ali-mahmed.com
"ন্যানো ড্রাইভটা ফেলেছি হারিয়ে/ যেটায়—রাখা ছিল ৮০০ কোটি/ ইউনিটের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা/ গাদা-গাদা ডিএনএ প্রোফাইল।"
Saturday, September 19, 2026
সংগ্রহশালা।
অপেক্ষা!
লেখক: Taimoor Mahmud Shomik
"থানার ডিউটি অফিসার আমাকে বলেছিলেন, 'চব্বিশ ঘণ্টা দেখেন। বাচ্চা রাগ কইরা কোথাও হয়তো গেছে, ঠিকই ফিরা আসবো'।
আমার ছেলে ফিরে ছিল। ঠিক একচল্লিশ দিন পর। আমার দোকান থেকে সাতশো গজ দূরের একটা আধাপাকা বিল্ডিংয়ের নিচতলা থেকে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, তার আঠারো দিন আগেই ও মারা গিয়েছিলো। ওই আঠারো দিন আমরা বিকাশে ওর মুক্তিপণের টাকা পাঠিয়েছি।
আমার দোকান বনশ্রীর সি ব্লকে। মোবাইল ফোন, কাভার, চার্জার আর ফ্লেক্সিলোডের দোকান। বারো বছর ধরে ওই এক জায়গাতেই বসি। এলাকার লোকে আমাকে নামে না চিনলেও, ফোনের দোকানদার হিসেবে ঠিকই চেনে।
আরহামের স্কুল ছুটি হতো পৌনে দুইটায়। বাসায় না-গিয়ে ও সোজা দোকানে চলে আসত। স্কুলব্যাগটা কাউন্টারের নিচে ছুঁড়ে ফেলে টুলে উঠে বসত। তারপর আপনমনে গোছাতে লেগে যেত চার্জারের বাক্স।
ওর বয়স সাত। পড়ে ক্লাস টু’তে। গোছানোর নামে জিনিসপত্র আরও এলোমেলো হয়ে যেত। আমি কিছু বলতাম না।
ওর ডান পায়ের গোড়ালিতে একটা কালো সুতা বাঁধা থাকতো। জন্মের সাতদিনের মাথায় ওর মা বেঁধে দিয়েছিলো, মানুষের নজর যেন না-লাগে সেই অভিপ্রায়ে।
ক্লাস টুতে উঠে ছেলেটা লজ্জা পেতে শুরু করলো। একদিন বললো, 'আব্বু, বন্ধুরা হাসে। খুলে ফেলি'?
ওর মা রাজি ছিলো। কিন্তু বাধা দিয়েছিলাম আমি। বলেছিলাম, থাক না বাপ। কী এমন ক্ষতি করতেছে!
দোকানে আমার সাথে একটা ছেলে কাজ করতো। ওর নাম সোহাগ। বয়স হবে তেইশের মতো। বাড়ি জামালপুরে। তিন বছর ধরে কাজ করছে।
দুপুরে আমরা দুইজন একসাথে ভাত খেতাম। দুই ঈদের নতুন জামা আর বোনাস দিতাম নিজের ছোট ভাইয়ের মতো করে। আরহাম ওকে ডাকতো সোহাগ কাকা। গত ঈদে সোহাগ নিজের টাকায় ওকে একটা খেলনা বন্দুক কিনে দিয়েছিলো।
ঘটনাটা ঘটলো মার্চের দশ তারিখ, দুপুর আড়াইটার সময়। দোকানে তখন দুইজন কাস্টমার। একজনের সাথে সেকেন্ড হ্যান্ড একটা ফোনের দরদাম চলছিলো।
আরহাম টুল থেকে নেমে আমার পাঞ্জাবি ধরে টান দিলো, 'আব্বু, ললি আইসক্রিম খামু'।
মানিব্যাগ থেকে তাকে একটা বিশ টাকার নোট বের করে দিলাম। সোহাগ বললো, 'মামা, আমি নিয়া যাই। পাশের দোকানই তো'।
আমি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম। চোখ তখন কাস্টমারের হাতে ধরা ফোনটার দিকে। ব্যস এটুকুই।
কুড়ি মিনিট পর সোহাগ একা ফিরে এলো। মুখটা তখন তার রক্তশূন্য। হাঁপাতে-হাঁপাতে বললো, 'মামা, আপনার পোলায় তো মাঠের দিকে দৌড় দিলো! আমি পিছন পিছন ছুইটা গেছি, পাই নাই'!
আমি দোকান খোলা রেখেই দৌড়ে বের হয়েছিলাম।
সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা পুরো সি ব্লক তোলপাড় করে ফেলেছি। সবার আগে দৌড়াচ্ছিল সোহাগ। গলির মুখে দাঁড়িয়ে ছেলেটা হাউমাউ করে কেঁদেছিলো। সন্ধ্যা ছয়টায় আমি থানায় গেলাম। সোহাগ গেলো আমার সাথে।
ডিউটি অফিসার মুখ তুলে না তাকিয়ে বললেন, 'এতো অস্থির হওয়ার কিছু নাই! চব্বিশ ঘণ্টা পার হোক'।
আমি শঙ্কিত গলায় বললাম, 'স্যার, বাচ্চাটার বয়স সাত বছর'!
উনি খাতার পাতা উল্টাতে-উল্টাতে বললেন, 'আরে মিয়া, আপনের মতো রোজ দশজন আসে। বাচ্চা হারাইছেন আপনে, আমি কী করমু? যান, নিজেরা খোঁজেন। পাইলে আমারে জানাইয়েন'।
জিডিটা লেখাতে দুইদিন লেগেছিলো। মামলা হয়েছে আরও নয় দিন পর, এলাকার এক কাউন্সিলরের হাত ধরে। মাঝখানের ওই এগারোটা দিন আমার ছেলের খোঁজে কর্তৃপক্ষ এক পা ফেলেনি।
প্রথম ফোনটা এলো তিন নম্বর দিনে। একটা অচেনা নম্বর থেকে। ওইপাশের গলাটা কেমন ভাঙা ভাঙা, 'তোরপোলা আমগো হাতে। চাইর লাখ টাকা লাগবো। আর মনে রাখিস, পুলিশের কাছে গেলে লাশ ফেরত পাবি'।
আমি চিৎকার করে বলেছিলাম, 'ভাই, একবার আমার বাচ্চাটার গলাটা শুনান। একটাবারের জন্য শুনান গো, ভাই'!
