Search

Friday, October 30, 2026

দেওয়ানবাগী, না-না-না, আপনি মারা যেতে পারেন না!

দেওয়ানবাগী পীর মরে গেছেন, সত্যি-সত্যি! আমি বিশ্বাস করি না! কেউ যদি আমার দিকে বন্দুক তাক করে—কেউ যদি আমাকে তোপ দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে চায়, তাও না!

এ আমি বিশ্বাস করি না! আমাদের মত সাধারণ মানুষ যে ৫ মিনিট শ্বাস আটকে রাখতে পারে না পেছন দিয়ে শেষ বাতাস বেরিয়ে যায়—আমাদের মত, সাধারণ মানুষের মত আচরণ দেওয়ানবাগীর  করলে চলবে?
উঠুন পীর, উঠুন! আপনার ড্রাম-সমান পেট নিয়ে।

আপনাদের কি বিশ্বাস হয়, দেওয়ানবাগির ছেলে যখন জেলখানায় আটক ছিলেন তখন তিনি ধমকাচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহকে! 


আহা, এমন অসীম ক্ষমতাধর-কেউ মরেন কেমন করে! কোন স্টাইলে? ইশ-শ, সাধারণ-একটা মানুষের মত ইয়ে দিয়ে বাতাস বেরিয়ে গেল এ-ও কী সম্ভব। বাংলা সিনেমার মত ডায়লগ বলি, 'না-না-আ, এ আমি বিশ্বাস করি না'! 

দেওয়ানবাগি বলছেন, তিনি পীর না পীরের বাপের, তারও বাপের বাপ—তিনি লক্ষ-লক্ষ পীর জন্ম দেন!

দেওয়ানবাগির ওখানে গেলে নাকি রসুলকে দেখা যেত:

আহারে, সময় থাকতে সাধন হলো না—সময় থাকতে কেন গিয়ে রাসুলকে দেখে আসলাম না!

দেওয়ানবাগির এই বক্তব্যের বর্ণনা আমি দিতে পারব না। যার আগ্রহ আছে তিনি এই ভিডিও ক্লিপটা দেখে নেবেন দয়া করে!

আহা, মধু-মধু! 

একটা আরেকটাকে ছাড়িয়ে যায়!

দেওয়ানবাগীর কাছে নবীর জামা আছে এটা অবলীলায় বলছেন, যেটা লোকজনকে নাকি তিনি একজন দেখিয়েছেনও!
৩৩টা উট এবং ৩৩টা উটনির দামে নবী নাকি জামা বানাতেন। 

বটে রে, দেওয়ানবাগী! মিচিও কাকুর মাল্টিভার্সের কথা নাহয় বাদই দিলাম [১]। অল্প কয়েকটা তথ্য শেয়ার করি, হে দেওয়ানবাগী!
০. মাল্টিভার্স হিসাব থেকে বাদ!
১. যেটা আমরা দেখতে পাই, Observable Universe— যার ব্যাস ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ! 
২. এই ১টা ইউনিভার্সের মধ্যে গ্যালাক্সি আছে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন!
৩. এই ২ ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সির মধ্যে আমাদের 'মিল্কিওয়ে' একটা অতি সাধারণ গ্যালাক্সি।
৪. এই অতি সাধারণ ১টা মিল্কিওয়ের মধ্যেই নক্ষত্র আছে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন!
এর মধ্যে সূর্য একটা সাধারণ নক্ষত্র, অতি সাধারণ একটা বামন নক্ষত্র! এখানে সূর্যের দু'পয়সা দাম নাই।
৫. কিন্তু এই ১টা সূর্যের ভেতর পৃথিবী রাখা যাবে ১৩ লক্ষটা!
৬. পৃথিবী নামের এই গ্রহটার আয়তন ৫১ কোটি বর্গকিমি, আর এর মধ্যে বাংলাদেশের আয়তন হচ্ছে, ১,৪৮,৪৮০ বর্গকিমি। মানে গোটা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ হলো মাত্র ০.০২৯%। আবার বাংলাদেশের মধ্যে আপনার অবস্থান, আরামবাগ... মানে থুথু ফেললে অজস্র ছিটার একটা ছিটাও না!
এই অকল্পনীয় মহাবিশ্ব যিনি সৃষ্টি করেছেন—অসীম ক্ষমতাধর, তাঁকে যে-আপনি ধমক দেওয়ার ক্ষমতা রাখন; সেই আপনি ৭০ বছর বয়সে মরতে পারেন না! নো, নেভার...! 
'এ হাইস্যকর, অতি হাইস্যকর'!

আমি নিশ্চিত, আপনি ৭o বছর কোন ছার—আপনি তো বাঁচবেন ৭০০ বছরও না, ৭০০০ বছর, ৭ লাখ বছর, ৭ আলোকবর্ষ...! 
আমরা জানি আপনার মরার কোন সুযোগ নাই। আপনি আছেন আমাদের মাঝেই ...! আমি যখন তাড়াহুড়ায় অফিসে যাব তখন  অজান্তেই হয়তো আপনার পা মাড়িয়ে দেব, খেয়াল করব না! বা পাশের টেবিলে আপনি চুকচুক করে চা খাচ্ছেন আমি হয়তো লক্ষই করব না। কিন্তু আপনি মরে গেছেন এটা আমাকে বিশ্বাস করতে বলবেন না যেন, ভুলেও না!

আলোর গতি ছাড়িয়ে আপনি আসাযাওয়া করেন কিন্তু হয়তো খেয়াল করেননি! বাই দ্য ওয়ে, ক্ষমাপ্রার্থনাপূর্বক, দেওয়ানবাগী, আলোকবর্ষ বিষয়টা আপনি বোঝেন তো? আলোর গতিতে ছুটলে ১ বছরে যতটুকু যেতে পারবেন। মানে প্রতি সেকেন্ডে ২,৯৯,৭৯২, প্রায় ৩ লাখ কিমি গতিতে ১ বছরে যতটুকু যাওয়া যায়!
১৯৭৭ সালে আমরা একটা যান পাঠিয়েছিলাম, বুঝলেন দেওয়ানবাগী। পৃথিবী থেকে পাঠানো সেই যান 'ভয়েজার-১' ছুটছে ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭ সাল থেকে। 
গতি: ১৭ কিমি/সেকেন্ডে (আলোর গতি ২,৯৯,৭৯২/সেকেন্ডে) এখন পর্যন্ত যেতে পেরেছে মাত্র ২৫.৮ বিলিয়ন কিমি (২৫৯০ কোটি কিমি)!
এখনও, আজ পর্যন্ত, ১ আলোকবর্ষ দূরের কথা, মাত্র ১ আলোক-দিনও যেতে পারেনি! রিপিট, আলোক-দিন! ১ বছর হিসাবে ১ দিনও না!
এই তো সামনে, এই বছরে—১৮ নভেম্বর ২০২৬, বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪:১৬ মিনিটে ১ দিন অতিক্রম করবে!
বেয়াদবি নেবেন না, আপনি তো আবার কয়েক আলোকবর্ষ দূরে গিয়ে মুত্র বিসর্জন করে ফিরে আসার ক্ষমতা রাখেন। এসে, তেল চিটচিটে ব্যাগ হাতে কোনও দুর্গন্ধময় বাজারে শোল মাছ কেনেন!
ওহো, ভুলেই গিয়েছিলাম, আপনার মত পীরদের তো আবার নিজ হাতে বাজার করতে হয় না! মুরিদরা সব করে দেয়—রিপিট, সব! ইয়ে-ও! 

