Search

Showing posts with label অশ্লীলতা. Show all posts
Showing posts with label অশ্লীলতা. Show all posts

Tuesday, April 7, 2026

একজন হান্নান মাসউদ।

সাংসদ হান্নান মাসউদ পুর্বে টিউশনি করে মাসে ৭০-৮০ হাজার টাকা আয় করতেন!

Friday, February 20, 2026

এক লজ্জাশীল প্রকাশক, মঈনুল আহসান সাবের!

প্রকাশক ঈশ্বরতুল্য! অন্তত একজন লেখকের চোখে। কারণ এই প্রকাশকই নির্ধারণ করে দেন কে লেখক, কে পাচক! 


Sunday, February 15, 2026

'একটু অভয় দিলে বলি', বললেন, হায়, 'তেল খালেদ'।

 


খালেদ মুহিউদ্দিন, একটা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কাজ করা দুঁদে সাংবাদিক[] বলছে, 'একটু অভয় দিলে বলি...'!

Wednesday, October 28, 2020

DW: ভাল লাগা-মন্দ লাগা এবং খালেদ মুহিউদ্দিনের জানতে চাওয়া...।

আমাদের দেশের মিডিয়া খুব আগ্রহ নিয়ে এই সমস্ত প্রতিবেদনগুলো করে- যেমন সাকিব আমেরিকায় ঘাস কাটছে। অতি উত্তম। সাকিব ঘাস কাটতে পারে এই নিয়ে আমরা বঙ্গাল উল্লসিত। কারণ আমরা জানতাম না যে সাকিব ঘাস কাটতে জানে এবং আগে জানলে অন্যদের কথা জানি না আমার বাগানের ঘাসটা কাটিয়ে নিতাম। অবশ্যই ঘন্টা হিসাবে পে করতাম।

Monday, August 5, 2019

সব সম্ভবের দেশ!

আমাদের মন্ত্রী মহোদয় বললেন, এডিস মশা এবং রোহিঙ্গারা নিয়ন্ত্রণহীন- বেদম বাচ্চা পয়দা করে। ভাগ্যিস, তিনি কোনও উন্নত দেশের বেতনভুক্ত কর্মচারী নন, দরিদ্র একটা দেশের...তাই বাচোঁয়া!

Saturday, July 28, 2018

‘লন্ডভন্ড’-‘ভন্ডভন্ড’।

আমাদের ভ্যালুজগুলো আর থাকছে না। গায়ের কাপড়গুলো একে করে খসে পড়ছে। ছাত্র-শিক্ষকদের পিতা-পুত্রের যে সম্পর্ক এই সব এখন কেবল কেতাবেই আছে সম্ভবত। আমাদের পিতারা যখন আপিস, চাষের মাঠে তখন এই শিক্ষকরাই আমাদেরকে আঙ্গুল ধরে-ধরে পাঠশালায় শিখিয়েছেন।

Saturday, May 30, 2015

শ্রদ্ধাস্পদেষু শামসুল হক।

আমি এক লেখায় লিখেছিলাম, “সৈয়দ শামসুল হকের চিবিয়ে চিবিয়ে বলার ভঙ্গি রপ্ত করাটা চাট্টিখানি কথা না! তাই তাঁর এই বলার ভঙ্গির আমি ফিদা!...”
ফিদা কেবল এই কারণেই না। এমনিতে আমাদের এই সৈয়দ সাহেব বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপাধি বিলি করে বেড়ান কখনও ‘ভাষাকন্যা’ তো কখনও ‘দেশরত্ম’। আফসোস, অথচ এই ভদ্রলোককে কোনও প্রকারের উপাধি দেওয়ার সুযোগ আমাদের নাই। কী অভাগা আমরা এই প্রজন্ম!

সৈয়দ সাহেবের জন্য কোনো প্রকারের উপাধি আসলে নস্যি। কারণ ইনি এক বিরল প্রতিভা! অন্য গ্রহের কথা জানি না অন্তত এই গ্রহে তিনি ব্যতীত এমন প্রতিভার জন্ম হয়েছে এমনটা অন্তত আমি বিশ্বাস করি না। তিনি যে ভঙ্গির উপর ভর দিয়ে ক্যালিগ্রাম বা কবিতা-চিত্র লিখেছিলেন ১৯৯৩ সালে, সেই ভঙ্গির কবিতাই ১৯১৮ সালে লিখেছিলেন Guillaume Apollinaire নামের এক ভাবচোর [১]!

ওহে Guillaume Apollinaire, ব্যাটা ফিরিঙ্গি, পাজি, নচ্ছার সৈয়দ সাহেবের ভাব চুরি করে কিনা কবিতা ফেঁদে বসল! অথচ সৈয়দ সাহেব তখনও এই ভুবনে পদার্পণ করেননি, জন্মও হয়নি বিধায় এর প্রতিবাদ জানাবার সুযোগ তাঁর ছিল না। কিন্তু আমরা এই প্রজন্ম এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি Guillaume Apollinaire-এর কালো হাত ভেঙ্গে দাও, দিতে হবে।

সৈয়দ হকদের মত বিরল প্রতিভা যে কেবল দু-হাতে লেখালেখি করেন এমনই না তেলের খনিতে [২] দু-হাতে সাঁতারও কাটেন। বাংলাদেশের সমুদ্রজয়ে অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার জন্য না কেবল প্রস্তুতির জন্য নাগরিক কমিটির পক্ষে ৫০১ জনের যে পরামর্শক মহোদয়গণ উপস্থিত ছিলেন, এদের মধ্যে আমাদের সৈয়দ সাহেবও একজন!

সহায়ক সূত্র:
১. প্রতিভাবান: http://www.ali-mahmed.com/2011/08/blog-post_18.html
২. তেলের খনি: http://www.ali-mahmed.com/2012/04/blog-post.html

Tuesday, February 24, 2015

নৈতিকতার বাবা মৃত, মা মৃতপ্রায়!

এর বাপ মরেছে সেই কবে, মা-টাও যায়-যায় অবস্থা। মাটা মরে গেলে বেচারা 'ইয়াতিম' হয়ে যাবে। বেচারা...!

এখন কী শ্লা নৈতিকতার কোনও বালাই-ই নেই, নাকি! মিডিয়া কী মানুষের বেডরুমেও ক্যামেরা তাক করে রাখবে? হ্যাপি-রুবেলের কথাবার্তা [১] একটি জাতীয় দৈনিকে যখন হুবহু ছেপে দিচ্ছিল তখন মনে হচ্ছিল এরা দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানেরই যোগ্য চ্যালা।
এই অসভ্যতাটা শুরু হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকে। তখন ইন্টারোগেশনের সময় শেখ সেলিম, আবদুল জলিল এবং অন্যান্যদের কথাবার্তার অডিও ক্লিপ হাতে হাতে ঘুরছিল। অবশ্য কোনও দৈনিক সেটা ছাপাবার মত অসভ্যতা করেছিল বলে আমার জানা নেই।

রাষ্ট্র কখনও-কখনও কিছু কর্মকান্ড করে যেটা বাথরুম সমতুল্য যেটা প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হওয়া অসভ্যতা-অশ্লীলতার পর্যায়ে পড়ে। কিন্তু আমরা সেসময় বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম সেই গোপন বিষয়গুলো রাষ্ট্র জনে জনে বলে বেড়াতে লাগল!
এখন আবার নতুন করে এই সব শুরু হয়েছে। বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম কেবল এই তথ্যটা দিয়েই দায় সারেনি হুবহু ছাপিয়ে দিয়েছে দাঁড়ি-কমাসহ! কেবল তাই না ইউটিউবেও আপলোড করে দিয়েছে। এদিকে এরা আবার ঘটা করে লিখেছে, 'কথোপকথন ফাঁস...'। ওরে ব্যাটা, ফাঁস কীরে আবার- কে ফাঁস করে দিল? সাদেক হোসেন খোকা না মাহমুদুর রহমান মান্না?
এই প্রশ্নটা সপাটে করতে চাই কে তৌফিক ইমরোজ খালেদী হাতে এই অডিও ক্লিপ তুলে দিল, 'ভাইবার'? ‘ভাইবার’-এর মালিক কি খালেদীর পরমআত্মীয় লাগে? নাকি মান্নাকে শুইয়ে দেওয়ার জন্য এটাও নাটকের একটা অংশবিশেষ?