লাইন কেটে গেলো পরমুহূর্তে।
কণ্ঠটা আমার কাছে কেমন চেনা-চেনা ঠেকেছিলো। আমি ভেবেছিলাম আটচল্লিশ ঘণ্টা না-ঘুমানোর জন্য মাথা আউলে গেছে।
বারো বছর ফোনের দোকান চালানো একজন মানুষ এই ব্যাপারগুলো বোঝে। আমি জানতাম নম্বরটা অন্য কারো এনআইডি দিয়ে তোলা। আমি এ-ও জানতাম বিকাশের প্রত্যেকটা লেনদেনের হিসাব বিকাশের সার্ভারে সাজানো আছে। ট্রানজেকশন আইডি, সময়, ক্যাশ আউটের এজেন্টের নাম, সব কিছু।
তদন্ত কর্মকর্তার হাতে আমি কাগজে লিখে সেই সমস্ত তথ্য ধরিয়ে দিয়েছিলাম।
উনি চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললেন, 'প্রসেস আছে ভাই। সিডিআর তুলতে উপরের অনুমতি লাগে। সময় লাগবো'।
সেই সময় আঠারো দিনে গিয়ে ঠেকেছিলো। টাকা আমি দিয়েছি। তিন কিস্তিতে সর্বমোট দুই লাখ চল্লিশ হাজার টাকা। দোকানের সব মাল বিক্রি করেছি। ওর মায়ের কানের দুল গেছে, গলার চেইন গেছে, হাতের দুইটা চুড়ি গেছে। শ্বশুরের কাছে হাত পেতেছি। দোকানের দলিল জমা দিয়েছি ব্যাংকে।
প্রত্যেকবার টাকা পাঠানোর পর ওরা বলতো, 'আইজ রাইতেই ছাইড়া দিমু। সকালে মোড়ে খাড়াইয়া থাকিস'।
আমি চল্লিশটা সূর্যোদয় ওই মোড়ে দাঁড়িয়ে দেখেছি। আরহামের মা দশদিনের মাথায় কথা বলা বন্ধ করে দিলো।
সে রোজ সকালে উঠে ছেলের স্কুল ড্রেসটা ইস্ত্রি করে রাখতো। টিফিন বক্সে রুটি আর ডিম ভরে সযতনে ঢুকিয়ে দিতো ব্যাগে।
আমি একদিন মেজাজ হারিয়ে বলেছিলাম, 'এইসব করতেছো ক্যান? মাথা খারাপ হইয়া গেছে তোমার'?
ও উদাস হয়ে শুধু বলেছিলো, 'ছেলেটা ফিরা আইসা খাইবো কী'?
ওই একচল্লিশ দিনে আমি একটা জিনিস অন্তত চার হাজারবার দেখেছি। দোকানের ক্যামেরার নয় সেকেন্ডের ফুটেজটা।
আরহাম বাঁ দিক থেকে ফ্রেমে ঢোকে, হাতে কুড়ি টাকার নোট। পেছনে সোহাগ। দুইজন দরজা দিয়ে বেরিয়ে ডানে মিলিয়ে যায়। মাত্র নয় সেকেন্ডে!
চার হাজারবার আমি ওই ফুটেজে অচেনা একটা মুখ খুঁজেছি। ব্যাকগ্রাউন্ডে কে দাঁড়িয়ে আছে, রাস্তায় কোন মোটরসাইকেল থেমে আছে, কার চোখ ছেলেটার দিকে।
প্রত্যেকবার আমার চোখ সোহাগের উপর থেকে অবচেতনভাবে সরে গেছে। কারণ ওইখানে অস্বাভাবিক কিছু ছিলো না। আমার দোকানের কর্মচারী আমার ছেলের হাত ধরে বের হচ্ছে। এর চেয়ে স্বাভাবিক দৃশ্য আমার জীবনে আর কী হতে পারে?
ওই ফুটেজ সোহাগ আমার পাশে বসে আমার সাথে দেখেছে। ঠিক কতোবার দেখেছে, আমি গুনিনি!
এই কয়দিনে ছেলেটা রোজ দোকানে এসেছে। ঝাঁপ খুলেছে, হিসাব মিলিয়েছে, মোড়ে গিয়ে চা এনেছে আমার জন্য। দুপুরে আমরা দুইজন এক তরকারিতে ভাত খেয়েছি।
মাছের বড় টুকরাটা ও প্রত্যেকদিন আমার পাতের দিকে ঠেলে দিতো। নরম গলায় বলতো, 'মামা, আপনে খান। আপনের শরীর ভাইঙ্গা যাইতেছে'।
![]() |
| ছবি: প্রতীকী |
পঁয়ত্রিশ নম্বর দিনে পুলিশ এজেন্ট পয়েন্টের ক্যামেরার ফুটেজ চাইলো। ওইদিনই সন্ধ্যায় সোহাগ দোকান থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি!
ধরা পড়লো তার ছয়দিন পর, জামালপুরে নিজের গ্রামে। ছেলেটা মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য এক দালালকে এক লাখ টাকা অ্যাডভান্স দিয়ে বসে ছিলো। বাকি চার লাখ না-দিলে আগের টাকাটাও জলে যাবার সমূহ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিলো। দালাল নানা প্রকারের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার গলা চেপে ধরেছিলো তিনমাস ধরে।
আরহামকে ও নিয়ে গিয়েছিলো ডি ব্লকের একটা আধাপাকা বিল্ডিংয়ে। রাতে ওইখানে কেউ থাকে না। ও ভেবেছিলো মাত্র দুইদিনের মামলা।
জবানবন্দিতে ও বলেছে:
বাচ্চাটা কান্না থামাইতেছিলো না। খালি আব্বু-আব্বু করতেছিলো। পাশের প্লটে লোক আছিলো। আমি মুখ চাইপা ধরছিলাম শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়া, যতোক্ষণ না-পর্যন্ত নিস্তেজ হইয়া আসে! অবশ্য ওরে মারার পরেই ফোন দিছি। টাকাটা তো আমার লাগতোই।
ওই বিল্ডিংটার সামনে দিয়ে আমি রোজ যাতায়াত করতাম। বিল্ডিংটার দেয়ালে আমি নিজের হাতে আমার ছেলের নিখোঁজ হবার পোস্টার লাগিয়েছিলাম। সোহাগ আঠার ডিব্বা ধরে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো বিষণ্ণ বদনে।
আমাকে ডাকা হয়েছিলো লাশ শনাক্ত করতে। এর মাঝে আঠারো দিন পার হয়ে গেছে। মুখ দেখে চেনার মতো কিছু বাকি ছিলো না। ডাক্তার সাহেব চাদর সরালেন। ডান পায়ের গোড়ালিতে কালো সুতাটা তখনো বাঁধা।
আমি বললাম, 'জি, এইটা আমার ছেলে'।
তারপর ওইখানেই মেঝেতে বসে পড়লাম। যেই সুতাটা ছেলেটার পা থেকে আমি কাটতে দিইনি, শেষ পর্যন্ত ওইটাই আমার আত্মজকে চিনিয়ে দিলো।
দাফনের পর আরহামের মা তিনদিন একটা কথাও বলেনি। চতুর্থ দিন সকালে উঠে আরহামের স্কুলের শার্ট যত্ন নিয়ে ইস্ত্রি করা শুরু করলো।
আমি দৌড়ে গিয়ে ওর হাত ধরে ফেললাম। ছেলেকে হারাবার পর থেকে আর ওর চোখে চোখ রেখে কথা বলা হয়নি আমার।
সেই মামলার চৌদ্দ মাস পার হলো। চার্জশিট দিতে সাত মাস লেগেছে। সাক্ষী হাজিরার তারিখ পড়ে, সাক্ষী আসে না। উকিল বলেন, 'ধৈর্য ধরেন, রায় একদিন হবেই'।
যেই ডিউটি অফিসার আমাকে চব্বিশ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলেছিলেন, তার কিচ্ছু হয়নি। উনি এখনো বহাল তবিয়তে সেই থানায় আছেন। একদিন কোর্টের বারান্দায় ওনার সাথে চোখাচোখি হলো।
উনি আমাকে চিনতে পারেননি। নিখোঁজ হবার পোস্টারে আমার দোকানের নম্বরটা প্রিন্ট করা ছিলো।
পোস্টারগুলো এখনো বনশ্রীর দেয়ালে ঝুলে আছে। রোদে রং উঠে গেছে, কোণাগুলো ছিঁড়ে গেছে।
এখনো মাসে দুই তিনটা করে ফোন আসে। অচেনা মানুষেরা দরদভরা কণ্ঠে বলে:
ভাই, পোস্টারটা দেখলাম। বাচ্চাটা কি পাইছেন?
