ত্যাগবাজি!
কোরবানির শিক্ষাই নাকি ত্যাগ। বেশ-বেশ।
ন্যায়-অন্যায় প্রশ্নে যাই না, টাকা কী গৌরি সেন দেবে নাকি ফকির চান সেই কুতর্কেও যাই না। ২ ঈদকে সামনে রেখে আমাদের দেশে উঁচু স্কেলে 'দু-লম্বরি' বেড়ে যায় এটা গজ-ফিতা নিয়ে কে মাপতে যাবে!
ওই প্রসঙ্গে গিয়ে লাভ নাই। কারণ, যে মানুষগুলোকে দেখি ১৫ হাজার টাকার গরু হাঁকিয়ে নিয়ে যেতে তাদের অনেকের চুলায় আরামসে বেড়াল ঘুমায়। সার্জেন্ট সাহেব কেনেন ৮৫ হাজার টাকার গরু! টাকা যোগায় ভূত!
এমনিতে চোখে পড়ে না এদের হাত গলে একটা আধুলি ভাল কাজে গড়িয়ে যেতে! অথচ কোরবানির বেলায় দেখি একেকজন দাতা হাতেম তাই হয়ে যান।

কোরবানির পূর্বেই ডীপ-ফ্রীজ কেনা, বিয়ে, মুসলমানির অনুষ্ঠানের আবশ্যকতা কী এই তর্কই বা কে করে!
ফ্রীজ কোম্পানিগুলো মিডিয়ায় এমন ফ্রীজেরই বিজ্ঞাপন দেয়, ওই ফ্রীজে ইয়া ধামড়া আস্ত গরু অনায়াসে এঁটে যাবে। কোন জংলির মাথা থেকে এমন আইডিয়া বের হয় কে জানে!এ বছর নতুন মাত্র যোগ হয়েছে, এক কোম্পানি কসাই সাপ্লাই দিচ্ছে- মূল শ্লোগান, 'কোপা সামসু'।
কী অসভ্য ভাবনা- এইসব মানুষদের চাবুক দিয়ে চাবকানো প্রয়োজন!
চোখ দিয়ে খাওয়ার নিয়ম নাই নইলে এই সময়ে ১টা গরু-ছাগলও আস্ত হেঁটে যেতে পারত না। পড়ে থাকত কেবল ক-খানা হাড়! এ সময় আসলে আমাদের গ্রে-মেটার হয়ে যায় 'গোশতমেটার'। খেয়াল করে কিন্তু গোশত বলতে হবে, মাংস বলার নিয়ম নাই!
প্রিয় জিনিস উত্সর্গ করতে হবে, তাই সব ধকল সামলাতে হয় বেচারা বিশেষ কিছু পশুদের।
হুম, প্রিয়। বাজার থেকে কাল কিনে এনে আজই জবাই, গরুর কটা দাঁত এটাই জানি না অথচ এদের জন্য নাকি আমাদের অনেক কান্না! ইশ-শ, ভাবতেই চোখে জল না এসে পানি চলে আসে! ভাল কথা. অস্ট্রেলিয়া সাড়ে ৬ লক্ষ উট মেরে ফেলার বুদ্ধি করছে, আমাদের স্যাররা এগিয়ে গিয়ে বললেন না কেন: আমরা নিজ খরচে আপনাদের পোর্ট থেকে নিয়ে যাব, আপনারা উট বিনে পয়সায় আমাদের দিন। কোরবানির সময় সুলভ মূল্যে জনগণের কাছে বিক্রি করে দিলেই হতো।
অস্ট্রেলিয়া দিত কি দিত না সেটা পরের কথা অন্তত বহিবিশ্বে বাংলাদেশের নামটা ইতিবাচক ভঙ্গিতে চলে আসত।
আহারে, 'খোদা না খাস্তা' অস্ট্রেলিয়া রাজি হয়ে গেলে গরু বেচারারা ১ বছরের জন্য শ্বাস ফেলে জাবর কাটার সুযোগ পেত।
প্রকাশ্যে জবাই না করলে আমাদের যে আবার মান থাকে না, লুকজনদের(!) দেখাতে হবে না কত্তো বড় গরু-উট, আমরা কত্তো বড় ত্যাগি! শিশুদের সাহসি করতে বেগ পেতে হয়!
