Search

Thursday, November 5, 2026

মহান আল্লাহ কি কেবল আরবিই বোঝেন!

কোরানে আরবি ভাষা নিয়ে যে আয়াতগুলো আছে সবগুলোতেই আল্লাহ নিজেই বলছেন, 'আমি কোরান আরবিতে নাজিল করেছি'।কেন?  কেন আরবিতে!

১. সুরা ইউসুফ ১২:২ 

'কোরান আমি তো আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার'।

২. সুরা ত্বহা ২০:১১৩

'এভাবেই আমি আরবি ভাষায় কোরান অবতীর্ণ  করেছি... '।

৩. সুরা যুমার ৩৯:২৮

'আরবি ভাষায় এ-কোরান, এর মধ্যে কোনো জটিলতা নেই, যাতে মানুষ সাবধানতা অবলম্বন করে'। 

৪. সুরা হা-মিম-সিজদা ৪১:৩

'এই আরবি কোরান যারা বোঝে সেই সম্প্রদায়ের জন্য, কিতাবের আয়াতের বিশদ ব্যাখ্যা দেয়'।

৫. সুরা শূরা ৪২:৭

'এভাবেই আমি তোমার প্রতি আরবি ভাষায় কোরান অবতীর্ণ করেছি'।

৬. সুরা যুখরুফ ৪৩:৩

'আমি আরবি ভাষায় এ-কোরান অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো'।

৭. সুরা রাদ ১৩:৩৭ 

'এভাবেই আমি আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছি এক নির্দেশ।... '

৮. সুরা আহকাফ ৪৬:১২

'...এ কিতাব মুসার কিতাবেরই সমর্থক, আরবি ভাষায়...'।

৯. সুরা নাহল ১৬:১০৩

'...কিন্তু এ তো পরিষ্কার আরবি ভাষা'।

১০. সুরা শোআরা ২৬:১৯৫

'এ (অবতীর্ণ করা হয়েছে) পরিষ্কার আরবি ভাষায়'।

১১. সুরা হা-মিম-সিজদা ৪১:৪৪

'আমি যদি আজমি (অ-আরবি) ভাষায় কোরান অবতীর্ণ করতাম, ওরা অবশ্যই বলত, এর আয়াতগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হলো না কেন? (কী আশ্চর্য, ভাষা) আজমি আর রসূল আরবীয়...'!

(অনুবাদ: কোরানশরিফ, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান) 

এবং এটা রাসূলের মাতৃভাষা ছিল, তাই তাঁর জাতি আরবি ভাষাভাষী ছিল বিধায় সহজে বুঝতে পারবে। রাসূলের ভাষা আরবি কিন্তু আল্লাহ'র ভাষা কি?

পবিত্র কোরানে এমন কোন আয়াত নেই যে, আল্লাহর ভাষা আরবি!

কোরানে আল্লাহ বার-বার বলেন 'কোরানের ভাষা আরবি, কিন্তু আল্লাহর ভাষা আরবি একবারও বলেননি!

১. সুরা রূম ৩০:২২

'আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম নিদর্শন, ... তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য'...।

(আল্লাহ সব ভাষা বোঝেন, সব ভাষার স্রষ্টা! ভাষার ভিন্নতা-বৈচিত্র্যতা আল্লাহরই সৃষ্টি, পরম জ্ঞানী তিনি কোনো-একটা ভাষায় আটকে নেই।)

২. সুরা নিসা ৪:১৬৪

'...আর মূসার সাথে আল্লাহ  সাক্ষাতে কথা বলেছিলেন'।

আল্লাহ মূসা (আ.) এর সাথে কথা বলেছেন, সেটা ঠিক কোন ভাষা আমরা জানি না! সেটা আল্লাহর কালাম, মানুষের মতো ভাষা না! আল্লাহ-ই ভাল জানেন!

* এ তো গেল কোরানের কথা হাদিসে কি বলা আছে? হাদিসে আমরা আরবি ভাষা নিয়ে কি দেখি? পরকালে 'জান্নাতের ভাষা আরবি' এই নিয়ে হাদিস আছে। কিন্তু এই হাদিসটা, এটা জাল হাদিস। অধিকাংশ মুহাদ্দিসদের মতে: জান্নাতের ভাষা বা কবরের প্রশ্নের ভাষা নিয়ে কোনো মারফু সহিহ হাদিস প্রমাণিত নয়।

Islamweb, IslamQA, Ibn Taymiyyah (Majmu' al-Fatawa 4/300), Ibn Kathir সহ সকলেই বলেছেন—এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই। তাই এ নিয়ে তর্ক করা গায়েবের বিষয়ে বিনা দলিলে কথা বলার শামিল। 

অনেক মুহাদ্দিস এই 'জান্নাতের ভাষা আরবি' হাদিসটিকে পরবর্তী তাহকিকে ইবনুল জাওজী, যাহাবী, আলবানী একে মাওযু/বানোয়াট বলেছেন—সিলসিলা দায়িফাহ ১৬০, ১৬১।

৬টি প্রধান কিতাব (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)-এর কোথাও 'আল্লাহ'র ভাষা আরবি', এর সপক্ষে হাদিস নেই! সহিহ হাদিসে কি আছে তাহলে?

কোরান আরবি, রাসূল আরব, এটা সহিহ। কিন্তু আল্লাহর কালাম তো কোন নির্দিষ্ট ভাষার না—এ নিয়ে কোনো আয়াত/সহিহ হাদিসে নেই! এবং পরকালে জান্নাতে মানুষ কোন ভাষায় কথা বলবে এ নিয়েও কোনো সহিহ হাদিস নেই।

কবরের সাওয়াল-জবাব কোন ভাষায় হবে এ বিষয়ে একটাও সহিহ হাদিস নেই। তবে সহিহ হাদিসে যেটা আছে।

প্রশ্ন ৩টা কী হবে, সেটা সহিহ হাদিসে আছে, কিন্তু ভাষা কী হবে সেটা নেই!

Sahih al-Bukhari 1338,Sunan Abi Dawud 4753 (Sahih)

১. রাসূল ﷺ বলেছেন: কবরে দুই ফেরেশতা এসে জিজ্ঞেস করবে, 

'তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? তোমার নবী কে'?

আরবি: مَنْ رَبُّكَ؟ مَا دِينُكَ؟ مَنْ نَبِيُّكَ؟

এই ৩টা প্রশ্নের আরবি পাঠ হাদিসে এসেছে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে প্রশ্ন আরবিতেই করা হবে। হাদিস বর্ণনা আরবিতে, তাই প্রশ্নও আরবিতে লেখা হয়েছে।

মুহাদ্দিসরা কী বলেন? ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন:

(মাজমুউল ফাতাওয়া ৪/৩০০)

কবরের প্রশ্ন বোঝা ও উত্তর দেওয়া যদি পরীক্ষা হয়, তাহলে যে বাঙালি আরবি জানে না, বা যে চাইনিজ আরবি জানে না, তাকে আরবিতে প্রশ্ন করলে তো পরীক্ষাই হলো না। আল্লাহ মহান, ন্যায়বিচারক।


Wednesday, November 4, 2026

ইসলামি শিক্ষা—মসজিদ থেকে মাদ্রাসার উত্থান!

