My Blog List

Friday, May 30, 2014

পশুমানব!

এই গ্রহের কঠিন গোমড়ামুখো যে মানুষটি সেও মুখ ভরে হাসবে যদি এমন একটা দৃশ্য দেখে ভারী শরীর নিয়ে কেউ নাচার চেষ্টা করছে। আহা, এমন দৃশ্য দেখে না-হেসে পারা যায় বুঝি? একজন মানুষ অতি ভারী শরীর নিয়ে প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছে। তার এই অমানুষিক কষ্টে গা দুলিয়ে না-হাসলে কেমন হয়! যেমনটা কেউ পা পিছনে বা চেয়ার উল্টে পড়ে গেলে আমরা হেসে মাটিতে গড়াগড়ি খাই। হাসতে হাসতে পেট ব্যথা হয়ে গেলে পেট চেপে হাসি।

আমি একবার কি যেন একটা অনুষ্ঠান দেখছিলাম কিন্তু একটা জায়গায় এসেআমার শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অতি ভারী শরীর নিয়ে একটা মেয়ের নাচ। তুর্কি নাচ, দমবন্ধ করা নাচ! চোখে না-দেখলে বিশ্বাস করা যায় না যে কী অসাধারণ তার প্রাণশক্তি। তার উপর নাচের একটা স্টেপও ভুল করতে দেখিনি।
ভারী শরীরের মানুষদের নিয়ে আমরা হাসাহাসি করি, কেন? এর উত্তর জানা নেই আমার। অথচ মামুলি কিছু উদাহরণ ব্যতীত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যেটায় তার হাত নেই। শারীরিক ক্রুটি নিয়ে এমন তো অনেক ক্ষেত্রেই অনেকেরই হাত নেই। কারও হাত-পা থাকে না, কারও-বা মাথায় চুল গজায় না। যেমন আমি চশমা ছাড়া দেখি না। তো? এখন এই কারণে আমাকে কী ইলেকট্রিক পোলে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে?

তা, ভারী শরীরের একজন মানুষের কী নাচার ইচ্ছা থাকাটা দোষের বা অন্যরা যা করে সেইসব? ভারী শরীর হওয়ায় একজনের কী অপরাধ? খাদ্যাভাস মূখ্য বিষয় বটে কিন্তু তার জেনেটিক কোডের তথ্যগুলো কী রাবার দিয়ে ঘষাঘষি করে মুছে দেওয়া যাবে? অনেকে বলবেন এতো খায় কেন? বাপু, এও তো মস্তিষ্কের এক খেলা। যেমন কাউকে দোররা মারলেও সিগারেট ছাড়বে না আবার কাউকে চাবুক মারলেও সে সিগারেট খাবে না। মোটা দাগে আমি নিজে যেটা বুঝি, শরীর চাচ্ছে তাই খাচ্ছে। উল্টোটা বললে সবাই এমন খায় না কেন তাহলে? তাকে বাড়তি বা জোর করে খেতে বললে দেখি বমি করে সব ভাসিয়ে দেবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভারী শরীরের মানুষকে নিয়ে বিভিন্ন প্রকারে মস্তিষ্ক খেলে- সে অসহায় দর্শক মাত্র।


আমি নিজে আন্ডার ওয়েট। আমাকে বিখ্যাত খাদক বলা যাবে না কিন্তু ফ্যাট জাতীয় খাবার হরদম খাই। ফি রোজ বাদামই খাই এক বয়ম। ফলাফল? আজ পর্যন্ত আমার শরীরে ‘চিংগুরাদেশের’ মন্ত্রীদের মাথায় যতটুকু মস্তিষ্ক থাকে তার অর্ধেক ফ্যাটও যোগ হয়নি! দেখো দিকি কান্ড!

জেনে, না-জেনে ভারী শরীরের মানুষদের নিয়ে আমরা হাসাহাসি করেই যাই। হাহাহিহিহোহো-গোলহয়ে তামাশা দেখি। এই পশুমানবের ভিড়ে, ভিড়ভাট্টায় লুকিয়ে থাকাটা মুশকিল, বুঝলেন। কোথাও-না-কোথাও আমাকে, আমার টিকিটি ঠিকই চোখে পড়বে।
একবার আমি শফিক রেহমানকে নিয়ে কঠিন একটা লেখা লিখলাম- এই মানুষটা 'ভিনসেন্ট পিউরিফিকেশনের' নামে বিস্তর ফাজলামি করেছেন। কুখ্যাত স্মৃতিশক্তি আমার। যথারীতি লেখাটার কথা ভুলেও গেলাম। অনেক পরে কেকা ফেরদৌসিকে নিয়েএকটা লেখা লিখেছিলাম [১] । চরম বিরক্তিকর এক মহিলা। এই বিরক্তির রাশ ছিঁড়ে গেল যখন এই ভদ্রমহিলা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ফাজলামি করছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা খিচুড়ির একটা রেসিপি বাতলে যাচ্ছিলেন। লেখাটার এক জায়গায় লিখেছিলাম: 
“ইনি 'স্বাস্থ্য সচেতন রান্না'-এর বই লিখে Gourmand world cook book-এ নাম লেখান। স্বাস্থ্য সচেতন? এটা অবশ্য এই ভদ্রমহিলাকে দেখলেই আঁচ করা যায়!”
ব্যস,আর যায় কোথায়। এক পাঠক ঠিক-ঠিক শফিক রেহমানকে নিয়ে আমার ওই লেখাটা খুঁজে বের করলেন। ওই লেখায় আমি যেটা লিখেছিলাম:
"শিক্ষিত মানুষরা কেন যে কারও শারীরিক ক্রুটি নিয়ে কটাক্ষ করেন, কে জানে- যেটায় তার হাত নাই!"
এটার উদ্ধৃতি দিয়ে আমাকে শুইয়ে দিলেন। আমি শক্ত কিছু যুক্তি দেখাতে পারতাম কিন্তু সেপথ মাড়ালাম না। সোজা দুঃখ প্রকাশ করে লজ্জার হাত থেকে নিজেকে বাঁচালাম...।
 
১. মুক্তিযোদ্ধাদের খিচুড়িও যখন একটি বিক্রয়যোগ্য পণ্য! : http://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_21.html

গাট্টা!



চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়নি, বরং শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ঠাট্টায়সাংবাদিক পালিয়েছিলেনবলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে
পরবর্তী পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ওই সাংবাদিক কাউকে কিছু না বলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যানরোগী ও তার স্ত্রী অজানা শঙ্কা থেকে হাসপাতাল ত্যাগ করে নিয়মবিরোধী কাজ করেছেন... 
সূত্র: bdnews24.com (http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article794449.bdnews)
এই প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করার পর মাননীয় বিচারক অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে নতুন করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন

চার সদস্যের এক কমিটি এই প্রতিবেদনটি যে বিস্তর যন্ত্রণা করে  প্রসব করেছেন এতে কোনও সন্দেহ নেই। আমি তাদের প্রসবযন্ত্রণার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। এবং এই দুঃসাধ্য‌ কর্ম করতে গিয়ে তাদের কীরূপ সসেমিরা বা বাহ্যজ্ঞানশূন্য অবস্থা হয়েছিল তা খানিকটা আঁচ করতে পারি।
তাদের দেওয়া প্রতিবেদনে জরুরি যে বিষয়টি নেই তা হচ্ছে, শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ঠাট্টাচ্ছলে ওই সাংবাদিককে এই কথাটা বলেছিলেন কেন! এদের মধ্যে কী রসিকতার সম্পর্ক আছে? মামা-ভাগিনা, শালা-দুলাভাই টাইপের? এমনটা হয়ে থাকলে আমার কোনও বক্তব্য নাই কারণ এটা তাদের পারিবারিক বিষয়। এটা তারা পারিবারিক ভাবেই শেষ করবে। আমার নাক গলাবার কোনও গোপন ইচ্ছা নাই। 

সাংবাদিক মহোদয়গণ এই সংবাদে অনেক খুঁটিনাটি তথ্য দিয়েছেন কেবল কাজের তথ্যটাই দেননি! অসাধারণ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন চার কুতুব, এরা কারা, এরে নাম কি? আর মাননীয় আদালত এই প্রতিবেদনে তুষ্ট হননি আবারও নতুন করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন, আদালতের প্রতি অসম্ভব ভাল লাগা কিন্তু এই চার কুতুবকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালে আরও ভাল লাগত। কারণ ভবিষ্যতে অন্য কেউ এমন ফাজলামি করার পূর্বে দ্বিতীয়বার চিন্তা করত। 

চার কুতুবের জন্য বাচ্চাদের ছড়া আওড়াই:
"আবারও করলে এমন ঠাট্টা
মাথয় মারব এক রাম গাট্টা।"

Monday, May 26, 2014

অব্যবস্থিতচিত্ত!



খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত যে তিন জন RAB কর্মকর্তা এদেরকে গ্রেফতার করার জন্য হাইকোর্ট সুষ্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার পরও এই নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি। কষ্টার্জিত অনুমানের প্রয়োজন পড়ে না যে তিতাসের জল মেঘনায়, মেঘনার জল তিতাসে গড়িয়েছে।
হাইকোর্টের এই নির্দেশনার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ...কথায়-কথায় রিট করা ঠিক না...। তিনি আরও বলেন, ...সরকার ঠিকমতোই এগোচ্ছিল। রিট করে বরং সরকারের কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।...যার যার কাজ তারাই করবে। ...নির্বাহী বিভাগের কাজ নির্বাহী বিভাগ করবে...। (দৈনিক আমাদের সময়, ১৫.০৫.১৪)
এটা আমার নিজস্ব মত, হাইকোর্ট এখানে শক্ত ভূমিকা না-নিলে এদেরকে আইনের আওয়ায় আনাটা দুষ্কর ছিল। এই দেশের সমস্ত মানুষ আমার মতের সঙ্গে একমত না-হলেও আমি আমার মতে অটল থাকব। ক্ষমতাশীন দলের প্রভাবশালী মন্ত্রীর জামাতাকে কাঠগড়ায় তোলা, একী ছেলের হাতের মোয়া! যে দেশে ক্ষমতাশীন দলের অতি প্রভাবশালী মানুষ বলেন, ...৫ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসেছি। আন্দোলনের নামে নাশকতা করলে হাত-পা কেটে দেওয়া হবে...

এই হচ্ছে আমাদের দেশের একজন আইনপ্রণেতার ভাষা! এই রাষ্ট্র কী আইনের আওতায় থেকে কাউকে কারও হাত-পা কাটার ক্ষমতা দেয়? মৃত্যুদন্ড দেওয়া নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি আছে আমি সে পথ এখন মাড়াব না। রাষ্ট্র চাইলে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রাণে মেরে ফেলতে পারে কিন্তু রাষ্ট্র কী কারও হাত-পা কেটে ফেলার ক্ষমতা রাখে? রাখে না কিন্তু ক্ষমতাশীন দলের লোকজনেরা রাখেন। এই কারণে কী কোনও শাস্তি হয়েছে।? এর উত্তরটা যে না এটা একটা শিশুও জানে।  

আদালতের প্রতি প্রধানমন্ত্রী যে উষ্মা দেখিয়েছেন সেই আদালত্ই যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন তখন আংশিক বক্তব্যই বেদবাক্য হয়ে যায়।
আর এই নির্বচনের পরে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলের নেতার প্রতি কটাক্ষ করে বলেছিলেন, গোলাপি ট্রেন মিস করলি...। আরও পরে, গোলাপি এখন উপজেলা ট্রেনে...। (দৈনিক আমাদের সময়, ০৯.০২.১৪)
এই নিষ্ঠুর রসিকতাটা করার পূর্বে তিনি এটা ভাবার প্রয়োজন বোধ করেননি যে এই কটাক্ষ এই দেশের অধিকাংশ মানুষকে আহত করে যারা তাঁদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।

প্রধানমন্ত্রী একবার বলেছিলেন, আমি নিজেই প্রতিদিন সকালে এক ঘন্টা এবং বিকালে এক ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। যাতে মানুষ ভুলে না যায় তারা কী কষ্টে ছিল...। (দৈনিক প্রথম আলো, ০৬.০৯.১২)
অর্থাৎ ২৪ ঘন্টার বিদ্যুৎ প্রধানমন্ত্রীর হাতে আছে কিন্তু তাঁর খুশি তিনি দুই ঘন্টা দেবেন না।

