Search

Showing posts with label ন্যানো ক্রেডিট. Show all posts
Showing posts with label ন্যানো ক্রেডিট. Show all posts

Thursday, December 23, 2010

একজন আনোয়ারা বেগম...

এই মানুষটার নাম আনোয়ারা বেগম। এই মহিলাকে দেখতাম একটা এনামেল ফ্যাক্টরিতে উদয়াস্ত পরিশ্রম করতে। দূর থেকে দেখে কেবল মনে হতো, যাক, মহিলা মানুষ একটা কাজ-টাজ করে খাচ্ছে, ভালই তো। এমনিতে হাসিখুশি একজন মানুষ! কখনও কারও প্রতি অভিযোগ জানাতে দেখিনি। এই মানুষটার এই হাসি-হাসি মুখের পেছনের বেদনাটুকু টের পেতে অনেক সময় লাগল।

একটা ফার্মেসির মালিকের কাছ থেকে যেটা জানা গেল, যে কারখানায় তিনি কাজ করেন এখানে বেতন হলো এক হাজার টাকা। একজনের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা সুদে নিয়েছেন। প্রতি মাসে সুদ দিতে হয় পাঁচ শ টাকা। সাড়ে তিন হাজার টাকায় পাঁচ শ! ইউনূস সাহেবরা কেন এতো সফল এটা এখন বুঝতে পারি।
আমি অবাক হই, এই এক হাজার টাকা থেকে পাঁচ শ টাকা দিয়ে দিলে ইনার চলে কেমন করে? ইনি নাকি সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি করে কায়ক্লেশে জীবন-যাপন করেন।

আমি আনোয়ারা বেগমের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, আপনি এতো চড়া সুদে টাকা ধার নিয়েছিলেন কেন? নিমিষেই মানুষটার মুখের হাসি উধাও হয়। মাথার যন্ত্রণার জন্য পুরো টাকাটাই গেছে চিকিৎসার পেছনে। এর জন্য আমরাই দায়ী। একটা উপজেলা হাসপাতালে কী চিকিৎসা হয়! ছাতাফাতা ঘোড়ার ডিম! বিশেষজ্ঞ কোন ডাক্তার দূরের কথা প্রয়োজনীয় ডাক্তারেরই বালাই নাই। না আছে এক্স রে মেশিন, না আছে প্যাথলজি- আছে কেবল কিছু মানুষদের সীমাহীন লোভ এবং তাঁদের চেলা চামুন্ডাদের লকলকে জীব।

যাগ গে, এর বেশি জেনে আমার কাজ নেই। আমার এখন যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে, ন্যানো ক্রেডিটের [১] আওতায় সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে এই মানুষটাকে সুদখোরের হাত থেকে রক্ষা করা। একজন মানুষকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলাম যিনি এই টাকাটা আনোয়ারা বেগমকে ধার দেবেন। আনোয়ারা বেগম তাঁর সাধ্যমত মাসে মাসে টাকাটা পরিশোধ করবেন।

সহায়ক সূত্র:
১. ন্যানো ক্রেডিট:
http://tinyurl.com/39dkbhh 

Wednesday, December 8, 2010

আজ তোমার গায়ে হলুদ, মেয়ে

শাহানা বেগমকে আমার কাছে নিয়ে এসেছিলেন অন্য একজন মানুষ। অনুরোধটাও ছিল ওই মানুষটারই।

শাহানা বেগমের মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। বিয়েতে আর্থিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিয়েতে সহায়তা দেয়ার মত কোন সুযোগ আপাতত আমার নাই এটা প্রথমেই জানিয়ে দেই। কেউ নিরাশ হলে আমার কীই-বা করার আছে?

কিন্তু শাহানা বেগমের জীবন-যুদ্ধের গল্প শুনে মনটা বিষণ্ন হয়। স্বামীর মৃত্যু হয়েছে অনেক কটা বছর। বাজারে তিনি সব্জী বিক্রি করেন। তাঁর দুই মেয়ে, বড়ো মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোটটা কলেজে পড়ত। সব্জী-টব্জী বিক্রি করে করে, মেয়েটাকে অনেক দূরের কলেজে ভর্তি করিয়ে পড়াশোনা করিয়েছেন। এখন ভাল একটা ছেলে পেয়েছেন, বিয়ের ঝামেলাটা চুকিয়ে ফেলতে চান।
আলাপে জানা গেল এই ছেলে প্রায় অশিক্ষিত। একজন অশিক্ষিত ছেলের কাছে কেন মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছেন এটা জানতে চাইলে তিনি বিমর্ষ হয়ে জানালেন, তাঁর মত দরিদ্র মানুষের কাছে শিক্ষিত ছেলে তো আর আসবে না, উপায় কী! আশেপাশের সবাই এটাই সমীচীন মনে করছে এই ছেলেটার কাছে বিয়ে দিতে। ছেলের বংশ ভাল, ট্রাক্টর চালায় ইত্যাদি।

এই প্রসঙ্গে যখন কথা হচ্ছে তখন আমার সঙ্গের মানুষটা রাগে চিড়বিড় করে বললেন, না-না-না, এটা হতে পারে না। অশিক্ষিত একটা ছেলের কাছে আপনার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্যই কি আপনি এতো কষ্ট করে মেয়েকে কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন!
আমি চোখ দিয়ে ইশারা করে মানুষটাকে থামতে বললাম। জীবনটা সিনামা না। এখানে রক্ত চাই-রক্ত চাই টাইপের সংলাপ আউড়ানো চলে না। মেয়েটার এই বিয়ে থামিয়ে দেয়া চাট্টিখানি কথা না। এখানে এমন ছেলে খুঁজে পাওয়া যাবে না যে উঁচু স্বরে হাততালি দেয়ার মত সংলাপ বলবে, এই বিয়ে না-হলে এই মেয়েকে আমি বিয়ে করব।

যাই হোক, কথা প্রসঙ্গে এটাও জানা গেল শাহানা বেগম সব্জী ব্যবসা করার জন্য এক হাজার টাকা সুদে নিয়েছেন। এবার আমি খানিকটা নড়েচড়ে বসি। কারণ ন্যানো ক্রেডিটের [১] আওতায় এই টাকাটা দেয়া সম্ভব। একজন এই টাকাটা আমাকে দিয়েছিলেন এই শর্তে যেন কাউকে এই টাকাটা ব্যবসার জন্য দেয়া হয় এবং একজনকে দিলে ভাল হয়।
শাহানা বেগম আনন্দের শেষ নাই কিন্তু আমার মনে ঘোর সন্দেহ। আমি বলেই ফেললাম, আপনি এই টাকাটা আবার বিয়েতে খরচ করে ফেলবেন না তো?
শাহানা বেগম 'আইতাছি' বলে উধাও হলেন। ফিরে এলেন সুদখোর মানুষটা নিয়ে। সুদখোর মানুষটা টাকা বুঝে নিয়ে গেলেন। ঈশ্বর, এই মানুষটাকে তো আমি নিয়মিত মসজিদে যেতে দেখি!