ওয়েবে আমরা এমন অনেক কিছু্ই পাই যা অনৈতিক ভাবে দিয়ে দেওয়া হয় কিন্তু প্রিয় ডট কম যখন নির্বিকার ভঙ্গিতে দিনের-পর-দিন চুরি চালিয়ে যায় [২] বা বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম এহেন কর্মকান্ড করে তখন কেবল এটাই মনে হয় নৈতিকতার মার অক্সিজেন চলছে। আমি শিউরে উঠি সেই অক্সিজেনের পাইপে খালেদী এবং জাকারিয়া স্বপনের রোমশ পা দেখে, যে পাগুলো চাপা দিয়ে রেখেছে অক্সিজেনের পাইপটা।
লেখার শুরুতে যেটা বলেছিলাম, রাষ্ট্র কখনও-কখনও এমন কিছু কর্মকান্ড করে...। সম্ভবত এটা আবারও দেখতে হচ্ছে আমাদেরকে...।
*পরবর্তী লেখা: নৈতিক-অনৈতিক এবং আমার ব্যাখ্যা: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_25.html 

সহায়ক সূত্র:
১. ...আমাদের মিডিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2014/12/blog-post_19.html
২. প্রিয় ডট কম, তোমাকে কি ডাকাত....http://www.ali-mahmed.com/2015/02/priyocom.html

Thursday, October 2, 2014

আমাগো ‘মনতিরি’ বাহাদুর!

কালে-কালে ‘মনতিরি’ বাহাদুরদের আগমন ঘটে। বিএনপির সময় একজন ‘মনতিরি’ বাহাদুর ছিলেন তিনি গুড়ো দুধের দাম বেড়ে যাওয়ার পর আমাদেরকে সময় অবগত করিয়েছিলেন, ‘আমার ছয় বছরের ছেলে এখনও মার দুধ খায় আমি নিজে বারো বছর পর্যন্ত মার দুধ খেয়েছি’
সেই ‘মনতিরি’ বাহাদুর বারো বছর কেন আরো ক-বছর লাগিয়ে দুধ খেলেও আমাদের বলার কিছু ছিল না। তাই হয়তো এই ‘মনতিরি’ বাহাদুর ছিলেন গোলগাল-তনদুরস্ত ছিলেন!

সেই সময়কার আরেক ‘মনতিরি’ বাহাদুর আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘বিল গেটস কম্পিউটার বিক্রি করিয়া এই দেশ থিক্যা কুটি-কুটি টাকা নিয়া যাইতেছে’
শোনো কথা, বিল গেটস ব্যাটা নাকি কম্পিউটার বিক্রি করে!

হালের একজন ‘মনতিরি’ বাহাদুর আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে দেশ উত্তাল। তিনি অতি কুৎসিত যে-সমস্ত বাতচিত করেছেন তা এখানে বলে আর চর্বিতচর্বন করি না। বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সবাই জেনে গেছেন। তবে কিছু বিষয় আমার খুবই ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে। যেমন, এক পত্রিকায় লিখেছে, "...একই সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে লতিফ সিদ্দিকী ধর্ম নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর এসব অস্বাভাবিক কথাবার্তায় সভাস্থলের ভিতরে এবং বাইরে প্রচন্ড ক্ষোভের সঞ্চার হলে এক পর্যায়ে তাকে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে হয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র জয়কে নিয়ে খোদ ক্ষমতাসীন দলের একজন মন্ত্রীর এমন কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।..." 
‘বিশেষ করে’, এই বিশেষ করেই বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে!

পত্র-পত্রিকায় এখন ছেয়ে গেছে, ‘দুর্নীতির পাহাড়ে লতিফ’, ‘লতিফের শত-শত কুকর্ম’ ইত্যাদি ইত্যাদি। লতিফ যখন পাট মন্ত্রণালয়ে ছিলেন তখন নাকি সরকারের হাজার-হাজার কোটি টাকা নষ্ট করেছিলেন। এই সমস্ত তথ্য এখন গিয়ে জানা যাচ্ছে। কেউ জানত না! না আমাদের প্রধানমন্ত্রী, না গোয়েন্দা সংস্থা, না দুদক। এখন গিয়ে জানা যাচ্ছে দেশে ফিরলেই দুদকের মুখোমুখি হতে হবে লতিফ সাহেবকে। দুদক এখন হুড়মুড় করে জেগে উঠেছে- যেন সুপ্ত আগ্নেয়গিরি!

লতিফ সাহেব বিভিন্ন প্রসঙ্গে বিস্তর কুৎসিত কথা বলেছেন। বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তিনি অনুতপ্ত নন। এই নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নাই। কে অনুতপ্ত হবে, কে তপ্ত এটা তার নিজস্ব বিবেচনা। আমার বক্তব্য অন্য খানে। বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন...।
বিবিসি: '...সরকারের মন্ত্রী হিসাবে সেই বক্তব্য দেবার ক্ষেত্রে আপনার কিছু বিধিনিষেধের অধীনে থাকতে হতে পারে'

লতিফ: 'হ্যাঁ, বিধিনিষেধ আছেই। সেটা তো আমি আমার দেশে করি নাই। আমি ভাবছিলাম মুক্ত পৃথিবীতে আসছি, যেখানে সবাই মুক্ত বিহঙ্গ, এখানে কোনও কিছুতেই বাধা নাই। এখানে যে কালো বিড়াল এত রয়ে গেছে তা তো আমি জানি না।..."

আমাগো 'মনতিরি' বাহাদুর নিশ্চয়ই এই ধর্মীয়স্বাধীনতার কথা বলছেন না? FREEDOM OF THOUGHT AND RELIGION:

18. "Everyone has the right to freedom to thought, conscience and religion; this right includes freedom to change his religion or belief, and freedom, either alone or in community with others and in public or private, to manifest his community or belief in teaching, practice, worship and observance." (The Universal Declaration of Human Rights [UDHR]) 

তাছাড়া...ওহো, আমাগো ‘মনতিরি’ বাহাদুর একেবারেই বিস্মৃত হয়েছেন তিনি এই প্রজাতন্ত্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী। আমেরিকা কেন মঙ্গলগ্রহে গেলেও একজন বেতনভুক্ত কর্মচারীর যা খুশি বলার, করার অধিকার নাই। আফসোস, এটা আমাদের দেশের অধিকাংশ বেতনভুক্ত কর্মচারীই মনে রাখেন না...।

Saturday, September 13, 2014

অসভ্য-ইতর-পাপিষ্ঠ এবং কুত্তা...।


Danish zookeepers kill healthy baby giraffe with a bolt gun because he was 'surplus to requirements' - then feed him to the LIONS... 