আচ্ছে, এটা আবার ভুল বললাম, আপনার কয়েক আলোকবর্ষ দূরে গিয়ে ইয়ে বিসর্জন করতে হবে কেন! আপনার খাওয়া-বর্জ্য ত্যাগ এই সমস্ত হ্যাপা তো কখনও ছিল না। এখনও নাই কারণ আমি বিশ্বাস করি না আপনার মত বিপুল ক্ষমতাধর কারও মৃত্যু হতে পারে!

* আমাদের 'ধর্মের দন্ডটা' যারা ধরে আছেন তারা অবলীলায় পিটিয়ে মেরে ফেলেন শামীম নামের একজন মানসিক অসুস্থ মানুষকে [২], তারা পুড়িয়ে মারে ফেলেন দিপু দাসকে [৩]! (এর পেছনের কারণ হিসাবে আমাদের চুতিয়া বুদ্ধিজীবী শহিদুল আলম আবার এই নিয়ে আমাদেরকে কিচ্ছা শোনান, হাসিনা, জনগণের ক্ষোভ, রেজিম ব্লা-ব্লা-ব্লা!)

যাই হোক, সবিনয়ে জানতে চাই, ওহে, ধর্মের দন্ডধারী লোকজনেরা আপনারা কি দেওয়ানবাগীর গোপন কেশও কেউ স্পর্শ করতে পেরেছিলেন? জ্বী, ঠিক শুনেছেন, গোপন কেশ! কি বললেন, তখন আপনাদের বা সাবালক হন নাই? তা, আপনাদের বাপরা তখন কই ছিলেন? সবাই কী তখন 'কোঁহ-ই-তূর' পর্বতে 'জিকির-আসকার' নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন...!  

১. মিচিও কাকু: https://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_07.html?m=1
২. খুন, শামীম...: https://www.ali-mahmed.com/2026/10/blog-post_23.html?m=1

৩. খুন, দিপু দাস: https://www.ali-mahmed.com/2025/12/blog-post_25.html?m=1

  



Wednesday, October 28, 2026

দেলওয়ার হোসেন সাঈদী-মানিক পশারী বনাম নগ্ন রাষ্ট্র!

সাইদী রাজাকার [+], কি রাজাকার না [++]—পশারী মুক্তিযোদ্ধা কি মুক্তিযোদ্ধা না, সে ভিন্ন আলোচনা।

কিন্তু একটা মানুষকে, রিপিট, একটা মানুষকে দাফন করতে বাধা দেওয়া হয়েছে, জানাজা পড়তে দেওয়া হয়নি! এই অধিকার এই গ্রহের, এই রাষ্টের, রাষ্ট্রের কোনও সন্তানের, সেই সন্তানেরও কোনও-এক রুহানি সন্তানের, কোনও শুয়োরের, কোনও কুকুরের, কোনও-একটা গুয়ে-ভাসা কৃমির, কারও নেই। রিপিট, কারও নেই! আপনি কোনও ধর্মের মানুষকে তাঁর মৃত্যুর পর ধর্মীয় আচারে বাধা দিতে পারেন না! লাউড এন্ড ক্লিয়ার!

খালেদ মুহিউদ্দিনের সাক্ষাৎকার-পর্ব থেকে আমরা যথারীতি তার আঞ্চলিক ভাষার জ্ঞানে আলোকিত হই, এবারও হলাম! তিনি জামায়াতের কোন-এক নেতা রাশেদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন। কোন প্রমাণ না-দেখিয়ে তার বিখ্যাত আঞ্চলিক ভাষায় বলছেন,
'আমি কিন্তু শুনছি...'!

এই হচ্ছে, দুঁদে সাংবাদিকের নমুনা, 'আমি কিন্তু শুনছি...'! খালেদ মুহিউদ্দিন, এর কাজ হচ্ছে, 'গুইসাপ ৭৫০ বছর বাঁচে' [১], এই সমস্ত কাজের প্রশ্নগুলো না-করে এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীকে হুজুর ডেকে-ডেকে মুখে ফেনা তুলে ফেলা। আজব, এর মিনিমাম প্রস্তুতিও থাকে না [*]!

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের ভাইরা-সব সন্ত্রাসী, এই সব মোক্ষম প্রশ্ন না-করে হাবিজাবি কথা বলা প্রকারান্তরে এদেরকে এক প্রকার ছাড় বা বৈধতা দেওয়া।

যাই হোক, খালেদ মুহিউদ্দিনকে নিয়ে আলোচনা করাটা 'শব্দের অপচয়'! মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে গেছি!

এই যে লোকটা, প্রকাশ্যে হ্যান্ড-মাইকে ঘোষণা দিচ্ছে,

"মানিক পশারীকে পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না..."

একে গ্রেফতার করে, আইনের আওতায় আনতে হবে। আমি মুক্তিযোদ্ধা চিনি না, আমি রাজাকার চিনি না—আমি চিনি একজন মানুষকে, আমি চিনি একজন মুসলমানকে, যাকে আপনি জানাজায়-কবরস্থ করতে বাধা দিচ্ছেন।

এই লোক কার পক্ষ নিয়ে এমন ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে! এর টি-শার্টে যে 'মাসুদ সাইদী'র নাম, কে সে—আমার জানার প্র‍য়োজন নেই। তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। হু দ্য হেল ইয়্যু আ' মাসুদ সাইদী—একটা মৃতদেহের প্রতি এই অসম্মান জানাবার সাহস আপনি কোথায় পেলেন?

একটা মৃতদেহ, সব কিছুর ঊর্ধ্বে এখন—তাঁর বিচারের সমস্ত দায় এখন পরম করুণাময়ের হাতে। আর কারও না! সে যেই হোক, যে অপরাধই করুক তাঁর গায়ে একটা ফুলের টোকা দেওয়ার ক্ষমতা কেউ রাখে না! 
যেমনটা আপনি পারেন না গোলাম আজমের লাশে জুতা মারতে! যেমনটা আপনি পারেন না লাশবাহী গাড়িতে থুথু দিতে [২]

আর এটাও কল্পনা করা যায়, একটা সভ্য দেশে আপনি একটা মানুষকে শেষবিদায়ে বাধা দিচ্ছেন!

রাতের আঁধারে মোবাইলের ক্ষীণ আলোয় মানিক পশারীর বোন-মেয়ের কবর খোঁড়ার এই ছবিটা বাংলাদেশের একটা আইকনিক ছবি হয়ে থাকবে। 
মানিক পশারীর মেয়ের বক্তব্য!

