ইউকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন মহোদয়কে তারই দেশের এক পাজি ডাক্তার তুলাধোনা করলেন নাকি মরিচধোনা করলেন এটা নিয়ে একটা হালকা-পাতলা গবেষণা হতেই পারে!
"ন্যানো ড্রাইভটা ফেলেছি হারিয়ে/ যেটায়—রাখা ছিল ৮০০ কোটি/ ইউনিটের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা/ গাদা-গাদা ডিএনএ প্রোফাইল।"
Showing posts with label আয়না. Show all posts
Showing posts with label আয়না. Show all posts
Saturday, August 29, 2020
উহাদের দেশের জনগণ খুব 'খ্রাপ', বড়ই বেতমিজ!
বিভাগ
আয়না
Thursday, June 25, 2015
সৈয়দ মহসীন আলী, মন্ত্রীমহোদয়, করকমলেষু।
আমাদের মন্ত্রীমহোদয় একে-ওকে এন্তার কথা বলেন আমাদের জানার উপায় নেই কিন্তু সাংবাদিক মহোদয়কে 'চরিত্রহীন, লম্পট' বলেছিলেন, সাংবাদিক মহোদয়গণ চটে গেলেন।
ফাঁকতালে আমরাও জেনে গেলুম।
ফাঁকতালে আমরাও জেনে গেলুম।
হালে সংসদভবনে মন্ত্রীমহোদয় গান গাইলেন। এমনিতে এই সরকারী ভবনটার তো ভাড়া-টাড়ার বালাই নেই! সরকারীভবনে বিদ্যুতবিল দেওয়া লাগে না, ক্যান্টিন ফ্রি- খরচ তেমন আর কীই-বা! তো, এখানে কেউ গান গাইলে সমস্যা কোথায়?
এমনিতে আমি বিভিন্ন সময় লিখে থাকি, প্রত্যেক জায়গার একটা নিজস্ব ভাষা আছে। গুরুগম্ভীর কোনও আলোচনায় কেউ টেবিলে উঠে ‘ধুম মাচা দে’ গেয়ে উঠলে ভাল দেখায় না ...। এখন আর এটা লেখার যো রইল না, বুঝলেন? কেবল ভালই দেখায় না, অতি উত্তম দেখায়। কেন বলছি।
স্পিকার মহোদয়কে দেখলাম সমাজকল্যাণমন্ত্রী অন্য মন্ত্রীদেরকে ভাই বলায় এই ‘ভাই’ শব্দটা এক্সপাঞ্জ করেছেন অথচ গান এক্সপাঞ্জ করেননি কারণ এটা এক্সপাঞ্জ করার মত বিষয় না। আমাদের দূর্ভাগ্য, সংসদসদস্যদের মধ্যে কোনও নৃত্যশিল্পী নেই!
অল্প দিন পূর্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নাকি এক সভায় বলছিলেন তাঁর ‘সিগারেট খাওয়া’ প্রসঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘তাঁর পোয়া’ পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে কিন্তু মুখ খুলেনি বলে তিনিসহ প্রচুর মুক্তিযোদ্ধা প্রাণে বেঁচে যান। পরে সেই পোয়াটাকে পাকবাহিনী মেরে ফেলে। এই বেদনায় সেই যে তিনি সিগারেট খাওয়া ধরলেন আজও স্টিম ইঞ্জিনের মত ভকভক করে ধোঁয়া ছাড়ছেন যত্রতত্র।
এখন আজেবাজে নিউজপোর্টালে এই ভুবনটা ভরে গেছে। তাই এমনই এক পোর্টাল থেকে আগত এই খবরটা নিয়ে গা করার কিছু ছিল না। এরিমধ্যে কেউ-কেউ বিস্তর আঁক কষে দেখিয়ে দিলেন যখন মুক্তিযুদ্ধ চলছিল তখন আমাদের সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর বয়স ছিল তেইশ বছর! অতএব...।
এদিকে এই তথ্যে আবার অনেক স্থানে কান্নার রোল পড়ে গেল। আহা-আহা, মানুষটা বুকে পাথর বেঁধে সিগারেটের উপরই বেঁচে আছেন। একজন তো এমন একটা লেখা লিখলেন তিনি মন্ত্রী মহোদয়ের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে পূর্বে যেসমস্ত লেখাগুলো লিখেছেন তা লিখে ভারী অন্যায় করেছেন ভবিষ্যতে আর এমন অন্যায় করবেন না। ওই ভদ্রলোকের লেখা পড়ে মনে হচ্ছিল পারলে তিনি উড়োজাহাজের চাকার নীচে হাত রেখে বিচ্ছিন্ন করে ফেললে খানিকটা আরাম পাবেন।
পরে অবশ্য মন্ত্রীমহোদয়ের বিষয়টা ‘কিলিয়ার’ হলো! তিনি তাঁর পোয়া বলতে সহযোদ্ধার কথা বলেছেন। যে সহযোদ্ধাকে তিনি বড়ো ‘ছেনেহ’ করতেন।
যাই হোক, মন্ত্রীমহোদয়ের প্রসঙ্গ থাকুক। এবার অন্য প্রসঙ্গ-‘একালের কলম মুক্তিযোদ্ধাদের’ সঙ্গে আমার খানিকটা দ্বিমত আছে। আমার বক্তব্য ১৯৭১ এবং ২০১৫ এক না- যেটা আমি এক লেখায় লিখেছি, '১৯৭১ সাল এবং ২০১৪ এক না' [১]।
আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করি, এই দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা কী অবলীলায়ই-না অন্যের জমি অন্যায় ভাবে নিজ দখলে রাখেন।
এখন এই নিরেট সত্যটা কি আমরা চেপে যাব? কোনও মুক্তিযোদ্ধা অন্যায়-অপরাধ করলে সেটা কি আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ বলে গণ্য হবে না? আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ফ্যাক্ট, ফ্যাক্টের সঙ্গে ফ্যান্টাসি মেশাব কেন আমরা?
সালটা সম্ভবত ২০০৬ হবে। ব্লগস্ফিয়ারে তখন মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে লিখি। মুক্তিযুদ্ধে একজনের কথা লিখতে গিয়ে সব লিখলাম কেবল এই জায়গাটা চেপে গেলাম, পাকবাহিনীর ভয়ে তিনি বাথরুমে লুকিয়েছিলেন। কিন্তু অরূপ কামাল ঠিকই চেপে যাওয়া অংশটা তুলে দিলেন। সেই দিনই এটা শিখলাম সত্যকে সত্যের মতই থাকতে দিতে হয়, এটাই সত্যের জোর- প্রকারান্তরে সত্যকে গোপন করাটাও এক প্রকারের অন্যায়। সত্যের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করলে সত্যের জোরটা নড়বড়ে হয়ে যায়।
* আজ পত্রিকা থেকে জানলাম (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৬ জুন ২০১৫, পৃ: ১১), "...সর্বশেষ ১০ জুন জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে সম্বোধন না করায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন...।"
সহায়ক সূত্র:
১. ১৯৭১ সাল এবং ২০১৪ এক না: http://www.ali-mahmed.com/2014/03/blog-post_7.html
এমনিতে আমি বিভিন্ন সময় লিখে থাকি, প্রত্যেক জায়গার একটা নিজস্ব ভাষা আছে। গুরুগম্ভীর কোনও আলোচনায় কেউ টেবিলে উঠে ‘ধুম মাচা দে’ গেয়ে উঠলে ভাল দেখায় না ...। এখন আর এটা লেখার যো রইল না, বুঝলেন? কেবল ভালই দেখায় না, অতি উত্তম দেখায়। কেন বলছি।
স্পিকার মহোদয়কে দেখলাম সমাজকল্যাণমন্ত্রী অন্য মন্ত্রীদেরকে ভাই বলায় এই ‘ভাই’ শব্দটা এক্সপাঞ্জ করেছেন অথচ গান এক্সপাঞ্জ করেননি কারণ এটা এক্সপাঞ্জ করার মত বিষয় না। আমাদের দূর্ভাগ্য, সংসদসদস্যদের মধ্যে কোনও নৃত্যশিল্পী নেই!
অল্প দিন পূর্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নাকি এক সভায় বলছিলেন তাঁর ‘সিগারেট খাওয়া’ প্রসঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘তাঁর পোয়া’ পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে কিন্তু মুখ খুলেনি বলে তিনিসহ প্রচুর মুক্তিযোদ্ধা প্রাণে বেঁচে যান। পরে সেই পোয়াটাকে পাকবাহিনী মেরে ফেলে। এই বেদনায় সেই যে তিনি সিগারেট খাওয়া ধরলেন আজও স্টিম ইঞ্জিনের মত ভকভক করে ধোঁয়া ছাড়ছেন যত্রতত্র।
এখন আজেবাজে নিউজপোর্টালে এই ভুবনটা ভরে গেছে। তাই এমনই এক পোর্টাল থেকে আগত এই খবরটা নিয়ে গা করার কিছু ছিল না। এরিমধ্যে কেউ-কেউ বিস্তর আঁক কষে দেখিয়ে দিলেন যখন মুক্তিযুদ্ধ চলছিল তখন আমাদের সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর বয়স ছিল তেইশ বছর! অতএব...।
এদিকে এই তথ্যে আবার অনেক স্থানে কান্নার রোল পড়ে গেল। আহা-আহা, মানুষটা বুকে পাথর বেঁধে সিগারেটের উপরই বেঁচে আছেন। একজন তো এমন একটা লেখা লিখলেন তিনি মন্ত্রী মহোদয়ের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে পূর্বে যেসমস্ত লেখাগুলো লিখেছেন তা লিখে ভারী অন্যায় করেছেন ভবিষ্যতে আর এমন অন্যায় করবেন না। ওই ভদ্রলোকের লেখা পড়ে মনে হচ্ছিল পারলে তিনি উড়োজাহাজের চাকার নীচে হাত রেখে বিচ্ছিন্ন করে ফেললে খানিকটা আরাম পাবেন।
পরে অবশ্য মন্ত্রীমহোদয়ের বিষয়টা ‘কিলিয়ার’ হলো! তিনি তাঁর পোয়া বলতে সহযোদ্ধার কথা বলেছেন। যে সহযোদ্ধাকে তিনি বড়ো ‘ছেনেহ’ করতেন।
যাই হোক, মন্ত্রীমহোদয়ের প্রসঙ্গ থাকুক। এবার অন্য প্রসঙ্গ-‘একালের কলম মুক্তিযোদ্ধাদের’ সঙ্গে আমার খানিকটা দ্বিমত আছে। আমার বক্তব্য ১৯৭১ এবং ২০১৫ এক না- যেটা আমি এক লেখায় লিখেছি, '১৯৭১ সাল এবং ২০১৪ এক না' [১]।
আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করি, এই দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা কী অবলীলায়ই-না অন্যের জমি অন্যায় ভাবে নিজ দখলে রাখেন।
এখন এই নিরেট সত্যটা কি আমরা চেপে যাব? কোনও মুক্তিযোদ্ধা অন্যায়-অপরাধ করলে সেটা কি আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ বলে গণ্য হবে না? আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ফ্যাক্ট, ফ্যাক্টের সঙ্গে ফ্যান্টাসি মেশাব কেন আমরা?
সালটা সম্ভবত ২০০৬ হবে। ব্লগস্ফিয়ারে তখন মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে লিখি। মুক্তিযুদ্ধে একজনের কথা লিখতে গিয়ে সব লিখলাম কেবল এই জায়গাটা চেপে গেলাম, পাকবাহিনীর ভয়ে তিনি বাথরুমে লুকিয়েছিলেন। কিন্তু অরূপ কামাল ঠিকই চেপে যাওয়া অংশটা তুলে দিলেন। সেই দিনই এটা শিখলাম সত্যকে সত্যের মতই থাকতে দিতে হয়, এটাই সত্যের জোর- প্রকারান্তরে সত্যকে গোপন করাটাও এক প্রকারের অন্যায়। সত্যের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করলে সত্যের জোরটা নড়বড়ে হয়ে যায়।
* আজ পত্রিকা থেকে জানলাম (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৬ জুন ২০১৫, পৃ: ১১), "...সর্বশেষ ১০ জুন জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে সম্বোধন না করায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন...।"
সহায়ক সূত্র:
১. ১৯৭১ সাল এবং ২০১৪ এক না: http://www.ali-mahmed.com/2014/03/blog-post_7.html
বিভাগ
আয়না
Wednesday, January 8, 2014
নির্মল আনন্দ!
এদিক-ওদিক হাঁটাহাঁটিঁর সময় এই দৃশ্য প্রায়শ আমার চোখে পড়ে। মাটিতে আঁক কষে খেলা চলছে, খেলা চলছে হরদম। খোলোয়াড়দের যে কী অখন্ড মনোযোগ তা কাছ থেকে না-দেখলে আঁচ করা মুশকিল। অনেকে আবার গোল হয়ে দাঁড়িয়ে গভীর আগ্রহ নিয়ে এঁদের খেলা দেখেন।
খেলাটার নাম আমি জানতাম না। জিজ্ঞেস করে উত্তর পাওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে কারণ এঁদের উত্তর দেয়ার সময় কোথায়? বয়স্ক মানুষটা একবার কেবল মুখ খুললেন, ‘ষোল গুটি’। বলেই তিনি প্রতিপক্ষের গুটি কেটে ফেলতে ঝাপিয়ে পড়লেন। নিরক্ষর, অতি দরিদ্র এই সমস্ত মানুষদের পত্রিকা পড়া বা গান শোনার সুযোগ নেই। এঁদের কাছে খেলার এই সামান্য গুটি কাটাকাটিতে যে আনন্দ তা অন্যত্র কোথায়!
খেলাটার নাম আমি জানতাম না। জিজ্ঞেস করে উত্তর পাওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে কারণ এঁদের উত্তর দেয়ার সময় কোথায়? বয়স্ক মানুষটা একবার কেবল মুখ খুললেন, ‘ষোল গুটি’। বলেই তিনি প্রতিপক্ষের গুটি কেটে ফেলতে ঝাপিয়ে পড়লেন। নিরক্ষর, অতি দরিদ্র এই সমস্ত মানুষদের পত্রিকা পড়া বা গান শোনার সুযোগ নেই। এঁদের কাছে খেলার এই সামান্য গুটি কাটাকাটিতে যে আনন্দ তা অন্যত্র কোথায়!
বিভাগ
আয়না
Wednesday, December 25, 2013
লড়াই এবং বিনোদন!
বিভাগ
আয়না
Wednesday, July 31, 2013
রক্ষীবাহিনী
![]() |
| ছবি ঋণ: আফতাব আহমদ। তিনি ছবির সঙ্গে লিখেছেন, 'রক্ষীবাহিনীর কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান'। |
"...'১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেখ মুজিব নিজেই আমাকে বলেছিলেন যে তিনি একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠনের বিরুদ্ধে। আমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মত একটা দানব সৃষ্টি করতে চাই না'।
...অক্টোবর, ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধ চলছিল। আরবদের পক্ষে সমর্থনের নমুনা হিসাবে মিশরে বাংলাদেশের অতি উন্নতমানের চা পাঠানো হয় কারণ তখন বাংলাদেশের পক্ষে অস্ত্র বা টাকা দেয়ার সামর্থ্য ছিল না। মিশর এ উপহার অতি আনন্দের সঙ্গেই গ্রহন করে। ...
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত বাংলাদেশের এই বদন্যতার কথা ভোলেননি! তিনি বাংলাদেশকে ৩০টি 'টি-৫৪' ট্যাংক উপহার দিতে চাইলেন।
...কিন্তু শেখ মুজিব এই ট্যাংক গ্রহনে আগ্রহী ছিলেন না।...পরে তাঁর পররাষ্ট্র দপ্তর এবং মন্ত্রীরা বোঝালেন এই উপহার ফিরিয়ে দেয়াটা শিষ্টাচার বহির্ভূত।
শেষ পর্যন্ত এই ট্যাংক বাংলাদেশে আনা হয়েছিল...।
...শেখ মুজিব সেনাবাহিনীর বিকল্প হিসাবে 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' নামে একটা প্যারা-মিলিটারি বাহিনী গঠন করলেন। ওই বাহিনীর সকল সদস্যই শেখ মুজিবের ব্যক্তিগত আনুগত্য স্বীকার করে শপথ গ্রহণ করত। এই বাহিনীর নামটা শুনতে চমৎকার শোনালেও, বাস্তবে এই বাহিনী ছিল এক ধরনের প্রাইভেট আর্মির মত এবং এদের সঙ্গে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর খুব একটা পার্থক্য ছিল না।...
...শেখ মুজিবের বিরোধিতা দিন-দিন বাড়তে থাকলে এই সংখ্যা ৮ হাজার থেকে ক্রমশ ২৫ হাজার করা হয়। এদেরকে মিলিটারি ট্রেনিং, আর্মি স্টাইলের ইউনিফর্ম, আধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত করা হয়। রক্ষী বাহিনীর অফিসারদের মধ্যে প্রায় সবাই ছিলেন রাজনৈতিক একই মতে বিশ্বাসী।
রক্ষীবাহিনী দ্বারা সংঘটিত হত্যা-খুন, নির্যাতনের অজস্র প্রমাণ রয়েছে।...একটি ১৭ বছরের বালককে ৪দিন নির্যাতন করার পর তার লাশ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট রক্ষীবাহিনীকে দোষী রায় দিয়ে তিরস্কার করেন। সুপ্রিম কোর্ট দেখতে পান, রক্ষীবাহিনী কোনো প্রকারের আইনেরই তোয়াক্কা করছে না, এমনকি কাউকে গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদের কোনো রেজিস্টার পর্যন্ত তাদের কাছে ছিল না।
সুপ্রিম কোর্টের এই তিরস্কারের পর শেখ মুজিব এই সমস্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ না-করার জন্য সুপ্রিমকোর্টের ক্ষমতা খর্ব করেন।...
(পাশাপাশি)...
ব্রিগেডিয়ার মঞ্জুর আমাকে (অ্যান্থনি মাসকারেনহাস) বলেছিলেন, '...আমাদের জোয়ানদের খাবার নেই, অস্ত্র নেই...তুমি শুনলে অবাক হবে, তাদের জার্সি নেই, গায়ের কোট নেই, পায়ে দেয়ার বুট পর্যন্ত নেই। শীদের রাতে তাদেরকে কম্বল গায়ে দিয়ে ডিউটি করতে হয়। আমাদের অনেক সিপাহী লুঙ্গি পরে কাজ করছে। তাদের কোনো ইউনিফর্ম নেই। পুলিশ আমাদের লোকদেরকে পেটাতো।
...একবার আমাদের কিছু ছেলেকে মেরে ফেলা হলো...। আমরা শেখ মুজিবের কাছে গেলাম এবং বললাম, কে তাদেরকে এমন শাস্তি দিল! তিনি কথা দিলেন, বিষয়টা দেখবেন। পরে তিনি আমাদেরকে জানালেন, ওরা কোলাবরেটর ছিল বলে তাদেরকে মেরে ফেলা হয়েছে'।..."
*এই লেখাটা নেয়া হয়েছে ,অ্যান্থনি মাসকারেনহাস-এর 'বাংলাদেশ: আ লিগেসি অব ব্লাড' থেকে।
বিভাগ
আয়না
Friday, April 19, 2013
ফেসবুককথন!
আমার ফেসবুক আইডির বয়স বেশ ক-বছর হলো। এখানে লেখালেখি করা হতো না। কেবল আমি নিজের যে সাইটটাতে লিখি ওখানকার লেখার লিংক এখানে শেয়ার করতাম, ব্যস! ফেসবুকে নিয়মিত হয়েছি মাসখানেক হবে। নিয়মিত হওয়ার পেছনে একটা কাহিনী আছে:
আমি যে সাইটটাতে লিখতাম, ওখানে নিরিবিলিতে থাকতাম। ভালই ছিলাম- নিজে লিখে নিজেই পড়তাম। ওখানকার লেখা যে আমি ব্যতীত আরও দুয়েকজন পড়েন এর নমুনা পেলাম। কুৎসিত নমুনা! এক বা একাধিক মানুষ গালি দিয়ে ভয় দেখিয়েছিলেন। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, কাদের মোল্লা, গোলাম আযমকে নিয়ে লেখাতেই কেবল। লেজটা দেখতে আমার সমস্যা হয়নি!
কিন্তু সমস্যাটা হয়েছিল যেখানে, আমাকে গালি দিলে আমি হাঁসের মত পানি ঝেড়ে ফেলার মত ঝেড়ে ফেলতাম। কিন্তু আমার বাবা-মাকে জড়িয়ে কেন দিল? থু, এ তো স্রেফ কাপুরুষতা, পেছন থেকে ছুঁরি মারা।
ভাগ্যিস, এ সামনে বলেনি নইলে হয় এ খুন হয়ে যেত, এর সঙ্গে ক্ষমতায় না-কুলালে আমি নিজেই খুন হয়ে যেতাম। এখানে কোনো যুক্তি নাই- জঙ্গলে কেবল জঙ্গলের আইন।
তো, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, ভয় যখন দেখিয়েছ, বাছা, বেশ! এখন থেকে মুক্তিযুদ্ধের পোস্টগুলো একে একে ফেসবুকে দেয়া শুরু করব। এরপর মুক্তিযুদ্ধের লেখা দেওয়ার পাশাপাশি হাবিজাবি অন্য লেখাও ক্রমশ চলে আসতে থাকল। এভাবেই শুরু...।
এমনিতে ফেসবুকে আমার বন্ধু সংখ্যা খুবই কম। এই নিয়ে আমার বিকার নাই কারণ জুকারবার্গ 'ট্যাকাটুকা' দেয় না যখন! এর কারণ এমন না যে আমি যখন-তখন আনফ্রেন্ড করতে থাকি। আর কী-এক সংকোচে জানি না কাউকে আমার রিকোয়েস্ট পাঠানো হয় না, বড় বাজে এক আচরণ!
তবে একটা বিষয়ে আমার কোনো বাছ-বিছার নাই। কেউ রিকোয়েস্ট পাঠালে দেখামাত্র আমি এক্সেপ্ট করি। আমি দেখি বাড়ানো হাত, হাতের নোখ না। কারো প্রোফাইল দেখার আগ্রহ, সময় আমার নাই। আমি তো ফেসবুক-গবেষক না যে এই নিয়ে থিসিস জমা দেব।
মাঝেমধ্যে দেখা হয় এমন একজন কাল বলছিলেন, 'ভাই, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাইলাম, গ্রহন করেন নাই কষ্ট পাইছি'। আমি খানিক থমকে গেলাম, এ আবার কবে আমাকে পাঠাল! কী জানি, ব্যাটা জুকারবার্গের কোনো বাগ-টাগ হবে হয়তো!
আমার সমস্ত ফেসবুক জীবনে সম্ভবত দুইটা রিকোয়েস্ট বাতিল করেছি। একটায় আদেশের ভঙ্গি ছিল। আমি আর দেরি করিনি নামটা দেখতে, লোকটা জরিনা নাকি ওবামা। কারণ দুজনের বেলায় সিদ্ধান্ত একই হত।
দ্বিতীয়টার বিষয় খানিকটা অন্য রকম! একবার বন্ধুসম একজনকে আমার এক কষ্টের কথা লিখেছিলাম ব্যক্তিগত মেইলে, তিনি আমাকে উত্তরটা দিয়েছিলেন অফিসিয়াল মেইলে। ভঙ্গিটা আমার পছন্দ হয়নি...। আমি তো আমার বন্ধুর কাছে লিখেছিলাম অফিসের কোনো কর্তার কাছে না।
এর বাইরে কেউ সাড়া না-পেয়ে থাকলে ধরে নেবেন এর জন্য আমি দায়ী না, দায়ী ব্যাটা জুকারবার্গ।
তো, ফেসবুকে নিয়মিত হওয়ার পর কেউ-কেউ রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে আবার ইনবক্সে বিস্তারিত লিখেন। এর আদৌ প্রয়োজন নাই। যার ইচ্ছা হবে সরাসরি পাঠিয়ে দেবেন। কারণ আমি তো হেভিওয়েট-ওভারওয়েট ফেসবুকার না যারা হরদম বকে যান, 'কমরেডস, ডান পা তোল, এবার বাঁ পা; গুড। এবার তাহলে দু পা তুলে ফেল, গুড জব'। বা আমার কোটা শেষ অতএব তোমাদের কোনো আশা নাই, দূর হও। অথবা তোমার চেহারা এমন কেন, যাও, খেলা থেকে বাদ...।
অনেকেন কিছু আচরণ বড় বিরক্ত লাগে। ওদিন দেখলাম এক ছেলে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছে। কাঁপাকাঁপি টাইপের স্ট্যাটাস। কী ঘটনা! কোনো এক হেভিওয়েট ভাই ওনার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করেছে। বেচারা জন্য আমার মায়াই হচ্ছিল, এ না শেষে ফেইন্ট হয়ে যায় বা কোমাতে চলে যায়, তাহলে তো মরলে আর বাঁচবে না!
তবে যারা আমার কাছ থেকে ট্রাকের দূরত্ব বজায় রাখবেন, দয়া করে রিকোয়েস্ট পাঠাবেন না বা আমার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকবেন না:
১. যারা মনে করে, 'আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম, পাকিস্তান আমলে ভালই তো ছিলাম', তারা। কেন? এটা বোঝাবার জন্য লক্ষ শব্দ ব্যয় না-করে অল্প কথায় বলি, কেউ হয়তো লাখ টাকার ভাড়া বাড়িতে জৌলুশপূর্ণ জীবন-যাপন করেন কিন্তু শতবর্ষ পুরনো ঝরঝরে আমার বাড়ির সঙ্গে এর তুলনা কোথায়! ভাড়া বাড়িতে একটা পেরেক ঠুকলে তা গিয়ে সরাসরি বাড়ির মালিকের মগজে গিয়ে লাগবে। আমার নিজের বাড়িতে পেরেক না, প্রয়োজনে হ্যামার ঠুকব। ঠুকে-ঠুকে বাড়ির দেয়াল ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলব। দেওয়ালে আস্ত লাঙল সেটে দেব। প্রয়োজনে বাড়ির ভেতর গরুর গোয়ালঘর করব। কারো কোনো সমস্যা?
এই নিয়ে বাড়তি কথা শেষ। একটি অক্ষর- একটি যুদ্ধ- একটি পতাকা- একটি দেশ, ব্যস।
২. কেউ দল করেন এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু যারা দল করতে গিয়ে যখন গ্রে মেটার আর ইয়েলো মেটারে জড়াজড়ি হয়ে মাখামাখি হয়ে পড়ে থাকেন, তারা।
এখানে আমার সাফ কথা, ভাল করলে তালি, মন্দ করলে গালি।
৩. জ্ঞান গড়িয়ে পড়বে এমন জ্ঞানী, যারা হাঁটেন সোজা হয়ে। কাত হলে জ্ঞান গড়িয়ে পড়ে যদি, এমন! কারণটা ঈর্ষা-ঈর্ষা! এই জিনিস আমার নাই। থাকবে কেমন করে? এখনও যে লক্ষ-কোটি বই পড়াই হয়নি! আহা, পড়ব কেমন করে? আমি তো আর কচ্ছপের আয়ু নিয়ে আসিনি যে ৪০০ বছর পানিতে পিঠ ভাসিয়ে পড়তে থাকব, পড়তেই থাকব।
আর এও সলাজে স্বীকার যাই, আমি কোনো ভাষা জানি না। কেবল আমার মা যেভাবে কথা বলেন তা বলতে পারি, খানিকটা গুছিয়ে লিখতে পারি, ব্যস।
৪. তর্ক বিষয়টা আমি একেবারেই পারি না। যারা সমস্ত শরীরে ত্যানা প্যাঁচাতে থাকেন, খোলেন, আবার প্যাঁচান, তারা। দু-কলম গুছিয়ে লিখি বলে যে তুষার সাহেবদের মত তার্কিক হয়ে যাব এটা দূরাশা মাত্র।
এমনিতে আমরা যারা এখানে লেখালেখি করি। প্রিন্ট মিডিয়ার মত এই সুযোগ আমাদের নাই যে কারো-না-কারো চোখে ভুল ধরা পড়বেই। অনেকে ভুল ধরিয়ে দিলে অপমানিত বোধ করেন। আমার মান-অপমান কম, আমার লেখায় কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে তাঁর প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞা...।
ফেসবুক জায়গাটা আমার ভারী অপছন্দের ছিল। কারণ আছে, এখানে নিরিবিলিতে কিছুই করার যো নাই। আপনি প্রোফাইলের ছবি পরিবর্তন করবেন, তাও ঢাকঢোল পিটিয়ে। সবাই জানবে, জানবেই। আবার ঘটা করে লাইকও দেবে। মেয়ে হলে ন্যাকামো করে বলবে, হায় আল্লা, আপু আপনাকে যা সোন্দর লাগছে না...।
একবার হলো কী, আমি লক্ষ করলাম, আমার প্রোফাইলে 'বিবাহিত' এটা দেয়া নাই। আমি ভাবলাম, আরে, কী কান্ড! পরে হয়তো দুষ্টুরা বলবে, কি মিয়া, বিষয় কী! একটা ভাব নিয়ে আছো নাকি যে এখনও বিবাহ হয় নাই।
তো, আমি ভাল মনে 'বিবাহিত' বসিয়ে দিলাম- এটাও যে জানাজানি হয়ে যায় এটা আমার জানা ছিল না। ওয়াল্লা, পোলাপানেরা শুরু করল, 'আলহামদুলিল্লাহ, বিবাহ করলেন, দাওয়াত তো পাইলাম না'। কেউ লিখল, 'আপনের আগের পক্ষের ইস্তারি সাহেবা কি আপনাকে ছেড়ে চলে গেছে'! ইত্যাদি। কী লজ্জা-কী লজ্জা!
কিন্তু ক্রমশ এখন এখানে আমার ভাল লাগছে। আমি অনেকটা আমার আগের সেই সময়টাতে ফিরে গেছি- সেই ২০০৫/৬ সাল! ব্লগিং-এর সোনালি সময়। আহ, সেইসব দিন! অবশ্য তখন আমরা এখনকার মত দলবাজ ছিলাম না। ১৪ ইঞ্চি স্ত্রিণে মনে হতো গোটা বিশ্বটা হাতের মুঠোয়। যেন হাত বাড়ালেই অন্যজনকে ছুঁয়ে দিতে পারি, 'এই পাগলা, তোকে ছুঁয়ে দিলাম'।
কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনার নিজের সম্বন্ধে ধারণা কি? আমি সঙ্গে সঙ্গেই যে উত্তরটা দেব সেটা হচ্ছে, আমি হচ্ছি এই গ্রহের সবচেয়ে বড়ো নির্বোধ কারণ আমি স্মোক করি। (এটা কেবল আমার জন্য প্রযোজ্য, অন্য স্মোকারদের জন্য না) একটা সময় প্রচুর স্মোক করতাম কিন্তু বিভিন্ন জটিলতা, ডাক্তারদের লাল চোখের কারণে একবারে ছেড়ে দিলাম না তবে খুব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসলাম, দিনে একটা।
ফেসবুকে নিয়মিত হওয়ার কারণে আবারও আমার স্মোক করার পরিমাণ বেড়ে গেছে। কেন, এর উত্তর আমার কাছে নাই। ওই যে বললাম, আমি এই গ্রহের সেরা নির্বোধ।
স্মোক করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টায় আমি আতংকিত! আর কেবল এই একটা কারণে আমার এই জায়গাটা ছাড়তে হবে, যত দ্রুত সম্ভব :( । ভাবলেই মনটা বিষণ্ণ হয়, উদাস হয়...।
আমি যে সাইটটাতে লিখতাম, ওখানে নিরিবিলিতে থাকতাম। ভালই ছিলাম- নিজে লিখে নিজেই পড়তাম। ওখানকার লেখা যে আমি ব্যতীত আরও দুয়েকজন পড়েন এর নমুনা পেলাম। কুৎসিত নমুনা! এক বা একাধিক মানুষ গালি দিয়ে ভয় দেখিয়েছিলেন। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, কাদের মোল্লা, গোলাম আযমকে নিয়ে লেখাতেই কেবল। লেজটা দেখতে আমার সমস্যা হয়নি!
কিন্তু সমস্যাটা হয়েছিল যেখানে, আমাকে গালি দিলে আমি হাঁসের মত পানি ঝেড়ে ফেলার মত ঝেড়ে ফেলতাম। কিন্তু আমার বাবা-মাকে জড়িয়ে কেন দিল? থু, এ তো স্রেফ কাপুরুষতা, পেছন থেকে ছুঁরি মারা।
ভাগ্যিস, এ সামনে বলেনি নইলে হয় এ খুন হয়ে যেত, এর সঙ্গে ক্ষমতায় না-কুলালে আমি নিজেই খুন হয়ে যেতাম। এখানে কোনো যুক্তি নাই- জঙ্গলে কেবল জঙ্গলের আইন।
তো, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, ভয় যখন দেখিয়েছ, বাছা, বেশ! এখন থেকে মুক্তিযুদ্ধের পোস্টগুলো একে একে ফেসবুকে দেয়া শুরু করব। এরপর মুক্তিযুদ্ধের লেখা দেওয়ার পাশাপাশি হাবিজাবি অন্য লেখাও ক্রমশ চলে আসতে থাকল। এভাবেই শুরু...।
এমনিতে ফেসবুকে আমার বন্ধু সংখ্যা খুবই কম। এই নিয়ে আমার বিকার নাই কারণ জুকারবার্গ 'ট্যাকাটুকা' দেয় না যখন! এর কারণ এমন না যে আমি যখন-তখন আনফ্রেন্ড করতে থাকি। আর কী-এক সংকোচে জানি না কাউকে আমার রিকোয়েস্ট পাঠানো হয় না, বড় বাজে এক আচরণ!
তবে একটা বিষয়ে আমার কোনো বাছ-বিছার নাই। কেউ রিকোয়েস্ট পাঠালে দেখামাত্র আমি এক্সেপ্ট করি। আমি দেখি বাড়ানো হাত, হাতের নোখ না। কারো প্রোফাইল দেখার আগ্রহ, সময় আমার নাই। আমি তো ফেসবুক-গবেষক না যে এই নিয়ে থিসিস জমা দেব।
মাঝেমধ্যে দেখা হয় এমন একজন কাল বলছিলেন, 'ভাই, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাইলাম, গ্রহন করেন নাই কষ্ট পাইছি'। আমি খানিক থমকে গেলাম, এ আবার কবে আমাকে পাঠাল! কী জানি, ব্যাটা জুকারবার্গের কোনো বাগ-টাগ হবে হয়তো!
আমার সমস্ত ফেসবুক জীবনে সম্ভবত দুইটা রিকোয়েস্ট বাতিল করেছি। একটায় আদেশের ভঙ্গি ছিল। আমি আর দেরি করিনি নামটা দেখতে, লোকটা জরিনা নাকি ওবামা। কারণ দুজনের বেলায় সিদ্ধান্ত একই হত।
দ্বিতীয়টার বিষয় খানিকটা অন্য রকম! একবার বন্ধুসম একজনকে আমার এক কষ্টের কথা লিখেছিলাম ব্যক্তিগত মেইলে, তিনি আমাকে উত্তরটা দিয়েছিলেন অফিসিয়াল মেইলে। ভঙ্গিটা আমার পছন্দ হয়নি...। আমি তো আমার বন্ধুর কাছে লিখেছিলাম অফিসের কোনো কর্তার কাছে না।
এর বাইরে কেউ সাড়া না-পেয়ে থাকলে ধরে নেবেন এর জন্য আমি দায়ী না, দায়ী ব্যাটা জুকারবার্গ।
তো, ফেসবুকে নিয়মিত হওয়ার পর কেউ-কেউ রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে আবার ইনবক্সে বিস্তারিত লিখেন। এর আদৌ প্রয়োজন নাই। যার ইচ্ছা হবে সরাসরি পাঠিয়ে দেবেন। কারণ আমি তো হেভিওয়েট-ওভারওয়েট ফেসবুকার না যারা হরদম বকে যান, 'কমরেডস, ডান পা তোল, এবার বাঁ পা; গুড। এবার তাহলে দু পা তুলে ফেল, গুড জব'। বা আমার কোটা শেষ অতএব তোমাদের কোনো আশা নাই, দূর হও। অথবা তোমার চেহারা এমন কেন, যাও, খেলা থেকে বাদ...।
অনেকেন কিছু আচরণ বড় বিরক্ত লাগে। ওদিন দেখলাম এক ছেলে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছে। কাঁপাকাঁপি টাইপের স্ট্যাটাস। কী ঘটনা! কোনো এক হেভিওয়েট ভাই ওনার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করেছে। বেচারা জন্য আমার মায়াই হচ্ছিল, এ না শেষে ফেইন্ট হয়ে যায় বা কোমাতে চলে যায়, তাহলে তো মরলে আর বাঁচবে না!
তবে যারা আমার কাছ থেকে ট্রাকের দূরত্ব বজায় রাখবেন, দয়া করে রিকোয়েস্ট পাঠাবেন না বা আমার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকবেন না:
১. যারা মনে করে, 'আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম, পাকিস্তান আমলে ভালই তো ছিলাম', তারা। কেন? এটা বোঝাবার জন্য লক্ষ শব্দ ব্যয় না-করে অল্প কথায় বলি, কেউ হয়তো লাখ টাকার ভাড়া বাড়িতে জৌলুশপূর্ণ জীবন-যাপন করেন কিন্তু শতবর্ষ পুরনো ঝরঝরে আমার বাড়ির সঙ্গে এর তুলনা কোথায়! ভাড়া বাড়িতে একটা পেরেক ঠুকলে তা গিয়ে সরাসরি বাড়ির মালিকের মগজে গিয়ে লাগবে। আমার নিজের বাড়িতে পেরেক না, প্রয়োজনে হ্যামার ঠুকব। ঠুকে-ঠুকে বাড়ির দেয়াল ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলব। দেওয়ালে আস্ত লাঙল সেটে দেব। প্রয়োজনে বাড়ির ভেতর গরুর গোয়ালঘর করব। কারো কোনো সমস্যা?
এই নিয়ে বাড়তি কথা শেষ। একটি অক্ষর- একটি যুদ্ধ- একটি পতাকা- একটি দেশ, ব্যস।
২. কেউ দল করেন এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু যারা দল করতে গিয়ে যখন গ্রে মেটার আর ইয়েলো মেটারে জড়াজড়ি হয়ে মাখামাখি হয়ে পড়ে থাকেন, তারা।
এখানে আমার সাফ কথা, ভাল করলে তালি, মন্দ করলে গালি।
৩. জ্ঞান গড়িয়ে পড়বে এমন জ্ঞানী, যারা হাঁটেন সোজা হয়ে। কাত হলে জ্ঞান গড়িয়ে পড়ে যদি, এমন! কারণটা ঈর্ষা-ঈর্ষা! এই জিনিস আমার নাই। থাকবে কেমন করে? এখনও যে লক্ষ-কোটি বই পড়াই হয়নি! আহা, পড়ব কেমন করে? আমি তো আর কচ্ছপের আয়ু নিয়ে আসিনি যে ৪০০ বছর পানিতে পিঠ ভাসিয়ে পড়তে থাকব, পড়তেই থাকব।
আর এও সলাজে স্বীকার যাই, আমি কোনো ভাষা জানি না। কেবল আমার মা যেভাবে কথা বলেন তা বলতে পারি, খানিকটা গুছিয়ে লিখতে পারি, ব্যস।
৪. তর্ক বিষয়টা আমি একেবারেই পারি না। যারা সমস্ত শরীরে ত্যানা প্যাঁচাতে থাকেন, খোলেন, আবার প্যাঁচান, তারা। দু-কলম গুছিয়ে লিখি বলে যে তুষার সাহেবদের মত তার্কিক হয়ে যাব এটা দূরাশা মাত্র।
এমনিতে আমরা যারা এখানে লেখালেখি করি। প্রিন্ট মিডিয়ার মত এই সুযোগ আমাদের নাই যে কারো-না-কারো চোখে ভুল ধরা পড়বেই। অনেকে ভুল ধরিয়ে দিলে অপমানিত বোধ করেন। আমার মান-অপমান কম, আমার লেখায় কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে তাঁর প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞা...।
ফেসবুক জায়গাটা আমার ভারী অপছন্দের ছিল। কারণ আছে, এখানে নিরিবিলিতে কিছুই করার যো নাই। আপনি প্রোফাইলের ছবি পরিবর্তন করবেন, তাও ঢাকঢোল পিটিয়ে। সবাই জানবে, জানবেই। আবার ঘটা করে লাইকও দেবে। মেয়ে হলে ন্যাকামো করে বলবে, হায় আল্লা, আপু আপনাকে যা সোন্দর লাগছে না...।
একবার হলো কী, আমি লক্ষ করলাম, আমার প্রোফাইলে 'বিবাহিত' এটা দেয়া নাই। আমি ভাবলাম, আরে, কী কান্ড! পরে হয়তো দুষ্টুরা বলবে, কি মিয়া, বিষয় কী! একটা ভাব নিয়ে আছো নাকি যে এখনও বিবাহ হয় নাই।
তো, আমি ভাল মনে 'বিবাহিত' বসিয়ে দিলাম- এটাও যে জানাজানি হয়ে যায় এটা আমার জানা ছিল না। ওয়াল্লা, পোলাপানেরা শুরু করল, 'আলহামদুলিল্লাহ, বিবাহ করলেন, দাওয়াত তো পাইলাম না'। কেউ লিখল, 'আপনের আগের পক্ষের ইস্তারি সাহেবা কি আপনাকে ছেড়ে চলে গেছে'! ইত্যাদি। কী লজ্জা-কী লজ্জা!
কিন্তু ক্রমশ এখন এখানে আমার ভাল লাগছে। আমি অনেকটা আমার আগের সেই সময়টাতে ফিরে গেছি- সেই ২০০৫/৬ সাল! ব্লগিং-এর সোনালি সময়। আহ, সেইসব দিন! অবশ্য তখন আমরা এখনকার মত দলবাজ ছিলাম না। ১৪ ইঞ্চি স্ত্রিণে মনে হতো গোটা বিশ্বটা হাতের মুঠোয়। যেন হাত বাড়ালেই অন্যজনকে ছুঁয়ে দিতে পারি, 'এই পাগলা, তোকে ছুঁয়ে দিলাম'।
কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনার নিজের সম্বন্ধে ধারণা কি? আমি সঙ্গে সঙ্গেই যে উত্তরটা দেব সেটা হচ্ছে, আমি হচ্ছি এই গ্রহের সবচেয়ে বড়ো নির্বোধ কারণ আমি স্মোক করি। (এটা কেবল আমার জন্য প্রযোজ্য, অন্য স্মোকারদের জন্য না) একটা সময় প্রচুর স্মোক করতাম কিন্তু বিভিন্ন জটিলতা, ডাক্তারদের লাল চোখের কারণে একবারে ছেড়ে দিলাম না তবে খুব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসলাম, দিনে একটা।
ফেসবুকে নিয়মিত হওয়ার কারণে আবারও আমার স্মোক করার পরিমাণ বেড়ে গেছে। কেন, এর উত্তর আমার কাছে নাই। ওই যে বললাম, আমি এই গ্রহের সেরা নির্বোধ।
স্মোক করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টায় আমি আতংকিত! আর কেবল এই একটা কারণে আমার এই জায়গাটা ছাড়তে হবে, যত দ্রুত সম্ভব :( । ভাবলেই মনটা বিষণ্ণ হয়, উদাস হয়...।
বিভাগ
আয়না
Friday, June 22, 2012
পাঠকের কাঠগড়ায়
হাসান সোহেল আমার একটা পোস্টে [১] কঠিন এক মন্তব্য করেছেন। তাঁর মন্তব্য এখানে তুলে দিচ্ছি:
"মাহমেদ ভাই, কেন ম্যানিপুলেশন করেন? মিনার মাহমুদ মারা যাওয়ার পরে তাকে নিয়ে লেখা আপনার পোস্টটা ডিলিট করে ফেলেছেন। মারা গেলে কি তার সব কর্ম মাফ হয়ে যায়? লেখাচুরি হালাল হয়ে যায়? মিনার মাহমুদের নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে আপনার লেখাটা থাকলে কি ক্ষতি হতো খুব?
"মাহমেদ ভাই, কেন ম্যানিপুলেশন করেন? মিনার মাহমুদ মারা যাওয়ার পরে তাকে নিয়ে লেখা আপনার পোস্টটা ডিলিট করে ফেলেছেন। মারা গেলে কি তার সব কর্ম মাফ হয়ে যায়? লেখাচুরি হালাল হয়ে যায়? মিনার মাহমুদের নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে আপনার লেখাটা থাকলে কি ক্ষতি হতো খুব?
বিভাগ
আয়না
Monday, August 15, 2011
কেন এভাবে যেতে হবে না?
সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনীরের মৃত্যুর পর একটি জাতীয় দৈনিকে জটিল এই প্রশ্নটা ছুড়ে দেয়া হয়েছে, "এভাবে যেতে হবে কেন"?
যদি আমি পাল্টা প্রশ্ন করি, কেন এভাবে যেতে হবে না? গর্ত করে রাখলে একেকজন একেক রকম করে গর্তে পড়ে নাকি?
যদি আমি পাল্টা প্রশ্ন করি, কেন এভাবে যেতে হবে না? গর্ত করে রাখলে একেকজন একেক রকম করে গর্তে পড়ে নাকি?
বিভাগ
আয়না
Sunday, June 12, 2011
একটি ইটের টুকরো এবং একটি দেশের আত্মকাহিনী!
এটা জাঁক করে বলতে পারলে আমার চেয়ে কেউ সুখি হতো না, এই দেশের মত সোনার দেশ এই গ্রহে আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নাই! আফসোস, বাস্তবতা ভিন্ন। কেবল কিছু রঙিন চশমাপরা সাদা গোঁফের লেখক টাইপের লোকজনরা বড়ো আশাবাদী- এই দেশের লোকজনরাই দেখিয়ে দেবে ইত্যাদি। আশাবাদী হতো দোষ নেই কিন্তু দিনকে রাত মনে করে বালিতে মুখ গুঁজে থাকা কাজের কাজ না!
আমাদের এই অভাগা দেশটার কী করূণ দশা এটা
আমাদের এই অভাগা দেশটার কী করূণ দশা এটা
বিভাগ
আয়না
Friday, April 29, 2011
ইউনূস এবং লেজার গান হাতে দুর্বল একজন মানুষ
প্রফেসর ইউনূসকে নিয়ে এখন যা হচ্ছে তা স্রেফ ছোটলোকগিরি! এখানে যুক্তির ধার কেউ ধারছেন না। কিছু পত্রিকার নমুনা দেখে মনে হচ্ছে এরা এখনই আবিষ্কার করলেন ইউনূস একজন বিরাট চোর।
অথচ নিজেদের মালিক যে দস্যু, খুনি এর খবর রাখার সময় কোথায় তাদের। আহা, মাস শেষে যে একগাদা কড়কড়ে নোট পাওয়া যাচ্ছে। এই দেশে ভাল টাকা পেলে আমরা করতে পারি না এহেন কোন কাজ নেই। পারলে মার কিডনি-লিভার-ফুসফুসও বিক্রি করে ফেলি।
ইউনূস সাহেব ধোয়া তুলসি পাতা এটা এই লেখার মূল সুর না। তাঁর ভুল থাকলে ভুল নিয়ে আলোচনা হবে, শাস্তি হবে সমস্যার তো কিছু নাই। যেমন আমার স্পষ্ট বক্তব্য,
এক্ষেত্রে আমার স্পষ্ট বক্তব্য দারিদ্র দূর করতে চাইলে ঋণ হবে সুদমুক্ত।
অবশ্য তারা ব্যবসার কথা বললে আমার কোন বক্তব্য নেই।
এটা অস্বীকার করার উপায় নেই পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের মানুষ এখন বাংলাদেশকে চেনে ইউনূসের সাহেবের কল্যাণে। ইউনূস সাহেব যে অভাবনীয় কান্ডটা করে ফেলেছেন সেটা আমরা সবাই জানি। তাঁর আইডিয়া এবং নোবেল প্রাপ্তি।
তাঁর নোবেল প্রাপ্তি নিয়ে আলোচেনা-সমালোচনা সে অন্য বিষয়। বিতর্কিত গোল নিয়ে মারাদোনাকে নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে কিন্তু আর্জেন্টিনার বিজয় আটকানো যায়নি। সবাই উদিয়মান সূর্যকে নমস্কার করে, অস্তমান সূর্যকে না।
এখন যেটা করা হচ্ছে ইউনূস সাহেবকে অপদস্ত করতে গিয়ে তাঁর পরিবারের লোকজনকেও নগ্ন করা হচ্ছে। বাংলা ব্লগের পাইওনিয়ার, রাত খানিকটা গভীর হলেই একটা নামকরা কম্যুনিটি ব্লগে তাঁর মেয়ের আপত্তিকর ছবি ঘন্টার-পর-ঘন্টা ঝুলে থাকে। কেন, ওই ব্লগসাইটের চুতিয়া মডারেটররা তখন কি করে? গাঁজার কলকি ফাটায়!