পবিত্র কোরানে মসজিদ নিয়ে ২৯টা উদ্ধৃতি পাওয়া যায় কিন্তু মাদ্রাসা নিয়ে একটি শব্দও নেই [*]!

১. সুরা বাকারা ২:১১৪

"...যে ব্যক্তি আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলো ধ্বংসের চেষ্টা করে তার চেয়ে বড় জালেম আর কে?..."

২. সুরা বাকারা ২:১৪৪:

"...অতএব তুমি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরাও..."

৩. সুরা বাকারা ২:১৪৯:

"...তুমি যেখান থেকেই বের হও না কেন মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরাও..."

৪. সুরা বাকারা ২:১৫০:

"...তোমরা যেখানেই থাক না কেন মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরাও..."

৫. সুরা বাকারা ২:১৮৭:

"...আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না..."

৬. সুরা বাকারা ২:১৯১:

"...আর মসজিদুল হারামের কাছে তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো না যতক্ষণ না তারা সেখানে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে..."

৭. সুরা বাকারা ২:১৯৬:

"...এটা তার জন্য যে তার পরিবার মসজিদুল হারামের বাসিন্দা নয়..."

৮. সুরা বাকারা ২:২১৭: 

"...আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেওয়া ও মসজিদুল হারাম থেকে বাধা দেওয়া..."

৯. সুরা মায়েদা ৫:২:

"...মসজিদুল হারামে যেতে বাধা দেওয়ায় কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে..."

১০. সুরা আরাফ ৭:২৯:

"...বলো, আমার রব ন্যায়বিচারের আদেশ দিয়েছেন এবং প্রত্যেক মসজিদে তোমরা নিজেদের লক্ষ্য স্থির কর..."

১১. সুরা আরাফ ৭:৩১:

"...হে আদম সন্তান, প্রত্যেক মসজিদে তোমাদের সাজসজ্জা গ্রহণ কর..."

১২. সুরা আনফাল ৮:৩৪: 

"...অথচ তারা মসজিদুল হারাম থেকে বাধা দেয়, যদিও তারা এর রক্ষক নয়..."

১৩. সুরা তওবা ৯:৭:

"...তবে যাদের সাথে তোমরা মসজিদুল হারামের কাছে চুক্তি করেছ..."

১৪. সুরা তওবা ৯:১৭:

"...মুশরিকদের জন্য শোভা পায় না যে তারা আল্লাহর মসজিদসমূহ রক্ষণাবেক্ষণ করবে..."

১৫. সুরা তওবা ৯:১৮:

"...নিশ্চয় আল্লাহর মসজিদসমূহ রক্ষণাবেক্ষণ করবে তারাই যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনে..."

১৬. সুরা তওবা ৯:১৯:

"...তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো ও মসজিদুল হারাম রক্ষণাবেক্ষণ করাকে...সমান মনে কর?"

১৭. সুরা তওবা ৯:২৮:

"...হে মুমিনগণ, মুশরিকরা অপবিত্র, তাই এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল হারামের কাছে না আসে..."

১৮. সুরা তওবা ৯:১০৭:

"...আর যারা মসজিদ বানিয়েছে ক্ষতিসাধন, কুফরি ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য..."

১৯. সুরা তওবা ৯:১০৮:

"...যে মসজিদ প্রথম দিন থেকে তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত সেটাই তোমার সালাতের জন্য বেশি যোগ্য..."

২০. সুরা তওবা ৯:১১০:

"...তাদের নির্মিত মসজিদ সর্বদা তাদের অন্তরে সন্দেহের কারণ হয়ে থাকবে..."

২১. সুরা বনী ইসরাইল ১৭:১: 

"...পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে..."

২২. সুরা বনী ইসরাইল ১৭:১:

"...মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত যার চারপাশ আমি বরকতময় করেছি..."

২৩. সুরা বনী ইসরাইল ১৭:৭:

"...যাতে তারা মসজিদে প্রবেশ করে যেমন প্রথমবার প্রবেশ করেছিল..."

২৪. সুরা কাহফ ১৮:২১:

"...তারা বলল, তাদের উপর একটি মসজিদ নির্মাণ কর..."

২৫. সুরা হজ ২২:২৫:

"...নিশ্চয় যারা কুফরি করে এবং মসজিদুল হারাম থেকে বাধা দেয়..."

২৬. সুরা হজ ২২:৪০:

"...আর যদি আল্লাহ একদলকে অন্যদল দ্বারা প্রতিহত না করতেন তবে ...মসজিদসমূহ ধ্বংস হয়ে যেত যেখানে আল্লাহর নাম বেশি স্মরণ করা হয়..."

২৭. সুরা ফাতহ ৪৮:২৫:

"...তারাই কুফরি করেছে এবং তোমাদেরকে মসজিদুল হারাম থেকে বাধা দিয়েছে..."

২৮. সুরা ফাতহ ৪৮:২৭:

"...আল্লাহ তাঁর রাসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন...তোমরা অবশ্যই মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে..."

২৯. সুরা জিন ৭২:১৮:

"...আর মসজিদসমূহ আল্লাহরই, সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না..."

 * তবে মসজিদে শিক্ষার কথা বলা আছে। মসজিদে যে শিক্ষা দেওয়া হতো তার কিছু নমুনা পাওয়া যাবে এই আয়াতে। যে আয়াতগুলোতে মসজিদ শব্দ আছে, সেগুলোর মধ্যে শিক্ষার সাথে সবচেয়ে কাছাকাছি ৩ টা আয়াতকেই মুফাসসিররা শিক্ষার দলিল হিসেবে ধরেন, কারণ 'জিকির/তাকওয়া' মানেই শিক্ষা।

১. বাকারা ২:১১৪

"...যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয়..."

তাফসীর ইবনে কাসির: 'আল্লাহর নাম স্মরণ', এর মধ্যে কোরান তেলাওয়াত, কোরান শিক্ষা, ওয়াজ —সবই পড়ে'।

মসজিদে শিক্ষা বন্ধ করাই এই আয়াতে জুলুম বলা হয়েছে।

২. তওবা ৯:১৮

"...আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে তারাই যারা আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমান আনে..."

এখানে 'আবাদ করা'-র ব্যাখ্যায় ইমাম কুরতুবী লিখেছেন: আবাদ মানে দুইটা। ১. বিল্ডিং বানানো। ২.সেখানে বসে ঈমান ও কোরানের শিক্ষা দেওয়া। এটাই মসজিদে শিক্ষার মূল আয়াত।

৩. জিন ৭২:১৮

"আর নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহরই, সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না"

এটা তাওহিদের শিক্ষার আয়াত। মসজিদে শুধু আল্লাহর শিক্ষাই চলবে — অন্য কোনো মতবাদের না।

এই তিনটার বাইরে কোরানে মসজিদ শব্দ আছে এমন আর কোনো আয়াতে সরাসরি 'ইলম/ তালিম/ দারস' শব্দ নেই।

কোরানে মসজিদে শিক্ষা নিষেধ নয়, বরং জিকির ও তাকওয়ার নামে শিক্ষাই অনুমোদিত। আর রাসূলের সুন্নতে মসজিদে নববীর সুফফাই ছিল প্রথম মাদ্রাসা।

+ হাদিসে মসজিদে শিক্ষার বিষয়:

১. সহিহ আল-বুখারী ৬৬

আবু ওয়াকিদ আল-লাইসি (রা.) থেকে বর্ণিত: একবার আল্লাহর রাসূল ﷺ মসজিদে বসে লোকদের সাথে কথা বলছিলেন। এমন সময় তিনজন লোক এলো। দুজন এগিয়ে এলো, একজন চলে গেল। একজন হালাকার (জ্ঞানের মজলিস) মধ্যে ফাঁকা জায়গা পেয়ে বসে পড়ল, দ্বিতীয়জন পেছনে বসল, তৃতীয়জন ফিরে গেল। রাসূল ﷺ বললেন, "আমি কি তোমাদের এই তিনজনের কথা বলব? একজন আল্লাহর দিকে ঝুঁকেছে, আল্লাহ তাকেও আশ্রয় দিয়েছেন। দ্বিতীয়জন লজ্জা পেয়েছে, আল্লাহও তাকে লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছেন। তৃতীয়জন মুখ ফিরিয়েছে, আল্লাহও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।"

—Sunnah.com: Sahih al-Bukhari 66 

ইমাম বুখারী এই হাদিসের উপর অধ্যায়ের নাম দিয়েছেন—'মসজিদে ইলম ও ফতোয়া আলোচনার অধ্যায়'।

২. সহিহ আল-বুখারী ১৩৩

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে: এক ব্যক্তি মসজিদে দাঁড়িয়ে বলল, "হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কোথা থেকে ইহরাম বাঁধতে আদেশ করেন?" রাসূল ﷺ বললেন, "মদিনাবাসী যুল-হুলাইফা থেকে, শামবাসী জুহফা থেকে..."

—Sunnah.com: Sahih al-Bukhari 133 — بَابُ ذِكْرِ الْعِلْمِ وَالْفُتْيَا فِي الْمَسْجِدِ 

এটাই প্রমাণ যে, সাহাবীরা মসজিদের ভেতরেই মাসআলা শিখতেন, কোনো আলাদা মাদ্রাসায় না।

৩. সহিহ মুসলিম ৭৮৮b

আয়িশা (রা.) বলেন: নবী ﷺ মসজিদে এক ব্যক্তির কোরান তেলাওয়াত শুনছিলেন। তিনি বললেন, "আল্লাহ তার উপর রহম করুন, সে আমাকে এমন একটি আয়াত মনে করিয়ে দিয়েছে যা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।"

 —Sunnah.com: Sahih Muslim 788b

মসজিদে কোরান শেখা-শেখানো চলত।

৪. সহিহ মুসলিম ২৬৯৯ (মসজিদে জিকিরের হালাকা)

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে: রাসূল ﷺ বলেছেন, "যখন কোনো দল আল্লাহর কোনো ঘরে (মসজিদে) একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে এবং একে অপরকে শিক্ষা দেয়, তখন তাদের উপর সাকিনা নাজিল হয়, রহমত তাদের ঢেকে ফেলে..."

—Sunnah.com: Sahih Muslim 2699a — The Book of Dhikr

++ মাদ্রাসার উত্থান:

১. নববী যুগ (৬২২-৬৩২):

কোন মাদ্রাসা ছিল না! মসজিদে নববীর বারান্দা, আস-সুফফা। ৭০ জন সাহাবী ওখানে থেকেই ফুলটাইম ছাত্র। শিক্ষক স্বয়ং রাসূল ﷺ।

২. সাহাবা-তাবেয়ী যুগ (৬৩২-৭৫০):

কুত্তাব এবং মসজিদের হালাকা! বাচ্চাদের জন্য কুত্তাব/মক্তব, লেখা শেখানো হতো।

বড়দের সব ইলম তাফসির, ফিকহ, হাদিস, সব মসজিদের হালাকায়। উমাইয়া আমলেও আলাদা স্থাপনা ছিল না।

৩. প্রাথমিক প্রচেষ্টা (৯০০-১০৬০)

খোরাসান (নিশাপুর) এলাকায় ধনী ব্যক্তিরা মসজিদের পাশে ছাত্রদের থাকার ঘর বানাতেন, একে বলত মাদ্রাসা (দারাসা থেকে পড়ার জায়গা)। কিন্তু এটা তখনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি!

৪. অফিসিয়াল শুরু, ১০৬৫ খ্রি.

নিজামিয়া মাদ্রাসা, বাগদাদ। সেলজুক উজির 'নিজামুল মুলক' বানান। 

এটাই প্রথম সরকারি সিলেবাস, বেতনভুক্ত শিক্ষক, হোস্টেল, ডিগ্রি সহ মাদ্রাসা। ইমাম গাজ্জালী এখানে পড়াতেন।

৫. মাদ্রাসার প্রসার (১০৬৫-১২০০)

নিজামুল মুলক একাই ৩০+ নিজামিয়া বানান—নিশাপুর, মসুল, দামেস্ক, বাগদাদ।

এর দেখাদেখি ফাতেমিরা কায়রোতে আল-আজহার (৯৭০-এ মসজিদ হিসেবে শুরু, পরে ৯৮৮ সালে মাদ্রাসা)-কে বিশ্ববিদ্যালয় বানায়।

৬. ভারত উপমহাদেশে (১১৯১- )

মুহাম্মদ ঘোরি দিল্লি জয়ের পর মসজিদ-ভিত্তিক মাদ্রাসা শুরু। ১৪৪০ এ বাংলায় মাহমুদ শাহের আমলে প্রথম বড় মাদ্রাসা।

সারকথা এক লাইনে:

রাসূলের ৪৩৩ বছর পর ১০৬৫ সালে বাগদাদে প্রথম মাদ্রাসা বিল্ডিং করা হয়!

এর আগে ৪ শতাব্দী ইসলামের সব জ্ঞান মসজিদেই চর্চা হয়েছে।

এখন অবশ্য মসজিদে নামাজের পর পরই ইয়া বড় একটা তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। টাইলস-এসির নীচে চাপা পড়ে যায় ইসলামি শিক্ষা, মুসাফিরদের ক্ষণিকের আশ্রয়, মুত্র-বিসর্জনের শারীরিক তীব্র যন্ত্রণার আবসান...!

ফল যা হওয়ার তাই হয়! ব্যাঙের ছাতার মত পাল্লা দিয়ে গজিয়ে উঠে এক-দুই রুম বিশিষ্ট মাদ্রাসা। ছোট-ছোট বাচ্চাদের উপর নির্বিচারে চলে অমানুষিক যৌন নির্যাতন যার চালু নাম বলাৎকার [১]। পয়সার বিনিময়ে (যেটাকে পবিত্র কোরানে আগুন-খাওয়া বলা হয়েছে [—]) মসজিদের বয়ান ছড়িয়ে পড়ে মাঠে-ঘাটে-তেপান্তরে, যার চালু নাম ওয়াজ [২]!

