Search

Tuesday, July 14, 2026

শিক্ষামন্ত্রী: সত্য-মিথ্যা, মিথ্যা-সত্য!

শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন:

কুমিল্লা একটা সেন্টার ব্যতীত কোন সেন্টারে পানি উঠেনি! ... ওই সেন্টারের একজন পরিক্ষার্থী পানিতে ভিজে গিয়েছিল। বাড়ি থেকে তার কাপড় আনা হয়েছিল এবং ১ ঘন্টা দেরিতে পরীক্ষা শুরু হয়েছিল!

এটা জেনে আমার খুব কান্না পাচ্ছিল, বুঝলেন! এতো মায়া-এতো মায়া! আমার এক চোখে জল, অন্য চোখে পানি চলে এসেছিল!

বিশ্বাস করেন, আমি মন্ত্রীদের সমস্ত কথা বিশ্বাস করতে চাই এবং আমি মন্ত্রীদের কথা বিশ্বাস করিও। কারণ?
মন্ত্রীরা সব জানেন, সর্বদা সত্য কথা বলেন এবং প্রচন্ড গরমের মধ্যেও স্যুট পরে থাকেন। এবং বিচিত্র কারণে আমরা যে দেখতে পাই তা দেখতে পান না!

'মন্ত্রীরা সব জানেন', অনেকে ভাবছেন, এটা আমি ফান করে বলছি। না! এটা আমি প্রমাণ করে মার্কেটে ছেড়ে দেব। শেখ হাসিনার সময় একজন বানিজ্য মন্ত্রী ছিলেন।

তিনি বললেন:

তার এলাকার লোকজন এখন খুব সুখে আছে। মহিলারা তিনবার লিপিস্টিক লাগাচ্ছে!

অন্যদের কথা জানি না কিন্তু আমার বউ কয় বেলা লিপিস্টিক লাগায় এটা আমি নিজেই জানি না অথচ মন্ত্রী তার এলাকার হাজার-লক্ষ মহিলাদের তিনবেলা লিপিস্টিক লাগাবার খবর দিব্যি জেনে বসে আছেন। আড়াই বার, পৌনে তিনবার না, একেবারে নিত্তিতে মেপে-মেপে তিনবার! 

যাই হোক, ফ্যাসিস্ট আমলের প্রসঙ্গ থাকুক। কিন্তু, কপাল আমার! জীবনে যা চেয়েছি তার উল্টোটা হয়েছে। কাকে ছেড়ে কাকে বিশ্বাস করব—মন্ত্রীকে বিশ্বাস করব নাকি এই ভিডিও ফুটেজগুলো? আমি খুব করে চাই কেউ এসে প্রমাণ করে দিক এই ফুটেজগুলো এআই দ্বারা নির্মিত।

এটা কুমিল্লা না! যতটুকু জানি কুমিল্লায় মেট্রোরেল নেই! অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী যদি বলেন, কুমিল্লায় মিরপুর আছে, মেট্রোরেল আছে। তাহলে আছে। মন্ত্রীর কথার উপর কথা চলে না।

এটাও কুমিল্লা না! বাই দ্য ওয়ে, বাপটা স্যুট পরে মিডিয়ার সামনে আসেনি, এটা পচা কাজ হলো!

যে বাবাটা জিন্দাবাদ-জিন্দাবাদ করছেন তার বক্তব্য আমরা খুব-একটা গুরুত্ব দিচ্ছি না কারণ তার গায়েও স্যুট নেই! 

এটা এআই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল কারণ মেয়েটা যে ভঙ্গিতে পানিতে পড়েছে এটা বাস্তবসম্মত না! 

অনুমান করি, এটাও এআই হবে কারণ আমাদের পুলিশ আবার এভাবে দায়িত্ব পালন করে নাকি!

এই যে শিক্ষকরা কাঁধে করে খাতার বস্তা নিয়ে যাচ্ছেন আপনিই বলুন এ কী বাস্তবসম্মত? এটাও যে এআই দিয়ে করা এটা বোঝার জন্য কোন মতো মন্ত্রী হওয়া লাগে না!

এই যে আমাদের আরেক মন্ত্রী বাহাদুর! তিনি ভদ্র ভাষায় বলছেন, চট্টগাম শহর নিয়ে যেসমস্ত সংবাদ এসেছে সবই বানোয়াট! তিনি শহরময় ঘুরে-ঘুরে প্রমাণ দিয়ে দিয়েছেন।
ভাগ্যিস, এই ফুটেজটা মন্ত্রীদের চোখে পড়েনি নইলে বলতেন এটা তামিল ছবির দৃশ্য! 





 



Monday, July 13, 2026

মোশারফ করীম: এক চামচ পাতলা 'ইয়ে' খান!

কেমন-কেমন করে যেন চালু হয়ে গেল এই মানুষটা বাংলাদেশের সুদর্শন পুরুষ!

অবশ্য একে 'সুদর্শন পুরুষ' না-বলে 'সুদর্শন মানুষ' বললে, আমি আপত্তি করতাম! বলতাম, ওয়াক!
কিন্তু, সুদর্শন পুরুষ বললে আমার আপত্তি নাই কারণ এটা মেয়েরাই ভাল বলতে পারবে—এদের চোখে এ সুদর্শন পুরুষ হলে আমি বাধা দেওয়ার কে! আমার কী!

'এখা', ওরফে এডলফ খান বলছে, রাত চারটায় তাকে ফোন করে কেউ বলছে, 'তোমার বাসার ছাদে হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছি। তোমাকে নিয়ে আসবে'। বাংলাদেশে কোন মেয়ের ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার আছে বলে আমার জানা নাই! ছেলেদের আছে, আনভিরের আছে...!

যাই হোক, এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না৷ হালে এ স্টেজে গা দুলিয়েছে:

এটাও গুরুত্বপূর্ণ না! সোস্যাল মিডিয়ায় এখন এন্তার চুতিয়ারা এসে জড়ো হয়েছে [], [], [], [৪]। এরা পারে না গা থেকে কাপড় খুলে ফেলতে।

এখা ওরফে এডলফ খান, স্টেজে গা দোলাবার সময় মোশারফ করীম বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন এবং পুরষ্কারও দিলেন। সিরিয়াসলি, মোশারফ করীম! বাংলা সিনামা হলে আমি ন্যাকা-ন্যাকা গলায় বলতাম, না-আ-আ-আ, এ আমি বিশ্বাস করি না!

আচ্ছা, ভাল পয়সা পেলে মোশারফ করীম কি টাট্টিখানায় মানুষ কেমন করে বসে এটা স্টেজে উবু হয়ে দেখিয়ে দেবেন?

বা ধরুন, আরও ভাল পয়সা পেলে?

তার অভিনীত এই ছবির সংলাপে যেমন বলছেন, কচকচ করে 'ইয়ে' খাবি...!

ডিয়ার, মোশাররফ করীম, আপনাকে 'মু বলে' ট্যাকাটুকা দেব, আপনি স্রেফ এক চামচ পাতলা গু খাবেন, সুড়ুৎ-সুড়ুৎ করে। পারবেন না, স্যার? আলবত পারবেন...! 

সূত্র: 

১. ওয়াকhttps://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post_148.html?m=1

২. এই জন্তুগুলোকে আটকাতে হবে: https://www.ali-mahmed.com/2026/03/blog-post_13.html?m=1

৩. হাজি সাব... :  https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post_08.html?m=1

৪. ব্রাত্য রাইসুhttps://www.ali-mahmed.com/2026/07/blog-post_11.html?m=1

 



Saturday, July 11, 2026

'এক ব্যাগ পিক্ষক': ব্রাত্য রাইসু!

এই গ্রহে কিছু মানুষ আছে এরা স্রেফ 'এটেনশন সিকার'! দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রয়োজন হলে নিজেই নিজের বস্ত্রহরণ করে ফেলবে। নমুনা:

ওই যে বললাম, 'নিজেই নিজের বস্ত্রহরণ'! তিনি আহমদ ছফা [*], সলিমুল্লাহ খান, এদের সঙ্গে নিজের নাম নিজেই ঢুকিয়ে দিয়েছেন! 

ওরে, আমাদের শিক্ষক! ওরে, আমাদের দার্শনিক!
(কাউকে-কাউকে নিয়ে লিখতে গিয়ে আমি ভয়ে-ভয়ে থাকি—চুতিয়া লিখে না ফেলি—এটা না-লেখার জন্য আমি নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছি! ভাগ্যিস, লিখিনি!)

তো, ব্রাত্য রাইসু, নিশ্চিত করছেন তিনি দেশ ও জাতির শিক্ষক, দার্শনিক! অন্যদের সাথে তিনিও ঠিক করবেন, আমরা কী ভাবব, কী শিখব!

পূর্বেও বহুবার  বলেছি, জ্ঞান হচ্ছে সরলরেখা। মানুষ শিখতে থাকবে এগুতে থাকবে—নাথিং গনা স্টপ! আর নির্বুদ্ধিতা হচ্ছে, বৃত্ত। যখন সে মনে করছে আমার জানা শেষ, বে-সিন, ব্যস! ফুলস্টপ! সে আর এগুতে পারে না! তখন সরলরেখাটা আর সরল থাকে না বৃত্তে রূপ নেয়—মানুষটা বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকে!
এই দোষে দুষ্ট হুমায়ুন আজাদও []!

আমি রাইসু স্যারকে নিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম, 'এক ব্যাগ আহাম্মক'। একজন দেশ ও জাতির শিক্ষক, 'ধার্ষনিক'-কে(আমি প্রায়শ বানান ভুল করি) তো আর এটা বলা চলে না তাই 'এক ব্যাগ পিক্ষক'!
ব্রাত্য রাইসুর 'অমড়' রচনা! 

অন্যদের কথা জানি না কিন্তু যে মানুষটার দোরা কাউয়ার সঙ্গে 'বিশেষ সখ্যতা'—যে উঁচু মানুষটা দোরা কাউয়া আর পাতি কাককে 'ইয়ে শেখাবার' জন্য পেয়ারা গাছের মগডালে উবু হয়ে বসে থাকেন সেই মানুষটার কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার ইচ্ছা অন্তত আমার নাই!

আহারে, মানুষটা কেমন করে শিক্ষক থেকে 'পিক্ষক' ('পক্ষীর বিশেষ কর্মকান্ড বিশেষজ্ঞ') হয়ে গেলেন এ এক বিস্ময়! আর এমন-এক জিনিস প্রসব করার পর তার আর প্রসববেদনার মধ্যে দিয়ে না-যাওয়াটাই সমীচীন!

ত্য রাই সু: https://www.ali-mahmed.com/2017/11/blog-post_30.html?m=1
২. এক বস্তা 'ডুমকফ': https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post_572.html?m=1

* এই 'পিক্ষক সাহেব' আহমদ ছফাকে নিয়ে একটা লেখা দিয়েছেন:
রাইসু লিখেছেন,
আহমদ ছফার সাক্ষাৎকার ১৯৯৬। প্রকাশিতব্য।
'প্রকাশিতব্য' মানে কী! এটা কী এখনও প্রকাশ হয়নি!
আহমদ ছফা জীবিত নাই। আপনার যা ইচ্ছা তা তাঁকে উল্লেখ করে ছাপিয়ে দিলেন, বাহ!
আর এটা ছফার সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ হয়ে থাকলেও এর সত্যতা কি? রাইসুর কাছে কি এটার অডিও-ভিডিও ক্লিপ আছে? থাকলে এই লেখার সঙ্গে অবশ্যই সূত্র দিতে হবে।
আর আমরা কথাচ্ছলে-গল্পচ্ছলে অনেক কথাই বলে থাকি আপনি ছোটলোক-ইতর না-হলে (যার আরেক নাম 'কুটনা') তা জনে-জনে বলে বেড়াতে পারেন না। তাছাড়া সাক্ষাৎকার হয়ে থাকলে রাইসু কি আহমদ ছফাকে অবগত করেছিলেন যে, এখন থেকে আপনার কথা রেকর্ড করা হচ্ছে? 
একজন 'এটেনশন সিকার', যে চোখের পলক না-ফেলে অনর্গল মিথ্যা বলে, 'শেন ওয়ার্ন কে, চিনি না', তার কথা বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই...!  
 

Thursday, July 9, 2026

'বাঞ্চো' ট্রাম্প তার বাম হাত এবং তার ছানাপোনারা!

Folarin Balogun, USA এর স্ট্রাইকার। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সাথে Round of 32 এর ম্যাচে VAR রিভিউ এর পর Tarik Muharemovic এর পায়ে স্ট্যাম্প করার জন্য রেড কার্ড পেয়েছিল।

ট্রাম্প নিজে স্বীকার করছে সে FIFA প্রেসিডেন্ট Gianni Infantino-কে কল দিয়ে 'রিভিউ' করতে বলছে কারণ তার মনে হয়েছে এটা ফাউলই ছিল না! 

FIFA রেড কার্ড বাতিল করে নাই। Article 27 অনুযায়ী ১ বছরের জন্য সাসপেনশন 'সাসপেন্ড' করেছে, তাই Balogun বেলজিয়ামের সাথে খেলতে পেরেছে। কিন্তু খেলেও লাভ হয় নাই!

Round of 16-এ বেলজিয়ামের সাথে খেলেছে। বেলজিয়াম ৪-১ এ USA-কে হারিয়ে দিয়েছে। USA বাদ।

এটা অভূতপূর্ব! এক বাঞ্চো ট্রাম্প কেমন করে আমেরিকার মত শক্তিশালী দেশকে উলঙ্গ করে দেয় যে মানুষ একবার থুথু ফেলার পরিবর্তে বারবার থুথু ফেলে।

ফিফার প্রেসিডেন্ট বাঞ্চো ট্রাম্পের সঙ্গে ঘষাঘষি আজকের না! বাঞ্চো ট্রাম্প যা বলে তাতেই হাসতে-হাসতে গড়িয়ে পড়ে:


আর্জেন্টিনা-মিশরের যে খেলাটা, এ বড় অদ্ভুত এক খেলা!
মাঠের একমাথায় ফাউল হলো। অন্য মাথায় গোল হলো। পুরো খেলা রেফারি চালিয়ে গেল কিন্তু বাঁশি বাজিয়ে খেলা বন্ধ করল না—এই সময়টায় রেফারি পেশাব করতে হিমালয়ে গিয়ে থাকলে অবশ্য কোন কথা নাই! 

রেফারি সবাইকে কার্ড দেখাতে পারে, কোচকেও, কেবল নিজেকে ব্যতীত! 

আর্জেন্টিনা জেতার পর বেচারা ফিফার প্রেসিডেন্টের উল্লাস লুকিয়ে রাখতে বেগ পেতে হচ্ছিল।

মিশরের কোচ যে সাইনটা দেখিয়েছেন এর অর্থ তো রেফারির জানার কথা!


