এই গ্রহে কিছু মানুষ আছে এরা স্রেফ 'এটেনশন সিকার'! দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রয়োজন হলে নিজেই নিজের বস্ত্রহরণ করে ফেলবে। নমুনা:
![]() |
| ব্রাত্য রাইসুর 'অমড়' রচনা! |
আহমদ ছফার সাক্ষাৎকার ১৯৯৬। প্রকাশিতব্য।
"ন্যানো ড্রাইভটা ফেলেছি হারিয়ে/ যেটায়—রাখা ছিল ৮০০ কোটি/ ইউনিটের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা/ গাদা-গাদা ডিএনএ প্রোফাইল।"
এই গ্রহে কিছু মানুষ আছে এরা স্রেফ 'এটেনশন সিকার'! দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রয়োজন হলে নিজেই নিজের বস্ত্রহরণ করে ফেলবে। নমুনা:
![]() |
| ব্রাত্য রাইসুর 'অমড়' রচনা! |
আহমদ ছফার সাক্ষাৎকার ১৯৯৬। প্রকাশিতব্য।
Folarin Balogun, USA এর স্ট্রাইকার। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সাথে Round of 32 এর ম্যাচে VAR রিভিউ এর পর Tarik Muharemovic এর পায়ে স্ট্যাম্প করার জন্য রেড কার্ড পেয়েছিল।
FIFA রেড কার্ড বাতিল করে নাই। Article 27 অনুযায়ী ১ বছরের জন্য সাসপেনশন 'সাসপেন্ড' করেছে, তাই Balogun বেলজিয়ামের সাথে খেলতে পেরেছে। কিন্তু খেলেও লাভ হয় নাই!
Round of 16-এ বেলজিয়ামের সাথে খেলেছে। বেলজিয়াম ৪-১ এ USA-কে হারিয়ে দিয়েছে। USA বাদ।
এটা অভূতপূর্ব! এক বাঞ্চো ট্রাম্প কেমন করে আমেরিকার মত শক্তিশালী দেশকে উলঙ্গ করে দেয় যে মানুষ একবার থুথু ফেলার পরিবর্তে বারবার থুথু ফেলে।
ফিফার প্রেসিডেন্ট বাঞ্চো ট্রাম্পের সঙ্গে ঘষাঘষি আজকের না! বাঞ্চো ট্রাম্প যা বলে তাতেই হাসতে-হাসতে গড়িয়ে পড়ে:
মিশরের কোচ যে সাইনটা দেখিয়েছেন এর অর্থ তো রেফারির জানার কথা!
মিশরের কোচ আগের খেলায় প্রতিবাদ হিসাবে মাঠে প্যালেস্টাইনের পতাকা উড়িয়েছেন।
* 'বাঞ্চো' শব্দটি অভিধানে খুঁজে লাভ হবে না। এটা 'অভিধান বহির্ভূত' একটি শব্দ। কারও কর্মকান্ডে খুব 'মুগ্ধ' হলে তাকে বলাটা জরুরি হয়ে পড়ে।
'জীবন বড় সুন্দর' নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম, ২০২০ সালে। সাগরকে নিয়ে [১]। দেখা হয়েছিল ঠিক এই অবস্থায়! ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়। তখন তার জন্য একটা হুইল-চেয়ারের ব্যবস্থা করা গিয়েছিল।
এয়ারপোর্ট রেল-স্টেশনে আমি ট্রেন ধরব। ট্রেনের অপেক্ষায় আছি। জাগতিক কষ্টে খানিকটা অন্যমনস্ক ছিলাম সম্ভবত! আক্ষরিকভাবেই আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পা আটকে আছে—জোর করে কেউ ধরে রেখেছে। তাকিয়ে দেখি বড়সড় একটা বাচ্চা ছেলে। ছোট-ছোট বাচ্চারা অনেক সময় কিছু টাকা না-দিলে পা ছাড়ে না!
অনেক সময় এরা নেশার টাকার জন্য এই কাজ করে। এই ছেলেটি কিন্তু টাকা চাচ্ছে না। হাসি-হাসি মুখ করে বলছে, 'স্যা..., আপনে ভাল আছেন'?