অনেক মুসলিম দেশে প্রকাশ্যে জবাই করলে বাংলাদেশের টাকায় ৫০ হাজার থেকে ১৫০০০০ টাকা জরিমানা এবং জেল। জানি-জানি, এটা পড়ে হাসতে হাসতে অনেকের চোখে জল (দু:খিত জলের জায়গায় পানি পড়বেন) চলে এসেছে, মিয়া লম্বা লম্বা বাতচিত করো, ওই দেশের লোকসংখ্যা কত আমাদের দেশে...ইত্যাদি।
বেশ, কিন্তু আমাদের মিডিয়ায়, টিভিতে যখন প্রকাশ্যে জবাই, বর্জ্য, চামড়া খুলে ফেলা এইসব দেখানো হয় এটাও কী অধিক জনসংখ্যার ফল? যে দেশে জনসংখ্যা বেশি থাকে ওই দেশের লোকজনের মস্তিষ্ক এবং রেকটাম কী একাকার হয়ে যায়?
অনেক মুসলিম দেশে প্রকাশ্যে জবাই করলে বাংলাদেশের টাকায় ৫০ হাজার থেকে ১৫০০০০ টাকা জরিমানা এবং জেল। জানি-জানি, এটা পড়ে হাসতে হাসতে অনেকের চোখে জল (দু:খিত জলের জায়গায় পানি পড়বেন) চলে এসেছে, মিয়া লম্বা লম্বা বাতচিত করো, ওই দেশের লোকসংখ্যা কত আমাদের দেশে...ইত্যাদি।
বেশ, কিন্তু আমাদের মিডিয়ায়, টিভিতে যখন প্রকাশ্যে জবাই, বর্জ্য, চামড়া খুলে ফেলা এইসব দেখানো হয় এটাও কী অধিক জনসংখ্যার ফল? যে দেশে জনসংখ্যা বেশি থাকে ওই দেশের লোকজনের মস্তিষ্ক এবং রেকটাম কী একাকার হয়ে যায়?
ধর্মের দোহাই দিয়ে ছোট-ছোট শিশুদের জবাইপর্ব দেখতে বাধ্য করা হয়। কী আশ্চর্য, এই বয়সে নামাজের তাগিদের আসমানি নির্দেশ নাই অথচ এই কাজটা করাতে আমরা বড়ো ব্যস্ত হয়ে পড়ি! যে শিশুটি ১ ফোঁটা রক্ত দেখলে মুর্ছা যেত সে বিমলানন্দে উপভোগ করে গলগল করে বয়ে যাওয়া রক্তের স্রোত। এরা আগামিতে চলমান একেকজন যোদ্ধা হবে না তো কে হবে?
আমাদের দেশের মনোবিদদের তেমন চল নাই, চালও নাই। কার এতো দায় পড়েছে এই অবোধ শিশুদের মস্তিষ্কে জমে উঠা বিষবৃক্ষের বীজগুলো খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে দেখার।
আমাদের দেশে টাকা আসলে সমস্যা না, অনেক উপায় করা যায়। মাথাপিছু জাতীয় ঋণ আমাদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া যায়।
আচ্ছা, আমাদেরকে যদি এমন অপশন দেয়া হয় কোন ১ বছর কোরবানি না দিয়ে ওই টাকায় আমরা আমাদের দেশের সমস্ত বিদেশি ঋণ শোধ করে চমত্কার একটা দেশ গড়ে তুলব, আমরা কী এই সুযোগ নেব?
কাজটা সিম্পল। যিনি যে টাকা কোরবানির জন্য নিয়ত করবেন তিনি সেই টাকা ব্যাংকে জমা দেবেন এবং তাকে যথাযথ রসিদ দেয়া হবে। যিনি মনে করবেন 'কোপানি এন্ড চাবানি ঈদে' পশুর গলায় ছুঁরি ঘসাঘসি না-করা পর্যন্ত ধর্ম টিকে থাকবে না তিনি তাই পালন করুন না, কেউ তাঁকে জোর করবে না।
সমগ্র দেশের ৫ ভাগ মানুষ এই সুযোগটা নেবে কিনা এতে আমার ঘোর সন্দেহ আছে। আহা, তাইলে আমরা যে কত্তো বড় ত্যাগি এটা প্রমাণ হবে ক্যামনে- ধর্ম রসাতলে যাবে যে!*ছবি ঋণ: ১. http://www.grumpyoldsod.com
২. পত্রিকার বিজ্ঞাপন













0 মন্তব্য:
Post a Comment