আমার কাজ থেকে অকাজ বেশি। শাহানা বেগমের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। পূ্র্বেও উল্লেখ করেছি অহেতুক হাঁটাহাঁটির বাজে অভ্যাস আছে আমার।
আজ হাঁটতে গিয়ে শাহানা বেগমকে পেয়ে যাই। আরও দু্-একজন মহিলার সঙ্গে সব্জী বিক্রি করতে। আমি হাঁ করে তাকিয়ে থাকি। কেন? এমন তো আমার জানা নেই তিনি সব্জী বিক্রি করেন, তাহলে কেন? কিছু কিছু দৃশ্য আছে দেখতে ভাল লাগে, মনটা অন্য রকম হয়!
ফিরে এসে শাহানা বেগমকে যিনি আমার কাছে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তাঁর কাছে জানা গেল, আজ শাহানা বেগমের মেয়ের গায়ে হলুদ। অথচ এই মাটা সব ফেলে ঠিকই দোকানের পশরা সাজিয়ে বসেছেন।

বিয়ের আয়োজনের কি অবস্থা এটা জানতে চাইলে তিনি জানালেন, আত্মীয়-স্বজনরা সবাই কিছু কিছু করে সহায়তা করে অনেকটা এগিয়ে ফেলেছেন। লেপ-তোষক-বালিশে এসে এখন এই মহিলা আটকে আছেন। সব মিলিয়ে ২২০০ টাকার মামলা। পরের অংশটুকু শোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। আহারে-আহারে, এই মাটা জগদ্দল পাথর বুকে নিয়ে ক্রেতার সঙ্গে কথা বলছেন, ঠিক ঠিক পয়সা গুণে নিচ্ছেন! মেয়েটা হয়তো গাল ফুলিয়ে বসে আছে, আম্মাটা যে কি, আজও বাজারে যেতে হবে কেন!

আমি খানিকটা অন্যমনস্ক হয়ে পড়ি হয়তো কিন্তু মস্তিষ্ক কাজ করছে ঝড়ের গতিতে। অতি দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে এমন কাউকে যিনি এই টাকার সহায়তা দিতে পারবেন। অবশ্য না-পাওয়া নিয়ে আমার অস্থিরতা নাই। কাউকে-না-কাউকে পাওয়া যাবে এতে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই...।

সহায়ক লিংক:
১. ন্যানো ক্রেডিট: http://tinyurl.com/39dkbhh 

Sunday, November 14, 2010

এক বিজেতা এবং এক কুলাঙ্গারের গল্প

(কিছু নরোম মনের মানুষ আছেন। যারা চিঁ চিঁ করে ছাপার অক্ষরে কথা বলেন। আলাপ সূত্রে এদের কাছে আমি একজন দুর্বিনীত মানুষ হিসাবে পরিচিত। আপনাদের সো-কলড, আমার দুর্বিনেয় আচরণ নিয়ে আমার বিশেষ মাথাব্যথা নাই। একেকজনের কাজ করার ভঙ্গি একেক রকম, আমি এই রকমই। আপনারা আপনাদের ছাপার অক্ষরের চিঁ চিঁ স্বর নিয়ে রয়েসয়ে 'সুশীলডিম্বে' তা দিতে থাকুন এবং দয়া করে এই লেখাটা পড়া থেকে বিরত থাকুন।)

মন মিয়ার [১] পর ইনি হচ্ছেন দ্বিতীয় মানুষ যিনি ন্যানো ক্রেডিট [২] সফলতার সঙ্গে শেষ করেছেন, সময়ের পূর্বেই! মানুষটা হচ্ছেন মালতি রানী সাহা [৩]। তাঁকে ন্যানো ক্রেডিটের আওতায় এ বছরের জুলাইয়ে ১০০০ টাকা দেয়া হয়েছিল, স্কুলে চাটনি-চকোলেট বিক্রি করবেন বলে। মাসে মাসে টাকাটা শোধ করে ফেলেছেন। আবারও তাঁকে টাকা দিতে কোন সমস্যা নাই। কিন্তু তাঁর কাছে আমার যেটা জানা প্রয়োজন, এই টাকাটা নিয়ে আদৌ তাঁর কোন সুবিধা হয়েছে কিনা? নাকি নিলাম আর দিলাম।

কেবল তাঁর সঙ্গেই কথা বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু সঙ্গে ভাল প্যান্ট-শার্টপরা একজন মানুষকে দেখে প্রচন্ড বিরক্ত হলাম, মানুষটা বেশ নাদুস-নুদুস। ধরাধরি জিনিসটা আমার পছন্দ না, তাছাড়া তাঁকে যেখানে বলা হয়েছিল আবারও ঋণ দিতে কোন সমস্যা নাই সেখানে সুপারিশের জন্য লোক আনা কেন!
আমি বিরক্তি গোপন করে বললাম, সঙ্গে ইনাকে এনেছেন কেন?
মালতি রানী সাহা উত্তর দেয়ার পূর্বেই মানুষটা আগ-বাড়িয়ে বলেন, আমার মা।
আমি এবার পূর্ণ দৃষ্টিতে মালতি রানীর ছেলেকে দেখি। মাশাল্লা, শরীর একখানা! মনে মনে ভাবছিলাম, গদাম করে একটা লাথি পেছনে দিলে কেমন হয়?
আমি থেমে থেমে বললাম, ও আচ্ছা, ইনি আপনার মা। বেশ-বেশ, শুনে খুশি হলাম। তা আপনি কি করেন?
আনাজ-তরকারির ব্যবসা করি।
কেমন চলে ব্যবসা।
আপনাদের আর্শীবাদে ভালই। আপনে মারে বলে টাকা দিবেন?
সেটা পরের কথা। যতটুকু জানি, আপনি আপনার মার কোন খোঁজ-খবর কখনই রাখতেন না, এখন কোত্থেকে হাজির হলেন?
মানুষটা চুপ। এরপর আমি যেটা বললাম এর জন্য সম্ভবত প্রস্তুত ছিলেন না। আপনার মাকে টাকা দেব কিন্তু এর জন্য এখানে তার কুলাঙ্গার সন্তানের থাকার প্রয়োজন নাই। আপনি এখান থেকে যেতে পারেন।

কুলাঙ্গারটা বিদায় হওয়ার পর মালতি রানীকে বললাম, আমি আপনাকে এখুনি টাকা দিচ্ছি কিন্তু শর্ত একটাই এখান থেকে এক টাকাও আপনার ছেলেকে দিতে পারবেন না। এই শর্তে রাজি থাকলে বলেন। মালতি রানী আমাকে কথা দিয়েছেন এই টাকাটা তিনি নিজের ব্যবসার কাজে লাগাবেন।

সহায়ক লিংক:
১. মন মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/09/blog-post_18.html 
২. ন্যানো ক্রেডিট: http://tinyurl.com/39dkbhh 
৩. মালতি রানী সাহা: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_14.html

Saturday, November 6, 2010

সোনার বাংলা...