আমি বলি, 'জি, পাইছি'।
বেশিরভাগ মানুষ গলার স্বর শুনেই বুঝে যায়। আর কিছু জিজ্ঞেস করে না। মাঝেমধ্যে এমন ফোন আসে, যেখানে ওইপাশের মানুষটার গলা কাঁপে, 'ভাই, আমার মাইয়াটারে পাইতেছি না তিনদিন ধইরা। আপনে তো এইসব পরিস্থিতি পার করছেন। আমি এখন কী করমু'?
আমি তাদের একটাই কথা বলি, থানায় গিয়া জিডি না, সরাসরি মামলা করবেন। আর কেউ যদি বলে চব্বিশ ঘণ্টা অপেক্ষা করেন, তার কথা বিশ্বাস করবেন না'।
ওই নয় সেকেন্ডের ভিডিওটা আমার ফোনে এখনো আছে। অসংখ্যবার চেষ্টা করেও ডিলিট করতে পারিনি। একটা কথা এতোক্ষণ বলা হয়নি।আরহাম জানতো, আমি ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে নিরাপত্তার খাতিরে দোকানের ক্যামেরা দেখি। তাই দোকান থেকে বের হওয়ার সময় ছেলেটা রোজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়তো।
ওইদিনও নেড়েছিলো। ছয় সেকেন্ড পার হবার মুহূর্তে।
আমি তখন ফোনটা হাতে নিয়েই দাঁড়িয়ে ছিলাম। একজন কাস্টমারের সাথে দুইশো টাকা নিয়ে দরদাম করছিলাম।
আমার ছেলে আমার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছিলো। আর আমি একটাবারের জন্য তাকাইনি।
আরহামের বাবা, তাইমুর মাহমুদ শমীক, ১৯/৯/২০২৬"
—লেখক: Taimoor Mahmud Shomik ( https://www.facebook.com/share/1GmNKctW18/)
Wednesday, September 16, 2026
চালবাজ গ্রামীণ কল্যাণ এবং মামাবাড়ির আবদার!
সহায়ক সূত্র:
১. ইউনূসনামা: https://www.ali-mahmed.com/2026/05/blog-post_10.html?m=1
Monday, September 14, 2026
পিশাচ নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী!
পিচাশ এবং পিশাচ—লিখতে-বলতে গিয়ে আমি গুলিয়ে ফেলি। এবার ভাল করে অভিধান দেখে নিয়েছি। ভয়ে-ভয়ে লিখছি কারণ এমন-একজন বিখ্যাত, বিপ্লবীকে নিয়ে লিখতে হচ্ছে!
পিশাচ নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। যিনি আসিফ নজরুলের ছাগল কেবল খেয়েই ফেলেননি। ভয়াবহ-নৃশংস ঘটনাও ঘটিয়েছেন। চোরদের প্রস্তুতি থাকে না তাই ভোঁতা বটি দিয়ে জবাইয়ের চেষ্টা বিফল হলে অনেক পরে কসাইয়ের কাছ থেকে ধারালো ছুরি এনে ছাগলটিকে জবাই করা হয়। এরিমধ্যে প্রাণীটি পশুদের কাছ থেকে অবর্ণনীয় যন্ত্রণা ভোগ করে।
আসিফ নজরুলের নিজের মুখে আমরা ঘটনাটা শুনি:
পিশাচদের মধ্যেও আবার 'ভাল পিশাচ' 'মন্দ পিশাচ' আছে যদিও এদের আমরা দেখিনি কিন্তু জানি। আজ 'নগ্ন পিশাচ' দেখলাম।
Saturday, September 12, 2026
খাঁচায় আটক করা আবশ্যক।
সোস্যাল মিডিয়া বাজারের মত। বাজারের যেমন একটা নিজস্ব ভাষা আছে সোস্যাল মিডিয়াতেও। ইচ্ছে হলো আপনি দিগম্বর হয়ে ঘুরে বেড়ালেন আর তাচ্ছিল্য করে বললেন, 'মেরা মড়জি'-আমার ইচ্ছা। হবে না! হয় আপনাকে আইনের আওতাও নিয়ে আসতে হবে অথবা পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি। চুজ, হেলথ অর টোব্যাকো না, টোব্যাকো অর টোব্যাকো—এই খাঁচা অথবা ওই খাঁচা।
সম্প্রতি এই ছেলেটা তার বোনকে নিয়ে এটা পোস্ট দিয়েছে। এটা এত বেশি ছড়িয়ে গেছে যে এখন ব্লার করে দিলেই কী আর না-দিলেই কী!
চমৎকার একটা কাজ হয়েছে! একে আটক করা হয়েছে। আদালত একে জামিনও দিয়েছেন। তাতে সমস্যা নেই, বয়স বিবেচনায় সেটা দেয়া যেতেই পারে।
আমাদের দেশে এখন এইগুলো দেখার জন্য একটা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ থাকাটা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। এখানে এসে যা-খুশী তাই করে যাচ্ছে [১]। এডলফ খান যায় তো রুমি কারিম আসে!
এর সুন্নত হয়েছে কি না কে জানে, এ আবার সুন্নতি-কলা খায়। :
সাথে যোগ হয় রুমির চামচা:
এই যে একটা বদ্ধউন্মাদ! কেবল কাপড় পরে রেখেছে এই যা:
এই লোক থিসিস সাবমিট করেছেন ব্রয়লার মুরগি খেলে নারী পুরুষ হয়ে যাবে, পুরুষ নারী হয়ে যাবে...:
এই লোকটা এখনও মুক্ত ঘুরে বেড়ায় এ এক বিস্ময়।
১. এই জন্তুগুলোকে...: https://www.ali-mahmed.com/2026/03/blog-post_13.html?m=1
২. বিজ্ঞানী...: https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post_09.html?m=1
Friday, September 11, 2026
একজন ইয়াসির আরাফাত এবং তাঁর ভবিষ্যৎবাণী!
১৯৭৮ সালে ইয়াসির আরাফাত যা বলে গিয়েছিলেন ২০২৬ সালেও তা অবিকল!
