Search

Showing posts with label ক্ষমতার অপব্যবহার. Show all posts
Showing posts with label ক্ষমতার অপব্যবহার. Show all posts

Tuesday, February 24, 2026

আমাগো একজন মহামান্য রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু!

আমাদের এখনকার রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু পূর্বের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের মত না; যে আব্দুল হামিদের মত হরেদরে এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রিয়াংকা চোপড়াকে নিয়ে রসিকতা করবেন।

Monday, July 28, 2025

ইউনূসের ছেলেরা যখন বড় হয়ে উঠল!

সাদিক মাহবুব ইসলাম, এই ভদ্রলোক চমৎকার করে গুছিয়ে বলেছেন:


এই ভিডিও কার্টেসি: Imtiyaz Mirza

আমি বারবার বলে আসছি, হাসিনা রেজিম পরিবর্তনের কোন বিকল্প ছিল না।

Saturday, June 11, 2022

সাহেব আসিলেন, বিনা পয়সায় ট্রেনে চড়িলেন, ৬ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট ৬ সেকেন্ডে দেখিলেন!

২০১৬ সালে আখাউড়া-লাকসাম ডাবল লাইনের খরচ ধরা হয়েছিল ৬৫০০ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের তারিখ দেওয়া ছিল ২০২০ সালের জুন মাস। এখন ২০২২ সালের জুন মাস। অনায়াসে ২ বছর চলে গেছে কিন্তু এই কাজ এখনও চলমান। কবে নাগাদ শেষ হবে এটা আমরা প্রজাতন্ত্রের ট্যাক্সপেয়িরা জানি না বটে কিন্তু প্রজাতন্ত্রের বেতনভুক্ত কর্মচারিরা বিলক্ষণ জানবেন এমনটা আশা করাটা দোষের না। তবে অতীব আশার বিষয় হচ্ছে, আমাদের জীবদ্দশায় এর শেষ দেখে যেতে পারলেই আমরা খুশি!

Wednesday, May 11, 2022

সূর্যের চেয়ে বালির...!

আমাদের দেশে সরি বলার চল কম আর রাজনীতিবিদদের বেলায় তো একেবারেই নৈব নৈব চ! 'আমার দেশ' বলতে বলতে এঁদের অভ্যাস খারাপ হয়ে যায় তখন সব কিছুই আমার রাস্তা, আমার ব্রিজ, আমার কালভার্ট ইত্যাদি। সেদিক দিয়ে আমি রেলমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই কারণ তিনি বিব্রত হয়ে প্রকারান্তরে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। নিজের জন্য না তাঁর স্বজনদের অপরাধের জন্য। কারণ তিনি এর দায় এড়াতে পারেন না:

Saturday, July 7, 2018

দমিনাস, জাফর ইকবাল এবং 'বাচপানা'!

ড. জাফর ইকবাল হালে একটি লেখা লিখেছেন। ‘ওয়ার্ল্ড কাপ’ [১]। সেখানে তিনি এক জায়গায় লিখেছেন, “…জাতীয় সঙ্গীত যে রকম শুধু কিছু শব্দ আর কিছু বাক্য নয় আরও অনেক বড় কিছু; জাতীয় পতাকাও সে রকম শুধু সেলাই করা দুই টুকরো কাপড় নয়, আরও অনেক বড় কিছু…”।

Sunday, July 1, 2018

দানব এবং মিডিয়া।

হোলি আর্টিজেন বেকারিতে হামলার দুই বছর হলো এখনও অভিযোগপত্রই নাকি দেওয়া হয়নি! তদন্ত নামের যে-জিনিসটা এটা বড় বিচিত্র এর কোনও আগামাথা নাই জবাবদিহিতারও কোনও বালাই নাই।

মিডিয়ার শক্তি কী জিনিস

Thursday, April 26, 2018

ধারা ৫৭...।

দেবতা তবুও ধরেছে মলিন ঝাঁটা
স্পর্শ বাঁচিয়ে পুণ্যের পথে হাঁটা” (অমিয় চক্রবর্তী)

লোকজন দেবতার হাতেও ঝাঁটা ধরিয়ে দেন। শোনো কান্ড, তাও মলিন ঝাঁটা। আহা, দেবতার যেখানে ছাড় নেই সেখানে মানুষ কোন ছাড়! হোমার সামটাইমস নডস- দেবতারও ভুল হয়। কিন্তু এ এক বিস্ময়, এই দেশের মানুষের ভুল হওয়ার চল কোথায়, হলেও স্বীকারের সততা নাই। শোনো কথা, যেন মানুষ চলে যাবে সমস্ত সমালোচনার উর্ধ্বে! আচ্ছা, গেলে কী হয়! যা হওয়ার তাই হয়- ফল হাতেনাতে।

Saturday, December 9, 2017

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে...।

সৌদি নাগরিক মহতরমা সোফিয়া আমাদের দেশে তশরিফ এনেছেন। আমি প্রথমে ভেবেছিলুম তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। কিন্তু না, আমার ধারণা ভুল।

এনবিআর চেয়ারম্যান নিজের গাঁটের পয়সা(!) খরচ করে (কেউ কেউ বলছেন টাকার অংকটা কোটির কাছাকাছি আমি সেই কুতর্কে গেলাম না) দেশের অধিকাংশ চালু দৈনিকে ঢাউস আকারের বিজ্ঞাপন দেয়ার ফলে আমার এই ভুল ভেঙ্গেছে। এনবিআর চেয়ারম্যান মহোদয়কে দিলখোলা ধন্যবাদ জানাই।

তাঁর বিজ্ঞাপনের কল্যাণে আমরা জানলাম: ‘সৌদি নাগরিক মহতরমা সোফিয়া লাগেজে করে এসেছেন বলে মহতরমার ইমিগ্রেশন লাগেনি এমনকি পাসপোর্ট-ভিসাও’!
এই ব্যবস্থাটাই যদি উন্নত দেশ চালু করে তাহলে মন্দ হয় না কারণ তাহলে আমরা ইয়া বড় একটা লাগেজে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করে বিনা পাসপোর্ট-ভিসায় হেথায় চলে গেলুম আর কী। তিন উল্লাস! 
যমুনা টেলিভিশনে মহতরমা সোফিয়ার একটা সাক্ষাৎকার দেখছিলাম। ওখানে উপস্থাপক জিজ্ঞেস করলেন: সোফিয়ার পছন্দের রঙ কি? মহতরমা সোফিয়া এর উত্তর দিতে পারেননি কারণ তার ‘দম্পিউটার’(!) ওরফে মেমরিতে এই তথ্য যোগ করা হয়নি।
আমার ধারণা মহতরমা সোফিয়ার মেমরিতে ‘ইয়ে’ (আমি এই ‘ইয়ে’ ওরফে চুতিয়া শব্দটা লিখতে চাই না। কারণ আজকাল পোলাপানরা অবলীলায় এটা লিখে আমাকে ফাঁসিয়ে দেয়। ‘ইয়ে’ শব্দটা লিখে এর সঙ্গে যোগ করে দেয় ‘কপিরাইট আলী মাহমেদ’। মরণ! ) ইনপুট দিলে সে চোখ টিপে এটাও বলে দেবে।
(গুগলের স্ক্রিণশট)
নর্তিত মিডিয়া মহতরমা সোফিয়াকে নিয়ে যে নাচানাচি করছে তা ভারী আনন্দদায়ক! ইলেকট্রনিক মিডিয়া মহতরমা সোফিয়াকে জিজ্ঞেস করছে, ‘তুমি কি জানো, বাংলাদেশের অনেক ছেলে তোমার প্রতি ‘ক্রাশ’ খেয়ে বসে আছে। আচ্ছা, এমকি কি সম্ভাবনা আছে যে তুমি এদের মাঝ থেকে কাউকে জীবনসঙ্গি বেছে নেবে’?