যে RAB কর্মকর্তারা খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত এরা যে গাড়ি, অস্ত্র, চেতনানাশক স্প্রে, ইট, রশি, যে ছুঁরি দিয়ে পেট ফেঁড়ে দিয়েছেন সবই আমাদের ট্যাক্সের পয়সায় কেনা অথচ আমরা এদেরকে কাঠগড়ায় তুলতে পারব না। বাহ!  
তো, হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ না-করলে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎবিষয়ক বক্তব্যের মত যদি এটা বলে বসতেন, এই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার করার ক্ষমতা আমার আছে কিন্তু আমি বিচার করব না কারণ মানুষ যেন ভুলে না-যায় খুন হলে কত কষ্ট লাগে..।
তাহলে তো সেটা হতো ভারী মুশকিলের কথা।

Thursday, May 22, 2014

গুডবাই, আ ‘বাইক-বয়’।

‘নিষিদ্ধ জ্যোৎস্না’ নামে একটা উপন্যাস আছে আমার যেটা ছাপা হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। এই উপন্যাস জুড়ে অদ্ভুত এক চরিত্র আছে। আমার সৃষ্ট অদ্ভুতদর্শন এক চরিত্র, 'ফুয়াদ'! বিভিন্ন সময়ে যখন কোনও পাঠক আমার কাছে জানতে চেয়েছেন এমন অদ্ভুতদর্শন চরিত্র যেটা বাস্তবতা বিবর্জিত এটা কেন গোটা উপন্যাস জুড়ে? এর উত্তরে আমি এমন এক হাসি হাসতাম যার অর্থ হ্যাঁ-না কিছুই বোঝায় না।

আমার সৃষ্ট চরিত্র যে বললাম এটা আসলে জাঁক করে বলা। বলা হয়ে থাকে, সৃষ্টি-বিনাশ বলে আসলে কিছু নাই- সবই প্রকৃতি, প্রকৃতির সন্তানের নকল। এমনিতে আমি যেটা বলি, ফ্যান্টাসির জন্ম রিপোর্টিং-বাস্তবের গর্ভে! এই ফুয়াদ নামের চরিত্রটির পেছনে যে বাস্তব মানুষটার ছায়া ...বাস্তবের এই মানুষটার সমস্ত কর্মকান্ড লিখতে গেলে কয়েকটা উপন্যাস হয়ে যাবে। আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়ো এমন একজন মানুষের সঙ্গে এমন তীব্র বন্ধুত্ব কেমন করে হলো এ এক বিস্ময়! বাস্তবের এই মানুষটার নাম খুব জরুরি না এখানে, লেখার সুবিধার কারণে বাস্তবের এই মানুষটার নাম দিলাম, ‘বাইক বয়’। এঁর সঙ্গে কতশত স্মৃতি...!

একজন কাউবয়ের যেমন অধিকাংশ সময় কাটে ঘোড়া- স্ট্যালিয়নের পিঠে তেমনি এই বাইকবয়ের সময় কাটত মটরসাইকেলের পিঠে, এবং যথারীতি অধিকাংশ সময়ে পেছনে আমি। ও তখন চালাতো হন্ডা সিডিআই। ওর কথামতে ‘সুইটি’। অঘনঘটনপটীয়সী সুইটি।

আমি সেসময়ের কথা বলছি যখন আমার এখনকার মত শেকড় গজিয়ে যায়নি। প্রচুর ঘুরতাম তখন। আমরা তিন জন। আমি বাইক-বয় আর সুইটি। কেবল ঘোরাঘুরির সময়ই যে সুইটি থাকত এমন না, অতি প্রয়োজনেও।
সেটা ১৯৯৭ সালের কথা। আমার ছোটবোনের বাচ্চা হবে। আগেভাগেই তাকে জেলা শহর কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাচ্চা হওয়ার তারিখ আরও কদিন পরে কিন্তু কী যে একটা ভজকট হলো, প্লেসেন্টা না কি যেন...তখনই অপারেশনের প্রয়োজন দেখা দিল। আমার মাথা পুরোপুরি ফাঁকা। কী করি, কেমন করে যাই?
দুপুর বেলা। বাইক-বয়ের বাসায় পা ছড়িয়ে বসে আছি। বাইক-বয় আরেক জেলা শহর থেকে মাত্র ফিরল বাসায় ভাত খেতে। এমন অবস্থায় ওকে কিচ্ছু বলার সাহস করতে পারছিলাম না। বাইক-বয় বলে, ‘কি হইছে তোমার’? আমি বিড়বিড় করি। মানুষটা অস্থির। সবটা শোনার প্রয়োজন বোধ করে না। শিস বাজাতে বাজাতে বলে, ‘চাল মেরে ভাই’। আমার চোখে তখন আনন্দের জল!


সুইটি উড়ে যাচ্ছে! হাইওয়েতে কখনও ১০০ কিলোমিটারের নীচে ওঁ চালিয়েছে এমনটা আমার মন পড়ে না! ৭০ কিলোমিটার যাত্রাপথে কেবল একবার  সুইটিকে থামিয়ে দিলাম। কারণ ক্ষিধায় ওঁর হাত কাঁপছিল। আমার ঝোলায় সবসময়ই চকোলেট হাবিজাবি থাকত। ওকে বললাম, ‘আপনি এমন অবস্থায় ড্রাইভ করতে পারবেন না। খায়া নেন’। এরপর আবারও সুইটি উড়ে চলে। ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট এর কাছে নস্যি। একবার আমার পেছনে পড়ল, ‘চলো বান্দরবন থেকে ঘুইরা আসি’। তখন আমি হড়বড় করে বলেছিলাম, ‘ওয়াল্লা, বাইক নিয়ে! মাফ চাই, দোয়াও চাই’।

একবার গেছি চট্টগ্রাম। আমরা দুজন হোটেলে এবং যথারীতি সুইটি বাইরে। তীব্র দাঁতের ব্যথায় মধ্যরাতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করছি যেন বাইক-বয়ের ঘুম না-ভাঙ্গে। কেমন করে টের পেলেন আমি জানি না... চোখ অবিকল গরুর চেখের মত করে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার কী হৈছে’?
আমি দাঁতে দাঁত চেপে বলি, ‘কিছু না, দাঁত ব্যথা’।
তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে রসিকতা করতে ছাড়েন না, ‘তুমি মঘার হালুয়া লাগাও’।
রাগ করা কথা কিন্তু রাগ করার কোনও সুযোগ থাকল না কারণ তিনি একের-পর-এক গল্প শুরু করলেন। সকাল পর্যন্ত চলত এই গল্পের খেলা। এরিমধ্যে অবশ্য বেশ ক-বার এটা তাঁর বলা হয়ে গেছে যে তাঁর নাকি ঘুম আসছে না। শোনো কথা, আমি কী শালা বেকুব নাকি, নাকি ঘাস খাই! ওরে, কখনও কখনও অসহ্য ভালোবাসা সহ্য হয় না রে।


