Search

Showing posts with label স্বপ্ন. Show all posts
Showing posts with label স্বপ্ন. Show all posts

Saturday, April 18, 2015

আবার আসিব ফিরে...।

এই অপারেশনে কারও মৃত্যু হয়েছে এমনটা শুনিনি। আমার বেলায় এটা ঘটলে সেটা হবে বিরল ঘটনা! অখ্যাত পত্রিকার ভেতরের পাতায় ‘বিরল ঘটনা’ হিসাবে খবরটা দু-চার লাইনে চলে আসাটা একেবারেই অলীক-অসাড় বলাটা সঠিক হবে না।

তবে এই অপারেশনে অন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটাও তোপ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া চলে না। অবশ্য এও সত্য, একজন লেখকের জন্য অন্ধ হয়ে যাওয়াটা মৃত্যুসম। তখন বাঁচা না-বাঁচা সমান...।

Friday, June 4, 2010

স্বপ্ন, তিন: দু-জন দুর্ধর্ষ মুক্তযোদ্ধা, স্যালুট ম্যান

আমার অনেক দিনের এই স্বপ্ন, নৌ-কমান্ডো ফজলুল হক ভূঁইয়ার (যিনি জীবনের অনেকটা সময় ঠেলাগাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন) কাছ থেকে শিশুরা মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনবে। এই আগুন মানুষটার কাছ থেকে তাদের উপহার নেবে। তাঁর সঙ্গে থাকবেন ট্যাংক-মানব এম এ জব্বার। 
একজন রাজনীতিবিদ, একজন আমলার কাছ থেকে পুরস্কার নেয়ার চেয়ে এই দেশের এমন সেরা সন্তানদের হাত থেকে পুরষ্কার নেয়া যে অনেক মর্যাদার এটা এরা জানবে, জানবে এদের অভিভাবক। জানব আমরা। জানব আমি নিজেও।

অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল ন-টায়। কিন্তু আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমাদের খানিকটা দেরী হয়ে গেল। আমরা কেউ নেই অথচ বাচ্চারা এসে অডিটরিয়াম ভরে গেছে। প্রথমেই বাচ্চাদের কাছে আমরা বাজে একটা উদাহরণ সৃষ্টি করলাম। নিজেরাই সময় ঠিক করে সময় রক্ষা করতে পারলাম না। এই দায়টা আমার নিজের উপরও বর্তায়!
বাচ্চাদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে আমি ক্ষমা চাইলাম এবং ঘুষ (!) হিসাবে প্রত্যেকটা বাচ্চার জন্য জুসের ব্যবস্থা করা হলো। :)
আমি অভিভূত। ১২টা স্কুল থেকে ৫৮জন বাচ্চা এসেছে। এতো বাচ্চা চলে আসবে এটা আমি ভাবিনি। 


নৌ-কমান্ডো ফজলুল হক ভূঁইয়া [১]
নৌ-কমান্ডো ফজলুল হক ভূঁইয়া, বর্ণনা করছেন তার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি [২]
 
ট্যাংক-মানব, মুক্তিযোদ্ধা এম, এ, জব্বার [৩]। বর্ণনা করছেন কেমন করে আস্ত একটা ট্যাংক নিয়ে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। (বাইরে ঝুম বৃষ্টি, পাওয়ার নাই। তবুও থেমে থাকেনি অনুষ্ঠান।)
 
চলছে আঁকাআঁকির যুদ্ধ।
এই আর্টিস্টকে জিজ্ঞেস করলাম, বাবা, এটা কি আঁকছ? ও উত্তর দিল, বাঁয়েরটা মানুষ, ডানেরটা টেবিল। আমি আগ্রহ নিয়ে বললাম, বাহ, চমৎকার! তা এরপর কি হবে?
সে বলল, মানুষটা টেবিলে উঠে বসবে।
আমি বললাম, আচ্ছা।
 
এই বাচ্চাটা ইউএনও মহোদয়ের সন্তান। এখানে আমার নিজের সন্তানও আছে কিন্তু এখানে যেমন এই বাচ্চাটাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নাই তেমনি আমার সন্তানকেও। আমি নিজেও প্রচুর আঁকাআঁকি করেছি কিন্তু এখানে বিচারক হওয়ার জন্য সবিনয়ে না করেছি কারণটা পূর্বেই বলেছি আমার সন্তানও এখানে আছে। আছে, কারণ স্কুল থেকে ও এখানে অংশগ্রহণ করলে আমার করার কিছু নেই। 
যাই হোক, এর সমস্যা হচ্ছে, এ কেবল একটাই আঁক শিখেছে। শহীদ মিনারের অবয়বটার কিছু অংশ ভুলে গেছে। ভুলে গেছে তাই এখন তার সাথে নিয়ে আসা ছবিটা তাকে দেখতে দিতে হবে, যেটা সম্ভব না। অধিকাংশ স্কুলগুলো বাচ্চাদেরকে একটা ছবিই আঁকা শেখায়- বাচ্চারা ওই একটা ছবিই বছরের পর বছর ধরে আঁকতে থাকে। 
সে কাঁদছে। আমি বললাম, 'তুমি যা পারো তাই চেষ্টা করো'।
সে বিভ্রান্ত, 'মাথা নেড়ে বলল, আমি এটা ছাড়া আর কিছু পারি না'।
আমি আবারওবললাম, 'চেষ্টা করো পারবে'।
সে এদিক-ওদিক মাথা নাড়ছে, 'না-না-না, আমি পারব না'।
এই ভাবনাটা পূর্বেই আমার মাথায় ছিল। যে কারণে এই প্রতিযোগীতায় সুনির্দিষ্ট কোন বিষয় দেয়া ছিল না। যে যা খুশী আঁকবে। পারলে ভূত আঁকবে, সমস্যার কিছু নাই।
তার আঁকার চেয়ে বিচারকের দৃষ্টি কেড়েছে যেটা, এই ছবির নীচে লেখা ছিল, "স্বাধীনতার চেতনা থাকুক প্রতিদিন"।
এই মেসেজটা আমার পছন্দ হয়েছে। কারণ আমি যখনই এই অনুষ্ঠানটা করার চেষ্টা করেছি তখনই আমাকে বলা হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে, ডিসেম্বরে করার জন্য। আমাদের তো আবার কান্নার জন্যও বিশেষ মাস লাগে, আয়োজন লাগে।
 
