Search

Showing posts with label কোরবানি. Show all posts
Showing posts with label কোরবানি. Show all posts

Friday, November 27, 2009

রূপান্তর!


গজদন্ত দেখে প্রাইমারি স্কুলের টিচার বলতেন: কুক্কু, তোর 'দাঁতের উপর দন্ত, শয়তানীর নাই অন্ত'বদ বন্ধুরা খেপাত আগামী দিনের ড্রাকুলা বলে
দিনে-দিনে কুক্কু ড্রাকুলা হলো না ঠিকই কিন্তু কালে কালে দুষ্টের শিরোমনি হলোটিভিতে দেখল একজন ব্লাকবেল্ট হোল্ডার হাতের এক কোপে আটটা বরফের স্ল্যাব গুঁড়িয়ে ফেলল
কুক্কু নয়টা খালি ম্যাচের বাক্স একটার উপর আরেকটা সাজিয়ে চোখের নিমিষে গুড়ো করে ফেলকুক্কু নিজের কাজে নিজেই মুগ্ধ কোমরে লাল গামছা বেঁধে ক্রমাগত মাথা ঝাঁকিয়ে বলতে লাগল: পৃথিবীতে একজনই রেডবেল্ট আছে সে আমি, আমি; হা হা হা, হি হি হি, হো হো হো
এ ভালো লাগা স্থায়ী হলো নাহপ্তা পনেরো দিন ডান হাত পুরোপুরি অকেজোঅগত্যা খাবার চালান করতে, খাবারের অবশিষ্টাংশ বেরুবার পর...বাঁ হাত ব্যবহার করতে হলো, কষ্টেসৃষ্টে
দুষ্টের শিরোমনি, কিন্তু মনটা ভারী নরোম! এক ফোঁটা রক্ত দেখলে মাথা ঘুরে পড়ে যায়- কেউ কাঁদলে তারচেয়ে বেশি কান্না করে ও!



পশুর চোখের ভাষা কি মানুষ বুঝতে পারে, কে জানে! বা পশু কি তার আগাম মৃত্যু টের পায়, জানা নেই!
কোরবানি ঈদের আগের বিকেলে, কুক্কুদের সদ্য কেনা গরুটা ঘাস খাচ্ছিলগরুটার হাতির শরীর অথচ কী ভিতু! কুক্কু হুম বললেই লাফিয়ে দশ পা পিছিয়ে যায়

বিকেলের নির্জীব আলো মরে আসছে- আকাশ সিদুরে মাখামাখিগরুর বড় বড় চোখ কী টলটলে, পাতা ফেললেই জল উপচে পড়বে এমনগোটা চোখ জুড়ে আটকে আছে আস্ত সূর্যটা, পলক ফেললেই হারিয়ে যায়
কী অপার্থিব দৃশ্য, তাকাতে ইচ্ছে করে, অথচ তাকালে চোখ ধাঁধিয়ে যায়কুক্কুর মাথা খারাপের মতো হয়ে গেল ঝড়ের গতিতে বাবাকে খুঁজে বের করে ভাঙ্গা গলায় বলল: বাবা-বাবা গরুটাকে কেটো না
বাবা চোখে আগুন ছড়িয়ে বললেন: ইস, পাগল কয় কী!
বাবা গরুটা কাঁদতে কাঁদতে বলছে: এ আমার শেষ খাওয়া, আগামীকাল আমি ই-ই-ই থাকব না
বাবা খুব রাগ করলেন, তুই আমার সাথে ফাইজলামি করছ, ফাজিল কোথাকার থাপড়াইয়া কানপট্টি ফাটায়া দিমু, দূর হ আমার সামনে থিক্যা

কোরবানির দিন সকাল কুক্কু আবারও গোল বাঁধাল, বাবা-বাবা, তোমার পায়ে ধরি, এটাকে কেটো না
বাবা দাঁত ঘসে বললেন, আবার শুরু করলি! দরদ উথলাইয়া পড়ে? ক্যান রে বান্দর, তুই গরুর মাংস খাস না?
কুক্কু অনিচ্ছায় মাথা নাড়ল, খাই
তাইলে তোর সমস্যা কি? মাইয়া মানুষের মত ফিচফিচ কইরা কান্দা থামা আমার ঘরে একটা আবাল হইছে, তোরে দিয়া বংশের বাতি থাকব না আয় আমার লগেবেডা মাইনষের মুরগির কইলজা হইলে হয় না
বাবা কুক্কুকে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন কুক্কু জোর করছে দেখে এবার ঘাড় ধরে উড়িয়ে নিয়ে চললেন
ওখানে গরুটাকে শুইয়ে ফেলা হয়েছে ছুরি দিয়ে পোঁচ দেয়া মাত্রই গলগল করে রক্ত বেরুনো শুরু হল যারা ধরে আছেন তাদের মুখে রক্ত, একজন দাঁত খিঁচে রেখেছিলেন, তার দাঁত রক্তে লাল হয়ে আছে
জবাইয়ে কোন একটা সমস্যা হয়েছিল সম্ভবত, গরুটা হঠাৎ লাফিয়ে উঠলযারা ধরে ছিল তারা ছিটকে পড়লআধ-জবাই গরুটা বিচিত্র ভঙ্গিতে উঠোনময় দৌড়াতে লাগলসবাই খানিকটা ধাতস্ত হয়ে গরুটার পিছু ছুটছেএকসময় গরুটাকে কাবু করে ফেলা গেলএইবার কোন ভুল করা হলো না, নিখুঁত ছুঁরি চালানো হলোএকবার, বারবারকুক্কুর অজান্তেই ওর গোটা ভুবন এলোমেলো হয়ে গেল