কেন এমনটা আমরা করছি? ইউনূস সাহেব অপরাধ করে থাকলে এই দেশের প্রচলতি আইনে এর বিচার হবে কিন্তু তাঁর পরিবারের লোকজনরা কী দোষ করেছেন!
একজন পাঠক আমার কাছে প্রশ্ন রেখেছিলেন, শেয়ার ব্যবসার ধসের সঙ্গে যারা জড়িত তারা কি ইউনূস সাহেবের চেয়ে বড়ো চোর? তাঁর এই প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা আমার জন্য সহজ ছিল না।
গ্রামীন ব্যাংক ওরফে ইউনূস সাহেবকে সরকার প্রতিপক্ষ মনে করে [১] এটা শুনে হাসব না কাঁদব এটা এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। কোন সরকার? প্রবাসী একজন পাঠক ক্ষোভে জানতে চেয়েছেন, যে সরকারের প্রেসিডেন্ট ৮২ বছরের, অর্থমন্ত্রীর বয়স ৭৭; সে সরকার হইচই করছে ইউনূস সাহেবের বয়স নিয়ে!
আমি গভীর বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছিলাম, সরকারের গ্রামীন ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাবার সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশে যেমন তোলপাড় হওয়ার কথা ছিল তেমনটি দেখা যায়নি। না-হলে কী আর করা! এই সব ক্ষেত্রে আমি মার্টিন সাহেবের কথা বিড়বিড় করি:
"...First they came for the jews. I was silent. I was not a jew. Then they came for the communists. I was silent. I was not a communist. Then they came for the trade unionists. I was silent. I was not a trade unionist. then they came for me. There was no one left to speak for me". (Martin Niemoller)
আমিও সবার মতই এটা ভেবে আরাম বোধ করব, যাক, ইউনূস সাহেব তো আমার কেউ না এবং তিনি ব্লগিংও করেন না। আমার সমস্যা কোথায়!
হুমায়ূন আহমেদ গতকালের প্রথম আলোয় ইউনূস সাহেবকে নিয়ে লিখেছেন। সত্যি বলতে কি আমি অপেক্ষায় ছিলাম। হূমায়ূন আহমেদের লেখালেখির গভীরতা একদল মাপামাপি করতে থাকুক কিন্তু আমার এতে কোন সন্দেহ নাই এই মানুষটার যে কী বিপুল ক্ষমতা। মিডিয়ার ক্ষমতাও এর সঙ্গে যোগ হয়ে অটল এক অস্ত্রে পরিণত হয়।
সম্প্রতি তিনি লেখা শুরু করছেন প্রথম আলোয় 'আমরা কেউ বাসায় নেই' নামে একটি ধারাবাহিক উপন্যাস। আমি নিশ্চিত, তিনি ধারাবাহিক উপন্যাস নামে ধারাবাহিক উপন্যাস চালু করলেও এই দেশের প্রথম শ্রেণীর দৈনিকগুলো লুফে নেবে। না-না, টয়লেটের হলুদ ফুল নামের জিনিসগুলো না, লেখাটা।
হুমায়ূন আহমেদ নাকি 'না' বলতে পারেন না। কথাটা মিথ্যা না। তবে কিন্তু আছে। ভাল দাম দিতে হয়। টাকা পেলে তিনি যে-কোথাও তার লেখা ঢেলে দিতে পারেন, সেটা পূর্ণিমা নাকি ইনকিলাব এটা তার কাছে বিবেচ্য-আলোচ্য বিষয় না।
এখন পত্রিকাওয়ালা যদি তাকে বলেন আমাদেরকে একটা ধারাবাহিক লিখে দেন, "টয়লেটে ফেলে আসা কয়েক খাবলা হলুদ ফুল"। হুমায়ূন আহমেদ সানন্দে রাজি হবেন। আই বেট।
লেখার শক্তি ব্যতীত হুমায়ূন আহমেদ মানুষটা আমার বড়ো অপছন্দের। ভানবাজ এই মানুষটার লাজ-লজ্জা বলতে কিছু নেই! লেখায় হরহামেশা বউ, বাচ্চাকাচ্চার কথা চলে আসে। সাবেক স্ত্রী যখন সাবেক ছিলেন না তখন তাঁকে নিয়ে লিখতেন, আমার বউ পরীর মত সুন্দর-আমার বউ পরীর মত সুন্দর। এখন লেখায় চলে আসে, শাওন আমার সুটকেস গুছিয়ে দেয় তো কখনও শাওনের উপর কোন অশরীরী লোকজন(!) হুমড়ি খেয়ে থাকে ইত্যাদি।
গতকাল 'অধ্যাপক ইউনূস' নামের যে লেখাটা লিখেছেন ওখানেও আছে, ওনার সুপুত্র 'শেষ কাডাইল্যা' নিষাদ সাহেবের কথা। চ্যাংড়া নিষাদ সাহেব সাহসকে বলেন, 'সাগস'।
আমাদের দেশের আইনে এমন কোন কথা বলা নাই যে কোন লেখক তার বউ-বাচ্চার কথা বলে-বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলতে পারবেন না। কিন্তু একজন লেখকের ঔচিত্য বোধ, মর্যাদা তখন পশুর কানের মত ঝুলে পড়ে। আমার ভাষায় বলি, 'লেজার গান হাতে দুর্বল একজন মানুষ'। ক্ষমতার অপচয়!
তারপরও হাঁই তুলে হুমায়ূন আহমেদের এই সব 'পাগসগিরি-ছাগসগিরি' বিস্মৃত হওয়ার চেষ্টা করি। ইউনূস সাহেব প্রসঙ্গে এই দেশের অধিকাংশ বুদ্ধির ঢেঁকিরা যখন গোল হয়ে দাঁড়িয়ে হাত গুটিয়ে তামাশা দেখছেন তখন হুমায়ূন আহমেদই সত্যের চোখে চোখ রেখে স্পষ্ট উচ্চারণ করেছেন, রাজা তুই ল্যাংটা...।
সহায়ক সূত্র:
১. গ্রামীন ব্যাংকই কেন...: http://www.ali-mahmed.com/2011/04/blog-post_26.html
২. প্রফেসর ইউনূস, হুমায়ূন আহমেদ: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=1&date=2011-04-28
বিভাগ
আয়না
Monday, January 31, 2011
টিআইবি বনাম আদালত
৩১ জানুয়ারি। এই দিনটার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কিছু ঝামেলা আছে, এর কাছ থেকে আমার পরিত্রাণ নাই। মৃত্যুর আগ অবধি। কপাল। বেছে বেছে ঠিক এই দিনটাই আমার কাটে আদালতে। কান্ডটা গত বছরও হয়েছে [১]।, এ বছরও। কী কাকতালীয়!
আপাতত দৃষ্টিতে মনে হবে আমি একজন মামলাবাজ হয়ে যাচ্ছি বিষয়টা এমন না আমার সঙ্গে ড্রেনেরও যেন কী একটা ঝামেলা আছে, হুটহাট করে ড্রেন রাস্তার মাঝখানে চলে আসে।
আমার কেবল মনে হয় আদালতে মানুষ আসে ন্যায়ের জন্য কিন্তু সবচেয়ে বেশি অন্যায় হয় এখানেই। সমস্ত অন্যায়ের কথা বলা শুরু করলে মহাভারত টাইপের আস্ত একটা বই হয়ে যাবে। এখানে এসে নিজেকে বড়ো অসহায় লাগে কিন্তু এই জায়গাটায় যখন দরিদ্র মহিলা-বাচ্চাদের চরম দূর্গতি দেখি তখন নিজের কষ্ট তুচ্ছ মনে হয়। এদের তুলনায় আমার বেদনা কিছুই না।
টিআইবি (বাংলাদেশ) প্রধান চার জন আজ দায়েরকৃত মামলায় জামিন পেয়েছেন। উকিল সাহেব অপমানিত হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। হায় উকিল! এদের অনেকের কারণে কত মানুষ যে বিনা দোষে জেল খাটছে এর প্রকৃত হিসাব কে রাখে!
টিআইবির জরিপ অনুযায়ী এবার যে তথ্যটা দেয়া হয়েছে এর মধ্যে বিচার বিভাগে দুর্নীতির হার অন্য খাতগুলো ছাড়িয়ে, ৮৮%! এই নিয়ে বিচার বিভাগের উষ্মার শেষ নেই। আদালত প্রথমে টিআইবির কাছে জরিপের প্রশ্ন-উত্তরের সফট কপি চান। এটা দেখার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার না-থাকায় পরে আদালত হার্ড কপি চান। তারপর টিআইবিকে আদালত চা-চক্রে আমন্ত্রন জানান বিস্তারিত আলোচনা করার জন্যে। সবই ভাল, আদালতের এই ভঙ্গি অপছন্দ করার কিছু নেই। কিন্তু...।
পরিশেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন, টিআইবির জরিপ ভ্রান্ত ধারণার ভিক্তিতে করা। এখানটায় আমার ভাবনাও ভ্রান্ত হয় কারণ আদালত কেবল এটুকু বলেই ক্ষান্ত দিয়েছেন কিন্তু এই দিকনির্দেশনা দেননি এই জরিপটা কেমন করে করলে ভ্রান্ত হবে না।
আদালত কেন টিআইবি জরিপের কালিমার সবটুকু নিজেদের গায়ে মেখে বসে আছেন এই নিয়ে আমার বিস্ময়ের শেষ নেই। আমি নিজে টিআইবির এই জরিপের সঙ্গে একমত, এটা আমার নিজস্ব মত। জজ সাহেবরা ফেরেশতা না [২], প্রধান বিচারপতি নিজেও এটা স্বীকার করেছেন [৩] [৪]। অবশ্য টিআইবি জরিপে জজ সাহেবদের বিষয়টা তেমন আসেনি! টিআইবির এই জরিপে কোথাও বলা নেই কেবল জজ সাহেবরাই দায়ী। গোটা সিস্টেমটাকে বোঝানো হয়েছে।
যদিও সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, "...টিআইবির তথ্যের উপর নির্ভর করে বিচার বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ ঘুষ অথবা হয়রানির সঙ্গে জড়িত বলে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি...।"
মাননীয় আদালত সবিনয়ে বলি, এটা আমার কাছে জোকস অভ দ্য ইয়ার। আদালত চলাকালীন কোন একদিন যদি এই দেশের সমস্ত বিচার বিভাগের অংশ পেশকারদের পকেট সার্চ করা হয় তাহলে দেখবেন গাদা-গাদা টাকা বের হবে।
আচ্ছা, জজ সাহেবরা কি আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দেবেন, এই সিস্টেমের জন্য তাঁরা নিজেরা কী একটুও দায়ী না? আদালতের একটা নোটিশ এক বছরেও প্রাপককে বিলি করা হয় না, কেন? এই প্রশ্নটা কি তাঁরা কখনও জানতে চেয়েছেন?
আদালতে যখন শুনানি হয় যেসব আইনের বই থেকে উদ্ধৃতি দেয়া হয় সেইসব বই জজ সাহেবরা দেখতে চান, এটাই স্বাভাবিক। এই বইগুলো সরকারের টাকায় কেনা, বইগুলো আদালত লাইব্রেরিতেই থাকে কিন্তু এই বইগুলো লাইব্রেরি থেকে জজ সাহেব পর্যন্ত পৌঁছে দিতে বাদী বা বিবাদীর গাঁট থেকে ২০০ টাকা বেরিয়ে যায়! এমন কতশত উদাহরণ!
বিচার বিভাগের উপর বনবন করে ছড়ি ঘোরাবার জন্য সংসদ মুখিয়ে আছে। আমি এর ঘোর বিরোধিতা করি। যেদিন এই ব্যবস্থা চালু হবে সেদিনই সব ধসে পড়বে, আমাদের দাঁড়াবার আর জায়গা থাকবে না। কিন্তু আদালতের কোন সমালোচনা করা যাবে না এটার আমি ঘোর বিরোধী। একজন বিচারপতি যখন ট্রফিক কনস্টেবলকে কান ধরান সে কেন সিগন্যালের লালবাতি জ্বলে উঠার পর হাত উঠিয়েছিল। যে কারণে শত-শত গাড়ির সঙ্গে বিচারপতির গাড়িও আটকা পড়ে স্রেফ এই কারণে।
ভাগ্যিস এটা উন্নত দেশ না, হলে উল্টা এই বিচারপতিরই বিচার হতো। যে বিচারপতিরা নিজেদের ঈশ্বর ভাবেন তাঁদেরকে কি আমি মনে করিয়ে দেব অন্য দেশ হলে কি হতো? অষ্ট্রেলীয় পুলিশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বব হককে জরিমানা করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর অপরাধ তিনি সিটবেল্ট বাঁধেননি। প্রধানমন্ত্রী এই ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ১০০ ডলার জরিমানা পরিশোধ করেন। কিন্তু এর পূর্বেই ট্রাফিক অথরিটির চিফ মিডিয়ায় বলেন, 'DOES NOT MATTER YOU ARE PRIME MINISTER OR POST MASTER, YOU HAVE TO PAY THE FINE.
একজন মাহমুদুর রহমানকে আদালত অবমাননার শাস্তি দেয়াটা কতটুকু যৌক্তিক এই প্রশ্ন উত্থাপন করব না কিন্তু তাঁকে ছয় মাসের সাজা না-দিয়ে ছয় দিনের সাজা দিলে আকাশ তো আর ভেঙ্গে পড়ত না। প্রতীক এইটা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে তো কেউ আটকাচ্ছিল না! কিন্তু তাঁকে আপিল করার সুযোগ কেন দেয়া হলো না?
এখানে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য স্মর্তব্য: "...স্মরণ রাখতে হবে আমাদের কারোরই স্বাধীন ক্ষমতা নেই। যেমন চাঁদের নিজের কোন আলো নেই, ...সংবিধান জনগণের ইচ্ছায় প্রতিফলিত...তাদের ক্ষমতাই প্রকৃত ক্ষমতা।...বিচার বিভাগের নিজেদের মত জবাবদিহি রয়েছে। বিচার বিভাগ প্রকৌশলী, চিকিৎসক বা অন্যদের জবাবদিহির মত নয়। জবাবদিহি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে আলাদা হয়। কবির জবাবদিহি তাঁর পাঠকের কাছে। বিচারকদের জবাবদিহি রায়ের যুক্তির মধ্যে...।" (প্রথম আলো, ১৬.০১.১১)
আমার স্পষ্ট কথা, বিচারক যেহেতু দেবতা না তাঁরও ভুল হতে পারে, হয় এবং ভুল হলে আমরা এটা অবশ্যই বলব, আপনি ভুল করেছেন। এটা যদি আদালত অবমাননা হয় তাহলে তাই সই।
পরিশিষ্ট: আমাকে প্রাণে মেরে ফেললেও অন্তত আমি নিজে আদালতে ন্যায় চাইতে যাব না।
সহায়ক সূত্র:
১. জাস্টিস: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_08.html
২. জজ সাহেব: http://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_03.html
৩. প্রধান বিচারপতি: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_13.html
৪. তালার চাবি...: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_25.html
আপাতত দৃষ্টিতে মনে হবে আমি একজন মামলাবাজ হয়ে যাচ্ছি বিষয়টা এমন না আমার সঙ্গে ড্রেনেরও যেন কী একটা ঝামেলা আছে, হুটহাট করে ড্রেন রাস্তার মাঝখানে চলে আসে।
আমার কেবল মনে হয় আদালতে মানুষ আসে ন্যায়ের জন্য কিন্তু সবচেয়ে বেশি অন্যায় হয় এখানেই। সমস্ত অন্যায়ের কথা বলা শুরু করলে মহাভারত টাইপের আস্ত একটা বই হয়ে যাবে। এখানে এসে নিজেকে বড়ো অসহায় লাগে কিন্তু এই জায়গাটায় যখন দরিদ্র মহিলা-বাচ্চাদের চরম দূর্গতি দেখি তখন নিজের কষ্ট তুচ্ছ মনে হয়। এদের তুলনায় আমার বেদনা কিছুই না।
টিআইবি (বাংলাদেশ) প্রধান চার জন আজ দায়েরকৃত মামলায় জামিন পেয়েছেন। উকিল সাহেব অপমানিত হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। হায় উকিল! এদের অনেকের কারণে কত মানুষ যে বিনা দোষে জেল খাটছে এর প্রকৃত হিসাব কে রাখে!
টিআইবির জরিপ অনুযায়ী এবার যে তথ্যটা দেয়া হয়েছে এর মধ্যে বিচার বিভাগে দুর্নীতির হার অন্য খাতগুলো ছাড়িয়ে, ৮৮%! এই নিয়ে বিচার বিভাগের উষ্মার শেষ নেই। আদালত প্রথমে টিআইবির কাছে জরিপের প্রশ্ন-উত্তরের সফট কপি চান। এটা দেখার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার না-থাকায় পরে আদালত হার্ড কপি চান। তারপর টিআইবিকে আদালত চা-চক্রে আমন্ত্রন জানান বিস্তারিত আলোচনা করার জন্যে। সবই ভাল, আদালতের এই ভঙ্গি অপছন্দ করার কিছু নেই। কিন্তু...।
পরিশেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন, টিআইবির জরিপ ভ্রান্ত ধারণার ভিক্তিতে করা। এখানটায় আমার ভাবনাও ভ্রান্ত হয় কারণ আদালত কেবল এটুকু বলেই ক্ষান্ত দিয়েছেন কিন্তু এই দিকনির্দেশনা দেননি এই জরিপটা কেমন করে করলে ভ্রান্ত হবে না।
আদালত কেন টিআইবি জরিপের কালিমার সবটুকু নিজেদের গায়ে মেখে বসে আছেন এই নিয়ে আমার বিস্ময়ের শেষ নেই। আমি নিজে টিআইবির এই জরিপের সঙ্গে একমত, এটা আমার নিজস্ব মত। জজ সাহেবরা ফেরেশতা না [২], প্রধান বিচারপতি নিজেও এটা স্বীকার করেছেন [৩] [৪]। অবশ্য টিআইবি জরিপে জজ সাহেবদের বিষয়টা তেমন আসেনি! টিআইবির এই জরিপে কোথাও বলা নেই কেবল জজ সাহেবরাই দায়ী। গোটা সিস্টেমটাকে বোঝানো হয়েছে।
যদিও সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, "...টিআইবির তথ্যের উপর নির্ভর করে বিচার বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ ঘুষ অথবা হয়রানির সঙ্গে জড়িত বলে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি...।"
মাননীয় আদালত সবিনয়ে বলি, এটা আমার কাছে জোকস অভ দ্য ইয়ার। আদালত চলাকালীন কোন একদিন যদি এই দেশের সমস্ত বিচার বিভাগের অংশ পেশকারদের পকেট সার্চ করা হয় তাহলে দেখবেন গাদা-গাদা টাকা বের হবে।
আচ্ছা, জজ সাহেবরা কি আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দেবেন, এই সিস্টেমের জন্য তাঁরা নিজেরা কী একটুও দায়ী না? আদালতের একটা নোটিশ এক বছরেও প্রাপককে বিলি করা হয় না, কেন? এই প্রশ্নটা কি তাঁরা কখনও জানতে চেয়েছেন?
আদালতে যখন শুনানি হয় যেসব আইনের বই থেকে উদ্ধৃতি দেয়া হয় সেইসব বই জজ সাহেবরা দেখতে চান, এটাই স্বাভাবিক। এই বইগুলো সরকারের টাকায় কেনা, বইগুলো আদালত লাইব্রেরিতেই থাকে কিন্তু এই বইগুলো লাইব্রেরি থেকে জজ সাহেব পর্যন্ত পৌঁছে দিতে বাদী বা বিবাদীর গাঁট থেকে ২০০ টাকা বেরিয়ে যায়! এমন কতশত উদাহরণ!
বিচার বিভাগের উপর বনবন করে ছড়ি ঘোরাবার জন্য সংসদ মুখিয়ে আছে। আমি এর ঘোর বিরোধিতা করি। যেদিন এই ব্যবস্থা চালু হবে সেদিনই সব ধসে পড়বে, আমাদের দাঁড়াবার আর জায়গা থাকবে না। কিন্তু আদালতের কোন সমালোচনা করা যাবে না এটার আমি ঘোর বিরোধী। একজন বিচারপতি যখন ট্রফিক কনস্টেবলকে কান ধরান সে কেন সিগন্যালের লালবাতি জ্বলে উঠার পর হাত উঠিয়েছিল। যে কারণে শত-শত গাড়ির সঙ্গে বিচারপতির গাড়িও আটকা পড়ে স্রেফ এই কারণে।
ভাগ্যিস এটা উন্নত দেশ না, হলে উল্টা এই বিচারপতিরই বিচার হতো। যে বিচারপতিরা নিজেদের ঈশ্বর ভাবেন তাঁদেরকে কি আমি মনে করিয়ে দেব অন্য দেশ হলে কি হতো? অষ্ট্রেলীয় পুলিশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বব হককে জরিমানা করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর অপরাধ তিনি সিটবেল্ট বাঁধেননি। প্রধানমন্ত্রী এই ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ১০০ ডলার জরিমানা পরিশোধ করেন। কিন্তু এর পূর্বেই ট্রাফিক অথরিটির চিফ মিডিয়ায় বলেন, 'DOES NOT MATTER YOU ARE PRIME MINISTER OR POST MASTER, YOU HAVE TO PAY THE FINE.
একজন মাহমুদুর রহমানকে আদালত অবমাননার শাস্তি দেয়াটা কতটুকু যৌক্তিক এই প্রশ্ন উত্থাপন করব না কিন্তু তাঁকে ছয় মাসের সাজা না-দিয়ে ছয় দিনের সাজা দিলে আকাশ তো আর ভেঙ্গে পড়ত না। প্রতীক এইটা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে তো কেউ আটকাচ্ছিল না! কিন্তু তাঁকে আপিল করার সুযোগ কেন দেয়া হলো না?
