আমাদের এই হুজুর মহোদয় বড় কষ্টে আছেন! কারণ ভিরু মুসলমান আজ আর অমুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারছে না, ফলে বেচারারা যুদ্ধবন্দী হিসাবে দাসীও পাচ্ছে না! আফসোস!
"ন্যানো ড্রাইভটা ফেলেছি হারিয়ে/ যেটায়—রাখা ছিল ৮০০ কোটি/ ইউনিটের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা/ গাদা-গাদা ডিএনএ প্রোফাইল।"
Showing posts with label হুদাহুদি. Show all posts
Showing posts with label হুদাহুদি. Show all posts
Tuesday, September 2, 2025
এক যুদ্ধবাজ এবং দাসী সমাচার!!
বিভাগ
হুদাহুদি
Thursday, July 14, 2016
শিবরামের শার্সি!
কী ভয়াবহ, কী ভয়ংকর! “তিন জঙ্গিনেতার বিচারের অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না” (প্রথম আলো, ১২ জুলাই, ২০১৬)। আমি আমার সমস্ত জীবনে যেসব হতবাক হওয়ার মত কথা শুনেছি এটা এর মধ্যে শীর্ষে থাকবে এতে অন্তত আমার কোনও সন্দেহ নেই। এই জঙ্গিনেতাদের মধ্যে আছে জেএমবি শীর্ষ নেতা মহতরম জনাবে-আলা মাওলানা সাইদুর রহমান, আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিম উদ্দিন রাহমানী আরও আছেন হিযবুল তাহরীরের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন আহমেদ।
এদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে কিন্তু বছরের-পর-বছর চলে যাচ্ছে কিন্তু মামলা শুরু করার জন্য অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না। এরমধ্যে একজনের মামলার অনুমোদন ঝুলে আছে তা প্রায় ৬ বছর হলো।
এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জান খানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন’।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এই বিষয়ে বলেন, ‘তিনি শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন’।
এই হচ্ছে আমাদের দেশের খোঁজখবর রাখার নমুনা! আমাদের দেশের মন্ত্রীরা কেমন অকাজে জড়িয়ে থাকেন এর একটা নমুনা দেই। এক মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার লোকজনেরা এলাকায় আনন্দ-মিছিল বের করলেন রং ছিটিয়ে ছিটাছিটি খেলা খেললেন। সামনে-পেছনে ১০-১২ জন পুলিশ। ঘটনা হচ্ছে এলাকার কলেজ নাকি মন্ত্রী মহোদয়ের সদয় হস্তক্ষেপে সরকারীকরণ করা হয়েছে। বিষয়টা সত্য হলেও ভাবখানা এমন মন্ত্রী সাহেব তালুক বিক্রি করে এই কর্মটা করেছেন। বাস্তবতা হচ্ছে দেশে কেবল এই কলেজই না প্রায় প্রত্যেক উপজেলায়ই একটা করে কলেজ এই আওতায় পড়েছে। পাবলিকও জানে মন্ত্রী মহোদয় কি পছন্দ করেন।
এদিকে ফ্যানাটিক খুনি নিবরাসকে ধরার জন্য পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ ছিল না। যথাসময়ে তাকে ধরা হলে হয়তো গুলশানের ওই নারকীয় খুনগুলো এড়ানো যেত। যাই হোক, একজনকে ধরা হবে, অভিযোগপত্র দেওয়া হবে তার বিরুদ্ধে মামলা শুরু হবে এখানে চিঠি চালাচালির কী আছে সেটা আমাদের মত নির্বোধ ট্যাক্সপেয়ি লোকজনের বোঝা মুশকিল। অবশ্য বিবিসিকে এর একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী, ”এটা আইনের একটি রক্ষাকবচ ছিল। সিরিয়াস ক্রাইমে দুটো জিনিস কাজ করে- একটা হচ্ছে অযথা কাউকে হয়রানি করলে…অপরদিকে এটার সিরিয়াসনেস বোঝার জন্য…সে কারণেই অনুমোদন প্রয়োজন”।
এদিকে ফ্যানাটিক খুনি নিবরাসকে ধরার জন্য পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ ছিল না। যথাসময়ে তাকে ধরা হলে হয়তো গুলশানের ওই নারকীয় খুনগুলো এড়ানো যেত। যাই হোক, একজনকে ধরা হবে, অভিযোগপত্র দেওয়া হবে তার বিরুদ্ধে মামলা শুরু হবে এখানে চিঠি চালাচালির কী আছে সেটা আমাদের মত নির্বোধ ট্যাক্সপেয়ি লোকজনের বোঝা মুশকিল। অবশ্য বিবিসিকে এর একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী, ”এটা আইনের একটি রক্ষাকবচ ছিল। সিরিয়াস ক্রাইমে দুটো জিনিস কাজ করে- একটা হচ্ছে অযথা কাউকে হয়রানি করলে…অপরদিকে এটার সিরিয়াসনেস বোঝার জন্য…সে কারণেই অনুমোদন প্রয়োজন”।
অতি উত্তম, না-জানলে আমরা বুঝব কেমন করে অধম!
কিন্তু এমতাবস্থায় এর অপব্যবহার কি হচ্ছে, এটা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আরও জানান, “এখন পর্যন্ত সরকার এর অপব্যবহার করেছে এ রকম নজির দেখানো যাবে না”।
এই অমৃতবাণী শুনে হাসব না কাঁদব বুঝে উঠতে পারছি না!