কবে থেকে যে পরিবর্তনটা শুরু হয়েছে কেউ এটা নিয়ে আদৌ মাথা ঘামায়নি, ও নিজেও নাএখন কুক্কুর অনেক সাহস! একদিন এক বয়স্ক রিকশাওয়ালাকে চড় দিয়ে কুক্কু হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলভয়ে, লজ্জায়, দুঃখে মনে হচ্ছিল মাটিতে মিশে যায় কিন্তু অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করল, কেউ কিচ্ছু বলল না! একজন তো রিকশাওয়ালাটাকে এই মারে তো সেই মারে, হারামজাদা পেসেন্জারের লগে দিগদারি করস খান... পুত, বড়ো ভাইয়ের পা ধইরা মাপ চা তোর রিকশা যে ভাঙ্গছে না এইডাই তো বাপের কাম করছে

এখন কুক্কু চুইংগাম চিবুতে চিবুতে ইট দিয়ে গাড়ির কাঁচ গুড়িয়ে দেয় কাঁচ ভাঙ্গার ঝনঝন শব্দে শরিরে ঝিরঝিরে একটা ভাললাগা ছড়িয়ে পড়েকেউ কিচ্ছু বলে না!
এখন কুক্কু যে আগুন দিয়ে সিগারেটটা ধরায় ওই একই আগুনে পেট্রোল ঢেলে একজনের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেনচড়চড় করে যখন আগুনে চামড়া, চুল পোড়ে তখন কী একটা অনাবিল আনন্দে মনটা ভরে যায়কেউ কিচ্ছু বলে না!
ক্ষুর দিয়ে কারও শরিরে যখন আকিঁবুকি খেলা খেলে, ফিনকি দিয়ে যখন রক্ত বের হয়, এই গন্ধের সঙ্গে কিসের তুলনা চলে!
কেউ কিচ্ছু বলে না!

পিচ্ছিল উষ্ণ রক্তে পা মাড়িয়ে কুক্কু এগিয়ে যায়, একজন পুরুষ, সাহসি পুরুষ সবাই সমীহের দৃষ্টিতে তাকায়, বীরভোগ্যা নারীর বীরবর সন্তান!

*ছবি-স্বত্ব: সংরক্ষিত

**লেখাটা নিয়ে আমার এক সিনিয়রের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। মানুষটা করপোরেট ভুবনের। করপোরেট ভুবনের মানুষ হলেও তাঁকে শৈশবের কিছু সুখ-স্মৃতি এখনও হরদম তাড়া করে ফেরে! ভিড়ের মাঝে থেকেও কেউ কেউ বড়ো একা হয়ে পড়েন, মানুষটা তার একটা উদাহরণ!

যাই হোক, তিনি বলছিলেন, 'আজ যে ধর্মভীরুকে (link) ছুঁরি হাতে দেখছি হিংস্র ভঙ্গিতে, তিনি এটাকে দেখছেন ইতিবাচক ভঙ্গিতে। মানুষের ভেতরের লুকিয়ে থাকা এই হিংস্রতার বহি:প্রকাশ পশুর উপর এভাবে না-হয়ে অন্য রকম হলে সেটা হয়তো আরও ভয়াবহ হতে পারত! হয়তো সেটা হতো মানুষের উপর'।

তাঁর এই কথাটায় আমি অনেকাংশে একমত। এই ভাবনার সূত্র অন্য একটা জানালা খুলে দিল। গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আমি মনে করি, একজন মানুষের ভেতর একটা পশু এবং একটা শিশু লুকিয়ে থাকে, এদের মধ্যে অহরহ মারপিট লেগেই আছে। পশু, না শিশু? কখন কে বার হয়ে আসবে এটা আগাম বলা মুশকিল! আমরা আমাদের আদি-মানবের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে যে আদিমতা আমাদের রক্তে বহন করছি, এ থেকে সহজে আমাদের মুক্তি নাই। মস্তিষ্ক আমাদের নিয়ে কি খেলা খেলবে তা আগাম বলা মুশকিল! এ পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞান, শিক্ষা আমাদের ভেতর ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা পশুটার কাছ থেকে বাঁচাবার আপ্রাণ চেষ্টা করে

অফটপিক: আফসোস, আমরা কেবল একটা বৃত্তে অনবরত ঘুরপাক খাই, এটাই আমাদের নিয়তি! কেউ কেউ বৃত্তের বাইরে পা ফেলার চেষ্টা করেন, কিন্তু বৃত্তের বাইরে যাওয়ার পর্যাপ্ত জ্ঞান যে তাঁর নাই। এক পা বৃত্তে, এক পা বৃত্তের বাইরে- এদের চেয়ে অভাগা আর কেউ নাই!


Thursday, November 26, 2009

কোরবানি: মূল্য মাত্র আড়াই লক্ষ টাকা!

প্রায়শ পত্রিকায় ছাপা হয় সবচেয়ে দামি গরু এবং এর পাশে সেই ব্যক্তিটির ছবি যিনি এই গরুটি কিনেছেন আমি খুজে বের করার চেষ্টা করি এই দুইটা গরুর মধ্যে কার মনন খানিকটা বেশি
এবারে নাকি গাবতলিতে সাড়ে ১২ লক্ষ টাকার গরু মহাশয়কে খুঁজে পাওয়া গেছে। আসল গরুটার খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি! অপেক্ষায় আছি।
ভাল কথা, মনন নিয়ে ম্যাক্সিম গোর্কির চমৎকার একটা কথা আছে: "ইউক্লিডটা গাধা, আস্ত গাধা! আমি প্রমাণ করে দেব ওই নির্বোধ গ্রীকটার চেয়ে ঈশ্বরের মনন অনেক বেশি।"

কোরবানির সময়ে আমরা অসংখ্য হাজি মহসীন-ত্যাগবাজ পেয়ে যাই আমার কৌতুহল কম, এলাকায় সবচেয়ে বেশি টাকার গরু কোরবানি কে দিচ্ছেন এটা জানার আগ্রহ বোধ করি না কিন্তু এই সময়টাতে অন্য কোন আলোচনার বিষয় নাই! জনে জনে জানতে চাইবেন, গরু কিনছেন?

কাউকে জিজ্ঞেস করলেন, কই যান? সে হড়বড় করে বলবে, গরু বাজার
কাউকে বললেন, ভাত খাইছেন সে বলবে, না খাই নাই, খায়া গরুর বাজার যামু
বললেন, ইয়ে, আইজ কি বার? তিনি বলবেন, সুমবার, আইজ গরুর হাট নাই ইত্যাদি

তো গরু সংক্রান্ত তথ্য না-জানা অবধি নিস্তার নাই ৭ জন মিলে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনবে কিন্তু প্রত্যেকে, একেকজন ৪৯ জনকে বলে বেড়াবে, বুঝলেন, গরুর এইবার যেই দাম, বাজারে গরুই নাই অনেক যন্ত্রণা কইরা ৭০ হাজারে একটা লইলাম
বা, ৭০ হাজার টেকায় গরু কিনলাম আর হালায় রওয়ানা লয়া কি প্যাচালটাই না করল, হালার আমি বাদাইম্যা নিহি!
মূল বিষয় হচ্ছে কোন-না-কোন প্রকারে আপনাকে জানতেই হবে, শুনতেই হবে ছাড়াছাড়ি নাই
আমার এলাকায় গতবার পর্যন্ত জানতাম, ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল, এক সার্জেন্ট সাহেব কিনেছিলেন তিনি নাকি ম্যালা বড়ো চাকরি করেন! বটে রে!

এইবার এটা আড়াই লক্ষ টাকা হয়েছে কোরবানির আর ২দিন বাকি, এখনও এই রেকর্ড ভাঙ্গার সময় চলে যায়নি কিন্তু এটা ছোট জায়গা আমার মনে হয় না এই রেকর্ড কেউ ভাঙ্গতে পারবে ছোট জায়গা, এখানে আড়াই লক্ষ টাকা গরু মেলে না, উট পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই
... ... ...


