Friday, June 29, 2018

জরু-গরু, পোলা-ছোলা সবই যাক, কেবল...।

‘…মিডিয়া’ ফুটবলের উম্মাদনা কোন পর্যায়ে নিয়ে গেছে এর নমুনা দিয়ে শেষ করা যাবে না। রাশিয়ায় এই বিশ্বকাপ রাশিয়ার জন্য 'ইদ-চান'! সরকার সেই দেশের অনেক অন্যায্য কাজ আড়াল করে ফেলার চেষ্টা করছে। যেমন, বর্তমানে রাশিয়ান নারীদের অবসরের বয়সসীমা ৫৫ এবং পুরুষদের ৬০। এখন সরকার চাচ্ছে এই বয়সসীমা যথাক্রমে ৬৩ এবং ৬৫ করতে। এতে করে ভবিষ্যতে সরকারের এক ট্রিলিয়ন রুবল সাশ্রয় হবে।

আমাদের দেশে অবশ্য এইসব আড়াল-আবডালের প্রয়োজন নেই কারণ আমরা খুল্লামখুল্লা বাথরুম সারলেও কিছু যায় আসে না বরং আমরা গলাবাজি করব এই বলে যে, ‘আমি ল্যাংটা তো কী হইছে- আপনে তাকান ক্যান, আপনের মনে কু আছে চোউক খারাপ’।
স্কিণশট ঋণ: প্রথম আলো, ২৯ জুন ২০১৮
আজকের এই দৈনিক পত্রিকাটি দেখলে এদেরকে গালি না-দিয়ে ক্ষোভে নিজেকেই গালি দিতে ইচ্ছা করবে। আমাদের দেশের মেয়েরা অভাবনীয় এক কান্ড করে বসল। এই দামাল মেয়েরা এশিয়ান কাপ নিয়ে আসল। অথচ এই মেয়েদেরকে প্র্যাকটিসে যেতে হয় ভাংগা বাসে করে। অবশ্য এই নিয়ে হইচই হওয়ার পর মেয়েরা মাইক্রোবাস পেল। এই মেয়েরাই পাকিস্তানের করা অতি নোংরা ট্রলের মুখে জুতা মেরেছে [১]। ছয়বারের চ্যম্পিয়ন ভারতকে লম্বা করে দিয়েছে।

আমাদের এই মেয়েরাই গতকাল আরেক কান্ড করে বসল! আইরিশদের শুইয়ে দিল! কেবল তাই না, জাহানারা ৫ উইকেট নিয়ে শুধু টি-টোয়েন্টি না, মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ৫ উইকেট পেল। এই প্রথম, বাংলাদেশের কোনো মেয়ে!
ছবি ঋণ: http://www.espncricinfo.com
এই মেয়েদের ছবি দূরের কথা এই পত্রিকার প্রথম-শেষ পাতায় কোথাও এই সংক্রান্ত কোনো তথ্যই নেই। পত্রিকাটি সম্ভবত পুরোপুরি 'নাংগাপাংগা' হতে চায়নি তাই ভিতরে খেলার পাতায় সিঙ্গেল কলামে ছোট্ট করে এই অভাবনীয়, আমাদের গর্বটা জায়গা পেয়েছে। জয় হোক মিডিয়ার...!
এই মিডিয়া চালান যেসব সর্দারেরা সেইসব মিডিয়াবাজ মানুষদেরও দেখি বিরাট দেশপ্রেমিক। এঁরা লেখালেখি শেখার জন্য আমেরিকা যেতে খুব পছন্দ করেন আমেরিকা থেকে ফিরে এসে 'সদ্য আমেরিকা ফেরত' টাইটেল লাগান ওখানকার বিস্তর গল্প বলেন কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমেরিকার মহানুভবতার(!) গল্পটা বলার আর সময় পান না।

আমাদের এক 'ফেসবুক ছালাব্রেটি' এই নিয়ে বিস্তর গোস্সা প্রকাশ করেছেন এইসব নাকি নির্দোষ খেলুড়ে অধিকার। বৈদেশের পতাকা-টতাকা লাগানো খুবই উত্তম এক কাজ। এইসব 'ফেসবুক ছালাব্রেটিদের' সমস্যা হচ্ছে এদের পিঠে ছালা বেঁধে কথা বলতে হয় কারণ বৃষ্টি দেখে ছাতা ধরার একটা বিষয় আছে বৈকি। নইলে লাইক-টাইক কমে গেলে তো বিপদ, অমায়িক বিপদ!

এখন আবার আমাদের দেশপ্রেমিকদের নতুন একটা ইয়ে চালু হয়েছে। দেশপ্রেমিক একেকটা! অন্য দেশের পতাকার সঙ্গে আমাদের জাতীয় পতাকা বেঁধে দিচ্ছে। আমি ঝাড়ুর হাতলে বাঁধতেও দেখেছি সঙ্গত কারণেই এখানে দিলাম না। বৃষ্টি, দিন নেই রাত নেই উড়ছে আমাদের জাতীয় পতাকা। বেচারা পতাকা, আর জাতীয় রইল কই!
আমাদের দেশে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে যে উম্মাদনা তা অসুস্থতার পর্যায়ে পড়ে। অন্য দল করে বলে বাপ-ছেলেকে একসঙ্গে কুপিয়েছে।  অন্য এক জায়গায় উলঙ্গ করে ফেলেছে।  
আহারে পতাকা, পতাকা লাগাতে গিয়ে যে অজস্র প্রাণ যে ঝরে যাচ্ছে অসংখ্য মানবসন্তান বিকলাঙ্গ হচ্ছে এই দায় কি আমাদের উপরও খানিকটা বর্তায় না? অথচ আমাদের কোনো বিকার নেই। এই ভিডিওটা পুরোটা আমি দিলাম না কারণ আমার এতো সাহস নাই।
ভিডিও: সংগৃহীত
জাতীয় দৈনিকগুলোর প্রথম পাতায় ঢাউস আকারে ছাপা হচ্ছে আজ ব্রাজিল বাড়ির কথা তো কাল আর্জেন্টিনা বাড়ির কথা!
ওই দেশের লোকজনেরা তো মুখ ফসকে বলেই ফেলে, 'কী কান্ড, খোদ আমাদের দেশেও তো আমাদের এই দল নিয়ে এতটা উম্মাদনা নেই যতটা তোমাদের দেশে'!
আমাদের দেশের এমন বেকুব দেখার জন্য ওদের উড়ে চলে আসতে সমস্যা কোথায়! আহা, তখন মুন্নি সাহারা যে চকোলেটের মত গলে যায়।

ভাবা যায়, একজন বয়ষ্ক মানুষ তার জমি বিক্রি করে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পতাকা বানিয়েছেন, জার্মানির।
এটা আবার মিডিয়া ফলাও করে দেখাচ্ছে-নাচাচ্ছে। এখন জার্মানির বিদায়ে শোকে বুড়া মিয়া খাওয়া-দাওয়া করছেন না। আগে জানতাম জরু(বউ) মরে যাক কিন্তু গরু যেন না মরে। বউ গেলে বউ আসবে কিন্তু গরু? এখন দেখছি জরু-গরু-পোলা-ছোলা সব্টাই যাক কেবল জার্মানি বেঁচে থাক। এটাও আবার মিডিয়ার জন্য 'লাজিজ' খাবার। শিরোনাম হয়, 'পতাকা আমজাদ বাকরুদ্ধ'!

কেউ-কেউ বলবেন, আহা, তাই বলে কী খেলা নিয়ে আমরা লাফাব না। অবশ্যই লাফাব কিন্তু এখন যা হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে একেকটা চলমান রোগী! আগে আমরা আর যাই করি অন্তত কোন দল জিতবে এটা নিয়ে টাকাটুকা লেনদেনের নামে জুয়া তো আর খেলিনি।
এখন খেলা নিয়ে যেরকম বাপ-বাপান্ত হয় এ এক বিরল। সহিষ্ণুতার লেশমাত্রও নাই। সহিষ্ণুতার অভাব কীরকম হয় এই ভিডিও দেখলে খানিকটা আঁচ করা যাবে।
কালে-কালে আমাদের বিচিত্র আবেগ (মা মরে গেছে পোলা দুঃখের সেলফি উঠাচ্ছে) যে প্রকারে এগুচ্ছে তার নমুনা এমন দাঁড়াবে...।

:অাপডেট: ৩০.০৬.২০১৮
ব্রাজিল যখন বিশ্বকাপ খেলছে তখন তাদের দেশে পতাকার অবস্থা!

এই ছোকরি তো এমন কান্না কাঁদছে বাপ মরলেও সম্ভবত এমন কান্না করবে না। আর আমাদের দেশে কেবল জরু-গরু, পোলাই না- শ্লা, প্রাণটাও যাক:


সহায়ক সূত্র:
১. হুজুগে বঙ্গালhttp://www.ali-mahmed.com/2018/06/blog-post_10.html

Thursday, June 21, 2018

পোকামাকড়ের থাকাথাকি।

কেবল বালকবেলায় না, এখনও, কখনও-কখনও পোকাকে 'পুকা' বলে হাসির পাত্র হই। তো, বালকবেলায় প্রায়শ এটা মাথায় ঘুরপাক খেত 'পুকার' জন্য একটা ঘর-টর করা যায় না?
সেই বালকবেলার হাস্যকর কর্মকান্ড ভাবনাকে বাস্তবে করে দেখিয়েছেন fakruddin shahariar (https://www.facebook.com/fakruddin.shahariar), এই বাপ-বেটা মিলে পোকামাকড়ের জন্য হোটেল খুলেছেন। 'বাগ হোটেল'।

অবশ্য পোকামাকড়ের সঙ্গে লেনদেনের বিষয়টা গোপন রেখেছেন, বাপ-বেটা দুজনেই :)

Sunday, June 10, 2018

হুজুগে বঙ্গাল!

আমাদের মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমাকে নিয়ে পাকিস্তানি মিডিয়ায় যে কুৎসিত রসিকতা করা হয়েছিল তা অনেকেই হয়তো বিস্মৃত হয়েছেন। সেই কুৎসিত রসিকতার নামে যা করা হয়েছিল তা অমার্জনীয় এক অপরাধ! কারণ রসিকতাটা কেবল খেলা নিয়েই ছিল না সালমাকে অসুন্দর রূপে উপস্থাপন করে বিস্তর হাসাহাসি হয়েছিল। আজ আমি চোখ বন্ধ করলে স্পষ্ট দেখতে পাই এই মরদুদরা আজ হাসতে ভুলে যায়, ইয়েতে মাখামাখি হয়ে।

আজ সালমাদের ছোড়া জুতা দিগবিদিক কোথায় কোথায় পড়ছে তা ঠাউর করা মুশকিল। দু-একটা যে আমাদের গায়েও লাগেনি তা জোর দিয়ে বলা মুশকিল। আজকের এক পত্রিকায় পড়ছিলাম, “…সাকিব আল হাসানরা এশিয়া কাপের ফাইনালে খেললে ক্রিকেট উত্তাপে কাঁপে সারা দেশ। …আজও কি তেমন কিছু ঘটছে এ দেশে? বাসে বা অফিসে তর্কে আলোচনায় কি আজ সত্যিই আছেন সালমারা?...

এই ক্রীড়া প্রতিবেদক এখনও পুরোপুরি রোবট হয়ে ঘসে-ঘসে চোখের স্বপ্ন মুছে ফেলেননি বলেই হয়তো অসাধারণ এই লেখা দিয়ে শুরু করেছিলেন, সাধু-সাধু কিন্তু তিনি যে পত্রিকায় এটা লিখেছেন সেই পত্রিকায় এই খবরটা কিন্তু প্রথম পাতায় জায়গা করে উঠতে পারেনি। ছাপা হয়েছে খেলার পাতায়। অথচ এই পত্রিকাতেই পর-পর দুদিন ছাপা হয়েছিল ঢাউস আকারের বহুতল ভবনের ছবি। ঘটনা কী! দুই ‘ছাগ-বেকুব’ একটা ভবন রাঙিয়েছে আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে আরেকটা ব্রাজিলের।
আহা কান্ড, আমার মত বেকুব পাঠককে খেলা কখন শুরু হবে এটা জানাবার তকলিফও এরা করেননি! 
এখন প্রবল আশা, সহসাই এই পত্রিকার সর্দার টাইপ উপ-সর্দার সালমাদের সঙ্গে ফটোসেশন করবেন, বিকশিত দন্তসহ।

আমাদের দেশের মিডিয়া চামচে করে কাচা গু খাওয়ালে আমরা পাঠক তাই খাব। মিডিয়া বলে কথা! এই মিডিয়াই উস্কে দেয় কোথাও কোন-এক ‘ছাগ-বেকুব’ এক কিলোমিটার লম্বা আর্জেন্টিনার পতাকা সেলাই মেশিনের উপর বসে প্রসব করেছে তো কোথাও ব্রাজিলের সোয়া কিলোমিটারর লম্বা পতাকা। এই মিডিয়াই ঘটা করে লিখে উস্কে দেয় ঈদের দেড় লাখ টাকা দামের লেহেঙ্গা, ঘটা করে শিরোনাম করে, শুরুতেই এলো ‘পদ্মাবতী’! ফ্যাশনের পাতার নামে বিস্তর ‘গু-কা’র সুলুক-সন্ধান।
ছবি ঋণ: www.banglatribune.com
মেয়েদের এশিয়া কাপে আজই আমাদের মেয়েরা ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়েছে অথচ এই লেখাটা যখন লিখছি তখন প্রধান এক ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধান দ্বিতীয় তৃতীয় খবরে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হল এই মুঠো-স্বপ্ন…।
...
অাপডেট: (২০.০৬.১৮)
আজ প্রধানমন্ত্রী এই মেয়েদেরকে ডেকেছেন উৎসাহ-পুরস্কার দেওয়ার জন্য। অার মেয়েরা প্র্যাকটিস করতে যায় লক্করঝক্কর বাসে...।

ছবি এবং তথ্য ঋণ: www.thedailystar.net 



Saturday, June 2, 2018

ক্রসফায়ার বনাম বন্দুকযুদ্ধ।

দেশ এখন যুদ্ধাবস্থায় আছে। তুমুল 'বন্দুকযুদ্ধ' (চালু মিডিয়া সম্ভবত ক্রসফায়ার বলে-বলে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তাই এই নতুন সংযোজন চালু করেছে।) চলছে! বন্দুকের গুলি সবগুলোই একের-পর-এক ক্রস করছে। এ এক ‘অমায়িক ক্রসফায়ার’ - যাদের গা ছুঁয়ে যাচ্ছে তারা বেজায় খুশি বেঁচে যাওয়ার আনন্দে! কিন্তু ‘খোদা-না-খাস্তা’ কোনও একটা গুলি যদি ক্রস না-করে সোজা খুশিমুখের কারও দিকে চলে এলে তো বিপদ, মহাবিপদ! মরলে কী আর কারও বাঁচার যো আছে রে, পাগল! তাই কোদালের বদলে ‘বদিস্ত্র বা বদাস্ত্র’ দিয়ে ট্রেন্চ খোঁড়াটা অতি জরুরি। বদিকে বাঁচাবার জন্য অন্যত্র দৃষ্টি ফেরানোটা জরুরি, খুব জরুরি!
...
ক্রসফায়ার না (যেখানে ডান্ডাবেড়ি নিয়েও লোকজন গুলি ক্রস করত [১] [২]), একরাম 'বন্দুকযুদ্ধে' যুদ্ধ করে, হত্যা হয়ে সরকারকে বেকায়দা ফেলার চেষ্টা করেছেন। এবং মিডিয়ার তথ্য ভান্ডারের উৎসে খানিকটা ব্যাঘাত ঘটিয়েছেন। এ তো হওয়ারই ছিল! আমরা এই সমস্ত হত্যার মিছিল নিয়ে কী উল্লসিত! চা খেতে খেতে একজন অন্যজনকে জিজ্ঞেস করছি, ‘আজ কয়টা রে’? কারণ মাদকব্যবসায়ি মারা যাচ্ছে এই মাদকে আমরা নিজেরাই বুঁদ!
তার উপর আমাদের চেয়ে তথ্য-জ্ঞানে এগিয়ে থাকা গোলাম সারওয়ারের মত বয়স্ক একজন মিডিয়াবাজ মানুষের এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে যখন তেলতেলে চেহারার তেল গড়িয়ে পড়ে তখন দিগম্বর এই মানুষটাকে দেখে আমরা চোখ ফিরিয়ে নেই না। আনন্দের সঙ্গে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি।

একরামকে হত্যা করার অডিওটা শোনার পর কেবলই মনে হচ্ছে যে সমস্ত মানুষ এই সমস্ত হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত, রোজাভঙ্গে প্রথম ফোঁটায় চুমুক দেওয়ার পূর্বে, ছুটতে ছুটতে নামাজে দাঁড়িয়ে, শখের বশে বিরিয়ানি রান্না করতে করতে, বেনি দোলানো মেয়েদেরকে হলুদ সন্ধ্যায় বেড়াতে নিয়ে গিয়ে বা শিল্পসাহিত্যের ভুবনে দাপিয়ে বেড়িয়ে এই ভাবনা মাথায় এলো যে একরামের বিষয়ে ভুল হয়েছে। ভুল হতেই পারে, এ তো আর চিত্র-বিচিত্র না। এই ভুল শোধরানোর উপায়ও কঠিন কিছু না। খুব সিম্পল।
একরামকে ফিরিয়ে দিলেই হয়…[৩]

সহায়ক সূত্র
১. ডান্ডাবেড়ি নিয়ে ক্রসফায়ার: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_03.html
২. ক্রসফায়ার এক মহা আবিষ্কারhttp://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_29.html
৩. মৃত্যুদন্ড...http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post_07.html