মানিক পশারীর বোন-মেয়ে কি বলছেন:

রাষ্ট্র হচ্ছে পিতা—পিতাকে নগ্ন দেখতে ভাল লাগে না! আপনি চোখ বন্ধ করে একটু কল্পনা করুন, আপনার গুরুগম্ভীর, জাদরেল পিতা এটা শেখাচ্ছেন-ওটা শেখাচ্ছেন, কঠিন ধমক দিচ্ছেন কিন্তু গায়ে কাপড় নেই, একটা সুতোও নেই! দৃশ্যটা কল্পনা করে আমি চোখ বন্ধ করে ফেলি...!
... ... ... 
লেখাটা পাবলিশ করার পর মাসুদ সাঈদীর এই বক্তব্য দেখলাম:
এই লোক একজন আইনপ্রণেতা হয়েও, আল্লাহর নামে শুরু করেও, চোখের পলক না-ফেলে কেমনতরো মিথ্যা বলেন তার নমুনা এটা। তিনি মানিক পশারী কি করেছেন, কি করেন নাই এই নিয়ে হা বিতং এক বিরাট কিচ্ছা বলেছেন।
এই কিচ্ছা না-বলে পশারীর দাফন নিয়ে যে অমানবিক, অভূতপূর্ব, অনৈসলামিক কর্মকান্ড ঘটেছে তা নিয়ে বললে মানবিক, শোভন হত!
তিনি বলেছেন, কেউ দাফনে বাধা দেয়নি। ডাহা মিথ্যা কথা! তার নাম লেখা টি-শার্ট গায়ে প্রকাশ্যে মাইকিং হয়েছে:
"পশারীর দাফন পিরোজপুরের মাটিতে হবে না।...করতে দেব না।... " (প্রশাসনকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।)

দিনকে রাত, রাতকে দিন করা, চোখের পলক না-ফেলে মিথ্যা বলা এদের পক্ষেই সম্ভব। মাসুদ সাঈদী, তিনি আবার মানিক পশারী নামের মৃত মানুষটার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ফেরত চাচ্ছেন। এত কিছুর পরও যে মানুষটা প্রকাশ্যে এমন একটা বক্তব্য রাখতে পারেন তিনি অপ্রকাশ্যে কী না করতে পারেন [**]! ধৃষ্টতা বটে!

আচ্ছা, এরা কারা, কোত্থেকে আসে—যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে গোল হয়ে তামাশা দেখতে-দেখতে মানুষ পুড়িয়ে মারে; কবর থেকে লাশ উঠিয়ে এনে পুড়িয়ে দেয়? আহা, এরা, এরাই তো...!

সূত্র:
১. গুইসাপ বাঁচে ৭৫০ বছর:   https://www.ali-mahmed.com/2026/10/blog-post_12.html?m=1

২. লাশবাহী গাড়ি...: https://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_28.html?m=1

*

** কোনও-একটা ভিডিও ক্লিপে দেখলাম মাসুদ সাঈদী তার ধৃষ্টতার আরেক নমুনা দেখাচ্ছেন! তিনি মৃত মানিক পশারীকে নিয়ে বলছেন যে তিনি চোরাকারবারী ছিলেন। ভাল-ভাল! এক বুড়ি আরেক বুড়িকে বলে নানি শ্বাশুড়ি! 
মাসুদ সাঈদী নিজে করছে দু-নম্বুরি:

এ করবে হালাল হোটেল! 

কেন মুক্তিযোদ্ধারা তাঁর জানাজায় শরিক হলেন না!
যে দেশে প্রকাশ্যে মুক্তিযোদ্ধার গালে জুতা মারেন সেই দেশে কী দাগ পড়েছে এদের সেধে অপমানিত হওয়ার!

কেবল একটা ইতরই উল্লসিত হতে পারে একজন মুসলমানের জানাজা খুঁড়ছে বাড়ির মেয়েরা:
পবিত্র কোরান মতে, আগুন ওরফে হারাম খেয়ে-খেয়ে [***] এদের শরীরে এমন 'আগুনে-জোশ' এসে যায় যে, এই নিয়ে উল্লাস করে!

এই আব্বাসী কী জাঁক করেই না বলছে, 'মেয়ে-বোন মিলে দাফন করেছে...আ্যস-আ্যস...'!

এই যে আরেকটা লেকচার ঝাড়ছে! কী চিবিয়ে-চিবিয়েই না বলছে, 'পিরোজপুরে তোমাকে দাফন করতে দেয় নাই...'! 
এরা আলেম, না জালেম! এই হচ্ছে এদের মুখের জিহাদি ভাষা!

এই আরেকটা অসভ্য! এ উল্লাস করছে মেয়ে মানুষ মোবাইলের লাইট টিপে কবর খুড়ছে! 
এ যে কী পরিমাণ অসভ্য তার অজস্র  নমুনার একটা:

*** পবিত্র কোরানে পরিষ্কার বলা আছে, ওয়াজের নামে টাকা নেওয়া মানে পেটে আগুন দেওয়া—কিয়ামতের দিন এদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি! এটার নাম আপনি হাদিয়া দেন বা সাদিয়া তাতে কিছুই আসে যায় না!

১. "আল্লাহ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি। (সূরা বাকারা ২:১৭৪)

২. "... আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না।..." (সূরা বাকারা ২:৪১)

—কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

... ... ... 
+

++










Sunday, October 25, 2026

তৌহিদি লোকজন, এখন কেমন বোধ করিতেছেন?

শেখ হাসিনা যেমন গুমকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল তেমনি অনেক মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম বলাৎকার [১, ২] এবং যৌন-নির্যাতনকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে! এবং এই নিয়ে আব্বাসীর মত সো-কল্ড পন্ডিত সর্ব বিষয়ে ফতোয়া দেওয়ার জন্য মুখ হাঁ করে রাখবে কিন্তু এই বিষয়ে চুপ!

এরাই আবার সমকামিতা নিয়ে লম্বা-লম্বা আওয়াজ তুলবে। সমকামিতা তো হয় দুই পক্ষের সম্মতিতে। কিছু ব্যতিক্রমি অপরাধি আছে, যেমন নির্মলেন্দু গুণ! 

পূর্বে শিকার ছিলাম এখন শিকারি হয়েছি! [৩]

অথচ এই মোল্লারাই যে ছোট-ছোট বাচ্চাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে এদের জীবনটাই তছনছ হয়ে যায়! সমস্তটা জীবন ট্রমা থেকে বের হতে পারে না!

এরা কেমন শিল্পি এর একটা ছোট্ট নমুনা!

দেশের অধিকাংশ মোল্লারা এখন উত্তাল! চুমুকান্ডে! এখন এরা বলছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগে মানসিক ভাবে অসুস্থ শামীম নামের একজনকে পিটিয়ে খুন করে ফেলল [৪]!

আমার সাফ কথা, যে বাবা তার সন্তানকে রক্ষা করতে পারে না সে কাপুরুষ! এখানে কোন মোল্লা না-হয়ে চ্যাংড়া হলেও একই নিয়ম খাটবে!

এই মোল্লারা সব কিছুতে বাম হাত ঢুকিয়ে দেবে।

এই ...বাচ্চা বলছে, 'ইসলামে চুমু খাওয়া জায়েজ! এটা সুন্নাহ'! এই ...বাচ্চা, আরেকজনের বাচ্চাকে তুমি চুমু খাবা!

ওয়াজের নামে এরা ধর্মকে কেমন করে বিক্রি করে! আগে ঘুষখোরের মত লুকিয়ে ওয়াজের নামে টাকা নিত—পবিত্র কোরানে যেটা সম্পূর্ণ নিষেধ [*]! আর এই হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ টাকা নেয় বুক ফুলিয়ে, কাগজ ছাপিয়ে!

এ যে কী পরিমাণ কুটচালে অভ্যস্ত তার নমুনা:


এ তো দেখি পুরাই জঙ্গি!

ময়মনসিংহের দিপু খুনের পেছনেও এর স্পষ্ট হাত ছিল।
আহা, সাড়ে ৪ লাখ টাকার ঘড়ি হাতে দিয়ে ৫০ লাখ টাকার গাড়ি হাঁকিয়ে এ হাঁক দেবে না তো কে দেবে?

এই আরেকটা বলছে, পাপ্পি খেতে বলেছিল:

সব শেয়ালের এক রা!


মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল বলছে, মাদ্রাসা থেকে ১৭ লক্ষ টাকা লুট হয়েছে! মনে হচ্ছে, এরা ১৭ লক্ষ টাকা পাঞ্জাবির পকেটে, ড্র‍য়ারে রাখে!
চোখের পলক না-ফেলে কী মিথ্যাই না বলতে পারে!
সাক্ষী বানিয়েছে নিজের বউকে! নিজে প্রিন্সিপাল, বউ ভাইস প্রিন্সিপাল!
একটি আদর্শ পারিবারিক মাদ্রাসা!


এহেন কোন কাজ নাই যে এরা পারে না! স্বাভাবিক কোন কাজ, স্বাভাবিক ভাবে কথা বলা এইসব এদের অভিধানে নেই! 


এরা লুচ্চামি আচরণে মসজিদ-মাদ্রাসা, হাট-বাজার কোথাও বাদ দিচ্ছে না! 


এদের সম্মান যাওয়া মানে পুরো জাতির সম্মান যাওয়া। বলাৎকার করে পুরো একটা অসুস্থ জাতি তৈরি করছে আর এখন বলছে সম্মানহানি নাকি হচ্ছে!



দিনকে রাত, রাতকে দিন করা এদের পক্ষেই সম্ভব! কী চমৎকার করে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলছে মেয়ের বাবার সাথে হিন্দুরাও ছিল, ইসকন জড়িত!

মববাজরা বলছে, আমরা মব করতে চাই বা কিন্তু আমাদের বাধ্য করবেন না!

কাক নাকি কাকের মাংস খায় না কিন্তু একটা মেয়ে অন্য মেয়ের মাংস খায়!


এই মহিলার সম্ভবত সন্তান-টন্তান নেই! নইলে একটা মেয়ে হয়ে অন্য একটা মেয়েকে নিয়ে এমন ইতর টাইপ কথা বলতে পারতেন না!

এরা যতই ইনিয়ে-বিনিয়ে বলুক ঘটনা যে সত্য এটা বোঝার আর বাকী নাই!

এই মাদানী দেখি আরেক গুন্ডা!  
চ্যালেঞ্জ করছে,
"...পারলে আমাদের মাদ্রায়ায় যাইস, বডির জয়েন্ট ছুটায়া দিব...।"
বিরাট 'মর্দানি লোক'! বউয়ের বাচ্চা হবে বলে কেবল আরেকটা বিয়েই করেনি অসভ্যের মত বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে, মিষ্টি খাচ্ছে!
তখন আবার মোল্লার দল খুব বাহবা দিয়েছে চরিত্র ঠিক রাখতে ন্যায্য কাজটাই করেছে!

এরা মাদ্রাসার নামে কী পরিমাণ ব্যবসা করছে তার একটা নমুনা এই লোক নাকি ২ কোটি টাকার সিসি ক্যামেরাই লাগিয়েছে! 

এদের মধ্যে কিছু ধর্ম শিক্ষক আছেন যারা পিতার ভাষায় কথা বলছেন:




বলাৎকার নিয়ে অসাধারণ বক্তব্য রেখেছেন সাবেক ধর্মমন্ত্রী!

"যেন বোয়াল মাছের পেটি...", এগুলো হচ্ছে, ওয়াজ:
এগুলোর নাম ওয়াজ! ওয়াজময় জীবন [৫]

এই লোক বলছে কোন মোল্লা জানাজার নামাজ পড়াবে না।

আমি প্রার্থনা করি, হে পরম করুণাময়, হে সমস্ত বিশ্ব-ব্রক্ষান্ডের অধিকারী, ধর্মীয় শিক্ষকের নামে যে সমস্ত নরপশু ছোট-ছোট বাচ্চাদেরকে বলাৎকারের নামে জাহান্নামের কষ্ট দেয় এদের দ্বারা কোন মৃতদেহের জানাযা পড়াতে দিও না। প্রয়োজনে তুমি সেই লাশ আকাশে-পানিতে নিচিহ্ন করে দিয়ো...!

সুত্র:

১. বলাৎকার: https://www.ali-mahmed.com/2026/09/blog-post_08.html?m=1

২. বলাৎকার এবং শরিয়া আইন: https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post.html?m=1

৩. নির্মলেন্দু গুণ: https://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_3336.html?m=1

৪. খুন, শামীম: https://www.ali-mahmed.com/2026/10/blog-post_23.html?m=1

৫. ওয়াজময় জীবন: https://www.ali-mahmed.com/2019/04/blog-post.html?m=1


* এই মোল্লারা যে ধর্ম বেচে টাকার বিনিময়ে ওয়াজ করে লক্ষ-লক্ষ টাকা আয় করেন আমরা দেখি এই বিষয়ে পবিত্র কোরানে কি বলা আছে? 

পবিত্র কোরানে পরিষ্কার বলা আছে, ওয়াজের নামে টাকা নেওয়া মানে পেটে আগুন দেওয়া—কিয়ামতের দিন এদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি! এটার নাম আপনি হাদিয়া দেন বা সাদিয়া তাতে কিছুই আসে যায় না!

১. "আল্লাহ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি। (সূরা বাকারা ২:১৭৪)

২. "... আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না।..." (সূরা বাকারা ২:৪১)

৩. "...বলো, এর জন্য আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না। এ তো শুধু বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ। (সূরা আনআম ৬:৯০) 

—কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। 

এই আগুন ওরফে হারাম খাওয়া লোকজনকে দেখেন চেহারা কী তেলতেলে!

** এই মোল্লারা বলাৎকারের নামে যেটা করে, মাসুম-অবুঝ বাচ্চাদের উপর ঝাপিয়ে পড়া—ওই বাচ্চা তার সমস্ত জীবন এই ট্রমা থেকে বের হতে পারে না সে কখনও ধরে নেয় এটাও ধর্ম শিক্ষার একটা অংশ। 

পবিত্র কোরান স্পর্শ করে শপথ করানো, হাফেজ হতে পারবে না এমন ভয় দেখানো, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া, পরিবারের লোকজনের ক্ষতির ভয় দেখানো, মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে মাদ্রাসা ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া। এই সমস্ত যে কোরানে বর্ণিত আয়াতের [+] চেয়ে কত ভয়ংকর তা কল্পনাও করা যায় না! কালে-কালে সে হয়ে উঠে আরেক বলাৎকারী!

+

"তোমরা তো এমন অশ্লীল কর্ম করছ, যা তোমাদের পূর্বে দুনিয়ায় কেউ করেনি। 

তোমরা কি পুরুষের সঙ্গে উপগত হচ্ছ না? 

...উত্তরে তার সম্প্রদায় এটুকুই বলল যে, আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি আনো... 

(কোরান শরিফ, সুরা আনকাবুত ২৮-২৯)"

কোরানে বর্ণিত ওরা বিরাট পাপাচারী ছিল এ সত্য কিন্তু এখনকার মসজিদ-মাদ্রাসার যে সমস্ত বলাৎকারী তাদের ধারেকাছেও ছিল না। কারণ ওরা ছিল অবিশ্বাসী—অন্তত এখনকার মোল্লাদের মত পবিত্র কোরান স্পর্শ করিয়ে বলাৎকার করত না।


কী ভয়ংকর-কী ভয়াবহ!

আপনি কী কল্পনা করতে পারেন, ৭ বছরের এই বাচ্চাকে যে, এই ৬ জন সিনিয়র ছাত্র-শিক্ষক মিলে দিনের-পর-দিন চরম নির্যাতন করেছে!

যে ৫ জনকে ধরা হয়েছিল—এদের মধ্যে এরা ২জন! একটাকে দেখে তো স্রেফ দৈত্য মনে হচ্ছে!

