Search

Tuesday, May 19, 2026

One Reason Why Bangladesh Is Becoming More Violent?

The Invisible Poison: 

লেখক: Sadman Fakid: https://www.facebook.com/share/1ayx6hX1nS/

(লেখকের লিখিত অনুমতিক্রমে প্রকাশিত)

"ইউএস-এ আসার পর আমি আর আনিকা একটা জিনিস খেয়াল করলাম।

আমাদের বাংলাদেশী গ্র্যাজুয়েট কমিউনিটিতে অনেক নিউ প্যারেন্টস আছেন। প্রত্যেকটা কমিউনিটি ইভেন্টেই তাদের কিউট-কিউট বাচ্চাগুলো আসে। আমাদের সবার সাথে মিশে, এঞ্জয় করে, খেলে একে অপরের সাথে। এই বাচ্চাগুলা অদ্ভুতভাবে বাংলাদেশের ছোট বাচ্চাগুলার তুলনায় অনেক বেশি হাসিখুশি, কন্টেন্ট।

আমার ছোট বোন আর কাজিনদেরসহ অনেক বাচ্চাকে আমি বাংলাদেশে বড় হতে দেখছি; আমার মনে হয় ওরা এই বাচ্চাগুলার তুলনায় আরও অনেক বেশি ইরিটেবল ছিলো, অনেক বেশি কান্নাকাটি করতো– অপরিচিত ক্রাউডের এনভায়রনমেন্ট হলে তো কথাই নেই। সেখানে এই বাচ্চাগুলো আরও অনেক ইজিলি মিশুক এবং কেঁদে উঠলেও বেশ তাড়াতাড়ি থেমে যায়। অবশ্যই এখানে তাদের প্যারেন্টসেরই মোস্ট ক্রেডিট, তারপরও প্যাটার্নটা নোটিসেবল। এই ডিসকাশন আমি অনেকের সাথেই করছি, সবাই মোর অর লেস এগ্রি করছে।

এই যে হুটহাটের কান্নাকাটিটা, এটা কিন্তু একটা বায়োলজিক্যাল বিষয়। আমরা কাঁদায় ব্রেনের এক জায়গা কিন্তু সেই কান্নাটাকে থামায় ব্রেনের অন্য জায়গা। কান্না থামানোর ইনহিবিটরি মেশিনারি আমাদের ব্রেনের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে থাকে, যেটা কান্নাকাটির কেমিক্যাল লোডের সামনে আমাদের ব্রেনটাকে শান্ত করে। অর্থাৎ এইটা একটা ইম্পালস কন্ট্রোলের বিষয়।

এই ইম্পালস কন্ট্রোলজনিত সমস্যা তো আসলে জাস্ট দেশের বাচ্চাদের না, সম্পূর্ণ জাতিরই সমস্যা। বিশেষ করে ২০২৪ এর বসন্তের পর থেকে আমরা এমন এক জাতিকে দেখছি যার ইম্পালস কন্ট্রোল বলেই কিছু নাই। 

এইসব নিয়ে ভাবতে গেলে আমার মনে পড়ে ঢাবির 'তোফাজ্জলের' কথা।

মানসিকভাবে অসুস্থ লোকটাকে আমাদের তথাকথিত সুস্থ ছাত্ররা একেবার মারতে-মারতে আধমরা করে ফেলল। তারপর একটু থেমে, তারা আবার মারল! এইবার মারতে-মারতে মেরেই ফেললো একদম!

এরপর আমার মনে পড়ে দীপু চন্দ্র দাসের কথা।

মেরে লোকজন তাকে গাছে ঝুলায়ে পুড়িয়ে দিলো একদম। আশেরপাশের শত-শত মানুষ 'চিয়ার' করে উঠলো! অথচ কারও মনে হলো না একটু থামা উচিত।

আবরার ফাহাদ থেকে লালচাঁদ সোহাগ–সবাই কী একই ভাবেই মরে গেলো না? এমন কিছু নব্য যুবকের হাতে, যারা কোনোভাবেই থামতে জানে না। নিজেদেরকে থামাতে জানে না। মৃতদেহকে তারা আরও মারতে থাকে। কবর থেকে মৃতদেহ তুলে নিয়ে আসে, শত-হাজার মানুষের সামনে প্রকাশ্যে রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। যা অভূতপূর্ব!

ভিডিও ঋণ: BBC
২৪ এর আগস্ট থেকে ২৬ এর মার্চের এই অল্প সময়ে অন্তত সাড়ে তিনশ লোক মবের হাতে এইভাবে মারা গেছে, রিপোর্টেড। স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্লানেশনগুলা তো অবশ্যই খাটে। হাসিনার রেজিম পড়ে গেছে, মানুষের দীর্ঘ সময়ের জমে-থাকা ক্ষোভ, ইন্টেরিম দুর্বল ছিলো, নতুন ইলেক্টেড ওয়ানও এখনও সবকিছু হাতে নিয়ে আসতে পারে নাই।

কিন্তু এই ব্যাখ্যা মানুষের মানুষ মারার আগ্রহকে ব্যাখ্যা করতে পারে না, অকল্পনীয় হিংস্রতার গতিকে ব্যাখ্যা করতে পারে না। একটা মানুঢ, একটা প্রাণকে মারার জন্য চোখের নিমিষে ভীড় হয়ে যায় এখানে দ্রুত! এস্কেলেট করে আফ্রিকার জঙ্গলে দলছুট কোনো হরিনের দেখা পাওয়া জাগুয়ারের দৌড়ের সঙ্গে। সাথে-সাথে মানুষ ক্যামেরা নিয়া হাসিমুখে রেডি হয়ে যায় রেকর্ড করার জন্য। এই যে ভায়োলেন্সের প্রখরতা, দ্রুততা, আর হঠাৎ করে হিংস্রতা এত গুণ বেড়ে যাওয়া, এইগুলো কী কেবল পলিটিক্যাল ব্যাখ্যা দিয়ে উড়ায়ে দেয়া যায়?

আমার কাছে মনে হয়, যায় না। তাই আমি নানান জায়গায় উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি। খুঁজতে খুঁজতেই আমেরিকার একটা রিসার্চে আমার চোখ আটকায়ে যায়।

৬০-৭০ এর দশক ছিলো আমেরিকার ভায়োলেন্ট ক্রাইমের স্বর্ণযুগ। এরপর নব্বইয়ের দশকে হঠাৎ করে এই 'ভায়োলেন্ট ক্রাইম' ক্রমশ নেমে আসে। নানা বিশেষজ্ঞ সেটাকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছিলেন কিন্তু কেউই পুরাপুরি বুঝে উঠতে পারেননি! কারণ এই কমাটা ছিলো পুরো দেশজুড়ে! অথচ আমেরিকার স্টেটওয়াইজ পলিসি কিন্তু আলাদা, সব মেজর সিটিগুলাতেই পলিসিমেকিং ছিলো ডিফারেন্ট। পুলিসিং, ম্যাস ইনকারসারেশন, লিগ্যাল এবরশন, এরকম নানা বিষয় দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সময়ের ফ্রেমে বা জায়গার ফ্রেমে কোথাও-না-কোথাও ব্যাখ্যাটা ব্যর্থ হয়!

এরপর একুশ শতকের শুরুতে রিক নেভিন নামের এক ইকোনোমিস্ট এক চমকপ্রদ রিসার্চ সামনে নিয়ে এলেন। তিনি দেখালেন আমেরিকার 'রাইজ অ্যান্ড ফল অব ভায়োলেন্ট ক্রাইম', গ্যাসোলিনে লেড বা সীসা এড করার টাইম ফ্রেমের সাথে জড়িত! ২২ বছরের টাইম ল্যাগে পুরাপুরি কো-রিলেটেড।

গাড়ির তেলে লেড আসার ২২ বছর পর ভায়োলেট ক্রাইম বেড়ে গিয়েছিল কিন্তু তারপর তেলে লেড বন্ধ করার ২২ বছর পর সেই ক্রাইম কমে এসেছে। ২২ বছর! একটা মানুষের প্রাপ্তবয়স্ক হতে যে সময় লাগে। তিনি এই গবেষণা আরও ৮টা দেশের ডেটাতেও এক্সটেন্ড করছেন–সবখানেই একই কনক্লুশন। কোররিলেশন ছিলো ০.৯ এরও উপরে–সোশ্যাল সাইন্সে যা অত্যন্ত দুর্লভ। 

ব্যাপারটা নিউরোলজি ব্যাখ্যা করতে পারে। লেড আমাদের বডির কাছে একটা ছদ্মবেশী ক্যালসিয়াম। এর ক্যাটায়নিক চার্জ ২ আর আয়নিক রেডিয়াসও কাছাকাছি। ডেভেলপিং ব্রেনে এটা ক্যালসিয়ামের স্লটগুলায় ঢুকে যায়, এরপর প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে ড্যামেজ করে!
যেটা আমাদের ইম্পালস কন্ট্রোল, ফিউচার অরিয়েন্টেশন আর ইমোশনাল রেগুলেশনের জায়গা। 'লেড-এক্সপোজড' বাচ্চারা অনেক অ্যাকিউট কোনো সিমটম দেখাবে এমন না। সে জাস্ট একটু বেশি ইম্পালসিভ হবে, ইন্স্ট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশনের প্রতি বেশি দুর্বল হবে।

ইন্ডিভিজ্যুয়াল লেভেলে এই ড্যামেজ টের পাওয়া খুব টাফ। অথচ পপুলেশন লেভেলে এই ড্যামেজ ঠিকই দেখা যায়। ২২ বছরের টাইম গ্যাপে, ইকোনমিস্টদের রিসার্চে। এই আলাপ পড়ে আমার আমেরিকায় বড় হওয়া বাংলাদেশী বাচ্চাগুলার কথা মনে পড়ে যায়, তারা কি বাংলাদেশে বড় হলেও এত হাসিখুশি হতো?

