Saturday, May 30, 2020

বোতলে ভুল ওষুধ!

অধ্যাপক ডাঃ এবিএম আবদুল্লাহ মহোদয়ের নিকট সবিনয়ে প্রশ্ন, স্যার, আপনি মাইক্রেফোন টেস্টিং ওয়ান-টু-থ্রি বলা মাত্রই মস্তিষ্ক প্রক্ষালন করে শব্দ উৎক্ষিপ্ত-বিক্ষিপ্ত-প্রক্ষিপ্ত করা শুরু করে দেন নাকি!
আহা, তার পূর্বে কী আপনি চোখ বুজে একটুও চিন্তা করেন না যে আপনার মত ডাক্তারদের হাতে আমাদের প্রাণ! এই গ্রহের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষটাও আপনার মত ডাক্তারের সামনেই নগ্ন কাতর হয়ে শুয়ে থাকে, হাত-পা ছড়িয়ে। তখন তারচেয়ে অসহায় একটা পিঁপড়া-মাছিও না।
ভিডিও ঋণ: ইনডিপেনডেন্ট টিভি
আমাদের দেশের এই একটা ভঙ্গি, সামাজিকমন্ত্রী কথা বলবেন, ফসল নিয়ে আবার সামরিকমন্ত্রী কথা বলবেন সাহিত্য নিয়ে। এই দেখে-দেখে আমরাও শিখে গেছি। করোনা নিয়ে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হরদম কথা না-বললেই ভাল। আচ্ছা বলবেন, বেশ কিন্তু এই ভদ্রলোককে দেখেছি মিডিয়ায় ঘুরেফিরে আসছেন এবং বৈঠকখানার আড্ডার ভঙ্গিতে হাত নেড়ে-নেড়ে চটুল মেজাজে যেভাবে আমাদেরকে অভয় দিচ্ছেন প্রকারান্তরে এটা আমাদের কফিনে পেরেক ঠোকার মতই!
আর মিডিয়া বাবাজীরা আপনারা ঘুরেফিরে এই ভদ্রলোকের কাছেই কেন? তিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এটাই কী বাড়তি যোগ্যতা!

এই বিষয়ে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের চেয়ে কথা বলাটা জরুরি ছিল যাদের, এর একটা লিষ্ট আমার ডাক্তার বন্ধু তাড়াহুড়োয় যেটা দিয়েছেন:
1. virologist
2. Epidemiologist
3. Respiratory medicine specialist
4. infectious disease specialist
5. public health specialist with research background
6. social science scientist

তো, আমাদের এই ডাক্তার মহোদয় 'আল্লাহর গজবই দিছে একটা..., বলে অবলীলায় বলছেন:
১. এই ভাইরাসের ক্যারেক্টার হল শীতে হয়...এই ভাইরাস গরমে বেশি দিন বাঁচে না। এই ভাইরাস কিন্তু আমাদের দেশে বেশি দিন টিকতে পারবে না।
২. এই ভাইরাস ২/৩ ঘন্টার বেশি বাঁচে না।
৩. এতে মৃত্যুর হার খুব কম শতকরা ২ ভাগ।

আচ্ছা, মৃত্যুর হার ২ এই হুজ্জতে গেলাম না যদিও এখন পর্যন্ত মৃত্যু হার গ্লোবালি ৬ প্লাস।আর মহোদয়, এই ভাইরাস ২/৩ ঘন্টার বেশি বাঁচে না- এই যে পাইকারি একটা কথা বলে দিলেন! কীসের উপর কতক্ষণ? ফাইবারে, প্লাস্টিকে বা ধাতব কোনও বস্তু অথবা কাপবোর্ডেই কতক্ষণ? এটা ব্যাখার কষ্টে তিনি আর যাননি!
ভয়াবহ বিষয়টা হচ্ছে তিনি এমন একটা সময়ে এই কথাগুলো বলছেন যখন এই গ্রহের, যারা সরাসরি এই রোগের মেজাজের সঙ্গে যুক্ত তাঁরা আমতা-আমতা করে কথা বলছেন। কারণ এই রোগটার আচরণ, তার আক্রমণ করার ভঙ্গি, প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে ভুলভাল বুঝিয়ে শরীরের দখল নেয়া, তার মিউটেশন করার দ্রুততা,  রক্তে চট করে জমাট বাঁধার ক্ষমতা সম্বন্ধে তখন কারও তেমন বিশেষ জানা নেই।

