Search

Wednesday, September 2, 2026

শুক্রবার, রাত ৯:৩০ মিনিট।

লেখক: Nasima Islam jhotey

"রেডিসন ব্লু হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুম। এক মন্ত্রীর মেয়ের বিয়ে চলছে। আমি এই বিয়ের অতিথি নই। আমার খালাতো ভাই, আ' মিন ওর ক্যাটারিং কোম্পানি আমাকে স্পেশাল কনসালট্যান্ট হিসেবে ভাড়া করেছে। বলরুমের ঠিক মাঝখানে রাখা ১২০ পাউন্ড ওজনের বিশাল 'বরফের রাজহাঁস'-এর থার্মোডাইনামিক স্ট্যাবিলিটি মেইনটেইন করার জন্য।

বলরুমের এসির টেম্পারেচার ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার কথা ছিল। ভিড়ের কারণে সেটা ২৪ ডিগ্রিতে উঠে গেছে। এর ফলে রাজহাঁসের ডান দিকের ডানাটা প্রতি মিনিটে ১.২ মিলিলিটার হারে গলতে শুরু করেছে।আমি একটা 'ডিজিটাল ক্যালিপার' দিয়ে বরফের পুরুত্ব মাপছিলাম।

হঠাৎ বলরুমের মেইন দরজা ভেঙে চারজন ভারী অস্ত্রধারী লোক ভেতরে ঢুকল। তাদের মুখে কালো রঙের মোটা উলের স্কি-মাস্ক। তারা সোজা ভিড়ের মাঝখান দিয়ে এসে বর এবং কনেকে জিম্মি করে ফেলল।

'কনের গলার ১০ কোটি টাকার ডায়মন্ডের নেকলেসটা এখনই খোল! কেউ নড়লে বরের মগজ ফ্লোরে নামায়ে দেব'!

লিডার লোকটা তার শটগানের ব্যারেলটা বরের মাথার সাথে চেপে ধরল।

​পুরো বলরুমে হাজার খানেক মানুষের মধ্যে পিনপতন নীরবতা। কনে কাঁপতে-কাঁপতে তার গলার নেকলেস খুলতে শুরু করেছে।

আগের যেকোনো সময় হলে আমি হয়তো এই ডাকাতদের ফিজিক্সের কোনো সূত্র বুঝিয়ে তাদের ব্রেইন রিল্যাক্স করার চেষ্টা করতাম। কিন্তু আজ আমার হাতে কথা বলার মতো সময় নেই। রাজহাঁসের ডানাটা যে-কোনো মুহূর্তে স্ট্রাকচারাল ইন্টিগ্রিটি হারিয়ে ভেঙে পড়বে। আমার ইমার্জেন্সি একটা 'থার্মাল ইনসুলেটর', আ' মিন তাপ নিরোধক দরকার।

আমি দেখলাম, লিডার লোকটার মাথায় যে স্কি-মাস্কটা পরা, সেটা ১০০% পিওর উল-এর তৈরি। উলের ফাইবার বাতাসের পকেট ধরে রাখে, যা তাপ চলাচলে চরম বাধা দেয়।

আমি অত্যন্ত শান্ত পায়ে হেঁটে লিডারের ঠিক পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমি জাস্ট আমার ডান হাতটা বাড়িয়ে, বরের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রাখা ওই দুর্ধর্ষ ডাকাতের মাথা থেকে তার কালো উলের মাস্কটা এক টানে খুলে নিলাম! লিডার ডাকাতটা আক্ষরিক অর্থেই ব্ল্যাঙ্ক হয়ে গেল।

তার আসল চেহারা হাজার-হাজার মানুষের সামনে, এবং বলরুমে চলতে থাকা ডজন খানেক ভিডিও ক্যামেরায় উন্মুক্ত হয়ে গেছে!

'আরে! আমার মুখ! আমার মুখ দেখা যাইতেছে'!

লিডার লোকটা বন্দুকের কথা ভুলে গিয়ে দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢাকার জন্য পাগলের মতো চিৎকার করে উঠল। তার সাঙ্গোপাঙ্গরাও লিডারের চেহারা ফাঁস হয়ে গেছে দেখে চরম প্যানিক করে ফেলল।তারা ডায়মন্ডের নেকলেসের তোয়াক্কা না-করে, লিডারকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে বলরুমের পেছনের ইমার্জেন্সি এক্সিট দিয়ে পাগলের মতো দৌড়ে পালিয়ে গেল।

পুরো বলরুমে এক সেকেন্ডের স্তব্ধতা। তারপরই বরের বাবা, কনের বাবা এবং মন্ত্রীর সিকিউরিটি গার্ডরা উল্লাসে ফেটে পড়ল। আমি তাদের দিকে ফিরেও তাকালাম না। অকেজো সিকিউরিটি গার্ড।

আমি ডাকাতের মাথা থেকে খোলা ওই ঘামে ভেজা মাস্কটা নিয়ে দ্রুতগতিতে বরফের রাজহাঁসের ডানার ওপর পরিয়ে দিচ্ছিলাম, যাতে এসির গরম বাতাস বরফটাকে আর গলাতে না পারে।

বর দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। কনে ডুকরে কেঁদে উঠলেন।

'ভাই! আপনি জাস্ট একটা মাস্ক টান দিয়ে ওদের যে সাইকোলজিক্যাল ধস নামিয়েছেন! আপনি আজ আমার জীবন আর আমার স্ত্রীর সম্মান দুটোই বাঁচালেন! আপনি ফেরেশতা'! 

বরের চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে।

আমি মাস্কটা বরফের ডানায় পেঁচিয়ে সেট করে অত্যন্ত বিরক্তি নিয়ে বরের দিকে ঘুরলাম।

'আপনার ইমোশনাল স্টেটমেন্টগুলো সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং আপনি আমার কাজের চরম ক্ষতি করছেন'।

আমি কাঁধ থেকে তার হাতটা সরিয়ে দিয়ে কড়া গলায় ধমক দিলাম।

'আমি উনার মাস্ক খুলেছি কারণ উলের ইনসুলেশন আমার বরফটাকে গলা থেকে বাঁচাত। কিন্তু আপনাদের এই ফালতু ডাকাতির টেনশনে ডাকাতের মাথা ঘেমে একাকার হয়ে ছিল। ওর মাথার ঘামে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড, আ' মিন লবণ আছে'!

আমি বরের চোখের সামনে বরফের ডানাটা দেখালাম।

'ফিজিক্সের ভাষায় একে বলে 'ফ্রিজিং পয়েন্ট ডিপ্রেশন'! বরফের গায়ে লবণ লাগলে তার গলনাঙ্ক কমে যায় এবং বরফ স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ স্পিডে গলতে শুরু করে! ওই জঘন্য লোকটার মাথার ঘামের কারণে আমার রাজহাঁসের ডানাটা এখন তাপের হাত থেকে বাঁচলেও, লবণের কারণে গলে পানি হয়ে যাচ্ছে'!

বর হতভম্ব হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। মন্ত্রীর সিকিউরিটি গার্ডরাও হাঁ করে আমার ধমক শুনছে। আমি বরের কলার চেপে ধরলাম।

'আপনি এখানে দাঁড়িয়ে আমাকে ফেরেশতা ডাকছেন কেন? এখনই আপনার শ্বশুরের সিকিউরিটি গার্ডদের নিয়ে ওই এক্সিট দরজা দিয়ে দৌড়ান! ডাকাতটাকে ধরুন'! 

বরের গায়ের শার্টটা ১০০% কটনের তৈরি, যেটা থার্মাল ইনসুলেশন দেয় কিন্তু ঘাম শোষণ করে!

'দাঁড়ান-দাঁড়ান, আমার এখনই একটা ড্রাই কটন ফেব্রিক লাগবে! যান, শার্টটা খুলে নিয়ে আসুন'!"

লেখক: Nasima Islam jhotey (https://www.facebook.com/share/1CLJUNSy4z/)

পদার্থ-অপদার্থ, ডান-বাম!

আপনি ডান, বাম চিনবেন কিভাবে? সহজ! ডান দিকের উল্টোটাই বাম। পদার্থ, অপদার্থ ওভাবেই বের করে ফেলবেন।

আমাদের ধর্মীয় শিক্ষকরা জানেন না এমন কোন বিষয় নাই! মাওলানা আবদুর রাজ্জাকের একজন নারী, মা'র পেট থেকে জন্ম নিতে কোন সমস্যা নাই কিন্তু নারীকে, নারীজাতিকে নিয়ে যে মন্তব্য করেন তা একজন সুস্থ মানুষ ভাষায় প্রকাশ করতে পারবেন না:

বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সময় তিনি উঠে দাঁড়াননি! কেবল তাই না তিনি রসিয়ে-রসিয়ে অন্যদের বিষয়েও বলছেন—তাঁরা দাঁড়িয়ে কেমন করে রসাতলে যাবেন। বেশ, তাও না-হয় মেনে নিলাম।


ধরে নিলাম, কাউকে দেখে দাঁড়ালে পাপ হবে।
আচ্ছা, প্রধানমন্ত্রী বাদ দেন! একজন মানুষ অন্য একজন মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছে ভঙ্গিটা দেখেন। একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আর আপনি বসে, পারলে শুয়ে পড়েন—দৃশ্যটা কল্পনা করতেও তো কল্পনা লাগে!
এখানে বাস্তবে আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ বসে আছেন। কেবল বসে আছেন এমন না একটা মানুষ দাঁড়িয়ে আর তিনি বসে-বসে কুশল বিনিময়টা সারছেন। তমিজের সঙ্গে বলি, কেন? আপনি কি হাঁটতে পারেন না নাকি পেছনটা উঠাতে তকলিফ হচ্ছে!
আচ্ছা-আচ্ছা, ধরে নিলাম, আপনি খুঁজে-খুঁজে বের করেছেন ধর্মে নিষেধ আছে! আপনি একজন বি-রা-ট মা-ও-লা-না! আপনি যে একজন বড় নিষ্পাপ মানুষ, গো। অথচ দেখুন, এই আপনিই কিন্তু এই ভিডিও ক্লিপটার ৫০ সেকেন্ড থেকে বলছেন:
"...আপনি আমাকে অপমান করে বিদায় করে দিলেন, টাকা-পয়সা দিলেন না। দিলেন না তো দিলেন না! আমি চলে যাব। কতদিন প্রোগ্রাম করেছি, এক পয়সা দেয়নি। পরীক্ষা করে দেখেছি।

আপনি তো খুব জাঁক করে বলছেন, আপনি পরীক্ষা করেছেন, টাকা-পয়সা না-দিলে নিজ থেকে আর চাচ্ছেন না। মানে কী! প্রোগ্রাম, আ মিন, ওয়াজ? আহা, ওয়াজ করে তাহলে আপনি টাকা-পয়সা নেন! অই মা, তা বুঝলুম, আপনি মহান—না দিলে চান না কিন্তু ওয়াজ করে টাকা-পয়সা নেন তো। বাহ! তা ধর্মে কোথায় বলা আছে আপনারা ওয়াজ করে, আমাদেরকে নসিহত করে পয়সা কামাবেন! তাহলে আপনাদের মধ্যে আর ড্রাগ ডিলারের মধ্যে পার্থক্য কী!

আপনি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন, মুড়ি বেচেন, হালুয়া বানান কোন সমস্যা তো নাই কিন্তু ওয়াজ করে টাকা-পয়সা নেবেন আবার আমাদেরকে দমে-দমে নসিহত করবেন! 

...

অপদার্থ চিনবেন কীভাবে? সেটা ভারী পদার্থ হলেও? দেখার বিষয় ইয়ে কতটা জড়াজড়ি হয়ে আছে!

এই যেমন ধরুন, স্যার, মহিউদ্দিন মোহাম্মদ! ধরুন, তিনি সক্রেটিসের ভাতিজা লাগেন। বা ধরুন, তিনি 'দোরা কাউয়ার লুক' ব্রাত্য রাইসুর চেয়েও বড় চিন্তক []! অথবা ধরুন, স্যার, নোয়াম চমস্কির 'চামচাতো ভাই'। এবার এই ধরাধরি বাদ দিয়ে বলি, যে মানুষটা নিজেই নিজেকে বলছে, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবী সেই মানুষটা যে ইয়েলো-মেটার এবং গ্রে-মেটারে মাখামাখি হয়ে থাকা একটা...!

সূত্র:
১. পক্ষী বিশেষজ্ঞ ব্রা ত্য রাইসু: https://www.ali-mahmed.com/2026/07/blog-post_11.html?m=1


WhatsApp