...Marius’s plight had triggered worldwide outpourings of protest, including an offer to rehome him in Britain, with many saying they were sickened by a zoo killing a healthy animal.

...After announcing plans to have Marius put down, the zoo received offers of a new home – including one from Yorkshire Wildlife Park – as well as a private buyer who offered 500,000 euros (£410,000). 

... Mr Holst said the zoo didn’t give its eight giraffes contraceptives due to ‘unwanted side effects on the internal organs’ and in order to allow animals to display natural parenting behaviour ..." (www.dailymail.co.uk)

ঘটনাটা ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনের। এই শিশু জিরাফটিকে যখন মেরে ফেলার শলা করা হচ্ছিল তখন অনেকেই চেয়েছিলেন এই জিরাফটিকে অন্যত্র বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেবেন। এমনকি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে ৫ লক্ষ ইউরো প্রদানের বিনিময়েও! কিন্তু সমস্ত প্রম্তাব তুড়ি মেরে এরা ঠিকই প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে শিশু জিরাফটির! পরে সিংহকে খেতে দিয়ে দেয়। এ এক অসভ্যতার চরম পরিকাষ্ঠা। কে বলে এরা সভ্য?
অথচ এই উন্নত দেশগুলোর লোকজনেরা সিরিয়াল-কিলার, শত, হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী সেই মানুষ নামের দানবকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হলে চোখের জলে অন্তর্বাস ভিজিয়ে ফেলে।

ছবি ঋণ: www.independent.co.uk
‘গ্রহবাবা’ আমেরিকা। এরা এতোটাই ব্রেনওয়ালা যে আমাদের দেশের লেখক মহোদয়গণ আমেরিকা গিয়ে লেখালেখিও শিখে আসেন। সেই আমেরিকার মিনেসোটার মেয়র সাহেব মি. ডিউক। একটা কুত্তা। ডিউক নামের এই কুত্তা মহোদয় রীতিমতো নির্বাচনে পাশ-টাশ দিয়ে মেয়র হয়েছেন। ঝাঁপিয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক প্রায় সমস্ত মিডিয়ায় ছেয়ে গেল, “Duke the dog becomes elected mayor of Minnesota town.” 

ওই এলাকার লোকজনের কঠিন যুক্তি, “Voters said Duke guards the town and makes the community safer, even ensuring cars do not break the speed limit.” 

বটে রে, বটে- কতো বুদ্ধি ঘটে! আমি একবার তিনপেয়ে একটা কুকুরকে দেখে বড়ই কাতর হয়েছিলাম, আহারে-আহারে, কুত্তাটার একটা ঠ্যাং নাই! সম্ভবত একটা পা ট্রেনে কাটা পড়েছিল। এখন দুপেয়ে অসংখ্য কুত্তা দেখেও কেন কাতর হচ্ছি না এ এক বিস্ময়!

Tuesday, September 2, 2014

গুরু-শিষ্য!

গেছি এক উকিলের চেম্বারে। উকিল সাহেবের চেয়ার শূন্য! কারণ উকিল সাহেব আন্ডার গ্রাউন্ডে মানে অন্দরমহলে- সারাদিনের কোর্টকাচারির ধকলে বিছানায় চিত, কাত বা উপুড় হয়ে আছেন। বিভিন্ন কারণে এখানে আসা লোকজনেরা মশার কমড় খেতে খেতে ঝিমাচ্ছেন। ‘নেই কাজ তো খৈ ভাজ’- আমি অলস ভঙ্গিতে পত্রিকার পাতা উল্টাচ্ছি।

এরিমধ্যে একজন সেলফোনে উঁচু ভল্যুমে ওয়াজ চালু করে দিলেন। তিনি আবার ফাঁকে ফাঁকে এটাও জানাতে কার্পণ্য করছেন না যে অতীতে এই জিনিস তিনি অসংখ্যবার শুনেছেন। একদিন সারা রাত ধরে কেবল শুনেই গেছেন আর অঝোরে কেঁদে বুক ভাসিয়েছেন। তিনি এটাও এক ফাঁকে অন্যদের জানিয়ে দিলেন গভীর রাতে শুনলে বুঝবেন এটা কী জিনিস...।

আধুনিক প্রযুক্তির এও এক নিদর্শন। এখন কেবল আট-দশটা চোঙ্গা লাগিয়েই লোকজনকে কেবল শোনাবার ব্যবস্থা নেই এই কর্মকান্ডে সেলফোনও চলে এসেছে।
আমাদের গুণদাদা আবার আদর করে সেলফোনের নাম দিয়েছেন ‘মুঠোফোন’। হালের ৫-৬-৭ ইঞ্চি ডিসপ্লের যে ফোনগুলো এগুলো তো মুঠোয় আটকে রাখা অসম্ভব। এগুলোর নাম কী হবে ‘থাবাফোন’? আফসোস, গুণদাদাকে জিজ্ঞেস করার সুযোগ হয়নি!

যাই হোক, সেলফোন বা চালু নাম মোবাইল ফোনে এক মৌলভি সাহেব বয়ান করছেন। তিনি শুরু করলেন এভাবে, ‘এখন রাত সাড়ে বারোটা। আপনেরা কি আমাকে দেড় ঘন্টা সময় দিবেন’। লোকজনেরা সমস্বরে বললেন, ‘জ্বী হুজুর’। এর মানে রাত দুইটা পর্যন্ত আট-দশটা মাইক লাগিয়ে তিনি ধর্মউদ্ধার করবেন। আশা করছি, এই পরিধির মধ্যে অসুস্থ কোনও মানুষ বা কাকডাকা ভোরে উদয়াস্ত পরিশ্রমে খেটে খাওয়া মানুষ অথবা অন্য ধর্মের কেউ থাকবেন না।
তো বয়ানে তিনি বলছেন, “এই নবীর রাগ আছিল মারাত্তক। চেতলে রক্ষা আছিল না। একবার একজনরে নাম জিগাইলে হেতে তার নাম, বাপের নাম, দাদার নাম, দাদার দাদার নাম, হেরো দাদার নাম চৌদ্দগুষ্ঠির নাম কওয়া শুরু করলে নবী চেইতা কইলেন, তুমি আমার লগে ফাইজলামি করো। তোমারে এতো কথা জিগাইছি আমি?
হেই লোক কইল, ক্যান! আপনেরে যখন জিগান হইছিল, তুমার হাতে এইডা কিতা, তখন আপনে কি কইছিলেন মনে আছে? কইছিলেন, এইডা লাডি। ঠ্যাকায় পড়লে এইডায় আমি ভর দেই, এইডা দিয়া আমি বকরি চড়াই, সাপ-টাপ আইলে খেদাই। কতলা কথাই না তহন আপনে কইছিলেন! এহন আমি কইলে দোষ হইব ক্যান?
নবী চেইতা কইলেন, শাট আপ!
হেই লোকও কইলেন, আপনে ডাবল শাট আপ!”