ন্যানো ক্রেডিট [১] বিষয়টা আমাকে আক্ষরিক অর্থেই হতভম্ব করেছিল, কোথাও আটকায়নি! প্রচুর লোকজনকে বিভিন্ন খাতে ন্যানো ক্রেডিটের আওতায় ঋণ দেয়া হয়েছিল। কেউ কলা বিক্রি করেন, কেউ স্কুলে চকলেট-আচার, কেউ-বা সেলুন। এমন কি স্টেশনে ভাত বিক্রি করেন তাদেরও ন্যানো ক্রেডিটের নামে পুঁজি দেয়া হয়েছিল, আস্তে আস্তে মূল টাকাটা দিয়ে দেবেন। কাউকে কাউকে নিয়ে এখানে লিখেছি, অনেককে নিয়ে লেখা হয়ে উঠেনি। এরিমধ্যে কেউ কেউ আবার সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিয়ে দ্বিগুণ টাকাও নিয়েছেন। আবার তা শোধ করে শেষও করে ফেলছেন!

মন মিয়া [২] নামের একজন কলা বিক্রি করতেন। পূর্বে এক হাজার টাকার জন্য ৬০০ টাকা সুদ দিতেন। তাঁকে ১০০০ টাকা দেয়ার পর প্রতিদিন ১০/২০ টাকা শোধ করে ১০০০ টাকা শোধ করে দিয়ে ২০০০ টাকা নিয়েছিলেন, সেই টাকাও প্রায় শেষ পর্যায়ে। সবই মন ভাল হওয়ার মত খবর।
স্টেশনে ভাত বিক্রি করেন এমন কিছু মহিলাকেও ন্যানো ক্রেডিটের আওতায় টাকা দেয়া হয়েছিল। এঁদের চাহিদা খুব বেশি কিছু না, একজন তো মাত্র ৩০০ টাকা নিয়েছিলেন কারণ তাঁর এই টাকাই প্রয়োজন। যথারীতি অল্প অল্প করে এঁরা টাকা শোধ দিচ্ছিলেন, স্টেশনের স্কুলের টিচারের কাছে এঁরা টাকা জমা দিতেন, নিয়ম করে।

কিন্তু আমি লক্ষ করলাম, বেশ কিছু দিন ধরে এরা অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। এমনিতে এটাই আমার স্কুলে আসা-যাওয়ার পথ। এঁদের জিজ্ঞেস করে জানা গেল, স্টেশন কর্তৃপক্ষ এঁদের এখন আর এখানে বসতে দিচ্ছেন না। আমি আস্তে করে এখান থেকে সরে আসি, কারণ এখানে আমার করার কিছুই নাই। স্টেশনের কর্তৃপক্ষ যদি আইনগত সমস্যা মনে করেন তাহলে এখানে আমার কোন ভূমিকা থাকাটা যুক্তিযুক্ত না। অন্যায্য আবদার কর্তৃপক্ষকে আমি করতে পারি না।
এরপর থেকে আমি আর এঁদের কিছু বলি না, এঁদের বিমর্ষ মুখ দেখতে ভালও লাগে না। কিন্তু এঁরা টাকা দিতে পারছেন না বলে আমার আসা-যাওয়ার পথে আমাকে দেখলেই খানিকটা সংকুচিত হয়ে যান, আমি অন্য দিকে তাকাতে চেষ্টা করি। ফি-রোজ একই ঘটনা। বাধ্য হয়ে আমি স্কুলে যাওয়ার জন্য খানিকটা ঘুর পথ বেছে নেই।

আজ এদের একজন আমাকে দেখে ঝলমলে মুখে জানালেন আজ থেকে এরা বসতে পারবেন, ভাত বিক্রি করতে পারবেন। বুকে হাত দিয়ে বলি, শুনে মনটা আমার ভাল হয়ে গিয়েছিল। যাক, এই গরিব বেচারাদের একটা গতি হলো। আবার এঁরা পুরোদমে ভাত বিক্রির ব্যবসা শুরু করতে পারছেন, মাছ-ভাত ১৫ টাকা প্লেট!
আমি সম্ভবত খানিকটা অন্যমনস্ক ছিলাম। প্রথমে কথাটা ভাল করে বুঝিনি যখন তিনি বললেন, 'এখন ডেইলি ত্রিশ টাকা কইরা দিমু'।
আমি বললাম, 'না-না, ত্রিশ টাকা করে দিতে হবে না। আপনি প্রতিদিন বা হপ্তায় যা পারেন দিবেন'।
তিনি বললেন, 'ত্রিশ টাকা না-দিলে ভাত বেচতে দিব না'।
আমি অবাক, 'কে বলেছে এই কথা, স্কুলের মাস্টার'?

আসল ঘটনা এতক্ষণে বুঝতে পারি আমি। ষ্টেশন কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিন ত্রিশ টাকা ঘুষের বিনিময়ে এখন এরা স্টেশনে ভাত বিক্রি করার অনুমতি পেয়েছেন! অর্থাৎ মাসে প্রত্যেককে এখন ৯০০ টাকা ঘুষ দিতে হবে। ভাবা যায়! এই-ই আমাদের সোনার বাংলার নমুনা!
বাহ, ঘুষ দিলে এখন আর বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের কোন ব্যত্যয় হয় না! হা ঈশ্বর! পূর্বেও লিখেছিলাম, এই দেশে টাকা পেলে আমরা মাকেও বিক্রি করে দেব- তাঁর ফুসফুস, কিডনি, লিভার...। থাক, বেচারা ঈশ্বরকে এখন আর ডাকাডাকি করে লাভ নাই। ঘুমাচ্ছে বেচারা। ঘুমাক।

সহায়ক লিংক:
১. ন্যানো ক্রেডিট: http://tinyurl.com/39dkbhh
২. মন মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/09/blog-post_18.html

Saturday, September 18, 2010

একজন বিজেতার গল্প

'ন্যানো ক্রেডিট' [১] নিয়ে যখন আমি কাজ শুরু করেছিলাম তখন অনেকে ঠোঁট গোল করে বলেছিলেন, ফুঃ!

