'[*]বাঞ্চো...ট্রাম্প' যে কী পরিমাণ চুতিয়া এর ভাল একটা উদাহরণ এটা:
আমেরিকাকে উদ্দেশ্য করে গোটা বিশ্বকে ইরান এই ম্যাসেজ দিয়েছে।
"ন্যানো ড্রাইভটা ফেলেছি হারিয়ে/ যেটায়—রাখা ছিল ৮০০ কোটি/ মানুষের, ডিএনএ প্রোফাইল।"
'[*]বাঞ্চো...ট্রাম্প' যে কী পরিমাণ চুতিয়া এর ভাল একটা উদাহরণ এটা:
এক-এগারো'র প্রয়োজন ছিল, কি ছিল না; এখানে এই আলোচনা জরুরি না। ওই সময়ের আলোচিত এক নাম 'জেনারেল মাসুদ'। এই নামেই মুখে-মুখে চালু ছিল নামটি। এটাও বলা হয়ে থাকে, সেনাপ্রধান মইনের স্থলে জেনারেল মাসুদ হলে এই দেশের ইতিহাস অন্য ভাবে লেখা হত! এই তর্কও থাকুক আপাতত।
এক-এগারো বা এর পরবর্তীতে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে হালে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত রিমান্ডও মঞ্জুর করেছেন। তিনি কি অপরাধ করেছেন সেটা আদালতের বিচার্য বিষয়! ফায়ারিং স্কোয়াডে তিন-নলা বন্দুকে বিচার করা হবে নাকি মুক্তি দিয়ে হালুয়া-পুরি খাওয়ানো হবে, এই নিয়েও কোন সমস্যা নাই।
তো, ওসময়ও একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খেত, আদালতে উত্থাপন করার সময় যে অনাচারগুলো করা হতো, পুলিশ কী করে? আচ্ছা, ভিয়েতকং গেরিলার মত ওরা কী পুলিশের চোখে ধূলো দিয়ে এই সমস্ত অনাচার করে নিমিষেই উধাও হয়ে যায়!
ওয়াল্লা, এরা তো ভিয়েতকং গেরিলা না! কী চমৎকার করে কোর্ট-চত্বরে মিডিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে এই লোক সাক্ষাৎকার দিচ্ছে, মাসুদকে কয়টা পচা ডিম মেরেছে, কোন এঙ্গেলে মেরেছে, কোন হাত দিয়ে...!
অনেকে নাক ঝেড়ে বলবেন, সমস্যা কোথায়? সমস্যা আছে, ভয়াবহ সমস্যা! কারণ জেনারেল মাসুদ, এই মানুষটা রাষ্ট্রের কাস্টডিতে ছিলেন। বিচারে শাস্তি দেওয়ার আগ-পর্যন্ত এই দেশের সমস্ত অস্ত্র, সব শক্তি এঁকে বা তার স্থলে অন্য যে-কাউকে রক্ষা করবে।
আমাদের এক অন্ধকার দিক, জেলহত্যা—ওই জেলহত্যা এবং জেনারেল মাসুদ বা অন্য কারো এমন হেনস্তা একই ধরনের অপরাধ! কতটুকু কম-বেশী সে ভিন্ন আলোচনার বিষয়!
আপনাদের কি মনে আছে গোলাম আজমের বিচার-ফাঁসির জন্য লক্ষ-লক্ষ মানুষ শাহবাগে জড়ো হয়েছিল। উত্তাল সমুদ্রের মত মানুষ!
বেশ-বেশ! তা গোলাম আজম তখন কোথায় ছিলেন? এই লক্ষ-লক্ষ মানুষের কাছ থেকে মাত্র পঞ্চাশ কদম দূরে। শাহবাগেই, হাসপাতালে। একটা করে পানির বোতল ছুড়ে মারলে গোটা হাসপাতাল ভেসে যেত!
এই পঞ্চাশ কদম কিন্তু কেউ অতিক্রম করার কথা কল্পনাও করেননি! এই পঞ্চাশ কদমের মাঝেই কিন্তু গোটা বাংলাদেশ হিমালয়ের মত দাঁড়িয়ে ছিল।
আর্মেনিয়ানদের বিলিয়ার্ড (আন্টা) খেলার জায়গা সংলগ্ন মাঠ ছিল বলে এর নাম ছিল 'আন্টাঘর'! কালে-কালে এর নাম হলো ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে বাহাদুর শাহ পার্ক!
১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে খুন করে। এরপর এই মাঠে তাঁদেরকে গাছে-গাছে ঝুলিয়ে দেয়! কাক ঠুকরিয়েছে, ঈগল চোখ গলিয়ে দিয়েছে কিন্তু কেউ লাশ নামাতে সাহস করেনি!
প্রায় একশো বছর পর এই নৃশংসতার স্মরণে এখানে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়:
আহা! যেটা করা যেত বিশাল একটা বিলবোর্ডে এই অভূতপূর্ব ঘটনা বড়-অক্ষরে লিখে, আমাদের সিপাহিরা গাছে-গাছে ঝুলছে এর প্রতীকী ছবি এঁকে রাখা।
অন্য ভুবনে কখনও ভ্রমণে গেলে ওই ভ্রমণের কঠিন নিয়ম হচ্ছে, ওখানে কোথাও অসঙ্গতি মনে হলেও 'এটা সরিয়ে-ওটা সরিয়ে' মাতব্বরি করা যাবে না। অযথা কিছুতেই হাত দেওয়া যাবে না! যেমন ধরুন, অকারণে আপনি ফট করে একটা কাক মেরে ফেললেন।
সর্বনাশ কিন্তু করে ফেললেন! ওখানেও একটা 'ট্রেরাম্প' আছে। প্রোগ্রামিংটা এভাবেই করা ছিল, যে কাকটাকে আপনি হত্যা করলেন সেই কাকটা ট্রেরাম্পের বালকবেলায় তার দু-চোখ গেলে দেবে। সে অন্ধ হয়ে গুলিস্থানের মত কোন-এক জায়গায় ভিক্ষা করবে।
কিন্তু এখন ফল হবে ভিন্ন, কালে-কালে ট্রেরাম্প বড় হবে এবং লক্ষ-লক্ষ মানুষ মেরে ফেলবে! প্রকারান্তরে আপনি একটা কাক হত্যা করে লক্ষ-লক্ষ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী হলেন।
যাই হোক, অন্য ভুবন বাদ এই ভুবনের কথা বলি। পাকিস্তান নামের দেশটার জনগণের কুৎসিত একটা অভ্যাস আছে। যত্রতত্র মুত্র-বিসর্জন করা। পার্লামেন্টে আইনবিদ দ্বারা আইন পাশ করার জন্য বিল উত্থাপিত হল:
যে বান... রাস্তায় মুত্র-বিসর্জন করবে তাকেই 'শুট-অন-সাইট'।
কিন্তু সংসদ সদস্যরা খানিকটা দ্বিধায় পড়ে গেলেন কারণ এদের মধ্যে একজন চৌকশ সামরিক কর্মকর্তাও আছেন। তাকে গুলি করা হবে, কি হবে না? এরিমধ্যে পার্লামেন্টে একটা গাধা ঢুকে পড়ে:
ওরি আল্লাহ, আবার দেখি ভবনের ছবি তোলাও নিষেধ! এমনিতে কোন ভবনের ছবি তুললে সেটা হুড়মুড় করে দাঁড়ানো থেকে বসে গেছে বা লম্বা হয়ে শুয়ে পড়েছে এমনটা তো দেখিনি, শুনিনি! কে জানে, হতেও পারে এমনটা, বঙ্গালদেশ বলে কথা!
এমনিতে আমি ভয়ে-ভয়ে আছি! ছবি তুলে এই যে অপরাধটা করলুম তখন তো ওরা আমার নাগাল পায়নি এখন কী এই অপরাধে আমার বাসস্থান লক্ষ করে কামান দাগবে?
এই শায়েখ আব্দুর রাজ্জাক প্রধানমন্ত্রীর একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া সবার সংগে পরিচিত হন।
একটা গুরুতর কিন্তু আছে! সবাই উঠে হোস্ট এবং প্রধানমন্ত্রীকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছেন কিন্তু ব্যতিক্রম কেবল আব্দুর রাজ্জাক! তিনি সব কর্মকান্ড বসে-বসে করেছেন!
