Thursday, June 18, 2020

Do's and Don’t's: হ্যাপি ফেসবুকিং!

লেখক: A.t.m Golam Kibria
"সোশ্যাল মিডিয়ার Do's and Don’t's নিয়ে একটি অপেশাদারী লেখা লিখতে চাইছিলাম বহুদিন ধরে। ১৯৯৮ সালে বিল ক্লিনটন ও মনিকা লিউনস্কি’র স্ক্যান্ডাল নিয়ে আমেরিকা যখন উত্তাল, সেই সময়ের প্রেক্ষিতে এক ক্লাসিক প্রফেসরের অসমবয়সী প্রেম নিয়ে Philip Roth লেখেন 'The Human Stain'. যেটাকে Roth এর সেরা দুইটা কাজের একটা হিসেবে ধরা হয়। 
Roth এই স্ট্যাটাসের বিষয় নন, তবে বইয়ের একেবারে শুরুর দিকে, সেকেন্ড পেইজেই ওই সময়টা বর্ণনা করতে গিয়ে Roth একটা Phrase coin করেন, 'The Ecstacy of Sanctimony'। এই শব্দটার বাংলা অনুবাদ করার দুঃসাহস আমি করবো না। 'বিশুদ্ধতার মচ্ছব' বললে মনে হয় হলো না আবার 'অপরকে তুচ্ছ করার সামস্টিক তূরীয় আনন্দ' বললেও শইলে ভাবডা ঠিকমত আসে না, তাই না?
এসেন্স ও ইকোনমি’র মাঝে ট্রেইড অফটা করলাম না আর। উদাহরণ দেই কিছু, যেমন ধরেন সাকিবের বউ কেন পর্দা করে না বলে যারা ইসলামের পক্ষে যুদ্ধ করেন কিংবা ডাক্তার জাফরউল্লাহকে রাজাকার বানিয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যুদ্ধ করেন, তাদের ইসলাম বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকার, সত্যের পথে থাকার যে উম্মাদনা, এটাকে আপনি বলতে পারেন, The Ecstacy of sanctimony. ফ্রেইজটার মানে আপাতত মুলতুবি থাক।

কিন্তু আমাকে কেন ফ্রেইজটা এট্যাক করলো এইটা যখন ভাবছিলাম, মনে হলো সোশ্যাল মিডিয়াকে আমি যা ভাবি, এই ফ্রেইজটা সেটা গ্রেফতার করে ফেললো। সবাই মিলে ধর শালাকে মার শালাকে বলার যে সামস্টিক সুখ, এইটাকে Nathaniel Hawthorne বলেন, 'The Persecuting Spirit' বাংলায় যেটা পকেটমার পেটানোর প্রবণতা এবং যেটা সোশ্যাল মিডিয়ার দুইটা ডিফাইনিং সিগনেচারের একটা। নার্সিসিজম ও কালেক্টিভ শেইমিং, এই দুইটা সোশ্যাল মিডিয়ার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ প্রবনতা বলে আমার ধারণা।
যে কাজটা কখনোই করবেন না ফেইসবুকে, সেটা ডিবেইট। ফেইসবুক ডিবেইটে বেটার আইডিয়ার জয় হবে না, এখানে জয় হবে নাছোড় আইডিয়ার। 'সারভাইভাল অফ দ্যা মোস্ট ছ্যাচড়া'। আমি আজ পর্যন্ত ফেইসবুকে কোন ডিবেইট করি নাই কারো সাথে। 'আমি তাকে বুঝিয়ে ঠিক পথে নিয়ে আসবো', এটা যদি আপনার স্পিরিট হয়, তাহলে আপনি ভুল জায়গায় আসছেন। সে এইখানে পারফর্ম করছে এবং তার অডিয়েন্সকে বাইরে রেখে সে পারফর্ম করতে পারবে না কারণ তার অডিয়েন্স হচ্ছে তারা, যারা নিজেরা চিন্তা না-করে চিন্তা করার ব্যাপারটাই আউটসোর্স করে দিয়েছে। এন্ড হি ক্যাননট ফেইল দেম। হি হ্যাজ টু পারফর্ম। আপনি যার সাথে ডিবেইট করছেন, সে হয়তো নার্সিসিস্ট এবং তার যারা ভোক্তা, তারা গণপিটুনি দেয়ার সময় সঙ্গত করা লোকগুলো, দি প্রোভার্বিয়াল মব।

চিন্তায় কোন সাম্য নাই, একটা ভালো চিন্তা মাইনরিটি হতে পারে, এই চিন্তা করেই আপনি এই লাইকের দুনিয়ায় আসছেন। শয়তানের সাথে এই সমঝোতা তো হয়েই গেছে, তখন নাম্বার ইজ নট দ্যা আলটিমেইট কনসার্ন, তাই না? বলে রাখা ভালো, যাদের পলিটিক্যাল বা সোশ্যাল এজেন্ডা আছে অথবা যারা স্বঘোষিত সোশ্যাল মিডিয়া ওয়ারিয়র, তাদের জন্য এটা খাটে না। আই ডোন্ট ডেয়ার টু জাজ দেম। যদিও এই সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক ইনসাফ কায়েমের ব্যাপারটা আমাকে অবসরে আমোদ দেয়, অস্বীকার করবো না। তো আমি বলছি, যারা ফ্রি এজেন্ট এবং কোথাও টিকি বাঁধা নাই, তাদের কথা। যারা কে খাঁটি ইসলামপন্থী, কে খাঁটি ফ্যাসিবাদবিরোধী, কে খাঁটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষ এটা নিয়ে বাহাস করেন না। বিশুদ্ধতার মচ্ছব বা দালাল খোঁজার বাইরে যেতে চান যারা।

আমি যখনই ভাবি, ফেইসবুক কিভাবে ব্যাবহার করতে হয়, তখন একটা শব্দ মাথায় আসে, Flaneur. এইটা মূলত বুদ্ধদেবের দাদু বোদলেয়ার জনপ্রিয় করেন। উনবিংশ শতকের প্যারিসে Flaneur-রা হাঁটতে বেরুতেন সাথে একটা কচ্ছপ নিয়ে, হেলেদুলে যাইতেন, দুনিয়াদারী দেখতে দেখতে। জীবনানন্দ ও কবিতা লিখছেন কিন্তু 'আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না; আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে'।
মজার ব্যাপার হলো প্রফেশনাল মোটিভেশনাল স্পীকারের লেখা শেয়ার দেয়, এইরকম মানুষের বায়োতে জীবনবাবুর এই লেখা আমি দেখেছি! পারফর্মেন্সের চাপ ছাড়া এর অন্য কোন ব্যাখ্যা নেই।  তো, Flaneur-এর ইনকারেকট বাংলা হতে পারে, ভাদাইম্যা। তবে এই ভাদাইম্যার ক্রাউড দেখার চোখ থাকতে হবে, মজমা দেখে মজা নেয়ার জিহবা থাকতে হবে। নৃতাত্ত্বিকের চোখ আর ভোগীর জিহ্বা।
মোদ্দা কথা, আপনি সিরিয়াস হইতে পারবেন না। আপনি বাজারে আসছেন মজা নিতে, মজা নিবেন। ব্যস। সোশ্যাল মিডিয়ার মত ইন্সট্যান্ট, জাজমেন্টাল এবং ভুলোমনা দুনিয়ায় একটা জিনিস এলাউড না, সিরিয়াসনেস।
সিরিয়াসলি বলতেছি ভাই, সিরিয়াস হইয়েন না।"
-A.t.m Golam Kibria

2 comments:

মহিম said...

'আমি অত তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না', এটা যে জীবন বাবুর জানতাম না। আহমাদ মোস্তফা কামালের সামুর বায়োতে এই টাইপের একটা কিছু পড়ে খুব দাগ কেটেছিল,আমি তো জানতাম এটা উনার কথা :(

মহিম said...

ওই খানে জীবন বাবুর নামটা চোখে পড়ে নি।