অলি-অলি, জিন্দা অলি!
Thursday, September 10, 2026
জ্বালা-জ্বালা, সেকাল-একাল!
সেকাল:
Tuesday, September 8, 2026
জেনা-বলাৎকার, পার্থক্য কি?
জেনা-বলাৎকারে পার্থক্য আছে—জেনার চেয়ে বলাৎকার শত হাজার গুণ ভয়াবহ! একটা শিশুর মনোজগৎ পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে—মৃত্যুর আগ-পর্যন্ত সে এই ট্রমা থেকে বের হতে পারবে না!
জেনার বিষয়ে সরব, বলাৎকারের বিষয়ে নীরব, কারণ কি হে মোল্লা? আমাদের দেশের মোল্লারা বলাৎকারের বিষয়ে বড় আলাভোলা [১] অবস্থান নিয়েছেন।
মাদ্রাসায়-মাদ্রাসায় যেন মহোৎসব চলছে বলাৎকারের। রোজার মাসে, ভিকটিমকে কোরানের দোহাই দিয়ে থেমে নেই বলাৎকার—বড় শিক্ষার্থী করছে ছোট শিক্ষার্থীকে, শিক্ষক করছে ছাত্রকে।
আমার নিজস্ব মত হচ্ছে, মাদ্রাসা-বিদ্বেষে এ নিয়ে উল্লসিত হওয়ার পূর্বে বিভিন্ন আঙ্গিকে এই বিষয়ে কয়েকটা পিএইচডি করা প্রয়োজন। ধর্মের দোহাই দিয়ে কেমন করে এটা সম্ভব? এই ভয়ংকর অপরাধ নিয়ে কোরবানির পশু জবাইয়ের মত উল্লাস করার কারণটা কী! এরা এটাকে সওয়াবের কাজ ভাবছে না তো আবার!
খুব অল্পই সংবাদমাধ্যমে আসছে তদুপরি খুব একটা বিকার নাই আমাদের! বিকার নেই আমাদের সুশীল সমাজেরও! কারণ মাদ্রাসার বাচ্চাগুলো গরীব ঘরের। আগা খান স্কুলের মাসে লাখ টাকা ফি-দেওয়া বাচ্চা না এরা!
কেবল একটা ঘটনা এর ভয়াবহতা বুঝতে খানিকটা সহজ হবে।
Friday, September 4, 2026
রাজা, তুই ল্যাংটা!
মুখের উপর সটান দাঁড়িয়ে বললে, ম্যাটার করে! এই যেমন, বিল গেটস! বিলিয়ন-বিলিয়ন টাকা থাকার পরও লোকজন তাকে 'বাচ্চাদের মাংসখেকো' ডাকছে।
আবার যখন প্রশ্ন করছে, এপস্টিন ফাইল বিষয়ে তখন তার হাসিটা ছিল 'অমায়িক চো...'!প্রিন্স চার্লসকে যখন মুখের উপর বলা হয়, 'বু-উ-উ, নট মাই কিং', তখন হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে বৈকি:
Wednesday, September 2, 2026
শুক্রবার, রাত ৯:৩০ মিনিট।
লেখক: Nasima Islam jhotey
"রেডিসন ব্লু হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুম। এক মন্ত্রীর মেয়ের বিয়ে চলছে। আমি এই বিয়ের অতিথি নই। আমার খালাতো ভাই, আ' মিন ওর ক্যাটারিং কোম্পানি আমাকে স্পেশাল কনসালট্যান্ট হিসেবে ভাড়া করেছে। বলরুমের ঠিক মাঝখানে রাখা ১২০ পাউন্ড ওজনের বিশাল 'বরফের রাজহাঁস'-এর থার্মোডাইনামিক স্ট্যাবিলিটি মেইনটেইন করার জন্য।
হঠাৎ বলরুমের মেইন দরজা ভেঙে চারজন ভারী অস্ত্রধারী লোক ভেতরে ঢুকল। তাদের মুখে কালো রঙের মোটা উলের স্কি-মাস্ক। তারা সোজা ভিড়ের মাঝখান দিয়ে এসে বর এবং কনেকে জিম্মি করে ফেলল।
'কনের গলার ১০ কোটি টাকার ডায়মন্ডের নেকলেসটা এখনই খোল! কেউ নড়লে বরের মগজ ফ্লোরে নামায়ে দেব'!
লিডার লোকটা তার শটগানের ব্যারেলটা বরের মাথার সাথে চেপে ধরল।
পুরো বলরুমে হাজার খানেক মানুষের মধ্যে পিনপতন নীরবতা। কনে কাঁপতে-কাঁপতে তার গলার নেকলেস খুলতে শুরু করেছে।
আগের যেকোনো সময় হলে আমি হয়তো এই ডাকাতদের ফিজিক্সের কোনো সূত্র বুঝিয়ে তাদের ব্রেইন রিল্যাক্স করার চেষ্টা করতাম। কিন্তু আজ আমার হাতে কথা বলার মতো সময় নেই। রাজহাঁসের ডানাটা যে-কোনো মুহূর্তে স্ট্রাকচারাল ইন্টিগ্রিটি হারিয়ে ভেঙে পড়বে। আমার ইমার্জেন্সি একটা 'থার্মাল ইনসুলেটর', আ' মিন তাপ নিরোধক দরকার।
আমি দেখলাম, লিডার লোকটার মাথায় যে স্কি-মাস্কটা পরা, সেটা ১০০% পিওর উল-এর তৈরি। উলের ফাইবার বাতাসের পকেট ধরে রাখে, যা তাপ চলাচলে চরম বাধা দেয়।
আমি অত্যন্ত শান্ত পায়ে হেঁটে লিডারের ঠিক পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমি জাস্ট আমার ডান হাতটা বাড়িয়ে, বরের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রাখা ওই দুর্ধর্ষ ডাকাতের মাথা থেকে তার কালো উলের মাস্কটা এক টানে খুলে নিলাম! লিডার ডাকাতটা আক্ষরিক অর্থেই ব্ল্যাঙ্ক হয়ে গেল।
তার আসল চেহারা হাজার-হাজার মানুষের সামনে, এবং বলরুমে চলতে থাকা ডজন খানেক ভিডিও ক্যামেরায় উন্মুক্ত হয়ে গেছে!
'আরে! আমার মুখ! আমার মুখ দেখা যাইতেছে'!
