Search

Showing posts with label ভাললাগার বই. Show all posts
Showing posts with label ভাললাগার বই. Show all posts

Sunday, March 29, 2015

LES MISERABLES: ?!

সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত চিঠিটা নাকি লিখেছিলেন ভিক্টর হুগো। তাঁর 'লা মিজারেবল' বইটা প্রকাশ হওয়ার পর তিনি প্রকাশককে চিঠি লেখেন। জানার বিষয় বইটা কেমন চলছে বা কাটতি কেমন। চিঠিতে কেবল লেখা ছিল, ?। ব্যস, এই একটা প্রশ্নবোধক চিহ্নই।
প্রকাশকও কম যান না, হুগোর প্রকাশক বলে কথা। তিনি উত্তরে লিখলেন, ! এই-ই। অর্থাৎ বইটার কাটতি বিস্ময়কর।

যাই হোক, জাঁ ভাঁলজা চরিত্রটি হুগোর অমর এক সৃষ্টি। কিন্তু আমাকে কম টানে না ফাদার মিরিয়েল নামের চরিত্রটি। পানির মতো টলটলে এক বাউল! জেল থেকে ছাড়া পেয়ে জাঁ ভাঁলজাকে যখন কেউই খাবার-আশ্রয় দিচ্ছিল না তখন তিনি এসে হাজির হন এই ফাদারের কাছে। হড়বড় করে ফাদারাকে নিজ সম্বন্ধে একগাদা কথা বলতে থাকেন:
See here. My name is Jean Valjean. I am a convict from the galleys. I have passed nineteen years in the galleys. I was liberated four days ago, and am on my way to Pontarlier, which is my destination. I have been walking for four days since I left Toulon. I have travelled a dozen leagues to-day on foot. This evening, when I arrived in these parts, I went to an inn, and they turned me out, because of my yellow passport, which I had shown at the town-hall. I had to do it. I went to an inn. They said to me, `Be off,' at both places. No one would take me. I went to the prison; the jailer would not admit me. I went into a dog's kennel; the dog bit me and chased me off, as though he had been a man.” (p 88)
তখন বিশপ ছোট্ট করে তাঁর সহকারীকে বলেন, জাঁ ভাঁলজার রাতে থাকার ব্যবস্থা করার জন্য।

জাঁ ভাঁলজা ভাবলেন বিশপ সম্ভবত তার কথা বুঝতে পারেননি। তিনি আবারও শুরু করলেন:
The man advanced three paces, and approached the lamp which was on the table. "Stop," he resumed, as though he had not quite understood; "that's not it. Did you hear? I am a galley-slave; a convict. I come from the galleys." He drew from his pocket a large sheet of yellow paper, which he unfolded. "Here's my passport. Yellow, as you see. This serves to expel me from every place where I go. Will you read it? I know how to read. I learned in the galleys. There is a school there for those who choose to learn. Hold, this is what they put on this passport: `Jean Valjean, discharged convict, native of'--that is nothing to you--`has been nineteen years in the galleys: five years for house-breaking and burglary; fourteen years for having attempted to escape on four occasions. He is a very dangerous man.' There! Every one has cast me out. Are you willing to receive me? Is this an inn? Will you give me something to eat and a bed? Have you a stable?

বিশপের আবারও ছোট্ট করে উত্তর: "Madame Magloire," said the Bishop, "you will put white sheets on the bed in the alcove." ... The Bishop turned to the man. "Sit down, sir, and warm yourself. We are going to sup in a few moments, and your bed will be prepared while you are supping." (p 88)

পরদিন সকালে বিশপের সহকারী মাদাম ম্যাগলোয়ের উর্ধশ্বাসে ছুটে এসে বাগানে গাছের পরিচর্যারত বিশপকে বলেন জাঁ ভাঁলজা সমস্ত দামী জিনিস চুরি করে ভেগেছে।
The next morning at sunrise Monseigneur Bienvenu was strolling in his garden. Madame Magloire ran up to him in utter consternation. "Monseigneur, Monseigneur!" she exclaimed, "does your Grace know where the basket of silver is?"
"Yes," replied the Bishop.
"Jesus the Lord be blessed!" she resumed; "I did not know what had become of it."
The Bishop had just picked up the basket in a flower-bed. He presented it to Madame Magloire.
"Here it is."
"Well!" said she. "Nothing in it! And the silver?"
"Ah," returned the Bishop, "so it is the silver which troubles you? I don't know where it is."
"Great, good God! It is stolen! That man who was here last night has stolen it." (p 108)

