Monday, March 23, 2020

করোনার আঁতুড়ঘর!




লেখক: Saalim Aurnab
"'করোনা' ভাইরাস নয়, শক্তিশালী জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র! এই বিষয়টি নিয়ে ড. ফ্রান্সিস বয়েলের দাবির আগে থেকেই চিন্তা করেছেন অনেকে। অনেকে হাস্যকর মনে করলেও বাস্তবতা হচ্ছে বিশ্ব-অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে শয়তানের দল এই কাজটা করেছে। গুপ্তগোষ্ঠী সিরিজ এর দ্বিতীয় বই গুপ্তগোষ্ঠী ইলুমিনাতি লিখতে গিয়ে খেয়াল করেছি সার্স, অ্যানথ্রাক্স, রুবেলা ও বসন্ত রোগের জীবানু কিভাবে মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ধনকুবের রথচাইল্ড পরিবার ও তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বিশ্ব অর্থনীতির উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নিরঙ্কুশ করতে গিয়ে এর থেকেও প্রাণঘাতী নানা কুকর্ম করেছে। কিন্তু বছরের পর রয়ে গেছে পর্দার অন্তরালে।
অন্যদিকে যদ্দুর জানা যায় 'জেনেটিক্যালি মডিফায়েড' ভয়ঙ্করতম করোনাভাইরাসের জন্মদাতা চীনের উহানের বায়োসেফটি ল্যাবোরেটরি লেভেল ফোর। লজ্জার বিষয় হচ্ছে এই জঘন্য কথাটি আগে থেকেই জানত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইও)। আন্তর্জাতিক একটি সাংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন আইনজীবী, রাসায়নিক মারণাস্ত্র বিরোধী সংগঠনের অন্যতম সদস্য ড. ফ্রান্সিস বয়েল।

তাঁর হিসেবে, শক্তিশালী রাসায়নিক মারণাস্ত্র করোনাভাইরাস, ছড়িয়েছে উহানের ল্যাব থেকেই। তারপর জিনের গঠন বদলে আরও ভয়ঙ্কর হয়েছে নোভেল করোনাভাইরাস। এরই মধ্যে ৩৮০ বার জিন বদলেছে নোভেল করোনাভাইরাস। ফলে সাধারণ করোনার থেকে এর বিষ অনেক বেশি যা নিছক কোনও ভাইরাসের সংক্রমণ নয় বরং ভয়ানক জীবানু অস্ত্র পরীক্ষার ফল। মূলত উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবোরেটরিতে অতি গোপনে রাসায়নিক মারণাস্ত্র বানানোর প্রক্রিয়া চলছে। সেখান থেকেই ছড়িয়েছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ। অন্যদিকে সি-ফুড মার্কেটের ব্যাপারটা নেহাতই চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা।

বিশেষ কোনো এক অজ্ঞাত কারণে, উহানের এই বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবোরেটরিকে সুপার ল্যাবোরেটরির তকমা দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বলা হয়েছিল, এই ল্যাবে ভাইরাস নিয়ে কাজ হলেও তা অনেক বেশি সুরক্ষিত ও নিরাপদ। ল্যাবোরেটরির জন্যই রয়েছে আলাদা উইং যার বাইরের পরিবেশের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। কিন্তু যতদূর জানা গিয়েছে সার্স ও ইবোলা প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছিল এই রিচার্স ল্যাব থেকেই। সেখানে রোগ প্রতিরোধ নয় বরং প্রাণঘাতী জৈব অস্ত্র বানাতেই মত্ত রয়েছে গবেষকরা। তাদের এই অন্যায় কর্মকাণ্ডের পরিণতি বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মৃত্যু।