এশিয়ায় ভাইরাসের বিস্তার নিয়ে হার্ভাড মেডিকেল স্কুলের গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, যতটা ভাবা হয়েছিল, ভাইরাসের ওপর আবহাওয়ার প্রভাব তার চেয়ে কম। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাপমাত্রা ছাড়াও আরো অনেক কিছুর ওপর কোভিড-১৯ এর বিস্তার নির্ভর করে। ফলে মানুষের আচরণের ওপর ভাইরাসের বিস্তারের বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে। তারা বলছেন, চীনের জিলিন ও হেইলংজিয়াঙ্গ এর মতো ঠাণ্ডা এলাকায় যেমন ভাইরাসের বিস্তার দেখা গেছে, তেমনি গুয়াংজি এবং সিঙ্গাপুরের মতো গ্রীষ্মপ্রধান এলাকাতেও সেরকম বিস্তার দেখা গেছে। সুতরাং বসন্ত বা গ্রীষ্মের মতো আবহাওয়া এই কোভিড-১৯ রোগ সংক্রমণ ঠেকাতে ততটা কার্যকর নয়।

যেমনটা, ক্যারোলিনস্কা ইন্সটিটিউট অফ স্টকহোমের ইনফেকশাস ডিজিজ কন্ট্রোলের অধ্যাপক জ্যান আলবার্ট বলেন, ''এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই ভাইরাসটির ওপর তার প্রভাব পড়ে কিনা। আমরা নিশ্চিতভাবে সেটা জানি না, কিন্তু আমাদের মনে হচ্ছে যে, এটা হতে পারে।"
ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক গবেষণায় নির্দিষ্ট আবহাওয়ায় করোনাভাইরাসের সক্রিয় হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। ...প্রাথমিক গবেষণা থেকে জানা গেছে, ভাইরাসটি শীতকালে সক্রিয় হয়। তবে, গরম আবহাওয়ায় কতখানি বিস্তার করবে সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

বাংলাদেশের শীর্ষ ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, "অনেকে মনে করছেন গরম বাড়লে করোনা ভাইরাস কমে যাবে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ অনেক গরম দেশেও ভাইরাসটির আক্রমণ দেখা যাচ্ছে। সুতরাং গরম পড়লে করোনা ভাইরাস কমে যাবে এ ধারণা ঠিক নয়।"
মূল কথা হচ্ছে তখন তেমন কেউই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছিলেন না কারণটা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। এই করোনা নচ্ছারটা সম্বন্ধে বিশেষ কিছুই জানা ছিল না।

গার্ডিয়ানের [] সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এঁরা যা বললেন:
Brittany Kmush, a public health expert at New York's Syracuse University, who was not involved in the UM study, said that "influenza and other coronaviruses that infect humans tend to follow a seasonality, with cases peaking in the winter months in the northern hemisphere.However, we don't know if this virus will follow a similar seasonality pattern.
David Cennimo, who studies infectious diseases at Rutgers New Jersey Medical School, said that many experts "hope -- and I think the correct word is hope -- that the summer will push down the case numbers," though he added that "the data from tropical countries may rain on this hope somewhat.
Dr Marc Lipsitch, professor of epidemiology and director, Center for Communicable Disease Dynamics, Harvard TH Chan School of Public Health "It’s really clear that warmer weather does not stop the transmission or growth of the virus. That’s clear from Australia, Singapore and Hong Kong. Singapore and Hong Kong have kept it to a large degree under control, but that’s with incredibly intense control measures. There’s no question that coronaviruses are capable of transmitting in hotter, humid climates.
Dr Lee W Riley, professor and chair of the Division of Infectious Disease and Vaccinology, UC–Berkeley School of Public Health "It’s a completely new virus, so it’s really hard to know what would happen. If you try to extrapolate from [related] viruses, then we don’t expect for this new coronavirus to completely disappear by the summer.
Dr George Rutherford, professor of epidemiology and biostatistics, director, Prevention and Public Health Group Thinking that it’s magically going to go away in April or May or whenever is just that – magical thinking. The projections show quite a bit of transmission out through the summer.

পরিশেষে সবিনয়ে বলি, আপনি টোলের পন্ডিত বা মোল্লা না যে যা পড়ে এসেছেন এরপর আর পৃথিবী সম্বন্ধে কোন খোঁজ-খবর রাখবেন না:


সহায়ক সূত্র:১. The Guardian 

1 comment:

সাইয়েদ said...

হোয়াট আ বাশ!