আপনি জাস্ট চোখ বন্ধ করে একটু কল্পনা করুন এই দৃশ্যটা দেখে, এদেরকে দেখে! ছোট্ট একটা বাচ্চা, দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস! অন্য ভুবনের কষ্ট ভোগ করছে এদের দ্বারা!


++

জামসেদ নামের একে দেখেছি ওয়াজের চেয়ে বেশি মধু বেচতে। ফেসবুকে এ যে কয়টা বিজ্ঞাপন চালায় তা এ এবং জাকারবার্গ ব্যতীত কেউ জানে না!

এদের হাতে ভয়ংকর-এক অস্ত্র! 'ডারকা বিজনেস'! জানাজা না-পড়ানো। জানাজা মোল্লাদের দিয়ে পড়াতে হবে কেন? জানাজা পড়াবেন মৃতের স্বজনেরা। কিভাবে পড়াতে হয় শিখে না-থাকলে শিখে ফেলুন, এখুনি। আরবি না পারলে বাংলা পড়বেন—পরম করূণাময় আপনার আকুতি-ডাক অবশ্যই শুনবেন:

১ম তাকবীর, সানা

আরবি: سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالٰى جَدُّكَ وَجَلَّ ثَنَاءُكَ وَلَا اِلٰهَ غَيْرُكَ

বাংলা উচ্চারণ: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তা'আলা জাদ্দুকা, ওয়া জাল্লা ছানাউকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুক।

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, তুমি পবিত্র, তোমার প্রশংসা সহ। তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা সুউচ্চ, তোমার প্রশংসা মহান, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।

২য় তাকবীর, দরুদে ইবরাহীম।

আরবি: 

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরের ওপর রহমত বর্ষণ করো যেমন ইবরাহীমের ওপর করেছো। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও মহিমাময়।

৩য় তাকবীর, মৃতের জন্য দোয়া।

আরবি:

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا

اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লি-হাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িবিনা ওয়া সাগীরিনা ওয়া কাবীরিনা ওয়া যাকারিনা ওয়া উনসানা। আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহু মিন্না ফা-আহয়িহি আলাল ইসলাম, ওয়া মান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফা-তাওয়াফফাহু আলাল ঈমান। আল্লাহুম্মাগফির লাহু ওয়ারহামহু ওয়া আফিহি ওয়াফু আনহু। 

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত-মৃত, উপস্থিত-অনুপস্থিত, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সবাইকে ক্ষমা করো। আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবে ইসলামের ওপর রাখো, যাকে মৃত্যু দেবে ঈমানের ওপর দাও। হে আল্লাহ, এই মৃত ব্যক্তিকে ক্ষমা করো, দয়া করো, নিরাপত্তা দাও ও মাফ করে দাও।

নোট: ৪র্থ তাকবীর দিয়ে ডানে-বামে সালাম—আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।"

Grok-কে বলেছিলাম যাচাই করতে:


ChatGpt কেউ একই কথা বলা হলো ঠিক আছে কিনা চেক করার জন্য:



এরপর DeepSeek:


—তারপরও কোন ভুল চোখে পড়লে, জানালে কৃতজ্ঞতা।
... ... ... 
আমি যখন লেখাটা লিখছি তখন চলে আসছে এই সমস্ত একের-পর-এক বিভীষিকাময় খবর:













Friday, October 23, 2026

খুন: একজন শামীম! খুনের দায়ে অভিযুক্ত: একজন আমিনী!

   

শামীমের প্রতি ধর্ম অবমাননাকর বক্তব্যের যে অভিযোগে তাঁকে পিটিয়ে মারা হয়েছে, এমন না যে তিনি লোক জড়ো করে আপত্তিকর বা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছিলেন! তিনি কথা বলছিলেন তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে, সেটা ঝগড়ার সময়কার বা ব্যক্তিগত  কথোপকথন। কেউ-একজন রেকর্ড করে ছড়িয়ে দিয়েছে।

আচ্ছা, এখন থেকে কি 'ধর্মের রক্ষকরা' রাতেও মানুষের খাটের নীচে লুকিয়ে থাকবেন, নাকি? যদি রেকর্ড করার মত কোন বিষয় তাদের এন্টেনায় ধরা পড়ে! ব্যস, সঙ্গে-সঙ্গে পিটিয়ে হত্যা—যার ভাল নাম খুন!

এদিকে পরিবারের লোকজনেরা বলছেন, মানসিক ভাবে শামীম ঠিক সুস্থ ছিলেন না! ধর্মের রক্ষকরা কথোপকথনের রেকর্ড শুনে এটাও বের করে ফেলেছেন, তাঁর অসুস্থতা ভান মাত্র!
এটা শামীমের অন্য-একটা ভিডিও ক্লিপ। এটার জন্য কোন মনোবিদ লাগবে না একটা বাচ্চাও বুঝবে এই মানুষটার মানসিক স্থিরতা ঠিক নাই:

যাই হোক, ফজলুল হক আমিনী নামের একজন ফেসবুকে একের-পর-এক উস্কানি দিয়ে লোকজনকে উজ্জীবিত করেছিল! এখন ফেসবুক হয়ে গেছে সমস্ত 'ধর্মীয় বীরপুরুষদের' [**] আড্ডাখানা! তো, এই আমিনী ফেসবুকে লোক জড়ো করে হত্যাকান্ডে যুক্ত হয়েছিল। শামীমকে নৃশংস-নির্দয় ভাবে খুন করেছে! 

এমনকি এই খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত না-বলে একে 'খুনী আমিনী' বলাই শ্রেয় কারণ এ নিজের মুখেই স্বীকার করেছে যে শামীমকে হত্যা করেছে! এই অমানুষ শামীমের চিকিৎসা পর্যন্ত করতে দেয় নাই:

আহা, আমাদের আমিনী দেখি বিরাট বীরপুরুষ—তা খুন করে সিনা টান করে দাঁড়িয়ে থাকল না কেন? বেত্রাহত বেড়ালের মত পালিয়ে গেল কেন?
অপরাধীর মত সিম-ফোন বদলে চোরের মত পালিয়ে-পালিয়ে থাকলই-বা কেন?

আর আমাদের একজন আব্বাসী আছেন যিনি সবকিছুতে বাম হাত ঢুকিয়ে দেন! একে-ওকে যে কাফের ফতোয়া দেন [***]—বাই ইনি চান্স ওরা কাফের না-হলে আপনার গতি কী!
এই মহাবিজ্ঞানী [১] সবটা না-জেনে একটা ফতোয়া ঝেড়ে বসেন! এই খুনির পক্ষে তিনি পেট টান করে দাঁড়িয়েছেন (কারণ সিনা বেচারা পেছনে পড়ে গেছে)।
খুনির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন এবং তিনি বলছেন,
"...এলাকাবাসী তাকে  গণপিটুনি দিয়ে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিয়েছে। বলেন, আলহামদুলিল্লাহ...!"

তিনি জানলেন কীভাবে শামীম জাহান্নামে যাবেন! এটা তো কেবল পরম করুণাময়ের এখতিয়ার—আর কারও না—মানুষ তো দূরের কথা জিন্দা অলিরও না। এই ক্ষমতা তো সেই মানুষের হাতে না, যে মানুষ ৫ মিনিট অক্সিজেন ছাড়া থাকলে পেছন দিয়ে শেষ বাতাস বেরিয়ে যায়! আব্বাসী কী জিন্দা অলিকেও ছাড়িয়ে গেছেন!

আর আরেক ধর্মীয় বক্তা জামাতে ইসলামের এম. পি আমির হামজা যে বলছেন,
"এখন যদি বলি, আল্লাহ 'কোরান-এ কারিমে' ফেসবুক কিভাবে চালাবেন, দিয়েছেন, বিশ্বাস করবেন?...সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নম্বর আয়াত..." :
এমনকি, আমির হামজা আরও বলছেন, "লাইক-শেয়ার-কমেন্ট এই সমস্ত  কথাও আল্লাহ ১৫০০ বছর আগে কোরানে দিয়েছেন"।

কেউ কি এই মানুষটার ঘাড় ধরে জানতে চেয়েছে কোরানের কোথায় আছে এটা, দেখা? সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নম্বর আয়াত এটা:

সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৩ ।  কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান 
এই সমস্ত কারণে এই মানুষটাকে কী কেউ শামীমের মত আচরণ দূরের কথা, গোপন কেশও স্পর্শ করেছে! হ্যালো, সো-কল্ড গ্রান্ড মুফতি আব্বাসী, এই বিষয়ে আপনার ফতোয়া কী!

এই আব্বাসী, হামজারা যে ধর্ম বেচে টাকার বিনিময়ে ওয়াজ করে লক্ষ-লক্ষ টাকা আয় করেন আমরা দেখি এই বিষয়ে পবিত্র কোরানে কি বলা আছে?

১. "আল্লাহ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি। (সূরা বাকারা ২:১৭৪)

২. "... আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না।..." (সূরা বাকারা ২:৪১)

৩. "...বলো, এর জন্য আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না। এ তো শুধু বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ। (সূরা আনআম ৬:৯০) —কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান 

ওয়াজের নামে টাকা নিয়ে, আগুন দিয়ে পেট ভরে যে টাকা কামাচ্ছেন —আবার সরকারকে ১ পয়সা ট্যাক্সও দেন না, এই বিষয়ে আপনাদের মত কী [৪]!

এই আব্বাসী, যিনি নিজেই নিজেকে 'গ্রান্ড মুফতি' দাবী করেন! কে তাকে গ্রান্ড মুফতির খেতাব দিয়েছে এই বিষয়ে কোন তথ্য কারও কাছে নাই! তিনি প্রায়শই একটা বদ্ধ উম্মাদের ন্যায় আচরণ করেন!

টাকার বিনিময়ে ওয়াজের নামে আমাদেরকে জানান, গুইসাপ নাকি ৭৫০ বছর বাঁচে [৩]! (এটা তিনি প্রমাণ করতে পারলে আমি লেখালেখি ছেড়ে দেব!) মানুষের ব্রেনের ওজন নাকি ৬০ গ্রাম [৩]! পুরুষের শরীরে নাকি নারীর চেয়ে ৪ গুণ লোহা! তার পূর্বপুরুষ নাকি ২ কোটি মানুষকে হিন্দু থেকে মুসলমানে কনভার্ট করেছে। এর রেফারেন্সে হান্টার-ফান্টার যাদের লেখা বইয়ের উদাহরণ দিয়েছে সেখানে এইসবের কোন বিবরণই নাই—সম্পূর্ণ  মিথ্যা [৩]! 

হালে সৌদিতে আমাদের ২জন বাংলাদেশিকে স্রেফ কতল করা হয়েছে, জেনা করেছে এই অভিযোগে! এটাকে আব্বাসী বলছেন,

"১০০ ভাগ সঠিক হয়েছে।"

অথচ এই আব্বাসীর জানার কথা জেনার জন্য মৃত্যুর কথা কোরানে কোথাও নাই, সহীহ হাদিসে যাও আছে তাও বিবাহিত হলে। ওই ২জন বিবাহিত ছিলেন না [৪]!

এই ভিডিও ক্লিপে আমরা যে বক্তাকে দেখছি—এই ধর্মীয় শিক্ষকের যে জ্ঞান, তা আব্বাসীর মত মানুষের ১০ ভাগের ১ ভাগও নাই!

এখন আব্বাসী ঝোলা থেকে এই ফতোয়া বের করবেন, ঘটনাটা মসজিদে হয়েছে সেই জন্য ওই কতল ১০০.০০১ পার্সেন্ট সঠিক। বটে রে!

ইমামের পাহারায় এই মোয়াল্লিম-মাদ্রাসার শিক্ষক যখন মসজিদে হিল্লা বিয়ের নামে বাসর করেছিলেন [৫], রিপিট, মসজিদে! তখন কী আব্বাসী পয়সার বিনিময়ে ওয়াজ সেরে পেট ভাসিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন!

এই মোল্লাদের মোল্লাগিরির কারণে ভাবা যায়, আমাদের একজন নোবেলে মনোনীত নারীকেও হিল্লা বিয়ের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছিল  [৫]!

এই যে মাদ্রাসায় অজস্র ঘটনা ঘটছে বলাৎকারের [৬] যা জেনার চেয়েও ভীষণ অপরাধ। এই নিয়ে কিন্তু আব্বাসীর গাত্রদাহ নেই!

শামীমকে যারা পিটিয়ে খুন করেছেন তারা দেশের প্রচলিত আইনে, তাঁকে আইনের কাছে দিতে পারতেন [*]। আইন আইনের গতিতে না-চললে তখন এটা নিয়ে কথা বলার সুযোগ ছিল। উইদাউট ট্রায়ালে একটা মানুষকে মেরে ফেলা, এটা স্রেফ খুন!

যে দেশে রমজান মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় (একটা ঘুষখোরকে যদি এনে দিতে পারেন ১১ মাস ঘুষ খান কিন্তু রমজান-সংযমের মাসে খান না। মাইকিং করে লোক জড়ো করে আমি পা ধরে সালাম করব)!

পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ দেশের মধ্যে অন্যতম একটা দেশ, বাংলাদেশ!

কিন্তু আমাদের আচার-আচরণ দেখলে মনে হবে একেকজন চলমান ফেরেশতা! একেকজন ধর্মের দন্ডটা শক্ত করে ধরে আছেন! জুমার নামাজে ১/২ ঘন্টা আগে না-গেলে মসজিদে জায়গা পাওয়ার যো নেই। অধিকাংশ মানুষ নামাজ পড়েন রাস্তায়। রাস্তা বন্ধ করে:

এটাই শেষ গাড়ি! এরপর লোকজনকে অনুরোধ করেছিলাম একটু ফাঁকা রাখার জন্য। কেউ গা করেনি! একেকজন যে বিরাট মাওলানা। এদের কাছে উপর থেকে কল এসেছে যে, এই সময়ের মধ্যে কেউ গুরুতর অসুস্থ হতে পারবেন না। আর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হলে, 'আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়া গেছে'!
তো, যথারীতি এরপর ওই ফাঁকও উধাও হয়ে গেল। গাড়ি দূরের কথা একটা মানুষ পার হওয়ারও সুযোগ নাই!

২ বছর ধরে একটা অভিজাত এলাকায় শিক্ষিত মানুষদের কান্ড এটা! চিল্লায়া বলেন, সোবহান-আল্লাহ!

যাই হোক, অবশেষে শামীমকে খুন করার প্রধান আসামী আমিনীকে ধরা হয়েছে। ধরা পড়ার পর কী সে-এক অমায়িক নুরানি হাসি! ভাল! এই লোকের যেহেতু প্রচলিত আইনে বিশ্বাস নেই তাই প্রচলিত আইনের ফাঁসির দড়িকে বিশ্বাস না-করে ঝুলে পড়লেই হয়। কিসসু হবে না...! 

এরা, এই আমিনীরা হয়তো ধরা পড়েন কিন্তু এদের মাস্টারমাইন্ড আব্বাসীরা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে! 