লিডার লোকটা বন্দুকের কথা ভুলে গিয়ে দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢাকার জন্য পাগলের মতো চিৎকার করে উঠল। তার সাঙ্গোপাঙ্গরাও লিডারের চেহারা ফাঁস হয়ে গেছে দেখে চরম প্যানিক করে ফেলল।তারা ডায়মন্ডের নেকলেসের তোয়াক্কা না-করে, লিডারকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে বলরুমের পেছনের ইমার্জেন্সি এক্সিট দিয়ে পাগলের মতো দৌড়ে পালিয়ে গেল।
পুরো বলরুমে এক সেকেন্ডের স্তব্ধতা। তারপরই বরের বাবা, কনের বাবা এবং মন্ত্রীর সিকিউরিটি গার্ডরা উল্লাসে ফেটে পড়ল। আমি তাদের দিকে ফিরেও তাকালাম না। অকেজো সিকিউরিটি গার্ড।
আমি ডাকাতের মাথা থেকে খোলা ওই ঘামে ভেজা মাস্কটা নিয়ে দ্রুতগতিতে বরফের রাজহাঁসের ডানার ওপর পরিয়ে দিচ্ছিলাম, যাতে এসির গরম বাতাস বরফটাকে আর গলাতে না পারে।
বর দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। কনে ডুকরে কেঁদে উঠলেন।
'ভাই! আপনি জাস্ট একটা মাস্ক টান দিয়ে ওদের যে সাইকোলজিক্যাল ধস নামিয়েছেন! আপনি আজ আমার জীবন আর আমার স্ত্রীর সম্মান দুটোই বাঁচালেন! আপনি ফেরেশতা'!
বরের চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে।
আমি মাস্কটা বরফের ডানায় পেঁচিয়ে সেট করে অত্যন্ত বিরক্তি নিয়ে বরের দিকে ঘুরলাম।
'আপনার ইমোশনাল স্টেটমেন্টগুলো সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং আপনি আমার কাজের চরম ক্ষতি করছেন'।
আমি কাঁধ থেকে তার হাতটা সরিয়ে দিয়ে কড়া গলায় ধমক দিলাম।
'আমি উনার মাস্ক খুলেছি কারণ উলের ইনসুলেশন আমার বরফটাকে গলা থেকে বাঁচাত। কিন্তু আপনাদের এই ফালতু ডাকাতির টেনশনে ডাকাতের মাথা ঘেমে একাকার হয়ে ছিল। ওর মাথার ঘামে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড, আ' মিন লবণ আছে'!
আমি বরের চোখের সামনে বরফের ডানাটা দেখালাম।
'ফিজিক্সের ভাষায় একে বলে 'ফ্রিজিং পয়েন্ট ডিপ্রেশন'! বরফের গায়ে লবণ লাগলে তার গলনাঙ্ক কমে যায় এবং বরফ স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ স্পিডে গলতে শুরু করে! ওই জঘন্য লোকটার মাথার ঘামের কারণে আমার রাজহাঁসের ডানাটা এখন তাপের হাত থেকে বাঁচলেও, লবণের কারণে গলে পানি হয়ে যাচ্ছে'!
বর হতভম্ব হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। মন্ত্রীর সিকিউরিটি গার্ডরাও হাঁ করে আমার ধমক শুনছে। আমি বরের কলার চেপে ধরলাম।
'আপনি এখানে দাঁড়িয়ে আমাকে ফেরেশতা ডাকছেন কেন? এখনই আপনার শ্বশুরের সিকিউরিটি গার্ডদের নিয়ে ওই এক্সিট দরজা দিয়ে দৌড়ান! ডাকাতটাকে ধরুন'!
বরের গায়ের শার্টটা ১০০% কটনের তৈরি, যেটা থার্মাল ইনসুলেশন দেয় কিন্তু ঘাম শোষণ করে!
'দাঁড়ান-দাঁড়ান, আমার এখনই একটা ড্রাই কটন ফেব্রিক লাগবে! যান, শার্টটা খুলে নিয়ে আসুন'!"
লেখক: Nasima Islam jhotey (https://www.facebook.com/share/1CLJUNSy4z/)
পদার্থ-অপদার্থ, ডান-বাম!
আপনি ডান, বাম চিনবেন কিভাবে? সহজ! ডান দিকের উল্টোটাই বাম। পদার্থ, অপদার্থ ওভাবেই বের করে ফেলবেন।
এমনিতে আমাদের ধর্মীয় শিক্ষকরা জানেন না এমন কোন বিষয় নাই!
শায়েখ আবদুর রাজ্জাক নরেন্দ্র মোদির মত দাবী করছেন তার জন্ম মানুষের গর্ভে না [১] এমনটা শুনিনি! একজন নারী, মা'র পেট থেকে জন্ম নেওয়া এই মানুষটা নারীকে, নারীজাতিকে নিয়ে যে মন্তব্য করেন তা একজন সুস্থ মানুষ ভাষায় প্রকাশ করতে পারবেন না:
বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সময় তিনি উঠে দাঁড়াননি! কেবল তাই না তিনি রসিয়ে-রসিয়ে অন্যদের বিষয়েও বলছেন—তাঁরা দাঁড়িয়ে কেমন করে রসাতলে যাবেন। বেশ, তাও না-হয় মেনে নিলাম।
"...আপনি আমাকে অপমান করে বিদায় করে দিলেন, টাকা-পয়সা দিলেন না। দিলেন না তো দিলেন না! আমি চলে যাব। কতদিন প্রোগ্রাম করেছি, এক পয়সা দেয়নি। পরীক্ষা করে দেখেছি।
আপনি তো খুব জাঁক করে বলছেন, আপনি পরীক্ষা করেছেন, টাকা-পয়সা না-দিলে নিজ থেকে আর চাচ্ছেন না। মানে কী! প্রোগ্রাম, আ মিন, ওয়াজ? আহা, ওয়াজ করে তাহলে আপনি টাকা-পয়সা নেন! অই মা, তা বুঝলুম, আপনি মহান—না দিলে চান না কিন্তু ওয়াজ করে টাকা-পয়সা নেন তো। বাহ! তা ধর্মে কোথায় বলা আছে আপনারা ওয়াজ করে, আমাদেরকে নসিহত করে পয়সা কামাবেন! তাহলে আপনাদের মধ্যে আর ড্রাগ ডিলারের মধ্যে পার্থক্য কী!
আপনি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন, মুড়ি বেচেন, হালুয়া বানান কোন সমস্যা তো নাই কিন্তু ওয়াজ করে টাকা-পয়সা নেবেন আবার আমাদেরকে দমে-দমে নসিহত করবেন!
...
অপদার্থ চিনবেন কীভাবে? সেটা ভারী পদার্থ হলেও? দেখার বিষয় ইয়ে কতটা জড়াজড়ি হয়ে আছে!
এই যেমন ধরুন, স্যার, মহিউদ্দিন মোহাম্মদ! ধরুন, তিনি সক্রেটিসের ভাতিজা লাগেন। বা ধরুন, তিনি 'দোরা কাউয়ার লুক' ব্রাত্য রাইসুর চেয়েও বড় চিন্তক [১]! অথবা ধরুন, স্যার, নোয়াম চমস্কির 'চামচাতো ভাই'। এবার এই ধরাধরি বাদ দিয়ে বলি, যে মানুষটা নিজেই নিজেকে বলছে, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবী সেই মানুষটা যে ইয়েলো-মেটার এবং গ্রে-মেটারে মাখামাখি হয়ে থাকা একটা...!Monday, August 31, 2026
বিকাশ—রক্তচোষা এক জোঁকের নাম!