এমনিতে ক্রসফায়ার করে কাউকে মেরে জঙ্গি বলে দিলে হত্যাকারীর জবাবদিহি করা লাগে না। প্রতিপক্ষকে কাবু করারও এ এক অনন্য উপায়। কেবল আইএস আছে এটা স্বীকার করা চলবে না। আরে, আইএস আবার কবে এটা বলল, আমরা আদি-অকৃত্রিম আমাদের কোথায় কোনও শাখা নেই।
ঘুমকাতুরে লোকজনেরা চোখ কচলে সকালে যখন জানতে পারলেন অপারেশন ‘থান্ডার বোল্ডের’ ইতি টানার পর যে জিম্মিদের প্রায় সবাইকে খুন করা হয়েছে [১] অথচ আইএসের বরাতে ‘নিশাচর ড্রাকুলা’ টাইপের লোকজনেরা মধ্য-রাতেই জেনে গেছেন যে জিম্মিদেরকে খুন করা হয়েছে।
আফসোস, কে এদেরকে বোঝাবে আইএস কেবল একটা সংগঠনই না আইএস একটা মতাদর্শ-ভাবাদর্শ। এবং এটা এরা পৃথিবীময় ছড়িয়ে দিচ্ছে। অঝোর বৃষ্টিতে ছাতার খোঁজ না-করে বৃষ্টি যা যা, বলে গান গাইলে অন্তর্বাসও যে বৃষ্টিতে চুপচুপে হবে এতে সন্দেহ কী!
তো,‘জঙ্গি আইয়ে রে’,এটা শুনে-শুনে কানের পোকা তো পরের কথা কানের ময়লা পর্যন্ত সাফ। জঙ্গি দমনে সরকার নাকি জিরো টলারেন্স। যেখানে জঙ্গি শীর্ষ নেতাদের বিচারের অনুমোদন ৬ বছর লাগিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না সেখানে মন্ত্রী মহোদয় বলছেন এর অপব্যবহার হচ্ছে না।
তা জিরো টলারেন্সের পর কী ‘মাইনাস টলারেন্স’ যোগ হবে?
আমাদের এই বিচিত্র দেশের ড্রাইভার সাহেবরাও বড়ো বিচিত্র। অর্থমন্ত্রীর কাছে কোনও সমস্যাই সমস্যা না তাই তিনি যথারীতি মন্তব্য করেছেন, জঙ্গি হামলা এটা কোনও বিষয় না।
আর আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, "জঙ্গি হামলায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়নি"। মন্ত্রী মহোদয় যেহেতু পাল্লা দিয়ে মেপে এটা বের করেছেন তাই এতে সন্দেহ পোষণ করা সমীচীন হবে না। আমরা আনন্দের সঙ্গে এটা বলতে পারি এতে করে দেশের মুখ ফকফকা হয়েছে। এই গ্রহে আমাদের মাথা এমন উঁচু হয়েছে যে তা ভাষায় প্রকাশ করে কে!
আমাদের এই বিচিত্র দেশের ড্রাইভার সাহেবরাও বড়ো বিচিত্র। অর্থমন্ত্রীর কাছে কোনও সমস্যাই সমস্যা না তাই তিনি যথারীতি মন্তব্য করেছেন, জঙ্গি হামলা এটা কোনও বিষয় না।
আর আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, "জঙ্গি হামলায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়নি"। মন্ত্রী মহোদয় যেহেতু পাল্লা দিয়ে মেপে এটা বের করেছেন তাই এতে সন্দেহ পোষণ করা সমীচীন হবে না। আমরা আনন্দের সঙ্গে এটা বলতে পারি এতে করে দেশের মুখ ফকফকা হয়েছে। এই গ্রহে আমাদের মাথা এমন উঁচু হয়েছে যে তা ভাষায় প্রকাশ করে কে!
এই প্রসঙ্গের এখানেই ইতি টানি। ভারী-ভারী বিষয় নাহয় থাকুক। শিবরাম চক্রবর্তীর ওই লেখাটা সবাই জানেন তবুও বলি। দুজন ট্রেনযাত্রী বেজায় ক্ষেপে গেলেন। সমস্যাটা মারাত্মক! একজনের ঠান্ডা লাগছে তাই তিনি চলন্ত ট্রেনের শার্সি নামিয়ে দিচ্ছেন। এদিকে অন্যজনের গরম লাগছে বিধায় তিনি শার্সিটা উঠিয়ে দিচ্ছেন। দুজনের ‘মুন্ডফাঁক’ হয়-হয়। ট্রেন থামলে গার্ড সাহেব পান চিবুতে চিবুতে হেলেদুলে এগিয়ে এসে বিস্ময় প্রকাশ করলেন, ট্রেনের বগির এই জানালার তো কাঁচই নেই! কোন-এক বখাটে ঢিল মেরে আস্ত কাঁচই হাপিস করে দিয়েছে। এখন বেচারা জানালাকে উঠবস করাবার অর্থ কী!
আসলে কাঁচবিহীন একটা জানালার আমাদের খুব প্রয়োজন তাহলে ‘গুছলেংটি’ দিয়ে 'হুদাহুদি' ঝগড়া করতে খুব সুবিধে হয়…।
১. শিরোনামহীন: http://www.ali-mahmed.com/2016/07/blog-post_8.html
১. শিরোনামহীন: http://www.ali-mahmed.com/2016/07/blog-post_8.html
বিভাগ
হুদাহুদি
Monday, December 22, 2014
Howdy radish
বিভাগ
হুদাহুদি
Sunday, December 7, 2014
এই গ্রহের সবচেয়ে নির্বোধ যে মানুষটা...।
বিভাগ
হুদাহুদি
Sunday, November 23, 2014
আসমান ভাইঙ্গা...
বিভাগ
হুদাহুদি
Monday, June 30, 2014
বে-নজির!
আমাদের দেশের মত দেশ
এই দুনিয়ার আর ‘কুকখানে’-ও নাই। ভাবতে ভালই লাগে...।
স্বভাবতই এই তালিকা
থেকে অন্য গ্রহকে বাদ রাখা হয়েছে। ভিনগ্রহের কথা আমাদের জানা নেই কারণ ওখানে গেলে
ফেরার কোনও উপায় নেই বলে কারও যাওয়া হয় না!