লজ্জার বিষয় হচ্ছে নোভেল করোনাভাইরাসের কিভাবে জিনগত বদল ঘটানো হয়েছে এবং উহানের এই ল্যাবোরেটরি থেকেই যে ভাইরাস ছড়িয়েছে সেটাও জানেন 'ডব্লিউএইচও'র অনেক গবেষক। মূলত কানাডার ল্যাব থেকে করোনা চুরি করেছে চীন। তারপর তারই জিনগত বদলে তৈরি হয়েছে নোভেল করোনা যা আর কিছুই না নতুন ধাঁচের জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র। মার্কিন সিনেটর টম কটন দাবি করেছেন চীন জীবাণুযুদ্ধের জন্য বানাচ্ছিল ওই ভাইরাস।
২০১৫ সালে রেডিও ফ্রি এশিয়া তাদের রিপোর্টে দাবি করেছিল, উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে ভয়ঙ্কর, প্রাণঘাতী সব ভাইরাস নিয়ে কাজ করছেন গবেষকরা। এর অর্থ জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্রের দিকে ক্রমশ ঝুঁকছে বেইজিং। এই ফলাফল হিসেবে এর আগেও অনেক ধরণের সংক্রমণ ঘটেছে। কিন্তু সুকৌশলে সেগুলো লুকিয়ে ফেলেছে চীন। অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ চীন থেকে ঘটলেও এখন সেখানে সংক্রমণ নেই। তার মানে তারা এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছিল আগেই। কিন্তু হঠাৎ ভাইরাস ছড়িয়ে গেলে তাদের পক্ষে তা সামাল দিতে কষ্ট হয়ে যায় কিছুটা।

আমাদের দেশের অনেক বিশ্লেষক চীনের কর্মতৎপরতা নিয়ে লিখছেন। হা হুতাশ করছেন আমাদের অবস্থা নিয়ে। তাদের বোঝা উচিত ভাইরাস ছড়ানোর আগে থেকেই চীন প্রস্তুত ছিল। তাই তারা এত দ্রুত হাসপাতাল নির্মাণ করতে পেরেছে। এগুলো বোঝার জন্য পণ্ডিত হতে হয় না, চোখ-কান খোলা রাখলেই হয়। চিন্তা করে দেখুন, এই করোনাতে কার কি হয়েছে কে জানে। সবদিক থেকে লাভবান চীনই। কারণ তাদের দেশে বাইরের বিনিয়োগকারীদের সব কোম্পানি এখন নামমাত্র মূলে কিনে নিচ্ছে চীন সরকার। যা এক অর্থে আগামী এক দশকে বিশ্ব অর্থনীতির পরাশক্তির চেয়ারে বসিয়ে দেবে চীনকে।"




Saturday, March 21, 2020

মহোদয়গণ বলিলেন...অবশেষে যুদ্ধে চলিলেন।।





অনেক মন্ত্রী মহোদয়গণ হচ্ছেন ট্রাম্পের মত কখন কী বলে বসেন তা আগাম বলা মুশকিল! তাই আমাদের মত বেকুবরা এই সব নিয়ে হুজ্জতে যাই না। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী আছেন তাঁদের কথা আলাদা। যেমন ধরুন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি করোনাভাইরাস নিয়ে বললেন, "...দুই মাসের প্রস্তুতির কারণেই তুলনামূলকভাবে এখনও ভাল অবস্থানে আছে বাংলাদেশ"।
আস্থার জায়গা। বড়ই 'আশাজাগানিয়া' কথা। সাহস আসে। বুকে বল আসে।

কিন্তু আফসোস, দেশ এখন ভাল অবস্থা থেকে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে নইলে কী আর প্রেস- ব্রিফিংয়ে এঁরা মুক্তোর মালার মত জড়াজড়ি করে থাকেন, পাগল! বেয়াড়া সাংবাদিক প্রশ্ন করলে সেটাই ওঠে এসেছে মন্ত্রীর বক্তব্যে, "এখন যুদ্ধ অবস্থায় আছি। সব সিস্টেম মেনে চলা যায় না"।

যুদ্ধের আরেকটা নমুনা:
কী ভয়াবহতা, কী নিষ্ঠুরতা!

আবার ধরুন, আমাদের তথ্যমন্ত্রী মহোদয় হাছান মাহমুদের কথা। যতটুকু জানি এই মানুষটা কেবল শিক্ষিতই নন বিশ্ববিদ্যলয়ে পড়ানও। করোনার সংক্রমণ নিয়ে তিনি বললেন, "...পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তা নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম হয়েছে"

যেহেতু নিয়ন্ত্রণ নেয়া শ্যাষ তাই মাস্ক-ফাস্কের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? এটা বিশ্বাস করলুম বলেই তাঁর বক্তব্যে অবিশ্বাস করার কোনও কারণ দেখি না।




Thursday, March 19, 2020

জমিদারের নীচে না লাটসাহেবের উপরে না!

বেশ আগের একটা ঘটনা। সামাজিক সংস্থার একটা কাজে একজনকে সাথে নিয়ে বিসিএস ওয়ালা এক সরকারী কর্মকর্তার আপিসে গেছি। জাস্ট ফর্মালিটিজ, কাগজে তিনি একটা সই করবেন কেবল। এই বিষয়ে তাঁর অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার নেই কেবল অবগত আছেন এই-ই তার দৌড়!
এমনিতে এই ভদ্রলোক সর্বদাই বিশেষ একটা দলের লোকজন নিয়ে মজমা বসাতেন, অফিস-বাসায়ও। আমরা যারা বেকুব টাইপের মানুষ কোন দল-টল করি না কারও সাতে পাঁচে নেই এদের তিনি খালি-ঘোলা কোন চোখেই দেখতে পারতেন না। তাই আমি ঢোকার পর থেকেই আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন না। স্পষ্ট তাচ্ছিল্য, জমিদার-জমিদার একটা ভাব। বুঝলাম কোথাও একটা ভজকট হয়েছে। বমি করার জন্য তখনই ওখান থেকে বেরুনোটা খুব জরুরি ছিল।

পরে সাথের জন আমাকে জানালেন তাকে সই দেবেন (বলাবাহূল্য সাথের জন দল-টল করেন) কিন্তু আমাকে দেবেন না। ফ্রিতে আবার একটা শর্তও আছে আমার পদবী এক ধাপ নামিয়ে দিতে হবে। আমাদের দেশে এখন দুই ধরনের জমিদার আছেন। একটা শ্রেণী হচ্ছেন যারা খেয়ে না-খেয়ে জায়গা-জমি কিনে রেখেছিলেন আর আমাদের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত কিছু সরকারী কর্মচারীবৃন্দ। এরা একেকজন জমিদারের নীচে না লাটসাহেবের উপরে না।   



আরডিসি নাজিম, এই বয়স্ক মানুষটার সঙ্গে খোশগল্পে(!) মশগুল

ডিসি সুলতানার অমায়িক ফোনালাপ।


Friday, March 13, 2020

করোনা আসিলেন, হুজুর কহিলেন, পাবলিক শুনিলেন।



মি. করোনার যে সাক্ষাৎকারের ঘটনা হুজুর বললেন এরপর আর কথা চলে না।





ভারতীয়রা করোনার স্থলে শুনেছে 'গরোনা'। তাই গ্যালন-গ্যালন গরুর পেচ্ছাব সাবড়ে দিচ্ছে।

ভোদাই চীন হুদাই কামান দাগে!

Monday, March 9, 2020

Saturday, March 7, 2020

জীবন বড় সুন্দর!

একে আমি রাস্তায় পেয়েছিলাম ঠিক এই অবস্থায়:

সাগর নামের এই ছেলেটি তার জীবনের যে গল্প শোনায় তা কেবল হতভম্বই করে দেয় না ক্রমশ সরে যায় আমাদের শরীরের চকচকে কাপড় পাল্লা দিয়ে সরে পেটের পাতলা চামড়া। উম্মুক্ত হয়ে পড়ে একপেট আবর্জনা। সে দুর্ঘটনায় হারায় তার দুপা, একটা হাত।


সাগরের প্রয়োজন ছিল একটা হুইল-চেয়ারের। আমার হাতে একটা হুইল-চেয়ার ছিল যেটা ইংল্যান্ড থেকে পাঠিয়েছিলেন নাজমুল হুদা এবং তার বন্ধু তানভির হোসাইন। জরুরি অবস্থার জন্য আমি রেখে দিয়েছিলাম কিন্তু এটা সাগরকে দেয়ার চেয়ে জরুরি অবস্থা আর কী হতে পারে!
চলাফেরায় ওর বড় কষ্ট! এক হাতে যে প্রকারে এ গরম পিচের রাস্তায় শরীরটাকে টেনে-টেনে নিয়ে যায় এটা কঠিন হৃদয়ের একজন মানুষেরও বুক থেকে পাক খেয়ে উঠবে তীব্র হাহাকার।

এর বাবা-মা একে ফেলে দিয়েছে জীবনের এই কুৎসিত দিক যেমন আছে তেমনি আছে আলোকিত এক দিকও। এর ভাই একে বুকে আগলে রেখেছেন। আমি তখন খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম সাগরের ভাইকে এক নজর দেখার জন্য।