এখানে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য স্মর্তব্য: "...স্মরণ রাখতে হবে আমাদের কারোরই স্বাধীন ক্ষমতা নেই। যেমন চাঁদের নিজের কোন আলো নেই, ...সংবিধান জনগণের ইচ্ছায় প্রতিফলিত...তাদের ক্ষমতাই প্রকৃত ক্ষমতা।...বিচার বিভাগের নিজেদের মত জবাবদিহি রয়েছে। বিচার বিভাগ প্রকৌশলী, চিকিৎসক বা অন্যদের জবাবদিহির মত নয়। জবাবদিহি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে আলাদা হয়। কবির জবাবদিহি তাঁর পাঠকের কাছে। বিচারকদের জবাবদিহি রায়ের যুক্তির মধ্যে...।" (প্রথম আলো, ১৬.০১.১১)
আমার স্পষ্ট কথা, বিচারক যেহেতু দেবতা না তাঁরও ভুল হতে পারে, হয় এবং ভুল হলে আমরা এটা অবশ্যই বলব, আপনি ভুল করেছেন। এটা যদি আদালত অবমাননা হয় তাহলে তাই সই।
পরিশিষ্ট: আমাকে প্রাণে মেরে ফেললেও অন্তত আমি নিজে আদালতে ন্যায় চাইতে যাব না।
সহায়ক সূত্র:
১. জাস্টিস: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_08.html
২. জজ সাহেব: http://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_03.html
৩. প্রধান বিচারপতি: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_13.html
৪. তালার চাবি...: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_25.html
বিভাগ
আয়না
Thursday, January 6, 2011
প্রকৃতির শোধ
আগে একটা লেখায় লিখেছিলাম, প্রকৃতি কখন ফেলে দেবে তা দেখার অপেক্ষায়...[১]। অস্ট্রেলিয়া যখন সাড়ে ছয় লক্ষ উট গুলি করে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আমি একটা ধাক্কার মত খেয়েছিলাম। কোন কারণে উটের সংখ্যা অতিরিক্ত হয়ে গিয়েছিল এই সংখ্যা কমানো হবে এটা বিচিত্র কিছু না কিন্তু এরা অন্য রকম একটা রাস্তা বেছে নিয়েছিল। এবং গোটা আয়োজনটার পেছনে এক ধরনের হিংস্রতা, দম্ভের গন্ধ ছড়াচ্ছিল।
অস্ট্রেলিয়া নামের দেশটির জনসংখ্যা মাত্র সোয়া দুই কোটি অথচ এই দেশটিতে বাংলাদেশের মত ১৩৮টি দেশ অনায়াসে জায়গা করে নিতে পারবে! এদের জায়গার এবং খাবারের অভাব নেই। অভাব নেই প্রোটিনের। এরা একেকটি উটকে দেখছে একটা সংখ্যা কিন্তু আমাদের কাছে এরা চলমান প্রোটিনের ভান্ড। এরা এই উটগুলো এভাবে মারার সিদ্ধান্ত না-নিয়ে যেটা করতে পারত কেবল এটা বলে দিয়ে গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানো, আমাদের পোতাশ্রয় থেকে যার যতটা খুশি উট নিয়ে যাও। আমার ধারণা, কাড়াকাড়ি পড়ে যেত। উপকৃত দেশটা বাংলাদেশ, না কঙ্গো তাতে কি আসে যায়? কিন্তু এই সব দাম্ভিক দেশগুলো তা করবে না। এরা কখনই এটা বুঝতে চায় না দরিদ্র দেশগুলোর মানুষরাও এই প্রকৃতিরই সন্তান।
প্রকৃতির প্রতি আমরা অন্যায় করি ক্ষিধার জ্বালায় আর এরা করে অতিরিক্তি লোভের জন্য। এরা এটাও বুঝতে চায় না থুথু যেখানেই ফেলুক এর ছিটা গায়ে লাগবেই। আমাদেরকে প্রোটিন, খাবার না-দিলে আমরা গাছ খাব, সমস্ত গাছ খেয়ে শেষ করে ফেলব। ফল যা হওয়ার তাই হবে। এমন বন্যা এরা দেখেনি, ইউরোপ এমন তুষারপাত দেখেনি। এত দিন করসো [২] আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে রসিকতা করেছে, মানবিক কবিতা লিখেছে। গুণ দাদা ভুলে যান আমাদেরকে ভুলিয়ে দেন কিন্তু প্রকৃতি বিস্মৃত হয় না।
প্রকৃতি ঠিকই এর শোধ নেয়- তার এবং তার সন্তানদের উপর অন্যায়ের কারণে। কাল আমরা বন্যায় ভেসেছি আজ অস্ট্রেলিয়া ভাসছে, আগামীকাল আমেরিকা ভাসবে।
ব্রিসবেনের আবহাওয়াবিদ বলেছেন, "...এতো পানি আমরা জীবনেও দেখিনি"। চারদিকে কেবল পানি আর পানি! লোকজনরা নৌকা নিয়ে ছুটাছুটি করছে। অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ বিমানবন্দর-রেল-সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের চমৎকার প্রয়োগের কারণে আমাদের মত গন্ডায় গন্ডায় লোক হয়তো এদের মরবে না কিন্তু প্রকৃতি এদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এরপরও এদের চোখ না খুললে একদিন ঠিক টের পাবে চোখটাই নেই।
সহায়ক লিংক:
১. সভ্যতা...: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_9297.html
২. করসো: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_7854.html
অস্ট্রেলিয়া নামের দেশটির জনসংখ্যা মাত্র সোয়া দুই কোটি অথচ এই দেশটিতে বাংলাদেশের মত ১৩৮টি দেশ অনায়াসে জায়গা করে নিতে পারবে! এদের জায়গার এবং খাবারের অভাব নেই। অভাব নেই প্রোটিনের। এরা একেকটি উটকে দেখছে একটা সংখ্যা কিন্তু আমাদের কাছে এরা চলমান প্রোটিনের ভান্ড। এরা এই উটগুলো এভাবে মারার সিদ্ধান্ত না-নিয়ে যেটা করতে পারত কেবল এটা বলে দিয়ে গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানো, আমাদের পোতাশ্রয় থেকে যার যতটা খুশি উট নিয়ে যাও। আমার ধারণা, কাড়াকাড়ি পড়ে যেত। উপকৃত দেশটা বাংলাদেশ, না কঙ্গো তাতে কি আসে যায়? কিন্তু এই সব দাম্ভিক দেশগুলো তা করবে না। এরা কখনই এটা বুঝতে চায় না দরিদ্র দেশগুলোর মানুষরাও এই প্রকৃতিরই সন্তান।
প্রকৃতির প্রতি আমরা অন্যায় করি ক্ষিধার জ্বালায় আর এরা করে অতিরিক্তি লোভের জন্য। এরা এটাও বুঝতে চায় না থুথু যেখানেই ফেলুক এর ছিটা গায়ে লাগবেই। আমাদেরকে প্রোটিন, খাবার না-দিলে আমরা গাছ খাব, সমস্ত গাছ খেয়ে শেষ করে ফেলব। ফল যা হওয়ার তাই হবে। এমন বন্যা এরা দেখেনি, ইউরোপ এমন তুষারপাত দেখেনি। এত দিন করসো [২] আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে রসিকতা করেছে, মানবিক কবিতা লিখেছে। গুণ দাদা ভুলে যান আমাদেরকে ভুলিয়ে দেন কিন্তু প্রকৃতি বিস্মৃত হয় না।
প্রকৃতি ঠিকই এর শোধ নেয়- তার এবং তার সন্তানদের উপর অন্যায়ের কারণে। কাল আমরা বন্যায় ভেসেছি আজ অস্ট্রেলিয়া ভাসছে, আগামীকাল আমেরিকা ভাসবে।
ব্রিসবেনের আবহাওয়াবিদ বলেছেন, "...এতো পানি আমরা জীবনেও দেখিনি"। চারদিকে কেবল পানি আর পানি! লোকজনরা নৌকা নিয়ে ছুটাছুটি করছে। অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ বিমানবন্দর-রেল-সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের চমৎকার প্রয়োগের কারণে আমাদের মত গন্ডায় গন্ডায় লোক হয়তো এদের মরবে না কিন্তু প্রকৃতি এদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এরপরও এদের চোখ না খুললে একদিন ঠিক টের পাবে চোখটাই নেই।
সহায়ক লিংক:
১. সভ্যতা...: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_9297.html
২. করসো: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_7854.html
বিভাগ
আয়না
Friday, December 31, 2010
রক্তচোষা-সুদখোর কেবল ইউনূস না, সরকারও!
ড. ইউনূসকে নিয়ে আর লিখব না বলে পণ করেছিলাম [১]। কিন্তু কপালের ফের! কাল আমার একজন সুহৃদ বিরাট হইচই শুরু করলেন। তিনি হাত-পা নেড়ে, গা দুলিয়ে যা করলেন তাকে অল্প কথায় বলা চলে আমার উপর কামান থেকে আগুনের গোলা ছুঁড়ে দেয়া। আমি গুছিয়ে হয়তো দু-কলম লিখতে পারি কিন্তু কথার পিঠে কথা চালিয়ে যাওয়া আমার 'কম্মো' না। এই সব আগুনের গোলা সামলাই কেমন করে!
প্রবাসে থাকা এই মানুষটার আমার উপর বেজায় রাগ কারণ ড. ইউনূসকে নিয়ে আমি বেশ কিছু লেখা লিখেছি। এই মানুষটার মনোভাব খানিকটা আঁচ করতে পারি। দেশের বাইরে থাকলে অনেকে লালন করে থাকেন দেশের জন্য অহেতুক একগাদা আবেগ। কোন প্রকারে দেশ বা দেশের মানুষের নাম আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে চলে এলে এদের উল্লাস দেখে কে! হাতে কিল মেরে বলেন, হোয়াড আ ফা...!
আমাদের আবার এই সব উল্লাস তেমনটা স্পর্শ করে না কারণ দেশে আমরা মারা যাই হররোজ। এই আমিই কি দু-নম্বুরি করছি না? কালই বাড়তি দাম দিয়ে ট্রেনের টিকেট কিনেছি কালোবাজারির কাছ থেকে। না-কিনে কোন উপায় ছিল না। এর পক্ষে যত যুক্তিই প্রদর্শন করি, অন্যায় তো অন্যায়ই। দেশে থাকলে অনিচ্ছায় অন্ধকারের সঙ্গে জড়াজড়ি করে থাকতে-থাকতে আমাদের অনুভূতি হয়ে যায় ভোঁতা। একটা নিরেট অথর্ব! এতো দেশ-দেশ করার আগ্রহ কোথায় আমাদের।
আমার এই সুহৃদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, আমি কেবল ড. ইউনূসের দোষ কেন বারবার বলছি। অন্যদের দোষ কেন উপেক্ষা করছি? কেন-কেন-কেন?
এই হয়েছে এক যন্ত্রণা, আমি জানি না অনেকের কেন যেন এমন একটা ধারণা জন্মায় এ দেশের সমস্ত অসঙ্গতি আমার চোখ এড়াবে না। বাপু রে, আমি কী বাজপাখি! তাছাড়া একটা মানুষের একটা মাত্রই মস্তিষ্ক থাকে, আজ পর্যন্ত শুনিনি কারও দুইটা! তবে শুনতে পাই অনেকের আবার মস্তিষ্কই থাকে না। অন্যদের কথা জানা নেই অন্তত আমার নিজের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তা, এতো যন্ত্রণা না-করে কোন বিষয়টা আমার চোখ এড়িয়ে গেছে এটা বললেই হয়, তা না-করে আগুনের গোলা ছুঁড়ে-ছুঁড়ে কারও গা ঝলসে দেয়াটা কোন দেশের বিচার! যাক, বিষয়টা তিনি খুলে বলেন। আমি চোখ বড়ো বড়ো করে জনান্তিকে বলি, ওয়াল্লা, তাই তো!
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন:
"ড. ইউনূস...দরিদ্র বিমোচনের নামে ঋণ দিয়ে গরিব মানুষের রক্ত চুষে খাওয়া হচ্ছে"...। (প্রথম আলো, ৬ ডিসেম্বর, ২০১০)
এটা প্রধানমন্ত্রীর সবেমাত্র জানলেন? তাও এক লাল চামড়া এটা নিয়ে বলার পর! আমাদের দেশের এতো সব সংস্থা তাহলে আছে কেন? আমরা আমাদের ট্যাক্সের টাকায় কেন তাহলে এই সব সংস্থার লোকজনদের লালন করছি?
'আমাদের সময়' পত্রিকার সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান প্রশ্ন করেন:
"...গ্রামীন ব্যাংকে সরকারের মালিকানা আছে। কিন্তু কোন তথ্য পাওয়া যায় না। ..."। (প্রথম আলো, ৬ ডিসেম্বর, ২০১০)
ওহে, নাঈমুল ইসলাম খান, কোনও তথ্য পাওয়া যায় না, সত্যি? তা আপনাদের মতো দেশ কাঁপানো সাংবাদিক আছেন কী কারণে? এসি অফিসে বসে বসে তথ্যের ভান্ডারে তথ্য উপুড় করে দেয়ার জন্য বুঝি!
আর গ্রামীন ব্যাংকে সরকারের যে মালিকানা? বেশ-বেশ, সরকার গ্রামীন ব্যাংকের একটা অংশের মালিকও? বাহ, তাহলে সরকার জেনেশুনে গরীবদের কাছ থেকে চড়া সুদ নিচ্ছে? হা ঈশ্বর, ড. ইউনূস রক্তচোষা হলে তাহলে দেখি সরকারও রক্তচোষা? যখন যে সরকার ক্ষমতায় ছিলেন তিনি এর দায় এড়ান কেমন করে এটা আমার মস্তিষ্কবিহীন মাথায় আসছে না!
সরকারে হাসিনা থাকলে হাসিনাও 'মহিলা রক্তচোষা'!
সহায়কসূত্র:
১. ইউনূসনামা: http://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_26.html
বিভাগ
আয়না
Friday, September 24, 2010
ধপধপে সাদা পাঞ্জাবিতে ছোপ ছোপ কালো দাগ
আমাদের কিছু সংসদ সদস্য মহোদয়গণ কতিপয় মিডিয়ার উপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সংসদ সদস্য মহোদয়গণ কি দেবদূত যে তাঁদের নিয়ে সমালোচনা করা যাবে না? সমালোচনা করলেই কটাক্ষ হয়ে যাবে? কেন মহান সংসদ অবমাননা হবে না তার জন্য রুল জারি হবে?
আমরা গণতন্ত্রের যে চারাটা রোপণ করি তার গোড়ায় ঢেলে দেই গ্যালন গ্যালন রাসায়নিক দ্রব্য। অধিকাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আনুমানিক চার-পাঁচ কোটি টাকায়। হাজারটা খরচ বাদ দিলেও নির্বাচন করার জন্য যে দলের টিকেট পান সেই দলে কত টাকা চাঁদা দিতে হয় সেটার প্রকৃত তথ্য জানলে হিসাবটা অনেকটা সহজ হয়ে আসে।
খরচের এই সংখ্যা নিয়ে কু-তর্ক করার পূর্বে সাধারণ একটা পৌরসভার মেয়র হওয়ার জন্য কত টাকা খরচ হচ্ছে এটা একটু খোঁজ নিলে চোখ গোল হয়ে যাবে। ১০ ফিট বাই ১২ ফিটের একেকটা ভিনায়েল বোর্ড নামের জিনিসটার খরচ দাঁড়ায় পাঁচ হাজার টাকা। এমন ৫০টা ভিনায়েল বোর্ড নস্যি! কেবল একটা খাতেই আসে আড়াই লাখ টাকা! এ তো কেবল তবলার ঠুকঠাক! তবলা বাজাবার জন্য যে সারা রাত পড়ে আছে।
অবশ্য প্রত্যেকটা ভিয়ায়েল বোর্ডে মেয়র প্রার্থীর শুভানুধ্যায়ীর আনুপাতিক হারে ছোট একটা ছবি থাকে এবং মানুষটার বক্তব্যও থাকে যে, তিনি নাচতে নাচতে অতি আনন্দে এটা তার প্রার্থীর জন্য করে দিয়েছেন। এটা জানার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন হয় না এই খরচটা তিনি না মেয়র প্রার্থীই জুগিয়েছেন।
তো, চার-পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে একজন সংসদ সদস্য হন জনসেবা করার জন্য। আহারে জনসেবা! চার-পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে জনসেবা করার জন্য সংসদ সদস্য হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না- এরচেয়ে অনেক কম টাকায় শত শত গ্রামের চেহারা আমূল পরিবর্তন করে দেয়া সম্ভব। তবুও একেকজন এমন বিপুল টাকা খরচ করে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন। আমরা ঘটা করে এঁদের আবার ভোট দিতে যাই। ফল যা হওয়ার তাই হয়। জীবনে একবার সংসদ সদস্য হতে পারলে আর পায় কে! ক্ষমতা-টাকা-তকমা সমস্ত কিছুই তখন হাতের মুঠোয়। এরাই আইন করেন, পদে পদে আইন ভাঙেন!
তারপর প্রয়োজন হয় শুল্কমুক্ত গাড়ির। যিনি ছিলেন আলুর বেপারি তিনি আনেন লেক্সাস, হামার, ফেরারী। সেই গাড়িটিই পাওয়া যায় অভিজাত শো-রুমে। হাত বদল হয় অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা! কত্তো কত্তো সুবিধা ভোগ করা যায়, কতটা যে নিলাজ হওয়া যায়! উদাহরণের জন্যে একজন দেলোয়ার সাহেবই [১] যথেষ্ঠ!
মাসের-পর-মাস, বছরের-পর-বছর ধরে একজন সংসদ সদস্য সংসদে যান না কিন্তু তাঁর বেতন-ভাতা নিতে বিন্দুমাত্র অপ্রতিভ হন না। অন্যদের কথা না-হয় বাদই দিলাম, খালেদা জিয়া বর্তমান সংসদে ১৫৮ কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র ৫দিন উপস্থিত ছিলেন! আর গত টার্মে শেখ হাসিনা ৩৭৩ কার্যদিবসে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৭২ দিন! এই যে মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা সংসদে যান না এঁরা কি বেতন-ভাতাদি গ্রহন করেন না? করেন, আনন্দের সঙ্গেই করেন।
আমাদের দেশে জবাবদিহিতার চল নেই। উন্নত দেশগুলোর মত আমরা এটার জিজ্ঞেস করার সাহস রাখি না কারণ হাতে মুখে-গণতন্ত্রের ঝান্ডা যে আমাদের।
ব্রিটেনের সেনাপ্রধান জেনারেল স্যার পিটার ওয়াল অতিরিক্ত মোটা হওয়ার কারণে সরকারি উর্দি গায়ে আঁটছে না বিধায় নতুন করে উর্দি বানাতে হয়েছে এবং এই বাড়তি খরচ লক্ষাধিক টাকা দিতে হবে তাঁর নিজের গাঁট থেকে।
বাংলাদেশের কোন সেনাপ্রধানের এই অবস্থা হলে এবং এই বাড়তি খরচটা তাঁর বেতন থেকে কাটা যাবে এটা আমরা স্বপ্নেও ভাবি না। 'খোদা-না-খাস্তা' জনসাধারণের কেউ এই নিয়ে বাতচিত করলে তিনি বাত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিত হয়ে পড়ে থাকবেন এটা বলতে পারলে ভাল লাগত। আফসোস, না থাকবে শরীর, না থাকবে বাত, না হবেন চিত! পাহাড়ে পাহাড়ে হুটোপুটি খাবে কেবল গণতন্ত্র!
সহায়ক লিংক:
১. খোন্দকার দেলোয়ার: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_12.html
আমরা গণতন্ত্রের যে চারাটা রোপণ করি তার গোড়ায় ঢেলে দেই গ্যালন গ্যালন রাসায়নিক দ্রব্য। অধিকাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আনুমানিক চার-পাঁচ কোটি টাকায়। হাজারটা খরচ বাদ দিলেও নির্বাচন করার জন্য যে দলের টিকেট পান সেই দলে কত টাকা চাঁদা দিতে হয় সেটার প্রকৃত তথ্য জানলে হিসাবটা অনেকটা সহজ হয়ে আসে।
খরচের এই সংখ্যা নিয়ে কু-তর্ক করার পূর্বে সাধারণ একটা পৌরসভার মেয়র হওয়ার জন্য কত টাকা খরচ হচ্ছে এটা একটু খোঁজ নিলে চোখ গোল হয়ে যাবে। ১০ ফিট বাই ১২ ফিটের একেকটা ভিনায়েল বোর্ড নামের জিনিসটার খরচ দাঁড়ায় পাঁচ হাজার টাকা। এমন ৫০টা ভিনায়েল বোর্ড নস্যি! কেবল একটা খাতেই আসে আড়াই লাখ টাকা! এ তো কেবল তবলার ঠুকঠাক! তবলা বাজাবার জন্য যে সারা রাত পড়ে আছে।
অবশ্য প্রত্যেকটা ভিয়ায়েল বোর্ডে মেয়র প্রার্থীর শুভানুধ্যায়ীর আনুপাতিক হারে ছোট একটা ছবি থাকে এবং মানুষটার বক্তব্যও থাকে যে, তিনি নাচতে নাচতে অতি আনন্দে এটা তার প্রার্থীর জন্য করে দিয়েছেন। এটা জানার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন হয় না এই খরচটা তিনি না মেয়র প্রার্থীই জুগিয়েছেন।
তো, চার-পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে একজন সংসদ সদস্য হন জনসেবা করার জন্য। আহারে জনসেবা! চার-পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে জনসেবা করার জন্য সংসদ সদস্য হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না- এরচেয়ে অনেক কম টাকায় শত শত গ্রামের চেহারা আমূল পরিবর্তন করে দেয়া সম্ভব। তবুও একেকজন এমন বিপুল টাকা খরচ করে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন। আমরা ঘটা করে এঁদের আবার ভোট দিতে যাই। ফল যা হওয়ার তাই হয়। জীবনে একবার সংসদ সদস্য হতে পারলে আর পায় কে! ক্ষমতা-টাকা-তকমা সমস্ত কিছুই তখন হাতের মুঠোয়। এরাই আইন করেন, পদে পদে আইন ভাঙেন!
তারপর প্রয়োজন হয় শুল্কমুক্ত গাড়ির। যিনি ছিলেন আলুর বেপারি তিনি আনেন লেক্সাস, হামার, ফেরারী। সেই গাড়িটিই পাওয়া যায় অভিজাত শো-রুমে। হাত বদল হয় অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা! কত্তো কত্তো সুবিধা ভোগ করা যায়, কতটা যে নিলাজ হওয়া যায়! উদাহরণের জন্যে একজন দেলোয়ার সাহেবই [১] যথেষ্ঠ!
মাসের-পর-মাস, বছরের-পর-বছর ধরে একজন সংসদ সদস্য সংসদে যান না কিন্তু তাঁর বেতন-ভাতা নিতে বিন্দুমাত্র অপ্রতিভ হন না। অন্যদের কথা না-হয় বাদই দিলাম, খালেদা জিয়া বর্তমান সংসদে ১৫৮ কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র ৫দিন উপস্থিত ছিলেন! আর গত টার্মে শেখ হাসিনা ৩৭৩ কার্যদিবসে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৭২ দিন! এই যে মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা সংসদে যান না এঁরা কি বেতন-ভাতাদি গ্রহন করেন না? করেন, আনন্দের সঙ্গেই করেন।
আমাদের দেশে জবাবদিহিতার চল নেই। উন্নত দেশগুলোর মত আমরা এটার জিজ্ঞেস করার সাহস রাখি না কারণ হাতে মুখে-গণতন্ত্রের ঝান্ডা যে আমাদের।
ব্রিটেনের সেনাপ্রধান জেনারেল স্যার পিটার ওয়াল অতিরিক্ত মোটা হওয়ার কারণে সরকারি উর্দি গায়ে আঁটছে না বিধায় নতুন করে উর্দি বানাতে হয়েছে এবং এই বাড়তি খরচ লক্ষাধিক টাকা দিতে হবে তাঁর নিজের গাঁট থেকে।
বাংলাদেশের কোন সেনাপ্রধানের এই অবস্থা হলে এবং এই বাড়তি খরচটা তাঁর বেতন থেকে কাটা যাবে এটা আমরা স্বপ্নেও ভাবি না। 'খোদা-না-খাস্তা' জনসাধারণের কেউ এই নিয়ে বাতচিত করলে তিনি বাত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিত হয়ে পড়ে থাকবেন এটা বলতে পারলে ভাল লাগত। আফসোস, না থাকবে শরীর, না থাকবে বাত, না হবেন চিত! পাহাড়ে পাহাড়ে হুটোপুটি খাবে কেবল গণতন্ত্র!
সহায়ক লিংক:
১. খোন্দকার দেলোয়ার: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_12.html
বিভাগ
আয়না
Sunday, September 12, 2010
জাফর ইকবাল, আলো-ছায়া
আমি আগেও লিখেছি, এই দেশে যে অল্প কিছু মানুষকে আমি পছন্দ করি তাঁদের মধ্যে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল একজন। এই মানুষটার সঙ্গে কথা বলার আমার সুযোগ হয়েছে, আমার মনে হয়েছে ভান বিষয়টা তাঁর মধ্যে নাই। যেটা তাঁর অগ্রজ হুমায়ূন আহমেদের মধ্যে প্রবল। হুমায়ূন আহমেদ আপাদমস্তক একজন ভানবাজ!
জাফর ইকবালের আরেকটা বিষয় আমাকে অভিভূত করে সেটা হচ্ছে, ঢাকায় বসবাস করার লোভ তাঁর নাই অথচ ইচ্ছা করলেই মানুষটার ঢাকায় থাকতে পারেন। এই দেশের সুশীলরা ঢাকায় বসবাস করার জন্য পারলে তাদের আত্মা বিক্রি করে দেন। পারলে প্রিয় মানুষকে কারও বিছানায় তুলে দেন। না-না, হইচই করার কিছু নাই- বিবাহ নামের বৈধতার মোড়কে। এই সুশীলরাই ঢাকাকে একটা মৃত্যুকূপ বানাচ্ছে [১], অচিরেই লক্ষ-লক্ষ মানুষের হত্যাকারীর খাতায় এরা নাম লেখাবে।
এই মানুষটার প্রতি মুগ্ধতার আরও কারণ আছে। ১০ টাকার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের যে ক্ষীণবপু যে বইটা বের করেছেন [২] এটা একটা অসাধারণ কাজ হয়েছে এতে অন্তত আমার কোন সন্দেহ নেই।
আবার আমি এটাও মনে করি, প্রিয় মানুষের সব কিছুতে লাফাতে হবে এমন না। জাফর ইকবালের অনেক বিষয় আবার আমার পছন্দ না। ৭১ সালে সমস্ত দেশ যখন যুদ্ধে উত্তাল তখন এঁরা দু-ভাই পালিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। কেন জাফর ইকবাল যুদ্ধে গেলেন না এর উত্তর তিনিই ভাল দিতে পারবেন কিন্তু কাজটা অমর্যাদার, লজ্জার!