পত্রিকার মাধ্যমে
আমরা জানতে পারছি। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, “দুনিয়ার কোথাও ছুটির দিনে চিকিৎসক পাওয়া যায় না, কেউ মরে গেলেও
চিকিৎসক আসেন না।কিন্তু বাংলাদেশের হাসাতালে ছুটির দিনেও জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু
থাকে।“
বাংলাদেশের হাসাতালে
ছুটির দিনেও জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু থাকে এর অর্থ হচ্ছে দুনিয়ার কোনও দেশেই, কোথাও
ছুটির দিনে চিকিৎসাসেবা
চালু থাকে না। এমন এক অতি আনন্দের সংবাদ জেনে আমার এক চেখে পানি অন্য চোখে জল- জলপানি! যেন অনেকটা এমন ড্রেনে বয়ে যায় নদী কলবল।
দুনিয়ায় সমস্ত দেশের
খবর দূরের কথা দুনিয়ায় দেশ আছে কয়টা এটাই তো আমি জানিনে ছাই! বাচোঁয়া, মন্ত্রী
মহোদয় ঠিক-ঠিক জানেন।
জানি এটা অহেতুক,
তবুও... দেশের বাইরে বসবাসরত আমার বন্ধু, ভাই-বেরাদর সবার প্রতি আকুল আবেদন ছুটির
দিনে ওই সমস্ত দেশে কী চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা নাই, সত্যি নাকি? তাহলে কী ছুটির
দিন আপনাদের অসুস্থ হওয়ার নয়ম নাই! অসুস্থ হলে আপনাদের গতি কী! বাপু রে, একটাই
জীবন আপনাদের, ছুটির দিনে মরলে তো আর বাঁচবেন না!
এমনিতে আমাদের দেশের শক্তিশালী
মানুষরা ফট করে বিদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করে আমোদিত হন। কিন্তু...। নাসিম
সাহেব যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তখন তিনি ছোট্ট একটা জায়গায় (আমি যেখানে থাকি) ফায়ার
ফাইটিং স্টেশন ওরফে ফায়ার
বিগ্রেড অফিস উদ্বোধন করার জন্য চলে এসেছিলেন। তাও হেলিকপ্টারে করে উড়ে!
দুনিয়ার কোনও দেশের
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অখ্যাত একটা জায়গার আগুন নেভাবার অফিস উদ্বোধন করতে উড়ে চলে
আসেন এমনটাও আমার জানা নেই।
বিভাগ
হুদাহুদি
Sunday, June 29, 2014
যেদিন মরব আমি।
মৃত্যু নিয়ে অনেকের অনেক বায়নাক্কা থাকে। কেউ-কেউ জ্যোৎস্না রাত ব্যতীত মরতে চান না। জ্যোৎস্না
না-হলে চাঁদপানে পা তুলে নাক-মুখ চেপে শ্বাস আটকে রাখেন। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতেই
চান না। কেননা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলে ফিরিয়ে নেওয়ার বিশেষ সুবিধা নাই!
আমার এই সব ‘চোচলামি’ নাই।েএকটা হলেই হলো। তবে, ডায়েরিয়ায় মরতে চাই না। ডায়েরিয়ায় মৃত্যু... । ছি, মরণ!
আর অঝোর বৃষ্টিতেও
মরতে চাই না। কারণ...।
“যেদিন মরব আমি, সেদিন কী বার হবে?
বলা মুশকিল।
শুক্রবার, বুধবার?
শনিবার? নাকি রবিবার
যে বারই হোক,
সেদিন বর্ষায় যেন না
ভেজে শহর, যেন ঘিনঘিনে কাদা
না জমে গলির মোড়ে।
সেদিন ভাসলে পথ-ঘাট,
পূণ্যবান শবানুগামীরা
বড়ো বিরক্ত হবেন।...”
(শামসুর রাহমান)
*লেখাটার শিরোনাম
শামসুর রাহমানের কবিতা থেকে নেওয়া।
বিভাগ
হুদাহুদি
Thursday, September 23, 2010
আপাতত বিদায়, ফেসবুক
বেশ পূর্বে ফেসবুক নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম। ওখানে খানিকটা বলার চেষ্টা করেছি [১]। এখন আর বিস্তারিত আলোচনায় যেতে চাচ্ছি না। অল্প কথায় বলি, "ফুটছে কথার খই/ বড় বেশি হইচই।" আমার নিরিবিলিতেই থাকতে ভাল লাগে- অসামাজিক হিসাবে আমার যথেষ্ঠ কুখ্যাতিও আছে। ফেসবুককে বলা হয়, সামাজিক নেটওয়ার্ক। এদিকে আমি মানুষটা সামাজিক টাইপের এটা আমার শত্রুও বলবে না।
এটা যে আমার জানা নাই এমন না, ফেসবুকে একাউন্ট না-থাকা এখন প্রায় অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। ভদ্র-সমাজে (!) এটা ভাবাই যায় না। আমাদের দেশে ফেসবুক ব্যবহার করেন এমন লোকের সংখ্যা সম্ভবত লাখ দশেক। ভাবাই যায় না! কালে কালে প্রায় ১৬ কোটির এই দেশে, ১৭ কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করছেন এমনটা জানলেও আমি খুব একটা অবাক হবো না! তা হোক, তাতে আমার কী! আমি ফেসবুকে আরাম পাচ্ছি না, এটা আমার নিজস্ব সমস্যা।
আমার ফেসবুক একাউন্টের লিস্টে কিছু লোকজন আছেন, তাঁদের প্রতি দুঃখিত হয়ে বলি, আপাতত আমি আমার ফেসবুক একাউন্ট স্থগিত করে দিয়েছি। এই লেখাটা কেবল তাঁদের অবগতির জন্যে। আবারও তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ...।
সহায়ক লিংক:
১. প্যাঁচবুক ওরফে ফেসবুক: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_12.html
এটা যে আমার জানা নাই এমন না, ফেসবুকে একাউন্ট না-থাকা এখন প্রায় অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। ভদ্র-সমাজে (!) এটা ভাবাই যায় না। আমাদের দেশে ফেসবুক ব্যবহার করেন এমন লোকের সংখ্যা সম্ভবত লাখ দশেক। ভাবাই যায় না! কালে কালে প্রায় ১৬ কোটির এই দেশে, ১৭ কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করছেন এমনটা জানলেও আমি খুব একটা অবাক হবো না! তা হোক, তাতে আমার কী! আমি ফেসবুকে আরাম পাচ্ছি না, এটা আমার নিজস্ব সমস্যা।
আমার ফেসবুক একাউন্টের লিস্টে কিছু লোকজন আছেন, তাঁদের প্রতি দুঃখিত হয়ে বলি, আপাতত আমি আমার ফেসবুক একাউন্ট স্থগিত করে দিয়েছি। এই লেখাটা কেবল তাঁদের অবগতির জন্যে। আবারও তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ...।
সহায়ক লিংক:
১. প্যাঁচবুক ওরফে ফেসবুক: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_12.html
বিভাগ
হুদাহুদি
Wednesday, July 28, 2010
অতিথি নারায়ন
সচরাচর চট করে আমি মুগ্ধ হই না। আবার মুগ্ধ হওয়ার মত কিছু দেখলে হাঁ করে তাকিয়ে থাকি! তখন কেউ কেউ বলে বসেন, গেরাম থিক্যা আইছেন নাকি?