তাদের এই ভঙ্গির কোডটা শব্দে রূপান্তর করলে যেটা দাঁড়ায় সেটা হচ্ছে, 'এই উদ্যোগ ভেস্তে যাবে'। আরে শ্লা, কি হাতি-ঘোড়া নিয়ে ভেগে যাবে?
এই আমাদের একটা ঢং হয়েছে, পশ্চাদদেশ উত্তোলন না-করেই আমরা কী অবলীলায়ই না বকে যাই, বকবক-বকবক-বকবক, চিঁ হিঁ হিঁ- হর্স মাউথ!
রাস্তায় কলার খোসাটা কেন সরকার এসে সরিয়ে দিচ্ছে না এই নিয়ে কাছা মেরে অনলবর্ষন না করলে আমাদের চলে-ই না।

ক্ষুদ্র ব্যবসা করার জন্য ন্যানো ক্রেডিটের নামে যে টাকা দেয়া হয় তা চাইলেই দিয়ে দেয়া হয় এমনটা না। যথেষ্ঠ খোঁজ-খবর নিয়েই দেয়া হয়। পূর্বেও উল্লেখ করেছিলাম, আমার পায়ের নীচে সর্ষে। মাইলের পর মাইল লম্বা-লম্বা পা ফেলে হেঁটে যেতে আমার কোন ক্লান্তি নাই!
টাকা নেয়ার জন্য একজন এসেছিল। খোঁজ নিয়ে জানা গেল এর কাজ হচ্ছে গাঁজা খাওয়া, কেউ কখনও একে কোন কাজ করতে দেখেনি। পরে আমি একে বলেছিলাম, কিসের ব্যবসার জন্য টাকা চাচ্ছেন, গাঁজা? এরপর থেকে মানুষটার চেহারা মোবারক আর দেখিনি।

মন মিয়া হচ্ছেন ন্যানো ক্রেডিটের সুবিধা নেয়া প্রথম ব্যক্তি- ব্যবসার জন্য তাঁকে ১০০০ টাকা দেয়া হয়েছিল। প্রতিদিন দশ-বিশ টাকা করে নিয়ম করে জমা দিয়েছেন, কখনও ব্যতিক্রম হয়নি। আজ তাঁর ১০০০ টাকা শোধ হলো।
ইতিমধ্যে তিনি কিছু পুঁজিও জমিয়ে ফেলেছেন। ব্যবসা আরও বাড়াবেন বিধায় আজই তাঁকে ২০০০ টাকা হয়েছে। এখন প্রতিদিন তাঁর কথামতে, ২০/ ৩০ টাকা করে জমা দেবেন।
প্রথম হিসাবে এই মানুষটা একটা পুরষ্কারও পাওনা হোন। ভাবছি, কি দিলে মানুষটা খুশি হবেন? আমি লক্ষ করেছি, চকচকে শার্টের সঙ্গে ইনি যে লুঙিটা পড়েন এটা বেমানান, মলিন। একটা লুঙি দিলে মন্দ হয় না...।

মন মিয়া নামের এই মানুষটা কেবল একজন বিজেতাই নন, তিনি আমাকে তাঁর পেছনে দাঁড়াবার জন্য খানিকটা জায়গাও করে দিয়েছেন। একজন বিজেতার বিজয় কাতারের পেছনে আমিও একজন এটা ভাবলেই মনটা অন্য রকম হয়। একজন বিজেতার সঙ্গে দাঁড়াবার যে সুখ তা স... ব্যতীত অন্যত্র কোথায়!

সহায়ক লিংক:
১. ন্যানো ক্রেডিট: http://tinyurl.com/39dkbhh
২. মন মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_4248.html

Tuesday, September 7, 2010

ন্যানো ক্রেডিট: ৮

এই মানুষটার নাম আমি জানি না, জানার আগ্রহও বোধ করি না। সবাই বলে 'জসীমের মা', আমিও বলি, 'জসীমের মা'। জসীমের মার খোঁজ পাওয়ার ইতিহাস খানিকটা বিচিত্র!


লোকজনকে একটা খাওয়াবার আয়োজন করা হয়েছিল। একটা হোটেল থেকে ভাত-মাংস প্যাকেট করে কয়েকজন কাঁধে করে বেরিয়ে পড়েছেন। বুদ্ধিটা হলো এই, একসঙ্গে অতি দ্রুত, ক্ষুধার্ত যাকে পাওয়া যাবে  তাকেই দেয়া হবে।
কেমন কেমন করে যেন স্টেশনের বিচ্ছু বাহিনী টের পেয়ে গেল। এরা সবাই দল বেঁধে পিছু পিছু ঘুরতে লাগল। এদের ধমক-টমক দিয়েও লাভ হচ্ছে না, কঠিন চিজ! এরা এদের সমস্ত বুদ্ধির প্রয়োগ করা শুরু করল। প্রথমে বলল, 'ভাত খাওয়ান, আপনাদের লাইগ্যা মিছিল করুম'।
এরা এতে অভ্যস্ত কারণ এরা দেখেছে কেউ খাওয়ালে-টাওয়ালে তার পক্ষে 'অমুক ভাই জিন্দাবাদ' এই টাইপের মিছিল করতে হয়। এদের একের পর এক বুদ্ধি ফ্লপ করছে আর প্যাকেটের সংখ্যা কমে আসছে, শুকিয়ে আসছে এদের মুখ। যখন প্যাকেট মাত্র আর একটা তখন এদের আর বুদ্ধি চলে না। এবার সুর অনেকখানি নরোম, 'একটা প্যাকেটই দ্যান, আমরা সবাই ভাগ কইরা খামু'।
একজন চাচ্ছিলেন, প্যাকেটটা এদের হাতে ধরিয়ে দিতে।

এতক্ষণ আমি দূর থেকে এদের কান্ড-কারখানা দেখছিলাম। আমি নিষেধ করলাম কারণ একটা প্যাকেট বনাম পঁচিশ-ত্রিশজন বিচ্ছু বাহিনী! একটা রক্তারক্তি কান্ড হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। আমি এদের বললাম, 'না, এটা তোমাদের দেয়া যাবে না। তোমরা একজন অন্যজনের মাথা ফাটিয়ে ফেলবে'।
বিচ্ছু বাহিনীর নেতাগোছের একজন চটজলদি বলল, 'তাহলে দশ টাকা কইরা দেন, ভাত খামু'।
আমি অবাক, দশ টাকায় ভাত পাওয়া যায়! মুখে বললাম, 'কোথায় দশ টাকায় ভাত খাওয়ায়'?
এরা যে জায়গায় নিয়ে গেল সেখানে কেবল ভাত এবং ডাল দেয় তাও বেঁচে যাওয়া। এটা আমার পছন্দ হলো না। এরপরই এরা খোঁজ দেয় পনেরো টাকায় ভাত-মাছ পাওয়া যায়। মাছ, বাহ বেশ তো! যেখানে পাওয়া যায় সেটাই জসীমের মার দোকান। এরা এখানে কনুই ডুবিয়ে যে আরাম করে খেয়েছে এই স্মৃতি আমি ভুলব না! এই বিচ্ছু বাহিনীই পরবর্তীতে এই স্কুলের [১] ছাত্র। এদের দেখে এদের জন্য স্কুল করার ভাবনাটা আমার মাথায় আসে।

আজকাল অভ্যেস খারাপ হয়ে গেছে। এক ঢিলে কয়েকটা পাখি না-মারলে শান্তি লাগে না। ভালই তো, একেক দিন পঁচিশ-ত্রিশ-পয়ত্রিশজন করে খাচ্ছে। জসীমের মার মত যারা এখানে দোকান চালান তাঁদের ব্যবসা চাঙ্গা।
এখানেই আমি খোঁজ পাই বৃষ্টির মার [২]। জসীমের মার কাছে জানতে চাই ব্যবসার পুঁজির উৎস কি? সেই একই কাহিনী! কোন এক ডিমওয়ালার কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়েছেন। জসীমের মাকে অনেক বলে-কয়েও ৩০০ টাকার বেশি নিতে রাজি করানো গেল না। তাঁর চাহিদাই এই-ই! এটাই স্থির হয়, মাস শেষ হলে তিনি তাঁর সুবিধামতো টাকা স্কুলের শিক্ষকের কাছে জমা করবেন।

জসীমের মা মানুষটা বড়ো আলাভোলা টাইপের। আমি লক্ষ করেছি, পাঁচ-সাতজন একসঙ্গে বসলেই জসীমের মার সব এলোমেলো হয়ে যায়। হিসাব-টিসাব গুলিয়ে ফেলেন। অনেকে ফাঁকি দেয়, মানুষটার এই নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য নাই। কত বিচিত্র মানুষই না আছে এই গ্রহে!

সহায়ক লিংক:
১. বিচ্ছুদের স্কুল: http://tinyurl.com/327aky3
২. বৃষ্টির মা: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_31.html         

Sunday, September 5, 2010

ন্যানো ক্রেডিট: ৭

আল আমীন। এর মা অন্ধ। একটা সেলুন চালায়, কষ্টেসৃষ্টে-কায়ক্লেশে। আজ থেকে ১৫/ ২০ দিন পূর্বে এর মা আমার কাছে এই সেলুনটার জন্য টাকা চেয়েছিলেন চুল কাটাবার ঘূর্ণায়মান চেয়ার কেনার জন্য। ঠিকানা নিয়ে বলেছিলাম, পরে জানাব।

পরে বলার কারণ আছে। ন্যানো ক্রেডিট [১] নিয়ে কাজ করার পূর্বে অনেকে জোর নিষেধ করেছিলেন টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না, আমি গা করিনি। এখন পর্যন্ত যাদের দেয়া হয়েছে কোথাও কোন সমস্যা হয়নি। ঠিক-ঠিক সবাই কথামতো টাকা পরিশোধ করে যাচ্ছেন। মন মিয়া [২] নামের এই মানুষটার কাছে ১০০০ টাকার মধ্যে এখন কেবল পাওনা ২৭০ টাকা। এরিমধ্যে এই মানুষটা খানিকটা পুঁজিও জমিয়ে ফেলেছেন। এই টাকা শোধ হলে তাঁকে ২০০০ টাকা দেয়া হবে এমনটাই স্থির হয়েছে।
কেউ কেউ আমাকে বোকা বানাবার চেষ্টাও করেছেন। ছলিম মিয়া নামের একজন চোখে পানি নিয়ে আমার কাছে টাকা চাইল ব্যবসা করার জন্য। আমি কথায় কথায় তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি থাকেন কোথায়?
ছলিম মিয়া ঠিকানা বলেছিল। আমি ওখানে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানলাম, ব্যবসা দূরের কথা একে কোন কাজ-কাম করতে কেউ কখনও দেখেনি। ছলিম মিয়া যে কাজটা নিয়ম করে করে সেটা হচ্ছে গাঁজা সেবন।
সলিম মিয়া পরের দিন যখন আমার কাছে আসল, আমি তাকে বলেছিলাম, কিসের ব্যবসা করবেন, গাঁজার? মানুষটা পালিয়ে বেঁচেছিল। এ হয়তো আশা করেনি আমি সত্যি সত্যি ওর অবর্তমানে বাসায় হাজির হয়ে যাব। এর হয়তো জানা ছিল না হরিজন পল্লীতে কাজ করার অভ্যেস আছে আমার।
এমনও হতে পারে ব্লগস্ফিয়ারে এটা রটে যেতে পারে আমাকে দেখা গেছে শুকরের রেসে শুকরের পিঠে। এই নিয়ে অবশ্য আমার কোন বিকার নাই। 

তো, আল আমীনের দোকানটা আমি দেখে এসেছিলাম হপ্তাখানেক আগে। আল আমীন নামের ছেলেটা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, 'আপনে কি চুল কাটাইবেন'?
চুল কাটাবার মত যথেষ্ঠ বড়ো ছিল, কাটালে মন্দ হতো না কিন্তু আমার কুখ্যাত চুলের ছাঁট আবার সবাই দিতে পারে না। এই কুখ্যাত ছাঁট দিতে সবাই রাজিও হয় না।
আমি হাসিমুখে বললাম, চুল কাটাব না বেল (ন্যাড়া) হবো এটা এখনো ঠিক করি নাই। তা তোমার নাকি চেয়ার কেনা দরকার? বিষয় কি, তোমার তো দেখি চেয়ার একটা আছে?
আল আমীন এখন বুঝতে পারে এই মানুষটা চুল কাটাবে না এর মতলব অন্য। আল আমীন বলে, কাস্টমার দিগদারী (যন্ত্রণা) করে। কয়, কি চিয়ার রাখছস, হো... ব্যথা হয়া যায়।

কাল একে চেয়ার কেনার জন্য ১৫০০ টাকা দেয়া হয়েছিল- প্রতি মাসে ২০০, ৩০০ যা পারবে জমা দিয়ে ১৫০০ টাকা শোধ করবে। আজ এটাই দেখতে এসেছি। চোখের পলকে আমি ছবি তুলে ফেলি। আল আমীন আর উঠে দাঁড়াবার সুযোগ পায়নি, মুখে আমি বলি, চেয়ারটায় বসে থাকো।

আমি আল আমীনের এখান থেকে হেঁটে হেঁটে ফিরে আসছি। একটা ট্রাক এতোটাই পাশ ঘেঁষে গেল ফতুয়ার হাতায় আমি এর স্পর্শ টের পাই। খুব কাছ থেকে মৃত্যুকে দেখে মানুষ কি জমে যায়, জানা নেই আমার? আমি শূণ্য দৃষ্টিতে অপসৃত ট্রাকটার দিকে তাকিয়ে থাকি।
এই সব ক্ষেত্রে যা নিয়ম, ট্রাক ড্রাইভার এবং তার আত্মীয়-স্বজনকে জড়িয়ে কুৎসিত গালি দেয়া। আমি দেবতা না যে আমার গালি জানা নেই কিন্তু আমার মাথা কাজ করছিল না। আমার কেবল মনে হচ্ছিল, মৃত্যু আমার গা ছুঁয়ে বলে গেছে, এই পাগল তোকে ছুঁয়ে দিলাম! এটা কি আমার জন্য কোন ম্যাসেজ? যা করার তাড়াতাড়ি করে ফেল, সময় নাই রে পাগলা, সময় নাই।
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমার মস্তিষ্ক কি ভেবেছিল আমি জানি না কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, আমাদের জীবনটা কী ঠুনকো! এই ঠুনকো জিনিসটা নিয়ে আমাদের কত অন্যায়-অনাচার-লোভ-অহংকার, এর কোন মানে হয় না আসলে!