লেখক: Irfan sheikh
"বিকাশ আপনার কাছ থেকে তিন জায়গায় অর্থ উপার্জন করে।
১. আপনার আমানত অন্য কাউকে ঋণ দিয়ে সেই সুদ থেকে আয়।
২. ক্যাশ আউটের ক্ষেত্রে ১.৮৫% চার্জ কেটে নেয়।
৩. প্রতিবার সেন্ড মানি করলে সেখান থেকে চার্জ কেটে আয় করে।
এর বাইরে রেমিটেন্স, মুদ্রা বিনিময়, পেমেন্ট, ফোন রিচার্জ, ডোনেশন, রিটেইল ইত্যাদি ক্ষেত্র থেকে বিকাশের আয় হয়। তবে সে আলাপে আর না গেলাম।
প্রধান ৩ উপার্জন মাধ্যমের ৩ নম্বরটা খেয়াল করুন। একটা টাকা যতবার হাত বদল হবে, ততবার ১০ টাকা কেটে নিবে বিকাশ। ধরুন, ১০০ টাকা ক্যাশ ইন করে পরে আপনার মাকে পাঠালেন। সে পাবে ৯০ টাকা। আপনার মা সেই টাকা তার বুয়াকে পাঠালে, বুয়া পাবে ৮০ টাকা। বুয়া এটা ক্যাশ কাউট করলে ফাইনালি পাবে ৭৮.৫২ টাকা।
হাত বদল আরও বেশি হলে বুয়া ৫০-৬০ টাকা পেতো।
এখানে থিওরিটিকালি টাকাটা ৩ বার হাত বদল হয়েছে। কিন্তু প্র্যাকটিকালি টাকাটা হাত বদল হয়নি। বিকাশের সার্ভারের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে জাস্ট দুয়েকটা কোড এদিক সেদিক হয়েছে। আপনার একাউন্ট থেকে ইলেক্ট্রিক মানির কোড নিয়ে সে আপনার মায়ের একাউন্টে সমন্বয় করেছে। পরে বুয়ার একাউন্টে করেছে।
ক্যাশ আউট বাদে সেন্ড মানির যে লেনদেন, এটাকে বলে 'পিটুপি ট্রানজ্যাকশন'। ভারতে ১ লাখ রুপি পর্যন্ত এই পিটুপি লেনদেন ফ্রি। মিয়ানমারে পুরোপুরি ফ্রি। থাইল্যান্ডে ৫০০০ বাথ মানে ১৩০০০ টাকা পর্যন্ত ফ্রি। ভিয়েতনামে সম্পূর্ণ ফ্রি। বিকাশে ফ্রি না। প্রতিবারে ১০ টাকা।
ডাকাতিটা এখানেই শেষ হলে পারতো। হয়নি। এর চেয়ে ভয়াবহ একটা কাজ করেছে বিকাশ।
আগে পিটুপি লেনদেনে টাকার পরিমাণ কম হলে বিকাশ কম টাকা চার্জ করতো। টাকার পরিমাণ বেশি হলে, শতকরা হিসাব করে বেশি টাকা চার্জ করতো। অর্থাৎ ২০০ টাকায় চার্জ কম। ৫০০০ টাকায় চার্জ বেশি।
কিন্তু এখন আর সেটা করে না। সবার জন্য এক রেট। ১০০ টাকা লেনদেন করলেও ১০ টাকা। ৪০ হাজার টাকা লেনদেন করলেও ১০ টাকা। এর মাধ্যমে বিকাশ বলতে চাচ্ছে, দ্যাখেন আমরা শত-শত টাকা চার্জ করছি না। যত বড় এমাউন্টই পাঠান, মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে আপনার টাকা আমরা পৌঁছে দিবো।
কিন্তু আপনি শেষ কবে ৪০ হাজার টাকা বিকাশে লেনদেন করেছেন? ১০ হাজার টাকার উপরে বাঙলাদেশের সাধারণ মানুষ ও অফিসগুলো বিকাশে লেনদেন করে না, পলিসির কারণে করতে পারে না।
বিকাশ মূলত ছোট-ছোট লেনদেনের অ্যাপ। সাধারণ মানুষ, গার্মেন্টস কর্মী, ছাত্র, কৃষক একে অন্যকে ২০০ টাকা, ৪০০ টাকা এভাবে পাঠায়। রিকশায় ভাংতি না-থাকলে বিকাশে দেয়। রাইড শেয়ারিং অ্যাপে ভাড়া দেয়। সব রকম ভাংতির সংকটে বিকাশ ব্যবহার করে। সেলামি, বখশিশ, চটজলদি যে কোন ২০০-৫০০ টাকা পাঠাতে দেশের মানুষের একমাত্র একচেটিয়া সম্বল হলো বিকাশ। আর এই প্রতিটা ট্র্যানজেকশনে বিকাশ নেয় ১০ টাকা।
রিকশাওয়ালাকে ৭০ টাকা ভাড়া দিলেও ১০ টাকা। সেলামিতে ২০০ টাকা দিলেও ১০ টাকা। 'দোস্ত একটু আটকে গেছি, ২০০ টাকা সেন্ড মানি কর', এই ক্ষেত্রেও ১০ টাকা!
বিকাশের এই ইউনিভার্সাল রেইটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালনারেবল হলো গরীব মানুষ। যেহেতু প্রতিদিন ৪-৫টা লেনদেনে মাত্র ৫০ টাকা ব্যয় হচ্ছে, সে খেয়াল করে না। কিন্তু ক্যাশ আউট চার্জ বাদ দিয়েই সারা দেশের নিম্নমধ্যবিত্ত ৫ জনের একটি পরিবার মাসে ১৫০০ টাকা বিকাশকে দিচ্ছে। এটা সেই পরিবারের বিদ্যুৎ বিলের চেয়ে বেশি!
বাঙলাদেশে বহু প্রতিষ্ঠান আছে যারা মধ্যবিত্ত আর উচ্চ মধ্যবিত্তদের লুট করে। যেমন উবার অথবা লালা মুভ।
কিন্তু বিকাশের সিস্টেম তৈরিই হয়েছে ২০০-৪০০ লেনদেন করা গরীব মানুষকে নিপীড়ন করতে। একদম গরীব মানুষকে টার্গেট করে তারা এই সিস্টেম ডেভলপ করেছে। এই মুহূর্তে এর চাইতে গরীব বিধ্বংসী কোন ঐতিহাসিক পণ্য বা সেবা মনে পড়ছে না।
৩৫০ এমপির মধ্যে একটা প্রাণী নাই যে এটা নিয়ে সংসদে অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করবে। তাদের সবার রাজনীতি জনবিচ্ছিন্ন। তাদের রাজনীতি শুধু অর্থহীন জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় পরিচয় আর সংবিধান নিয়ে।
একদা ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে দেখেছিলাম, রাষ্ট্রীয় মূলনীতি সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার হবে নাকি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ আর ধর্মনিরপেক্ষতা হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো কামড়াকামড়ি করছে।
আমি প্রচন্ড বিতৃষ্ণা নিয়ে বের হয়ে গেলাম। আমার বের হওয়াতে কিচ্ছু যায় আসে না। কিন্তু এটলিস্ট আমি জেনে গেছিলাম, এরা আমাদের লোক না। এরা আমাদের রাজনীতিটা করে না।"
লেখক: Irfan sheikh
(https://www.facebook.com/share/1EHfX5nqXn/ )
সূত্র:
১. ব্র্যাক ব্যাংক, লাশ-বানিজ্য-পদক: https://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html?m=1
Sunday, August 30, 2026
আহারে জীবন, প্রবাস-জীবন!
