ali-mahmed.com
"ন্যানো ড্রাইভটা ফেলেছি হারিয়ে/ যেটায়—রাখা ছিল ৮০০ কোটি/ ইউনিটের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা/ গাদা-গাদা ডিএনএ প্রোফাইল।"
Saturday, October 31, 2026
আমৃত্যু আমরা বদলাব না!
Friday, October 30, 2026
দেওয়ানবাগী, না-না-না, আপনি মারা যেতে পারেন না!
দেওয়ানবাগী পীর মরে গেছেন, সত্যি-সত্যি! আমি বিশ্বাস করি না! কেউ যদি আমার দিকে বন্দুক তাক করে—কেউ যদি আমাকে তোপ দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে চায়, তাও না!
দেওয়ানবাগি বলছেন, তিনি পীর না পীরের বাপের, তারও বাপের বাপ—তিনি লক্ষ-লক্ষ পীর জন্ম দেন!
দেওয়ানবাগির ওখানে গেলে নাকি রসুলকে দেখা যেত:
০. মাল্টিভার্স হিসাব থেকে বাদ!১. যেটা আমরা দেখতে পাই, Observable Universe— যার ব্যাস ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ!২. এই ১টা ইউনিভার্সের মধ্যে গ্যালাক্সি আছে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন!৩. এই ২ ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সির মধ্যে আমাদের 'মিল্কিওয়ে' একটা অতি সাধারণ গ্যালাক্সি।৪. এই অতি সাধারণ ১টা মিল্কিওয়ের মধ্যেই নক্ষত্র আছে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন!এর মধ্যে সূর্য একটা সাধারণ নক্ষত্র, অতি সাধারণ একটা বামন নক্ষত্র! এখানে সূর্যের দু'পয়সা দাম নাই।৫. কিন্তু এই ১টা সূর্যের ভেতর পৃথিবী রাখা যাবে ১৩ লক্ষটা!৬. পৃথিবী নামের এই গ্রহটার আয়তন ৫১ কোটি বর্গকিমি, আর এর মধ্যে বাংলাদেশের আয়তন হচ্ছে, ১,৪৮,৪৮০ বর্গকিমি। মানে গোটা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ হলো মাত্র ০.০২৯%। আবার বাংলাদেশের মধ্যে আপনার অবস্থান, আরামবাগ... মানে থুথু ফেললে অজস্র ছিটার একটা ছিটাও না!
১৯৭৭ সালে আমরা একটা যান পাঠিয়েছিলাম, বুঝলেন দেওয়ানবাগী। পৃথিবী থেকে পাঠানো সেই যান 'ভয়েজার-১' ছুটছে ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭ সাল থেকে।
গতি: ১৭ কিমি/সেকেন্ডে (আলোর গতি ২,৯৯,৭৯২/সেকেন্ডে) এখন পর্যন্ত যেতে পেরেছে মাত্র ২৫.৮ বিলিয়ন কিমি (২৫৯০ কোটি কিমি)!এখনও, আজ পর্যন্ত, ১ আলোকবর্ষ দূরের কথা, মাত্র ১ আলোক-দিনও যেতে পারেনি! রিপিট, আলোক-দিন! ১ বছর হিসাবে ১ দিনও না!এই তো সামনে, এই বছরে—১৮ নভেম্বর ২০২৬, বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪:১৬ মিনিটে ১ দিন অতিক্রম করবে!
Wednesday, October 28, 2026
দেলওয়ার হোসেন সাঈদী-মানিক পশারী বনাম নগ্ন রাষ্ট্র!
সাইদী রাজাকার [+], কি রাজাকার না [++]—পশারী মুক্তিযোদ্ধা কি মুক্তিযোদ্ধা না, সে ভিন্ন আলোচনা।
কিন্তু একটা মানুষকে, রিপিট, একটা মানুষকে দাফন করতে বাধা দেওয়া হয়েছে, জানাজা পড়তে দেওয়া হয়নি! এই অধিকার এই গ্রহের, এই রাষ্টের, রাষ্ট্রের কোনও সন্তানের, সেই সন্তানেরও কোনও-এক রুহানি সন্তানের, কোনও শুয়োরের, কোনও কুকুরের, কোনও-একটা গুয়ে-ভাসা কৃমির, কারও নেই। রিপিট, কারও নেই! আপনি কোনও ধর্মের মানুষকে তাঁর মৃত্যুর পর ধর্মীয় আচারে বাধা দিতে পারেন না! লাউড এন্ড ক্লিয়ার!