এই প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজতে গেলাম ডেটার মধ্যে। ঘেঁটে পেলাম ভয়ানক সব পরিসংখ্যান। ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী লেড পয়জনিং এ আক্রান্ত দেশগুলার তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ফোর্থ। ২০২৫ এর MICS সার্ভে দেখাচ্ছে আমাদের দেশের ৩৮ শতাংশ বাচ্চার রক্তে WHO-র ইন্টারভেনশন থ্রাশহোল্ডের চেয়ে বেশি লেড আছে।

সংখ্যায় দুই কোটির বেশি বাচ্চা! আর ২০২২-২৪-এ 'আইসিডিডিআরবি' এবং স্ট্যানফোর্ডের এক স্টাডিতে ঢাকার ৫০০ জন ২-৪ বছর বয়সী বাচ্চাকে পরীক্ষা করে দেখা গেছে! প্রত্যেকটা বাচ্চার রক্তে লেড আছে, এবং তারা বলছে,

ঢাকার ৯৮ শতাংশ ছোট বাচ্চার রক্তে লেডের পরিমাণ আমেরিকার 'ইমিডিয়েট অ্যাটেনশন নিডেড' বলা মাত্রার চাইতে বেশি।

এই লেড আসছে কোথা থেকে? এক নাম্বার সোর্স 'আনরেগুলেটেড ব্যাটারি রিসাইক্লিং'। দেশে ৩০ লাখের উপর ব্যাটারি রিকশা চলে, প্রত্যেকটায় পাঁচটা লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি, প্রতিটার আয়ু ৬-১১ মাস। এই ব্যাটারিগুলা সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা হাজারের উপর অনিয়ন্ত্রিত 'ভাট্টি'-র খোলা চুল্লিতে গলানো হয়, (UNEP, পিওর আর্থের ডেটা) যার বেশিরভাগই আবাসিক এলাকার ভিতরে। প্রতিটা ভাট্টির আশেপাশের মাটি, পানি, বাতাসে লেডের ধুলা ছড়ায়।

স্ট্যানফোর্ডের স্টাডিতে তারা দেখেছে যে,

এ ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাইটের ১ কিলোমিটার ভিতরে যে বাচ্চাগুলা থাকে, তাদের রক্তে লেডের লেভেল বাকিদের চেয়ে ৪৩ শতাংশ বেশি।

দুই নাম্বার সোর্স পেইন্ট-রঙ।

বাংলাদেশে লেড পেইন্ট আইনত নিষিদ্ধ, কিন্তু বাজারের ৩০ শতাংশ পেইন্ট এখনও লিগ্যাল লিমিটের অনেক বেশি লেড সহ বিক্রি হয়! প্রায়শই ১০,০০০ পিপিএম এর কাছাকাছি ঘনত্বে (Daily Star, পিওর আর্থ)।

তিন নাম্বার সোর্স আমাদের রান্নাঘর। দশকের-পর-দশক ব্যবসায়ীরা হলুদকে আরও উজ্জ্বল হলুদ দেখানোর জন্য তাতে লেড ক্রোমেট পিগমেন্ট মিক্স করেছে! কারণ আমরা উজ্জ্বল হলুদকে 'ভালো হলুদ' বলে চিনি। অর্থাৎ লেড আমাদের ডাল-ভাতে ঢুকে মার্কেট সিগন্যালের পথ ধরে।

লেডকে কারণ হিসেবে দেখানোটা সবচেয়ে ইজি কারণ লেডকে নিয়ে এই পার্সপেক্টিভে অলরেডি লার্জ স্কেল রিসার্চ আছে। কিন্তু লেডই তো একমাত্র বিষ না। হাজারিবাগের ট্যানারি প্রজন্মের-পর-প্রজন্মকে ক্রোমিয়ামে ডুবিয়ে রেখেছে। ঢাকার বাতাস WHO-র গাইডলাইনের বহুগুণ ছড়িয়া যায় প্রতি বছর– গাড়ির ধোঁয়া, ইটভাটার কয়লা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল নিঃসরণের একটা কেমিক্যাল ককটেল! এই বিষ এখানে চার কোটি মানুষ প্রতিদিন শ্বাসের সাথে টানে। গ্রামের কয়েক কোটি মানুষ টিউবওয়েলের আর্সেনিকযুক্ত পানি খেয়ে গেছে দশকের-পর-দশক। ডেভেলপিং ব্রেন এর একটার বিরুদ্ধেও খুব একটা প্রতিরোধ করতে পারে না। একই শৈশবে কয়েকটা একসাথে আসলে প্রায় কিছুই করার থাকে না।

লেড হলো বাংলাদেশের পলিউশন অপেরার একটামাত্র ইন্স্ট্রুমেন্ট। কিন্তু এর পিছনে একটা পুরা অর্কেস্ট্রা বাজতেছে।

এখন আমরা আমেরিকার ২২ বছর ল্যাগের হিসাবটা আমাদের কনটেক্সটে চিন্তা করি। ২০২৪-২৬ এর মব ভায়োলেন্সে যারা মানুষ মারছিল তারা জন্ম নিয়েছিল ২০০০-এর দশকের শুরুতে। ঠিক সেই সময়টায় বাংলাদেশের গাড়ির ফ্লিট তিনগুণ হয়েছিল, ব্যাটারি রিসাইক্লিং ছড়াচ্ছিল! ঢাকার বাতাস-মাটি-পানি সেই সব রাসায়নিক শোষণ করছিল যেগুলো আজকের দুই বছর বয়সী বাচ্চাদের রক্তে 'আইসিডিডিআরবি' এতদিনে মাপছে।

নেভিনের ২২ বছরের ক্যালকুলেশন এই কোহোর্টের উপরই হুবহু পড়ে– কেবল গ্যাসোলিনের লেড না, আরও অনেক কিছু সহ।

আমার মনে হয়, বাংলাদেশের এই মব জেনারেশনের ব্রেনটা এতসব নিউরোটক্সিনে পুরো বারুদ হয়ে আছে। একটু ঘষা দিলেই জ্বলে উঠে। আশেপাশের সব ছাড়খাড় করে দেয়। দাবানলকে যেমন থামানো যায় না তেমনই থামানো যায় না মবদের। সবার মাথায় ভায়োলেন্সের অফুরন্ত জ্বালানি। বাংলাদেশের বাতাসে শ্বাস নিয়ে, বাংলাদেশের হলুদ খেয়েই তো সবাই বড় হয়েছে। তাই দল-মত-বাম-ডান নির্বিশেষে সবাই এখানে 'টিকিং বম্ব'। 

নিজেকে জিজ্ঞেস করি, আমাদের কালচারের কতটুকু আসলে আমাদের কেমিস্ট্রি? পলিটিক্স, এডুকেশন, ভ্যালুজ, যেগুলোয় আমরা সব ব্যাখ্যা খুঁজি, এর কতটুকু আসলে ছোটবেলায় চুপিচুপি জমে যাওয়া বিষের ছায়া? ভাট্টির পাশের মাটি, ট্যানারির উপরের বাতাস, টিউবওয়েলের পানি, দেয়ালের পেইন্টের ধুলো, এইগুলার ফলাফল আমাদের নৈতিকতার ভাষায় ব্যাখ্যা হতে থাকে।

আমজনতা লেড ক্রোমিয়াম খেতে-খেতে মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ হতে থাকে। আইকিউ কমতে থাকে, ইম্পালস কন্ট্রোল বলে কিছু আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। বাসায় পেটায় স্ত্রীকে, রাস্তায় মব হয়ে পেটায় উদ্বাস্তুদের।

ইন্সট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশনের পাগল এই বিকলাঙ্গরা পর্ণ দেখে মাথার নিউরোট্রান্সমিটার সিস্টেমকে আরও ধ্বংস করে। এরপর ধর্ষণের সুযোগ পেলে না-করে আর থাকতে পারে না কারণ ইম্পালস কন্ট্রোল বলে ব্রেনের যে ফাংশন সেটা আর কাজ করছে না। এগুলোকে আমরা বলি 'অশিক্ষা', 'অসভ্যতা', 'মৌলবাদ'। আসল কারণটা নিয়ে আমাদের আর কাজ করা হয় না। 

আমেরিকার গল্পে একটা পজিটিভ আর্ক আছে। লেড গ্যাসোলিন থেকে সরে গেল, ক্রাইম কমে গেল। 

বাংলাদেশের সেরকম কোনো আর্ক চোখে পড়ে না। ভাট্টি কমছে না, বাড়ছে, ই-রিকশার সাথে সাথে। হলুদের লেড নিয়ে দেখলাম বেশ কাজ হয়েছে ২০১৯-২১-এ কিন্তু পেইন্টের এনফোর্সমেন্ট নাই। বাতাস বছর-বছর খারাপ হচ্ছে। এই ড্যামেজটা একবার হয়ে গেলে 'আনডু' করা যায় না। শুধু ঘটার আগে থামানো যায়। আর সেটা, হলুদের এক্সেপশনটা বাদ দিলে, হচ্ছে না।

বাংলাদেশ যেটার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেটা পরে সমাধান করার মত কোনো রহস্য হিসেবে আর বাকি নেই। সেটা হয়ে গেছে বর্তমান। জেনেটিক প্রিডিস্পোজিশন আর কালচার একে অপরকে ফিড করতে-করতে ভবিষ্যত হয়তো আরও ভয়ানক হবে। সেটা ইতিমধ্যেই লেখা হয়ে গেছে! এমন সব বাচ্চার রক্তে, যারা এতই ছোট যে নিজেরাও জানে না কতটা অস্থির নিয়ন্ত্রণহীন কালচারের অংশ তারা হতে যাচ্ছে।