আমি মাথা নাড়ি, জ্বে।
পিঠে গ্রাম্য ছাপ লাগা নিয়ে আমার মধ্যে উল্লেখ করার মত বিকার দেখা যায় না। আনন্দটাই বড়ো, ছাপ দিয়ে কী করব! আর আমি তো গ্রাম-গ্রাম টাইপের একটা জায়গাতেই বড়ো হয়েছি, এখনও থাকি। জায়গাটা ছেড়ে যাওয়ার গোপন কোন ইচ্ছাও আমার নাই। তাই শরীর থেকে এখনও সরষে তেলের গন্ধটা পুরোপুরি যায়নি!
একটা অতিথিশালা দেখে আমার মুগ্ধতা কাটে না, কাটবে বলে এই দুরাশাও করি না। আজকাল এই যান্ত্রিক যুগে অতিথিশালা কোথায়? সেই রাজাও নেই, বাদশাও উধাও। কার দায় পড়েছে অতিথিসেবা করার। আমরা আজ ভুলতেই বসেছি অতিথি নারায়নেরই আরেক রূপ, অতিথি নারায়ন। কিন্তু ব্যতিক্রম কোথাও-না-কোথাও থাকেই, হোক দু-একটা, তাতে কী আসে যায়!
দিন-রাত নেই, হলিডে-উইকএন্ড নেই, সাবমেরিন ক্যাবেল কাটা-ফাটা নেই; আনুমানিক ৩০০ অতিথি একটা ওয়েব-সাইটে অবস্থান করতে থাকেন, করতেই থাকেন; ছাড়াছাড়ি নাই। কী এক বিচিত্র কারণে দরোজা বন্ধ করেই এরা আসা-যাওয়া করেন। লগ-ইন এর নামে প্রকাশ্যে আসার তকলিফ করতে চান না!
তবে আমি খানিকটা ভয়ে ভয়ে থাকি অতিথিদের পদভারে না এই সাইটটা খানিকটা কাত হয়ে যায়। যেমনটা ঢাকাকে নিয়ে আমার উদ্বেগের শেষ নাই, কোনদিন না ঢাকা হুড়মুড় করে ধসে পড়ে।
সত্যি এ যুগে এমন অতিথিপরায়ণ-অতিথিপরিচর্যা-অতিথিবৎসল-অতিথিসৎকার-অতিথিসেবা-অতিথিশালা বিরল! এ অভূতপূর্ব, এ অভাবনীয়!
আমি মাথা নাড়ি, জ্বে।
পিঠে গ্রাম্য ছাপ লাগা নিয়ে আমার মধ্যে উল্লেখ করার মত বিকার দেখা যায় না। আনন্দটাই বড়ো, ছাপ দিয়ে কী করব! আর আমি তো গ্রাম-গ্রাম টাইপের একটা জায়গাতেই বড়ো হয়েছি, এখনও থাকি। জায়গাটা ছেড়ে যাওয়ার গোপন কোন ইচ্ছাও আমার নাই। তাই শরীর থেকে এখনও সরষে তেলের গন্ধটা পুরোপুরি যায়নি!
একটা অতিথিশালা দেখে আমার মুগ্ধতা কাটে না, কাটবে বলে এই দুরাশাও করি না। আজকাল এই যান্ত্রিক যুগে অতিথিশালা কোথায়? সেই রাজাও নেই, বাদশাও উধাও। কার দায় পড়েছে অতিথিসেবা করার। আমরা আজ ভুলতেই বসেছি অতিথি নারায়নেরই আরেক রূপ, অতিথি নারায়ন। কিন্তু ব্যতিক্রম কোথাও-না-কোথাও থাকেই, হোক দু-একটা, তাতে কী আসে যায়!
দিন-রাত নেই, হলিডে-উইকএন্ড নেই, সাবমেরিন ক্যাবেল কাটা-ফাটা নেই; আনুমানিক ৩০০ অতিথি একটা ওয়েব-সাইটে অবস্থান করতে থাকেন, করতেই থাকেন; ছাড়াছাড়ি নাই। কী এক বিচিত্র কারণে দরোজা বন্ধ করেই এরা আসা-যাওয়া করেন। লগ-ইন এর নামে প্রকাশ্যে আসার তকলিফ করতে চান না!
তবে আমি খানিকটা ভয়ে ভয়ে থাকি অতিথিদের পদভারে না এই সাইটটা খানিকটা কাত হয়ে যায়। যেমনটা ঢাকাকে নিয়ে আমার উদ্বেগের শেষ নাই, কোনদিন না ঢাকা হুড়মুড় করে ধসে পড়ে।
সত্যি এ যুগে এমন অতিথিপরায়ণ-অতিথিপরিচর্যা-অতিথিবৎসল-অতিথিসৎকার-অতিথিসেবা-অতিথিশালা বিরল! এ অভূতপূর্ব, এ অভাবনীয়!