অনেক কটা বছর প্রবাসে থেকে আসা এই মানুষটা দেশের বিভিন্ন অনাচার দেখে দেশের প্রতি ছিল দুর্দান্ত রাগ। কথায় কথায় বলতেন, ‘হেল আউট অভ হিয়ার’। আমাকে পটাতে আপ্রাণ চেষ্টা করতেন দুজনে মিলে কোনও উন্নত দেশে একেবারের জন্য চলে যেতে। খরচ নিয়ে পরোয়া নেই এটা তার দায়িত্ব।
আমি হাঁই তুলে বলতাম, 'আমার যদি দেশের বাইরে সেটেল করতে  হয় তাহলে... আমার যে লাইফ লাইন এর থেকে পাঁচ বছর কমে যাক তবুও আমি দেশ ছেড়ে যাব না। কচ্ছপের মত কামড় দিয়ে থাকব'।


যেবার আমি দেশের বাইরে জার্মানিতে গেলাম এক আমন্ত্রণে এই মানুষটা আমার কানের পোকা নাড়িয়ে দিলেন, ‘এদেরকে বলো তোমার সঙ্গে একজন যাবে। তোমার তো খরচ নিয়া চিন্তা নাই ওরা দিবে- আমার খরচ নিয়াও চিন্তা নাই। আমি দিব’। মানুষটার শিশুসুলভ আচরণের সঙ্গে আমি পরিচিত। হাসি গোপন করে বলি, ‘আপনি ওখানে গিয়ে কী করবেন’?
মানুষটার তড়িঘড়ি উত্তর, ‘কও কী, দেশ দেখব। তুমি এদেরকে বইলা দেখো’।
আমি উদাস হয়ে বলি, ‘পাগল তাই কী হয়’।
অনেকগুলো দেশে ভ্রমণের সুযোগ থাকা সত্বেও তিন দিনের মাথায় ফিরে আসার পর মানুষটা হিসহিস করে বললেন, ‘এই দেশে অরিজিনাল গাধা এইটাই আছে ওইটা তুমি, লেইখা রাখো’।
আমি পাগলটাকে ঠান্ডা করার জন্য গা দুলিয়ে বলি, ‘আলবত, আমি আপনার সঙ্গে একমত। আপনি সত্য বলছেন’।


হন্ডা চুরি হওয়ার পর বেশ কটা বাইক বদল হয়েছিল। হালে লাখ পাচেঁক টাকা দিয়ে কি একটা ব্রান্ডের বাইক কিনেছিলেন আমি জানি না কারণ...। খুব বেশি দিন হয়নি এই বাইক-বয়ের সঙ্গে আমার দূরত্ব সৃষ্টি হলো। দুইটা জিনিস আমি সহ্য করতে পারি না। এক, আমাকে কেউ অপমান করলে। দুই, খুব কাছের মানুষের কাছ থেকে সামান্যতমও অবহেলা। তখন মানুষটার অস্তিত্ব আমার কাছে অর্থহীন হয়ে পড়ে। বাইক-বয় আমার এফবি লেখার নিয়মিত পড়তেন। আমি নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষ। আমার যে সমস্ত সুহৃদ বিচিত্র করণে আমার দোষ দেখতে পান না আসুন, আমি পরিচয় করিয়ে দেই আমার ভেতরের পশুটার সঙ্গে। এই মানুষটা যেন আমার লেখা আর পড়তে না-পারেন সেই ব্যবস্থাও করলাম। ব্লক করে দিলাম। এই ব্লক এখনও করা আছে, আনব্লক করব কার জন্য?

আমার ওই উপন্যাসটার শেষ লাইনটা এমন,  ‘...ফুয়াদ এই শহরেই থাকে, দেখা হয় কদাচিৎ’। সেই ফুয়াদ যার আদলে সৃষ্টি সেই বাইকবয় সিলেট যাত্রাপথে হবিগঞ্জে পড়ে থাকেন হাত-পা-কোমর ভেঙ্গে। মসৃণ রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে একমাত্র আদরের  মেয়ের জন্য কেনা এটা-সেটা...। গলগল  করে গড়িয়ে পড়া রক্ত রাস্তার পিচ নিমিষেই শুষে নেয়। শুষে নেয় ওঁর সমস্ত প্রাণশক্তি।  যে মানুষটার মারা যাওয়ার বড়ো শখ সেই মানুষটার বাঁচার কী তীব্র আকুতি। প্রিয়মানুষকে ফোন দিয়ে কাঁদে, 'তাড়াতাড়ি আসো, আমি মরে যাচ্ছি যে...'।

মানুষটা আজ অন্য ভুবনে- দেখা হবে না আর কোনও দিন। ওকে, বাইক-বয়, সারাটা জীবন অনেক করলে অস্থিরতা এবার একটু চুপচাপ ঘুমাও...।

...

উন্নত দেশগুলোতে লোকজন প্রথমেই যাবে পুলিশের কাছে। আমাদের দেশে উল্টো- আজরাইলের কাছে যাবে কিন্তু পুলিশের কাছে যাবে না! পুলিশ নিয়ে কোনও ভাল কথা আমরা শুনতে পছন্দ করি না। তাই মিডিয়ারও এই বিষয়ে আগ্রহ প্রায় শূন্য!

হবিগঞ্জে এই দুর্ঘটনা ঘটার পর পুলিশ যদি যথা সময়ে চলে না-আসত তাহলে এই বাইক, সঙ্গে থাকা টাকা এবং দামী দুইটা মোবাইল হাপিশ হয়ে যেত। ইনি মারা যাওয়ার পূর্বে সঙ্গে থাকা এক লাখ তেইশ হাজার টাকা সার্জেন্টের হাতে তুলে দেন। তাঁর স্ত্রী যাওয়ার পর বাইক, টাকা, সেল ফোন সবই ঠিক-ঠিক বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ও পুলিশ, নতজানু হই...।

Sunday, May 18, 2014

কাজীর দরবারে সেলাম জানাই গো।



শেষ পর্যন্ত গতকাল ১৭ মে RAB ১১-এর সাবেক যে তিন কর্মকর্তাকে হাইকোর্ট গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে দুই জন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। হাইকোর্ট এই আদেশ দিয়েছিলেন ১১ মে। এবং এই আদেশের কপি ওই দিন রাতেই পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল ফ্যাক্স করে।

বলা যেতে পারে হাইকোর্ট অসম্ভব গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন বিষয়টাকে। মোটেও কালবিলম্ব করার অবকাশ রাখেননি। এমনকি প্রয়োজনে ৫৪ ধারায় গ্রেফতারের নির্দেশও দেওয়া ছিল। অবশ্য অবশেষে ৫৪ ধারাতেই এদেরকে গ্রেফতার করা হয়
ছে। কেন?
আপাতত সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ এদের বিরুদ্ধে তাহলে ৫৪ ধারায় (সন্দেহভাজন) গ্রেফতার কেন? এদিকে এরিমধ্যে পেরিয়ে গেছে বেশ ক-টা দিন, এই ডিজিটাল যুগেও! কেন? বিলম্বের হেতুটা বোঝার জন্য অবশ্য সাবমেরিনবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

পত্রিকার মাধ্যমে আমরা জেনেছিলাম তিন কর্মকর্তকেই সেনাবাহিনীর লগ এরিয়ায় নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এখন আমরা শুনতে পাই নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লে. কমান্ডার এমএম রানাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শোনো কথা! 
ছবি ঋণ: দৈনিক আমাদের সময়
গতকাল যখন লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ এবং মেজর আরিফ হোসেনকে কোর্টে আনা হয় তখন কোর্টে অবস্থানকালের অধিকাংশ সময়ই লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ কেবল নির্বিকারই ছিলেন না অবজ্ঞা-ব্যঙ্গের হাসিও হেসেছেন। আহা, কেন হাসবেন না? এ সত্য তিনি এটা পূর্বে মোটেও ভাবেননি যে তাকে কোর্টের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে-অনায়াসেই তো পার পেয়ে যাবেন। আর দাঁড়ালেই কী! এ তো তার অজানা থাকা কথা না যে আমাদের দেশে প্রলম্বিত বিচার শেষ হওয়াটা অনেক পরের কথা।

এ সত্য, গণশুনানিতে সমস্ত প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য এদের বিরুদ্ধে গেছে। উদ্ধার হওয়া সমস্ত আলামতও! লাশের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ইটগুলো যেগুলো এদের কার্যালয়ের নির্মণাধীন ভবনের। যে রশি দিয়ে বাঁধা হয়েছিল সেগুলোও! এমনকি রশিতে গিট্টু দেওয়া, খুন করার ভঙ্গিতে যে ছাপ, সবই প্রফেশনাল।
পাবলিক প্রসিকিউটর এদের বিরুদ্ধে যে খুনের অভিযোগ এনেছেন আইনের ফাঁকফোকর গলে খুনের অভিযোগ প্রমাণ করাটা তো চাট্টিখানি কথা না। আর প্রমাণ হলোই বা, কোর্ট কর্তৃক চরম শাস্তি প্রদান করলেনই...। এই দেশে ফাঁসির আসামীকে হৃদয়বান প্রেসিডেন্ট ক্ষমা করে দেন। সাঈদ উপহাসের হাসি হাসবে না তো কে হাসবে, ছলিমুদ্দিন-কলিমুদ্দিন?

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না এই অভিজাত বাহিনীর কিছু কার্যকলাপ এদের অজস্র অর্জনকে খাটো করে দিয়েছে। কেবল একটা উদাহরণই যথেষ্ঠ, লিমন [১], [২], [৩] নামের শিশুটির বিরুদ্ধে যা করা হলো এটাকে আমি হিংস্রতা-বর্বরতাই বলব না, বলব বোকামী, চরম বোকামী।
পৃথিবীর অন্য কোনও দেশের সরকারী সংস্থাগুলো কি ভুল করে না, করে। কিন্তু যার আবর্জনা তাকেই মাথায় নিতে হয়, অন্য-কেউ মরে গেলেও এই দায়িত্ব নেবে না। কিন্তু আমাদের দেশটা বিচিত্র, লোকজনের আচরণ বিচিত্র হবে এতে সন্দেহ কী! অপরাধীর অন্যায়গুলো নামের এই আবর্জনার গাট্টিটা নিজেদের কাঁধে নেওয়ার জন্য জনে-জনে মুখিয়ে থাকেন। কপাল!

আমি আশাবাদী মানুষ। তাই আমি বলব, এই যে এদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো গেছে এ এক অসাধারণ কাজ হয়েছে। আমাদের শেষ ভরসাস্থল আদালতের প্রতি আমার মুগ্ধতার শেষ নেই। নতজানু হই...।

... 
অবশেষে গতকাল (১৮ মে) এমএম রানাকেও গ্রেফতার করে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে।

৫৪ ধারায় কেন গ্রেফতার করা হলো এটার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শোকজ করেছেন হাইকোর্ট। আবারও সেলাম...। 

*ছবি ঋণ: দৈনিক আমাদের সময়

Friday, May 16, 2014

ঘোর কলিকাল...।



ভারাত বহোত বাড়া গণতান্ত্রিক কান্ট্রি হ্যায়, এর নমুনা আমরা আবারও দেখলাম। গণতান্ত্রিক উপায়েই মোদি বাবু ভারতের ঘাড়ে সওয়ার হলেন এই নিয়ে কোনও দ্বিমত নাই। অভিনন্দন জানালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া। ধর্মবক এরশাদ সাহেব আবার এক কাঠি সরেস- তিনি মোদির দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। এই সব একপাশে সরিয়ে আমাকে যেটা চমৎকৃত করেছে সেটা হচ্ছে জামাতে ইসলামির ভূমিকা।

মোদিকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে জামাতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ বলেন, ...বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করায় আমি নরেন্দ্র মোদিকে ও বিজেপি জোটের নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানাচ্ছি...