বিচারক তাদের ছবি দেখছেন। বাচ্চাদের উদ্বেগ কমাবার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে সবার জন্য ছিল চিপসের ব্যবস্থা।
 
বিজয়ী শিশুদের কথা।
 

বাচ্চাগুলোর মন খারাপ করার সুযোগ ছিল না কারণ তিন গ্রুপে ৯টা পুরষ্কার ব্যতীত সব বাচ্চাদের জন্য (৫৮ জন) ছিল, একটা করে পতাকা, একটা কলম, একটা করে কার্টুন-স্টিকারের পাতা। শিশুরা যেমন এই দুই অতিথীর কাছ থেকে পুরষ্কার নিয়েছে তেমনি এরাও বিশেষ অতিথীদের জন্য উপহার দিয়েছে।
 
এই সেরা সন্তানদের কাছ থেকে আমিসহ এই অনুষ্ঠানে যারা সহযোগীতা করেছেন, প্রত্যেকেই পেয়েছেন একটা করে কলম। 
ডা. রুমি নামের একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আমাকে খুব করে অনুরোধ করেছিলেন, তাঁর জন্যও একটা কলম নেয়ার জন্য। তাঁর পক্ষ থেকে আমি নিয়েছি।  এই মানুষটা খানিকটা অন্য রকম। তিনি যখন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যান, ট্রেনটা যখন আখাউড়া অতিক্রম করে; তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত না বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধিক্ষেত্র ট্রেনটা অতিক্রম করে যায়। 
অন্যরা কি করবেন জানি না, আমার কলমটা রেখে দেব যত্ম করে। আমার জন্য এরচেয়ে বড়ো উপহার আর নাই।

কৃতজ্ঞতা: আমার ভূমিকা এখানে একবারেই গৌণ। এই অনুষ্ঠানটা সফল করার পেছনে আছেন এক ঝাঁক তরুণ যারা সংবাদপত্র ভূবনের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা। এঁরা সহযোগীতা না-করলে এই অনুষ্ঠানটা সফল হতো বলে আমি মনে করি না।
আর্থিক সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে 'পড়শী ফাউন্ডেশন'[৪]। তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা।

*স্বপ্ন: http://tinyurl.com/3y7bpz3

সহায়ক লিংক:
১. মুক্তিযুদ্ধে একজন ঠেলাওয়ালা: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_18.html 
২. আবারও অগ্নিপুরুষ: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_22.html 
৩.  ট্যাংক-মানব: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_03.html 
৪. স্বপ্নের কারখানা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_16.html 
৫. আমাদের কুমিল্লা: http://www.dailyamadercomilla.com/content/2010/06/05/news0745.htm

Sunday, May 30, 2010

নো পাসপোর্ট-নো ভিসা-নো ব্যারিআর

কত কিছু দেখার বাকী রয়ে গেছে- 'মেঘে মেঘে বেলা বয়ে যায়'। কখনও সুযোগ এলেও আমি হাঁই তুলে বলি, দেখি।  আমার এই দেখাদেখি আর শেষ হয় না!
অবশ্য পুরনো স্থাপনা আমাকে খুব টানে, কেন? এটার বিস্তারিত বলতে গেলে মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে যাব। আমি নিজেও থাকি প্রায় ১০০ বছর পুরনো এক বাড়িতে, ব্রিটিশদের বানানো একটা স্থাপনা, এই বাড়িতে কারা কারা যেন ভূত দেখেছেন, আমি দেখিনি। ভূতের প্রতি আমার কোন আগ্রহ নাই, মহিলা ভূত হলে আগ্রহ থাকত কিনা এই কুতর্কে এখন যাই না। [১]

তো, কোন দিন না এই ভূতেরবাড়ি ধসে পড়লে, পত্রিকায় আমার ছবি আসলে মরে গিয়েও কম অবাক হব না, একজন ব্লগারের অপমৃত্যু।

তাজমহলের সামনে যখন দাঁড়িয়েছিলাম তখন আমার সঙ্গের মানুষটা পারলে এককোপে আমার কল্লা নামিয়ে ফেলেন। তাজ দেখে কেন আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি না, কেন আমি এটার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি উঠাচ্ছি না এই নিয়ে তাঁর আক্ষেপের শেষ ছিল না। 
তিনি অনল বর্ষন করতে লাগলেন, এই পৃথিবীতে দু-ধরনের লোক আছে- একদল তাজ দেখেছে, অন্য দল দেখেনি। আমি নাকি বড়ো বিচিত্র একজন মানুষ, কোন দলেই আমাকে ফেলা যাচ্ছে না। দেখিনি এটাও বলা যাচ্ছে না আবার দেখেছি এটা বললেও চলছে না, তাজ দেখার প্রকৃত উচ্ছ্বাস কই, ফটাফট ছবি উঠানো কই!

তিনি বললেন, তুমি যে একজন মানসিক রোগি এটা কি তুমি জানো?
আমি ঘুরিয়ে উত্তর দিয়েছিলাম, একজনকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, 'আর য়্যু কম্যুনিস্ট'? তার উত্তর ছিল, 'নো, আয়্যাম নরমাল'। 
এখন তোমার কারণে আমি নিজেকে নরমারও বলতে পারছি না। কী আর করা, কপাল! দেখি ফিরে কোন একজন মনোচিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলব।

অনেকে এটা বলার কারণে আমাকে চাবকাবার জন্য চাবুক হাতে ঘুরে বেড়াবেন কিন্তু আমার কাছে আহসান মঞ্জিল, পানাম নগরী [২] দেখে যে অনুভূতি হয়েছিল, তাজ দেখে এর বাইরে কোন বাড়তি তাগাদা অনুভব করিনি।

পূর্বে এই ভাবনা কাজ করত, আহা, এই গ্রহে কত কিছুই না দেখার বাকী রয়ে গেছে- না দেখে মরে যাওয়ার কোন অর্থ হয় না। এখন অনুভূতি ভোঁতা হয়ে গেছে! এখন আর এই ভাবনাটা কাজ করে না। কেন, এটা মনোচিকিৎসক ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু আমি জানি না কেন যেন এঁরা রোগি হিসাবে আমাকে গুরুত্ব দিতে চান না। কাল রাতেও এমন একজনের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম, তিনি আরও উল্টা...।

মনোচিকিৎসকদের অবশ্য হুমায়ূন আহমেদের মত উঁচু মাপের লেখক বলেন পাগলের ডাক্তার! এইবারের শিলালিপিতে (২৮ মে, ২০১০) তিনি লিখেছেন:
"...সাইকিয়াট্রিস্ট এবং লেখিকা আনোয়ারা সৈয়দ হক আমি ডিজোপেন খাই শুনে আঁতকে উঠে বলছিলেন, এটা তো পাগলের ওষুধ। আপনি পাগলের ওষুধ খাচ্ছেন কেন?
আমি বিনয়ের সঙ্গেই বলেছি, আমি তো পাগলই।...?"

আমি স্তম্ভিত! এটা আমি বিশ্বাস করি না, করতে চাই না কোন বিবেকবান মানুষ খানিকটা অন্য রকম মানুষকে পাগল বলেন, ঘটা করে এটা লিখে আমাদেরকে আবার শেখান। 
আমি এটাও বিশ্বাস করতে চাই না, একজন সাইকিয়াট্রিস্ট নিজেকে পাগলের ডাক্তার বলেন! বলে থাকলে তাঁর সনদ কেড়ে নেয়া উচিৎ। অনুমান করি, হুমায়ূন আহমেদ বানিয়ে বানিয়ে বলছেন। এই অভ্যাসটা তাঁর পুরনো।[৩] 
যাগ গে, হুমায়ূন আহমেদ একজন দুঁদে লেখক, তিনি আষাঢ়ে গল্প 'আমার নিজের চোককে দেখলাম' বলে আমাদেরকে আষাঢ়ের বৃষ্টিতে গোসল করালে আমাদের না ভিজে উপায় কী! হুমায়ূন আহমেদ বলে কথা!

আমার নড়বড়ে বাসাটার ছোট্ট সিড়িতে বসে থাকার যে সুখ তা অন্যত্র কোথায়। মাথার উপর দিয়ে যখন অতি দ্রুত যান উড়ে যায় [৪] তখন আমার মাথায় এই ভাবনা খেলা করে, আচ্ছা, আস্ত একটা ভিমরুলের বাসা যোগাড় করার উপায় কি [৫]?
আমি বুকে হাত দিয়ে এটা বলতে পারব না, কখনো কখনো কি এমনটা মনে হয়নি, এই সব আমি কি করছি [০]? আমি আসলে কি হতে চেয়েছিলাম...[৬]। কেন আমার দ্রুত রূপান্তর হয় না [৭]?

এই গ্রহের চমৎকার সব দৃশ্য দেখার জন্য, বুদ্ধিমান মানুষরা প্রতিবন্ধকতা সৃস্টির উদ্দেশ্যে কতই না উপায় আবিষ্কার করে রেখেছে! বুদ্ধিমান মানুষরা সব সময় সফল হয় কী!