যে নবীর কথা এই মৌলভি সাহেব বলছেন যদিও তাঁর জন্ম ঠিক কখন হয়েছিল এটা নিয়ে মতভেদ আছে! তবে অনুমান করা হয় ৩৩০০ বছর পূর্বে। বলা হয়ে থাকে হযরত মুসা পয়দেশসহ কিতাবুল মোকাদ্দেসের পাঁচটি খন্ড লিখেছিলেন বা তাঁর উপর নাযিল হয়েছিল। পবিত্র তৌরাত, হিব্রু ভাষায় যেটাকে বলা হয়, ‘তোরাহ’। সবই জানা ছিল কিন্তু এই নবী যে দুর্ধর্ষ ইংরাজিও বললেন এটা জানা ছিল না! 'ডাবল শাট আপ'ও যে রাগ বহিঃপ্রকাশের এক মারাত্মক হাতিয়ার আমাদের মৌলভি সাহেবের কল্যাণে এটাও জানা হয়ে গেল।

Monday, August 25, 2014

আকাশলোক থেকে ধরাধামে নেমে এলেন যিনি।


গোলাম মাওলা রনি। একজন সংসদ সদস্য এবং লেখালেখিও করেন বটে। স্যারের একটি পরিচয় অন্য পরিচয়কে ছাপিয়ে যায়। মোগল হেরেমের দুনিয়া কাঁপানো প্রেম নামে রগরগে ধারাবাহিক একটা লেখা লিখছেন। তার এই সব লেখায় পু..দন্ড, অ..কোষ, র..ক্রিয়ার যেসব বর্ণনা তার নাম না-থাকলে ধরে নিতাম রসময় গুপ্তের লেখা পড়ছি।

৩৪তম পর্বে (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৩ আগস্ট, ২০‌১৪) প্রহরীরা ফক ফক করে হাসে। এই প্রহরীগুলোর কথা বলতে দন্তহীন মাঢ়ির ফাঁক বা বিরল দাঁতের ফাঁক দিয়ে হাওয়া বের হয় এমনটা কিন্তু না তবুও এরা ফক ফক করে হাসে! তা হাসুক, লেখকের স্বাধীনতা বলে কথা!
প্রহরী ফক ফক করে হাসতে পারলে সম্রাট কুত কুত করে হাসতে পারবেন না কেন! গোলাম মাওলা রনির সম্রাট কুত কুত করে হাসেন।
এই লেখার একস্থলে রনি লিখছেন:
...সম্রাজ্ঞির ঘোড়ায় চড়ার চেষ্টার উদ্দামতা যেন আরও বেড়ে গেল। তিনি সম্রাটের পিঠের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে নিজের দুপা দিয়ে স্বামীর দুপা সজোরে প্যাঁচ মারলেন।...শাহেনশাহের সুড়সুড়ি আরও বহু গুণে বেড়ে গেল। তিনি ওরে বাবাগো, ওরে মা গো। এই  নূরজাহান, ছাড়। দয়া করে ছাড়।
...তিনি (সম্রাজ্ঞি) শাহানশাহের ঘাড়ে সজোরে দংশন বসিয়ে দিলেন...উভয়ে প্রায় ঘন্টাখানেকের প্রাণান্ত চেষ্টার পর সেই আটক অবস্থা থেকে মুক্ত হলেন বটে কিন্তু ততক্ষণে শরীরের ঘামে উভয়ের কাপড় চোপড় ভিজে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।...

ভাষার যে কারুকাজ দেখছি আমি বাক্যহারা না-হয়ে কলমহারা হয়ে যাচ্ছি।দংশন বসিয়ে দিলেন! ওরে, পৃথিবীটাকে কেউ ধর আর সম্রাট যেখাবে বাবাগো মাগো বলে কাতর হচ্ছিলেন... বর্ণনা শুনে মনে হচ্ছে লেখক মহোদয় অকুস্থলে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। লেখক মহোদয় ওখানে কেন গিয়েছিলেন এটা নিশ্চিত জানার উপায় নেই হয়তো গুলিস্থান থেকে মান্ডার তেল নিয়ে গিয়েছিলেন। তাছাড়া সম্রাট-সম্রাজ্ঞির বিযুক্ত হতে প্রায় এক ঘন্টা সময় লাগল। লেখক মহোদয়ের প্রায় না-লিখে আসলে উপায় ছিল না কারণ তখন তো আর তার কাছে হালের আধুনিক নিখুঁত ঘড়ি ছিল না, ছিল সূর্য-ঘড়ি, বালিঘড়ি।

যাই হোক, ঢাকার পুলিশ কমিশনারের কাছে খোলা চিঠিশিরোনামে আরেকটি লেখায় (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২২ আগস্ট ২০১৪) তিনি পরিতাপের সঙ্গে লিখছেন, ধানমিন্ড লেকের ওয়াক ওয়ে এবং আশেপাশের জায়গায় এ দেশের তরুণ-তরুণীরা যেসব অপকর্ম করে যেসব বাজে কথা বলে তা পৃথিবীর কোনো অসভ্য দেশের ছেলেমেয়েরা করে কিনা সন্দেহ।

ঢাকার পুলিশ কমিশনারের কাছে এই খোলা চিঠিটায় আমাদের আইনপ্রণেতা মহোদয় সমাপ্তি টানছেন এটা লিখে:
...জনাব আমি যদি আপনার চেয়ারের মালিক হতাম...তাদের প্রতি কড়া নির্দেশ থাকত আপত্তিকর অবস্থায় যাদের পাওয়া যাবে বা অসময়ে যারা স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে ওই এলাকায় ঘুরতে এসেছে তাদের সবইকে ধরে নিয়ে আসো। ছেলেমেয়ে উভয়কেই প্রথমে বেত মারো। আপত্তিকর কর্মে জড়িতদের একশত বেত এবং বাকিদের ৫০ বেত। তারপর তাদের পিতা-মাতা ও স্কুল-কলেজের নাম-ঠিকানা নাও। এদের কাছে জিজ্ঞেস কর বাবা-মা শিক্ষকরা ভাল না মন্দ। যদি ওরা মন্দ বলে তবে ওইসব বাবা-মা ও শিক্ষকদের ধরে নিয়ে আসো। মুখোমুখি করো কুলাঙ্গারদের। যদি মনে হয় ছেলেমেয়েরা সত্য বলছে , তবে বাবা-মা শিক্ষকদের পাছায় বেদম প্রহার করো। ... মাননীয় কমিশনার সাহেব আপনি যদি উপরোক্ত কাজ করতে পারেন তবে আপনার স্থান হবে খলিফা হযরত ওমর (রা.) বা খলিফা খলিফা হজরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজের (রহ.) পাশে।...

Sunday, August 10, 2014

খবিস


সমাজকল্যাণমন্ত্রী খবিস বললেন। মন্ত্রীমহোদয় তো বলেই খালাস কিন্তু বিপদে পড়লাম আমি। ভারী বিপদ!

একজন আমার কাছে জানতে চাইলেন, খবিস জিনিসটা কি?

আমি অতি আস্থার সঙ্গে বললাম, ওহো, এটা তো সোজা! খবিস মানে খবিস।

তিনি চিড়বিড় করে উঠলেন, আমার সঙ্গে চালবাজি করবা না। জানলে বলো; না-জানলে না বলো।

আমার আস্থায় এবার চিড় ধরল, খবিস মানে ইয়ে আর কী! আরে বুঝলা না। আচ্ছা, তোমাকে আমি পরে বলছি।

এবার তিনি রক্তচক্ষু মেলে বললেন, হাহ, পরে! খবরদার-খবরদার বলছি  অভিধানে হাত দিবা না। এ্যাহ, এ আবার লেখালেখি করে, ছইদালি কোথাকার। আমি এটা বেশ জানি এক পাতা লিখতে তুমি দশটা বানান ভুল করো। হাতের নাগালে অভিধান না-থাকলে তুমি এক লাইনও লিখতে পারো না। আমি তোমার হৃদয়বান পাঠক না যে তোমার ছাইপাশকে লেখা বলব।

আস্থা মিলিয়ে গেছে কবে এবার আমার গলা থেকে চিঁ চিঁ স্বর বের হয়, দেখো, এই সব বাইরের লোকজন জানার দরকার কী! যে দু-চারজন পাঠক আমার লেখা পড়ে এরাও মুখ, না-না ভুল বললাম চোখ ফিরিয়ে নিলে আমার উপায় কী, বলো! শেষঅবধি আমার লেখা আমাকেই পড়তে হবে। সে যে কী কষ্ট-কষ্ট! আহা, আমি তো সেইসব লেখক না যে গালে হাতদেওয়া পোজ দিয়ে রাশভারী গলায় বলব, আমি তো কেবল আমার নিজের আনন্দের জন্যই লিখি।

এই পর্যায়ে এসে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেন, আর একটা কথা না। খবিশ কি জানলে বলো নইলে চুপ, একদম চুপ।

আমি এবার অনেক ভেবেচিন্তে বললাম, ইয়ে মানে খবিস হচ্ছে ইয়ে আর কী...।

*ছবি ঋণ: www.newsmirror24.com 

Friday, May 16, 2014

ঘোর কলিকাল...।



ভারাত বহোত বাড়া গণতান্ত্রিক কান্ট্রি হ্যায়, এর নমুনা আমরা আবারও দেখলাম। গণতান্ত্রিক উপায়েই মোদি বাবু ভারতের ঘাড়ে সওয়ার হলেন এই নিয়ে কোনও দ্বিমত নাই। অভিনন্দন জানালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া। ধর্মবক এরশাদ সাহেব আবার এক কাঠি সরেস- তিনি মোদির দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। এই সব একপাশে সরিয়ে আমাকে যেটা চমৎকৃত করেছে সেটা হচ্ছে জামাতে ইসলামির ভূমিকা।

মোদিকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে জামাতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ বলেন, ...বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করায় আমি নরেন্দ্র মোদিকে ও বিজেপি জোটের নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানাচ্ছি...

আমাদের দেশের অনেকেই জামাতে ইসলামি এবং ইসলামকে  গুলিয়ে ফেলেন। এর কারণ স্পষ্ট। এই রাজনৈতিক দলটি রাজনৈতি কারণে ইসলাম ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে আসছে জন্মলগ্ন থেকেই। যদিও এরা এর সরল একরারনামা-স্বীকারোক্তির ধারেকাছেও নেই। ভাবখানা এমন কেবল ধর্মের ঝান্ডা সমুন্নত রাখতেই এই ধরাধামে এদের আগমন। প্রজন্মের-পর-প্রজন্মকে ধর্মের মোড়কে লেবেনচুষ ধরিয়ে দিচ্ছে, এ থেকে যেন নিস্তার নেই। ইসলাম-ইসলাম করে এরা মুখে ফেনা তুলে ফেলে।

এই দলটির প্রতিষ্ঠাতা মওদুদী যুক্ত নির্বাচন? পুস্তিকায় লেখেন, ...একথা যেন আমরা ভুলিয়া না যাই যে পাক ভারত উপমহাদেশ নিছক ধর্মীয় ভিক্তিতে বিভক্ত হইয়াছিল, এবং এই বিভাগ-ভিত্তির দরুণই উপমহাদেশের এমন দুইটি ভুখন্ডের সমন্বয়ে পাকিস্তান গঠিত হইয়াছে, যাহার মধ্যে দীর্ঘ এক সহস্র মাইলের ব্যবধান রহিয়াছে। এই দুইটি ভুখন্ডের মধ্যে ঐক্যের ভিত্তি আঞ্চলিকতা নয়, বংশ নয়, ভাষা নয়, জীবন যাত্রা পদ্ধতির সামঞ্জস্য ন। কেবল একটি মাত্র জিনিষই এ দুইটি বিভিন্ন ভুখন্ডকে যুক্ত করিয়া রাখিয়াছে, তাহা হইতেছে দুই ভুখন্ডের অধিকাংশ অধিবাসীদের ধর্মীয় ঐক্য।...
এই ধর্মীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি যে কী আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন সে তো আমরা সবাই জানি।

মওদুদীর কিছু পুস্তিকার নাম, ১. ইসলামের হাকীকত, ২. ইসলামের জীবন পদ্ধতি, ৩. মুসলমানদের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের কার্যসূচী, ৪. ইসলামী বিপ্লবের পথ, ৫. ইসলামী শাসনতন্ত্রের মূলনীতি, ৬. ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রণয়ন, ৭. ইসলামী আদর্শে নির্বাচন, ৮. ইসলামী আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি, ৯, জিহাদের হাকীকত, ১০. আল্লাহর পথে জিহাদ, ১১. একমাত্র ইসলামী শাসনতন্ত্র কেন চাই ইত্যাদি
এই দলের গুরু-চ্যালারা ইসলামের প্রতি কেমন নিবেদিত প্রাণ এর অজস্র নমুনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছেন এরা। এই সুরে সুর মিলিয়ে, মুসলমানদের প্রতি এদের আবেগ আকাশ-পাতাল ছাড়িয়ে যাবে এতে তো সন্দেহ থাকার কথা না।
মোদি নামের দানবটার কেবল হাত নয় সমস্ত শরীর যে মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত এটা তো জামাতে ইসলামী নামের দলটার অজানা থাকার কথা নয়। মোদি কর্তৃক হাজারের উপর মানুষেকে খুন করার অভিযোগ আছে যাদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলমান। মোদি নামের সেই মানুষটাকে যখন জামাত ঝড়ের গতিতে অভিনন্দন জানায় তখন শব্দের অপচয় না-করে কেবল এটাই বলা চলে, ঘোর কলিকাল, ছাগল চাটে বাঘের গাল
...
এ সত্য, মোদি গুজরাটের ভোল পাল্টে দিয়েছেন। ভারতের লোকজনেরা যদি এমনটা ভেবে থাকেন যে ইনি গোটা ভারতের ভোল পাল্টে দেবেন তাহলে তাদেরকে কঠিন দোষ দেওয়া চলে না।

এর উপর ছিল দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতাশীন দলের একটা পরিবর্তন আসা।

মোদি দাদুর একটা জরুরি বিষয় এই লেখায় লিখতে ভুলে গেছি! ইনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, আপনারা এটা লিখে রাখতে পারেন ১৬ মের পর অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীরা স্যুটকেস গুছয়ে তৈরি হয়ে থাকলেই ভাল করবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে দেরি না করে সব দেশান্তরী বাংলাদেশিকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। কোনও ছাড় দেওয়া হবে না...
ক্ষমতায় আসার পূর্বেই এমন বক্তব্যের পর মোদি কয়টা পাশ দিয়েছেন, না চা বিক্রি করতেন নাকি আনপড়-গামাড় সেসব জানার খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না।

সব মিলিয়ে এটা আমার নিজস্ব মত, মোদি কেবল ভারতের না এই গোটা গ্রহের অধিপতি হলেও আমি বলব, রাজনীতির বইয়ে নিয়ম করে চুমু খান বটে কিন্তু এই বইয়ের একটা অক্ষরও পড়ে দেখেননি! আদৌ এই ক্ষমতাটাই নাই...।

*মওদুদী ১: 


মওদুদী ২:

https://www.facebook.com/723002334/posts/10151311129192335 

Wednesday, April 16, 2014

ডক্টর অভ ছি-ছি!