‘ইয়ে’, ইয়ের মিডিয়া বলে কথা…!

Tuesday, August 2, 2016

ধারাবাহিক 'ফারাজকাহিনি' এবং মিথ্যাবাদি মিডিয়াবালক!

কিছু বিষয় নিয়ে লিখতে ভাল লাগে না যেমন শবের ব্যবচ্ছেদ! ফারাজের বিষয়টা নিয়েও লেখার ইচ্ছা ছিল না। মানুষের যেমন বয়স হলে পরিপক্কতা বাড়ে তেমনি পত্রিকারও বয়স হলে তার দায়িত্বশীলতা বাড়ে। কিন্তু প্রথম আলোর মত পত্রিকার সম্ভবত এই বোধের উন্নতি হবে না কখনও, আফসোস! এরা লেবু চিপে হালুয়া বানিয়ে ফেলে! কাউকে-কাউকে কোলে করে কেমন করে এভারেস্টে উঠাতে হয় এর নমুনা আমরা মুসা ইব্রাহিমের বেলায় দেখেছি [১]। যেমনটা এখন দেখছি ফারাজের বেলায়।

পত্রিকাটিতে এটা এখন সিরিজ আকারে ছাপা হচ্ছে, ক্রমশ মেগা-সিরিজে রূপ নেবে এতে কোনও সন্দেহ নেই। যথারীতি আনিস ভাইয়া লিখেছেন, হাত-পা খুলে! আনিসুল হকের লেখাটার কথা যদি উহ্যও রাখি (কেন?সেটা বিস্তারিত লিখে শব্দের অপচয় করতে চাচ্ছি না কারণ এই ভদ্রলোক ফারাজকে নিয়ে “পৃথিবী জেনে রাখো, ফারাজই বাংলাদেশ” শিরোনামে ৪ জুলাই, ২০১৬ লেখায় লিখেছেন,…"যে জিম্মিরা মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তারা বারবার বলছিলেন, ফারাজ, তুমি চলো, তুমি চলো। ফারাজ বলেন, বন্ধুদের ছেড়ে আমি যাব না"। 
লেখাটা পড়ে আমার মত নির্বোধ পাঠকের মনে হবে স্বয়ং আনিসুল হক ওখানে উপস্থিত ছিলেন যেমনটা মুসাকে নিয়ে লেখার সময়ও মনে হয়েছিল এভারেস্টের চুড়ায় লেখক মহোদয়ও উপস্থিত ছিলেন।)

যাই হোক, প্রথম আলো পত্রিকায় ৩০ জুলাই ছাপা হয়েছে, 'জঙ্গিবাদ নয়,‘ফারাজই বাংলাদেশ'; ৩১ জুলাই 'ফারাজের বন্ধুত্বই জঙ্গিবাদ হটাবে বিপথগামীদের ফিরিয়ে আনবে’। আজকের পত্রিকাতেও ফারাজকাহিনী। প্রবল আশা, আগামীকালও থাকবে। কারণটা আমাদের মত বুরবাকদেরও বোঝার বাকি নেই। টংকার ঝনঝনানি! প্রথম আলো-ডেইলি স্টার গং ফারাজদের পারিবারিক ব্যবসা...।

পূর্বে লিখতে ইচ্ছা হয়নি কিন্তু তখনও আমার মনে ছোট্ট একটা প্রশ্ন ছিল। সেটা হচ্ছে, আচ্ছা, ফারাজ যে আত্মদান বা বলিদান দিলেন এটার খবর কী কেবল 'নিউইয়র্ক টাইমস'-ই পেল! এই পত্রিকাটিই প্রথমে ছাপে এরপর অন্যরা এই পত্রিকার বারত নিয়ে ছাপতে থাকে-ছাপতে থাকে। এর শেষ যেন নেই! তা বেশ কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমস এই তথ্যটা কোথায় পেল? ফারাজের চাচার কাছে! ফারাজের চাচা কোথায় পেলেন? ছাড়াপাওয়া জিম্মিদের কাছ থেকে? ছাড়া পাওয়া কোন জিম্মির কাছ থেকে তিনি তথ্যটা পেলেন তার আর কিন্তু হদিশ নেই! কিন্তু জানতে পারলে আমরা বেকুবরা খানিকটা আরাম পেতাম।

(নিউইয়র্ক টাইম যেটা লিখেছিল,“ফারাজ হোসেনকে ছেড়ে দিয়েছিল বলে জানান ফারাজের নিকটাত্মীয় হিশাম হোসেন। হিশাম ছাড়া পাওয়া এক জিম্মির কাছ থেকে ঘটনাটি শুনেছেন”।)
এরপর আমাদের অধিকাংশ মিডিয়া দায় সেরেছে এভাবে, “বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন ফারাজ। …ফারাজের স্বজনদের সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে তৈরি করা মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এসব কথা উঠে এসেছে” (বাংলা ট্রিবিউন, ৩ জুলাই ২০১৬)
সে তো বুঝলুম রে বাপ কিন্তু ফারাজের স্বজনরা কোন দেশে থাকে যে বেচারা তুমি তাদের সঙ্গে দু-চারটা আলাপ করে আমরা বেকুবদের জানাতে পারলে না! দুম করে অন্যের খাবার চেয়ে নিয়ে জাবর কাটতে থাকলে! বাপু রে, নিজের খাবার নিজের মুখে খেলেই তো উত্তম!
 
“নিজের প্রাণ দিলেও বন্ধুদের সঙ্গ ছাড়েননি ফারাজ। …দুই বন্ধুকে জঙ্গিদের মাঝে ফেলে রেখে প্রাণ বাঁচানোর সযেোগ নেননি ফারাজ আইয়াজ হোসেন”। (ইত্তেফাক ৩ জুলাই ২০১৬)
এই তথ্য ইত্তেফাক কোথায় পেল এর কোনও সূত্রের উল্লেখ নেই! আচ্ছা, বাংলাদেশের মিডিয়া ভাত খায় কী ইয়র্কারদের হাত দিয়ে খায়? মানে নিউইয়র্ক টাইমসের চামুচ নামের হাতা দিয়ে!
অন্য আরও কিছু মিডিয়ার কথা এখানে উল্লেখ করি। সবার তথ্যের উৎস নিউইয়র্ক টাইমস! :

...

...

...

বেশ-বেশ! আচ্ছা, জিম্মিদের সঙ্গে ফারাজকে ছাড়তে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা, কখন? কমান্ডো অভিযান শুরু হওয়ার আগে সকাল ছয়টার দিকে সন্ত্রাসীরা তাদের টেবিলে থাকা আটজনকে ছেড়ে দেয়”। (প্রথম আলো ০৭ জুলাই, ২০১৬)
এর কাছাকাছি সময়ে তাহলে ফারাজকে এবং তার বন্ধুদেরকে হত্যা করা হয়? অথচ বিভিন্ন জায়গায় এটা উঠে এসেছে জিম্মি করার আধা ঘন্টার মধ্যেই দেশি-বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ২০ জনকে প্রথমে গুলি করে এরপর ছুরিকাঘাতে তাঁদের মৃত্যু নিশ্চিত করে। তার মানে ফারাজের বন্ধুদেরকে এই সময়ই মেরে ফেলার কথা।
এমনিতে সকালে এরা ছিল ফুরফুরে মেজাজে। প্রথম আলোর ভাষ্যমতে, (আকাশ খানকে) "...এরপর হাসতে হাসতে জঙ্গিরা বলতে থাকে, আমরা যাই জান্নাতে দেখা হবে তোমাদের সঙ্গে। তুমি চলে যাও। কিছুক্ষণ পরে এখানে গুলি আসবে। সেই গুলি তোমাকেও লাগতে পারে। যাও যাও বলে আমাকে তাড়িয়ে দেয় তারা"... (প্রথম আলো ১ আগস্ট, ২০০৬)