সাগরের ভাই 'ভাসানি' নামের এই পাতলা-দুবলা মানুষটার ছায়া ছড়িয়ে যায় চারদিক।

সাগর নিয়ে আমি খানিকটা ভয়ে-ভয়ে ছিলাম হুইল-চেয়ারে সাগর নিজে-নিজে উঠতে পারবে তো? কিন্তু কেবল একটা হাতের সাহায্যে সাগর যে ভঙ্গিতে হুইল-চেয়ারে উঠে এটা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।


জীবন নিয়ে একটা কথা আছে 'জীবনকে দেখতে হয় একজন মৃত্যুপথযাত্রি মানুষের চোখ দিয়ে'  এটাকে খানিকটা বদলে বলা যেতে পারে, জীবনকে দেখতে হয় সাগরের চোখ দিয়ে...।

Saturday, February 8, 2020

বেটা, জীবন বড়ই সুন্দর, রে!

লেখক: Shawkat Ali 
১৯৯৭ সালে মুুক্তিপ্রাপ্ত ইতালিয়ান ছবি লা ভিটা ই বেলা (লাইফ ইজ বিউটিফুল)
গল্পের শুরুটা দুই বন্ধুকে নিয়ে। প্রেক্ষাপট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কয়েক বছর আগের। স্থান ইতালির একটি ছোট শহর। এই দুই বন্ধুর একজন গুইডো। অভিনয়ে রবার্তো বেনিনি। তিনিই এই সিনেমার পরিচালক এবং গল্পলেখক।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষিকা ডোরার (ডোরা চরিত্রে বেনিনির রিয়েল লাইফ স্ত্রী নিকোলিটা) প্রেমে পড়ে গুইডো। গুইডো ছিল সাধারণ একটি ইহুদি পরিবারের। তার কাজের কোন ঠিক ঠিকানা নাই।

আর ডোরার পরিবার ছিল উচ্চবর্গের। তারা ইহুদীও নয়। ডোরার ধনী, সম্ভ্রান্ত, উচ্চবর্গীয় মা চান একজন উচ্চপদস্থ সিভিল সার্ভেন্টের সাথে ডোরার বিয়ে দিতে।

কিন্তু গুইডো ছিল মজার একজন মানুষ। জীবন তার কাছে ছিল নিছক হাসি তামাসার একটি বিষয়। কঠিন বাস্তবতার মাঝেও সে জীবনকে উপভোগ করতে শিখেছিল। একের পর এক ছেলেমানুষি অদ্ভূত, হাস্যকর কান্ডকারখানা করে সে ডোরার মন জয় করে নেয়।
দুজনে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। তাদের ভালোবাসার ফসল ছেলে যশোয়া। কিন্তু জীবন মোটেও রূপকথা নয়। সেদিন যশোয়ার চতুর্থ জন্মদিন। সারা বাড়ি সাজানো হয়েছে। কিন্তু তখনই ঘটে গেল এক আঘটন।
জার্মান সেনারা সমস্ত ইহুদীদের ট্রেনে বোঝাই করে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে পাঠাতে থাকে। ডোরা ইহুদী না হওয়া সত্ত্বেও স্বামী সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে ট্রেনে চেপে বসে। ক্যাম্পে নারী আর পুরুষদের জন্যে আলাদা আলদা ব্যবস্থা। সারি সারি লোক মাথা নিচু করে হেঁটে চলেছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। আর কোনদিন তারা তাদের সুস্থ জীবন ফিরে পাবে কিনা কে জানে। কার জীবনের আয়ু আর কদিন বা কঘণ্টা কেউ জানে না। কর্কশ কদাকার সেনারা চিৎকার করে আদেশ দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু যশোয়ার ছোট্ট নরম মন তখনও আসন্ন বিপদের আঁচ করতে পারেনি। একসমকার প্রাণচঞ্চল গুইডো এবার একজন দায়িত্ববান বাবার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। আচরণে সেই একই হাব-ভাব। কিন্তু ভেতরে লুকোন এক অব্যক্ত যন্ত্রণা।
এক বিশালকায় বাঁজখাই গলার সেনা অফিসার এসে নির্দেশ দিয়ে গেল ক্যাম্পের নিয়ম-কানুন সম্বন্ধে। কিন্তু স্বেচ্ছায় দোভাষী নিযুক্ত হয়ে গুইডো যা অনুবাদ করল সেটা যে মিথ্যে তা যশোয়া ছাড়া আর কারও বুঝতে বাকি থাকল না। যশোয়াকে গুইডো বোঝালো পুরো ব্যাপারটাই একটা খেলা। প্রত্যেকে সেখানে পয়েন্ট যোগাড় করতে গিয়েছে। যে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি হাজার পয়েণ্ট জোগাড় করে ফেলবে তাকে প্রথম পুরষ্কার হিসেবে একটা সত্যিকারের ট্যাঙ্ক দেওয়া হবে। যশোয়ার আবার ট্যাঙ্ক খুব পছন্দ। প্রতিদিনের শেষে পয়েন্ট হিসেব করে যার পয়েণ্ট সবচেয়ে কম হবে তার পিঠে একটা কাগজ সাঁটা থাকবে যাতে লেখা থাকবে 'বুর্বক, গাধা'।
গুইডো যশোয়াকে আরও বোঝায় যে, সে যদি মাকে দেখতে চায়, খিদে পেলে খাওয়ার জন্যে বায়না করে আর ঘরের ভেতর লক্ষী ছেলে হয়ে লুকিয়ে না থাকে তবে তাদের পয়েণ্ট কাটা যাবে। কোমল শিশুমনের সরলতায় আর গুইডোর অভিনয়ের স্বাভাবিকতায় যশোয়া তার বাবার কথা নিঃসঙ্কোচে মেনে নেয়। এরপর থেকে যতবার যশোয়া কিছু একটা সন্দেহ করে ততবার গুইডো নতুন নতুন খেলার নিয়ম বলে কঠিন, কদর্য সত্যকে আড়াল করে চলে। নরম ফুলের মত শিশু মনকে কনসেনট্রেশন ক্যম্পের ভয়াবহ আতংক থেকে রক্ষা করতে থাকে। কনসেনট্রেশন ক্যাম্প তাদের কাছে হয়ে যায় সামার ক্যাম্প।
সারাদিন প্রচন্ড পরিশ্রমের পর রুমে ফিরলে লুকিয়ে থাকা যশোয়া ঝাঁপিয়ে পড়ে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় বাবার কোলে। দু পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা তখন কঠিন হয়ে পড়ে গুইডোর পক্ষে। তবু সে খাবার লুকিয়ে আনে, কৌশলে যশোয়াকে ভিড়িয়ে দেয় সুবিধা প্রাপ্ত ছেলে-মেয়েদের মাঝে। যখন যেই বিপদ আর সুবিধা আদায় প্রয়োজন তখন সেই অনুযায়ী খেলার নিয়ম বদলে দেয় গুইডো।
ছেলের মনে সন্দেহ হলেই আবার কিছু বলে তা দূর করতে চেষ্টা করে গুইডো।
এভাবে শত কষ্ট আর অপমান সহ্য করে ছেলেকে বিপদ থেকে আগলাতে থাকে বাবা। কিন্তু একদিন গোপনে ক্যাম্পের বাইরে গিয়ে ফিরে আসার সময় সেনাদের হাতে ধরা পড়ে গুইডো। তাকে সেনারা হত্যা করার আগমুহূর্তেও জীবনটাকে সহজভাবে নেয়ার সহজাত ইশারায় বাবা ছেলেকে বিশ্বাস করায়, মৃত্যুও একটা খেলা।
এক সময় মার্কিন সেনারা যশোয়াকে উদ্ধার করে সে খোঁজে পায় তার মাকে।

একদিন যশোয়া সত্যিকার এক ট্যাঙ্কের মুখোমুখি হয়। তার কানে বাজতে থাকে বাবার শেখানো কথাগুলি-যেদিন ১০০০ পয়েন্ট জমা হবে সেদিন আমরা সত্যিকারের একটি ট্যাঙ্ক জিতে নিব। যশোয়া উচ্ছাসিত হয়ে পড়ে। কিন্তু আজ বাবা তার পাশে নাই।
বাবা নামক বোকা চমৎকার মানুষটার সাথে আবার দেখা হবে কিনা তার জানা নাই।
কিন্তু সে জানে বাবা নামক ভালোবাসার ছায়াটা সব সময় তার আশেপাশেই থাকবে। তাকে সমস্ত বিপদ থেকে আগলে রাখবে। শত কঠিন বাস্তবতার মাঝেও চুপিচুপি কানে-কানে এসে বলে দিয়ে যাবে, লাইফ ইজ বিউটিফুল। 



বেপারি!