এই জায়গায় এসে বিশপ নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে যান:
...The Bishop had just bent down, and was sighing as he examined a plant of cochlearia des Guillons, which the basket had broken as it fell across the bed”... (p 108)

জাগতিক জটিলতা পেছনে ফেলে প্রকৃতির সন্তান কেমন করে প্রকৃতির কাছে ফেরত চলে যেতে পারে তার অসাধারণ একটা উদাহরণ। বিশপের কাছে তখন পায়ের চাপে নুইয়েপড়া ফুলের চারা ঠিক করাটা সবচেয়ে জরুরি।
(যেটা ছফার মধ্যেও দেখে চমকে উঠেছিলাম। ছফা তখন জরুরি একটা কাজে ভারত গেছেন। তাঁর কেন যেন মনে হলো তাঁর লাগানো আপেলের চারাটার বিপদ, ভয়াবহ বিপদ! ছফা তাঁর লাগানো আপেলের চারার জন্য কেবল ভারত থেকে উড়েই দেশে চলে আসেননি প্লেনের টিকেট পেতে দেরি হচ্ছিল বলে অফিসারের নাকে গদাম করে ঘুসি মারাটা কেবল বাকী রেখেছিলেন।)

জাঁ ভাঁলজা মালসমেত পুলিশের কাছে ধরা পড়ার পর বিশপ মিথ্যা বলে ভাঁলজাকে বাঁচিয়ে দেন ঠিকই কিন্তু বিশপ ভাঁলজাকে এমনিতেই ছেড়ে দেন না। শয়তানের কাছ থেকে কিনে নেন ভাঁলজার আত্মা।
Jean Valjean, my brother, you no longer belong to evil, but to good. It is your soul that I buy from you; I withdraw it from black thoughts and the spirit of perdition, and I give it to God.” (p 110)

ভিক্টর হুগো বইটার শেষে ভাঁলজার মৃত্যুটা দেখিয়েছেন এমন করে:
He was dead. The night was starless and extremely dark. No doubt, in the gloom, some immense angel stood erect with wings outspread, awaiting that soul.” (p 722)

Saturday, August 31, 2013

জোভান্নী বোক্কাচো এবং তাঁর ধর্ম কথা

জোভান্নী বোক্কাচো চতুর্দশ শতকের ইতালীয় কবি, লেখক। বিশেষ করে নভেলা গল্পরীতির প্রকৃত জনক বলা হয়ে থাকে তাঁকে। বোক্কাচো'র রচিত 'ডিকাম্যারন'-এ একেকজন কথক একেকটা গল্প বলেন। কথক ফিলোমেনা যে গল্পটা বলছেন:
সালাদিন ছিলেন দ্বাদশ শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ বীর, সুশাসক। অনেক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কারণে তিনি আর্থিক সংকটে পড়ে যান। তাঁর বিপুল অংকের টাকার প্রয়োজন দেখা দেয় কিন্তু কোত্থেকে যোগাড় করবেন এটা ভেবে পাচ্ছিলেন না।
হঠাৎ তাঁর মনে পড়ল আলেকজান্দ্রিয়ার 'মেলচি জেডেক' নামের একজন ধনী ইহুদির কথা যিনি চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে থাকেন। কিন্তু মেলচির কাছ থেকে টাকা যোগাড় করাটা সহজ কাজ ছিল না কারণ মেলচি ছিলেন অসম্ভব ধুরন্ধর-ধূর্ত একজন মানুষ। এদিকে নীতিগত কারণে সালাদিন আবার মেলচির কাছ থেকে জোর করে টাকা নিতেও চাচ্ছিলেন না। অনেক চিন্তাভাবনা করে সালাদিন একটা বুদ্ধি বের করলেন।

সালাদিন মেলচিকে ডেকে পাঠালেন। যথেষ্ঠ সমাদরও করলেন। এরপর বললেন, 'মেলচি, আপনি একজন সৎ ব্যক্তি। শুনেছি, আপনি অত্যন্ত জ্ঞানী এবং ধর্মীয় বিষয়ে আপনার জ্ঞানের কোনো তুলনা নেই। তাই আমার ধারণা, ইহুদি, খ্রীস্টান এবং ইসলাম এই তিনটি ধর্মের মধ্যে কোনটা সঠিক এটা আপনি বলতে পারবেন'।

মেলচি দেখলেন এ তো ভারী বিপদ কারণ ওই সময়ে খ্রীস্টান এবং মুসলমানদের মধ্যে ধর্মযুদ্ধ চলছিল। এ কারণে মেলচি ভাবলেন, সালাদিন যেহেত মুসলমান তাই ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্মের কথা বললে সালাদিন তাকে আটক করবেন এতে কোনোই সন্দেহ নেই।
আবার তিনি নিজে যেহেতু একজন ইহুদি- তার নিজের ধর্ম সঠিক না এটাই-বা বলেন কেমন করে! তাই তিনি এই নিয়ে অনেক চিন্তা করে একটা বুদ্ধি বার করলেন।
মেলচি বললেন, 'মহোদয়, আপনার প্রশ্ন অতি গুরুত্বপূর্ণ বিধায় এটা নিয়ে সূক্ষ চিন্তার অবকাশ রয়ে গেছে। আমি এটা ব্যাখ্যা করার জন্য আপনাকে একটা গল্প বলাটা জরুরি মনে করছি'।
সালাদিন বললেন, 'আচ্ছা, বলুন তাহলে'।

মেলচি শুরু করলেন, 'এক ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তার ছিল অতি মূল্যবান, দূর্লভ এক আংটি। তিনি মৃত্যুর পূর্বে লেখাপড়া করে দিয়ে যান, তার যে ছেলেকে এই আংটি দিয়ে যাবেন সেই ছেলেই হবে তার সমস্ত সম্পদের উত্তরাধিকারী এবং পরিবারের প্রধান।
সেই ব্যক্তির ছিল একটি মাত্র পুত্র অতএব সেই পেল আংটিটি। সেই ছেলেও যখন বৃদ্ধ হলো তখন একই রকম উইল করল যে তারও মৃত্যুর পর...। এভাবে কয়েক বংশ পার হওয়ার পর আসল জটিলতাটা দেখা দিল। এক বংশের ছেলে হয়ে গেল তিনজন! তাদের পিতার কাছে আবার তিনজনই সমান আদরের। এদিকে তার প্রত্যেক সন্তানদেনও বায়না আংটিটি যেন তাকেই দেয়া হয়।

ওই পিতা পড়লেন এক বিকট ঝামেলায়। তিনি গোপনে অবিকল আরও দুইটি আংটি তৈরি করলেন এবং প্রত্যেক পুত্রকে গোপনে একটা করে আংটি দিলেন। সেই পিতার মৃত্যুর পর মহা জটিলতা দেখা দিল। প্রত্যেক পুত্রই দাবী করল, তার আংটিটিই আসল। এখন কোনটা আসল আর কোনটা নকল এই নিয়ে কোনো মিমাংসা হলো না বিধায় তারা আইনের আশ্রয় নিল। তাদের সেই আইনি লড়াই এখনও চলছে...'।

এবার মেলচি বললেন, 'প্রভু আমাদের সকলের পিতা, মহান ঈশ্বর আমরা তিন জাতিকে যে ঐশী আইন মানে ধর্ম দিয়েছেন এই বিষয়টাও অনেকটা এমন। এখন প্রত্যেক জাতিই এটা বিশ্বাস করে তাদের ধর্মটাই আসল। কিন্তু ওই তিন আংটির মত এরও ফয়সালা হয়নি কারণ কেবল ঈশ্বরই জানেন কোনটা আসল আর কোনটা নকল'।

সালাদিন এই চতুর ইহুদির উত্তরে স্পষ্ট বুঝে গেলেন এই মানুষটিকে ফাঁদে ফেলা সম্ভব না। এরপর তিনি সেই ইহুদিকে এটাও বলে দিলেন বিশেষ কোনো ধর্ম নিয়ে মন্তব্য করলে তিনি কি ব্যবস্থা নিতেন। ইহুদিও সালাদিনের সরলতায় মুগ্ধ হলেন। তিনি বিনা স্বার্থে প্রয়োজনীয় অর্থ সালাদিনকে দিতে সম্মত হলেন।
সালাদিনও মেলচিকে বন্ধু হিসাবে বরণ করে নেন এবং রাজকীয় মর্যাদা প্রদান করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁদের এই বন্ধুত্ব অটুট ছিল।"

*এ তো গেল গল্প। বাস্তবেও অধিকাংশ ধর্মেরই বক্তব্য সেই ধর্মেই মুক্তি...:
https://www.facebook.com/723002334/posts/10151365990812335

Monday, March 28, 2011

আহ জীবন!

...প্রথম বন্দীকে ওঠনো হলো গিলোটিনে।
ঘ্যাচ!
প্রথমবারের মতো নেমে এলো ভারি ধারালো ফলাটা। দর্শকরা গুণলো ‘এক!’
(এরপর) দর্শকরা গুণলো ‘দুই!’


ঘ্যাচ! ঘ্যাচ! ঘ্যাচ!
‘তিন...চার...পাঁচ’ বিরামহীনভাবে দর্শকরা গুণছে। নিমিষেই প্রথম গাড়ি শূণ্য হয়ে গেল। দ্বিতীয় গাড়ি থেকেও বন্দীদের নামানো শুরু হলো। অল্পক্ষণেই শূণ্য হয়ে গেল সেটাও। এবার পালা তৃতীয় গাড়ির বন্দীদের। সেই মেয়েটা আর কারটন পরস্পরের হাত ধরে আছে।
মেয়েটা বলছে, ‘আমার মোটেও ভয় করছে না । তোমার হাত ধরে আছি তো।’
কারটন বলল,‘তোমার পালা আসবে যখন, আমার দিকে তাকাবে। আমার কথা ভাববে, অন্য কিছু ভাববে না। কিভাবে কী হয়ে যাবে টেরই পাবে না।’
‘ওরা কী খুব তাড়াতাড়ি করবে?’
‘হুঁ।’
অবশেষে মেয়েটার কাঁধ একটা হাত স্পর্শ করল।
জিজ্ঞেস করলো মেয়েটা, ‘সময় হয়েছে?’
‘হুঁ।’

কারটনকে চুমু খেয়ে উঠে দাঁড়াল সে। জনতার দিকে তাকিয়ে হাসল, নির্ভীক, পৃথিবীকে তাচ্ছিল্যের হাসি। তারপর গিলোটিনের দিকে এগোল।
‘ঘ্যাচ’।
জনতা গুণল : ‘বাইশ!’


আকাশের দিকে তাকাল কারটন। কী ঝকঝকে! আকাশে হালকা মেঘ। উড়ে যাচ্ছে একটু একটু করে। বিড়বিড় করছে কারটন,
এই ভালো, সারাজীবন যা করেছি তার চেয়ে অনেক অনেক ভালো একটা কাজ করলাম।
একটা হাত স্পর্শ করলো ওর কাঁধ।
ধীর পায়ে এগিয়ে চলল কারটন। আকাশের দিকে দৃষ্টি। এখনও। গিলোটিনের বেদীতে উঠল। আড় কাঠে গলা রেখে হাঁটু মুড়ে বসল। অনেক মানুষের গুঞ্জন ভেসে এলো ওর কানে। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল, শেষবারের মতো পৃথিবীর, মানুষের মুখ। গুঞ্জনের আওয়াজ ক্রমশ বাড়ছে... সুতীব্র এক আঘাত। সব আলো মুছে গেল কারটনের চোখ থেকে।
জনতা গুণল: ‘তেইশ!’

(আ টেল অভ টু সিটিজ, চার্লস ডিকেন্স)

*অনুবাদটা কে করেছিলেন এখন আর মনে নাই পুরনো ডায়েরীতে টুকে রেখেছিলাম। কিন্তু সব গুলিয়ে যায় যখন কারটনের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করি। আজ কোথাও পড়ছিলাম পৃথিবী থেকে ক্রমশ মৃত্যুদন্ড উঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমি স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশেও একদিন মৃত্যুদন্ড থাকবে না। যে প্রাণ মানুষ সৃষ্টি করতে পারে না সেই প্রাণ নষ্ট করার অধিকার তার নাই...। 

Wednesday, March 31, 2010

কর্ণেল এবং সান্তিয়াগো

গেব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের অসাধারণ একটা বই 'নো ওয়ান রাইটস টু কর্ণেল'। বইটি ছাপা হয় ১৯৫৮ সালে। মার্কেজকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৮২ সালে।

কর্ণেল নামের চরিত্রটি জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে চলে এসেছেন। জীবনযুদ্ধে লড়ছেন মর্যাদার সঙ্গে, একপেট আগুন নিয়ে!
তিনি বছরের পর বছর ধরে নিয়ম করে পোস্ট আপিসে যান। যুদ্ধফেরত এই সৈনিক অপেক্ষায় আছেন সরকারের তরফ থেকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়ার চিঠিটার জন্য। চিঠির জন্য অপেক্ষা কিন্তু কেউ কর্ণেলকে লেখে না! এক অনিশ্চিত অপেক্ষা!
তাঁর হাহাকার করা কথাগুলো এমন, "আমার সব সহযোদ্ধারাই চিঠির জন্য অপেক্ষা করতে করতে মারা গেছে।"

তাঁর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীও আশায় বুক বাঁধেন। কর্ণেল পত্মীর একসময় এই অপেক্ষা, শব নিয়ে অপেক্ষার চেয়েও দীর্ঘ মনে হয়। তিনি কর্ণেলের কাছে জানতে চান আগামী এই অপেক্ষার দিনগুলো কাটবে কেমন করে।
কর্ণেল পত্মী আবারও জানতে চান, খাব কি?
কর্ণেল উত্তর দেন, গু!

মার্কেজের সৃষ্ট এই চরিত্রটির সঙ্গে অনেকখানি মিল খুঁজে পাওয়া যায় আর্নস্ট হেমিংওয়ের 'দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী'-র সেই বুড়ো সান্তিয়াগোর সঙ্গে। হেমিংওয়ে ১৯৫৪ সালে নোবেল পুরস্কার পান। নোবেল কমিটি সাহিত্যে তাঁর অবদান উল্লেখ করতে গিয়ে
'দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী'-এর কথা উল্লেখ করেন:
"His vigorous art and the influence of his style on the literary art of our times as manifested in his book 'The Old Man and the Sea'..."


হেমিংওয়ের অমর সৃষ্টি বুড়ো সান্তিয়াগো। অমর সেই সংলাপ, "...মানুষ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে কিন্তু পরাজিত কখনও হয় না।"
বুড়ো জেলে সান্তিয়াগো। যখন সবাই তাঁকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে। তখনও বুড়ো স্বপ্ন দেখে, এক অদেখা স্বপ্ন! ৮৪ দিনেও একটিও মাছ পায়নি সে। ৮৫ দিনের মাথায় ১৮ ফিট লম্বা বিশাল এক মার্লিন মাছ ধরা পড়ে তাঁর বড়শিতে। শুরু হয় এক অন্য রকম লড়াই।
উত্তাল সমুদ্র, দানবীয় মাছ, ক্ষুধা-পিপাসার সঙ্গে টিকে থাকার যুদ্ধ। মাছের লোভে হাঙরের মিছিল। আমার ধারণা, সমুদ্র এখানে রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে, আসলে প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ। কারণ বুড়ো সান্তিয়াগোর প্রকৃতির সন্তান মাছটার প্রতি মমতার কমতি নেই। বুড়ো বলছে, "...মাছটাকে খাওয়াতে পারলে ভাল হতো...।"
আবার এও বলছে, ...মাছ, তোমার সঙ্গে আমি আমৃত্যু লড়ে যাব...।"

বুড়ো কর্ণেল এবং বুড়ো সান্তিয়াগোর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, শেষঅবধি কর্ণেলের স্বপ্ন-লড়াইটা সম্বন্ধে জানা যায় না কিন্তু সান্তিয়াগো লড়াই শেষ করে। হাঙরের মুখ থেকে ছিনিয়ে বিশাল সেই মাছটাকে তীরে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়, যদিও তখন মাছটার কন্ঙ্কাল ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। তাতে কী, বুড়ো সান্তিয়াগো একাই লড়াই চালিয়ে তাঁর অদেখা স্বপ্নকে হাতের মুঠোয় আটকে ফেলে।

কর্ণেল এবং সান্তিয়াগো এই দুই দুর্ধর্ষ লড়াকু আর কিছুই না।
জীবনের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এক স্বপ্ন। এই স্বপ্নই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।
আমি বিশ্বাস করি, "একজনকে মেরে ফেলা যায় কিন্তু তার স্বপ্নকে মেরে ফেলা যায় না। সেই মানুষটার গলিত শব থেকে বেরিয়ে আসে এক প্রাণ, তাঁর সেই অদেখা স্বপ্নকে হাতের মুঠোয় আটকে ফেলে। যারা এই স্বপ্নগুলো দেখতে পায় না তারা ভোরের ঠিক আগমুহূর্তে হাল ছেড়ে দিয়ে মারা যায়।

Monday, September 7, 2009

কালিদাস কহিলেন...

একদিন রতিক্রিয়াকালে মহাদেব যখন প্রিয়ার (পার্বতি) মুখকমলের মধুপানে মত্ত ছিলেন তখন দেখলেন, একটি পারাবত রতিমন্দিরে প্রবেশ করছে।
...
পরক্ষণেই দেবাদিদেব মহাদেব পারাবতের অলৌকিক আকৃতি দেখে সন্দিহান হয়ে তার তথ্য জানার জন্য চিন্তা করে দেখলেন, অগ্নিদেবই এই মায়া বিহঙ্গমূর্তি ধারণ করে এসেছেন। তখন তিনি তার সম্ভোগ নিকেতনে অগ্নির গুপ্তভাবে ছদ্মবেশে প্রবেশের জন্য ক্রোধে ভ্রূভঙ্গি করে রুদ্রমূর্তি হয়ে উঠলেন।
তা দেখে দেবহুতাশন (অগ্নিদেব) নিজমূর্তি ধারণ করে ত্রাসে কম্পিত ও স্খলিত অঞ্জলিপুটে স্মরশাসন মহাদেবকে বলতে লাগলেন:
'হে প্রভু, আপনি ত্রিজগতের একমাত্র অধিশ্বর। আপনি সর্বদাই স্বর্গবাসী দেবতাদের বিপদ বিনাশ করে থাকেন।
...
আপনি প্রিয়ার প্রেমাবেশবশে থেকে নিভৃতে নির্জনে কতকাল অতিবাহিত করলেন। দেবরাজ ও অন্যান্য দেবগণ আপনার দর্শন না পেয়ে অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়েছেন।
...
হে সর্বজ্ঞ, আপনার সেবার অবসর প্রতীক্ষা করার পর ইন্দ্রানি দেবগণ আমাকে অনুরোধ করায় আমি সময়োচিত বিহঙ্গরূপ ধারণ করে আপনার অন্বেষণে এখানে এসেছি।'
...
শঙ্কর তখন দেব হুতাশনের সেই সঙ্গত প্রার্থনা শুনে প্রসন্ন হলেন।
...
এদিকে উর্ধ্বনেত্রা মহাদেবের সুরতক্রিয়ায় ব্যাঘাত হওয়ায় যুগান্তকালাগ্নির মত অসহনীয় রেতঃ স্খলিত হলো। তখন তিনি সেই অমোঘ বীর্য অগ্নিতে নিক্ষেপ করলেন।
রুদ্রুদেবের জ্বলন্ত অনলসদৃশ অমোঘবীর্য নিক্ষেপের ফলে অগ্নির বিশুদ্ধ দেহ সহসা উষ্ণনিঃশ্বারসর বাতাসে দূষিত মুকুরের মত অতিশয় বিবর্ণ হয়ে উঠল।
(কুমারসম্ভব, নবম সর্গ)

এদিকে বহ্নি মহাদেবের নিক্ষিপ্ত মহাতীব্র রেতঃ শরীরের মেখে দেবসভা মধ্যে সুরগণপরিবৃত দেবরাজের নিকট উপস্থিত হলেন।
...
দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে বহ্নি বলতে লাগলেন...:
'(মহাদেবের) কামকেলি অকস্মাৎ ভঙ্গ হওয়ায় তাঁর দুর্বিসহ অমোঘ বীর্য স্খলিত হলো। কিন্তু ত্রিজগদ্দাহক সেই অসহ্য বীর্যধারণক্ষম অন্য কোন আধার না পেয়ে উপস্থিত আমার দেহের উপর নিক্ষেপ করলেন। 
...হে বাসব, অজস্র ও অতি মহৎ সেই বীর্য দ্বারা আমি অতিশয় দগ্ধ হচ্ছি।'
...
দেবরাজ অগ্নিকে বললেন, হে হব্যবাহন, তুমি আর বিলম্ব করো না গঙ্গায় গমণ করো।
...তুমি তাঁর সলিলমধ্যে নিমগ্ন হলে তিনি তোমার উৎকট তাপ নির্বাপিত করবেন।
...
অগ্নি তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সুরতরঙ্গিনীর অভিমুখে যাত্রা করলেন।
...
তখন তাপার্ত অগ্নি গঙ্গার জলে নিমগ্ন হলেন।...। অগ্নি তখন বিপদনাশিনী উত্তালতরঙ্গময়ী তাঁর অন্তর্গত তাপরূপ মহেশ্বরের (মহাদেব) তেজ (রেতঃ) সংক্রামিত করলেন।
...
এদিকে আকাশবাহিনী গঙ্গা দেবাদিদেব মহাদেবের দুর্বিসহ মহৎ তেজ ধারণ করে অতিশয় পরিতপ্ত (অতি তাপ)হয়ে উঠলেন।
...গঙ্গার মধ্যে যেসব জন্তুরা বাস করত তারা সেই অসহনীয় উত্তাপে কাতর হয়ে নদীর জল থেকে বেরিয়ে এল।
...
কৃত্তিকা নামে ছয়টি নক্ষত্র গঙ্গস্নানের জন্য সুরধুনীতে গমন করলেন।
...
গঙ্গাজলে অভগাহন স্নান করার ফলে মহাদেবের সেই অমোঘ রেতঃ ছয়জন কৃত্তিকার দেহের অভ্রন্তরে তৎক্ষণাৎ সঞ্চারিত হলো।
...
...সেই তীব্র অমোঘ শৈববীর্য তাদেঁর উদরমধ্যে সংস্থিত হওয়ায় তাঁরা গর্ভত্ব প্রাপ্ত হলেন।
...
গর্ভ হয়েছে জেনে তা বহনে অসমর্থ হয়ে স্বামীর ভয়ে ও লজ্জায় অত্যন্ত বিষণ্ন হয়ে পড়লেন।
...
তাঁরা সেই শরবনে চন্দ্রকলার মত সুকোমল সেই গর্ভ পরিত্যাগ করে ক্ষণকালমধ্যো আকাশে নিক্ষেপ করলেন।
...সেই অপরিমেয় তেজ ...ছয়টি মুখ প্রাপ্ত হয়ে জন্মগ্রহন করল (মহাদেবের সন্তান ষড়ানন কুমার)।
(দশম সর্গ, কুমারম্ভব/ কালিদাস)।
WhatsApp