"ন্যানো ড্রাইভটা ফেলেছি হারিয়ে/ যেটায়—রাখা ছিল ৮০০ কোটি/ ইউনিটের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা/ গাদা-গাদা ডিএনএ প্রোফাইল।"
Friday, August 5, 2011
জিরো!
Monday, May 17, 2010
মহান এক শাসক: একাল, সেকাল!
এক দেশে এক দেশ ছিল। সেই দেশে যথারীতি এক শাসকও ছিল। ক্ষমতা হারানোর পর তার 'হাবেলি' বা প্রাসাদ থেকে প্রায় ২০০টি ব্লু-ফিল্ম উদ্ধার করা হয়েছিল (যার মধ্যে কিছু খুবই রেয়ার। কী টাইপের রেয়ার তার ব্যাখ্যায় গেলাম না কারণ ...) এবং ৬০ বোতল স্কচ হুইস্কি (আনুমানিক ৬০ লিটার)। আর বিশেষ (হালুয়া) বা ট্যাবলেট! যা খেলে বিশেষ মুহূর্তে নরের বিশেষ শক্তি (সবাই পরিণত পাঠক বিধায় 'এই বিশেষ শক্তির' ব্যাখ্যায় যাওয়ার চেষ্টা করলাম না) অনেকটা বেড়ে যায়। হাবিজাবি আরও অনেক কিছুই।
এই শাসক সাহেব আবার ছিলেন পীর প্রজাতির খুবই ভক্ত। তিনি অষ্টরশি পীরের দরবারেই গেছেন প্রায় ১০০ বার, ফল কি পেয়েছেন তা তিনিই ভাল বলতে পারবেন!
একসময় মনের দুঃখে 'পাগলা পানি' খাওয়া শুরু করলেন। অষ্টরশিকে বাদ দিয়ে দশরশি নামের একজন পীরের কাছে যাতায়ত-গতায়ত শুরু করলেন। দশরশি পীর সাহেব এই শাসক সাহেবকে খুবই স্নেহ করতেন।
ও সময়ের খানিক বাতচিত এখানে তুলে দেয়া হলো:
শাসক: বাবা, মনটা বড়ো অস্থির।
দশরশি: তুই কাজ-কাম একটু কমা। 'খাব' বা স্বপ্ন একটু কম দেখ। তুই স্বপ্ন দেখলেই দৌড় দেস এই-ওই মসজিদে নামায পড়তে! আর এইটা কি তোর কাজ, বৃষ্টি নামানো? এই কাম তুই করলে আমরা আছি কুন দিনের লাইগা? বৃষ্টি নামাইছস ভাল কথা আবার মিডিয়ায় কইলি, 'পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রপ্রধানের দোয়ায় বৃষ্টি নামছে, কেবল নামছে আমার দোয়ায়'? আমাগো কথা ভাবলি না, এক্কবারে আমাগো ভাত মাইরা দিলি!
শাসক এর উত্তর দিলেন না। এক জুম্মাবারে তিনি ফট করে একটা মসজিদে ঢুকে নামায পড়লেন। এরপর দাঁড়িয়ে মুসুল্লীদেরকে বললেন, 'কাল রাতে স্বপ্ন দেখেছি এই মসজিতে নামায পড়ছি তাই সত্যি সত্যি আপনাদের সঙ্গে নামাজ পড়তে চলে এলাম'।
শাসকের সঙ্গে থাকা সৈনিকদের হাসি চেপে রাখা মুশকিল হয়ে দাঁড়াল কারণ এরা গোটা সপ্তাহ ধরে এই মসজিদের আশেপাশের এলাকা গভীর পর্যবেক্ষণ করেছে, শাসকের নিরাপত্তার জন্য। শাসক আসবেন এখানে নামাজ পড়তে...!
আরেকবার দেশে খুব খরা, বৃষ্টির নাম-গন্ধও নেই। এই শাসক সাহেব আবার খুবই পরহেজগার মানুষ- কতবার হজ করেছেন তার ইয়াত্তা নাই। তিনি খাস দিলে দোয়া করলেন। বৃষ্টি হওয়ার পর বিনয়ের সঙ্গে প্রশ্নটা করেছিলেন, 'পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রপ্রধানের দোয়ায় বৃষ্টি নেমেছে'?
কথা সত্য, ওনার মত উপরের সঙ্গে হট-লাইনের রাষ্ট্রপ্রধান এই গ্রহে ক-জন আছে?
যাই হোক, শাসক এবার বললেন: বাবা রে, মনে শান্তি নাই!
দশরশি: থাকব কেমনে, তোরে অষ্টরশি খাইছে! তোরে রশি দিয়া বাইনন্ধা থুইছে। আচ্ছা বেটা, তুই কি পিসাব খায়া আইছস, মুখে পিসাবের গন্ধ পাইতাছি!
শাসক: বাবা, পিসাব না একটু পাগলা পানি দিয়া কুলি করছিলাম, ইয়ে মানে কুলি আর কী...। হইছে কি, সকালে তো ওঠছি দেরীতে। কেন? আহা, চোখে জানি কি সমস্যা হইছে রাতে খালি ব্লু দেখি, কী তামশা ছবিও ব্লু হয়া যায়, সব নীল! তো, রাতে ঘুমাইতে ঘুমাইতে দেরী হয়া গেল। সকালে তো ওঠছি দেরীতে, তাড়াহুড়া কইরা রুটি খাইতে গিয়া গলায় রূটি আটকায়া গেছিল তো, তাই পাগলা পানি দিয়া একটু, হে হে হে।
দশরশি: বেটারে, বুজছি-বুজছি, আর কইতে হইব না, ইতা কইরা কুনু লাভ নাই! তুই ইয়ের মধ্যে মান্ডার তেল মালিশ কর, ফল পাইবি। মালিশ করলে, ইনশাল্লাহ, তোর পুলাপাইন হইব।
শাসক: বাবা, আচানক কথা, আপনি জানেন না? আমার একটা পুলা আছে (দ্বিতীয়টির কথা তিনি বেমালুম চেপে গিয়েছিলেন)।
দশরশি (দাড়িতে হাত বুলিয়ে অমায়িক হাসলেন): তোর কুনু পোলাপাইন নাই।
শাসক: মাফ চাই বাবা, তা এইটা কি কন! আসলে আপনার কাছে গোপন করছিলাম, আমার একটা না দুইটা ছেলে ।
দশরশি: ওইটা তুই ভাবতাছস, আসলে তোর কুনু সন্তান নাই! কারণ ইয়ে হওয়ার ক্ষমতা তোর নাই...।
(এই অংশটুকু একটা ফিকশন। এই গ্রহ বা গ্রহের বাইরে, জীবিত বা মৃত, তোতলা বা কানা এমন কোন লাশের সঙ্গেও এর সম্পর্ক খোঁজা সময়ের অপচয় মাত্র!)
... ... ...
| স্কেচ: আলী মাহমেদ |
সে তো গেল অন্য কোন-এক দেশের শাসকের কথা। এবার আমাদের দেশের এক শাসককে [১], [২] নিয়ে লিখেছেন, ব্রিগেডিয়ার শামসুদ্দিন আহমদ (অবঃ), "যখন বঙ্গভবনে ছিলাম" এই লেখায় তিনি লিখেন:
"১৯৮৩ সালের ১৮ জানুয়ারি। দিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে একটা ঘটনার জন্য।...রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিন আনন্দে উল্লসিত। একটা ভয়ানক ঘটনা ঘটে গেছে হঠাৎ করেই। জেনারেল এরশাদের ছেলে হয়েছে। এ যে বিস্ময়ের বিস্ময়। রাষ্ট্রপতি আনন্দে আত্মহারা। তিনি সেনাভবনে যাবেন জেনারেল এরশাদকে মুবারকবাদ জানাতে। । সে জন্যই আমাকে খুঁজছিলেন।
...বেগম আহসানউদ্দিনও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তবে শুধু জেনারেল এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ফিরে এসেছেন। নবজাত শিশুকে দেখতে দেয়া হয়নি। বেমম রওশন এরশাদ ও নবজাতক শিশু যে কামরায় ছিলো সেখানে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বেগম আহসানউদ্দিনকেও না।
...বেগম রওশন এরশাদ যে সন্তানসম্ভবা এবং তাঁর সন্তান ভুমিষ্ঠ হবার সম্ভাব্য মাস তারিখ সম্পর্কে আগে কোন আভাস পাওয়া যায়নি। না সংবাদপত্রের মাধ্যমে; না লোকমুখে।
...মাত্র দুই সপ্তাহ হবে ৪ জানুয়ারি যুবরাজ করিম আগা খানের সম্মানে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত ভোজসভাতেও বেগম রওশন এরশাদ উপস্থিত ছিলেন। কেউ তখনো বলেনি তিনি সন্তানসম্ভবা। তাঁকে দেখেও তেমন কিছু মনে হয়নি!"
(ভোরের কাগজ, ১৩.১০.৯২)
১. অন্ধকার ফিরে আসে বারবার: http://www.ali-mahmed.com/2009/07/blog-post_20.html
২. যে মহা কবি নোবেল পাননি: http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_09.html
Friday, May 7, 2010
আমরা কি আরেকটা কানসাটের জন্য অপেক্ষা করছি?
হঠাৎ করেই কম্পিউটার সংক্রান্ত কাজ বেড়ে গেল, অজস্র ইমেইলের উত্তর দেয়া। একজন মানুষ প্রচন্ড আবেগে একটা মেইল করছেন অথচ এখন আমি এর উত্তর দিতে দিনের পর লাগিয়ে দিচ্ছি তা তো হয় না। কারণ আমার হাতে নতুন করে একটা আঙ্গুল গজায়নি।
তাছাড়া জরুরী, তাৎক্ষণিক কিছু লেখার চাপও থাকত। সমস্যাটা হয়েছিল, আমার ল্যাপটপের ব্যাটারীর এক সেকেন্ডও ব্যাপআপ ছিল না। এদিকে চোখের পলক ফেলার মত বিদ্যুৎ আসছে, উধাও হচ্ছে।
কখনও কখনও মনে হতো বাচ্চাদের মতো পা ছড়িয়ে বসে কাঁদি।
একদিনের কথাই কেবল বলি, বিদুৎ নামের সোনার পাখিটার অপেক্ষায়- রাত সাড়ে তিনটায় তিনি তশরীফ আনলেন। ওদিনই ব্র্যাক ব্যাংকের [১] লোকজনের অত্যাচারে একজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে, লেখাটা শেষ করাটা অতি জরুরী। লেখাটা শেষ করতে করতে সকাল। আমাকে আবার অতি জরুরী কাজে ছুটতে হবে, ঘুমাবার আর অবকাশ কই?
এই সব করে করে আমার ওজন আশংকাজনক ভাবে কমতে শুরু করল। চেহারায় একটা 'তক্ষক ভাব' চলে আসল। চশমাপরা তক্ষক! ফল যা হওয়ার তাই হলো, একদিন সকাল থেকে বুকে তীব্র ব্যথা। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, হৃদযন্ত্র বুঝি বাদ্য বাজাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। পরে জানা গেল, সমস্যাটা হয়েছে, দীর্ঘ দিন ঘুমের অনিয়মের কারণে।
এদিকে আবার ঢাকা যাওয়া জরুরী। না গেলে কথার বরখেলাপ হয়। ঢাকা অবশ্য যাওয়ার আরেকটা কাজও ছিল, আমার ল্যাপটপের ব্যাটারী সমস্যার সমাধান করা। ব্যাটারী সমস্যার সমাধান করায় একটা বিশাল কাজ হলো, অন্তত ঘুমের যন্ত্রণার অবসান ঘটল। তো, এই সব যন্ত্রণায় জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে যায়।
কিন্তু পত্রিকায় যখন পড়ি, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে হাসপাতালে একের পর এক শিশুর মৃত্যু; তখন নিজের এই সব সমস্যাগুলো ভাবতেও লজ্জা লাগে। মনে হয় এ কিছুই না, তুচ্ছাতিতুচ্ছ।
আচ্ছা, যারা দেশটা চালান তাদের মাথায় কী এটা আসছে না বিদ্যুৎ হচ্ছে দেশের হৃদপিন্ড, এটা ব্যতীত সব অচল। গোটা দেশ অচল। জমিতে পানি দেয়ার কথা বলা হোক বা কারখানার চাকা সচল থাকার কথাই বলা হোক, এর কোন বিকল্প নাই।
আমি একটা লেখায় বলেছিলাম, লোকজন যে রাতে ঘুমাতে পারছে না এর প্রভাব কি আমাদের আসলেই জানা আছে? আমরা একটা খিটখিটে প্রজন্ম তৈরী করছি না তো? আমি মনোবিদ নই, এঁরা ভাল বলতে পারবেন। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, আজ দেশে যে অসহিষ্ণুতা বেড়ে গেছে এর পেছনে বিদ্যুতের বড়ো একটা ভূমিকা আছে।
অবশ্য আমরা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অদ্ভুতসব নমুনা আমরা দেখেছি [২]। কার মাথা থেকে এই ডে-লাইট সেভিং [৩]-এর আইডিয়া বের হয়েছিল আল্লা মালুম!
পূর্বেও লিখেছিলাম, আমি এতো জটিল-জটিল বিষয় জানতে আগ্রহ বোধ করি না, কেবল চাই বিদ্যুৎ। কাকে উড়িয়ে নিয়ে আসবেন, কার সঙ্গে বসবেন এ জেনে আমার কাজ কী? আমি শান্তিতে দু-দন্ড ঘুমাতে চাই। আমার কাছে এখন গণতন্ত্রের [৪] চেয়ে বিদ্যুতের প্রয়োজন বেশী। আপনি ফ্রিগেড কেন প্রয়োজন হলে গোটা মঙ্গল গ্রহ কিনে ফেলেন আমার আপত্তি নাই কিন্তু আমাকে আগে বিদ্যুৎ দিয়ে।
কানসাটের ঘটনা কি আমরা ভুলে গেছি? ভুলে গেছি আনোয়ারের মার কথা। যে মা তার নিহত সন্তানের রক্তে ভেজা জামা তুলে মিডিয়াকে দেখাচ্ছিলেন। আমি এই ছবি এখানে দিতে চাই না। খানিকটা অনুমান করতে পারি, এই পালকের মত হালকা সামান্য জামাটা মিডিয়ার কাছে তুলে ধরতে এই মার কী অবর্ণনীয় বেদনাই না হয়েছে!