ঢাকার বাতাস একরাতে বদলাবে না। ভাট্টিগুলা একদিনে বন্ধ হবে না। কিন্তু ছোট-ছোট কিছু কাজ এখন থেকেই শুরু করা যায়। লেড পেইন্টের আইন আছে, সেইটা মানতে বাধ্য করা যায়। আবাসিক এলাকার ভাট্টি চিহ্নিত করে সরানো যায়। হলুদের মার্কেটকে কন্টিউনিয়াস মনিটরিংয়ে রাখা যায়। বাচ্চাদের রক্তের লেড নিয়মিত মাপা যায়, যেমন আমরা ওজন আর উচ্চতা মাপি।

আর শুধু পরিবেশ না, বাচ্চাদের সাথে আমাদের আচরণটাও বদলানো দরকার। আমাদের জেনারেশনে আমরা যেভাবে বড় হয়েছি, সব ছোটখাটো জিনিসে চিৎকার-চেঁচামেচি, মারধর, ভয় দেখানো– এইগুলোও 'প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের ডেভেলপমেন্টে' বাধা দেয়। এবং বাচ্চারা দেখে তার বাবা-মারাই ইম্পালস কন্ট্রোল করে না, তারা কী করবে? বাচ্চাকে ইম্পালস কন্ট্রোল শেখানো এখনকার বাংলাদেশী প্যারেন্টিং কালচারে ঢোকানোটা মাস্ট।

মব কালচারকে নর্মালাইজ করা বন্ধ করতে হবে। লিঞ্চিং-এর ভিডিও শেয়ার করা বন্ধ করতে হবে। প্রতিটা মব হত্যায় যে লোকটা ক্যামেরা নিয়ে হাসিমুখে দাঁড়ায়ে আছে, সেও যে অপরাধী, এটা সামাজিকভাবে বলা শুরু করতে হবে। কারণ যতদিন মব ভায়োলেন্স সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য থাকবে, ততদিন বিষ-আক্রান্ত ব্রেইনগুলা সেই গ্রহণযোগ্যতার দরজা দিয়েই বের হতে থাকবে।

আমেরিকা তার লেড সমস্যাকে চিনতে পেরেছিলো ত্রিশ বছর পর। আমাদের কাছে এত সময় নেই। যে কোহোর্ট আজকে রাস্তায় মানুষ মারছে তাদের ব্রেইনের ফিজিক্যালি আর কালচারালি দুইভাবেই ড্যামেজড, সেটা আর ঠিক করার উপায় নেই। কিন্তু যে বাচ্চাটা আজকে ভাট্টির পাশে হামাগুড়ি দিচ্ছে, যে বাচ্চাটা হলুদ-মেশানো ডাল খাচ্ছে, যে বাচ্চাটা ঢাকার বাতাস টানছে; তাদের এখনও বাঁচানো যায়, ড্যামেজটা থামিয়ে এবং হেলদি একটা কালচার দিয়ে। 

কিন্তু সেটার জন্য আগে স্বীকার করতে হবে যে তারা বিষাক্ত হচ্ছে। সেইটাই হয়তো সবচেয়ে কঠিন। কারণ স্বীকার করা মানে কাজ শুরু করা।" -লেখক: Sadman Fakid

Sunday, May 17, 2026

ফ্রান্স: শিল্প-সাহিত্য-সৌরভ, একপেট আবর্জনা এবং একজন ম্যাক্রোঁ!

ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক অত্যাচারের ১২ ঘটনা!


শিল্প-সাহিত্যে-সৌরভের সূতিকাগার, ফ্রান্সের বীর-বাহাদুররা কাটা মাথা নিয়ে দুর্দান্ত পোজ দিয়েছে!

১. আলজেরিয়া যুদ্ধ ১৯৫৪-১৯৬২:

ফ্রান্স আলজেরিয়াকে নিজের ভূখণ্ড ঘোষণা করে স্বাধীনতা আন্দোলন দমন করে।

১৭ অক্টোবর ১৯৬১-এ প্যারিসে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। ফ্রান্স সরকার ২০২১ সালে কমপক্ষে  ১২০ জন নিহত স্বীকার করে।

Source: Wikipedia 
যুদ্ধে মোট মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক আছে। ফ্রান্সের হিসাব ৩,৫০,০০০। আলজেরিয়ার হিসাব ১৫,০০,০০০।

রেফারেন্স: Ministère des Armées, "Guerre d’Algérie 1954-1962", 2004.  

-Discours d’Emmanuel Macron, 30 Sept 2021.


২. সেতিফ-গেলমা গণহত্যা ৮ মে ১৯৪৫:

ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় দিবসের দিন আলজেরিয়ানরা স্বাধীনতার দাবিতে মিছিল করে। ফ্রান্স সেনাবাহিনী, বিমান ও নৌ-গোলা দিয়ে দমন করে।


আলজেরিয়ার সরকারি হিসাব ৪৫,০০০ মৃত। ফরাসি ইতিহাসবিদরা  ৬,০০০ থেকে ২০,০০০ ধরে।

গণগ্রেফতার, নির্যাতন এবং গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

রেফারেন্স: Jean-Pierre Peyroulou, Histoire de l’Algérie contemporaine, 2018.


৩. ইন্দোচীন যুদ্ধ ১৯৪৬-১৯৫৪: 

ফ্রান্স দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়ায় শাসন ফেরাতে যুদ্ধ করে। ২৩ নভেম্বর ১৯৪৬-এ হাইফং বন্দরে ফ্রান্সের নৌবাহিনী গোলাবর্ষণ করে। নিরপেক্ষ হিসাবে ২,০০০ থেকে ৬০০০ বেসামরিক নিহত হয়।

৭ মে ১৯৫৪-এ Dien Bien Phu পতনের সময় ফ্রান্সের ক্ষতি ৭,৭৭৪ জন নিহত। ভিয়েতনামের ক্ষতি ২৩,০০০ জন নিহত। পুরো যুদ্ধে ভিয়েতনামের মোট ক্ষতি ২,৫৪,০০০ জন বলে ধরা হয়।

রেফারেন্স: Bernard Fall, "Street Without Joy", 1961.  

-Ministère des Armées, "Les morts pour la France en Indochine 1940-1954", 1992.


৪. মাদাগাস্কার অভ্যুত্থান দমন 1947-1948:

স্বাধীনতার দাবিতে অভ্যুত্থান হলে ফ্রান্স ১৮,০০০ সৈন্য পাঠায়। পূর্ব উপকূলে গ্রামে বোমা হামলা, গণগ্রেফতার, নির্যাতন চলে।

মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক আছে। ফ্রান্সের প্রথম হিসাব ৮৯,০০০ জন। ১৯৫০ সালে ১১,৩৪২ জন বলে সংশোধন করে। আধুনিক ইতিহাসবিদরা ৩০,০০০  থেকে ৪০,০০০ ধরে। মালাগাসি হিসাব ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ!

রেফারেন্স: Jacques Tronchon, "L’insurrection malgache de 1947", Karthala, 1986.


৫. ক্যামেরুন দমন ১৯৫৫-১৯৬০:

Union des Populations du Cameroun নিষিদ্ধ হয় ১৩  জুলাই  ১৯৫৫। ফ্রান্স সেনা Bamileke অঞ্চলে অভিযান চালায়। গ্রাম পোড়ানো, গণকবর, জোরপূর্বক স্থানান্তর হয়।

মৃত্যু: ইতিহাসবিদ Thomas Deltombe অনুমান করেন, ১,০০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ জন।

রেফারেন্স: Thomas Deltombe, "Kamerun!", La Découverte, 2019, পৃষ্ঠা ৪১২-৪১৫.


৬. সাহারা পারমাণবিক পরীক্ষা ১৯৬০-১৯৬৬:

আলজেরিয়ার Reggane ও In Ekker-এ ১৭টি পরীক্ষা হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬০-এ প্রথম পরীক্ষা Gerboise Bleue, ৭০ কিলোটন।১৯৬১-এ In Ekker এ ভূগর্ভস্থ পরীক্ষায় তেজস্ক্রিয় মেঘ ফাঁস হয়।

৫ জানুয়ারি ২০১০-এ ফ্রান্স Loi Morin পাশ করে ক্ষতিপূরণের জন্য।

রেফারেন্স: Bruno Barrillot, "Les essais nucléaires français 1960-1996", CDRPC, 2003.


৭. রুয়ান্ডা গণহত্যা ১৯৯৪:

ফ্রান্স ১৯৯০ থেকে হাবিয়ারিমানা সরকারকে সামরিক সাহায্য দেয়। ২২ জুন ১৯৯৪-এ Operation Turquoise শুরু হয়।

২০২১-এ ফ্রান্সের Duclert রিপোর্ট বলে ফ্রান্স একেবারে অন্ধকারে ছিল এমন না, তাই ফ্রান্স হুতু চরমপন্থীদের দায় একেবারেই এড়াতে পারে না। অবশ্য রিপোর্টে সরাসরি অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই হত্যাযজ্ঞের পেছনে ফ্রান্সের পরোক্ষ দায় স্পষ্ট!

রেফারেন্স: Rapport Duclert, "La France, le Rwanda et le génocide des Tutsi", 26 mars 2021.


৮. সিরিয়া-লেবানন ম্যান্ডেট ১৯২০-১৯৪৬:

লীগ অফ নেশনসের ম্যান্ডেটে ফ্রান্স শাসন করে ১৯২৫-১৯২৭, সিরিয়ান বিদ্রোহ দমনে দামাস্কাসে বিমান হামলা হয়।

২৯ মে ১৯৪৫-এ আলেপ্পো, হোমস, দামাস্কাসে গোলাবর্ষণ করে ফ্রান্স! ফরাসি রেকর্ডে ১২০০ থেকে ১৪০০ জনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও সিরিয়ার দাবী এরচেয়ে অধিক বলা হয়েছিল!