—লেখক: বিল্লাল হোসাইন (https://www.facebook.com/share/1BhrxyBktX/ )
"গত সপ্তাহের বুধবার রাতে টোকিওর 'ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটি' থেকে সেমিনার শেষ করে ডরমেটরিতে ফিরছি। সেমিনার শেষে ক্যাম্পাস দেখতে দেখতে একটু লেট হয়ে গেছে, আবার 'সেইবু লাইন-এর ট্রেন লেট করায় আরো লেট হয়ে গেছে। 'নাকানো' স্টেশনে ট্রেন চেঞ্জ করতে হবে। রাত প্রায় ১১টা বাজে, সকাল সাড়ে ১০টার পর আর কিছু খাওয়ার সুযোগ হয়নি!
তাই ট্রেন চেঞ্জ না-করে স্টেশন থেকে বের হলাম। স্টেশনের সামনেই একটা 'লসন কনভেনি' স্টোর আছে, উদ্দেশ্য হলো একটা 'টুনা অনিগিরি' আর একটা বাটারবন কিনে খেয়ে তারপর আবার স্টেশনে এসে 'জেআর চুও লাইন-এর ট্রেন ধরে 'কুনিতাচি' আসব। তাই স্টেশন থেকে বের হয়ে লসনে গেলাম। স্টেশনের সামনের রাস্তায় কাজ চলছে, ড্রিলিংয়ের কাজ। তাই অনেকটুকু জায়গা হলুদ ব্যারিকেড দেওয়া। একটু চেপে চুপে লসনের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
কনভেনি স্টোরে ঢোকার আগে স্মোকিং জোন দেখে ভাবলাম একটা সিগারেট ধরাই, সারাদিন সিগারেটও খেতে পারিনি। ৩টা সেমিনার করতে হয়েছে! সিগারেট ধরাতেই দেখি আমাদের মতই গায়ের রঙের একজন এসে কনভেনি স্টোরের দেয়ালে হেলান দিয়ে মাটিতে বসে পড়েছেন। গায়ে কনস্ট্রাকশন কোম্পানির ইউনিফর্ম। দেখেই বুঝলাম ওই রাস্তায় যে কাজ হচ্ছে তিনি সেখানে কাজ করছেন। এখন ২০ মিনিটের 'কিউকেই' মানে বিশ্রাম দিয়েছে। তাই এখানে এসেছেন, আর হাতে একটা সাদা পলিথিন। আমি আর নজর দিইনি।
কিন্তু মিনিট দুই পরেই স্পষ্ট বাংলা কথা শুনতে পেলাম, আর বুঝলাম বাংলাদেশি। তারপর আবার ভাইকে বলতে শুনলাম,
তোমরা সন্ধ্যায় কী নাস্তা করছো? বাবুরে কী খাওয়াইছো?
অপর পাশ থেকে কী বলল তা তো শোনা যায় না, কিন্তু এই পাশ থেকে আবার শুনলাম,
পিজ্জা কোথা থেকে আনছো?
তার কথা শুনে বুঝলাম তার পরিবার সন্ধ্যার নাস্তায় পিজ্জা খেয়েছে। আর খাবেই বা না কেন? আহা, বাবুর বাবা যে জাপানে থাকে!
এরপর আরও মিনিট খানেক কথার শেষে সম্ভবত ভাইয়ের ওয়াইফ জিজ্ঞেস করছে, তুমি রাতে খেয়েছো কিনা বা কী খেয়েছো, বা এখন কী করো।
আমি তার বসার জায়গা থেকে ৩ ফুট দূরে হবো, কারণ এই কনভেনির সামনে সিগারেট খেলে আপনি হেটে হেটে খেতে পারবেন না, লম্বা গোলাকার সিগারেটের অ্যাশট্রে থাকে, ছাই সেখানেই ফেলতে হবে। তাই আমি বাধ্য হয়েই তার কথা শুনছি। যখন তাকে প্রশ্ন করা হলো, তখন তিনি ঠিক এইভাবে উত্তর দিলেন,
হ্যা, রাতে খাসির গোশত দিয়ে ভাত খেয়ে অফিসে এসেছি। এখন ডিউটি শুরু হবে। আর কল দিবো না। রুমে গিয়ে আবার কল দিবো,
বলে কল কেটে দিয়েছেন।
আমি এই টোকিওর রাস্তায় কোনো বাংলাদেশি দেখলে বা বুঝতে পারলে আগ বাড়িয়ে কথা না-বললেও তাকে সালাম দিই। ঠিক একইভাবে সিগারেটের ফিল্টারটা অ্যাশট্রেতে রেখে ওনাকে ক্রস করে যাওয়ার সময় সুন্দর করে সালাম দিয়ে চলে যাচ্ছিলাম। কিন্তু তিনি যেতে দিলেন না, তিনিও সুন্দর করেই ডাক দিয়ে বললেন,
ভাইয়ের বাড়ি কোথায়?
এমন কিছু জিজ্ঞেস করলে থামতেই হয়! আমি দাড়িয়ে গেলাম দেখে তিনি মাটি থেকে উঠে দাড়াতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু আমি জানি যারা কনস্ট্রাকশনে কাজ করে তাদের কষ্ট কেমন, এই ২০ মিনিট ছাড়া সে আর বসতেই পারবে না। তাই দ্রুত তাকে দাড়াতে না-দিয়ে আমিই গোড়ালিতে ভর করে নিচে বসে বললাম,
ভাই, চাঁদপুর। তবে জন্মের পর থেকেই চিটাগং-এ ছিলাম।
এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এদিকে কী করি, আমি বললাম, ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছি।
আর এটা বলতে গিয়েই ওনার হাতে যে সাদা পলিথিনটা ছিল, তার দিকে তাকিয়েই আগের ফোন কলে তিনি যে মিথ্যা কথা বলেছেন, তা ধরতে ১০ সেকেন্ডও লাগেনি। তার সাদা পলিথিনে দুইটা কলা, দুইটা বিস্কুট, আর দুইটা সিদ্ধ ডিম। তিনি এগুলো নিয়ে এদিকে নাইট ডিউটি করতে এসেছেন। আর তার ওয়াইফকে বলেছেন, খাসির গোশত দিয়ে ভাত খেয়ে এসেছেন!
