Friday, April 9, 2010

বাঁশে ভিউ মিরর!

এ দেশে কেমন কেমন করে একটা ধারণা জন্মে গেছে, যারা লেখালেখি করেন তারা কেবল বায়ু সেবনই পছন্দ করেন, চলমান বায়ুভুক! ভাগ্যবান কেউ-কেউ মতান্তরে 'বায়ুত্যাগি' বা বুদ্ধিজীবী হয়ে যান, অন্যরা স্রেফ বায়ুজীবী। দিনপাত-বায়ূপাত-বী...পাত! এই-ই জীবন!

তাই এ নিয়ে আমার অমায়িক অপছন্দ আছে, আমি কেবল বায়ুসেবন পসন্দ করি না, বায়ুসেবন করে দিনপাত করা চলে না। বায়ুসেবন ব্যতীত অন্য কিছু সেবনের অভিপ্রায়ে বিভিন্ন বানিজ্য করার বুদ্ধি করি। এর ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন ধান্ধাবাজি করার সবিরাম চেষ্টা।

একবার দেশের মাটি বেচার [] বুদ্ধি আঁটলাম। শুরু করার পূর্বে ভয়ে ভয়ে ছিলাম। এমনিতে রাজনীতিবিদরা নাকি গোটা দেশটাই বিক্রি করে দেন এতে কোন সমস্যা নাই কিন্তু আমাদের মত ছা-পোষারা দেশের কয়েক মুঠো মাটি বেচতে গিয়ে না-আবার কোন ফ্যাসাদে পড়ি! গোয়েন্দা বিভাগ পেছনে লাগার আর সুযোগ হয়নি- সে ঝুটঝামেলা হওয়ার আর সুযোগ হলো কই! এর পূর্বেই এই ব্যবসাটাই মাটি হয়েছিল, ভেস্তে গিয়েছিল! কপালের ফের, যারা আমার ক্রেতা হবেন বলে ভেবেছিলাম, বৈদেশিগণ; এরা নাকি দেশ ছেড়ে যাওয়ার পূর্বে মুঠে-মুঠো দেশের মাটি নিয়ে যান। 

পরে বাতাস বেচার [], বোতল বেচার [] ব্যবসাতেও মার খেলাম। শুরু করার পূর্বেই আইডিয়া ছিনতাই হয়ে গেল। শ্লা, কপাল আর কী! এখন ভাবছি অন্য একটা ব্যবসায় হাত দেব। এটার পেটেন্টটা করিয়ে ফেলব কিনা ভাবছি।  

বঙ্গালকে আমি বাঁশ চেনাবার দুঃসাহস করি না। কিন্তু আপনারা কি দেখেছেন, খুব বড়ো এবং ভারী 'শিল বরাক' বাঁশ কাউকে নিয়ে যেতে? আপাততদৃষ্টিতে খুব সহজ মনে হয়। সত্যি বলছি, এক সময় এমন একটা বাঁশ বহন করাটা আমার কাছে খুব কঠিন কোন কাজ মনে হতো না। একবার চেষ্টা করতে গিয়ে হাতেনাতে ফল পেয়েছিলাম। প্রায় মাসখানেক বিছানায় শয্যাশায়ী থেকে একেবারে লম্বা হয়ে গিয়েছিলাম। বিছানায় শুয়ে-শুয়ে 'একটুসখানি' লম্বায় বেড়েছিলাম কিনা তা আজ আর বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি না।
তো, যিনি এটা বহন করেন তার ডানে-বাঁয়ে, পেছনে তাকাবার কোন সুযোগ থাকে না, সে চেষ্টা করা দুরাশা!  খোদা-না-খাস্তা সে চেষ্টা কেউ করলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা নিশ্চিত। রেললাইনের উপর দিয়ে গেলে আরও সর্বনাশ, পেছন থেকে ট্রেন আসলে দেখার উপায় কি?
আমার আইডিয়াটা ছিল এমন , বাঁশের আগায় টেম্পরারী ভিউ মিরর লাগালে যিনি বহন করছেন তিনি পেছনটা দেখতে পারবেন, প্রয়োজন হলে বাঁশে একটা রিকশার ঘন্টাও লাগানো গেল।
 
একবার এমন একজন বাঁশ বহনকারীর সঙ্গে আমার এই আইডিয়া শেয়ার করেছিলাম। যার সঙ্গে এই আইডিয়াটা শেয়ার করছিলাম, প্রথমে বড়ই বিরক্ত হলেন। না-হওয়ার কোন কারণ ছিল না কারণ এমন-একটা দৈত্যের লাশ টাইপের জিনিস কাঁধে নিয়ে আনন্দিত থাকাটা দুরাশা মাত্র।  অনেক অনুরোধ করায় অবশেষে শুনতে রাজি হলেন। ইনি তো আর এই সাইটের হৃদয়বান পাঠক না যে সহনশীলতার চুড়ান্ত দেখিয়ে অবলীলায় আমার প্রলাপ শোনার ভান করবেন। তিনি বিস্তারিত শুনে অনেকক্ষণ ঝিম মেরে রইলেন। 
আমি ভারী উৎফুল্ল। ইয়া মাবুদ, তোমার কুদরতি পায়ে ...(এটা আমাদের ইমাম সাহেবরা হরদম বলে থাকেন)।
যাক, গিলেছে ব্যাটা, টোপটা গিলেছে! আমি সোলেয়মান সুখনের ন্যায় 'মটিভেশনাল স্পিকার' হালুম বটি (টাইপিং মিস্টেক, পড়বেন: 'মটিভেশনাল স্পিকার' হলাম বটে)!
 
অবশেষে ওই মানুষটা মুখ খুললেন। হিস হিস করে শব্দের যে মিছিল বের হল তার সারমর্ম হচ্ছে, তিনি সানন্দে আমাকে এই বাঁশটা দিতে চান। বঙ্গালদের মধ্যে 'বাঁশ দেওয়া' এই বিষয়টা ব্যাপক চালু আছে। আমার আনন্দিত হওয়ার কথা কিন্তু বিশদ শুনে আমার মনটা বিষাদে ছেয়ে গেল! বাঁশটা তিনি আমাকে দিতে চান বিশেষ ব্যবস্থায়, বিশেষ ভঙ্গিতে। এই নিয়ে আলোচনা করাটা ভদ্র সমাজে শোভন না এমনকি হাফ-ভদ্র সমাজেও ...।

সহায়ক সূত্র:
১. মাটি বিক্রি: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_15.html
২. বাতাসের ব্যবসা: http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post.html
৩. বোতল ব্যবসা: http://www.ali-mahmed.com/2011/02/blog-post_15.html 

1 comment:

Rey Abisan said...

Inspiring post – appreciate the hard work and time taken to do this write up.

Perfect timing for me as well … thanks :)







High Search Engine Ranking Optimization