অন্য একটা পোস্টে ছবিটা দেয়ার সময় এতোটা খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে দেখা হয়নি [৮]। এখন এই ছবিটা দেখার পর মনে হচ্ছে, পৃথিবীর অন্য সব চমৎকার সব দৃশ্য না দেখে মরে গেলেও আজ থেকে আমার হাহাকার করার কিছু নাই।

ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান [৯], "রানী" নামের এই মেয়েটি নাকি হাসে না এমনটাই বলেছিল তার পরিবারের লোকজন। মিথ্যা-মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা! কী চমৎকার করেই না হাসে মেয়েটা! হাসিটার তুলনা কিসের সঙ্গে হয় আমি জানি না।
এর জন্য কোন পাসপোর্ট লাগে না, ভিসা লাগে না; কেউ রে রে করে তেড়ে আসবে না।
ভাল লেখক হয়তো-বা মনের মাধুরী মিশিয়ে লম্বা লম্বা কাহিনী লিখতে পারতেন। আমার কাছে  কেবল মনে হচ্ছে, অন্য ভুবনের এমন কিছু চমৎকার দৃশ্য দেখার জন্য আরও কিছুটা সময় বেঁচে থাকা যেতে পারে! মন্দ হয় না।
তাতে ২০০৯-এর মতোই [১০] চলে যাক না ২০১০...১১...১২...।

*স্বপ্ন: http://www.ali-mahmed.com/search/label/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A8 

সহায়ক লিংক:
০. একজন ব্যর্থ পুরুষ: http://www.ali-mahmed.com/2009/09/blog-post_12.html 
১. ভূতের বাড়ি: http://www.ali-mahmed.com/2009/11/blog-post_24.html 
২. ওড়নাসমগ্র: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_18.html 
৩. হুমায়ূন স্যারের নাটক: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_2278.html 
৪. মার অদেখা সন্তান: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_10.html 
৫. খুনের দায় http://www.ali-mahmed.com/2009/11/blog-post_10.html 
৬. পানাম নগর: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_10.html 
৭. রূপান্তর: http://www.ali-mahmed.com/2009/11/blog-post_1172.html 
৮. স্বপ্ন দুই: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_25.html 
৯. ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post.html 
১১. জিরো: http://www.ali-mahmed.com/2009/07/blog-post_28.html 
১০. ০০৯: সালতামামি: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_31.html

Wednesday, May 26, 2010

স্বপ্ন: বৃদ্ধাশ্রম


এই মানুষটার একদা স্বামী-সন্তান সবই ছিল। স্বামী খুব একটা স্বচ্ছল না হলেও অন্তত কারও কাছ থেকে চেয়ে-চিন্তে খেতে হয়নি। যতদিন বেঁচে ছিলেন মর্যাদার সঙ্গেই জীবন-যাপন করেছেন। স্বামী নামের মানুষটার মৃত্যুর পর সব এলোমেলো হয়ে যায়। দিনে দিনে এই মহিলা কষ্ট করে তাঁর সন্তানদের বড়ো করেন।

আজ তাঁর সন্তানরা তাঁকে খাওয়া-পরার ব্যবস্থা করা দূরের কথা, বাড়িতে রাখতেও আগ্রহী না। তবুও এই মহিলা ছেলে নাতির টানে বারবার এদের কাছে ফিরে যান।
তাঁর ছেলের বউরা তাঁকে মারে, তাঁর নাতিরা তাঁকে মারে। এটা যখন আমার কাছে বর্ণনা করছিলেন, আমি খানিকটা অন্যমনস্ক হয়ে পড়ি।

আমি কেবল নিজের কথা ভাবি, আজ আমার যে সন্তানদের জন্য আমি যে ভারী ব্যাকুল; এরা ঠিক এমনটাই আমার সঙ্গে করলে আমি কোথায় যাব, কার কাছে যাব? কাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বুক হালকা করব?
আমার চোখে জল- এই মহিলার জন্য না, নিজের জন্য। আমি জলভরা চোখে অভিশাপ দেই, আমার সন্তানও যদি এই মহিলার সন্তানদের মত হয় তাহলে তাদের আর বড়ো হওয়ার প্রয়োজন নাই। আজই যেন তাদের মৃত্যু হয়।

আমি কেবল ভাবছিলাম, একজন মানুষ সীমাহীন দূর্নীতি করে বিপুল অর্থ রেখে যায়, কার জন্য, কেন? তার সন্তানদের জন্য? তার সন্তান ভোগ করল কিন্তু ওই মানুষটার কী লাভ?