বিভাগ
হুদাহুদি
কুইজ প্রতিযোগির ফলাফল ঘোষণা
পত্রিকাওয়ালাদের দেখাদেখি আমিও একটা কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম। এই প্রতিযোগিতার পুরস্কার দেয়ার বিষয়ে বলা হয়েছিল,
"সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্যে থেকে লটারির মাধ্যমে যিনি জিতবেন তিনি পাবেন নগদ ২০০ টাকা। যাদের নগদ টাকার প্রতি মোহ নাই তাঁদের জন্য অন্য অপশন আছে। আস্ত মুরগীর রোস্ট, কয়লার আঁচে ঝলসানো (এটার সমস্যা হচ্ছে, কষ্ট করে এসে খেয়ে যেতে হবে এবং এটাও কথা দিচ্ছি ওই আস্ত রোস্টে আমি ভাগ বসাব না।, এককিনিও না। কেবল তাকিয়ে থাকব, আপত্তি থাকলে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে রাখব।)।"
পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে। বিজয়ী হয়েছেন জনাব, সুব্রত। তিনি দয়া করে alimahmed.bangladesh@gmail.com এই ইমেইলে যোগাযোগ করতে পারেন। যে কোন অপশন বেছে নিতে পারেন।
ধন্যবাদ সবাইকে কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করার জন্য। আগামীতে আরও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজনের গোপন ইচ্ছা রাখি। আপনারা সাদরে আমন্ত্রিত :)।
*ছবি ঋণ: প্রথম আলো
সহায়ক লিংক:
১. কুইজ প্রতিযোগিতা: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_13.html
"সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্যে থেকে লটারির মাধ্যমে যিনি জিতবেন তিনি পাবেন নগদ ২০০ টাকা। যাদের নগদ টাকার প্রতি মোহ নাই তাঁদের জন্য অন্য অপশন আছে। আস্ত মুরগীর রোস্ট, কয়লার আঁচে ঝলসানো (এটার সমস্যা হচ্ছে, কষ্ট করে এসে খেয়ে যেতে হবে এবং এটাও কথা দিচ্ছি ওই আস্ত রোস্টে আমি ভাগ বসাব না।, এককিনিও না। কেবল তাকিয়ে থাকব, আপত্তি থাকলে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে রাখব।)।"
পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে। বিজয়ী হয়েছেন জনাব, সুব্রত। তিনি দয়া করে alimahmed.bangladesh@gmail.com এই ইমেইলে যোগাযোগ করতে পারেন। যে কোন অপশন বেছে নিতে পারেন।
ধন্যবাদ সবাইকে কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করার জন্য। আগামীতে আরও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজনের গোপন ইচ্ছা রাখি। আপনারা সাদরে আমন্ত্রিত :)।
*ছবি ঋণ: প্রথম আলো
সহায়ক লিংক:
১. কুইজ প্রতিযোগিতা: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_13.html
বিভাগ
হুদাহুদি
Saturday, July 24, 2010
আমাদের চাঁদে যাওয়া আটকাচ্ছে কে?
পত্রিকায় ঘটা করে বেরিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন (১৮ জুলাই, ২০১০), "দেশের স্কুলগুলোতে মনস্তত্ত্ববিদ থাকা দরকার।...তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্কুলে মনস্তত্ত্ববিদ নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন"।
খুবই আনন্দের বিষয়। ঈশ্বরের বিশেষ সন্তানদের জন্য, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এবং অটিস্টিক শিশুদের জন্য এটা একটা অসাধারণ উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাই।
তবে ছোট্ট একটা কিন্তু আছে, তাঁর বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, দেশে মনস্তত্ত্ববিদে গিজগিজ করছে। হাটে-বাজারে, বাইরে বেরুলেই দু-চারজন মনস্তত্ত্ববিদের সঙ্গে ধাক্কা লেগে যাবে।
আমার ধারণা ভুল হতে পারে কিন্তু অতি উন্নত দেশগুলোর সমস্ত স্কুলে মনস্তত্ত্ববিদ আছে কি না এতে আমার খানিক সন্দেহ আছে। কারণ হালি-হালি মনস্তত্ত্ববিদ পয়দা হয় না। এটা এমন এক জটিল বিজ্ঞান, যার কাজ হচ্ছে এই গ্রহের সবচেয়ে জটিল একটা বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানো। যার চালু নাম মস্তিষ্ক, এক নিতল কুয়া- যেখানে তাকালে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। যেখানে খেলা করে আলো-আধার। একটু এদিক-সেদিক হলেই কেবল অন্ধকার, নিকষ অন্ধকার।
আমাদের দেশে মনস্তত্ত্ববিদ জেলা পর্যায়ের হাসপাতালেই নাই। সমস্ত মেডিকাল কলেজে আছে এতেই আমার সন্দেহ আছে। এই দেশে আদৌ মনস্তত্ত্ববিদ আছে কি না এ নিয়েও আমার ঘোর সন্দেহ আছে। সন্দেহের বীজটা কোত্থেকে আসল একটু বলি,
হুমায়ূন আহমেদ শিলালিপিতে (২৮ মে, ২০১০) লিখেছেন, "সাইকিয়াট্রিস্ট এবং লেখিকা আনোয়ারা সৈয়দ হক আমি ডিজোপেন খাই শুনে আঁতকে উঠে বলেছিলেন, এটা তো পাগলের ওষুধ। আপনি পাগলের ওষুধ খাচ্ছেন কেন?"
'পাগলের ওষুধ'? একজন মনস্তত্ত্ববিদ যখন পাগলের ওষুধ, পাগল, পাগলের ডাক্তার এই সব বলেন তখন তিনি যে একজন সাইকিয়ট্রিস্ট না এটা জানার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হতে হয় না। হয়তো তাঁর কাছে ডিগ্রি নামের একটা কাগজ আছে কিন্তু মানুষটার মনস্তত্ত্ব শিক্ষায় গলদ আছে।
আর এটাই বা আমি কেমন করে ধরে নেই আনোয়ারা সৈয়দ হক এটা বলেননি! হুমায়ূন আহমেদের মত একজন লেখক যেখানে বলছেন! আবার লিখেও জানাচ্ছেন!
