Search

Showing posts with label নিজস্ব ভাবনা. Show all posts
Showing posts with label নিজস্ব ভাবনা. Show all posts

Wednesday, May 3, 2017

আপনার জন্য, কেবল আপনারই জন্য...।

আপনি আপনার ব্যক্তিগত কারণে স্কুলের জন্য আর টাকা পাঠাতে পারছেন না, এটার উত্তর লিখব-লিখব করে আর লেখা হয়ে উঠছে না- অমানুষ একটা, আমি, বুঝলেন!
ভাইরে, দেরিতে উত্তর লেখার জন্য সলাজে ক্ষমা চাচ্ছি্- হাঁটু ভেঙে। অন্তত দুঃখের একটা চিহ্ন :( লিখে দিয়েও দায় এড়াতে পারতাম- আসলে আপনাকে কেবল এক লাইনে লিখে দিলে বড়ো অন্যায় হয়।

যে মানুষটা বছরের-পর-বছর ধরে পরম মমতায় স্কুলের খরচ চালিয়ে গেছেন তাঁকে দু-চার লাইনে কেবল এটা লিখে দিলাম, ’ওকে বা না ভাই, কোনও সমস্যা নাই, আচ্ছা…’ বলে হাঁই তুললাম। এ হয় না। কিন্তু কী করব বলেন, এখন যে লিখতে বড়ো আলসেমী লাগে রে, ভাই।
আপনি হয়তো লক্ষ করেছেন কয়েক মাস ধরে কিছুই লেখা হয়ে উঠেনি! যে আমি এক রাতে ‘কনকপুরুষ’ নামে গোটা একটা উপন্যাস লিখে ফেলেছিলাম সেই আমার এক লাইনও লিখতে ইচ্ছা করে না, কী আজব যন্ত্রণা একটা! নষ্ট স্রোতের নষ্ট আঙ্গুল! আমার সম্ভবত আঙ্গুলে পচন ধরেছে। বলা হয়ে থাকে মানুষের পচন শুরু হয় মস্তিষ্ক থেকে আর লেখকের আঙ্গুল থেকে।

আচ্ছা থাকুক এইসব হাবিজাবি কথা…। এটা কিন্তু ঠিক আপনার সহৃদয়তা ব্যতীত সামনের দিনগুলোতে বিকট সমস্যা হবে কিন্তু আমি বিশ্বাস করি টানেলের কোথাও-না-কোথাও আলো থাকে, থাকতেই হয়; এর বিকল্প নেই। এই সংকটেরও একটা সমাধান হবে। নইলে এই ‘হতভাগা’ (!) বাচ্চাগুলোর গতি কী!
আচ্ছা বলেন তো এই দীর্ঘ সময় আপনার মমতার কথা কেমন করে বিস্মৃত হই! স্কুলের নাম করে আপনি যে টাকা পাঠাতেন কেবল কী স্কুলের খরচেরই যোগান হতো? ওখান থেকেই খানিকটা এদিক-ওদিক করে কত কিছুই না করা হতো। আপনি কখনও নাম প্রকাশ করার অনুমতি দেননি আজও আমি সেপথ মাড়ালাম না। কিন্তু আজ এই সব আপনার খানিকটা জানা প্রয়োজন।
ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই। এই ছেলেটার নাম আকাশ। বাহ, কী চমৎকার নাম, না? 
এক হাত এক পা নাই এই ছেলেটাকে যখন আমি স্টেশনে পাই তখন এ ভাত খাচ্ছিল।
নিরাপদ দুরত্বে থেকে এর খাওয়া দেখি। কিন্তু খাওয়া শেষ করে এই ছেলেটি যখন প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে যাচ্ছিল তখন আমি কাতর হয়ে এর কাছে জানতে চাই, ‘তুমি ক্রাচ দিয়ে হাঁটতে পারো না’? ছেলেটি উদাস হয়ে বলে, ‘ক্রাচ পামু কই’?

আপনার পাঠানো স্কুলের টাকা থেকে কষ্টেসৃষ্টে বাঁচিয়ে কিছু ক্রাচ আমার কাছে সবসময়ই মজুত থাকে। তাই আমি অনায়াসেই তাকে বলি, ‘আচ্ছা, আমি তোমাকে ক্রাচ যোগাড় করে দেব’।
আপনি জেনে অবাক হবেন আকাশ নামের এই ছেলেটার কিন্তু এক জোড়া না কেবল একটাই ক্রাচেরই প্রয়োজন, যার দাম মাত্র দুশো টাকা! একজোড়া ক্রাচের দাম ৪০০ হলে একটার দাম তাই হয়। কিন্তু এখানেও খানিকটা গল্প আছে। আজ গল্পের ঝাঁপিটা খানিকটা উপুড় করে দেই। ঢাকা ব্যতীত ক্রাচ নামের এই জিনিসটা পাওয়া যায় না, ঢাকার আবার সব জায়গায় না। নির্দিষ্ট জায়গা থেকে কিনতে হয়। অথচ আমার তেমন-একটা ঢাকা যাওয়া পড়ে না- শেষ আমি ঢাকা গেছি বছর দুয়েক পূর্বে! তাহলে? উপায়!

আসলে এটা একটা টিম-ওয়র্ক, আমার ভূমিকা এখানে একেবারেই গৌণ। এখানে আমি কেউ না, কিছু না- মিছরির পুতুল। সব তো আপনারাই করে ফেলেন! যেমন একজন অ্যাম্বুলেন্সচালক আছেন। কালো-কালো মায়াভরা দুবলাপাতলা এই মানুষটাকে বলে দিলেই তিনি ঢাকা থেকে ক্রাচ নিয়ে আসেন। অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়ার সময় যন্ত্রণাকাতর রোগী নিয়ে যান শুইয়ে আর আসার সময় শুয়ে থাকে ক্রাচ, চুপচাপ, পাশাপাশি। এখানে চারশো টাকায়ই হয়ে যায় বাড়তি কোনো টাকার প্রয়োজনই হয় না!

যাই হোক, টাকা না-পাঠাবার কারণে আপনি মনোকষ্টে ভুগবেন না অস্থির হবেন না, প্লিজ। আমি ঠিক-ঠিক কোনও-না-কোনও একটা উপায় বের করব। এবং এটাও আমার প্রবল বিশ্বাস, আমার মৃত্যুর পূর্বে একটা ‘হোম’ করে যাব, যাবই। স্কুল চালু করার পূর্বে এটাই আমার স্বপ্ন ছিল; আমি সেই স্বপ্নটা লালন করি, আজও, এখনও।
আফসোস, ছোট্ট করে হলেও একটা হোম চালু করার জন্য নামকরা কত মানুষের হাতেপায়ে ধরেছি কিন্তু ফল 'আ বিগ জিরো'। এখন ঠিক করেছি এই বিষয়ে কক্ষণও কারও কাছে আর কোনও সহায়তা চাইব না। শোনেন, কেবল আপনাকে চুপিচুপি বলি একতাল মাটি বেচে দেওয়ার তালে আছি চালবাজ লোকজনেরা যার নাম দিয়েছে সম্পত্তি! কাজটা হয়ে গেলে ইয়ালি বলে লাফিয়ে পড়ব।
কেবল মনে হয় এটা এই স্কুলে যে বাচ্চারা পড়ে এদের দু-পাতা পড়িয়ে কী লাভ? যখন এই স্কুলেই পড়ে এমন একটা উঠতি বয়সের মেয়েকে স্টেশনে ঘুমাতে হয়, অরক্ষিত। বা যখন এই ‘রাজিব’ নামের ছেলেটি অবলীলায় বলে, ’মা একদিকে বাইর হয়া গেল আর আমি একদিকে...,’ তখন এই 'দু-পাতা পড়া' এদের কী কাজে লাগবে?
এদের জন্য একটা হোম নামের আশ্রয়স্থল না-করে আমার কোনও উপায় নেই, বাহে।

এই গ্রহের যেখানেই থাকুন না কেন এই শিশুগুলোর ব্লেসিংস আপনাকে তাড়া করবে...। ভাল থাকুন, অনেক।

Saturday, July 2, 2016

আ হিউম্যান বম্ব!

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “…পরে তাকে নিয়ে আরও লোকজন ধরতে গেলে সে (ফাহিম)ক্রসফায়ারে বা যেকোনো কারণে হোক মৃত্যুবরণ করেছে। …ফাহিমের জন্য খালেদার এত মায়াকান্না কেন?...” (প্রথম আলো, ৩০ জুন ২০১৬)

ক্রসফায়ার বা যেকোনো কারণে…”। ‘যেকোনো কারণ’ নিয়ে খানিকটা সংশয় তাঁর মধ্যে কাজ করলেও আমার ক্ষীণ ধারণা ছিল ক্রসফায়ারের বিষয়টা হয়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জানা নেই কিন্তু ধারণাটা ভুল। তিনি বিলক্ষণ জানেন।
হায় রাজনীতি- খালেদা জিয়াকে পরাস্ত করার জন্য তিনি এই কথাটা বলতে গিয়ে এর ভয়াবহতা উপেক্ষা করলেন! এমনিতে ফাহিমের জন্য খালেদা জিয়ার দয়ার্দ্র মনোভাব নিয়ে আমার বিশেষ কাতরতা নেই। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে জরুরি না।


খালেদা জিয়া কতটা ঘায়েল হলেন জানি না কিন্তু প্রধানমন্ত্রী প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য যে পথ বেছে নিলেন তা আমাদেরকে ভীত আতঙ্কিত করে। সরকারী পোশাক গায়ে থাকলেই কাউকে হত্যা করা যায় না। এই এখতিয়ার কেবল আইনের তাও যথাযথ নিয়ম পালন করে। ফাহিম জঘন্য অপরাধ করেছে এটা নিয়ে কারও দ্বিমত নাই যেমনটা অমত নাই তার প্রাপ্য শাস্তি দেওয়া নিয়েও। কিন্তু কোনও প্রকারেই এটা বিস্মৃত হওয়ার সুযোগ নাই যে ফয়জুল্লাহ ফাহিমের মৃত্যু হয়েছে সরকারী হেফাজতে। সেটা ক্রসফায়ার নাকি এঙ্গেলফায়ার সেটা মূখ্য না। তাকে রক্ষা করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে যেমনটা কোনও সরকারের হেফাজতে জেলখানায় থাকা কাউকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়াও।
ছবি ঋণ: নিউজসময়
এমনিতেও ফাহিমকে বাঁচিয়ে রাখাটা অসম্ভব জরুরি ছিল কারণ ফাহিমকে নিয়ে বিস্তর কাজ করার সুযোগ ছিল। এমন একটা ছেলের মনোজগৎ এলোমেলো হয়ে যায় কেমন করে? এই কাজের ক্ষেত্র গবেষক, মনোবিদ, লেখকের। ফাহিমের মত অল্পবয়সের মেধাবী ঘোরপ্যাঁচ নেই এমন একটা ছেলে কেমন করে ক্রমশ দানব হয়ে উঠে!পরিণত হয় একটা চলমান হিউম্যান বম্ব! জানাটা অতীব জরুরি, তার মনোজগত বদলে যাওয়ার কী সে রহস্য। তার মগজের খাঁজে খাঁজে উঁকি দিয়ে এটা দেখার প্রয়োজন ছিল।
শত-হাজার ফাহিমের আগমণের পথ খোলা রেখে একজন ফাহিমকে নিচিহ্ন করে দিলেই কী না দিলেই কী…!