আমাদের দেশের অনেকেই জামাতে ইসলামি এবং ইসলামকে  গুলিয়ে ফেলেন। এর কারণ স্পষ্ট। এই রাজনৈতিক দলটি রাজনৈতি কারণে ইসলাম ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে আসছে জন্মলগ্ন থেকেই। যদিও এরা এর সরল একরারনামা-স্বীকারোক্তির ধারেকাছেও নেই। ভাবখানা এমন কেবল ধর্মের ঝান্ডা সমুন্নত রাখতেই এই ধরাধামে এদের আগমন। প্রজন্মের-পর-প্রজন্মকে ধর্মের মোড়কে লেবেনচুষ ধরিয়ে দিচ্ছে, এ থেকে যেন নিস্তার নেই। ইসলাম-ইসলাম করে এরা মুখে ফেনা তুলে ফেলে।

এই দলটির প্রতিষ্ঠাতা মওদুদী যুক্ত নির্বাচন? পুস্তিকায় লেখেন, ...একথা যেন আমরা ভুলিয়া না যাই যে পাক ভারত উপমহাদেশ নিছক ধর্মীয় ভিক্তিতে বিভক্ত হইয়াছিল, এবং এই বিভাগ-ভিত্তির দরুণই উপমহাদেশের এমন দুইটি ভুখন্ডের সমন্বয়ে পাকিস্তান গঠিত হইয়াছে, যাহার মধ্যে দীর্ঘ এক সহস্র মাইলের ব্যবধান রহিয়াছে। এই দুইটি ভুখন্ডের মধ্যে ঐক্যের ভিত্তি আঞ্চলিকতা নয়, বংশ নয়, ভাষা নয়, জীবন যাত্রা পদ্ধতির সামঞ্জস্য ন। কেবল একটি মাত্র জিনিষই এ দুইটি বিভিন্ন ভুখন্ডকে যুক্ত করিয়া রাখিয়াছে, তাহা হইতেছে দুই ভুখন্ডের অধিকাংশ অধিবাসীদের ধর্মীয় ঐক্য।...
এই ধর্মীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি যে কী আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন সে তো আমরা সবাই জানি।

মওদুদীর কিছু পুস্তিকার নাম, ১. ইসলামের হাকীকত, ২. ইসলামের জীবন পদ্ধতি, ৩. মুসলমানদের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের কার্যসূচী, ৪. ইসলামী বিপ্লবের পথ, ৫. ইসলামী শাসনতন্ত্রের মূলনীতি, ৬. ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রণয়ন, ৭. ইসলামী আদর্শে নির্বাচন, ৮. ইসলামী আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি, ৯, জিহাদের হাকীকত, ১০. আল্লাহর পথে জিহাদ, ১১. একমাত্র ইসলামী শাসনতন্ত্র কেন চাই ইত্যাদি
এই দলের গুরু-চ্যালারা ইসলামের প্রতি কেমন নিবেদিত প্রাণ এর অজস্র নমুনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছেন এরা। এই সুরে সুর মিলিয়ে, মুসলমানদের প্রতি এদের আবেগ আকাশ-পাতাল ছাড়িয়ে যাবে এতে তো সন্দেহ থাকার কথা না।
মোদি নামের দানবটার কেবল হাত নয় সমস্ত শরীর যে মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত এটা তো জামাতে ইসলামী নামের দলটার অজানা থাকার কথা নয়। মোদি কর্তৃক হাজারের উপর মানুষেকে খুন করার অভিযোগ আছে যাদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলমান। মোদি নামের সেই মানুষটাকে যখন জামাত ঝড়ের গতিতে অভিনন্দন জানায় তখন শব্দের অপচয় না-করে কেবল এটাই বলা চলে, ঘোর কলিকাল, ছাগল চাটে বাঘের গাল
...
এ সত্য, মোদি গুজরাটের ভোল পাল্টে দিয়েছেন। ভারতের লোকজনেরা যদি এমনটা ভেবে থাকেন যে ইনি গোটা ভারতের ভোল পাল্টে দেবেন তাহলে তাদেরকে কঠিন দোষ দেওয়া চলে না।

এর উপর ছিল দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতাশীন দলের একটা পরিবর্তন আসা।

মোদি দাদুর একটা জরুরি বিষয় এই লেখায় লিখতে ভুলে গেছি! ইনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, আপনারা এটা লিখে রাখতে পারেন ১৬ মের পর অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীরা স্যুটকেস গুছয়ে তৈরি হয়ে থাকলেই ভাল করবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে দেরি না করে সব দেশান্তরী বাংলাদেশিকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। কোনও ছাড় দেওয়া হবে না...
ক্ষমতায় আসার পূর্বেই এমন বক্তব্যের পর মোদি কয়টা পাশ দিয়েছেন, না চা বিক্রি করতেন নাকি আনপড়-গামাড় সেসব জানার খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না।

সব মিলিয়ে এটা আমার নিজস্ব মত, মোদি কেবল ভারতের না এই গোটা গ্রহের অধিপতি হলেও আমি বলব, রাজনীতির বইয়ে নিয়ম করে চুমু খান বটে কিন্তু এই বইয়ের একটা অক্ষরও পড়ে দেখেননি! আদৌ এই ক্ষমতাটাই নাই...।

*মওদুদী ১: 


মওদুদী ২:

https://www.facebook.com/723002334/posts/10151311129192335 

Thursday, May 15, 2014

আশায় বুক বাঁধি...



আজও লঞ্চ ডুবেছে ৩০০ যাত্রী নিয়ে। বেশ ক-বছর পূর্বেও ৩০০ যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ডুবে গিয়েছিল। ২০০৯ সালে একটা লেখায় লিখেছিলাম [১]:
...শুনলে ভয়ে গা কাঁপে আমাদের দেশে সত্যিকার অর্থে উদ্ধারকারি কোন্ও জাহাজ নাই'রুস্তম' এবং 'হামজা' নামের যে ২টা উদ্ধারকারি জাহাজ আছে এই বুড়া হাবড়াদের দিন শেষ একটাকে টেনে নিয়ে যেতে হয়, অন্যটাকে ঠেলে!
আরও কথা আছে, এদের মিলিত ক্ষমতা ১২০ মেট্রিক টন অথচ এখন যেসব জাহাজ চলাচল করে অধিকাংশই ১২০ মে. টনের উপরে
সবচাইতে ভয়ংকর তথ্য হচ্ছে, এই রুস্তম এবং হামজার উদ্ধার কাজে আসা যাওয়াসহ তেলের খরচ দিতে হয় ডুবন্ত জাহাজের মালিককেফল যা হওয়ার তাই হয়, কার দায় পড়েছে গুচ্ছের টাকা খরচ করে শস্তা লাশের জন্য জাহাজ পানি থেকে উঠাবার।...

