Search

Loading...

Thursday, July 15, 2010

কুত্তা জহির

জহিরের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার জন্মের ইতিহাস, ধর্মীয় আচার পালন, দলীয় পরিচিতি, এলাকার পরিচিতি ছাপিয়ে চলে আসে তার নাম, কুত্তা জহির। দুর্ধর্ষ না ছাই, জহির নিতান্ত ছাপোষা মানুষ। তার নামের পূর্বে এই উপাধি কিভাবে যোগ হলো, দুর্ধর্ষ কুত্তা জহির হয়ে গেল এ ইতিহাস খানিকটা বিচিত্র।...    ...   ...
সে-দিন জহির মুখ ফেরাতেই জমে গেল। ইয়া তাগড়া একটা কুকুর। ঠিক তার পায়ের কাছে। আরেকটু হলেই চাপা দিয়েছিল আর কী! হুশ বলতে গিয়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে এলো। কুকুরটার ঘাড়ে কে যেন কোপ দিয়েছে। শরীরে ছোপ ছোপ রক্ত। এখনও রক্ত ঝরছে। ইস-স কী বীভৎস!
কুকুরটা সেই যে বসেছে উঠার নাম নেই। উঠে কোথাও হারিয়ে গেলে চলে গেলেই তো হয়। জহির হাফেজ সাহেবকে পাকড়াও করল। হাফেজ সাব দেখছেন?
হাফেজ সাহেব বিরক্ত হলেন: খেদান, খেদান এইডারে নাপাক জিনিষ।
হাফেজ সাব, ভাইরে, কুত্তাডা একটু দেহেন না, আহ দেখেনই না, কোপ দিয়ে ঘাড়টা প্রায় আলাদা করে ফেলছে।
হাফেজ সাহেব বিরক্তি গোপন না করেই এবার বললেন: দুর মিয়া, বেশি যন্ত্রণা করেন, এইডার একটু ধুলা আমার গায়ে পড়লে এই অবেলায় গোসল করতে হইব। হুশ-হুশ, থুবা আসতাগফিরুল্লা। এইডারে পশু হাসপাতালে দিয়া আসেন।
জহির এই রাগী গলায় বলল: আপনে নিয়া যান না, টাকা যা লাগে আমি দিমু।

হাফেজ হড়বড় করে বলেন, কি বেদাত কথাবার্তা আসতাগফিরুল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ। নাফরমান বান্দা।
পাশেই একজন মনোযোগ সহকারে কথাবার্তা শুনছিলেন, তিনি বললেন: পশু হাসপাতালে নিলে চিকিৎসা হইত।
জহির আগ্রহী হলো: আপনি নিয়া যাইতে পারেন ভাই, যা খরচ লাগে আমি দিমু নে। লোকটা অন্য দিকে তাকিয়ে দাঁত খোঁচাতে লাগল।


জহিরের বড় অস্থির লাগছে। আল্লাহর একি অবিচার, এখানে দেড় লক্ষ লোকের বাস এখানে। কুকুরটা তার ঘাড়েই কেন পরবে! হোয়াই?
জহির বিমর্ষমুখে দাঁড়িয়ে ছিল। ভাগ্যক্রমে একজন মানুষের ডাক্তারকে পেয়ে গেল। মুখ শুকিয়ে কুকুরটাকে দেখাল। মানুষের ডাক্তারের সঙ্গে জহিরের খানিকটা রসিকতার সম্পর্ক আছে।
তিনি হা হা করে হেসে বললেন: ভাইরে, আপনি তো বেশ লোক। যা হোক, শেষ পর্যন্ত কি কুত্তার ডাক্তার হতে বলছেন! হা হা হা। সমস্যাটা কি জানেন, কুকুরটা তো আপনার পোষা না, জোর করে তো পশু হাসপাতালে নিতে পারবেন না। শেষে র‌্যাবীস-ট্যাবীস বাধিয়ে বসবেন। আচ্ছা এক কাজ করেন, সিরিঞ্জে করে ডেটল পানি দূর থেকে কুকুরটার আহত স্থানে ছিটিয়ে দেন আর টেট্রাসাইক্লিন ক্যাপসূল চার-পাচটা খুলে পাউরুটির ভেতরে করে খাওয়াতে পারেন কিনা দেখুন।


জহিরের চিকিত্সা পদ্ধতিটা বেশ মনে ধরল। সম্ভব, এটা ওর পক্ষে সম্ভব। সিরিঞ্জে ডেটল পানি ভরে অন্য একজনকে দায়িত্ব দিল ছিটাবার জন্য। নিজে ক্যাপসূলে পাউডার ভরা পাউরুটির দায়িত্বে।
মানুষের হিংস্রতা নিয়ে কুকুরটির স্মৃতি ভারাক্রান্ত। প্রচুর কাঠখড় পোহাতে হলো পাউরুটি খাওয়াতে। দু-দিন এই চিকিৎসা চলল। পরে জহির ভুলেই গিয়েছিল কুকুরটির কথা।
ক-দিন পর তার এক বন্ধু বলল: জহির রে, তোর গেষ্ট আসছে কয়েকজন বান্ধবী নিয়ে। জহির দেখল সেই তাগড়া কুকুরটা সঙ্গে বেশ কটা মহিলা কুকুর। আনন্দে জহিরের চোখে পানি চলে এল। বন্ধুরাও আড়ালে তাকে কুত্তা জহির ডাকা শুরু করল।

2 comments:

Aurnab Arc said...

হায়রে বেচারা ভালু কাম কৈরা শ্যাষ পর্যন্ত কুইত্তা জহির হৈগেলো........

।আলী মাহমেদ। ali mahmed । said...

হ। কী আর করা, কপালের ফের। বেচারা জহির :D @Aurnab Arc

Facebook Share