সূত্র:

১.বলাৎকার: https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post.html?m=1

২. ওয়াজ: https://www.ali-mahmed.com/2019/04/blog-post.html?m=1

— এই মোল্লারা যে ধর্ম বেচে টাকার বিনিময়ে ওয়াজ করে লক্ষ-লক্ষ টাকা আয় করেন আমরা দেখি এই বিষয়ে পবিত্র কোরানে কি বলা আছে? 

পবিত্র কোরানে পরিষ্কার বলা আছে, ওয়াজের নামে টাকা নেওয়া মানে পেটে আগুন দেওয়া—কিয়ামতের দিন এদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি! এটার নাম আপনি হাদিয়া দেন বা সাদিয়া তাতে কিছুই আসে যায় না!

১. "আল্লাহ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি। (সূরা বাকারা ২:১৭৪)

২. "... আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না।..." (সূরা বাকারা ২:৪১)

৩. "...বলো, এর জন্য আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না। এ তো শুধু বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ। (সূরা আনআম ৬:৯০) 

—কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। 

: ভুল স্বীকার

পূর্বে আমি লিখেছিলাম, মসজিদ শব্দটা কোরানে এসেছে ২৮ বার ২৯টা আয়াতে!


একজন ভুলটা ধরিয়ে দিয়েছেন।

কেউ-কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে ক্ষেপে যান কিন্তু আমি কৃতজ্ঞ হই কারণ নইলে আমি শিখব কেমন করে!

আর যেটা হয়েছে, ইহাতে প্রমাণ হইল যে, আমি যে একটা অমানুষ না, মানুষ—ভুল করতে পারি সেটা দুধের দুধ, পানির পানি হয়ে গেল!

আরেকটা বিষয় বোঝা গেল, এখানে কেবল আমি একাই পাঠক না, অন্তত একজন পাওয়া গেল :)



Tuesday, November 3, 2026

আমির হামজার ওয়াজ—কোরানে ফেসবুক, দাঁড়িপাল্লা, বিকাশ!

আমির হামজা যে-সমস্ত কথা বলেন সেসব কী আসলেই সত্য? আমার বিশ্বাস হয় না! কেউ কি তার কাছে জানতে চায়নি, কেন-কিভাবে তিনি এমনটা বলেছেন?

যেমনটা আমির হামজা বলছেন,

"বাংলাদেশের মার্কা 'দাঁড়িপাল্লা' এটা কোরান থেকে নেওয়া...সুরা হাদিদ, ২৫ নাম্বার আয়াত...!"

চলুন, আমরা দেখি পবিত্র কোরানে কি লেখা? 

আরবি:

لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ

উচ্চারণ: লাকাদ আরসালনা রুসুলানা বিল-বাইয়্যিনাতি ওয়া আনযালনা মা'আহুমুল কিতাবা ওয়াল-মীযানা লিয়াকুমান-নাসু বিল-কিসত_

অর্থ:

"নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও দাঁড়িপাল্লা (মীযান) নাযিল করেছি, যাতে মানুষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।"(সূরা হাদীদ ৫৭-২৫)।

* এখানে المِيزَانَ (আল-মীযান) মানে মানদন্ড বা দাঁড়িপাল্লা।

আমির হামজা নামের এই লোক হচ্ছেন কোরান বিশারদ! সব কোরান থেকে বের করেন!

যেমন এখানে বলছেন:

...কোরানে কারিমে আল্লাহ ফেসবুক কিভাবে চালাবেন, দিয়েছেন...সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নাম্বার আয়াত। ...ফেসবুকের কথা কোরানে কোথায় পাবেন...

কোথায় লাইক করবেন, কোথায় শেয়ার করবেন ১৫০০ বছর আগে আল্লাহ সেটা কোরানে দিয়েছেন...!

আমরা পবিত্র কোরানের সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নাম্বার আয়াতটা একটু দেখি:

কোরানশরিফ, অনুবাদক: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
আরবি:
وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ

উচ্চারণ: ওয়া আইয়্যূবা ইয না-দা রাব্বাহু আন্নী মাসসানিয়াদ-দুররু ওয়া আনতা আরহামুর রা-হিমীন।

বাংলা অর্থ:

"আর স্মরণ করো আইয়্যূবের কথা, যখন সে তার প্রতিপালককে ডেকে বলেছিল, 'আমি দুঃখ-কষ্টে পড়েছি, আর তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু'।"

এই লোক পবিত্র কোরানের রেফারেন্স দিয়ে 'বিএনপি-আওয়ামিলীগ', 'ফেসবুক', 'বিকাশ' কিছুই বাদ রাখেননি!

এর ভাষ্য মতে, বিএনপি-আওয়ামিলীগ পবিত্র কোরানে যেখানে আছে। সুরা হুজরত, ৯ নাম্বার আয়াত:


এর ভাষ্য মতে বিকাশের কথা যেখানে আছে। সুরা আনআম, ৩১ নাম্বার আয়াত:
কোরানশরিফ, অনুবাদক: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
হে, কোরান বিশারদ, আমাদের মাথার মুকুট আমির হামজা মহোদয়, এখন কেউ যদি পবিত্র কোরান থেকে সূরা ত্বীনের এই আয়াত  (৯৫:৫) নিয়ে আসে!

কোরানশরিফ, অনুবাদক: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
আরবি:

ثُمَّ رَدَدْنَاهُ أَسْفَلَ سَافِلِينَ

উচ্চারণ: ছুম্মা রাদাদনাহু আসফালা সাফিলীন।

অর্থ:

"তারপর আমি তাকে নামিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে।"

* এখানে أَسْفَلَ سَافِلِينَ (আসফালা সাফিলীন) মানে নীচ।

আপনি/আপনারা তো পয়সার বিনিময়ে ওয়াজের নামে আগুন দিয়ে উদরপূর্তি করেন [+] যার সহজ বাংলা হারাম! এখন কেউ যদি বিনে-পয়সার হালাল ওয়াজ করে। আল্লাহ না-করুন, আপনার নামটা নীচ-এর সাথে জুড়ে দিল! 

...কোরানে কারিমে আল্লাহ 'অমুক যে নীচ' এটা দিয়েছেন...সুরা ত্বীনের ৫ নাম্বার আয়াত। ...কোথায় অমুককে পাবেন তা ১৫০০ বছর আগে আল্লাহ সেটা কোরানে দিয়েছেন...!

+ পবিত্র কোরানে পরিষ্কার বলা আছে, ওয়াজের নামে টাকা নেওয়া মানে পেটে আগুন দেওয়া—কিয়ামতের দিন এদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি! এটার নাম আপনি হাদিয়া দেন বা সাদিয়া তাতে কিছুই আসে যায় না!

১. "আল্লাহ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি। (সূরা বাকারা ২:১৭৪)

২. "... আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না।..." (সূরা বাকারা ২:৪১)

—কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান



Monday, November 2, 2026

বিটিভি—ভীতিবি!