লাশ ভেসে গেলেই তো আমাদের সবারই সুবিধা। দায়দায়িত্ব, খরচ কমে আসবে। এতে আমাদের কী আসে যায় যে ওই লাশগুলোর স্বজনেরা তাদের প্রিয়মানুষে লাশগুলোও পাবেন না। যার যার ধর্মীয় বিধান মতে শেষ বিদায়ও দিতে পারবেন না- চাপা স্বরে এটাও বলত পারবেন না, আহা, আস্তো নামাও না হে দুক্কু পায় না বুঝি। শেষ স্পর্শ, মাটিতে গড়াগড়ি করে কেঁদে বুকটাও হালকা করতে পারবেন না।  

কী কাকতালীয়! ২০১৪ সালেও একই শিরোনাম ৩০০ যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ডুবে গেছে।
ফি বছর নিয়ম করে এটা চলেই আসছে। এই নিয়ে কোনও সরকারেরই খুব একটা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নাই পাশাপাশি আমাদেরও কারণ এই সমস্ত লঞ্চে যারা যাতায়ত করেন এরা দেশের মাথাওয়ালা লোকজন না, কেবল একেকটা সংখ্যা মাত্র! অবশ্য এলাকার রাজনীবিদদের দীর্ঘশ্বাসে বাতাস ভারী হয় কারণ অনেকগুলো ভোট পানিতে ডুবে গেল!

তখন অবশ্য আমরা এটা জেনে আমোদিত হয়েছিলাম সেই সময়কার সরকার মৃতের পরিবারকে ছাগল প্রদানের (রশি ফ্রি) যে অভূতপূর্বে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তা কী এখনও চালু আছে? থেকে থাকলে সঙ্গে একটা করে কাঠাল গাছের চারা দেওয়ারও জোর দাবী জানাই।
আশার কথা, ২০১৩ সালে নির্ভীক প্রত্যয় নামের জাহাজ, যে দুটির মিলিত ক্ষমতা ৫০০ মেট্রিক টন; ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম উদ্ধারকারী জাহাজ হিসাবে যুক্ত হয়েছে। এই কারণে বর্তমান সরকার আন্তরিক সাধুবাদ পেতে পারেন। যদিও দেশে চলাচল করে এমন প্রচুর আধুনিক নৌযান আছে যেগুলো ৫০০  মেট্রিক টনেরও উপরে।

তবুও মন্দের ভাল। পিপাসার্ত আমাদের শূন্য গ্লাসের চারপাশে লেগে থাকা পানির ফোঁটাও কম কী। প্রয়োজনীয় উদ্যেগগুলো দ্রুত নেওয়া হবে, আশায় থাকি...।



১. http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_15.html

Tuesday, May 13, 2014

জীবিতানাং মনুষ্যনাং মৃতস্য শ্রেয়ঃ


আজকাল আমার অনিদ্রা রোগের মত হয়েছে। উল্লুকের ন্যায় রাত জাগি, হুদাহুদি-খামাখা। অহেতুক ভারী-ভারী চিন্তা ঝাঁপিয়ে পড়ে কিন্তু মাথা ফাঁকা দেখে চিন্তা বাবাজীরা বেদনাহত হয় পালায়!

নতুন একটা পোকা ঢুকেছে মাথায়...ভাবছি একটা টেলিস্কোপ যোগাড় করব। আকাশ দেখব। আকাশ দেখে কী হবে এটা অবশ্য আমার জানা নাই। আকাশপানে তাকিয়ে গাল দেওয়া গেলে চোঙা লাগিয়ে তাকিয়ে থাকতে দোষ কোথায়!

তো, নিশাচর ড্রাকুলার মত রাত জেগে যথারীতি পরদিন ঘুম ভাঙ্গে বেলা করে। এমন একটা সময়ে কেউ সকাল-সকাল ফোন দিলে...। এখন বুঝতে পারি ফোন কেন শক্ত জিনিস দিয়ে বানানো হয়। সোজা, জিনিসটা যেন চিবিয়ে ফেলা না-যায়। যেমনটা তখন আমার মনে হচ্ছিল, জিনিসটা চিবিয়ে ফেললে মন্দ হয় না।

ফোন করেছেন মোস্তফা সাহেব [১]। ঘটনা কী! তিনি নাকি কোন এক পির সাহেবের দরগায় এসেছিলেন এরপর টাকা-পয়সা খোয়া গেছে ইত্যাদি, ইত্যাদি...এটা শুনে মুক্তকচ্ছ হয়ে দৌড় দেওয়ার কোনও তাগিদ অনুভব করছিলাম না কারণ আমি যথার্থই বিরক্ত। চরম বিরক্তির কারণটা পরে বলছি।

দেখা হওয়া পর দেখা গেল, মোস্তফা পূর্ব থেকেই এখানে যেহেতু অনেকের পরিচিত- যে পুলিশ সদস্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, যে কলাবিক্রেতা বিক্রি ফেলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সঙ্গ দিয়েছিলেন এখানে এরা সবাই আছেন। মোস্তফা আমাকে বললেন, এট্টু এদিকে আসেন
আমি সরোষে বললাম, এদিক-ওদিক না, কানে-কানে কোনও কানাকানি নাই- ঘটনা কি আগে সেইটা বলেন?
ঘটনা এমন। মোস্তফাকে চলন্ত ট্রেন থেকে পিটিয়ে ফেলে দেওয়ার পর তিনি বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছেলেন। এখন পিরের দরগায় মুরগি দিতে এসেছেন, মানত।

আমি রাগ চেপে বলি, পির সাহেব মুরগি দিয়া কী করব, খাইব? মরা মানুষ কখনও মুরগি খায় এমনটা তো শুনি নাই! আপনার মুরগি খাইব তো পির সাহেবের খাদেম সাহেবরা। এতে পির সাবের কী লাভ আর আপনারই বা কী লাভ! এই যে আশেপাশ লোকগুলা দাঁড়ায়া আছে এরাই আপনার প্রাণ বাঁচাবার আপ্রাণ চেষ্টা করল আপনি এদেরকে মুরগি না-হোক এক ঠোঙা বাদাম খাওয়াতেন তাও না-হয় হতো কিন্তু তা না-করে মুরগি দিলেন গিয়ে পির সাহেবকে। আরেকটা কথা, আপনি এখনে এসেছেন কাল কিন্তু কারও সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেননি। লাফাইতে লাফাইতে গেলেন পির সাবের কাছে। বিষয় কী! এখন আজ আমাদের সঙ্গে দেখা করছেন দায়ে পড়ে, তাই না? তা পির সাব আপনার বাড়ি ফেরার সমস্যার সমাধান করতে পারলেন না?
       