আমাদের দেশে ফলোআপের চল নাই, আমরা জানি না ওই আনোয়ারের মা আজ কোথায়।
কানসাট নিয়ে আনিসুল হক সুদীর্ঘ ১০১ [৫] লাইনের কবিতা লিখেছিলেন। এ অভূতপূর্ব- সম্পাদকীয় পাতায় ১০১ লাইনের কবিতা ছাপা হওয়া সম্ভবত এ দেশে পূর্বে কখনও হয়নি, ভবিষ্যতে হবে এমন আশা ক্ষীণ! কারণ তখন দেশের সমস্ত কবি, যারা ধ্যান করতে হিমালয়ে পর্বতে গিয়েছিলেন তাঁরা ধ্যান ছেড়েছুঁড়ে দেশে ফিরে এসেছেন।
আনিসুল হকের মত আমি তো আর পত্রিকা অফিসে চাকরি করি না, কবিও না। আমার গতি কী! ঘটনাটা ২০০৬ সালের। তখন চুটিয়ে ব্লগিংয়ের নামে লেখার চেষ্টা করি। আমার সহ্যাতিত মনে হচ্ছিল। তখন "কানসাট এবং আমার ইচ্ছা মৃত্যু!" এ লেখাটা লিখেছিলাম।
কিন্তু আমি শিউরে উঠি, আমরা কি আরেকটা কানসাটের জন্য অপেক্ষা করছি? হলে ভাল, জয়তু ডিজিটাল [৬]!
কানসাটের সময় একজন মন্ত্রীর একটা উদ্ধৃতি ছিল: দেশে নাকি উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে তাই বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে, বিদ্যুৎ ঘাটতি হচ্ছে।
কানসাটের লোকজনরা কি পাগল হয়ে গেছে ! কিন্তু এখন সম্ভবত আমি নিজেই পাগল হয়ে যাচ্ছি ! আজকে কানসাটের ঘটনা দেখে আমার মরে যেতে ইচ্ছা করছে। কেবল মনে হচ্ছে, ঈশ্বর, মানুষের ইচ্ছা মৃত্যুর ব্যবস্থা রাখলে বেশ হতো। ঈশ্বরের ইচ্ছা তিনিই ভালো জানেন, কিছু রহস্য তিনি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন! ধর্মীয় কোন ব্যাখ্যায় আমি যেতে চাচ্ছি না, রে রে করে সবাই তেড়ে আসবেন।
সক্রেটিস ঠিক তার মৃত্যুর পূর্বের ফিডো সংলাপে বলেছিলেন, "একজন দার্শনিকচেতার মানুষ মৃত্যুকে ভয় পাবে না, আনন্দের সঙ্গে বরণ করবে কিন্তু আত্মহত্যা করার কোন অধিকার তার নাই।... মানুষ হলো একজন কয়েদী- যার কোন অধিকার নাই, কয়েদখানার দরোজা খুলে পালিয়ে যাওয়ার। ... একজন মানুষকে অপেক্ষা করা উচিৎ তখন পর্যন্ত, যে পর্যন্ত না ইশ্বর তাকে তলব করেন, যেমন আমাকে এখন তলব করেছেন"।
অগাবগা আমার বক্তব্য হচ্ছে, একজন মানুষ যেমন একটা প্রাণ সৃষ্টি করতে পারে না- তাই তার কোন অধিকার নাই কারও প্রাণ কেড়ে নেয়ার, হোক না তার নিজের প্রাণই! কিন্তু ইচ্ছা মৃত্যুর ব্যবস্থা থাকলে তো আর দোষে পেত না !
আমাদের দেশ যারা চালাচ্ছেন তাদের কথাবার্তা শুনলে তো মনে হয় আমরা স্বর্গে বাস করছি।
একজন মন্ত্রী সাহেব বলেছেন: "বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। দেশের মানুষ খুব আরামে আছে। ইউরোপিয়ান সমাজের মতোই বাংলাদেশের অবস্থা"।
আরেকজন মন্ত্রী বাহাদুর বলেছেন, "সুনামি-ক্যাটরিনা ছাড়া বাংলাদেশের জনসংখ্যা কমানো যাবে না "।
ইউরোপিয়ান দেশের মতোই যদি হয় এ দেশের অবস্থা তাহলে এ দেশের লক্ষ-লক্ষ সেরা সন্তানরা কেন পড়ে আছে প্রবাসে! যাদের মনন-প্রতিভা দেখলে আমার মতো মানুষের লজ্জায় মাথা কাটা যায়। এঁরা কেন অযথাই হাহাকার করা লেখা পোস্ট করেন, "আমার মন ভালো না-আমার মন ভালো না, আমার মাকে মনে পড়ে-আমার মাকে মনে পড়ে... "!
সুনামি-ক্যাটরিনা তো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রাকৃতির দিকে তাকিয়ে আমরা কেন হাঁ করে বসে থাকব ! যে মানুষটাকে সরকারী পোশাক পরা গুন্ডারা নির্দয়ভাবে পেটাচ্ছে- কৃষক নামের ওই বয়স্ক মানুষটা; ময়লা খালি পা, গলায় গামছা, লুঙ্গি ছাড়া যার পরনে আর কিছু নাই- কয় টাকাই বা এইসব মানুষদের দাম? এমন প্রাণ এ দেশে কেজি হিসাবে বিক্রি হয় ! এদের মেরে ফেললেই তো জনসংখ্যার সমস্যটা ক্রমশ কমে আসবে !
আজ কেবল মনে হচ্ছে, কেন আমি হটেনড জাতি হলাম না? অন্য গোত্রের মানুষের মাংস আরামসে খেতে খেতে গল্প করতাম, আর মাংসটা ভাল সেদ্ধ হয়নি বলে খানিকটা মন খারাপও করতাম!
বিখ্যাত সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচির একটি বিখ্যাত উক্তি আছে, "আমি আমার ভ্রণটিকে বলেছি, তুমি কি আসতে চাও পৃথিবীতে? সে বলেছে, মা, তুমি নরকে যাও, আমি এ নোংরা পৃথিবীতে আসছি না"।
আমি বিভ্রান্ত, দিকভ্রষ্ট! আমার আজ স্পস্ট ভাষায় বলতে ইচ্ছা করছে, আমি অন্তত মা’র কাছে-দেশমার কাছে ফিরতে চাই না, কক্ষনো না।
আমার চোখের সামনে আমার অসহায় আটপৌরে মার আঁচল ধরে টান দেবে, তাকে ক্রমশ নগ্ন করে ফেলবে, আমি নপুংশক-হিজড়া তাকিয়ে তাকিয়ে দেখব, দেখব...আর দেখব। মা’র এমন সন্তান হওয়ার চেয়ে আমার ভ্রণ থাকতেই মরে যাওয়া ভালো ছিল!
বলা হয়ে থাকে, পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বস্তু নাকি বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ। কিন্তু মা’র তো এই সমস্যা নাই, মার কাঁধে সন্তানের লাশ থাকার নিয়ম নাই! কে জানে, এ জন্যেই হয়তো মার শোক কম, কী অবলীলায়ই না তার মৃত সন্তানের রক্তাক্ত জামা তুলে দেখাচ্ছেন! দেখো গো, ভালো মানুষের ছেলেরা, এরা আমার বাবুটাকে কী করেছে! বাবুটা টুকটুকে একটা লাল জামা কিনে দেয়ার জন্যে কী বায়নাই না করত, অভাবে কিনে দিতে পারিনি। আজ বাবুটার জামা রক্তে কী লাল!
ও হে গ্রাম্য মা, মন খারাপ করে না গো, তোমার কী অপার সৌভাগ্য, লক্ষ লক্ষ মানুষ তোমায় দেখছে! যে সব পত্রিকায় দু’লাইন খবর ছাপানোর জন্যে আমরা অনেকেই আমাদের আত্মা বিক্রি করে দেই, সেখানে প্রথম পাতায় তোমার ছবি ছাপা হয়েছে, এও কী কম! মন খারাপ করো না গো, গ্রাম্য মা!
মাটা এই জামাটা যত্ন করে রেখে দেবেন। কোন একদিন এই জামাটা তোবড়ানো ট্রাংক থেকে বের করবেন। জামাটা উঁচু করে গুলির ফুটোটার দিকে নির্নিমেষে তাকিয়ে থাকবেন। কে জানে, হয়তো বা ফুটোটা দিয়ে সূর্য তাঁর চোখ ঝলসে দেবে, অন্য ভুবনের এক আলোয় মার মুখটা ঝলমল করে উঠবে!"
সহায়ক লিংক:
১. ব্র্যাক ব্যাংক: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html
২. ডিজিটাল টাইম নামের হাস্যকর এক খেলা: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_30.html
৩. ডে লাইট সেভিং: http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post_16.html৪
৪. বিদ্যুৎ না গণতন্ত্র: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_27.html
৫. ১০১ লাইনের কবিতা: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_28.html
৬. জয়তু ডিজিটাল: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_8733.html
*ছবি ঋণ: প্রথম আলো
Sunday, May 2, 2010
ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান, ভালবাসার সন্তান
তিনি চমৎকারসব স্বপ্ন দেখতেন, তীব্রভাবে ভালবাসতেন এই অসুন্দর, কুৎসিত পৃথিবীটা- অপার্থিব স্বপ্নের চোখে! তুচ্ছ করতে চাইতেন নিজের জীবনের না পাওয়ার আনন্দকে! সীমাহীন যন্ত্রণাকে বুকে লালন করে ধরতে চাইতেন, অদেখা নীল পদ্মকে!
'৯৬-এ তিনি 'নিউজউইক'-এ এক মর্মস্পর্র্শী সাক্ষাৎকার দেন। যখন এই সাক্ষাৎকারটি দেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৭৯। ৫৫ বছরের উপরে তিনি ওয়াকায়ামা জেলার কোমাস স্যানেটেরিয়ামে একরকম বন্দী জীবন-যাপন করছিলেন!
তাঁর জন্ম দরিদ্র পরিবারে! ৮ বছর বয়সে ডাক্তার জানান, তাঁর কুষ্ঠ হয়েছে। ওই ডাক্তার ছিলেন, ভারী সহৃদয় একজন মানুষ! আকিতাকে স্কুলে যাওয়ার আগে তিনি গোপনে আকিতার চিকিৎসা করতেন। ডাক্তার অনুমান করেছিলেন, জানাজানি হয়ে গেলে আকিতাকে কুষ্ঠাবাসে পাঠিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু ডাক্তার, এই সহৃদয় মানুষটা, তাঁকে খুব বেশী দিন আগলে রাখতে পারলেন না। আকিতাকে কুষ্ঠাবাসে যেতেই হলো। ওখানেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন।
আকিতার মা মারা যান আকিতার ২০ বছর বয়সে! আকিতা তাঁর মাকে নিয়ে বলেন: "আমার মা বলতেন, আমাদের পরিবারে কোন কুষ্ঠ রোগী ছিল না। মা আমাকে সবসময় বোঝাবার চেষ্টা করতেন শরীরের এই অবস্থার জন্য আমার কোন দোষ নেই। মা বলতেন, পৃথিবীতে অনেক লোক আছে যারা চুরি করে, অনেকে আবার নিজের অপকর্ম বা পাপের কথা স্বীকার করে না। মা বলতেন, তুমি তো একটা ঘটনার স্বীকার মাত্র। প্রকৃতি তোমার প্রতি অন্যায় করেছে, তাই তুমি এই রোগের সংস্পর্শে এসেছ, যাতে তোমার কোন হাত নাই! ...যখন কারো সঙ্গে কথা বলবে, তার চোখে চোখ রেখে কথা বলবে, বিন্দুমাত্র বিব্রতবোধ করবে না!"
স্যানেটেরিয়ামে, এখানেই তিনি বিয়ে করেন। তিনি তাঁর প্রতি অন্যায়ের কথা বলেন এভাবে: “আমার জীবনের সবচেয়ে অবমাননাকর অধ্যায় ছিল জোর করে, আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমার প্রজনন ক্ষমতা রহিতকরন বিষয়টি। আইন ছিল: যদি বিয়ে করি তাহলে প্রজনন ক্ষমতা বাধ্যতামূলক নষ্ট করতে হবে। আমি এটা মেনে নিতে পারছিলাম না। আমাকে যখন অপারেশন করতে চাইলো আমি কয়েকবার ছুটে বেরিয়ে গেছি। শেষে তারা আমার খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আমার অস্ত্রোপচার করে।
এখন আইনটি পরিবর্তন হতে যাচ্ছে, কিন্তু লাভ কী! যারা আমার প্রতি অন্যায় করেছিল, তাদের অনেকেই আজ মৃত। তারা বেঁচে থাকলে আমি পার্টি দিতাম। তারা নিশ্চয়ই তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতো!”
*কবির বিকৃত মুখের ছবিটা ইচ্ছা করেই দিলাম না। স্বপ্নের জগতের মানুষটা থাকুক স্বপ্নের মতোই- কী দরকার, অহেতুক তাঁকে দুঃস্বপ্নের চোখে দেখার!
**তথ্য ঋণ: কিছু তথ্য নেয়া হয়েছে: হিদেকো তাকায়ামা, যেটা অনুবাদ করেন, অমল সাহা, ওখান থেকে।
***আমি এই লেখাটি উৎসর্গ করি, ঈশ্বরের বিশেষ-ভালবাসার সন্তানদের। এই বিশেষ সন্তানদের একটি
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'বি-স্ক্যান'-এর একজন প্রতিনিধির কথা শুনছিলাম: "আমাদেরও সেইসব করতে ইচ্ছা করে যা আপনাদের করে"।
কেন নয়? আপনাদের তো খানিকটা বেশীই ইচ্ছা করা উচিৎ কারণ আপনারা যে ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান-ভালবাসার সন্তান। আমি বিশ্বাস করি, এ গ্রহের উপর আমাদের চেয়ে আপনাদের অধিকার বেশী।
আচ্ছা, আমরা কেন আপনাদের প্রতিবন্ধী বলি? আমি জানি না। কেবল জানি এ অন্যায়, জঘণ্য অন্যায়!
আমি কি আপনাদেরকে আকিতার মা'র কথাটা আবারও মনে করিয়ে দেব, তুমি তো একটা ঘটনার স্বীকার মাত্র। প্রকৃতি তোমার প্রতি অন্যায় করেছে, তাই তুমি এই রোগের সংস্পর্শে এসেছ, যাতে তোমার কোন হাত নাই! ...যখন কারো সঙ্গে কথা বলবে, তার চোখে চোখ রেখে কথা বলবে, বিন্দুমাত্র বিব্রতবোধ করবে না!
***ছবি ঋণ: আসাদ আবদুল্লাহ
Friday, April 9, 2010
বাঁশে ভিউ মিরর!
যাক, গিলেছে ব্যাটা, টোপটা গিলেছে! আমি সোলেয়মান সুখনের ন্যায় 'মটিভেশনাল স্পিকার' হালুম বটি (টাইপিং মিস্টেক, পড়বেন: 'মটিভেশনাল স্পিকার' হলাম বটে)!
সহায়ক সূত্র:
১. মাটি বিক্রি: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_15.html
২. বাতাসের ব্যবসা: http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post.html
৩. বোতল ব্যবসা: http://www.ali-mahmed.com/2011/02/blog-post_15.html
Monday, April 5, 2010
বাংগুরাদেশ বিমান
পলিটিশিয়ানরা বললেন: আমরা টেরাবুল-ভরমন কইরা দেখায়া দিতাছি।
এরপর যা হওয়ার তাই হলো। ইন্না..., রাম নাম সাত্য হয়। যীশু তাদের আত্মাকে শান্তি দিন। পৃথিবীব্যাপী তোলপাড় পড়ে গেল। এখন একমাত্র বেঁচে যাওয়া বান্দর হচ্ছে হিরো, যারা মরে গেল তারা সব জিরো! সাংবাদিকরা সবাই বান্দরকে ঘিরে ধরেছে। সমস্যা হচ্ছে, বিমানের ব্লাকবক্স উদ্ধার করা যাচ্ছে না- এটা বাংগুরাদেশ সাগরে তলিয়ে গেছে।
একজন জাপানী সাংবাদিক বান্দরকে বললেন, মুশি মুশি-হ্যালো।
বান্দর বলে, খিচ-খিচ!
বিমানমন্ত্রী এবং বান্দরের মধ্যে কথাবার্তা মানুষের ভাষায় রূপান্তর করে হুবহু তুলে দেয়া হলো:
বিমানমন্ত্রী: বান্দর, যাহা বলিবা সত্য বলিবা। সত্য বৈ মিথ্যা বলিবা না।
বান্দর: আমরা বান্দররা সত্য কথাই বলি, মিথ্যা বলা আমাদের 'বাইন্দইরাধর্মে' নিষেধ আছে ।
বিমানমন্ত্রী: কথা কম! বিমান মাটিতে পড়ল কেমনে?
বান্দর উপরে আঙ্গুল তুলে: সবই তার ইচ্ছা!
বিমানমন্ত্রী: আমার লগে বান্দরগিরি করবা না, অনেক বান্দরের লেজ বেকা করছি! এখন বলো, ড্রাইভার, না-না, এরারে তো পাইলট কয়। হে কই আছিল?
বান্দর: সবটা তো জানি না, দরজা বন্ধ ছিল। এয়ার হোস্টেসরে নিয়া মেটিং করতাছিল।
বিমানমন্ত্রী: বুঝছি-বুঝছি, এরা মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিল। চু...(সেন্সর) পুতরা, পাইলটরা যদি মিটিং-ফিটিং করে তো আমরা কি করুম বা...(সেন্সর)।
বান্দর: মিটিং না মেটিং!
বিমানমন্ত্রী: ইংলিশ আমারে শিখাইও না, অংকে ১৩ গ্রেস লাগছিল কিন্তু একবারে মেট্রিক পাশ দিছি। তা, কো-পাইলট কই আছিল?
বান্দর: তাইনে আর্মি পলিটিশিয়ান 'হোমো স্যারের' ব্যাগ থিক্যা এক বোতল স্কচ হুইস্কি সরাইয়া ফেলছিল, পুরাটা খাইয়া লম্বা হইয়া গেছিল।
বিমানমন্ত্রী: কাট মাই শিট! হোমো আছিল প্লেনে! তা ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার, হে কই আছিল?
বান্দর: এক ধর্মের মা-বাপ 'গোআ স্যারের' কাছে ধর্ম শিখতাছিল।
বিমানমন্ত্রী: মন্ত্রীসাব এইবার একটু ভুল করে 'কাট মাই শিক' বলে ফেললেন। শ্লা, গোয়াও আছিল, মারিছে! আচ্ছা, এয়ারহোস্টেস, এরা?
বান্দর: দুই ম্যাডাম ডাইকা নিয়া কিতা জানি বকবক-বকবক-বকবক করতাছিল।
বিমানমন্ত্রী: আরে, এই হালা বান্দর, এইডা কয় কি! আরে বান্দরের ছাও, বিমান চালাইতাছিল কেডা?
বান্দর হাঁই তুলে বলল: আমিই চালাইতে ছিলাম। ভালই চালাইতে ছিলাম, একটু কেরি কাটতে গিয়া...!
*বাংগুরাদেশ, এটা ঠিক কোথায় এই মুহূর্তে হাতের নাগালে ম্যাপ না থাকায় বিস্তারিত বলতে পারছি না।
অন্য প্রসঙ্গ
Tuesday, March 30, 2010
শুভ'র ব্লগিং-এর মুখবন্ধ বা মুখখোলা
কখনও কখনও আমার মনে হতো হাত বাড়ালেই এদের ছুঁতে পারি। ১৫ ইঞ্চি মনিটরের পেছনে আমি নামের যে নির্বোধ মানুষটা বসে আছে সেই মানুষটা হাত বাড়িয়ে হড়বড় করে বলবে, এই পাগল, দেখ, তোকে কেমন ছুঁয়ে দিলাম। সে এক সোনালী সময়! আমার সুহৃদদের জন্যও কিছু বলার ছিল তাই লিখলাম:
এখানে আমার কেটেছে সোনালী সময়, সময়টা আমি বড্ডো এনজয় করেছি। আগেও তো টুকটাক লেখালেখি করেছি, কিন্তু এখানের ব্যাপারটা ছিল অন্য রকম। আগে বই লিখে পাঠকের প্রতিক্রিয়া আমি বুঝতে পারতাম না, যেটা এখানে তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারতাম। যেন টিভি নাটক আর মঞ্চ নাটকের পার্থক্য!
আমার লেখা কারো ভাল লাগতো, কারো লাগতো না, কিন্তু আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, সহৃদয় যারা আমার লেখা পড়েছেন বা পোস্টে মন্তব্য করেছেন। আমার কাছে একেকটা মন্তব্যর মূল্য অপরিসীম (প্রত্যেকটা মন্তব্য আমার কাছে এখনও সংরক্ষিত)। মনে হতো এমন, এদের হাত বাড়িয়ে দিলেই ছুঁয়ে দিতে পারি। গা ছুঁয়ে বলতে পারি, এই পাগলু তোকে ছুঁয়ে দিলাম। অনেকেই এখানে আমার প্রতি বিভিন্ন সময়ে অযাচিত মমতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আজ আমি স্পষ্ট ভাষায় বলি, আপনাদের ঋণ আমি কি করে শোধ করি, এতো ক্ষমতা আমার কই?
কখনোই এই জগৎটাকে ভার্চুয়াল মনে হতো না, মস্তিষ্ক ভার্চূয়াল জগৎ স্বীকার করলেও হৃদয় মানতে চাইতো না!
শুভ'র ব্লগিং এই বইয়ে, আমি কোথাও কারও লগ ইন নেম, বা বিশেষ কারো কথা উল্লেখ করিনি। কারণটা বললে, আমি আশা করি আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন! কাকে ছেড়ে কার কথা বলবো? এ সাইটে আমার পছন্দের মানুষের সংখ্যা এতো বেশী, বিশেষ একজনের কথা বলে অন্য মানুষটার প্রতি অন্যায় করা হয়, ভালবাসার দাবী যে বড়ো প্রবল!
প্রথমে যখন আমি এখানে লেখা শুরু করি, প্রচন্ড জড়তা নিয়ে। দীর্ঘ দিন লেখালেখি না করার জড়তা! এক সময় চুটিয়ে লিখেছি কিন্তু লম্বা একটা সময় এক লাইনও লেখা হয়নি। এক সময় আমার মনে হয়েছিল, ধুর, লেখালেখি না করলে কি হয়?
গত বছর মুক্তিযুদ্ধের বই ‘ফ্রিডম’ শেষ করতে আমার কাল ঘাম বেরিয়ে গিয়েছিল। শেষ না করে উপায় ছিল না, কারণ এই বইটার উপাত্তগুলো সংগ্রহ করতে আমার ৬ মাস লেগেছিল। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটা বই লেখা ছিল আমার স্বপ্ন, যৎকিঞ্চিৎ ঋণ শোধের অপচেষ্টা।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখার মতো মনন, দুঃসাহস আমি করতাম না। কিন্তু এই বইটা তাঁদের জন্য না, যারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রচুর জ্ঞান রাখেন, এটা এই প্রজন্মের জন্য, যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি। তাদের মধ্যে যদি মুক্তিযুদ্ধের প্রতি খানিকটা মমতা, আবেগ সৃষ্টি করা যায়, এটাই ছিল আমার লক্ষ! শেকড়ের কাছে ফেরা!
তো, জড়তা প্রসঙ্গে বলছিলাম, প্রথম প্রথম লেখা হচ্ছিল না। অহেতুক জড়তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল অসম্ভব স্লো টাইপিং স্পীড। এক আঙ্গুলে টাইপ করতাম, কী-বোর্ডের বাংলা অক্ষরগুলো আমার কাছ থেকে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতো, হা হা হা!
খানিকটা চাতুরীর আশ্রয় নিয়েছিলাম বলে ক্ষমা চাই, আসলে উপায় ছিল না। ‘ফ্রিডম’ থেকে মুক্তিযুদ্ধের বেশ কিছু লেখা পোস্ট করেছিলাম। প্রথম দিকে বই এবং লেখকের নাম দিতাম এই কারণে, একজন পাঠকও যদি চ্যালেঞ্জ করে বসতেন, শুভ চোর! হয় আমাকে চোর অপবাদ মেনে নিতে হতো, নতুবা প্রমাণ করতে হতো আমিই এটার লেখক। তাহলে তৎক্ষণাৎ ‘শুভ’ নামের ব্লগারের অপমৃত্যু ঘটতো। এতে করে আমার এই সাইটে আসার উদ্দেশ্য ব্যহত হতো, যেটা আমি চাচ্ছিলাম না! পরে অবশ্য আমার অন্য বই থেকেও পোস্ট করেছি। একটা উপন্যাসকে ভেঙ্গে কাটছাঁট করে অনেকগুলো পোস্ট করেছি। কয়েকজন অবশ্য ব্যাপারটা ধরে ফেলেছিলেন। আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ তাঁরা শুভকে শুভই থাকতে দিয়েছেন।
এই বইয়ে আমার অনেক পছন্দের লেখা বাদ দিতে হয়েছে, পৃষ্ঠা সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছিল। প্রকাশক সাহেবের মুখ ক্রমশ অন্ধকার হচ্ছিল, কারণ ফর্মার সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছিল। ফর্মা বাড়া মানেই ওনার ইনভেস্ট বেড়ে যাওয়া, ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া। তাছাড়া আমি নিজেও চাচ্ছিলাম না বইটার দাম নাগলের বাইরে চলে যাক।
আমার অনেক পছন্দের বই দাম বেশী হওয়ার কারণে কিনতে পারিনি, এ কষ্ট এখনো আমাকে তাড়া করে!
এই সাইটে, শেষের দিকে আমি অবশ্য নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলাম, ইচ্ছা করেই। জানি না কোন এক বিচিত্র কারণে অনেকেই আমাকে পছন্দ করছিলেন না। আমি এক সময় সিদ্ধান্ত নিলাম, তা হলে কার জন্য এখানে লেখালেখি করবো, নিজের জন্য? উঁহু, আমি সেইসব মহান লেখক না, যারা নিজেদের আনন্দের জন্যই লেখালেখি করেন। ওই সব মহান লেখকদের লেখা কে পড়ল, কে পড়ল না তাতে তাঁদের কিছুই যায় আসে না! এটা তাঁদের জন্য ঠিক আছে, কিন্তু এই আবর্জনা লেখকের জন্য ঠিক নাই!
মূলত আমি এখানে এসেছিলাম, সবার সঙ্গে ভাবনা শেয়ার করতে, শিখতে। জানি না কেন ক্রমশ দলছুট হয়ে গেলাম, এর জন্য হয়তো বা আমিই দায়ী! এখানে আমার প্রতিক্রিয়া, আচরণ হয়তো খাপছাড়া হয়ে গিয়েছিল, মিশ খাচ্ছিল না। আমার হয়তো দেয়ার ছিল না কিছুই, কিন্তু আমি প্রবলভাবে বিশ্বাস করি, নেয়ার ছিল অনেক কিছুই। এই সাইটে অনেকের মনন দেখে অনেক তথাকথীত জ্ঞানীরা হতবাক হবেন, ট্রাস্ট মী!
আফসোস, আমার অর্বাচীনতার কারণে আমি বঞ্চিত হলাম, আমার দূর্ভাগ্য! তবুও আমি বলব, এখানে আমি যে ভালবাসা, মমতা পেয়েছি, এ অতুলনীয়!
ভাল থাকবেন গো সবাই, বিশেষ করে এই সাইটের আমার পুরনো বন্ধুরা, পানির মতো টলটলে!"
Sunday, March 21, 2010
মা'র কাছে ফেরা
যাই হোক, অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল। সালটা সম্ভবত ৯০। একজন মার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। বয়স ষাটের কাছাকাছি। তিনি হাত ভরে কাঁচের চুড়ি পরতেন যা অনেকের চোখে বৈসাদৃশ্য ঠেকত। তাঁর স্বামী নাকি খুব পছন্দ করতেন, কখনও খুলতে দিতেন না। চুড়ির প্রসঙ্গ ধরেই তাঁর প্রতি আমার আগ্রহটা সৃষ্টি হয়েছিল।
স্বামী নিরুদ্দেশ হওয়ার পর একমাত্র সন্তানকে তিল তিল করে বড় করেছিলেন। সন্তানটা ছিল মেধাবী। কালে কালে সে একটা বহুজাতিক কোম্পানির বড় কর্তা হয়। ঝাঁ চকচকে বাড়ি, অফিস, পুতুলের মত বউ। বাড়িতে ককটেল পার্টি, কিটি পার্টি হরদম লেগেই থাকে। অল্প-শিক্ষিত মাকে নিয়ে বড় যন্ত্রণা। সন্তানটা বেড়ালের মত মাকে দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের এখানে ফেলে দেয়। ওই মাটা দিনের পর দিন তাঁর স্বামীর অপেক্ষায় থেকে থেকে ক্লান্ত যখন, তখন আশায় বুক বাঁধেন, সন্তান তাকে এখান থেকে একদিন নিয়ে যাবে।
এতসব আমার জানা হত না। চুড়ির প্রসঙ্গ ধরেই জানা। আসার সময় তাঁর শীর্ণ হাত দিয়ে আমার হাত ধরে কথা আদায় করে নিয়েছিলেন, আবার আসলে যেন তাঁর সন্তানকে নিয়ে আসি। আমি কথা রাখতে পারিনি!
তাঁর সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি যে কথাগুলো বলেছিলেন, তা সীসার চেয়ে ভারী। মোদ্দা কথা, আমার মার চেয়ে মাসীর দরদ বেশি, ইত্যাদি ইত্যাদি।
ফিরে আসার পর এই স্কেচটা করেছিলাম। আমি জানি ওই মার আদলের সঙ্গে হয়তো এর কোন মিল নাই। কিন্তু তাতে কী আসে যায়? এ গ্রহের সব মার চেহারাই কী এক না?
আজও আমি এই কষ্টটা লালন করি। এবং অভিশাপ দেই, এমন সন্তান হওয়ার চেয়ে আমার নিজের সন্তানের যেন শৈশবেই মৃত্যু হয়। ওই অন্ধকার দিক নিয়ে এখন আর লিখতে ইচ্ছা করছে না।
'মার কাছে ফেরা' এটা পুরনো কিন্তু আমার পছন্দের লেখা। এই লেখাটা উৎসর্গ করি সেই দুখি মাকে। তাঁর সন্তানকে তাঁর কাছে নিতে পারিনি, নতজানু হয়ে মাটার কাছে ক্ষমা চাইছি...।
-----------------------
সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত মাকে সহ্য করতে হয় অমানুষিক যন্ত্রণা তবুও তাঁর আনন্দের শেষ নেই, এইটুকুন মাংস পিন্ডটাকে দেখে কী অপার্থিব আনন্দই না হয় তাঁর! কোথায় উধাও হয় আধ-জবাই পশুর সেই অপার্থিব কষ্ট!
ঈশ্বর নাকি তাঁর মমতা বোঝাতে গিয়ে বলেছেন, "আমি আমার সমস্ত মমতা মাদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছি।"
একজন মানুষ প্রথমে তার পরিবারের জন্য, একটা পরিবার তার গোত্রের জন্য, গোত্র তার দেশের জন্য। আর এই দেশ হচ্ছে সবার মা। আমরা চট করে বলে ফেলি, এই দেশ আমাকে কি দিয়েছে কিন্তু দেশ তো কখনই জানতে চায় না তুমি আমার জন্যে কি করেছ? যেমন জানতে চান না আমাদের মা- খোকা, তুই আমার লাইগা কি করলি?
আমরা দুম করে বলে ফেলি, কী সব ছাতাফাতা স্বাধীনতা! আসলে স্বাধীনতা কি, এটা জানতে হবে কোন প্যালেস্টানী, ইরাকীর কাছ থেকে! মা কি, এটা জানতে হবে যার মা নাই তার কাছ থেকে!
আমাদের দেশটা ভারী নোংরা, হরেক রকম কষ্ট। দেশমাটাও বড় আটপৌরে, ভারী অসহায়। তবুও এই দেশেই আমরা বুক ভরে শ্বাস নেই। খাবার জোগাবার জন্য দেশমার কী প্রাণান্তকর চেষ্টা। একটা আমের বড়া চুষে চুষে সাদা করে ফেলি, অবহেলায় আমরা দিগ্বিদিক ছুঁড়ে ফেলি। কী অনায়াসেই না এর মধ্যে থেকেও তরতর করে একটা গাছ বেড়ে উঠে! চারদিক সবুজ আর সবুজ- শস্য, ফলে ছেয়ে থাকে সব। কিন্তু বজ্জাত সন্তানগুলো সবার মুখের গ্রাস ছিনিয়ে নিলে মার তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ব্যতীত কীই বা করার থাকে? কিন্তু তাই বলে কি কেউ তার গ্রাম্য দেশমা-র সঙ্গে বিদেশী ধপধপে মা অদল-বদল করতে সম্মত হবে?
দেশে মার শরীরের গন্ধে আমাদের দমবন্ধ ভাব হয়। কখনও কখনও অমানুষের মত অস্ফুটে মুখ ফসকে বেরিয়ে যায়, 'তুমি যে কী মা, শরীরে পেয়াজ-রসুনের গন্ধ। ছি'!
মা অজান্তে শ্বাস চাপেন। তাঁর আর্দ্র চোখে আটকে থাকে গোটা সূর্যটা, পলক ফেললেই উপচে পড়বে। জান্তব চোখে তিনি পলকহীন তাকিয়ে থাকেন।
প্রবাসিরা গায়ে কত কিছু মাখেন, সুগন্ধের মৌতাত হপ্তাহ ছাড়িয়ে যায়, জামা ধুলেও। কিন্তু কী এক বিচিত্র কারণে মার গায়ের গন্ধের জন্য পাগল হয়ে থাকেন। পাগলসব!
মুদ্রার অন্য পিঠ। একজনের মা একটা কিছু (বলার মত কিছু না, নারকেলের নাড়ু) সাথে দেয়ার কথা বলতেই সু-পুত্র হড়বড় করে বলে উঠেন, 'আরে না, দরকার নাই-দরকার নাই'।
তবুও তার মা মৃদু স্বরে বলেন, 'না মানে...তোর লাইগা...'।
'আরে, জ্যাকসন হাইটসে সব পাওয়া যায়। সব-সব'।
আজকাল বাইরের শপিং-মলগুলোয় মার আবেগও বিক্রি হওয়া শুরু হয়ে গেছে! বেশ-বেশ!
যে মায়াভরা মুখটা কেবল অনর্থক বকেই মরত, "খোকা এইটা খাস নে-ওইটা খাস নে। রোদে ঘুরতাছিস ক্যান রে, বান্দর! চামড়াডা পুইড়া কেমুন ছালি-ছালি হইছে। তোর শইলের রঙ দেইখা কাউয়াও হাসব। পাগলা, না-খায়া যাস নে, গেলে তুই কিন্তুক আমার মাথা খাস। তুই এমন হইলি ক্যান- তুই না, তুই না, তুই একটা পাগলু।"
বোকা মা তার সন্তানকে কত চিঠিই না লিখেছে, চিঠির মধ্যে অসংখ্য গোল গোল বৃত্ত এঁকে দিয়েছে! পাগলীটা আবার লিখেছে, "খোকা, আমি তোর জন্যে কান্না করি, দেখ না, চিঠিতে এই যে গোল গোল দাগ, এখানে আমার চোখের পানি পড়েছে।"
মাটা এমন বোকা!
মা তার সন্তানের পথ চেয়ে বসে আছে, এই পথ দিয়েই তার সন্তান ফিরবে। আহারে, খোকা এতটা পথ হেটে আসবে কি ভাবে? আচ্ছা, হুট করে রাতে যদি চলে আসে? আমি ঘুমিয়ে পড়লে, খোকার ডাক শুনব তো? পাগলীটা আবার সন্তানের সেই ছোটবেলার জামাগুলো নাকে শুঁকে, সে নাকি তাঁর বাবুটার-তাঁর পাগলু খোকাটার গায়ের গন্ধ পায়!
মাটা এমন বোকা কেন!
মা’টা ভাবে, আহারে-আহারে, এই মাটির টুকরাটা দিয়ে ছোটবেলায় বাবুটা কি খেলাই না খেলত! জলভরা চোখে মা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, একটা লাল টুকটুকে বলের জন্য বাবুটা কতবার গাল ফুলিয়ে বসে থেকেছে! কিনি দিতে পারিনি।
মা এবং আমাদের দেশমা, আমাদের অপেক্ষায় আছেন। আমরা ফিরব কি ফিরব না, এ সিদ্ধান্ত আমাদের!
*www.newsagency24.com চোরের এক আস্তানার নাম: https://www.facebook.com/ali.mahmed1971/posts/10151517933607335?notif_t=like
**ছবি-স্বত্ব: আলী মাহমেদ
Monday, January 18, 2010
রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না
জার্মানির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১২ মে বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স বিমানে করে ইভান ডেমিয়ানইউরকে জার্মানির মিউনিখে পৌঁছে দেয়া হয়। তার বিচার শুরু হয়েছে।
অপরাধ প্রমাণিত হলে জার্মানীর যুদ্ধাপরাধ আইন অনুযায়ী এই মানুষটির বয়স বিবেচনা করে ১৫ বছর জেল হতে পারে।
এখন কথা হচ্ছে, এতো বছর পর এই বুড়া হাবড়াকে নিয়ে টানাটানি করা হচ্ছে কেন? আদালতের ১৫০টি আসনের কোনটাই ফাঁকা থাকে না! একে আদালতে হাজিরা দিতে হয় হুইল চেয়ারে বসে, গোটা একটা প্লেন লেগেছে একে পৌছে দিতে।
এতো যন্ত্রণারই প্রয়োজন কী?
কিন্তু, ১৯৭১ সালে মারশেখ ওপউলস-এর 'লা শাগ্রিন এ লা পিতি' মুভিটি দেখে ফরাসীরা উপলব্ধি করে যে, ফরাসীদের অনেক লজ্জাকর ইতিহাস রয়েছে! জনগণ ওই সব তথ্য ঢেকে রাখার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, কিন্তু ১৯৭২ সালে জানা যায় যে, দালাল ত্যুবিয়েরকে প্রেসিডেন্ট ক্ষমা করে দিয়েছিলেন!
১ বছর পর, মার্কিন ঐতিহাসিক রবার্ট ও প্যাক্সটনের বই 'ভিচি ফ্রান্স ওল্ড পার্ড এন্ড নিউ অর্ডার' পড়ে ছাত্ররা জানতে পারে, গোটা এক প্রজন্মের ইতিহাস! জানতে পারে যে, নাৎসীদের অপরাধের সঙ্গে কিছুসংখ্যক ফরাসীও অন্যায়ের সঙ্গে কতটা তীব্র ভাবে জড়িত ছিল। বিশেষ করে নিহত ইহুদীদের সন্তান-সন্ততিদের কাছে সত্যটা লুকিয়ে রাখা হয়েছে এতাদিন! সের্গেই কার্সফেল্ড সিদ্ধান্ত নিলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার। হোক তা ৫০ বছর পর!
একটি ফরাসী আদালত এই মর্মে রুল জারী করেন, পল ত্যুভিয়ের-এর বিরুদ্ধে নাৎসী দালালের বিচার করা যাবে। ওই আদালত আরও বলেন: এই রুলিং, যুদ্ধাপরাধের সময়সীমা পার হয়ে গেছে বলে ত্যুভিয়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা যাবে না বলে নিম্ন আদালতের যে রায় দিয়েছে তা নাকচ করা হলো। আদালত আরও নির্দেশ দেন, মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য ত্যুভিয়েরের বিচার হবে, এই অপরাধের বিচারের কোন সময়সীমা নেই! (দ্য গার্ডিয়ান উইকলি/ ১৩ জুন ১৯৯৩)
এখানে যে জরুরি বিষয়টি উঠে এসেছে, অন্যায়ের বিচার হতে সময় কোন বাধা না। অন্যায়কারিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে তা যতো দেরিই হোক।
সেই কবেকার প্রথম বিশ্বযুদ্ধ! ওইসব সেনাদের নাতিপুতিরা বছরের পর বছর ধরে এই লড়াইটা চালিয়ে গেছেন, এতো বছর পর এই সেনারা নির্দোষ প্রমাণিত হলে কী হয়? বিষয়টা এখানেই। বছরের পর বছর ধরে রক্তের দাগ বয়ে বেড়ানো কোন কাজের কাজ না।
আমি মনে করি, ঘুষখোরকে ঘুষখোর বলা হবে। সে ঘুষের পয়সায় ৩ কোটি টাকা দামের পোরসে হাঁকায়, না ঠেলাভ্যান; তাতে কি! আজকাল ঘুষখোরদের নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য নাই। বটে রে, কেউ সেধে ঘুষ দেয় না- এদের হাতেও লেগে থাকে রক্ত! সামান্য একজন চাকুরে একেকজনের ঢাকায় কয়েকটা বাড়ি; কেউ জানতে চাচ্ছে না, কোন আলাদিনের চেরাগ তার হাতে। অবলীলায় আমরা তাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করছি, দিনে চৌদ্দবার সেলাম ঠুকছি! সত্যটা হচ্ছে, আজ থেকে ১০০ বছর পরও সে যে ঘুষখোর এটা বদলে যাচ্ছে না, ১৪ বার হজ করে আসলেও! নিজের শ্বশুর হলেও!
গোলাম আজম এ দেশ চাননি, এ দেশের প্রতি যতো ধরনের অন্যায় করা সম্ভব, করেছেন।
অভিযুক্ত খুনি (প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ), তিনি পত্রিকা বের করলেন নাকি খেলার মাঠ দিলেন তাতে কী আসে যায়! জানি জানি অনেকে বলবেন, আদালতের রায় তো এখনও বের হয়নি। বেশ-বেশ, হাতের রক্তের দাগ মুছে না-যাওয়া পর্যন্ত অন্তত তার প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে তো কোন সমস্যা নেই।
রাজাকারকে রাজাকার বলব, ছড়াকার না। কে তাকে কোলের বসিয়ে চুমু খেল, কে তাদের মেয়েকে বিয়ের নামে তাদের বিছানায় তুলে দিল তাতে কী আসে যায়!
৩৯ বছর কেন, ৩৯০ বছর পরও সত্যটা এটাই থাকবে, যতো বিকৃত করা হউক না কেন, রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না! আমরা ঘুষখোরকে ঘুষখোর- সুদখোরকে সুদখোর- রাজাকারকে রাজাকার- খুনিকে খুনি- গুখোরকে গুখোর- সাদাকে সাদা- কালোকে কালো, বলবই!
*ছবি স্বত্ব: শম্ভু সেনগুপ্ত, আগরতলা, সংগ্রহে: দুলাল ঘোষ