বাচ্চু ভাই ওরফে মতিউর রহমান যখন ভোরের কাগজ বের করতেন তখন আমি বছর-দেড়েক ওখানে লিখেছিলাম। 'একালের রূপকথা' নামে ফি-হপ্তাহে লেখা হতো। পাতাটা দেখতেন সঞ্জীব চৌধুরী।

তখন 'মেলা' নামের একটা পাতা যুক্ত হলো, এ গ্রহের সবচেয়ে বড় লেখক আনিসুল হকের হাত ধরে। এমন-একজন লেখক যিনি নিজের বই নিজেই লিখতেন, নিজের হাতে! নিজের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজেই দিতেন এবং নিজের শ্বাস নিজেই আটকে, নিজেই বলতেন, নিঃশেষিত! ইয়ে নিঃশেষিত  না, বই নিঃশেষিত [১]!

সঞ্জীব দা'র অনুরোধে 'মেলা' পাতায় একটা লেখা লিখেছিলাম, 'ভীতিবি' নামে—বিটিভিকে ব্যঙ্গ করে। 'ঝামেলা-ঝালেমা' আমার পিছু ছাড়ে না—হুট করে ড্রেন রাস্তার মাঝখানে চলে আসে! সেবারও ছাড় দিল না [২]!

আনিসুল হক বাপ-দাদার সম্পত্তি মনে করে ভীতিবি নিজেদের করে নিলেন। যাক গে, সে কথা...!

আহা, বিটিভি! কত গালমন্দ করেছি তোমায়, মনে কষ্ট রেখো না, বাপ...!











































সূত্র:
১. আনিসুল হক...: https://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_21.html?m=1
২. ভীতিবি...: https://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post.html?m=1


Sunday, November 1, 2026

একজন তোফাজ্জল এবং এক টুকরো কাপড়!

আমরা, যখন যে সরকার থাকে তাকে গালি দেই! এ সত্য অধিকাংশ সময়ই এরা গালি খাওয়ারই কাজ করেন। সরকার-এ বা ক্ষমতায় গেলে এদের মাথা এলোমেলো হয়ে যায়! 

কিন্তু আমরা নিজেরা কী! আপাদমস্তক অমানুষ, এই কাতারে আমি নিজেও!

তোফাজ্জল হোসেনকে মনে আছে আপনাদের? আহা, তাঁকে ভুললে হবে না তো! হাসিখুশি একটা ছেলে—সে হতে পারত আপনার-আমার সন্তান!

দেখেন, কেমন একটা বেকুবের বেকুব—একটা শিশু-বাচ্চার মত সালামের ভঙ্গি করে! পাগলু একটা!

কোন-এক মেয়ের চক্করে এর মানসিক ভুবন এলোমেলো হয়ে যায়। আমাদের এই দেশের মত দেশ এই পৃথিবীতে আর নাই—বড় বিচিত্র এই দেশ! এখানে মানসিক ভারসাম্যহীন একটা মানুষকে আমরা অবলীলায় পাগল আখ্যায়িত করি এবং এদের সঙ্গে আমরা যে-আচরণ করি পৃথিবীর কোথাও এমন অমানবিক আচরণ করে না। (আমাদের বাপ-দাদা-পরদাদার দেশ ভারত/পাকিস্তানকে গোণায় ধরছি না)! আলোর মশাল একজন লেখকও ফট করে এদেরকে পাগল বলে দেন...!

যাই হোক, তোফাজ্জল মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিলেন। বাড়ি থেকে প্রায়ই উধাও হয়ে যেতেন—এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করতেন। একদা...!

তিনি অন্যমনষ্ক ভঙ্গিতে হাঁটতে-হাঁটতে ঢুকে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে। আমাদের গর্বের জায়গা—প্রাচ্যের অক্সফোর্ড! যেখানে, এই সমস্ত জায়গায় আমাদের সন্তানদেরকে পাঠাই উচ্চশিক্ষা নিতে। মানুষ হতে...! 

আমরা, বাবাদের, আমাদের তো বড়-বড় ডিগ্রি নেই—আমরা যে মানুষ হতে পারিনি, গো! এখন জান্তব স্বপ্ন আমাদের—আহা, আমাদের সন্তানেরা বড় ডিগ্রি নিয়ে মস্ত মানুষ হবে। তাই খেয়ে, না-খেয়ে কত অমর্যাদা সহ্য করে আমরা বাবারা, আমাদের সন্তানদের এই সমস্ত বড়-বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাই। 'খোদা-না-খাস্তা', কোন-একদিন সেই মানুষ বানাবার কারখানায় আমাদের যাওয়া হলে; আমাদের গায়ের কাদামাটির গন্ধ লুকিয়ে হাঁটতে-হাঁটতে কাঁপি! আহা, আমরা যা হতে পারিনি আমাদের সন্তানরা তা হয়ে দেখিয়ে দেবে—একেবারে তাক লাগিয়ে দেবে!

এই আপনার-আমার, আমাদের সন্তানেরা তোফাজ্জলকে চোর সন্দেহে স্ট্যাম্প দিয়ে পেটাতে থাকে, পেটাতে থাকে; একের-পর-এক! ডাইনিংয়ের অখাদ্য খেয়েও কী প্রাণশক্তি এদের গায়ে!

এই পেটানোটাকে এরা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যায়। তোফাজ্জল নামের একজনকে পেটাতে ২৮ জন যুক্ত হয়! রিপিট ২৮ জন! একজনকে পেটাতে ২৮ জন! আহা, এমন চাঁদরাত বছরে কয়টা আসে?

এরা কারা, কোত্থেকে আসে? আহা, এরা যে আমাদেরই লোক...!  

এটা এরা রপ্ত করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়ে। দল-নেতার প্রতি আনুগত্য এদেরকে শিখিয়েছে কেমন করে ভাই-সহপাঠির প্রতি চরম নির্মমতা দেখানো যায়। চোখের পলক না-ফেলে মেরে ফেলা যায়!

এদের আবার দয়ার শরীর—এরা তোফাজ্জলকে ভাত খেতে দেয়। হায় ভাত-হায় পেট-হায় পেটের আগুন! 

একজন মানসিক অসুস্থ, চরম নির্যাতিত মানুষও বোঝে সালুন-মাখা সাদা-সাদা ভাত! ভাতে ধোঁয়া উঠে না, লাশের মত ঠান্ডা—তাতে কী আসে যায়? আহারে, আহারে জীবন! এই মানুষটা যদি জানত, যদি জানত এটাই তার শেষ খাবার—লাস্ট সাপার!
আমরা এই ভিডিও-ক্লিপে দেখতে পাই তোফাজ্জল যখন খাচ্ছিল তাঁর শেষ খাবার—আশেপাশের লোকজনেরা কী স্বাভাবিক, কী উল্লসিত! 

খাওয়ার পর তাঁকে আবার পেটানো শুরু হয়। ৪ ঘন্টা লাগিয়ে তাঁকে পেটানো হয়েছিল।
তাঁর বোনের ভাষায় একটা সাপকেও এভাবে কেউ পেটায় না!

এই ২৮ জনের মধ্যে অধিকাংশই পলাতক! আহারে-আহারে, তোফাজ্জলের বিষয়টা যদি সামনে না-আসত তাহলে এই ২৮ জনের মধ্যে অনেকে আগামীর এসপি-ডিসি-মানবতাকর্মী হতেন। বা কেউ বাইরে থেকে আরও বড় ডিগ্রি নিয়ে এসে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াতেন। কে জানে, হয়তো মানবতা নিয়ে পড়াতেন! 