আজাদ নামের একজন, ছোট্ট একটা স্টেশনারি দোকান চালান দোকানটা এতই ছোট ২জন দাঁড়াবার উপায় নেই। কখনও খুব বিরক্ত লাগে, ছাতাফাতা দোকান একটা, দাঁড়াবার জায়গাও নাই! 
টুকটাক জিনিস কেনা হয় এখান থেকে দিন দশেক আগে তার দোকানে গেছি একটা সিক্স-বি পেন্সিল কিনব বলে 
বেচাকিনি বাদ দিয়ে মানুষটা দেখি বড়ো অস্থির এক মাইকওয়ালার সঙ্গে কথা বলায় মহা ব্যস্ত কি এক মাইকিং করাবেন আমার মনে হলো, সামনে ঈদ, দোকানের বিজ্ঞাপন টিজ্ঞাপন দেবেন হয়তো আমি হাসি গোপন করি, এক কাপ চায়ে দু'কাপ চিনি- দুই হাতের একটা দোকান তার আবার বিজ্ঞাপন!

অ আল্লা, ঘটনা দেখি এটা না! কাহিনি হচ্ছে, তাঁর দোকানের সামনে একটা পুটুলিতে তিনি কিছু স্বর্নের জিনিস পেয়েছেন, দোকানে কাগজে লিখে নোটিশ টাঙ্গিয়েছেন কিন্তু এখনও কেউ যোগাযোগ করেনি অতএব ভরসা মাইকিং 
পরে জেনেছি, উদভ্রান্ত প্রকৃত মালিক উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে তার হারানো সম্পদ ফিরে পেয়েছিলেন। এই কিছু স্বর্নের জিনিস ছিল প্রায় ১০ ভরি, যার বাজারমূল্য আনুমানিক আড়াই লক্ষ টাকা! এমন লোভ সংবরণ!
আমি কেবল ভাবছিলাম, এই মানুষটার স্থলে আমি হলে কি করতাম, আমি কি পারতাম এমন লোভ সংবরণ করতে? বুকে হাত দিয়ে বললে লজ্জার মাথা খেয়ে বলতে, আমি জানি না, এর উত্তর এখন আমার কাছে নাই!

আজ আমার একটা ইরেজার প্রয়োজন। আগেরটা নিয়ে বিরক্ত, ওটায় কার্বন লেপ্টে স্কেচের বারোটা বেজে যায়। ভিআইপিরা বড়ো যন্ত্রণা করছেন; তিতিবিরক্ত আমি, ভিআইপি গরুগুলোকে পাশ কাটাতে কাটাতে এগুতে থাকি।
আজ দেখি মানুষটা বড়ো বিষণ্ন! ব্যবসার অবস্থা নাকি ভাল না, এবার কোরবনি কি করবেন এই নিয়ে উদ্বিগ্ন।
আমি বলি, আচ্ছা, আমাদের এখানে আড়াই লক্ষ টাকা দিয়ে একজন কোরবানি দিল, জানেন? মানুষটা আকাশ থেকে পড়েন।
আমাকে বলেন, ভাই, কি কন, আড়াই লাখ টাকার গরু এইখানে পাইব কই? কে দিতাছে?
আমি বলি, মানুষটার নাম, আজাদ।

মানুষটা ভাবলেন, আমি বুঝি রসিকতা করছি। মানুষটাকে বুঝিয়ে বলি, এটা রসিকতা না, আমার প্রাণের কথা।      

*মানুষটার অজান্তেই, বিনা অনুমতিতে তাঁর ছবি তুলেছি, এটা একধরনের অন্যায়। তাঁর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। 
হোক অন্যায়, কিছু অন্যায়েও সুখ। এমন অন্যায় বারবার করলেই কী!

Wednesday, November 25, 2009

ত্যাগবাজি!

কোরবানির শিক্ষাই নাকি ত্যাগ। বেশ, এই নিয়ে তর্ক-কুতর্ক এই লেখার বিষয় না। তবে এও সত্য, শেকড়ের কাছে ফিরে আসার অসাধারণ এক সুযোগ করে দেয় এই উপলক্ষ।

আজ থেকে ১৫/২০ বছর আগের কোরবানিপর্ব আর আজকের মধ্যে অনেক ফারাক। অনেকের কাছে কোরবানি এখন হয়ে গেছে সামাজিক মর্যাদার এক কঠিন হাতিয়ার! কার গরুর উচ্চতা কার গরুকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। ন্যায়-অন্যায় প্রশ্নে যাই না, টাকা কী গৌরি সেন দেবে নাকি ফকির চান সেই প্রশ্নও এখন অবান্তর। 

দুই ঈদকে সামনে রেখে আমাদের দেশে উঁচু স্কেলে '­দু-লম্বরি বেড়ে যায় এটা গজ-ফিতা নিয়ে কে মাপতে যাবে! ওই প্রসঙ্গে গিয়ে লাভ নাই কারণ যে মানুষগুলোকে দেখি ১৫/২০ হাজার টাকার গরু হাঁকিয়ে নিয়ে যেতে তাদের অনেকের চুলায় আরামসে বেড়াল ঘুমায়।

সার্জেন্ট সাহেব কেনেন ৮৫ হাজার টাকার গরু! টাকা যোগায় ভূত! এমনিতে চোখে পড়ে না এদের হাত গলে একটা আধুলি ভাল কাজে গড়িয়ে যেতে! অথচ কোরবানির বেলায় দেখি একেকজন দাতা হাতেম তাই হয়ে যান। 
­কোরবানির পূর্বেই ডীপ-ফ্রীজ কেনা, বিয়ে-মুসলমানির অনুষ্ঠানের আবশ্যকতা কী এই তর্কই বা কে করে!