তারপরও তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই ফারাজ তার বন্ধুদেরকে ফেলে আসবে না আর ওরাও তার বন্ধুদেরকে ছাড়বে না। বেশ, ফারাজের বন্ধুদেরকে নাহয় মেরে ফেলল কিন্তু ফারাজকে মারতে যাবে কেন?
                            ভিডিও সূত্র: ডি কে হং


সহায়ক সূত্র:

১. প্রথম সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী...: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_27.html
 
...
আপডেট ২৬.০১.২৩:
'ফারাজ' নামে একটা ভারতে একটা মুভি করা নিয়ে আবারও তর্কটা সামনে চলে এসেছে। যে সাংবাদিক খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ফারাজকে নিয়ে হিরোগিরির যে গাল-গল্প মিডিয়া ছড়াচ্ছে- বিশেষ করে প্রথম আলো গংরা বলছে তা মিথ্যা!

ফা
রাজ যে বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে তাদের মধ্যে একজন অবিন্তার মার-ও তীব্র বিশ্বাস এর কোনও ভিত্তি নেই।
আমার সাফ কথা, ফারাজের জন্য আমাদের আছে অন্য যারা মারা গেছেন তাদের মতই নিতল বেদনা কিন্তু সত্যের সঙ্গে মিথ্যা মিশিয়ে আমাদের মত সাধারণ মানুষের সঙ্গে চালবাজি করার কোন প্রয়োজন ছিল না। প্রথম আলো গংরা জেনেশুনে যে মিথ্যার ঝাঁপি খুলে বসেছেন এটা এক প্রকারের অপরাধ, কঠিন অপরাধ!

Monday, July 25, 2016

বর্গি গেল, জামাত-শিবির এলো!

মারাঠা সৈন্যবাহিনীর দস্যুদেরকে বর্গি বলা হতো। এই বর্গিরা ছিল মহাপাজি! এরা অন্য রাজ্যের রাজস্বেও ‘চৌথ’ নাম দিয়ে ভাগ বসাত। করাত টাইপের লোকজন অনেকটা, যেতেও কাটে আসতেও। রাজস্ব দিলেও রাজস্বের নামে লুটতরাজ না-দিলেও লুটতরাজ। বঙ্গের মানুষকে তিতিবিরক্ত করে ফেলেছিল। অবস্থা এমন দাঁড়াল কাউকে জিজ্ঞেস করা হলো,‘ভাত খাইছেন’? তার উত্তর অনেকটা এই টাইপের, ‘কী ভাত খামু বর্গির জ্বালায় ভাত খাওয়ার উপায় আছে’!
'ইয়ে করছেন'? 'আরে, কেমনে ইয়ে করমু', ইত্যাদি।

দেশে এখন আর বর্গি নাই। তাতে কী! জামাত-শিবির তো আছে। ভাগ্যিস আছে নইলে আমাদের দেশের যে কী উপায়টা হতো! আহা, কাউকে ক্রসফায়ারের নামে মেরে ফেলা হয়েছে, তো?। ‘কুছ পারোয়া নেহি’, জামাত-শিবির বলে দিলে ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য বঙ্গাল ফ্রন্ট’! পুলিশ কাউকে ‘দিন-দাহাড়ে’ শত-শত লোকজনের সামনে পেটাচ্ছে। কোনও সহৃদয় মানুষ অসহায় মানুষটাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলো বুঝি? ব্যস, বলে দাও ওরা জামাত শিবির দেখো, তার পায়ে অদৃশ্য পেরেক আটকে নড়াচড়ার যো থাকবে বুঝি- তখন তার একেকটা জুতার ওজন হবে কম-কম ১ টন।!
                              ভিডিও সূত্র: banglatribune.com
এই ভিডিওতে আমরা যে বীরপুঙ্গব সার্জেন্ট মহোদয়কে দেখতে পাচ্ছি তিনি একজন চালককে পেটাচ্ছেন, বুট দিয়ে পদদলিত করছেন। এদিকে পুলিশ বলছে, "... পুরো ঘটনার ভিডিও দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়েছে খন্ডিতাংশ। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। এটি পূর্ব পরিকল্পিত বলে মনে করেন তারা"...
বাপুরে, তোমাদের ভাবমূর্তির ভাব দেখে বাঁচি নে।
পরে সার্জেন্ট স্যার তার মোবাইল, ঘড়ি, চশমা এবং ইয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণও আদায় করেন। এই প্রসঙ্গে সার্জেন্ট মেহেদীর কাছে ওই চালককে মাটিতে ফেলে পায়ের বুট দিয়ে আঘাত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমি তাকে অ্যারেস্ট করতে চাইছিলাম। এটা আমাদের অ্যারেস্ট করার কৌশল’।
কারও গোপন কৌশল নিয়ে আমরা ট্যাক্সপেয়ি লোকজনেরা বেশি বাতচিত নাই-বা করলাম।
সার্জেন্ট মেহেদী বাংলা ট্রিবিউন ডট কমকে আরও বলেন, “…এ সময় কয়েকজন লোক এগিয়ে আসেন। যাদের পরনে কোর্ট-টাই পরা ছিলো। মুখে দাড়ি ছিলো। তাদের জামায়াত-শিবিরের লোক বলে মনে হয়েছে। …

কী সর্বনাশ-কী সর্বনাশ! আফসোস, গুলিস্তানের কামানটা সার্জেন্ট সাহেবের হাতের নাগালে ছিল না নইলে তোপ দাগিয়ে এগিয়ে আসা ওই জামাত-শিবির দুষ্টদেরকে উড়িয়ে দিতেন।

Monday, May 16, 2016

‘আমাগো কোবি’- কবিবর, শ্রীনির্মলেন্দু গুণ।

তিনি কেবল কবিবরই না শিকারিবরও বটে। তিনি সমকামী সেটা তাঁর সমস্যা কিন্তু যখন সদর্পে বলেন, ‘আগে আমি শিকার ছিলাম পরে শিকারি হয়েছি’, 
তখন ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলি, কারণ…? ভাগ্যিস, গুণদাদা কেবল এটা জানিয়েই ক্ষান্ত দিয়েছেন অন্য শিকারিদের মত (আহা, এমন পোজ তো আমরা বিস্তর দেখেছি বাঘ শিকার করে বাঘের উপর একটা ঠ্যাং তুলে দিয়ে শিকারি সাহেব ক্যামেরার সামনে  গোঁফ উচিয়ে দাঁড়ান) ওমন ভঙ্গিতে একটা ফটো তুলে জাতির উদ্দেশ্যে ছুড়ে দেননি!

এমনিতে বড় অভিমানী এই কবি! একবার গণভবনে দাওয়াত না-পেয়ে কবি সাহেব শিশুর ন্যায় গাল ফুলিয়ে রাখলেন। আহা, কী মায়াই না হয়েছিল শ্রীপদপঙ্কজ শ্রীনির্মলেন্দু গুণকে দেখে। আহারে-আহারে…! তখন বাবুর চোখে চোখ রাখাই দায়।
আহা, কবির চোখে চোখ রাখি কেমন করে? ছি-ছি-ছি, কবিসম্রাটকে এহেন অপমান! কবিসম্রাট হওয়ার জন্য কত ত্যাগই না-স্বীকার করতে হয়েছে এই মানুষটাকে। আহা-আহা, এক চোখে জল এক চোখে পানি চলে আসে যে আমার। আমেরিকান কবি গ্রেগরী করসো যখন আমাদের দেশ নিয়ে আমাদের মৃত মানুষদের নিয়ে অতি কুৎসিত কথা বলেন, জঘন্য আচরণ করেন তখন কবিসম্রাট গায়ের সঙ্গে মাথাও দোলান [১]

এই তো সেদিন, স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার পূর্বে কবিবর হইচই শুরু করলেন। আমি আরো ভাবলুম কবিবরকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে আর তিনি কেন এই পুরষ্কারটাই শর্ষীনার পিরকে বা র‌্যাবকে দেওয়া হয়েছিল, এই নিয়ে ফেসবুক মাতাচ্ছেন। ওয়াল্লা, ঘটনা তো এটা না। এমনিতে আমাদের কবিবর কেবল ফেসবুক দাপিয়ে বেড়ান এমনই না ওখানে অবলীলায় তিনি যে ভাষা ব্যবহার করেন আদর করে তাকে বলা চলে 'নোংরা শব্দশেল’! সামাজিক মাধ্যমে ‘খা…পোলা’ টাইপের [২] এই সমস্ত অতি কুৎসিত শব্দ প্রয়োগের পূর্বে অপদার্থ বখা ছেলেও দ্বিতীয়বার ভাববে।

তো, ফেসবুকের বরপুত্র একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। ওখানে তিনি লিখেছিলেন:
আমাকে উপেক্ষা করার বা কবি হিসাবে সামান্য ভাবার সাহস যার হয়, তাকে উপেক্ষা করার শক্তি আমার ভেতরে অনেক আগে থেকেই ছিল, এখনো রয়েছে। পারলে ভুল সংশোধন করুন। অথবা পরে একসময় আমাকে এই পদকটি দেওয়া যাবে, এই ধারণা চিরতরে পরিত্যাগ করুন’
এরপরই পদকদাতাদের চোখ খুলে গেল। তাঁরা তাঁদের ভুলটা বুঝতে পারলেন। তারা কবির গলায় 'ইয়ে' পরিয়ে দিলেন- ঠিক যেমন ইয়ের গলায় ইয়ে পরিয়ে দেওয়া হয়!  এবং কবিবর ‘পদকবর’ মানে পদকপ্রাপ্ত হলেন, এমনটা বলা হচ্ছে বটে কিন্তু সত্যটা হচ্ছে কবিবর স্বাধীনতা পদকটা ছিনিয়ে আনলেন।
 
কোবি, 'আমাগো কোবি' বলে কথা…!
সহায়ক সূত্র:
১. চালবাজ: http://www.ali-mahmed.com/2012/10/blog-post_16.html 
২. গুণবান গুণ!: http://www.ali-mahmed.com/2012/11/blog-post_28.html

Thursday, February 11, 2016

বিশিষ্ট ঝাড়ুদার!

ঝাড়ুদারচুঞ্চু বা বিশিষ্ট ঝাড়ুদারের বড়ো আকাল এখন! তাই অনেক যন্ত্রণা করে গুচ্ছের টাকা কবুল করে এদের জড়ো করা হয়। আগামীকাল এরই এক নমুনা দেখব আমরা। ‘ঢাকা ক্লিন’ ওরফে ঢাকা সাফ করার জন্য ‘ক্লিন ঢাকা কনসার্টের’ নামে কারিনা কাপুররা আসছেন। এটা জেনে যারপর নাই আনন্দিত গোটা ঢাকাবাসী। ঢাক বাজে ঢাকডুম-ঢাকডুম।
গোটা আয়োজনটার পেছনে আছে ‘ঢাকা সাউথ সিটি কর্পোরেশন’।

আফসোস, অন্য আর কোনও উপায় ছিল না। সচেনতা বৃদ্ধির জন্য স্কুলের প্রতিটি ক্লাসে একটা করে বিন-ডাস্টবিন দিলে বা স্কুলের রাস্তায় একটা ইট রেখে লুকানো ক্যামেরায় কোন শিশুটা ইটটা সরালো এটা নিশ্চিত হওয়ামাত্র সেদিন গোটা স্কুলে ওই শিশুটিই হলো নায়ক। এই নিয়ে একটা বিষম হুল্লোড় করা হলো- পত্রিকাওয়ালারা ঢাউস আকারের ছবি ছাপালো এমন কতশত উপায় করা যায়। ওরে, এই সব যে হাবড়াহাটি-আজেবাজে কথা!

উহুঁ, এইসবে হবে না। আমাদের দেশে সমস্যা শিশুদের নিয়ে না, সমস্যা বুড়ো-হাবড়াদের নিয়ে। বুড়ো হাবড়াদের সচেতন করার জন্য প্রয়োজন বিশিষ্ট ঝাড়ুদারের। কনসার্টে এই সমস্ত কলাকৌশল শেখার জন্য আবার ১৫০০/৩০০০ টাকা খরচও করতে হবে! বসার জায়গা না-পেলে ‘হাপ্পা’-উপুড় হয়ে মেঝেতে বসে পড়তেও কোনও সমস্যা নাই আমাদের, এমনকি মন্ত্রী হলেও।

এই একটা চল হয়েছে। গরিব-গুরবাদের জন্য ‘কুমিরকান্না’ পায় তো চলো গরিবদের মত স্বল্প-অল্প পোশাকের একটা কনসার্টের আয়োজন করি। আচ্ছা, কাল এরা কীভাবে আমাদেরকে শেখাবেন? কারিনা কাপুর কী লেহেংগার ঝুল ঝুলিয়ে আবর্জনা সাফ করবেন? আহা, এই সাফ করতে গিয়ে শরীর আগুপিছু হলে সেটাকে তো দোষ দেওয়া চলে না। এমনিতে এখানে আমাদের কৌতুক অভিনেতা অনন্ত জলিল ভাইয়ার কাজ কি? যতটুকু জানি কৌতুক অভিনেতাদের লেহেংগা পরার চল নাই। তাহলে আমাদের ঝাড়ু দেওয়ার কী হবে এটা ভেবে একচোখে জল অন্য চোখে পানি চলে আসে।

ওহো, বুঝেছি ঘটনাটা এবার। ‘বেলবটম’ বাহে, বেলবটম। আগেকার আমলের বেলবটম প্যান্টের ঘের আড়াই ফিটের কম হতো না। অনন্ত জলিল ভাইয়া বেলবটম প্যান্ট পরে হাঁটাহাঁটি করলেই তো সব জঞ্জাল সাফ।
আহা, এরা যেটা পারবেন সেটা সুপরম্যানেরও পারার যো নেই কারণ সুপারম্যান লেহেংগাও পরে না বেলবটমও না, পরে কেবল প্যান্টের উপর আন্ডারওয়্যার…।

Friday, February 28, 2014

নসিহত


আমাদের মৌলভি সাহেবরা ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে অনবরত আমাদেরকে নসিহত করেন, শুনিবেক আলেমের পন্দ নসিহত। আট-দশটা চোঙ্গা (যার প্রচলিত নাম মাইক) লাগিয়ে মৌলভি সাহেবরা মধ্যরাত পর্যন্ত তোতাপাখির মত বকে যান, বাবারা লাইনে থাকিস।

বে-লাইনের আমরা লাইনে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করি, ভাল তো। মধ্যরাতের বিষয়ে অনেকে বলবেন, জোশ চলে আসে বিধায় রাত গড়ায়। বটে! ওয়াজের পূর্বেই মাইকিং করে যে ঘোষণা দেওয়া হয়, ওয়াজ হবে মধ্যরাত পর্যন্ত এর সহিহ ব্যাখ্যা কী! এরা কি ধরে নেন মধ্যরাত (আমি রাতভর ধরে এই কর্মকান্ড করতেও দেখেছি) পর্যন্ত সমস্ত মানুষ জেগে বসে আছে, এমনকি খেটেখাওয়া মানুষও যাকে ভোরে অমানুষিক কাজে যেতে হবে? বা কোনো মানুষের অসুস্থ থাকার উপায় নেই! অথবা অন্য কোনো ধর্মের লোকজনের ওই এলাকায় থাকার যো নেই?

ইসলামের ঝান্ডাধারী সৌদির মত দেশগুলোর মৌলভি সাহেবরা আট-দশটা চোঙ্গা লাগিয়ে ওদের দেশে এমন নসিহত করার চেষ্টা করেছেন এমনটা আমার জানা নাই। নাকি ওইসব দেশের লোকজনকে লাইনে রাখার কোনো প্রয়োজন নাই?
ছবিতে আমরা যে দৃশ্য দেখছি এটাও একটা ওয়াজ-মাহফিলের। ভাল করে লক্ষ করলে দেখা যাবে এখানে একটি চালু রাস্তা বন্ধ করে ওয়াজ মাহফিলের নামে নসিহত করা হচ্ছে। অনেকে বলবেন, এটা তো আয়োজকদের কান্ড- মৌলভি সাহেবদের উপর তো এ দোষ বর্তায় না। হুম, তা বটে! তা মৌলভি সাহেবরা কী চোখ বন্ধ করে রাখেন যে এটা তাদের চোখে পড়ার কোনো উপায় নেই? সবাইকে যেভাবে এঁরা লাইনে থাকার বিস্তর উপদেশ দেন সেখানে নিজেদের গাড়ির ব্রেক না-থাকলে তো সমস্যা।

আসলে টোলের পন্ডিত, মৌলভি সাহেবদের শেখা তো সেই কবেই শেষ- এরা কেবল আমাদেরকে শেখান।

Thursday, February 6, 2014

ফার্স্ট লেডি- লাস্ট লেডি- সেকেন্ড লেডি


একদা এই ভদ্রমহিলা এই দেশের ফার্স্ট লেডি ছিলেন। তিনি যে অভূতপূর্ব ঘটনার জন্ম দিয়েছিলেন এর উদাহরণ; অন্য গ্রহের কথা জানি না অন্তত এই গ্রহে আছে এমনটা আমি নিজে বিশ্বাস করি না। রাতারাতি যে তার গর্ভ হয়েছিল এমনই না তিনি তরতাজা একটা সন্তানের জন্মও দিয়েছিলেন। 
ব্রিগেডিয়ার শামসুদ্দীন আহমদ (অব.) তখন দৈনিক ভোরের কাগজে (১৩.১০.৯২) একটা ধারাবাহিক লেখা লিখছিলেন, যখন বঙ্গভবনে ছিলাম ওখানে তিনি উল্লেখ করেন:
"...রাষ্ট্রপতি আহসানউল্লা আনন্দে উল্লসিত। একটা ভয়ানক ঘটনা ঘটে গেছে হঠাৎ করেই। জেনারেল এরশাদের ছেলে হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আনন্দে আত্মহারা। ...তিনি সেনাভবনে গিয়েছিলেন। বেগম আহসানউদ্দিনও তাঁর সাথে ছিলেন। তবে শুধু জেনারেলর এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাত করে ফিরে এসেছেন।  বেগম রওশন এরশাদ এবং নবজাতক শিশু যে কামরায় ছিলো সেখানে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি।  
...বেগম রওশন এরশাদ যে সন্তানসম্ভবা এবং তাঁর সন্তান ভূমিষ্ট হবার সম্ভাব্য মাস তারিখ সম্পর্কে আগে কোনো আভাষ পাওয়া যায়নি। না সংবাদপত্রের মাধ্যমে; না লোকমুখে। তাছাড়া মাত্র এক মাস আগে ১৬ ডিসেম্বরে বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় সম্বর্ধনায় বেগম এরশাদকে দেখা গেছে। মাত্র দুই সপ্তাহ হবে ৪ জানুয়ারি যুবরাজ করিম আগা খানের সম্মানে বঙ্গভবনে আয়োজিত ভোজসভাতেএ বেগম রওশন এরশাদ উপস্থিত ছিলেন। কেউ তখনও বলেনি তিনি সন্তানসম্ভবা। তাঁকে দেখেও তেমন কিছু মনে হয়নি।..."
তো, পরে এই ভদ্রমহিলা ফার্স্ট লেডি থেকে লাস্ট লেডি হয়ে গেলেন। কমিশন তখন এরশাদের বিরুদ্ধে ৫৩৪টি এবং রওশন এরশাদের বিরুদ্ধে ২১২টি মামলা করার জন্য সুনির্দিষ্ট অভিযোগ খুঁজে পায়। পরে ঠিক কতগুলো মামলা রওশন এরশাদের বিরুদ্ধে হয়েছিল এর সঠিক তথ্য আমার কাছে নাই বা তিনি কয়টা মামলার নিষ্পত্তি করেছেন।
এরশাদ ছিলেন এক ছল-রাজ, ছলের রাজা। তার প্রত্যেকটা কাজেই ছিল কোন-না-কোন একটা চাল!
হঠাৎ করে সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাওয়া এক তামাশা শুরু করলেন!
পাহারা দেওয়ার জন্য উপরে আবার হেলিকপ্টার ঘুরপাক খায়!

কাম ব্যাক পিটার, কাম ব্যাক পলের মত ঠিক-ঠিক রওশন এরশাদ আবারও লাস্ট লেডি থেকে সেকেন্ড লেডিতে রূপান্তরিত হয়েছেন। ফ্রানজ কাফকার মেটামরফোসিসের মতই দানবীয় এ রূপান্তর!

Tuesday, January 14, 2014

দাদাদের দান!


এই সৌন্দর্য দেখে কেউ ঝাপিয়ে পড়লে সেই মানুষটাকে খুব একটা দোষ দেওয়া চলে না! কী এক অপরূপ, কী অপার্থিব সৌন্দর্য! এই সৌন্দর্যে কারো মাথা এলোমেলো হয়ে পড়াটা বা এটা দেখে কেউ ঝাঁপ দিলে আটকাবার চেষ্টা করাটা সমীচীন হবে না।
আমি কবি হলে ঝেড়ে ফেলতাম আস্ত এক কবিতা বা লেখক হলে এই পেঁজা-পেঁজা ফেনার মতই ফেনিয়ে লিখে ফেলতাম হয়তো জীবনের শ্রেষ্ঠ লেখাটা।

আমি পূর্বের এক লেখায় লিখেছিলাম, ভাগ্যিস, আমাদের একপেট আবর্জনা চামড়া দিয়ে মুড়িয়ে রাখে প্রকৃতি আর কাপড় দিয়ে খানিকটা আমরা। নইলে যে বিকট সর্বনাশ হয়ে যেত। কুলিবাগানের জারিনা আর বলিউডবাগানের কারিনার মধ্যে বিশেষ পার্থক্য থাকত না।

প্রথম-প্রথম আমি বুঝেই উঠতে পারতাম না এই অপার সৌন্দর্যের উৎস কী? কেন এটার দেখা অন্যত্র মেলে না? পানির ক্ষীণ স্রোত যে কেবল এখানেই এমতো না- আমাদের দেশে তীব্র স্রোতের পানির অভাব কী! তাহলে?
আমাদেরকে এই অপার সৌন্দর্য উপহার দেওয়ার জন্য আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রয়োজন আমাগো দাদা, ভারতের। ভারতের ত্রিপুরার রাজ্যে যে সমস্ত কারখানা আছে ওই সব কারখানার সমস্ত রাসায়নিক বর্জ্য দাদারা সবটা ঢেলে দেন বাংলাদেশে। এই বিপুল ফেনার উৎস সেই সমস্ত রাসায়নিক বর্জ্য।
রাসায়নিক বর্জ্যে কি কি উপকার হয় এটা আমাদের ঢাকাবাসী পরিবেশবিশেষজ্ঞ স্যাররা ভাল বলতে পারবেন। বেচারারা বুড়িগঙ্গা নিয়ে কস্তাকস্তি করেই কুলাতে পারেন না। আর এ যে দাদাদের দাদাগিরি...।

আহা, এটা যে দাদাদের দান। দাদা বলে কথা, এই দান আমাদের না-নিয়ে উপায় কী!   

Sunday, December 15, 2013

স্যারের কুত্তা!


আমি দেখলাম, একজন সিপাহি সাহেব একটা কুত্তাকে (এদেরকে সম্ভবত কুত্তা বলার নিয়ম নাই, কুকুর বলারই নিয়ম। বলেই ফেলেছি যখন তখন কুত্তাই থাকুক। এই কারণে কুত্তার কাছে আগাম ক্ষমাও চেয়ে রাখছি) হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। 

র‌্যাবের ডগ-স্কোয়াড আছে জানি কিন্তু রেলপুলিশের ডগ-স্কোয়াডের কথা শুনিনি বলে একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, ঘটনা কী! তিনি জানালেন, এটা স্যারের কুত্তা। এই দেশে তো কুটি-কুটিস্যার! ইনি আবার কোন স্যার এটা জানার আগ্রহ হতেই পারে। এই স্যার মানে জিআরপি ওসি স্যার।

একবার আমার ওয়ালেট খোয়া গেল। আমি যখন এটা জিআরপির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে জানালাম, তিনি তখন পেপার পড়ায় ব্যস্ত ছিলেন। এই অসম্ভব ব্যস্ততার মাঝেও আমাকে জানিয়ে ছিলেন, বোঝেনই তো, আমাদের লোকবলের অভাব। আচ্ছা, দেখি, আপনার বিষয়টা কি করা যায়
আমি কথা না-বাড়িয়ে চলে এসেছিলাম কারণ আমার আর বোঝার বাকী ছিল না ওনার এই দেখাদেখির পর্ব আর কখনই শেষ হবে না।

বটে! লোকবলের অভাব না-হয়ে উপায় আছে? সিপাহি সাহেবরা যদি প্রতিদিন স্যারের কুত্তা নিয়ে লেফট-রাইট করেন তাহলে লোকবলের অভাব না হয়ে উপায় কী!    

Tuesday, October 29, 2013

ওহে, কী তোমার পরিচয়...!

খুব ভালো একটা চাকরি পেয়েছি! জীব-বৈচিত্র নিয়ে কাজ-কারবার। বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে টিকটিকি নিয়ে গবেষণা। হৃদয়ঘটিত জটিলতার পর [১] ডাক্তার সাহেব আমাকে এই চাকরিটা গছিয়ে দিয়েছেন। যেটার চালু নাম 'বেড-রেস্ট'।
অবশ্য বেড-রেস্টের একটা মানে বের করেছি আমি- বেড মানে বিছানাকে রেস্ট দেয়া। সোজা কথা, বিছানার উপর না-শুয়ে বিছানাকে যতটুকু সম্ভব কম কষ্ট দেয়া যায় আর কী। ভাগ্যিস, ‘লেঞ্জাওয়ালা’ ওরফে টিএনটি ফোনের বিশেষ চল নাই এখন, নইলে ঝামেলা হয়ে যেত। ডাক্তার সাহেব যখন জানতে চান, বেড-রেস্টে আছেন তো? বাস্তবে তখন আমি বাসার বাইরে। গলা একটুও না-কাঁপিয়ে অবলীলায় বলি, জ্বী, রেস্টে থাকব না মানে, বলেন কী!

যাই হোক, বৃহস্পতিবার, যে-দিন আমার সমস্যাটা হলো সেদিনই একজন খবর দিলেন হারিয়ে যাওয়া ওই মানুষটাকে নিয়ে যে লেখাটা লিখেছিলাম (সম্ভাব্য মৃত্যু!), [২] ওই মানুষটার ভাই নাকি আমাকে খুঁজছেন। নিরুপায় আমার উপায় ছিল না- হারিয়ে যাওয়া মানুষটার ওই ভাইটার সন্ধানে বের হয়েছিলাম যদিও মানুষটার ভাইটাকে আমি শেষ পর্যন্ত খুঁজে বের করতে পারিনি!

বুকে ব্যথা, ক্লান্তও লাগছিল খুব- তার উপর ব্লাডারে চাপ। মহা মুশকিল! কোথাও হয়তো বসে বিশ্রাম করা যাবে কিন্তু ব্লাডার হালকার বিষয়টা? আমাদের দেশে সবচেয়ে জরুরি বিষয়টার প্রতি আমাদের আছে সীমাহীন অসভ্য তাচ্ছিল্যতা। লোকজন কোটি টাকা খরচ করে একটা মার্কেট করবে কিন্তু একটা টয়লেট রাখবে না, রাখলেও তালা মেরে রাখবে। আজব এই দেশের লোকজন!

ঠিক তখনই আমার মনে পড়ল, এনসিসি ব্যাংকে ‘টয়লেট জোন’ নামে একটা কিছু দেখেছিলাম। এই ব্যাংকে আমার একটা একাউন্টও আছে। হাজার খানেক টাকা থাকার কথা কারণ এরচেয়ে কম টাকা থাকলে ব্যাংক গ্রাহক হিসাবে ব্যাংকিং-ব্যাংকিং খেলা থেকে বাদ দিয়ে দেয়।
ওয়াল্লা, সেন্ট্রাল এসি এই ব্যাংকের টয়লেট জোনে ঢুকে তো আমার অমায়িক বিভ্রান্তি! একটা টয়লেট ‘ভিআইপি’ একটা টয়লেট, ‘জেনারেল’। মুত্র বিসর্জন দিতে এসে একি বিপদ! কোনটায় যাই? নাহয় চোরের মত ভিআইপিটায় ঢুকলুম, বেশ। কিন্তু কাজ সেরে জিপার লাগাতে লাগাতে বের হয়ে যদি দেখি দারোয়ান বাবাজি বন্দুক তাক করে রেখেছেন, তাহলে উপায়? আবার যদি ওদিকে সব অফিসাররা সার বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন? দেখা গেল, এরা কামানের গোলার মত একের-পর-এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছেন: ঘটনা কী, আপনি কোন সাহসে নিজেকে ভিআইপি মনে করলেন আর ফট করে ভিআইপি টয়লেটে ঢুকে পড়লেন?
যাক বাবা, রিস্ক নিয়ে লাভ নেই। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হৃদয়ঘটিত জটিলতার কারণে কোনো একটা ভজকট হয়ে গেলে? একবার মরলে তো আর বাঁচব না! তার উপর জিপার খোলা অবস্থায় আমার লাশ আবিষ্কার হওয়াটা ভালো দেখায় না।

তো, কাজ শেষ করে আমি একজন অফিসারকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনারা আমাদের মত জেনারেল পাবলিকের জিনিস বিসর্জনে না-হয় আস্থা রাখতে পারেন না, বেশ-বেশ! তা, আপনারা ’স্টাফ’ এবং ’ক্লায়েন্ট’ নামে টয়লেট আলাদা করে ফেললেই পারতেন, এতে তো কোনো সমস্যা ছিল না কিন্তু আপনারা যে ’ভিআইপি’, ’জেনারেল’ নামে টয়লেট ভাগ করে রেখেছেন! আচ্ছা, আপনাদের ভিআইপি হওয়ার জন্য কি কি যোগ্যতা লাগে, বলুন তো? মানে, যার ডিপোজিট কোটি টাকার উপরে তিনি ভিআইপি, নাকি যে ৬ ফুটের উপর লম্বা সেই মানুষটা’?

অবশ্য আমি ভিআইপি টয়লেট ব্যবহার করলে যে দোষ হবে না এটাতে তিনি সদয় সম্মতি জানালেন। জীবনে এই প্রথম মূত্রসংক্রান্ত কেরামতিতে নিজেকে ভিআইপি ভাবতে গিয়ে আমার বিপি না-আবার বেড়ে যায় এটা নিয়েও খানিকটা চিন্তিত ছিলাম। তবে বিষাদের সঙ্গে বলি, তিনি এর ভাল কোনো সদুত্তর দিতে পারলেন না, ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শও দিলেন|

কী সর্বনাশ, মূত্র বিসর্জন দিতে এসে এ কোন বিপদে পড়লাম যে জনে-জনে এটা নিয়ে আলোচনা করতে হবে! ফিযুল কারো সঙ্গে বাতচিত না-করে ইয়ের সঙ্গেই খানিক বাতচিত করাটাই সমীচীন মনে করলাম, ওহে ..., কী তোমার পরিচয়...!

সহায়ক সূত্র:
১. হৃদয়ঘটিত...: http://www.ali-mahmed.com/2013/10/blog-post_26.html
২. সম্ভাব্য মৃত্যু!: http://www.ali-mahmed.com/2013/10/blog-post_16.html

Wednesday, August 28, 2013

জিয়ার শুদ্ধি অভিযান!

লে. কর্নেল এম এ হামিদ ছিলেন জেনারেল জিয়ার কোর্স-মেট এবং খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধৃ। জনাব, হামিদ তখন ঢাকার স্টেশন কমান্ডার। খুব কাছ থেকে তিনি তখনকার ক্ষমতার পট পরিবর্তন দেখেছেন, দেখেছেন জিয়াউর রহমানকে, জিয়ার উত্থান-পতন, কূট-কৌশল, সবই...। 'তিনটি অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা'য় তিনি লিখেছেন:

"...এবার শুরু হলো জিয়ার শুদ্ধি অভিযান। বিদ্রোহী বিমান ও সৈনিকদের পাকড়াও করে তাদের নির্মমভাবে ঢালাও শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হলো। সংক্ষিপ্ত বিচারের সুবিধার্থে 'মার্শাল ল' আইন করা হয়। বিশেষ সামরিক আইন করে বিশেষ সামরিক আদালত গঠন করা হলো। এই সময় লে. জেনারেল এরশাদ ছিলেন ডেপুটি চিফ। তারই তত্ত্বাবধানে এসব সংক্ষিপ্ত ট্রায়ালের নামে শুরু হলো অতি দ্রুত গতিতে বিচারের নামে প্রহসনের পালা।
মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে কয়েক শত সৈনিক ও বিমান সেনাদের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হলো। তখন সেনা বা বিমান বাহিনীর কোনো প্রতিষ্ঠিত আইন-কানুন এই ক্ষেত্রে মেনে চলা হয়নি!

পাঁচটি কারাগারে এক সঙ্গে ৮/১০ জনকে পর্যায়ক্রমে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। ফাঁসি ছাড়াও এলোপাথাড়ি ফায়ারিং-এ মারা যায় শত-শত সেনা। ফায়ারিং স্কোয়াডেও বহু সেনাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া ঢালাওভাবে গ্রেফতারের পর বহু সৈনিকের মৃত্যু ঘটে অমানবিক নির্যাতনে। ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের পর্যন্ত প্রতি রাতে সেনা ও বিমান বাহিনীর ব্যরাক থেকে সৈনিকদের ধরে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় নির্যাতন ক্যাম্পে, তাঁরা আর কখনই ফিরে আসেননি।

সারা ক্যান্টনমেন্ট জুড়ে হাহাকার। কান্নার রোল। কত সৈনিক, বিমানসেনা ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুললো, কতজন প্রাণ হারালো, কতজন গুপ্তহত্যার শিকার হলো এর কোনো হিসাব নেই।...
সরকারী হিসাব মতেই শুধুমাত্র দুই মাসে ফাঁসিতে লটকানো হয় ১১৪৩ জন সৈন্যকে। হতভাগ্য সৈনিকদের লাশ পর্যন্ত তাঁদের আত্মীয়স্বজনকে দেওয়া হয়নি! তাঁরা আজও খুঁজে ফেরেন তাঁদের প্রিয়জনকে।

কোথায় যে এতো লাশ গুম করা হলো এও এক রহস্য! ... অনেকের ধারণা, এটা ছিল পূর্ব-পরিকল্পিত এক নিধনযজ্ঞ। মধ্যরাতে সিগন্যাল লাইনস ও কুর্মিটোলা এয়ারফোর্স ব্যারাকে কে বা কারা শ্লোগান দিয়ে আহ্বান জানিয়ে শুরু করে বিদ্রোহ, তা আজও রহস্য।

পাক-ভারত ইতিহাসে কোনো সামরিক অভ্যুত্থানে এতো লোকের ফাঁসি, হত্যা, প্রাণহানি, জেল আর কখনই ঘটেনি!
কী আশ্চর্য! এতো বড়ো মর্মান্তিক ঘটনার কখনও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি। কেউ তদন্ত দাবীও করেনি! কী বিচিত্র এই দেশ...!"         

Monday, August 12, 2013

আমাগো দেশের বরেণ্য চিন্তক-সাহিত্যিক এবং ...সৈনিক।

দৈনিক সমকালের কালের খেয়ায় বই সম্বন্ধে আমাদেরকে নিয়মিত ওয়াকিবহাল করা হয়। একটি বইয়ের বিবরণ কেবল আমাকে টেনেছে বলব না- টেনে-টেনে লম্বা করে দিয়েছে! বইটির নাম হচ্ছে, 'শাহবাগ থেকে বলছি'। বইটির বিষয়ে লেখা হয়েছে এমন,
"...দেশের বরেণ্য চিন্তক-সাহিত্যিক এবং শাহবাগ গণজারণের সৈনিক ইমরান এইচ সরকারও লাকি আক্তারের রচনাসংবলিত এই আয়োজনের সম্পাদনা করেছেন আনোয়ারা সৈয়দ হক...।" (১৪ জুন ২০১৩)

ইমরান এইচ সরকার সাহেব যে দেশের একজন বিরাট বরেণ্য চিন্তক এবং সৈনিক এটা জানার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ আমরা দেখেছি তিনি দেশ নিয়ে চিন্তায় এমন মশগুল থাকতেন যে তার কানের কাছে তোতাপাখি মত নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর বিজবিজ করে কীসব-যেন বলার প্রয়োজন দেখা দিত!
আমরা আরোও দেখেছি, চিন্তক সাহেবের চিন্তার সূত্র ধরিয়ে দেওয়ার জন্য নিয়মিত একটি দলের পান্ডাদের বিকট উপস্থিতি!

অবশ্য পরে আমি ইমরান এইচ সরকার সাহেবের মধুবাণী শুনে মুগ্ধ হতাম। কী প্রলম্বিত ভয়েস, বেইবী! তিনি স্বাভাবিক করে বলতেন না। যেমন 'আমরা' বললে, প্রলম্বিত সুরে চিৎকার করে বলতেন এমন, 'আ-আ-আ ম-রা-রা-রা-আ-আ-আ...'।
কখনও এই চিন্তক সাহেবের কথা শুনে মনে হতো চিফ মার্শাল ল এডমিনিস্ট্রেটরের কথা শুনছি, 'আ-আ-আ-প-না-রা-রারা-হ এই করবেন, আ-আ-আ-প-না-রা-রারা-হ সেই করবেন...'।
অনুরোধ না, আদেশ। ওনার আদেশ শুনে তো ভয়ে আমার ইয়ে বন্ধ হয়ে যেত।
একবার তো বলে বসলেন, লোকজন বলে কে শক্তিশালী, শাহবাহ নাকি সরকার? আমি বলি, শাহবাগ। ভাগ্যিস, বলে বসেননি, আমি সরকার শক্তিশালী।

তো চিন্তক সাহেব, সৈনিক সাহেবের কথা তো আমরা জানিই। অবশ্য এখানে একটা অন্যায় হয়েছে তিনি যে একজন কঠিন 'অনলাইন এক্টিভিক্টিফিস্টিস' ('আংরেজি' আমি একটু কম বুঝি ঠিক শব্দটা বলতে পারছি না। ওই যে যারা অনলাইনে লেখালেখি করেন, কী বলে এঁদের কে!) এখানে এটার উল্লেখ করা হয়নি!

ওয়াল্লা, এখন তো দেখছি তিনি সাহিত্যিকও- কত অজানা রে! সলাজে বলি, বাংলাদেশের সাহিত্য ভুবনের সব জেনে তো আর বসে নাই আমি- ভদ্রলোকের সাহিত্য নিয়ে কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে, জানান না একটু, প্লিজ...।

Friday, June 7, 2013

অটল ইমারত এবং...!

রানা প্লাজা ধসে যাওয়ার পর একজন রাজমিস্ত্রি আমার বাসায় এসেছেন। এই বয়স্ক মানুষটা অনেকটা সুফি টাইপের! কোনো এক বিচিত্র কারণে আমাকে পছন্দ করেন। তাঁর সুখ-দুঃখের কথা শেয়ার করেন।
ওদিন বলছিলেন, 'এই দেখেন, দেশে যে বিল্ডিং সব পইরা যাইতাছে এর কারণ হইল আমাগো লোভ। সব দুই নাম্বার জিনিস...'।
আমি খুব একটা আগ্রহ দিয়ে শুনি না কারণ এ তো আর নতুন কিছু না! কিন্তু তার পরের কথা আমাকে চমকে দেয়! তিনি বলছিলেন, 'আপনে কি এখনকার রড দেখছেন, প্যাচাইন্যা'?
আমি বললাম, 'জ্বী, এর পেছনে কারণও আছে। যতটুকু জানি, কোনো কিছু প্যাঁচানো থাকলে, এর সহনশক্তি বেড়ে যায়'।

তিনি বাবরি চুল দুলিয়ে বললেন, 'ভালই বলছেন কিন্তুক...। আপনে কি দেখছেন, এই সব রড বাড়ি করার আগে মানুষ দিনের-পর দিন বাইরে ফালায়া রাখে। রডে জং ধরে! আমরা যারা পুরানা মিস্ত্রি আছি হেরা শিরীষ কাগজ দিয়া রডের জং সাফ করি। কিন্তু প্যাচাইনা রডের কারণে রডের জং সাফ করা যায় না, যতই চেষ্টা করেন এইডা কিন্তু সম্ভব হইব না। আপনে যখন ঢালাই দিবেন তখন এই রডের জংয়ের কারণে সিমেন্ট ভাল কইরা আটকাইতে পারব না। বিল্ডিংডা দুর্বল হইয়া যাইব। একটা সময় ভাইঙ্গা পড়ব'।
তাঁর কথায় যথেষ্ট যুক্তি আছে মনে হয়েছে কিন্তু এই বিষয়ে তেমন জ্ঞান নাই আমার। আমার বন্ধুতালিকায় কোনো ইঞ্জিনিয়ার সাহেব থেকে থাকলে এই বিষয়ে জানালে সুখি হই।
...
কালকের (৫ জুন, ২০১৩) দৈনিক সমকালের খবর হচ্ছে, 'অপ্রীতিকর ঘটনায় বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল অপারেটর গ্রেফতার'। শিরোনাম দিয়ে পাঠক কিছুই বুঝতে পারবে না। তবে সংবাদটা পড়লে জানা যাবে যেটা, "...সেতুর প্রধান প্রকৌশলী জানান, ...'সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি এমআর হাসান ...বঙ্গবন্ধু সেতুর পূ্র্বপাড়ে তিনি দুটি গাড়ির টোল না দিয়ে সেতু পার হতে গেলে বিনা টোলে সেতু পারের সিগন্যাল পেয়ে টোল অপারেটর আসাদ আলী গাড়ি দুটির গতিরোধ করেন। বিচারপতির নির্দেশে সেতু পশ্চিম থানার পুলিশ আসাদকে আটক করে'।"
পরে আমরা জানতে পাই, দায়িত্বরত আসাদ আলীকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এটা ছাপা হয়েছে সমকালের ১৯ পৃষ্ঠায়, সিঙ্গেল কলামে। সমকালের সম্পাদকের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা এবং বয়স হয়েছে, এখন তাঁকে এটা শেখানোটা এক পন্ডশ্রম যে, কোন খবরের কতটা গুরুত্ব, কোন খবর কোন পাতায় ছাপা উচিত বা শিরোনামই কী হবে! আর পাঠক ৮০০ থেকে ১০০০ পয়সা দিয়ে পত্রিকার প্রথম পাতার ছাতাফাতা নিউজ পড়ার জন্য মুখিয়ে থাকে না।

যাই হোক, বিচারপতির এই সংবাদটার বিষয়ে কিছু প্রশ্ন আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বিচারপতি এমআর হাসানের কী এটা জানা ছিল না যে, টোল না-দিয়ে সেতু পার হওয়া যায় না? একজন বিচারপতির এটা জানা নেই! 

এদিকে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার সমকালকে বলেন, "...টোল আদায়কারীর আচরণগত কারণে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে..."।
ভাল, টোল আদায়কারীর আচরণে সমস্যা ছিল। মানুষটার শাস্তি পাওনা ছিল, বেশ। আমরা পূর্বে এমনটা দেখেছি, কোনো কারণে বিচারপতি ক্ষুব্ধ হলে সংশ্লিষ্ট মানুষটিকে বা সেই সংস্থার কর্ণধারকে কোর্টে ডেকে নেয়া হয়েছে। একটা ন্যূনতম ট্রায়াল হয়েছে, প্রয়োজনে শাস্তির ব্যবস্থাও হয়েছে। পূর্বে একজন ট্রাফিক পুলিশের আচরণের কারণে এবং একজন আইজির আচরণ-বক্তব্য সন্তোষজনক না-হওয়ার কারণে তাকে ২০০০ টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই জরিমানার কারণে সেই আইজিকে চাকুরিও হারাতে হয়েছিল।

এই ক্ষেত্রেও অন্তত এমনটা হলেও আমরা সুখি হতাম। কিন্তু এই প্রশ্নটা থেকেই যায়, বিচারপতির এটা জানা নেই যে টোল দিতে হয়?
আমরা জানি, একজন বিচারপতির এক্সেস ক্ষমতা বিপুল। তিনি অনেক ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু, একটা কিন্তু রয়েই যায়! সুপ্রিমকোর্ট আমাদের শেষ ভরসাস্থল। এই অটল স্থাপনা আমাদের অহংকার। কিন্তু যখন কোনো কারণে আমাদের মত সাধারণ মানুষদের মনে বিন্দুমাত্র বিশ্বাসের ফাটল ধরে তখন আমরা আতঙ্কিত হই...।
WhatsApp