জানেন, এই তোফাজ্জলের উপর আমার না খুব রাগ হয়—রাগে গা জ্বলে যায়! ভাবুন দেখি, এই একজন তোফাজ্জল কতগুলো শিক্ষিত ছেলের ক্যারিয়ার নষ্ট করে দিল! ইশ-শ, আমাদের মত যাদের ক্যারিয়ার নাই তারা এর মূল্য বুঝবে বুঝি!
এই তোফাজ্জল নামের মানুষটা আমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার জন্য এক টুকরো কাপড়ও রাখেনি! এটা একটা কথা! হুমায়ূন আহমেদের ভাষায় বলি, পাগল তো—কাপড় নিয়ে সোজা দৌড় দিয়েছে!

আমি প্রায়শ ভাবি, পরম করুণাময় এই দেশে আলো-বাতাস-বৃষ্টি কেন দেন, কী কারণ? না-দিলে আমরা তাঁকে পরম করুণাময় বলব না, কেবল এই কারণে?

দূর-দূর, আসলে এঁদের, এই মানুষগুলোর কী গতি হবে কেবল এই কারণে পরম করুণাময়  তাঁর করুণার সবগুলো দরোজা খুলে রাখেন...!  

Saturday, October 31, 2026

Friday, October 30, 2026

দেওয়ানবাগী, না-না-না, আপনি মারা যেতে পারেন না!

দেওয়ানবাগী পীর মরে গেছেন, সত্যি-সত্যি! আমি বিশ্বাস করি না! কেউ যদি আমার দিকে বন্দুক তাক করে—কেউ যদি আমাকে তোপ দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে চায়, তাও না!

এ আমি বিশ্বাস করি না! আমাদের মত সাধারণ মানুষ যে ৫ মিনিট শ্বাস আটকে রাখতে পারে না পেছন দিয়ে শেষ বাতাস বেরিয়ে যায়—আমাদের মত, সাধারণ মানুষের মত আচরণ দেওয়ানবাগীর  করলে চলবে?
উঠুন পীর, উঠুন! আপনার ড্রাম-সমান পেট নিয়ে।

আপনাদের কি বিশ্বাস হয়, দেওয়ানবাগির ছেলে যখন জেলখানায় আটক ছিলেন তখন তিনি ধমকাচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহকে! 


আহা, এমন অসীম ক্ষমতাধর-কেউ মরেন কেমন করে! কোন স্টাইলে? ইশ-শ, সাধারণ-একটা মানুষের মত ইয়ে দিয়ে বাতাস বেরিয়ে গেল এ-ও কী সম্ভব। বাংলা সিনেমার মত ডায়লগ বলি, 'না-না-আ, এ আমি বিশ্বাস করি না'! 

দেওয়ানবাগি বলছেন, তিনি পীর না পীরের বাপের, তারও বাপের বাপ—তিনি লক্ষ-লক্ষ পীর জন্ম দেন!

দেওয়ানবাগির ওখানে গেলে নাকি রসুলকে দেখা যেত:

আহারে, সময় থাকতে সাধন হলো না—সময় থাকতে কেন গিয়ে রাসুলকে দেখে আসলাম না!

দেওয়ানবাগির এই বক্তব্যের বর্ণনা আমি দিতে পারব না। যার আগ্রহ আছে তিনি এই ভিডিও ক্লিপটা দেখে নেবেন দয়া করে!

আহা, মধু-মধু! 

একটা আরেকটাকে ছাড়িয়ে যায়!

দেওয়ানবাগীর কাছে নবীর জামা আছে এটা অবলীলায় বলছেন, যেটা লোকজনকে নাকি তিনি একজন দেখিয়েছেনও!
৩৩টা উট এবং ৩৩টা উটনির দামে নবী নাকি জামা বানাতেন। 

বটে রে, দেওয়ানবাগী! মিচিও কাকুর মাল্টিভার্সের কথা নাহয় বাদই দিলাম [১]। অল্প কয়েকটা তথ্য শেয়ার করি, হে দেওয়ানবাগী!
০. মাল্টিভার্স হিসাব থেকে বাদ!
১. যেটা আমরা দেখতে পাই, Observable Universe— যার ব্যাস ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ! 
২. এই ১টা ইউনিভার্সের মধ্যে গ্যালাক্সি আছে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন!
৩. এই ২ ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সির মধ্যে আমাদের 'মিল্কিওয়ে' একটা অতি সাধারণ গ্যালাক্সি।
৪. এই অতি সাধারণ ১টা মিল্কিওয়ের মধ্যেই নক্ষত্র আছে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন!
এর মধ্যে সূর্য একটা সাধারণ নক্ষত্র, অতি সাধারণ একটা বামন নক্ষত্র! এখানে সূর্যের দু'পয়সা দাম নাই।
৫. কিন্তু এই ১টা সূর্যের ভেতর পৃথিবী রাখা যাবে ১৩ লক্ষটা!
৬. পৃথিবী নামের এই গ্রহটার আয়তন ৫১ কোটি বর্গকিমি, আর এর মধ্যে বাংলাদেশের আয়তন হচ্ছে, ১,৪৮,৪৮০ বর্গকিমি। মানে গোটা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ হলো মাত্র ০.০২৯%। আবার বাংলাদেশের মধ্যে আপনার অবস্থান, আরামবাগ... মানে থুথু ফেললে অজস্র ছিটার একটা ছিটাও না!
এই অকল্পনীয় মহাবিশ্ব যিনি সৃষ্টি করেছেন—অসীম ক্ষমতাধর, তাঁকে যে-আপনি ধমক দেওয়ার ক্ষমতা রাখন; সেই আপনি ৭০ বছর বয়সে মরতে পারেন না! নো, নেভার...! 
'এ হাইস্যকর, অতি হাইস্যকর'!

আমি নিশ্চিত, আপনি ৭o বছর কোন ছার—আপনি তো বাঁচবেন ৭০০ বছরও না, ৭০০০ বছর, ৭ লাখ বছর, ৭ আলোকবর্ষ...! 
আমরা জানি আপনার মরার কোন সুযোগ নাই। আপনি আছেন আমাদের মাঝেই ...! আমি যখন তাড়াহুড়ায় অফিসে যাব তখন  অজান্তেই হয়তো আপনার পা মাড়িয়ে দেব, খেয়াল করব না! বা পাশের টেবিলে আপনি চুকচুক করে চা খাচ্ছেন আমি হয়তো লক্ষই করব না। কিন্তু আপনি মরে গেছেন এটা আমাকে বিশ্বাস করতে বলবেন না যেন, ভুলেও না!