আপনি ভাবতে পারেন এই মানুষটা আইনের ঊর্ধ্বে! এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান! এই ওয়াজ যিনি করছেন তিনি একজন শায়েখ এবং ডক্টর ডিগ্রিধারীও। শাইখ ড. মাযাফফর বিন মুহসিন বলছেন:

বেনামাজিকে মেরে ফেলতে হবে। ফাঁসিতে নইলে জবাই করে, এই বিষয়ে ইমাম-মৌলভি-মোল্লাদের কোন দ্বিমত নাই। কেবল খানিকটা দ্বিমত আছে যে, হত্যা করার পর ওই মানুষটার জানাজা পড়া হবে, কি হবে না?
... পশুকে যেভাবে পায়ে দড়ি বেঁধে গর্তে ফেলে দেওয়া হয়, ওই মানুষকেও ওভাবে গর্তে ফেলে দেওয়ার নির্দেশও তিনি দিচ্ছেন...!

... ... ...  

* বাংলাদেশে ধর্ম সংক্রান্ত অপরাধ- দণ্ডবিধির অধ্যায় ১৫ (Chapter XV) - ধারা ২৯৫ থেকে ২৯৮ পর্যন্ত।

১. ধারা ২৯৫: উপাসনালয় বা পবিত্র বস্তু নষ্ট করা! উপাসনালয় ভাঙা, নষ্ট করা বা অপবিত্র করা, যদি উদ্দেশ্য থাকে কোনো শ্রেণির ধর্মকে অপমান করা।

২. ধারা ২৯৫ক: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত (Main Law)। ইচ্ছাকৃতভাবে ও বিদ্বেষপূর্ণভাবে কোনো শ্রেণির ধর্ম বা বিশ্বাসকে কথা, লেখা বা ছবি/ভিডিও দিয়ে অবমাননা করা। শর্ত: ১. ইচ্ছাকৃত হতে হবে, ২. বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্য থাকতে হবে।

৩. ধারা ২৯৬: ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া! কোনো ধর্মীয় প্রার্থনা বা অনুষ্ঠান চলাকালীন ইচ্ছা করে ঝামেলা করা।

৪. ধারা ২৯৭: কবরস্থান / শ্মশান / মৃতদেহের অসম্মান! কবরস্থান বা শ্মশানে বিনা অনুমতিতে ঢোকা।

- মৃতদেহের প্রতি অসম্মান দেখানো।

- শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা করা।

৫. ধারা ২৯৮: কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত!

কোনো ব্যক্তির সামনে তাকে শুনিয়ে গালি, শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি করে তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা।

সূত্র:

১. মহা বিজ্ঞানী আব্বাসী: https://www.ali-mahmed.com/2026/10/blog-post_12.html?m=1

২. আব্বাসীর ৬০ গ্রাম ওজনের ব্রেন: https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post_09.html?m=1

৩. জৌনপুরি বনাম ২ কোটি মুসলমান: https://www.ali-mahmed.com/2025/08/blog-post_2.html?m=1

৪. সৌদি কর্তৃক খুন: https://www.ali-mahmed.com/2026/10/blog-post_19.html?m=1

৫. হিল্লা বিয়ে...: https://www.ali-mahmed.com/2024/12/blog-post.html?m=1

৬. বলাৎকার: https://www.ali-mahmed.com/2026/09/blog-post_08.html?m=1

** ফেসবুক নামের জায়গাটায় এখন যতসব ধর্মীয় উম্মাদনা ছড়ানো লোকজন, টিকটকার, অসভ্য, উম্মাদে ভরে গেছে। হাজার-লাখ লাইকে এখন লোকজনের মাথা ঠিক থাকে না। নির্বোধ লোকজনের সত্য-মিথ্যা যাচাই করার ঘিলু নাই। ফেইক একটা ছবি নিয়ে হাজারে-বিজারে লাইক! নমুনা:





***
১.

আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত:
তিনি নবী করীম ﷺ কে বলতে শুনেছেন,
"যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে ফাসেক (পাপাচারী/দুষ্ট) বলে অপবাদ দেয়, অথবা কাফের বলে অপবাদ দেয়, তাহলে যদি যাকে অপবাদ দেওয়া হলো সে আসলে তেমন না হয়, তাহলে সেই অপবাদটা অপবাদদাতার দিকেই ফিরে আসবে।" (সহীহ আল-বুখারী - ৬০৪৫)

২. 


আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসুল ﷺ বলেছেন,
"যদি কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে বলে, 'ওহে কাফের!'—তাহলে তাদের দুজনের একজন অবশ্যই কাফের!"
এখন কথা হচ্ছে, এই যে দুম করে বলে দিলেন, অমুক-তমুক কাফের; খোদা-না-খাস্তা সে কাফের না-হয়ে থাকলে, আপনার গতি কী, ডিয়ার আব্বাসী!
এই আব্বাসীকে কেউ জিজ্ঞেসও করে না গুইসাপ ৭৫০ বছর বাঁচে, মানুষের ব্রেনের ওজন ৬০ গ্রাম, হান্টারেরর বইয়ে কোথায় লেখা আছে...?
খালেদ মুহিউদ্দিন (হর্স মাউথ—প্রশ্ন করবেন কী, নিজেই বকে মরেন!) যাও আব্বাসীকে প্রশ্ন করেন তার প্রস্তুতির বি-বি-রা-রা-ট-ট নমুনা:





Wednesday, October 21, 2026

সৌদি আরব নামের এক অমানবিক দেশ!

লেখক: M Rayhan Kabir

(https://www.facebook.com/share/1DwYxzGJuq/)

"(সৌদি থেকে ফিরে) এক আপা সন্তান কোলে দেশে ফিরে আমাকে বললেন: 

ভাই, সন্তান আমার গর্ভে হয়েছে, কিন্তু আমি জানিই না এই সন্তান আসলে কার। মালিকের, মালিকের ছেলের, মালিকের বন্ধুদের, নাকি তার ড্রাইভারের?

এর চেয়ে দুঃখের কিছু হতে পারে, ভাই! বলেন? আমি শুনে বিস্মিত হইনি, কারণ এমন কেস প্রতিনিয়তই শুনছি। কিন্তু প্রতিবারের ঘটনাগুলো মনে দাগ কেটে যায়।

বাবুটার সাথে লেখক।

দায়িত্ব নিয়ে লিখছি। দীর্ঘদিন অভিবাসন খাত আর প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে যে দেশের মানুষের প্রতি আমার সবচেয়ে বেশি ঘৃণা জন্মেছে, সেটা সৌদি আরব।

ভিয়েনা কনভেনশন আর কূটনীতির কোনো তোয়াক্কা না-করে আমাদের দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সেই সৌদি আরবই। মন দিয়ে পড়বেন, প্রতিটা নাগরিকের এটা জানা উচিত।

এটা কোনো গল্প নয়। একদম মাঠ থেকে, নিজের হাতে কাজ করা অভিজ্ঞতা থেকে বাস্তব ঘটনা লিখছি। পড়তে পড়তে ছবি মনে আঁকতে পারেন, নিশ্চিত বলছি আঁতকে উঠবেন, ভাববেন এ কেমন বর্বরতা, এটা কি আসলেই সম্ভব? সৌদি আরবের এই শেখদের কাছে নারী, পুরুষ, শিশু সবাই এক টুকরো মাংসের মতো, কাউকেই তারা ছাড় দেয় না।