আমার স্মৃতিশক্তি ভয়াবহ কিন্তু আমি চিনতে পারলাম, 'তুমি সাগর না'? এরপরই এ আমাকে বলছে, 'স্যা..., কি খাইবেন? আপনে একটা-কিছু খান'?
আমার চেহারায় কঠিন-কঠিন একটা ভাব আছে। মানুষটাও আমি কঠিন টাইপের কিন্তু আমার চোখ ভরে এসেছে!
ট্রেন আসার আগ-পর্যন্ত এর সাথে কথা হয়, অনেক। তার সেই ভাই ভাসানী, সেও তাকে ফেলে চলে গিয়েছে। এখন এক পৃথিবী—এক সাগর! মাঝামাঝি আর কিছু নেই! কিচ্ছু না...।
আমার পুরনো কষ্ট ফিরে আসে। মেঘে-মেঘে বেলা হয়ে যাচ্ছে বিদায়বেলা ঘনিয়ে আসছে কিন্তু এদের জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারলাম না। একটা পাইপমানুষ হয়েই রয়ে গেলাম—এই গ্রহে এসেছি কেবল খেতে আর বর্জ্যত্যাগে!
ট্রেন ঢুকছে। যাওয়ার সময় তাকে বলি, 'দাঁড়াও, তোমার একটা ছবি তুলি'।
সূত্র:
১. জীবন বড় সুন্দর: https://www.ali-mahmed.com/2020/03/blog-post.html?m=1
বিশ্বকাপের উম্মাদনা প্রায়শ সীমা ছাড়িয়ে যায় এ সত্য। কিন্তু এ-ও সত্য, আমাদের গল্প করার মত গল্প কম!
আমাদের ধর্মীয় শিক্ষকরা সব কিছুতে বাম হাত ঢুকিয়ে দেন—একটা-না-একটা ফতোয়া কামানের গোলার মত ছুড়ে দেবেন নির্ঘাত!
নামাজ শুরু হওয়ার আগে ইমাম সাহেব নিয়ম করে বলবেন, টাখনুর উপরে কাপড় রাখার জন্য। আবার কিছু মোল্লা সাহেব 'গভেষণা' করে বের করেছেন টাখনুর নীচে কাপড় থাকলে পুরুষদের 'টেস্টা-ফেস্টারন' নিয়ে ভয়াবহ সমস্যা হয়। এই সমস্যা কেবল লিকলিকে বঙালদের হয় লম্বা রেসের ঘোড়া সৌদি-ফৌদিদের হয় না!
![]() |
| এই যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের, এদের টাখনু নিয়ে সমস্যা হয় না? |
মুরতাদের দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স এইসব দেশে রামাদান উপলক্ষে অন্তত ২৫ ভাগ ছাড় দিলেও আমরা সিয়ামের মাসে ২৫০ পার্সেন্ট লাভ করি!
কোথাও কোন প্রার্থনাস্থলে-মসজিদে জুতা চুরি হয় এবং নামাজে জুতা নিয়ে গেল কি না—এই নিয়ে মাথায় কেবল ঘুরপাক খায়, এ-ও এক বিরল দেশ, বাংলাদেশ! জাতীয় সংসদ থেকে সাংসদ হানজালার জুতা চুরি হয়ে গেল।
তারচেয়ে ভয়ংকর হলো, মসজিদে একবার আমার জুতা চুরি হলো। আমি এদিক-ওদিক খুঁজছি। (নামাজ পড়ে বেরিয়েছেন) একজন সহৃদয় মানুষ অমায়িক ভঙ্গিতে বললেন, 'আরে পাইবেন না, বাদ দেন। এইখান থিক্যা একটা নিয়া যান'।
শায়খ আহমাদুল্লা ফুটবল নিয়ে ফতোয়া দিয়েছেন।
জুলাই নিয়ে যার-যার নিজস্ব মত থাকতেই পারে! কেউ-কেউ জুলাই নিয়ে মত পাল্টাতেও পারেন!