ফ্রীজ কোম্পানিগুলো মিডিয়ায় এমন ফ্রীজেরই বিজ্ঞাপন দেয়, ওই ফ্রীজে ইয়া ধামড়া আস্ত গরু অনায়াসে এঁটে যাবে কোন জংলির মাথা থেকে এমন আইডিয়া বের হয় কে জানে! এ বছর নতুন মাত্র যোগ হয়েছে, এক কোম্পানি কসাই সাপ্লাই দিচ্ছে- মূল শ্লোগান, 'কোপা সামসু'। কী অসভ্য ভাবনা- এইসব মানুষদের চাবুক দিয়ে চাবকানো প্রয়োজন!

চোখ দিয়ে খাওয়ার নিয়ম নাই নইলে এই সময়ে একটা গরু-ছাগলও আস্ত হেঁটে যেতে পারত না। পড়ে থাকত কেবল ক-খানা হাড়! এ সময় আসলে আমাদের গ্রে-মেটার হয়ে যায় 'গোশতমেটার'! খেয়াল করে কিন্তু গোশত বলতে হবে, মাংস বলার নিয়ম নাই (মাংস নাকি মায়ের অংশ)!
আহা, প্রিয় জিনিস উত্সর্গ করতে হবে। তাই সব ধকল সামলাতে হয় বেচারা বিশেষ কিছু পশুদের। হুম, প্রিয়! বাজার থেকে কাল কিনে এনে আজই জবাই। গরুর কটা দাঁত এটাই জানি না অথচ এদের জন্য নাকি আমাদের অনেক কান্না! ইশ-শ, ভাবতেই চোখে জল না এসে পানি চলে আসে!

ভাল কথা, অস্ট্রেলিয়া সাড়ে ৬ লক্ষ উট মেরে ফেলার বুদ্ধি করছে, আমাদের স্যাররা এগিয়ে গিয়ে বললেন না কেন। আমরা নিজ খরচে আপনাদের পোর্ট থেকে নিয়ে যাব, আপনারা উট বিনে পয়সায় আমাদের দিন। কোরবানির সময় সুলভ মূল্যে জনগণের কাছে বিক্রি করে দিলেই হতো। অস্ট্রেলিয়া দিত কি দিত না সেটা পরের কথা অন্তত বহিবিশ্বে বাংলাদেশের নামটা ইতিবাচক ভঙ্গিতে চলে আসত। আহারে, 'খোদা না খাস্তা' অস্ট্রেলিয়া রাজি হয়ে গেলে গরু বেচারারা এক বছরের জন্য শ্বাস ফেলে জাবর কাটার সুযোগ পেত।­

প্রকাশ্যে জবাই না করলে আমাদের যে আবার মান থাকে না, লুকজনদের(!) দেখাতে হবে না কত্তো বড় গরু-উট আর যে আমরা কত্তো বড় ত্যাগি! শিশুদের 'সাহসি-সাহসবাজী' করতেও চেষ্টার শেষ নেই!
অনেক মুসলিম দেশে প্রকাশ্যে জবাই করলে বাংলাদেশের টাকায় ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং জেল। আর আমাদের সমস্ত কাটাকাটির কাজই রাস্তায়!

জানি-জানি, এটা পড়ে হাসতে হাসতে অনেকের চোখে জল (দু:খিত জলের জায়গায় পানি পড়বেন) চলে এসেছে, মিয়া লম্বা লম্বা বাতচিত করো, ওই দেশের লোকসংখ্যা কত আর আমাদের দেশে...ইত্যাদি।
বেশ-বেশ, কিন্তু আমাদের মিডিয়ায়, টিভিতে যখন প্রকাশ্যে জবাই, বর্জ্য, চামড়া খুলে ফেলা এইসব দেখানো হয় এটাও কী অধিক জনসংখ্যার ফল? যে দেশে জনসংখ্যা বেশি থাকে ওই দেশের লোকজনের মস্তিষ্ক এবং রেকটাম কী একাকার হয়ে যায়, নাকি? ধর্মের দোহাই দিয়ে ছোট-ছোট শিশুদের জবাইপর্ব দেখতে বাধ্য করা হয়। কী আশ্চর্য, এই বয়সে নামাজের তাগিদের আসমানি নির্দেশ নাই অথচ এই কাজটা করাতে আমরা বড়ো ব্যস্ত হয়ে পড়ি! অনেক ফরয কাজের পাত্তা নেই কিন্তু ওয়াজেব নিয়ে আমাদের বিপুল উৎসাহ।