Saturday, March 8, 2014

বাঘের দুধের পায়েশ




এই সাইনবোর্ডের শানে-নজুল কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না! দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাইজান, আগামাথা তো কিছুই বুঝতাছি না?
দোকানদার অতি যত্ন সহকারে বুঝিয়ে দিলেন। বোদ্ধু শাহ হচ্ছে নাম। হযরত যোগ হয়েছে।

আমার বিস্ময়ের ঘোর কাটে না। আবারও জানতে চাই, বাঘ সোয়ারী-এর ঘটনাটা একটু খুলে বলেন তো?
আমার অজ্ঞতার কারণে দোকানদার আমাকে বুদ্ধু ঠাউরালেন সম্ভবত। এমন সহজ বিষয়টা বুঝতে পারছি না! তিনি বিরক্ত হয়ে বললেন, আপনে বাঘ চেনেন না?
আমি গা দুলিয়ে বলি, চিনি, বিলক্ষণ চিনি
দোকানদারের উষ্মা এবার আর গোপন থাকে না, চিনলে আবার জিগান ক্যান! হুজুর বোদ্ধু শাহ বাঘের উপর সওয়ার হয়ে চলাফেরা করতেন বইলাই ওনার নাম হইছে, হযরত বোদ্ধু শাহ বাঘ সওয়ারী (রহঃ)

আমি আমার নির্বুদ্ধিতার কারণে পারলে গলে যাই আর কী! তবুও চিঁ চিঁ করে বলি, হযরত বোদ্ধু শাহ এবং বাঘ সোয়ারী-এর মাঝে একটা কমা দিলে বা বাঘের ছবি দিলে তাহলে আর এই সমস্যাটা হতো না।

ভাগ্যিস, এই সময়ে এটা হলে বাঘ বাঁচাও লোকজনেরা বাঘের প্রতি অনাচারের কারণে তেব্র পরতিবাদ করতেন। সরকার বাহাদুরও বাঘের প্রতি এই অন্যায়ের কারণে ফাটকে আটকাতেন। ওই সব উঁচু কথা নিয়ে আমার সমস্যা না আমার মাথায় যেটা ঘুরপাক খাচ্ছে ওই বাঘের খাওয়া-খাদ্য কি ছিল? বাঘ তো আর ঘাস খায় না যে মুঠো-মুঠো ঘাস ফেলে দিলেই হলো!
আর বাঘের লেজ দিয়ে কান চুলকাবার যে সমস্ত কথা শুনি বা বাঘের দুধ মেলে তা পূর্বে বিশ্বাস করতাম না কিন্তু এখন আর সেই সন্দেহটার ছিটেফোঁটাও আমার মধ্যে নেই। বাঘের দুধ কেবল মেলেই না বাঘের দুধের পায়েশ বা হালুয়া কেউ খেলেও আর যে-কেউ অবাক হোক অন্তত আমি হই না।     

Monday, May 25, 2009

তাতা থৈ থৈ

"...নাচে জন্ম, নাচে মৃত্যু, পাছে পাছে
তাতা থৈ থৈ, তাতা থৈ থৈ, তাতা থৈ থৈ...।"
(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর/ শ্রাবনগাথা)

নাচে রেশমি, নাচে নার্গিস, নাচে আইলা...নাচে আইলা রে।
কোন এক উপ-কথায় পড়েছিলাম। এক লাস্যময়ী নাচুনের নাচ ছিল লা-জবাব! যে তার নাচ দেখত সে আর বাঁচত না। তবুও তার নাচ দেখার লোকের অভাব হত না! ভয়ংকর সম্মোহনী নাচ বলে কথা!

রেশমি, নার্গিস,
আইলা এরাও যেমন তেমন নাচুনে না- আইলাকে নিয়ে ভয়ে ভয়ে আছি, কেমন নাচা নাচে। এরা সাধারণ নর্তকি না, বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া একেকটা ঘূর্ণিঝড়ের নাম। একেকটা ঘূর্ণিঝড় দেশের উপর দিযে বয়ে যায়- গোটা দেশ লন্ডভন্ড করে তার ছাপ রেখে যায়।
আল্লা মালুম, কার উর্বর মস্তিষ্ক থেকে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের এমন নাম বেরিয়েছে? তাকে পেলে খোলা মাঠে এদের নাচ দেখার জন্য বসিয়ে দিতাম। বাওয়া, বইসে বইসে নাচ দেখো আর মাথা দোলাও।

অনেকে উদাস হয়ে কোথাও থেকে কোট করবেন, বলবেন, বাপু, নামে কী আসে যায়।
তাও ঠিক। কিন্তু ধরুন, আপনাকে একজন বিমর্ষ মুখে বলল, জানেন, আজ না টুনটুনি আসছিল।
আপনি গুরুত্বহীন ভঙ্গিতে বললেন, তো?
টুনটুনি হচ্ছে একটা বুলডজারের নাম। এই বুলডজার সব ভেঙ্গে সাফ করে দিয়েছে। বা, আপনি একটা হাড় জিরজিরে কুত্তার নাম রাখলেন, বাঘা। এই নিয়ে অনেকের হাসির উদ্রেক হয়ে বলে বসলেন, 'ছাল উডা কুত্তা, বাঘা তার নাম'। ভাবুন দেখি, বড় একটা গোলমাল হয়ে যায় না?

*যখন এ পোস্ট লিখছিলাম, তখন পর্যন্ত প্রায় নিশ্চিত ছিলাম, আইলা খুব একটা ভয়ংকর হয়ে উঠবে না। কিন্তু আমার ধারণা ভুল, ঠিকই সে তার নৃশংসতার ছাপ রেখে গেছে। এবং বরাবরের মত যা হওয়ার তাই হলো। কোন ধরনের প্রস্তুতি সরকারের ছিল না।
মিশন পসিবল ব্যতীত এতো মৃত্যু রোখা যাবে না। নতুন করে এইসব লিখতে ইচ্ছা করছে না। ফি বছর লোক মরবে আর প্রতিবার আমার মত শস্তা কলমচী কলম চালাবে, এটা হয় না।
.........



*
সিডরের, ইউটিউবের, এই ভিডিও ক্লিপিংস অলৌকিক হাসানের ব্লগ থেকে নেয়া।
**ছবিসূত্র: রাশেদ মাহমুদ, প্রথম আলো

Friday, July 6, 2007

শুধু একবার আমার মাথায় হাত রেখে দিলে

মাহবুব ভাই। 

হয়তো অন্যদের চোখে আপনি খুব সাধারণ (!) একজন মানুষ।
কিন্তু, আমার কাছে...! এমনিতে আমার যে বছরে জন্ম সে বছরে আপনি এয়ারফোর্সে জয়েন করেন। আপনার সময়কার কৃতি একজন ফুটবলার, আজাদ স্পোর্টিংয়ে জাতীয় দলে খেলে আপনি মাঠ কাঁপিয়েছেন। 
আমার জীবনে যতো সব সু বা ভাল প্রত্যেকটার সঙ্গে আপনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোন-না-কোনও একটা সংযোগ আছেই! আমি বারবার গর্তে পড়েছি, আপনি আমাকে টেনে তুলেছেন। আমার প্রতি অপার্থিব মমতা দেখাতে গিয়ে আপনি অন্যায় করেছেন আপনার পরিবারের প্রতি, নিজের প্রতি। 

আমার মরে যেতে ইচ্ছা করে, যখন ভাবি আপনি এই বয়সেও প্রবাসে পড়ে থাকতে হয়! কয়েকটা নোংরা কাগজের জন্য আপনাকে দেশে আনতে পারি না। অথচ দেখেন, আমি যখন ধোঁয়া ওঠা গরম-গরম ভাত খাই, নিজের বিছানায় গড়াগড়ি খাই, প্রিয় মানুষদের সঙ্গে ঝগড়া করি—তখন, আপনি প্রবাসে একাকী, নিঃসঙ্গ।
আমার বুঝি ইচ্ছে করে না, আপনাকে ঈদে এক চামচ সেমাই খাওয়াই...। 

প্রায়শ ভাবি, আপনার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা আসলে কি, কেমন? পিতা- পুত্রের, বড়ো ভাইয়ের, বন্ধুত্বের? আমি কনফিউজড, বিভ্রান্ত! এমনিতে আপনার সামনে ধুমসে সিগারেট খাই, যা তা রসিকতা করি—এডাল্ট জোকস কোন ছার!

এই আমি যে টুকটাক লেখালেখি করেছি এর পেছনেও আপনার অবদানই প্রবল। ভুলে গেছেন বুঝি, কানের পাশে সেই যে অনবরত ঘেনঘেন করতেন, 'কিছু একটা লেখেন'—'কিছু একটা লেখেন'।  আপনার যন্ত্রণায় এক সময় লিখতে শুরু করলাম। অথচ, আপনি কখনও আমার লেখার এক লাইনও পড়ে দেখেছেন বলে আমার ঘোর সন্দেহ আছে! অনেক লেখা আপনাকে আমি উৎসর্গও করেছি! এসবে কি আসলেই আপনার কিছু যায় আসে?

কিন্তু... কী একটা জীবনে আপনি আমাকে আটকে দিলেন! কী ক্ষতিটাই না করে দিলেন—আমার জীবনটা এলোমেলো হয়ে গেল! আমার প্রিয় মানুষ হাসপাতালে অথচ আমি আমার লেখার বানান সংশোধন করছি! আহা, উপায় ছিল না যে তখন। বইমেলায় বই বেরুবে, প্রকাশকের তাড়া—দ্য শো মাস্ট গো অন!

ছি, এটা একটা জীবন হলো! অথচ এই সুতীব্র বেদনার কথাগুলো আমার সেই সময়কার লেখাগুলো যিনি পড়বেন, তাঁরা কখনোই জানবেন না, আসলে তাঁর জানার প্রয়োজনও নেই!
মজার ব্যাপার হচ্ছে, ওই লেখাগুলো ছিল 'ফানি টাইপ' লেখা। পরে অনেকেই বলেছেন, আপনি যে একটা ভাঁড়, এতে অন্তত আমাদের আর কোন সন্দেহ নাই।
হাসপাতালে ভর্তি ওই প্রিয় মানুষটার সঙ্গে চোখ মেলাবার ক্ষমতা আমার কই? অথচ তিনি রাগারাগি করলে ভাল হতো। বড়ো-বড়ো চোখের নির্বাক সেই ভঙ্গি আমি ষ্পষ্ট পড়তে পারছিলাম, আমার প্রাণের চেয়ে তোমার লেখালেখি বড়ো হলো কোন যুক্তিতে...!

ইশ্বর, ওই সময় নিরুপায় আমি, যখন বানানগুলো সংশোধন করছিলাম, আমার চোখের জলে অক্ষরগুলো ঝাপসা হয়ে আসছিল। এটা বললেও আজ আর কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না...।

যাই হোক, সেই যে আপনি আমার ঘাড়ে লেখালেখির সিন্দবাদের ভূতটাকে আয়েশ করে বসিয়ে আলগোছে সরে পড়েছিলেন, এই সিন্দবাদের ভূতটাকে আমি তীব্র অনীহায়, অনিচ্ছায় দিনের-পর-দিন বয়ে বেড়াচ্ছি। কতোবার চেষ্টা করেছি লেখালেখির এই ভূতটাকে ঝেড়ে ফেলতে। মাহবুব ভাই, আপনি আমার বড় ক্ষতি করে দিলেন, জীবনটাকে এলোমেলো করে দিলেন।
তবুও আমাকে যদি অপশন দেয়া হয়, আমি কি এই গ্রহের সবচে পবিত্র স্থান স্পর্শ করতে চাইবো, নাকি আপনাকে...?

মাহবুব ভাই, দ্বিতীয়বার চিন্তা না-করে আমি আপনাকে স্পর্শ করার সুযোগ বেছে নেব, বারবার।
এ কেবল আমার বিশ্বাস না, আমি জানি, আপনি শুধু একবার আমার মাথায় হাত রেখে দিলে, আমি পরম নিশ্চিন্তে মরতে পারবো, আই বেট...।

* এটা মৃত্যুর (**) কিছু দিন পূর্বের ছবি:
**মৃত্যু'র আড়ালে কেউ-কেউ খোলস বদলান মাত্র...!

Thursday, July 5, 2007

সত্যের মত পাজি আর নাই

আমার স্পষ্ট মনে আছে, তখন হুমায়ূন আহমেদের তুমুল জনপ্রিয় এইসব দিনরাত্রি দেখাচ্ছিল। হুমায়ূন আহমেদ এক সাক্ষাৎকারে বললেন, আমার একটা কালার টিভি দরকার- এই টাকা হয়ে গেলেই...।
মোদ্দা কথা, ধারাবাহিকটা লিখছেন কালার টিভির প্রয়োজনে। এটা পড়ে নিমিষেই আমার বুকটা ফাঁকা হয়ে গেল। কেবল মনে হচ্ছিল, মানুষটা কী মানুষ, না পিশাচ!
আজ বুঝি লেখকদের কেবল কপকপ করে জ্যোৎস্না খেয়েই দিন যায় না। এবং লেখকদের কোন অধিকার নাই তার প্রিয় মানুষদের সামান্য সাধ-আহ্লাদগুলোর জলাঞ্জলি দেয়ার।

আজ তাই আমার জানতে বাকি নাই লেখকের তুচ্ছ চাওয়া-পাওয়ার কথাটা চলে এলে একজন পাঠক কেমনটা বোধ করেন। লেখকের ধপধপে ইমেজে ছোপ ছোপ দাগ পড়ে যায়। মনে হয় মানুষটা কী লালচি-লোভী!
কি বলেন বাহে, হয় না, হয়?

আমাদের দেশে লেখকদের তার পাওনা-প্রাপ্যটুকু দেয়ার মনোভাব এখনও গড়ে উঠেনি। এমনকি ন্যূনতম সম্মানও। কোন পত্রিকায় লিখলে পত্রিকাওয়ালাদের ভাবখানা এমন, বাহে, এখানে যে লিখতে দিচ্ছি এই তো ঢের।
এটা আমরা মনে রাখার চেষ্টা করি না, কখনও পত্রিকার কারণে একজন লেখক দাঁড়িয়ে যান, তেমনি একটি পত্রিকাও লেখককে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

সালটা ৯২/ ৯৩। আমি তখন লিখছিলাম, এক্ষণ বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত (এদের দাবীমতে) একটি দৈনিকে। ‘একালের রূপকথা’ নামে লিখেছিলাম প্রায় দেড় বছর। ফি হপ্তা, প্রতি সপ্তাতে ১টা করে লেখা। প্রত্যেক লেখার জন্য পেতাম ৫০ টাকা করে। মাসে কত হতো, ২০০?
মজার ব্যাপার হচ্ছে টাকাটা আমাকে পাঠিয়ে দিলেই হয়। উহুঁ, সশরীরে নেয়ে আসতে হবে। হায়রে সশরীর! বডিটাকে ঢাকা পর্যন্ত নেয়াটা কী কম ঝক্কির, কম খরুচে ব্যাপার! তো, দুই তিন মাসের টাকা জমিয়ে গেলাম।
আবার সুকঠিন নিয়ম ছিল, মাসের ২১ তারিখ থেকে ২৪ তারিখে যেতে হবে। ২০ তারিখে গেলেও হবে না, আবার ২৫ আরিখ গেলেও হবে না। তো, গেলাম নির্দিষ্ট তারিখেই। হায়, তখন যদি বলা হয় ফান্ড নাই, কেমন লাগে? কি জানি কার কার কাছে ভাল লাগে—আমার নিজেকে ভিক্ষুক-ভিক্ষুক মনে হত!

আমার একবার মেজাজ খুব খারাপ হলো, রাগে গা জ্বলে যাচ্ছিল। আহা, ফকিরের আবার রাগ!
ওই পত্রিকার জন্যই, এই পত্রিকাকে নয়েই আবার একটা লেখা লিখলাম, ‘সহনশীল প্রাণী’ নামে। পত্রিকাওয়ালারা খুব রাগ করলেন। বিভাগীয় সম্পাদক বললেন, এইটা কি লিখেছেন? সম্পাদক সাহেব খুব রাগ করেছেন।
বিভাগীয় সম্পাদক নামের মানুষটাকে আমি পছন্দ করতাম, কথা হত খোলাখুলি। আমি বললাম, যা লিখেছি তা কি অসত্য?
বিভাগীয় সম্পাদক মিনমিন করে বললেন, তা না, কিন্তু ভাইরে সব সত্য কি আমরা বলতে পারি! আর আপনি এইসব লিখলে আপনার লেখা কি আর ছাপা হবে? ক্ষতিটা কার হবে, আপনার হবে না? তাছাড়া আপনার সমস্যাটা কি, আপনি কী টাকার জন্য চাল কিনতে পারছেন না?

আমি মনে মনে বললাম, আমার ক্ষতি হবে, কচু- আমার মতো অগাবগা না লেখলে ঘেঁচু হবে! মুখে বললাম, চাল কেনার কথা আসছে কোত্থেকে- এটা তো আলোচ্য বিষয় না! আমার প্রাপ্যটা দেয়া হবে না কেন? আচ্ছা, আপনি কি এটা বলবেন আমায়, একজন ফটো সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছবি উঠান অথচ আপনারা তাঁর নামটা পর্যন্ত দেন না; পত্রিকার নাম দেন কেন, এর কোন উত্তর আপনাদের কাছে নাই। আছে?

সুখের বিষয়, দীর্ঘ ১ মাস পর লেখাটা ছাপা হয়েছিল। ওই সময়কার তীব্র আনন্দ আমার স্মৃতিতে এখনও স্পষ্ট। কেবল মনে হচ্ছিল মফঃস্বলের অখ্যাত একজন অলেখকের বিশাল এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিজয়।
একালের প্রলাপ থেকে ‘সহনশীল প্রাণী’ লেখাটি এখানে যোগ করছি।

"সহনশীল প্রাণী...
ভূত অপ্রার্থিব গলায় বলল, ‘এই আবর্জনা লেখক, তোকে মৃত্যুদণ্ড দিলাম। ফাঁসি-টাসি না, জাস্ট একটানে মুণ্ডুটা ছিঁড়ে ফেলব।’
একজন লেখক অখ্যাত কুখ্যাত পরের কথা, কী সীমাহীন তার ক্ষমতা। ইচ্ছে হলেই একটা চরিত্র সৃষ্টি করে হাসান, কাঁদান, বিষন্ন বোধ করলে মেরে ফেলেন। কাল্পনিক সৃষ্টির মিছে স্রষ্টার এ সম্বোধন ভালো না লাগারই কথা।

লেখক রাগ চেপে বলল, ‘ভাই ভূত, আপনি সভ্য না অসভ্য দেশের ভূত?’
ভূত দাঁতে দাঁত ঘষে বলল, ‘পেটা গাইল্যা ফালামু (এটার অর্থ হবে সম্ভবত এরকম, অমানুষিক শক্তি প্রয়োগে নাড়ী ভুঁড়ি ভর্তা করে ফেলা হবে)। রাস্কেল, ইউ নো, আমার গায়ে নীল রক্ত বইছে।’

লেখক: আ বেগ য়্যু’ পার্ডন স্যার। নীল রক্ত আপনি দেখি অতি সভ্য ভূত! তা আপনি স্যার একটু ভুল বললেন এখন আপনার ধমনীতে নীল রক্ত দূরের কথা, লাল-সবুজ-সাদা কোনো রক্তই এক ফোঁটা বইছে না।
ভূত (জাঁক করে): ইয়েস, সভ্য দেশের অতি সভ্য ভূত আমি।
লেখক: সভ্য দেশে মৃত্যুদণ্ড উঠিয়ে দেয়া হয়েছে অথচ আপনি দিচ্ছেন, এটা কি ঠিক হচ্ছে? তুই-তোকারি করছেন এটাই বা কেমন!
অতি সভ্য ভূত: তুই-তাই না করলে ভূতদের বাজার পড়ে যায়। তাছাড়া মানুষ নামধারী অমানুষদের বিচার করে মেরে ফেলতে হবে না, আশ্চর্য! পৃথিবীটাকে চমৎকার বানাতে গিয়ে মানুষকে নিষ্ঠুর হতে হয় যে।

লেখক: স্যার, আপনি বোঝাতে চাচ্ছেন মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করা। সৌদির মতো কিছু বর্বর দেশ অবশ্য এ বিষয়ে বহু এগিয়ে আছে। এরা স্টেডিয়ামের মতো বিশাল জায়গায় উন্মুক্ত শিরচ্ছেদের ব্যবস্থা করে। রেডিও টেলির্ভিশনে আগাম ঘোষণা দিয়ে টেলির্ভিশনে ঘটা করে দেখানো হয়। অবশ্য এরা দয়ার সাগর ঘোষণা করে দেয়, শিশু এবং অসুস্থ লোকজনকে যেন এ অনুষ্ঠান দেখতে না দেয়া হয়। দলে দলে লোকজন শিরচ্ছেদ দেখে। অপার আনন্দ লাভ করে।
অ. স. ভূত: ভালোই তো, অপরাধীদের জন্যে উদাহরণ সৃষ্টি হবে।

লেখক: ‘অপরাধীর পায়ের চেয়ে আইনের হাত লম্বা’ এটা অন্যভাবেও বোঝানো যায়। ভারতে অসংখ্য প্রাণ হরণকারী একজন ডাকাতকে ধরার জন্যে এক হাজার সামরিক, আধা-সামরিক কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে। একে ধরতে গিয়ে এ পর্যন্ত পঁচিশ কোটি রুপী খরচ হয়েছে। ডাকাতের মাথার দাম ধরা হয়েছে চল্লিশ লাখ রুপী। একে আটকে মেরে ফেললে কি হবে? মৃত্যুর পর সবাই আনন্দ-বেদনার ঊর্ধ্বে? হেনরী শ্যারিয়ারের ‘প্যাপিলন’-এর প্যাপীকে ‘আইলস ডু স্যালুট’-এর নির্জন সেলে যে রকম আটকে রাখা হয়েছিল ওরকম অন্ধকূপে চরম অপরাধীদের আজীবন আটকে রাখা উচিত। মাঝে মধ্যে এদের সাক্ষাৎকার নিয়ে ফলাও করে জানানো যেতে পারে। প্যাপীলনের মতো এদেরও সময় থেমে যাবে মনে হবে এ কষ্ট পৃথিবীর কষ্ট না ।

অ. স. ভূত: দরিদ্র দেশগুলোর টাকা কই, ফটাফট মেরে ফেললেই তো সুবিধা?
লেখক: যে মানুষ তার মতো কাউকে সৃষ্টি করতে পারে না সে কোন অধিকারে একটা প্রাণ নষ্ট করবে। এসব থাক, এখন বলেন, আমাকে কেন মৃত্যুদণ্ড দিলেন।

অ. স. ভূত: তুই না কি আমাদের নিয়ে যা-তা লিখিস, লোকজন হাসি-ঠাট্টা করে। জন নামের একজন ভূতকে বলেছিস ‘রাম ছাগল ভূত’। এসব কি, অন্তত ‘জন ছাগল ভূত’ বললেও তো হতো। এসব ছাই ভস্ম লিখে মাল কামিয়ে লাল হচ্ছিস।
লেখক (বেদনাহত হয়ে): স্যার-স্যার, এমন কুৎসিত ভঙ্গিতে বলবেন না। লাল-নীল জানি না এরকম একটা লেখা লিখে পাই পঞ্চাশ টাকা।
অ. স. ভূত: পঞ্চাশ টাকা দিয়ে কি করিস?
লেখক: এটা তো সম্মানী এ দিয়ে আবার কি করবো, বাঁধিয়ে রাখি। এটা সম্মানী তো তাই বিশেষ দিনে গিয়ে নিয়ে আসতে হয়। লেখককে সৌজন্য কপি দেয়ার নিয়ম নাই বিধায় ‘অসৌজন্য কপি’ কিনে নিজের লেখা নিজেই পড়ি।
এরা অন্য ভুবন থেকে এসে আলো দেখান- এতো আলো দেখিয়ে ফেলেন, আলোর ছটায় নিরূপায় হয়ে জানালা বন্ধ রাখতে হয়। প্রিয় মানুষদের ন্যূনতম সাধ-আহ্লাদের জলাঞ্জলি দিয়ে, ভরপেট খাবার খেতে, চকচকে পোশাক পরতে এদের কখনোই ইচ্ছা করে না- নিয়ম নেই। লেখক থাকবেন অপরিচ্ছন্ন, চুলে পাখি না হোক অন্তত তেলাপোকা ডিম দেবে, মদ্যপান করে ল্যাম্পপোস্ট রাস্তার মাঝখানে কেন এ নিয়ে তুমুল ঝগড়া করবেন, বড় বড় নোখ দিয়ে বেশ্যাকে খামচাবেন। এরা কপাকপ জ্যোৎস্না খান, সরষে তেলের মতো গায়ে জ্যোৎস্না মাখেন, জ্যোৎস্না রাত না হলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চান না।

তবে হ্যাঁ, পাঠকের ভালোবাসার কথা যদি বলেন, তখন পৃথিবীর সব বেদনা তুচ্ছ মনে হয়। তখন মনে হয় জীবনটা এত ছোট কেন!"

Friday, June 29, 2007

গণতন্ত্র- বড্ডো গুরুপাক!

­গণতন্ত্র ভাল জিনিস নিঃসন্দেহে, ভারী স্বাদু! সমস্যাটা হচ্ছে, স্টমাক ঘি-মাখন হজম করার শক্তি রাখে কি না? দীর্ঘ অনেক কটা বছর ধরে গণতন্ত্রের অর্থ দাড়িয়েছে ক্রমাগত নিয়ম করে হরতাল। এটা নাকি অতীব জরুরি। হরতাল ব্যতীত গণতন্ত্র নাকি নিঃশ্বাস নিতে পারে না। শাসক দল ৫ বছর শাসন করে। বিরোধী দল দিনের পর দিন হরতাল নামের হরতালের চাবুকটা সাঁই সাঁই করে চালাতে থাকে। কিন্তু শাসক দলকে ১ সেকেন্ড আগেও হঠাতে পারে না। নমুনা দেখে মনে হয়, এটা কেয়ামতের আগ পযর্ন্ত চলতে থাকবে।

কী সীমাহীন লুটপাট। ৩ কোটি টাকার গাড়ি যিনি হাঁকান তিনি কিন্তু এ দেশের সবচেয়ে বেশি করদাতা নন!
দেশের সবচেয়ে বেশি করদাতা, তিনি হলেন সাধারণ ব্যবসায়ী মি. অসিত সাহা। একজন আমলা কোটি কোটি টাকা খরচ করে এম. পি হন, ওনার নাকি দেশ সেবা না করলে চলছে না। এ দেশে নাকি ঘুসের টাকা পেলে কাঠের পুতুলও হাঁ করে। সততা নামের জিনিসটা ক্রমান্বয়ে জাদুঘরে স্থানান্তরিত হচ্ছিল। রাবারের মতো প্রসারিত হচ্ছিল ধর্মবাজরা।

একটা পরিবর্তন না এসে উপায় ছিল কি আদৌ? অনেককেই দেখি মুখ অন্ধকার করে রাখেন। তাঁরা নিবাচির্ত সরকার ব্যতীত অন্য কিছু মেনে নিতে চান না। মেনে নেয়াটা তীব্র কষ্টের, এতে আমার কোন অমত নাই। আমি একমত, এটা মেনে নেয়া কঠিন। কিন্তু বিকল্পটা কি, বলেন? ঘুরেফিরে তো ওই গুটিকয়েক দলই এই দেশ শাসন করবে। এরা তো দেশটাকে ১০০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। দিচ্ছে।

বলা হচ্ছে, এরা (কেয়ারটেকার সরকার) যে অল্প সময়ের জন্য এসেছেন এই সময়ে নির্বাচন নিয়ে মাথা না-ঘামিয়ে অন্য কিছুর চিন্তা করার অবকাশ নাই। আমার কাছে মনে হয় এমন, তাদের কাছ থেকে যেন আমরা আশা করি; গরু কিনে, ঘাস খাইয়ে, গরুর কাছ থেকে দুধ কালেক্ট করে, গরুর দুধ জ্বাল দিয়ে, দুধটা খাইয়ে দেবেন, দুধের সর দিয়ে তাদের মুখে লেপে ত্বকের জৌলুশ বৃদ্ধি করবেন। ব্যস। চক্রাকারে এই কাজটা চলতেই থাকবে। আমি তো দেখছি, এই অল্প কয় জন মানুষ দেশটা তো ভালই চালান। এখন যাদের ধরা হচ্ছে বা চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে, এদের টিকিটিও স্পর্শ করার সাধ্য কার ছিল? তবে এদের মধ্যে আমলা গামলাদের খুব একটা দেখছি না। এরা সবাই এখন সাধু হয়ে গেছেন!

আমার চোখে দেখা একটা ঘটনা এখানে শেয়ার করি। যে এডিএম সাহেব অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে দিচ্ছেন, অনেকটা গায়ের জোরে, তিনি সাধারণ একজন জেলের কাছ থেকেও ঘুস খেয়েছিলেন। এখন তার কী দবদবা!

আল্লা মালুম, এখনই এই ভাঙ্গাভাঙ্গি করার আইডিয়াটা কার মাথা থেকে বেরিয়েছে? আমি মনে করি, যাদের মাথা থেকে এটা বেরিয়েছে, এরা তাঁদের নিজেদের কফিনে পেরেক ঠুকলেন।
আমাদের জায়গা বড়ো অপ্রতুল, এটা করা প্রয়োজন ছিল অনেক পরে। সব বিগ শটদের কাবু করে, দেশের অধিকাংশ টাকা অন্যায় করে যে সব অল্প মানুষরা দখল করে রেখেছেন, সে সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে, এবং দ্রুত শ্রম বাজার সৃষ্টি করে। তারপর সরকার যদি বলতেন, প্রিয় দেশবাসী, আমরা আমাদের কাজ করেছি এবার আপনারা আমাদের জন্য কিছু কাজ করুন। দখলকারীরা সরকারী জায়গা ছেড়ে দিন। আমার মনে হয় গরীব দেশবাসীরা তখন হাসিমুখেই এই নির্দেশ মেনে নিতে বাধ্য হতেন।

ছলিম মিয়ার টং, বস্তী যে ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে, এর শেষ কোথায়! এরা কি আসলেই এর পরিণাম জানেন? এইসব ডিসিশন মেকারদের পেছনে থাকা প্রয়োজন ছিল মানবিক একজন মানুষের। যিনি একজন মানবিক মানুষের পাশাপাশি একজন মনোবিদও বটে। একেকটা পেশার লোকজনদের জন্য ভাবতে হবে একেক রকম করে। অসংখ্য পেশা থেকে একটার কথা বলি: আমরা খুব আমোদ পাই যখন শুনি বস্তি উচ্ছেদ করা হলো। একটা কাজের কাজ হলো যা হোক। শহরটা বড় সাফ সুতরো হলো।
বিশ্বাস করেন, আমি গার্মেন্টস কর্মীদের পায়ের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকি। এরা যখন হেঁটে যান, আমার কেবল মনে হয় এই দ্রুত হেঁটে যাওয়া পা আমাদের দেশটাকে সচল রাখার পেছনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের স্যারদের যে বাবুগিরি এতে এঁদের অবদান যে কী প্রবল এটা আপনারা আমার চেয়ে ভাল জানেন। এরা থাকবেনটা কোথায়, ফ্ল্যাটে? কয় টাকাই বা এঁদের বেতন? এঁদের ঘরটা ভেঙ্গে দিয়ে উল্লসিত হওয়ার অবকাশ কোথায়? ফিরে এসে যখন কেউ ওই ভেঙ্গে দেয়া বস্তীতে তাঁর প্রিয় মানুষ খুঁজে পাবেন না, যে শিশু সন্তানটি হারিয়ে গেল! এ অন্যায়ের দায় কে নেবে? যেটা করা প্রয়োজন ছিল: সমস্ত দেশে শ্রম বাজার সৃষ্টি হয়, এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো ছড়িয়ে দেয়া। নিয়ম করে দেয়া, যারা এই ধরনের প্রতিষ্ঠান করবে তাদেরকে আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, বাধ্যতামুলক। যে টাকা এঁরা বস্তীতে থাকার জন্য দিতেন এমন একটা অংক এদের থাকার জন্য নেয়া।

বাংলাদেশের লোকসংখ্যা কত এখন? অথচ ঢাকায় সম্ভবত দেড় কোটি! আমরা সব লাটিমকে বনবন করে ঘুরাচ্ছি ঢাকাকে কেন্দ্র করে, এটা ক্রমশ বন্ধ করতে হবে। যারা রংপুর, খুলনায় শিল্প প্রতিষ্ঠান বসাবেন তাদের জন্য ট্যাক্সসহ অন্যান্য কর আদায়ের বেলায় ছাড় দেয়া হলে অনেকেই আগ্রহী হবেন বলেই আমার ধারণা। এবং রাষ্ট্রীয় বিশেষ সম্মান থাকুন এদের জন্য, কত উপায়েই না এঁদের সম্মান জানানো যেতে পারে। বাহে, আইডিয়া কেউ চাইলে গাদাগাদা আইডিয়া দেয়া যাবে নে।

আসলে এই দেশের জন্য টাকা কোন সমস্যা না। বিদেশী লালমুখোদের কাছে শিঁরদাড়া বাঁকা করে কাতর হাত বাড়াবার কোন প্রয়োজনই নেই। আর আমরা এটাও জানি, জানার আর বাকি নাই এরা ১০০ টাকা দিলে ২০০টা উপদেশ দেয়। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে এদের কাছ থেকেই হেনতেন কত কিছু কিনতে আমাদেরকে বাধ্য করে। দেখুন না, হাজার হাজার কোটি টাকার রেমিটেন্স যে সব প্রবাসীরা দেশটায় পাঠাচ্ছেন। আমরা এদেরকে কি সম্মান দিচ্ছি, কচু! এদের ভোট দেয়ার অধিকারই নাই। চোরচোট্টা ভোট দিতে পারবে, এঁরা পারবেন না! প্রবাসী অনেকেই দেশে ইনভেস্ট করার জন্য মুখিয়ে আছেন, শুধু প্রয়োজন সদিচ্ছার।

যে ভদ্রলোক সবচেয়ে বেশি টাকা ট্যাক্স দেবেন তাঁদের জন্য আমরা কি করি, ঘেচু! আমার সাধ্য থাকলে তাঁকে গার্ড অভ অনার দিতাম। তাঁকে গার্ড অভ অর্ডার দেয়ার প্রস্তাব শুনে কি আপনারা ঠা ঠা করে হাসছেন? বেশ, যখন ফিফার ব্লটারকে আমাদের দেশে গার্ড অভ অনার দেয়া হলো, তখন আমরা বড়ো আমোদ পাই, না? কোন দেশ দেয়নি, ব্লটারকে দিলাম, আমরা দিয়ে দেখিয়ে দিলাম! যেন ব্লটারের ব্লাডার আমরা গার্ড অভ অনার দিয়ে দিয়ে ফাটিয়ে ফেলব! ­দেশের ট্যাক্স যদি যথার্থ ভাবে আদায় করা হয়, ভিক্ষা করতে হবে না, আমি নিশ্চিত।

অনেক হাজী সাহেবকে দেখেছি, যাকাত দেন কিন্তু ট্যাক্স দেন না। কিছুটা ভয়ে, অনেকটা অসচেতনার কারণে। যাকাতের মতোই ট্যাক্স হচ্ছে সরকারী যাকাত। একজন কখনোই নিজেকে ভালমানুষ বলে দাবী করতে পারেন না, ট্যাক্স না দিলে। সরকার এই ট্যাক্সের টাকায় রাস্তা করেন, হাসপাতাল গড়েন। ওই রাস্তায় চোর হাঁটে, সাধুও হাঁটে। চুতিয়ারা বলে, এই রাস্তা ওমুক মন্ত্রী বাহাদুর করেছেন, তমুক হাসপাতাল তমুক মন্ত্রী- যেন এই মন্ত্রী টন্ত্রীদের বাপের তালুক বিক্রির টাকা। যদি এখুনি আমার মতো সাধারন মানুষের জরুরী নিরাময়ের প্রয়োজন হলে, আমি কোথায় ছুটব, অ্যাপোলো হাসপাতালে? বিলের ধাক্কায় মৃত্যু এগিয়ে আসবে গলাগলি করার জন্য। আরও কতো ভাবে টাকার উপায় করা যায়।