'আমি কিন্তু শুনছি...'!
এই হচ্ছে, দুঁদে সাংবাদিকের নমুনা, 'আমি কিন্তু শুনছি...'! খালেদ মুহিউদ্দিন, এর কাজ হচ্ছে, 'গুইসাপ ৭৫০ বছর বাঁচে' [১], এই সমস্ত কাজের প্রশ্নগুলো না-করে এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীকে হুজুর ডেকে-ডেকে মুখে ফেনা তুলে ফেলা। আজব, এর মিনিমাম প্রস্তুতিও থাকে না [*]!
সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের ভাইরা-সব সন্ত্রাসী, এই সব মোক্ষম প্রশ্ন না-করে হাবিজাবি কথা বলা প্রকারান্তরে এদেরকে এক প্রকার ছাড় বা বৈধতা দেওয়া।
যাই হোক, খালেদ মুহিউদ্দিনকে নিয়ে আলোচনা করাটা 'শব্দের অপচয়'! মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে গেছি!
"মানিক পশারীকে পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না..."
একে গ্রেফতার করে, আইনের আওতায় আনতে হবে। আমি মুক্তিযোদ্ধা চিনি না, আমি রাজাকার চিনি না—আমি চিনি একজন মানুষকে, আমি চিনি একজন মুসলমানকে, যাকে আপনি জানাজায়-কবরস্থ করতে বাধা দিচ্ছেন।
এই লোক কার পক্ষ নিয়ে এমন ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে! এর টি-শার্টে যে 'মাসুদ সাইদী'র নাম, কে সে—আমার জানার প্রয়োজন নেই। তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। হু দ্য হেল ইয়্যু আ' মাসুদ সাইদী—একটা মৃতদেহের প্রতি এই অসম্মান জানাবার সাহস আপনি কোথায় পেলেন?
"পশারীর দাফন পিরোজপুরের মাটিতে হবে না।...করতে দেব না।... " (প্রশাসনকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।)
দিনকে রাত, রাতকে দিন করা, চোখের পলক না-ফেলে মিথ্যা বলা এদের পক্ষেই সম্ভব। মাসুদ সাঈদী, তিনি আবার মানিক পশারী নামের মৃত মানুষটার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ফেরত চাচ্ছেন। এত কিছুর পরও যে মানুষটা প্রকাশ্যে এমন একটা বক্তব্য রাখতে পারেন তিনি অপ্রকাশ্যে কী না করতে পারেন [**]! ধৃষ্টতা বটে!
আচ্ছা, এরা কারা, কোত্থেকে আসে—যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে গোল হয়ে তামাশা দেখতে-দেখতে মানুষ পুড়িয়ে মারে; কবর থেকে লাশ উঠিয়ে এনে পুড়িয়ে দেয়? আহা, এরা, এরাই তো...!
১. "আল্লাহ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি। (সূরা বাকারা ২:১৭৪)
২. "... আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না।..." (সূরা বাকারা ২:৪১)
—কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
Monday, October 26, 2026
দাগ থেকে শেখা হলে দাগই ভাল, 'এআই'-ও!
Sunday, October 25, 2026
তৌহিদি লোকজন, এখন কেমন বোধ করিতেছেন?
শেখ হাসিনা যেমন গুমকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল তেমনি অনেক মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম বলাৎকার [১, ২] এবং যৌন-নির্যাতনকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে! এবং এই নিয়ে আব্বাসীর মত সো-কল্ড পন্ডিত সর্ব বিষয়ে ফতোয়া দেওয়ার জন্য মুখ হাঁ করে রাখবে কিন্তু এই বিষয়ে চুপ!
এরাই আবার সমকামিতা নিয়ে লম্বা-লম্বা আওয়াজ তুলবে। সমকামিতা তো হয় দুই পক্ষের সম্মতিতে। কিছু ব্যতিক্রমি অপরাধি আছে, যেমন নির্মলেন্দু গুণ!
পূর্বে শিকার ছিলাম এখন শিকারি হয়েছি! [৩]
অথচ এই মোল্লারাই যে ছোট-ছোট বাচ্চাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে এদের জীবনটাই তছনছ হয়ে যায়! সমস্তটা জীবন ট্রমা থেকে বের হতে পারে না!
এরা কেমন শিল্পি এর একটা ছোট্ট নমুনা!
দেশের অধিকাংশ মোল্লারা এখন উত্তাল! চুমুকান্ডে! এখন এরা বলছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগে মানসিক ভাবে অসুস্থ শামীম নামের একজনকে পিটিয়ে খুন করে ফেলল [৪]!
এই মোল্লারা সব কিছুতে বাম হাত ঢুকিয়ে দেবে।
ওয়াজের নামে এরা ধর্মকে কেমন করে বিক্রি করে! আগে ঘুষখোরের মত লুকিয়ে ওয়াজের নামে টাকা নিত—পবিত্র কোরানে যেটা সম্পূর্ণ নিষেধ [*]! আর এই হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ টাকা নেয় বুক ফুলিয়ে, কাগজ ছাপিয়ে!
সব শেয়ালের এক রা!
দিনকে রাত, রাতকে দিন করা এদের পক্ষেই সম্ভব! কী চমৎকার করে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলছে মেয়ের বাবার সাথে হিন্দুরাও ছিল, ইসকন জড়িত!
মববাজরা বলছে, আমরা মব করতে চাই বা কিন্তু আমাদের বাধ্য করবেন না!
কাক নাকি কাকের মাংস খায় না কিন্তু একটা মেয়ে অন্য মেয়ের মাংস খায়!
"...পারলে আমাদের মাদ্রায়ায় যাইস, বডির জয়েন্ট ছুটায়া দিব...।"
সুত্র:
১. বলাৎকার: https://www.ali-mahmed.com/2026/09/blog-post_08.html?m=1
২. বলাৎকার এবং শরিয়া আইন: https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post.html?m=1
৩. নির্মলেন্দু গুণ: https://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_3336.html?m=1
৪. খুন, শামীম: https://www.ali-mahmed.com/2026/10/blog-post_23.html?m=1
৫. ওয়াজময় জীবন: https://www.ali-mahmed.com/2019/04/blog-post.html?m=1
* এই মোল্লারা যে ধর্ম বেচে টাকার বিনিময়ে ওয়াজ করে লক্ষ-লক্ষ টাকা আয় করেন আমরা দেখি এই বিষয়ে পবিত্র কোরানে কি বলা আছে?
পবিত্র কোরানে পরিষ্কার বলা আছে, ওয়াজের নামে টাকা নেওয়া মানে পেটে আগুন দেওয়া—কিয়ামতের দিন এদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি! এটার নাম আপনি হাদিয়া দেন বা সাদিয়া তাতে কিছুই আসে যায় না!
১. "আল্লাহ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি। (সূরা বাকারা ২:১৭৪)
২. "... আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না।..." (সূরা বাকারা ২:৪১)
৩. "...বলো, এর জন্য আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না। এ তো শুধু বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ। (সূরা আনআম ৬:৯০)
—কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
** এই মোল্লারা বলাৎকারের নামে যেটা করে, মাসুম-অবুঝ বাচ্চাদের উপর ঝাপিয়ে পড়া—ওই বাচ্চা তার সমস্ত জীবন এই ট্রমা থেকে বের হতে পারে না সে কখনও ধরে নেয় এটাও ধর্ম শিক্ষার একটা অংশ।
+
"তোমরা তো এমন অশ্লীল কর্ম করছ, যা তোমাদের পূর্বে দুনিয়ায় কেউ করেনি।
তোমরা কি পুরুষের সঙ্গে উপগত হচ্ছ না?
...উত্তরে তার সম্প্রদায় এটুকুই বলল যে, আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি আনো...
(কোরান শরিফ, সুরা আনকাবুত ২৮-২৯)"
কোরানে বর্ণিত ওরা বিরাট পাপাচারী ছিল এ সত্য কিন্তু এখনকার মসজিদ-মাদ্রাসার যে সমস্ত বলাৎকারী তাদের ধারেকাছেও ছিল না। কারণ ওরা ছিল অবিশ্বাসী—অন্তত এখনকার মোল্লাদের মত পবিত্র কোরান স্পর্শ করিয়ে বলাৎকার করত না।
কী ভয়ংকর-কী ভয়াবহ!আপনি কী কল্পনা করতে পারেন, ৭ বছরের এই বাচ্চাকে যে, এই ৬ জন সিনিয়র ছাত্র-শিক্ষক মিলে দিনের-পর-দিন চরম নির্যাতন করেছে!
আপনি জাস্ট চোখ বন্ধ করে একটু কল্পনা করুন এই দৃশ্যটা দেখে, এদেরকে দেখে! ছোট্ট একটা বাচ্চা, দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস! অন্য ভুবনের কষ্ট ভোগ করছে এদের দ্বারা!