আলোর গতি ছাড়িয়ে আপনি আসাযাওয়া করেন কিন্তু হয়তো খেয়াল করেননি! বাই দ্য ওয়ে, ক্ষমাপ্রার্থনাপূর্বক, দেওয়ানবাগী, আলোকবর্ষ বিষয়টা আপনি বোঝেন তো? আলোর গতিতে ছুটলে ১ বছরে যতটুকু যেতে পারবেন। মানে প্রতি সেকেন্ডে ২,৯৯,৭৯২, প্রায় ৩ লাখ কিমি গতিতে ১ বছরে যতটুকু যাওয়া যায়!
১৯৭৭ সালে আমরা একটা যান পাঠিয়েছিলাম, বুঝলেন দেওয়ানবাগী। পৃথিবী থেকে পাঠানো সেই যান 'ভয়েজার-১' ছুটছে ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭ সাল থেকে। 
গতি: ১৭ কিমি/সেকেন্ডে (আলোর গতি ২,৯৯,৭৯২/সেকেন্ডে) এখন পর্যন্ত যেতে পেরেছে মাত্র ২৫.৮ বিলিয়ন কিমি (২৫৯০ কোটি কিমি)!
এখনও, আজ পর্যন্ত, ১ আলোকবর্ষ দূরের কথা, মাত্র ১ আলোক-দিনও যেতে পারেনি! রিপিট, আলোক-দিন! ১ বছর হিসাবে ১ দিনও না!
এই তো সামনে, এই বছরে—১৮ নভেম্বর ২০২৬, বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪:১৬ মিনিটে ১ দিন অতিক্রম করবে!
বেয়াদবি নেবেন না, আপনি তো আবার কয়েক আলোকবর্ষ দূরে গিয়ে মুত্র বিসর্জন করে ফিরে আসার ক্ষমতা রাখেন। এসে, তেল চিটচিটে ব্যাগ হাতে কোনও দুর্গন্ধময় বাজারে শোল মাছ কেনেন!
ওহো, ভুলেই গিয়েছিলাম, আপনার মত পীরদের তো আবার নিজ হাতে বাজার করতে হয় না! মুরিদরা সব করে দেয়—রিপিট, সব! ইয়ে-ও! 

আচ্ছে, এটা আবার ভুল বললাম, আপনার কয়েক আলোকবর্ষ দূরে গিয়ে ইয়ে বিসর্জন করতে হবে কেন! আপনার খাওয়া-বর্জ্য ত্যাগ এই সমস্ত হ্যাপা তো কখনও ছিল না। এখনও নাই কারণ আমি বিশ্বাস করি না আপনার মত বিপুল ক্ষমতাধর কারও মৃত্যু হতে পারে!

* আমাদের 'ধর্মের দন্ডটা' যারা ধরে আছেন তারা অবলীলায় পিটিয়ে মেরে ফেলেন শামীম নামের একজন মানসিক অসুস্থ মানুষকে [২], তারা পুড়িয়ে মারে ফেলেন দিপু দাসকে [৩]! (এর পেছনের কারণ হিসাবে আমাদের চুতিয়া বুদ্ধিজীবী শহিদুল আলম আবার এই নিয়ে আমাদেরকে কিচ্ছা শোনান, হাসিনা, জনগণের ক্ষোভ, রেজিম ব্লা-ব্লা-ব্লা!)

যাই হোক, সবিনয়ে জানতে চাই, ওহে, ধর্মের দন্ডধারী লোকজনেরা আপনারা কি দেওয়ানবাগীর গোপন কেশও কেউ স্পর্শ করতে পেরেছিলেন? জ্বী, ঠিক শুনেছেন, গোপন কেশ! কি বললেন, তখন আপনাদের বা সাবালক হন নাই? তা, আপনাদের বাপরা তখন কই ছিলেন? সবাই কী তখন 'কোঁহ-ই-তূর' পর্বতে 'জিকির-আসকার' নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন...!  

১. মিচিও কাকু: https://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_07.html?m=1
কাকুর এই লেখাটা লিখেছিলাম, ২০০৯ সালে। ২০২৬ সালে কাকুর এই লেখাটা নিয়ে Meta AI-এর দ্বিমত আছে: 

২. খুন, শামীম...: https://www.ali-mahmed.com/2026/10/blog-post_23.html?m=1

৩. খুন, দিপু দাস: https://www.ali-mahmed.com/2025/12/blog-post_25.html?m=1

  



Wednesday, October 28, 2026

দেলওয়ার হোসেন সাঈদী-মানিক পশারী বনাম নগ্ন রাষ্ট্র!

সাইদী রাজাকার [+], কি রাজাকার না [++]—পশারী মুক্তিযোদ্ধা কি মুক্তিযোদ্ধা না, সে ভিন্ন আলোচনা।

কিন্তু একটা মানুষকে, রিপিট, একটা মানুষকে দাফন করতে বাধা দেওয়া হয়েছে, জানাজা পড়তে দেওয়া হয়নি! এই অধিকার এই গ্রহের, এই রাষ্টের, রাষ্ট্রের কোনও সন্তানের, সেই সন্তানেরও কোনও-এক রুহানি সন্তানের, কোনও শুয়োরের, কোনও কুকুরের, কোনও-একটা গুয়ে-ভাসা কৃমির, কারও নেই। রিপিট, কারও নেই! আপনি কোনও ধর্মের মানুষকে তাঁর মৃত্যুর পর ধর্মীয় আচারে বাধা দিতে পারেন না! লাউড এন্ড ক্লিয়ার!

খালেদ মুহিউদ্দিনের সাক্ষাৎকার-পর্ব থেকে আমরা যথারীতি তার আঞ্চলিক ভাষার জ্ঞানে আলোকিত হই, এবারও হলাম! তিনি জামায়াতের কোন-এক নেতা রাশেদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন। কোন প্রমাণ না-দেখিয়ে তার বিখ্যাত আঞ্চলিক ভাষায় বলছেন,
'আমি কিন্তু শুনছি...'!

এই হচ্ছে, দুঁদে সাংবাদিকের নমুনা, 'আমি কিন্তু শুনছি...'! খালেদ মুহিউদ্দিন, এর কাজ হচ্ছে, 'গুইসাপ ৭৫০ বছর বাঁচে' [১], এই সমস্ত কাজের প্রশ্নগুলো না-করে এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীকে হুজুর ডেকে-ডেকে মুখে ফেনা তুলে ফেলা। আজব, এর মিনিমাম প্রস্তুতিও থাকে না [*]!

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের ভাইরা-সব সন্ত্রাসী, এই সব মোক্ষম প্রশ্ন না-করে হাবিজাবি কথা বলা প্রকারান্তরে এদেরকে এক প্রকার ছাড় বা বৈধতা দেওয়া।

যাই হোক, খালেদ মুহিউদ্দিনকে নিয়ে আলোচনা করাটা 'শব্দের অপচয়'! মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে গেছি!

এই যে লোকটা, প্রকাশ্যে হ্যান্ড-মাইকে ঘোষণা দিচ্ছে,

"মানিক পশারীকে পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না..."

একে গ্রেফতার করে, আইনের আওতায় আনতে হবে। আমি মুক্তিযোদ্ধা চিনি না, আমি রাজাকার চিনি না—আমি চিনি একজন মানুষকে, আমি চিনি একজন মুসলমানকে, যাকে আপনি জানাজায়-কবরস্থ করতে বাধা দিচ্ছেন।

এই লোক কার পক্ষ নিয়ে এমন ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে! এর টি-শার্টে যে 'মাসুদ সাইদী'র নাম, কে সে—আমার জানার প্র‍য়োজন নেই। তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। হু দ্য হেল ইয়্যু আ' মাসুদ সাইদী—একটা মৃতদেহের প্রতি এই অসম্মান জানাবার সাহস আপনি কোথায় পেলেন?