রেফারেন্স: Philip Khoury, "Syria and the French Mandate", Princeton University Press, 1987.


৯. টিউনিসিয়া দমন ১৯৫২-১৯৫৬:

স্বাধীনতা আন্দোলন দমনে ফ্রান্স 'Operation Telex' চালায়। ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫২-এ ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ফারহাত হাশেদ হত্যা হন।

৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৮-এ সাকিয়েত সিদি ইউসুফে বোমা হামলায় ৬৮ থেকে ৭৫ জন নিহত, ১০০-এর বেশি আহত হন।

রেফারেন্স:  Archives Nationales de Tunisie, "La répression 1952-1954", 2005.


১০. আলজেরিয়া স্বাধীনতার পর হরকি হত্যা ১৯৬২-১৯৬৩:

যারা ফ্রান্সের পক্ষে লড়েছিল সেই হরকিদের ফ্রান্স অনেককে সরায়নি।

স্বাধীনতার পর আলজেরিয়ায় ৩০,০০০ থেকে ১,০০,০০০  হরকি ও তাদের পরিবার মারা যান। ফ্রান্স ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২-এ আইন পাশ করে দায় স্বীকার করে ও ক্ষতিপূরণ দেয়।

রেফারেন্স: Rapport Jean-Marie Bockel, "Les Harkis", 2006.  

-Loi n°2022-1197 du 18 septembre 2022.


১১. গুয়াদেলুপ ১৯৬৭:

স্বাধীনতা আন্দোলন দমনে ফ্রান্স পুলিশ ও সেনা নামায়! ২৬-২৭ মে ১৯৬৭-এ Pointe-à-Pitre শহরে বিক্ষোভে গুলি চলে।

সরকারি হিসাব ৭ থেকে ৮ জন নিহত। ১৯৮৫ সালে ফরাসি রাষ্ট্রসচিব ৮৭জন নিশ্চিত করেন। অন্য অনুমান ৮০থেকে ২০০।

রেফারেন্স: Raphaël Confiant, "Guadeloupe 1967", Ibis Rouge, 2009.  

-Rapport de la Commission d’enquête parlementaire, Assemblée Nationale, 1984.


১২. হাইতি ১৮২৫:

স্বাধীনতার দাম: ১৮০৪ সালে দাসরা ফ্রান্সকে হারিয়ে স্বাধীন হয়।১৮২৫ সালে ফ্রান্স যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে বলে ১৫০ মিলিয়ন ফ্রাঙ্ক দাও, নইলে আবার দখল করব।

কিসের ক্ষতিপূরণ? ফরাসি মালিকদের হারানো সম্পত্তি, যার মধ্যে দাসও ছিল। দাসরা নিজেদের মুক্তির জন্য নিজেদের মালিককে টাকা দেয়।

শেষ কিস্তি শোধ হয় ১৯৪৭ সালে। ১২২ বছর ধরে হাইতি ফ্রান্সের ব্যাংককে টাকা দিয়েছে। ১৯১৪ সালে হাইতির বাজেটের ৭৫ শতাংশ এই ঋণ শোধে যেত।

আজকের মূল্য দিয়ে হিসাব করলে ১১২ মিলিয়ন ফ্রাঙ্ক শোধ হয়েছিল, যা ২০২২ সালের ৫৬০ মিলিয়ন ডলারের সমান। অর্থনীতিবিদদের মতে এই টাকা বিনিয়োগ হলে 115 বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারত।

রেফারেন্স: Haitian independence debt, Wikipedia.  

-The New York Times, "The Ransom", 2022.

আলজেরিয়া যুদ্ধ নিয়ে ফ্রান্সের আর্কাইভ ধীরে ধীরে উন্মুক্ত হচ্ছে। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ম্যাঁক্রো স্বীকার করেন যে ফরাসি সেনাবাহিনী পদ্ধতিগতভাবে নির্যাতন করেছে।

২০২১ সালের মে মাসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রুয়ান্ডা সফরকালে ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যায় ফ্রান্সের রাজনৈতিক দায় স্বীকার করেন।
তবে তিনি এটাও বলেন যে, ফ্রান্স এই গণহত্যায় কোনো 'সহযোগী' ছিল না। তিনি রুয়ান্ডার জনগণের কাছে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ভুলের জন্য ক্ষমা (Forgiveness) প্রার্থনা করেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যে কেবল একজন সুপুরুষ এমনই না, একজন ব্যতিক্রমী রাষ্ট্রনায়কও বটে! আমাদের পূর্বপুরুষদের ভুল-অন্যায়ের দায় আমরা কেন নিতে যাই। তিনিও নেননি!
আমাদের পূর্বপুরুষ প্রাণী শিকার করে মৃত প্রাণীর উপর পা তুলে ঘটা করে ছবি তুলতেন। এখন কী এই কর্মকান্ড করা সম্ভব? সম্ভব না কারণ এভাবেই সভ্যতা এগিয়ে যায়!
একজন ম্যাক্রোঁ যেটা করেছেন আমি বলব এই গ্রহের ক্ষমতাবান রাষ্ট্র-নায়কদের মধ্যে বিরল!
1.  Colonization, 15 February 2017:
"Colonization is a crime against humanity. It is truly barbaric."
-Emmanuel Macron

2. Harkis Issue, 20 September 2021:
"France failed in its duty toward the Harkis, their wives, their children. I’m asking for forgiveness. We will not forget."
-Emmanuel Macron

3. 17 October 1961 Paris Massacre, 16 October 2021:
"The crimes committed that night under Maurice Papon’s authority are inexcusable for the Republic."

... 

"On that day, the Republic committed unforgivable crimes."
Emmanuel Macron

4. Rwanda Genocide, 27 May 2021:
"I would like to recognize here the responsibilities of France. France has a role, a history and a political responsibility in Rwanda."

... 

"France did not understand that a genocidal government was in place."
...
"France did not understand that it was complicit with a genocidal regime. But it was not complicit in the genocide itself."
...
"I recognize here the overwhelming responsibilities of France in Rwanda."
-Emmanuel Macron

5. Ali Boumendjel Killing, 21 September 2021
"Ali Boumendjel was tortured and then killed by the French army. His death was covered up as a suicide."
...
"The truth must be told."
-Emmanuel Macron

6. Cameroon, January 2025:
"France waged a war in Cameroon that was marked by repressive violence."
-Emmanuel Macron

Sources:
-15 Feb 2017 quote: Al Jazeera, "Macron calls French colonization of Algeria a 'crime against humanity'"
-20 Sep 2021 Harkis quote: Arab News, "Macron apologizes for French treatment of Algerian Harki fighters"
-16 Oct 2021 Paris Massacre quotes: Wikipedia, "1961 Paris massacre"
-27 May 2021 Rwanda quotes: Al Jazeera, "Macron recognises French ‘responsibility’ in Rwanda genocide"
-21 Sep 2021 Boumendjel quote: Al Jazeera, "Macron will not seek Algeria’s ‘forgiveness’ for colonialism"
-Jan 2025 Cameroon quote: Reuters, "Macron acknowledges France waged war in Cameroon"

* ফ্রান্সের মত অতি সভ্য আরও দেশ:
১. বেলজিয়াম: https://www.ali-mahmed.com/2026/05/blog-post_03.html?m=1
২. ব্রিটেন: https://www.ali-mahmed.com/2022/09/blog-post_10.html?m=1
৩. আমেরিকা: https://www.ali-mahmed.com/2026/05/blog-post_9966.html?m=1


Sunday, May 10, 2026

ইউনূসনামা!

প্রফেসর ইউনূস! একটা নাম, একটা ব্রান্ড! 'দারিদ্র বিমোচন জাদুঘর'-এর কিউরেটর! একটা তেলের ড্রাম, একটা লোভের  খনি!

হের (Herr) ইউনূস, একজন নোবেল লরিয়েট! এই নোবেল লরিয়েট নোবেল পেয়েছিলেন শান্তিতে! কী প্রকারে শান্তি এনেছেন সেটা পরের আলোচনা!

১৯৪৩ দুর্ভিক্ষে ২১-৩০ লাখ মানুষ মারা যায়। চার্চিলের যুদ্ধকালীন নীতিকে অনেকে দায়ী করে। সেই চার্চিলও কিন্তু নোবেল পেয়েছিলেন অন্য কারণে, সাহিত্যে।


যাই হোক, আমাদের শ্রী (श्री) ইউনূস, নোবেল পেয়েছেন যৌথভাবে কিন্তু কোথাও এর জোর আলোচনা নেই'!
ইউনূসের সঙ্গে যে ভদ্রমহিলা,  তসলিমা বেগম নোবেল গ্রহণ করেছিলেন, তাঁকে আমরা চিনিও না!

গ্রামীণ ব্যাংক তার সহযোদ্ধাদের কেমন রেখেছে সেটা  তসলিমা বেগমের মুখ থেকে শুনলে পাপ হবে না!

মহাশয় ইউনূসকে যে আমি লোভের খনি বলেছি বলে অনেকের বুক ভেঙ্গে আসবে। খনি থেকে আমি কেবল একটা পাথর তুলব। জনাব বদরুল আলম তখন এনবিআরের চেয়ারম্যান। তার কাছে ঝুলাঝুলি করা হচ্ছিল, ইউনূসের নোবেল প্রাইজ-মানির উপর যেন ট্যাক্স ধরা না হয়:


আমার ব্যক্তিগত মত, আপাদমস্তক, এই মানুষটার লোভ চুঁইয়ে-চুঁইয়ে পড়ে। আই বেট, তেলতেলে চামড়ায় সামান্য চাপ দিলেই 'লোভের তেল' গড়িয়ে পড়বে।

আফসোস, ৮৫ বছরের একটা মানুষকে নগ্ন দেখতে ভাল লাগে না। একটা মানুষ কেমন করে এতটা নির্লজ্জ হয়? ক্যামেল টু ক্যাডিলাক—লোহার খাঁচা থেকে গোটা একটা দেশের দন্ডমুন্ডের কর্তা!

