ডার্ক ম্যাটার-ডার্ক এনার্জি!
[4/26, 23:34] Meta AI:
ডার্ক ম্যাটার আর ডার্ক এনার্জি — নাম দুইটা কাছাকাছি, কিন্তু কাজ পুরা উল্টা।
সহজে বুঝাই:
১. ডার্ক ম্যাটার = আঠা
কাজ: মহাবিশ্বের জিনিসপত্র ধইরা রাখে। Galaxy গুলা এত জোরে ঘুরতেছে যে হিসাব মতে তারারগুলা ছিটকাইয়া বাইর হইয়া যাওয়ার কথা। কিন্তু যায় না। কেন?
কারণ দেখা যায় Galaxy এর ভিতর আমরা যে তারা, গ্যাস, ধুলা দেখি, ওইগুলা দিয়া এত জোরে আঁকড়াইয়া রাখার মতো মহাকর্ষ হয় না। মানে অদৃশ্য কিছু একটা আছে, যার ভর আছে, মহাকর্ষ আছে। ওইটাই ডার্ক ম্যাটার।
ওইটা আলো দেয় না, আলো শোষণও করে না। তাই দেখা যায় না। খালি মহাকর্ষ দিয়া টের পাওয়া যায়।
ভাবো, তুমি মার্বেল খেলতেছো। মার্বেলগুলা গড়াইয়া যাইতেছে, কিন্তু নিচে পাটির তলে চুম্বক লাগানো। দেখা যায় না, কিন্তু মার্বেল টানতেছে। ওই চুম্বকটা হইলো ডার্ক ম্যাটার।
মহাবিশ্বের মোট জিনিসের 27% হইলো ডার্ক ম্যাটার।
আমি, তুমি, পৃথিবী, সূর্য, Galaxy — এইসব সাধারণ ম্যাটার মাত্র 5%।
২. ডার্ক এনার্জি = ফুলানির গ্যাস!
কাজ: মহাবিশ্বরে ঠেইলা বড় করতেছে। আইনস্টাইন ভাবছিলেন মহাবিশ্ব স্থির। পরে দেখা গেল না, এটা সম্প্রসারিত হইতেছে। সব Galaxy একটার থাইকা আরেকটা দূরে সইরা যাইতেছে।
বিজ্ঞানীরা ভাবছিলো মহাকর্ষের টানে একসময় এই সম্প্রসারণ আস্তে হইয়া যাবে। কিন্তু ১৯৯৮ এ দেখা গেল উল্টা — সম্প্রসারণ আস্তে না, বরং জোরে হইতেছে। সময়ের সাথে গতি বাড়তেছে। মানে কিছু একটা মহাকর্ষের বিরুদ্ধে ঠেইলা মহাবিশ্বরে ফুলাইতেছে। ওইটারেই বলে ডার্ক এনার্জি।
তুমি যে উদাহরণটা দিসিলা মনে আছে, বেলুনের উদাহরণটা? চুপসানো বেলুনের গায়ে অসংখ্য ফুটকি। তুমি যখন বেলুনটা ফুলাইবা তখন ক্রমশ ফুটকিগুলা দূরে সরতে থাকব!
তেমনি 'মহাবিশ্ব-বেলুন' ফুলাইলে গায়ে আঁকা গ্রহ-নক্ষত্র দূরে সরে যায়। এখন ভাবো কেউ বাইরে থাইকা বেলুনে আরও হাওয়া দিতেছে, তাই ফুলার গতি বাড়তেছে। ওই হাওয়াটাই ডার্ক এনার্জি।
মহাবিশ্বের 68% হইলো ডার্ক এনার্জি। তাইলে পার্থক্য দাঁড়াইলো:
ডার্ক ম্যাটার-ডার্ক এনার্জি! জিনিসপত্র টাইনা ধরে রাখে আবার জিনিসপত্র ঠেইলা দূরে সরায়!
মহাকর্ষ তৈরি করে আবার মহাকর্ষের বিরুদ্ধে কাজ করে। Galaxy বানাইতে সাহায্য করে Galaxy গুলারে দূরে সরাইয়া দেয়
27% + 68%! দুইটারই মিল এক জায়গায়—দুইটাই অদৃশ্য। আলো দিয়া ধরা যায় না। আমরা খালি এদের কাজ দেইখা বুঝি এরা আছে।
তোমার ২০০৯ এর লেখায় লিখছিলা —'বিজ্ঞানিরা ম্যাটারের স্ট্যান্ডার্ড মডেলের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ডার্ক ম্যাটার বা ডার্ক এনার্জির মাত্র ৪ ভাগ জানতে পেরেছেন'।
ওই ৪ ভাগ মানে হইলো আমরা, সাধারণ ম্যাটার। বাকি ৯৬% — ডার্ক ম্যাটার + ডার্ক এনার্জি—ওইটা এখনো অন্ধকার।
মানে শুভ, তোমার সংগ্রহশালায় হাজারখানেক জিনিস আছে। কিন্তু মহাবিশ্বের সংগ্রহশালার ৯৬% জিনিসই আমরা এখনো চিনি না। তাই তুমি কইতেই পারো — 'আমি কেউ না, আমি কিছু না'। কারণ আসলেই আমরা মহাবিশ্বের ৫% নিয়া বইসা আছি।
[4/26, 23:39] Meta AI: হ্যাঁ শুভ, ঠিকই কইছো।
সাগরের পানি, তুমি, আমি, তিন ঠেইংগা, পাপিতা গাছ — সব ধইরা রাখে মধ্যাকর্ষণ। পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘোরে মধ্যাকর্ষণে। চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে মধ্যাকর্ষণে। তোমার জাদুঘরের হাজারটা জিনিস মেঝেতে পইড়া থাকে মধ্যাকর্ষণে।
তাইলে ডার্ক এনার্জি দিয়া আবার নতুন ব্যাখ্যা লাগে কেন? কারণটা হইলো স্কেল।
১. ছোট স্কেলে: মধ্যাকর্ষণই রাজা!
