Search

Loading...

Wednesday, October 7, 2009

মুক্তিযুদ্ধের আবেগও একটি বিক্রয়যোগ্য পণ্য!

সব পণ্য বিক্রির জন্য। মুক্তিযুদ্ধের আবেগ নিয়েও ব্যবসা হবে এতে দোষ কী! মুক্তিযোদ্ধাদের চিঠি কোন ছার, পারলে শরীর খুবলে কিডনি, লিভারও জমিয়ে রেখে বেচে দেবে। কর্পোরেট সাহেবদের পশ্চাদদেশ তুলতুলে কিনা, এরা আবার যে-কোন জায়গায় পশ্চাদদেশ স্থাপন করতে পারেন না!
সময়ের কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে। আগামিতে হয়তো
এঁদের খুঁজে খুজেঁ নিয়ে এসে তারকা হোটেলগুলোতে নিয়ে আসা হবে। বৈদেশিক সাহেবদের সম্মুখে কাঠের ডামি বন্দুক ধরিয়ে বলা হবে, এইটা নিয়া একটু লম্ফ-ঝম্ফ কইরা দেখান তো দেখি। মুক্তিযুদ্ধের একটা আবহ সৃষ্টি করা আর কী!
কোথাকার কোন লালু, কে গাজিউল হক, এঁদের সম্মান দেখাবার অবকাশ কোথায়? এখানে যে ব্যবসার গন্ধ নাই!

এ বড়ো বিচিত্র দেশ! এখানে কাজগুলো ততোধিক বিচিত্র! আমরা দুধ বিক্রি করে শুটকি খাওয়া জাতি! নেশা করি কফের সিরাপ দিয়ে, টিকটিকির লেজ দিয়ে, পাউরুটি ডেটল দিয়ে ভিজিয়ে। কলা খেতে দিলে খোসা রেখে বাকিটা ফেলে দেবে। দাঁড়াতে বললেন তো হাঁটা ধরল- সংযমের ডাক পড়ল; ব্যস, অসংযম কাহাকে বলে কত প্রকার ও কি কি টিকাসহ বুঝিয়ে দেবে।

যায় যদি যাক প্রাণ তবু্‌ও গাইবো মুক্তিযুদ্ধের গান। দেশ রসাতলে যাক, তাতে কী! মুক্তিযুদ্ধের আবেগ নিয়ে কটাক্ষ করা আমার এই পোস্টের উদ্দেশ্য না, কসম। আমার স্পষ্ট বক্তব্য, কেবল বিশেষ কিছু দিনে কপোল-কপাল ভিজে যায় কেন? এই আবেগটা অন্য সময় থাকে কোথায়? সারা বছর বীরশ্রেষ্ঠর সমাধিতে গু-মুতের কাঁথা শুকাতে কোন সমস্যা নাই কেবল ১৬ ডিসেম্বর গিয়ে তোপ দাগব। ব্যস, আবেগের বেগে বাঁচা দায়!

বিচিত্র সব কথা শুনে হাসি চাপা দায় হয়ে পড়ে। “একজন মুক্তিযোদ্ধা নাকি কখনও অন্যায় করতে পারেন না”। বটে, এঁরা আসমান থেকে নেমে এসেছেন। কাদির সিদ্দিকী স্যার তো টাঙ্গাইলের সব সাফ করে দিলেন। তাহেরের মত অসাধারণ মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসির নামে যার আমলে খুন করা হয়েছিল- তিনিও তো অনেক বড় মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলেই জানি।
দেশের নির্বাচিত সরকারপ্রধানকে সপরিবারে মেরে ফেলা হয়, সরকারের কাস্টডিতে জাতীয় নেতাদের ফট করে গুলি মেরে ফেলা হলো, এর বিচার এখনও হয়নি। কেন, আল্লা জানেন; কবে হবে, মাবুদ জানেন!
আমার সাফ কথা, আমি সমস্ত অন্যায় মৃত্যুর বিচার চাই, রাহেলার, এমনকি ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় ক্রসফায়ারে টুন্ডা ইসমাইলের মৃত্যুরও। তারা কী মুক্তিযোদ্ধা না অমুক্তিযোদ্ধা তাতে আমার বিশেষ আগ্রহ নাই।

আমার মত শস্তা কলমবাজ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কলমবাজি করে বাহবা কুড়াবে। মুক্তিযুদ্ধের পোস্টে কারা কারা মন্তব্য করেনি এটা নিয়ে গবেষণা শুরু হবে। এবং পরিশেষে যারা মন্তব্য করেনি এরা যে অল্প-বয়স্ক রাজাকার এতে কোন সন্দেহই থাকবে না।
আফসোস, এদের কে বোঝাবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ব্যতীত ইচ্ছা হলেই কাউকে দুম করে রাজাকার বলা যায় না, প্রচলিত আইনে এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ!
রাজাকার-পোনার সঙ্গে কারা কারা ছানা না-খেয়ে খিচুরি খেয়েছে এ নিয়ে দস্তুরমত রিসার্চ শুরু হবে। ছ-মাস লাগিয়ে সেই রিসার্চ পেপার সাবমিট করা হবে। আজিব, দাড়ি-টুপি থাকলেই রাজাকার হয়ে যাবে! কালে কালে দেখব, ট্রেনে উঠার পূর্বে যাত্রীদের লিস্টে রাজাকার বা রাজাকার ভাবাপন্ন কেউ আছে কিনা এটা চেক করে উঠতে হবে। ইনশাল্লা, দেশটা নব্য মুক্তিযোদ্ধায় ভরাট হয়ে যাবে! কে জানে এরা হয়তো একদা রবীন্দ্রসঙ্গীতও রচনা করবেন!

একজন আহমদ ছফার লাশকে প্রশ্ন করবে, আপুনি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করছুইন? এইসব নির্বোধদের কে বোঝাবে কেবল ঠা ঠা করেই যুদ্ধ হয় না; একেকজনের যুদ্ধ করার ভঙ্গি একেকরকম। ছফার মত মানুষরা যুদ্ধ করেন কলম দিয়ে, নাইবউদ্দিন আহমদের মত মানুষরা ক্যামেরা দিয়ে। সিরাজুর রহমানের
মত মানুষটা যুদ্ধ করেছেন চিঠি চালাচালি করে। যুদ্ধে সুইপারদের অবদান বলার মত সময় কোথায় আমাদের?
মুক্তিযুদ্ধ বললেই ঘুরেফিরে চলে আসে কোন এক বিশেষ দলের কথা- কোন বিশেষ একজন মানুষের কথা। এই ভাঙ্গা রেকর্ডের গান ৭১-এর পর থেকে অনবরত বেজে আসছে। মৃত্যুর আগ-অবধি এ থেকে আমাদের মুক্তি নাই। আজ আর মাওলানা ভাসানীর কথা বলতে আমাদের মনে থাকে না। বেচারাকে যাই খানিকটা সম্মান দেয়া হয়েছে, সম্মানটুকুও ফেরত নিয়ে নিতে হবে। নভোথিয়েটারের নাম না-পাল্টালে চলবে কেন!

মুক্তিযুদ্ধে পাইপ হাতে নেতা কেন ধরা দেন জানি না, বেশ, কুতর্কে যাই না; অকারণে নিশ্চয়ই না! কিন্তু মশিহুর রহমানের মত নেতার কথা আমাদের জানার প্রয়োজন নাই। তাঁকে দেশপ্রেমিক বলব নাতো কাকে বলব? তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, নেতা কাকে বলে, কেমন করে নেতা হতে হয়। দেশের জন্য মৃত্যুর চোখে চোখ রেখে কেমন করে মৃত্যুকে বোকা বানাতে হয়!

অজস্র প্রমাণ থাকার পরও একজন গোলাম আজমকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায় না আর কোথাকার অখ্যাত বুড়া রাজাকারদের নিয়ে হইচই। পাকিদের সঙ্গে ঘসাঘসি করতে সমস্যা নাই!
একজন বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধাকে প্রকাশ্যে লাথি মারল যে যুবকটি তাকে আজ পর্যন্ত ধরা সম্ভব হয়নি। লাগানো হবে বিষবৃক্ষ আশায় থাকি ফল ধরবে আপেল!
শ্লা, এরপরও আমরা দাবি করি আমাদের বিচি আছে! দূর-দূর, কবে এইগুলো মাথায় উঠে গেছে!

একজন মুক্তিযোদ্ধা-আগুনপুরুষকে আমরা কোন পর্যায়ে নিয়ে গেছি, তাকে ভিক্ষুক না-বানিয়ে আমাদের শান্তি নাই! একজন দুর্ধর্ষ কমান্ডো ঠেলা না-চালালে আমাদের চোখের আরাম হয় না। এতে আমাদের কোন লাজ নাই । ঠিক আছে, বেচারা ঠেলা চালাক, অন্যায় কিছু তো আর করছে না। কিন্তু এই মানুষটাকে ন্যূনতম সম্মানটুকু কেন দেয়া হবে না। কোন 'লেতিপেতি' মানুষ, গাছ থেকে পড়ে হাত ভাঙ্গল, তিনি নাকি বাহুত বাড়া মুক্তিযোদ্ধা!

বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে একজনও সিভিলিয়ান নাই কেন? এ দেশে মুক্তিযুদ্ধ মানেই সুবিধাবাদী গুটিকয়েক মানুষ কুমিরের ছানার মত- একবার একে একবার ওকে। বিশেষ বিশেষ দিনে কুমিরের অশ্রুতে কেবল নদির জল বাড়ে!
ফাদার মারিনো রিগন -এর কথাটাই যথার্থ, আমরা যারা বেঁচে আমি তারা মুক্তিযুদ্ধের সুবিধাভোগী।
১৬ ডিসেম্বরে মুক্তিযোদ্ধা সুরুয মিয়া আত্মহত্যা করেন। কেন আবার, রঙ্গে! কোথায় ভাগিরথী, কোথায় রীনা, কোথায় প্রিনছা খেঁ? দুলা মিয়ার খোঁজে আমাদের কাজ কী! উক্য চিং-এর মত সেরা সন্তানদের হাতে একশ টাকার প্রাইজবন্ড ধরিয়ে তৃপ্তির শ্বাস ফেলি, খুব একটা কাজের কাজ হলো, যা হোক। কেবল লম্বা-লম্বা বাতচিত! আটকেপড়া পাকিস্তানি (!) শিশুদের ন্যূনতম অধিকার দেয়ার বেলায় গলাবাজি করে গলা ভেঙ্গে যায়। দেশের প্রধান নেতার যুদ্ধশিশুদের সম্বন্ধে মন্তব্য ছিল, "এইসব দুষিত রক্ত আমি দেশে রাখব না", তখন মাদার তেরেসা এইসব শিশুদের পরম মমতায় বুকে তুলে নেন।

আমি একটা ওয়েব-সাইটে দীর্ঘ সময় লেখালেখি করেছি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রচুর পোস্ট দিয়েছিলাম। ওখানে একজনের মন্তব্য আমাকে অনেকখানি চমকে দিয়েছিল। তার মন্তব্যে শ্লেষ ঝরে পড়ছিল! মন্তব্যটা ছিল এমন:
"আপনাকে দেখি
অতি বিখ্যাত ওমুক ওমুককে (ভাঙ্গা রেকর্ড) নিয়ে লেখতে কখনও দেখলাম না"?
আমি রাগ চেপে লিখেছিলাম, "এইসব বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে লেখার জন্য বিখ্যাত লোকের তো অভাব নাই। আমার মত ৩ টাকা দামের কলমবাজ না-হয় অখ্যাতদের নিয়েই লিখলাম। এটাই আমার ভঙ্গি..."।

*ছবিস্বত্ব: সংরক্ষিত।

3 comments:

শহীদুল ইসলাম মুকুল said...

কেমন আছেন? ঘুরে গেলাম আপনার বাড়ী।
লেখা যধারীতি ভালো লাগলো।

।আলী মাহমেদ। said...

খোশ আমদেদ, আমার বাড়িতে।
আমার লেখা ভাল লাগে এটা জেনে মনটা অন্য রকম হয়।
...
অফ-টপিক:
আপনি তো আমার ভার্চুয়াল বাড়িতে এলেন। আমি আপনার সত্যি-সত্যি বাড়িতে যেতে চেয়েছিলাম।
একদিন মনটা ভারী বিষণ্ন। নোয়াখালী কখনও যাওয়া হয়নি। দুম করে উপকূলে এক্সপ্রেসে উঠে পড়লাম। আপনার কন্ট্যাক নাম্বার ছিল না, ওখানে কাউকে তো চিনি না। মাইজদী স্টেশনে চা খেয়ে ফিরতি উপকূলে ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়ন। কেউ জিজ্ঞেস করলে অন্তত এটা বলা যাবে নোয়াখালী গেছি। হা হা হা।

শহীদুল ইসলাম মুকুল said...

আপনি নোয়াখালী এসে চলে ও গেছেন, বিষয়টি ভাবতে খারাপ লাগচে।

পরের বার যেন ভুল না হয়। আমার ইমেইল: mukulbd [at] gmail.com

প্রয়োজন হলেই মেইল দিবেন। আপনার মেইল ঠিকানা পেলে আমার নাম্বার পাঠিয়ে দিবো। ভালো থাকবেন। শুভেচ্ছা।