লোহার খাঁচা নিয়ে ইউনূস নিজেই বলেছিলেন'

"..., I had to stand in an iron cage and the witness box of the court for the first time. It is just a part of a cursed life" 

(ছবি: ঢাকা সিএমএম কোর্ট, ১৪ আগস্ট ২০২৪। দৈনিক প্রথম আলো/ডেইলি স্টার।)

সময়-ইতিহাসের চেয়ে বড় রসিক আর কেউ নাই! সচরাচর পশু-টশু, হিংস্র মানুষকে আটকাবার জন্য খাঁচার ব্যবস্থা থাকে!
হাইকোর্ট রায় (রিট পিটিশন ৫১৯৪/২০১৪, রায় ১৯ মে ২০১৬, 'Dock is unconstitutional'.) থাকার পরও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আদালতে লোহার খাঁচা সরাবার কোন উদ্যোগই নেননি, সেই আনিসুল হকই খাঁচার ভেতরে!
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কী জানতেন না সভ্যতার এই সময়ে এমন অমানবিক কর্মকাণ্ড করা যায় না, তাও আইনের চোখে সামনে! 

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কী জানতেন না:

"Every person is presumed innocent until proven guilty."

-Universal Declaration of Human Rights, Article 11(1)

আনিসুল হক নামের, 'ঠেলাগাড়ি বোঝাই আইনের বইয়ের উপর উবু হয়ে বসে থাকা', মানুষটা কী জানতেন না? জানতেন কিন্তু তিনি কখনও ভাবেননি, 'এই দিন, দিন নয়; আরও দিন আছে...'!

যাই হোক, ইউনূস নামের মানুষটার যে পেটভরা ঝামেলা এটা আগেও জানতাম কিন্তু এখন স্রেফ 'মাননীয় স্পিকার' হয়ে গেছি—সাপও খোলস পাল্টায় কেবল পাল্টান না আমাদের, সেনর (señor) ইউনূস!

জনাব, 'নির্লজ্জ ইউনূস' প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন গ্রামীণ-সংশ্লিষ্ট যে সুবিধাগুলো নিয়েছেন তার ছোট্ট একটা তালিকা:

১. গ্রামীণ ব্যাংকের ট্যাক্স মওকুফ: ০৯ অক্টোবর ২০২৪ NBR গেজেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত সব আয় করমুক্ত। ২০২১-২০২৩ এই ৩ বছর ট্যাক্স দিতে হয়েছিল, সেটা বন্ধ। আনুমানিক ১৮০-২০০ কোটি টাকার ভবিষ্যৎ সুবিধা।

২. গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের শেয়ার কমানো: ১৭ এপ্রিল ২০২৫ উপদেষ্টা পরিষদ "Grameen Bank Amendment Ordinance" অনুমোদন। সরকারের মালিকানা ২৫% থেকে ১০% এ নামানো হয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের শেয়ার ৭৫% থেকে ৯০% করা হয়েছে।

৩. গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার মামলার রায় প্রত্যাহার:  ৪ আগস্ট ২০২৪ হাইকোর্ট বলে ৬৬৬ কোটি টাকা দিতে হবে। ৮ আগস্ট ইউনূস শপথ নেন। ৩ অক্টোবর ২০২৪ হাইকোর্ট রায় প্রত্যাহার করে বিচারকের Conflict of Interest-এর কারণে। মামলা নতুন বেঞ্চে যাবে। [আপডেট: ১৫ জানু ২০২৫ নতুন রায়ে ৪০০ কোটি দিতে বলা হয়েছে]

৪. নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন: 'গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি' নামে নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

৫. ম্যানপাওয়ার এক্সপোর্ট লাইসেন্স: গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানের নামে জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে।

৬. ডিজিটাল ওয়ালেট সেবার অনুমোদন: গ্রামীণ টেলিকমকে ডিজিটাল ওয়ালেট/মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

৭. সরকারি মেডিকেল কন্ট্রাক্ট: গ্রামীণ হেলথ-টেক সোশ্যাল বিজনেস 'সুখী' চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মেডিকেল সার্ভিস কন্ট্রাক্ট পেয়েছে।

৮. নতুন মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক অধ্যাদেশ: 'সোশ্যাল বিজনেস' মডেল বিস্তারের জন্য মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ। খসড়া প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েই তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

৯. ব্যক্তিগত VVIP সুবিধা: মেয়াদ শেষের আগে নিজেকে ১ বছরের জন্য VVIP ঘোষণা করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছেন।

সবগুলো সিদ্ধান্ত ৮ আগস্ট ২০২৪ শপথ নেওয়ার পরের ২-৮ মাসের মধ্যে হয়েছে।

(অবশ্য এর মধ্যে ৩ নম্বরটা সরাসরি 'মওকুফ' না, রায় প্রত্যাহার। ২ নম্বর গ্রামীণ টেলিকমের ২৫০ কোটি টাকা এখনো মওকুফ হয়নি। বাকিগুলো কার্যকর হয়েছে।)

কে বলেছে, গায়ে কাপড় জড়ালেই নগ্নতা ঢাকা যায়! আমাদের 'গলাকাটা ফতুয়া স্যার' প্রমাণ করে দিয়েছেন, এই  তত্বীয় জ্ঞান ভুল!  অনেকে কঠিন যুক্তি দেন, গ্রামীণে তো ইউনূসের কখনও মালিকানা ছিল না...আহা, তাই বলে কী তিনি একের-পর-এক অনাচার করবেন আর তাকে কিছু বলা যাবে না, এ তো হাস্যকর যুক্তি!

যুক্তিটা অনেকটা এমন, আহা, আমার সন্তান তো আলাদা থাকে; এই যুক্তিতে দেশটাকে 'আমার বাপের তালুক' মনে করে রাষ্ট্রের অকল্পনীয় সুবিধা আমার সন্তানকে দিয়ে অন্তর্বাস মাথায় বেঁধে আমি দাবী করলাম, কে বলে আমি নগ্ন!

আচ্ছা, ইউনূস নামের এই মানুষটার মাথায় কী এটা একবারও খেলা করেনি, বাংলাদেশের সমস্ত বাড়িঘরের ময়লা ফেলার বন্দোবস্তোটাও যদি কোন প্রকারে বাগিয়ে নেওয়া যেত? 'গ্রামীণ ময়লাওয়ালা', আহা, বেচারা মিস করলেন! 

ইউনূসের প্রতি আমার জোর আবেদন, আপনি ক্ষমতায় থাকাকালীন বাংলাদেশের নাম পাল্টে  'গ্রামীণ বাংলাদেশ' করে ফেললেই পারতেন। আমরা হতাম গিয়ে, 'গ্রামীণ জনগণ'!

ইস-স, ভাবলেই চোখ ভিজে 'কপোল' ভিজে যায়!

আমাদের 'মেটিকুলাস ওস্তাদ পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন তার সাগরেদের সঙ্গে। আহা, ওস্তাদের কী Gesture-অঙ্গভঙ্গি! এটা দেখাও ভাগ্য!

বিবিসির সঙ্গে এই সাক্ষাৎকারে ইউনূস বলছেন, তিনি নাকি সংস্কার শুরু করেছেন। আরে, করেছেন মানে, অবশ্যই করেছেন! এতে সন্দেহ কার? আপনি লোহার খাঁচা থেকে ক্ষমতায় এসে  আপনার পৈত্রিক তালুক 'গ্রামীণ বাংলাদেশ'-র আওতায় আপনার গ্রামীণের যে সংস্কার করেছেন তার জন্য আমরা 'গ্রামীণ জনগণ' কৃতজ্ঞ, ডমিনাস ইউনূস!

আবার এই সাক্ষাৎকারে বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক মেহদি, সেনর ইউনূসের কাছে জানতে চেয়েছেন, নেপালের অন্তবর্তীকালীন সরকার ৬ মাসে নির্বাচন দিয়েছেন কিন্তু বাংলাদেশে এত সময় লাগছে কেন?

ইউনূস তার বিখ্যাত হাত-শরীর নাড়িয়ে-নাড়িয়ে উত্তর দিয়েছেন:

এ দেশের জনগণ চাচ্ছে, আমরা ৫-১০-১৫ বছর থাকি।

চাচ্ছে মানে, স্যার! ওরা চাচ্ছে, ওদের বাপ চাচ্ছে, ওদের দাদা চাচ্ছে, ওদের দাদার দাদাও...! আপনার কথামতো, ২০ বছর না; ওরা চাচ্ছে, আপনি আগামী ৫০ বছর ক্ষমতায় থেকে 'গ্রামীণ বাংলাদেশে' গ্রামীণ সংস্কার করবেন! 

কিন্তু স্যার, একটু ঝামেলা হয়ে গেছে! আপনার যে এমন কঠিন ধারণা, এই গ্রহে আপনি অমর হয়ে এসেছেন কিন্তু আপনার গলা-কাটা ফতুয়ার গলাছিলা মুরগির মত ঝুলে-পড়া চামড়া দেখে 'গ্রামীণ বাংলাদেশের'  'গ্রামীণ জনগণ ঠিক ভরসা করতে পারেনি! যে, আপনি আরও ৫০ বছর লাস্টিং করবেন...! সরি স্যার, নেভার মাইন্ড!

জনগণ আপনাকে কেন চাইবে না, স্যার, আপনার মত  'সামাজিক নমরুদ' এই দেশে কয়টা জন্ম নিয়েছে! নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘন্টা পূর্বে এই আদেশ জারী হয় যে শ্রমিকরা মুনাফার ৫ ভাগের স্থলে ১.৫ ভাগ পাবেন!