হরতাল নিয়ে তাঁর ভাবনা হাস্যকর [৩]! মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি নামে যে দল চকচকে মোড়কে মুড়িয়ে 'লেবেনচুষ' বিক্রি করে, জাফর ইকবাল অন্যদের মত এই বিষয়টা গুলিয়ে ফেলেন।
যাই হোক, মানুষ দেবতা না তাই তাঁর সব কিছুই নিখুঁত হবে এমনটা আশা করা সমীচীন না। দেখা প্রয়োজন যেটা, একজন মানুষের কতটা পচন ধরেছে...।
তাঁর লেখার চোর্যবৃত্তি নিয়ে গুরুতর আপত্তি উঠেছে [৫] । আমি জাফর ইকবালের সমস্ত লেখা পড়িনি বলে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলাম। এর সদুত্তর দিতে পারবেন জাফর ইকবাল এবং ডিউক জন।
তদুপরি আমি মনে করি, এই পোড়া দেশে জাফর ইকবালের মত লোকই বা কোথায়? অন্তত তাঁর অগ্রজ হুমায়ূন আহমেদের [৬] মত দু-নম্বর তো আর না...।
সহায়ক লিংক:
১. মৃত নগরী, ঢাকা: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_06.html
২.কুর্নিশ করি হে স্বপ্নবাজ: http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_27.html
৩. হরতাল: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_3914.html
৪. পক্ষপাতদুষ্টতা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8885.html
৫. ডিউক জন: http://dukejohndj.blogspot.com/2010/08/blog-post_25.html
৬. হুমায়ূন আহমেদ: http://www.ali-mahmed.com/2010/09/blog-post_09.html
জাফর ইকবালের আরেকটা বিষয় আমাকে অভিভূত করে সেটা হচ্ছে, ঢাকায় বসবাস করার লোভ তাঁর নাই অথচ ইচ্ছা করলেই মানুষটার ঢাকায় থাকতে পারেন। এই দেশের সুশীলরা ঢাকায় বসবাস করার জন্য পারলে তাদের আত্মা বিক্রি করে দেন। পারলে প্রিয় মানুষকে কারও বিছানায় তুলে দেন। না-না, হইচই করার কিছু নাই- বিবাহ নামের বৈধতার মোড়কে। এই সুশীলরাই ঢাকাকে একটা মৃত্যুকূপ বানাচ্ছে [১], অচিরেই লক্ষ-লক্ষ মানুষের হত্যাকারীর খাতায় এরা নাম লেখাবে।
এই মানুষটার প্রতি মুগ্ধতার আরও কারণ আছে। ১০ টাকার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের যে ক্ষীণবপু যে বইটা বের করেছেন [২] এটা একটা অসাধারণ কাজ হয়েছে এতে অন্তত আমার কোন সন্দেহ নেই।
আবার আমি এটাও মনে করি, প্রিয় মানুষের সব কিছুতে লাফাতে হবে এমন না। জাফর ইকবালের অনেক বিষয় আবার আমার পছন্দ না। ৭১ সালে সমস্ত দেশ যখন যুদ্ধে উত্তাল তখন এঁরা দু-ভাই পালিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। কেন জাফর ইকবাল যুদ্ধে গেলেন না এর উত্তর তিনিই ভাল দিতে পারবেন কিন্তু কাজটা অমর্যাদার, লজ্জার!
হরতাল নিয়ে তাঁর ভাবনা হাস্যকর [৩]! মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি নামে যে দল চকচকে মোড়কে মুড়িয়ে 'লেবেনচুষ' বিক্রি করে, জাফর ইকবাল অন্যদের মত এই বিষয়টা গুলিয়ে ফেলেন।
যাই হোক, মানুষ দেবতা না তাই তাঁর সব কিছুই নিখুঁত হবে এমনটা আশা করা সমীচীন না। দেখা প্রয়োজন যেটা, একজন মানুষের কতটা পচন ধরেছে...।
তাঁর লেখার চোর্যবৃত্তি নিয়ে গুরুতর আপত্তি উঠেছে [৫] । আমি জাফর ইকবালের সমস্ত লেখা পড়িনি বলে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলাম। এর সদুত্তর দিতে পারবেন জাফর ইকবাল এবং ডিউক জন।
তদুপরি আমি মনে করি, এই পোড়া দেশে জাফর ইকবালের মত লোকই বা কোথায়? অন্তত তাঁর অগ্রজ হুমায়ূন আহমেদের [৬] মত দু-নম্বর তো আর না...।
সহায়ক লিংক:
১. মৃত নগরী, ঢাকা: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_06.html
২.কুর্নিশ করি হে স্বপ্নবাজ: http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_27.html
৩. হরতাল: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_3914.html
৪. পক্ষপাতদুষ্টতা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8885.html
৫. ডিউক জন: http://dukejohndj.blogspot.com/2010/08/blog-post_25.html
৬. হুমায়ূন আহমেদ: http://www.ali-mahmed.com/2010/09/blog-post_09.html
বিভাগ
আয়না
Sunday, August 29, 2010
একজন স্বার্থপর মানুষ এবং পলায়ন স্পৃহা
দুলাল মিয়াকে [১] নিয়ে বড়ো পেরেশানিতে ছিলাম। রাতে ঘুমে খানিকটা সমস্যাও হচ্ছিল। রাতে দরোজায় শব্দ হলেই মনে হতো: পুলিশ না তো? ঠাক-ঠাক, ধাম-ধাম। কর্কশ গলা, আমরা পুলিশের লোক, দরোজা খুলেন নইলে দরোজা ভেঙ্গে ফেলব। খুলতে দেরি হলেই অশ্রাব্য ভাষায়...।
হতে পারে না এমনটা, বেশ পারে। এই দেশে সবই সম্ভব। শাহআলমের মতো লোকগুলোর পক্ষে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান জনাব ফজলে নূর তাপসের মত দুঁদে ল-অফিসার। আর আমাদের জন্য কলিমুল্লা-ছলিমুল্লা।
কারণ আছে এমনটা ভাবার। দুলাল মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করার সময় আমার নাম-ঠিকানা বিস্তারিত দিতে হয়েছে, আমার কাঁধে অযাচিত দায়িত্ব বর্তেছে! তখন ডাক্তারসহ সবাই আমার বোকামি দেখে বিস্তর হাসাহাসি করেছেন। তাদের হাসির উৎস, এই মানুষটার উনিশ-বিশ হয়ে গেলে, তাকে যমে নিয়ে যাবে আর আমাকে পুলিশ।
আমি কোনো দল করি না। আমি ব্যতীত দল করে না এমন বেকুব আর কেউ এই দেশে নাই! আমার ধারণা, এই দেশে কাক-পক্ষী-গাছ-নদী-পুকুর কেউ বাদ নাই, সবারই কোনো-না-কোনো দলের সঙ্গে মাখামাখি আছে। এই দেশে যারা দল করেন না এদের মতো অভাগা আর কেউ নাই। না ঘার কা, না ঘাট কা। আরাফ, স্বর্গ-নরকের মাঝামাঝি ঝুলে থাকা। ঝুলাঝুলিই সার!
আহা, কার দায় পড়বে আমার মত সাধারণ একজন দলহীন মানুষের জন্য নড়াচড়া করার।
আজ সকালে ডাক্তার জানিয়ে দিলেন, এই রোগীকে এখানে রেখে খুব একটা লাভ হবে না কারণ ড্রেসিং করার সময় দুলাল মিয়ার পায়ের মাংস খসে খসে পড়ে যাচ্ছে। মানুষটাকে বাঁচাবার একটাই উপায় হাঁটু থেকে পাটা ফেলে দিতে হবে। এটা জন্য জেলার সদর হাসপাতালে যেতে হবে।
আমার নিজের অনুমানটাও এমনটাই ছিল।
কারণ দুলাল মিয়ার কাছে দাঁড়ানো যাচ্ছিল না মাংস গলার অসহনীয় গন্ধে, টিস্যুগুলো ক্রমশ নষ্ট হচ্ছে। আমার নাড়িভুঁড়ি উল্টে আসত। সঙ্গে মাস্ক নিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু লাগাতে পারিনি। কেন যেন আমার মনে হতো, মানুষটা আহত হবেন। কিন্তু কী তীব্র, মাথা খারাপকরা গন্ধ! আমি নতজানু হই তাঁদের প্রতি যারা নিঃস্বার্থভাবে দুলাল মিয়ার মত মানুষদের নিয়ে কাজ করে যান।
সব কিছু মিলিয়ে ঠিক হয়, দুলাল মিয়াকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। যেহেতু এই মানুষটার কোন অভিভাবক নাই তাই আমার উপর কঠিন একটা দায়িত্ব পড়েছে দুলাল মিয়ার সম্মতি নেয়ার জন্য, চিকিৎসা না-করে সরে পড়বে না তো আবার? পাটা ফেলে দিতে হবে এটাও জানানোর জন্য।
তখন পর্যন্ত আমি কিছুই বলিনি কিন্তু আমাকে দেখামাত্র মানুষটা হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। আমি দুর্বলচিত্তের একজন মানুষ, বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি; আমি বৃষ্টি দেখতে থাকি।
আমি চেষ্টাকৃত খানিকটা কঠিন গলায় বলি, এখানে আপনার আর চিকিৎসা হবে না। জেলা শহরে পাঠাতে হবে, এটা অনেক ঝামেলার কাজ; অ্যামবুলেন্স ঠিক করতে হবে, ওখানকার ডাক্তারকে ধরাধরি করতে হবে। আপনি কি চিকিৎসা করাবেন নাকি ওখানে নেয়ার পর পালিয়ে যাবেন। পালিয়ে গেলে ওখানে গিয়ে লাভ নাই, এখান থেকেই চলে যান।
মানুষটা ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঘুরেফিরে একটা কথাই বলতে থাকেন, আপনে যেইটা ভালা মনে করেন।
আমি মাথা নাড়ি, না। আমি ভাল মনে করলে তো হবে না। চিকিৎসা করতে গিয়ে আপনার অপারেশন লাগতে পারে, পায়ের কিছুটা ফেলে দিতে হতে পারে।
দুলাল মিয়া নিস্তেজ গলা, কতডা কাটব?
আমি বলি, তা তো এখন বলা সম্ভব না। এখানে গেলে ডাক্তার দেখে-বুঝে ঠিক করবেন।
দুলাল মিয়ার ঘুরেফিরে একটাই কথা, আপনে...। আমি সময় নিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করতে থাকি, দেখেন, শরীর আপনার। সিদ্ধান্তটা আপনাকেই নিতে হবে।
পরিশেষে ঠিক হয়, আগামীকাল দুলাল মিয়াকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। আমি চেপে রাখা শ্বাস ছাড়ি। আমি নিজেকে বিলক্ষণ চিনি- একজন পলায়নপর মানুষ। যাক বাবা, বাঁচা গেল, এখানেই আমার কাজ শেষ। আমার এলাকাটা তো পরিষ্কার হল। এরপর এটা ওই শহরের লোকজনের সমস্যা-মাথাব্যথা। আমি স্বার্থপর টাইপের মানুষ, নিজের সমস্যার সমাধান হয়েছে এতেই আমি আনন্দিত। অন্যদের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামাবার অহেতুক আগ্রহ বোধ করি না। এখন ব্রাক্ষণবাড়িয়া শহরের লোকজন তাদের সমস্যা নিয়ে অস্থির হবে, কি হবে না এতে আমার কী!
...
যারা একটা গল্প-উপন্যাসের শেষ লাইনটি পড়ে ফেলার পর জানতে চান, 'হেষে কি হইল'- তারপর কি হলো? তাঁদের জন্যই সম্ভবত পরিশিষ্ট শব্দটা চালু করা হয়েছে। এই লেখার পরিশিষ্ট হচ্ছে, যাদের চোখ আমাদের মত ঘোলাটে না, ঝাঁ চকচকে এদের পক্ষেই সম্ভব আমরা যেটা করতে পারি না। অতীতে আমি এর অনেক উদাহরণ দেখেছি [২] । দুলা মিয়া নামের অসমসাহসী মুক্তিযোদ্ধার সমাধি এরা বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূর থেকে এই বেড়া এরা বয়ে নিয়ে গেছে!
এই মানুষটার চিকিৎসা নিয়ে ফাঁকিবাজি করবে এই নিয়ে জেলা সদরের ডাক্তারদের আনন্দিত হওয়ার কিছু নাই কারণ ওখানে থাকে এমন এক ঝাঁক তরুণকে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছি। যেখানে আমার কাজ শেষ ওখান থেকেই ওই তরুণদের কাজ শুরু।
সহায়ক লিংক:
১. দুলাল মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_27.html
২. দুলা মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_04.html
হতে পারে না এমনটা, বেশ পারে। এই দেশে সবই সম্ভব। শাহআলমের মতো লোকগুলোর পক্ষে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান জনাব ফজলে নূর তাপসের মত দুঁদে ল-অফিসার। আর আমাদের জন্য কলিমুল্লা-ছলিমুল্লা।
কারণ আছে এমনটা ভাবার। দুলাল মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করার সময় আমার নাম-ঠিকানা বিস্তারিত দিতে হয়েছে, আমার কাঁধে অযাচিত দায়িত্ব বর্তেছে! তখন ডাক্তারসহ সবাই আমার বোকামি দেখে বিস্তর হাসাহাসি করেছেন। তাদের হাসির উৎস, এই মানুষটার উনিশ-বিশ হয়ে গেলে, তাকে যমে নিয়ে যাবে আর আমাকে পুলিশ।
আমি কোনো দল করি না। আমি ব্যতীত দল করে না এমন বেকুব আর কেউ এই দেশে নাই! আমার ধারণা, এই দেশে কাক-পক্ষী-গাছ-নদী-পুকুর কেউ বাদ নাই, সবারই কোনো-না-কোনো দলের সঙ্গে মাখামাখি আছে। এই দেশে যারা দল করেন না এদের মতো অভাগা আর কেউ নাই। না ঘার কা, না ঘাট কা। আরাফ, স্বর্গ-নরকের মাঝামাঝি ঝুলে থাকা। ঝুলাঝুলিই সার!
আহা, কার দায় পড়বে আমার মত সাধারণ একজন দলহীন মানুষের জন্য নড়াচড়া করার।
আজ সকালে ডাক্তার জানিয়ে দিলেন, এই রোগীকে এখানে রেখে খুব একটা লাভ হবে না কারণ ড্রেসিং করার সময় দুলাল মিয়ার পায়ের মাংস খসে খসে পড়ে যাচ্ছে। মানুষটাকে বাঁচাবার একটাই উপায় হাঁটু থেকে পাটা ফেলে দিতে হবে। এটা জন্য জেলার সদর হাসপাতালে যেতে হবে। আমার নিজের অনুমানটাও এমনটাই ছিল।
কারণ দুলাল মিয়ার কাছে দাঁড়ানো যাচ্ছিল না মাংস গলার অসহনীয় গন্ধে, টিস্যুগুলো ক্রমশ নষ্ট হচ্ছে। আমার নাড়িভুঁড়ি উল্টে আসত। সঙ্গে মাস্ক নিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু লাগাতে পারিনি। কেন যেন আমার মনে হতো, মানুষটা আহত হবেন। কিন্তু কী তীব্র, মাথা খারাপকরা গন্ধ! আমি নতজানু হই তাঁদের প্রতি যারা নিঃস্বার্থভাবে দুলাল মিয়ার মত মানুষদের নিয়ে কাজ করে যান।
সব কিছু মিলিয়ে ঠিক হয়, দুলাল মিয়াকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। যেহেতু এই মানুষটার কোন অভিভাবক নাই তাই আমার উপর কঠিন একটা দায়িত্ব পড়েছে দুলাল মিয়ার সম্মতি নেয়ার জন্য, চিকিৎসা না-করে সরে পড়বে না তো আবার? পাটা ফেলে দিতে হবে এটাও জানানোর জন্য।
তখন পর্যন্ত আমি কিছুই বলিনি কিন্তু আমাকে দেখামাত্র মানুষটা হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। আমি দুর্বলচিত্তের একজন মানুষ, বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি; আমি বৃষ্টি দেখতে থাকি।
আমি চেষ্টাকৃত খানিকটা কঠিন গলায় বলি, এখানে আপনার আর চিকিৎসা হবে না। জেলা শহরে পাঠাতে হবে, এটা অনেক ঝামেলার কাজ; অ্যামবুলেন্স ঠিক করতে হবে, ওখানকার ডাক্তারকে ধরাধরি করতে হবে। আপনি কি চিকিৎসা করাবেন নাকি ওখানে নেয়ার পর পালিয়ে যাবেন। পালিয়ে গেলে ওখানে গিয়ে লাভ নাই, এখান থেকেই চলে যান।
মানুষটা ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঘুরেফিরে একটা কথাই বলতে থাকেন, আপনে যেইটা ভালা মনে করেন।
আমি মাথা নাড়ি, না। আমি ভাল মনে করলে তো হবে না। চিকিৎসা করতে গিয়ে আপনার অপারেশন লাগতে পারে, পায়ের কিছুটা ফেলে দিতে হতে পারে।
দুলাল মিয়া নিস্তেজ গলা, কতডা কাটব?
আমি বলি, তা তো এখন বলা সম্ভব না। এখানে গেলে ডাক্তার দেখে-বুঝে ঠিক করবেন।
দুলাল মিয়ার ঘুরেফিরে একটাই কথা, আপনে...। আমি সময় নিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করতে থাকি, দেখেন, শরীর আপনার। সিদ্ধান্তটা আপনাকেই নিতে হবে।
পরিশেষে ঠিক হয়, আগামীকাল দুলাল মিয়াকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। আমি চেপে রাখা শ্বাস ছাড়ি। আমি নিজেকে বিলক্ষণ চিনি- একজন পলায়নপর মানুষ। যাক বাবা, বাঁচা গেল, এখানেই আমার কাজ শেষ। আমার এলাকাটা তো পরিষ্কার হল। এরপর এটা ওই শহরের লোকজনের সমস্যা-মাথাব্যথা। আমি স্বার্থপর টাইপের মানুষ, নিজের সমস্যার সমাধান হয়েছে এতেই আমি আনন্দিত। অন্যদের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামাবার অহেতুক আগ্রহ বোধ করি না। এখন ব্রাক্ষণবাড়িয়া শহরের লোকজন তাদের সমস্যা নিয়ে অস্থির হবে, কি হবে না এতে আমার কী!
...
যারা একটা গল্প-উপন্যাসের শেষ লাইনটি পড়ে ফেলার পর জানতে চান, 'হেষে কি হইল'- তারপর কি হলো? তাঁদের জন্যই সম্ভবত পরিশিষ্ট শব্দটা চালু করা হয়েছে। এই লেখার পরিশিষ্ট হচ্ছে, যাদের চোখ আমাদের মত ঘোলাটে না, ঝাঁ চকচকে এদের পক্ষেই সম্ভব আমরা যেটা করতে পারি না। অতীতে আমি এর অনেক উদাহরণ দেখেছি [২] । দুলা মিয়া নামের অসমসাহসী মুক্তিযোদ্ধার সমাধি এরা বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূর থেকে এই বেড়া এরা বয়ে নিয়ে গেছে!
এই মানুষটার চিকিৎসা নিয়ে ফাঁকিবাজি করবে এই নিয়ে জেলা সদরের ডাক্তারদের আনন্দিত হওয়ার কিছু নাই কারণ ওখানে থাকে এমন এক ঝাঁক তরুণকে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছি। যেখানে আমার কাজ শেষ ওখান থেকেই ওই তরুণদের কাজ শুরু।
সহায়ক লিংক:
১. দুলাল মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_27.html
২. দুলা মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_04.html
বিভাগ
আয়না
Saturday, June 12, 2010
পেঁচবুক ওরফে ফেসবুক এবং বিবিধ
'পেঁচবুক' ওরফে ফেসবুক জিনিসটায় আমি খুব একটা আরাম পাই না। জানি না কেন আমার কাছে এটা হিজিবিজি হিজিবিজি মনে হয়! আমার একটা ফেসবুক একাউন্ট আছে বটে, কেউ বন্ধু হওয়ার জন্য রিকোয়েস্ট পাঠালে চোখ বুজে কনফার্ম বাটনে চাপ দিয়ে দেই। এখন পর্যন্ত বন্ধুর সংখ্যা সম্ভবত দুশো ছাড়ায়নি।
কেউ কেউ যখন বলেন আমার বন্ধু সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার তখন আমি চোখ বড় বড় করে বলি, 'উরি বাবা', উরি বাবা!
ফেসবুকে আমার থাকা হয় খুবই কম। সলাজে কখনও আমার পছন্দের কোনো লেখা শেয়ার করি। কেউ কেউ পড়েন, এই-ই। এখানে, অন্যদের কিন্তু আমার উপর বিরক্তির শেষ নাই কারণ এঁরা বিভিন্ন বিষয়ে আমন্ত্রণ জানান কিন্তু এতে আমার কোনো যোগ নেই। বিরক্তির একশেষ এই সব মানুষদের মধ্যে দু-একজন ব্যতীত...।
একটা বিষয় এখানে খুব চালু, 'লাইক দিস'। ইহা পছন্দ করিলাম। একজন হয়তো লিখল, 'জানেন, আমার না চুল কাটাবার পয়সা নেই'।
ব্যস, সঙ্গে সঙ্গে অনেকগুলো 'লাইক দিস' পড়ল। একজনের চুল কাটাবার পয়সা নেই অথচ আমরা দাঁত কেলিয়ে রাখছি। কী চরম অমানবিকতা- কী নিষ্ঠুর রসিকতা!
সম্প্রতি দেখলাম, মাহমুদুল হাসান রুবেল তার একটা লেখা শেয়ার করেছেন, "মৃত্যুর কাছে অসহায়"- ওখানে তিনি লিখেছেন তার বাবা হাসপাতালে মারা যাচ্ছেন... এর হৃদয় বিদারক বর্ণনা।
এখানে কোনো মন্তব্য নাই তবে এখানেও পাঁচজনের 'লাইক দিস'! একজনের বাবা মারা যাচ্ছেন এখানে লাইক দেয়ার কি আছে কে জানে!
কি জানি, এই সবই হয়তো এখানকার নিয়ম, যা আমি খুব ভালো একটা বুঝি না। মৃত্যু নিয়ে রসিকতা করাটাও হয়তো এক প্রকার রসিকতা! ফেসবুক তাহলে রসিকতার ভান্ডার হয়ে যাচ্ছে, কাত করলেই গড়িয়ে পড়বে!
তবে ফেসবুকের বিপুল ক্ষমতা দেখে আমার মুগ্ধতার শেষ নেই। নিমিষেই একটা লেখা বা প্রসঙ্গ পঙ্গপালের মত ছড়িয়ে যায়। এই দানবীয় ক্ষমতার প্রতি আমার সীমাহীন সমীহ আছে।
ফেসবুক নিয়ে ক-দিন ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে গেল আমাদের দেশে। আমাদের দেশের বুদ্ধিমান আমলারা এটা বন্ধ করে দিয়ে আমাদের বুঝিয়ে দিলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ [১] বলতে কি বোঝায়।
প্রক্সি সার্ভার দিয়ে ফেসবুকে লগ ইন করে প্রায় সবাই দাঁত বের করে একজন অন্য জনকে বলত, আহারে, ফেসবুকে ঢুকতে পারছি না। অনেকে অবশ্য বিভিন্ন কারণেও মন খারাপ করতেন, তিনি নাকি তাঁর ফার্মের গরুকে খাওয়াতে পারছেন না, গরু ভেগে যাবে বলে। এই দেশের লোকজনের মাথা খারাপের মত হয়ে গেল! দেশটা বন্যায় ডুবে গেলেও সম্ভবত এতটা কাতরতা থাকত না- সম্ভবত কলাগাছের ভেলায় করে ফেসবুক ব্যবহার করতে পারলে আর কোন ক্ষোভ থাকত না।
কেবল বাংলাদেশেই নাকি এর ব্যবহারকারী ন-লাখ! ভাবা যায়! ফেসবুকে একটা একাউন্ট না থাকাটা এখন মাথা কাটা যাওয়ার মত অবস্থা, যেমন কেউ যদি শোনে কারও সেল ফোন নাই অনেকটা এমন। কারও ফেসবুক নাই এটা জানার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভবত তার শরীর থেকে ভক করে সরষে তেলের গন্ধ বের হয়! মানুষটাকে গ্রাম্য-গ্রাম্য মনে হয়।
...