গৃহকর্মীর কাজে সৌদি আরবে গিয়ে যত নারী গর্ভবতী হয়ে বা কোলে ছোট্ট শিশু নিয়ে দেশে ফিরেছেন, আমি যাঁদের পেয়েছি তাঁদের প্রত্যেকের ঘটনা প্রায় একই রকম। প্রত্যেকের সন্তান জন্ম নিয়েছে সৌদির জেলে। একজন নারী অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জেলে গেলেন কীভাবে, আর সেখানে সন্তান প্রসবই বা করলেন কীভাবে? চলুন, ঘটনায় নিয়ে যাই।

কাজে যাওয়া নারী, কখনো কুমারী একটা মেয়ে, মালিকের হাতে নির্যাতন আর ধর্ষণের শিকার হন। সেই অত্যাচারের বর্ণনা ফেসবুকের সেন্সরও সম্ভবত নেবে না। গৃহকর্তা, কর্তার ছেলে, কর্তার ভাই, কর্তার বন্ধু, কর্তার ড্রাইভার, পালাক্রমে রুটিন করে ধর্ষণ করে আমার দেশের সেই অসহায় নারীকে, যিনি দুই মুঠো ভাতের পয়সা জোগাড় করতে গিয়েছিলেন।

সারাদিন অমানুষিক খাটিয়ে ঘুমানোর সময় নিয়ম করে চলে অত্যাচার, এমন আচরণে যেন তাকে কেনাই হয়েছে ভোগ করার জন্য। বিচার চাইবেন কোথায়, সে দেশে এমন কোনো আইনই নেই।

তারপর একসময় সেই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। আর ঠিক তখনই সৌদির সেই শেখ তাঁর নামে চুরির মামলা দিয়ে পুলিশে দেয়। সময়টা বেছে নেওয়া হয় এমনভাবে, যেন সন্তানটা জেলেই প্রসব হয়। চুরির মামলায় আমার দেশের নারীরা গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যান, আর দু-এক মাসের মধ্যেই সেখানে বাচ্চার জন্ম দেন।

একবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন। দুই বেলা পরিবারে ভাত দেওয়ার আশায় যে নারী বিদেশ গেলেন, তিনি প্রতিদিন গণধর্ষণের শিকার হলেন, বিচার দূরে থাক, কোথাও বলার জায়গাও পেলেন না। তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলেন, আর তাঁকেই মিথ্যা চুরির অপবাদে জেলে পাঠানো হলো। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আমরা মায়ের কত যত্ন নিই, কত বাছবিচার, কত ডাক্তার, কত চিকিৎসা।

অথচ ওই নারী ধর্ষিতা হয়ে গর্ভবতী অবস্থায় পড়ে থাকলেন জেলে। জেলেই জন্ম হলো বাচ্চার, সেই বাচ্চা কোলে নিয়েই তিনি নামলেন ঢাকা বিমানবন্দরে। মেয়েটি কুমারী, বিয়ে হয়নি, এই বাচ্চা নিয়ে গ্রামে যাবেন কীভাবে? অনেকে বাচ্চাটাকে বিমানবন্দরেই রেখে চলে যান। কখনো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বাচ্চাকে নিয়ে আসে ব্র্যাকের কাছে, আমরা আমাদের আওতার মধ্যে মা ও শিশুর জন্য যতটুকু মঙ্গল করা সম্ভব, চেষ্টা করি।

শুনলে অবাক হবেন, আমার রাষ্ট্রের ডাটাবেজে, মন্ত্রণালয়ে, দূতাবাসে কোথাও একটা কাগজেও লেখা নেই এমন নির্যাতনের শিকার হয়ে কতজন নারী ফিরলেন। কতজন গর্ভবতী হয়ে ফিরলেন, কতজন নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা করলেন, তার কোনো হিসাব নেই। বিচার তো অনেক দূরের কথা, রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণও দূরের বিষয়, এঁদের তথ্যটুকুও কোথাও নেই। আমার কাছে যে তথ্য আছে, তা আমার রাষ্ট্রের কাছে নেই, চ্যালেঞ্জ করে বললাম। এই হলো আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আর শ্রমিক সুরক্ষার অবস্থা।

এ তো গেল নারীদের কথা। পুরুষও রেহাই পায় না। আমি নিজে একটা কেস সামলেছি, এক তরুণ ছেলে, বয়স বিশের বেশি হবে না। কাজ করতে গিয়েছিল সেই দেশে। প্রতিদিন আমাকে ফোন করে চিৎকার করে কাঁদত, ভাই, আমাকে বাঁচান। মালিক আর তার বন্ধুরা আমারে ছাগল চড়াইতে এক মরুভূমিতে এনে রাখছে, এখানে রোজ মালিক আর তার বন্ধুরা আসে, আমারে বলাৎকার করে। ছেলেটা বলছিল আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সাহসে কুলায় উঠছে না। শেষ পর্যন্ত সেই ছেলেটাকেও উদ্ধার করে এনেছিলাম।

আরও শুনুন। বিনা বিচারে, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও সৌদি পুলিশ প্রতিদিন গড়ে ৩০০ বাংলাদেশি শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে বিশাল একটা অংশের ভিসা বৈধ থাকে, তবু গ্রেপ্তার করে দেশে পাঠিয়ে দেয়। কোনো জবাবদিহি নেই, কোনো বিচার নেই। কিসের দূতাবাস, কিসের কূটনীতি, এসব শুনলে এখন হাসি পায়।

আর সেই দেশই নাকি আমার দেশের নাগরিকদের অনৈতিক কাজের অপরাধে বিচার করে [১]। আমি এমন কেস পেয়েছি, যেখানে ধর্ষণ থেকে বাঁচতে একজন নারী নামাজ দীর্ঘ করতেন, আর দেরি হলে সৌদির এক নাগরিক তাঁকে নামাজ থেকে টেনে তুলে আনত। সেই দেশ নাকি ব্যভিচারের দায়ে আমার দেশের নাগরিককে হত্যা করে!

আজব ব্যাপার হলো, আমার দেশের মানুষই সেই মৃত্যুদণ্ডের খবরের নিচে গিয়ে কমেন্টে লিখছে, আলহামদুলিল্লাহ। এক রাজনৈতিক ব্যক্তির বক্তব্য দেখলাম, তিনি বলছেন এই পাপের লাশ তিনি দেশে চান না। অথচ ওই পাপ বয়ে দেশে ফেরা কোনো ধর্ষিতার পাশে এঁদের কেউ কোনোদিন এসে দাঁড়ায় না।

শুনুন, গুগল করে দেখুন। ২০১১ সালে সৌদি আরব রুয়াতি বিনতে সাতুবি নামের এক ইন্দোনেশীয় নারীকর্মীর শিরশ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, আর ইন্দোনেশিয়া সরকারকে আগে একটা কথাও জানায়নি। ঠিক আমাদের দুই নাগরিকের মতো। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া চুপ করে বসে থাকেনি। তারা সৌদি আরবে গৃহকর্মী পাঠানোই বন্ধ করে দেয়, আর কূটনৈতিক সম্পর্কে ধাক্কা লাগে।

অথচ দিনের-পর-দিন আমাদের নারীরা এভাবে অত্যাচারিত হচ্ছেন, আর একটা শব্দ করার সাহসও আমাদের রাষ্ট্রের নেই।

* ছবি: মধ্যপ্রাচ্য থেকে অত্যচারের শিকার হয়ে সন্তান নিয়ে দেশে ফিরে আসার পর ২০২২ সালে ছোট্ট শিশুটির সাথে এই ছবিটা রেখেছিলাম।"

—লেখক: M Rayhan Kabir

(https://www.facebook.com/share/1DwYxzGJuq/)

WhatsApp