মিশরের কোচ আগের খেলায় প্রতিবাদ হিসাবে মাঠে প্যালেস্টাইনের পতাকা উড়িয়েছেন।

আমাদের দেশের এক 'মহা-ল্যাকক' বড় ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এই কান্ডে তিনি চাউলের সঙ্গে পানি মেশাবেন না। এরপর কেমন করে ভাতের স্থলে কাচা চাল খেতে হয় তা 'হাতেপায়ে' দেখিয়ে দিয়েছেন।


ইসরাইলীরা কী আদৌ মানুষ? এই একটা ভিডিও ক্লিপ দেখলে, খানিকটা সংশয় থাকলে তাও দূর হবে!

এরপরও এদের পক্ষে কেউ দাঁড়ালে কেবল বাঞ্চো ট্রাম্পেরই গাত্রদাহ হয় না, তার ছানাপোনারাদেও হয়!

* 'বাঞ্চো' শব্দটি অভিধানে খুঁজে লাভ হবে না। এটা 'অভিধান বহির্ভূত' একটি শব্দ। কারও কর্মকান্ডে খুব 'মুগ্ধ' হলে তাকে বলাটা জরুরি হয়ে পড়ে।

Tuesday, July 7, 2026

জীবন বড় সুন্দর—জীবন বড় অসুন্দর!

'জীবন বড় সুন্দর' নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম, ২০২০ সালে। সাগরকে নিয়ে []। দেখা হয়েছিল ঠিক এই অবস্থায়! ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়। তখন তার জন্য একটা হুইল-চেয়ারের ব্যবস্থা করা গিয়েছিল।


শিশুটার ২ পা, এক হাত নেই। দুর্ঘটনার পর-পরই বাবা-মাও তাকে ফেলে দেয়।
আমি জীবনের কাছ থেকে শিখছিলাম কিন্তু বাবা-মা তার আপন সন্তানকে কেমন করে ফেলে দেয় এটা তখন মাথায় আসছিল না!

সেসময় ভাসানী নামের তার এই ভাই তাকে আগলে রেখেছিল যেটা আমাকে অসম্ভব, অসম্ভব মুগ্ধ করেছিল। এই কাল-কাল লিকলিকে ছেলেটার মধ্যে কী আছে যা আমার মধ্যে নাই! এত মায়া-এত মায়া! এ সবই পুরনো গল্প—২০২০ সালের কথা...।

এয়ারপোর্ট রেল-স্টেশনে আমি ট্রেন ধরব। ট্রেনের অপেক্ষায় আছি। জাগতিক কষ্টে খানিকটা অন্যমনস্ক ছিলাম সম্ভবত! আক্ষরিকভাবেই আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পা আটকে আছে—জোর করে কেউ ধরে রেখেছে। তাকিয়ে দেখি বড়সড় একটা বাচ্চা ছেলে। ছোট-ছোট বাচ্চারা অনেক সময় কিছু টাকা না-দিলে পা ছাড়ে না!

অনেক সময় এরা নেশার টাকার জন্য এই কাজ করে। এই ছেলেটি কিন্তু টাকা চাচ্ছে না। হাসি-হাসি মুখ করে বলছে, 'স্যা..., আপনে ভাল আছেন'? 

আমার স্মৃতিশক্তি ভয়াবহ কিন্তু আমি চিনতে পারলাম, 'তুমি সাগর না'? এরপরই এ আমাকে বলছে, 'স্যা..., কি খাইবেন? আপনে একটা-কিছু খান'?

আমার চেহারায় কঠিন-কঠিন একটা ভাব আছে। মানুষটাও আমি কঠিন টাইপের কিন্তু আমার চোখ ভরে এসেছে!

ট্রেন আসার আগ-পর্যন্ত এর সাথে কথা হয়, অনেক। তার সেই ভাই ভাসানী, সেও তাকে ফেলে চলে গিয়েছে। এখন এক পৃথিবী—এক সাগর! মাঝামাঝি আর কিছু নেই! কিচ্ছু না...। 

আমার পুরনো কষ্ট ফিরে আসে। মেঘে-মেঘে বেলা হয়ে যাচ্ছে বিদায়বেলা ঘনিয়ে আসছে কিন্তু এদের জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারলাম না। একটা পাইপমানুষ হয়েই রয়ে গেলাম—এই গ্রহে এসেছি কেবল খেতে আর বর্জ্যত্যাগে! 

ট্রেন ঢুকছে। যাওয়ার সময় তাকে বলি, 'দাঁড়াও, তোমার একটা ছবি তুলি'।

'দাঁড়াও' এই কথাটা কথাচ্ছলে বলা কিন্তু এ তো আর দাঁড়াতে পারবে না। আমার নিজের পা'র দিকে তাকিয়ে আমার নিজেকে বড় অপরাধী মনে হচ্ছিল....!

সূত্র:

১. জীবন বড় সুন্দরhttps://www.ali-mahmed.com/2020/03/blog-post.html?m=1



Monday, July 6, 2026

বিশ্বকাপ ২০২৬ Vs শায়খ আহমাদুল্লাহ গং!