যে শিশুটি এক ফোঁটা রক্ত দেখলে মুর্ছা যেত সে বিমলানন্দে উপভোগ করে গলগল করে বয়ে যাওয়া রক্তের স্রোত। এরা আগামিতে চলমান একেকজন যোদ্ধা হবে না তো কে হবে? আমাদের দেশের মনোবিদদের তেমন চল নাই, চালও নাই। কার এতো দায় পড়েছে এই অবোধ শিশুদের মস্তিষ্কে জমে উঠা বিষবৃক্ষের বীজগুলো খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে দেখার।

আমাদের দেশে টাকা আসলে সমস্যা না, এর অনেক উপায় করা যায়। মাথাপিছু জাতীয় ঋণ আমাদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া যায়। আচ্ছা, আমাদেরকে যদি এমন অপশন দেয়া হয় কোনো এক বছর কোরবানি না-দিয়ে ওই টাকায় আমরা আমাদের দেশের সমস্ত বিদেশি ঋণ শোধ করে চমত্কার একটা দেশ গড়ে তুলব। আমরা কী এই সুযোগ নেব?
কাজটা সিম্পল। যিনি যে টাকা কোরবানির জন্য নিয়ত করবেন তিনি সেই টাকা ব্যাংকে জমা দেবেন এবং তাঁকে যথাযথ রসিদ দেয়া হবে। যিনি মনে করবেন 'কোপানি এন্ড চাবানি ঈদে' পশুর গলায় ছুঁরি ঘসাঘসি না-করা পর্যন্ত ধর্ম টিকে থাকবে না তিনি তাই পালন করুন না, কেউ তাঁকে তো জোর করবে না। যার যার রাস্তা তার তার কাছে।
সমগ্র দেশের ৫ ভাগ মানুষ এই সুযোগটা নেবে কিনা এতে আমার ঘোর সন্দেহ আছে। আহা, তাইলে আমরা যে কত্তো বড় ত্যাগি এটা প্রমাণ হবে ক্যামনে, সামাজিক-ধর্ম রসাতলে যাবে যে! 

*ছবি ঋণ: ১. http://www.grumpyoldsod.com  ২. পত্রিকার বিজ্ঞাপন

**ফেসবুকে এই লেখাটি অন্য একজন শেয়ারের  কল্যাণে (http://www.facebook.com/aurnabarc), ওখানে Nazmul Hasan Darashiko কঠিন এক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন:
"ভালো লাগে নাই - সব শেয়ালের একই রা! ঘুরে ফিরে একই কথা - দেশ বাচাতে, দশ বাচাতে আর কিছু বন্ধ করার দরকার নাই, কোরবানী বন্ধ কর - তাইলেই হবে।" 

সেখানে আমার উত্তর ছিল এই:
"ডিয়ার Nazmul Hasan Darashiko,
আপনার ভাল না-লাগা নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নাই- এটা আপনার নিছকই ব্যক্তিগত। 

কিন্তু... সবিনয়ে বলি, আপনি যে লিখেছেন, "...দেশ বাচাতে, দশ বাচাতে আর কিছু বন্ধ করার দরকার নাই, কোরবানী বন্ধ কর - তাইলেই হবে।"
এখানে আমি আপনার সঙ্গে অ
মত পোষণ করি। কোরবানি বন্ধ করে দেয়া হোক ওই লেখায় কিন্তু এটা বলার চেষ্টা করা হয়নি। কোরবানি চালু-বন্ধ সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। যেটা আমি লেখার শুরুতেই বলেছিলাম...।
ওখানে আমি যেটা বলার চেষ্টা করেছি, সেটা হচ্ছে ভঙ্গি। উৎকট আচরণ, যেটা 'ত্যাগবাজি'-তে অনেকটা বলা হয়েছে বলে এখানে আর চর্বিতচর্বণ করি না। 

হ্যাঁ, ওখানে একটা অপশন রাখার কথা বলা হয়েছিল, তবে বলা হয়নি যে এটা চলতেই থাকবে। এবং প্রসঙ্গটা এসেছে এভাবে:
"আমাদের দেশে টাকা আসলে সমস্যা না, এর অনেক উপায় করা যায়। মাথাপিছু 'জাতীয় ঋণ' আমাদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া যায়। আচ্ছা, আমাদেরকে যদি এমন অপশন দেয়া হয় কোনো এক বছর কোরবানি না-দিয়ে...তিনি তাই পালন করুন না, কেউ তাঁকে তো জোর করবে না। যার যার রাস্তা তার তার কাছে।"
কেউ চাইলে টাকাটা দেবে। কেউ না-চাইলে দেবে না, তার মত করে কোরবানি করবে। সমস্যা তো নাই।