লেখক:  Rumi Ahmed

"মগবাজারে বাসা| আশিউর্ধ ভদ্রলোক মাগরেব নামাজ পড়ে জায়নামাজে বসে ওজিফা পড়ছেন। এই অবস্থায়ই তার স্ট্রোক হলো! খুব গরম লাগলো, খারাপ ফিল করলেন, মুখের কথা স্লার্ড হয়ে গেলো। তাঁকে বিছানায় নিয়ে শুইয়ে দেয়া হলো। নিচের ফ্ল্যাটের এক ডাক্তার সাহেবকে ডেকে আনা হলো। উনিও বললেন, স্ট্রোক হচ্ছে।
এখন কোথায় তাকে নিয়ে যাবে তার বৃদ্ধা স্ত্রী? ছেলে মেয়েরা সব থাকে আমেরিকাতে! কি করবেন কোথায় নিয়ে যাবেন, কিভাবে নিয়ে যাবেন? এম্বুলেন্স লাগবে স্ট্রেচার লাগবে। স্ট্রোক হলে তিন ঘন্টার মধ্যে একটা ওষুধ দেয়া গেলে একধরণের স্ট্রোক ভালো হয়ে যায়! ঢাকা শহরে তো পয়েন্ট এ থেকে পয়েন্ট বি-তে যাওয়া সারাদিনের ব্যাপার। আত্মীয়রা এখন ছেলেদের ফোন করেছে। ছেলে আমেরিকায় বসে এখানে-সেখানে কল করে এম্বুলেন্স ম্যানেজ করলো। কোথায় নিয়ে যাবে এম্বুলেন্স? ইউনাইটেড-এর অনেক নাম শুনেছে এরা, সুন্দর কর্পোরেট হাসপাতাল, ভালো জায়গায়। এম্বুলেন্স বাড়িতে এসে নিয়ে যায়। তো, ইউনাইটেড হাসপাতালে ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টে নিয়ে যেতে তিন থেকে চার ঘন্টার মতো লেগে গেল।
ভদ্রলোকের বাসায় থাকা অবস্থায় জ্ঞান ছিল, কথা বলতে চেষ্টা করছিলেন। আস্তে-আস্তে নিস্তেজ হয়ে গেলেন। যখন ইউনাইটেড-এ গেলেন তখন ভদ্রলোক ডিপ কোমায়!
ভদ্রলোকের আত্মীয়রা বাইরে অপেক্ষা করছেন, মাঝ খানে জানা গেলো সিটি স্ক্যান করা হয়েছে- 'ম্যাসিভ ব্যাসাল গ্যাঙ্গলিয়া ব্লিড উইথ ইন্ট্রাভেন্ট্রিকুলার এক্সটেনশন আর মিডলাইন শিফট'! পরিবারকে জানানো হলো নিউরোসার্জন সাহেব দেখেছেন ওনাকে। কাল সকালে অপারেশন করবেন।
আমি পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ করলাম সিটি স্ক্যান এর ছবি ফোনে তুলে আমাকে পাঠাতে  আমি যাতে বুঝতে পারি কি অবস্থা এবং ধারণা করতে পারি কি অপারেশনের কথা ভাবছেন নিউরোসার্জন সাহেব! কিন্তু সিটি স্ক্যান এর ছবি তো দূরের কথা, পরিবারের সদস্যরা, পুত্রবধূ (যে ঢাকায় ছিল ওই সময়) ও তার মা, ওরা ভিতরে ঢুকতেই পারছেন না ।
পরে রাত বারোটার পরে পুত্রবধুর বাবা, উনি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের একটা শক্তিশালী মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উনি এলেন এবং ওনার কারণে সিটি স্ক্যানের ছবি আমরা হাতে পেলাম। আমি স্কোরিং করলাম, ICH Score=6. আমি ভদ্রলোকের ছেলেকে স্কোরিংটা দেখলাম। ICH Score=6 হলে ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যুর সম্ভাবনা ১০০%!
আমি নিজে আমেরিকান বোর্ড সার্টিফাইড নিউরোইনটেনসিভিষ্ট! ব্রেইন হেমোরেজ স্ট্রোক ইত্যাদি আমি করি রুটি রুজির জন্য! এ ধরণের ব্লিডিং নিয়ে কেউ কোমার রোগীকে নিয়ে আসলে জবাব রোগীর বর্তমান অবস্থা আমাদের হাসপাতালের আমার নিউরোসার্জন কলিগকে টেক্সট করলাম আর জিজ্ঞেস করলাম, সার্জারির কোনো স্কোপ আছে কিনা এবং সে হলে এই অপারেশনটা করতো কিনা? ও অনেক সময় নিয়ে স্ক্যান দেখে আমাকে টেক্সট ব্যাক করলো, 'হেল নো!' । Hopelessly Poor Prognosis, no role of any surgical intervention!
কিন্তু ইউনাইটেড এর নিউরসার্জন সাহেব গোঁ ধরে বসে আছেন। তিনি পেসেন্ট ছাড়বেন না। ওয়েইটিং রুমে লোক পাঠানো হলো কনসেন্ট এর জন্য! রোগীর আত্মীয়রা বললো আমরা অপারেশনের ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেই নাই। চাপ বাড়তে থাকলো কনসেন্ট দেয়ার জন্য। এমন কি মন্ত্রী সাহেবও সার্জন সাহেবের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না এমন এক পর্যায়ে মন্ত্রীর পি.এস সার্জনকে পেলেন কিন্তু সার্জন সাহেব ফোন রেখে দিলেন।
বিএসএমএমইউ-এর নিউরসার্জন ভিসির সাথে যোগাযোগ করা হলো উনি বললেন কিছুদিন আগে আর একটি রুগীর ব্যাপারে কথা বলতে গেলে ইউনাইটেড ওনাকে ওখানে ঢুকতে দেয়নি! উনি বিএসএমএমইউতে বেড ম্যানেজ করে দিলেন এবং রুগীকে ট্র্যান্সফার করে নিয়ে আসতে বললেন।
রোগীর আত্মীয়রা ট্র্যান্সফার-এর কথা বলে মনে হয় মৌচাকে ঢিল ছুড়লো। নিউরোসার্জন এবং ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন। ওরা রোগী ছাড়বেন না অপারেশন করবেনই। এবং রোগীকে ট্র্যান্সফার করতে চাওয়ার অপরাধে রোগীর আত্মীয়দের ওয়েইটিং রুম থেকে বের করে দিলেন!
এই কনফ্লিক্ট-এর এক পর্যায়ে মন্ত্রী সাহেব গুলশান থানার এস, পি আর ও, সি পাঠালেন। ওরা ফোর্স নিয়ে হাসপাতালে ঢুকলো রোগীকে উদ্ধার করে বিএসএমএমইউতে নিয়ে আসতে। কিন্তু ইউনাইটেড বাদ সাধলো আবার। ওরা রুগী ট্র্যান্সফার-এর জন্য এম্বুলেন্স ভেন্টিলেটর দেবে রোগী অবশেষে বিএসএমএমইউতে গেলো। বিএসএমএমইউ-এর প্রধান নিউরোসার্জন ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া স্ক্যান দেখে বললেন অপরেশনের কোনও সুযোগ নেই।
বিএসএমএমইউ-এর আইসিইউর প্রচন্ড করিৎকর্মা কিছু তরুণ চিকিৎসক দিনরাত খেটে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখলো তার দুই ছেলে আমেরিকা থেকে দেশে পৌঁছে পর্যন্ত। ছেলেরা ফেরার কিছুক্ষণ পরেই ভদ্রলোক চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে।
...
এই রোগীর প্রচন্ড প্রভাবশালী কিছু আত্মীয় ছিল কিন্তু সেইসব মানুষদের কথা ভেবে দেখুন যাদের প্রভাবশালী আত্মীয় নেই! যাদের পরিবারে সঠিক উপদেশ দেয়ার মতো ডাক্তার নেই!
নিউরোসার্জন সাহেব কি জানেন না যে এই রুগী বাঁচবে না? তিনি অবশ্যই জানতেন। না জানার কোনো কারণ নাই! 
তাহলে? রুগীর পরিবারের কিন্তু ধারণা হবে পাড়ার মাস্তানের কাছে নুতন কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট যা, এই ধরণের কিছু ডাক্তারের কাছে একটা রোগী তা! উপার্জন! ক্যাশ পয়সা!
এই নিউরোসার্জন ভদ্রলোক এই ধরণের অপ্রয়োজনীয় সার্জারী আগেও নিশ্চয় করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। এই রোগীর পরিবারকে বলি করে যদি রেখে দিতে পারতেন, হেনোতেনো একটি অপারেশন করতেন জাষ্ট করার জন্য করা। তারপর আই সি ইউ তে ভেন্ট দিয়ে রেখে দিতেন এক-দু হপ্তা। ডেইলি চার্জ লাখ খানেকের উপরে! পয়সা ওয়ালা পার্টি। ছেলেরা বিদেশে থাকে। দুসপ্তা পরে ব্রেইন-ডেড মানুষটাকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যেতে বলতেন! রোগীর পরিবারের মন মানে না। সমর্থ না-থাকলেও তারা ধার কর্জ করে কোটি টাকা খরচ করে এয়ার এম্বুলেন্স করে সিঙ্গাপুর নিয়ে যেত!
আহা, এতো সুন্দর হাসপাতাল মেইনটেইন করতে পয়সা লাগে না? আর নিউরসার্জন সাহেবেরও তো মাঝে-মধ্যে দেশ বিদেশ ঘোরার শখ হয়, হয় না?
আমার ধারণা এই ঘটনাটা যতটা অর্থনৈতিক ঠিক ততটুকুই বাংলাদেশের নিউরোসার্জারি কালচার আর ট্রেইনিং-এর ফল! এও সত্য, বাংলাদেশের রোগীর লোকজনেরা ব্রেইন হেমোরেজ রোগীর অপারেশন চায়! এক সার্জন না-বললে এরা আরেক সার্জন এর কাছে যাবে! 
...
উপরের রোগীর চিকিৎসায় ইউনাইটেড হাসপাতালে যতটা ভুল ও অন্যায় করা হয়েছে এই একই রোগীকে বিএসএমএমইউ-এর নিউরোসার্জন ও আই সি ইউর চিকিৎসকরা ততটাই আন্তরিকতার সাথে সঠিক ও কোম্প্যাসনেট চিকিৎসা দিয়েছেন!
কিন্তু যতদিন ইউনাইটেড হাসপাতালের ঘটনার মতো অন্যায় চলতে থাকবে রোগীর সাথে, বিএসএমএমইউ এর চিকিৎসকদের মতো শত আন্তরিকতা সত্বেও দিন-দিন ডাক্তার আর রোগীর মধ্যে দূরত্ব বাড়তেই থাকবে!"