++
জামসেদ নামের একে দেখেছি ওয়াজের চেয়ে বেশি মধু বেচতে। ফেসবুকে এ যে কয়টা বিজ্ঞাপন চালায় তা এ এবং জাকারবার্গ ব্যতীত কেউ জানে না!
১ম তাকবীর, সানা
আরবি: سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالٰى جَدُّكَ وَجَلَّ ثَنَاءُكَ وَلَا اِلٰهَ غَيْرُكَ
বাংলা উচ্চারণ: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তা'আলা জাদ্দুকা, ওয়া জাল্লা ছানাউকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুক।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, তুমি পবিত্র, তোমার প্রশংসা সহ। তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা সুউচ্চ, তোমার প্রশংসা মহান, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
২য় তাকবীর, দরুদে ইবরাহীম।
আরবি:
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরের ওপর রহমত বর্ষণ করো যেমন ইবরাহীমের ওপর করেছো। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও মহিমাময়।
৩য় তাকবীর, মৃতের জন্য দোয়া।
আরবি:
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا
اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লি-হাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িবিনা ওয়া সাগীরিনা ওয়া কাবীরিনা ওয়া যাকারিনা ওয়া উনসানা। আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহু মিন্না ফা-আহয়িহি আলাল ইসলাম, ওয়া মান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফা-তাওয়াফফাহু আলাল ঈমান। আল্লাহুম্মাগফির লাহু ওয়ারহামহু ওয়া আফিহি ওয়াফু আনহু।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত-মৃত, উপস্থিত-অনুপস্থিত, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সবাইকে ক্ষমা করো। আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবে ইসলামের ওপর রাখো, যাকে মৃত্যু দেবে ঈমানের ওপর দাও। হে আল্লাহ, এই মৃত ব্যক্তিকে ক্ষমা করো, দয়া করো, নিরাপত্তা দাও ও মাফ করে দাও।
নোট: ৪র্থ তাকবীর দিয়ে ডানে-বামে সালাম—আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।"
Grok-কে বলেছিলাম যাচাই করতে:
Friday, October 23, 2026
খুন: একজন শামীম! খুনের দায়ে অভিযুক্ত: একজন আমিনী!
"...এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দিয়ে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিয়েছে। বলেন, আলহামদুলিল্লাহ...!"
তিনি জানলেন কীভাবে শামীম জাহান্নামে যাবেন! এটা তো কেবল পরম করুণাময়ের এখতিয়ার—আর কারও না—মানুষ তো দূরের কথা জিন্দা অলিরও না। এই ক্ষমতা তো সেই মানুষের হাতে না, যে মানুষ ৫ মিনিট অক্সিজেন ছাড়া থাকলে পেছন দিয়ে শেষ বাতাস বেরিয়ে যায়! আব্বাসী কী জিন্দা অলিকেও ছাড়িয়ে গেছেন!
"এখন যদি বলি, আল্লাহ 'কোরান-এ কারিমে' ফেসবুক কিভাবে চালাবেন, দিয়েছেন, বিশ্বাস করবেন?...সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নম্বর আয়াত..." :
কেউ কি এই মানুষটার ঘাড় ধরে জানতে চেয়েছে কোরানের কোথায় আছে এটা, দেখা? সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নম্বর আয়াত এটা:
![]() |
| সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৩ । কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান |
এই আব্বাসী, হামজারা যে ধর্ম বেচে টাকার বিনিময়ে ওয়াজ করে লক্ষ-লক্ষ টাকা আয় করেন আমরা দেখি এই বিষয়ে পবিত্র কোরানে কি বলা আছে?
১. "আল্লাহ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি। (সূরা বাকারা ২:১৭৪)
২. "... আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না।..." (সূরা বাকারা ২:৪১)
৩. "...বলো, এর জন্য আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না। এ তো শুধু বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ। (সূরা আনআম ৬:৯০) —কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
ওয়াজের নামে টাকা নিয়ে, আগুন দিয়ে পেট ভরে যে টাকা কামাচ্ছেন —আবার সরকারকে ১ পয়সা ট্যাক্সও দেন না, এই বিষয়ে আপনাদের মত কী [৪]!
এই আব্বাসী, যিনি নিজেই নিজেকে 'গ্রান্ড মুফতি' দাবী করেন! কে তাকে গ্রান্ড মুফতির খেতাব দিয়েছে এই বিষয়ে কোন তথ্য কারও কাছে নাই! তিনি প্রায়শই একটা বদ্ধ উম্মাদের ন্যায় আচরণ করেন!