এটা খুবই সাধারণ শিষ্টাচার—কেউ আপনার সংগে দাঁড়িয়ে কথা বললে আপনি দাঁড়িয়ে কথা বলবেন। অবশ্য যাদের পা নাই তাদের জন্য এই শিষ্টাচার খাটে না। যতদূর জানি আব্দুর রাজ্জাক সাহেব আল্লাহর রহমতে সুস্থ-সবল একজন মানুষ—আলহামদুলিল্লাহ।
হয়তো ধর্মীয় আচারের কারণে তিনি এটা করেননি! জেনে ভাল লাগল।
এমনিতে আমাদের এই ধর্মীয় শিক্ষক আমাদেরকে যা শিক্ষা দেন:
"নারীর জন্ম কলঙ্ক... অমঙ্গল...কুলক্ষণ...নারীর আত্মা নেই...স্বামী স্ত্রীকে বিক্রি করতে পারে...স্ত্রী হচ্ছে বাড়ির সম্পদ...!"
সবিনয়ে বলি, আমি ধর্মীয় শিক্ষক মহোদয়ের সাথে একমত হতে পারছি না। নারীর জন্ম না-হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমস্যা নাই কারণ তিনি তার জন্ম বায়োলজিক্যাল বলে মনে করেন না!
এমন অসংখ্য বয়ান আছে এই ভদ্রলোকের। একটা আরেকটাকে ছাড়িয়ে যায়!
অথচ নবীর সময়ে একজন নারী নবীকে লক্ষ করে ছোড়া তীর নিজের উপর নিয়ে নবীকে রক্ষা করেন [১]। তীর কোথায় চলে, রান্নাঘরে নিশ্চয় না?
আমার হাজার-হাজার লেখার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শতশত লেখা আছে কিন্তু একটা লেখাও সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবর রহমান বা জিয়াউর রহমানের স্তুতি-লেখা নাই! তাঁদের প্রতি অশ্রদ্ধার কারণে এমনটা কিন্তু না। এই বিষয়ে আমার সবিনয় যুক্তি হচ্ছে, এঁদের নিয়ে লেখার জন্য হাজার-হাজার লোক আছেন।
আমি না-হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধে একজন শুয়োর-চড়ানো বীরপ্রতীক, একজন সুইপার, একজন ঠেলা-চালানো কমান্ডো এদের নিয়েই লিখলাম [১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ১৫]
এ সত্য, সাহিত্য মানেই যেমন ইংরাজি ভাষার সাহিত্য, মুভি মানেই যেমন হলিউডের তেমনি মুক্তিযুদ্ধ মানেই আওয়ামী লীগ। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে আওয়ামীলীগ-করা অধিকাংশ মানুষের মুক্তিযুদ্ধে অবদান নেই!
কী অদ্ভুত একটা দেশ!
৭ মার্চের ভাষণ কেবল আওয়ামী সম্পত্তি বা দেশের সম্পত্তি না, এই ঐতিহাসিক ভাষণ ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো কর্তৃক “মেমোরি অফ দি ওয়ার্ল্ড” (Memory of the World) বা বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
-সূত্র:
১. সাদী মহাম্মদ: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/1971.html
প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার অতীত নিয়ে, ১৭ বছর লন্ডনে থাকা নিয়ে আলাপে যদি না যাই তাহলে আমি বলব তাঁর শুরুটা খুবই চমৎকার ছিল। আমরা অতিরিক্ত আশাবাদী হয়ে পড়েছিলাম!
অবশ্য মিনমিন করে এটাও নোকতা আকারে যুক্ত করা হয়েছিল, তাঁর আশেপাশের লোকজনেরা তাঁকে ভাল থাকতে দেবে না! কিন্তু এটা যে এত দ্রুত হবে তা কল্পনাতীত!
তাঁর যেমন অনেক সবল দিক আছে—অনুমান করি, দুর্বল দিক সব ছাপিয়ে যাবে। আশেপাশে অনেকেই আছেন যারা তাঁর গুরুজন—তাঁর মা'র সময়ে ছিলেন। কঠিন হওয়া তাঁর জন্য কঠিন!
এই গর্ভনের সময়ে মানুষ ব্যাংগুলোর উপর আস্থা ফিরে পেয়েছিল, রেমিটেন্স যোদ্ধারা ঝাপিয়ে পড়ে টাকায় দেশ সয়লাব করে দিয়েছেন আমি এই সমস্ত কু-তর্কে যাব না।
ধরে নিলাম, এই গর্ভনরের অনেক অনাচার নিয়ে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন, কোন সমস্যা নেই। পদত্যাগ করান, তথ্য-উপাত্তের ভিক্তিতে বিচার করুন, ফায়ারিং-স্কোয়াডে হাজার রাইফেল তাক করুন, কোন সমস্যা নেই।
... ... ...
আরেকটা ঘটনা ঘটেছে, অহেতুক-হুদাহুদি! এ সত্য, মোহন রায়হানের নাম আগে কখনও শুনিনি! পরে খোঁজ নিয়ে দেখলাম, দুধে ভাসা মাছি—সব দুধই ভাসে। সবই সত্য কিন্তু লেজেগোবরে করে আম-জনতার হাতে ক্ষুর তুলে দেওয়া যায় না।
... ,
আপনার সমস্যার কথা 'ইয়ে' আমারে জানাইছে। আসলে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করাটা আমার জন্য মুশকিল। একটু ঘুরায়া বলি, আপনে বুদ্ধিমান মানুষ, বুইঝা নিবেন।
আমার মা মারা গেছে ৫ বছরের উপরে হইল। আমি এখনও তার জন্য কান্না করি!
ইয়ু নো, শালার পুরুষ মানুষের কান্না করার জায়গার খুব অভাব—সে যেইখানে-সেইখানে পা ছড়ায়া কান্না করতে পারে না। তার জায়গা একটাই, বাথরুমের পানির ট্যাপ ছাইড়া মন খুইলা কান্দাকান্দি করা। ট্যাপের জলের সঙ্গে ভাইসা যায় চোখের জল। আরে, কোন শালা দেখব তখন!
বিজ্ঞানিরা কয়, মস্তিস্ককে নাকি বানান হইছে এমন কইরা সে ক্রমশ বিস্মৃত হয়। হেরা বা… জানে! আমার বেলায় হইছে উল্টাটা। আমার মা মারা যাওয়ার সময় মাইনা নিছিলাম কারণ সে বাঁইচা থাকলে খুব কষ্ট করত। আর তখন আমার টাকা-পয়সারও খুব টানাটানি…। আফসোস, একসময় দু-হাত ভইরা টাকা আসল কিন্তু সে আর নাই!
যে মহিলার স্বামীর ১৯৭০ সালে নিজস্ব মরিস মাইনর গাড়ি ছিল তার চিকিৎসা হয় সরকারী হাসপাতালে! শালার এইটা একটা জীবন হইল! এখনও মানতে পারি না। এই কষ্টটা আজীবন আমারে পাগলা কুত্তার মত তাড়া করব।
এই মহিলা শারীরিক ভাবে মারা গেছে কিন্তু এখনও সে জীবিত। হাসপাতালের বেডে শুইয়া আছে, বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়। তারে নিয়া একটা সিরিজ লেখা শুরু করছিলাম, ‘হাসপাতাল পর্ব’। ১৪/১৫টা লেখা মনে হয় লিখছিলাম পরে আর লিখতে পারি নাই [১]। তার মৃত্যুটা আর লিখতে পারি নাই, বুঝলেন! ওখানে-হাসপাতালে সে এখনও বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়। গাল ফুলিয়ে ছোট একটা বাচ্চার মত বারবার বলছে, 'তুই আমারে বাড়ি নিয়া যাইবি কবে'? শোনো কথা, ডাক্তার না বললে আমি বাড়ি নিয়া যাই কেমনে!
আচ্ছা, সে থাকুক না ওমনি—বাড়ি ফেরার স্বপ্ন নিয়া, সমস্যা কোথায়…।
আমি-না আমার মার জন্য এখনও হাহাকার করি…। কোন মহাপুরুষ বলে গেছেন, "জ্ঞানীরা মৃতের জন্য শোক করেন না"। হুশ, এমন জ্ঞানী হইতে আমার বয়েই গেছে!
জানেন, আমি কিন্তু আমার মা'র খুব আদরের ছিলাম না। খোকা এটা খাস নে, খেয়েছি। খোকা ওটা করিস না, করেছি।
আহারে-আহারে, আমার মা-টার জন্য কিছুই করতে পারিনি, সিনেমার ডায়লগ মনে হবে কিন্তু তার খানিকটা স্পর্শ, তার গায়ের গন্ধ—কোটি টাকা আমার কাছে তুচ্ছ।
কানে-কানে গোপন একটা কথা বলি, আমাকে খুনি বানাবার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে আমার মাকে নিয়ে কুৎসিত কথা বলা। যে বলবে তাকে স্রেফ খুন করে ফেলব। ক্ষমতায় না-কুলালে নিজে খুন হয়ে যাব। নো মার্সি, নো জেনেভা কনভেনশন- জঙ্গলে কেবল জঙ্গলের আইন।
দেখেন কান্ড, যেটা আমি এক লাইনে বলে আপনাকে বোঝাতে পারতাম সেটা বোঝাতে গিয়ে লাইনের-পর-লাইন লিখলাম। চুতিয়া লেখকদের এটাই সমস্যা…।
১.হাসপাতাল পর্ব: https://www.ali-mahmed.com/search/label/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC?m=0
আমাদের এখনকার রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু পূর্বের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের মত না; যে আব্দুল হামিদের মত হরেদরে এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রিয়াংকা চোপড়াকে নিয়ে রসিকতা করবেন।
তাই দুষ্ট পোলাপানরা যখন এমন কমপ্লিমেন্ট নিয়ে আলোচনা শুরু করল:
যাই হোক, আজ আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি একটা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কালের কন্ঠকে [*]।
এইসব আসলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না! মহামান্যের ট্রেন ঝড়ের গতিতে ছুটছে আর আমরা সামান্যরা ট্রেনে বসে আছি। ট্রেন এবং আমরা পাবনা-ঢাকা, ঢাকা-পাবনা যাতায়াতের সময় একসঙে থাকব কিনা সেটাও এখানে আলোচ্য বিষয় না...!
... ... ...
*সদয় অবগতি:' কালের কন্ঠ' (এটা টাইপ করার সময় আমি খুব সাবধানে থাকি কারণ 'ক'-এর স্থলে 'ব' হয়ে গেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে!
একবার এক লেখায় মহাজাতকের জায়গায় 'মহাঘাতক' লিখে গোলমাল হয়ে গিয়েছিল। ভাগ্যিস, তখন সঞ্জীব চৌধুরী সামলে নিয়েছিলেন।
এবার নিজেকে নিজেই ধন্যবাদ দেই কারণ এবার আর গোলমাল হয়নি! অতি সাবধানে লিখেছি, কালের কন্ঠ!)
... ... ...
আফগানিস্তান এমন এক জাতি যাদের কেউ পরাস্ত করতে পারেনি! না সুপার পাওয়ার রাশিয়া, না আমেরিকা! এ এক বিস্ময়!
নাগরিককে আবার ৪টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে! সর্বোচ্চ শ্রেণিতে থাকবেন উলেমা এবং মোল্লারা। এই শ্রেণি যদি কোনও অপরাধ করে, তাহলে স্রেফ কিছু উপদেশ দিয়ে মুক্তি দেওয়া হবে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে আশরাফ বা উচ্চবিত্তরা। তাদের অবশ্য অপরাধের শাস্তিস্বরূপ যেতে হবে আদালতে। তবে সেখানে কিছু উপদেশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।
তৃতীয় শ্রেণিতে থাকবেন মধ্যবিত্ত আফগানরা। তাঁরা অপরাধ করলে যথাযথ তদন্ত করে শাস্তি পেতেই হবে। কারাদণ্ড পেতেই পারেন তাঁরা। একেবারে শেষ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে দরিদ্রতম আফগানদের। তাঁরা অপরাধ করলে কারাদণ্ড, মৃত্যুদণ্ডের মতো সাজা দেওয়া হবে।
মহিলাদেরকে স্বামী মারতে পারবেন তবে হাড় ভাংগা যাবে না এবং দৃশ্যমান আঘাত করা যাবে না।
এই বিষয়ে ধর্মীয় শিক্ষক আল্লামা মামুনুল হক এক সাক্ষাৎকারে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার ব্যাখ্যা জানার পূর্বে এটা জানাটা সমীচীন, যিনি দেশের এক-ক্রান্তিলগ্নে (এনসিপি নেতাদের মত হাওয়া খেতে কক্সবাজার চলে যাওয়া) রিসোর্টে ছিলেন। অবশ্য তিনি ছিলেন অন্য নারীকে নিয়ে:
যাক, একজন ধর্মীয় শিক্ষক, একজন আল্লামা যখন বলেছেন কোরানের আলোকে এই সমস্ত কর্মকান্ড সবৈব সত্য এরপর আর কথা চলে না।
আল্লামা মামুনুল হক অন্য-এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তারা ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশেও শরিয়া আইন চালু করবেন। তখন বাংলাদেশ হবে 'বাংলাস্তান'—রাতদিন বাজবে এই ওয়াজ:
কখনো-কখনো, কেউ-কেউ, কেমন-কেমন করে যেন অযাচিত ভালবাসা পেয়ে যায়! নইলে আমার মত এক-অভাজন ফেব্রুয়ারির এক পড়ন্ত বিকেলে জাতীয় শহীদ মিনারের মত একটা জায়গায় দাঁড়াবার দুঃসাহস করে কেমন করে!