আমাদের মাথাপিছু জাতীয় ঋণ কতো? অনুমান করি হাজার দশেক টাকা। আচ্ছা, আমাকে সরকার সার্টিফিকেট দিতে পারবেন, 'আলী মাহমেদ, জাতীয় ঋনমুক্ত ব্যক্তি'? তাহলে আমি টাকাটা দিয়ে দিতে চাই। কেন আমি ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াব? আমার মতো হয়তো আরও পাগল পাওয়া যাবে।
কোরবানীর সময় দেশে কতো টাকার কোরবানী হয়? অনুমান করি নিদেনপক্ষে ৫ হাজার কোটি টাকা। বেশ, অপশন রাখুন, যিনি কোরবানীর নিয়ত করেছেন তিনি ইচ্ছা করলে দেশের জাতীয় ফান্ডে টাকাটা জমা দেবেন। তাঁকে সমুহ টাকা বুঝে রসিদ দেয়া হবে। যিনি মনে করবেন পশুর গলায় ছুরি না চালানো পর্যন্ত ধর্ম টিকে থাকবে না তিনি ধর্ম পালন করুন না, কে তাকে বাঁধা দিচ্ছে।
কিন্তু, একটা কঠিন কিন্তু রয়ে যায়। আমরা সাধারণ মানুষরা চাইব আমাদের প্রতিটা পয়সার পাই পাই হিসাব যেন থাকে। নইলে যা হবে, এক কাপ চায়ে দুই কাপ চিনি!

প্রফেসর ইউনূসকে আমার খোলা চিঠি

(প্রফেসর ইউনূসকে যে মেইলটা করেছি, হুবহু এখানে তুলে দিচ্ছি)।

জনাব, প্রফেসর ইউনূস:
সালাম। আপনি এ দেশের মানুষের কাছে খোলা চিঠি লিখে মতামত জানতে চেয়েছেন। এই যে মতামত জানতে চাওয়া, আপনার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ দেই।

কিন্ত একটা বিষয় আমার বোধগম্য হচ্ছে না, এ দেশের কত ভাগ মানুষ আপনার কাছে তাঁদের মতামত নিয়ে পৌছতে পারবেন? একজন কৃষক, একজন রিকশা চালক, একজন দিনমজুর, একজন গার্মেন্টস কর্মী- এঁরা কিভাবে আপনার কাছে তাঁদের মতামত জানাবেন? এঁরাই তো এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ, না কি? এঁরাই তো এ দেশের চাকা ঘুরাচ্ছেন, অবিরাম।
যাই হোক, এটা আপনার সমস্যা, আমার না।

আমি আমার বক্তব্য বলি: প্রথমেই আপনার নোবেল প্রাপ্তির যথার্থতা তর্ক বিতকের বাইরে রাখি। তদুপরি আপনার নোবেল প্রাপ্তি বাংলাদেশকে পৃথিবীর কাছে আবার নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। সবুজ পাসপোর্টের প্রতি তাচ্ছিল্যের দৃষ্টি অনেকখানি নমনীয় করেছে। স্বাধীনতা পর এটা একটা অভূতপূর্ব ঘটনা।
আমি মনে করি, জনাব, শেখ মুজিবর রহমান যে ভুলটা করেছিলেন, আপনিও ওই ভুলটা করতে যাচ্ছেন। তিনি যদি সরকারি দায়িত্ব না নিতেন তাইলে এই দেশের প্রত্যেক বাড়িতে একটা করে তাঁর ছবি থাকত, সশ্রদ্ধায়।

যে ভুলটা সোনিয়া গান্ধি করেননি, শত চাপেও। এমন কি তাঁর জন্য আত্মহত্যা করারও নজির আছে- কিন্ত তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন। সিদ্ধান্ত আপনার।

ভাল থাকবেন।

শুভেচ্ছান্তে
-আলী মাহমেদ

মি. অসিত সাহা- আমি দুঃখিত!


মি. অসিত কুমার সাহা- আপনি সেই মানুষদের একজন, যাকে আমার মতো মানুষ সেলাম ঠুকে। ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে আপনি সবচাইতে বেশী ট্যাক্স দিয়েছেন।

আমার সাধ্য থাকলে আপনাকে গার্ড অভ অনার দিতাম। সে উপায় তো আমার নেই।

শুভর ব্লগিং নামের আমার একটা বই আপনার উৎসর্গ করেছি।
অনেকেই জানতে চেয়েছেন, আপনার সঙ্গে আমার পরিচয় আছে কি না? বা আপনাকে এই বইটা পাঠাবার কোন ব্যবস্থা করা যায় কি না। আসলে আপনার মতো মানুষদের জন্য এর আদৌ প্রয়োজন আছে কি?
আপনার সঙ্গে পরিচয় থাকা অতীব সৌভাগ্য- কিন্ত না হলে এতে আপনার কিছু যায় আসে কী! কিন্ত আমার মতো সাধারণ মানুষ আপনাকে বই উৎসর্গ করে সম্মানিত হই- খানিকটা ভারমুক্ত হই।

আমি দুঃখ প্রকাশ করি, উৎসর্গে আপনার নামটা আমি ভুল করেছি অসিত কুমার সাহার জায়গায় হয়েছে অসিত কুমার পাল। এখন তো আর আমার এটা সংশোধন করার কোন উপায় নাই। এবং এও আশা নাই, বইটা রিপ্রিন্ট হবে আর আমি এ ভুল সংশোধন করতে পারব।
অতএব, হে প্রিয় মানুষ, তাই নতজানু হয়ে বলি, ক্ষমা করুন মোরে···।

অনুবাদ এবং মৌলিক সাহিত্য

আমি মনে করি, অনুবাদ হচ্ছে অন্যের সন্তানকে দুধে ভাতে বড়ো করা। অন্যের সন্তান দেবশিশু হোক তাতে আমার কি; আমার কালো, লিকলিকে, দুবলা সন্তানের সঙ্গে তার কিসের তুলনা, ছাই!
তাছাড়া অনুবাদক মানেই বিশ্বাসঘাতক- এ্যাদুত্তোর এ্যাদিতর। একটা অনুবাদ পড়ার আগে এই ব্যাপারটা আমরা মাথায় রাখি না, এটা কে অনুবাদ করছেন। তিনি অনুবাদ করার বিষয়ে কতটুকু যোগ্যতা রাখেন বা কতটা বিশ্বস্ত।

৯৫ সালে একজন অনুবাদকের সঙ্গে আমার এ বিষয়ে চিঠি চালাচালি হয়েছিল।
আমি তাকে যা লিখেছিলাম, 'আপনার অনুবাদ জ্যক ফিনের 'হারানো লোকগুলো' পড়লাম। আপনার লেখায় একটা আলাদা কাঠিন্য থাকায় আমার বুঝতে খানিকটা সমস্যা হয়েছে। আগে জ্যাক ফিনের এই গল্পটা আমার পড়া ছিল বিধায় বুঝতে সুবিধা হয়েছে। কাজি আনোয়ার হোসেন জ্যাক ফিনের 'অফ মিসিং পার্সন' অবলম্বনে লিখেছিলেন, অন্য কোনখানে। পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম।

আগেও যেটা বলেছি, আপনাকে আবারও বলি, অন্যের ছেলেকে গভীর মমতায় মানুষ করার অর্থ কী? যেখানে নিজের ছেলেকে নিয়ে মাথা ঘামাবার সীমাহীন সুযোগ রয়ে গেছে। আপনার অনুবাদ করা জ্যাক ফিনের লেখা পাঠকদের ভাল লাগল, ফিন ব্যাটা মরে গিয়েও নাম কামালো, তাতে আপনার কী!
আমার মতে, অনুবাদে আপনি আপনার মেধার অপচয় করছেন। এই আমার মত। বাকিটা আপনার বিবেচনা...।

আজিজ- যেন একপেট আবর্জনা!


আজিজ সুপার মার্কেট। সুরুচির চর্চা হয় এখানে। এ দেশের সুরুচি-চর্চার অনেক স্তম্ভের একটি।

আমার মনে হয়, অন্তত যারা লেখালেখির সঙ্গে জড়িত তাঁরা কখনই আজিজে যাননি এর উদাহরণ সম্ভবত অপ্রতুল। লেখালেখির জগতে আমি দুঁদে কেউ নই, ছদুমদু টাইপের মানুষ। তবুও আমাকেও অজস্রবার এখানে যেতে হয়েছে।
কিন্ত একটা বিষয় মেনে নিতে আমার বড়ো কষ্ট হতো, হয়। এই বিল্ডিংটাই নোংরা দাঁত বের করা একটা কাঠামো। লেখকদের যেমন চুলের সঙ্গে চিরুনির কি সম্পর্ক তেমনি চুনকামের সঙ্গে এই বিল্ডিং-এর কি সম্পর্ক এই টাইপের! ট্রাশ ক্যান নামের জিনিসটার কোন অস্তিত্ব আছে বলে তো মনে হয় না। যত্রতত্র ময়লা ফেলাই যেন ভারী একটা কাজের কাজ! ওয়াশরুমে সামান্য একটা আয়না নাই!

একটা মজার জিনিস আমি দেখেছি সেটা হচ্ছে, অসংখ্য ব্যবহৃত টি ব্যাগ ছাদে ঝুলছে। অনেকের কাছে এইসব ব্যাপারে জানতে চেয়েছি এ নিয়ে কারও বিকার আছে বলে তো আমার মনে হয়নি।

অবাক লাগে আমার কাছে। যেখানে সাহিত্য কপকপ করে গিলে খান আমাদের এ দেশের কলমবাজরা তাঁদের এ নিয়ে বিকার না-থাকার কারণটা কি? হবে হয়তো বা কোন মারফতি বিষয়, যা আমাদের জানতে নেই।

বৃত্ত এবং সরলরেখা!

জ্ঞান বলতে আমি মোটাদাগে যা বুঝি, জ্ঞান হচ্ছে একটা সরলরেখার মতো। ক্রমাগত এগুতে থাকবে, থামাথামি নাই, আমৃত্যু।

অ-জ্ঞান হচ্ছে একটা বৃত্ত এই বৃত্তে একজন ঘুরপাক খেতে থাকবেন, তিনি যত দুর্ধর্ষ জ্ঞানধারীই হন না কেন!

আমার অসম্ভব পছন্দের একজন মানুষ, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল একজন জ্ঞানী, অকপট, বিনয়ী, অকুতোভয়! তাঁর বিভিন্ন দিক আমাকে আমাকে বড়ো টানে। প্রায়শ ঠান্ডা শ্বাস ফেলি, তাঁর মতো মানুষের এ দেশে বড্ডো অভাব।

তিনি এটা অজস্রবার বলেছেন, সম্প্রতী আবারও বলেছেন বাচ্চাদের উপদেশ দিতে গিয়ে, 'খবরদার টিভি দেখবে না, বই পড়বে'। ভালো উপদেশ সন্দেহ নেই।

তিনি টিভি দেখার ঘোর বিরোধী- অসংখ্যবার এটা জাঁক করে বলেছেন, 'আমার প্রচারিত নাটকগুলো দেখতে পারিনি, আমার তো টিভি নাই কারণ আমি টিভি জিনিসটাকে দু-চোখে দেখতে পারি না'। ইত্যাদি ইত্যাদি।

আফসোস, এই অসাধারণ মানুষটা যখন বৃত্তে আটকা পড়েন দীর্ঘশ্বাস ফেলতেও কষ্ট হয়।

একজন দুর্বল মানুষের দুর্বল মস্তিষ্ক!