টাকার বিনিময়ে ওয়াজের নামে আমাদেরকে জানান, গুইসাপ নাকি ৭৫০ বছর বাঁচে [৩]! (এটা তিনি প্রমাণ করতে পারলে আমি লেখালেখি ছেড়ে দেব!) মানুষের ব্রেনের ওজন নাকি ৬০ গ্রাম [৩]! পুরুষের শরীরে নাকি নারীর চেয়ে ৪ গুণ লোহা! তার পূর্বপুরুষ নাকি ২ কোটি মানুষকে হিন্দু থেকে মুসলমানে কনভার্ট করেছে। এর রেফারেন্সে হান্টার-ফান্টার যাদের লেখা বইয়ের উদাহরণ দিয়েছে সেখানে এইসবের কোন বিবরণই নাই—সম্পূর্ণ মিথ্যা [৩]!
হালে সৌদিতে আমাদের ২জন বাংলাদেশিকে স্রেফ কতল করা হয়েছে, জেনা করেছে এই অভিযোগে! এটাকে আব্বাসী বলছেন,
"১০০ ভাগ সঠিক হয়েছে।"
অথচ এই আব্বাসীর জানার কথা জেনার জন্য মৃত্যুর কথা কোরানে কোথাও নাই, সহীহ হাদিসে যাও আছে তাও বিবাহিত হলে। ওই ২জন বিবাহিত ছিলেন না [৪]!
এই ভিডিও ক্লিপে আমরা যে বক্তাকে দেখছি—এই ধর্মীয় শিক্ষকের যে জ্ঞান, তা আব্বাসীর মত মানুষের ১০ ভাগের ১ ভাগও নাই!
এখন আব্বাসী ঝোলা থেকে এই ফতোয়া বের করবেন, ঘটনাটা মসজিদে হয়েছে সেই জন্য ওই কতল ১০০.০০১ পার্সেন্ট সঠিক। বটে রে!
ইমামের পাহারায় এই মোয়াল্লিম-মাদ্রাসার শিক্ষক যখন মসজিদে হিল্লা বিয়ের নামে বাসর করেছিলেন [৫], রিপিট, মসজিদে! তখন কী আব্বাসী পয়সার বিনিময়ে ওয়াজ সেরে পেট ভাসিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন!
এই মোল্লাদের মোল্লাগিরির কারণে ভাবা যায়, আমাদের একজন নোবেলে মনোনীত নারীকেও হিল্লা বিয়ের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছিল [৫]!
এই যে মাদ্রাসায় অজস্র ঘটনা ঘটছে বলাৎকারের [৬] যা জেনার চেয়েও ভীষণ অপরাধ। এই নিয়ে কিন্তু আব্বাসীর গাত্রদাহ নেই!
শামীমকে যারা পিটিয়ে খুন করেছেন তারা দেশের প্রচলিত আইনে, তাঁকে আইনের কাছে দিতে পারতেন [*]। আইন আইনের গতিতে না-চললে তখন এটা নিয়ে কথা বলার সুযোগ ছিল। উইদাউট ট্রায়ালে একটা মানুষকে মেরে ফেলা, এটা স্রেফ খুন!
যে দেশে রমজান মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় (একটা ঘুষখোরকে যদি এনে দিতে পারেন ১১ মাস ঘুষ খান কিন্তু রমজান-সংযমের মাসে খান না। মাইকিং করে লোক জড়ো করে আমি পা ধরে সালাম করব)!
পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ দেশের মধ্যে অন্যতম একটা দেশ, বাংলাদেশ!
কিন্তু আমাদের আচার-আচরণ দেখলে মনে হবে একেকজন চলমান ফেরেশতা! একেকজন ধর্মের দন্ডটা শক্ত করে ধরে আছেন! জুমার নামাজে ১/২ ঘন্টা আগে না-গেলে মসজিদে জায়গা পাওয়ার যো নেই। অধিকাংশ মানুষ নামাজ পড়েন রাস্তায়। রাস্তা বন্ধ করে:
এটাই শেষ গাড়ি! এরপর লোকজনকে অনুরোধ করেছিলাম একটু ফাঁকা রাখার জন্য। কেউ গা করেনি! একেকজন যে বিরাট মাওলানা। এদের কাছে উপর থেকে কল এসেছে যে, এই সময়ের মধ্যে কেউ গুরুতর অসুস্থ হতে পারবেন না। আর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হলে, 'আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়া গেছে'!২ বছর ধরে একটা অভিজাত এলাকায় শিক্ষিত মানুষদের কান্ড এটা! চিল্লায়া বলেন, সোবহান-আল্লাহ!
