Search

Showing posts with label বাজ-অফ. Show all posts
Showing posts with label বাজ-অফ. Show all posts

Tuesday, June 16, 2026

রাজনীতি এবং...: সেকাল-একাল!

একাল: ভয়ংকর অস্ত্র বলা যাবে না তবে বোমা-অস্ত্র বানাবার বই ধরা পড়েছে—হাসিনা, কাদেরকে নিয়ে লেখা বই! আস্ত ২ জন ম্যাজিস্ট্রেট লেগেছে বমাল ধরতে!

সেকাল: ওই বইগুলোর নাম ছিল জঙ্গি-বই! বইগুলো সামনে রেখে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের ছবি তোলা হতো!

হাসিনার শাসনামলে কত নিরীহ মানুষ উধাও হয়ে গেছেন কিন্তু আর ফিরে আসেনি! যেমনটা আর ফিরে আসেনি, মাসুদ!
গুম-ঘর নামের নরকে সময় থেমে যায়! মাসুদ সময়ের হিসাব রাখার চেষ্টা করেছেন পাথরের দেয়ালে আঁক কষে! আহারে সময়!

একাল:
আমাদের মন্ত্রী মহোদয় টুকুকে কেউ হয়তো বলেছিলেন, লোডশেডিং-এ কষ্ট হচ্ছে; ব্যস, আর যায় কোথায়! এমন একটা জোকস—হালিতে কয়টা মেলে! তিনি হাসতে হাসতে শ্যাষ! তিনি হাসি আটকে বললেন, 
(প্রশ্নকর্তার উদ্দেশ্যে) উনি বললেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মানুষ মারা গেছে। আবার  উনি বললেন, লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ থাকে বলেই তো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়! তাহলে লোডশেডিং হয় কেমন করে...! 
এমন-একটা মজার কথা শুনে পাশের সাংসদও হাসি চাপেন! দম আটকে-থাকা গরমে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া যে কী মজার এটা এই সব 'বড় লুক্স' ব্যতীত আর কে জানবে!

সেকাল:
সেকালে শেখ হাসিনাকেও বিদ্যুতের কষ্ট নিয়ে কেউ বলে বসলে তিনি ভয়ংকর হয়ে চিবিয়ে-চিবিয়ে বলতেন:
১৭ কোটি মানুষের বিদ্যুৎ আওয়ামীলীগ দিয়েছে। বন্ধ করে দেই?
সকালে টিস্যু-পেপার ব্যবহার থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দাঁত ব্রাশের পেস্টে, ট্যাক্স-ভ্যাট দেই আমরা, শেখ হাসিনা-মন্ত্রী টুকুর বেতন দেই আমরা; আর হাসিনার  কথা শুনে মনে হতো, শেখ হাসিনারা তাদের তালুক বিক্রি করে-করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেন!

একাল:
আমাদের আরেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মহোদয় জানাচ্ছেন,
এখানে তারেক জিয়া আসার পূর্বে অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছিল কিন্তু তিনি আসামাত্রই বৃষ্টি থেমে গেছে...! 

এটুকু বলে বৃষ্টির মত তিনিও থেমে গেলে ভাল ছিল কিন্তু এই কথার পর তিনি যোগ করলেন, এটাই হচ্ছে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার সন্তান আল্লাহর রহমত!

সেকাল: আমাদের এক 'জিন্দা অলি' ছিলেন! কথায়-কথায় ধর্ম কপচাতেন:

হোমো এরশাদ! কমবেশি সবাই পাজি হয় কিন্তু এই লোক 'পাজিমির' কোন সেক্টর ছাড়েননি[],[],[],[],[],[][],[],[],[১০],[১১! খুন-হত্যা-কারাবাস, নারী কেলেংকারী মায় সাহিত্য-কবিতায়ও! একবার বললেন,

কোন রাষ্ট্রপ্রধানের প্রার্থনায় বৃষ্টি এসেছে, আমি এরশাদের প্রার্থনায় বৃষ্টি নেমেছে।


একাল:

একালের ছাত্রনেতা দৌড়ে উসাইন বোল্টকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান!

সেকাল:
সেকালেও দৌড় হত তবে একটু ভিন্নরূপে—শিল্পীরা দৌড়াতেন গানের তালে-তালে!

একাল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক 'গান-ঘান' শোনান, শোনাবেনই—ছাড়াছাড়ি নাই!


সেকাল: সেকালে একজন মাহফুজুর রহমান নামের গাতক ছিলেন। তিনিও 'গান-ঘান' গেয়ে বেড়াতেন:


একাল
একালের লোকজনেরা কেমন 'চামুচ' তার একটা নমুনা। এই কোবির নাম জানতেও আমার ভারী আলস্য:

সেকাল: গোলাম সরওয়ার। তাঁর মত একজন মানুষ! তিনিও! চামুচ না, হাতা হয়ে যান। বেচারা, মৃত্যুর পূর্বে হাসিনার গলায় নোবেলটা দেখে যেতে পারলেন না!
আহারে বেচারা, হাসিনার গলায় নোবেল দেখে যেতে পারলেন না এরচেয়ে বেদনার হচ্ছে, অজান্তেই নিজের গলায় 'ইয়ের বেল্ট' পরে ফেললেন এটাও জানতে পারলেন না!

একাল: সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন):

সেকাল:

একাল:
আতাউর রহমান, নড়াইল:২ আসনের সংসদ সদস্য ত্রাণের টাকায় দুই জায়গায় নিজের মেয়ের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন!
এর আবার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন:
"মেয়ের নাম ঢুকিয়েছি এ সত্য কিন্তু টাকা খরচ হবে ভিন্ন খাতে।"
সেকাল: ­"ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রানীখার 'আল-আমীন গাউছিয়া এতিমখানায়' এতিম না থাকলেও নিয়মিত সরকারি টাকা তুলে নেয়া হচ্ছে। এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ একেএম এমদাদুল বারী এবং সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে নিয়মিত এই টাকা তোলা হচ্ছে ব্যাংক থেকে।...।" দৈনিক মানবকন্ঠ, ১১.১০.১২
লাল বক্স নির্দেশিত যে মানুষটি তিনিই সৈয়দ ভংশের লোক! জনাব, সৈয়দ একেএম এমদাদুল বারী। 

একাল:
ইউনূস সরকারের সময়কার ধর্ম-উপদেষ্টা খালিদ হোসেন চিকিৎসা খাতে ব্যয় করেছেন প্রায় কোটি টাকা, ৮২ লক্ষ!

সেকাল: মানুষ যেমন ছাগল বেঁধে রাখে তেমনই এরশাদ হেলিকপ্টার বেঁধে রাখতেন।
আটরশীর পীরের কাছে গেছেন দলবল নিয়ে, ১০০ বার!

একাল:
আবারও বিদুৎ। স্রেফ অপদার্থের মত উত্তর:

সেকাল:

* এই লেখা অসমাপ্ত। সময়ে-সময়ে এখানে লেখা যুক্ত হবে!

সূত্র:

১. শিশু হত্যাকারী, এরশাদ: https://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_16.html
২.  মদ্যপ এরশাদ: https://www.ali-mahmed.com/2016/05/blog-post_27.html
৩. অন্ধকার থেকে এরশাদ: https://www.ali-mahmed.com/2011/06/blog-post_4419.html
৪. নকল-বাপ এরশাদ: https://www.ali-mahmed.com/2014/02/blog-post_6.html
৫. শাসক এরশাদ: https://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_3701.html
৬. 'কোবি' এরশাদ: https://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_09.html
৭. জিয়া-মন্জুর-এরশাদ: https://www.ali-mahmed.com/2013/05/blog-post_23.html
৮. প্রেস এডভাইজ, এরশাদ: https://www.ali-mahmed.com/2011/07/blog-post_17.html
৯. ফ্রিডম অভ স্পিচ, এরশাদ: https://www.ali-mahmed.com/2019/07/blog-post_15.html
১০. পাকিস্তানে এরশাদ: https://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_03.html


 




Thursday, March 26, 2026

ইরান—ইসরাইল—ফিলিস্তিন এবং 'বাঞ্চো...ট্রাম্প-নেতানিয়াহু'!

'[*]বাঞ্চো...ট্রাম্প' যে কী পরিমাণ চুতিয়া এর ভাল একটা উদাহরণ এটা:

Friday, September 20, 2019

হায় প্রক্টর-হায় ভিসি!

সূত্র: প্রথম আলো
বিশ্বের ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আমাদের কোনও প্রতিষ্ঠান নাই বলে অনেকে ওয়াশরুমে চোখের জল ফেলেন, সেই জল মেশে নর্দমার জলে। সেই জল আর মল মিলেমিশে একাকার। এক হাজার কেন এই রকম লোকজন বিশ্ববিদ্যালয় চালাবার দায়িত্বে থাকলে এক লাখ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও আমাদের কোনও প্রতিষ্ঠান থাকবে না্। আই বেট...।

Monday, March 2, 2015

অভিজিৎ—Rokomari.com—ফারাবী গং ...।

শোনেন, ফারাবি গং, ভুলেও কিন্তু আমার মত দুর্বল মানুষকে মৃত্যুর ভয় দেখাবেন না। কেউ থুত্থুড়ে বুড়া হয়ে গু-মুতে মাখামাখি হয়ে মারা যায়, কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে, কেউবা আপনাদের মত কাপুরুষদের হাতে। আমার মত কাউকে-কাউকে মেরে ফেলা যায় এ সত্য কিন্তু তার আদর্শ, তাঁর ভাবনাকে মেরে ফেলা যায় না।
সেই ভাবনার রেশ ধরে আমার গলিত শব থেকে জন্ম নেবে, নেবেই অন্য একজন। সেই মানুষটা হাতে থাকবে জ্ঞানের এমন এক তরবারি যেটা দিয়ে সে ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে সমস্ত অন্ধকার এবং যথারীতি আপনাদের মত, পেছন থেকে চাপাতির কোপ-দেয়া, গুয়ে-ভাসা পোকার মত কাপুরুষদেরকেও...।
সম্ভবত ৫/৭ বছর পূর্বে সাদিক আলম অভিজিৎ রায়ের ‘আলোর পথে চলিয়াছে অন্ধকারের যাত্রী’ বইটা আমাকে দিয়েছিলেন। প্রচুর তথ্য-উপাত্ত নিয়ে লেখা বইটা তখন পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। আজ একটা প্রয়োজনে বইটার প্রয়োজন হলে অনেক খুঁজেও যখন পেলাম না তখন নিশ্চিত হলাম এটা কোনও মহান(!) বইচোরের কাজ!

আমার ঢাকা যাওয়া হয় কালেভদ্রে তার উপর বইমেলায় যাওয়া হয় না বেশ ক-বছর। আমার নিজের সাইটেই ‘রকমারি ডট কমের’ হাইপার লিংক ছিল কিন্তু মাথায় আসে অনেক পরে। আরে, এদের মাধ্যমেই তো বই কেনা সম্ভব। এরপর আমার জন্য বিষয়টা সহজ হয়ে গেল। আমি আমার প্রয়োজনীয় বই পাঠাতে বলে দিলেই ওরা কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়, বই বুঝে পেয়ে টাকা পরিশোধ করে দিলেই হয়। 'ওয়েটিং ফর গডো- ওয়েটিং ফর বাংলার বেকেট’ [১] যে লেখাটা লিখেছিলাম সেই লেখাটার উৎসও রকমারির মাধ্যমেই সংগ্রহ করা বই।

আজ আমি রকমারিকে ফোন করে বললাম ‘আলোর পথে চলিয়াছে অন্ধকারের যাত্রী’ এবং অভিজিৎ রায়ের আরেকটা বই পাঠিয়ে দিতে। এরা আমাকে জানালেন, অভিজিৎ রায়ের বই তাদের লিস্টে নেই এবং কোনও প্রকারেই তাঁর বইগুলো পাঠানো সম্ভব না। কয়েক দফা কথা বলেও আমি এদের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর পেলাম না কেন এরা অভিজিৎ রায়ের বই সরিয়ে ফেলেছে বা পাঠানো সম্ভব না।
আমিও এটাও অনুরোধ করেছিলাম, আপনাদের সাইটের লিস্টে নাই, বেশ, আমাকে অন্তত যোগাড় করে পাঠিয়ে দেন। উত্তর নেগেটিভ!
এবার আমি দুর্দান্ত রাগ চেপে বললাম, ‘কী আশ্চর্য, আপনারা একটা ব্যাখ্যা পর্যন্ত দেবেন না! এ তো ঘোর অন্যায়! বেশ তাহলে, এই অন্যায়ের প্রতিবাদ স্বরুপ আপনাদের এখানে তালিকায় আমার যে বইগুলো দেওয়া আছে তা-ও সরিয়ে ফেলুন’।
তারা আমাকে বললেন: ‘আপনি মৌখিক ভাবে বললে তো হবে না, মেইল করে জানান’।
আমি বললাম, মৌখিক ভাবে বললে সমস্যা কোথায়! আমি নিজে আপনাদের ওখান থেকে বই কিনেছি। ওখানে আমার ফোন নাম্বার বিস্তারিত সবই দেওয়া আছে তাহলে?
তাদের উত্তর, ‘তর্ক বাড়িয়ে লাভ নাই। আপনি মেইল করুন’।

এরপর আমি তাদেরকে মেইল করলাম। মেইলের লেখাটা এখানে হুবহু তুলে দিচ্ছি। নিজের ঢোল নিজেই পেটানো হয়ে যাবে বলে কেবল আমার বইয়ের নামগুলো উহ্য রাখলাম। অন্য কোনও কারণে না কেমন একটা বিজ্ঞাপন-বিজ্ঞাপন গন্ধ চলে আসছে বিধায়। মেইলটা ছিল এমন:

“এডমিন, রকমারি ডট কম।
সুপ্রিয়,
আমি আপনাদের এখান থেকে প্রয়োজনে বই ক্রয় করে থাকি। কিন্তু আজ লেখক অভিজিৎ রায়ের বই পাঠাবার জন্য অনুরোধ করা হলে আপনাদের ওখান থেকে আমাকে জানানো হয়, এই লেখককের সমস্ত বই আপনারা আপনাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলেছেন এবং কোনও প্রকারেই অভিজিৎ রায়ের বই পাঠানো সম্ভব হবে না।
বেশ ক-বার আপনাদের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেও এর সুরাহা হয়নি এবং কেন আপনারা উক্ত লেখকের বই সরিয়ে ফেলেছেন বা বিক্রয় করতে আগ্রহী নন তারও কোনও সদুত্তর মেলেনি।
আমি যতটুকু জানি অভিজিত রায়ের বই বিক্রয় করা বাংলাদেশে আইনত নিষিদ্ধ না তাহলে কেন আপনারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এটা আমার মোটেও বোধগম্য হচ্ছে না। যদিও, আপনাদের করা উক্ত আচরণ একজন লেখকের প্রতি চরম অপমানের, অশ্রদ্ধার।
আপনাদের এই ঘৃণ্য, অন্যায় আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং আপনাদের সাইটে আমার যে বইগুলো (১. ..., ২. ..., ৩. ..., ৪. ..., ৫. ..., ৬. ..., ৭. ..., ৮. ..., ৯. ..., ১০. ..., ১১. ...) বিক্রি করার জন্য যে তালিকায় রেখেছেন তা সরিয়ে ফেলার জন্য অনুরোধ করি।
ধন্যবাদান্তে- আলী মাহমেদ”


এরা কেন বইগুলো সরিয়ে ফেলেছিলেন বা বিক্রয় করতে চাচ্ছিলেন না তা আমি বুঝতে পারছিলাম না। এফবিতে আমার বন্ধুদের সহায়তা চাওয়ার পর দেখা গেল ‘ফারাবী’ নামের একজন নাকি রকমারি ডট কমের কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিয়েছিল এরপর এরা বইগুলো সরিয়ে ফেলে বা বিক্রয় করা থেকে বিরত থাকে।
এবং এটা নিয়ে গতবছর বইমেলার সময়ও নাকি খুব হইচইও হয়েছিল, এমনকি মানববন্ধনও। কোনও বিচিত্র কারণে বিষয়টা আমারা চোখ এড়িয়ে গেছে বলে বিব্রত, লজ্জিত বোধ করছি। পাঠকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনাও করছি।

বাহ, ফারাবীর মত মানুষরা অতি শক্তিশালী তো! এতো শক্তিশালী মানুষদেরকে গুরুত্ব না-দেওয়ার তো কোনও কারণ দেখি না। একটু আগে শুনলাম, ফারাবীকে নাকি ধরা হয়েছে। এখন উপায়? অন্তত ফারাবীর ঠ্যাং দুইটা যেন শিকের বাইরে রাখা হয় যাতে করে আমার মত দুর্বল মানুষেরা গিয়ে ঠ্যাং ধরে কদমবুসি করতে পারে।
অভিজিৎ রায়ের উপর ফারাবী গং ক্ষেপে গেল কেন? তিনি কি এমন কোনও লেখা লিখেছিলেন যা আজগুবি, যার কোনও তথ্য-প্রমাণ নেই? যদি এমনটা হয়ে থাকে তাহলে সেই লেখাটা নিয়ে প্রতিবাদ করলে সমস্যা কোথায় ছিল? লেখার উত্তর কী চাপাতি দিয়ে?

(যদিও আমরা এটা এখনও জানি না অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুর জন্য কে বা কারা দায়ী। যেহেতু ফারাবী অভিজিৎ রায়কে হুমকি দিয়ে এসেছে তাই আপাতত আলোচনায় ফারাবীই চলে আসছে।
এবং এরপর চাপাতির কোপে মারা গেলেন ফয়সল আরেফিন দীপন—একে-একে বেশ কিছু ব্লগার...!)
নাকি এরা চাচ্ছে এই গ্রহের সবাই ফারাবী গংদের মত হয়ে যাবে? মোটাদাগে বলতে হয়, তাহলে তো এই গ্রহে সবই আপেল গাছ থাকত কলাগাছ থাকত না। কথাটা সম্ভবত রবিদাদার:
“I love my God because he gives me the freedom to deny him.”
বাপুরে, এই ক্ষমতাটাও তো তাঁরই দেওয়া নইলে তো এই গ্রহে অবিশ্বাসী বা অন্য ধর্মের কেউ থাকত না।!
এই তো সেদিন সবচেয়ে চালু এক দৈনিকে পড়লাম একজন ধর্মীয় শিক্ষক একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে লিখেছেন, “...তাঁর পায়খানা, প্রস্রাবেও সুগন্ধ হতো”।
এখন এই লেখা নিয়ে কি কেউ কোনও সংশয় প্রকাশ করতে পারবে না, কোনও রেফারেন্স চাইবে না? চাইলেই কী চাপাতি চলবে?

