Search

Loading...

Saturday, February 5, 2011

বিবিসি-এএফপি, যারা হলুদ ডিম্ব প্রসব করে!

ছবি ঋণ: প্রথম আলো
হেনা। এই বালিকাকে ধর্ষণ করা হয়। মাহাবুব নামের যে মানুষটা (!) ধর্ষণ করে, গ্রাম্য সালিশে তার পাশাপাশি এই মেয়েটিকেও ১০০ দোররা মারার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। ৮০টা দোররা মারার পর মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানে তার মৃত্যু হয়।

এই নিয়ে এক লেখায় বলেছিলাম, 'কেবল ফাঁসি চাইছি, আর কিছু না' [১]। আমার স্পষ্ট বক্তব্য, এর সঙ্গে যারা যারা জড়িত প্রত্যেককে ফাঁসিতে ঝোলাতে হবে, যত দ্রুত সম্ভব। বিচারটা হবে বছরে পর বছর লাগিয়ে না, বিশেষ আদালতে।
এটা তো গেল সেইসব খুনিদের জন্য যারা জীবিত হেনাকে খুন করেছে তাদের জন্য কিন্তু যারা মৃত হেনাকে দ্বিতীয়বার খুন করেছে তাদের জন্য কোন শাস্তি চাইব? অসহায় এই বালিকাটির প্রতি এমন অন্যায়-কুৎসিত অভিযোগ যে খুনেরই নামান্তর।

হেনাকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়া কি বলছে? বিবিসি বলছে [২]: "...The teenager was accused of having an affair with a married man, police say, and the punishment was given under Islamic Sharia law..."
"...She was alleged to have had the affair with her cousin and received 80 lashes..."
বিবিসি আরও জানাচ্ছে, "..."Her family members said she was admitted to a hospital after the incident and she died six days later. The village elders also asked the girl's father to pay a fine of about 50,000 Taka (£430; $700)," district superintendent of police, AKM Shahidur Rahman, told the BBC..."

এবার আমরা দেখি এএফপি [৩] কি বলছে? " "...after a teenage girl, who was accused of having an extra-marital affair with her cousin, was whipped to death..."
"...According to Mr Rahman, the teenage girl was "beaten mercilessly" by the family of the married man, who was also Hena's cousin, after the affair was discovered..."
"...The teenager was then handed to the village court, which publicly whipped her until she passed out and was taken to hospital, where she died seven days later,..."

বিবিসি এবং এএফপির উভয়েরই বক্তব্য, হেনার বিবাহিত ওই মানুষটার সঙ্গে অ্যাফেয়ার বা পরকীয়া ছিল এবং হেনা নামের মেয়েটি ৬/৭ দিন পর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে। অথচ আমরা জানি ৭০/৮০টা দোররা মারার পর তাঁকে হাসপাতালে নেয়ার পরপরই অর্থাৎ যেদিন দোররা মারা হয় সোমবার, সে সেদিনই মৃত্যুবরণ করে [৪]

সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, হেনা নামের বালিকা যে আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী শিশু। Sailent features of the children act of 1974, Section 2 (F)-এ বলা হচ্ছে, "A child means a person under 16 years of age..."।  ওহে, পন্ডিত সাহেবগণ, আপনাদেরকে কী এটা মনে করিয়ে দেব, একজন শিশুর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করা যায় না, সেটা পরকীয়া হোক বা বিয়ের নামে স্ত্রী হোক।
সে শিশু না বালিকা এই কুতর্কে না-গিয়ে ধরে নিলাম সে হেনা নামের এক কিশোরী । গ্রামের এই কিশোরী হেনা, স্ত্রী বর্তমান এমন একজন ৪০ বছরের ধামড়ার সঙ্গে তাঁর নাকি অ্যাফেয়ার ছিল! এটা কতটুকু বাস্তবসম্মত? অথচ আমরা জানতে পারি মাহাবুব নামের এই মানুষটি ইতিপূর্বে এমন অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে।

এদের তথ্য জেনে মনে হচ্ছে একই গোয়ালের ধোঁয়া, তথ্যের বিষয়বস্তু, ধাঁচ কাছাকাছি! সংবাদের শেষাংশে বিবিসি বলছে, "...Nearly 90% of Bangladesh's estimated 160 million population are Muslims, most of whom practise a moderate version of Islam." 
এএফপিও সংবাদটা শেষ করছে এই লাইন দিয়ে, "...Some 90 per cent of Bangladesh's 146 million people are Muslims and most live in rural areas. 

বিবিসির ঢাকা সংবাদদাতা কোথায় বসে এই রিপোর্টটা করেছেন, কোনও নাইট ক্লাবে? সাহেব মানুষ গলা না-ভেজালে কী চলে? তা কয় পেগ? আহা, লিমিটটা ছাড়িয়ে গিয়েছিল বুঝি? সাহেব মানুষ তবুও মানুষের শরীর তো! আহা, জিনিসটা সহ্য করতে না-পারলে গলায় আঙ্গুল দিয়ে বমি করে দিতে পারলেন না? তাহলে এই 'মাতালিয়া প্রলাপের' কারণে আপনার প্রতি আমাদের বমন ভাবটার উদ্রেক হত না। অন্যের কথা জানি না, নিজেরটা বলি, ডিয়ার ভাগ্যিস, আপনি হাতের নাগালে নেই নইলে হড়হড় করে আপনার উপর বমি করে দিতাম...।
 কে অপরাধী, মিডিয়া নাকি প্রশাসন?: http://www.ali-mahmed.com/2011/02/blog-post_06.html

*গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি: আরাফাতুল ইসলাম,  Voice of South.org: http://voiceofsouth.org/blog/?p=1529, যিনি এই বিষয়টা নিয়ে আলোকপাত করেছেন। ইয়েলো জার্নালিজম, এটা না-পড়লে আমার জানাই হত না আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো কেমন করে আস্ত একটা হলুদ ডিম প্রসব করে!

**বিবিসি বাংলার চুরি চামারি নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। সাক্ষাৎকার হাপিস করে দেয়া নিয়ে একটা জটিলতা দেখা দিয়েছিল [৫]। এবং ছবি চুরি নিয়েও [৬]। 

সহায়ক সূত্র:
১. কেবল ফাঁসি চাইছি: http://www.ali-mahmed.com/2011/02/blog-post.html
২. bbc.co.uk: http://www.bbc.co.uk/news/world-south-asia-12344959
৩. AFP (হেরাল্ড সান প্রকাশিত এএফপির রিপোর্ট): http://tinyurl.com/699bbxq
৪. প্রথম আলো: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=1&date=2011-02-02
৫. সাক্ষাৎকার চুরি, বিবিসি: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_27.html
৬. ছবি চুরি, বিবিসি: http://www.sachalayatan.com/guest_writer/34316 

5 comments:

Nurul said...

Ai kuttader 'godam'

মোঃ লিয়াকত হোসেন লিকু said...

ঐদিনের ঘটনার পরে বিচারের নামে হেনাকে নিয়ে যা হয়েছে তা রীতিমত ভয়ংকর। এহেন বর্বর কান্ড এ যুগে ঘটতে পারে তা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে।

তবে, পাশাপাশি এ ভাবতেও গা শিউরে ওঠে আলী-মাহমেদের মত লোকেরা কিভাবে "১৫ বছর বয়সী" এই বলে পরকীয়াকে উস্কে দিতে চায়।

মাহবুব নামের ঐ পাষন্ড অবশ্যই অপরাধী। তার যথাযথ শাস্তি দেয়া বাধ্যতামুলক। কিন্তু তাই বলে হেনাও নির্দোষী ছিলোনা। মাহাবুবের সাথে তার শারীরীক সম্পর্ক ছিলো হেনার সম্মতিতেই। আর এটাতে হেনাও অপরাধী। যদিও হেনার দূর্ভাগ্য এই যে সে অপরাধের তুলনায় অনেক বেশি শাস্তি পেয়েছে। তাই, বিচারক সহ মসজিদের ইমামদেরও শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।

কিন্তু, মাহমুদ সাহেবদের পোস্ট দেখে মনে হয় হেনা ছিলো সম্পূর্ণ নির্দোষ। অবশ্য প্রথম আলো গং দের মত মাহমুদ সাহেবরা যদি এদেশে ফ্রী-সেক্স চালু করতে চায়, তাহলে হেনার দোষ থাকার কথা নয়।

।আলী মাহমেদ। said...

মোঃ লিয়াকত হোসেন লিকু, শ্রদ্ধাভাজনেষু, শ্রদ্ধাস্পদেষূ, করকমলে:
"...তবে, পাশাপাশি এ ভাবতেও গা শিউরে ওঠে আলী-মাহমেদের মত লোকেরা কিভাবে "১৫ বছর বয়সী" এই বলে পরকীয়াকে উস্কে দিতে চায়।"
হুম, কী অন্যায়!
মোঃ লিয়াকত হোসেন লিকু নামের কোন একজন ১৪/১৫ বছর বয়সী কাউকে বিবাহ করলে এবং তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ (!) সময় ব্যয় করলেও আমাদের দেশের আইনমতে এটা ধর্ষণ।
ওয়েল, এই আইন নিয়ে আপনার আপত্তি থাকলে এই বিষয়ে আলী মাহমেদের সঙ্গে আলাচারিতা না-করে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বললে ভাল হয় বা আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে। আগে আইনটা বদল করে তারপর আমার সঙ্গে বাতচিত করলে সুবিধা।

"মাহাবুবের সাথে তার শারীরীক সম্পর্ক ছিলো হেনার সম্মতিতেই।"
ঠিক ওই সময়টাতে ওখানে উপস্থিত আপনার মত একজনকে পেয়ে যাব এটা ভাবিনি! ওয়াল্লা, কী ভাগ্য!

"কিন্তু, মাহমুদ সাহেবদের পোস্ট দেখে মনে হয় হেনা ছিলো সম্পূর্ণ নির্দোষ।"
মাহমুদ! আপনাদের মত মানুষরা কী অনায়াসেই না মানুষের নাম বিকৃত করেন! আপনাদের হাতে তথ্য কেমন বিকৃত হয় তা জানার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না!

"অবশ্য প্রথম আলো গং দের মত মাহমুদ সাহেবরা যদি এদেশে ফ্রী-সেক্স চালু করতে চায়, তাহলে হেনার দোষ থাকার কথা নয়।"
প্রথম আলো গং নাকি ছাতার গং, এদের মত হওয়ার কোন বাড়তি আগ্রহ আমার নাই। এই নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন না, আমি উদ্বিগ্ন দেশে অর্বাচীনদের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। আফসোস!
লেখার শুরুতে 'অন্তরঙ্গ (!) সময়' লেখাটায় বিস্ময়বোধক চিহ্ন ব্যবহার করার এটাও একটা কারণ। বালকদের কাছে অবোধ্য!

কেবল আমার একটাই কাতরতা, পাঠক আমার লেখা পড়ে মন্তব্য করুক। কে অপরাধী, মিডিয়া নাকি প্রশাসন? ওই পোস্টেই লেখা ছিল:
'যারা হেনার অনৈতিক সম্পর্ক থাকার কথা বলছেন তারা কী করে এটা বিস্মৃত হলেন হেনার গালে কামড়ের দাগ ছিল। যে স্বইচ্ছায় দেহদান করবে তাঁর শরীরে কামড়ের দাগ থাকবে কেন আর সে চীৎকার করে সবাইকে জানাবেই বা কেন?'
নাকি আপনার ধারণা ওটা চিৎকার ছিল না, ছিল শীৎকার!

মোঃ লিয়াকত হোসেন লিকু said...

আপনার জবাবের প্রথম অংশটুকু যেহেতু আইন বিষয়ক তাই সেটুকু আইনপ্রণেতাদের হাতে ছেড়ে দিলাম।

আপনার দ্বিতীয় অংশে আপনি লিখেছেনঃ "ঠিক ওই সময়টাতে ওখানে উপস্থিত আপনার মত একজনকে পেয়ে যাব এটা ভাবিনি! ওয়াল্লা, কী ভাগ্য!" এই অংশের জন্য মাত্র এই দুটো লিংক। কালের কন্ঠ থেকেঃ একঃ http://img820.imageshack.us/img820/8418/03febkk2011h.jpg দুইঃ http://img717.imageshack.us/img717/9246/03febkk2011i.jpg

পরবর্তী অংশের নাম বিকৃতির ক্ষেত্রে এটা যে টাইপিং এরর ছিলো, আশা করি আপনি বুঝেন। তবুও, অনিচ্ছকৃত ভুলের জন্য আমি সরি।

অবশ্য পত্রিকার রিপোর্ট অস্বীকার করে আপনি নিজেকেই হয়তো অর্বাচীন প্রমান করতে চাইতে পারেন।


শেষাংশে আপনি লিখেছেনঃ "তাঁর শরীরে কামড়ের দাগ থাকবে কেন"। দেখুন কী মিথ্যাচার আপনি করছেনঃ http://bdnews24.com/bangla/details.php?id=149602&cid=2

বিডি নিউজের এই রিপোর্টটি পড়লে বোঝা যায় যে, দাগগুলো মুলত বিচারক কর্তৃক শাস্তির আঘাতের দাগ। অথচ আপনি কি নির্মম মিথ্যাচার করেছেন উপরের কমেন্টে।

সর্বোপরি, আমি কখনোই মাহাবুবের পক্ষে নই। কিন্তু এক্সট্রা ম্যারিটাল সেক্স-এর জন্য হেনাও কম দায়ী নয় আমি শুধু এটাই বুঝাতে চেয়েছিলাম। বিস্তারিতের জন্য আরও দেখুনঃ http://www.sonarbangladesh.com/blog/banglarnobab/25997

।আলী মাহমেদ। said...

"দেখুন কী মিথ্যাচার আপনি করছেন...।"
তাই বুঝি! বিপদে পড়লে মিথ্যা হয়তো বলি কিন্তু জেনেশুনে মিথ্যাচার করি না।

"বিডি নিউজের এই রিপোর্টটি পড়লে বোঝা যায় যে, দাগগুলো মুলত বিচারক কর্তৃক শাস্তির আঘাতের দাগ। অথচ আপনি কি নির্মম মিথ্যাচার করেছেন উপরের কমেন্টে...।"
হুম, বিডিনিউজ থেকে বলছেন? আচ্ছা, বিডিনিউজই সই। কেবল একটা রিপোর্ট পড়ে বসে থাকলে হবে না তো! এই রিপোর্টটাও মনোযোগ দিয়ে পড়ুন:
http://bdnews24.com/bangla/details.php?cid=2&id=148781&hb=top

কালের কন্ঠের সংবাদ নিয়ে আপনার সঙ্গে বিতর্কে যাই না কারণ মিডিয়ার কুকীর্তি নিয়ে বিশদ আমি আমার লেখায় লিখেছি।

আপনার দেখছি মনোযোগের বড়ো অভাব! দুঃখজনক! গুড বাই @মোঃ লিয়াকত হোসেন লিকু

Facebook Share