দেশের প্রয়োজনে 'জাতীয় ঋণ'-এর মত অনেক উপায়ের মধ্যে এটাও ছিল। ওখানে 'জাতীয় ঋণ'-এর একটা হাইপার লিংকও জুড়ে দেয়া হয়েছে। ওই লেখায় আমার প্রস্তাব ছিল এমন:
যাদের চাইবেন তাঁরা মাথাপিছু জাতীয় ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন। তাঁকে 'জাতীয় ঋণমুক্ত ব্যক্তি' হিসাবে একটা সনদ ধরিয়ে দেয়া হবে। মন্দ কী!
অতি সাধারণ এক ভাবনা, সদ্যজাত শিশুর ন্যায় আমার মাথায়ও জাতীয় ঋণের খড়গ ঝুলছে। আমি কেন ঋণগ্রস্ত হয়ে মারা যাব? 

যাই হোক, এর বাইরে একটু বলি, খুব বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নাই, আজ থেকে ১৫-২০ বছর পূর্বেও কিন্তু লোকজনেরা কোরবানি দিয়েছেন কিন্তু এখনকার মত ভাবনাগুলো এমন উৎকট ছিল না। যার যার সাধ্য অনুযায়ী কোরবানি দিতেন, কেউ না-পারলে না দিতেন। কিন্তু কোরবানি এখন সামাজিক মর্যাদার কঠিন একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরুর উচ্চতা আমাদের উচ্চতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত যাদের হাতে টাকা-পয়সা নাই তাঁদের জন্য এই সময়টা যে কী কষ্টের এটা কেবল এঁরাই টের পান, হাড়ে হাড়ে। জনে জনে এসে জানতে চাইবে মানুষটা কোরবানি দিচ্ছে কিনা!
আপনি কী বললে বিশ্বাস করবেন, সুদে টাকা এনেও এখন লোকজনেরা কোরবানি দেন। কেন? ভাল কোনো সদুত্তর নাই। মানুষটার না-বলা কথাটা বুঝতে সমস্যা হয় না, মান থাকে না যে। 

কোরবানির সঙ্গে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির কোরবানিটাও জরুরি...। 
ভাল থাকুন।"

সহায়ক সূত্র:
১. ইদ...: http://www.ali-mahmed.com/2009/08/blog-post_30.html
২. উট...: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_9297.html 
৩. প্রকাশ্যে জবাই...: http://www.ali-mahmed.com/2009/11/blog-post_1172.html 
৪. জাতীয় ঋণ: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_4340.html 

Tuesday, November 10, 2009

আমি কেন এইসব খুনের দায় নেব?

অভাগা আমি, যে-সব বিষয় থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করি তার সঙ্গে জড়াজড়ি করে থাকতে হয় আমায়, সবিরাম। দিনের পর দিন অপছন্দের জীবন-যাপন করা কোন কাজের কাজ না! লাভের লাভ যা হয়, মেঘে মেঘে বেলা বয়ে যায়!
মানুষটা আমি নিরিবিলিতে থাকতে পছন্দ করি কিন্তু কেমন কেমন করে উটকো-সব ঝামেলা আমার কাঁধে এসে পড়ে! 



কোত্থেকে যেন মৌমাছি হাতের নাগালের গাছটায় বাস গেড়েছে, আমার অনুমতির তোয়াক্কা না করেই। বেশ! থাকো বাপু মিলেমিশে, বিনা ভাড়ায়! 

আমার বাসায় যিনিই আসেন তাদের লালায় নিজেদেরই পা ভিজে যায়। আমি অংকে কাঁচা- মেট্রিক, হালের এসএসসিতে অংকে ১৩ গ্রেস লেগেছিল! এরা দিব্যি অংক কষে বের করে ফেলেন, এই মৌমাছির চাকে কয় কেজি মধু হবে।
যাওয়ার সময় এটা জেনে নিতে ভুল করেন না কবে আসলে মধু পাওয়া যাবে। আমি উদাস হয়ে বলি, আচ্ছা আসেন, দেখি। 

তখন এরা হড়বড় করে বলেন, আরে দেরি করলে মৌমাছি ব্যাটারা নিজেরাই মধু খেয়ে পগার পর হবে।
আসল কথাটা ফাঁস করি না। আমি তো এই অপেক্ষাতেই আছি মৌমাছি বাবাজিরা কবে প্রস্থান করবে, সেই শুভদিনের জন্য। আমার খুব বাজে স্মৃতি আছে, ছোটবেলায় দেখেছি, চাক থেকে মধু আহরণ করার সময় অসংখ্য মৌমাছিকে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। অথচ খানিকটা সতর্ক হলে এই অহেতুক প্রানহানি না-ঘটালেও চলে, যারা মধু আহরণ করেন এই নিয়ে এদের মাথা ঘামাবার সময় কোথায়!

