Wednesday, February 25, 2015

নৈতিক-অনৈতিক এবং আমার ব্যাখ্যা।

এই লেখাটার প্রেক্ষিতে [১] কেউ-কেউ ভিন্ন মত পোষণ করেছেন কেউ আবার আমাকে মাহমুদুর রহমান মান্নার সাগরেদ বানিয়ে দিয়েছেন! বাপুরে, চোর-ডাকাতের সাগরেদ বানিয়ে দিন বুকে কষ্ট চেপে তবুও নাহয় মেনে নেব কিন্তু রাজনীতিবিদদের সাগরেদ হতে যাব কোন দুঃখে! এদের সাগরেদ হওয়ার দুঃস্বপ্নে চোখ বন্ধ করে ফেলি, ভয়ে।

আমি ওই লেখায় বলেছিলাম, “...রাষ্ট্র কখনও-কখনও কিছু কর্মকান্ড করে যেটা বাথরুম সমতুল্য যেটা প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হওয়া অসভ্যতা-অশ্লীলতার পর্যায়ে পড়ে।
আরেকটু খোলাসা করে বললে রাষ্ট্র এটা করে তার নাগরিককে রক্ষা করার নামে। রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি প্রতিষ্ঠান পুলিশ যখন কাউকে ধরে নিয়ে যায় তখন জিজ্ঞাসাবাদের সময় কেবল হালুয়া-পুরিই খাওয়ায় না এমন কিছু কায়দা-কানুন করে যেটা অনৈতিক। এখন এই কায়দা-কানুনগুলো যদি কোনও মিডিয়া ইতিবাচকভঙ্গিতে আমাদেরকে জানায় সেটা আমাদের জন্য অবশ্যই সুখের না। এটা তো মিডিয়ার কাজ না। মিডিয়া তো রাষ্ট্রের অন্ধকার দিকগুলো আলোকিত ভঙ্গিতে উম্মোচনের মুখপাত্র না।

রাষ্ট্র মান্নাকে বিপদজনক মনে করলে তাকে নজরদারিতে রাখবে কি রাখবে না বা কতটুকু সীমা লঙ্ঘন করবে সে ভিন্ন তর্কের বিষয়। ধরে নিলাম তাকে নজরদারিতে রাখা হলো, তার সমস্ত আচার-আচরণ তীক্ষ দৃষ্টিতে লক্ষ রাখা হচ্ছে। বেশ তো, প্রমাণাদিসহ রাষ্ট্র তাকে আটক করুক না। প্রয়োজনে আদালতে একটা কেন দশটা কথোপকথনের প্রমাণ দাখিল করুক, তাতে সমস্যা তো নেই।

যেটা আমি পুর্বের লেখায় লিখেছিলাম, “...তখন মনে হচ্ছিল এরা দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানেরই যোগ্য চ্যালা।
আমার দেশের সম্পাদক কি করেছিলেন? তিনি বিচারপতির স্কাইপ সংলাপ বা থাবাবাবার নামে বিভিন্ন লেখা হুবহু তার পত্রিকায় ছেপে দিচ্ছিলেন, দাঁড়ি-কমাসহ। যেটা তিনি করতে পারেন না বলেই মনে করছিলাম। কিন্তু তিনি ওই অনৈতিক কাজটাই করেছিলেন।

মিডিয়া একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এরা ইচ্ছা করলেই যা খুশি তা করতে পারে না- যথেষ্ঠ ক্ষমতা ভোগ করার পাশাপাশি সীমাবদ্ধতাও আছে। আমি একজনকে ‘চু...ভাই’ বললাম আর মিডিয়া লিখে দিল তিনি ‘...ভাই’ বলেছেন এমনটা হয় না, অসমীচীন। তাই বলে কি মিডিয়া লিখবে না, লিখবে কিন্তু খানিকটা ঘুরিয়ে ‘অশ্রাব্য ভাষা’, ‘লেখার অযোগ্য ভাষা’ ব্যবহার করেছেন। পাঠক এতেই যা বোঝার বুঝে যাবে।
আর মিডিয়া যখন যেটা খুশি সেটা করলেই আমাকে মেনে নিতে হবে কেন? অন্য একটা উদাহরণ দেই। এখন পাবলিক প্লেসে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা যত্রতত্র লাগানো হয় কিন্তু কয়টা জায়গায় এটা চোখে পড়ে যে প্রকাশ্যে এটা লিখে রাখা হয়েছে, ‘ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত’ অথচ এইটাই নিয়ম। কিন্তু তেমন কেউ নিয়মটা মানছে না বলে কি এটা নৈতিক হয়ে যাবে!

রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকান্ডের জন্য মান্নাকে গ্রেফতার করা হবে এতে কোনও সমস্যা নেই কিন্তু তাকে যে প্রকারে গ্রেফতার করা হয়েছে তা নৈতিকতার বালাই নেই বলেই প্রতীয়মান হয়। রাতে কাউকে আটক করার বিষয়ে আইনের ব্যাখ্যা কি এটা আইনজ্ঞ ভাল বলতে পারবেন। অন্য বিষয় বলি। ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল , ‘ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ’ মামলায় বিচারপতি মো. হামিদুল হক ও বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ একটি রায় দিয়েছিলেন। রায়ে এও বলা হয়েছিল, হাইকোর্টের এ নির্দেশনা আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। সেই রায়ে বলা হয়েছিল:
১. আটকাদেশ দেয়ার উদ্দেশ্যে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না।
২. কাউকে গ্রেফতারের সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে।
৩. অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির আত্মীয় বা কাছের কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের বিষয়টি অবহিত করতে হবে।

মান্নার গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কি এই নিয়মগুলো পালন করা হয়েছিল? সাদা পোশাকের লোকজনেরা কি তাদের পরিচয়পত্র দেখিয়েছিলেন? অবিলম্বে কি মান্নার আত্মীয়-স্বজনকে অবহিত করা হয়েছিল?
অবিলম্বে মানে কি ২১ ঘন্টা? আমরা জানি ২১ ঘন্টা পূর্বে এই দেশের কোন সংস্থাই এটা জানাতে পারেনি মান্নাকে কারা উঠিয়ে নিয়ে গেছে? কারও পরিবারের জন্য এ এক অবর্ণনীয়, ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতা। আজ মান্নার বেলায় এটা হয়েছে বলে এতে উল্লসিত হওয়ার কোনও কারণ নাই।

আমার স্পষ্ট কথা, অপরাধ করে কোনও অপরাধি পার পেয়ে যাবে এটা আমার বক্তব্য না। মান্না নিরাসক্ত ভঙ্গিতে যে প্রকারে বিশ্ববিদ্যালয় অশান্ত করা এবং এই অশান্ত করতে গিয়ে খুন-খারাপির কথা বলেছেন সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ কিনা এর এখতিয়ার আদালতের কিন্তু আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্য এটা গভীর উদ্বেগের, ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে শ্বাস আটকে যাওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। 
এবং এমনটায় রাষ্ট্র তাকে আটকাবার প্রয়োজন বোধ করলে আটকে রাখবে এতে অন্তত আমার কোনও কাতরতা নেই কিন্তু স্বচ্ছতা থাকুক এবং যার যার দায়িত্ব সেই পালন করুক সেটাই সবার জন্য মঙ্গল।

সহায়ক সূত্র:
১. নৈতিকতার বাবা মৃত, মা মৃতপ্রায়: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_24.html

No comments: