Search

Showing posts with label আমার বন্ধুরা. Show all posts
Showing posts with label আমার বন্ধুরা. Show all posts

Thursday, March 25, 2010

আমার বন্ধু মহাম্মদ


এর নামটা দীর্ঘ, সবাই ডাকে মহাম্মদ, আমিও। আমরা একসঙ্গে পড়িনি কিন্তু আমার কৈশোরের একটা অংশ কেটেছে এর সঙ্গে। আরেকজন, গাদুরাটা [১] তো পচাই খেতে খেতে মরেই গেল।

মহাম্মদের সঙ্গে একবার ক্যারাম খেলা হচ্ছিল। তুমুল ঝগড়া হয়ে গেল। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ও থুতু দিল, আমি দিলাম ধাক্কা। পেছনের দেয়ালে ওর মাথা ঠুকে গেল, মাথা রক্তে মাখামাখি।
আমি ঝড়ের গতিতে ওখান থেকে উধাও হয়ে গেলাম। সোজা বাসায়। লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলে বাবার সামনে পড়ে গেলাম। তিনি তখন সিড়িতে আয়েশ করে বসে বই পড়ছিলেন।
খানিক পরই মহাম্মদের বাবা আমার বাবার কাছে এসে বললেন, আপনের ছাওয়াল দেখেন আমার ছাওয়ালডার কী মার্ডারটাই না করছে।

আমি বাবাকে বলতে চেয়েছিলাম, ওই আগে আমাকে থুতু দিয়েছে। বাবা হাত উঠিয়ে আমাকে থামিয়ে দিলেন। তিনি নতমুখে চুপ করে মহাম্মদের বাবার পুরোটা বক্তব্য শুনলেন। একটা কথাও বললেন না। বাবা উঠে গিয়ে একটা আধলা ইট কুড়িয়ে নিয়ে এলেন। আমার মনে গোপন উল্লাস, বাবা নিশ্চয়ই একে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেবেন।
বাবা স্পষ্ট গলায় মহাম্মদের বাবাকে বললেন, এইটা দিয়া আমার ছেলের মাথায় শক্ত করে একটা বাড়ি দেন।

আমি হাঁ করে বাবা নামের অমানুষটার দিকে তাকিয়ে আছি। এ কী মানুষ! এ এই সব কী বলছে? তখন পর্যন্ত শেখা দু-একটা গালি যে বাবাকে দেইনি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব না। মহাম্মদের বাবা চলে যেতে যেতে অস্ফুটে বললেন, আমি বিচার পাইছি।
আজ বুঝি আমার বাবাকে বাবা হিসাবে যতটা না মনে রাখব তারচেয়ে শিক্ষকরূপে [২]। কী অপূর্ব তাঁর শেখাবার ভঙ্গি!

আমার বন্ধু মহাম্মদের সঙ্গে দেখা হয় এখনো, নিয়মিত। মহাম্মদ পত্রিকা বিলি করে। প্রথম দিকে আমি হাত বাড়ালে হাতটা ধরত আড়ষ্ট ভঙ্গিতে। একদিন বলেছিলাম, মিয়া, তুমি কি স্মাগলার, দু-নম্বরি ব্যবসা করো? নইলে এমন করো ক্যান? তুমিও একটা সৎ পেশার সঙ্গে জড়িত, আমিও, অসুবিধা কোথায়!
এর পর থেকে আড়ষ্টতা কেটে গেছে।

বিভিন্ন সময় টুকটাক-হাবিজাবি কথা হয়। মহাম্মদের কাছেই জানলাম, গত ঈদে চালু সমস্ত পত্রিকা
ঈদ বোনাস, ঈদের আগের দিন ওই দিনের পত্রিকা ওদের ফ্রি দিয়েছে, কেবল দেয়নি প্রথম আলো! শুনে আমি হতভম্ব। বরং উল্টোটাই হওয়ার কথা ছিল, প্রথম আলো বোনাসটা দিয়েছে অন্য পত্রিকাগুলো দেয়নি। পত্রিকাগুলোর মধ্যে আর্থিক অবস্থা সবচেয়ে ভাল এই পত্রিকাটির।
মহাম্মদের গায়েও সর্বদা দেখি অন্য পত্রিকার টি-শার্ট। কী মায়ায়ই না এ সর্বদা গায়ে টি-শার্টটা জড়িয়ে রাখে!
মহাম্মদের ক্ষোভের কথাগুলো এখানে শেয়ার করলাম না। আমার নিজেরই মুখ খারাপ করতে ইচ্ছা করছে। 

