My Blog List

  • আলোর সঙ্গে... - ডা. রুমি আলম যে হুইলচেয়ারটা দিয়েছিলেন [১] এটা যে এমন কাজে লাগবে তা আমাদের আগাম জানা ছিল না। কোর্টের সামনে এমরান নামের এই মানুষটাকে উকালতির সূত্রে ফি রোজ নি...

Saturday, February 8, 2020

বেটা, জীবন বড়ই সুন্দর, রে!

লেখক: Shawkat Ali 
১৯৯৭ সালে মুুক্তিপ্রাপ্ত ইতালিয়ান ছবি লা ভিটা ই বেলা (লাইফ ইজ বিউটিফুল)
গল্পের শুরুটা দুই বন্ধুকে নিয়ে। প্রেক্ষাপট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কয়েক বছর আগের। স্থান ইতালির একটি ছোট শহর। এই দুই বন্ধুর একজন গুইডো। অভিনয়ে রবার্তো বেনিনি। তিনিই এই সিনেমার পরিচালক এবং গল্পলেখক।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষিকা ডোরার (ডোরা চরিত্রে বেনিনির রিয়েল লাইফ স্ত্রী নিকোলিটা) প্রেমে পড়ে গুইডো। গুইডো ছিল সাধারণ একটি ইহুদি পরিবারের। তার কাজের কোন ঠিক ঠিকানা নাই।

আর ডোরার পরিবার ছিল উচ্চবর্গের। তারা ইহুদীও নয়। ডোরার ধনী, সম্ভ্রান্ত, উচ্চবর্গীয় মা চান একজন উচ্চপদস্থ সিভিল সার্ভেন্টের সাথে ডোরার বিয়ে দিতে।