বিশ্বকাপের উম্মাদনা প্রায়শ সীমা ছাড়িয়ে যায় এ সত্য। কিন্তু এ-ও সত্য, আমাদের গল্প করার মত গল্প কম!

বৈচিত্র্যহীন জীবনে মাঝে-মাঝে বৈচিত্রের প্রয়োজন আছে বৈকি।

আমাদের ধর্মীয় শিক্ষকরা সব কিছুতে বাম হাত ঢুকিয়ে দেন—একটা-না-একটা ফতোয়া কামানের গোলার মত ছুড়ে দেবেন নির্ঘাত!

নামাজ শুরু হওয়ার আগে ইমাম সাহেব নিয়ম করে বলবেন, টাখনুর উপরে কাপড় রাখার জন্য। আবার কিছু মোল্লা সাহেব 'গভেষণা' করে বের করেছেন টাখনুর নীচে কাপড় থাকলে পুরুষদের 'টেস্টা-ফেস্টারন' নিয়ে ভয়াবহ সমস্যা হয়। এই সমস্যা কেবল লিকলিকে বঙালদের হয় লম্বা রেসের ঘোড়া সৌদি-ফৌদিদের হয় না!

এই যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের, এদের টাখনু নিয়ে সমস্যা হয় না?
এই বিশ্বে পাক্কা মুছলমান-সব হচ্ছে বাংলাদেশে! অথচ এদেশে সবচেয়ে বেশি দূর্নীতি হয় রমজান মাসে (এমন একজনকে যদি এনে দিতে পারেন যে ১১ মাস ঘুষ খায় কিন্তু রমজান মাসে খায় না, প্রকাশ্যে পা ধরে সালাম করব)!

মুর‍তাদের দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স এইসব দেশে রামাদান উপলক্ষে অন্তত ২৫ ভাগ ছাড় দিলেও আমরা সিয়ামের মাসে ২৫০ পার্সেন্ট লাভ করি!

কোথাও কোন প্রার্থনাস্থলে-মসজিদে জুতা চুরি হয় এবং নামাজে জুতা নিয়ে গেল কি না—এই নিয়ে মাথায় কেবল ঘুরপাক খায়, এ-ও এক বিরল দেশ, বাংলাদেশ! জাতীয় সংসদ থেকে সাংসদ হানজালার জুতা চুরি হয়ে গেল।

তারচেয়ে ভয়ংকর হলো, মসজিদে একবার আমার জুতা চুরি হলো। আমি এদিক-ওদিক খুঁজছি। (নামাজ পড়ে বেরিয়েছেন) একজন সহৃদয় মানুষ অমায়িক ভঙ্গিতে বললেন, 'আরে পাইবেন না, বাদ দেন। এইখান থিক্যা একটা নিয়া যান'।

অথচ শিখদের পবিত্র জায়গা গুরুদুয়ারায় অন্যদের জুতা পরিষ্কার করাকে পবিত্র কাজ মনে করা হয়!

শায়খ আহমাদুল্লা ফুটবল নিয়ে ফতোয়া দিয়েছেন।

'সতর' নাকি দেখা যায়! আমি ভুল শুনছিলাম 'চুতার'! 'চুতার' মানে '..ছা' দেখা গেলে অবশ্যই আপত্তিকর কারণ তাহলে বর্জ্য নিষ্কাশন যন্ত্রের ফুটো দেখা যাবে! এতে আমিও আপত্তি করতাম। কিন্তু 'সতর' (ستر)—পুরুষের সতর: নাভির নিচ থেকে শুরু করে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত।

এই যে সাদা জার্সিতে সৌদি আরব খেলছে! নাভির নীচে খোলা তো দেখছি না!  মোজা-টোজা সহ ধরলে কেবল ইঞ্চি দুয়েক ফাঁকা! 

অনেকে বুঝতেই পারে না একজন খেলোয়াড় কেমন করে সমস্ত বিশ্বকে নাড়িয়ে দিতে পারে। 
১৮ বছরের এক তরুণ 'লামিল ইয়ামাল' প্যালাইস্টানের পক্ষে দাঁড়িয়ে সমস্ত পৃথিবী কাঁপিয়ে দিল! সে একা যা করেছিল তা লক্ষ-লক্ষ মোল্লা ওয়াজ করে করতে পারেননি! 
আমাদের দেশের মোল্লারা আবার যান ইসরাইলের দূতাবাস ঘেরাও করতে অথচ বাংলাদেশে ইসরাইলের দূতাবাস কখনও ছিলই না! এই হচ্ছে এদের জ্ঞানের নমুনা!

এমনিতে আহমাদুল্লাহ ক্রিকেট খেললে কোন সমস্যা নাই?

ভাল কথা, এই যে সচিত্র মানে ভিডিও করে আপনারা যে বিভিন্ন ফতোয়া দেন বা ওয়াজ করেন; এই যে ভিডিও-এর নামে ছবি তোলা হয় যেগুলো জোড়া দিলে হাজার-লক্ষ ছবি হবে এতে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নাই?
আছে তো, মারাত্মক নিষেধাজ্ঞা আছে। তা, এটা পালন করেন না কেন! দু' ইঞ্চি চামড়া খোলা থাকার জন্য হারাম বলে বিরাট ফতোয়া দিবেন আর এই বিষয়ে উদাসীন থাকবেন এ কেমন বিচার!


