Search

Friday, July 2, 2021

অন্য ভুবনে ভাল থেকো হে, 'বুড়ো শেরপা'!

আমার কয়েক হাজার লেখালেখির মধ্যে ডাক্তারের কালো-কালো হাত নিয়ে যে-সমস্ত লেখা লিখেছি তার সংখ্যা জিরো পয়েন্ট ব্লা-ব্লা হবে কি না সন্দেহ। অন্য পেশার লোকজনকে নিয়ে লেখলে সমস্যা নাই কিন্তু ডাক্তারকে লিখলে ডাক্তার স্যাররা ভারী 'নাগ' করেন। নাক দিয়ে ধোঁয়া বের হয়। পারলে সাদা-সাদা দাঁত দিয়ে চিবিয়ে ফেলেন। বড় চিত্র-বিচিত্র! এমনিতে আমার খুব ভাল বন্ধুদের অনেকেই আবার ডাক্তার। 

যাই হোক, এ সত্য এঁরা ভারী মমতায় আমাকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। ভিডিও-ক্লিপের এই মানুষটার হৃদয়সংক্রান্ত জটিলতা। সহৃদয় ডাক্তার এই মানুষটার ওষুধ লিখে দিলেন কিন্তু ওষুধগুলো মানুষটাকে দেয়াটা হয়ে উঠছিল না কারণ তিনি যখন আসেন তখন আমি থাকি না আবার আমি যখন থাকি তিনি আসতে পারেন না। দেরি হয়ে যাচ্ছে বিধায় অবশেষে আমি এখানে রেখে দিলাম। এখানে যে ছেলেটা থাকে তাকে দায়িত্ব দিলাম ওষুধগুলো মানুষটা এলে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য।

সে ঠিকঠিক দায়িত্ব পালন করল। পরে এও জানাল ওই মানুষটা প্রকাশভঙ্গির তীব্রতা নিয়ে। এই জায়গাটা ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। জানি না কেন আগ্রহ হল, খুব। ভিডিও ক্লিপটা দেখলাম। ঝিম মেরে রইলাম। মাথায় সব জট পাকিয়ে যায়। আহারে-আহারে, এমন একটা দৃশ্য না-দেখে মরে যাওয়াটা কোন কাজের কাজ না! কারণ এটায় কোন খাদ নেই। 'নির্মেদ'! এই মানুষটার এক রত্মি ভান নেই কারণ তাঁর জানার কারণ নেই যে এখানে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা চালু আছে এবং রিপ্লে করে এটা দেখাও সম্ভব।

ওষুধ চলল দিনের-পর-দিন। ডাক্তার সাহেবকে আমি ক্ষণে ক্ষণে বিরক্ত করি। কিন্তু তিনি বিরক্ত হন না। প্রয়োজনে ওষুধ বদলে দেন। এটা-সেটা উপদেশ দেন। ভরসা দেন।

মানুষটা অন্য ভুবনে যাত্রা করেছেন- মারা গেছেন। তিনি মারা যাওয়ার পূর্বে ডাক্তার সাহেবের ভালবাসায় জড়াজড়ি হয়ে মারা গেছেন এটা অন্তত জেনে গেছেন...।


Sunday, April 25, 2021

আহারে জীবন...!

লেখক: Shawkat Ali
"আমাদের সৌরজগতের মত অনেকগুলো সৌর জগৎ মিলে একটি গ্যালাক্সি তৈরি হয়। প্রতিটা সৌরজগতেই আছে নক্ষত্র। যাকে আবর্তন করে ঘুরছে পৃথিবীর মতো অসংখ্য গ্রহ। যদি আমাদের গ্যালাক্সি অর্থাৎ মিল্কিওয়ের কথাই বলি, এই মিল্কিওয়ের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের দূরত্ব ২ লক্ষ আলোকবর্ষ! মানে, আলোর বেগে গেলেও দুই লক্ষ বছর লাগবে শুধু মিল্কিওয়ের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে! আমাদের গ্যালাক্সিসহ ৫৫ টি গ্যালাক্সি একত্র হয়ে তৈরি করে লোকাল গ্রুপ।
এই লোকাল গ্রুপের বিস্তৃতি ১ কোটি আলোকবর্ষ! আবার ১০০+ লোকাল গ্রুপ মিলে তৈরি হয় বিশালাকৃতির মহাজাগতিক গ্যালাক্সি-গুচ্ছ যার নাম ভার্গো সুপারক্লাস্টার। এর ব্যাস প্রায় ১১ কোটি আলোকবর্ষ! এরকম আরো ২০-৩০ টি সুপারক্লাস্টার একত্র হয়ে তৈরি করে গ্রেইট লানিয়াকেয়া সুপারক্লাস্টার নামক একটি বৃহৎ গ্যালাক্সি-গুচ্ছ। যেখানে আছে আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির মত ১ লক্ষ+ গ্যালাক্সি!
 