এই গ্রহের কেউ বিশ্বাস করুক বা না-করুক অন্তত আমি বিশ্বাস করি, এই মানুষটা ফানি ভঙ্গিতে যে-সব বলছে তার প্রতিটা শব্দ সত্য:


গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকান্ড নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। গ্রামীণ ব্যাংক আমাদের মত বেকুবদের বলে, মাইক্রো-ক্রেডিটের নামে ২০% সুদ নিয়ে দারিদ্র বিমোচন করে। আমি একবার এক্সেলে হিসাব করেছিলাম, এদের সুদের হার ৩৮%-এর নীচে না!

"২০% ফ্ল্যাট রেটের নামে ৪০% সুদ নেওয়া হয়..." 

—অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত

বাংলাদেশে দারিদ্র্য-বৈষম্য-অসমতা: একীভূত রাজনৈতিক অর্থনৈতিক তত্ত্বের সন্ধানে।  পৃষ্ঠা ২৮৯-২৯১।

(খুব ইন্টারেস্টিং একটা বিষয়, ড. আবুল বারাকাতের বইটা বাজারে নেই। এই সংক্রান্ত ভিডিও ক্লিপও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এবং আবুল বারাকাত জেলে!) 


From the beginning of modern microcredit,1

its most controversial dimension has been the interest rates charged by microlenders—often referred to as microfinance institutions (MFIs).2

(Microcredit Interest Rates and Their Determinants, 2004-2011/ Richard Rosenberg, Scott Gaul, William Ford, Olga Tomilova

—World Bank / CGAP, Access to Finance Forum No. 7, July 2013 )

ক্ষুদ্রঋণে বৈশ্বিক গড় সুদহার ৩৫%। সূত্র: বিশ্বব্যাংক, ২০০৮। 

ফ্ল্যাট রেট পদ্ধতিতে স্টেটেড রেটের চেয়ে কার্যকরী সুদহার প্রায় দ্বিগুণ হয়। ২০% ফ্ল্যাট মানে কার্যকরী হার ৩৮% ছাড়িয়ে যায়।

—সূত্র: Rosenberg, R. _Microcredit Interest Rates_, CGAP Occasional Paper No. 1, 2002।

আমার অন্য-এক লেখায়:

প্রসটিটিউশন-ড্রাগস-আর্মস ব্যতীত কোন ব্যবসা আছে যেখানে ২৪ পার্সেন্ট সুদ দিয়ে এবং ক্রমশ পুঁজি শূন্য করেও বহাল তবিয়তে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব, আমি সেই ব্যবসার নাম জানতে চাই। এই প্রশ্নটা ছিল ব্র্যাক ব্যাংক নিয়ে। আর গ্রামীন ব্যাংক তো কয়েক পা এগিয়ে।
"...প্রকৃতপক্ষে গ্রামীন ব্যাংকের সুদ হচ্ছে ৩৮ শতাংশ..."।
(সূত্র: খোন্দকার ইব্রাহিম খালিদ, সাবেক ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক)

তো, এখন আমি জানতে চাই ৩৮ শতাংশ সুদ দিয়েও কোন ব্যবসায় লাভ করা যায়? এটা যদি মেথরগিরিও হয় আমি সানন্দে মেথর হব, আমার লেখালেখির কসম।
শি (씨) ইউনূস, এর যে কেবল সুদের হার ৩৮ শতাংশ এমনই না, এখানে সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়টি হচ্ছে, গ্রামীন ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার পর থেকেই প্রতি সপ্তাহে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়। যেমন ধরুন:

আপনাকে ছাগল কেনার জন্য ঋণ দিল। পরের সপ্তাহ থেকেই কিন্তু আপনাকে কিস্তি দিতে হবে। ছাগল কেনার পরদিনই কিন্তু ছাগল ডিম পেড়েছে। সেই ডিম বিক্রি করে আপনি কিস্তি দেবেন। বাই-এনি-চান্স, ছাগল ডিম না-দিলে কিন্তু কিস্তি মাফ নেই। তখন আপনার বিচি বিক্রি করে হলেও কিস্তি দিতে হবে। নইলে গ্রামীন ব্যাংকের লোকজনেরা গরু-ছাগল জোর করে নিয়ে আসবে। এরা কৃষকের বাচ্চা মেয়েটার পা থেকে নুপুর পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে! 
(লাইফ-এচিভমেন্ট সেক্রিফাইস/ শুভ'র ব্লগিং পৃ নং: ২০)

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, এরা কিস্তি দেয় কেমন করে? অন্য-একটা এনজিও বা ব্যাংক থেকে, সেই ব্যাংকের কিস্তি চালায় আবার আরেকটা ঋণ নিয়ে। মানে একটা চক্রে আটকে যায়—একটাই জীবন, চক্রময় জীবন!

মঁসিয়ে (Monsieur) ইউনূসের শরীরের সঙ্গে দাঁত-নাড়া আবেগী এই বক্তব্য দেখে আমার এক চোখে জল, এক চোখে পানি চলে আসল! গ্রামীন ব্যাংক নাকি ঋণগ্রহীতাকে পানিশমেন্ট দেয় না...!

আহ, এই প্রজন্ম দেখেনি, গ্রামীণ ব্যাংক কী অত্যাচারটাই না করেছে! গ্রামের সহজ-সরল মানুষদেরকে মামলার ভয় দেখিয়ে আধমরা করে ফেলা তো পানি ভাত! অফিসে এনে আটকে রাখা, জোর করে গরু-ছাগল উঠিয়ে নিয়ে এসেছে, কিশোরীর পা থেকে নুপুর খুলে নিয়ে এসেছে। তীব্র বেদনায় সেই কিশোরী আত্মহত্যাও করে []!

গ্রামীণ ব্যাংকের অসঙ্গতি নিয়ে 'আল-জাজিরা' একটা প্রতিবেদন করে। গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি নুরজাহান বেগম যে ভঙ্গিতে আল-জাজিরার ক্যামেরায় থাবা মারলেন, যেভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের লোকজনেরা গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দিল, এ অভূতপূর্ব!
পুরো ক্লিপটা এখানে রাখছি:

দেশে যে পরিবর্তন হয়েছিল এর পেছনে ছাত্র-জনতা সবাই ছিলেন—চানখারপুলের বস্তীর যে ছেলেটা বীরের মত লড়েছে এটা চোখে না-দেখলে বিশ্বাস করা যায় না! 
কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর আমাদের শ্রীযুক্ত ইউনূস [২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩] প্রথমেই যেটা করেন, ছাত্রদেরকে তোমরাই আমার বাপ, তোমরাই আমাকে ক্ষমতায় বসিয়েছো! ব্যস, বানরের হাতে ক্ষুর চলে আসল। শিক্ষকের এই হেনেস্তা চিন্তা করা যায়, তাও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে!

এরা যা খুশী তাই শুরু করল! কী ধৃষ্টতাপূর্ণ কথা:
এ কী চমৎকার করেই না সারজিস আলম বলছে, এদের যা মনে এসেছে, যা খুশী তাই করেছে!

এই যে আরেকটা, হাসনাত আবদুল্লাহ! কী কনফিডেন্টের সাথেই না বলছে, এখন প্রাডো চড়ে, আগামী সপ্তাহে ওডি, এরপর মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ...! এখন আবার সংসদে গিয়ে নির্লজ্জের মত গাড়ী চায়!

সিয়েনশেং (先生) ইউনূস, আরেকটা ভয়াবহ বক্তব্য দিলেন, এটা 'দ্বিতীয় স্বাধীনতা'! ওহ-হো, এবার মনে পড়েছে! তাই তো! দ্বিতীয় স্বাধীনতাই তো—প্রথম স্বাধীনতায় পরবর্তিত নাম হয়েছিল, পাকিস্তান থেকে 'বাংলাদেশ'। এরপর হলো, বাংলাদেশ থেকে 'গ্রামীণ বাংলাদেশ'!

উপদেষ্টার নামে তিনি তার আশেপাশে বেছে-বেছে এমন লোকদের বেছে নিয়েছিলেন যেটা কহতব্য না! যেমন স্বরাষ্ট্র-উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম! সাংবাদিক জানতে চাইছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এই লোক আলাপ করছেন পিঁয়াজ নিয়ে। ভাবা যায়, কী অপদার্থগিরি! 
আইনশৃঙ্খলার এত বাজে অবস্থা আর কখন ছিল এটা গবেষণার বিষয়—দিনদুপুরে একটা জলজ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে-পিটিয়ে মেরে ফেলছে, কবর থেকে লাশ উঠিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে  অথচ দেশপ্রধান ইউনূস নির্বিকার! তিনি তার স্বভাবসুলভ চিবিয়ে-চিবিয়ে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন!
সিনর (Signore) ইউনূসকে তো কাঠগড়ায় দাঁড় করানো আবশ্যক। কারণ? কেউ-কেউ হয়তো বলবেন, ভুল মানুষ আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে আছে! হতে পারে ভুল মানুষকে ভুল জায়গায় দেওয়া হয়েছে কিন্তু পুরো টার্ম স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পরিবর্তন হয়নি! হতে পারেন জাহাঙ্গীর আলম সৎ মানুষ কিন্তু আপনি রেসিং কারে স্কুটারের চাকা লাগিয়ে দিলে হবে না তো! ইউনূস এই দায় এড়াতে পারেন না!