একটা মৃতদেহ, সব কিছুর ঊর্ধ্বে এখন—তাঁর বিচারের সমস্ত দায় এখন পরম করুণাময়ের হাতে। আর কারও না! সে যেই হোক, যে অপরাধই করুক তাঁর গায়ে একটা ফুলের টোকা দেওয়ার ক্ষমতা কেউ রাখে না! 
যেমনটা আপনি পারেন না গোলাম আজমের লাশে জুতা মারতে! যেমনটা আপনি পারেন না লাশবাহী গাড়িতে থুথু দিতে [২]

আর এটাও কল্পনা করা যায়, একটা সভ্য দেশে আপনি একটা মানুষকে শেষবিদায়ে বাধা দিচ্ছেন!

রাতের আঁধারে মোবাইলের ক্ষীণ আলোয় মানিক পশারীর বোন-মেয়ের কবর খোঁড়ার এই ছবিটা বাংলাদেশের একটা আইকনিক ছবি হয়ে থাকবে। 
মানিক পশারীর মেয়ের বক্তব্য!

মানিক পশারীর বোন-মেয়ে কি বলছেন:

রাষ্ট্র হচ্ছে পিতা—পিতাকে নগ্ন দেখতে ভাল লাগে না! আপনি চোখ বন্ধ করে একটু কল্পনা করুন, আপনার গুরুগম্ভীর, জাদরেল পিতা এটা শেখাচ্ছেন-ওটা শেখাচ্ছেন, কঠিন ধমক দিচ্ছেন কিন্তু গায়ে কাপড় নেই, একটা সুতোও নেই! দৃশ্যটা কল্পনা করে আমি চোখ বন্ধ করে ফেলি...!
... ... ... 
লেখাটা পাবলিশ করার পর মাসুদ সাঈদীর এই বক্তব্য দেখলাম:
এই লোক একজন আইনপ্রণেতা হয়েও, আল্লাহর নামে শুরু করেও, চোখের পলক না-ফেলে কেমনতরো মিথ্যা বলেন তার নমুনা এটা। তিনি মানিক পশারী কি করেছেন, কি করেন নাই এই নিয়ে হা বিতং এক বিরাট কিচ্ছা বলেছেন।
এই কিচ্ছা না-বলে পশারীর দাফন নিয়ে যে অমানবিক, অভূতপূর্ব, অনৈসলামিক কর্মকান্ড ঘটেছে তা নিয়ে বললে মানবিক, শোভন হত!
তিনি বলেছেন, কেউ দাফনে বাধা দেয়নি। ডাহা মিথ্যা কথা! তার নাম লেখা টি-শার্ট গায়ে প্রকাশ্যে মাইকিং হয়েছে:
"পশারীর দাফন পিরোজপুরের মাটিতে হবে না।...করতে দেব না।... " (প্রশাসনকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।)

দিনকে রাত, রাতকে দিন করা, চোখের পলক না-ফেলে মিথ্যা বলা এদের পক্ষেই সম্ভব। মাসুদ সাঈদী, তিনি আবার মানিক পশারী নামের মৃত মানুষটার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ফেরত চাচ্ছেন। এত কিছুর পরও যে মানুষটা প্রকাশ্যে এমন একটা বক্তব্য রাখতে পারেন তিনি অপ্রকাশ্যে কী না করতে পারেন [**]! ধৃষ্টতা বটে!

আচ্ছা, এরা কারা, কোত্থেকে আসে—যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে গোল হয়ে তামাশা দেখতে-দেখতে মানুষ পুড়িয়ে মারে; কবর থেকে লাশ উঠিয়ে এনে পুড়িয়ে দেয়? আহা, এরা, এরাই তো...!

সূত্র:
১. গুইসাপ বাঁচে ৭৫০ বছর:   https://www.ali-mahmed.com/2026/10/blog-post_12.html?m=1

২. লাশবাহী গাড়ি...: https://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_28.html?m=1

*

** কোনও-একটা ভিডিও ক্লিপে দেখলাম মাসুদ সাঈদী তার ধৃষ্টতার আরেক নমুনা দেখাচ্ছেন! তিনি মৃত মানিক পশারীকে নিয়ে বলছেন যে তিনি চোরাকারবারী ছিলেন। ভাল-ভাল! এক বুড়ি আরেক বুড়িকে বলে নানি শ্বাশুড়ি! 
মাসুদ সাঈদী নিজে করছে দু-নম্বুরি:
এ করবে হালাল হোটেল! 

কেন মুক্তিযোদ্ধারা তাঁর জানাজায় শরিক হলেন না!
যে দেশে প্রকাশ্যে মুক্তিযোদ্ধার গালে জুতা মারেন সেই দেশে কী দাগ পড়েছে এদের সেধে অপমানিত হওয়ার!


কেবল একটা ইতরই উল্লসিত হতে পারে একজন মুসলমানের জানাজা খুঁড়ছে বাড়ির মেয়েরা:
পবিত্র কোরান মতে, আগুন ওরফে হারাম খেয়ে-খেয়ে [***] এদের শরীরে এমন 'আগুনে-জোশ' এসে যায় যে, এই নিয়ে উল্লাস করে!
ওয়াজের নামে টাকা নিয়ে, হারাম খেয়ে-খেয়ে মাদানির শরীরে এমন চর্বি জমেছে যে বলছে, মহিলাদেরকে লাথি মারার জন্য। বরং হারাম খাওয়ার জন্য এটা ওরই প্রাপ্য!

এই আব্বাসী কী জাঁক করেই না বলছে, 'মেয়ে-বোন মিলে দাফন করেছে...আ্যস-আ্যস...'!

এই যে আরেকটা লেকচার ঝাড়ছে! কী চিবিয়ে-চিবিয়েই না বলছে, 'পিরোজপুরে তোমাকে দাফন করতে দেয় নাই...'! 
এরা আলেম, না জালেম! এই হচ্ছে এদের মুখের জিহাদি ভাষা!

এই আরেকটা অসভ্য! এ উল্লাস করছে মেয়ে মানুষ মোবাইলের লাইট টিপে কবর খুড়ছে! 
এ যে কী পরিমাণ অসভ্য তার অজস্র  নমুনার একটা:
এর আবিষ্কার পবিত্র কোরানে ফেসবুকের কথা আছে, লাইক, শেয়ারের কথা আছে।
একে দিয়ে শরীয়া আইনে বিচার শুরু করা যেতে পারে!

এই যে আরেক আগুনখেকো ওরফে হারামখোর! কী অহংকার নিয়েই না বলছে:

*** পবিত্র কোরানে পরিষ্কার বলা আছে, ওয়াজের নামে টাকা নেওয়া মানে পেটে আগুন দেওয়া—কিয়ামতের দিন এদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি! এটার নাম আপনি হাদিয়া দেন বা সাদিয়া তাতে কিছুই আসে যায় না!

১. "আল্লাহ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি। (সূরা বাকারা ২:১৭৪)

২. "... আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না।..." (সূরা বাকারা ২:৪১)

—কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

... ... ... 
+

++










WhatsApp