 

 

Friday, July 3, 2026

শাওন, সরি টু সে, আপনি একজন ইতর, 'মহিলা ইতর'!

জুলাই নিয়ে যার-যার নিজস্ব মত থাকতেই পারে! কেউ-কেউ জুলাই নিয়ে মত পাল্টাতেও পারেন!

এখানে কিন্তু মিথ্যা বলা হচ্ছে না। শেখ হাসিনার অন্তর্বাস নিয়ে যখন উল্লাস করা হচ্ছিল তখন কিন্তু কাউকে দেখা যায়নি এটা থামাতে!ধরে নিলাম বড় অস্থির, এলোমেলো সেই সময়! কেউ কাউকে থামাতে পারছে না!

কিন্তু হাদি যে অতি কুৎসিত গালিটা চালু করে দিয়ে গেলেন এ নিয়েও তারও কোন বিকার ছিল না, আমাদের তেমন বিকার নাই। মেয়েরা-মায়েরা অবলীলায় একাত্ম হয়েছে এই গালির সঙ্গে, গলা মিলিয়েছে! মাহমুদুর রহমানের মত সো কলড সুশীলরা বিমল আনন্দে বসে-বসে এই গালি শুনেছেন!

এমনিতে যে-কোন বিষয় আপনি দ্বিমত করতে পারেন, আলবত পারেন৷ আপনি তো আর আপনার পছন্দ-অপছন্দ অন্য কারও উপর চাপিয়ে দিতে পারেন না। 

এ সত্য, ওই সময়ে প্র. ইউনূসের হয়তো বিকল্প ছিল না! আহা, এমন না যে আমরা জানতাম না, প্র. ইউনূসের [] আছে লোভে চকচক করা এক অভূতপূর্ব চোখ! কিন্তু আমরা ভেবেছিলাম সাপও তো খোলস বদলায়, জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে থাকা ৮৪ বছরের এই মানুষটা কী আর বদলাবেন না! উঁহু, না, বদলাননি!

এখন প্রবল আশা, ওয়াল্লাহ, মানুষটা দেখছি অমর নন! গলাকাটা ফতুয়ার সঙ্গে লেপ্টে থাকা চামড়া আর টান টান নাই! হাড় এবং চামড়া যখন সঙ্গ ছেড়ে দেবে তখন হয়তো বদলাবার সুযোগ পাবেন কিন্তু দেখে যেতে পারবেন না! আফসোস!

এ সত্য, হাসিনা গুমকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। দেশটাকে তার বাবার দেশ বানিয়ে ফেলেছিলেন। সাধারণ মানুষের কষ্ট-বেদনাকে তিনি যেভাবে চিবিয়ে-চিবিয়ে বলতেন, এ বিরল! বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেই, পানি বন্ধ করে দেই; কথা শুনে মনে হতো, এইসব তার পারিবারিক তালুক। এরা এটা বিস্মৃত হন, যে আমরা এদেরকে মাসে-মাসে বেতন দেই আমাদের দেখভাল করার জন্য।

স্টেপ ডাউন হাসিনা, রেজিম চেঞ্জ—কারা-কারা হালুয়ার ভাগ পাবেনএই পরিবর্তনে কে-কে কোন শূন্যস্থান পূরণ করবেন—কারা-কারা থানার অস্ত্র লুট করাবেন—কে-কে স্নাইপার দিয়ে গুলি করবেন—ইউনূসের ছেলেরা কেমন করে ডাঙর হয়ে উঠবে[]—আসিফ নজরুলের মত একজন সুলেখক কেমন করে চালবাজ হয়ে যাবেন—পূর্বে শিবির বলে ফট করে মেরে ফেলা যেত, এখন আওয়ামীলীগ বলে—আমাদের আগেও বিকার ছিল না, এখনও নাই—সবই তো আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে!

শেখ হাসিনাকে মুছতে গিয়ে ইতিহাস মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা চলমান, আজও! আপনি-আমি-আমরা শেখ মুজিবর রহমানের হাজার সমালোচনা করতে পারবেন। করেন, কোন সমস্যা নাই! ৭ মার্চের ভাষণ ছাত্রদের চাপে পড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। শেষ সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেছেন...! 