আজ খুব ভোরে ঘুমটা ভাঙ্গল। বড়ো অস্থির অস্থির লাগছিল।

কখনও কখনও মানুষ নিজেকে সহ্য করতে পারে না- তাকাতে পারে না নিজের চোখের দিকে।
আমার আস্ত একটা বই বের হলো অথচ আমি ১ বছর যাদের সঙ্গে কাটিয়েছি, তাদের একটা লেখা ছাপা হবে না! নিজেকে বড়ো অপরাধী মনে হচ্ছিল। মায়া বড়ো বাজে জিনিস, কাঠের টেবিলে বসে দীর্ঘ সময কাজ করলে সেই টেবিলটার প্রতি মায়া পড়ে যায়। ১০০জন ব্লগারের পছন্দসই লেখার একটা বই বের করতে পারলে আমার চেয়ে সুখি
কেউ হতো না।

অন্যরা চেষ্টা করেছিলেন, ব্লগারদের নিয়ে বই বের করা হয়েছিল কিন্তু ভঙ্গিটা আমার পছন্দ হয়নি। কাহিনীর ভেতর গল্প চলে এসেছিল, নাকি রাজনীতির ভেতর পলিটিক্স ঢুকে পড়েছিল সে এক গবেষণার বিষয়। আমার মনে আছে ওই সাইটেই ওইসব নিয়ে আমি একটা কঠিন পোস্ট দিয়েছিলাম।

যাই হোক, আমি নিশ্চিত, আমার বইয়ের প্রকাশককে বলে লাভ হবে না। বেচারার দোষ দেই কিভাবে? আমার মতো অখ্যাত লেখকের কয়টাই বা বই বিক্রি হয়? প্রকাশকের বিমর্ষ মুখ দেখে দেখে আমি ক্লান্ত। জোর করে একটা দাবী করব সেই শক্তি আমার কই!
আমি যা কখনও করিনি, আজ করলাম, লজ্জার মাথা খেয়ে। কাতর হয়ে তাঁকে বললাম, ১টা বই বের করে দিতে পারেন?
তিনি বললেন, আপনার কি মাথা খারাপ! আপনি জানেন আজ কতো তারিখ?
আমি বললাম, জানি। ১৯ ফেব্রুয়ারি।
মেলার আছে আর ক-দিন? এটা ২৮ শে মাস। কীসব পাগলামীর কথা বলেন...!

তিনি সাফ সাফ বলে দিলেন, আপনার বই হলে আমি ভেবে দেখতে পারি, কিন্ত এটা সম্ভব না।
আমি নাছোড়বান্দা, আপনি একটু ভেবে দেখেন।
তিনি গররাজী হলেন, এই শর্তে, ১০০জন ব্লগারের লেখা নিয়ে বই বের হলে প্রত্যেকে কি ৫টা করে বই কিনবে?
আমি থমকে গেলাম, এটা কি করে বলি!
তিনি বললেন, তাইলে আপনি কি ক্ষতির দায়িত্ব নেবেন?

এই মুহূর্তে এই বিপুল দায়িত্ব নেয়ার অবস্থা আমার নাই। শালার মস্তিষ্ক কি সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। আমি দুম করে বললাম, নেব।
তিনি বললেন, আপনার ম্যাটার কি রেডি আছে?
আমি আবারও থমকালাম, না। কিন্ত এরা লিংক দিলে ওয়ার্ডে কপি করে কোয়ের্কে কম্পোজ, পেজ মেকআপ করে দেব। রাতদিন কাজ করলে ২ দিনে আমি এটা করতে পারব।
তিনি বললেন, উহুঁ, ব্যাপারটা এত সোজা না। একেকজন একেক ভাষারীতি ব্যবহার করেছেন, অজস্র বানান ভুল থাকবে। আপনাকে এডিট করার প্রয়োজ হবে। ভেবে দেখেন।
আমি অটল, আমি পারবো।

তিনি হাল ছেড়ে দেয়ার ভঙ্গিতে বললেন, বেশ, এখন বাজে দুপুর ১টা। আপনার হাতে ২ ঘন্টা সময় আছে। আপনাকে প্রচ্ছদের নামটা আমাকে কনফার্ম করতে হবে। কারণ, ৩ টার সময় আমি আমার বাকি বইয়ের প্রচ্ছদ ছাপাতে পাঠাবো। পরে শুধু আপনার এই বইয়ের প্রচ্ছদ আলাদাভাবে পাঠানো সম্ভব না। আপনি কি বইয়ের প্রচ্ছদের নাম ঠিক করেছেন?
একটা নাম আমার মাথায় ছিল: ভার্চুয়াল দেশমা। সঙ্গতিপূর্ণ একটা স্কেচও করা আছে। কিন্ত এই নাম সবাই চাইবে কিনা এটাও তো জানি না। ব্লগে এখনও কিছুই শেয়ার করা হয়নি। প্রকাশকের সঙ্গে কথা না বলে শেয়ার করি কি করে?

প্রকাশক এবার বললেন, আমি আপনাকে অনুরোধ করছি, আপনি ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখেন। আমার ধারণা, আপনি খুব বড়ো ধরনের সমস্যায় পড়তে যাচ্ছেন। দেদারসে গালি খাবেন, এতে আমার সন্দেহ নাই। অনেকেই আপনার এই উদ্যোগকে ভাল ভাবে নেবে না। ভাল হয়, আপনি আপনার সুহৃদদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। আর আমার পরামর্শ, আপনার মাথা এখন গরম, ভাত খেয়ে লম্বা একটা ঘুম দেন। মাথা থেকে এটা ঝেড়ে ফেলেন।
তারপরও আমি বলি, নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে লেখা ছাপালে কেন সমস্যা হবে!

ব্লগের ক-জনের সঙ্গে কথা বললাম। আজ আর তাদের নাম বলে বিব্রত করি না কিন্তু হায়রে মিটিং, হায়রে দলবাজি! মিটিং কল দিতে হবে, ওমুককে ডাকা যাবে তমুককে ডাকা যাবে না, এইসব!
অনেকে কঠিন নিষেধও করলেন। তুমি এই সময়ে সব কিছু মিলিয়ে ম্যানেজ করতে পারবে না। খামাখা একটা নাটক হবে ইত্যাদি, ইত্যাদি। তখন কেউ খানিকটা সাহস দিল না, পাশে এসে দাঁড়ালো না।

আমি, একজন হেরে যাওয়া মানুষের মতো বহু দিন পর দুপুরে ঘুম দিলাম। কিন্ত একজন দুর্বল মানুষের দুর্বল মস্তিষ্ক এই হেরে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছে না। আমার আবেগটা একটা স্বপ্ন হয়েই রইল...। তবুও ক্ষীণ আশা, কেউ-না-কেউ এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করে দেখাবে।

সাকা চৌ, রাজকোষে কত টাকা দিলেন?

আমাদের দেশের মহান একজন মানুষ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তার মেয়ের বিবাহ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ- ফরয কাজ!

তথ্যমতে, তিনি মেয়ের বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানে ৮ লাখ দাওয়াতীকে খাইয়েছেন! বেশ, ৮ লাখ কেন, তিনি যদি ১৪ কোটি মানুষকেও দাওয়াত করে খাওয়ান, কার কি বলার আছে! মেয়ে ওনার, টাকা ওনার- আমরা বলার কে?

ভারী দিলখোলা মানুষ! নিজের আপন ভাইরা বিয়েতে উপস্তিত ছিলেন না। যাযাদিনে, সাকা চৌ নির্বিকার ভঙ্গিতে, লাখ লাখ দাওয়াতিদের দেখিয়ে বললেন, 'আমার কয়েকজন ভাই আসে নাই তো কি হয়েছে? এই যে লাখ লাখ ভাই এসেছে- এরাই তো আমাকে কফিন কাঁধে করে কবরে নিয়ে যাবে'! বেশ-বেশ!

সব তথ্যই আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জেনে মুগ্ধ হচ্ছি। কিন্তু আমি প্রয়োজনীয় একটা তথ্য খুঁজে পাচ্ছি না। সেটা হচ্ছে: বাংলাদেশে অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন নামে একটা আইন চালু আছে। আমার জানামতে, এই আইন এখনো বহাল আছে, বাতিল করা হয়েছে বলে তো শুনিনি! অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ১০০ জনের বেশী অতিথিকে দাওয়াত দিলে, প্রত্যেক অতিথির জন্য নির্দিষ্ট অংকের ফী সরকারী কোষাগারে জমা দিতে হয়। ফীর অংকটা সম্ভবত, প্রতি জনের জন্য ১০ টাকা করে।

ওই হিসাবে মহান সাকা চৌধুরীর ৮০ লাখ টাকা সরকারী কোষাগারে জমা হওয়ার কথা! হয়েছে কি? সাকাচৌ এই দেশের জন্য বাজে একটা উদাহরণ সৃষ্টি করলেন।

সবই পণ্য, বিক্রির জন্য

আলকাতরা থেকে উড়োজাহাজ- মায় তথ্য, সবই আসলে পন্য, বিক্রির জন্য।

আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, কে কিভাবে বিক্রি করেন, তার উপর! যিনি যতো ভালভাবে সুগার কোটেড মোড়কে মুড়িয়ে, চকচকে করে বিক্রি করতে পারেন- তিনি ততোটাই সফল! তাঁর গুনগানের শেষ নেই! কে মরলো কে বাঁচলো, কে বিরক্ত হলো, তাতে কি আসে যায়!
হকারকে দেখেছি, বাস, রেলগাড়ীতে কান পাকার ওষুধ বিক্রি করতে সবাইকে চরম বিরক্ত করে- কিছু বললে বলে, ভাত খামু কি আপনের ঘরে গিয়া! হক কথা!

কে জানে, কোন একদিন, কেউ হয়তো বিচিত্র কায়দা কানুন করে, নরকে যাওয়ার টিকেট বিক্রি করবেন। পাবলিক হাসিমুখে দেদারসে কিনবে। বেহেশত যাওয়ার টিকেট বিক্রি তো অলরেডি অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে!! পাক্কা মুসলিমরা (তাঁদের দাবী মোতাবেক) দেদারসে বিক্রি করছেন, বাদামের খোসার মতো!

১০.০৯.০৬ যায় যায় দিন প্রথম পাতায় বিপুলায়তনে ৬ কন্যার ছবি ছাপে- তিন কন্যার দাঁতসহ, দুই কন্যার দাঁতছাড়া (স্মর্তব্য: আমি ছবির কথা বলছি)! ক্যাপসনে অবশ্য বলা হয়েছে ৬ জন কিন্ত ছবিতে ৫জনের চেহারা মোবারক দেখা যাচ্ছে। একজন মিসিং- ওই কন্যা অদৃশ্য মানবী হয়তো বা! মিসিং ওই কন্যার দাঁত আছে কিনা এটা অবশ্য বোঝা গেল না!

এই কন্যারা দারুচিনি দ্বীপে চারুচিনির বানিজ্য করবে- এই সিনেমার নায়িকা হবে। তা করুক, বানিজ্য ভাল জিনিস। স্টার হতে হতে ম্যাগা স্টার হয়ে যাক! এখানেই শেষ না, এই ৬ কন্যার মধ্যে থেকে মাত্র একজন নির্বাচিত হবে। কে হবেন এটা আপাতত রহস্য!
ব্রাভো ব্রাভো! জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায় এমন পৃথুল আকৃতির ছবি, এমন জাতীয় সংকটের ছবি না এসে উপায় কি!