এখন যেটা হচ্ছে, আমি যেখানে বসে কী-বোর্ড নিয়ে কস্তাকস্তি করি এখানে এসে অসংখ্য মৌমাছি ভিড় জমায়, উড়াউড়ি করে, ঘুরপাক খায়। কসম, আমার লেখা পড়ার জন্য না- মানুষই পড়তে চায় না মৌমাছির কী দায় পড়েছে! 

তবে, এতে আমার ছাতাফাতা লেখালেখির বড়ো ব্যাঘাত হয়। এখনও কামড়ায়নি, কামড়াতে কতক্ষণ। আর কামড়ালে কার কাছে বিচার চাইব?
 


'মড়ার উপর খাড়ার ঘা', নাকি 'খাড়ার উপর মড়ার ঘা' বলে একটা কথা আছে। হয়েছে তাই। মৌমাছির যন্ত্রণাই বাঁচি না পাশের গাছটায় ভিমরুল এসে বাসা বেঁধেছে, এরাও অনুমতির ধার ধারেনি!
বাসাটা ছোট্ট থাকতেই অনেকে বলেছিলেন এটা পুড়িয়ে ফেলতে। এরা মৌমাছির মত উড়ে চলে যায় না। সি.এস, আর.এস, ৩০ ধারা, ৩১ ধারা, বি.এস পর্যায়ক্রমে শেষ করে জায়গার আসল মালিক বনে বসে থাকে।
আমি গা করিনি। 


কালে কালে বাসাটা বিশাল হয়েছে। অনুমান করি, হাজার-হাজার ভিমরুল এখানে নাতি-পুতি নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছে। এখনও কাউকে কামড়ায়নি কিন্তু কামড়ে একটা মানুষকে মেরে ফেলা এদের কাছে নস্যি। 
এটার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমার গা হিম হয়ে আসে। দেশের গোয়েন্দা বিভাগের উপর আমার আস্থা নাই (সমগ্র দেশের ৬৪ জেলায় একই সঙ্গে বোমা ফাটানো হয়েছে। এদের গোপন কেশ দূরের কথা প্রকাশ্য কেশের হদিসও পাননি)! কিন্তু ভিমরুলদের গোয়েন্দা বিভাগের উপর আমার আস্থা অটুট। এরা নিশ্চয়ই আমার সম্বন্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট দাখিল করেছে, এই মানুষটার কলম চালানোর চেষ্টা ব্যতীত অন্য কিছুই করার যোগ্যতা নাই। একে নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নাই। এ একটা বাতিল মাল!

কী কষ্ট, সামান্য পোকারা পর্যন্ত আমাকে কেয়ার করে না!

সমস্যাটা অন্যখানে। এখন আমার কাছের মানুষরা কানের পাশে অনবরত বকে মরছেন, ভিমরুলের বাসাটা পুড়িয়ে ফেলার জন্য। সত্যি সত্যি পুড়িয়ে ফেলা ব্যতীত এদের তাড়াবার অন্য কোন উপায় নাই, থাকলে বেশ হতো।
বাহ, বললেই হলো। হাজার-হাজার প্রাণ হত্যা করি কেমন করে? এদের স্পষ্ট কথা, এই দেশে সব ভেজাল, মায় গাধাও। অরিজিনাল গাধা নাকি একটাই আছে, সে আমি। প্রতিবাদ করার যো নাই বলে আমি সে পথ মাড়াই না। উদাস হয়ে আকাশ দেখি।
এদের সোজা কথা, আমার পাগলামির কারণে আমার পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রাণের ঝুঁকিতে রাখার কোন অধিকার আমার নাই। হক কথা। 

কিন্তু এইসব প্রাণ হত্যার দায় আমি নেই কেমন করে! তাহলে অস্ট্রেলিয়ায় যে সাড়ে ছয় লক্ষ উট গুলি করে মেরে ফেলবে বা যাদের পেটের অসুখ হলেই নির্বিচারে মানব-সন্তান মেরে ফেলে এদের সঙ্গে আমার ফারাক কী!

এই আমার নিয়তি! ঘাড়-কাটা কুত্তা আমার ঘাড়ে এসে পড়বে, ভিমরুল আমার কাঁধে চেপে বসবে। সবই কপাল! এ থেকে আমার মুক্তি নাই!
WhatsApp