Saturday, January 18, 2020

কোবতে!




১২
"কাল বিকেলে নাকি আজ সকালে
ন্যানো ড্রাইভটা ফেলেছি হারিয়ে
যেটায়- রাখা ছিল ৭০০ কোটি 
মানুষের ডিএনএ প্রোফাইল"


১০.
"যে পাহাড়টা স্থির দাঁড়িয়ে
সে কিন্তু আমায় দেখে ভাবে,
কী অস্থির এই মানুষটা-
এক জীবনে এ অর্থহীন
ছোটাছুটির কী এক মানে!"


১৭

"বিরক্তিকর মুচমুচে রোদে ভাজা হতে হতে,
আকাশমেঘ গড়িয়ে লেপ্টে থাকে স্যান্ডেল পিচে-
সেদ্ধ বৃষ্টি অনবরত সাঁতরায় ধমনিতে।"


১১.
"বাবার সেই চাদরটা, যেটা
বাড়তি উষ্ণতা দেয় আমায়।
সেই চাদরটাই গায়ে ছিল
যেদিন চটিটা পায়ে দিলাম।
ওই চটিটা, যেটা দমাদম
সুর-তান তোলে করপোরেট
ঘোঁৎ-ঘোঁৎ শুয়োরটার পিঠে।"






Sunday, January 12, 2020

দলবাজ এবং 'পাবলিকবাজ'!

সিভিল সার্জন শাহ আলম হাসপাতালের ভেতরে বিকট শব্দে 'বাজাবাজি' খেলা এবং 'গানাবাজানা' নিয়ে সাক্ষাৎকারে যেটা বলেন এর মোদ্দা কথা হলো, এই সব এক প্রকারের মিডিয়ার মিডিয়াবাজি- তিলকে তাল তালকে তিল করার খেলা কিন্তু এই সব দলবাজ মহোদয় ভুলে যান 'পাবলিকবাজ' পাবলিকের কথা। আফসোস, বড়ই আফসোস!