এই রাস্তাটা যথেষ্ঠ কুখ্যাতি আছে যদিও এটার জাঁকালো নাম আন্তর্জাতিক রাস্তা কারণ এই রাস্তা দিয়ে বাস-ট্রাক ভারতে যায়। 'ছাল উঠা কুত্তা, বাঘা তার নাম'- এমন সরু রাস্তা আন্তর্জাতিক রাস্তা হয় কেমন করে এটা অবশ্য গবেষণার বিষয়।
ট্রাক ড্রাইভারকে আমি খুব একটা দোষ দেই না। তার সরে যাওয়ার পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না, হর্নও দিয়েছিল। আমার অন্যমনস্কতাই এর জন্য দায়ী। ঢাকার রাস্তায় [৩] হাঁটার বিষয়ে আমার উপর লোকজনের কঠিন নিষেধাজ্ঞা আছে, এখন কি এখানেও এটা প্রযোজ্য হবে!
ব্লেসিং কাজ করে কি করে না এটা আমি জানি না। আমার জন্য কি এই গ্রহের কোথাও-না-কোথাও, কোন-না-কোন জায়গায়, কেউ-না-কেউ, কখনও-না-কখনও কি কোন কলকাঠি নেড়ে ছিলেন? কারও ব্লেসিং কি আমার পিছু তাড়া করেছে? জানি না আমি।

ফিরে আসার পথে আব্দুল মিয়া নামের এই মানুষটাকে পেয়ে যাই। এই মানুষটাকে আমি চিনি, ঈশ্বরের বিশেষ সন্তানদের স্কুল [৪] করার সুবাদে। এই রাস্তা ধরেই তিনি হেঁটে যাচ্ছেন, গতি স্লথ কিন্তু যানবাহনকে ঠিকই পাশ কাটাচ্ছেন!
আমি খানিকটা বিভ্রান্ত, এই মানুষটা চোখে দেখতে পান না এমনটাই জানা ছিল। তাহলে কি মানুষটা মিথ্যাবাদী? আমি এঁর পিছু পিছু খানিকটা দূর যাই। কাছে গেলে মানুষটা আমাকে চিনতে পারেন আমি এই ফাঁকে মানুষটার চোখের দিকে তাকাই, নষ্ট চোখ। এই চোখ দিয়ে দেখার প্রশ্নই আসে না।

আমার অসম্ভব মন খারাপ হয়। আমার এই ভাল চোখ কোন কাজের...!

সহায়ক লিংক:
১. ন্যানো ক্রেডিট: http://tinyurl.com/39dkbhh
২. মন মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_4248.html
৩. ঢাকা: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_27.html
৪. ঈশ্বরের বিশেষ: http://tinyurl.com/2fs9j4p        

Tuesday, August 31, 2010

ন্যানো ক্রেডিট: ৬


এই ফুটফুটে মেয়েটার নাম বৃষ্টি! 
বৃষ্টির বয়স চার মাস। বৃষ্টির মা একে কোলে নিয়ে প্ল্যাটফরমে ভাত বিক্রি করেন। মাছ-ভাত, মাথাপিছু ১৫ টাকা! ভাবা যায়?

লোকজনকে দেখি আরামসে কনুই ডুবিয়ে খাচ্ছে। পূর্বের লেখায় উল্লেখ করেছিলাম, আমেরিকা প্রবাসী একজন লোকজনকে খাওয়াবার জন্য ৪০০ ডলার পাঠিয়েছিলেন যার একটা অংশ ব্যয় হয়েছিল আমাদের ইশকুল: দুইয়ের ছাত্র-ছাত্রী-অভিভাবকদের সহায়তার মধ্যে।

এর বাইরেও ক্ষুধার্ত লোকজনকে খাওয়াবার জন্য হোটেল থেকে প্যাকেট খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। 
স্টেশনে বৃষ্টির মার মত বেশ কিছু মহিলা ভাত বিক্রি করছেন দেখে এক ঢিলে কয়েকটা পাখি মারার বুদ্ধিটা মাথায় আসে। এমন একেকটা দোকানে ১০জন করে খাওয়ালেই তো দোকানগুলোর বিক্রি-বাট্টা চাঙ্গা হয়।

স্টেশনে যেসব শিশু পানি বিক্রি করে এদের সংখ্যা অন্তত ২৫/ ৩০ হবে। অন্যদের খাওয়াতে দেখে এরা মিছিল বের করে ফেলল, এককথা এক দাবি, এদেরকে খাওয়াতে হবে। গররাজি হওয়ার কোন কারণ নেই, বাপধনরা বসে যাও, কোন সমস্যা নেই। সমস্যাটা তোমরা টের পাবে পরে।

মনে মনে এও বলি, রসো, বাছাধনরা! ছাই দিয়ে কেমন করে মাছ ধরতে হয় এটা আমরা শিখব- হাউ মেনি ফিস হাউ মেনি ছাই! আমার মাথায় যেটা খেলা করে, এই শিশুদের দিয়ে স্টেশনের কাছাকাছি আরেকটা স্কুল খুলে দিলে কেমন হয়? আমার কেন যেন মনে হচ্ছে পূর্বের স্কুলগুলো, স্কুল: এক [১], স্কুল: দুইয়ের [২] চেয়ে এদের জন্য স্কুল করাটা জরুরি।

আমি এটাও জেনে যাই, এখানকার বেশ কিছু শিশু ড্যান্ডিতে আসক্ত। ড্যান্ডি একটা ভয়াবহ ড্রাগ। যেসব আঠা রাবারে লাগানো হয় ওইসব আঠা একটা পলিথিনে কয়েক ফোঁটা দিয়ে সেই পলিথিন মুখে চেপে খুব দ্রুত নিঃশ্বাস নেয়া হয়। একটা শিশুর কিডনি, লিভার, ফুসফুস ক্রমশ নষ্ট হতে থাকে। 'খোদেজা' বইয়ে [৩] সোহাগ নামের একটা চরিত্র দাঁড় করিয়েছিলাম যার ড্যান্ডিতে আসক্তি ছিল। এটা আমি দেখেছিলাম, কমলাপুর স্টেশনে ঘুম-ঘুম চোখে মশার কামড় খেতে খেতে।

আজ বৃষ্টির মা'র আনন্দের শেষ নাই কারণ তার খাবার শেষ! কথায় কথায় জানা গেল, চাউল এবং আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র এই মহিলা বাকিতে ক্রয় করেন। সামান্য খোঁজ নিতেই জানা গেল, বাজারে  চেয়ে বেশি দাম ধরা হয়। বাকিতে নেয়া হয় বলে বলার কোন সুযোগ নেই।
পুঁজি খুব বেশি লাগে না, শত পাঁচেক টাকা। এই টাকাটা বৃষ্টির মাকে দেয়া হয় মাসে একশ টাকা করে শোধ হবে এই শর্তে। পাঁচ মাসে টাকাটা শোধ হবে। 

এই মুহূর্তে আমি বৃষ্টির মার 'ন্যানো ক্রেডিট' [৪] নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, এদের, স্টেশনের এই বাচ্চাদের জন্য একটা স্কুল করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব। সম্ভব হলে আগামিকালই। পরশু কে দেখেছে...?