আমি সাদা পলিথিন থেকে চোখ তুলে ওনার মুখের দিকে তাকাতেই তিনি কাতর হয়ে বললেন,
ভাই, কুলাতে পারি না। এই মাসে ঘরে সব মিলাই ৫০,০০০ ইয়েন দিছি। তাও হয় না। আর রাতে ভাত খেয়ে কাজে আসলে কাজ করা যায় না, শরীর ছেড়ে দেয়।
তার কথা শুনে আমি হাসি। আমি বলি, এভাবে দিতে-দিতে কলিজা বিক্রি করে দিয়ে দিলেও কারও কোনো চাহিদা মিটবে না। আমি যতটুকু জানি, আপনাদের এই কাজ সব দিন থাকে না, আবার যখন থাকে তখন টানা থাকে। আপনি কতক্ষণ ধরে করতেছেন?
তিনি মুখটা খুবই মলিন করে বললেন, গতকাল নাইট ৬ ঘণ্টা, আজকে সকালে ৮ ঘণ্টা আর এখন নাইট ৮ ঘণ্টা করে সকালে রুমে যাবো। তার কথা শুনে আমি অবাক হয়ে বলি,
মানে আপনি ২২ ঘণ্টা ধরে দাড়িয়ে! আপনি এতক্ষণ ভাতও খান নাই, আর কী সুন্দর ঘরে বলে দিলেন, খাসির গোশত দিয়ে ভাত খেয়েছেন! এমন করবেন না, দেশে যারা থাকে তারা ভুল ভাবে! অথচ ঘরেতো সন্ধ্যাতে হয় পিজ্জা হাট বা পিজ্জা বার্গ থেকে শত শত টাকা দিয়ে পিজ্জা খেয়েছে!
তিনি আর কিছুই বলেন না।
এরপর আমার কথা জিজ্ঞেস করলে আমি বলি, আমি যাবো কুনিতাচি, কিন্তু খিদা লাগায় এদিকে স্টেশন থেকে বের হয়েছি। এটা শোনার পর তিনি তার পলিথিন থেকে কলা আর ডিম বের করে আমাকে দেন। আমি তো তার এই খাবার খাবই না, কিন্তু তিনিও আমাকে না-খাইয়ে ছাড়বেন না। তখন বাজে মাত্র রাত ১১টা, ওনার ডিউটি চলবে সকাল ৬টা পর্যন্ত, তাই এই সামান্য খাবার থেকে খেতে চাইনি।
কিন্তু তিনি এমনভাবে চেপে ধরলেন, এমন মায়া দেখালেন, পরে মনে হলো না খেলে মনে কষ্ট পাবেন। তাই আমিও মাটিতে বসে কলা আর সিদ্ধ ডিম খেলাম। আর খাওয়ার আগে ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে একটা ছবি তুললাম। পাশের বোতলে এটা একটা গ্রিন টি। তিনি সেখান থেকেও আমাকে অর্ধেক দিয়েছেন।
এরপর ওনার থেকে যখন বিদায় নিই, তখন আমি আবার লসন কনভেনিতে ঢুকে ওনার জন্য দুইটা অনিগিরি (ভাতের বলের ভেতরে মাছ দেওয়া থাকে), একটা বড় সাইজের বাটারবন ও একটা পোকারি সুইট (গরমে স্যালাইনের মত খায়) কিনে জোর করে দিয়ে আসি আর পুরোটা পথ ভাবতে থাকি, আমরা ঘরের মানুষদের টেনশন ছাড়া রাখার জন্য কত কিছুই না মিথ্যা বলি। কোথায় রাস্তার ফুটপাতে বসে কলা, ডিম আর বিস্কুট খাওয়া আর কোথায় খাসির মাংস দিয়ে ভাত খাওয়া! মনটাই খারাপ হয়ে গেছিলো।
এই লেখা বিদেশে যারা থাকে তাদের কষ্ট বা স্ট্রাগল বোঝানোর জন্য না, এই লেখা আমাদের প্রতি দেশের মানুষের সিম্প্যাথি অর্জনের জন্যও না। তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে, এই ঘটনা নিয়ে এত বড় লেখা কেন?
উত্তর হলো, এই লেখা হলো তাদের জন্য, যারা নিজের ঘর, পরিবার, সমাজ, দেশ ছেড়ে বিদেশে থাকেন। আপনারা অবশ্যই কষ্ট করবেন, পরিশ্রম করবেন, আয় করবেন, নিজের ঘরে টাকা পাঠাবেন। কিন্তু কখনোই এমন মিথ্যা বলবেন না। যদি শুকনা পাউরুটি খেয়ে থাকেন, তাহলে ঘরে তাই বলবেন। এতটুকু সত্য না বললে কী হয় জানেন?
ঘরে লোকজনের আপনার ওপর অন্যায় আবদার বাড়ে। বিদেশে কাজ করতে এসেছেন, পড়তে এসেছেন, তার মানে এটা না আপনি এদিকে কোটি-কোটি টাকা ইনকাম করেন। আপনি যদি এমন মিথ্যা বলতে থাকেন, তাহলে আপনি সেই প্রত্যাশার চাপ সামলাতে এমন রাতের বেলা শুকনা বিস্কুট, কলা আর সিদ্ধ ডিম খেয়ে থাকবেন।
মনে রাখবেন, মাস শেষে বেতন পেয়েই তা মুঠ করে দেশে পাঠিয়ে দিবেন না, নিজের ওপর জুলুম করবেন না। আগে নিজের পেটকে দেন, নিজের রুহকে দেন, ভালো খাবার খান। তাহলেই আপনি ভালো থাকবেন ও ভালো করে কাজ করে টাকা আয় করে অন্য সবার মুখে হাসি ফুটাতে পারবেন।
ভালো থাকুন, আপনারা। দুধে ভাতে থাকতে না পারলেও অন্তত ভরা পেটে থাকুন।"
—লেখক: বিল্লাল হোসাইন, টোকিও, জাপান, ২৯.৮.২৬
Wednesday, August 26, 2026
গান মানুষকে সভ্য করে, জেমসকে না...!
ইয়াং পোলাপানরা এটা করেছে...এইটা কোন বিষয় না...জরিমানার ২০০ ডলার নট আ বিগ ডিল... হেন-তেন!
Monday, August 24, 2026
যাহা বলিব সত্য বলিব।
Saturday, August 22, 2026
তমিজ—বেতমিজ!
আমার পিশাচ এবং পিচাশ গুলিয়ে যায়! কিন্তু পিচাই নিয়ে সমস্যা নেই—সুন্দর পিচাইয়ের নাম কে না জানে! আমরা যেমন ছাগল-সাইকেল বেঁধে রাখি তেমনি সুন্দর পিচাই জেটপ্লেন বেঁধে রাখে—কখন কোথায় যাওয়া লাগে। তার মাথার দাম কত টাকা সে নাহয় বাদই দিলাম। কিন্তু, একটা কিন্তু থেকে যায়...!
এই যে আরেকটা। বেতমিজ!
Friday, August 21, 2026
কতদিন একটা জানোয়ার দেখি না!
সাবেক মন্ত্রী দিপু মনির স্বামী মারা গেছেন। তার মেয়ে মাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন নিয়ে পাগলের মত এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন।





