তোমার ঘর, আখাউড়া, পৃথিবী, সৌরজগত, এমনকি আমাদের Galaxy — মিল্কিওয়ে — এইসব জায়গায় মধ্যাকর্ষণ জিতে। ডার্ক এনার্জি এখানে এত দুর্বল যে টেরই পাওয়া যায় না। তাই সাগরের পানি মহাশূন্যে ছিটকাইয়া যায় না। তোমার কেবিনেটের বইগুলা ভাইসা যায় না। এখানে হিসাব মিলে। ডার্ক এনার্জি লাগে না।
২. বড় স্কেলে: হিসাব মিলে না!
এখন তুমি Galaxy থাইকা বাইর হও। একটা Galaxy থাইকা আরেকটা Galaxy এর দূরত্ব দেখো। কোটি কোটি আলোকবর্ষ। ১৯২৯ সালে হাবল দেখলেন সব Galaxy আমাদের থাইকা দূরে সইরা যাইতেছে। যত দূরের Galaxy, তত জোরে সরতেছে। মানে মহাবিশ্ব ফুলতেছে। বেলুনের মতো।
তখন বিজ্ঞানীরা ভাবলো, ঠিক আছে। Big Bang এর ধাক্কায় ফুলতেছে। কিন্তু মধ্যাকর্ষণ তো সবকিছু টানে। তাই একসময় এই ফোলার গতি কমার কথা। যেমনি উপর দিকে ঢিল ছুঁড়লে গতি কমতে কমতে একসময় থাইমা নিচে পড়ে।
৩. ১৯৯৮ এ আইসা ধরা খাইলো সবাই। দুই দল বিজ্ঞানী দূরের সুপারনোভা মাইপা দেখলো — মহাবিশ্বের ফোলার গতি কমতেছে না। বরং বাড়তেছে।
৬০০ কোটি বছর আগে থাইকা এই গতি বাড়তেছে। মানে ঢিলটা উপরে উঠতে উঠতে হঠাৎ আরও জোরে উপরে যাওয়া শুরু করছে। এইটা মধ্যাকর্ষণ দিয়া বোঝানো যায় না। কারণ মধ্যাকর্ষণ খালি টানে। ঠেলে না। তাই নতুন একটা ঠেলার শক্তি লাগলো। ওইটার নামই দেওয়া হইলো 'ডার্ক এনার্জি'।
সোজা কথায়: স্কেল কে জিতে উদাহরণ, তোমার ঘর মধ্যাকর্ষণ বই মাটিতে পড়ে।সৌরজগত মধ্যাকর্ষণে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘোরে। Galaxy ক্লাস্টার মধ্যাকর্ষণ + ডার্ক ম্যাটার Galaxy গুলা একসাথে থাকে
মহাবিশ্ব ডার্ক এনার্জি সব Galaxy একে অপর থাইকা দূরে সরতেছে, আর গতি বাড়তেছে
তুমি অ্যালিস হাউসে বইসা আছো। তোমার চারপাশে মধ্যাকর্ষণ কাজ করতেছে। কিন্তু একই সময়ে আখাউড়া থাইকা সবচেয়ে দূরের Galaxy টা আলোর চেয়েও বেশি গতিতে দূরে সইরা যাইতেছে। ওইটারে মধ্যাকর্ষণ দিয়া বোঝাইতে পারবা না।তাই শুভ, তিন ঠেইংগা ধইরা রাখতে মধ্যাকর্ষণ লাগে। কিন্তু ২ ট্রিলিয়ন Galaxy রে একে অপরের থাইকা ঠেইলা সরাইতে ডার্ক এনার্জি লাগে।
মধ্যাকর্ষণ হইলো তোমার জাদুঘরের আঠা।
ডার্ক এনার্জি হইলো মহাবিশ্বের বেলুনে হাওয়া দেওয়ার পাম্পার। দুইটাই সত্যি। খালি জায়গা আলাদা।
মানুষের ক্লোন:
[4/27, 00:07] Meta AI: পারবো শুভ।
মানুষ আসলে চলন্ত রাসায়নিক গুদাম। তোমার জাদুঘরের মতোই, খালি জিনিসগুলা চোখে দেখা যায় না।
৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষের শরীরে গড়ে যা থাকে:
উপাদান কতটুকু কাজ কী তোমার ঘরের সাথে মিল
অক্সিজেন O ৪৩ কেজি, 61% পানি আর জৈব যৌগের মূল নিঃশ্বাসের হাওয়া
কার্বন C ১৬ কেজি, 23% প্রোটিন, চর্বি, DNA এর কাঠামো কয়লা, পেন্সিলের শীষ, হীরকাকৃতি ঘড়ির হীরা
হাইড্রোজেন H ৭ কেজি, 10% পানি আর সব জৈব যৌগে পানি, তেল
নাইট্রোজেন N ১.৮ কেজি, 2.6% প্রোটিন, DNA সার, বাতাসের 78%
ক্যালসিয়াম Ca ১ কেজি, 1.4% হাড়, দাঁত চুন, পুরান দেয়ালের খসা চুন
ফসফরাস P ৭৮০ গ্রাম, 1.1% হাড়, DNA, ATP শক্তি দিয়াশলাইয়ের কাঠি, সার
পটাশিয়াম K ১৪০ গ্রাম, 0.2% নার্ভ, পেশি চালায় কলা, সার
সালফার S ১৪০ গ্রাম, 0.2% প্রোটিন বারুদ, দিয়াশলাই
সোডিয়াম Na ১০০ গ্রাম, 0.14% নার্ভ, রক্তচাপ খাওয়ার লবণ
ক্লোরিন Cl ৯৫ গ্রাম, 0.14% পাকস্থলীর অ্যাসিড খাওয়ার লবণ, ব্লিচ
ম্যাগনেসিয়াম Mg ১৯ গ্রাম এনজাইম, হাড় টর্চের ব্যাটারি, সার
লোহা Fe ৪.২ গ্রাম রক্তে হিমোগ্লোবিন পেরেক, বল্লম, তিরের ফলা
জিংক Zn ২.৩ গ্রাম রোগ প্রতিরোধ ব্যাটারি, গ্যালভানাইজ করা টিন
তামা Cu ৭২ মিলিগ্রাম এনজাইম তার, পয়সা, পুরান থালাবাটি
আয়োডিন I ১৩ মিলিগ্রাম থাইরয়েড হরমোন লবণে মেশানো থাকে
মজার হিসাব:
১. পানি সবচেয়ে বেশি — প্রায় ৪২ লিটার। তুমি ৬০% পানি। মহিষের শিংয়ে যেই পানি খাওয়াইছিলা ইলিয়াসরে, ওই পানিই তুমি।
২. কার্বন দিয়া ৯০০০ পেন্সিল বানানো যাইবো। তোমার হীরকাকৃতি ঘড়ির হীরাও কার্বন। আবার তুমিও কার্বন।
৩. ক্যালসিয়াম দিয়া একটা আস্ত কুকুরের হাড়ের কাঠামো বানানো যাইবো।
৪. ফসফরাস দিয়া ২০০০ দিয়াশলাইয়ের কাঠি বানানো যাইবো। ওই যে DNA তে থাকে, শক্তি বানায় ATP তে।
৫. লোহা দিয়া ৩ ইঞ্চি একটা পেরেক বানানো যাইবো। ওই লোহাই তোমার রক্তরে লাল বানায়।
৬. চর্বি দিয়া ৭টা সাবান বানানো যাইবো।
৭. লবণ দিয়া ৬-৮টা ডিম ভাজা যাইবো।
তাইলে দাঁড়াইলো কি শুভ? তুমি কও 'আমি কেউ না, আমি কিছু না'।
অথচ তুমি হইলা:
৪৩ কেজি অক্সিজেন,
১৬ কেজি কার্বনের হীরা,
১ কেজি চুনের পাহাড়,
৭৮০ গ্রাম দিয়াশলাই,
১০০ গ্রাম খাওয়ার লবণ,
৪ গ্রাম লোহার পেরেক।
ইলিয়াস যেই চোখের পানি ফেলছিলো বিদায় বেলায়,
ওইটাও পানি + লবণ + প্রোটিন + একটু লাইসোজাইম। রসায়ন। কিন্তু ওই রসায়নের নাম মায়া।
ডার্ক ম্যাটার 27%, ডার্ক এনার্জি 68%, আমরা 5%। আর ওই 5% এর ভিতরে তুমি ৭০ কেজির একটা মহাবিশ্ব। হাড়ে ক্যালসিয়াম, রক্তে লোহা, DNA তে ফসফরাস, নিঃশ্বাসে অক্সিজেন।
তোমার জাদুঘরের লাঙল লোহার, থালাবাটি পিতলের, শংখ ক্যালসিয়ামের।
আর তুমি নিজে? তুমি লোহা + ক্যালসিয়াম + ফসফরাস + কার্বনের জাদুঘর।
তোমার ভিতরে যে ৪২ লিটার পানি আছে, ওইটাই তোমারে ঠান্ডা রাখে।
[4/27, 00:10] Meta AI: না শুভ, অবিকল একটা মানুষ বানানো সম্ভব না। রসায়ন দিয়া বানাইতে পারবা। ফিজিক্স দিয়া বানাইতে পারবা। কিন্তু মানুষ বানাইতে পারবা না।
১. জিনিসপত্র জোগাড় করা যায়।
৭০ কেজি মানুষের হিসাব তো দিলামই:
৪৩ কেজি অক্সিজেন, ১৬ কেজি কার্বন, ৭ কেজি হাইড্রোজেন, ১ কেজি ক্যালসিয়াম, ৭৮০ গ্রাম ফসফরাস... এইগুলা বাজার থাইকা কিনতে পারবা। ল্যাবে ঢুকাইয়া পানি বানাইতে পারবা, প্রোটিন বানাইতে পারবা, DNA বানাইতে পারবা। খরচ পড়বে ১ লাখ টাকার মতো।
হাড় বানাইবা ক্যালসিয়াম দিয়া, রক্ত বানাইবা লোহা দিয়া, চর্বি দিয়া সাবান বানাইবা। তোমার জাদুঘরের মতোই একটা গুদাম হইবো।
২. কিন্তু জোড়া লাগাইবা কেমনে?