ছবির এই ৪ জনের মধ্যে এঁরা ৩ জনই অতি বিখ্যাত কেবল এই অধমই অখ্যাত।
আবার ছবির এই ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই অন্য ভুবনে চলে গেছেন। কেবল আমার মত অকাজের মানুষটাই বেঁচে আছে। মেঘে-মেঘে বেলা হয়ে যাচ্ছে—সময় ফুরিয়ে আসছে ক্রমশ। অথচ কিছুই করা হলো না—কেবল একজন 'পাইপমানুষ' (যারা পৃথিবীতে আসে খেতে এবং বর্জ্য ত্যাগ করতে)!
ওখানে আমাকে কিছু-একটা বলার জন্য বলা হয়েছিল! আমি এলোমেলো মাথা এবং ছাপাছাপি চোখ নিয়ে বুঝে উঠতেই পারছিলাম না কেমন করে বলব, কী বলব?
পূর্বে আমারই এক লেখা থেকে ধার করে খানিকটা ওখানে বলে পার পেয়েছিলাম [১]:
"ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ছয় হাজার ভাষার মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে।
লাটভিয়ায় ‘লিভোনিয়ান’ ভাষায় কথা বলেন এমন একজনই মাত্র জীবিত আছেন, তিনি মারা গেলে সেই ভাষারও মৃত্যু হবে। এটা ২০০৯ সালের কথা, এরিমধ্যে তিনি মারা গেছেন কিনা আমি জানি না।
আলাস্কার ‘আইয়াক’ ভাষা জানা শেষ ব্যক্তিটি মারা যান ২০০৮ সালে। তাঁর সঙ্গেই মৃত্যু হয় ‘আইয়াক’ ভাষার।
যে আড়াই হাজার ভাষা এই গ্রহ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে তার মধ্যে আমাদের বাংলা ভাষাও থাকতে পারত কিন্তু আমাদের অপার সৌভাগ্য আমাদের বাংলা ভাষা যে কেবল টিকেই আছে এমন না, আছে সদর্পে, সীমাহীন গৌরবে!বাংলা নামের আমাদের মায়ের ভাষা—এটা তো আর এমনি-এমনি হয়নি, কেউ আমাদেরকে এটা মুফতে-দানে দেয়নি! এর জন্য আমরা কেবল দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস, বছরের-পর-বছর ধরেই লড়াই করিনি; লড়াই করেছি যুগের-পর-যুগ ধরে!এই দেশের অসংখ্য সেরা সন্তান তাঁদের রক্ত অকাতরে বিলিয়ে গেছেন আমাদের জন্য। আমাদের বেদনার কথা যে অক্ষর দিয়ে লিখি সেই কালির সঙ্গে মিশে আছে তাঁদের রক্ত। জান্তব স্বপ্ন নামের সেই মানুষগুলোর অনেকেই আজ নেই কিন্তু তাদের মায়াভরা সুশীতল ছায়া ছড়িয়ে আছে আমাদের মাথার উপর।
তাঁদের ছায়ার পাশে যখন আমার মত অভাজন দাঁড়াই তখন নিজেকে কী ক্ষুদ্র, লজ্জিতই না মনে হয়। নতচোখে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে না-থেকে কোন উপায় থাকে না।"
...
গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, জনাব. শংকর সাঁওজালকে: