ নাকি ৭৫০ বছর বাঁচে [৩]! (এটা তিনি প্রমাণ করতে পারলে আমি লেখালেখি ছেড়ে দেব!) মানুষের ব্রেনের ওজন নাকি ৬০ গ্রাম [৩]! পুরুষের শরীরে নাকি নারীর চেয়ে ৪ গুণ লোহা! তার পূর্বপুরুষ নাকি ২ কোটি মানুষকে হিন্দু থেকে মুসলমানে কনভার্ট করেছে। এর রেফারেন্সে হান্টার-ফান্টার যাদের লেখা বইয়ের উদাহরণ দিয়েছে সেখানে এইসবের কোন বিবরণই নাই—সম্পূর্ণ মিথ্যা [৩]!
হালে সৌদিতে আমাদের ২জন বাংলাদেশিকে স্রেফ কতল করা হয়েছে, জেনা করেছে এই অভিযোগে! এটাকে আব্বাসী বলছেন,
"১০০ ভাগ সঠিক হয়েছে।"
অথচ এই আব্বাসীর জানার কথা জেনার জন্য মৃত্যুর কথা কোরানে কোথাও নাই, সহীহ হাদিসে যাও আছে তাও বিবাহিত হলে। ওই ২জন বিবাহিত ছিলেন না [৪]!
এই ভিডিও ক্লিপে আমরা যে বক্তাকে দেখছি—এই ধর্মীয় শিক্ষকের যে জ্ঞান, তা আব্বাসীর মত মানুষের ১০ ভাগের ১ ভাগও নাই!
এখন আব্বাসী ঝোলা থেকে এই ফতোয়া বের করবেন, ঘটনাটা মসজিদে হয়েছে সেই জন্য ওই কতল ১০০.০০১ পার্সেন্ট সঠিক। বটে রে!
ইমামের পাহারায় এই মোয়াল্লিম-মাদ্রাসার শিক্ষক যখন মসজিদে হিল্লা বিয়ের নামে বাসর করেছিলেন [৫], রিপিট, মসজিদে! তখন কী আব্বাসী পয়সার বিনিময়ে ওয়াজ সেরে পেট ভাসিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন!
এই মোল্লাদের মোল্লাগিরির কারণে ভাবা যায়, আমাদের একজন নোবেলে মনোনীত নারীকেও হিল্লা বিয়ের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছিল [৫]!
এই যে মাদ্রাসায় অজস্র ঘটনা ঘটছে বলাৎকারের [৬] যা জেনার চেয়েও ভীষণ অপরাধ। এই নিয়ে কিন্তু আব্বাসীর গাত্রদাহ নেই!
শামীমকে যারা পিটিয়ে খুন করেছেন তারা দেশের প্রচলিত আইনে, তাঁকে আইনের কাছে দিতে পারতেন [*]। আইন আইনের গতিতে না-চললে তখন এটা নিয়ে কথা বলার সুযোগ ছিল। উইদাউট ট্রায়ালে একটা মানুষকে মেরে ফেলা, এটা স্রেফ খুন!
যে দেশে রমজান মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় (একটা ঘুষখোরকে যদি এনে দিতে পারেন ১১ মাস ঘুষ খান কিন্তু রমজান-সংযমের মাসে খান না। মাইকিং করে লোক জড়ো করে আমি পা ধরে সালাম করব)!
পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ দেশের মধ্যে অন্যতম একটা দেশ, বাংলাদেশ!
কিন্তু আমাদের আচার-আচরণ দেখলে মনে হবে একেকজন চলমান ফেরেশতা! একেকজন ধর্মের দন্ডটা শক্ত করে ধরে আছেন! জুমার নামাজে ১/২ ঘন্টা আগে না-গেলে মসজিদে জায়গা পাওয়ার যো নেই। অধিকাংশ মানুষ নামাজ পড়েন রাস্তায়। রাস্তা বন্ধ করে:
এটাই শেষ গাড়ি! এরপর লোকজনকে অনুরোধ করেছিলাম একটু ফাঁকা রাখার জন্য। কেউ গা করেনি! একেকজন যে বিরাট মাওলানা। এদের কাছে উপর থেকে কল এসেছে যে, এই সময়ের মধ্যে কেউ গুরুতর অসুস্থ হতে পারবেন না। আর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হলে, 'আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়া গেছে'!২ বছর ধরে একটা অভিজাত এলাকায় শিক্ষিত মানুষদের কান্ড এটা! চিল্লায়া বলেন, সোবহান-আল্লাহ!
যাই হোক, অবশেষে শামীমকে খুন করার প্রধান আসামী আমিনীকে ধরা হয়েছে। ধরা পড়ার পর কী সে-এক অমায়িক নুরানি হাসি! ভাল! এই লোকের যেহেতু প্রচলিত আইনে বিশ্বাস নেই তাই প্রচলিত আইনের ফাঁসির দড়িকে বিশ্বাস না-করে ঝুলে পড়লেই হয়। কিসসু হবে না...!
এরা, এই আমিনীরা হয়তো ধরা পড়েন কিন্তু এদের মাস্টারমাইন্ড আব্বাসীরা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে!
আপনি ভাবতে পারেন এই মানুষটা আইনের ঊর্ধ্বে! এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান! এই ওয়াজ যিনি করছেন তিনি একজন শায়েখ এবং ডক্টর ডিগ্রিধারীও। শাইখ ড. মাযাফফর বিন মুহসিন বলছেন:
বেনামাজিকে মেরে ফেলতে হবে। ফাঁসিতে নইলে জবাই করে, এই বিষয়ে ইমাম-মৌলভি-মোল্লাদের কোন দ্বিমত নাই। কেবল খানিকটা দ্বিমত আছে যে, হত্যা করার পর ওই মানুষটার জানাজা পড়া হবে, কি হবে না?
... পশুকে যেভাবে পায়ে দড়ি বেঁধে গর্তে ফেলে দেওয়া হয়, ওই মানুষকেও ওভাবে গর্তে ফেলে দেওয়ার নির্দেশও তিনি দিচ্ছেন...!
... ... ...
* বাংলাদেশে ধর্ম সংক্রান্ত অপরাধ- দণ্ডবিধির অধ্যায় ১৫ (Chapter XV) - ধারা ২৯৫ থেকে ২৯৮ পর্যন্ত।
১. ধারা ২৯৫: উপাসনালয় বা পবিত্র বস্তু নষ্ট করা! উপাসনালয় ভাঙা, নষ্ট করা বা অপবিত্র করা, যদি উদ্দেশ্য থাকে কোনো শ্রেণির ধর্মকে অপমান করা।
২. ধারা ২৯৫ক: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত (Main Law)। ইচ্ছাকৃতভাবে ও বিদ্বেষপূর্ণভাবে কোনো শ্রেণির ধর্ম বা বিশ্বাসকে কথা, লেখা বা ছবি/ভিডিও দিয়ে অবমাননা করা। শর্ত: ১. ইচ্ছাকৃত হতে হবে, ২. বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্য থাকতে হবে।
৩. ধারা ২৯৬: ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া! কোনো ধর্মীয় প্রার্থনা বা অনুষ্ঠান চলাকালীন ইচ্ছা করে ঝামেলা করা।
৪. ধারা ২৯৭: কবরস্থান / শ্মশান / মৃতদেহের অসম্মান! কবরস্থান বা শ্মশানে বিনা অনুমতিতে ঢোকা।
- মৃতদেহের প্রতি অসম্মান দেখানো।
- শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা করা।
৫. ধারা ২৯৮: কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত!
কোনো ব্যক্তির সামনে তাকে শুনিয়ে গালি, শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি করে তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা।
সূত্র:
১. মহা বিজ্ঞানী আব্বাসী: https://www.ali-mahmed.com/2026/10/blog-post_12.html?m=1
২. আব্বাসীর ৬০ গ্রাম ওজনের ব্রেন: https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post_09.html?m=1
৩. জৌনপুরি বনাম ২ কোটি মুসলমান: https://www.ali-mahmed.com/2025/08/blog-post_2.html?m=1
"যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে ফাসেক (পাপাচারী/দুষ্ট) বলে অপবাদ দেয়, অথবা কাফের বলে অপবাদ দেয়, তাহলে যদি যাকে অপবাদ দেওয়া হলো সে আসলে তেমন না হয়, তাহলে সেই অপবাদটা অপবাদদাতার দিকেই ফিরে আসবে।" (সহীহ আল-বুখারী - ৬০৪৫)
২.
"যদি কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে বলে, 'ওহে কাফের!'—তাহলে তাদের দুজনের একজন অবশ্যই কাফের!"
