আমাদের দেশটা বিচিত্র তারচেয়েও বিচিত্র এ দেশের লোকজন। একজন অন্য জনকে নীচু দেখাতে গিয়ে নিজেরা হাসিমুখে পাতালে নেমে যান। প্রচলিত একটা কথা আছে, কাউকে এক হাত নীচে নামাতে হলে নিজে দু-হাত নীচে নামতে হয়।

অনেকে অনেক কিছুই বলেন ওসব গুরুত্বের সঙ্গে দেখার অবকাশ নাই কিন্তু একজন ডক্টর যখন কোনও বক্তব্য দেন তখন সেটা উদাসীন দৃষ্টিতে দেখার কোনও সুযোগ নাই। কারণ ডক্টর ডিগ্রিটা এখনও পদ্মার ইলিশের মত সহজলভ্য হয়নি যে গুচ্ছের টাকা দিলেই ঝপ করে নোংরা বাজারের ব্যাগে চলে আসবে।

খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জন্মপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদতিনি বলেন, কোকো আসলে জিয়াউর রহমানের বৈধ সন্তান কি না- এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে (দৈনিক আমাদের সময়, ১৪ এপ্রিল ২০১৪) [১]

যতটুকু জানি, ডক্টর সাহেবরা মৌলিক ভাবনা নিয়ে কাজ করেন। কোেনও ডক্টর অন্যের ভাবনা নিজের বলে চালিয়ে দিলে রিসার্চ পেপারটা, যে অধ্যাপকের অধীনে কাজ করছেন তার কাজে লাগবে বাচ্চার ইয়ে পরিষ্কার করার জন্য এতে কোনও সন্দেহ নেই। 

ড. হাছান মাহমুদ কোথায় এই প্রশ্ন উত্থাপন করলেন? ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে। কেন এই প্রশ্ন উত্থাপন করলেন? 'হুদাহুদি'। সব যদি একপাশে সরিয়ে রাখি তারপরও এমন একজন দায়িত্বশীল মানুষ, ড. হাছান মাহমুদ যখন এমনটা বলেন তখন তিনি কী একবারও ভাবেন না যে এমনটা বলা প্রকারান্তরে এ দেশের সমস্ত বীরাঙ্গনাদেরকে অপমান করা?
হায়, কে বলে নগ্ন গাত্র অশ্লীল? এমন করে বলাটা যদি অশ্লীল না হয় তবে অশ্লীল বলে আদৌ কিছু নেই...।

Saturday, April 5, 2014

সবজান্তা এবং এক কাপ চায়ে দু’কাপ চিনি!


উপজেলা নির্বাচন নিয়ে এই লেখাটা লেখার সময় আমি বলেছিলাম ‘...সত্যটা সময়ের জন্য তোলা থাকুক...’ [১]। এখন এখানে ছবিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি উপজেলা নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে আওয়ামীলীগের লোকজনেরা জাল ভোট দিচ্ছে। এটা নিয়ে প্রতিবাদের কারণে বিজিবি নির্বিচারে গুলি চালায়। যদিও বিজিবি মামলার কাগজে বলেছে এখানে গোলাগুলি হওয়ার এরা নিরুপায় হয়ে গুলি চালিয়েছে। কিন্তু আমরা জানি এখানে বিজিবি ব্যতীত অন্য কেউ গুলি করেনি!
আমি পূর্বের লেখায় বলেছিলাম, বিজিবি কি ফাঁকা গুলি ছুড়েছিল, পায়ে গুলি করার চেষ্টা করেছিল? উত্তর হচ্ছে, না! পরের যে ছবিটা এটায় স্পষ্ট হয় এরা গুলি করেছিল সরাসরি। এবং যেখানে গুলির দাগ এখানে ক্ষণিক পূর্বে এই বাড়ির দুইটা শিশু খেলা করছিল। ঘটনার সময় সেখানে বিজিবির গুলিতে একজন মারা গিয়েছিলেন (এই মৃত মানুষটার নামে মামলাও দেওয়া হয়েছে!)।
এই দুই শিশু মারা গেলে সংখ্যাটা হতো তিন। সংখ্যায় কী আসে যায়? আমাদের দেশে সবচেয়ে শস্তা হচ্ছে মানুষের প্রাণ- কেজি দরে পাওয়া যায়! যাহা এক তাহাই তিন..,।
আজকাল কোনো দলকে নিয়ে লিখলে লোকজনেরা দুম করে পিঠে অশ্লীল ছাপ মেরে দেন। এরও পূর্বে সংসদ সদস্য নির্বাচন নিয়ে আরেকটা লেখাটা দেওয়ার পর [২] অতি বিজ্ঞ একজন সবজান্তা বন্ধুর উত্তর আমাকে ‘মুঘধ করেছিল। আমার লেখাটার মন্তব্যে লিখেছিলেন, “বাঁশের কেল্লা'র ষ্ট্যাটাস পড়লাম বলে মনে হচ্ছে!”
চ্যাংড়া কিছু পোলাপান বুঝে, না-বুঝে মন্তব্য করে এতে আমি বিশেষ গা করি না। কিন্তু যতটুকু জানি এই মানুষটা আমার লেখার সঙ্গে পরিচিত। আমার লেখার ধাঁচ-ভঙ্গি তার জানার কথা। তারপরও তিনি আমাকে জামাতে ইসলামির মুখপাত্র বাঁশের কেল্লা সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন- প্রকারান্তরে শুইয়ে দেওয়ার চেষ্টা আর কী। বিষয়টা এখানেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি আমার উত্তরের প্রতিউত্তরে যেটা লিখেছিলেন সেটা গোটা বিষয়টাকে আরও ঘোলাটে করে দিল। ওয়াল্লা, তিনি নাকি আমার বই-টইও পড়েন। পরের মন্তব্যে লিখেছিলেন, “...ছাপার অক্ষরে আপনার বেশ কিছু বই আছে বাজারে এবং আমি/ আমরা আপনার বইয়ের ক্রেতা”।
বাহ, তাহলে তো আমার, আমার লেখা সম্বন্ধে তার অতি উত্তম জানার কথা। আর কেউ কারও বই পড়লেই কী যে-কোনো, যা ইচ্ছা মন্তব্য করার যোগ্যতা অর্জন করেন! ভাল তো...!
এই হয়েছে এক জ্বালা- এরা সবাইকে নিজেদের মত মনে করেন। আশা করেন সবাই এদের মত হয়ে যাবে- এদের চোখ দিয়ে সব কিছু দেখবে, এদের মত করে ভাববে। অনেকটা একজন মাতালের মত যেন সে স্থির আর গোটা বিশ্ব নড়ছে।
সে নাহয় বুঝলুম কিন্তু আমি যে জামাতে ইসলামি-বাঁশের কেল্লার প্রতি অনুরক্ত, ওদের পেইড ব্লগার এটা তো আমার জানা নেই অথচ দেখো কান্ড তিনি জানেন! তিনি জানলেন কেমন করে? এটা তো একজন সবজান্তার জলজ্যান্ত নমুনা বটে! এমন লোকজন আমার এফবি ‘বনডু’ এটা জেনে আমার গা কাঁপে। খোদা, এ তো আমার ভাঙ্গা (এফবিতে আমার অতি সাধারণ প্রোফাইলের) ঘরে চাঁদের আলো! এমন মানুষের জন্য আমি অতি তমিজের সঙ্গে চিঁ চিঁ করে বলি, আমার ‘বনডু’ হওয়ায় আপনার এই বদান্যতা শোধ করি কেমন করে!
অবশ্য এই ধরনের সবজান্তা মানুষের জন্য জ্ঞানী মানুষদের ভারী-ভারী কথা আছে। বেচারা, সে রাস্তায় না-হেঁটে আমি আমার নিজস্ব ভঙ্গিতে বলি, ‘এক কাপ চায়ে দু’কাপ চিনি’!
১. https://www.facebook.com/723002334/posts/10152011791682335
২. https://www.facebook.com/723002334/posts/10151863854097335