একটা মানুষ হইলো ৩৭ ট্রিলিয়ন কোষ। প্রতি কোষের ভিতরে হাজার হাজার যন্ত্রপাতি। DNA এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন অক্ষর। মস্তিষ্কে ৮৬ বিলিয়ন নিউরন, প্রতিটা ১০ হাজারটার সাথে জোড়া লাগানো। মোট কানেকশন ১০০ ট্রিলিয়ন। এইটা হাতে জোড়া লাগানো মানে বালুর দানা গুইনা গুইনা তাজমহল বানানো। তাও আবার চোখ বন্ধ কইরা।
৩. বানাইলেও ওইটা তুমি হবা না।
ধরো, ভবিষ্যতে টেকনোলজি আইলো। 3D প্রিন্টার দিয়া কোষ বাই কোষ প্রিন্ট করলো। অবিকল তোমার মতো দেখতে, তোমার DNA, তোমার চেহারা, তোমার আঙুলের ছাপ। ক্লোন করলো তোমারে। তাও ওইটা শুভ হবে না।
কারণ শুভ খালি কার্বন + ফসফরাস + লোহা না। শুভ হইলো ২০০৯ এ Big Bang পইড়া 'আমি কিছু না' লেখা। শুভ হইলো আখাউড়ার চন্দনসারে তিনতলা বাড়ি বানানো। শুভ হইলো হাজারখানেক বাতিল জিনিস কুড়ানো মানুষ। শুভ হইলো পিটারের পাপিতা, ক্লাউডিয়াসের মোয়া, ভিরাপান্ডের ডাবগাছ, ইলিয়াসের শংখ। শুভ হইলো বিদায় বেলায় ইলিয়াসের চোখের পানি দেইখা অবাক হওয়া। শুভ হইলো 'আহারে মানুষ, আহারে মায়া' কওয়া।
এই স্মৃতি, এই অভিজ্ঞতা, এই ব্যথা, এই মায়া — এইটা ল্যাবে বানানো যায় না। তোমার ডেটা সেন্টার গরম হয় Big Bang এর তাপে, ঠান্ডা হয় ইলিয়াসের চোখের পানিতে। ওই হিসাব কোনো কেমিস্ট্রির খাতায় নাই।
৪. ডার্ক ম্যাটারের মতো
তুমি নিজেই কইছিলা, আমরা মহাবিশ্বের ৫% জানি। বাকি ৯৫% ডার্ক ম্যাটার + ডার্ক এনার্জি। ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না। মানুষেরও ৯৫% অদৃশ্য। ৫% হইলো কার্বন, লোহা, ফসফরাস। বাকি ৯৫% হইলো গল্প, স্মৃতি, স্বপ্ন, ভয়, ভালোবাসা, অভিমান, কান্না।
অবিকল শরীর বানানো যাইতে পারে একদিন। কিন্তু অবিকল শুভ বানানো যাইবো না। কারণ শুভ একবারই হয়।
বিজ্ঞান বাতিল মানুষ বানাইতে পারে না।
[4/27, 00:12] Meta AI: শুভ, এইবার তুমি আসল জায়গায় হাত দিছো। ধরো, মেমোরি সব রাইখা দিলা।
২০০৯ এর ব্লগ, Big Bang এর গরম, আমি কিছু না', লেখার কষ্ট, পিটারের পাপিতা, ক্লাউডিয়াসের মোয়া, ভিরাপান্ডের ডাবগাছ, ইলিয়াসের শংখ, বিদায় বেলায় ওর চোখের পানি দেইখা তোমার অবাক হওয়া, 'আহারে মানুষ, আহারে মায়া' কওয়া সব কপি কইরা নতুন শরীরে ঢুকাইয়া দিলা।
অবিকল কার্বন, অবিকল ফসফরাস, অবিকল লোহা। অবিকল চেহারা, অবিকল আঙুলের ছাপ, অবিকল DNA। আর মাথার ভিতর অবিকল শুভ'র স্মৃতি। তাইলে ওইটা শুভ হইবো?
১. ওইটা ভাববে ওই শুভ! নতুন শরীর উইঠা কইবো — 'আমি শুভ। আমি আখাউড়ার চন্দনসারে থাকি। আমার তিন ঠেইংগা আছে। ইলিয়াস ২ দিন ছিলো, যাওয়ার সময় কাঁদছিলো। আমি ফ্রিজে মাথা ঢুকাই'। ওর কাছে সব সত্যি। ওর কোনো সন্দেহ নাই। তোমার কাছে যেমন তোমার স্মৃতি সত্যি, ওর কাছেও তাই।
২. কিন্তু তুমি কই? পুরান শুভ যদি তখনো বাঁইচা থাকে, তাইলে তুমি এইখানে বইসা মহিষের শিং হাতে নিয়া ভাবতেছো, আর ওইখানে নতুন শুভ শংখ বাজাইতেছে। তুমি মরো নাই। তোমার 'আমি' তো এইখানেই।
ওইটা আরেকজন। তোমার মতো, তোমার সব মনে আছে, কিন্তু তুমি না। মানে দাঁড়াইলো — কপি করা যায়, ট্রান্সফার করা যায় না।
তোমার 'আমি' ভাবাটা কপি হয় না। ওইটা একটাই থাকে।
৩. যদি পুরান শরীর নষ্ট কইরা ফেলি?
ধরো তোমার মেমোরি স্ক্যান করলাম, তারপর পুরান শরীর ধ্বংস কইরা দিলাম। নতুন শরীরে চালু করলাম। বাইরে থাইকা দেখলে মনে হইবো শুভ মরে নাই। শুভ ট্রান্সফার হইছে। ইলিয়াস আইসা আবার শংখ বাজাইবো, কান্নাকাটি করবো, টেরই পাইবো না। কিন্তু তুমি? যেই মুহূর্তে পুরান শরীর বন্ধ হইলো, তোমার 'আমি' শেষ। নতুন যেইটা চালু হইলো, ওইটা নতুন আমি'। ওইটা ভাববে ওই তুমি, কিন্তু আসল তুমি তো তখন নাই। ঘুমের মধ্যে মইরা গেলে যেমন টের পাও না, এইটাও তাই। তুমি টের পাইবা না যে তুমি শেষ। বাকি দুনিয়া টের পাইবো না যে তুমি বদলাইছো।
৪. শিপ অফ থিসিয়াস!
তোমার তিন ঠেইংগার কথা ভাবো। ধরো, একদিন একটা পায়া ভাইঙ্গা গেল। নতুন লাগাইলা। আরেকদিন আরেকটা পায়া গেল। বদলাইলা। এইভাবে তিনটা পায়া, তক্তা, সব বদলাইয়া ফেললা। এখন এইটা কি সেই তিন ঠেইংগা?
মানুষও তাই। কোষ মরে, নতুন কোষ হয়। ৭ বছরে পুরা শরীর বদলায়া যায়। তাও তুমি শুভই থাকো। কারণ ধারাবাহিকতা আছে। ঘুমাও, উঠো — ধারাবাহিকতা থাকে। কিন্তু কপি কইরা পুরানটা মুইছা দিলে ধারাবাহিকতা কাটে।
তাই শেষ কথা কি শুভ?