যাই হোক, অবশেষে শামীমকে খুন করার প্রধান আসামী আমিনীকে ধরা হয়েছে। ধরা পড়ার পর কী সে-এক অমায়িক নুরানি হাসি! ভাল! এই লোকের যেহেতু প্রচলিত আইনে বিশ্বাস নেই তাই প্রচলিত আইনের ফাঁসির দড়িকে বিশ্বাস না-করে ঝুলে পড়লেই হয়। কিসসু হবে না...!
এরা, এই আমিনীরা হয়তো ধরা পড়েন কিন্তু এদের মাস্টারমাইন্ড আব্বাসীরা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে!
আপনি ভাবতে পারেন এই মানুষটা আইনের ঊর্ধ্বে! এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান! এই ওয়াজ যিনি করছেন তিনি একজন শায়েখ এবং ডক্টর ডিগ্রিধারীও। শাইখ ড. মাযাফফর বিন মুহসিন বলছেন:
বেনামাজিকে মেরে ফেলতে হবে। ফাঁসিতে নইলে জবাই করে, এই বিষয়ে ইমাম-মৌলভি-মোল্লাদের কোন দ্বিমত নাই। কেবল খানিকটা দ্বিমত আছে যে, হত্যা করার পর ওই মানুষটার জানাজা পড়া হবে, কি হবে না?
... পশুকে যেভাবে পায়ে দড়ি বেঁধে গর্তে ফেলে দেওয়া হয়, ওই মানুষকেও ওভাবে গর্তে ফেলে দেওয়ার নির্দেশও তিনি দিচ্ছেন...!
... ... ...
* বাংলাদেশে ধর্ম সংক্রান্ত অপরাধ- দণ্ডবিধির অধ্যায় ১৫ (Chapter XV) - ধারা ২৯৫ থেকে ২৯৮ পর্যন্ত।
১. ধারা ২৯৫: উপাসনালয় বা পবিত্র বস্তু নষ্ট করা! উপাসনালয় ভাঙা, নষ্ট করা বা অপবিত্র করা, যদি উদ্দেশ্য থাকে কোনো শ্রেণির ধর্মকে অপমান করা।
২. ধারা ২৯৫ক: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত (Main Law)। ইচ্ছাকৃতভাবে ও বিদ্বেষপূর্ণভাবে কোনো শ্রেণির ধর্ম বা বিশ্বাসকে কথা, লেখা বা ছবি/ভিডিও দিয়ে অবমাননা করা। শর্ত: ১. ইচ্ছাকৃত হতে হবে, ২. বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্য থাকতে হবে।
৩. ধারা ২৯৬: ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া! কোনো ধর্মীয় প্রার্থনা বা অনুষ্ঠান চলাকালীন ইচ্ছা করে ঝামেলা করা।
৪. ধারা ২৯৭: কবরস্থান / শ্মশান / মৃতদেহের অসম্মান! কবরস্থান বা শ্মশানে বিনা অনুমতিতে ঢোকা।
- মৃতদেহের প্রতি অসম্মান দেখানো।
- শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা করা।
৫. ধারা ২৯৮: কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত!
কোনো ব্যক্তির সামনে তাকে শুনিয়ে গালি, শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি করে তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা।
সূত্র:
১. মহা বিজ্ঞানী আব্বাসী: https://www.ali-mahmed.com/2026/10/blog-post_12.html?m=1
২. আব্বাসীর ৬০ গ্রাম ওজনের ব্রেন: https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post_09.html?m=1
৩. জৌনপুরি বনাম ২ কোটি মুসলমান: https://www.ali-mahmed.com/2025/08/blog-post_2.html?m=1
"যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে ফাসেক (পাপাচারী/দুষ্ট) বলে অপবাদ দেয়, অথবা কাফের বলে অপবাদ দেয়, তাহলে যদি যাকে অপবাদ দেওয়া হলো সে আসলে তেমন না হয়, তাহলে সেই অপবাদটা অপবাদদাতার দিকেই ফিরে আসবে।" (সহীহ আল-বুখারী - ৬০৪৫)
২.
"যদি কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে বলে, 'ওহে কাফের!'—তাহলে তাদের দুজনের একজন অবশ্যই কাফের!"

