*ঋণ...প্রথম ছবি: মহিউদ্দিন মিশু

Sunday, August 18, 2013

বুড়ো খোকা এবং খোকা!

আমার পরিচিত লোকজনেরা এটা বিলক্ষণ জানেন, ভুলে যাওয়ার জন্য আমার কুখ্যাতির কথা। এই নিয়ে এরা বিস্তর হাসাহাসি করেন। এই সব রসিকতা সহ্য না-করে উপায় নেই আমার কারণ কপালের ফের, এটা আমার হাতে নাই! উপর থেকে আমাকে পাঠাবার সময় কিছু একটা ভজকট হয়েছিল কোথাও!

কিন্তু এও সত্য, এই নিয়ে আমার মনখারাপ-করা শ্বাসে বাতাস ভারী হয়। কিন্তু এই বেদনা অনেকখানি লাঘব হয় যখন দেখি আমি যে একা নই।
ওয়াল্লা, বেগম খালেদা জিয়া দেখি আরও ভুলোমনা! অনেকটা কাল তিনি তার জন্মতারিখ বেমালুম ভুলে বসে ছিলেন। স্কুলবেলায় মনে হলো এটা, বিবাহবেলায় মনে হলো ওটা- আবার ভোটার আইডির সময় মনে হলো, দূর ছাই, এটা-ওটা না, সেটা!

কিন্তু অবশেষে, একদা..., হঠাৎ একদিন মনে হলো, ১৫ আগস্ট তার জন্মদিন! এরপর থেকে ভুলে যাওয়ার মাশুলের কারণে কিনা কে জানে ঘটা করে ইয়া বড়-বড় কেক কাটা শুরু করলেন! কালে-কালে এই কেক ৬৯ পাউন্ডে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা কোথায় গিয়ে ঠেকে কে জানে! এখন ছুঁরি দিয়ে কাটা যাচ্ছে পরে তরবারির প্রয়োজন হবে কিনা এটাও আগাম বলা মুশকিল! এর জন্য হয়তো কোনো অতি বলশালী লোকের প্রয়োজন হবে যিনি কিনা ইয়ালি বলে এক কোপে কেকটা দু-টুকরা করে ফেলবেন...।

তো, খালেদা জিয়াকে ভুলে যাওয়ার জন্য দোষ দিয়ে আর কী হবে, কপালের ফের! ভুলে যাওয়ার জন্য দোষ দেয়া যেতে পারে না।
কিন্তু এখন এই ৬৯ পাউন্ডের কেক কাটার জন্য আমাদের এই সব বুড়ো-খোকাদের কর্মকান্ড দেখলে বেচারাদের জন্য বুকের ভেতর থেকে অদেখা কষ্ট পাক খেয়ে উঠে, আহারে, দলবাজি করার জন্য কত কিছুই না করতে হয়। প্রয়োজনে ভাঁড়ের মত আচরণও করতে হয়। এই দলে কে আছে এটা না-বলে বলা প্রয়োজন কে নেই? 'বারিস্টার' সাহেব, দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে কে আর বাদ আছে!
এটা বাস্তবে হচ্ছে কিন্তু আমার তো মনে হয়, বাংলা ছবিতেও এমন দৃশ্য সংযোজন করার পূর্বে দেলোয়ার জাহান ঝন্টুও তিন বার ভাববে।

এই বুড়ো-খোকাদের দেখে-দেখে খোকারাও শেখে। খোকারা কেক কাটতে গিয়ে নিজেরাই নিজেদের মধ্যে খানিক খুনসুটি করে। খোকাদের এই খুনসুটির নমুনা দেখে অবশ্য অনেকে ভারী রাগ করেছেন। আহা, কেন? খোকারা যে এই সব বুড়ো-খোকাদের যোগ্য শিষ্য...।

*২য় এবং ৩য় ছবিটি নেয়া হয়েছে: http://www.somewhereinblog.net/blog/celtic/28878485 থেকে।

Wednesday, August 14, 2013

তোয়ালে এবং হলুদ ফুল!

সিকি-আধুলি বা পুরা মন্ত্রী, আমলা-গামলা, পরফেসার(!), ম্যানেজার, যে স্যারই বলুন না কেন, অনেক স্যারই আছেন যিনি এই জিনিস অফিসের চেয়ারে রাখেন,  রাখেনই! যত বড় স্যার ততই চকচকে তার ওই নিত্য উপকরণটা। এটা ব্যতীত অফিসটা যেন কেমন বেমানান-বেমানান মনে হয়। জিনিসটা কি? আহা...।
ভলবিং(!) হোক বা রিভলবিং চেয়ারই হোক, এটায় নতুন-চকচকে বা তেল চিটচিটে একখানা তোয়ালে থাকবে, থাকবেই। চেয়ারখানা লেদারে মোড়া, না মখমলে, তাতে কী আসে যায়!

এর শানে নজুল কী? কেউ আমাকে অদ্যাবধি বোঝাতে পারেননি! চিঁ চিঁ করে কেউ-কেউ বোঝাবার চেষ্টা করেছেন যে চেয়ারটা ময়লা হয়ে যায়।
বেশ!
কিন্তু রেক্সিন-লেদারের চেয়ার ময়লা হয় কেমন করে! আগের যুগ তো এখন আর নাই যে স্যাররা মাথা চবচবে তেলে চুবিয়ে, তেল এবং মাথা দুই-ই নিয়ে অফিসে আসেন। এখন তো স্যাররা মাথায় একগাদা জেল মাখেন আর বাংরেজির খই ফোটান। এও আফসোস, তোয়ালে-স্যাররা বাংলাটাই শুদ্ধ করে বলতে পারেন না! বড়ই আফসোস- মায়ের ভাষা, আ মরি বাংলা ভাষা!

এই ছবিটার কথাই বলি। এটা একটা ঝাঁ-চকচকে অফিসের, এনসিসি ব্যাংক। সেন্ট্রাল এসি- স্ট্যান্ডবাই জেনারেটরও আছে। তর্কের খাতিরে ধরে নিলেও, স্যাররা যে দরদর করে ঘেমে মুখ-ঘাড় মুছবেন সে উপায়ও নাই। অবশ্য এদের ওয়শরুমেও দেখেছি চমৎকার একটা তোয়ালে ঝুলছে। তাহলে এই জিনিস অফিসের চেয়ারে কেন?

এটা আমার মোটেও বোধগম্য হয় না এই তোয়ালে অফিসের চেয়ারে জাঁক করে সাজিয়ে রাখা কেন, বাপু? এই জিনিস তো থাকবে পায়খানা, টাট্টিখানা, লেট্রিন, হালের বাথরুম, ওয়াশ-রুম বা রেস্টরুমে। নাকি অফিসের নিয়ম-কানুন সব বদলে যাচ্ছে? এখন-কী বদনাও অফিসের টেবিলে রেখে তাতে রজনিগন্ধা এনে সাজিয়ে রাখা হবে, ফ্লাওয়ার-ভাসের বিকল্প হিসাবে!

ভয়ে-ভয়ে আছি, কোনোদিন না দেখব স্যাররা টাট্টিখানার কমোড থেকে খাবলা-খাবলা হলুদ ফুল এনে গামলায় করে অফিসের টেবিলে সাজিয়ে রাখছেন। এবং ভারী অমায়িক, হাসিভরা মুখে ঝড়ের গতিতে অফিসের কাজ করে যাচ্ছেন। কে জানে, তখন কাজের গতি হয়তো বেড়েও যেতে পারে!

Thursday, June 27, 2013

গালি এবং...!

অনেকে আমার কাছে বিভিন্ন সময়ে জানতে চেয়েছেন পরে আমি আর কম্যুনিটি ব্লগগুলোতে লিখিনি কেন? আসলে কয়েকটাই কারণ ছিল, আমি কারও নিয়ন্ত্রণে থাকতে পছন্দ করতাম না। কেউ আমার মাথার উপর বনবন করে ছড়ি চালাবে এটাও আমার পছন্দ ছিল না।
দ্বিতীয়টা দলবাজি। এই জিনিসটা আমার দু-চোখের বিষ! কেন রে বাপ, রাজনীতি করলে করো না, মানা করছে কে! কিন্ত রাজনীতি করতে গিয়ে কেবল রাজনীতিই বোঝো, মানুষ বোঝো না? কালে কালে এরা অবলীলায় বন্ধুর পিঠে ছুঁরি মারতে পারে, দলের জন্য। হাসতে হাসতে চাপাতি দিয়ে ফালা ফালা করে ফেলতে পারে!
তো, দলছুট আমার জন্য বড়ো মুশকিল হয়ে যেত...।

আরেকটা বিষয়ে অনেকের সঙ্গে আমার মতের মিল ছিল না সেটা হচ্ছে, গালি দেওয়ার অধিকার! কেউ-কেউ তো গালির অভিধানও চালু করে দিয়েছিলেন!
অনেকে কেবল যে একে অন্যকে গালি দিতেন এমনই না, বাপ-মা তুলেও অবলীলায় গালাগালি করতেন। এই বিষয়ে আমার সাফ কথা, কেউ সামনাসামনি আমার মাকে নিয়ে কুৎসিত কথা বললে সে স্রেফ খুন হয়ে যাবে। আর শক্তিতে না-কুলালে আমি নিজে খুন হয়ে যাব। যদিও আমার মা এখন আর বেঁচে নেই কিন্তু তারপরও মৃত এই মহিলার জন্য আমি হিংস্র পশুর ন্যায় লড়ব। এখানে যুক্তির আমি গুষ্টি কিলাই। জঙ্গলে চলে কেবল জঙ্গলের আইন, এখানে নাই আইন, নাই ফাইন!

আফসোস, আমি যেটা এখনও বোঝাতে পারলাম না, প্রত্যেকটা জায়গার নিজস্ব একটা ভাষা আছে। স্যুট না-খুলে যেমন বাথরুমের কাজ সারা যায় না তেমনি জন্মদিনের পোশাকেও বাইরে ঘুরে বেড়ানো চলে না।
এ গ্রহের অনেক দেশে অবশ্য দিগম্বর থাকার অধিকার নিয়েও দিব্যি বাতচিত-কর্মকান্ড চলে। সেটা তাদের অভিরুচি কিন্তু আমার যেটা মনে হয়, গায়ে সুতাটাও না-থাকলে এ গ্রহের সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটির সঙ্গে জরিনার আদৌ পার্থক্য কী!
বিশেষ মুহূর্তের ব্যাপারটা একপাশে সরিয়ে রাখলে, মানুষ বিশেষ বাড়তি যে অংশটা বহন করে ওটা উম্মুক্ত থাকলে এটায় কাকও ঠোকর দেবে কিনা এ নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ আছে!
প্রকৃতি আলো-ছায়ার কাজ রেখেছে বলেই দিন-রাতের ব্যাপারটা আছে নইলে সবই ফকফকা হতো- রহস্য বলে আর কিছুই থাকত না।

যাই হোক, যেটা বলছিলাম, 'ধুম মাচাদে' গানটা গাওয়া দোষের না কিন্তু কেউ পাবলিক প্লেসে টেবিলে উঠে ধুম মাচাদে শুরু করলে তো বড়ো মুশকিল! এখন কেউ যদি মনে করেন পাবলিক প্লেসে তিনি সেটাই করবেন, যেটা নিজের বাড়িতে করেন না। সেই অসুস্থ মানুষটার জন্য করুণা করতেও আমার করুণা হয় এটা বলা ব্যতীত আর কীই-বা বলার থাকে!

এখন আবার নতুন একটা চল শুরু হয়েছে সাংসদ হলে সংসদ ভবনে গালাগালির বন্যা বইয়ে দেওয়া যাবে। তখন আবার অন্য সাংসদরা টেবিল চাপড়ে উৎসাহও দেবেন। সেটা আবার মিডিয়ায় ঘটা করে আমাদেরকে গেলানোও হবে। এখন বুঝতে পারি, কেন সংসদ ভবনের পূর্বে পবিত্র শব্দটা যুক্ত করার প্রয়োজন দেখা দেয়।

গালি মানুষ কখন দেয়? অধিকাংশেরই বেলায়, যখন রাগ হয়, চরম রাগ, তখন। এখন কথা হচ্ছে আমার কি রাগ হয় না, গালি দিতে ইচ্ছা করে না? হয়, করে তো!
আমিও গেরাম-টাওনের পোলা, সাংসদ বইলা...।

Wednesday, November 28, 2012

গুণবান গুণ এবং হারপিক প্রসংঙ্গ!

জীবনানন্দ দাশের 'কবি' নামের কবিতায় আমরা জবুথবু এক কবিকে দেখি। শতকষ্টেও যিনি আমাদেরকে ভরসা দেন: 
"কবিকে দেখে এলাম
দেখে এলাম কবিকে
...
মরুশ্বেত দুটো চুনোমাছ চোখের বদলে কাজ করছে যেন
মরণোম্মুখ ট্যাংরা
পৃথিবীর থেকে আনন্দ সংগ্রহ করছে
সবাইকে ভরসার কথা শোনাচ্ছে।"
আজকালের কবিকূল আমাদেরকে ভরসা দেয়ার জন্য অনেকখানি এগিয়ে আসেন, পাঠকের কাছাকাছি থাকার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করেন। না-না, কেউ উল্টাপুরাণ বুঝবেন না। এও এক আনন্দ সংবাদ, কবিকে হাত বাড়ালেই ছোঁয়ার, নাগালে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। আমাদের দেশের প্রধান কবিদের একজন নির্মলেন্দু গুণ। সেই কবে তিনি লিখেছিলেন,
WhatsApp