এখন এই মানুষটার থাকার নির্দিষ্ট কোন জায়গা নেই। পথে পথে ঘুরে বেড়ান, ভিক্ষা করেন। এই মহিলার ছবি উঠাতে আমার কেন যেন ইচ্ছা করছিল না। ঘোলাটে তাঁর চোখ কিন্তু কী তীব্র সেই চোখের দৃষ্টি! এই চোখে চোখ রাখার ক্ষমতা কই আমার! আমি তো আর পেশাদার আলোকচিত্রি নই। তাঁর চোখ বাঁচিয়ে চুপিসারে ছবি তুলি।

কিছু অনাবশ্যক কাজে জড়িয়ে অনেকটা সময় নষ্ট হলো। আজ থেকে ভারমুক্ত। আমাকে কার প্রয়োজন তারচেয়ে জরুরী হলো এই মহিলাকে আমার প্রয়োজন। সমস্যা হচ্ছে, পছন্দসই বাসা খুঁজে পাওয়া যায়নি এখনও। 

স্বপ্নের কারখানায় [১] আমি উল্লেখ করেছিলাম, শিশু আশ্রম দাঁড় করাবার পর বৃদ্ধাশ্রম করব। আজ আমি আমার মত খানিকটা পরিবর্তন করি। করলে একসাথেই করব। একটা দাঁড় করিয়ে আরেকটা করার জন্য অপেক্ষা করার সময় কোথায়? কে দেখেছে নেক্সট সামার, কে দেখেছে নেক্সট উইন্টার...!

*স্বপ্ন: http://tinyurl.com/3y7bpz3 

সহায়ক লিংক: 
১. স্বপ্নের কারখানা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_16.html 

 

Monday, May 24, 2010

স্বপ্ন, কেস স্টাডি: ২


মাটির এই ছোট্ট ঘরটির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই ছোট্ট পরিবারটির গল্প খুব সাধারণ। পরিবারটির কর্তা, বাবা ছিলেন স্বচ্ছল একজন মানুষ। এলাকায় ছিল যথেষ্ঠ পরিচিতি। তিনি মারা যান প্রায় ২০ বছর পূর্বে। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ছিলেন আমাদের মতই কিন্তু তার সন্তানরা "ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান" [৩]

এক ছেলে, হেলাল এবং দুই মেয়ে, রানী এবং তাখমিনা। এঁরা তিন জনই কানে শুনতে পায় না, কথা বলতে পারে না

এই পরিবারটির মা হোসনা বেগম এতদিন এই সংসারটাকে টেনে টেনে নিয়ে গেছেন, লোকজনের বাড়িতে কাজ করে। এখন শ্বাসকষ্ট এবং বিভিন্ন রোগে তিনি কাবু। এখন আর মানুষের বাসায়ও কাজ করা সম্ভব হয় না। ছেলে হেলাল টুকটাক কাজ করত কিন্তু এখন সেও অসুস্থ।

তাহলে পরিবারটির চাকা চলছে কেমন করে? এটার স্পষ্ট উত্তর কেউ দিতে পারেননি, এরাও না!

পাশের বাসার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে যেটা জানলাম, ছোট মেয়েটি (রানী) চমৎকার হাতের কাজ করে, সেলাই করতে পারে। জামার একটা নমুনা দেখেই আমার মনে হয়েছে, চমৎকার হাতের কাজ, সেলাই জানে সে!

আমি অনেক ভেবে দেখলাম, এই পরিবারটির একটা সেলাই মেশিনের বড়ো প্রয়োজন। ছোট্ট মেয়েটি, রানি (বাম থেকে দ্বিতীয়) - ও একাই টেনে নিয়ে যেতে পারবে এই নড়বড়ে সংসার নামের চাকাটাকে।

এদের কাছে একটা সেলাই-মেশিন, একটা স্বপ্নের নাম। অদেখা এক স্বপ্ন!

*এই পরিবারটির খোঁজ আমায় দিয়েছেন দুলাল ঘোষ। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা। 

**আপডেট: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_25.html

সহায়ক লিংক:
১. স্বপ্নের কারখানা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_16.html
২. স্বপ্ন, কেস স্টাডি ১: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_17.html
৩. ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_03.html
**স্বপ্ন: http://tinyurl.com/3y7bpz3

Tuesday, May 18, 2010

আপডেট: কেস স্টাডি, এক

আপডেট: মে ১৮, ২০১০



আপডেট: মে ২৪, ২০১০ (মাধবী বুঝতেই পারেনি কখন তার ছবি উঠানো হয়েছে!)

*স্বপ্ন: http://www.ali-mahmed.com/search/label/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A8 

সহায়ক লিংক:
১. কেস স্টাডি, এক: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_17.html
২. স্বপ্নের কারখানা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_16.html

Monday, May 17, 2010

স্বপ্ন, কেস স্টাডি: এক

মাধবী রবি দাস।

বয়স আনুমানিক দশ। এঁরা হরিজন (গান্ধীজীর প্রদত্ত নাম)। বাবা ছিলেন চর্মকার। অবশ্য চর্মকার ছিলেন মি. বাটাও। সহজ ভাষায় মুচি। বাবার নাম সুরেশ রবি দাস। বাবা মারা যান যখন এই মেয়েটির বয়স আনুমানিক এক।

মাধবী ক্লাশ থ্রি-তে পড়ত। পড়া বন্ধ। মার কল্যাণে কায়ক্লেশে সংসার চলে। মাধবী পড়ে রাধানগর ফ্রি প্রাইমারী স্কুলে (এই স্কুলে আমি নিজেও পড়েছি, এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এখনো ফ্রিতে পড়াশোনার সুযোগ আছে বলে।)।

এখন তার স্কুল ড্রেস নেই, খাতা-কলম নেই। আমাদের ভাষায় কারণটা খুব তুচ্ছ। এর সমাধানও খুব জটিল কিছু না। আজ স্কুল ড্রেস এবং খাতা-কলমের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। 
একজন সহৃদয় ভদ্রমহিলা একে পড়া দেখিয়ে দেয়ার দায়িত্বও নিয়েছেন। মাধবী দীর্ঘ সময় স্কুলে না যাওয়ার কারণে পড়ায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে।  তাকে আলাদা করে পড়া দেখিয়ে দেয়াটা জরুরী।

আমি গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছি, মাধবী চকচকে স্কুল ড্রেস পরে নতুন বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। এ গ্রহে এরচেয়ে চমৎকার দৃশ্য আর কী হতে পারে! সে তার পিছিয়ে যাওয়া পড়া ভদ্রমহিলার কাছ থেকে বুঝে নিচ্ছে।

মাধবীকে নিয়ে আমার আরও কিছু ভাবনা আছে। আমার ফতুয়ায় হাতের সেলাইয়ের কাজ দেখে একজন পেছনে লেগে গেলেন। তাকেও এমন হাতের সেলাইয়ের কাজ করে দিতে হবে। যতই আমি বলি, এটা আমরা নিজেরাই বাসায় করি কিন্তু কে শোনে কার কথা। 
মাধবী আগ্রহী হলে তাকে সুই-সুতার কাজটা ধরিয়ে দিতে হবে। এতে ভবিষ্যতে তার নিজের খরচ সে নিজেই বহন করতে পারবে।

মাধবীকে এই সব করতেই হবে কারণ সে স্বপ্নের কারখানার [১] একজন। এমনটা না করলে আমার পরাজয়। নিজেকে পরাজিত দেখতে ভালো লাগে না।

*স্বপ্ন: http://tinyurl.com/3y7bpz3

সহায়ক লিংক: 
১. স্বপ্নের কারখানাhttp://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_16.html
২. আপডেট: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_18.html 

Sunday, May 16, 2010

স্বপ্নের কারখানা

আমরা তো শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামানের [১] মতো কঠিন শিক্ষাবিদ না যে হঠাৎ মনে পড়ল, আরে, আমার তো মনেই ছিল না যে আমি একজন শিক্ষক! বা মতিউর রহমানের [২] মতো বিশাল মাপের মানুষ না যে, নিজেকে ব্যতীত সব বদলে ফেলব, কারণ নিজেকে আমার বদলাবার কিছু নাই। আমি সমস্ত বদলের উপরে, চলমান একজন দেবতা আর কী!

আমরা যারা খুব সাধারণ, আমাদের কাজ-স্বপ্নগুলোও বড়ো সাধারণ। ছোট-ছোট স্বপ্ন আমরা বুকে হরদম লালন করি। আমরা মনে করি, রাস্তায় কলার খোসাটা আমরাই সরাবো। কলার খোসাটা সরবার জন্য আমরা হাঁ করে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকব না।

আমার নিজস্ব জাগতিক সমস্যা এতো প্রবল, স্বপ্নগুলো প্রায় ভুলতেই বসেছিলাম। কিন্তু আমি প্রবল ভাবে বিশ্বাস করি, মন থেকে চাইলে অদেখা স্বপ্ন সলাজে দরোজার পাশে এসে দাঁড়াবেই- তাকে আসতেই হবে। আমার মধ্যে 'প্লাসিবো' ভাবটা প্রবল- অন্যের জন্য যা চাই তা কেমন কেমন করে যেন পেয়ে যাই!

আমার ছোট-ছোট স্বপ্নগুলো নিয়ে আবারও স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম। কেউ কেউ অযাচিত মমতার হাত বাড়িয়ে দিলেন। এঁদের আমি চিনি না, এঁরাও আমাকে চেনেন না, তাতে কী কিছু আসে যায়? ক্রমশ আমার এই স্বপ্নগুলো "আমাদের স্বপ্নে" রূপান্তরিত হয়। আমি থেকে আমরা...। 

কেবল স্বপ্নের কথা। আরও চমৎকার স্বপ্ন দেখার পরামর্শ-ভাবনা। আমি "স্বপ্ন" নামের একটা নতুন বিভাগ যোগ করছি। এখানে কেবল ছোট-ছোট স্বপ্নের কথাই বলা হবে। 
কেউ ভুলেও যেন এটা না ভাবেন, আমি খুব বড়ো কিছু করে ফেলছি। তাহলে আমি বলব, যারা এমনটা ভাবেন তাঁরা বোকার স্বর্গে বাস করেন। আমি কেবল পুরো বিষয়টা সমন্বয় করছি, আর কিছু না। এটুকুই আমার ভূমিকা। তবে হ্যাঁ, আমার যে অল্প মনন আছে তার সবটুকু আমি এখানে ঢেলে দেয়ার চেষ্টা করব।

আমার অনেক দিনের ইচ্ছা-স্বপ্ন, অসহায়, নিরন্ন বাচ্চাদের জন্য একটা আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। এই সব বাচ্চাদের [৩] যখন দেখতাম তখন নিজেকে কী অসহায়ই না লাগত। এদের জন্য কিচ্ছু করতে পারছিলাম না। মানুষ হিসাবে নিজেকে জাস্ট পোকা-পোকা মনে হতো। একজনের কাছে ২টা বাচ্চাকে [৪] দু-এক দিনের জন্য রাখতে দিয়েছিলাম এ আমাকে না জানিয়ে এই বাচ্চাগুলোকে বের করে দিয়েছিল। মানুষটাকে আমি কঠিন অভিশাপ দেই, তার মৃত্যু যন্ত্রণা যেন প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত হয়।

আমার কাছের লোকজনরা আমাকে কঠিন প্রকৃতির মানুষ হিসাবেই জানেন- কে বলেছে, কঠিন মানুষরা কাঁদতে জানে না? এরা হয়তো ঘটা করে কাঁদার নিয়মটা জানে না, জানলে ভালো হতো। কেউ কেউ প্রকাশ্যে কাঁদে, কেউ বাথরুমে...।

অনেক পূর্বেই এটা করার কথা ছিল কিন্তু আমার স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, অন্তত ১ বছর চালাবার মত টাকা না থাকলে এই কাজে হাত দেব না। কারণ, দু-এক মাস চালিয়ে টাকার জন্য বন্ধ করে দিতে হলে এ আরেক অন্যায়। ভাসিয়ে দেয়া শিশুগুলো যাবেটা কোথায়?

কিছু কিছু পাগলমানুষদের কারণে এই সব বাচ্চাদের সহসাই একটা গতি হচ্ছে। কেবল বাচ্চাদের জন্য আশ্রয়ই না, আমার আরও ভাবনা আছে। আগে এটা দাঁড় করে নেই। এর পাশাপাশি একটা বৃদ্ধাশ্রম করার ভাবনাও আমার আছে। এতে একটা অভাবনীয় কাজ হবে, বাচ্চারা তাদের হারিযে যাওয়া বাবা-মা, দাদা-দাদির সংস্পর্শ পাবে। পাশাপাশি বয়স্করাও পাবেন বাচ্চাদের সংস্পর্শ। 
আমি কিছু বৃদ্ধাশ্রমে দেখেছি, মানুষগুলো কী নিঃসঙ্গই না থাকেন- কেবল মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা! তাদের এই নিঃসঙ্গতা থেকেই ভাবনাটা আমার মাথায় আসে। এই ভাবনার সূত্রপাত এই মাকে [৫] দেখে, তাঁর প্রতি আমার অজস্র ভালোবাসা।

শিশুদের চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগীতা করা হবে হপ্তা-দশ দিনের মধ্যে। যার প্রধান অতিথী থাকবেন এই দেশের একজন সেরা সন্তান [৬]। এই শিশুরা এবং তাদের মারা শিখুক একজন নষ্ট রাজনীতিবিদ বা একজন পচে যাওয়া আমলার হাত থেকে পুরস্কার নেয়ার চেয়ে এমন একজন আগুনপুরুষের [৭] কাছ থেকে পুরষ্কার নেয়াটা অনেক মর্যাদার। 

আমার মাথায় অসংখ্য ভাবনা গিজগিজ করে। একেক করে এদের বেরুবার জায়গা করে দিতে হবে নইলে আমি যে মারা পড়ব। এখনই আমি মরতে চাই না, অনেক কাজ যে বাকী।

*স্বপ্ন: http://tinyurl.com/3y7bpz3

সহায়ক লিংক: 
১. শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামান: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_03.html 
২. মতি ভাইয়ার অ-শপথ: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_19.html 
৩. এলিয়েন: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_08.html 
৪. দু-বোন: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_13.html 
৫. মা (বৃদ্ধাশ্রম): http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_9329.html 
৬. নৌ-কমান্ডো: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_18.html 
৭. অগ্নিপুরুষ: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_22.html

Tuesday, June 2, 2009

বাতাস বিক্রি।

এইবার ভাবছি, নতুন একটা ব্যবসা ধরব। বেঁচে-থাকার কিছু একটা না-করলে চলছে না আর, বুঝলেন। মুশকিল হচ্ছে, সবারই যখন একটা করে ক্যারিয়ার আছে তখন আমার হাতে কেবল টিফিন-ক্যারিয়ার! খানিকটা লেখার চেষ্টা ব্যতীত আর কিছুই যে আমি পারি না গো! শালার একটা দেশ, এ দেশে লেখালেখি করে বী..পাত করা চলে, দিনপাত না।

ব্যবসার জন্য কিছু একটা তো বিক্রি করতে হবে। আগেরবার মাটি বিক্রি [১] করতে গিয়ে ধরা খেয়েছিলাম! ব্যবসা ফ্লপ করেছিল। আরে বাবা, দেশের মাটি কোথায় যে মাটি বিক্রি করব! একবার শেখ হাসিনা বলেন খালেদা জিয়া বিক্রি করে দিয়েছেন আরেকবার খালেদা জিয়া বলেন শেখ হাসিনা এক চিমটি মাটিও রাখেননি!। কার কথা সত্য এটা আপনাদের বলতে পারছি না কারণ দুজনই সত্য বলেন।

মূল কথায় আসি। এবার বাতাস বিক্রি করব। আহা, না শুনেই চোখ কপালে তুলে উড়িয়ে দেবেন না। ধরুন, আপনার আসল বাড়ি ছিল তিতাসের পাড়ে। আপনি এখন নিজের শেকড়-টেকড় কেটে ঢাকায় ঝাঁ চকচকে কংক্রিটের বস্তিতে থাকেন। আহা, রাগ করছেন কেন! আমি আবার কখন বললাম, আপনি বস্তিবাসী। বলেছি কংক্রিটের বস্তির কথা...।
তো, আপনার প্রাণপাখি কিচিরমিচির করে সেই..., সেই তিতাসের পাড়ে। হুহু করে বয়ে যাওয়া তিতাসের একটু বাতাসের জন্য আপনার বুকটা কেমন-কেমন করে। এখানেই হচ্ছে আমার ব্যবসার মূল রহস্য। আমি বোতলে করে আপনার কাছে পৌঁছে দেব আপনার, কেবল আপনারই তিতাসের বাতাস।

আমি মানসচক্ষে দেখতে পাচ্ছি, আপনার অট্টহাসিতে আমার মনিটরের পর্দা কেঁপে উঠল। আপনার মনের কথাটাও অবলীলায় পড়তে পারি, ব্যাটা চালবাজ, এসেছে আমাকে বোকা বানাতে। তিতাস-ফিতাস কিসসু না, ব্যাটা ঢাকায় বসেই ঢাকার দুষিত বাতাস ধরিয়ে দেবে, চাল্লু একটা! আপনি গোঁফে তা দিচ্ছেন কেমন করে আমাকে হাতেনাতে ধরবেন এটা ভেবে। আরে, একটু দম নিন তো মশাই! চেপে ধরার জন্য কেবল আমার গলাই সরু পেয়েছেন...!

আরে না-না, ব্যবসায় সততা বলে একটা কথা আছে না? বলেছি যখন বলেছি, তিতাসের বাতাস মানে তিতাসের বাতাস। নট নড়নচড়ন! এটা ব্যবসার সিক্রেট বলে জনে-জনে বলতে পারছি না। ভাইরে, একটু কাছে আসেন। কেবল আপনাকেই বলি। কাউকে বলবেন না যেন...।
তিতাসের পাড়ে যাওয়ার পূর্বে বোতলভর্তি পানি নিয়ে যাব। ওখানে গিয়ে বোতলের পানিসব ফেলে দেব। পানি বেরুবে আর বাতাস ঢুকবে। ছাড়াছাড়ি নাই- সুড়সুড় করে ওখানকার বাতাস বাবাজি বোতলে প্রবেশ করিতে বাধ্য হইবে।
ব্যস, সঙ্গে সঙ্গে বোতলের ছিপি শক্ত করে এঁটে দেব। কংক্রিটের বস্তিতে, আপনার যখন দমবন্ধ লাগবে তখন জাস্ট ছিপিটা খুলে জোরে বুক ভরে শ্বাস নিলেন। রিচার্জ-ফুল রিচার্জ! ওম, ওমম শান্তি!
কী, এবার বিশ্বাস হল তো, আমার ব্যবসায় কোন ছলচাতুরি নাই। বিশুদ্ধ তিতাসের বাতাসের মতই বিশুদ্ধ ব্যবসা। কোনো ফাঁকিবাজি নাই। টলটলে পানির মত ব্যবসা। আহা, যদি দাউদ হায়দারের কাছে তাঁর জন্মস্থান আরিফপুর-দোহারপাড়া গ্রামের [২] বাতাস বিক্রি করতে পারতাম। প্রায় ৫০ বছর হল- এই মানুষটার ফুসফুস আর কখনও দেশের বাতাস গ্রহণ করতে পারল না। আফসোস...!

যেমন ধরা যাক, আমার জন্মস্থান Akhaura নামের একটা জায়গায়। এখানকার কতশত স্মৃতি। কে জানে, প্রবাসে কোথাও আটকা পড়ব, শেষ শ্বাস আটকে থাকবে Akhaura নামের জায়গাটার জন্য। কী কষ্ট-কী কষ্ট! তখন তিতাসের বাতাসভর্তি Akhaura-র ক্যানটা থাকলে, ব্যস। কেউ একজন ছিপিটা খুলে আমার নাকের কাছে ধরবে। দুচোখে নেমে আসবে 'না-ভাঙ্গা' ঘুম। কে জানে, মৃত্যুযন্ত্রণা নামের অসহ্য কষ্ট বোধটা  তখন হয়তো হারিয়ে যাবে। অদেখা ঘুমে ভারী হয়ে আসা চোখ- পারিজাত এক প্রশান্তি নিয়ে অন্য ভুবনে যাত্রা। তখন চারপাশের লোকজনেরা কে কাঁদল, কে কাঁদল না তাতে আমার কী আসে যায়! আমার যে অন্য ভুবনের ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসে, ঘু-ম-ম...।

সহায়ক সূত্র:
১. মাটি বিক্রি...: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_15.html 
২. দাউদ হায়দার: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_20.html 
WhatsApp