কিন্তু গুইডো ছিল মজার একজন মানুষ। জীবন তার কাছে ছিল নিছক হাসি তামাসার একটি বিষয়। কঠিন বাস্তবতার মাঝেও সে জীবনকে উপভোগ করতে শিখেছিল। একের পর এক ছেলেমানুষি অদ্ভূত, হাস্যকর কান্ডকারখানা করে সে ডোরার মন জয় করে নেয়।
দুজনে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। তাদের ভালোবাসার ফসল ছেলে যশোয়া। কিন্তু জীবন মোটেও রূপকথা নয়। সেদিন যশোয়ার চতুর্থ জন্মদিন। সারা বাড়ি সাজানো হয়েছে। কিন্তু তখনই ঘটে গেল এক আঘটন।
জার্মান সেনারা সমস্ত ইহুদীদের ট্রেনে বোঝাই করে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে পাঠাতে থাকে। ডোরা ইহুদী না হওয়া সত্ত্বেও স্বামী সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে ট্রেনে চেপে বসে। ক্যাম্পে নারী আর পুরুষদের জন্যে আলাদা আলদা ব্যবস্থা। সারি সারি লোক মাথা নিচু করে হেঁটে চলেছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। আর কোনদিন তারা তাদের সুস্থ জীবন ফিরে পাবে কিনা কে জানে। কার জীবনের আয়ু আর কদিন বা কঘণ্টা কেউ জানে না। কর্কশ কদাকার সেনারা চিৎকার করে আদেশ দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু যশোয়ার ছোট্ট নরম মন তখনও আসন্ন বিপদের আঁচ করতে পারেনি। একসমকার প্রাণচঞ্চল গুইডো এবার একজন দায়িত্ববান বাবার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। আচরণে সেই একই হাব-ভাব। কিন্তু ভেতরে লুকোন এক অব্যক্ত যন্ত্রণা।
এক বিশালকায় বাঁজখাই গলার সেনা অফিসার এসে নির্দেশ দিয়ে গেল ক্যাম্পের নিয়ম-কানুন সম্বন্ধে। কিন্তু স্বেচ্ছায় দোভাষী নিযুক্ত হয়ে গুইডো যা অনুবাদ করল সেটা যে মিথ্যে তা যশোয়া ছাড়া আর কারও বুঝতে বাকি থাকল না। যশোয়াকে গুইডো বোঝালো পুরো ব্যাপারটাই একটা খেলা। প্রত্যেকে সেখানে পয়েন্ট যোগাড় করতে গিয়েছে। যে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি হাজার পয়েণ্ট জোগাড় করে ফেলবে তাকে প্রথম পুরষ্কার হিসেবে একটা সত্যিকারের ট্যাঙ্ক দেওয়া হবে। যশোয়ার আবার ট্যাঙ্ক খুব পছন্দ। প্রতিদিনের শেষে পয়েন্ট হিসেব করে যার পয়েণ্ট সবচেয়ে কম হবে তার পিঠে একটা কাগজ সাঁটা থাকবে যাতে লেখা থাকবে 'বুর্বক, গাধা'।
গুইডো যশোয়াকে আরও বোঝায় যে, সে যদি মাকে দেখতে চায়, খিদে পেলে খাওয়ার জন্যে বায়না করে আর ঘরের ভেতর লক্ষী ছেলে হয়ে লুকিয়ে না থাকে তবে তাদের পয়েণ্ট কাটা যাবে। কোমল শিশুমনের সরলতায় আর গুইডোর অভিনয়ের স্বাভাবিকতায় যশোয়া তার বাবার কথা নিঃসঙ্কোচে মেনে নেয়। এরপর থেকে যতবার যশোয়া কিছু একটা সন্দেহ করে ততবার গুইডো নতুন নতুন খেলার নিয়ম বলে কঠিন, কদর্য সত্যকে আড়াল করে চলে। নরম ফুলের মত শিশু মনকে কনসেনট্রেশন ক্যম্পের ভয়াবহ আতংক থেকে রক্ষা করতে থাকে। কনসেনট্রেশন ক্যাম্প তাদের কাছে হয়ে যায় সামার ক্যাম্প।
সারাদিন প্রচন্ড পরিশ্রমের পর রুমে ফিরলে লুকিয়ে থাকা যশোয়া ঝাঁপিয়ে পড়ে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় বাবার কোলে। দু পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা তখন কঠিন হয়ে পড়ে গুইডোর পক্ষে। তবু সে খাবার লুকিয়ে আনে, কৌশলে যশোয়াকে ভিড়িয়ে দেয় সুবিধা প্রাপ্ত ছেলে-মেয়েদের মাঝে। যখন যেই বিপদ আর সুবিধা আদায় প্রয়োজন তখন সেই অনুযায়ী খেলার নিয়ম বদলে দেয় গুইডো।
ছেলের মনে সন্দেহ হলেই আবার কিছু বলে তা দূর করতে চেষ্টা করে গুইডো।
এভাবে শত কষ্ট আর অপমান সহ্য করে ছেলেকে বিপদ থেকে আগলাতে থাকে বাবা। কিন্তু একদিন গোপনে ক্যাম্পের বাইরে গিয়ে ফিরে আসার সময় সেনাদের হাতে ধরা পড়ে গুইডো। তাকে সেনারা হত্যা করার আগমুহূর্তেও জীবনটাকে সহজভাবে নেয়ার সহজাত ইশারায় বাবা ছেলেকে বিশ্বাস করায়, মৃত্যুও একটা খেলা।
এক সময় মার্কিন সেনারা যশোয়াকে উদ্ধার করে সে খোঁজে পায় তার মাকে।

একদিন যশোয়া সত্যিকার এক ট্যাঙ্কের মুখোমুখি হয়। তার কানে বাজতে থাকে বাবার শেখানো কথাগুলি-যেদিন ১০০০ পয়েন্ট জমা হবে সেদিন আমরা সত্যিকারের একটি ট্যাঙ্ক জিতে নিব। যশোয়া উচ্ছাসিত হয়ে পড়ে। কিন্তু আজ বাবা তার পাশে নাই।
বাবা নামক বোকা চমৎকার মানুষটার সাথে আবার দেখা হবে কিনা তার জানা নাই।
কিন্তু সে জানে বাবা নামক ভালোবাসার ছায়াটা সব সময় তার আশেপাশেই থাকবে। তাকে সমস্ত বিপদ থেকে আগলে রাখবে। শত কঠিন বাস্তবতার মাঝেও চুপিচুপি কানে-কানে এসে বলে দিয়ে যাবে, লাইফ ইজ বিউটিফুল। 



বেপারি!

লেখক:  Rumi Ahmed

"মগবাজারে বাসা| আশিউর্ধ ভদ্রলোক মাগরেব নামাজ পড়ে জায়নামাজে বসে ওজিফা পড়ছেন। এই অবস্থায়ই তার স্ট্রোক হলো! খুব গরম লাগলো, খারাপ ফিল করলেন, মুখের কথা স্লার্ড হয়ে গেলো। তাঁকে বিছানায় নিয়ে শুইয়ে দেয়া হলো। নিচের ফ্ল্যাটের এক ডাক্তার সাহেবকে ডেকে আনা হলো। উনিও বললেন, স্ট্রোক হচ্ছে।
এখন কোথায় তাকে নিয়ে যাবে তার বৃদ্ধা স্ত্রী? ছেলে মেয়েরা সব থাকে আমেরিকাতে! কি করবেন কোথায় নিয়ে যাবেন, কিভাবে নিয়ে যাবেন? এম্বুলেন্স লাগবে স্ট্রেচার লাগবে। স্ট্রোক হলে তিন ঘন্টার মধ্যে একটা ওষুধ দেয়া গেলে একধরণের স্ট্রোক ভালো হয়ে যায়! ঢাকা শহরে তো পয়েন্ট এ থেকে পয়েন্ট বি-তে যাওয়া সারাদিনের ব্যাপার। আত্মীয়রা এখন ছেলেদের ফোন করেছে। ছেলে আমেরিকায় বসে এখানে-সেখানে কল করে এম্বুলেন্স ম্যানেজ করলো। কোথায় নিয়ে যাবে এম্বুলেন্স? ইউনাইটেড-এর অনেক নাম শুনেছে এরা, সুন্দর কর্পোরেট হাসপাতাল, ভালো জায়গায়। এম্বুলেন্স বাড়িতে এসে নিয়ে যায়। তো, ইউনাইটেড হাসপাতালে ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টে নিয়ে যেতে তিন থেকে চার ঘন্টার মতো লেগে গেল।
ভদ্রলোকের বাসায় থাকা অবস্থায় জ্ঞান ছিল, কথা বলতে চেষ্টা করছিলেন। আস্তে-আস্তে নিস্তেজ হয়ে গেলেন। যখন ইউনাইটেড-এ গেলেন তখন ভদ্রলোক ডিপ কোমায়!
ভদ্রলোকের আত্মীয়রা বাইরে অপেক্ষা করছেন, মাঝ খানে জানা গেলো সিটি স্ক্যান করা হয়েছে- 'ম্যাসিভ ব্যাসাল গ্যাঙ্গলিয়া ব্লিড উইথ ইন্ট্রাভেন্ট্রিকুলার এক্সটেনশন আর মিডলাইন শিফট'! পরিবারকে জানানো হলো নিউরোসার্জন সাহেব দেখেছেন ওনাকে। কাল সকালে অপারেশন করবেন।
আমি পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ করলাম সিটি স্ক্যান এর ছবি ফোনে তুলে আমাকে পাঠাতে  আমি যাতে বুঝতে পারি কি অবস্থা এবং ধারণা করতে পারি কি অপারেশনের কথা ভাবছেন নিউরোসার্জন সাহেব! কিন্তু সিটি স্ক্যান এর ছবি তো দূরের কথা, পরিবারের সদস্যরা, পুত্রবধূ (যে ঢাকায় ছিল ওই সময়) ও তার মা, ওরা ভিতরে ঢুকতেই পারছেন না ।
পরে রাত বারোটার পরে পুত্রবধুর বাবা, উনি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের একটা শক্তিশালী মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উনি এলেন এবং ওনার কারণে সিটি স্ক্যানের ছবি আমরা হাতে পেলাম। আমি স্কোরিং করলাম, ICH Score=6. আমি ভদ্রলোকের ছেলেকে স্কোরিংটা দেখলাম। ICH Score=6 হলে ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যুর সম্ভাবনা ১০০%!
আমি নিজে আমেরিকান বোর্ড সার্টিফাইড নিউরোইনটেনসিভিষ্ট! ব্রেইন হেমোরেজ স্ট্রোক ইত্যাদি আমি করি রুটি রুজির জন্য! এ ধরণের ব্লিডিং নিয়ে কেউ কোমার রোগীকে নিয়ে আসলে জবাব রোগীর বর্তমান অবস্থা আমাদের হাসপাতালের আমার নিউরোসার্জন কলিগকে টেক্সট করলাম আর জিজ্ঞেস করলাম, সার্জারির কোনো স্কোপ আছে কিনা এবং সে হলে এই অপারেশনটা করতো কিনা? ও অনেক সময় নিয়ে স্ক্যান দেখে আমাকে টেক্সট ব্যাক করলো, 'হেল নো!' । Hopelessly Poor Prognosis, no role of any surgical intervention!
কিন্তু ইউনাইটেড এর নিউরসার্জন সাহেব গোঁ ধরে বসে আছেন। তিনি পেসেন্ট ছাড়বেন না। ওয়েইটিং রুমে লোক পাঠানো হলো কনসেন্ট এর জন্য! রোগীর আত্মীয়রা বললো আমরা অপারেশনের ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেই নাই। চাপ বাড়তে থাকলো কনসেন্ট দেয়ার জন্য। এমন কি মন্ত্রী সাহেবও সার্জন সাহেবের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না এমন এক পর্যায়ে মন্ত্রীর পি.এস সার্জনকে পেলেন কিন্তু সার্জন সাহেব ফোন রেখে দিলেন।
বিএসএমএমইউ-এর নিউরসার্জন ভিসির সাথে যোগাযোগ করা হলো উনি বললেন কিছুদিন আগে আর একটি রুগীর ব্যাপারে কথা বলতে গেলে ইউনাইটেড ওনাকে ওখানে ঢুকতে দেয়নি! উনি বিএসএমএমইউতে বেড ম্যানেজ করে দিলেন এবং রুগীকে ট্র্যান্সফার করে নিয়ে আসতে বললেন।
রোগীর আত্মীয়রা ট্র্যান্সফার-এর কথা বলে মনে হয় মৌচাকে ঢিল ছুড়লো। নিউরোসার্জন এবং ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন। ওরা রোগী ছাড়বেন না অপারেশন করবেনই। এবং রোগীকে ট্র্যান্সফার করতে চাওয়ার অপরাধে রোগীর আত্মীয়দের ওয়েইটিং রুম থেকে বের করে দিলেন!
এই কনফ্লিক্ট-এর এক পর্যায়ে মন্ত্রী সাহেব গুলশান থানার এস, পি আর ও, সি পাঠালেন। ওরা ফোর্স নিয়ে হাসপাতালে ঢুকলো রোগীকে উদ্ধার করে বিএসএমএমইউতে নিয়ে আসতে। কিন্তু ইউনাইটেড বাদ সাধলো আবার। ওরা রুগী ট্র্যান্সফার-এর জন্য এম্বুলেন্স ভেন্টিলেটর দেবে রোগী অবশেষে বিএসএমএমইউতে গেলো। বিএসএমএমইউ-এর প্রধান নিউরোসার্জন ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া স্ক্যান দেখে বললেন অপরেশনের কোনও সুযোগ নেই।
বিএসএমএমইউ-এর আইসিইউর প্রচন্ড করিৎকর্মা কিছু তরুণ চিকিৎসক দিনরাত খেটে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখলো তার দুই ছেলে আমেরিকা থেকে দেশে পৌঁছে পর্যন্ত। ছেলেরা ফেরার কিছুক্ষণ পরেই ভদ্রলোক চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে।
...
এই রোগীর প্রচন্ড প্রভাবশালী কিছু আত্মীয় ছিল কিন্তু সেইসব মানুষদের কথা ভেবে দেখুন যাদের প্রভাবশালী আত্মীয় নেই! যাদের পরিবারে সঠিক উপদেশ দেয়ার মতো ডাক্তার নেই!
নিউরোসার্জন সাহেব কি জানেন না যে এই রুগী বাঁচবে না? তিনি অবশ্যই জানতেন। না জানার কোনো কারণ নাই! 
তাহলে? রুগীর পরিবারের কিন্তু ধারণা হবে পাড়ার মাস্তানের কাছে নুতন কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট যা, এই ধরণের কিছু ডাক্তারের কাছে একটা রোগী তা! উপার্জন! ক্যাশ পয়সা!
এই নিউরোসার্জন ভদ্রলোক এই ধরণের অপ্রয়োজনীয় সার্জারী আগেও নিশ্চয় করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। এই রোগীর পরিবারকে বলি করে যদি রেখে দিতে পারতেন, হেনোতেনো একটি অপারেশন করতেন জাষ্ট করার জন্য করা। তারপর আই সি ইউ তে ভেন্ট দিয়ে রেখে দিতেন এক-দু হপ্তা। ডেইলি চার্জ লাখ খানেকের উপরে! পয়সা ওয়ালা পার্টি। ছেলেরা বিদেশে থাকে। দুসপ্তা পরে ব্রেইন-ডেড মানুষটাকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যেতে বলতেন! রোগীর পরিবারের মন মানে না। সমর্থ না-থাকলেও তারা ধার কর্জ করে কোটি টাকা খরচ করে এয়ার এম্বুলেন্স করে সিঙ্গাপুর নিয়ে যেত!
আহা, এতো সুন্দর হাসপাতাল মেইনটেইন করতে পয়সা লাগে না? আর নিউরসার্জন সাহেবেরও তো মাঝে-মধ্যে দেশ বিদেশ ঘোরার শখ হয়, হয় না?
আমার ধারণা এই ঘটনাটা যতটা অর্থনৈতিক ঠিক ততটুকুই বাংলাদেশের নিউরোসার্জারি কালচার আর ট্রেইনিং-এর ফল! এও সত্য, বাংলাদেশের রোগীর লোকজনেরা ব্রেইন হেমোরেজ রোগীর অপারেশন চায়! এক সার্জন না-বললে এরা আরেক সার্জন এর কাছে যাবে! 
...
উপরের রোগীর চিকিৎসায় ইউনাইটেড হাসপাতালে যতটা ভুল ও অন্যায় করা হয়েছে এই একই রোগীকে বিএসএমএমইউ-এর নিউরোসার্জন ও আই সি ইউর চিকিৎসকরা ততটাই আন্তরিকতার সাথে সঠিক ও কোম্প্যাসনেট চিকিৎসা দিয়েছেন!
কিন্তু যতদিন ইউনাইটেড হাসপাতালের ঘটনার মতো অন্যায় চলতে থাকবে রোগীর সাথে, বিএসএমএমইউ এর চিকিৎসকদের মতো শত আন্তরিকতা সত্বেও দিন-দিন ডাক্তার আর রোগীর মধ্যে দূরত্ব বাড়তেই থাকবে!"

Saturday, January 18, 2020

কোবতে!



১৭
বিরক্তিকর মুচমুচে রোদে ভাজা হতে হতে,
আকাশমেঘ গড়িয়ে লেপ্টে থাকে স্যান্ডেল পিচে-
সেদ্ধ বৃষ্টি অনবরত সাঁতরায় ধমনিতে।


১১.
বাবার সেই চাদরটা, যেটা
বাড়তি উষ্ণতা দেয় আমায়।
সেই চাদরটাই গায়ে ছিল
যেদিন চটিটা পায়ে দিলাম।
ওই চটিটা, যেটা দমাদম
সুর-তান তোলে করপোরেট
ঘোঁৎ-ঘোঁৎ শুয়োরটার পিঠে।


১০.
যে পাহাড়টা স্থির দাঁড়িয়ে
সে কিন্তু আমায় দেখে ভাবে,
কী অস্থির এই মানুষটা-
এক জীবনে এ অর্থহীন
ছোটাছুটির কী এক মানে!