Friday, November 22, 2019

রিউনিট ডোম





লেখক:  Murad Hai
"উনত্রিশটা কোরাল দ্বীপ ও পাঁচটা বাসযোগ্য ছোট বড় দ্বীপের সমন্বয়ে একটা দেশ যার নাম, 'মার্শাল আইল্যান্ডস'। লস এঞ্জেলেসের পাঁচ হাজার মাইল পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরের এক কোনায় এর অবস্থান। ৭০ বর্গমাইলের এই দ্বীপের বাসিন্দার সংখ্যা এ বছরের হিসাব অনুযায়ী আটান্ন হাজার সাতশ' একানব্বই জন মাত্র।
চার যুগের বেশী সময় ধরে আমেরিকার করায়ত্ত থেকে ১৯৮৬ সালে দেশটা স্বায়ত্ব শাসন লাভ করে যদিও আমেরিকার সাহায্যের উপর এখনো পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে আছে দেশটা।

একটা বিশেষ কারণে এই দেশ নিয়ে লিখছি। তাই শুরুতে দেশটার পরিচিতি নিয়ে লিখতে হল নইলে দেখা যাবে আমার মত অনেকেই হয়ত এর আগে দেশটার কথা কখনো শুনে নাও থাকতে পারেন। এই পৃথিবীর ক্ষমতাধরদের দুইটা ব্যাপার আমার একদম অপছন্দের। তার প্রথমটা হল ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দিয়ে মানুষের জীবন কেড়ে নেয়া। আমি মনে করি, জঘন্যতম অপরাধের শাস্তি হিসাবে অপরাধীকে প্রাণে না-মেরে চিরতরে লোক চক্ষুর অন্তরালে একাকী নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয়া যায়, যা এক সময় চালু ছিল। তবুও প্রাণ কেড়ে নেয়া সমর্থন করি না।
দ্বিতীয়ত, পারমাণবিক বোমা বানানো, পরীক্ষা করা এবং তার ব্যবহার কিংবা নিজের কাছে আছে বলে সেই দেমাগে অপেক্ষাকৃত দুর্বলদের হুমকি ধমকি দেয়া একদম সমর্থন করি না।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে আমেরিকার জাপানে আণবিক বোমা ফেলা ছাড়া আর কোন চয়েস তাদের হাতে ছিল না। নইলে রাতের অন্ধকারে অতর্কিতে কামাকাজি স্টাইলে বিমান হামলা করে পার্ল হারবারে আমেরিকার সব জাহাজ ধ্বংস করে দেয়ার পর আমেরিকার বাঁচার আর কোন পথ খোলা থাকত না। জাপানীরা আমেরিকার রাস্তায় ঘুঘু চরিয়ে ছাড়ত যদি সেই অশুভ বোমা ফেলে তাদেরকে না-ঠেকানো হত। তাই বলে কি আমি আমেরিকার এই ঘৃণ্য কর্মকে সমর্থন জানাচ্ছি ভাবছেন? এর উত্তরে আমি হ্যাঁ কিংবা না কোনটাই বলতে পারছি না। অন্যায় অবশ্যই তবে নিরুপায় হলে যে কেউ যে কোন বড় ভুল করে ফেলে। তাই বলে যুদ্ধ শেষেও বড়-বড় দেশগুলি আগের চেয়ে আরও অনেক বেশী শক্তিশালী বোমা বানানোর প্রতিযোগিতাকে কোনভাবে সমর্থন করতে পারছি না। তারচেয়ে আগের জমানার মত বাহুবলে যুদ্ধ করাই শ্রেয় মনে করি।

দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, নিজেদের আধিপত্য থাকায় মার্শাল আইল্যান্ড ছিল আমেরিকার আণবিক বোমা পরীক্ষা কেন্দ্র। তারা ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত সেই দ্বীপে মোট সাতষট্টিটা আণবিক বোমার পরীক্ষমূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। বোমার রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ায় দ্বীপের মারাত্বক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেছে। আমেরিকা দাবী করে, তারা সেই দ্বীপের ক্ষতিগ্রস্ত 'এনেওাটাক কোরাল দ্বীপ'-এর বিষাক্ত মাটি সরিয়ে নিয়েছে। যেখানে আমেরিকা শুধু পারমাণবিক বোমার পরীক্ষাই চালায় নাই, তারা সেখানে ডজনের উপর রাসায়নিক বোমার পরীক্ষাও চালিয়েছে। এছাড়া আমেরিকার নেভাদার টেস্টিং গ্রাউন্ড থেকে ১৩০ টনের বেশী বিষাক্ত মাটি সরিয়ে এনে এনেওয়াটাক কোরাল দ্বীপে নিজেদের বানানো গম্বুজের মত দেখতে নিশ্ছিদ্র এক বিশাল কংক্রিটের ডোমের ভিতর জমিয়েছে। এই ডোমটারই নাম হল রিউনিট ডোম

রিউনিট ডোমের সাইজ হল ৩.১ মিলিয়ন কিউবিক ফিট অথবা বলা যায় পঁয়ত্রিশটা অলিম্পিক স্টান্ডার্ড সুইমিং পুলের সমান। আমেরিকার সব তেজস্ক্রিয় আণবিক আবর্জনা খালাস করার গর্ত হল এই গম্বুজ। জমিয়ে রেখে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা ভুলে গেছে অবহেলায়। অনেক বড় অন্যায় করেছে ক্ষমতাধর আমেরিকা। বড় অমানবিক কাজ করেছে।
ভয়ঙ্কর খবর হল, জানা গেছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের ধাক্কায় রিউনিট ডোমের নাকি কংক্রিট ফেটে লিক করা শুরু করেছে। দ্বীপের জীব জন্তু পশু পাখী জলজ প্রাণী নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে। মানুষ অসুস্থ হচ্ছে। ক্যান্সার মহামারী আকার ধারণ করছে। মানুষ দ্বীপ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। মার্শাল আইল্যান্ডের মানুষ আমেরিকার সাহায্য কামনা করছে। সাহায্য চেয়েছে। আমেরিকা সাহায্য দিতে অস্বীকার করেছে। বলছে গম্বুজটা সেই দ্বীপে- তারমানে এটা সেই দ্বীপের সম্পত্তি। আমেরিকার কি করার আছে! মার্শাল আইল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট হিলদা হেইন বলে, 'আমরা এটা চাই না। আমরা এই ডোম বানাই নাই। ডোমের ভিতরের আবর্জনা আমাদের না। এসবই তাদের। প্লিজ, তারা যেন এসব নিয়ে গিয়ে আমাদের মুক্তি দেয়'।

রিউনিট ডোম ছোট্ট গরীব মার্শাল আইল্যান্ডের চোখে পড়ার মত গম্বুজ সবচেয়ে বড় স্থাপনা যা আমেরিকার পারমানবিক শক্তির পরীক্ষাগার।আমেরিকার নিরাপত্তায় মার্শাল আইল্যান্ডের মানুষরা নিজেদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছে। আর এখন কিনা আমেরিকা তাদের প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করছে।"

তথ্য সূত্র : লস এঞ্জেলেস টাইমস।

Sunday, November 17, 2019

ডিজিটাল বলদের তিন সফর!




লেখক: রুবাইয়্যাত আহসান
"বাংলাদেশের একজন সেলিব্রেটির নাম বলুন? প্রত্যেক শ্রেণীর একজন করে সেলিব্রেটি ঠিক করা আছে। আপনার আছে, আমার আছে।
কিশোর, কিশোরী, তরুণ-তরুণীর কাছে সেলিব্রেটি জাস্টিন বিবার। আমি জাস্টিন বিবারের নাম কেবল শুনে এসেছি কিন্তু চর্মচক্ষে দেখার সাধ হলো দু'দিন আগে, একটা তরুণীর কমেন্ট দেখে। দেখুন কত্তবড় ক্ষ্যাত আমি! লোকমুখে শুনে এত বিশাল কামেল এক লোকের পরিচয় জানা লাগলো। বেবি-বেবি বলে একটা গান আছে সম্ভবত বিবারের, সেটা শুনতে গিয়ে নাকি সেই তরুণী প্রায় তার ভার্জিনিটি হারিয়ে ফেলেছিলো! জাস্টিন বিবারের মতো এত্ত গুণি একজন সেলিব্রেটিকে জ্ঞানে রাখলাম না ভেবে অনুতাপ করলাম কিছুক্ষণ।

অনুতাপ সন্তাপে রূপ নিলো জোকসটা শুনে:
এক কিশোর বালক সন্ধ্যা-সন্ধ্যা দোর লাগিয়ে বসে মহাপ্রস্তুতি নিয়ে মাস্টারবেট করছে। মা সোমত্ত ছেলের অবেলায় দরজা বন্ধ দেখে ভয় পেলেন, দরজায় দড়াম-দড়াম করে হাতুড়ি পেটা শব্দ করে ছেলের সংজ্ঞা ফিরিয়ে আনলেন। ছেলে নিতান্ত বিরক্ত হয়ে দরজা খুলে মাকে জিজ্ঞাসা করলো, 'কি ব্যাপার'?
মা বললো, 'তুমি কি করছিলে ভিতরে'?
ছেলে নিঃসঙ্কোচে জবাব দিলো, 'মাস্টারবেট করছিলাম'।
মা স্বস্তির শ্বাস ফেলে বলল, 'থ্যাঙ্ক গড! আমি ভাবছিলাম তুমি জাস্টিন বিবার শুনছিলে'।

আমার কাছে সেলিব্রেটি হলো আসিফ মহিউদ্দীন। জনগণের কাছেও তাই। তার ফেসবুক প্রোফাইল ভিজিট করা মানে শিক্ষা সফরে যাওয়া। পূঁজিবাদ, চাষাবাদ, আবাদ, সমাজতন্ত্র, ঘুড়ি ওড়ানো, নখ কাটা, পেপসি খাওয়া কত্তো কি শেখা যায়...! শুরুতে নবীর বয়ান দিয়েই শুরু করি:





প্রথম কথা:
আসিফ মহিউদ্দীন ফেসবুকে ইদানিং দাবী করেছেন একমাত্র পাড় আওয়ামীমনা, ছাত্রলীগ, বিএনপি, জামাত-শিবির-ছাগু, ওড়না পেইজের ভোক্তা শ্রেণী, ধর্ম ছাগু, মৌলবাদী আস্তিক, ভন্ড, ঘাড় ত্যাড়া, যাদের আসিফ লাইক করেন না, যাদের আসিফ পোক দেন না, যারা আসিফ মহিউদ্দীনের কাছে পোন্দানি খেয়েছেন কেবল তারাই কেবল মাত্র ব্লগে ফেসবুকে আসিফ মহিউদ্দীনের নামে সমালোচনা করে বেড়ান। এবং এটাও সাথে যোগ করে দিয়েছেন যে, এদের সবার বিরুদ্ধে বর্তমান হালের একমাত্র প্রতিবাদী কন্ঠটি যেহেতু আসিফ মহিউদ্দীনের তাই এরা রাজ্যের কাজ-কাম সিঁকেয় তুলে সবাই একজোট হয়ে আসিফ নামক পাগলা ষাড়-গরুকে থামানোর জন্য ব্যতিব্যস্ত।
আসিফ মহিউদ্দীনের সাথে আন্তর্জালিক পরিচয়ের পর আজ পর্যন্ত আমি তেমন কোন লেখাই লিখিনি তাকে নিয়ে, বলতে গেলে এটাই প্রথম। তাই চাটা বাহিনী (একটা বিশেষ বাহিনী, এদের অপর নাম 'আসিফ কা ইজ্জত রক্ষা কমিটি') যদি আমাকে আসিফ মহিউদ্দীনের উপরোক্ত উল্লেখ্য দলগুলোর মাঝে ঠিক কোন দলে ফেলা যায় তা নিয়ে সন্দেহে ভোগেন তাহলে প্লিজ যে কোন একটিতে ফেলে দিন, আমি মাইন্ড খাবো না। আমি ডোন্ট মাইন্ড ফ্যামিলির ছেলে।

দ্বিতীয় কথা:
পোস্টের শিরোনামের 'ডিজিটাল বলদ...' তর্জমা বলে নেই। আসিফ মহিউদ্দীন ডিবির হাতে কট খাবার আগে আর পরে তার বিরাট একটা বিবর্তন ঘটেছে। যে-সে এলেবেলে মার্কা বিবর্তন না একেবারে চোর থেকে নবী মার্কা বিবর্তন। আসিফ মহিউদ্দীনের ব্লগিং জীবনে এই ডিবি একটা টার্নিং পয়েন্ট। পুলিশ-জেল বিষয়াদি কেবলমাত্র রাজনৈতিক চরিত্রগুলোর ক্যারিয়ার পোক্ত করার সহযোগ উপাদান নয়, এটা এই ব্লগারটির ক্ষেত্রেও। আমাদের বাংলা ব্লগে আরো দুয়েকজন ব্যক্তি বিশেষ রয়েছেন যারা পুলিশ নামক ভয়ঙ্কর প্রাণীটির দর্শন করে এসেছেন তাদের আস্তানায় গিয়ে। কিন্তু কপাল ফেরে তাদের পুলিশ-ডিবি-হাজত দর্শন যথার্থ আলোচিত হয়নি, হলে আজকে নবীর সংখ্যা কিছু বৃদ্ধি পেত। লেখার বিষয়বস্তু এটা নয় তাই প্রসঙ্গান্তর না করে বাদ দিচ্ছি এটা।
এই ডিবি ঘটনায় বিখ্যাত হয়ে উঠা নবীকে 'ডিবি নবী' বলে ডাকা যায়। এই ডিবি মানে ডিজিটাল বলদ। আর ডিজিটাল বলদ ইজ্জত রক্ষা বাহিনী মানেই চাটা বাহিনী।

তৃতীয় কথা:
যার কারণে এই পোস্ট প্রসব। সেই কথাটা সবার শেষে রাখছি। মাঝখানের কথাগুলো বলি এবার।
মে মাসের ত্রিশ তারিখে আসিফ মহিউদ্দীন একটা স্যাটায়ার লিখলেন। প্রথমে নিশ্চিত ছিলাম না এটা স্যাটায়ার কিনা! ব্লগের সেই প্রাতঃকালীন সময়ে ব্লগে স্যাটায়ার লেখা হতো আদম-ঈশ্বর নিয়ে, পাশের বাসার ভাবীকে নিয়ে, এরশাদদাদুকে নিয়ে, ব্রাত্য রাইসুকে নিয়ে, ত্রিভুজকে নিয়ে, মামোকে নিয়ে। এখন লেখা হয় কসমোলজি, স্পীডব্রেকার, কাঠপেন্সিলের পিছনের রাবার, নেইলকাটার, ঘুড়ি, চাড্ডি-জাঙ্গিয়া, হাগু ইত্যাদি নিয়ে। উত্তরাধুনিক স্যাটায়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন আসিফ মহিউদ্দীন। তিনি কেবল গণহারে আমি-আমি-আমি-আমি করতে থাকেন, সেটাতে অভিনবত্ব দিয়েছে একদল ফেসবুক নিবাসী। এদের আমি চাটাবাহিনী বলি, এরা স্যাটায়ার লিখেন আপনি-আপনি-আপনি-আপনি বলে। যেহেতু উত্তরাধুনিক বিধায় স্বভাবগত নিয়মে সবার অ্যান্টেনায় সেগুলো আটকায় না। আমার অ্যান্টেনাতেও আটকায় না।
আমি আসিফ মহিউদ্দীনের স্যাটায়ারের বিশেষ ভক্ত। উনি প্রায়ই কিছু দুর্দান্ত স্যাটায়ার দেন। বস্তুবাদী স্যাটায়ার। দশ ছটাক ভাববাদের সাথে আধা কিলো বস্তুবাদ, তিন টন 'আমি'। শুনে হাসতে হাসতে মুতে ধরে যায়। ইদানিং উনার স্ট্যাটাস পড়তে গেলেই আমি মুতে দেই। আমি ছাড়াও আরো অনেকে উনার স্যাটায়ারের ভক্ত। রিজেন্সিতে ইফতার করে আর কালাপানি খেয়ে, মাসে সিগারেটের পিছনে হাজার তিনেক খরচ করে সাম্যবাদী আসিফ মহিউদ্দীন যখন ভুখা হাড্ডিসার ছেলের ছবি আপলোড করে বলেন, 'সাম্যবাদের জয়গান আমি গেয়েই যাবো' তখন কানাঘুষা শুনি মার্ক্স-লেনিনের কঙ্কাল কবর থেকে উঠে এসে মুতে দিয়েছে। কোথায় মুতে দিয়েছে সেটা আমি আর বললাম না হে হে হে, আপনারা অনুমান করে নেন।
তো, নিশ্চিত হই অ্যান্টেনা একটা আসিফ মহিউদ্দীনেরও আছে- ফেসবুকে ঢোকার আগে উনি সেটা মাথার উপর টাঙ্গিয়ে দেন গায়ে যাতে মুতের ছিটা না লাগে। নিজের মুখ না-বাঁচিয়ে গা বাঁচান!
মাথার উপর দিয়ে এরকম উড়ে যাওয়া একটা স্যাটায়ার খট করে আটকে গেল শাহবাগ, বিপ্লব, মুক্তমনা, উজবুক আর কতগুলো আমি-আমি শুনে। একটু ভালো মতো নাকের উপর চশমা আঁটিয়েই টের পেলাম এটি ফেসবুক বিপ্লবীর স্ট্যাটাস।



এই স্ট্যাটাসের তর্জমা বর্ণনা করার আগে জানিয়ে নেই আসিফ মহিউদ্দীনের ব্লগিং বয়স প্রায় পাঁচ বছরের উপর হতে চলল। এই পর্যন্ত অনেক লেখা তিনি লিখেছেন। দিনরাত হাজার-হাজার অক্ষরযন্ত্রণায় ক্লান্ত করেছেন ল্যাপটপকে, এতগুলো জ্ঞান-বিজ্ঞান উদারহস্তে ঢেলেছেন ব্লগে-ব্লগে, যা চাটাবাহিনীর কেউই পড়ে শেষ করতে পারেনি আমার জানামতে। সেই অ্যান্টেনা দিয়ে পিটিয়ে আধমরা করে ছেড়েছেন কতগুলোকে। মৌলবাদি-আস্তিক পুন্দিয়ে সবাইকে ধর্মছাগু বানিয়ে দিয়েছেন। ব্লগের সবচেয়ে বড় সাফল্যটি এসেছে তার হাত ধরে, ত্রিভুজ। ত্রিভুজ আসিফ মহিউদ্দীনের পোন্দানি খেয়ে সহ্য করতে না পেরে বিয়ে করে ফেলেছে। ট্র্যাজিডি আর কাকে বলে!

সামহোয়্যারে আসিফ মহিউদ্দীন লেখালেখি করেন ২০১০ সালের জানুয়ারী মাস থেকে। এর আগে জেজে ব্লগে রেজিঃস্ট্রেশন করেন ২০০৭ সালে। সেখানে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে ধর্ম-কর্ম নিয়ে লিখে। এই নিয়ে তিনি নিজেও বলেছেন:
স্ক্রীনশট লিঙ্ক:
http://2.bp.blogspot.com/tFgQ69g5y1I/T9TbUzYIR7I/AAAAAAAABj4/Yxjq9Ld0SWQ/s1600/asifer+id.png
আসিফ মহিউদ্দীন সম্পর্কে অন্যেরা কি বলে তাতে আমার মাথাব্যথা কম। আসিফ মহিউদ্দীন নিজেকে কিভাবে ব্যাখ্যা করেন, তার লেখা নিয়ে তার নিজের ধ্যান-ধারণা কি, তিনি কাদের জন্য লেখেন, তিনি কি উদ্দেশ্যে লেখেন এগুলো সম্পর্কে তিনি কি বলেন আমার আগ্রহ সেই বিষয়ে। তার এক লেখায় তিনি তার নিজের লেখার গড়ন উদ্দেশ্য নিয়ে সামান্য বলেছিলেন এই ভাবে [স্ক্রিনশট লিঙ্ক]
http://1.bp.blogspot.com/-9-qqJiYcthE/T9TaDqvulJI/AAAAAAAABjw/tsd7lu2po_I/s1600/--------+---------+-------+-+-------+----------+-----+-----------+++----+---------+--+-----+----.png


আসুন একটু দেখার চেষ্টা করি, আমরা যারা আসিফ মহিউদ্দীনের লেখার ভক্ত, যারা দিনরাত ব্লগ কামড়ে, ফেসবুক আঁকড়ে ধরে বসে থাকি নবীজি কখন পোস্টাবেন, কখন লিখবেন, কখন জ্ঞানের ডালি উপুড় করে দেবেন সেই সময়ের জন্য, আসিফ আসলে কি দেন আমাদের?!
ভালো কথা, উপরের ছবির তর্জমা পড়ে বর্ণনা করবো হয়তো-বা মন্তব্যে। এখন আসিফ ভাইয়ের লেখালিখি দেখি।

তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ:
ত্রিভুবন কাঁপানো সেই কুখ্যাত জেদী, একরোখা উচ্চকন্ঠের জীবন্ত মূর্তি আসিফ মহিউদ্দীন তার দীঘল কেশরাজী নিয়ে হাজির হন বাংলা ব্লগে। তিনি ব্লগে পয়দা হয়েই বললেন, 'জানুদীর্ঘ দীঘল কেশ আর চৌর্যবৃত্তি এই দুই গুণ লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। যা চুরি করতে চাও ডাকাইতের মতো চুরি করো, ম্যা-ম্যা করো না। আর যা দেখাতে চাও তা ঢেকে রেখো না।' [স্ক্রিনশট]।
আর তাই তিনি স্বনামে বোরকা খুলে লেখালেখি করে গেছেন তারপর থেকে। আগে তার লেখার প্রশংসাগুলো গ্রামীণফোনের টাওয়ার ঘুরে তার কানের গোড়ায় আসতো। ব্লগ আরও আধুনিক, তার বাঁধভাঙ্গা প্রশংসা আসা শুরু করলো সুদূর চীন দেশ থেকে। জ্ঞান অন্বেষনে সুদূর চীনদেশে যাচ্ছে মানুষ, আর তাবত জ্ঞানের গোডাউন আসিফের কাছে চীনদেশ থেকে প্রশংসা আসা শুরু করলো অপটিক ফাইবারের লাইন দিয়ে কাকের পাখানাসহ। রমরমা দশা দেখে আসিফ আনন্দে কোথ মারা শুরু করলেন।


-
দুই দিন আগে নবীর বয়ান। নবীজি কি করেন তার অভিযোগের স্বপক্ষে আসুন একটু দেখা যাক।

নাস্তিকের ঈশ্বরজ্ঞান:
'আতিকা বিনতে বাকি' এই 'নাস্তিকের ঈশ্বরজ্ঞান'  লেখা ইউকে বেঙ্গলির গল্প বিভাগে দেন ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ এ:
(http://www.ukbengali.com/Literature/Stories/Sto20080926-AnikaBaki-Nastik.htm)

আসিফ ঠিক একই লেখা দাড়ি-কমা সহ যৌবনযাত্রায় দেন এপ্রিলের ৩ তারিখে, ২০০৯-এ। আসিফ এম নামক সেই কুখ্যাত নাস্তিকের বহু শ্রমের সেই চমৎকৃত লেখা হুবহু একই লেখা আতিকা বিনতে বাকি বঙ্গদেশে নাস্তিকদের অন্যতম পথপ্রদর্শক আসিফের পোস্ট করার প্রায় সাত মাস আগে চুরি করে ইউকে বেঙ্গলিতে ছাপিয়ে দেযন। ওহ মাই গড! নাকি আতিকা বিনতে বাকি আসিফের ছাইয়্যা নিক!
আমি জানি, আসিফ কা ইজ্জত রক্ষাকারী বাহিনী শাহবাগ থেকে একটা বিপ্লব বয়ে নিয়ে আসবেন প্রথমেই প্রতিবাদ করার জন্য। তাদের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পিডিএফ লিঙ্কটি Click This Link হলো। দুটো লেখাই এখানে আছে।সংযুক্ত পাশবিক জোকস্: 

ম্যাথমেটিক্যাল কোরান:
ম্যাথমেটিক্যাল কোরান নামে আসিফ মহিউদ্দীন যে পোস্টটি করেছেন তা ৩১-৩-২০০৯।
আর একই বিষয়ে বহু নাস্তিকের ধর্মকথা লিখেছেন ১-২-২০০৯। উনার লেখা দুটো এখনো আছে সামুতে http://www.somewhereinblog.net/blog/nastikerdharmakathablog/28904756 এবং মুক্তমনায়:

এক মাস পরেই আসিফ মহিউদ্দীন লেখাটা চুরি করে নিজের নাম করে যৌবন যাত্রায় দিয়ে দেন। কিংবা যদি টাইম মেশিনের অস্তিত্ব আমরা বিশ্বাস করে থাকি তাহলে বলা যায় নাস্তিকের ধর্মকথাই চুরি করেছেন টনটনে নীতিজ্ঞান সম্পন্ন ত্রিকালদর্শী আসিফ মহিউদ্দীনের মৌলিক লেখাটি থেকে।
ওয়েট, এখানেও কয়েকটা জোকস আছে, নরমাল আর পাশবিক মিলিয়ে।
নরম্যালটা হলো:



পাশবিকটা হলো:


নাস্তিকের ধর্মকথার পোস্ট ঘুরে আসুন, তাহলে জোকস দুটোর মাহাত্ম্য বুঝতে পারবেন। বিটিডব্লিউ, 'লাশ' নামে আসিফ ভাইয়ের আরেকটা পোস্ট ছিলো সেখানেও জোকসের সামু ভার্সন আছে। সেটা পরেই দেই।

চে'র মৃত্যু, আমাদের অপরাধ এবং পুঁজিবাদের ব্রান্ডিং:
এই লেখাটা প্রথম ছাপা হয় আমার দেশ পত্রিকায়। লিখেছেন হা মীম কেফায়াত। তিনি এই লেখাটা দিয়েছিলেন ১১ই অক্টোবর, ২০১০ এ। আমার 
দেশ অনলাইন:
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/10/11/48174  বলা বাহুল্য ডিজিটাল নবী আসিফের এই লেখাটাও চুরি করেছে আমার দেশের সেই কলাম লেখক। শালা চোরা রিপোর্টার!
প্রসঙ্গক্রমে একটু বলে রাখি, আসিফ ভাইকে চে গুয়েভারা গেঞ্জি পড়তে দেখে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নাকি দিনকয়েক আগে জিজ্ঞেস করেছিলো, এই ছাগুটা কে? আসিফ মহিউদ্দীন একটা বড়সড় বাল-বিপ্লব ফেলার চিন্তা করেও পরে বলে ফেলেন, ত্রিভূজের ছুটু বাই, বেদম পোন্দাইছি এরে এককালে ব্লগে। ছাগুটার মুখোশ উন্মোচন করার জন্য গেঞ্জিত ফটুক বানায়া পড়তাসি।
আর আসিফ ভাই এই স্ট্যাটাসটা দিয়ে গুণে গুণে তিনশ লাইক পেয়েছেন, হুঁ হুঁ বাবা!
আসিফের লেখা পিডিএফ: http://www.mediafire.com/u8whq0ybfalkdb9

প্রসঙ্গ নাস্তিকতা আর নাস্তিকদের কথা: পর্ব ১
'প্রসঙ্গ নাস্তিকতা আর নাস্তিকদের কথা' নামে আসিফ মহিউদ্দীন একটা লেখা দিয়েছিলেন ২০০৯ সালের পনেরই এপ্রিল। লেখাটা চমৎকার, ম্যালা হাততালি জুটেছিলো। জেজে ব্লগে লেখা প্রকাশিত হওয়ার পরে সেঁকিঁ বাঁদ্যিঁ বাঁজঁলোঁ রেঁ বাঁবাঁ!
কি লিখেছিলেন আসিফ সেখানে? কিছুই না, বিভিন্ন মনিষীর বাণী এনে জুড়ে দিয়েছিলেন। এক কথায় বলা যায় অনুবাদ। নির্মলেন্দু গুণের একটা কবিতা দিয়ে শুরু করে লেখার শুরু করার প্রথম লাইনেই লিখেন:
'সংবিধিবদ্ধ সতর্কিকরণ: প্রবল ধর্মবিশ্বাসীরা এই লেখা পড়বেন না...। আপনার ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগলেও লাগতে পারে...। বলা তো যায় না, তাই আগে থেকেই সাবধান করে দিলাম...(ইদানিং আমি কারো সাথে কুশল বিনিময় করলেও কারও কারও ধর্মানুভূতি আঘাত প্রাপ্ত হয়, তার ধর্মানুভূতি ডুকরে কেঁদে উঠে, তাই সতর্কতা... খেকয।'

রিপিট, আসিফ মহিউদ্দীন লিখেছেন ২০০৯ সালের এপ্রিলের ১৫ তারিখ। ঠিক সেই লেখাটাই 'বাঁই-বাঁই' করে আসিফের বাকি সব লেখার মতো চুরি হয়ে গেল। আর হল তো হল, 'য়্যাকদম' গুণে গুণে পাক্কা এক মাস আগে।
লেখাগুলো প্রকাশিত হলো যথাক্রমে ১৮ই মার্চ, ১৯ই মার্চ, ২৫ই মার্চ, ২রা এপ্রিল-২০০৯।

আসিফ ভাইয়ের পোস্ট- পিডিএফ: http://www.mediafire.com/?s5l33j8zcc5l3e7


এইখানেও জোকস:








সিনেমা রিভিউ চুরি:
আসিফ দুর্দান্ত সিনেমা রিভিউ চুরি করতে পারেন। লে রে বাবা, না-হয় বুঝলাম দু-চার খানা নাস্তিকতাই চুরি করেছিস, কিন্তু সিনেমা রিভিউ-ও!

দুই বছর ধরে চুরি-চামারি করে কিছুটা শুভবুদ্ধি এসেছে এই বেলায়, সে কারণেই কথ্য লেখাটাকে চলিত রূপ দেওয়ার একটু চেষ্টা করলেন। বলা বাহুল্য মৌলিক লেখাভক্ত আসিফ মহিউদ্দীন এই লেখাটাতেও একটা মৌলিক ছাঁচ টেনে দিলেন। উপরে আর শেষ দিকটায় নিজের দুটো আধভাঙ্গা অন্য কোন খান থেকে কপি করে আনা লেখা দিয়ে।
বন্যা আহমেদের ২০০৮ সালের জুনের ১০ তারিখে লেখা 'দেখেছেন নাকি কেউ বিল মারের নয়া মুভি: 'রিলিজুলাস'?'



দেখে প্রবল উৎসাহী-উদ্যমী আসিফ মহিউদ্দীন সোৎসাহে সেটিকে চলিত রূপ দিয়ে লিখেছেন- এলোমেলো ভাবনাগুলো। আসিফ ভাইয়ের লেখার লিঙ্কটা নিয়ে ইন্টারেস্টিং আলাপ আছে- লিঙ্ক পরে দিবো নে, হয়তো মন্তব্যে।

মুক্তিযোদ্ধারা কি শহীদ:
সামহোয়্যারের লেখা পোস্টটা লিঙ্কে পিডিএফ ফরম্যাটে পাওয়া যাবে। জেজে ব্লগের কুয়ার ব্যাঙ আসিফ মহিউদ্দীন যা ছাইপাশ চুরি দাবি করতেন কিন্তু সামহোয়্যার একটা বড় ব্লগিং প্লাটফর্ম হওয়ার কারণে সেই নর্মাল গতানুগতিক চুরিদারির চেয়ে তাকে একটু বাড়তি শ্রম দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। আর তাই তিনি হাইব্রিড চুরিদারি শুরু করলেন। কতগুলো পোস্ট একত্রে করে একসাথে চুরি করা। এখানে এ-ও বলে রাখা ভালো যে এই সু-অভ্যাসটা তিনি এখনো চালু রেখেছেন। তবে সম্ভবত তাকে এখন আরো একটু বেশী পরিশ্রম করতে হয় তার জন্য। হয়তো ধরুন, কোলের উপর ফেলে রাখা দুটো বই+তিনটা ফেসবুক স্ট্যাটাস+চারটা ব্লগ পোস্ট+নিজের কিছু ছাগলামো= ডিবি নবীর পোস্ট।
পোস্টের শুরুতেই বলে নিলেন:


লেখাটা পুরোটা চুরি লেখাজোকা শামীমের এই পোস্ট থেকে: http://www.somewhereinblog.net/blog/amishamimblog/28832479। এটা অবশ্য যে-সে নকল নয়, একেবারে হাইব্রিড নকল। এই লেখা নিয়ে কথা বলবো পরে।

ধর্ম প্রসঙ্গে:
আসিফ মহিউদ্দীন লিখেছেন ধর্ম প্রসঙ্গে। যাও কিনা খাস চুরিদারি। মুক্তমনার এলিয়েন নামে এক ব্লগার লেখাটি পাঠিয়েছেন ১০ই মার্চ, ২০০৯- লেখার শিরোনাম পারিবারিক শিক্ষা ও শিশুর বিকাশ। http://mukto-mona.com/bangla_blog/?p=1212

সেই লেখাটির এ টু জেড পর্যন্ত নকল করে আসিফ মহিউদ্দীন কেবল শিরোনাম বদলে চুরি করে চালিয়ে দিলেন ৫ই মে, ২০০৯ এ- ধর্ম প্রসঙ্গে Click This Link জেজেতে।

প্যাথেটিক জোকস্:
 



রিচার্ড ডকিন্স নিয়ে সেরাম এক্ষাণ বাড়ি দিয়েছিলেন জনগণের মাথায় আসিব্বাই ওরফে আসিফ। একদম নাড়ি নক্ষত্র এক করে বুঝিয়ে ছেড়ে ছিলেন রিচার্ড ডকিন্স যে পাড় মাতাল, চোরার চোরা।
মে মাসের ২১ তারিখে আসিফ মহিউদ্দীন পোস্টান রিচার্ড ডকিন্সরে নিয়ে। বুকে হাত রাইখ্যা চুরি যারে বলে সেরাম চুরি একেবারে। ডিসক্যাপেবল মি'র চাঁদ চুরির চেয়েও লোমহর্ষক চুরি। একেবারে রিচার্ড ডকিন্সকে চুরি। অরিজিনাল লেখাটার অনুবাদ করেছেন, 'অজয় রায়, ঈশ্বর বিভ্রান্তি ও প্রবঞ্চনা'। লেখাটা পাওয়া যাবে এই লিঙ্কে: http://muktomona.net/project/muktanwesa/1st_issue/iswar_bibhranti_dawkins.html
পিডিএফ এক লিঙ্কে দুটি: http://www.mediafire.com/?j4eqq2v01yk1t9o

নাস্তিকতা কি:
নাস্তিকতা জিনিসটা যে আসলে যে কি তা প্রথম জানতে পারি আসিফ মহিউদ্দীনের পোস্ট পড়েই। যেমনটা তিনি বলেছেন, বিরাট বড়-বড় কুখ্যাত বিখ্যাত নাস্তিক তৈরীতে উনার ভূমিকা আছে। যদিও আমার ইদানিংকার উপলব্ধি ভিন্ন রকম। তবুও আসিফ মহিউদ্দীনের সেই বিখ্যাত 'আমি-আমি-আমি স্ট্যাটাসের গান' মতে ধরে নিলাম সব নাস্তিকের বাপ উনি। তয় বাপ রে, নাস্তিকতাই শিখাবি যদি অন্যরে তাইলে চুরিদারি শিখাস ক্যা? তুই নিজে করস চুরি দারি মাইনষেরে কস সৎ হ- ভালা হ?

১০-৯-২০০৯ এ আসিফ মহিউদ্দীন পোস্টান 'নাস্তিকতা কি', দুঃখের বিষয় এই একই বিষয়টাও আকাশ মালিক চুরি করে লিখে ফেলেছেন আসিফ ভাইয়ের আগেই ১৫ই জানুয়ারি, ২০০৯ এ। চোরা আকাশ মালিক কি একবারও আসিফ ভাইয়ের কাছে অনুমতি চেয়েছেন? জবাব দ্যাও আকাশ মালিক।
পিডিএফ লিঙ্ক: http://www.mediafire.com/?od71u7qeh39t04y
আকাশ মালিকের বইয়ের নির্বাচিত অংশ পড়া যায় মুক্তমনা থেকে।

মুখফোড়-ও চুরি করে আসিব্বাইয়ের লেখা। দুনিয়ায় স্বর্গ থেকে ঠাডা বোধহয় এই কারণেই পড়ে। পৃথিবীর একটাও কি সৎ লুক নাই, যে কিনা নিজের মাথাটা একটু খাটিয়ে দু'কলম মৌলিক লেখা পয়দা করতে পারে? আসিফ ভাইয়ের পশ্চাদ্দেশ দিয়ে টাইটানিক, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা, বিআরটিসি বাস কতকিছুই তো বের হয় আর কারো কিছু দিয়ে কি কিছু বের হতে পারে না? চোরা মুখা, জবাব চাই, ক্যান আসিব্বাইয়ের লাউগাছের গোড়ায় তুমি গোবর ফেলেছ!
আসিফ ভাইয়ের নিষিদ্ধ গু আর মুখফোড়ের নিষিদ্ধ গন্ধম- এখন থেকে এক টিকিটে দুই ছবি:
http://www.mediafire.com/?l2d85qllzh8lbj0

জোকস ইনকামিং... সব্বাই মাথা সামালকে...:

এগেইন... :

ইজম নিয়ে আলুচ্যানা:
আসিব্বাই যে কতই আলুচ্যানা করেন রে বাই! আসিব্বাই একবার আলুচ্যানায় বসলে গরুতে পর্যন্ত চ্যানায়া দেয়, আই মিন মুতে দেয়। সারা দিন রাতে আলু আর চ্যানা চলতে থাকে। আসিব্বাই দশ-বারো ঘন্টা চ্যানান। গরুরা বিশ-ত্রিশ ঘন্টা চ্যানায়। যখন ডাইপার ভিজে চুপচুপা। রাতে মশারির স্ট্যান্ডে আর সকাল বেলা তারে টাঙ্গিয়ে দিলে রাতের মধ্যে শুকিয়ে যাবার সম্ভবনা আছে। তখন আবার রাতের বেলা সেই ডাইপার পড়ে আসিব্বাই চ্যানাতে থাকেন
আসিব্বাইয়ের চ্যানা সেই সুদূর সচলায়তন থেকে ধার করে আনা। দুইন্যার সব পাপিষ্ঠ আসিব্বাইয়ের চ্যানার ভক্ত। এতই ভক্ত যে আসিব্বাইয়ের পোস্ট কপি করে হিট কামানোর শখ থামাতেই পারে না আর।

আসিফ ভাই ইজম-চ্যানা ছাড়েন জুনের চব্বিশ তারিখ, মানে ২৪-৬-২০০৯ এ। সেই চ্যানা কোথা থেকে ধার করে আনা দেখুন- এই পিডিএফে: http://www.mediafire.com/?v1ej6tjok81elfi


জোকস এগেইন:

এরকম অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র অজস্র চুরি। কতগুলোর লিঙ্ক দিবো আর?
সফর সামু:
আসিফ মহিউদ্দীন, আই মিন ডিবি নবী কোন প্রমাণ রাখেন না। যা হাগেন তা নিজেই মুছে ফেলেন। সামুতে রেজিস্ট্রেশনের পর প্রথম পোস্টই ছিলো 'মুক্তিযোদ্ধা নাকি শহীদ' এই শিরোনামে। অ্যাটেনশনসিকার সিক ডিবি নবী সামুতে প্রথম লেখাই শুরু করেছেন চুরি করে। নিজের ঘটে থেকে হিট কামানোর এলেমও কামিয়ে আসতে পারেননি জেজে থেকে। বিসমিল্লাহে গলদ, খাস বাংলায় যাকে বলে একেবারে। বেচারা!
আসিফ মহিউদ্দীন নিকে একদম প্রথম পোস্টটা ছিলো তার 'মুক্তিযোদ্ধারা কি শহীদ?'। লেখাজোকা শামীম 'হত্যা নাকি শাহাদাৎ' এই শিরোনামে একটা লেখা দেন, ১৯শে আগস্ট, ২০০৮ সালে। লেখাটা এখনো তার ব্লগে রয়ে গেছে। চাইলে দেখতে পারেন এই লিঙ্কে: http://www.somewhereinblog.net/blog/amishamimblog/28832479


আমাদের পেয়ারা ডিজিটাল বলদ, আই মিন ডিবি নবী সেই লেখাটা হুবুহু নকল করে লিখে ফেললেন- মুক্তিযোদ্ধারা কি শহীদ? http://3.bp.blogspot.com/-it6WOk7syGc/T9Jx6ZeR7HI/AAAAAAAABiE/xg8_ybfYFjY/s1600/chor.png [পিডিএফ] http://www.mediafire.com/?vh9k1lo7om06feo


লেখার শুরুতেই আসিফ বললেন:

আমার অমুক আত্মীয় অমুক এলাকার মাতবর, গতকাল অমুক ন্যাতার সাথে বইসা বিড়ি খাইসি, অমুক নায়িকা আমার আত্মীয়া, এইগুলা গ্রাম্য আড্ডায় ফুটানি মারা মফঃস্বলীয় আধুনিকতায় আধুনিক যুবকের কথাবার্তা। আসিফও এভাবেই শুরু করেন তার বিশাল বিশাল পন্ডিত মাওলানা-আলেমে কিতাবী-ক্বেরাতীর সাথে আমার ভালো যুগাযুগ আছে, আমরা একসাথে জ্ঞানভাজি করি, জামাতি নেতার সাথে বইসা মিটিং কইরা আসলাম। তারা আমারে সালাম দিসে, ছাত্রলীগ-ছাত্রদল এরা আমার দুই বগল!
তবে এইটুকু না বললে যে অবিচার হয়ে যাবে সেটা ঠিক আসিফ মহিউদ্দীন ত্রিভুজের চেয়ে মেধাবী। উনি তিন চারটা পোস্ট একত্রে করে তারপর চুরি করেন। অন্তত সামুতে এসে। যেমন 'মুক্তিযোদ্ধারা কি শহীদ?' পোস্টের নিচের অংশের তিন লাইন ফিরোজ কামালের:
http://storyofbangladesh.com/ebooks/historyof71/74-section-15.html এই লেখা থেকে তুলে নেওয়া:
মিলিয়ে দেখুন নিজেই:



আবার তার পরেই:


আর মন্তব্যগুলোর প্রতিমন্তব্যগুলো বলা বাহুল্য একই রকমভাবে হয়তো দুই কি তিন বা তারচেয়েও বেশী লেখা থেকে মেরে-কেটে দেওয়া। কিংবা কোলের উপর একটা বই ফেলে বসে-বসে দেখে লিখে ফেলা। কে জানে? চুরি করাই যার স্বভাব, 'ব্লগ ক্ল্যাপটোম্যানিয়াক' যাকে বলে। সে কোন আক্কেলে নিজে থেকে লিখে মাথা ঘামাতে যাবে?
এরপরও সামুতে তিনি লিখেছেন যৌনতা, যৌবনযাত্রা এবং আমরা-১ নামে একটি পোস্ট। এটি জেজে ব্লগের জন্য ফরমায়েশী একটা লেখা। যেহেতু যৌবনযাত্রাতেই উনার আত্মীয়-স্বজন ভাই-বেরাদর http://2.bp.blogspot.com/-tFgQ69g5y1I/T9TbUzYIR7I/AAAAAAAABj4/Yxjq9Ld0SWQ/s1600/asifer+id.png
সব তাই জনকন্ঠে জেজে ব্লগ নিয়ে খবরটা ছাপা হওয়ার পর http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=27&dd=2010-02-20&ni=9117 তিনি বাধ্য হয়েই তাড়াহুড়োর করে বই-পত্তর ঘেটে কপি পেস্ট সেরে দেন। সামুতে লেখা যৌনতা, যৌবনযাত্রা এবং আমরা-১ পোস্টটি পাওয়া যাবে এই লিঙ্কে।
এছাড়া পোস্টটা জেজে ব্লগেও ছিলো- কিন্তু যেহেতু জেজে ছেড়েই এসেছেন, তাই সামুতে স্থায়ী হওয়া মাত্রই আসিফ নিজের হাগু পরিষ্কার করে ফেললেন অর্থাৎ ডিলিট করে দিলেন।

আর খবরদার উপরের লিঙ্কের পিডিএফ ধরে ডাউনলোড করে নামিয়ে পড়তে যাবেন না যেন। হাসতে হাসতে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যেতে পারেন- ফর গডস্ সেক। আসিফ ভাইয়ের সেই কুখ্যাত প্রতিমন্তব্য, মানে প্রাকটিক্যাল মন্তব্যগুলো...ওহ্, ভুলতে পারছি না। ড্যাম! শিট!
http://www.somewhereinblog.net/blog/roderchela/29324701। সেখান থেকে একটা অংশ উল্লেখ করি শেষমেষ-

আসিফ মহিউদ্দীন মহামানব হয়ে উঠেননি। সকলের নিজস্ব কাঠামোতে কিছু মহামানব বাস করে। আসিফ মহামানব হতে চান নি, তিনি চোর ছিলেন, আজ নবী হয়েছেন। পীর বংশের পোলা চুরি করেছে এটা বংশের মুখে চুনকালি- কিন্তু চুরির পর চুরি করেছে, চুরির পর চুরি করেছে, চুরির পর চুরি করেছে- সেটা পীর বংশের মুখে আলকাতরা। উনি সম্মানিত লোক তবুও এরপরও আমি উনাকে সম্মান জানিয়েই যাবে- উনি যাদের সাথেই যুক্তিতে যান, ডেকে ডেকে আলোচনা করতে চান, ধর্মের বিষ-বাষ্প, একটা ধর্মের কুৎসিত রুপটা যত জনকে দেখাতে গিয়ে ছাগু, গাধা, গর্দভ, ধর্মছাগু, আবাল, বোকচোদ বলে সবাইকে গণহারে ট্যাগ দিতে থাকেন- তারা দয়া করে ভুল বুঝবেন না আসিফ ভাইকে। উনি খ্যাতির আসমানে উঠতে চান না বলে আপনাদের সাথে এই ফানগুলো করেন।
তবে আসিফ মহিউদ্দীন মাঝে মাঝে আত্মোপলব্ধিও করেন -
সামুতে সেই কত্তো কাহিনী। ডিবি কাহিনী, হ্যান কাহিনী, ত্যান কাহিনী। কাহিনীর কি আর শেষ আছে। সামুর ব্লগাররাই ভলো বলতে পারবে। তবে উনি এক্ষাণ সেরাম জিনিস- এক কথায় এটাই বলতে পারি।

তৃতীয় কথা, এবং যে কারণে এতগুলো কথা বললাম:

মানুষের বিবর্তন হয়, আসিফ মহিউদ্দীনেরও বিবর্তন হয়েছে। আসিফ মহিউদ্দীন এখন তার প্রচারিত তার নিজ মূর্তির মেরু বদল করে পুরো 'আমিত্বে' পাগল এক উন্মাদ। মেরুবদল পল্টিবাজ খুব বিপন্ন-বিলুপ্ত অদেখা কোন জিনিস না, আমরা এর বহু বহু উদাহরণ দেখেছি। আসিফ মহিউদ্দীন কবে কোথা থেকে চুরি দারি করে নিজের বাজার তৈরী করেছেন সেটা আমার কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ। তারচেয়েও আমার কাছে যেটা গুরুত্বপূর্ণ যেটা সেটা হলো আসিফ মহিউদ্দীন এখন কি করছেন। চোর যদি নবী হতে না চায়, সাধু হয়ে যদি যেতে চায় তবে তাকে সে সুযোগ-পরিবেশ-সম্ভবনা-সহায়তা আমাদের করে দেওয়া উচিত। কিন্তু আমি কেবল বোকার মতো দেখে যেতে থাকি, পাহাড়-পর্বত ক্ষয় হয়, আসিফ মহিউদ্দীনের কোন পরিবর্তন হয় না। তিনি উন্মাদ থেকে মহাউন্মাদ হয়ে উঠতে থাকেন। আমার সাথে আসিফ মহিউদ্দীনের ব্যক্তিগত কোন আক্রোশ নেই এমনকি আন্তর্জালিক তর্ক-বিতর্কও কোন দিন হয়ে উঠেনি। বরঞ্চ তাকে একদিক থেকে দেখে বেশ উৎসাহিতই হতাম। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।

আমরা কেবল নিজেকে নিয়েই ভাবি, আমাদের প্রস্তাবিত প্রত্যাশা আমাদের প্রত্যেকের মহামানবের কাছে সীমিত, তবে আগ্রহ বিপুল। আমরা আমাদের আগ্রহ প্রকাশ করি, তাকে সমর্থন দেই, তার অনুগ্রহ কামনা করি, তার একটু দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য- তার মনোরঞ্জনের জন্য নিবেদিত হই। সমর্থন দেই অন্ধভাবে। কিন্তু আমাদের মহামানবদের প্রচেষ্টা তাদের সাধ্যের সীমানা ডিঙ্গিয়ে আকাশ ছুঁতে থাকে। তারা একের পর এক ক্যারিশমা দেখিয়ে যেতে চান, প্রত্যাশা করেন চিরস্থায়ী ভক্তের, তোষামোদী-চাটুকারীতা- ভক্তের প্রণতি পেতে কে না চায়! ভক্তের আগ্রহ বাঁধ বোঝে, মহামানব সীমানা বোঝে না। ভক্তের আগ্রহ মহামানবের প্রচেষ্টার সতীচ্ছেদ ঘটায়। মহামানব বিপুল বিক্রমে ধ্বংস করে যেতে থাকেন কি শুভ্র, কি কুৎসিত- ভালো কি মন্দ!

অবচেতন মনে দীর্ঘ সময়ে ভক্ত-অনুগত-তোষামোদী-চাটুকার-মামাবাহিনী-শাহবাগ বাহিনী তৈরী করে এক মহামানবের অবয়ব। আর সেই অবয়ব বাস্তব হয়ে তার সাধ্যের অতীত পাহাড় ঠেলে তুচ্ছ করার চেষ্টায় পৃথিবীর প্রতিটি বিষয়ের বিরুদ্ধাচারণ শুরু করে। এই বিরুদ্ধাচারণ মহামানবের প্রচারিত পন্থায় হয় না, হয় ভক্তের চাহিদার পন্থায়। আর তাই ডিবি নবী দীর্ঘদিন যুঝতে থাকেন গণহারে সকলের বিরুদ্ধে লাগাতার ঘৃণার চাষাবাদ করে।
মহামানব আসিফ মহিউদ্দীনের ভক্তকূল একরাশ প্রবল মনোরঞ্জনের ডালি নিয়ে তার ফেসবুক দেয়াল রাঙাতে থাকে। আসিফ মহিউদ্দীন কালসীমা, অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ, শুদ্ধ-শুভ্র সকল ভুলে পৃথিবীর প্রতিটি কণাকে অভিযুক্ত করতে থাকেন।


আসিফ মহিউদ্দীন ভার্চুয়াল জগতে এত বড় একজন নাস্তিক (তিনি যদি চুরি দারি করেই কেবন দিন পার করে থাকেন তারপরও ধরে নেই উনি বিশাল বড় চোর নাস্তিক), তিনি ব্লগ থেকে বের হয়ে প্যান্ট গোড়ালি পর্যন্ত গুটিয়ে জামাতিদের সাথে আড্ডা দিতে চলে যান। জামাতের রাজনীতি বোঝার জন্য জামাতের সাথে গলাগলি করার প্রয়োজন আছে বৈকি! উনি জামাতের সাথে কি মিটিং-ফিটিং করেন সেটা নিয়ে কেউ উনাকে কোনদিন ছাগু বলে গালি দিতে যাবে না আমি জানি। এটা অন্য কেউ হলে কথা ছিলো কিন্তু আসিফ নয়।

আসিফ মহিউদ্দীন কোন পন্ডিতদের সাথে যুক্তি করে প্রথমে যুদ্ধপরাধীর বিচার বন্ধ করে আগে ধর্মীয় রাজনীতি বন্ধ করতে হবে এই বুদ্ধি মাথায় আমদানি করেছেন আমার জানতে শখ হয়। আজ শাহবাগে গিয়ে দু'ঘন্টা মাইকবাজি করে ছবি-টবি তুলে ফেসুবকে দিয়ে ধর্ম-রাজনীতির পোঙ্গা মেরে আসবো বা দশটা বই আর তিনটা ব্লগ কপি করে ধর্ম রাজনীতির বিরুদ্ধে এটমবোমা টাইপ একটা পোস্ট মেরে ধর্ম রাজনীতির বিরুদ্ধে বিপ্লবের ডাক এনে দেব, এই টাইপ হাবামার্কামারা বুদ্ধি নিয়ে যারা বলেন যুদ্ধপরাধীর বিচার বন্ধ হোক আগে, ধর্ম রাজনীতি বন্ধ না করে যুদ্ধপরাধীর বিচার করা যাবে না তাদের অভিপ্রায় নিয়ে ভাববার দরকার আছে। তারা কোন পাড়ার সেটা খতিয়ে দেখাটা জরুরী।

ডিবি নবী ডিসেম্বর মাসের শুরুতে এসে বললেন-https://www.facebook.com/atheist.asif/posts/273461816034587 [স্ট্যটাস ডিলিট হে হে হে]
'৭১ এ জামাত কি করেছে তার চাইতে গুরুত্ত্বপুর্ণ হচ্ছে, ভবিষ্যতে যেন ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি না হয়, বিভাজন না হয়, ধর্মের খোলসে শয়তান যেন ফেরেশতায় পরিণত না হয়, হাদিস কোরানের আয়াত দেখিয়ে গনিমতের মাল বলে ধর্ষনের মহাযজ্ঞ না হয়, সংখ্যালঘু নির্যাতন না হয়, নারী নির্যাতন না হয়'।[স্ক্রিনশট] http://1.bp.blogspot.com/-8k0_L6F0_90/T9UaNg8pVEI/AAAAAAAABkU/qJAYCCfRYoE/s1600/jamaat.png
আতঙ্কে ইদানিং হিম হয়ে যাই যখন ডিবি নবীকে বলতে শুনি ৭১-এ জামাত যা করেছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়! উনার চিন্তা-ভাবনার বিবর্তনও মুগ্ধকর। আমি ভাবছিলাম, ডিবি নবী এগুলো কোন বই থেকে কাটপেস্ট করে বলছে। উনার তথ্য-উপাত্তর সূত্র মিলল মাত্র এক মাস বাদেই। যখন জানুয়ারীর ১৬ তারিখ
https://www.facebook.com/atheist.asif/posts/295183107195791
জামাতি দুই নেতার সাথে মিটিং করে আসিফ সেই একই প্যাচাল নতুন করে বাতলালেন। যেহেতু স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন জামাতিদের সাথে বসে আড্ডা পিটিয়ে এসেছি সেহেতু পোস্টে খুব করে বলতে ভুললেন না, 'জামাত নিষিদ্ধ হোক'। নিচে আবার কষ্ট করে একটু ডিসক্লেইমারও ছেড়ে আসলেন, যারা এই চান্সে আমাকে ছাগবান্ধব বলার পাঁয়তারা কষছেন তারা দূরে গিয়ে মুড়ি খান। তবে সবার আগে যেটা করতে হবে সেটা সেই আগের ভার্সনের কথাই রাখলেন, বিচার বন্ধ হোক।
মজার ব্যাপার তার মাত্র দু'দিন আগেই আবার আসিফ বলেছেন:
'আমি স্পষ্ট করে বলছি, গোলাম আজম থেকে শুরু করে সকল যুদ্ধাপরাধীদের আমি নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলতে দেখতে চাই। এই বিচারে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকতে হবে, বস্তুনিষ্ট ভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে তাদের অপরাধের মাত্রা বিচার করতে হবে'।
[স্ক্রিনশট] http://i47.tinypic.com/vzvdhi.png

আসিফের কথা শুনে আরো মুগ্ধ হলাম এর পরের লিঙ্ক-এ।https://www.facebook.com/atheist.asif/posts/294046753976093

পেটের মাল কতটুকু উপরে উঠলে এই কথা আসতে পারে মুখে?


বিচার নাই- বিচার নাই! আজ এত্তো-এত্তো বছর পর বিচার শুরু হলো- পত্রিকায় পত্রিকায় বুদ্ধিজীবি সুশীল, রিপোর্টার, কলাম লেখক, সোনা-ব্লগ এদের সকলের ঘুম হারাম হয়ে গেল। দিকে দিকে রব শোনা যেতে লাগলো বিচার প্রক্রিয়া এইটা, বিচার প্রক্রিয়া সেইটা। রবাহূত আসিফ গলা হাওয়ায় তুলে সেই স্রোতে ছেড়ে দিলেন, বিচার বন্ধ হোক। আসিফ মহিউদ্দীনের সমস্ত ইন্টেনশনে কেন্দ্রীভূত হলো, 'বিচার বন্ধ হোক আগে', 'বিচার বন্ধ হোক আগে'- তে।
আসিফ মহিউদ্দীনের খুব বালখিল্য ভাবেই তিনি বলেন:
https://www.facebook.com/atheist.asif/posts/338449432869158


'এখনকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে কাকে ভার্চুয়ালি রাজাকার খেতাব দিয়ে আক্রমন করে বসা যায়।তরুনরা অতি আবেগে কিছুক্ষণ পতাকা নিয়ে টানা হেচড়া করবে, জাতির পিতা জাতির ঘোষক নিয়ে হাস্যকর কাদা ছোড়াছুড়ি করবে, কিছুক্ষণ ভার্চুয়ালী পাকি এবং জামাতিদের গালাগালি করে দেশপ্রেমিক সাজবে। যে যত গালি দিতে পারবে, যে যত ছাগু পোন্দাতে পারবে, সে ততবড় দেশপ্রেমিক, সে ততবড় ভার্চুয়াল মুক্তিযোদ্ধা! কে স্মৃতি সৌধে কতবড় ফুলের তোড়া দিতে পারলো কে অত্যাধিক আবেগ প্রবণ হয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিতে পারলো সেই শ্রেষ্ঠ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী।'

আসিফ মহিউদ্দীন ধর্মীয় রাজনীতির বন্ধ চান কিন্তু তারও আগে চান বিচার বন্ধ হোক। আসিফ মহিউদ্দীন চান গণিমতের মালের মত নারীকে যেন ব্যবহার না করা হয়, ধর্মের খোলসে যেন ধর্মীয় রাজনীতি করা ব্যক্তিরা ফেরেশতায় পরিনত না হয় কিন্তু তারও আগে চান বিচার বন্ধ হোক। একাত্তরে জামাত কি করেছে তা কখনোই গুরুত্বপূর্ণ নয়। নারী নির্যাতন গুরুত্বপূর্ণ, সংখ্যালঘু নির্যাতন গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু একাত্তরে জামাত কি করেছে তা কখনোই গুরুত্বপূর্ণ নয়।

চট করে মনে পড়ে গেল আসিফের নিজের মুখে বলা আরেক কথা:


টাকা কথা বলে। কথা বলায়। কথা বলেছেন আসিফ নজরুল, কথা বলে নিকোলাস হকেরা, কথা বলে আইনজীবিরা, কথা বলে সোনা ব্লগের ব্লগারেরা। কে কোন দিকে কি সুরে কথা বলে কত টাকায় কে তার খবর রাখে।
একজন মানুষকে চিনতে আর কত সময় লাগবে হিপোক্রেট বাঙালীর? হিপোক্রেসি আমাদের পদে পদে। এই ভার্চুয়াল জগতে আমাদের সেই হিপোক্রেসীর সবটুকু উগড়ে দিতে থাকি সারা দিনরাত। একজন চোর হয়ে উঠেন নৈতিকতার আদর্শ, মুক্তমনার সার্টিফিকেটধারী, ভদকা গিলা হাজার টাকার বেনসন ফুঁকা সাম্যবাদী। আমরা হিপোক্রেটরা সেই নীতিবান নাস্তিক, মুক্তমনা, সাম্যবাদীর পাছায় লাইক বাটন লাগিয়ে বসে আছি। সবতেই আজ লাইক দিবো। গন্ডায় গন্ডায় রাজাকার-জামাতের কার্টুন বানিয়ে ফেসবুকে ছেড়ে, 'রাজাকাররে জুতা মার' বলে গেমস বানিয়ে বসে-বসে গুণব কতগুলো লাইক পড়লো, কতগুলো কমেন্ট পড়লো। মাঝে মাঝে এসবের ফাঁকে যদি সময় পাওয়া যায় বিডিনিউজে-প্রথম আলোতে ঢুকে দেখার চেষ্টা করবো, রাজাকারের বিচার কি হইলো না হইলো। লাম্বা-লাম্বা দশ হাতা ব্লগ লিখে গালাগাল দিয়ে তারপর আবার ফেসবুকে গিয়ে বিশাল সাইজের স্ট্যাটাস ছাড়বো, কার্টুন বানাইলাম, গেমস খেললাম, তারপরও যুদ্ধপরাধীর বিচার হইলো না? যুদ্ধপরাধীর বিচারের মায়েরে বাপ!
গন্ডায় গন্ডায় গাল দিবেন শিবিরকে, জামাতি কার্টুন শেয়ার দিবেন। এই না হলেন আসিফ! আসিফ দ্য গ্রেট-ত্রিভূজ পোন্দক!
http://1.bp.blogspot.com/NN3ZDoGny9g/T93731kxNgI/AAAAAAAABpo/EFu8DqmJJ3Y/s1600/facebook+status+08.png

হিপোক্রেটদের যুক্তির কি আর অভাব হবে রে পাগলা, আসিফ মহিউদ্দীন ভুল বলতেই পারেন না। আসিফ মহিউদ্দীন একদম হিসাব কষে বিশাল রদ্দির বাজার লিস্টের টাইপ একটা স্ট্যাটাস দিয়ে বুঝিয়ে দিতে পারেন তার যুক্তি, তিনি কত্তোবড় দ্যাশপ্রেমিক, ছাম্মোবাদী, মুক্তার মা! তিনি নাস্তিক, উনি যুদ্ধপরাধীর বিচার বন্ধে কোন কথাই বলতে পারেন না, এটা ভুল বোঝাবুঝি। উনি চুরি করতেই পারেন না- উনি মুক্তমনা, নাস্তিক, নীতির গোডাউন। তিনি নারীর রজঃচক্র নিয়া সস্তা রসিকতা করতেই পারেন না- তিনি আওয়ামী লীগকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এই কথা বলছেন!পৃথিবীর সবাই ভুল বুঝতেছে আসিফকে- একদা ভুল বুঝেছিলো ব্রুনোকে, গ্যালিলীওকে, ডারউইনকে, সক্রেটিসকে, কোপার্নিকাসকে, হুমায়ুন আজাদকে! আজ তারা ভুল বুঝছে আসিফ কে!
আসিফ মহিউদ্দীনের অবিশ্বাস জয় হোক। জয় হোক তার ভার্চুয়াল নাটিকার। জয় হোক তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের। জয় হোক তার নবীত্বের।
শেষ কথা:
এত এত এত কথা বলা লাগলো- একটা ব্যক্তিকে চিনিয়ে দেওয়ার জন্য। একটা খুব ছোট্ট, অল্প কয়েকটি শব্দে কিন্তু নির্মোহ যৌক্তিক বিশ্লেষন বলা বোধহয় কখনোই সম্ভব হবে না আমার পক্ষে- মহামান্য কহেন যেটা বলে দিয়েছেন:



..."

সাদিয়ারা এমনই হয়...!




লেখক: Muhammad Arif Hossain
পুরান ঢাকা থেইকা ছাত্রীর মা ফোন দিয়া কইলো: 
 - মাস্টর নি?
 - জি আন্টি। 
 - এই আমি ছেপ ফেললাম। হুগানের আগে আমার বাছায় আইবা।
 - কী আশ্চর্য। 

কোন এক বৃষ্টির দিনে একজন ফোন দিয়া কইছিলো তোর জন্য একটা ভালো টিউশনি পাইছি। 
আমি গেলাম। দেখলাম। পড়াইলাম। এভাবেই চলছিলো। আজ হঠাৎ জরুরি তলফ ক্যান! বুঝতেছি না। আমি বাইর হইলাম। উবারে কইরা রওনা দিলাম। ছেপ হুগাইয়া গেলে বিপদ! 
পৌছায়া কলিং বেল চাপলাম। খট কইরা দরজা খুললো। মনে হইলো দরজায় দাঁড়ায়া ছিলো: 
 - স্লামালাইকুম আন্টি। ছেপ শুকিয়ে গেছে ? 
 - চুপ রাহো। 

 পুরাণ ঢাকার মানুষ কথার ফাঁকে-ফাঁকে হিন্দি বলে। আমার ছাত্রীও বলে। ওই দিন বলতেছিলো:
 - স্যার আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে?
 - কেন ? 
 - আরে ইয়ার ! বাতাও না ! 
 - কিহ! 
 - সরি। বলেন না। 
 - নাই। 
 - থ্যাংক গড। 

ছাত্রীর বডি ল্যাংগুয়েজ সেদিন থেকে বদলে গেল। ঠোঁটে লিপিস্টিকের কালার চেঞ্জ হইতে থাকলো। জামা কাপড় দিন দিন ট্রান্সপারেন্ট হইয়া গেল! 
লক্ষন খারাপে দিকে দেখে কয়েকবার ভাবছিলাম টিউশনি ছাইড়া দিমু। কিন্তু পুরাণ ঢাকার বিরিয়ানির নেশা একবার যার হয়, তার ভুঁড়ি হয়ই হয়। 
- আন্টি আজকে তো অফ ডে। হঠাৎ ডাকলেন যে ?
আন্টি চোখ রাঙাচ্ছেন। মনে হচ্ছে আমি কোন পাপ করেছি। তবে ভুল বসত একটা কিস করা ছাড়া আমি নির্দোষ। ওয়েদার ভালো ছিলো। আকাশে বজ্রপাত হচ্ছিলো। ছাত্রীও পাশে ছিলো। যাই হোক, সে অন্য প্রসঙ্গ। 
 - আন্টি...
 - আব্বে হালা চুপ হো যা...। 
 - আ-ন-ন-ন-টি!! 
 - খবিশ ! 
 - এঁ! 
 - তুই আমার মাইয়ার লগে কি করছস? 
 - কি করছি ? 
 - আমার মাইয়া বমি করবার লাগছে ক্যালা ? 
 - আমি কিভাবে বলবো!
 - তুমি ক্যামতে কইবা? আমগো খানদানের ইজ্জ্বত মাইরা দিছো! 
 - আসতাগফিরুল্লাহ!
 - আমার মাইয়া তো এহনো কলেজ পাসটা দিবার পারে নাইক্কা। আর তুমি ওরে পো...।
 - ছি! 

 ঘটনা এত জট পাকলো কিভাবে বুঝতেছি না। জিজ্ঞেস করলাম:
 - ডাক্তার দেখাইছেন ? 
 - চুপ। 
ছাত্রী মাথা নিছু কইরা রুমে ঢুকলো। ওর হাব ভাব দেখলে মনে হয় ভুল করে তিন মাসের পোয়াতি হয়ে গেছে। 
 - এই সাদিয়া কি হইছে তোমার ? 
 - মেরা জিন্দেগি তো বরবাদ হো গিয়া। 
 - ও আল্লাহ! 
 - স্যার? আপ মুঝকো সাধি কার লো না ! 
 - কিহ! 
ছাত্রীর মা আমার দিকে তাকাইয়া আছে। চোখ ভর্তী আগুন। আমি উনার দিকে তাকাইয়া কইলাম: 
 - আন্টি আমি কিচ্ছু করি নাই। 
 - আমার মাইয়া আমার কাছে কিছু লুকায় না। সব কইছে আমারে। 
 - কি বলছে ? 
 - পড়ানোর ছময় টেবিলের নিচ দিয়া ঘষাঘসি করছো না ? 
 - আমি করি নাই। আপনার মেয়ে করছে। 
 - চুম্মা দিছো না ? 
 - এইটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। ছি! মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে কথা বলেন কেন?
 - আব্বে হালায় কয় কি? আমার বংশের ইজ্জ্বত খাইয়া দিছো 
আন্টিরে কেমনে কি বুঝাই। আমি ছাত্রীর দিকে তাকাইলাম। ছাত্রীর মুখ কেমন যেন সন্দেহজনক। সে কি কিছু লুকাচ্ছে! 
 - সাদিয়া...ঘটনা কি ?
 - ছার ! মুই কেমতে কমু! বমি-বমি লাগে। মাথাডা ঘোরে। পেটে কি যেন লাত্থি মারে। 
 - পেটে লাথি মারে! 
আন্টি আপনার মেয়ে যদি পোয়াতী হইয়া থাকে। তাহলে আমারে যে শাস্তি দিবেন। আমি মাথা পাইতা নিমু। তবে আগে ডাক্তার দেখাইতে হবে। ভালো ডাক্তার। 

আন্টি রাজি হইলো। আমরা ডাক্তারের চেম্বারে বইসা আছি। ডাক্তার চশমার উপরে দিয়া কইলো :
 - রোগী কে ? 
 - এই-যে, ও। আমি কইলাম 
ডাক্তার সাদিয়ারে দেইখা ঘটাঘট কিছু টেস্ট লেইখা দিলো। এক্সরে, সিটি স্ক্যান, ব্লাড টেস্ট, আলট্রাসনো, আরো কয়েকটা টেস্ট। 
১৬ হাজার টাকা গেল টেস্ট করাইয়া। ডাক্তারদের থেকে ভালো বিজনেস বুঝবে আর কে। রিপোর্ট দেইখা ডাক্তার মুছকি হাসি দিলো। আমি বল্লাম: কি ব্যাপার স্যার ? 
 - কনগ্রেটস। 
 - মানে ?
 - ছেলে না মেয়ে ছার? সাদিয়ার প্রশ্ন। 
 - বিরিয়ানি, ডাক্তারের জবাব।
 - এঁ! 
আমি বললাম, স্যার ও যে কইলো বমি বমি লাগে। মাথা ঘুরে। পেটে লাত্থি মারে ? 

 ডাক্তার চশমা মুছতে মুছতে বললেন:
 -এজন্যই সিটি স্ক্যান করাইতে দিয়েছিলাম। মাথায় সমস্যা আছে কিনা দেখার জন্য। কিন্তু অল ক্লিয়ার। এটা বয়সের দোষ। ছাত্রী আপনাকে পছন্দ করে। তাই মনে হয় ড্রামা করছে। 
আমি ছাত্রীর মায়ের দিকে তাকাইলাম। তিনি একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন: 
 -মাস্টর সাব, মনে কিছু নিয়েন না। মাইয়া আমার ড্রামাবাজ। আমার অক্ষন মনে পড়ছে। ফ্রিজে বাসি বিরিয়ানি ছিলো। ও সেগুলা খাইয়া-ই এইসব করছে।

 আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাইড়া কইলাম: 
সাদিয়ারা এমনই হয়...!

Saturday, November 16, 2019

রবিদাদা বেঁচে থাকলে আজ শ্রীঘরে থাকতেন!

ভাগ্যিস রবিদাদা আজ আর বেঁচে নেই- মরে বেঁচে গেছেন! নইলে এই মানুষটাকে খুনের দায়ে কালাপানিতে না-হোক শ্রীঘরে যেতেন নিশ্চিত।



এই পাগল এই প্রজন্মকে খানিকটা প্রভাবিতও করে তার একটা নমুনা, আমার সন্তান এর একটা স্কেচ করেছে:






টিয়ার্স ইন হেভেন, (মামা)!



লেখক: sawkat ali 
"'টিয়ার্স ইন হেভেন', এরিক ক্ল্যাপটন-এর বিখ্যাত গানগুলোর একটি। এটাকে বিশ্বের সেরা ১০০ গানের একটি হিসেবে ধরা হয়। এই গানের এ্যালবাম বিক্রি হয়েছিল কয়েক মিলিয়ন কপি । ক্ল্যাপটন ৪ বছরের ছেলে কনোর মারা যায় নিউইয়র্কের ৫৪ তলা এক হাইরাইজ ব্লিল্ডিং-এর জানালা থেকে পড়ে। সেখানে সে গিয়েছিল তার মার সাথে বেড়াতে। তাকে নিয়েই মূলত ক্ল্যাপটনের এই হৃদয়স্পর্শী গান।
এই গানে ক্ল্যাপটন বিশ্বাস করেন তার ছেলে স্বর্গে আছে সেখানে বাবা ছেলে একদিন দেখা হবে। ক্ল্যাপটনের ছেলে আজ বেঁচে থাকলে এই গানের কথাগুলি কি আমাদের এমন করে স্পর্শ করত? এরিক ক্ল্যাপটনও কি সেই আবেগ দিয়ে গানটি গাইতে পারতেন?
প্রিয়জনের মৃত্যু কিছু সময়ের জন্য হলেও আমাদের স্বাভাবিক জগতটাকে এলোমেলো করে দিয়ে যায়। যা ওই মানুষটা বেঁচে থাকতে হয়ত আমরা সে ভাবে অনুভব করি না। কেউ মারা গেলে পার্শ্ববর্তী গির্জার ঘন্টা বেজে উঠে। যেন আমাদের বলতে থাকে এবার তোর পালারে, পাগল।

এরিক ক্ল্যাপটন আস্তিক না নাস্তিক আমার জানা নাই। কিন্তু তাঁর গানের কথা আমাকে স্পর্শ করে। যে প্রিয় মানুষরা আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন তাদের সঙ্গে কি এক সময় আবার আমাদের দেখা হবে?
হয়ত-বা। আমার জানা নাই।"

Tears In Heaven
Lyrics: Eric Clapton 
Would you know my name
If I saw you in heaven?
Would it be the same
If I saw you in heaven?
I must be strong
And carry on
Cause I know I don't
belong Here in heaven
Would you hold my hand
If I saw you in heaven?
Would you help me stand
If I saw you in heaven?
I'll find my way
Through night and day
'Cause I know I just can't stay
Here in heaven
Time can bring you down
Time can bend your knees
Time can break your heart
Have you begging please,
begging please
Beyond the door
There's peace I'm sure
And I know there'll be no more
Tears in heaven





Tuesday, November 12, 2019

'রাঙ্গা'-কে রাঙ্গিয়ে।

রে রাঙ্গা, তোর বাপই তো ছিল
      ভায়াগ্রাখোর, বিশ্ববেহায়া, বিশ্বচোর।

[১], [২], [৩], [৪], [৫], [৬], [৭], [৮], [৯], [১০]

এই ভিডিও ক্লিপে রাঙ্গা আরেকটা ভয়ংকর কথা বলেছে গালিসহ ৯ মিনিটে ৫৫ সেকেন্ডে! এটা অনেকে হয়তো খেয়াল করেননি। এই প্রজন্ম তো এই মানুষটাকে চেনেই না। মায় মিডিয়াও! এই দেশের অসাধারণ এক সন্তান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ। [১১]

সহায়ক সূত্র:
১. শিশু খুনি এরশাদ: https://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_16.html
২.  মদ্যপ এরশাদhttps://www.ali-mahmed.com/2016/05/blog-post_27.html
৩. অন্ধকার থেকে এরশাদ: https://www.ali-mahmed.com/2011/06/blog-post_4419.html
৪. বাপ এরশাদhttps://www.ali-mahmed.com/2014/02/blog-post_6.html
৫. শাসক এরশাদhttps://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_3701.html
৬. 'কোবি' এরশাদhttps://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_09.html
৭. জিয়া-মন্জুর-এরশাদhttps://www.ali-mahmed.com/2013/05/blog-post_23.html
৮. প্রেস এডভাইজ, এরশাদhttps://www.ali-mahmed.com/2011/07/blog-post_17.html
৯. ফ্রিডম অভ স্পিচ, এরশাদhttps://www.ali-mahmed.com/2019/07/blog-post_15.html
১০. পাকিস্তানে এরশাদhttps://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_03.html
১১. সাহাবুদ্দিন আহমদhttps://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_9839.html

... 

রাঙ্গাকে নিয়ে লিখেছেন: Anwar Mukul
"খুনি এরশাদের নির্দেশে যখন নূর হোসেনকে হত্যা করা হয় মসিউর রহমান রাঙ্গা তখন রংপুরের সবচেয়ে বড় বাংলা মদ ও তাড়ির ভাটিতে ফুট ফরমায়েশ খেটে জীবিকা নির্বাহ করতো। অবশ্য পরে ওই তাড়ীর ভাঁটির মালিক লালা বাবু রাঙ্গাকে তার দোকানের ম্যানেজার বানিয়েছিলেন।
লালা বাবুর ছেলে কনকের সাথে দোস্তি পাতিয়ে লালা বাবুর বাড়ীতে উঠা -বসা করার সুযোগ নিয়ে এই বেঈমান রাঙ্গা হিন্দু ধর্মাবলম্বী লালা বাবুর মেয়েকে জোর করে ভাগিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পর কিছুদিন এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করে রংপুর বাস স্ট্যান্ডে চাঁদা কালেক্টর/ চেইন মাস্টারের কাজ নিয়ে প্রতিদিন নানা জনের নির্দেশে টাকার বিনিময়ে মারামারি-মাস্তানি করে বেরিয়েছে।
বাস স্ট্যান্ডের ছিঁচকে সন্ত্রাসী রাঙা একপর্যায়ে ভুলিয়ে-ভালিয়ে মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর হাতে-পায়ে ধরে ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা এবং তাঁর কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে নিজেই একটা বাস কিনে মালিক বনে যায়। আর এখান থেকেই শুরু হয় রাঙ্গার উত্থান। রংপুরের ঢাকা বাস স্ট্যান্ডে শ্রমিক নেতা আকরামকে হত্যার ভেতর দিয়ে দ্রুতই লাইম লাইটে চলে আসে রাঙ্গা। আর সেই সাথে এই বেঈমান বিশ্বাসঘাতক যে ঝণ্টুর টাকায় বাস কিনে মালিক বনে গেল সেই শরফূদ্দিন আহমেদ ঝন্টুকেই মালিক সমিতি থেকে উৎখাত করে পুরো রংপুর বাস স্ট্যান্ডের দখল নিজের হাতে নিয়ে নেয়।
এরশাদ আমলে রাঙ্গা বিএনপির নেতাদের পিছনে-পিছনে ঘুরে বেড়ালেও এরশাদের পতনের পরে রংপুরে এরশাদের আঞ্চলিক প্রভাব দেখে এরশাদকে মামা বানিয়ে জাতীয় পার্টি করা শুরু করে দেয়। বন্ধু-বান্ধব জিজ্ঞাসা করলে রাঙ্গা তখন প্রকাশ্যেই এরশাদ-জিনাত মোশারফের নানা মুখরোচক গল্প বলে হাসাহাসি করতো। এহেন রাঙ্গার নিজের নানা অপকর্ম গুণ্ডামি চুরি-চামারি নারী-লিপ্সার নানান কাহিনী রংপুরে সর্বজনবিদিত। মন্ত্রী হয়ে কয়েক শত মানুষের কাছ থেকে চাকুরি দেবার নাম করে টাকা নিয়ে সব টাকাই গায়েব করে দিয়েছে।
রাঙ্গাদের বর্তমান বাড়ি দক্ষিন গুপ্তপাড়ায় হলেও আসল বাড়ি লালমনিরহাট-এর কালিগঞ্জের চামটা ইউনিয়নে। রাঙ্গার আপন বাপ ও চাচারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজাকার ছিল বলে স্বাধীনতার পর এদের পরিবার জনগণের গণপিটুনির ভয়ে গ্রামে যেতে পারতো না। সেই রাঙ্গা আজ ফ্যাসিবাদের পদলেহন করে মামা এরশাদের হাত ধরে মন্ত্রী পর্যন্ত হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞ্যান করতে দ্বিধা করছে না।
নিজদলের কর্মী নুর হোসেনের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আজ যে ফ্যাসিবাদ বিনা ভোটে মধ্যরাতের নৈশ অভিযানে নিজেদেরকে নির্বাচিত দেখাচ্ছে সেই প্রহসনের ভোটে রাঙ্গার নেতা খুনি এরশাদ ছিলেন অন্যতম সহযোগী। ফলে ফ্যাসিবাদের কণ্ঠলগ্ন হয়ে নুর হোসেনের নামে আজেবাজে কথা বলা কেবল রাঙাদের মতো 'লাফাঙ্গা সারমেয়'দের মুখেই শোভা পায়। কারণ রাঙ্গারা জানে না ইতিহাসের সোনালী পাতায় নুর হোসেনদের নাম সর্বদাই আলোক রশ্মির উজ্জ্বল ছটায় জ্বল- জ্বল করেই জ্বলতে থাকবে। অপর দিকে রাঙ্গার নেতা এরশাদ একজন অবৈধ ক্ষমতা দখলদার খুনি জান্তা হিসেবে ইতিহাসের আস্তাকুড়েই পরে থাকবে। এটাই ইতিহাসের নির্মম বিচার। এর অন্যথা হবার নয়"।

Thursday, October 31, 2019

আমাদের সাকিব এবং...।




লেখক: Anupam Shaikat Shanto
"সাকিব আল হাসানকে নিয়ে করা রিপোর্টগুলো দেখলাম। ১৮ মাসের সাম্ভাব্য সাজার কথা অনেকেই হেডলাইন করেছেন! হেডলাইনে না-থাকলেও নিউজগুলোর ভেতরেই আছে সাকিব ভারতীয় জুয়াড়িদের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলেন কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কিন্তু যে কারণেই হোক আইসিসির এন্টি-করাপশন ইউনিটকে জানাননি। জুয়াড়িদের প্রস্তাব প্রত্যাখানের পরেও কেবল না-জানানোর অপরাধের শাস্তি ১৮ মাস হতে পারে কি না এই প্রশ্নটা মাথায় ঘুরছিলো বিধায়, আইসিসির কোডটা একটু ঘাটার চেষ্টা করলাম।

এই কোডের নাম হচ্ছেঃ Anti-Corruption Code for Participants সেখানে মোট ১১টা আর্টিকেলের মধ্যে ২ নাম্বার আর্টিকেলে (ARTICLE 2: OFFENCES UNDER THE ANTI-CORRUPTIONCODE) বিভিন্ন অপরাধের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়েছে এবং ৬ নাম্বার আর্টিকেলে (ARTICLE 6: SANCTIONS) কোন অপরাধের জন্যে কি শাস্তি (অর্থাৎ কত বছরের জন্যে খেলা থেকে নির্বাসনে পাঠানো হবে) সেটি বর্ণিত হয়েছে।
আর্টিকেল-২ এ দুর্নীতি বিরোধী কোড অনুযায়ী যাবতীয় অপরাধকে চারটি ক্যাটেগরিতে ভাগ করা হয়েছেঃ
২.১: দুর্নীতি
২.২: বাজি
২.৩: অভ্যন্তরীন তথ্যের অপব্যবহার
২.৪: সাধারণ অপরাধ

এই সাধারণ অপরাধ ক্যাটাগরির ২.৪.২ থেকে ২.৪.৬ পর্যন্ত অপরাধগুলো হচ্ছে- আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে কোনরূপ বিলম্ব বাদে জানানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থতা। সাকিবের যে অপরাধ সেটি পড়ে ২.৪.৪ এ: 'দুর্নীতি দমন কোড অনুযায়ী দুর্নীতির অপরাধে যুক্ত করার মত যেকোন আহবান বা আমন্ত্রণ কোনরকম অপ্রয়োজীয় বিলম্ব ছাড়াই দুর্নীতি দমন ইউনিটকে জানাতে ব্যর্থ হওয়া" (Failing to disclose to the ACU (without unnecessary delay) full details of any approaches or invitations received by the Participant to engage in Corrupt Conduct under the Anti-Corruption Code)।

সুতরাং, সাকিব যদি আসলেই এরকম কোন ফোনকল পেয়ে থাকে ও সেটি জানাতে ব্যর্থ হয় তাহলে সে এই অপরাধের অপরাধী। এবারে দেখি এই অপরাধের জন্যে শাস্তির মাত্রা কি? আর্টিকেল ৬-এ একটি তালিকা দেয়া আছে কোন অপরাধের জন্যে কি পরিমাণ সাজা দেয়া হতে পারে তার। এই সাজাগুলোর সবই আছে একটা রেঞ্জ হিসেবে, অর্থাৎ সর্বনিম্ন সাজা থেকে সর্বোচ্চ সাজা কি হতে পারে সে হিসেবে দেয়া আছে। প্রথম ক্যাটেগরির অপরাধ হচ্ছে, সরাসরি দুর্নীতিতে যুক্ত থাকা। ফলে তার সাজাও সর্বোচ্চ। মিনিমাম ৫ বছর থেকে ম্যাক্সিমাম আজীবন নিষিদ্ধ। দুই নাম্বার ক্যাটেগরির অপরাধ হচ্ছে বাজি। এখানে নিম্নতম সাজা ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা। ৩য় ক্যাটেগরির অপরাধের মধ্যে (অভ্যন্তরীণ তথ্যের অপব্যবহার) দুটো সাব ক্যাটেগরি আছে। প্রথম সাব-ক্যাটেগরির সাজা ১ বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আর ২য় সাব ক্যাটেগরির সাজা হচ্ছে ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা। একইভাবে ৪র্থ লেভেলের অপরাধের ক্ষেত্রেও (সাধারণ অপরাধ) দুটি সাব-ক্যাটেগরি আছে; প্রথম সাব-ক্যাটেগরির (অপরাধ ২.৪.১ থেকে অপরাধ ২.৪.৬) সাজা ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আর ২য় সাব-ক্যাটেগরির (অপরাধ ২.৪.৭ থেকে অপরাধ ২.৪.৯) সাজা হচ্ছে শূন্য থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা।

এই যে সাজার রেঞ্জ দেয়া হয়েছে, কোন ক্ষেত্রে সাজা বাড়বে আর কোন ক্ষেত্রে সাজা কমবে সেটি ৬.১ নাম্বার ধারায় (যথাক্রমে ৬.১.১ ও ৬.১.২ ধারায়) বলা হয়েছে। সাজার পরিমাণ বাড়বে যদি:
৬.১.১.১ অপরাধবোধের অভাব (ওই রিপোর্টেই জানা যাচ্ছে সাকিব ভুল স্বীকার করেছে নএবং ক্ষমাও প্রার্থণা করেছে)
৬.১.১.২ পূর্বতন রেকর্ড (সাকিব ১০ বছর আগেও একবার এরকম প্রস্তাব পেয়েছিলেন এবং সাথে-সাথে দুর্নীতি দমন ইউনিটকে জানিয়ে ছিলেন। একাধিকবার এরকম প্রলোভনের মুখে পড়েছেন কিন্তু কোনবারই টলেননি!)
৬.১.১.৩ ব্যক্তিগত ভাবে লাভের অংশ গ্রহণ করেছে প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে, গ্রহণকৃত অর্থের পরিমাণ (এটা মূলত আগের ক্যাটেগরির অপরাধগুলোর জন্যে প্রযোজ্য)

৬.১.১.৪ আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাবলিক ইন্টারেস্ট কিংবা/এবং কমার্সিয়াল ভ্যালু ক্ষতি করলে (এটিও মূলত আগের ক্যাটেগরির অপরাধের জন্যে)

৬.১.১.৫ ম্যাচের ফলকে প্রভাবিত করলে (ঐ)

৬.১.১.৬ তার বা অন্য কারোর ওয়েলফেয়ার ব্যহত হলে (ঐ)

৬.১.১.৭ একাধিক জন একত্রে অপরাধটি করলে (সেই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে সাকিব একাই এই ফোনকল পেয়েছিলেন ফলে একাধিক জন মিলে প্রস্তাব গোপন করার প্রশ্ন নেই)
৬.১.১.৮ অন্য কোন অপরাধের অংশ হিসেবে এই অপরাধের সংশ্লিষ্টতা (সাকিবের অন্য কোন অপরাধের কথাও জানা যায়নি)

অর্থাৎ, সাকিবের অপরাধের মাত্রা (৬ মাস থেকে ৫ বছর) বাড়ার মত কোনকিছু পাওয়া যাচ্ছে না। এবারে দেখা যাক কি কি কারণে সাজার পরিমাণ কমতে পারেঃ
৬.১.২.১ ভুল স্বীকার (হ্যাঁ, সাকিব করেছে)

৬.১.২.২ পূর্বের রেকর্ড (হ্যাঁ, সাকিব এর আগে এরকম প্রস্তাবে সাড়া দেননি এবং সাথে সাথেই জানিয়ে ছিলেন)

৬.১.২.৩ অল্প বয়স/ অভিজ্ঞতার ঘাটতি (এটি সাকিবের ক্ষেত্রে নেগেটিভ! তিনি ২২ বছর বয়সে যে ভূমিকা নিতে পেরেছিলেন সেই ঘটনার ১০ বছর পরে একই ভূমিকা নিতে পারেননি। যাই হোক, এর জন্যে সাজার পরিমাণ বাড়বে-সেটি বলা হয়নি)

৬.১.২.৪ থার্ড পার্টির মাধ্যমে বা অন্য কোনভাবে জানার আগেই অপরাধ জানিয়ে দেয়া (কিভাবে দুর্নীতি দমন ইউনিট জানতে পারলো সেটি জানি না; কিন্তু সাকিব নিজে থেকে জানায়নি, সো এই পয়েন্টটাও কাজে লাগছে না)

৬.১.২.৫ অভিযুক্ত কর্তৃক দুর্নীতি দমন ইউনিটকে তদন্তে সহায়তা (হ্যাঁ, সাকিব করেছেন)

৬.১.২.৬ যেখানে অপরাধ আন্তর্জাতিক ম্যাচের কমার্সিয়াল ভ্যালু বা পাবলিক ইন্টারেস্টকে ক্ষতি করেনি (প্রযোজ্য না)
৬.১.২.৭ যেখানে অপরাধ ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেনি (ঐ)
৬.১.২.৮ যদি পার্টিসিপেন্ট আইসিসি, জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশন, কোন অপরাধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ডিসিপ্লিনারি বডিকে যথেষ্ট সহায়তা দিয়ে থাকে (আগের ঘটনায় জানিয়ে সহায়তা করেছিলেন, তাছাড়া ক্যাপ্টেন হিসেবেও দলের ও দলের সদস্যদের ক্লিন ইমেজের কৃতিত্বও সাকিব পেতে পারেন)
৬.১.২.৯ পার্টিসিপেন্ট যদি অন্য অপরাধে অলরেডি সাজা পেয়ে থাকে (প্রযোজ্য না)
৬.১.২.১০ দুর্নীতি দমন ইউনিট তাদের বিবেচনায় যদি এমন কিছু পায় যার জন্যে সাজা কমানো উচিৎ মনে করে (দুর্নীতি দমন ইউনিটের বিবেচনা)

ফলে, এই সমস্ত ফ্যাক্টর আমলে নিলে সাকিবের সাজা কোন মতেই বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। ১৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা আসার সম্ভাবনা খুবই কম দেখি। এখন প্রশ্নটি হচ্ছে, আমাদের মিডিয়াগুলো কিভাবে এরকম সাম্ভাব্য সাজার কথা জানতে পারলো? এমন সাজার কথা আইসিসি/ এন্টি-করাপশন ইউনিট প্রকাশ করার আগে মিডিয়া, বিসিবি কিংবা এমনকি সাকিবের পক্ষেও কি জানা সম্ভব? এই প্রশ্নটি বস্তুত শুধু সাজার ব্যাপারে নয়, এরকম তদন্ত যে হচ্ছে বা আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট যে সাজা দিতে যাচ্ছে, এটা মিডিয়া তো দূরের কথা সাকিব বাদে অন্য কারোর পক্ষে কি জানা সম্ভব? Anti-Corruption Code for Participants এর ৮ নাম্বার আর্টিকেলটি হচ্ছে জনগণের সামনে প্রকাশ এবং গোপনীয়ত (ARTICLE 8: PUBLIC DISCLOSURE AND CONFIDENTIALITY)। সেখানে ৮.১ ধারায় বলা হয়েছে: বিশেষ কোন পরিস্থিতি বাদে আইসিসি কিংবা কোন জাতীয় ফেডারেশন তদন্তাধীন কিংবা অভিযুক্ত কাউকে পাবলিকলি আইডেন্টিফাই করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না দুর্নীতি দমন ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে সাজা প্রদানের ঘোষণা দিচ্ছে!
এই যে বিশেষ পরিস্থিতির কথা যেটি বলা হচ্ছে, সেটিও নির্ধারণ করবে আইসিসি। আইসিসি যদি মনে করে খেলাটির ইন্টিগ্রিটি বা পার্টিসিপেন্টের ইন্টিগ্রিটি নষ্ট হচ্ছে এরকম ক্ষেত্র হচ্ছে- বিশেষ পরিস্থিতি (একটা উদাহরণও দেয়া আছে- যেখানে যথেষ্ট ক্ষতিকর ও অসত্য মিডিয়া স্পেকুলেশনের পরিস্থিতি)। অর্থাৎ আইসিসি বা বোর্ড তখনই কথা বলতে পারবে যখন পার্টিসিপেন্ট তথা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অসত্য- ক্ষতিকর মিডিয়া স্পেকুলেশন ছড়ানো হয়, তখন। পার্টিসিপেন্ট তথা অভিযুক্ত সেই খেলোয়াড়ের ইন্টিগ্রিটি রক্ষার উদ্দেশ্যেই বোর্ড কেবল মুখ খুলতে পারে। এছাড়া দুর্নীতি দমন ইউনিটের আনুষ্ঠানিক সাজা প্রদানের ঘোষণার আগে জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশন বা বোর্ডের বা আইসিসির কিছু বলার এখতিয়ার নেই।

ফলে, দেখা যাচ্ছে, গত দুদিনে আমাদের বিসিবি সভাপতি বেশ কবারই এই কোডের ৮.১ নাম্বার ধারাটি ভায়োলেট করেছেন। আফসোস এই যে, আইসিসি বা দেশের বোর্ড যদি এইসব ধারা অগ্রাহ্য করে সেক্ষেত্রে কোন সাজার কথা এই কোডে লেখা নাই। ফলে, তিনি হয়তো পার পেয়ে যাবেন কিন্তু আমাদের বোর্ড সভাপতি আইসিসির কোড বিরোধী কাজ করেছেন এতে কোন সন্দেহ নাই। এখন আবার আগের প্রশ্নে যাওয়া যাক! মিডিয়াই এই ঘটনা জানলো কিভাবে? দুর্নীতি দমন ইউনিট সাকিব বাদে এমনকি বোর্ডকেও জানায়নি, এটা কোড অনুযায়ীই তারা করতে পারে না। মিডিয়াকে জানানোর তো প্রশ্নই উঠে না! তাহলে, এই ঘটনা প্রকাশের একটাই উৎস থাকতে পারে, সেটি হচ্ছে সাকিব। এখন সাকিব কি এটা মিডিয়াকে জানিয়েছেন? সম্ভব? একটি মিডিয়ায় দেখলাম, সাকিব কয়েকদিন আগে নিজে বোর্ড সভাপতিকে এ বিষয় অবহিত করেছেন! তাহলে কি বিসিবি সভাপতি বা তার অনুগত কোন বিসিবি কর্মকর্তা এই বিষয়টিকে মিডিয়ায় জানিয়ে দিয়েছে?

সাকিবের ঘনিষ্ঠ একজনের সূত্রের বরাত দিয়ে একটি ফেসবুক পোস্টও চোখে এলো দুই বছর আগে সাকিব যখন এরকম ফোনকল পেয়েছিলেন তখনই সাকিব বিসিবি সভাপতিকে জানিয়েছিলেন, সভাপতি নাকি এনিয়ে সাকিবকে চিন্তা না করে খেলায় মনোযোগ দিতে বলেছিলো! সাকিবও ওই টুর্নামেন্টে মনোযোগ দেয় ও পরে ভুলেও যায়! এই সময়ে এসে সাকিবের উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে বোর্ডের ভেতর থেকেই সভাপতির কোন অনুগত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন ইউনিটকে এই ঘটনা অবহিত করেছে; ফলে এ বিষয়ে তারা তদন্ত শুরু করেছে। এবং সাথে সাথে তারাই (অনুগত বিসিবি কর্মকর্তারাই) এ বিষয়ে মিডিয়ায় তথ্য ফাঁস করেছে।
জানি না, আসল সত্য কি! তবে, এতটুকু নিশ্চিত আজকের বোর্ড সভাপতির নেতৃত্বে আমাদের বিসিবি এবং আমাদের মিডিয়ার একটা অংশ সাকিব আল হাসানের ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছে।


সর্বশেষ: আইসিসির ওয়েব-সাইটে সাকিবের বিরুদ্ধে তিনটি চার্জের ভিত্তিতে তাকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার সাজা দেয়ার কথা প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৮ সালের জিম্বাবুয়ে- শ্রীলংকা- বাংলাদেশের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজের সময় ১ম দফা ও ২য় দফা প্রস্তাব পেয়েছিলো এবং একই বছরে আইপিএল এ হায়দারাবাদ সানরাইজ ও কিংস এলেভেন পাঞ্জাবের ম্যাচের আগে আরেকবার প্রস্তাব পেয়েছিলো। কোনবারই সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি ঠিকই, কিন্তু কোনবারই দুর্নীতি দমন ইউনিটকে জানায়নি। ফলে, নিম্নতম সাজাই তিনগুণ হয়ে দুই বছর হয়েছে। এর মধ্যে এক বছরের সাজা সাসপেণ্ডেড অর্থাৎ ভুল স্বীকার ও সাজার ব্যাপারে একমত হয়ে আকু'র শিক্ষামূলক প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে আকু'কে সহযোগিতা করতে চাওয়ায় এই সাসপেণ্ডেড সাজা সাকিবকে ভোগ করতে হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে সাকিব ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবরের পরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারবে। এই সাজার প্রেক্ষিতে কিছু কথা:

১. সাকিব যেহেতু অপরাধ করেছে, সেহেতু সাজা তার প্রাপ্য যদিও আমি মনে করি, জুয়াড়ির প্রস্তাব গ্রহণ না-করে ফিরিয়ে দেয়াটা বড় ব্যাপার। সে তুলনায় আকু'কে না জানানোটা ছোট ভুল। এরকম ভুলের জন্যে প্রতীকি সাজা হওয়া উচিৎ ছিল। ২ বছরের নিষেধাজ্ঞা অপরাধের তুলনায় অনেক বড় সাজা। এরকম ক্ষেত্রে তিন অপরাধের সাজা কিউমেলেটিভলি এড করার বা তিনগুণ সাজা প্রদানের কোন যৌক্তিকতা নেই!

২. অন্য সব স্পেকুলেশন বাদ দিলেও বিসিবি সভাপতির আচরণ, সংবাদ সম্মেলনের কথাবার্তা, সাকিবকে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উপস্থাপন সবকিছুই প্রচণ্ড ঘৃণ্য! দেশের ক্রিকেটের সেরা সম্পদের তথা আমাদের ক্রিকেটেরই এরকম দুর্যোগপূর্ণ মুহুর্তে অভিভাবক হিসেবে পাশে না দাঁড়িয়ে বোর্ড সভাপতি সাকিবকে কালারড করার চেষ্টা করেছেন। আইসিসির কোড বরখেলাপও করেছেন।

৩. আইসিসির এরকম সাজার পেছনে ভারতের ভূমিকার ব্যাপারেও স্পেকুলেশন অনেকে করছে দেখলাম। ভারত সিরিজের আগ দিয়ে এরকম সাজা প্রদান। জুয়াড়ি ভারতীয়। আইপিএল ভারতীয়। এটি উল্লেখ করে বলা হচ্ছে আইসিসিও ভারতীয়! এইসবই স্পেকুলেশন! আসল সত্য আমরা সম্ভবত কোনদিনই জানতে পারবো না!"