সহায়ক লিংক:
১. আমাদের ইশকুল, এক: http://tinyurl.com/3xpuov5
২. আমাদের ইশকুল, দুই: http://tinyurl.com/2fs9j4p
৩. খোদেজা: http://tinyurl.com/33xcevn
৪. ন্যানো ক্রেডিট: http://tinyurl.com/39dkbhh          

Tuesday, August 10, 2010

ন্যানো ক্রেডিট: ৫

এর নাম আনন্দ। পড়ে ক্লাশ সেভেনে।
'হরিজন কলোনি'র স্কুলে বাচ্চাদের সঙ্গে আমি ব্যস্ত।
আনন্দের মা যখন বললেন, এর স্কুলের ড্রেসের ব্যবস্থা করা যায় কি না সত্যি বলি, আমি তখন আমি খানিকটা বিরক্তই হয়েছিলাম। ৩টা স্কুলের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে!
বের হওয়ার সময় আবারও একই প্রসঙ্গ। আমি বিরক্তি চেপে বলি, আনন্দ, তোমার আগের স্কুলের ড্রেস নাই?
আনন্দ বলে, আছে।
তাহলে? সমস্যা কি?
আনন্দ থেমে থেমে বলে, আগেরটা ছোট হয়া গেছে।

মানুষের প্রতি অবিশ্বাস আমাদের মজ্জাগত। আমার রক্তেও অবিশ্বাস খেলা করবে না এটা কেমন কথা! আমি সেই অবিশ্বাসে ভাসতে-ভাসতে বলি, আনন্দ, দেখি তোমার স্কুল ড্রেসটা নিয়া আসো তো।
আনন্দ যে স্কুল ড্রেসটা নিয়ে আসে সেটা দেখে আমি হতভম্ব! এই ড্রেসটা সে কত বছর আগে বানিয়েছিল? এটা তার গায়ে আঁটে কেমন করে? আমার বিরক্তি বেদনায় মিশে একাকার হয়ে যায়। আপাতত তার এই সমস্যার একটা সমাধান হয় কিন্তু আনন্দের মার সঙ্গে কথা বলে মন আরও খানিকটা বিষণ্ন হয়।

আনন্দের বাবা নেই। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে তার মা তাঁর এক সন্তানকে অন্য এক আত্মীয়'র কাছে রেখেছেন। এখানকার লোকজনরা মিলে আনন্দের মাকে একটা দোকানের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এখানে, এদের এলাকায় কিছু দোকান দেখেছি বলেই মনে পড়ল।
আমাকে এটাও বড়ো লজ্জা দিল, হরিজনরা অন্তত এই কাজটা তো করে দিয়েছেন, তাঁদেরই স্বজাতি, অসহায় এই পরিবারটিকে একটা দোকানের ব্যবস্থা। এই উদারতা আমাদের মধ্যে কোথায়? ছোটবেলায় বেম্বাইয়াদের কথা শুনতাম, এরা নাকি এদের সম্প্রদায়দের কাউকে ভেসে যেতে দিতেন না। সবাই মিলে কোন-না-কোন একটা ব্যবস্থা করে দিতেন। অসহায় মানুষটাকে দাঁড় করিয়ে ছাড়তেন।

আনন্দের মার সমস্যা হচ্ছে, দোকানে জিনিস-পত্র কেনার জন্য পুঁজি নাই, এবং একা দোকান চালাতে পারেন না। কথা বলে ঠিক হয়, আপাতত ১০০০ টাকা তাঁকে দেয়া হবে। তিনি মাসে-মাসে ১০০ টাকা করে ১০০০ টাকাটা শোধ দিয়ে দেবেন। হরিজন স্কুলের মাস্টারের কাছে টাকা জমা দেবেন, তিনি এটার হিসাব রাখবেন।

স্কুলের পর আনন্দ তার মাকে দোকানে সহায়তা করবে। আনন্দের মার একটাই চাওয়া, টাকাটা একটু তাড়াতাড়ি দিলে ভাল হয় কারণ এখানে এখন খরমপুরে 'ওরস' শুরু হচ্ছে, বাইরে থেকে যথেষ্ঠ লোকজন আসা শুরু করবেন। বিক্রি ভাল হবে বলেই তাঁর ধারণা। এটা কোন সমস্যা না, আজই টাকার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। আনন্দ বিপুল উৎসাহে ছুটছে জিনিসপত্র কেনার জন্য, আমি চোখ ভরে তাকিয়ে-তাকিয়ে দেখি।

গত মাসে যত জনকে  'ন্যানো ক্রেডিট' দেয়া হয়েছে প্রত্যেকেই ঠিক-ঠিক সময় মতো তাদের টাকা জমা করেছেন। আমি নিশ্চিত, আনন্দের মার বেলায়ও এর ব্যত্যয় হবে না।

*ন্যানো ক্রেডিট: http://tinyurl.com/39dkbhh 

আপডেট: ১২ আগস্ট, ২০১০
স্কুলের কাজে আমাকে প্রায়ই এখানে, এই হরিজন পল্লিতে আসতে হয়। 

আনন্দদের দোকানটাও এখানেই। অন্য দিন বন্ধ পেতাম, আজ দেখি মা-ছেলে দিব্যি দোকান খুলে বসে আছে। এদের আনন্দ দেখার সময় কোথায় আমার? নিজের আনন্দ ছেড়ে অন্যেরটা দেখতে বয়েই গেছে আমার।

Sunday, July 18, 2010

ন্যানো ক্রেডিট: ৪

জোহরা বেগম। বয়স জানেন না। আমি অনুমান করছি ষাটের কাছাকাছি হবে। ২ ছেলে ১ মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে মার খানিকটা খেয়াল রাখে কিন্তু তিনি নিজের ব্যবসা নিজেই করেন। আনাজ-তরকারি বিক্রি করেন। 
১ হাজার টাকা এখন পেলে সুবিধে হয়। মাসে ২০০ টাকা করে দিতে তাঁর কোন সমস্যা হবে না। ৫ মাসে সম্পূর্ণ টাকাটা শোধ হয়ে যাবে।

আপাতত এই মাসের কোটা শেষ। টাকার সীমাবদ্ধতা এবং আরও কারণে ঠিক করা হয়েছে, ১ মাসে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ন্যানো ক্রেডিটের নামে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। তাছাড়া মাত্র শুরু করা হলো এর ফলটা কি দাঁড়ায় এটাও দেখার বিষয়। অন্যরা দেখাদেখি করুক কিন্তু আমি বড়ো আশাবাদী।

সহায়ক লিংক:
১. ন্যানো ক্রেডিট, ৩: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_3561.html

Thursday, July 15, 2010

ন্যানো ক্রেডিট: ৩

রুবিনা আক্তার। বয়স আনুমানিক ৪৫। স্বামীর তাঁর খোঁজ নেয়ার প্রয়োজন বোধ করে না, ঘরে তার অন্য স্ত্রী। ৩ ছেলে, ৩ মেয়ে। ১ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।