সম্প্রতি ফেসবুক সংক্রান্ত, বিখ্যাত লেখক (!) আনিসুল হক সাহেবকে [২] নিয়ে কঠিন একটা লেখা আমাকে লিখতে হয়েছিল। লেখাটা কঠিন করে লেখার আদৌ ইচ্ছা আমার ছিল না। কিন্তু বিষয়টা কেবল একজনের ফেসবুকের স্ট্যাটাসই ছিল না। ছিল অধিকারের। বিষয়টা ইতিপূর্বেও অনেকেবার ঘটেছে।
আনিসুল হকের মত প্রিন্ট-মিডিয়ার লোকজন এটা কবে বুঝবেন, এই গ্রহে অসংখ্য শব্দ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। একজন পরম মমতায় শব্দগুলো জড়ো করে তাঁর নিজস্ব একটা ভুবন রচনা করেন। সেই মানুষটার সন্তানসম লেখা যখন অবলীলায় নিয়ে নেয়া হয় তখন এটাকে বলা যেতে পারে 'শব্দ ছিনতাই'!
অন্য কেউ হলে হয়তো আমি তেমন গা করতাম না কিন্তু তাই বলে একজন লেখক! আমরা তো আবার লেখকদের দেখে দেখে শিখি। এরা কেমন করে কপকপ করে জ্যোৎস্না খান, জ্যোৎস্নায় গোসল করেন, কেমন করে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ডিম ভাজেন, শপিং মলের ফিতা কাটেন ইত্যাদি।
অভ্র-বিজয় বিতর্ক নিয়ে আমার একটা মন্তব্য চাওয়া হয়েছিল। গুগলে সার্চ দিয়ে এটা আমি খুঁজছিলাম। যে লিংকে গিয়ে আমি এটা পেলাম ওখানে এটা পড়ে আমি হতভম্ব [৩]। আমার মন্তব্যটা চাইল ডয়চে ভেলে আর লেখাটা লিখল গিয়ে এরা? বিষয় কী!
পরে ডয়চে ভেলের সাইটে [৪] লেখাটা পেয়েছিলাম কিন্তু আমার জন্য বোঝা মুশকিল হয়ে দাঁড়াল কে কারটা কপি করল?
তো, একজন লেখক যখন এমন মনোভাব পোষণ করেন তখন ডয়চে ভেলের লেখাটা যে গণিমতের মাল মনে করে ছাপিয়ে দিল তাদের খুব একটা দোষ দেই কেমন করে?
প্রিন্ট-মিডিয়ার সঙ্গে লড়াইটা এই কারণেই আমার। বাচ্চাদের নিয়ে একটা আঁকাআঁকির অনুষ্ঠানে কাভার করতে আসা জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় সাংবাদিকরা আমার উপর প্রায় ঝাপিয়ে পড়লেন। এলাকার বলে আমার উপর এঁদের দাবীটা প্রবল, তাঁদের হইচই-এ কানে তালা লেগে যাওয়ার দশা।
এঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, আমি কেন এক সাক্ষাৎকারে [৫] এটা বলেছি, "...অনলাইনে যারা লেখালেখি করেন তাদের প্রতি প্রিন্ট মিডিয়ার আছে সীমাহীন তাচ্ছিল্য...এখন প্রিন্ট-মিডিয়ার গালে সজোরে একটা চপেটাঘাতের ব্যবস্থা হয়েছে"।
তাঁদের ক্ষোভ, এটা আমাদেরও গায়েও লাগে ইত্যাদি।
আমি বললাম, প্রিন্ট-মিডিয়ার মধ্যে ভানবাজিটা বড়ো বেশী প্রবল, সব মিলিয়ে আমি ওই মন্তব্য করতে বাধ্য হয়েছিলাম। এঁরা কেউ বুঝতে চাইলেন না।
তখন আমি তাঁদের বললাম, বেশ, বিশদ উত্তরটা আমি এখন দেব না, দেব ৪৮ ঘন্টা পর। আমাকে কিছুই বলতে হয়নি, ৪৮ ঘন্টাও লাগেনি, ২৪ ঘন্টার মধ্যেই [৬] এঁরা উত্তরটা পেয়ে গিয়েছিলেন।
অবশ্য আমি এটা ভেবে ভেবে খুব মজা পাই, প্রিন্ট-মিডিয়ার, বিশেষ করে পত্রিকায় চাকরি করেন এমন কারো ব্লগ-সাইট যদি 'ববস' থেকে নির্বাচিত হতো তখন তাঁদের প্রতিক্রিয়াটা কেমন হতো? মতি ভাইয়ার মত মানুষরা এটা কাভার করার জন্য অন্তত অফিসের পিয়ন-চাপরাসী হলেও কাউকে পাঠাতেন।
কোন কম্যুনিটি ব্লগে মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে যখন আমাকে নিয়ে অতি কুৎসিত ছবি দেয়া হয়, ততোধিক কুৎসিত কথা বলা হয় তখন সবাই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখেন। হিস্ট্রি রিপিট- তামাশা দেখা ভাল, তবে এই তামাশাগুলো যখন নিজেদের উপর দিয়ে যাবে তখন কেমন লাগবে এটা দেখার অপেক্ষায় আছি। জয় হোক মত প্রকাশের স্বাধীনতার!
প্রিন্ট-মিডিয়ার, এমব্যাসির [৭] সঙ্গে আমার এই লড়াইটা যে কেবল আমার নিজের জন্য না এটা অনেকে বুঝতে চাইছেন না। এদের বোঝাতে আমার বয়েই গেছে।
সহায়ক লিংক:
১. ডিজিটাল: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_8733.html
২. আনিসুল হক: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_08.html
৩. অভ্র-বিজয়, bdnationalnews.com: http://tinyurl.com/33kuhj8
৪. অভ্র-বিজয়, ডয়চে ভেলে: http://www.dw-world.de/dw/article/0,,5590862,00.html
৫. সি-নিউজ: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_24.html
৬. আয়োজন করে কান্না: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_05.html
৭. বৈদেশ পর্ব, চার: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/this-is-my-land.html
৮. এ থিফ অফ ব্লগ সাইট!: http://www.somewhereinblog.net/blog/sali75blog/29153062
কেউ কেউ যখন বলেন আমার বন্ধু সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার তখন আমি চোখ বড় বড় করে বলি, 'উরি বাবা', উরি বাবা!
ফেসবুকে আমার থাকা হয় খুবই কম। সলাজে কখনও আমার পছন্দের কোনো লেখা শেয়ার করি। কেউ কেউ পড়েন, এই-ই। এখানে, অন্যদের কিন্তু আমার উপর বিরক্তির শেষ নাই কারণ এঁরা বিভিন্ন বিষয়ে আমন্ত্রণ জানান কিন্তু এতে আমার কোনো যোগ নেই। বিরক্তির একশেষ এই সব মানুষদের মধ্যে দু-একজন ব্যতীত...।
একটা বিষয় এখানে খুব চালু, 'লাইক দিস'। ইহা পছন্দ করিলাম। একজন হয়তো লিখল, 'জানেন, আমার না চুল কাটাবার পয়সা নেই'।
ব্যস, সঙ্গে সঙ্গে অনেকগুলো 'লাইক দিস' পড়ল। একজনের চুল কাটাবার পয়সা নেই অথচ আমরা দাঁত কেলিয়ে রাখছি। কী চরম অমানবিকতা- কী নিষ্ঠুর রসিকতা!
সম্প্রতি দেখলাম, মাহমুদুল হাসান রুবেল তার একটা লেখা শেয়ার করেছেন, "মৃত্যুর কাছে অসহায়"- ওখানে তিনি লিখেছেন তার বাবা হাসপাতালে মারা যাচ্ছেন... এর হৃদয় বিদারক বর্ণনা।
এখানে কোনো মন্তব্য নাই তবে এখানেও পাঁচজনের 'লাইক দিস'! একজনের বাবা মারা যাচ্ছেন এখানে লাইক দেয়ার কি আছে কে জানে!
কি জানি, এই সবই হয়তো এখানকার নিয়ম, যা আমি খুব ভালো একটা বুঝি না। মৃত্যু নিয়ে রসিকতা করাটাও হয়তো এক প্রকার রসিকতা! ফেসবুক তাহলে রসিকতার ভান্ডার হয়ে যাচ্ছে, কাত করলেই গড়িয়ে পড়বে!
তবে ফেসবুকের বিপুল ক্ষমতা দেখে আমার মুগ্ধতার শেষ নেই। নিমিষেই একটা লেখা বা প্রসঙ্গ পঙ্গপালের মত ছড়িয়ে যায়। এই দানবীয় ক্ষমতার প্রতি আমার সীমাহীন সমীহ আছে।
ফেসবুক নিয়ে ক-দিন ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে গেল আমাদের দেশে। আমাদের দেশের বুদ্ধিমান আমলারা এটা বন্ধ করে দিয়ে আমাদের বুঝিয়ে দিলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ [১] বলতে কি বোঝায়।
প্রক্সি সার্ভার দিয়ে ফেসবুকে লগ ইন করে প্রায় সবাই দাঁত বের করে একজন অন্য জনকে বলত, আহারে, ফেসবুকে ঢুকতে পারছি না। অনেকে অবশ্য বিভিন্ন কারণেও মন খারাপ করতেন, তিনি নাকি তাঁর ফার্মের গরুকে খাওয়াতে পারছেন না, গরু ভেগে যাবে বলে। এই দেশের লোকজনের মাথা খারাপের মত হয়ে গেল! দেশটা বন্যায় ডুবে গেলেও সম্ভবত এতটা কাতরতা থাকত না- সম্ভবত কলাগাছের ভেলায় করে ফেসবুক ব্যবহার করতে পারলে আর কোন ক্ষোভ থাকত না।
কেবল বাংলাদেশেই নাকি এর ব্যবহারকারী ন-লাখ! ভাবা যায়! ফেসবুকে একটা একাউন্ট না থাকাটা এখন মাথা কাটা যাওয়ার মত অবস্থা, যেমন কেউ যদি শোনে কারও সেল ফোন নাই অনেকটা এমন। কারও ফেসবুক নাই এটা জানার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভবত তার শরীর থেকে ভক করে সরষে তেলের গন্ধ বের হয়! মানুষটাকে গ্রাম্য-গ্রাম্য মনে হয়।
...
সম্প্রতি ফেসবুক সংক্রান্ত, বিখ্যাত লেখক (!) আনিসুল হক সাহেবকে [২] নিয়ে কঠিন একটা লেখা আমাকে লিখতে হয়েছিল। লেখাটা কঠিন করে লেখার আদৌ ইচ্ছা আমার ছিল না। কিন্তু বিষয়টা কেবল একজনের ফেসবুকের স্ট্যাটাসই ছিল না। ছিল অধিকারের। বিষয়টা ইতিপূর্বেও অনেকেবার ঘটেছে।
আনিসুল হকের মত প্রিন্ট-মিডিয়ার লোকজন এটা কবে বুঝবেন, এই গ্রহে অসংখ্য শব্দ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। একজন পরম মমতায় শব্দগুলো জড়ো করে তাঁর নিজস্ব একটা ভুবন রচনা করেন। সেই মানুষটার সন্তানসম লেখা যখন অবলীলায় নিয়ে নেয়া হয় তখন এটাকে বলা যেতে পারে 'শব্দ ছিনতাই'!
অন্য কেউ হলে হয়তো আমি তেমন গা করতাম না কিন্তু তাই বলে একজন লেখক! আমরা তো আবার লেখকদের দেখে দেখে শিখি। এরা কেমন করে কপকপ করে জ্যোৎস্না খান, জ্যোৎস্নায় গোসল করেন, কেমন করে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ডিম ভাজেন, শপিং মলের ফিতা কাটেন ইত্যাদি।
অভ্র-বিজয় বিতর্ক নিয়ে আমার একটা মন্তব্য চাওয়া হয়েছিল। গুগলে সার্চ দিয়ে এটা আমি খুঁজছিলাম। যে লিংকে গিয়ে আমি এটা পেলাম ওখানে এটা পড়ে আমি হতভম্ব [৩]। আমার মন্তব্যটা চাইল ডয়চে ভেলে আর লেখাটা লিখল গিয়ে এরা? বিষয় কী!
পরে ডয়চে ভেলের সাইটে [৪] লেখাটা পেয়েছিলাম কিন্তু আমার জন্য বোঝা মুশকিল হয়ে দাঁড়াল কে কারটা কপি করল?
তো, একজন লেখক যখন এমন মনোভাব পোষণ করেন তখন ডয়চে ভেলের লেখাটা যে গণিমতের মাল মনে করে ছাপিয়ে দিল তাদের খুব একটা দোষ দেই কেমন করে?
প্রিন্ট-মিডিয়ার সঙ্গে লড়াইটা এই কারণেই আমার। বাচ্চাদের নিয়ে একটা আঁকাআঁকির অনুষ্ঠানে কাভার করতে আসা জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় সাংবাদিকরা আমার উপর প্রায় ঝাপিয়ে পড়লেন। এলাকার বলে আমার উপর এঁদের দাবীটা প্রবল, তাঁদের হইচই-এ কানে তালা লেগে যাওয়ার দশা।
এঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, আমি কেন এক সাক্ষাৎকারে [৫] এটা বলেছি, "...অনলাইনে যারা লেখালেখি করেন তাদের প্রতি প্রিন্ট মিডিয়ার আছে সীমাহীন তাচ্ছিল্য...এখন প্রিন্ট-মিডিয়ার গালে সজোরে একটা চপেটাঘাতের ব্যবস্থা হয়েছে"।
তাঁদের ক্ষোভ, এটা আমাদেরও গায়েও লাগে ইত্যাদি।
আমি বললাম, প্রিন্ট-মিডিয়ার মধ্যে ভানবাজিটা বড়ো বেশী প্রবল, সব মিলিয়ে আমি ওই মন্তব্য করতে বাধ্য হয়েছিলাম। এঁরা কেউ বুঝতে চাইলেন না।
তখন আমি তাঁদের বললাম, বেশ, বিশদ উত্তরটা আমি এখন দেব না, দেব ৪৮ ঘন্টা পর। আমাকে কিছুই বলতে হয়নি, ৪৮ ঘন্টাও লাগেনি, ২৪ ঘন্টার মধ্যেই [৬] এঁরা উত্তরটা পেয়ে গিয়েছিলেন।
অবশ্য আমি এটা ভেবে ভেবে খুব মজা পাই, প্রিন্ট-মিডিয়ার, বিশেষ করে পত্রিকায় চাকরি করেন এমন কারো ব্লগ-সাইট যদি 'ববস' থেকে নির্বাচিত হতো তখন তাঁদের প্রতিক্রিয়াটা কেমন হতো? মতি ভাইয়ার মত মানুষরা এটা কাভার করার জন্য অন্তত অফিসের পিয়ন-চাপরাসী হলেও কাউকে পাঠাতেন।
কোন কম্যুনিটি ব্লগে মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে যখন আমাকে নিয়ে অতি কুৎসিত ছবি দেয়া হয়, ততোধিক কুৎসিত কথা বলা হয় তখন সবাই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখেন। হিস্ট্রি রিপিট- তামাশা দেখা ভাল, তবে এই তামাশাগুলো যখন নিজেদের উপর দিয়ে যাবে তখন কেমন লাগবে এটা দেখার অপেক্ষায় আছি। জয় হোক মত প্রকাশের স্বাধীনতার!
প্রিন্ট-মিডিয়ার, এমব্যাসির [৭] সঙ্গে আমার এই লড়াইটা যে কেবল আমার নিজের জন্য না এটা অনেকে বুঝতে চাইছেন না। এদের বোঝাতে আমার বয়েই গেছে।
সহায়ক লিংক:
১. ডিজিটাল: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_8733.html
২. আনিসুল হক: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_08.html
৩. অভ্র-বিজয়, bdnationalnews.com: http://tinyurl.com/33kuhj8
৪. অভ্র-বিজয়, ডয়চে ভেলে: http://www.dw-world.de/dw/article/0,,5590862,00.html
৫. সি-নিউজ: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_24.html
৬. আয়োজন করে কান্না: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_05.html
৭. বৈদেশ পর্ব, চার: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/this-is-my-land.html
৮. এ থিফ অফ ব্লগ সাইট!: http://www.somewhereinblog.net/blog/sali75blog/29153062
বিভাগ
আয়না
Monday, January 25, 2010
নায়ককে নায়ক বলতে সমস্যা কোথায়?
প্রথম আলোর রিপোর্টটা অতি সাধারণ: "বাস ডাকাতদের কবলে রিকশাচালকের পরিবার...শনিবার রাত ১০টার দিকে... পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম গাড়িতে করে শাহবাগ মোড় হয়ে মৎস ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখতে পান যাত্রীবাহী একটি বাস সিগন্যালে না দাঁড়িয়ে সন্দেহজনকভাবে...তিনি বাসটির পিছু নেন...প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ধাওয়া করে অবশেষে আসাদগেটে ...বাসটি আটকান।"
এই খবরটাই কালের কন্ঠ লিখছে বড় বড় হেডলাইনে: দেহরক্ষী এবং ড্রাইভারকে নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ধরলেন পাঁচ ডাকাত।
এখন আমি পাঠক হিসাবে কোন পত্রিকাকে বিশ্বাস করব? খবর ঠিক আছে কিন্তু বক্তব্যে অনেক ফারাক! প্রথম আলোর মতে, এটা অতি সাধারণ একটা ঘটনা। পুলিশ ছিনতাইকারীকে পাকড়াও করেছে, রুটিন ওয়র্ক। এ তো হামেশাই হচ্ছে।
কিন্তু কালের কন্ঠে আমরা এক অভাবনীয় ঘটনা দেখতে পাই। একজন পুলিশ অফিসার অসাধারণ এক কান্ড করে ফেলেছেন। জানি জানি অনেকে ঠোঁট উল্টে বলবেন, পুলিশের কাজই তো এইটা।
আহা, চটছেন কেন! আমাদের দেশের পুলিশকে অপরাধী ধরে হাতে তুলে দিলেও যেখানে এঁরা গা করেন না, হাতের ফাঁক গলে টুপ করে পড়ে যায়। সেখানে পদস্থ একজন পুলিশ অফিসার তাঁর দায়িত্বের বাইরে ঝুঁকি নিয়ে প্রায় অরক্ষিত অবস্থায় মাইলের পর মাইল চেজ করে এদের ধরেছেন। সেখানে প্রথম আলোর এমন নিউজ ট্রিটমেন্ট দেয়ার মানে কী! আমাদের দেশে এমনিতেই বলার মত তেমন গল্প নাই, অহংকার করার মত বীর নাই সেখানে নায়ককে নায়ক বলতে সমস্যা কোথায়? পুলিশ বলে?
পৃথিবীর অনেক দেশেই মানুষ কিছু হলেই পুলিশের কাছে ছুটে যায়, পরম নির্ভাবনায়; আমাদের দেশে উল্টোটা। পুলিশের কাছ থেকে যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রাখা। কারণ অনেক।
একটা উদাহরণ দেই। ব্রাক্ষ্ণণবাড়ীয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ভেতরে চমৎকার একটা ভাস্কর্য আছে। একজন ট্রাফিক পুলিশ দুইজন স্কুলগামী ছেলে-মেয়েকে রাস্তা পার করাচ্ছে, পরম মমতায়। দেখলেই মনটা অন্য রকম হয়। এটা উম্মুক্ত স্থানে না-রেখে বেষ্টনির ভেতরে কেন এটা আমার বোধের বাইরে! আমি চেষ্টা করেছিলাম এটার ছবি উঠাবার জন্য। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ রে রে করে তেড়ে এলেন। কিছুতেই তিনি আমাকে এই ভয়াবহ কাজটা করতে দেবেন না। আমি যে এটার ছবি উঠিয়ে কোন সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত হবো না এটা বোঝাবার পর তিনি আমাকে পরামর্শ দিলেন সহকারী পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করার জন্য। আমি আগ্রহ বোধ করলাম না, লম্বা দিলাম। কারণ আমি জানি ওখানে যাওয়ার পর কি হবে? চোর-চোট্টার মত স্যারের সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে বিস্তর প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রথমেই জানতে চাওয়া হবে, কেন আমি ছবি উঠাতে চাচ্ছি, আমি কি কোন পত্রিকার সাংবাদিক? না, তাহলে?
এমনিতেই আমাদের দেশের পুলিশদের আমরা ভিলেন হিসাবে দেখে আসছি। আমরা এদের সম্বন্ধে কী তাচ্ছিল্য পোষণ করি পুলিশেরা এর সবটা যদি জানতেন! আমার নিজের কানে শোনা, এক কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা ঘটককে বলছেন, "তুমি পুলিশ ছেলের সম্বন্ধ আনলা কি মনে কইরা, মেথরের আনলেও একটা কথা আছিল"! রাগের চোটে অতিশয়োক্তি হয়ে গেছে এটা সত্য কিন্তু মানুষটার চোখে ঘৃণা উপচে পড়ছিল।
পুলিশকে নিয়ে ভয়ংকর উক্তিটা আমি পড়ি সাদত হাসান মান্টোর লেখায়, "একশজন ... দালালের মৃত্যু হলে একজন পুলিশের জন্ম হয়"। মান্টো এমনিতেও ভয়ংকরসব গল্প লিখতেন। তাঁর 'ঠান্ডা গোশত' পড়ে আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। ৭৭ সালে যেটার অনুবাদ করেছিলেন মোস্তফা হারুন।
যাক গে, অন্য দেশের পুলিশে আমার কাজ কী, আমাদের দেশের পুলিশদের নিয়েই থাকি না কেন। আমাদের দেশে কিছু বিচিত্র বিষয় আছে, যাদের কাপড় থাকা প্রয়োজন শুভ্র, আমরা নিজেরাই তাঁদের ধপধপে কাপড়ে কালি ছিটিয়ে বেদম চেঁচাতে থাকি, দাগ-দাগ! একজন ইমামের বেতন দেড়-দুই হাজার টাকা। এই ইমামকে ১০০ টাকা ধরিয়ে দিলে এমন কাঁদা কাদবে আমার বাপও কবর ছেড়ে উঠে আসবেন। উনি ভুলভাল ফতোয়া না-দিলে কে দেবেন? এই দেশে দেড়-দুই হাজার টাকায় কোন মেথর কাজ করতে রাজি হলে আমি সেই মেথরের পদ-চুম্বন করব। ব্লগ-ভুবনের তার ধরে এই প্রতিজ্ঞাটা আজ করলুম।
ওসি সাহেব একটা উদাহরণ। অনেক ওসি সাহেবকে উপরে নিদেনপক্ষে দু-লাখ টাকা নজরানার দিতে হয়। এই উপরটা কোথায় এটা আবার ফট করে আমাকে জিজ্ঞেস করে বসবেন না যেন, তাহলে আমি নিজেই অন্য উপরে চলে যাব!
থানার ওসিকে ঠকায় হাজার দশেক, আনুমানিক ১০ হাজার টাকা বেতন কম দিয়ে। তো, ওসি সাহেব সরকারকে ঠকান আনুমানিক ৩০ লাখ। উপরে দুই, নিজের দুই, সাঙ্গোপাঙ্গ এক এবং এই অবৈধ পাঁচ লাখ টাকা আয় করতে গিয়ে ন্যূনকল্পে পঁচিশ লক্ষ টাকার অন্যায্য, অন্যায় সুবিধা প্রদান। প্রকারান্তরে যা সরকারেরই ক্ষতি। এই মোটা হিসাবটা আমাদের ডিসিশন-মেকাররা যে কেন বোঝেন না!
একটা মামলার তদ্বিরে আমাকে মাসে দু-বার কোর্ট ভবনে তশরীফ আনতে হয়। এখানে বিচিত্র মানুষ দেখি, গাছ দেখি। ততোধিক বিচিত্র মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হই।
একবার পাশেই একজন পুলিশের কনস্টেবল বসে চা খাচ্ছিলেন। সচরাচর আমিও অন্যদের মত ট্রাকের মতই পুলিশের কাছ থেকে ১০০ হাত দূরত্ব বজায় রাখি। কিন্তু প্রকৃতি-পরিবেশের একটা ছাপ তো থেকেই যায়। পুলিশ নামের মানুষটার সঙ্গে কথা হয়। চাকুরির বয়স ২২ বছর। বেতন এখন পান কেটেকুটে ৭০০০ টাকা। ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টা ডিউটি।
বলছিলেন বিমর্ষ হয়ে, 'বলেন, এইটা তো মানুষের শরীর, নাকি! ১৬-১৮ ঘন্টা ডিউটি কইরা শরীরে আর দেয় না, বুঝলেন। আপনে কন, মাথা ঠিক থাকে? এই যে আজকা ডিউটিতে আইছি, সারা দিনে না হইলেও ১০০ ট্যাকা খরচ। এর বাইরে এসআই সাব তো কয়া খালাশ, মোটর সাইকেলের তেল কিনতে হয়, টর্চলাইটের ব্যাটারি কিনি নিজের পয়সায়। ঘুষ না খাইলে বাড়িত ট্যাকা পাঠামু কোত্থিকা'?