আসলে মোস্তফাকে দোষ দিয়ে লাভ নাই। আমি যেটা বারবার বলি, আমাদের দেশটা বড়ো বিচিত্র। এখানে মৃত একজন জীবিত মানুষের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। এদেশে কালে-কালে একজন মৃত মানুষ ছাড়িয়ে যান সমস্ত জীবিত মানুষকে, ক্রমশ দেবতার পর্যায়ে চলে যান। এটা রাজনীতিকদের বেলায়ও খাটে। কেউ যদি এমনটা দাবী করেন ওই সমস্ত দেবতারা বেঁচে থাকতে বাথরুমও করতেন না আমি মেনে নেব অন্তত এই নিয়ে কুতর্কে যাব না। যে দেশের যে চল...।

সহায়ক সূত্র:
১. ঘরের ছেলে...: http://www.ali-mahmed.com/2014/04/blog-post_11.html

Sunday, May 11, 2014

মা, তোকে মরতে দেওয়া যাবে না



আমার মাকে নিয়ে একটা ধারাবাহিক লেখা শুরু করেছিলাম, হাসপাতাল র্ব শিরোনামে [ http://tinyurl.com/boya6xk ]সেই কবে, তা বছর দুয়েক তো হবেইলেখাটা তেরো পর্ব পর্যন্ত লিখে ফেলে রেখেছি- আজও লেখাটা শেষ করা হয়ে উঠেনিকয়েকবারই লেখার চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিয়েছিমস্তিষ্কের একটা অংশ সম্ভবত চাচ্ছে না লেখাটা শেষ হোককিন্তু লেখাটা শেষ করাটা তো জরুরিএকজন মানুষকে আর কতদিন এভাবে হাসপাতালের বিছানায় ফেলে রাখা যায়! কর্তৃপক্ষ জবাব চাইলে কোনো উত্তর তো নেই আমার কাছে কারণ তো মিথ্যা না যে দেশের হাসপাতালে বিছানার কী সংকট! বিষয়টা যে ভারী দৃষ্টিকটু এতে কোনও সন্দেহ নেই

আমার মা সেই কবে থেকে তোতা পাখির মত বকেই যাচ্ছিলেন, ফাজিল, তুই আমারে বাড়ি নিয়া যাবি কবে? মহিলা বড়ো যন্ত্রণা করতেনদুনিয়ায় আর কোনও কথা নাই, না? একই কথা আর কত ভাল্লাগে, বলো তো?

আহ, সেই প্রফেসর তৌহিদুল আলম, যাকে আদর করে লিখেছিলাম, গু ডাক্তার কারণ এই ভদ্রলোকের কাছে গু শব্দটা বড়ো প্রিয়- কী আর করা যার যেমন অভিরুচিআমার মাকে এই মানুষটা প্রকারান্তরে খুন করেছিলেন কিন্তু তেরো পর্বের পর আর কিছু লেখা হয়েই উঠলো না তাই তৌহিদুল আলমকেও খুনি বলা হলো না! ওই ধারাবাহিক লেখায় কেবল সম্ভাব্য খুনি বলেই সারতে হয়েছিলসুতীব্র আশা নিয়ে আছি, লেখাটা তরতর করে এগুবে, আমার মারও মৃত্যু হব আর এই ডাক্তারকেও খুনি বলা যাবে

মরণ! মৃত্যুর কথাটা কেন আসল এটা একটু বলিদু-বছর পূর্বে ডাক্তাররা কীসব ছাতাফাতা কাগজে খসখস করে লিখল যেটার চালু নাম ডেথ-সার্টিফিকেটএরপর লাশ উঠাও, লাশ নামাওশেষশয্যায় শুইয়ে দেওয়ার সময় ঢাউস একটা কালো পিঁপড়া দেখে প্রাণপনে সরাবার চেষ্টা করছিলামঅথচ সাদা কাপড়ের গিঁটগুলো তখনই খুলে দিতে হবে,নিয়মদ্রুত যেন পিঁপড়া-পোকা-ব্যাকটেরিয়া দেহটা নষ্ট করে ফেলে
দূর-দূর, ডাক্তাররা ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দিলেই হলো আর কী! আমি না-মানলে ডাক্তাররা আমার কী করবে! ছাতা..., জোর করে ধরে আমাকে তো আর অপারেশন টেবিলে তুলতে পারবে না?

আমি মানুষটাই আসলে এলোমেলো, সব উল্টো! যেটা দু-বছর পূর্বে মেনে নিয়েছিলাম সেটা পরে ক্রমশ আর মানতে পারিনি, আজও, এখনও নাএখনও এই মহিলার কথা মনে হলে ব্রেনে শর্টসার্কিট হয়ে যায়, কেমন পাগল-পাগল লাগেশপ আমার লেখালেখির, এখনও আমি এই মহিলার জন্য হিংস্র কুকুরের মত লড়ব
আনন্দ-বেদনার স্মৃতিগুলো ক্রমশ ধূসর হয় এটাই নিয়ম কিন্তু ওই যে বললাম আমার সবই উল্টোশালা স্মৃতির মত বদমাশ! কালেভদ্রে পরা হয় এমন, বাইরে যাওয়ার জুতোটা- পায়ে গলিয়ে টের পাই যার ভেতর ঠাসা পুরনো কাগজ। মার কান্ড- যেন জুতোটা না তুবড়ে যায়ওই কাগজগুলো যত্ন করে রেখে দিলেই কী আর মার স্পর্শ পাওয়া যায়!

এই ভদ্রমহিলার খুব পছন্দ ছিল বেলি ফুলহয়তো এর সঙ্গে তাঁর স্বামীর অজস্র স্মৃতি জড়িয়ে ছিলদেখো দিকি কান্ড, দুনিয়ার গাছ লাগাতাম আমি, বেলিও লাগিয়েছিলাম কিন্তু একটা  ফুল ফুটত না, আশ্চর্য! অথচ এখন গাছে বেলি ফুল উপচে পড়েপেড়ে শেষ করা যায় না এমন!

প্রচুর বাদাম খেতাম বলে এই মহিলা বাদামের খোসা ছাড়িয়ে ঝকঝকে কাঁচের বয়মে রেখে দিতেনরগড় করে বলতেনও আমাকে, বাদামকুমার! আজও বাদাম খাওয়া হয় খোসা ছাড়িয়ে ছাড়িয়ে কিন্তু সেই বাদামকুমার আজ কোথায়?

নাহ, থাকুক মহিলা যেমনটা আছেন তেমনই, বেঁচেবর্তেবাড়ি ফেরার অপেক্ষায়অহেতুক তাঁকে নিরাশ করার প্রয়োজন কী...।