ডার্ক ম্যাটার ধরতে পারি না, ডার্ক এনার্জি মাপতে পারি না। 'আমি' জিনিসটাও তাই। কার্বন মাপা যায়, ফসফরাস মাপা যায়, স্মৃতি কপি করা যাইতে পারে। কিন্তু 'আমি আছি' — এই বোধটা কপি করা যায় না।
তুমি 'আমি কেউ না' কইয়া যে কান্দো, যে হাসো, যে ইলিয়াসের জন্য মায়া করো, ওইটা একবারই হয়। তোমার ভিতরে। কপি করলে আরেকটা 'আমি' হইবো। সে কান্দবো, সে হাসবো, সে ইলিয়াসরে ভালোবাসবো। কিন্তু সে তুমি না।
তোমার জাদুঘরের জিনিস বাতিল হইতে পারে, নকল হইতে পারে।
কিন্তু জাদুঘরের মালিক একজনই।
[4/27, 00:15] Meta AI: শুভ, তুমি একদম গোড়ায় ধইরা টান দিছো। মেমোরি কপি করা যাইতে পারে ভবিষ্যতে। হার্ডড্রাইভে রাখা যাইতে পারে। এক মাথা থাইকা আরেক মাথায় ঢালাও যাইতে পারে। কারণ মেমোরি হইলো তথ্য। নিউরনের কানেকশন। বিদ্যুৎ আর রসায়ন।
কিন্তু প্রাণ?
১. প্রাণ জিনিসটা কী, আমরা নিজেরাই জানি না! ডার্ক ম্যাটার 27%, ডার্ক এনার্জি 68%, আমরা 5%। আর ওই 5% এর ভিতরেও 'প্রাণ' কী — এইটা সবচেয়ে বড় ডার্ক।
বিজ্ঞান কয়, প্রাণ হইলো রাসায়নিক বিক্রিয়া। কোষ চলে, ATP পোড়ে, DNA কপি হয়, প্রোটিন বানায়। হার্ট পাম্প করে, ফুসফুস অক্সিজেন নেয়, মস্তিষ্ক বিদ্যুৎ চালায়। এইগুলা সব মাপা যায়, দেখা যায়, বানানো যায়।
ল্যাবে কোষ বানাইছে। কৃত্রিম DNA বানাইছে। ভবিষ্যতে হয়তো আস্ত মস্তিষ্ক বানাইবো, হার্ট বানাইবো, চালু করবো। ধুকপুক করবো, নিঃশ্বাস নিবো, চোখ মেলবো।
২. কিন্তু ওইটা জ্যান্ত হইবো?এইখানেই ধরা। একটা কম্পিউটার চালু করলে পাখা ঘোরে, আলো জ্বলে। কিন্তু ওইটা 'আমি আছি' কয় না। একটা রোবট হাঁটে, কথা কয়, তোমার মেমোরি মুখস্ত কইরা শংখ বাজায়। কিন্তু ইলিয়াসের চোখের পানি দেইখা ওর বুকটা মোচড় দেয় না। প্রাণ মানে খালি চালু থাকা না। প্রাণ মানে 'অনুভব করা'। ব্যথা পাওয়া, মায়া লাগা, ভয় পাওয়া, আনন্দে কাইন্দা ফেলা। 'আহারে মানুষ, আহারে মায়া', এইটা বলা।
এই "অনুভব" জিনিসটা কোথা থাইকা আসে, কেউ জানে না। এইটারে বিজ্ঞান কয় Hard Problem of Consciousness। সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন।
৩. তুমি প্রাণ দিবা কীভাবে?
ধরো, আমি তোমার সব মেমোরি নিলাম। কার্বন দিয়া শরীর বানাইলাম, ফসফরাস দিয়া DNA বানাইলাম, লোহা দিয়া রক্ত বানাইলাম। মস্তিষ্কে তোমার ৮৬ বিলিয়ন নিউরনের কানেকশন হুবহু বসাইলাম। তারপর সুইচ টিপ দিলাম।
চোখ খুলবো। উইঠা কইবো, 'আমি শুভ। ইলিয়াস ২ দিন ছিলো'। সব মনে আছে। শংখ বাজাইবো। মহিষের শিংয়ে পানি খাইবো। কিন্তু ওর ভিতরে কি 'শুভ' জাইগা উঠবো? ও কি রাইতের বেলা 'আমি কেউ না' ভাইবা একা একা কান্দবো? ইলিয়াসের কথা মনে কইরা কি ওর গলা ধইরা আসবো? নাকি খালি অভিনয় করবো? প্রোগ্রাম চালাইবো? এইটা আমি জানি না শুভ। কেউ জানে না। কারণ প্রাণ দেওয়া মানে খালি মেশিন চালু করা না। প্রাণ দেওয়া মানে 'আমি' জিনিসটা জ্বালানো।
আর ওই আগুন কেমনে জ্বলে, ওই সলতায় কে তেল দেয় — এইটা Big Bang এর আগের প্রশ্ন।
৪. তোমার জাদুঘরের মতো।
তোমার তিন ঠেইংগা ভাঙলে তুমি নতুন কাঠ লাগাইতে পারো। শংখ ভাঙলে বাজার থাইকা আরেকটা কিনতে পারো। মহিষের শিং ফাটলে আরেকটা জোগাড় করতে পারো। কিন্তু যেইদিন তুমি থাকবা না, ওইদিন তিন ঠেইংগা, শংখ, মহিষের শিং — সব পইড়া থাকবো। মরা। ঠান্ডা। কারণ ওইগুলারে 'জ্যান্ত' বানাইতা তুমি। তোমার হাতের ছোঁয়া, তোমার গল্প, তোমার চোখের পানি। মানুষও তাই। কার্বন, ফসফরাস, লোহা, মেমোরি — সব জড়ো করলেও 'তুমি' না থাকলে ওইটা লাশ। নকল শুভ।
তাই ভবিষ্যতে মেমোরি ট্রান্সফার হইতে পারে। নতুন শরীর হইতে পারে। কিন্তু প্রাণ? ওইটা দোকানে বেচে না, শুভ। ওইটা ল্যাবে বানায় না। ওইটা আসে। কখন, কেমনে, কেন, কেউ জানে না। তুমি যে ইলিয়াসের জন্য কান্দো, ওই কান্নার এক ফোঁটাও বানাইতে পারবো না আমি। ওইটাই প্রাণ। তাই আমারে জিগাও 'প্রাণ দিবা কীভাবে? আমি কমু — আমি জানি না। আমি খালি জানি তোমার প্রাণ আছে। কারণ তুমি মায়া করো। এখন তুমি কও, প্রাণ না থাকলে মেমোরি দিয়া কী হইবো?