এই দেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোতে বাচ্চাদের যেসব বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয় এতেও স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় দেশে কোন মনোবিদ-মনস্তত্ত্ববিদ নাই। 'ডানো' নামের একটা দুধ কোম্পানি একটা বিজ্ঞাপন নিয়ম করে দেখাত। এই দুধ খেয়ে বাচ্চারা এমন 'তনদুরুস্ত'-বলশালী হয়, উঁচু গাছ থেকে ছাতা নিয়ে লাফ দেয় [১]।
আরেকটা দুধের বিজ্ঞাপন দেখায় 'এলডোরা' (নামটা সম্ভবত এটাই)। বেতমিজ টাইপের বাচ্চাটাকে ভাত-রুটি, ফল-মূল যা দেয়া হয়, সে বলে, থু! এরপর ওই কোম্পানির দুধ খাওয়ার পর বেতমিজ বাচ্চাটার বেতমিজ মা-বাবা বলে, বাবা, দেখো চাঁদ। বেতমিজ বাচ্চা বলে, খাব।
মূল বিষয় হচ্ছে এই কোম্পানির দুধ খেয়ে বাচ্চার বেতমিজ স্টমাক এমন দুর্ধর্ষ হয়েছে সে চাঁদও খেয়ে ফেলতে আগ্রহী।
বেতমিজ মিডিয়া হরদম এগুলো দেখিয়েই যাচ্ছে।
ডা. মোহিত কামাল নামের একজন মনস্তত্ত্ববিদ আছেন, তিনি আবার লেখকও বটে। আমরা জানি তিনি তাঁর বইগুলো নিজেই লিখেন এবং তাঁর বইয়ের বিজ্ঞাপনও নিজেই দেন। লক্ষ-লক্ষ টাকা ব্যয়ে বইমেলায় তাঁর বইয়ের যে বিজ্ঞাপনগুলো ছাপা হয় পূর্ণ পৃষ্ঠা, অর্ধ পৃষ্ঠা ব্যাপি; এটা প্রকাশক দেন বললে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়তে হবে। এটা তিনি সম্ভবত শিখেছেন সাহিত্য-গুরু আনিসুল হকের কাছ থেকে [২]।
তো, ডা. মোহিত কামাল একজন মনস্তত্ত্ববিদ, লেখক- কই, তাঁকে তো দেখলাম না এই সব ভয়াবহ বিজ্ঞাপন যা শিশুদের, শিশুদের বাবা-মার ভুবন এলোমেলো করে দিচ্ছে এটা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে। নাকি মাদক বিরোধী আন্দোলন করতে জোশ বেশী কারণ প্রথম আলোর মত মিডিয়ার কাভারেজ পাওয়া যায় বলে?
যাগ গে, মূল বিষয়ে ফিরে যাই, প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্কুলে মনস্তত্ত্ববিদ নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। মন্ত্রী বাহাদুররা যখন কোন কথা বলেন এই কথার পেছনে কতটুকু বাস্তবতা আছে তা যে যাচাই করেন না এটা একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ!
দেশের স্কুলগুলোতে মনস্তত্ত্ববিদ থাকা দরকার। মনে হচ্ছে, দেশে গন্ডায়-গন্ডায় মনস্তত্ত্ববিদ বেকার বসে আছে কেবল ধরে এনে এখানে বসিয়ে দেয়ার অপেক্ষা। এমন যদি কেউ বলেন, আমাদের চাঁদে যাওয়া দরকার এটা বলতেই পারেন। বললে আটকাচ্ছে কে!
সহায়ক লিংক:
১. শিশু হত্যার মারণাস্ত্র: http://www.ali-mahmed.com/2008/09/blog-post_22.html
২. একটি আদর্শ বইয়ের বিজ্ঞাপনের নমুনা: http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_21.html
খুবই আনন্দের বিষয়। ঈশ্বরের বিশেষ সন্তানদের জন্য, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এবং অটিস্টিক শিশুদের জন্য এটা একটা অসাধারণ উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাই।
তবে ছোট্ট একটা কিন্তু আছে, তাঁর বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, দেশে মনস্তত্ত্ববিদে গিজগিজ করছে। হাটে-বাজারে, বাইরে বেরুলেই দু-চারজন মনস্তত্ত্ববিদের সঙ্গে ধাক্কা লেগে যাবে।
আমার ধারণা ভুল হতে পারে কিন্তু অতি উন্নত দেশগুলোর সমস্ত স্কুলে মনস্তত্ত্ববিদ আছে কি না এতে আমার খানিক সন্দেহ আছে। কারণ হালি-হালি মনস্তত্ত্ববিদ পয়দা হয় না। এটা এমন এক জটিল বিজ্ঞান, যার কাজ হচ্ছে এই গ্রহের সবচেয়ে জটিল একটা বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানো। যার চালু নাম মস্তিষ্ক, এক নিতল কুয়া- যেখানে তাকালে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। যেখানে খেলা করে আলো-আধার। একটু এদিক-সেদিক হলেই কেবল অন্ধকার, নিকষ অন্ধকার।
আমাদের দেশে মনস্তত্ত্ববিদ জেলা পর্যায়ের হাসপাতালেই নাই। সমস্ত মেডিকাল কলেজে আছে এতেই আমার সন্দেহ আছে। এই দেশে আদৌ মনস্তত্ত্ববিদ আছে কি না এ নিয়েও আমার ঘোর সন্দেহ আছে। সন্দেহের বীজটা কোত্থেকে আসল একটু বলি,
হুমায়ূন আহমেদ শিলালিপিতে (২৮ মে, ২০১০) লিখেছেন, "সাইকিয়াট্রিস্ট এবং লেখিকা আনোয়ারা সৈয়দ হক আমি ডিজোপেন খাই শুনে আঁতকে উঠে বলেছিলেন, এটা তো পাগলের ওষুধ। আপনি পাগলের ওষুধ খাচ্ছেন কেন?"
'পাগলের ওষুধ'? একজন মনস্তত্ত্ববিদ যখন পাগলের ওষুধ, পাগল, পাগলের ডাক্তার এই সব বলেন তখন তিনি যে একজন সাইকিয়ট্রিস্ট না এটা জানার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হতে হয় না। হয়তো তাঁর কাছে ডিগ্রি নামের একটা কাগজ আছে কিন্তু মানুষটার মনস্তত্ত্ব শিক্ষায় গলদ আছে।
আর এটাই বা আমি কেমন করে ধরে নেই আনোয়ারা সৈয়দ হক এটা বলেননি! হুমায়ূন আহমেদের মত একজন লেখক যেখানে বলছেন! আবার লিখেও জানাচ্ছেন!
এই দেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোতে বাচ্চাদের যেসব বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয় এতেও স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় দেশে কোন মনোবিদ-মনস্তত্ত্ববিদ নাই। 'ডানো' নামের একটা দুধ কোম্পানি একটা বিজ্ঞাপন নিয়ম করে দেখাত। এই দুধ খেয়ে বাচ্চারা এমন 'তনদুরুস্ত'-বলশালী হয়, উঁচু গাছ থেকে ছাতা নিয়ে লাফ দেয় [১]।
আরেকটা দুধের বিজ্ঞাপন দেখায় 'এলডোরা' (নামটা সম্ভবত এটাই)। বেতমিজ টাইপের বাচ্চাটাকে ভাত-রুটি, ফল-মূল যা দেয়া হয়, সে বলে, থু! এরপর ওই কোম্পানির দুধ খাওয়ার পর বেতমিজ বাচ্চাটার বেতমিজ মা-বাবা বলে, বাবা, দেখো চাঁদ। বেতমিজ বাচ্চা বলে, খাব।
মূল বিষয় হচ্ছে এই কোম্পানির দুধ খেয়ে বাচ্চার বেতমিজ স্টমাক এমন দুর্ধর্ষ হয়েছে সে চাঁদও খেয়ে ফেলতে আগ্রহী।
বেতমিজ মিডিয়া হরদম এগুলো দেখিয়েই যাচ্ছে।
ডা. মোহিত কামাল নামের একজন মনস্তত্ত্ববিদ আছেন, তিনি আবার লেখকও বটে। আমরা জানি তিনি তাঁর বইগুলো নিজেই লিখেন এবং তাঁর বইয়ের বিজ্ঞাপনও নিজেই দেন। লক্ষ-লক্ষ টাকা ব্যয়ে বইমেলায় তাঁর বইয়ের যে বিজ্ঞাপনগুলো ছাপা হয় পূর্ণ পৃষ্ঠা, অর্ধ পৃষ্ঠা ব্যাপি; এটা প্রকাশক দেন বললে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়তে হবে। এটা তিনি সম্ভবত শিখেছেন সাহিত্য-গুরু আনিসুল হকের কাছ থেকে [২]।
তো, ডা. মোহিত কামাল একজন মনস্তত্ত্ববিদ, লেখক- কই, তাঁকে তো দেখলাম না এই সব ভয়াবহ বিজ্ঞাপন যা শিশুদের, শিশুদের বাবা-মার ভুবন এলোমেলো করে দিচ্ছে এটা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে। নাকি মাদক বিরোধী আন্দোলন করতে জোশ বেশী কারণ প্রথম আলোর মত মিডিয়ার কাভারেজ পাওয়া যায় বলে?
যাগ গে, মূল বিষয়ে ফিরে যাই, প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্কুলে মনস্তত্ত্ববিদ নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। মন্ত্রী বাহাদুররা যখন কোন কথা বলেন এই কথার পেছনে কতটুকু বাস্তবতা আছে তা যে যাচাই করেন না এটা একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ!
দেশের স্কুলগুলোতে মনস্তত্ত্ববিদ থাকা দরকার। মনে হচ্ছে, দেশে গন্ডায়-গন্ডায় মনস্তত্ত্ববিদ বেকার বসে আছে কেবল ধরে এনে এখানে বসিয়ে দেয়ার অপেক্ষা। এমন যদি কেউ বলেন, আমাদের চাঁদে যাওয়া দরকার এটা বলতেই পারেন। বললে আটকাচ্ছে কে!
সহায়ক লিংক:
১. শিশু হত্যার মারণাস্ত্র: http://www.ali-mahmed.com/2008/09/blog-post_22.html
২. একটি আদর্শ বইয়ের বিজ্ঞাপনের নমুনা: http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_21.html
বিভাগ
হুদাহুদি
Sunday, January 31, 2010
৩১, জানুয়ারী- গ্রহের ওজন বাড়ানো, হুদাহুদি
বিভাগ
হুদাহুদি
Sunday, February 1, 2009
কেক-মোমবাতি-ফুল-গলিত শব, মাখামাখি-একাকার!
প্রবলমানবকে বেঁধে রাখা হয়েছে আষ্টেপৃষ্ঠে শেকলে,
ক্রমশ গলিত শব পোকার খাবারের অপেক্ষায় ।
অপরাধ জটিল, স্বপ্নগুলো কেন আকাশ ছাড়াবে
তার, কেন বাপু বৃত্তের বাইরে পা ফেলা ?
(বাবা-মার আনন্দের ফসল, নিরানন্দ অফসল আমি। আমাকে ক্ষমতা দিলে জন্মটাকে আটকে দিতাম। )
৩১ জানুয়ারি, ২০০৯
-----------------------------------
মোসতাকিম রাহী,
এ অন্যায়, ভারী অন্যায়! অন্ধকারে আপনার মায়াভরা চোখ, দেখতে দিতে এমন অনীহা- লেখাটার বিষয়ে একবারও বলেননি! গুগলের কল্যাণে আজ আপনার লেখাটা পড়লাম।
২৮.০২.০৯
ক্রমশ গলিত শব পোকার খাবারের অপেক্ষায় ।
অপরাধ জটিল, স্বপ্নগুলো কেন আকাশ ছাড়াবে
তার, কেন বাপু বৃত্তের বাইরে পা ফেলা ?
(বাবা-মার আনন্দের ফসল, নিরানন্দ অফসল আমি। আমাকে ক্ষমতা দিলে জন্মটাকে আটকে দিতাম। )
৩১ জানুয়ারি, ২০০৯
-----------------------------------
মোসতাকিম রাহী,
এ অন্যায়, ভারী অন্যায়! অন্ধকারে আপনার মায়াভরা চোখ, দেখতে দিতে এমন অনীহা- লেখাটার বিষয়ে একবারও বলেননি! গুগলের কল্যাণে আজ আপনার লেখাটা পড়লাম।
২৮.০২.০৯
বিভাগ
হুদাহুদি
Thursday, January 31, 2008
অহেতুক গ্রহের ওজন বাড়ানো
বিভাগ
হুদাহুদি
Thursday, July 5, 2007
কেন অন্য রকম?
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···? আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
একই শব্দ বারবার আউড়ে যাওয়া তো ভাল কাজ নয়- পাগলের কাজকারবার। আচ্ছা, এটা কি মনোবিদদের আগ্রহের বিষয়? কে জানে, হবে হয়তো বা!
আচ্ছা, ওই মানুষটা কি প্রভাব ফেলেছে কোনো ভাবে? যে মানুষটা বারবার আউড়ে যাচ্ছিল, ‘গন্দম খায়া জোলাপ নাইমা গেছে’। সামান্য একজন হকার টাইপের মানুষের মুখে, আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ অথচ তখন মনে হচ্ছিল, উঁচুমার্গের কথা। কোনভাবে কি এটা মস্তিষ্কে প্রবল ছাপ ফেলেছে?
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
কই, যথারীতি সূর্যের উদয় হয়েছে, অস্তও গেছে- এমন দিনে তো বিশেষ কোন বিশেষত্ব নাই!
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
মনে হয় না এমন, ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুরে হনহনিয়ে হেঁটে গেলে বেশ হতো? কই, রোদ্দুরে হাঁটা তো আমোদময় কিছু নয়!
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
হয় কী ভ্রম, গাছের পাতাগুলো কী চকচকে, না? কই, শীতে তো পাতা নিষ্প্রভ, ধুসর; হায়, গেল-গেল পাতাটা যে ঝরে!
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
যে আজ কোথাও যাওয়া যাবে না? আহা, যেতে তো হবে কোথাও না কোথাও- নইলে শেকড় বেরিয়ে যাবে যে!
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
জীবনের কাছ থেকে আজ কোথাও পালানো যাবে না? হায়, দুর্বল একজন মানুষের না-পালিয়ে তো বাঁচার উপায় নেই!
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
শীতার্তের জন্য সুর্য কি নেমে আসবে আধ হাত? পাগল, সুর্য বেচারার কী দায় পড়েছে! আরশের নীচ থেকে উকি না-মারলে নিভে যাবে যে!
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
চরম শত্রুকেও ভালবাসতে ইচ্ছা করবে? ধ্যাত, তাই কি হয় কখনো- একটাই মাত্র জীবন যে! জীবনটাকে বটি দিয়ে চাক চাক করবে কে!
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
একই শব্দ বারবার আউড়ে যাওয়া তো ভাল কাজ নয়- পাগলের কাজকারবার। আচ্ছা, এটা কি মনোবিদদের আগ্রহের বিষয়? কে জানে, হবে হয়তো বা!
আচ্ছা, ওই মানুষটা কি প্রভাব ফেলেছে কোনো ভাবে? যে মানুষটা বারবার আউড়ে যাচ্ছিল, ‘গন্দম খায়া জোলাপ নাইমা গেছে’। সামান্য একজন হকার টাইপের মানুষের মুখে, আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ অথচ তখন মনে হচ্ছিল, উঁচুমার্গের কথা। কোনভাবে কি এটা মস্তিষ্কে প্রবল ছাপ ফেলেছে?
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
কই, যথারীতি সূর্যের উদয় হয়েছে, অস্তও গেছে- এমন দিনে তো বিশেষ কোন বিশেষত্ব নাই!
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
মনে হয় না এমন, ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুরে হনহনিয়ে হেঁটে গেলে বেশ হতো? কই, রোদ্দুরে হাঁটা তো আমোদময় কিছু নয়!
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
হয় কী ভ্রম, গাছের পাতাগুলো কী চকচকে, না? কই, শীতে তো পাতা নিষ্প্রভ, ধুসর; হায়, গেল-গেল পাতাটা যে ঝরে!
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
যে আজ কোথাও যাওয়া যাবে না? আহা, যেতে তো হবে কোথাও না কোথাও- নইলে শেকড় বেরিয়ে যাবে যে!
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
জীবনের কাছ থেকে আজ কোথাও পালানো যাবে না? হায়, দুর্বল একজন মানুষের না-পালিয়ে তো বাঁচার উপায় নেই!
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
শীতার্তের জন্য সুর্য কি নেমে আসবে আধ হাত? পাগল, সুর্য বেচারার কী দায় পড়েছে! আরশের নীচ থেকে উকি না-মারলে নিভে যাবে যে!
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
চরম শত্রুকেও ভালবাসতে ইচ্ছা করবে? ধ্যাত, তাই কি হয় কখনো- একটাই মাত্র জীবন যে! জীবনটাকে বটি দিয়ে চাক চাক করবে কে!
আজকের এই দিনটা কি খানিকটা অন্য রকম···?
হয়তো, হয়তো না···
(৩১·০১·০৭/ ১২.০১/ এলোমেলো ভাবনা।)
বিভাগ
হুদাহুদি
Subscribe to:
Posts (Atom)