কিন্তু ইতিহাস থেকে তাঁকে মুছে ফেলতে পারবেন না! শেখ মুজিবর রহমান কী ছিলেন এটা বোঝার জন্য একাত্তর পূর্ববর্তী পত্র-পত্রিকায় চোখ বুলাতে হবে।

খুব বেশি পরিশ্রম করতে হবে না তৎকালীন দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পৃষ্ঠাগুলো দেখলেই হবে। সেসময় শেখ মুজিবর রহমান কী ছিলেন! 'জয় বাংলা' কাদের শ্লোগান ছিলো? ৩২ নাম্বার বাড়িতে কী হত! ৭ মার্চের ভাষণ দিকভ্রান্ত মানুষকে কেমন দিক দেখাল! কেমন-সব অকল্পনীয় আত্মত্যাগ! ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮

দিন যায় কথা থাকে! কালে-কালে বাকশাল হলো, টাকশাল হলো মুজিব সজীব হয়ে গেলেন, এই নিয়ে দিন-রাত এক করে সমালোচনা করেন কোন সমস্যা নাই। কিন্তু ইতিহাস কাঠ পেন্সিলের লেখা না যে ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলা যাবে!
আর এই সমস্ত কথা, একাত্তর বড় না চব্বিশ বড়—বাপ বড় না পোলা বড়? এগুলো বলে জোকার হবেন না! দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে বলছেন, বয়সে তিনি নাকি বাবাকে ছাড়িয়ে গেছেন! আখেরি জমানা বলে কথা, হতেও পারে! 

সবকিছুতে বাম হাত ঢুকিয়ে দিয়েন না। সবকিছুতে হাসিনা-ভারত বলে চুতিয়া হইয়েন না, প্লিজ। যেমন আমাদের আলোকিত মানুষ শহিদুল আলম, দিপু দাস নামের একজন নিরীহ মানুষকে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলল আর এই দানব প্রসব করলেন এই লেখা, ক্রুদ্ধ জনগণ, হাসিনা রেজিম-ভারতের প্রতি মানুষের ক্ষোভ...! এ-ও ভয়াবহ এক অন্যায়কে জাস্টিফাই করার অপচেষ্টা!
আমি শহিদুল আলমের প্রসব বেদনার প্রতি কাতর হই!

আসলে আমরা আমরাই তো, 'বঙাল' বলে কথা—আমরা এমনই, আমরা বদলাব না—রাম যাবে শ্যাম আসবে, স্যাম যাবে যদু আসবে—কিন্তু,আমরা শ্লা বদলাব না! 
কিন্তু তাই বলে এ চিত্র মিথ্যা হয়ে যাবে না!

জনতা-ছাত্র আন্দোলনে []! সাধারণ মানুষ অকাতরে প্রাণ দিয়েছিল ব্যক্তি স্বার্থে না—একটা স্বপ্ন, অদেখা স্বপ্ন—সুখী জীবনের স্বপ্ন—গরম-গরম ভাতের স্বপ্ন! মৃত্যুর পূর্বে এরা জানত না এদের গলিত মাংস টুকরো-টুকরো করে বিক্রি করবে এদেরই স্বজন, সহযোদ্ধা, নেতারা, বিভিন্ন নামে!
মা'র বাচ্চাটাকে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। বাবুটাকে একটু স্পর্শও করতে পারেননি! পোড়া মাংস দলা পাকিয়েছে, হাড় কোথায় অনাদরে ছিটকে পড়েছে!



মেহের আফরোজ শাওন, ভাগ্যিস, এই ছেলেটা আপনার না! আপনার মত প্রতিভাবান একজন মানুষ এটা প্রমাণ করে দিলেন ইতর হওয়ার জন্য কেবল প্রতিভাবান না, মা হওয়াটাও জরুরি না!
এই স্ক্রিনশটটি শাওনের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া। কৃতজ্ঞতা।
মেহের আফরোজ শাওন কেবল গুণী মানুষই না, লেখক হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী এবং দু'টি বড়-বড় বাচ্চার মা। এমন একটা মানের মানুষকে কেমন করে বলি, আপনি একটা ইতর!

আপনার কষ্ট, ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশ করতেই পারেন কিন্তু আপনি তো সেই ইঁচড়েপাকা মেয়ে না, যে ফজলুর রহমানের বাড়ির সামনে গা দুলিয়ে বলছিল, 'ফজলুর রহমান আমার....'! 
আচ্ছা, আপনার সন্তানের চোখে চোখ রাখতে হবে না আপনাকে?

যাই হোক, শাওনের এই ইতরামির ফলে শাওন একটা বিজয় উল্লাস করতে পারেন কারণ তিনি আমাদেরকেও খানিকটা তার পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পেরেছেন, এ-ও তার অন্য রকম বিজয়...!

সূত্র:

১. ইউনূসনামা: https://www.ali-mahmed.com/2026/05/blog-post_10.html?m=1

২. ইউনূসের ছেলেরা...https://www.ali-mahmed.com/2025/07/blog-post_28.html?m=1

৩. জনতা-ছাত্র আন্দোলন: https://www.ali-mahmed.com/2024/07/blog-post_17.html?m=1

৪. সাদী মহাম্মদ: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/1971.html

৫. মশিহুর রহমান: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_06.html
৬. সুরুয মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_28.html
৭. উক্য চিং: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8752.html
৮. ভাগিরথী: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_6057.html
৯. প্রিনছা খেঁ: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_27.html
১০. রীনা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_7644.html
১১. দুলা মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_08.html
১২. মুক্তিযুদ্ধে, একজন ঠেলাওয়ালা: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_18.html 
১৩. মুক্তিযুদ্ধে  সুইপার: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8807.html
১৪. নাইব উদ্দিন আহমেদ: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_2292.html
১৫.  একজন ট্যাংকমানব: https://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_03.html  
১৬. ফাদার মারিনো রিগন: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_7597.html
১৭. শুয়োর চড়ানো একজন বীরপ্রতীক...:  https://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_1.html?m=1

১৮. লালু: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post.html




Wednesday, July 1, 2026

আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিসেস বনাম নিকৃষ্টতর সার্ভিস!