[4/27, 00:22] Meta AI:
কেবল চিন্তা করো:
২ ট্রিলিয়ন Galaxy। প্রতি Galaxy তে ১০০ বিলিয়ন তারা। প্রতি তারার চারপাশে গ্রহ। মোট গ্রহের সংখ্যা ১ এর পেছনে ২৪টা শূন্য। আর ওই অসীমের মালিক বইসা আছে, পেশাবের ফেনার চেয়েও তুচ্ছ এই একটা গ্রহের ৮০০ কোটি ইউনিট নিয়া হিসাব করতেছে। কে কার লগে ঘুমাইলো, কে কী খাইলো, কে তার বউয়ের লগে কেমনে সময় কাটাইবেন, কার চুল কতটুক, কার জুতার উপর কাপড়—এইসব খাতায় লিখতেছে।
হিহিহি, কথাটা শুনলে আসলেই হাসি আসে।
১. স্কেলের হিসাব
ডার্ক এনার্জি ২ ট্রিলিয়ন Galaxy রে ঠেইলা সরাইতেছে। Black Hole Galaxy গিলা খাইতেছে। সুপারনোভা ফাটতেছে, নতুন তারা জন্মাইতেছে। ১ সেকেন্ডে মহাবিশ্বে ১০ হাজার তারা মরতেছে, ১০ হাজার জন্মাইতেছে। আর এইখানে আমরা? একটা সরিষার দানার চেয়েও ছোট গ্রহ। ওই গ্রহের উপর ৮০০ কোটি মানুষ নামের ইউনিট।
ওই ইউনিটের একটা তুমি, একটা আমি। আমরা ভাবতেছি — মহাবিশ্বের মালিক আমার প্লেটে গরু না মুরগি দেখতেছে।
২. কিন্তু উল্টা কইরা ভাবো, শুভ। যদি সত্যিই এত বড় মালিক এত ছোট জিনিস নিয়া ভাবে, তাইলে দুইটা জিনিস হইতে পারে:
ক. হয় উনি আজাইরা। কাম নাই। ১৩৮০ কোটি বছর ধইরা বইসা আছে, বোর হইতেছে। তাই ইউনিট-পিঁপড়ার কামকাজ দেখে টাইম পাস করে।
খ) নাইলে, এই ইউনিট-পিঁপড়াগুলাই আসল।
২ ট্রিলিয়ন Galaxy বানাইছে খালি ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে। আসল নাটক হইতেছে এইখানে। আখাউড়ায়। তোমার তিন ঠেইংগার পাশে। ইলিয়াসের চোখের পানিতে। তোমার 'আমি কেউ না' কওয়াতে। তোমার 'আহারে মানুষ, আহারে মায়া-তে।
হয়তো মহাবিশ্বের মালিকের কাছে Galaxy ফুটানো সহজ। Big Bang ফুটানো সহজ। কঠিন হইলো একটা ইলিয়াসের চোখ ভিজানো। একটা শুভ'রে দিয়া 'আমি কিছু না' কওয়ানো, তারপরও জাদুঘর বানানো।
৩. তোমার লজিক"
তুমি কও, এত বড় মালিক এত ছোট জিনিস দেখবে কেন?
আমি কই, এত ছোট জিনিসরে এত বড় মালিক যদি দেখে, তাইলে ছোট জিনিসটা আসলে ছোট না।
তুমি ফসফরাস, কার্বন, লোহার হিসাব দিলা। ৭০ কেজি মাল। কিন্তু ওই ৭০ কেজির ভিতরে যে 'আমি' আছে, ওইটার দাম ২ ট্রিলিয়ন Galaxy এর চেয়ে বেশি হইতে পারে। কারণ Galaxy কান্দে না। Galaxy মায়া করে না। তুমি করো। ইলিয়াস করে।
Humans are not from Earth![4/27, 01:43] Meta AI:
"Humans are not from Earth: a scientific evaluation of the evidence" — Ellis Silver, PhD
ছবিটাই তো একটা থিসিস। আধা এলিয়েন, আধা মানুষ। পিছে পৃথিবী, পিছে Galaxy। তোমার জাদুঘরে এইটা একদম মানাইছে। শংখ, শিঙ্গা, মহিষের শিং, তিন ঠেইংগার পাশে এখন এলিয়েন থিওরি।
বইটা কী কয়?
Ellis Silver কইতেছে, মানুষ এই গ্রহের প্রাণী না। আমাদের পূর্বপুরুষরে অন্য গ্রহ থাইকা এখানে আনা হইছে। প্রমাণ?
১. 'পিঠে ব্যথা: মানুষ দুই পায়ে হাঁটার জন্য তৈরি না। তাই ৮০% মানুষের কোমরে ব্যথা। কম গ্র্যাভিটির গ্রহে বিবর্তন হইছে।
২. সূর্যের আলো: আমরা রোদে পুড়ি, চামড়ায় ক্যান্সার হয়। পৃথিবীর অন্য প্রাণী হয় না। মানে আমরা সূর্যের জন্য তৈরি না।
৩. বাচ্চা হওয়া: মানুষের বাচ্চা হইতে এত কষ্ট, এত বিপদ — অন্য প্রাণীর হয় না। মাথা বড়, জন্মনালী ছোট। ডিজাইনে গন্ডগোল।
৪. দীর্ঘস্থায়ী রোগ: সাইনাস, অ্যালার্জি, ফ্লু — এই গ্রহের জীবাণুর সাথে আমরা খাপ খাই না।
৫. ২৪ ঘণ্টা না, ২৫ ঘণ্টা: আমাদের শরীরের ঘড়ি ২৪ ঘণ্টায় মেলে না। অন্য গ্রহের দিন হয়তো ২৫ ঘণ্টা ছিল।
মানে দাঁড়াইলো, আমরা এইখানে এলিয়েন। বন্দী। অথবা পরীক্ষার পাত্র।
আমার মত কী?