শুনে যাই, সে অনেক কথা। সামান্য চার দামটা আমি দিয়ে দেয়ায় মানুষটা এতো অবাক হয়েছিল তার সেই চোখের দৃষ্টি এখনও ভুলিনি! এরা কি একজন মানুষের কাছ থেকে মানুষের আচরণ পাওয়া ভুলে গেছে? আমরা কি এদের লুটেরার পর্যায়ে নিয়ে গেছি?
এই খবরটাই কালের কন্ঠ লিখছে বড় বড় হেডলাইনে: দেহরক্ষী এবং ড্রাইভারকে নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ধরলেন পাঁচ ডাকাত।
এখন আমি পাঠক হিসাবে কোন পত্রিকাকে বিশ্বাস করব? খবর ঠিক আছে কিন্তু বক্তব্যে অনেক ফারাক! প্রথম আলোর মতে, এটা অতি সাধারণ একটা ঘটনা। পুলিশ ছিনতাইকারীকে পাকড়াও করেছে, রুটিন ওয়র্ক। এ তো হামেশাই হচ্ছে।
কিন্তু কালের কন্ঠে আমরা এক অভাবনীয় ঘটনা দেখতে পাই। একজন পুলিশ অফিসার অসাধারণ এক কান্ড করে ফেলেছেন। জানি জানি অনেকে ঠোঁট উল্টে বলবেন, পুলিশের কাজই তো এইটা।
আহা, চটছেন কেন! আমাদের দেশের পুলিশকে অপরাধী ধরে হাতে তুলে দিলেও যেখানে এঁরা গা করেন না, হাতের ফাঁক গলে টুপ করে পড়ে যায়। সেখানে পদস্থ একজন পুলিশ অফিসার তাঁর দায়িত্বের বাইরে ঝুঁকি নিয়ে প্রায় অরক্ষিত অবস্থায় মাইলের পর মাইল চেজ করে এদের ধরেছেন। সেখানে প্রথম আলোর এমন নিউজ ট্রিটমেন্ট দেয়ার মানে কী! আমাদের দেশে এমনিতেই বলার মত তেমন গল্প নাই, অহংকার করার মত বীর নাই সেখানে নায়ককে নায়ক বলতে সমস্যা কোথায়? পুলিশ বলে?
পৃথিবীর অনেক দেশেই মানুষ কিছু হলেই পুলিশের কাছে ছুটে যায়, পরম নির্ভাবনায়; আমাদের দেশে উল্টোটা। পুলিশের কাছ থেকে যথাসম্ভব দূরত্ব বজায় রাখা। কারণ অনেক।
একটা উদাহরণ দেই। ব্রাক্ষ্ণণবাড়ীয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ভেতরে চমৎকার একটা ভাস্কর্য আছে। একজন ট্রাফিক পুলিশ দুইজন স্কুলগামী ছেলে-মেয়েকে রাস্তা পার করাচ্ছে, পরম মমতায়। দেখলেই মনটা অন্য রকম হয়। এটা উম্মুক্ত স্থানে না-রেখে বেষ্টনির ভেতরে কেন এটা আমার বোধের বাইরে! আমি চেষ্টা করেছিলাম এটার ছবি উঠাবার জন্য। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ রে রে করে তেড়ে এলেন। কিছুতেই তিনি আমাকে এই ভয়াবহ কাজটা করতে দেবেন না। আমি যে এটার ছবি উঠিয়ে কোন সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত হবো না এটা বোঝাবার পর তিনি আমাকে পরামর্শ দিলেন সহকারী পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করার জন্য। আমি আগ্রহ বোধ করলাম না, লম্বা দিলাম। কারণ আমি জানি ওখানে যাওয়ার পর কি হবে? চোর-চোট্টার মত স্যারের সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে বিস্তর প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রথমেই জানতে চাওয়া হবে, কেন আমি ছবি উঠাতে চাচ্ছি, আমি কি কোন পত্রিকার সাংবাদিক? না, তাহলে?
এমনিতেই আমাদের দেশের পুলিশদের আমরা ভিলেন হিসাবে দেখে আসছি। আমরা এদের সম্বন্ধে কী তাচ্ছিল্য পোষণ করি পুলিশেরা এর সবটা যদি জানতেন! আমার নিজের কানে শোনা, এক কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা ঘটককে বলছেন, "তুমি পুলিশ ছেলের সম্বন্ধ আনলা কি মনে কইরা, মেথরের আনলেও একটা কথা আছিল"! রাগের চোটে অতিশয়োক্তি হয়ে গেছে এটা সত্য কিন্তু মানুষটার চোখে ঘৃণা উপচে পড়ছিল।
পুলিশকে নিয়ে ভয়ংকর উক্তিটা আমি পড়ি সাদত হাসান মান্টোর লেখায়, "একশজন ... দালালের মৃত্যু হলে একজন পুলিশের জন্ম হয়"। মান্টো এমনিতেও ভয়ংকরসব গল্প লিখতেন। তাঁর 'ঠান্ডা গোশত' পড়ে আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। ৭৭ সালে যেটার অনুবাদ করেছিলেন মোস্তফা হারুন।
যাক গে, অন্য দেশের পুলিশে আমার কাজ কী, আমাদের দেশের পুলিশদের নিয়েই থাকি না কেন। আমাদের দেশে কিছু বিচিত্র বিষয় আছে, যাদের কাপড় থাকা প্রয়োজন শুভ্র, আমরা নিজেরাই তাঁদের ধপধপে কাপড়ে কালি ছিটিয়ে বেদম চেঁচাতে থাকি, দাগ-দাগ! একজন ইমামের বেতন দেড়-দুই হাজার টাকা। এই ইমামকে ১০০ টাকা ধরিয়ে দিলে এমন কাঁদা কাদবে আমার বাপও কবর ছেড়ে উঠে আসবেন। উনি ভুলভাল ফতোয়া না-দিলে কে দেবেন? এই দেশে দেড়-দুই হাজার টাকায় কোন মেথর কাজ করতে রাজি হলে আমি সেই মেথরের পদ-চুম্বন করব। ব্লগ-ভুবনের তার ধরে এই প্রতিজ্ঞাটা আজ করলুম।
ওসি সাহেব একটা উদাহরণ। অনেক ওসি সাহেবকে উপরে নিদেনপক্ষে দু-লাখ টাকা নজরানার দিতে হয়। এই উপরটা কোথায় এটা আবার ফট করে আমাকে জিজ্ঞেস করে বসবেন না যেন, তাহলে আমি নিজেই অন্য উপরে চলে যাব!
থানার ওসিকে ঠকায় হাজার দশেক, আনুমানিক ১০ হাজার টাকা বেতন কম দিয়ে। তো, ওসি সাহেব সরকারকে ঠকান আনুমানিক ৩০ লাখ। উপরে দুই, নিজের দুই, সাঙ্গোপাঙ্গ এক এবং এই অবৈধ পাঁচ লাখ টাকা আয় করতে গিয়ে ন্যূনকল্পে পঁচিশ লক্ষ টাকার অন্যায্য, অন্যায় সুবিধা প্রদান। প্রকারান্তরে যা সরকারেরই ক্ষতি। এই মোটা হিসাবটা আমাদের ডিসিশন-মেকাররা যে কেন বোঝেন না!
একটা মামলার তদ্বিরে আমাকে মাসে দু-বার কোর্ট ভবনে তশরীফ আনতে হয়। এখানে বিচিত্র মানুষ দেখি, গাছ দেখি। ততোধিক বিচিত্র মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হই।
একবার পাশেই একজন পুলিশের কনস্টেবল বসে চা খাচ্ছিলেন। সচরাচর আমিও অন্যদের মত ট্রাকের মতই পুলিশের কাছ থেকে ১০০ হাত দূরত্ব বজায় রাখি। কিন্তু প্রকৃতি-পরিবেশের একটা ছাপ তো থেকেই যায়। পুলিশ নামের মানুষটার সঙ্গে কথা হয়। চাকুরির বয়স ২২ বছর। বেতন এখন পান কেটেকুটে ৭০০০ টাকা। ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টা ডিউটি।
বলছিলেন বিমর্ষ হয়ে, 'বলেন, এইটা তো মানুষের শরীর, নাকি! ১৬-১৮ ঘন্টা ডিউটি কইরা শরীরে আর দেয় না, বুঝলেন। আপনে কন, মাথা ঠিক থাকে? এই যে আজকা ডিউটিতে আইছি, সারা দিনে না হইলেও ১০০ ট্যাকা খরচ। এর বাইরে এসআই সাব তো কয়া খালাশ, মোটর সাইকেলের তেল কিনতে হয়, টর্চলাইটের ব্যাটারি কিনি নিজের পয়সায়। ঘুষ না খাইলে বাড়িত ট্যাকা পাঠামু কোত্থিকা'?
শুনে যাই, সে অনেক কথা। সামান্য চার দামটা আমি দিয়ে দেয়ায় মানুষটা এতো অবাক হয়েছিল তার সেই চোখের দৃষ্টি এখনও ভুলিনি! এরা কি একজন মানুষের কাছ থেকে মানুষের আচরণ পাওয়া ভুলে গেছে? আমরা কি এদের লুটেরার পর্যায়ে নিয়ে গেছি?
Thursday, December 31, 2009
২০০৯: সালতামামি এবং
২০০৯। নড়বড়ে সাঁকোটা ধরে ধরে পেরিয়ে গেল। পানি চলে যায় থেকে যায় দাগ, বছরটা চলে গেছে রেখে গেছে ক্ষত!
এ বছরটায় কি করেছি? কিছুই করিনি! বলতে গেলে শুয়ে-বসে কাটিয়েছি। একজন ব্যর্থ মানুষ। এটা একাধারে আনন্দের-কষ্টের। অনুভূতিটা মিশ্র। কখনও মনে হয়েছে এমন জীবন দেখছি মন্দ না, কখনও মনে হতো কেন এই জীবন? চন্দ্রগ্রস্ত কিছু-কিছু মানুষ আমার হাত ধরে রেখেছিল বলে নিজেকে খানিকটা মানুষ-মানুষ মনে হতো, নইলে নিজেকে শব বলে ভ্রম হতো। কখনও কখনও এমন ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয় আমায়, এড়াতে থাকি আপ্রাণ।
কিছুই করিনি কথাটা ঠিক না। আমার এই সাইটে লিখে গেছি, সবিরাম। অবশ্য প্রায়শ মনে হতো এইসব ছাতাফাতা লিখে লাভ কি? কিন্তু এও মনে হতো একদিন আমি থাকব না লেখাগুলো থেকে যাবে। পরের প্রজন্মের কেউ না কেউ পড়বে। আমার অদেখা স্বপ্নগুলো বাস্তবায়িত করে দেখাবে। হতে পারে না এমন, বেশ পারে? অন্তত এমন একটা স্বপ্ন দেখতে তো দোষ নাই!
ডিজিটাল তথ্য ভান্ডারে আমার এইসব আবর্জনা না-বাড়ালে কি চলত না? কী জানি! কার কি উপকার হয়েছে জানি না কিন্তু এই লেখার কারণেই প্রকারান্তরে আমি বেঁচে ছিলাম। নইলে হয়তো কোন একটা ভয়ংকার কান্ড করে ফেলতাম। আমি এই লেখার কাছে কৃতজ্ঞ, আমায় বাঁচিয়ে রেখেছে বলে। ক্রদ্ধও, এর আদৌ কোন প্রয়োজন ছিল না।
আর লিখিই কী ছাই! লিখতেও যন্ত্রণা, যে বানান হাজারবার লিখেছি এটা লেখার আগে মনে হয় এটা কি হ্রস্ব উ-কার দিয়ে হবে, না দীর্ঘ উ-কার? আমাদের মহান বাংলা একাডেমি স্যাররা এখনও প্রমিত বাংলায় একটা ডিজিটাল অভিধান বের করতে পারলেন না। ইংরাজি শব্দগুলো সব নাকি হ্রস্ব-ই কার দিয়ে কিন্তু নিজেরা একাডেমি লিখেন দীর্ঘ-ই কার দিয়ে।
তার উপর আমার দরজা-জরদা, চিকেন-কিচেন এইসব অহেতুক গুলিয়ে যায়। ওই দিন একজনকে ফোনে বলছিলাম, মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেছেন, টেনটপ দেশের মধ্যে...। আসলে আমার বলা প্রয়োজন ছিল টপটেন- কপালের ফের। ভাগ্যিস, ফোনে মানুষের হাসি দেখা যায় না নইলে ঠিক আমার মন খারাপ হতো।
একজন ডাক্তার সাহেব, ইনি আবার বিচিত্র কারণে আমার লেখালেখি পছন্দ করেন। একদিন বলছিলেন, আচ্ছা, 'শেষের কবিতা' আপনার কেমন লাগে? আমি বললাম, আমি তো কবিতা ভাল বুঝি না। মানুষটার চোখ কপালে দেখে আমার মনে পড়ল, অমিত, লাবণ্যর কথা। এখন আর এইসব নিয়ে মন খারাপ করি না, এই-ই নিয়তি; আমৃত্যু আমার পিছু ছাড়বে না।
এখন উপন্যাস টাইপের বড়ো লেখা লিখতে বড়ো আলস্য লাগে। আমার মস্তিষ্ক জমে গেছে। তাছাড়া ব্লগিং-এর নামে এইসব ছোট-ছোট লেখা লিখে বড়ো লেখা আর হয়ে উঠে না, নাকি ক্ষমতাটা নষ্ট হয়ে গেছে, জানি না! ভোরের কাগজে (৯২-৯৩) 'একালের রূপকথা' যখন লিখছিলাম তখনও এই সমস্যাটা হতো। যে থিমটা নিয়ে একটা আস্ত উপন্যাস লেখা যায় সেটা গিয়ে দাঁড়ায় গিয়ে কৃশকায় একটা লেখায়। একালের রূপকথায় লেখা কিটি মাস্ট ডাই, ভূত দিবস, লাইফ-এচিভমেন্ট-সেক্রিফাইস এই লেখাগুলো নিয়ে বড়ো আকারের লেখার ইচ্ছা ছিল কিন্তু আর হলো কই!
যখন পা ছড়িয়ে আমার বাসার সিড়িতে বসে এলোমেলো ভাবি, 'মঙ্গলের পানি দিয়া আমরা কি করিব' তখন মাথার উপর দিয়ে দ্রুতগামি যান চলে যায়। চারপাশের গতির সঙ্গে নিজেকে তুলনা করলে নিজেকে বড়ো হীন, ম্রিয়মান মনে হয়।
অসভ্য আমি সভ্যতার সন্তান আর হতে পারলাম না। তখন কি মনটা বিষণ্ণ হয়?
হয়। এই দ্রুত গতির যুগে ভিমরুল মৌমাছি এদের নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করার অবকাশ কোথায়? আমার মতো অকাজের একজন মানুষের অকাজের এইসব ভাবনার কি মূল্য? বটে। ভিমরুল, মৌমাছি, গরু এরা কি প্রকৃতির সন্তান না? গরুর একটা চোখ কি একজন মানুষকে বদলে দেয়? কাউকে না দিক আমাকে দেয়। কুত্তার প্রতি মমতা দেখালে সে কুত্তা জহির হয়ে যায়, আজিব! আমার যে কুত্তা জহিরের হাত ধরতে বড়ো ইচ্ছা করে।
প্রকৃতি ব্যত্যয় পছন্দ করে না, সে ঠিকই তার শোধ নিয়ে নেয়। আমার বাড়ির সিড়ির সামনে ছড়ানো উঠোন হাতছাড়া হয়ে যায়। আমার উত্তরাধিকারের দৌড়-ঝাঁপ করার আর জায়গা থাকল না। আমি নিজের নির্বোধ ভাবনা ঢাকার জন্য এমন খোড়া অজুহাত খুঁজে নেই, সভ্যতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে না-চলার ফল।
কিন্তু এটা আমি বিনয়ের সঙ্গে কাকে কাকে বোঝাবো ৯টা ৫টা অফিস করা আমার কাজ না। সেই যোগ্যতাও আমার নাই, সেই মনও নাই। আগেও বলেছি, এ এক বিচিত্র, এই দেশে একজন মেথরও গু সাফ করে এটা দিয়ে রুটিরজির ব্যবস্থা করতে পারবে কিন্তু একজন লেখালেখি করে পারবে না। ফল হয় ভয়াবহ, একজন আল মাহমুদের আজকের এই নগ্নতার জন্য এটাও কি অনেকখানি দায়ি না?
আমি মানুষের ভালবাসা পেয়েছি এটা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি না। কিন্তু আমার প্রতি এদের ভালবাসায় কোন খাদ ছিল না। হাস্যকর মনে হবে কিন্তু এটা সত্য শত-শত মৌমাছি আমার মাথার উপর ঘুরপাক খাচ্ছে। আমি বসে কীবোর্ডে ঝড় তুলছি অথচ একটা কামড়ও আমায় দেয়নি। অথচ শুনতে পেতাম কার কার উপর নাকি ঝাপিয়ে পড়েছে। ভিমরুলের বাসার অতি নিকটে আমি মাটি খোঁড়াখুঁড়ি করতাম, এরা কেউ কিচ্ছু বলত না। অথচ ভিমরুলের কামড়ে একটা মানুষ অনায়াসে মারা যায়।

প্লাসিবো-তীব্র সুইচ্ছা কি আসলেই সত্য? আমার মৌমাছির বাসা এবং ভিমরুলের বাসা সংগ্রহে রাখার সুতীব্য ইচ্ছা ছিল। এরা
বাসাগুলো আমায় উপহার দিয়ে গেল!
আমাকে সবাই এতদিন বলে এসেছে ভিমরুলের বাসা
মাটির মত কিছু একটা হয়।
ওরিআল্লা, এ যে দেখছি একেবারেই ঠুনকো, মলাট কাগজের মত অনেকটা! ভেতরে থাক থাক অসংখ্য খোপ। এটায় যে হাজার-হাজার ভিমরুল নাতি-পুতি নিয়ে বসবাস করত এতে কোন সন্দেহ নাই। আমি অন্য কারণেও আনন্দিত এরা আমাকে খুনি হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে।

বাবুই পাখির একটা বাসা পাওয়ার কী ইচ্ছা! কত লোকজনকে কেজিখানেক তেল দিয়েছি কেউ যোগাড় করে দিতে পারেনি, আছে বলে ফাজিলের দল তালগাছের নিচে নিয়ে আমাকে দাঁড় করিয়ে দিত। অথচ দেখো দিকি কান্ড, আমার এখানেই টুপ টুপ করে আসমান (আসলে ডাবগাছ) থেকে একটার পর একটা পড়তে থাকে!
যেখানে সাপের একটা খোলস পেলেই বর্তে যাই সেখানে সাপ ৩টা খোলস আমায় দান করে দিয়ে যায়। থ্যাংকু, সাপ ভাইয়া।
একজন আমায় পাকিস্তানি বলে গালি দিল। আমাদের বড়ো ঢং হয়েছে, চুতিয়াগিরি হয়েছে; ইচ্ছা হলো তো কাউকে পাকিস্তানি বলে দিলাম কাউকে রাজাকার ভাবাপন্ন বলে দিলাম। ইচ্ছা হলেই কাউকে রাজাকার, রাজাকার ভাবাপন্ন বলা যায় না এটা এই নির্বোধদের কে বোঝাবে!
কেউ কেউ বলেন, আপনি ওমুক সাইটে লেখেন না কেন? তমুক সাইটে একটা লেখা দিলেই ন্যূনতম ১০০ হিট। অন্য সাইটে এখন আর লিখতে ইচ্ছা করে না, অনেকে এটাকে আমার দুর্বিনীত আচরণ ভাবেন। বিনয়ের সঙ্গে বলি, এখানে লিখেই আরাম পাই, হাত খুলে লিখতে পারি। বাড়তি চাপ নেই। অনেকে হাসি চাপেন তবুও বলি, বাড়তি চাপ আমি নিতে পারি না। একটা লেখা লিখে জনে জনে ব্যাখ্যা দেয়াটা আমার জন্য সুকঠিন। তাও না-হয় দেয়া গেল কিন্তু কেউ চাবুক নিয়ে ব্যাখ্যার জন্য তাড়া করলে তো সমস্যা। এমনিতে প্লাস-মাইনাসের খেলা, অন্যের পিঠ চুলকে দেয়া, পান্ডিত্যের ছটা এসব ভাল লাগে না। আরে বাবা, আমার লেখায় কোন ভুল থাকলে ধরিয়ে দিলেই হয়। ভুল স্বীকার করতে আমার কোন লাজ নাই, আছে কৃতজ্ঞতা। পারলে ভুল ধরিয়ে দেয়া মানুষটার গা ছুঁয়ে বলি, ভাইরে, আপনার এই ঋণ আমি শোধ করি কেমন করে?
মন খারাপ, বাড়িতে মুখ খারাপ করতে পারি না তো চলো ব্লগে গিয়ে গালি দেই। তাছাড়া আমরা এটা কবে শিখব ওপেন ফোরামে যা খুশি বলা যায় না, লেখা যায় না। একজন কমার্শিয়াল সেক্স ভলান্টিয়ার-বেশ্যারও কিছু অধিকার থাকে। ভীম যখন যুদ্ধের নিয়ম ভঙ্গ করে দুর্যোধনের কোমরের নিচে আঘাত করেন তখন এটা শ্রীকৃষ্ণ-এর কাছে যথাযথ মনে হলেও আমার কাছে ঘোর অন্যায় মনে হয়। বলদেব নামের মানুষটা, যে অন্যায় যুদ্ধ থেকে পালিয়ে গেলেন তাঁকে সবাই ধিক্কার দিলেও আমার কাছে মানুষটাকে ন্যায়বান মনে হয়। কি আর করা!
আর দলবাজি কথা এখানে উল্লেখ না-করলেই ভাল হতো, এদের দোষ দেই কেমন করে স্যাররা দলবাজি শেখান আমরা শিখব না? আমরা কি বেয়াদব ছাত্র?
একেবারে বুশ স্টাইল, হয় তুমি আমার দলে নইলে খেলা থেকে বাদ। আমি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করি, যে সাইটে আমরা অনেকটা সময় লিখেছি (প্রায় বছর দেড়েক) সেখানে যখন তিনি পুরনো ব্লগারদের কথা বলেন তখন আমার কথা বেমালুম ভুলে যান। বিষয় আর কিচ্ছু না, ওই যে বললাম দলবাজি। আমি ওনার দলে ছিলাম না এই অপরাধ।
দলবাজি ভাল লাগে না। অসাধারণ একজন মানুষ ড. জাফর ইকবাল যখন এমন লেখা লেখেন ভাল লাগে না! দাঁড়াবার আর জায়গা থাকে না।
আর এটাও আমরা বুঝতে চাই না, এখানে কেউ লেখালেখি করে যেমন মাথা কিনে নেয় না, তেমনি কেউ পড়েও। এখানে জাস্ট ভাবনা চালাচালি। মুক্তিযুদ্ধ+আস্তিক, নাস্তিক=গালিবাজি। ভাল লাগে না একদম। ক্রমশ দলছুট হয়ে যাই, বেচারা অভাগা!
মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিষয় নিয়েও অনেকের সঙ্গে আমার মতের মিল নাই। সমস্তটা বছর
ঝিম মেরে থেকে ডিসেম্বরে জেগে উঠব এই অশ্লীলতায় আমি নাই। ডিসেম্বরে মিডিয়ার কান্নায় টেলিভিশন সেট থেকে পানি চুঁইয়ে ডুবে মরার অবস্থা হয়, পত্রিকার পাতাগুলো চোখের জলে লেপ্টে থাকে, পড়া যায় না।
আমার স্পষ্ট কথা, রাজাকারকে রাজাকার বলব, ঘুষখোরকে ঘুষখোর, খুনিকে খুনি। আমি সমস্ত অন্যায়ের বিচার চাইব, অন্যায় মৃত্যুরও। ৩৮ বছর গেল নাকি ৩৮০ তাতে কী আসে যায়, রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না। কেউ অন্যায় করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। কোন মুক্তিযোদ্ধাও যদি অন্যায় করে থাকেন, তাঁকেও।
দলছুট আমার জন্য এইই ভাল, নিজের সাইটে আরাম করে লিখে যাওয়া। দু-চারজন পাঠক পড়লেই আমি খুশি। আর কেউ না-পড়লে মনিটরে পা তুলে আয়েশ করে নিজের লেখা নিজেই পড়া...। মন্দ কী!