অন্য একটা লেখাও চোখে পড়েছিল। একটা রক্তাক্ত কুকুরের ছবি এবং অভিজিৎ রায়ের ছবি পাশাপাশি দিয়ে বলা হয়েছে লোকটা কুকুরের মত মরেছে। তা লোকটার কি দোষ? তারও ব্যাখ্যা করা হয়েছে ওই লেখায়। তিনি নাকি ঈশ্বরকে নিয়ে মন্দ কথা লিখেছিলেন। ওখানে উল্লেখ-করা অভিজিতের লেখার রেফারেন্সটাও পড়লাম।
তিনি যেটা লিখেছিলেন, ‘ভগ’ মানে যোনি এবং কোত্থেকে কেমন করে এটা এসেছে তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অভিজিতের নিজের কোনও মনগড়া ব্যাখ্যা না কিন্তু। তাহলে? বাংলা অভিধানেই তো আছে ‘ভগ’ মানে যোনি, গুহ্যদেশ। বাছা, অভিধানকেও কী চাপাতি দিয়ে কোপানো হবে?

আপডেট, ৪ মার্চ, ২০১৫:
রকমারি ডট কম আমার পাঠানো মেইলের উত্তর দিয়েছে। হুবহু এখানে দেওয়াটা সমীচীন মনে করছি না, কেবল মূল বক্তব্যটা বলি। তারা এটা নিশ্চিত করেছেন ভবিষ্যতে আমার কোনও বই বিক্রি করবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত-না আমার মনোভাবের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। 

ওয়েল, তারা বারবার এটা আমাকে বোঝাবার চেষ্টা করেছেন, তাদের সমস্যাটা বোঝার জন্য। আমি যে খানিকটা বুঝতে পারছি না এমন না কিন্তু আমার সমস্যাটার কি হবে? একটা মানুষের প্রতি, লেখকের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে এটা জেনেও আমি তো জম্বি হয়ে যেতে পারি না। 
এই বিষয়ে আমি আমার মনোভাব আগাম বলে রাখি। আমার মনোভাবের পরিবর্তন ঘটার কোনও কারণ নাই যতক্ষণ পর্যন্ত-না অভিজিৎ রায়ের বই বিক্রির উপর থেকে এরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন।
এই বিষয়ে আমার মনোভাব স্পষ্ট। অভিজিৎ রায়ের বই বিক্রি করার উপর আমাদের প্রচলিত আইনে কোনও প্রকার নিষেধাজ্ঞা নাই বিধায় রকমারি'র এই আচরণ ঘোর অন্যায়। আজ এরা অভিজিতের বেলায় এটা করছেন কাল কোনও উটকো লোক এসে অন্য লেখকের বই সরাতে বললে এরা আনন্দের সঙ্গে সেই কাজটাই করবেন।

মার্টিন সাহেবকে এখানে দাওয়াত করে আনলে খুব একটা দোষ হবে না বলেই মনে করি:
First they came for the Socialists, and I did not speak out—
Because I was not a Socialist.

Then they came for the Trade Unionists, and I did not speak out—
Because I was not a Trade Unionist.

Then they came for the Jews, and I did not speak out—
Because I was not a Jew.

Then they came for me—and there was no one left to speak for me.
  
-(Martin niemoller)
সহায়ক সূত্র:
১. ওয়েটিং ফর গডো...:
http://www.ali-mahmed.com/2015/01/blog-post.html

Sunday, September 7, 2014

একমেবাদ্বিতীয়ম!

আমাদের দেশে সাহিত্যের দন্ড এখন আনিসুল হক গংদের হাতে। এটা জানার জন্য আদৌ বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন পড়ে না। ফি বছর বইমেলার সময় জোট ছাড়ে দুধের দুধ পানির পানি। গোটা দেশের খাল-বিল, নদী-নালা, সাগর সবই আনিসুল হক গংদের বইয়ের বিজ্ঞাপনে ভেসে যাবে। বানের জলে ভেসে যাবেন শওকত ওসমান, রশীদ করিম, সরদার ফজলুল করিম প্রমুখ।

আনিসুল হক যে কেবল বিখ্যাত লেখক এমনই না তিনি অসম্ভব নরোম মনের মানুষও একজন, দয়ালু। পারতপক্ষে কাউকে ক্লেশ দিতে চান না, প্রকাশককেও। তাই তো তিনি নিজের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজেই দেন [১]। তার মুদ্রিত বই প্রেস থেকে মেলায় যওয়ার যো নেই- রাজপথেই লোকজনেরা কিনে ফেলে! মুদ্রণের-পর-মুদ্রণ শ্যাষ এই জটিল আঁকটাও আনিসুল হক নিজেই কষে ফেলেন যেটা আমরা তার দেওয়া বিজ্ঞাপনেই দেখতে পাই। 

সম্প্রতি প্রথম আলোর ঈদসংখ্য্যায় আনিসুল হকের দুর্ধর্ষ প্রেমের উপন্যাস পড়ার বিরল সৌভাগ্য আমার হয়েছে। পত্রিকায় চাকরি করার সুবাদে এখানে লেখা আপনাআপনি ছাপা হয়ে যায়—বেচারা লেখককে আর তকলীফ করতে হয় না! আর পাঠক বেচারার না-পড়েও উপায় থাকে না! আনিসুল হকের প্রেমের উপন্যাসটার নাম হচ্ছে, ‘বিক্ষোভের দিনগুলোতে প্রেম’।

সময়টা এরশাদের। ‘আবীর’ বুয়েটে পড়ে। ‘শানু’ নামের একটা মেয়ের সঙ্গে কঠিন পত্রমিতালি চালিয়ে যায়। এখনকার ছেলেপেলে অবশ্য পত্রমিতালি বিষয়টা খুব ভাল একটা বুঝবে না, এখন হচ্ছে এসএমএস-ফোন-ভিডিও কলের যুগ। এই শানু মেয়েটির সঙ্গে আবীরের অবশ্য হলের ল্যান্ডফোনেও কথা হয়।

শানু মেয়েটি একদিন দেখা করার জন্য আবীরের হলে চলে আসে। তাহাদের প্রথম সাক্ষাৎ। আমরা আনিসুল হকের মুখেই শুনি:
...ঈর্ষাম্বিত অনেকগুলো চোখের সামনে দিয়ে শানুকে নিয়ে আবীর অতিথিকক্ষে প্রবেশ করে। শহীদ স্মৃতি হলের অতিথিকক্ষটা ছোট।
... শানু বলে, ব্রেক ফাস্ট করেছ? 
(আবীর) না। ঘুম থেকে তো ডেকে তুলল। করিনি। 
...আবীর উঠে গেস্ট রুমের দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। শানু উঠে দাঁড়িয়েছে। আবীর তাকে আলিঙ্গনে বাঁধে। 
শানু বলে, নাও, তোমার ব্রেক ফাস্ট। খাও। 
শানু তার ঠোঁট বাড়িয়ে দেয়।...” 
প্রথম সাক্ষাতেই শানুর এহেন আচরণে অনেকে বিভ্রান্ত হবেন। আমার মত সাধারণ পাঠক বিড়বিড় করবে, ‘নিমফোম্যানিয়াক’! কিন্তু যারা আনিসুল হকের অন্যান্য অতুলনীয় সাহিত্য পাঠ করেছেন তারা গা দুলিয়ে বলবেন, এমনটা হতেই পারে, আলবত।
যেমন ‘আমারও একটি প্রেমকাহিনি আছে' পুস্তক ওরফে কিতাব ওরফে গ্রন্থে আনিসুল হকের গল্পের মেয়েটির একটি ছেলেকে দেখে প্রতিক্রিয়া এমন:
"আমার বুক কাঁপছে। পেটের ভেতরে গুড়গুড় করছে...।"
কেন মেয়েটির পেটের ভেতরে গুড়গুড় করছে এটা আমাকে জিজ্ঞেস করা অবান্তর। এটা ডাক্তার ভাল বলতে পারবেন অথবা আনিসুল হক। তাকে কি এসএমসির স্যালাইন খাওয়াতে হবে নাকি 'পাতলা ইয়ে', সে ভিন্ন আলোচনা! 

যাই হোক, আমরা ফিরে যাই ‘বিক্ষোভের দিনগুলোতে প্রেম’ নামের লেখাটায়। আবীরের সঙ্গে শানুর দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। আনিসুল হক লিখেছেন:
...শানুকে রুমে নিয়ে এল আবীর। পুরো হলে আর কেউ নেই। শুধু একটা বন্ধ কক্ষে শানু আর আবীর। 
...শানু তাকে (আবীর) জড়িয়ে ধরে বলল, আমাকে আদর করো, অ্যাবস।
...আবীর বলল, জামাটা নষ্ট হচ্ছে। খুলে রাখো। 
শানু জামা খুলল। 
আবীর বলল, তোমার তলপেটে এটা কিসের দাগ? 
(শানু) সেলাইয়ের। সিজারিয়ান বেবি হয়েছে আমার। 
...আবীর কী করবে বুঝতে পারে না। 
শানু বলে, কাম অন ডারলিং...সে (শানু) নেতৃত্ব নিজের হাতে তুলে নেয়। "
এভাবেই শানু ‘ইয়ের’, নেতৃত্ব তুলে নেয় নিজের হাতে। যেমনটা এই দেশের সাহিত্যের নেতৃত্ব তুলে নেন আনিসুল হক নিজের হাতে। অন্যের হাতে দিয়ে ভরসা পান না...! 

১. আনিসুল হক: একজন আদর্শ সাহিত্যিক: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_07.html

Saturday, May 14, 2011

বোকা মানুষের বোকা মস্তিষ্ক!

­­নতুন একটা তথ্য জেনে আমি জ্ঞানীদের কাতারে সামিল হওয়ার চেষ্টা করলুম। ছাগলের মত ফ্যা ফ্যা করে হাসলেও নাকি মস্তিষ্ক ধরতে পারে না! অবশ্য ছাগল হাসে কি না এই নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ আছে। ছাগলের হাসি ছাগল হাসুক, মানুষ কৃত্রিম হাসি হাসলেও মস্তিষ্ক ধরতে পারে না। সোজা কথা, কৃত্রিম হাসি হাসলেও মস্তিষ্কের নাকি ধরার ক্ষমতা নাই!

এই অসম্ভব কাজের তথ্যটা আমাদেরকে জানাচ্ছেন আনিসুল হক মহোদয়। এটা ওনাকে এক চিকিৎসক বলেছেন। এই 'এক চিকিৎসক', কোন চিকিৎসক এটা উনি জানেন, আমরা জানি না! শুনি ইনার জবানীতে: "আমাকে একজন চিকিৎসক বলেছেন, '...আমাদের মস্তিষ্ক নাকি ধরতে পারে না কোন হাসিটা কৃত্রিম...। শুনে আমি অট্টহাসিতে মেতে উঠি: ব্রেনের দেখা যাচ্ছে ব্রেন নেই, সে নিজেই বলে কৃত্রিমভাবে হাসো, আবার নিজেই ধরতে পারে না যে এটা কৃত্রিম। এর চেয়ে বোকা আর কে হতে পারে?'।" [১] 

আনিসুল হক মহোদয়ের ভাষ্যমতে ইনি 'একজন চিকিৎসক' না-হয়ে ত্রিকালদর্শী হলেও আমি জানতে চাইতাম, কোন ত্রিকালদর্শী? চিকিৎসক হলেই তিনি সব জেনে বসে থাকবেন এমন মাথার দিব্যি কে দিয়েছে! এমন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেও দেখেছি ওনার মাথায় প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সাবানের ফেনা! একজন একটা কথা বলে দিলেন আর আমি লেজ নাড়াতে থাকলুম, কাভি নেহি! হয়তো বলা হবে, ওই চিকিৎসক মহোদয়ের কাছে এই তথ্য আছে, এই নিয়ে কোথাও-না-কোথাও জরীপ করা হয়েছিল। এই গ্রহে কতশত জরীপ হয়, সব গুরুত্ব দিতে হবে কেন!

মুহম্মদ জাফর ইকবালের 'আমেরিকা' বইয়ে এমনই এক জরীপের কথা উল্লেখ আছে, "...শতকরা পঁয়তাল্লিশ জন মেয়ে বলেছে প্যাট্রিক সোয়াজের পাছা সবচেয়ে সুন্দর..."। এখন আমার কি এটা ফট করে বলা সমীচীন হবে সবচেয়ে সুন্দর ... হচ্ছে প্যাট্রিক সোয়াজের। সমীচীন হবে না কারণ এই জরীপে আমাদের দেশের জরিনা অংশগ্রহন করেনি!

কেউ কিছু একটা বলে দিলেই তা নিয়ে নাচানাচি করার কোন অর্থ নাই। গান্ধী আন্ডারওয়্যার পরতেন কিনা এই নিয়ে কবির ঘুম আসে না [২]:
"...I didn't much sleep last night
thinking about underwear...
Did Gandhi wear a grirdle?..."
(Underwear: L. Ferlinghetti) 
লোকজনরা সেই কবিতা পড়ে আহা-উঁহু করে, পা নাচায়, L. Ferlinghetti-কে নিয়ে লাফায়; লাফাক, তাতে আমার কী!

বৈজ্ঞানিক কোন তথ্য, বিশেষ করে মস্তিষ্কের কোন তথ্য এমন হেলাফেলা করে দেয়া একটা ফাজলামী। 'এক চিকিৎসক' দূরের কথা এটা কোন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রকাশিত হয়ে থাকলেও অন্তত আমি গুরুত্ব দেই না। এটা সত্য, হাসলে প্রচুর পেশীর ব্যবহার হয় সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল অবশ্যই কিন্তু মস্তিষ্ক কৃত্রিম হাসিটা ধরতে পারবে না এই তথ্য বাদামের খোসা! যে মস্তিষ্ক 'দুধের দুধ, পানির পানি' আলাদা করে ফেলে- জটিলসব সিদ্ধান্ত নিতে ন্যানো সেকেন্ড সময় যার কাছে যথেষ্ঠ [৩] সে বুঝতে পারবে না কোনটা তার নিজের কৃত্রিম হাসি! হাহ!
মস্তিষ্ক তার নিজস্ব পদ্ধতিতে সমস্ত তথ্যই জমা রাখে:
"...It accepts a flood of information about the world around you from your various senses (seeing, hearing, smelling, tasting, touching, etc)...."

চোখের নিমিষে যার ভ্রমণ তাকে খাটো করে দেখার কোন অবকাশ নাই, তাকে বোকা ভাবাটা বোকামি:
"...These axons transmit signals in the form of electrochemical pulses called action potentials, lasting less than a thousandth of a second and traveling along the axon at speeds of 1–100 meters per second. Some neurons emit action potentials constantly, at rates of 10–100 per second...।" (wikipedia)

বোকা মানুষের বোকা মস্তিষ্ক হলে অবশ্য বলার কিছু নেই...

সহায়ক সূত্র:
১. মস্তিষ্ক, কৃত্রিম হাসি...: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=12&date=2011-04-26 
২. L. Ferlinghetti: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_3336.html 
৩. মস্তিষ্ক বেচারা...: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_4207.html 

Tuesday, January 4, 2011

নাটুকেপনা!

এবারের বছরের শেষ দিনটা কেটেছে আমার খানিকটা অন্য রকম। বছরের প্রথম দিনটা উদযাপন করার জন্য তেমন তাড়না আমার কখনও ছিল না কারণ ঘটা করে উদযাপন করলেই বছরটা চমৎকার কাটবে এমনটা ভাবার অবকাশ নাই। তারপরও...। অদেখা বাক্সে লুকিয়ে থাকা খানিকটা আশা, এই আশা নামের অফুরন্ত শ্বাস আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখে। তার জন্য খানিকটা নাচানাচি-লাফালাফি করলে দোষ কোথায়!

তো, আমার কিছু বন্ধু-বান্ধব বিপুল আয়োজন করে রেখেছিলেন বছরটাকে উদযাপন করার জন্য, ওখানে আমার থাকাটা নাকি আবশ্যক। বাহ, কবে থেকে আমার মত লুক (!)-এর থাকাটা জরুরি হলো? ওই আয়োজনে কী আছে এটা জিজ্ঞেস না-করে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে কী নেই!
বিশ্বব্যাপি কারা কারা কি চেয়েছে কে জানে কিন্তু আমি চেয়েছি এ বছরটা যেন গত বছরের মতই হয়। গত বছরটায় আমার জাগতিক অনেক বেদনার মুখোমুখি হলেও আমি আমার পছন্দের জীবন যাপন করতে পেরেছি। তিনটা স্কুলের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া ব্যতীত এমন অনেক কাজ করতে পেরেছি যা আমাকে সীমাহীন আনন্দ দিয়েছে। আমার ভাষায়, এমন আনন্দ ইয়ে ব্যতীত কোথায়!
এবারে আমার এমন বছর উদযাপনের ভঙ্গি দেখে অনেকে তীর্যক ভঙ্গিতে তাকাবেন, কেউ কেউ হয়তো জ্বালাময়ী বক্তৃতাও ঝেড়ে দিতে পারেন। শীতে যেখানে সবাই জবুথুবু আর ওই দেখো ওই ব্যাটা উড়ায় ফানুস!

আমিও ভাবি, তাই তো! এই দেশে কত্তো কত্তো দরদী, এদের দেখে মাথা নুয়ে আসে। আহারে-আহারে! নাটকের একটা দলের কথা বলি। এরা নতুন বছর উদযাপন করছেন এমন করে, ঠিক ১২টা ১ মিনিটে এরা শীতবস্ত্র বিতরণ করবেন। বেশ-বেশ, ভাল-ভাল! এবং ওখানে নাকি একটা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধান, খুব চালবাজ একজন মানুষও থাকবেন। এই সব মানুষদের আবার লেজ খুব লম্বা থাকে সেই লেজের শেষ মাথায় বাঁধা থাকে একটা ক্যামেরা। শুনতে পাই এদের বাথরুম করার সময়ও নাকি ক্যামেরা চালু থাকে।
তো, এদেরকে একজনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ওই লোক আপনাদের সঙ্গে থাকলে তিনি কি বাড়তি উত্তাপ দেবেন? এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু তিনি দেননি।

যাই হোক, এদের এই উদ্যোগ আমার কাছে মন্দ লাগেনি কিন্তু বিস্তারিত জেনে আমি হতভম্ব হয়ে ভম্বহত (!) হওয়ার দশা। এরা মধ্য রাতে শীতবস্ত্র বিতরণ করবেন। হয়তো টিভি ক্যামেরাও অনুসরণ করবে সেটাও বিষয় না। বিষয়টা হচ্ছে, এদের সবার মুখ নাকি ঢাকা থাকবে, মানে এরা মুখোশ পরা থাকবেন। দস্যু বনহুর টাইপ আর কী! আমি এই প্রশ্ন করতে চাই না ম-য়ে ম একাকার হলে সমস্যা কোথায়? সমস্যা নেই কারণ মাথার ভেতর যে জিনিস থাকে এবং পেটের ভেতর, দুইটার আদ্য অক্ষরই 'ম'!
তবে আমি যে প্রশ্ন করতে চাই সেটা হচ্ছে, নিশুতি রাতে হঠাৎ করে এমন মুখোশপরা ইয়া ধামড়া ধামড়া এই সব লোকদের দেখে নিরন্ন মানুষদের দুর্বল শিশুরা ভয়ের চোটে যদি আর শ্বাস না-নেয় তাহলে এর দায় কে নেবে? নাকি এই সব নটরা নাটুকেপনার চুড়ান্ত করে মৃত শিশুকে সামনে নিয়ে নতুন একটা নাটক লিখবেন?

(আমার লিখিত অনুমতি ব্যতীত ছবি, কোন লেখা বা লেখার অংশবিশেষও কোথাও ছাপানো যাবে না।)

Sunday, December 26, 2010

ইউনূস, আমলনামা!

ড. ইউনূসকে নিয়ে এখন কোন লেখা খানিকটা জটিলতার পর্যায়ে চলে যায়। অনেকের আবেগের গোপন জায়গাটি হচ্ছে, বেচারা আমাদের জন্য নোবেল পুরস্কার এনে দিয়েছেন। কথা সত্য। এই অভাগা দেশটিকে এই গ্রহে কে চেনে? চেনে হাভাতের দেশ হিসাবে, চেনে চোর-চোট্টার দেশ হিসাবে; সেখানে একজন ইউনূসের আমাদের একটা নোবেল এনে দেয়াটা তো চাট্টিখানি কথা না।

৭০০ কোটি টাকা স্থানান্তর করায় ড. ইউনূসকে নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে হইচই হওয়ার পর হৃদয়বান মানুষের পাল্লা ড. ইউনূসের প্রতি ভারী। আহা বেচারা, আহা-আহা। জনপ্রিয় এই গানটি থেকে খানিকটা ধার করে বলি, "...এক-টু সহানুভূতি-ই-ই কি ইউনূস-স-স, পেতে পারে না...ও বন্ধু, আ-আ-আ"?
এমনিতে পূর্বেও ইউনূস সাহেবকে নিয়ে দেশে বিপুল হইচই হয়েছে কিন্তু কেউ গা করেননি কারণ এই বিপুল মানুষদের মধ্যে কোন সাদা চামড়ার মানুষ ছিলেন না, আফসোস। আমাদের তো আবার সাদা চামড়া ব্যতীত নড়াচড়া করতে ইচ্ছা করে না, কোন তথ্য বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।
ওয়েল, এই সব হৃদয়বান মানুষদের বলি, একটা খুন করলেও ড. ইউনূস একজন নোবেল লরিয়েট বলে কি আমাদের বলতে হবে তিনি দায়ে পড়ে খুন করেছেন বা তাঁর করা গুলিটা সফট-নোজের ছিল? নোবেল পেলেই কি তাঁর অপরাধ লঘু হয়ে যাবে?

আজকের আমার এই লেখার বিষয় এটা না কোন মিডিয়া লিখেছে। টাকা নিয়ে তিনি কেমন জাগলিং খেলেছেন সেটাও না।
আমি এক লেখায় [১] জানতে চেয়েছিলাম:

প্রসটিটিউশন-ড্রাগস-আর্মস ব্যতীত কোন ব্যবসা আছে যেখানে ২৪ পার্সেন্ট সুদ দিয়ে এবং ক্রমশ পুঁজি শূন্য করেও বহাল তবিয়তে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব, আমি সেই ব্যবসার নাম জানতে চাই। এই প্রশ্নটা ছিল ব্র্যাক ব্যাংক নিয়ে। আর গ্রামীন ব্যাংক তো কয়েক পা এগিয়ে।
"...প্রকৃতপক্ষে গ্রামীন ব্যাংকের সুদ হচ্ছে ৩৮ শতাংশ..."। (সূত্র: খোন্দকার ইব্রাহিম খালিদ, সাবেক ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক)
এখন আমি জানতে চাই ৩৮ শতাংশ সুদ দিয়েও কোন ব্যবসায় লাভ করা যায়? এটা যদি মেথরগিরিও হয় আমি সানন্দে মেথর হব, আমার লেখালেখির কসম।
এটা আমি ইউনূস সাহেবের কাছে জানতে চাই। তিনি আমাকে এই ভাগ্য বদলাবার দিকনির্দেশনা দিলে আমি এখুনি লেখালেখি ছেড়ে পুরোদস্তুর মেথর হয়ে যাব। ব্যবস্থাটা আজ রাতে হলে আজ রাতেই মেথরগিরি করতে বের হব। সয়্যার অন মাই ব...। 

ইউনূস সাহেবের যে কেবল সুদের হার ৩৮ শতাংশ এমনই না, এখানে সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়টি হচ্ছে, গ্রামীন ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার পর থেকেই প্রতি সপ্তাহে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়।

আপনাকে ছাগল কেনার জন্য ঋণ দিল। পরের সপ্তাহ থেকেই কিন্তু আপনাকে কিস্তি দিতে হবে। ছাগল কেনার পরদিনই কিন্তু ছাগল ডিম পেড়েছে। সেই ডিম বিক্রি করে আপনি কিস্তি দেবেন। বাই-এনি-চান্স, ছাগল ডিম না-দিলে কিন্তু কিস্তি মাফ নেই। তখন আপনার বিচি বিক্রি করে হলেও কিস্তি দিতে হবে। নইলে গ্রামীন ব্যাংকের লোকজনেরা গরু-ছাগল জোর করে নিয়ে আসবে। এরা কৃষকের বাচ্চা মেয়েটার পা থেকে নুপুর পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে! 
(লাইফ-এচিভমেন্ট-সেক্রিফাইস/ শুভ'র ব্লগিং পৃ নং: ২০)

ন্যানো ক্রেডিটের [২] আওতায় কিছু কাজ করার সুবাদে এই নিয়ে খানিকটা ধারণা হয়েছে আমার। আমি এখান থেকে বিচিত্র বিষয় শিখছি। 'ন্যানো ক্রেডিট' দেয়া হয়েছে এমন অনেককে নিয়ে লেখা হয়ে উঠেনি কিন্তু যাদেরকে এই ঋণ দেয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশের পক্ষেই ঠিক পরের সপ্তাহ থেকে কিস্তি দেয়া সম্ভব ছিল না ।

এখানে সরল উদাহরণ দেওয়ার চেষ্টা করি। যেমন ধরা যাক, এই মহিলার কথা [৩]। ইনি যদি কিস্তি পরিশোধ করেনও তবুও তাঁর পক্ষে মাস শেষ হওয়া ব্যতীত টাকা দেয়া সম্ভব না। তাহলে? এখন আমি যদি খুব চাপাচাপি করি তাহলে যেটা হবে কিস্তি শোধ করার জন্য চড়া সুদে অন্য কারও কাছ থেকে তিনি টাকা নেবেন। যেটা ইউনূস সাহেব এবং তার শিষ্য, অন্য ব্যাংকের বেলায় হচ্ছে।

ইউনূস সাহেবের ঋণ নিয়ে যে ভদ্রমহিলা হাস-মুরগি-ছাগল কিনবেন সেই হাস-মুরগি পরের দিন থেকেই ডিম্ব প্রসব করবে আর ছাগল প্রসব করবে ছাগশিশু। ব্যস, ওই ছাগশিশু ঘন্টায়-ঘন্টায় বাড়বে। বাড়তে হবে, ছাড়াছাড়ি নাই কারণ সপ্তাহ শেষ হওয়ার পূর্বেই এটাকে বাজারে বিক্রি করে টাকা ক্যাশ করতে হবে এবং গ্রামীন ব্যাংকের কিস্তি শোধ দিতে হবে।

কী 'সোন্দর' সিস্টেম! এই গরীব মানুষরা কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে এমন তালগোল পাকায় যে ওই ব্যাংকের অত্যাচার এড়াতে অন্য একটা এনজিও থেকে ঋণ নেয়। এভাবে বেশ-ক'টা এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার পর রাতারাতি টিন-খড়ের ভাড়াবাড়ি ছেড়ে উধাও হয়ে যায়! ছোট-ছোট বাচ্চারাও অভ্যস্থ হয়ে পড়ে একদা রাতে মাথায় করে গাট্টি নিয়ে হাঁটতে হবে...!  

আচ্ছা, কুতর্কে যেতে চাচ্ছি না, যেে তাঁকে নোবেল দিতে গিয়ে কোন কূটচাল চালা হয়েছিল। ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে তিনি নাকি দেশময় শান্তি নিয়ে এসেছেন। শান্তি প্রসঙ্গে পরে আসি। এই যে ক্ষুদ্রঋণের ভাবনা এটা কিন্তু একেবারে মৌলিক কোন ভাবনা না। তাঁর পূর্বেও অনেকে এই ভাবনা ভেবেছেন, এটা নিয়ে কাজ করেছেন। এটা সত্য, ইউনূস এটাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন মাত্র।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ইউনূসের গ্রামীন ব্যাংক এতো জনপ্রিয় হয়েছিল কেন? কারণ একটাই, বাইরে সুদের হার আরও অসহনীয় ছিল! এলাকার এক সূফিকে চিনি যে এক লাখ টাকায় দশ হাজার টাকা সুদ নেয়, মাসে। তা-ও আবারও দেওয়ার সময়ই কেটে রাখে প্রথম মাসে সুদ। অর্থাৎ যে এক লক্ষ টাকা সুদ নেবে সে পাবে নব্বই হাজার টাকা!

তো, এদের ভাষায় গ্রামীন ব্যাংক নাকি ৮০ লক্ষ মানুষকে ঋণ দিয়ে এদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। যাদের অধিকাংশই নারী!

এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, উপকৃত হয়েছে ৮০ লক্ষ পরিবার! নিম্নবিত্তদের আবার বাচ্চাকাচ্চা বেশি, এরা আবার মায়ায় বুড়াবুড়িকেও ফেলে দিতে পারে না, মানে একেকটা পরিবারে কমপক্ষে গড়ে ৬ জন ধরলেও প্রায় ৫ কোটি মানুষ। ওয়াল্লা, একা ইউনূস সাহেবই পাঁচ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে ফেলেছেন! ইয়া রব, ব্র্যাক এবং তাঁর শিষ্য অন্য ব্যাংকগুলো ধরলে দেখা যাবে আমি ব্যতীত সবাই এদের দ্বারা উপকৃত হয়েছেন।

ব্র্যাক থেকে একটা ঋণ আমিও নিয়েছিলুম বটে সেটার ফয়সালা আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছিল; এর গল্প অন্য কোন দিন। এখন দেখছি, সবাই 'চিনিহারাম' কেবল আমিই নিমকহারাম-লবনহারাম'! বেচারা আমি!
এখন এক দফা এক দাবী, ইউনূস সাহেবকে দেশের প্রেসিডেন্ট বানিয়ে আবেদ সাহেবকে প্রধানমন্ত্রী এবং সমমনাদেরকে যত দ্রুত সম্ভব মন্ত্রী বানানো হোক। আমি ভাবতেই পারছি না এঁরা না থাকলে দেশের কী হাল হতো!

ইউনূস সাহেব, বেচারা, সবাইকে জুতা পরাবার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন! আমি ড. ইউনূসের সামাজিক ব্যবসা নামের লেখায় লিখেছিলাম [৪], আমি বড়ো আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছি ইউনূস আমাদের বাচ্চাদের জন্য এমন জুতা নিয়ে আসবেন যে জুতা পায়ে দিলে ক্ষিধা লাগবে না।

তিনি এডিডাসকে নিয়ে যখন সামাজিক জুতা নিয়ে আসবেন এই জুতায় নিশ্চয়ই চমক একটা থাকবে, থাকবেই। কারণ তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন:

"...আমাদের লক্ষ্য হলো, যারা জুতো পরে না তাদের জুতো পরার সুযোগ দেওয়া। ...গরিব মানুষ যদি সস্তা দামে আরো ভালো জিনিস পায় তাহলে ত সেটাকে স্বাগত জানানো দরকার..."।
বটে রে! ইউনূস সাহেবের কী ধারণা আছে, আমাদের দেশে জুতার দাম কত? একটা স্পঞ্জ স্যান্ডেল বিশ টাকায় পাওয়া যায়। আপুনি (!) ইউনূস সাহেব কি বিশ টাকার কম দামে সামাজিক জুতা দেবেন নাকি কেবল এই আইডিয়াটা আমাদেরকে খাওয়াবেন, আ মীন 'গরিবা জুতা' খাওয়াবেন?

আমার স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, ইউনূস গরীবদের নিয়ে ন্যাকামোটা না-করলে তাঁকে নিয়ে বা তার বিপক্ষে আমি একটা বাক্য দূরের কথা একটা শব্দও ব্যয় করব না। কারণ তখন সেটা হবে শব্দের অপচয়! স্রেফ তিনি গরীবদের নিয়ে আহা-উহু করাটা বন্ধ করবেন, ব্যস, তাঁর কাছে আর কিচ্ছু চাই না। 
তার লোভে চকচক করা চোখে স্পষ্ট করে বলবেন, আমি ব্যবসা করতে এসেছি, ব্যবসা করব, কারও কোন সমস্যা? না, তখন আমরাও বলব, কোন সমস্যা নাই।
ইউনূস নামের মানুষটা কিন্তু সেই পথ মাড়াচ্ছেন না তিনি ২০১০ পর্যন্ত এক পয়সা কর দেননি [৫], এমনকি আগামীতেও গ্রামীন ব্যাংকের জন্য করমুক্তি চেয়েছেন। কারণ তিনি নাকি গরীবদের জন্য সব বিলিয়ে (!) দিচ্ছেন। 

গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি এটার প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এই কারণে গ্রামীন ব্যাংক থেকে বেতন-ভাতা নেন। কত নেন এটা অবশ্য আমাদের জানা নেই। আচ্ছা, তিনি কি আমৃত্যু এটা থেকে বেতন-ভাতা নেবেন?

যে মানুষটা গরীবের জন্য করে-করে, বলে-বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন তাঁর কি লজ্জা করে না এই গরীবদের ব্যাংক থেকে বেতন-ভাতা নিতে? এই টাকা থেকে কেনা খাবার তাঁর মুখে রোচে কেমন করে, পেটুক পেটটা এই খাবার ধরে রাখে কেমন করে? ওয়াক, বমি আসে না বলছেন, আপনি ইউনূস।
এমন না তাঁর দিন আনি দিন খাই টাইপের অবস্থা। ভাল কথা, আপনি ক-দিন পরপর হিল্লি-দিল্লি বক্তৃতা দিয়ে বৈদেশিদের কাছ থেকে যে ইউরো-ডলার আয় করেন তা কি দান করে দেন?

এটা আমার নিজস্ব মত। আমি মনে করি, ড. ইউনূস নামের এই মানুষটার মধ্যে গোলমাল লুকিয়ে আছে, এঁর পেটভরা ঝামেলা! সততার খোলসে অসৎ একজন মানুষ। এমন মানুষ নোবেল পেলেই তাঁকে নিয়ে কোলে করে ঘুরতে হবে এমনটা অন্তত আমি মনে করি না।
আমার স্পষ্ট বক্তব্য, মুখে গরীব-গরীব করলে ঋণ দিতে হবে বিনা সুদে (আমাদের এই কুৎসিত সময়ে [৬] বিনা সুদেই একজনের দারিদ্র হটানো অসম্ভব সেখানে ৩৭ পার্সেন্ট সুদ!) নইলে ভানবাজি, লম্বা-লম্বা বাতচিত বন্ধ। আপনি ইউনূস হোন বা ফজলে আবেদ, ঠোঁট একেবারে সেলাই করে রাখুন। খবরদার, ভুলেও দারিদ্র বিমোচন, এই সব বা...ছাল উচ্চারণ করবেন না। বললে আমরাও:

সাদাকে সাদা বলিব, কালো না
ইউনূস-আবেদকে সুদখোর বলিব, ভাল না...।

*লেখাটা যখন শুরু করেছিলাম এরিমধ্যে এক কান্ড হয়েছে। আমাদের ইশকুল, তিন [৭] এটা যেখানে অবস্থিত এই বিল্ডিংটা রেলওয়ের হলেও মূলত উদীচীর অফিস।

যখন এই স্কুলটা শুরু করি তখন কোন জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না বলে উদীচীর লোকজনকে ধরাধরি করে এই জায়গাটা নিতে হয়েছিল। এরা আমাদেরকে বিনে ভাড়ায় স্কুল চালাবার জন্য বিল্ডিংটা দিয়েছিলেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। কিন্তু...।
আজ দেখছি এই বিল্ডিং-এর গায়ে এই পোস্টার সাঁটানো। ছোট-ছোট বাচ্চারা বানান করে-করে পড়ছে।
অনুমান করি, এমন হাজার-হাজার পোস্টার ছাপিয়ে দিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, বিনে পয়সায়। কেমন করে এই সব দানবরা সমস্ত কিছু গ্রাস করে ফেলে তার নমুনা দেখে আমি শিউরে উঠি।

সহায়ক সূত্র:
১. পদক...: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html
২. ন্যানো ক্রেডিট: http://tinyurl.com/39dkbhh 
৩. আনোয়ারা বেগম: http://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_9184.html  
৪. ওই আসে মহাপুরুষ: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_04.html 
৫. মামা বাড়ির আবদার: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_12.html 
৬. কুৎসিত সময়: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_06.html
৭. আমাদের ইশকুল, তিন: http://tinyurl.com/327aky3      

Sunday, November 28, 2010

রতনে রতন চেনে, ইউনূস চেনে...!

ইউনূস সাহেবকে নিয়ে যখন এই লেখাটা লিখেছিলাম, 'ওই আসে মহাপুরুষ' [১] তখন থেকে অপেক্ষায় ছিলাম, কখন সেই অপেক্ষার ক্ষণের অবসান হবে? আজ সেই দিন। আমার অপেক্ষা শেষ হলো। ইউনূস সাহেব সামাজিক ব্যবসার নামে আমাদের উদ্ধার করছেন আর এখানে আমাদের আলোচ্য মিডিয়া প্রথম আলো থাকবে না তা কী হয়!

সামাজিক ব্যবসার আড়ালে 'শক্তি' দই এসেছে, 'ভেওলিয়া' পানি এসেছে, 'এডিডাস' জুতা আসছে, আগামীতে 'জ্যাকসনিয়া' বাতাস আসবে। আশা করছি, এই সামাজিক জুতা না খেয়ে পায়ে দিলে ক্ষুধা কম লাগবে।
হরলিকস বেচারারা এখন নামকরা স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের ধরে এনে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ঘটা করে বলাচ্ছে, প্রকারান্তরে কেমন করে হরলিকস গেলাতে হবে। হরলিকস খেলে পাঁচ ফুটের বঙ্গালের আট ফুট 'টলার' সন্তান হবে কেমন করে! 

বেচারা হরলিকস, এরা সম্ভবত ইউনূস সাহেবের খোঁজ পায়নি! করপোরেট বন্দুক রাখতে ইউনূস সাহেবের প্রশস্ত কাঁধ আছে কোন দিনের জন্যে!
কালে কালে এই সব কোম্পানির জন্য মামা আবদার করবেন [২], তখন আমরা তাঁর ভাগিনারা সেই আবদার রক্ষা না করে উপায় কী!
ছবি ঋণ: প্রথম আলো
আজকের প্রথম আলোয় ইউনূস সাহেবের সামাজিক ব্যবসা নিয়ে ঢাউস লেখা ছাপানো হয়েছে।
তিনি আমাদের গ্রামের বাচ্চাদের শক্তি দধি খাইয়ে খাইয়ে দেশময় পুষ্টির মহোদধি বানিয়ে দেন। হাভাতে বাচ্চাদের কেমন তন্দুরস্ত-নীরোগ করে দিচ্ছেন তার নমুনা আমরা দেখতে পাই এই ছবিতে।

সুলতান সাহেব এদের হৃষ্টপুষ্ট দেখার স্বপ্ন দেখতেন আর আমাদের ইউনূস সাহেব বাস্তবে তা করে দেখিয়ে দিয়েছেন!
মিডিয়া ইউনূস সাহেবের মুখ থেকে কি শোনাচ্ছে তা আমরা একটু শুনি:
"...দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সামর্থ্যের কথা ভেবে প্রতিটি ৬০ গ্রাম ওজনের কাপের দাম রাখা হয়েছে সাত টাকা...।" (প্রথম আলো, ২৭ নভেম্বর, ২০১০)

আরেক প্রিন্ট মিডিয়া যা বলছে:
"একটি শক্তি দইয়ের দাম ছয় টাকা...।" (কালের কন্ঠ, ৩১ অক্টোবর, ২০১০)
এ পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে ইউনূস সাহেব বলছেন, "...তিনি এখন এককাপ দই বিক্রি করেন ছয় টাকায়। প্রতি কাপে এক টাকা ত্রিশ পয়সা কমিশন পান...।"
ইউনূস সাহেবের সুদের হার যেমন আজও আমার বোধগম্য হয়নি তেমনি তাঁর কথাও! তিনি বলছেন, এককাপ দই বিক্রি হয় ছয় টাকায়। কমিশন এক টাকা ত্রিশ পয়সা। মানে কী! কাপের দাম কি চার টাকা সত্তর পয়সা?

শুনতে তো ভালই লাগে। যাক, দুই চুমুক দইয়ের দাম তাহলে ছয় টাকা। অবশ্য এই কুতর্কে আমি যাব না ছয় টাকা এই দই খাওয়ালে শিশুরা এই ছবির মত হৃষ্টপুষ্ট হবে, কি হবে না! কারণ ইউনুস সাহেব বলেই দিচ্ছেন, "...সপ্তাহে দুই কাপ খাওয়ালেই তার পুষ্টির চাহিদা মিটে যাবে...।"
অবশ্যই মিটে যাবে। অবশ্য এটা এই দেশের পুষ্টিবিদরা ভাল বলতে পারবেন, এই দই সপ্তাহে দুবার খেলেই পুষ্টির 'পু' কোথায় থাকবে আর 'ষ্টি' কোথায় থাকবে। এই বিষয়ে আমার কোন মতামত দেয়াটা সমীচীন হবে না।









.



আমাদের মিডিয়ার এই বোধ, দায়িত্ব, এই ইচ্ছাটাই নাই, ইউনূস সাহেব নামের মানুষটার সব কথাই আকাশলোকের বাণী না যে কথায় কথায় কেবল অদৃশ্য ল্যাজ নাড়াতে হবে।

এক চুমুক যেখানে দইয়ের কাপ বিক্রি হয় দশ টাকায় সেখানে মিডিয়ার পক্ষে ছয় টাকা-সাত টাকা বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলার অর্থ কী!
সব বাদ দিলেও এদের দইয়ের কাপের গায়েই লেখা আছে আট টাকা! যেখানে এরা নিজেরাই লিখে রেখেছে আট টাকা সেখানে ছয় টাকা-সাত টাকা বলে আমাদেরকে বিভ্রান্ত করার অর্থ কী!
নাকি আকাশলোকের বাসিন্দা মুখ হাঁ করলে 'হর্স মাউথ' মনে না-হয়ে বেদবাক্য মনে হয়? তাই বুঝি, না? আ-হা, রতনে যে রতন চেনে...।

*আমাদের ইউনূস সাহেব চড়া সুদে নিম্নবিত্ত মহিলাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছেন এটা আর যেই বিশ্বাস করুক আমি করতাম না। এই বিশ্বাসটা দৃঢ় হয়েছিল ন্যানো ক্রেডিট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে [৮]
ন্যানো ক্রেডিট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি দেখেছি, জিরো ইন্টারেস্টেই এরা টাকা শোধ করতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যান সেখানে চড়া সুদ দিয়ে? এই সুদ দিয়ে ঈশ্বর ব্যবসা করলেও সম্ভবত মুখ থুবড়ে পড়তেন!

সুফিয়া খাতুন নামের যে মহিলাকে দিয়ে ইউনূস সাহেবের জোবরা গ্রাম থেকে জোব্বা গায়ে দিয়ে যাত্রা শুরু সেই ভদ্রমহিলা মারা গেছেন। তাঁর সন্তান বলেন,
"গ্রামীণ ব্যাংকের স্থানীয় কর্মকর্তারা ঘরের পাশের দোতলা পাকা দালান দেখিয়ে দিয়ে ছবি তোলায়। ...চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকা কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হয়েছিলো। গ্রামীণ ব্যাংকের কিস্তি শোধ করতে আম্মাকে অন্যজনের কাছ থেকে আবার ঋণ নিতে হয়েছিলো।"
(bdnews24.com)
**ইউনূস সাহেব দরিদ্র হটাবার নাম করে কেমন করে টাকা-পয়সা নয়-ছয় করেছেন তার খানিকটা নমুনা পাওয়া যাবে এখানে:
দরিদ্রদের ইউনূসফাঁদ: http://bdnews24.com/bangla/details.php?cid=2&id=143014&hb=top 
         
সহায়ক লিংক:
১. ওই আসে মহাপুরুষ: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_04.html
২. মামা বাড়ির আবদার: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_12.html
৩. bdnews24.com: http://www.bdnews24.com/bangla/details.php?id=143190&cid=2 

Friday, November 12, 2010

জাতীয় মামা এবং মামা বাড়ির আবদার!

আমাদের একেকজনের মামা বাড়ি একেক জায়গায় কিন্তু আমাদের কমন এক মামা আছেন, জাতীয় মামা। বরং আমরা গর্ব করে বলতে পারি 'বিশ্বমামা'!
এই মামা-ভাগিনাদের 'পুষ্টিকর দই' খাওয়ান, পুষ্টিকর 'খাওয়ার পানি' খাওয়ান, অচিরেই 'পুষ্টিকর জুতা' খাওয়াবেন। ভুল লিখলাম, পুষ্টিকর জুতা খাওয়াবেন না, বানাবেন, এডিডাসকে নিয়ে। আশা করছি, মামা আমাদেরকে পুষ্টিকর বাতাসও খাওয়াবেন [১]

গ্রাম্য মামা বললে শুনতে ভালো শোনায় না, তাই 'গ্রামীনমামা'। আমার মামা তোমার মামা, সবার মামা ইউনূস মামা। ইউনূস মামা গ্রামীন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর, ২০০০ সাল থেকে তাঁর প্রতিষ্ঠান কোন কর দেয়নি! মামা-ভাগিনাদের জন্য কত্তো কিছু করছেন তাঁর কাছে কর চাওয়াটা অন্যায়ের পর্যায়ে পড়ে।
২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বরে মামার এই করমুক্ত সুযোগ শেষ হচ্ছে। এ অন্যায়-এ অন্যায়! কেয়ামতের আগ পর্যন্ত এই করমুক্ত সুযোগ না রাখাটা অনুচিত হয়েছে। বড়ো অন্যায় হয়ে গেছে!

এখন ইউনূস মামা আবেদন করেছেন আগামীতেও যেন তাঁর প্রতিষ্ঠানকে করমুক্ত রাখা হয়। এই নিয়ে তিনি 'লম্ফা-লম্ফা' পত্র লিখেছেন।
মামার আবদার বলে কথা। শিরোনামটা 'মামা বাড়ির আবদার' না-হয়ে আসলে হওয়া প্রয়োজন ছিল, মামার আবদার।

মামার কথাবার্তা শুনে প্রায়শ মনে হয় তিনি দানছত্র খুলে বসে আছেন! তাঁর প্রতিষ্ঠান অলাভজনক একটা প্রতিষ্ঠান। অফিস-টফিস চালাবার জন্য যৎসামান্য সুদ নামের লাভ নিলে এতে অন্যদের গাত্রদাহ হবে কেন? এই সুদের হার ৩০ পার্সেন্ট হলেই বা কী! তিনি যে দারিদ্র বিমোচন করছেন! দেশ থেকে ঝেটিয়ে দারিদ্র দূর করে দিচ্ছেন। মহান এক ঝাড়ুদার!
অর্থমন্ত্রী অবশ্য বলছেন:
'ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র বিমোচনের উপায় নয়। ...এরা নিচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ সুদ। মহাজনদের চেয়ে অবশ্য এরা ভাল'।
কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেছেন:
"বর্তমানে অতি কৌশলে ক্ষুদ্রঋণে 'ফ্ল্যাট রেট' বলে যে সুদ নেওয়া হচ্ছে বাস্তবে তা অনেক বেশি এবং গ্রাহকরা এদের এই ফাঁকিবাজি ধরতে পারেন না। কেউ কেউ ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ সুদ নিচ্ছে।"

এখন সরকার ক্ষুদ্রঋণের নতুন নীতিমালা করতে যাচ্ছেন। নতুন নীতিমালায় ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার করা হচ্ছে সর্বোচ্চ ২৭ পার্সেন্ট!

২৭ পার্সেন্ট! আমি সরকারের কাছে সবিনয়ে জানতে চাই, এই দেশে ২৭ পার্সেন্ট সুদ দিয়ে কোন ব্যবসায় লাভ করা যায়? প্রস্টিটিউশন, ড্রাগ ব্যতীত আর কোন ব্যবসায় এত চড়া সুদ দিয়েও লাভ করা যায়, আমি ওই ব্যবসার হদিস জানতে চাই। ওই ব্যবসা করার গোপন ইচ্ছা প্রকাশ করি। 'মুক্ত ইচ্ছা' প্রকাশ করি না, কারণ...! 
না-না, আমি আসলে জানতে চাই না কারণ মামা মনে বড়ো কষ্ট পাবেন। আমি মামার মনে কষ্ট দিতে পারব না। না-না-না। আহা, তিনি, তিনি যে আমাদের মামা, জাতীয় মামা। বিশ্বমামা!

সহায়ক লিংক:
১. ওই আসে মহাপুরুষ: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_04.html      

Tuesday, April 27, 2010

বিশ্বাসঘাতক অনুবাদক, মূর্খ অনুবাদক!

অনুবাদক 'এ্যাদুত্তোর এ্যাদিতর' মানেই বিশ্বাসঘাতক! যিনি অনুবাদ করেন তাঁর ইচ্ছার উপর নির্ভর করে অনুবাদটা কেমন হবে! তিনি ইচ্ছা করলে অনেক খেলাই খেলতে পারেন অতি বুদ্ধিমান হলে তাঁর চালবাজি ধরা প্রায় অসম্ভব
এটা না-হয় মেনে নেয়া গেল কারণ একজন অন্যের সন্তানকে বড়ো করলে তার মধ্যে অনেকখানি নিজের ভাব মিশিয়ে দেবেন, মেনে না নিয়ে উপায় কী?   

কিন্তু মূর্খ অনুবাদক নিয়ে বড়ো যন্ত্রণাএখন দেশে এদের চাপে আমরা পাঠকদের প্রায় চ্যাপ্টা হওয়ার দশানাজিম উদ্দিন নামের একজন ড্যান ব্রাউনের "দি দ্য ভিঞ্চি কোড"-এ Hackler and Koch -কে অনুবাদ করেছেন 'হেকলার এবং কচ'! এই বেচারাকে কে বোঝাবে, 'থ্রি নট থ্রি' রাইফেলের এই অনুবাদ করা যায় না, 'থ্রি না থ্রি' রাইফেল!

এর সঙ্গে ভুল বানান যোগ হলে সোনায় সোহাগাআর বইটা যদি হয় স্টিফেন কিং-এর তাহলে তো সর্বনাশ!  হাসান খুরশীদ রুমী ইনি নাকি অনুবাদের ভুবনে ওস্তাদ মানুষতার সম্পাদনায় স্টিফেন কিং-এর গল্প: ২ নামের একটা বইয়ে ভুলের নমুনা দেখলে স্টিফেন কিং আত্মহত্যা করতেন বইটা প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য প্রকাশনী

"...হল একটা ইঁদুরকে লক্ষ্য করে খুব জোড়ে একটা ক্যাল ছুড়ে মারল আর মুচকি হাসতে লাগল...।" (পৃষ্ঠা: ৯৫)।
হল বেচারা মুচকি হেসে সারা, বেশ! কিন্তু জোড়ের কথা না-হয় বাদ দিলাম কিন্তু এই 'ক্যাল' জিনিসটা কি? অনেক মাথা খাটিয়ে বের করতে হবে এটা ক্যাল না, ক্যান। চালু কথায় ডিব্বা।

"ওয়্যারউইক হলের কাঁধে কাপড় মেলে বলল, 'কেমন চলছে কলেজ বয়'?" (পৃষ্ঠা ৯৯)
ওয়্যারউইক এমন বেকুব কেন? বারান্দায়, ছাদে কাপড় না মেলে হলের কাঁধে কাপড় মেলতে গেল কেন? অনেক ঘিলু খরচ করে বের করতে হয়, ওয়্যারউইক হলের কাঁধে চাপড় মেরে বলল, ...  
একে তো বিদেশি খটমটে নাম, বিদেশি লেখকদের শব্দ নিয়ে জাগলিং বুঝতেই কালঘাম বেরিয়ে যায়, তার উপর আমার মত সাধারণ পাঠক কি লাইন-বাই-লাইন গবেষণা করে বেড়াবে? সম্ভব?

সম্প্রতি হুমায়ূন আহমেদ 'ফাউনটেনপেন'-এ (শিলালিপি, ২৩.০৪.১০) খয়াল কানপুরির একটা লেখা ব্যবহার করেছেন: "জমিকে লালাউ গুল জিনহে খেয়াল নেহি, ও লোগ চান্দসিতারোঁ কি বাত করতে হ্যায়। ।"
হওয়া উচিৎ ছিল, "জমিঁ কে লালা-ও-গুল জিনহে খয়াল নেহি , ও লোগ চান্দ-সিতারোঁ কি বাত করতে হ্যায়ঁ [১]।" 
হিন্দিতে লালাউ গুল বলতে কোন শব্দ আছে বলে আমার জানা নাই। এটা হবে 'লালা-ও-গুল'। হিন্দিতে 'লালা-ও-গুল' বহুল ব্যবহৃত শব্দালঙ্কার, লালা-ও-গুল এটা একই সঙ্গে ব্যবহার হবে 
এটা কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের দোষ নাতিনি যেখান থেকে এই লেখাটা নিয়েছেন, যিনি এটা অনুবাদ করেছেন তার দোষ যেহেতু হুমায়ূন আহমেদের হিন্দিতে ন্যূনতম জ্ঞান নাই তাই তিনি যেটা পড়েছেন সেটাই লিখে দেয়েছেন। একজন হুমায়ূন আহমেদ হিন্দি না জানলে দোষ হয় না, সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ বাংলা না জানলে দোষ নাই, এঁদের লাজ হয় না? কিন্তু ইংরাজি ভাষাটা খানিকটা কম জানলে আমাদের শুলে চড়তে হয় [২]!

তাঁর একটা উপন্যাস আছে, 'চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক'এই উপন্যাসে তিনি অজস্রবার ব্যবহার করেছেন, এই কথাটা, "বিল্লি মে কাট দিয়া"অর্থাৎ বেড়াল কামড় দিয়েছে। মে হবে না, হবে নে। 'বিল্লি নে কাট দিয়া'- बिल्ली ने काट दिया
এই ভুল নিয়ে তাঁর যেমন বিকার নাই তেমনি 'মাতাল হওয়ায়' মাওলানা ভাসানী সম্বন্ধেও [৩]! এখানেই একজন লেখকের সঙ্গে একজন ব্লগার নামের লেখকের পার্থক্য। 
একজন অনুবাদক কেমন করে একজন নারীকে পুরুষ বানিয়ে দেন প্রথম আলোর [৪] অসাধারণ এই যাদু দেখার পর কপারফিল্ডের উপর থেকে আমার ভক্তি উঠে যায়!  

বিশেষ কৃতজ্ঞতা, ১. মোসতাকিম রাহী: http://www.mustakimrahi.com/

সহায়ক লিংক
৩. হুমায়ূন আহমেদhttp://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_6179.html
৪. প্রথম আলো: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_4871.html    
WhatsApp