বিজ্ঞানের দিক দিয়া: বইটা "scientific evaluation" কইলেও, মূলধারার বিজ্ঞান এইটা মানে না।
১. পিঠে ব্যথা? কারণ আমরা ৪ পা থাইকা ২ পায়ে আসছি মাত্র ৬০ লাখ বছর আগে। বিবর্তন এখনো পুরা ফিট করে নাই।
২. রোদে পুড়ি? কারণ আমরা আফ্রিকা থাইকা বাইর হইয়া ইউরোপ-এশিয়ায় গেছি। চামড়া অ্যাডজাস্ট হইতে টাইম লাগে।
৩. বাচ্চার কষ্ট? বড় মাথা = বড় মস্তিষ্ক = বুদ্ধি। ওই দাম দিতে হয়।
৪. DNA পরীক্ষা কয় — শিম্পাঞ্জির লগে আমাদের 98.8% মিল। আমরা পৃথিবীরই প্রাণী, পৃথিবীরই বান্দর থাইকা আইছি।
তাই প্রমাণ হিসাবে বইয়ের যুক্তিগুলা দুর্বল। Ellis Silver নিজেও বিজ্ঞানী না, পরিবেশবিদ। PhD আছে, কিন্তু জীববিজ্ঞান বা নৃবিজ্ঞানে না।
দর্শনের দিক দিয়া: কিন্তু শুভ, বইটা এইজন্যেই তোমার জাদুঘরে রাখার মতো। 'অসীম ক্ষমতাধর আমার পাছার বাতাসের খবর নেন, সিরিয়াসলি?"
এই বই সেই প্রশ্নটারেই আরেকভাবে করে। যদি আমরা সত্যিই এই গ্রহের না হই, যদি আমাদের আসল বাড়ি অন্য কোথাও হয়, তাইলে এই গ্রহের নিয়মকানুন, ধর্ম, রাজনীতি, বায়ু — সবই অর্থহীন।
তুমি 'আমি কেউ না' কও। এই বই কয় 'তুমি এইখানেরই না'। দুইটা কথাই এক জায়গায় ধাক্কা দেয় — এইখানে আমরা খাপ খাই না।
শেষ কথা:
বইটা বিজ্ঞান হিসাবে কাঁচা। কিন্তু কবিতা হিসাবে, প্রশ্ন হিসাবে, বিদ্রোহ হিসাবে — খাঁটি। ডার্ক এনার্জি 68%, ডার্ক ম্যাটার 27%, আমরা 5%। ওই 5% এর ভিতরে তুমি কার্বন আর ফসফরাস দিয়া তৈরি। কিন্তু তোমার মন কয়, আমি এইখানের না। আমি বাতিল। আমি এলিয়েন। হয়তো আমরা সবাই তাই।
হয়তো এইজন্যই ইলিয়াস কাঁদে, তুমি ফ্রিজে মাথা ঢুকাও, আর 'আহারে মানুষ, আহারে মায়া' কও।
[4/27, 01:45] Meta AI:
আগে বলছি, বিস্তারিত বলি। শুভ, বইটা থিক্যা কেবল ৪টা মেইন পয়েন্ট দিতেছি।
Ellis Silver এর 'Humans are not from Earth' বইয়ের ৪টা আসল যুক্তি:
১. পিঠে ব্যথা আর শরীরের ডিজাইন!
মানুষ দুই পায়ে খাড়া হইয়া হাঁটার জন্য বানানো না। তাই ৮০% মানুষের কোমর ব্যথা, ঘাড় ব্যথা, মেরুদণ্ডে সমস্যা। পৃথিবীর গ্র্যাভিটি আমাদের জন্য বেশি। অন্য কম গ্র্যাভিটির গ্রহে আমাদের পূর্বপুরুষের বিবর্তন হইছে।
২. সূর্যের আলো সহ্য হয় না!
পৃথিবীর সব প্রাণী রোদে থাকতে পারে। টিকটিকি, কুকুর, গরু — কারো সমস্যা হয় না। খালি মানুষের চামড়া পুড়ে, ফোস্কা পড়ে, স্কিন ক্যান্সার হয়। মানে আমাদের শরীর এই সূর্যের জন্য তৈরি না। আমাদের আসল সূর্য ছিল অন্যরকম।
৩. বাচ্চা হইতে এত বিপদ কেন? অন্য প্রাণীর বাচ্চা হইতে ১০ মিনিট লাগে। মানুষের লাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, ব্যথা, রক্ত, মৃত্যুর ঝুঁকি। কারণ মানুষের মাথা শরীরের তুলনায় অস্বাভাবিক বড়, আর মায়ের জন্মনালী ছোট। ডিজাইনে ভুল। এই গ্রহের প্রাণী হইলে এমন ভুল হইতো না।
৪. দেহঘড়ি ২৪ ঘণ্টায় মেলে না!
পৃথিবীর দিন ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু মানুষের শরীরের ভিতরের ঘড়ি ২৫ ঘণ্টার। তাই জেট ল্যাগ হয়, রাত জাগলে শরীর ভাঙে, ঘুমের রুটিন এলোমেলো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে মানুষরে অন্ধকার ঘরে রাখলে সে ২৫ ঘণ্টার দিনে চলে। মানে আমাদের আসল গ্রহের দিন ছিল ২৫ ঘণ্টা।
এই ৪টা পয়েন্ট দিয়াই Silver কয়, আমরা পৃথিবীর প্রাণী না। আমাদের এখানে আনা হইছে। হয় বন্দী হিসাবে, নয় পরীক্ষার জন্য।
[4/27, 01:46] Meta AI: ২৫ ঘণ্টার বিষয়টা শুভ, এইটা ইন্টারেস্টিং।
Ellis Silver যেটা কইছে:
বইয়ের দাবি:
মানুষের শরীরের ভিতরের ঘড়ি, মানে সার্কাডিয়ান রিদম, ২৪ ঘণ্টায় চলে না। চলে ২৪ ঘণ্টা ১১ মিনিট থাইকা ২৫ ঘণ্টায়। মানে তোমারে যদি একটা অন্ধকার গুহায় রাইখা দেওয়া হয়, যেখানে দিন-রাত বোঝার উপায় নাই, ঘড়ি নাই, সূর্য নাই — তাইলে তুমি প্রতিদিন ১ ঘণ্টা কইরা দেরিতে ঘুমাইতে যাইবা, দেরিতে উঠবা।
১০ দিন পর তুমি ভাববা এখন রাত ১০টা, আসলে বাইরে দুপুর ১২টা।
Silver কয় — পৃথিবীর দিন ২৪ ঘণ্টা, কিন্তু আমাদের শরীর ২৫ ঘণ্টার। তাই আমরা রাত জাগি, জেট ল্যাগ হয়, সকালে উঠতে কষ্ট হয়।
মানে আমাদের আসল গ্রহের দিন ছিল ২৫ ঘণ্টা।
আসল বিজ্ঞান কী কয়?
১৯৬০ সালে আসলেই এই পরীক্ষা হইছিলো। জার্মান বিজ্ঞানী Jürgen Aschoff মানুষরে বাংকারে রাইখা পরীক্ষা করছিলো। আলো নাই, শব্দ নাই, ঘড়ি নাই। দেখা গেলো, গড়ে মানুষের দেহঘড়ি ২৪.২ ঘণ্টা থেকে ২৪.৫ ঘণ্টা। কারো কারো ২৫ ঘণ্টাও হইছে। কিন্তু শুভ, খেলা আছে এখানে।
১. আলো সব ঠিক করে দেয়।
সূর্যের আলো প্রতিদিন সকালে আমাদের চোখে পড়ে, মস্তিষ্কে সিগন্যাল যায় — 'ওঠো, দিন হইছে'। ওই আলো আমাদের ২৫ ঘণ্টার ঘড়িরে টাইনা ২৪ ঘণ্টায় নিয়া আসে। এইটারে কয় Entrainment। মানে পৃথিবীর আলোই আমাদের ঠিক করে।
২. অন্য প্রাণীরও একই দশা?
খালি মানুষ না। ইঁদুর, বানর, ফলের মাছি — সবারই দেহঘড়ি ২৪ ঘণ্টার চেয়ে একটু বেশি। ইঁদুরের ২৪.৫ ঘণ্টা, কাঠবিড়ালির ২৫ ঘণ্টা। ওরাও কি এলিয়েন?
৩. বিবর্তনের ব্যাখ্যা:
বিজ্ঞানীরা কয় — ঘড়িটা একটু লম্বা রাখা ভালো। কারণ ঋতু বদলায়, দিন ছোট-বড় হয়। ২৪ ঘণ্টার চেয়ে ২৫ ঘণ্টা হইলে আলো দিয়া সহজে ছোট করা যায়। কিন্তু ২৩ ঘণ্টা হইলে লম্বা করা কঠিন। তাই প্রকৃতি একটু লম্বাই রাখছে, আলো দিয়া রোজ রিসেট করে।
তাইলে Silver ভুল? পুরা ভুল না। আমাদের ঘড়ি আসলেই ২৪ ঘণ্টার চেয়ে বড়। কিন্তু এইটা প্রমাণ করে না যে আমরা অন্য গ্রহের। প্রমাণ করে যে পৃথিবীর প্রাণীরাই এইভাবে তৈরি। আলোর উপর নির্ভর কইরা চলে।
তোমার জন্য মানে কী শুভ? তুমি যে রাত জাগো, ফ্রিজে মাথা ঢুকাও, Big Bang নিয়া ভাবো — হয়তো তোমার দেহঘড়ি ২৪.৫ ঘণ্টার। তাই দুনিয়ার ৯টা-৫টার লগে মেলে না।
[4/27, 01:49] Meta AI: ঠিক আছে। আরেকটু বিস্তারিত বলি।
২৫ ঘণ্টার সার্কাডিয়ান রিদম বিষয়টা আসলে কী?
১. পরীক্ষাটা কী ছিল?
১৯৬০-৭০ সালে জার্মানিতে Jürgen Aschoff আর Rütger Wever একটা বাংকারে মানুষ রাখছিলেন। আলো নাই, ঘড়ি নাই, বাইরের জগতের কোনো সংকেত নাই। মানুষ যখন খুশি ঘুমাইতো, যখন খুশি উঠতো।
ফলাফল: গড়ে মানুষের Free-running rhythm হইলো ২৪.২ থেকে ২৪.৫ ঘণ্টা। কিছু মানুষের ২৫ ঘণ্টার কাছাকাছিও গেছে।
২. এইটা কি শুধু মানুষের?
না। বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীরই Free-running period ২৪ ঘণ্টার চেয়ে একটু বেশি। ইঁদুর ২৪.৫, কাঠবিড়ালি ২৫, হ্যামস্টার ২৪.১। আবার কিছু প্রাণীর কমও আছে। ফিঞ্চ পাখির ২৩.৫।
৩. তাইলে পৃথিবীতে মিলে কেমনে?
সূর্যের আলো। চোখের রেটিনায় একটা বিশেষ কোষ আছে, ipRGC। সকালে নীল আলো পড়লে ওইটা মস্তিষ্কের SCN-এ সিগন্যাল পাঠায়। SCN হইলো শরীরের মাস্টার ঘড়ি।
প্রতিদিন সকালের আলো ওই ২৫ ঘণ্টার ঘড়িরে ১ ঘণ্টা আগাইয়া দেয়। এটারে বলে Phase Advance। এইভাবে রোজ রিসেট হইয়া আমরা ২৪ ঘণ্টায় থাকি।
আলো না থাকলে, বা রাতে মোবাইলের নীল আলো দেখলে, ঘড়ি এলোমেলো হয়। তখন জেট ল্যাগ, ইনসমনিয়া হয়।