আমরা নির্বোধ পাঠকরা কেন যে বুঝতে চাই না, প্রথম পাতায় জায়গা কী অপ্রতুল! মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ মিয়া না খেতে পেয়ে দড়িতে ঝুলে পড়বে- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরের খালি বাক্স দেশে আসবে, এগুলো ভেতরের পাতায় ছোট করে অদৃশ্য অদৃশ্য ভঙ্গিতে না ছাপিয়ে উপায় নেই? ওখানে জায়গার সমস্যা হলে, না হয়, এন্টারটেইনমেন্ট পাতা বরাদ্দ থাকবে এইসব ছাইপাশ খবর ছাপাবার জন্য।

এক দফা এক দাবী- যে দিন ৬ কন্যার ১ কন্যা নির্বাচিত হবে, সেই দিন প্রথম পাতায় পুরোটা জুড়ে তার ছবি ছাপতে হবে। প্রথম পাতায় আর কোন খবর থাকবে না, এই দাবী করা কি খুব অন্যায় একটি জাতীয় দৈনিকের (দাবীমতে) কাছে ?

কফিনের শক্ত পেরেকটা


আমি আগেও বলেছিলাম, আবারও বলি, ভাংচুরের নামে এরা সবচেয়ে মোটা পেরেকটা ঠুকছে এদের কফিনে। এ নিয়ে আমার একটা পোস্ট আছে, গণতন্ত্র- বড্ডো গুরুপাক।

৪ দিন আগে আমার অফিসটা গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বুলডজার দিয়ে। যদিও এটা আমার নিজস্ব সম্পদ না, কিন্ত আমার বুক ভেঙ্গে আসছিল। পিতা যেমন তাঁর সন্তানের লাশ কবরে নামাবার সময় অস্ফুটে বলতে থাকেন, আহা, আস্তে নামাও না, ও বুঝি দুকখু পায় না। তেমনি আমারও গলা ফাটিয়ে বলতে ইচ্ছা করছিল, আহারে আহারে! হায়রে নির্বোধ মানুষ- জড় পদার্থের জন্য কী মায়া!

আমার নিজের না, ভাড়ার অফিস ছিল। কিন্ত পৈত্রিকসূত্রে আমরা প্রায় ৪৫ বছর ধরে ভাড়া ছিলাম। এখানে আমি আমার অফিসের পাশাপাশি লেখালেখি করেছি, কত লেখা লিখতে গিয়ে চোখের জলে ভেসেছি। কত স্মৃতি- এক লহমায় সব হারিয়ে গেল! অনেক প্রয়োজনীয় উপাত্ত হারিয়ে গেল। বিশেষ করে আমি খুব কষ্ট পাচ্ছি, মুক্তিযুদ্ধের অনেক অমূল্য উপাত্ত আমি হারিয়েছি। বুলডজারের সামনে আমার মতো ৩ টাকা দামের কলমবাজের দাঁড়াবার শক্তি কই! নপুংসক আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম।

বেচারা বাড়িওয়ালার তো দোষ আমি খুঁজে পাই না। তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে নিয়মিত খাজনা দিয়েছেন। এটা তাঁর কেনা জমি। ওদিন দুম করে বাংলাদেশ রেলওয়ে, ব্রিটিশ আমলের আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের একটা ম্যাপ নিয়ে এসে বলল, এটা তাদের জায়গা।

কাহিনীটা হচ্ছে, মহারাজা থেকে আসাম বেঙ্গল রেলরাস্তা করার জন্য জায়গা চেয়ে নিয়েছিল। রেলরাস্তা বানাবার পর এরা যখন দেখল, তাদের আর জমির প্রয়োজন নেই- মহারাজার কাছে উদ্বৃত্ত জমি ফেরত দিয়ে দেয়। মহারাজা তাঁর এই জমিগুলো বিভিন্ন লোকজনকে দান করেন, বিক্রি করেন।


বেশ, তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, এই জায়গা রেলের। তাইলে ভূমি মন্ত্রানালয় ৫০ বছর ধরে নিয়ম করে খাজনা নিল কেন? এটা ভেঙ্গে ফেলার পেছনে যুক্তি কি? সরকার নিজের দখলে নিয়ে নিলেও তো পারত। বা বলত, ১ মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে এটা নিয়ে কি করা হবে। এটা রেলের, না ভূমির- এটা এরা নিজারা ঠিক করে নিয়ে বললেই তো পারত, এখন থেকে এটা অমুক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রনে। আপনি অমুক মন্ত্রণালয়কে রেভিনিউ দেবেন। এইসব সম্পদ ধ্বংস করে লাভটা কার হচ্ছে? কী পার্থক্য- আগে গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে সম্পদ বিনস্ট হতো, এখন কার নামে সম্পদগুলো বিনস্ট করা হচ্ছে।

লোকজন যে বলাবলি করে, ...ফকির বানায়া দিব। এটা কী সত্যি হবে?

এর পরিণাম কি সুদুরপ্রসারী এটা কি এঁরা বুঝতে পারছেন? এঁরা যে অসাধারণ কাজগুলো করছেন সব ঢাকা পড়ে যাচ্ছে জনগণকে কষ্ট দিয়ে। আজ যে সব অধিকাংশ সরকারী কর্মকর্তারা সাধু সাজছেন- জেলে, মজুর, পতিতা কার কাছ থেকে এরা ঘুস খাননি?

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুনতে বড়োই ভালো লাগে। তিনি অবৈধ দখলদার হয়ে থাকলে কেন সরকার ৫০ বছর ধরে তাঁকে স্বীকার করল? তাইলে কি ধরে নেব ভূমি মন্ত্রণালয় এক সরকারের এবং রেল মন্ত্রণালয় অন্য সরকারের। আরেকটা বিষয়, যদি ব্রিটিশ আমলের ম্যাপ দিয়ে অবৈধ স্থাপনা নিশ্চিত করা হয়, বেশ তো, ভালই। তাইলে আমরা ব্রিটিশ আমলে ফিরে যাই! ওয়েল, ওই সময় লোকসংখ্যা কত ছিল? ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশের এই পরিধিতে লোকসংখ্যা কত হবে- বড় জোর ৫০ লাখ।

রেল তার জায়গা সমস্ত খালি করে ফেলল- এখন এই আনুমানিক বাড়তি সাড়ে ১৩ কোটি মানুষের কি হবে? উপায় একটা আছে। এই বাড়তি সাড়ে ১৩ কোটি মানুষকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেয়া হোক। সব সমস্যার সমাধান।

আর কতটা রক্ত দিলে শেষ হবে হরতাল?


আগেও বলেছিলাম, আমাদের দেশে এখন, হরতালের নামের এই কুৎসিত, গা ঘিনঘিনে প্রাণীটার জন্ম পৃথিবীর সবচেয়ে জঘণ্য বেশ্যার গর্ভে। 

এটা একটা দানব! এমন দানব যে তার মাকে খেয়ে ফেলে, আমরা তো কোন ছার!

গণতন্ত্রের নামে হরতাল নামের এই অসভ্য কান্ডটির আমাদের খুব প্রয়োজন, না? এই যে দেশ অচল করে দেয়া হয়, ক্ষতিটা কার হবে, আমাদের! যে সব সম্পদ বিনস্ট হবে, এটা কাদের, আমাদের! যারা মারা যাবেন, তারা কারা, আমাদেরই কেউ! তাহলে কাদের জন্য হরতাল?

এই যে এতগুলো হরতাল দেয়া হয়েছিল; এতো প্রাণ, সম্পদের অপচয় হলো, লাভ কী হলো? বিএপি তো তার পাঁচ বছরের টার্ম প্রায় শেষ করে ফেলল! নেতাদের কোন সমস্যা নাই, এদের সন্তানরা থাকে দেশের বাইরে, হরতাল ডাক দিয়ে বিদেশ চলে গেলেই হয়! শেখ হাসিনা ঠিক এই কাজটিই করেছেন!

একটা ছবি আছে, হরতালে কিছু নেতা নেত্রী রাজপথে বসে শশা খাচ্ছেন, দেখলেই মনটা অন্য রকম হয়ে যায়- আহা, আমাদের নেতাদের কী ত্যাগ! এদের মধ্যে শুধু একজন তালু ছোলার কথা বলি, তিনি ৫০০০ ডলার দামের স্যুট গায়ে দেন!

হরতালের নামে ১৪ কোটি মানুষকে একটা বিশাল কারাগারে আটকে ফেলা হয়। এ গ্রহের সবচেয়ে বড়ো কারাগার!
যারা প্রবাসে থাকেন- তাদের নিশ্চয়ই কিঞ্চিত অভিজ্ঞতা হয়েছে। তারপরও কল্পনা করুন, আপনি দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরছেন, লম্বা জার্নি- এয়ারপোর্টে আটকা পড়ে আছেন। বাড়িতে আপনার সব প্রিয়মানুষরা অপেক্ষা করছে কবে তারা আপনাকে স্পর্শ করবে! আপনার তখনকার অনুভূতি কেমন হবে?

এবার কিছু তথ্য আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করা যাক:
১. গত ১৮ মে ০৫ বুধবার আওয়ামী লীগ হরতাল আহ্বান করেন, দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল। কিন্তু জলিলের প্রতিষ্ঠান মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে শেরাটনে। আবদুল জলিল সেদিন হরতাল ভেঙ্গে গাড়িতে চড়ে হোটেল শেরাটনে এসে সেই সভায় যোগদান করেন। এবং ব্যাংকটির অন্যতম ডিরেক্টর সাবের হোসেন চৌও যোগ দেন। তারা সেদিন হরতালের সমর্থনে বের হওয়া কোন মিছিল বা সমাবেশে অংশগ্রহন করেননি।
(দৈনিক সংবাদ/ ২. ১৮ মে ০৫ )

২. আওয়ামী লীগের সকাল সন্ধা হরতাল পালিত হয়। এই হরতালের সময় এইচ এস সি , ফাজিল, আলিম, কামিল পরীক্ষা চলছিল। পরে নেতারা বলেন, দেশে যে পরীক্ষা চলছে এটা নাকি তারা জানতেন না! 

ন্যাতা বটে!

৩. 'আমরা ভালোবাসা দিবস ও ভালোবাসার প্রকাশকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগের জন্যই আন্দোলন করছি। ১৪ ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা দিবসে হরতাল হয়ে তো সুবিধাই হলো'।
(মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, যা যা দিন)

*এই পোস্টের সঙ্গে যে ছবিটা এটা স্কুটার চালক আমির হোসেনের। যাকে হরতালে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার অপরাধে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল, তাঁর সমস্ত গা ঝলসে যায়। তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে এক সময় হাল ছেড়ে মারা যান!

ড. ইউনূস এবং ছদুমদুর মধ্যে পার্থক্য কি?


ছবিটা আমাদের ড. ইউনূস সাহেবের। ক-দিন আগে বিএসইসি ভবনে ভয়াবহ আগুন লেগেছিল, পুড়ে যাওয়া ওই ভবনের তারতুরের(!) সামনে বিমর্ষ ভঙ্গিতে জটিল একটা পোজ দিয়েছেন। মনটা অন্য রকম হয়। আহারে, মানুষটার মনে কী মায়া গো! এমন বড়মাপের মানুষ জড় পদার্থ ভবনের পাশে দাঁড়িয়েছেন- এই ভবনের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার না হয়ে উপায় আছে! ভাবখানা দেখে মনে হচ্ছে, ভবনটায় কেন আগুন ধরল এর একটা হেস্তনেস্ত না করে ছাড়বেন না।

বস্তি ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। আমরা বড়ই উল্লসিত, একটা কাজের কাজ হচ্ছে যা হোক। মাত্র ক-দিন আগে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে সাততলা বস্তি। হাজার হাজার মানুষ এক নিমিষেই চলে এসেছে রাস্তায়। শত শত গার্মেন্টসের মেয়ে কর্মীরা খোলা আকাশের নীচে বাস করছে, নিরুপায় তাঁরা সম্ভবত দেহ বিক্রির জন্য।

আমাদের নোবেলধারী ড. ইউনূস সাহেব এটা নিয়ে কাতর বা সোচ্চার বলে তো প্রতিয়মান হয় না। তিনি পুড়ে যাওয়া ভবনের পাশে হাঁ করে তাকিয়ে না থেকে এদের পাশে এসে দাঁড়ালে ওনার নোবেলটা কেউ ছিনিয়ে নয়ে যেত বলে তো মনে হয় না।

রীচ ফুড আমাদের জন্যে বড়ো গুরুপাক

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী সে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে প্রতিবছর ১৫ এপ্রিলের মধ্যেই তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। সে অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট বুশ ও তার স্ত্রী লরা বুশ ২০০৫ সালের জন্য ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৬৮ ডলার আয়কর দিয়েছেন। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

আমাদের দেশের শীর্ষ আয়করদাতারা হচ্ছেন:
১.চট্টগ্রামের অসিত কুমার সাহা, তিনি ট্যাক্স দিয়েছেন ৮৪ লাখ টাকা।
২.আদিত্য মজুমদার ভাই।
৩. অশোক কুমার সাহা। অসিত এবং অশোক এঁরা আপন দুই ভাই।

আমাদের সৌভাগ্য আমরা চট করে জেনে যাই যুক্তরাষ্ট্রের খবর- ওই দেশের প্রেসিডেন্ট কতো টাকা ট্যাক্স দেন সেই খবর। কিন্তু আমরা জানতে পারি না আমাদের প্রধানমন্ত্রী, আমাদের বিরোধী দলের নেত্রী, মতিউর রহমান নিজামী, হোমো এরশাদ কত টাকা ট্যাক্স দেন! আসলে বেচারাদের কোন আয়ই নাই, টেক্স দেবেন কোথা থেকে!