এ বছরটায় কি করেছি? কিছুই করিনি! বলতে গেলে শুয়ে-বসে কাটিয়েছি। একজন ব্যর্থ মানুষ। এটা একাধারে আনন্দের-কষ্টের। অনুভূতিটা মিশ্র। কখনও মনে হয়েছে এমন জীবন দেখছি মন্দ না, কখনও মনে হতো কেন এই জীবন? চন্দ্রগ্রস্ত কিছু-কিছু মানুষ আমার হাত ধরে রেখেছিল বলে নিজেকে খানিকটা মানুষ-মানুষ মনে হতো, নইলে নিজেকে শব বলে ভ্রম হতো। কখনও কখনও এমন ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয় আমায়, এড়াতে থাকি আপ্রাণ।
কিছুই করিনি কথাটা ঠিক না। আমার এই সাইটে লিখে গেছি, সবিরাম। অবশ্য প্রায়শ মনে হতো এইসব ছাতাফাতা লিখে লাভ কি? কিন্তু এও মনে হতো একদিন আমি থাকব না লেখাগুলো থেকে যাবে। পরের প্রজন্মের কেউ না কেউ পড়বে। আমার অদেখা স্বপ্নগুলো বাস্তবায়িত করে দেখাবে। হতে পারে না এমন, বেশ পারে? অন্তত এমন একটা স্বপ্ন দেখতে তো দোষ নাই!
ডিজিটাল তথ্য ভান্ডারে আমার এইসব আবর্জনা না-বাড়ালে কি চলত না? কী জানি! কার কি উপকার হয়েছে জানি না কিন্তু এই লেখার কারণেই প্রকারান্তরে আমি বেঁচে ছিলাম। নইলে হয়তো কোন একটা ভয়ংকার কান্ড করে ফেলতাম। আমি এই লেখার কাছে কৃতজ্ঞ, আমায় বাঁচিয়ে রেখেছে বলে। ক্রদ্ধও, এর আদৌ কোন প্রয়োজন ছিল না।
আর লিখিই কী ছাই! লিখতেও যন্ত্রণা, যে বানান হাজারবার লিখেছি এটা লেখার আগে মনে হয় এটা কি হ্রস্ব উ-কার দিয়ে হবে, না দীর্ঘ উ-কার? আমাদের মহান বাংলা একাডেমি স্যাররা এখনও প্রমিত বাংলায় একটা ডিজিটাল অভিধান বের করতে পারলেন না। ইংরাজি শব্দগুলো সব নাকি হ্রস্ব-ই কার দিয়ে কিন্তু নিজেরা একাডেমি লিখেন দীর্ঘ-ই কার দিয়ে।
তার উপর আমার দরজা-জরদা, চিকেন-কিচেন এইসব অহেতুক গুলিয়ে যায়। ওই দিন একজনকে ফোনে বলছিলাম, মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেছেন, টেনটপ দেশের মধ্যে...। আসলে আমার বলা প্রয়োজন ছিল টপটেন- কপালের ফের। ভাগ্যিস, ফোনে মানুষের হাসি দেখা যায় না নইলে ঠিক আমার মন খারাপ হতো।
একজন ডাক্তার সাহেব, ইনি আবার বিচিত্র কারণে আমার লেখালেখি পছন্দ করেন। একদিন বলছিলেন, আচ্ছা, 'শেষের কবিতা' আপনার কেমন লাগে? আমি বললাম, আমি তো কবিতা ভাল বুঝি না। মানুষটার চোখ কপালে দেখে আমার মনে পড়ল, অমিত, লাবণ্যর কথা। এখন আর এইসব নিয়ে মন খারাপ করি না, এই-ই নিয়তি; আমৃত্যু আমার পিছু ছাড়বে না।
এখন উপন্যাস টাইপের বড়ো লেখা লিখতে বড়ো আলস্য লাগে। আমার মস্তিষ্ক জমে গেছে। তাছাড়া ব্লগিং-এর নামে এইসব ছোট-ছোট লেখা লিখে বড়ো লেখা আর হয়ে উঠে না, নাকি ক্ষমতাটা নষ্ট হয়ে গেছে, জানি না! ভোরের কাগজে (৯২-৯৩) 'একালের রূপকথা' যখন লিখছিলাম তখনও এই সমস্যাটা হতো। যে থিমটা নিয়ে একটা আস্ত উপন্যাস লেখা যায় সেটা গিয়ে দাঁড়ায় গিয়ে কৃশকায় একটা লেখায়। একালের রূপকথায় লেখা কিটি মাস্ট ডাই, ভূত দিবস, লাইফ-এচিভমেন্ট-সেক্রিফাইস এই লেখাগুলো নিয়ে বড়ো আকারের লেখার ইচ্ছা ছিল কিন্তু আর হলো কই!
যখন পা ছড়িয়ে আমার বাসার সিড়িতে বসে এলোমেলো ভাবি, 'মঙ্গলের পানি দিয়া আমরা কি করিব' তখন মাথার উপর দিয়ে দ্রুতগামি যান চলে যায়। চারপাশের গতির সঙ্গে নিজেকে তুলনা করলে নিজেকে বড়ো হীন, ম্রিয়মান মনে হয়।অসভ্য আমি সভ্যতার সন্তান আর হতে পারলাম না। তখন কি মনটা বিষণ্ণ হয়?
হয়। এই দ্রুত গতির যুগে ভিমরুল মৌমাছি এদের নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করার অবকাশ কোথায়? আমার মতো অকাজের একজন মানুষের অকাজের এইসব ভাবনার কি মূল্য? বটে। ভিমরুল, মৌমাছি, গরু এরা কি প্রকৃতির সন্তান না? গরুর একটা চোখ কি একজন মানুষকে বদলে দেয়? কাউকে না দিক আমাকে দেয়। কুত্তার প্রতি মমতা দেখালে সে কুত্তা জহির হয়ে যায়, আজিব! আমার যে কুত্তা জহিরের হাত ধরতে বড়ো ইচ্ছা করে।
প্রকৃতি ব্যত্যয় পছন্দ করে না, সে ঠিকই তার শোধ নিয়ে নেয়। আমার বাড়ির সিড়ির সামনে ছড়ানো উঠোন হাতছাড়া হয়ে যায়। আমার উত্তরাধিকারের দৌড়-ঝাঁপ করার আর জায়গা থাকল না। আমি নিজের নির্বোধ ভাবনা ঢাকার জন্য এমন খোড়া অজুহাত খুঁজে নেই, সভ্যতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে না-চলার ফল।
কিন্তু এটা আমি বিনয়ের সঙ্গে কাকে কাকে বোঝাবো ৯টা ৫টা অফিস করা আমার কাজ না। সেই যোগ্যতাও আমার নাই, সেই মনও নাই। আগেও বলেছি, এ এক বিচিত্র, এই দেশে একজন মেথরও গু সাফ করে এটা দিয়ে রুটিরজির ব্যবস্থা করতে পারবে কিন্তু একজন লেখালেখি করে পারবে না। ফল হয় ভয়াবহ, একজন আল মাহমুদের আজকের এই নগ্নতার জন্য এটাও কি অনেকখানি দায়ি না?
আমি মানুষের ভালবাসা পেয়েছি এটা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি না। কিন্তু আমার প্রতি এদের ভালবাসায় কোন খাদ ছিল না। হাস্যকর মনে হবে কিন্তু এটা সত্য শত-শত মৌমাছি আমার মাথার উপর ঘুরপাক খাচ্ছে। আমি বসে কীবোর্ডে ঝড় তুলছি অথচ একটা কামড়ও আমায় দেয়নি। অথচ শুনতে পেতাম কার কার উপর নাকি ঝাপিয়ে পড়েছে। ভিমরুলের বাসার অতি নিকটে আমি মাটি খোঁড়াখুঁড়ি করতাম, এরা কেউ কিচ্ছু বলত না। অথচ ভিমরুলের কামড়ে একটা মানুষ অনায়াসে মারা যায়।

প্লাসিবো-তীব্র সুইচ্ছা কি আসলেই সত্য? আমার মৌমাছির বাসা এবং ভিমরুলের বাসা সংগ্রহে রাখার সুতীব্য ইচ্ছা ছিল। এরা
বাসাগুলো আমায় উপহার দিয়ে গেল!আমাকে সবাই এতদিন বলে এসেছে ভিমরুলের বাসা
মাটির মত কিছু একটা হয়।
ওরিআল্লা, এ যে দেখছি একেবারেই ঠুনকো, মলাট কাগজের মত অনেকটা! ভেতরে থাক থাক অসংখ্য খোপ। এটায় যে হাজার-হাজার ভিমরুল নাতি-পুতি নিয়ে বসবাস করত এতে কোন সন্দেহ নাই। আমি অন্য কারণেও আনন্দিত এরা আমাকে খুনি হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে।

বাবুই পাখির একটা বাসা পাওয়ার কী ইচ্ছা! কত লোকজনকে কেজিখানেক তেল দিয়েছি কেউ যোগাড় করে দিতে পারেনি, আছে বলে ফাজিলের দল তালগাছের নিচে নিয়ে আমাকে দাঁড় করিয়ে দিত। অথচ দেখো দিকি কান্ড, আমার এখানেই টুপ টুপ করে আসমান (আসলে ডাবগাছ) থেকে একটার পর একটা পড়তে থাকে!
যেখানে সাপের একটা খোলস পেলেই বর্তে যাই সেখানে সাপ ৩টা খোলস আমায় দান করে দিয়ে যায়। থ্যাংকু, সাপ ভাইয়া।
একজন আমায় পাকিস্তানি বলে গালি দিল। আমাদের বড়ো ঢং হয়েছে, চুতিয়াগিরি হয়েছে; ইচ্ছা হলো তো কাউকে পাকিস্তানি বলে দিলাম কাউকে রাজাকার ভাবাপন্ন বলে দিলাম। ইচ্ছা হলেই কাউকে রাজাকার, রাজাকার ভাবাপন্ন বলা যায় না এটা এই নির্বোধদের কে বোঝাবে!
কেউ কেউ বলেন, আপনি ওমুক সাইটে লেখেন না কেন? তমুক সাইটে একটা লেখা দিলেই ন্যূনতম ১০০ হিট। অন্য সাইটে এখন আর লিখতে ইচ্ছা করে না, অনেকে এটাকে আমার দুর্বিনীত আচরণ ভাবেন। বিনয়ের সঙ্গে বলি, এখানে লিখেই আরাম পাই, হাত খুলে লিখতে পারি। বাড়তি চাপ নেই। অনেকে হাসি চাপেন তবুও বলি, বাড়তি চাপ আমি নিতে পারি না। একটা লেখা লিখে জনে জনে ব্যাখ্যা দেয়াটা আমার জন্য সুকঠিন। তাও না-হয় দেয়া গেল কিন্তু কেউ চাবুক নিয়ে ব্যাখ্যার জন্য তাড়া করলে তো সমস্যা। এমনিতে প্লাস-মাইনাসের খেলা, অন্যের পিঠ চুলকে দেয়া, পান্ডিত্যের ছটা এসব ভাল লাগে না। আরে বাবা, আমার লেখায় কোন ভুল থাকলে ধরিয়ে দিলেই হয়। ভুল স্বীকার করতে আমার কোন লাজ নাই, আছে কৃতজ্ঞতা। পারলে ভুল ধরিয়ে দেয়া মানুষটার গা ছুঁয়ে বলি, ভাইরে, আপনার এই ঋণ আমি শোধ করি কেমন করে?
মন খারাপ, বাড়িতে মুখ খারাপ করতে পারি না তো চলো ব্লগে গিয়ে গালি দেই। তাছাড়া আমরা এটা কবে শিখব ওপেন ফোরামে যা খুশি বলা যায় না, লেখা যায় না। একজন কমার্শিয়াল সেক্স ভলান্টিয়ার-বেশ্যারও কিছু অধিকার থাকে। ভীম যখন যুদ্ধের নিয়ম ভঙ্গ করে দুর্যোধনের কোমরের নিচে আঘাত করেন তখন এটা শ্রীকৃষ্ণ-এর কাছে যথাযথ মনে হলেও আমার কাছে ঘোর অন্যায় মনে হয়। বলদেব নামের মানুষটা, যে অন্যায় যুদ্ধ থেকে পালিয়ে গেলেন তাঁকে সবাই ধিক্কার দিলেও আমার কাছে মানুষটাকে ন্যায়বান মনে হয়। কি আর করা!
আর দলবাজি কথা এখানে উল্লেখ না-করলেই ভাল হতো, এদের দোষ দেই কেমন করে স্যাররা দলবাজি শেখান আমরা শিখব না? আমরা কি বেয়াদব ছাত্র?
একেবারে বুশ স্টাইল, হয় তুমি আমার দলে নইলে খেলা থেকে বাদ। আমি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করি, যে সাইটে আমরা অনেকটা সময় লিখেছি (প্রায় বছর দেড়েক) সেখানে যখন তিনি পুরনো ব্লগারদের কথা বলেন তখন আমার কথা বেমালুম ভুলে যান। বিষয় আর কিচ্ছু না, ওই যে বললাম দলবাজি। আমি ওনার দলে ছিলাম না এই অপরাধ।
দলবাজি ভাল লাগে না। অসাধারণ একজন মানুষ ড. জাফর ইকবাল যখন এমন লেখা লেখেন ভাল লাগে না! দাঁড়াবার আর জায়গা থাকে না।
আর এটাও আমরা বুঝতে চাই না, এখানে কেউ লেখালেখি করে যেমন মাথা কিনে নেয় না, তেমনি কেউ পড়েও। এখানে জাস্ট ভাবনা চালাচালি। মুক্তিযুদ্ধ+আস্তিক, নাস্তিক=গালিবাজি। ভাল লাগে না একদম। ক্রমশ দলছুট হয়ে যাই, বেচারা অভাগা!
ঝিম মেরে থেকে ডিসেম্বরে জেগে উঠব এই অশ্লীলতায় আমি নাই। ডিসেম্বরে মিডিয়ার কান্নায় টেলিভিশন সেট থেকে পানি চুঁইয়ে ডুবে মরার অবস্থা হয়, পত্রিকার পাতাগুলো চোখের জলে লেপ্টে থাকে, পড়া যায় না। আমার স্পষ্ট কথা, রাজাকারকে রাজাকার বলব, ঘুষখোরকে ঘুষখোর, খুনিকে খুনি। আমি সমস্ত অন্যায়ের বিচার চাইব, অন্যায় মৃত্যুরও। ৩৮ বছর গেল নাকি ৩৮০ তাতে কী আসে যায়, রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না। কেউ অন্যায় করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। কোন মুক্তিযোদ্ধাও যদি অন্যায় করে থাকেন, তাঁকেও।
দলছুট আমার জন্য এইই ভাল, নিজের সাইটে আরাম করে লিখে যাওয়া। দু-চারজন পাঠক পড়লেই আমি খুশি। আর কেউ না-পড়লে মনিটরে পা তুলে আয়েশ করে নিজের লেখা নিজেই পড়া...। মন্দ কী!
বিভাগ
আয়না
Friday, December 11, 2009
সমকামিতা এবং শিকারী নির্মলেন্দু গুণ!
"...I didn't much sleep last night
thinking about underwear...
Did Gandhi wear a girdle?..."
(Underwear: L. Ferlinghetti)
Ferlinghetti -এর মাথায় ঘুরপাক খায় মহাত্মা গান্ধী আন্ডারওয়্যার পরতেন কিনা? তাঁর মত এমন বিপুল চিন্তা মাথায় ঘুরপাক না-খেললেও মাথায় কতশত প্রশ্ন ঘুরপাক খায়। আচ্ছা, একজন মানুষ সমকামী কেন হয়? এটা কি এমন? কেউ সিগারেট খায়, কেউ খায় না, কেউ লিকার ধরে, কেউ ধরে না, এমন?
এই বিষয়টা নিয়ে আমরা তেমন আলোচনায় যেতে চাই না কিন্তু বালিতে মাথা গুঁজে থাকলেই তো আর প্রলয় থেমে যায় না! বিষয়টা হেলাফেলা থাকে না যখন ২০০৬ সালে ব্রাজিলের গে প্রাইড প্যারেডে ৩০ লাখ মানুষ অংশগ্রহন করেন। তাদের মূল থিম ছিল, 'হোমোফোবিয়া ইজ আ ক্রাইম'।
এই বিষয়টা নিয়ে আমরা তেমন আলোচনায় যেতে চাই না কিন্তু বালিতে মাথা গুঁজে থাকলেই তো আর প্রলয় থেমে যায় না! বিষয়টা হেলাফেলা থাকে না যখন ২০০৬ সালে ব্রাজিলের গে প্রাইড প্যারেডে ৩০ লাখ মানুষ অংশগ্রহন করেন। তাদের মূল থিম ছিল, 'হোমোফোবিয়া ইজ আ ক্রাইম'।
প্রকৃতির পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে অনেক পূর্বে একটা লেখা দিয়েছিলাম। ওখানে আমি বলার চেষ্টা করেছিলাম, আমাদের দেশে এটা নিয়ে তেমন কোন কাজ হচ্ছে না। বিষয়টা আমাদের সমাজে অতি গোপনীয় কিন্তু আমার ধারণা, এর থাবা অনেক দূর বিস্তৃত।
কেউ কেউ স্বীকার করেন, অধিকাংশই সযতনে গোপন করে রাখেন। নির্মলেন্দু গুণ যখন বলেন:
"যৌবনের প্রথম দিনগুলোতে আমি নিজেও সমকামি ছিলাম। প্রথমদিকে অন্য অনেকের মত আমিও দু'একবার সমকামিতার শিকার হয়েছি, পরে অধিকাংশ সময় আমি নিজেই ছিলাম শিকার-সন্ধানী।"
(গীনসবার্গের সঙ্গে/ নির্মলেন্দু গুণ। পৃ: ৫২)
তখন গুণ আমাদের কাছ থেকে শাবাসি আশা করেন কিনা কে জানে! কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, আমাদের শ্রদ্ধেয় কবিবর নির্মলেন্দু গুণকে 'হালকা চাবুকপেটা' করা আবশ্যক। আমাদের দেশের একজন প্রথম সারির বুদ্ধিজীবী সমকামী নাকি ছাগলকামী সে ভিন্ন তর্কের জায়গা কিন্তু তিনি কী অবলীলায় বলছেন, 'আগে শিকার ছিলাম এখন শিকারী হয়েছি'।
ভাগ্যিস, আগের আমলের বাঘ শিকারের মত মরা বাঘের উপর পা তুলে এবং বন্দুকসহ যেভাবে শিকারিরা ছবি তুলতেন তেমনি আমাদের 'কবি শিকারী' গুণ দাদা কোন-এক বালকের উপর পা তুলে ইয়ে উঁচিয়ে ছবি উঠাচ্ছেন এই দৃশ্য দেখে অজ্ঞান হয়ে যাব!
আমি যে বললাম, গুণ 'হালকা চাবুকপেটা' করাটা কেন জরুরি? গুণ গে না হে এটা তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত কিন্তু সে কিন্তু এর মতো পটাবার চেষ্টায় নাই:
সে, গুণ কিন্তু শিকার করে, শিকারি!
কানাডার ন্যাশনাল একাডেমি অভ সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধে প্রফেসর এন্থনি এফ বোগার্ট বলেন, 'সমকামীতার কারণ যতটা না সামাজিক তারচে অনেক বেশি জৈবিক'।
বোগার্টের মতে, গর্ভাবস্থায় একধরনের 'মাতৃক স্মৃতি' সমকামি বৈশিষ্ট্য নির্ধারনের জন্য দায়ি। কোনও কোনও মায়ের শরীর হয়তো তার গর্ভে সন্তানের ভ্রুণকে বিজাতীয় হিসাবে দেখে থাকে। ফলে তার শরীরে অ্যান্টিবডি নিঃসরণ বা কোনও ধরনের প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে থাকে। আর এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় সন্তানের ভ্রুণের মধ্যে।
মায়ের অ্যান্টিবডি ছেলে ভ্রুণের অপরিণত মস্তিষ্কে যে প্রভাব ফেলে পরে সেটাই হয়তো তাকে সমলিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে। তবে নারি সমকামিদের ক্ষেত্রে বিষয়টা কিভাবে ঘটে এ বিষয়ে কিছু বলেননি বোগার্ট!
বোগার্টের সমকামিতার ব্যাখ্যা বুঝতে খানিকটা সমস্যা হয়। গীনসবার্গও স্বঘোষিত সমকামি ছিলেন। বোগার্টের তত্ত্ব এখানে খানিকটা মিলে গেলেও, গীনস এবং কবি গুণের মধ্যে বেশ অনেকখানি পার্থক্য আছে।
গুণের কথামতে তিনি প্রথম যৌবনে সমকামি ছিলেন, পরের যৌবনে সমকামি ছিলেন না। প্রথমে শিকার হয়েছেন, পরে শিকারী হয়েছেন। এতে সন্দেহ নাই ব্যাপারটা তিনি উপভোগ করেছেন।
অনেকটা সেই ঘটনার মত: এক ধর্ষিতা সেনাপ্রধানের নিকট এসে বলছে:
অনেকটা সেই ঘটনার মত: এক ধর্ষিতা সেনাপ্রধানের নিকট এসে বলছে:
'আপনার ২৩ জন সৈনিক আমাকে ধর্ষণ করেছে। আমি এর বিচার চাই'।সেনাপ্রধান বললেন, '২৩ জন, ঠিক বলছো'!'অবশ্যই, ২৩ জন'!এবার সেনাপ্রধান বললেন, 'সংখ্যাটা তুমি যখন মনে রাখতে পেরেছ তখন এতে আমার কোন সন্দেহ নাই পর্বটা তুমি উপভোগ করেছ'।
কবি গুণ পরে বিয়ে-শাদীও করেছিলেন, 'মৃত্তিকা' নামের তাঁর চমৎকার একটা মেয়েও আছে। যে ছোট্ট (৪ বছর বয়সে) মেয়েটির কান্না থামাবার জন্য তিনি পানিতে ঝাঁপ দেয়ার ভঙ্গি করেন। কিন্তু আমি নিশ্চিত, এই মেয়েটি তখন পানিতে পড়ে গেলে, গুণ সত্যি সত্যি চোখ বুজে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। মেয়ের জন্য তাঁর এই যে অন্য ভুবনের তীব্র মায়া-মমতা, গুণ আজীবন গে থেকে গেলে কী এর ছোঁয়া পেতেন, কে জানে!
এক লিঙ্গের অন্য লিঙ্গের প্রতি তীব্র আকর্ষণে মানব-শেকড় ক্রমশ ছড়াতে থাকবে। গুণ থেকে মৃত্তিকা, মৃত্তিকা থেকে অন্য কেউ। শেকড় নামের শেকলের আংটাগুলো একটার সঙ্গে অন্যটা আটঁসাঁট হয়ে থাকবে। এইজন্যই কি প্রকৃতি ব্যত্যয় পছন্দ করে না?
সে চলে তার নিজস্ব গতিতে, তাঁর অনন্ত ভ্রমণে থামাথামির সুযোগ কোথায়? থামতে যে তাঁর বড়ো আলস্য। আসলে তাঁর অনন্ত যাত্রায় থামার কোন সুযোগ নাই- কে জানে, হয়তো ইচ্ছা করেই রাখা হয়নি!
এদিকে প্রকৃতির সন্তান আবার চলে তার নিজস্ব গতিতে। প্রকৃতির সন্তান পরিপাটি করে গোছানো প্রকৃতিকে এলোমেলো করে দেয়- কেউ গাছসব কেটে সাফ করে ফেলে, কেউ জেনেটিক কোডের তথ্যের হাত ধরে অপার্থিব আনন্দের সংগে 'গে' হয়ে যায় অথচ আমাদের অনেকের বিষয়টা নিয়ে ভাবলেই মুখ ভরে বমি চলে আসে...।
এদিকে প্রকৃতির সন্তান আবার চলে তার নিজস্ব গতিতে। প্রকৃতির সন্তান পরিপাটি করে গোছানো প্রকৃতিকে এলোমেলো করে দেয়- কেউ গাছসব কেটে সাফ করে ফেলে, কেউ জেনেটিক কোডের তথ্যের হাত ধরে অপার্থিব আনন্দের সংগে 'গে' হয়ে যায় অথচ আমাদের অনেকের বিষয়টা নিয়ে ভাবলেই মুখ ভরে বমি চলে আসে...।
সহায়ক সূত্র:
১. প্রকৃতির পছন্দ-অপছন্দ...: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_5122.html
২. অনন্ত ভ্রমণ...: http://www.ali-mahmed.com/2009/09/blog-post_18.html
বিভাগ
আয়না
Subscribe to:
Posts (Atom)