এখানে কিন্তু মিথ্যা বলা হচ্ছে না। শেখ হাসিনার অন্তর্বাস নিয়ে যখন উল্লাস করা হচ্ছিল তখন কিন্তু কাউকে দেখা যায়নি এটা থামাতে!ধরে নিলাম বড় অস্থির, এলোমেলো সেই সময়! কেউ কাউকে থামাতে পারছে না!কিন্তু হাদি যে অতি কুৎসিত গালিটা চালু করে দিয়ে গেলেন এ নিয়েও তারও কোন বিকার ছিল না, আমাদের তেমন বিকার নাই। মেয়েরা-মায়েরা অবলীলায় একাত্ম হয়েছে এই গালির সঙ্গে, গলা মিলিয়েছে! মাহমুদুর রহমানের মত সো কলড সুশীলরা বিমল আনন্দে বসে-বসে এই গালি শুনেছেন!
এ সত্য, ওই সময়ে প্র. ইউনূসের হয়তো বিকল্প ছিল না! আহা, এমন না যে আমরা জানতাম না, প্র. ইউনূসের [১] আছে লোভে চকচক করা এক অভূতপূর্ব চোখ! কিন্তু আমরা ভেবেছিলাম সাপও তো খোলস বদলায়, জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে থাকা ৮৪ বছরের এই মানুষটা কী আর বদলাবেন না! উঁহু, না, বদলাননি!
এখন প্রবল আশা, ওয়াল্লাহ, মানুষটা দেখছি অমর নন! গলাকাটা ফতুয়ার সঙ্গে লেপ্টে থাকা চামড়া আর টান টান নাই! হাড় এবং চামড়া যখন সঙ্গ ছেড়ে দেবে তখন হয়তো বদলাবার সুযোগ পাবেন কিন্তু দেখে যেতে পারবেন না! আফসোস!
এ সত্য, হাসিনা গুমকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। দেশটাকে তার বাবার দেশ বানিয়ে ফেলেছিলেন। সাধারণ মানুষের কষ্ট-বেদনাকে তিনি যেভাবে চিবিয়ে-চিবিয়ে বলতেন, এ বিরল! বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেই, পানি বন্ধ করে দেই; কথা শুনে মনে হতো, এইসব তার পারিবারিক তালুক। এরা এটা বিস্মৃত হন, যে আমরা এদেরকে মাসে-মাসে বেতন দেই আমাদের দেখভাল করার জন্য।
স্টেপ ডাউন হাসিনা, রেজিম চেঞ্জ—কারা-কারা হালুয়ার ভাগ পাবেন—এই পরিবর্তনে কে-কে কোন শূন্যস্থান পূরণ করবেন—কারা-কারা থানার অস্ত্র লুট করাবেন—কে-কে স্নাইপার দিয়ে গুলি করবেন—ইউনূসের ছেলেরা কেমন করে ডাঙর হয়ে উঠবে[২]—আসিফ নজরুলের মত একজন সুলেখক কেমন করে চালবাজ হয়ে যাবেন—পূর্বে শিবির বলে ফট করে মেরে ফেলা যেত, এখন আওয়ামীলীগ বলে—আমাদের আগেও বিকার ছিল না, এখনও নাই—সবই তো আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে!
শেখ হাসিনাকে মুছতে গিয়ে ইতিহাস মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা চলমান, আজও! আপনি-আমি-আমরা শেখ মুজিবর রহমানের হাজার সমালোচনা করতে পারবেন। করেন, কোন সমস্যা নাই! ৭ মার্চের ভাষণ ছাত্রদের চাপে পড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। শেষ সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেছেন...!
কিন্তু ইতিহাস থেকে তাঁকে মুছে ফেলতে পারবেন না! শেখ মুজিবর রহমান কী ছিলেন এটা বোঝার জন্য একাত্তর পূর্ববর্তী পত্র-পত্রিকায় চোখ বুলাতে হবে।
![]() |
| এই স্ক্রিনশটটি শাওনের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া। কৃতজ্ঞতা। |
১. ইউনূসনামা: https://www.ali-mahmed.com/2026/05/blog-post_10.html?m=1
২. ইউনূসের ছেলেরা...: https://www.ali-mahmed.com/2025/07/blog-post_28.html?m=1
৩. জনতা-ছাত্র আন্দোলন: https://www.ali-mahmed.com/2024/07/blog-post_17.html?m=1
৪. সাদী মহাম্মদ: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/1971.html
এরা কী অভদ্র-অমার্জিত ভঙ্গিতেই না চিৎকার করে বয়স্ক-বয়স্ক রোগিদেরকে ডাকে, এই আবদুল্লাহ আছে, আবদুল্লাহ—এই মমতাজ আছে, মমতাজ! গিজগিজ-করা, ভরা মজলিসে এখানকার-এক স্টাফ এক ভদ্রমহিলাকে বলছে, আপনার স্যাম্পল দুই বুক থেকেই নেওয়া হবে! আমি স্পষ্ট দেখছিলাম ভদ্রমহিলা লজ্জায় কুঁকড়ে যাচ্ছেন। এমনিতেই তিনি ভয়ে আধমরা হয়ে আছেন, ক্যান্সার ধরা পড়ে কি না এই আতংকে তার উপর এই লজ্জা।
আমি এখানকার এক সুপারভাইজরকে বললাম, এভাবে রোগীদেরকে...। তিনি কথা শেষ করতে দিলেন না বিরক্ত হয়ে বললেন,
এইটা কোন বিষয় না, এখানে সবাই রোগী, ব্লা-ব্লা-ব্লা!
আমি দেখলাম, এদেরকে বোঝাবার সাধ্য আমার নাই!
ফিরে এসে আমি গুগলে আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিস খুঁজে বের করলাম। সর্বনাশ, এদেরকে নিয়ে অনেকে অনেক দুর্দশার কথা লিখেছেন, টাকা-পয়সা নিয়ে ডাকাতির কথা লিখেছেন। অজস্র মন্তব্য আকারে বেদনার কথা! আমিও একটা রিভিও লিখলাম। ভাগ্যিস, লেখাটার একটা স্ক্রিনশট রেখেছিলাম একজনের সঙ্গে শেয়ার করার কারণে। সেখান থেকে আজ উদ্ধার করলাম।
ট্রাস্ট মি, রিভিওটা গুগলে পোস্ট করে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। কিছুদিন পর দেখি গুগল আমার মেইলে এটা পাঠাল তোমার রিভিও এত লোক দেখেছে!
ইনি নিজেই বলছেন, অনেকে নাকি বলে, 'জঙ্গি হানজালা'!
আমি কিছু ভিডিও-ক্লিপ দেখছিলাম। এই ভিডিওক্লিপে এমপি হানজালা নামের এই মানুষটা যা করছেন এটা কোন প্রকারেই একজন আইনপ্রণেতা দূরের কথা সুস্থ মানুষের আচরণ না।
সাংসদ হানজানা, আপনি যেটা করেছেন এটা বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ! পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩২৩ ধারা!
বাই দ্য ওয়ে, যেভাবে পেছনে পেটাচ্ছেন, 'খোদা-না-খাস্তা', বিচি ফেটে গেলে কিন্তু ৩২৪ ধারাও প্রয়োগ হবে।
গোল একটা বল দিয়ে ১১ জন একটা কাঠি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে, বিষয়টা বহুত না-ইনসাফি!
"তোর পায়ের নীচে মাটি থাকবে না"।
সত্যি-সত্যি মানুষটার পায়ের নীচে মাটি ছিল না! ওই মানুষটাকে গাছের সঙ্গে উল্টো ঝুলিয়ে রেখেছিল, মৃত! আর একসঙ্গে সব জেলায় বোমা ব্লাস্ট, ভাবা যায়! এরমধ্যে কোন-এক কারণে কেবল একটা বোমা ফাটেনি!এদেরকে তখন থামাবার কোন চেষ্টা ছিল না। যা চেষ্টা করেছিলেন কর্নেল গুলজার নামের মানুষটা।
আমি তখন ব্লগস্ফিয়ারে লেখালেখি করি—'সামহোয়্যারইনে'। আমি তো পুলিশ-আর্মি না, একজন ভিতু মানুষ! তখন ভয়ে-ভয়ে লিখেছিলাম, বাংলা ভাইয়ের ভয়াবহ অস্ত্র নিয়ে। এমনিতে এই অস্ত্রটা অবশ্য বারিস্তা-এর কাছে আছে কি না এটা জানি না!
যাই হোক, পরে এই লেখাটাই আমার-এক বইয়ে ছাপা হয়েছিল। আমার সেই ভয় আজও কাটেনি! তাই বই থেকে ভয়ে-ভয়ে ইমেজ আকারে দিয়ে দিলাম। টাইপ করতে সাহস হচ্ছে না!
সালটা ৯৩! এই প্রজন্ম বাকের ভাইকে চেনার কথা না! কী অকল্পনীয় শক্তি তার—সেদিন গোটা দেশের মানুষ ভেঙে পড়েছিল টিভিসেটের সামনে!
আজ বাকের ভাইয়ের ফাঁসি!
যাই হোক, আমার এই গল্প ফাঁদার মূল উদ্দেশ্য এটা না যে বাকের ভাই ওরফে আসাদুজ্জামান নূর খুন করে পার পেয়ে যাবেন। আর আমি অন্ধ দলবাজ না যে বলব, ওমুক ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মত পবিত্র!
আসাদুজ্জামান নূর এখন বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আটক আছেন। একজন অপরাধ করলে শাস্তি পাবেন এতে আমার কোন কথা নেই। কিন্তু একজন মানুষকে মারতে বা আহত করতে যদি ৪০০ মানুষের প্রয়োজন হয় আর এদের মধ্যে যদি থাকেন সাবেক প্রধান বিচারপতি [১] তাহলে আমার কথা আছে! একজন বিচারপতি চানখারপুল টাইপের কোন জায়গায় লুঙ্গি মালকোঁচা মেরে ভোঁতা দা নিয়ে একজনকে তাড়া করছেন এই দৃশ্য কল্পনা করতেও কল্পনা লাগে! আবার এজাহারে যদি লেখা থাকে তিনি আদুল গায়ে ছিলেন তাহলে ঝামেলা আরও বেড়ে যায়!
বা একজন সাবেক স্পিকারকে মামলা দিলেন মসজিদের মাইক চুরির [২]। এটা হজম করতেও হজমশক্তি লাগে—আইন তখন গাইন হয়ে যায়!
আমাদের জজ সাহেবরা কী এজাহার পড়েন না! একবারের জন্যও কী এই প্রশ্ন জাগে না যে একটা খুনের মামলার ৪০০জন আসামী! আর একজন প্রধান বিচারপতিকে নিম্ন আদালত বিচারের জন্য দাঁড় করান কেমন করে!
নূর আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এ সত্য। আওয়ামীলীগ দেশটাকে নরক বানিয়েছিল এ-ও সত্য। গুমকে তো এরা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল! কিন্তু এটাও মাথায় থাকতে হবে, এরা একনাগাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। জেনে, না-জেনে অনেকে জড়িয়ে গেছেন—এখন ১৫ বছর ধরে যে সমস্ত গাছ জন্ম নিয়েছে সব তো উপড়ে ফেলা যাবে না!
আগে যে-রকম শিবির বলে ফট করে একটা মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলা যেত বা বছরের-পর বছর ধরে আটক রাখা যেত আর আমরা পেট-ভাসিয়ে নির্বিকারভাবে এই খবরগুলো দেখতাম; এখন ঠিক তেমনই হচ্ছে একজন মানুষের সঙ্গে আওয়ামীলীগ নামে! আমাদের আর রূপান্তর হলো না—আমরা আর মানুষ হলাম না! আফসোস, বড়ই আফসোস!
তো, আমি জানার চেষ্টা করছিলাম নূর কি-কি অপরাধে আটক আছেন?
![]() |
| ছবি স্বত্ব: সুপ্রভা |
সূত্র:
১. সাবেক প্রধান বিচারপতি এবং মুরগি চুরি: https://www.ali-mahmed.com/2025/07/blog-post_26.html?m=1
২. সাবেক স্পিকারের মাইক চুরি: https://www.ali-mahmed.com/2026/04/blog-post_8.html?m=1
৩. ইউনুসনামা: https://www.ali-mahmed.com/2026/05/blog-post_10.html?m=1
মামুনুল হককে নিয়ে আমি যখন এই নিউজটা দেখি তখন আমি ভেবেছিলাম, আনোয়ার টিভি-জানোয়ার টিভি টাইপের এডিট করা কিছু। 'উরিবাবা', এ তো বিজয় নিশান! ভাগ্যিস, টাইমে মিলবে না নইলে এটাও বলে বসতেন, ওখানে যাওয়ার কারণে যে সন্তান জন্ম নিয়েছে সে লড়াই করে হাসিনাকে ফেলে দিয়েছে!
যাই হোক, পরে মামুনুল হকের সোশ্যাল মিডিয়ায় গিয়ে দেখি, ঘটনা সত্য!
"রয়েল রিসোর্টে আরেকজনের নাম এন্ট্রি প্রসঙ্গ:আমার আইডি কার্ডের বিস্তারিত পরিচয়ে স্ত্রীর নাম আছে 'আমিনা তাইয়েবা'। আর জান্নাত আরার আইডি কার্ডে তার নাম হলো 'শাহিদা ইসলাম' এবং স্বামী হিসেবে শহিদলু ইসলামের নাম লেখা। যা তখনো পরিবর্তন করে নি। তাই আমরা দুজন কথা বলেই স্ত্রীর ঘরে আমার প্রথমার নাম বলেছিলাম।"
"ফোন কলে প্রথমার কাছে শহিদলু ইসলামের ওয়াইফ বলে পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গ:আমার প্রথম স্ত্রীকে বিষয়টি যে ভাবে শান্ত মাথায় বললে তার জন্য মেনে নেওয়া সহজ হতো সেটা করতে পারি নি, তাই আমি তার কাছে জান্নাত আরার সাবেক পরিচয় বলেছি। যেহেতু জান্নাত আরাকে আগে থেকে সে শহিদলু ইসলামের ওয়াইফ হিসেবেই চিনত।"
জান্নাত আরা ইতিপূর্বে আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিল এবং আঃরহমান জামি ও ওবায়দুর রহমান তামিম নামে তাদের দুজন সন্তান রয়েছে। বনিবনা না হওয়ায় তারা উভয়ে স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ ঘটায়। একটা সময় জান্নাত আরা স্বপ্রণোদিত হয়ে ফোনে আমার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আমার সহযোগিতা কামনা করে।
![]() |
| মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ 1961, ধারা: 7(2) |
![]() |
| 1974 ধারা ৫, উপধারা ৪ |
"...ধিক এই রাষ্ট্রযন্ত্রকে!ধিক এই সুশীলতাকে!!ধিক এই দ্বিচারিতাকে!!!এখনো যারা এই নির্মম রাষ্ট্রীয় নির্লজ্জতার সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলে হাসিনার নির্লজ্জতাকে বৈধতা দেয়, তাদের নীতি নৈতিকতা কোন লেভেলের? নাকি নীতি নৈতিকতা শুধু লুঙ্গির তলেই থাকে?রাষ্ট্র চেয়েছিল করতে আমাকে ধ্বংসআল্লাহ করেছেন আমাকে রক্ষা..."
"রাষ্ট্রীয় আইনে প্রথম স্ত্রীর অনুমতির বাধ্যবাধকতার জটিলতায় কাবিন করাটাও সমস্যাপূর্ণ ছিল। আর ইসলামেও কাবিন করা বাধ্যতামূলক নয়। আমার প্রথম বিবাহেও স্ত্রী রাষ্ট্রীয় আইনে অপ্রাপ্তবয়স্কা হওয়ায় কাবিন করিনি।"