'Anowara Medical service', এটা আজকের প্রতিষ্ঠান না! এই প্রতিষ্ঠানে বহু পূর্বে গিয়েছিলাম আমার মা'র একটা টেস্টের কারণে! তখনকার তেমন স্মৃতি মনে নাই! আবার যাওয়া হলো গতবছরের শেষের দিকে! আমার পরিচিত একজনের NFAC করাতে।
এ ভারী বিচিত্র যে ডাক্তার এখানে করাবার জন্য রেফার করেছেন, তিনি পইপই করে বলে দিয়েছেন এখানেই করাতে হবে, হবেই। অথচ এই টেস্টটা এভারকেয়ার, স্কয়ার সহ বেশ কিছু জায়গায় হয়!
'আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিস' নামের এই প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস যে এত বাজে আর এখানকার লোকজন এমন উদ্ধতস্বভাবের হতে পারে তা অকল্পনীয়! যে রোগীরা ওখানে যান অধিকাংশই 'বায়াপসি'-র কারণে। এমনিতেই অসম্ভব ভয়ে কাবু হয়ে থাকেন কারণ এখানকার টেস্টের উপর নির্ভর করছে, তাঁর ক্যান্সার আছে, কি নাই? যারা হাজার-লক্ষ টাকা পরিশোধ করেন তাদের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের আচরণ দেখে মনে হবে এরা ওখানে গেছেন ভিক্ষা চাইতে!

এরা কী অভদ্র-অমার্জিত ভঙ্গিতেই না চিৎকার করে বয়স্ক-বয়স্ক রোগিদেরকে ডাকে, এই আবদুল্লাহ আছে, আবদুল্লাহ—এই মমতাজ আছে, মমতাজ! গিজগিজ-করা, ভরা মজলিসে এখানকার-এক স্টাফ এক ভদ্রমহিলাকে বলছে, আপনার স্যাম্পল দুই বুক থেকেই নেওয়া হবে! আমি স্পষ্ট দেখছিলাম ভদ্রমহিলা লজ্জায় কুঁকড়ে যাচ্ছেন। এমনিতেই তিনি ভয়ে আধমরা হয়ে আছেন, ক্যান্সার ধরা পড়ে কি না এই আতংকে তার উপর এই লজ্জা।

আমি এখানকার এক সুপারভাইজরকে বললাম, এভাবে রোগীদেরকে...।  তিনি কথা শেষ করতে দিলেন না বিরক্ত হয়ে বললেন, 

এইটা কোন বিষয় না, এখানে সবাই রোগী, ব্লা-ব্লা-ব্লা!

আমি দেখলাম, এদেরকে বোঝাবার সাধ্য আমার নাই!

ফিরে এসে আমি গুগলে আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিস খুঁজে বের করলাম। সর্বনাশ, এদেরকে নিয়ে অনেকে অনেক  দুর্দশার কথা লিখেছেন, টাকা-পয়সা নিয়ে ডাকাতির কথা লিখেছেন। অজস্র মন্তব্য আকারে বেদনার কথা! আমিও একটা রিভিও লিখলাম। ভাগ্যিস, লেখাটার একটা স্ক্রিনশট রেখেছিলাম একজনের সঙ্গে শেয়ার করার কারণে। সেখান থেকে আজ উদ্ধার করলাম।

ট্রাস্ট মি, রিভিওটা গুগলে পোস্ট করে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। কিছুদিন পর দেখি গুগল আমার মেইলে এটা পাঠাল তোমার রিভিও এত লোক দেখেছে!

এটা নতুন কিছু না। গুগল হিসাব-টিসাব করে জানিয়ে দেয় যেন লোকজনেরা উৎসাহিত হয়। 

যাই হোক, 'আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিস' নতুন স্থাপনায় স্থানান্তরিত হয়েছে এটা জানতাম কিন্তু এরা ঠিকানা সহ সব বদলে ফেলার কারণে বা কিছু কেরামতির কারণে আগের শত-শত রিভিও উধাও! এখন কেবল ৮টা রিভিও দেখাচ্ছে!

তাও নেগেটিভ রিভিও! আসলে এরা বদলাবে না! কয়লা ধুলে যেমন ময়লা যায় না—আফসোস, তেমনি আমি ভুলে যেতে গিয়েও ভুলতে পারলাম না! আহা, এরাও যদি বদলে যেত আর আমিও ভুলে যেতে পারতাম তাহলে ভাল হত!
কপাল, ড্রেন রাস্তার মাঝখানে চলে আসে...! 



WhatsApp