জানি-জানি, অনেকেই বলবেন- পার্টি সদস্যদের চাঁদা দিয়েই সব কিছু চলছে। তা হবে হয়তো- আমার জানা মতে বি এন পি’র শেষ চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছিল বছরে ১ টাকা করে! অন্য দলগুলোর কত করে চাঁদা আমার জানা নাই!

আমাদের দেশে সাংসদরা যে সব গাড়ি আমদানী করেছেন, সে গুলোর মধ্যে আছে- পোরশে, হামার, বিএমডব্লি­ও, মার্সিডিজ বেঞ্জ, ক্যাডিলাক, ইনফিনিটি ইত্যাদি! পোরশের দাম প্রায় ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত, হামার প্রায় ১ কোটি টাকা …।

লিস্টটা বিরাট- আমি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করছি- পোরশে: আমদানী করেছেন সাংসদ মোসাদ্দেক আলী ফালু, বেগম রওশন এরশাদ! হামার: ড, আবদুর রাজ্জাক, মার্সিডিজ বেঞ্জ: শেখ হাসিনা। টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার: মতিউর রহমান নিজামী, দেলওয়ার হোসেন সাইদী। লেক্সাস: শেখ ফজলুল হক সেলিম, সাদেক হোসের খোকা। (সুত্র: প্রথম আলো, ০৫.০৪.০৬)

প্রধানমন্ত্রী গাড়ি আমদানী করেননি- আদৌ তার কোন প্রয়োজন পড়ে না! হোমো এরশাদের নাম পাওয়া যায় নি- তিনি সম্ভবত পায়ে হেঁটে চলাফেরা করেন অথবা রওশন এরশাদের কাছে লিফট চান, কাতর হয়ে, আমাকে নেবে? (অন্য অর্থ করবেন না) বলা হয়ে থাকে, আমাদের দেশে সব কিছুর মধ্যে বিষ ঢুকিয়ে দেয়ার পেছনে হোমো এরশাদের হাত ছিল- এই যে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানী করার ফাজিল কান্ডটা এরশাদই চালু করেছেন!

আমাদের দেশে গণতন্ত্র নামের সুগার কোটেড ট্যাবলেটটার বড়ো প্রয়োজন- এই আফিম ট্যাবলেটটা আমাদের খাইয়ে যা খুশী তা করা যায়! আমরা কেয়ামতের আগ পর্যন্ত ঘুরেফিরে এই মুখগুলোই দেখব, এ থেকে আমাদের মুক্তি নেই! পাঁচ বছরের জন্য এরাই কেউ না কেউ শাসক।

বিরোধীদল অনবরত হরতাল দেবেন, বেছে বেছে ২ দিন ছুটির আগের দিন- গণতন্ত্রের জন্য এটা বড়ো প্রয়োজন! আমাদেরকে আফিম খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখবে, আমরা ঘুম থেকে জেগে চেঁচিয়ে ওঠবো- পেয়েছি-পেয়েছি আমরা, গণতন্ত্র!

অতীতে কেয়ারটেকার সরকার মাত্র কয়েকজনকে নিয়ে অনায়াসে দেশ চালিয়েছেন। এই বিশাল মন্ত্রী সভার চেয়ে অনেক অনেক ভালো ভাবে!

আসলে আমরা পান্তাভাত, আলুভর্তা খাওয়া ছা পোষা মানুষ- রীচ ফুড আমাদের জন্যে বড়ো গুরুপাক

বঙ্গাল ব্লগ!

বাড়িতে মুখ খারাপ করতে পারি না, মন ভাল না, কারো সঙ্গে ঝগড়া করেছি, তো চলো শালার গালি দিয়ে সবাইকে একহাত নেই! যেন ভারী একটা কাজ হলো! এই কাজটা আমরা অবলীলায় করি কোন একটা ব্লগ-সাইটে এসে!

ফ্লাডিং একটা সমস্যা! কেউ কেউ ইচ্ছা করে এ ন্যাক্কারজনক কাজটা করেন সবার আপত্তি উপেক্ষা করে। সবাই তিতিবিরক্ত। কে শোনে কার কথা! এরা সগর্বে ঘোষণা দিয়ে এই কাজটা করেন। অনেকে আবার এদেরকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে নিজেরাও এ কাজে নেমে পড়েন। সব মিলিয়ে একটা যা তা, যাচ্ছেতাই অবস্থা। এটলিস্ট একটা লেখা পোস্ট করে অন্য ব্লগারদের পড়ার জন্য অন্তত সময়টুকু তো দিতে হবে। আমি আগেও বলেছি আমাদের মধ্যে সহনশীলতার বড়ো অভাব- এর সঙ্গে যোগ হয় অন্যের প্রতি অসম্মান করার প্রবণতা।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ডিগবাজী। এটা এখন একটা ফ্যাশনের পর্য়ায়ে চলে গেছে। মুক্তিযুদ্ধে একজন দুর্ধর্ষ কমান্ডো ঠেলাগাড়ি চালান, সুরুয মিয়ার মত মুক্তিযোদ্ধা ১৬ ডিসেম্বরে আত্মহত্যা করেন, একজন মুক্তিযোদ্দাকে ১০০ টাকা দিয়ে জুতা মারি। আর আমরা লম্বা লম্বা বাতচিত করি। কবে কর্নেল তাহেরের মৃত্যুদিবস গেল এটা আমরা কোন ছার প্রথম শ্রেণীর দৈনিকেরই বা এতো সময় কই!
অল্প কিছু নেতা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে দেখতে স্বপ্ন দো...রোগ বাধিয়ে বসে আছেন। হায়রে, ভার্চুয়াল শিশুরা- এদের জন্য করুণা করতেও করুণা হয়! মুক্তিযুদ্ধ মানেই বিশেষ একটা দলের নিজস্ব তালুক বানিয়ে ফেলবেন, এমন চুতিয়া অধিকার কে তাকে দিয়েছে! বিচিত্র দেশ- গোলাম আযম এই দেশের নাগরিক হতে পারবেন কিন্তু ফাদার রিগন পারবেন না!

আহ ধর্ম! আহ ধার্মিক! এটা নিয়ে অনেকে এমন আচরণ করেন, তাঁর ধর্মটা যেন একটা কাঁচের বাসন- হাত থেকে পড়ামাত্র খানখান হয়ে যাবে। ধর্মকে এহেন তুচ্ছ পর্যায়ে নামিয়ে এনে প্রকারন্তরে ধর্মকে হেয় করা হয়! অথচ ধর্ম নিয়ে আলোচনাটা খুব জরুরী।
ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই- ওই দিন পড়লাম, একজন দায়িত্বশীল মানুষ বলছেন, বাংলায় ‘আল্লাহ মহান’ এটা লিখে লাভ নাই কারণ আল্লাহ তো আর বাংলা পড়তে পারেন না । এইসব মূর্খ মন্তব্যকারী, এরা ধর্মকে কোন পর্যায়ে নিয়ে গেছে! সৌদি আরবের লোকজনরা গালি কি ভাষায় লেখে, বাংলায়?

আর কারো যদি কোন ধর্মের প্রতি আবেগ না থাকে তো অহেতুক অন্যকে খোঁচাখুঁচি করার সার্থকতা কোথায়? পাশাপাশি কারো কোন ধর্মের প্রতি দ্বিমত থাকলে যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিলেই তো হয়। কলমের উত্তর কলম দিয়ে, এটা আমরা প্রায়শ ভুলে যাই। হুমায়ুন আজাদকে কেন হত্যা করার চেষ্টা করা হবে, তিনি তো কাউকে হত্যা করেননি! একজন মানুষ যেখানে প্রাণ সৃষ্টি করতে পারে না তার কি অধিকার আছে একজন সৃষ্টির সেরা জীবের প্রাণ নষ্ট করার! তাঁর কোন লেখায় কারো অমত থাকতেই পারে, তা কলমের মাধ্যমে উত্তর দিলে তো সমস্যা নাই।

ইনকিলাব জাতীয় পত্রিকা পড়লে সাবান দিয়ে আমার হাত ধুতে ইচ্ছা করে, কিন্ত এদের একটা ব্যাপার আমার মনে এখনো দাগ কেটে আছে। হুমায়ুন আজাদ ‘পাক সার জমিন…’ লেখার পর ওখানে একজন কলাম লিখেছিলেন, 'হুমায়ুন আজাদ কি তাঁর মেয়েদেরকে এ বইটা পড়তে দিতে পারবেন'? ইনকিলাবের মতো পত্রিকার এই সহনশীলতা ভালো লেগেছিল কারণ এদের উত্তরটা ছিল কলম দিয়ে এবং ওই কলামে মি. আজাদের প্রতি একটা খারাপ শব্দ ব্যবহার করা হয়নি, অন্তত ওই সময়টাতে।

শ্লীল-অশ্লীল, এটা অসম্ভব একটা জটিল বিষয়। এ নিয়ে কঠিন কঠিনসব মতবাদ আছ্। ব্লগে অনেকেই বলেন এটা ওপেন ফোরাম- এখানে যা কিছু আলোচনা হতে পারে, পারে যে কোন শব্দের প্রয়োগ। আমি আমার স্বল্প বুদ্ধিতে যা বুঝি, আসলে এটা বিচারের ভারটা ছেড়ে দিতে হবে আমাদের হাতেই। কিন্ত অবস্থান এবং সময় একটা বিচার্য বিষয়। আমেরিকার একজন ব্ল­গারের কাছে যেটা অতি শ্লীল মনে হবে আমদের দেশে এটা হয়তো অশ্লীলতার পর্যায়ে পড়ে। অনেক দেশেই অনেক আগে থেকেই বাথরুমের দরোজা বলে কোন জিনিসই থাকে না- এটা আমাদের দেশে অকল্পনীয়! এখন প্রবাসের ঢং এদেশে চালু করার চেষ্টা করে তো লাভ নেই!

বাক স্বাধনীতা, খুব প্রিয় একটা শব্দ কিন্ত এর নামে তো যা খুশী লেখা যায় না, কারণ একজন লেখকের পায়ে অসংখ্য শেকল থাকে। কঠিন শেকলটা হচ্ছে তার নিজের। একজন লেখককে দাঁড়াতে হয় তার নিজের কাঠগড়ায়, তেমনি একজন ব্ল­গারকেও! কলম একটা ভয়াবহ অস্ত্র- এর প্রয়োগ কিভাবে হবে এটা নির্ভর করে কলমটা কার হাতে, তার উপর!
WhatsApp