আবার উপদেষ্টা হিসাবে তার কাছের লোকজনকে নিলেন, যাদের অধিকাংশই অথর্ব! যেমন, এই দেশের অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ একটা সেক্টরে স্বাস্থ্য-উপদেষ্টা হিসাবে নিলেন গ্রামীণের সাবেক এমডি নুরজাহান বেগমকে! অযোগ্য এই মানুষটার কথাবার্তাই তো পাগলের প্রলাপ!
এই ভিডিও ক্লিপটা দেখলে তার পাগলামির খানিকটা আঁচ করা যাবে!
মিনিমাম অথচ অসম্ভব জরুরি যে কাজটা করার কথা, শিশুদের টিকার ব্যবস্থা করা, তিনি কিচ্ছু করেননি! ২০২৫ সালে একটা ভ্যাক্সিনও কেনা হয়নি!


এখন পর্যন্ত ৩৪৪ জন শিশু মারা গেছে!
নুরজাহান বেগম এবং ইউনূসকে আইনের আওতায় না-আনার কোন কার‍ণ নাই!

নুরজাহান-ইউনূস নাই তাতে কী হয়েছে, তাদের ছায়া-সন্তান আছে না। কী গুছিয়েই না বলছে: এখনকার মা-রা ফিটনেসের জন্য বাচ্চাদের দুধ খাওয়ান না তাই বাচ্চারা হাম মোকাবেলা..., চুতিয়া কোথাকার! 

পূর্বের এই সাক্ষাৎকারে গসপোদিন ইউনূস, তাকে তার ব্যর্থ উপদেষ্টাদের নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে গা দুলিয়ে বলেছিলেন:
ওদের আমি কী বলব, আমার নিজেরই তো দেশ চালাবার অভিজ্ঞতা নেই।
এটা স্রেফ একটা অপদার্থের মত কথা। আপনি স্কুলের বাস ভর্তি বাচ্চাদের নিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে আছেন। বাস চলছে ঝড়ের গতিতে! আর আপনি নেচে-নেচে বলছেন, আমি তো ড্রাইভিং জানি না!

হেররা (ইউনূস, ক্ষমতা গ্রহণের পূর্বে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছিলেন, জানমাল রক্ষা করবেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি হয়েছিলেন, মব-স্টার—মবের রাজা!

'তেজা ইউনূস'-কে মবের বাদশাহও বললেও ভুল হবে না!
কারণ এ অভূতপূর্ব! কবর থেকে লাশ তুলে প্রকাশ্যে, দিবালোকে শত-শত মানুষের সামনে পোড়ানো হয়েছে! 'তেজা ইউনূস' বলেছিল, তেজ আসতে হবে না?
পাবলিকের মধ্যে এমন তেজ এসেছে যে, সিনামাকেও হার মানিয়ে দিয়েছে!

'মহা-মুখ' ইউনূস যখন মাথায় টুপি লাগিয়ে বলেন, তখন অবিশ্বাস করি কেমন করে!
সান(さん) ইউনূস, যখন গা দুলিয়ে বললেন, 
'বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আগামী ঈদ মায়ানমারে করবেন', দেশ, বাবা-মা'র কবর ফেলে-আসা এই মানুষগুলো, ওঁরা আশায় বুক বেঁধে ছিলেন!
ইয়া মাবুদ, তুমি এক দেবদূতকে পাঠিয়েছ আমাদের জন্য!
দেশের মধ্যে ধন্য-ধন্য পড়ে যায়—অনেকে কাঁদতে-কাঁদতে অন্তর্বাস পর্যন্ত ভিজিয়ে ফেলেছিলেন, আমিও হয়তো ছিলাম এদের মধ্যে!

আহা-আহা, মহাত্মন ইউনূস আমাদেরকে বলেছিলেন, পৃথিবীর আনাচে-কানাচে থেকে দরখাস্তের-পর-দরখাস্ত এসেছে আমাদের এখান থেকে লোক নেওয়ার জন্য। আফসোস, এগুলো তিনি এখনও ঢলঢলে প্যান্টের পকেটে নিয়ে ঘুরছেন!
যাওয়ার পূর্বে আমাদেরকে ওই দরখাস্তের বস্তা হস্তান্তর না-করার কারণে আমাদের লক্ষ-লক্ষ বেকার তরুণেরা আজও ফ্যা-ফ্যা করে ঘুরছে!

পৃথিবীব্যাপি এটাই লিখিত-অলিখিত নিয়ম, জনগণের গুচ্ছের ট্যাক্সের টাকায় সরকার, সরকারী রাস্তা-ঘাট-হাসপাতাল জনহিতকর সমস্ত কাজ করবেন। একমাত্র আল-সাইয়্যিদ (السيد) ইউনূস-কে দেখলাম সিনা টান করে বলছেন:
"... সরকারি হাসপাতাল মানে বিপদের বোঝা..."!
বিষাদের সঙ্গে বলি, অন্যদের বেলায় যেটা বলি... কিন্তু এখানে প্রফেসর ইউনূস, আপনার সম্মানে 'চুতিয়া' শব্দটা বলতে পারছি না! 

মনস্টা...সরি, মঁসিয়ে ইউনূস নির্বাচনের মাত্র ৭২ ঘন্টা পূর্বে আমেরিকার সঙ্গে যে চুক্তি করেছেন তা দ্বিপাক্ষিক চুক্তি না—স্রেফ, কেউ যেন নিজের মাকে অন্যের বিছানায় তুলে দিল, অনেকটা এমন!
এবং এই চুক্তি নিয়ে যে লুকোচুরি-লুকোচুরি খেলা হয়েছে তা অভূতপূর্ব! যে জনগণ এই রাষ্ট্রের মালিক সেই জনগণ তার বেতনভুক্ত গোলামের কর্মকান্ড জানতে পারবে না!
অবশেষে ৩২ পৃষ্ঠার চুক্তির একটা কপি পাওয়া গেল আমেরিকার নিজস্ব ওয়েবসাইটে। নীচে এই লিংক দেওয়া থাকছে। কারও আগ্রহ থাকলে পড়ে নেবেন।
চুক্তির মূল কিছু পয়েন্টে আলোকপাত করা যাক। এক কথায় ভয়াবহ!

চুক্তির ৬টা ভয়ংকর অসঙ্গতি— যেটা 'দেশ বেচার দলিল' বললে কম বলা হবে। স্রেফ দাসত্বের চুক্তি!
১. Article 1.1: Tariffs and Quotas:  
"Bangladesh shall not impose quotas on imports of originating goods of the United States unless otherwise agreed by the Parties."  
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের উপর কোটা বসাতে পারবে না, যদি না দুই দেশ আলাদা করে রাজি হয়।  
উদাহরণ: US-এর তুলা বা সয়াবিন যত খুশি ঢুকবে। বাংলাদেশ বলতে পারবে না 'এ বছর ১০ লাখ টনের বেশি নেব না।

২. Article 2.2: Technical Regulations, Standards, and Conformity Assessment:  
"Bangladesh shall allow U.S. originating goods that comply with applicable U.S. or international standards... to enter its territory 'without additional conformity assessment requirements' where certification is provided by governmental or internationally accredited laboratories."  
US-এর FDA বা স্বীকৃত ল্যাব সার্টিফিকেট দিলে, বাংলাদেশ আর BSTI বা ওষুধ প্রশাসন দিয়ে আলাদা টেস্ট করাতে পারবে না।  
উদাহরণ: মডার্না FDA সার্টিফিকেট দিলে, ওই টিকা বাংলাদেশে ঢুকবে BSTI টেস্ট ছাড়াই। ওষুধ প্রশাসন আটকাতে পারবে না।

৩. Article 2.3: Agriculture:  
"Bangladesh shall ensure that its sanitary and phytosanitary (SPS) measures are science- and risk-based and... shall remove unjustified SPS barriers in areas that undermine reciprocity."  
কৃষি ও খাদ্য পণ্যের আমদানিতে বাংলাদেশ অযৌক্তিক বাধা দিতে পারবে না। US-এর নিয়মই মানতে হবে।  
উদাহরণ: US-এর GMO ভুট্টা বিষয়ে বাংলাদেশ বলতে পারবে না, 'এইটা পরীক্ষা করা লাগবে'। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আটকাতে পারবে না।

৪. Article 3.2: Facilitation of Digital Trade:  
"Bangladesh shall facilitate digital trade... by: (b) ensuring the 'free transfer of data across trusted borders' for the conduct of business"  
বাংলাদেশকে ডেটা অবাধে US-এ পাঠাতে দিতে হবে। ব্যবসার নামে তথ্য আটকানো যাবে না।  
উদাহরণ: আমাদের হাসপাতালের রোগীর তথ্য, জমির GIS ম্যাপ, জিনোম ডেটা — US কোম্পানি চাইলে বাংলাদেশ 'না' বলতে পারবে না।

৫. Article 4.1: Complementary Measures:  
"If the United States adopts a border measure... to protecting the economic or national security of the United States... Bangladesh shall adopt or maintain a 'complementary restrictive measure'"  
US যদি নিরাপত্তার নামে কোনো বাণিজ্য বাধা দেয়, বাংলাদেশকেও একই বাধা দিতে হবে।  
উদাহরণ: US চীন থেকে আসা ড্রোন ব্যান করলে, বাংলাদেশকেও ব্যান করতে হবে। নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।

৭. Annex III, Section 6: Commercial Considerations  
"Biman Bangladesh Airline intends to purchase 14 Boeing aircraft... Bangladesh shall endeavor to purchase... U.S. liquefied natural gas, with an estimated value of $15 billion over 15 years... wheat (at least 700,000 metric tons per year for five years), soy and soy products"  
বাংলাদেশ বিমান এয়ারবাস না কিনে বোয়িং কিনবে, ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের US গ্যাস কিনবে, ৫ বছরে ৩৫ লাখ টন গম কিনবে।  
উদাহরণ: বিমান বোয়িং কিনতে বাধ্য। কৃষক US সয়াবিন কিনতে বাধ্য, দেশি সরিষার বাজার উধাও!
৬. Article 6.4: Enforcement:  
"If the United States considers that Bangladesh has not complied... the United States may 'reimpose the applicable reciprocal tariff rate' set forth in Executive Order 14257... on certain or all imports from Bangladesh"  
US যদি মনে করে বাংলাদেশ চুক্তি মানছে না, তাহলে US একতরফা শুল্ক বসিয়ে দিতে পারবে। বাংলাদেশের সেই অধিকার নেই।  
উদাহরণ: বাংলাদেশ US গরুর মাংসে হালাল সিল চাইলে, US বলবে 'চুক্তি ভেঙেছ'— তারপর গার্মেন্টসের উপর ১৯% শুল্ক বসিয়ে দেবে।