১ ছেলের বিয়েও দিয়েছিলেন। ওই ছেলেটা একটা চার দোকান চালাত। সুদের টাকার কারণে তার উপর প্রচন্ড চাপ ছিল। একদিন সে আত্মহত্যা করে।

রুবিনা আক্তারের এখন ২ ছেলে, ২ মেয়ে। ছোট-ছোট। এক রেল গেইটে বসে কলা, পেয়ারা বিক্রি করেন। যে আড়ত থেকে কলা আনেন তারা বাজারের চেয়ে অনেক বেশি দাম ধরে, কিছুই বলার নেই; কারণ বাকীতে দিচ্ছে।

এই ভদ্রমহিলাকে দেয়া হয়েছে ১৫০০ টাকা। মাসে মাসে ২০০ টাকা দেয়া তাঁর জন্য সমস্যা হবে না বলেই জানালেন।
একজন আমাকে এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বলছিল, 'আরে, হেরা টেকা লইয়া ভাইগা যাইব'। 
এটা এডিবির টাকা না যে সময় ফুরিয়ে আসছে, তড়িঘড়ি করে দিয়ে শেষ করতে হবে- লোক ধরে ধরে এনে দেয়া হচ্ছে! বুঝেশুনেই টাকা দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া যারা বছরের পর বছর ধরে এখানে আছেন এরা সব ছেড়েছুঁড়ে দেশান্তরী হবেন, আজব! তর্কের খাতিরে ধরলাম, ভেগেই যাবে। তো? কোন হাতি-ঘোড়া নিয়ে ভাগবে? কেএফসির ১০ পিসের ভাজা মুরগী কিনতেই তো হাজার টাকা লাগে।
শালার পাবলিক!

আরেকটা বিষয় আমি লক্ষ করেছি, এদেরকে বলা হয়েছিল আরও বাড়িয়ে টাকা নিতে চায় কিনা কিন্তু কেউ সম্মত হননি।

সহায়ক লিংক:
১. ন্যানো ক্রেডিট, ২http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_4248.html 

ন্যানো ক্রেডিট: ২

মানুষটার নাম মন মিয়া। বয়স আনুমানিক ৬৫। স্ত্রী তাঁকে ফেলে চলে গেছেন কারণটা এখানে বলাটা সমীচীন মনে করছি না। ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নাই। এখন এখানে থাকেন, একা।

সাহা পাড়ার কাছে, এই মেডিকেলটার সামনে, রাস্তায় বসে কলা বিক্রি করেন। লাভ খুব একটা মন্দ না কিন্তু তিনি যার কাছ থেকে ১০০০ টাকা নিয়েছিলেন তাকে প্রতিদিন দেন ২০ টাকা।
মন মিয়া ভাই, তিনি সম্ভবত এভাবে হিসাবটা করেননি যে মাসে তাঁকে দিতে হচ্ছে ৬০০ টাকা!

হা ঈশ্বর, ১০০০ টাকার জন্য ৬০০ টাকা! বিশ্বাস হয় না কিন্তু তিনি আমাকে যে লিখিত কাগজটা দিয়েছেন ওই কাগজটা নিজ চোখে না দেখলে আমি বিশ্বাসই করতাম না।

হচ্ছেটা কী এই দেশে? মানুষ কী একেকজন চলমান দানব হয়ে যাচ্ছে? প্রার্থনাস্থলে উপচে পড়ছে ধার্মিক মানুষে। একজন আমাকে অন্য রকম একটা কথা বলেছিলেন, প্রতিদিন যে ভুলচুক করি তা তিনি উপরওয়ালার কছে মাফ চেয়ে নেন। প্রতিদিন কাটাকাটি হয়ে যায়। কী অদ্ভুত ভাবনা! 

আমার ধারণা, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ এই ভাবনাটা লালন করেন বলেই দানব হতে দ্বিতীয়বার ভাবেন না। আমি মনোবিদ নই, চৌকশ মনোবিদ ভাল বলতে পারবেন, আমাদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দানব মানবের মধ্যে লড়াইয়ে দানবটা কেন অনায়াসে জয়ী হচ্ছে। ফাঁকটা কোথায়? কোন ফাঁক দিয়ে দানবটা তার মাথা বের করে দিচ্ছে! 
কেন আমরা হরদম হেরে যাচ্ছি? কেন? একটাই মাত্র জীবন আমাদের, কী স্বল্প আমাদের জীবন! তারপরও কেন-কেন?

এই মানুষটাকে আজ ১০০০ টাকা দেয়া হয়েছে। যার কাছ থেকে অকল্পনীয় সুদে টাকাটা নিয়েছেন তাকে ফেরত দেবেন। এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলে ঠিক করা হয়েছে প্রতিদিন তিনি ২০ টাকা করে 'নিসার ভাই' নামের একজনের কাছে জমা রাখবেন। এতে করে ২ মাসের পুর্বেই তাঁর টাকাটা শোধ হয়ে যাবে। এবং তাঁর সংগে হিসাব শেষ...। 

এই 'ন্যানো ক্রেডিট' প্রজেক্টটা নিয়ে আমি বড়ো আশাবাদী। আমার ধারণা, এটা কালে-কালে মহীরুহ হয়ে উঠবে।

সহায়ক লিংক:
১. ন্যানো ক্রেডিট, ১: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_14.html 

Wednesday, July 14, 2010

ন্যানো ক্রেডিট

পূর্বের পোস্টে [১] লিখেছিলাম, 'স্মল ক্রেডিট' নিয়ে। অতি ক্ষুদ্র উদ্যেক্তাদের (বিশেষ করে নারীদের) বিনা সুদে অতি ক্ষুদ্র ঋণ দেয়ার প্রসঙ্গে।
আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, নামটা দেব  'স্মল ক্রেডিট'। পরে ভেবে দেখলাম, ইউনূস সাহেব [২] ক্ষেপে যেতে পারেন। রাগে চিড়বিড় করে বলে বসতে পারেন:
কী-ই-ই, আমি চালাই মাইক্রো ক্রেডিট আর তুই..., খামোশ! মামলা ঠুকে দিলে আটকাচ্ছে কে- রে হার্মাদ, বুরবাক, 'মাইক্রো বড়ো না 'স্মল' বড়ো, রে?
থাক বাবা, হুজ্জতে গিয়ে লাভ নাই। ইউনূস স্যার, আবেদ স্যার, এরা থাকুন ওনাদের চড়া সুদের মহৎ কারবার নিয়ে। এঁদের কেউ ঘাঁটাতে সাহস পায় না, আমি কোন ছার- ৩ টাকা দামের কলমবাজ! তাছাড়া ইয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা মোটেও ভাল কাজ না।

তাই নামটা এখন বদলে রাখলাম, 'ন্যানো ক্রেডিট'। আমি সামান্য মানুষ, কাজগুলোও অতি সাধারণ! ঋণটাও তথৈবচ- মাত্র ১০০০ টাকা! অতএব "ন্যানো"...।

WhatsApp