(প্রথম আলো পড়ে, এদের কর্মকান্ড দেখে [৩] আমার উপর চাপ পড়ছে, ক্রমশ মেজাজ, মুখ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আজ থেকে প্রথম আলো পড়া বাদ দিলাম। গুড বাই, চুতিয়া প্রথম আলো।)

কেএফসির এই সব বেনিয়া লোকগুলো কবে বুঝবে
পিৎজা বেচা আর পেপার বেচা এক জিনিস না! যখন বুঝবে তখন বিড়বিড় করে বলবে, এ গ্রহে ডায়নোসর নাই, রাশিয়া নাই, আদমজী জুটমিল নাই...।

প্রথম আলোর সাহস দেখে স্তম্ভিত হই। এরা কী তাচ্ছিল্য করেই না ছাপে বিজ্ঞপ্তি আকারে, এই দেশের সূর্য সন্তান বীর প্রতীক লালুর [৫] মৃত্যুর খবর।
প্রথম আলো পাশবিক আনন্দ পায় ভাষাসৈনিক গাজীউল হকের [৬] মৃত্যুর খবর পেছনের পাতায় অবহেলায় ছাপাতে। এমন কতশত কান্ড এদের!  

*মুশকিল হচ্ছে, পড়বটা কী! কালের কন্ঠ [৪]? এতো আরও ভয়ংকর! যেদিন কালের কন্ঠ এই দেশের এক নাম্বার পত্রিকা হবে সেই দিনের কথা ভেবে শিউরে উঠি। 
আচ্ছা, এই দেশের সাংবাদিকরা মিলে একটা দৈনিক বের করতে পারেন না কেন? এরাই সাংবাদিক, এরাই মালিক। তাহলে আমরা বেঁচে যেতাম।

সহায়ক লিংক:
১. গাধুরা: http://www.ali-mahmed.com/2008/08/blog-post_03.html

২. শিক্ষক বাবা: http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post_21.html

৩. প্রথম আলো: http://www.ali-mahmed.com/search/label/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE%20%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%8B 

৪. কালের কন্ঠ: http://www.ali-mahmed.com/search/label/%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A0

৫. বীর প্রতীক লালু: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_28.html

৬. ভাষাসৈনিক গাজিউল হক: http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post_18.html 

Sunday, August 3, 2008

গাধু, গাধার মত এইটা কী করলি!

 
(না ভান-না মান, কেবলই অভিমান)
গাদুরা।
তোকে তো গাধুই ডাকতাম, নাকি? তোকে আরেকটা নামে ডাকতাম ‘তিন ঠেইঙ্গা’। ওরে, তোর তিন ঠেইঙ্গাটা রাখা আছে আমার বৈঠকখানায়- আয় না একদিন, দেখে যা।

কি রে, তোর কী জানা আছে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস? মার্কিন কংগ্রেস নাকি ১৯৩৫ সালে আইন করে আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস ঘোষণা করে। চিন্তা কর, বন্ধুত্বের জন্যও নাকি আইন লাগে।
এইসব জানিস না, না? ছ্যা! দেখ দেখি কান্ড, এটা আমি প্রায়শ ভুলে যাই আমি তো আবার তোর থেকে ২ পাতা বেশি পড়েছি। এটা ফলাও করে তোকে, লোকজনকে না বললে শান্তি লাগে না, বুঝলি। আমি যে কী ‘শিকখিত’ হয়েছি এটা জনে জনে না জানালে চলবে কেন, বল! বুঝিস না কেন দুনিয়াটাই এমন...।

তুই যে আমায় ‘চার চইখ্যা’ ডাকতি আমার এটা ভাল লাগত না, বুঝলি। আরে, চশমা চোখে দিলে দুয়ে দুয়ে তো চার চোখই হবে- এটা আবার ঘটা করে বলাবলির কী আছে! চশমা চোখে কী আর সাধে দিতাম, সেই ছোটবেলা থেকেই তো চোখ গেছে। গেলে কী আর করা! ওই সময় এ বয়সের ক-টা ছেলেই বা চশমা পরে, লজ্জা করত না বুঝি আমার? ইচ্ছা করে তুই এই কান্ডটা করবি, চার চইখ্যা ডাকবি আর আমি আনন্দে লাফাব, পাগল!


ইয়ে, তোর কি ওই পাগলা স্যারটার কথা মনে আছে, আছাদ আলি স্যার। আমাদের বাসায় যার কাছে আমরা প্রাইভেট পড়তাম। প্রাইমারীতে পড়ার সময় যেবার তোর বুকে নাগরাপরা পা তুলে দিলেন। আরেকবার পেয়ারা গাছের পাতাসহ ডাল ভেঙ্গে তোকে মারছিলেন আর তুই হি হি করে হাসছিলি। পরে তুই গোমর ফাঁস করে দিলি, পাতাভর্তি ডালটার কারণে তুই নাকি কোন ব্যথাই পাচ্ছিলি না।

জানিস, আজ না আমার আলাভোলা বাবাটার কথা মনে পড়ছে বড্ডো। মানুষটা আমাকে শৈশবে ওই শিক্ষাটা দিয়েছিলেন বলেই না আজ আমার এই হা-হুতাশ নাই, কেন শৈশবের বন্ধুদের মধ্যে কেউ মন্ত্রীর ছেলে, সচিবের ছেলে নাই।
দেখলাম তো আজকালকার বন্ধুত্ব! সর্দি ঝাড়ার মত একজন অন্যজনকে ভুলে যায়! কী অবলীলায় একজন অন্যজনের হাত ছেড়ে দেয়। আসলে আমাদের এত সময় কই!
 

যাগ-গে, তোর সঙ্গে ডাং-গুলি খেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, মাঞ্জা দেয়া সুতা...ঘ্যাচ ঘ্যাচ ঘ্যাচ। ডাং-গুলি ...আহা, কী খেলা- এড়ি, দুড়ি, তেলকা...! ডাং-গুলিতে তোর অসাধারণ দখল আমার ভাল লাগত না, বুঝলি? ভাল লাগার কী কোন কারণ ছিল? তোর কাছে নিয়মিত হারতাম। খেলার নিয়মানুযায়ি এক লালে কেনা যেত আস্ত একটা গোদাম, দুই লালে নদি। তুই তিতাস নদিটাও কিনে ফেলতি, এইটা কোন দেশের বিচার!
আর আমি, হারুয়া পার্টি? গুমগুম করে পিঠে পড়ত তোর কিল। ইশ-শ, কী জোরেই না মারতি! তখন জোর প্রতিজ্ঞা করতাম, শোধ নোব একদিন। ঠিক গদাম করে মারব একটা।
অনেক বছর পরে তোকে কিন্তু ওইদিন ঠিকই মারতাম। তুই শ্লা, আমায় গালি দিলি কেন? শ্লা, আমাকে আপনি আপনি করে বলছিলি কেন রে, তুই থেকে আপনি? কুতুয়া রে!

গাধু, গাধার মত তুই যে মরে গেলি পচাই খেতে খেতে এটা কী একটা কাজের কাজ হল?!

Friday, June 29, 2007

শৈশবের স্তম্ভ!

শুভর ব্লগিং গ্রন্থটায়- সরি, আমাদের মতো আবর্জনা লেখকদের আবার গ্রন্থ বলা নিষেধ। তো শুভর ব্লগিং বইটায় , আমার আনন্দ বেদনার অপকিচ্ছায় আমি শেয়ার করেছিলাম, আমার শৈশবের কিছু অংশ, স্তম্ভ! তো, আবার ওই সব অপকিচ্ছা ঘটা করে বলে বিরক্তি বাড়াই না।

ওই যে বললাম স্তম্ভ! আমার শৈশবের কৌশরের খেলার সাথি, ২জন- যাদেরকে আমি আমার শৈশবের স্তম্ভ বলি। আমার মতো অগাবগা, আজ এখান পর্যন্ত আসার পেছনে এদের অবদানকে খাটো করে দেখার অবকাশ অন্তত আমার নাই!
একজন ছিল ধোপার ছেলে সেন্টু। প্রায়শ দেখা হয়। কথা হয়। ও এখনও বাপ দাদার পেশাতেই আছে। আগে এই নিয়ে তার বেদনার শেষ ছিল না। আমার সামান্য জ্ঞান দিয়ে অন্তত এটা তাকে বোঝাতে পেরেছি। তুমি যে পেশায় আছো এটা অসৎ কোন পেশা না, সৎ পেশা- চোখ নীচু করে থাকাটা অন্যায়। এক দিন বাপ ছেলে মিলে পোজ দিয়ে ছবি তুলল। ফটাফট ছবি তুললাম, গভীর ভাল লাগায় ভাসতে ভাসতে।

আমার বুকের গভীর থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। এই ২টা স্তম্ভের অন্যজন ছিল মুচির ছেলে গাদুরা। আমি ডাকতাম গাধু বলে। ও আমাকে ডাকতো চারচোখ বা চারচোইখা বলে। শৈশব থেকেই আমাকে চশমা ব্যবহার হতো।

এই গাধু বদটা পরে পচাই খেতে খেতে মরেই গেল আমি বদের বদটাকে নাগাল পেলাম না- নইলে বলতাম, গাধু, গাধার মতো মরে গেলি, কাজটা কি ঠিক হলো? ১টা ছবি তুলে রাখার সুযোগ দিলি না!
WhatsApp