৮. Article 6.5: Termination: 
"Either Party may terminate this Agreement by providing written notice... 60 days after"  
যেকোনো পক্ষ ৬০ দিনের নোটিশে চুক্তি বাতিল করতে পারবে।  
উদাহরণ: US চাইলে যেকোনো সময় বের হয়ে যেতে পারবে। বাংলাদেশও পারবে, যদি সাহস থাকে।

এই চুক্তি বাতিলের কোনও বিকল্প নাই, আছে! আহা, যে চুক্তিটা আমেরিকার সঙ্গে,  আমেরিকা হচ্ছে চলমান একটা  'নরক বানাবার কারখানা' [১৪]!
এই গ্রহে এমন কোন অনাচার নাই যার পেছনে আমেরিকার 'সদয় আঙুল'  নাই!
আমরা কী ভুলে গেছি, Fort Pitt-এ কম্বল বিতরণের নাম করে গুটি বসন্তের জীবানু ছড়িয়ে আদিবাসী  লেনাপে গোত্র শেষ করে দিয়েছিল। Missouri স্টিমবোটে গুটি বসন্ত ছড়িয়ে ম্যান্ডান গোত্রের ৯৯% শেষ।  

আর আমাদের ইউনূস  মহোদয় যখন নোবেল মঞ্চে বলেন:
"Poverty is an artificial creation".
তখন চোখের পানি কী আর বাঁধ মানে!


* এই লেখা অসমাপ্ত। সময়ে-সময়ে এখানে লেখা-তথ্য যোগ হবে। কারণ মহাশয় ইউনূসকে নিয়ে লেখা মানে মহাকাব্য লেখার চেষ্টা করা...।

সূত্র:

১. লাইফ-এচিভমেন্ট-সেক্রিফাইস: https://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_3333.html?m=1

১. লাশ-বানিজ্য-পদক: https://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html?m=1

২. ইউনূসের ছেলেরা...: https://www.ali-mahmed.com/2025/07/blog-post_28.html?m=1

৩. ইউনূস এবং লেজারগান:

https://www.ali-mahmed.com/2011/04/blog-post_29.html?m=1

৪. ইউনূস-গ্রামীনই কেন...:

https://www.ali-mahmed.com/2011/04/blog-post_26.html?m=1

৫. ইউনূস, আপনার এত 'লালচ' কেন!

https://www.ali-mahmed.com/2011/03/blog-post_03.html?m=1

৬. রক্তচোষা কেবল ইউনূস, সরকার না?

https://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_31.html?m=1

৭. ইউনূস, আমলনামা: https://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_26.html?m=1

৮. ডিয়ার ইউনূস...: https://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_8173.html?m=1

৯. ইউনূস—ডেইলি স্টার...https://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_04.html?m=1

১০. রতনে রতন চেনে: https://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_28.html?m=1

১১. জাতীয় মামা: https://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_12.html?m=1

১২. ওই আসে মহাপুরুষ, ইউনুস! https://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_04.html?m=1

১৩. কালের সেরা সুদখোরদ্বয়: https://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_02.html?m=1

১৪. অসভ্য ইতর, দানব এক রাষ্ট্র, আমেরিকা: https://www.ali-mahmed.com/2026/05/blog-post_9966.html?m=1




Saturday, May 9, 2026

অলৌকিক এক সাধু, মাদার তেরেসা!

ক্রিস্টোফার হিচেন্সের Hell’s Angel ডকুমেন্টারি

১. চিকিৎসায় গাফেলতি ও ব্যথা-নাশক না দেওয়ার অভিযোগ: Missionaries of Charity-র হোমগুলোতে রোগীদের উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া হত না।

পবিত্র কোরানের আয়াত।

১. সুরা বাকারা (২:২৬)  

বাংলা: "...নিশ্চয় আল্লাহ মশা কিংবা তার চেয়েও ক্ষুদ্র কোনো বস্তুর উপমা দিতে লজ্জা করেন না..."  

আরবি: "...إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي أَن يَضْرِبَ مَثَلًا مَّا بَعُوضَةً فَمَا فَوْقَهَا..."


২. সুরা বাকারা (২:২৯)  

বাংলা: "...তিনিই যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং তাকে সাত আকাশে বিন্যস্ত করলেন..."

Friday, May 8, 2026

সহীহ হাদিস।

১. কাতারে ফাঁক রাখলে শয়তান ঢোকে।  

হাদিস: ...কাতারে ফাঁক রাখো না। শয়তান ছোট কালো বকরির মতো ঢোকে।  

উৎস: সহিহ বুখারি 719; সহিহ মুসলিম 434

Thursday, May 7, 2026

অসভ্য, ইতর, দানব এক রাষ্ট্র—আমেরিকা!

১. সেকাল:

আদিবাসী নিধন, জমি দখল ১৪৯২-১৯২৪:  বর্তমান আমেরিকান মহাদেশে, ১৪৯২ সালে ইউরোপীয়দের আসার আগে আদিবাসী জনসংখ্যা ছিল আনুমানিক ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি। ১৯০০ সালে মার্কিন আদমশুমারিতে টেকে মাত্র ২,৩৭,১৯৬ জন! এর জন্য অবশ্য অন্য কারণও ছিল। ইউরোপীয়দের আনা ইনফুয়েঞ্জা, গুটি বসন্ত, হাম, দুর্ভিক্ষ...!

শ্রীরাম, রাম নাম সত্য হায়।

১. শূর্পণখার নাসা-কর্ণ ছেদন করানো।  

বাংলা: অরণ্যকাণ্ড, সর্গ ১৮। শূর্পণখা রামের কাছে প্রেম নিবেদন করে। রাম তাকে লক্ষ্মণের কাছে পাঠান। লক্ষ্মণ তখন রামের সামনেই ক্রুদ্ধ হয়ে খড়্গ দিয়ে শূর্পণখার নাক কান কেটে দেন। রক্তাক্ত শূর্পণখা চিৎকার করে চলে যায়।

মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণের রণকৌশল!

১. ভীম দুর্যোধনের উরুদ্বয়ে আঘাত করেছিলেন।

সংস্কৃত মূল: মহাভারত, শল্যপর্ব, গদাযুদ্ধপর্ব, অধ্যায় ৫৮

ততো দুর্যোধনস্যোর্ভ্যাং বলেন মহতা নৃপ।

ভীমসেনো গদাং গুর্বীং পাতয়ামাস বেগিতঃ॥ ৫৮.৫৯॥

Wednesday, May 6, 2026

কারামতিরা লুট করেছিল 'হাজরে আসওয়াদ'!

সালটা ৩১৭ হিজরি / ৯৩০ খ্রিস্টাব্দ।

কারামতিরা ছিল, পূর্ব আরব বাহরাইনের ইসমাইলি শিয়াদের উগ্র শাখা। এদের নেতা ছিলেন, 'আবু তাহির আল-জান্নাবি'।

Tuesday, May 5, 2026

বুদ্ধকে ১০ প্রশ্ন এবং The Ten Commandments.

বুদ্ধকে করা ১০ প্রশ্ন:

1. Is the world eternal?  

এই জগৎ কি শাশ্বত?

2. Is the world not eternal?

এই জগৎ কি অশাশ্বত?

3. Is the world finite?

জগৎ কি সসীম?

Monday, May 4, 2026

মহাত্মা গান্ধী, অন্ধকার-আলো!

নিয়ম হচ্ছে, 'আলো-অন্ধকার' লেখা হয়, 'অন্ধকার-আলো' না! আমি অন্ধকারকে পূর্বে নিয়ে এসেছি। কারণ আমরা কথা বলছি, একজন মহাত্মাকে নিয়ে! যিনি 'মহান আত্মা'! 

হিমালয় পায়ে গড়াগড়ি খেলে সেটা আর হিমালয় থাকে না, সেটা হয় 'টিলাময়'! তো, মহাত্মা গান্ধীর অন্ধকার দিক নিয়ে আগে আলোচনা করা যাক।

Sunday, May 3, 2026

একজন তেলতেলে মানুষ, ফরিদুর রেজা সাগর!

কিছু-কিছু মানুষকে দেখলে হুদাহুদি মনে হয় চামড়ায় একটু চাপ দিলেই তেল চুঁইয়ে পড়বে! আমাদের ফরিদুর রেজা সাগর স্যার তাঁদের একজন! 

আপনি অন্যের চোখে না, নিজের চোখে দেখলেন, ফরিদুর রেজা সাগর দরদর করে ঘামছেন। কিন্তু আপনি নিশ্চিত থাকেন আপনার দেখায় ভুল আছে! তিনি আসলে ঘামছেন না, তেল চুঁইয়ে পড়ছে!

সভ্য এক দেশ বেলজিয়াম—একজন নসালা, 'বোয়ালি' এবং একটি বই!

রাজা ফিলিপ (Philippe of Belgium)
একালের বেলজিয়াম:  

অতি সভ্য রাজা ফিলিপ দয়া করে ২০২২ সালে কঙ্গোতে গিয়ে বলেছিলেন: "I wish to express my deepest regrets for the wounds of the past"। 
WhatsApp