এই লানিয়াকেয়ার ব্যাস প্রায় ৫২ কোটি আলোকবর্ষ! এই গ্রেইট লানিয়াকেয়া নামক গ্যালাক্সি-গুচ্ছ পুরো মহাবিশ্বের তুলনায় খুবই সামান্য এবং ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র! এখন পর্যন্ত আবিস্কার হওয়া সুপারক্লাস্টারের মধ্যে সর্ববৃহৎ হল হারকিউলিস-করোনা বরিয়ালিস গ্রেইট ওয়াল! এটি আবিস্কৃত হয় ২০১৪ সালে। এটা এতটাই বড় যে, এটিকে ঘুরে আসতে সময় লাগবে ১ হাজার কোটি আলোকবর্ষ (১০ বিলিয়ন আলোকবর্ষ)! অথচ আমাদের মহাবিশ্বের বয়সই ১৩.৮ বিলিয়ন আলোকবর্ষ!
হ্যাঁ, বিলিয়ন-বিলিয়ন বছর পূর্বে তাদের নিঃসৃত আলো আমরা এখন রাতের আকাশে দেখছি, এই এতদিন পরে। আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র আলফা সেন্টরির (Alpha Centauri) থেকে আলো এই পৃথিবীতে আসতে সময় লাগে ৪.৩৭ বছর! অর্থাৎ এ নক্ষত্রের আলো যদি কখনও নিভে যায় সেটা আমরা পৃথিবীতে বসে জানতে পারব ৪.৩৭ বছর পর! যেহেতু কোন সংকেতই আলোর চেয়ে দ্রুত গতিতে ভ্রমণ করতে পারে না, ধরে নিলাম এই মুহূর্তে মহাবিশ্বের সীমানা আমার অবস্থান থেকে ক কিলোমিটার দূরে।
আমি 'ক' কিলোমিটার পাড়ি দিলেই মহাবিশ্বের প্রান্তে পৌঁছে যাব। ধরে নিলাম আমি ১ সেকেন্ডেই এই দূরত্ব পাড়ি দিতে পারি। আমি আমার মহাকাশযানে চড়ে শেষ ১ সেকেন্ডে 'ক' কিলোমিটার গেলাম। কিন্তু মহাবিশ্বের প্রান্ত দেখছি আরো দূরে! কারণ মহাবিশ্ব বাড়ছেই। আমি যেই ১ সেকেন্ডে প্রান্তে পৌঁছাব ততক্ষণে মহাবিশ্ব আরো বিশাল হয়ে যাবে। এটাই অসীম। যার কোন সীমানা বা প্রান্ত নেই কিংবা সেই সীমানা পরিমাপ করতে পারি না। এটা আমাদের কল্পনাতীত। মানুষ যদি অমরও হয়ে যায় তারপরও সে এ মহাবিশ্বকে জয় করতে পারবে না। এতক্ষণ যা আলোচনা হল, সেগুলো বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছে। কিন্তু মহাবিশ্বের বিস্তৃতি আরো বিশাল, যা কিনা বিজ্ঞান এখনো পর্যবেক্ষণই করতে পারেনি। যাকে বলা হয় মহাবিশ্বের অপর্যবেক্ষণযোগ্য (Unobservable Universe) অংশ।
 
মূলত বিগ ব্যাং প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে হওয়ায় এর চেয়ে বেশি দূরত্বের কোন কিছু থেকে আলো এখনো আমাদের কাছে এসে পৌঁছোয় নি। ফলে সে অংশগুলো সম্মন্ধে আমরা ধারণা করতে পারছি না। আমাদের মূল মহাবিশ্বের আকার আমাদের পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের চেয়ে প্রায় ২৫০ গুণ বড়! নাসা জানিয়েছে আমরা মহাবিশ্বের কেবল মাত্র ৫% জানি। বাকি ৯৫% আমরা জানতে পারি না! তবে মহাবিশ্বের একটা সীমানা অবশ্যই রয়েছে । সীমানার শেষ বিন্দুতে কি আছে সেটা আমাদের জানা নেই। অনেক বিজ্ঞানী দাবি করেন সেটা আমাদের কল্পনাতীত, সেখানেই রয়েছেন 'গড'।
এ মহাবিশ্বে পৃথিবী নামক গ্রহের আকার একটি পরমাণুর চেয়েও ক্ষুদ্র। এ গ্রহে বসেই আমি খুঁজে বেড়াই ঈশ্বরের ঠিকানা! কোয়ান্টাম বলবিদ্যার অন্যতম উদ্ভাবক ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ বলেন:
“প্রকৃতিকে একটি গ্লাস ধরলে, এর উপরের অংশ আপনাকে নাস্তিক করে তুলবে। তবে নিচের অংশে প্রবেশ করলে দেখবেন, স্রষ্টা আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন।”
পৃথিবী নামক এ ক্ষুদ্র গ্রহে একটি মানব শিশুর জন্মে কিবা আসে যায়। তারপরও মানুষ এ গ্রহের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণি। সময় নামক এক ট্রেনে করে আমরা প্রতিনিয়ত ছুটে চলেছি। পিছনে পড়ে থাকছে পরিচিত প্রিয় মুখগুলি। যাদের হাত ধরে এক সময় আমি হাঁটতে শিখেছি। আমার প্রিয় বাড়ি, যে অনেক বছর আমাকে জড়িয়ে রেখেছিল মায়ার জালে। এক সময় কখন যেন এ ভালোবাসার জাল ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর আশেপাশের শৈশবের ছেলেমানুষি স্মৃতিগুলি এখনও হাতছানি দিয়ে ডাকে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ বুড়ো বাড়িটা হয়ও আজও আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে...!"