Search

Loading...

Tuesday, November 16, 2010

অসভ্যতা

আমি পূর্বের লেখায় লিখেছিলাম দাবা খেলার কথা [১]। এখানে আমাদের কোন ভূমিকা নাই- যেমন নাই আমাদের জন্ম, ধর্মে। আর এর সঙ্গে এই অভাগা দেশে যোগ হয় আমাদের স্বাধীনতা। হরতাল গণতন্ত্রের ঢাল, না ছাল এটা আমার জানার প্রয়োজন নাই; হরতালের নামে একজন স্বাধীন মানুষকে পরাধীন করার নিয়ম আমি মানি না। এর জন্য গণতন্ত্র জাহান্নামে গেল নাকি নরকে এই নিয়েও আমার কোন বিকার নাই।

তার উপর হরতাল ঠিক ঈদের আগে! এর চেয়ে বড়ো অসভ্যতা এই গ্রহে আর ক-টা হয়েছে এ অনেক ভেবে বের করতে হবে।

এটা স্রেফ অসভ্যতাই না, চরম নিষ্ঠুরতা। অমানবিকতা! কেউ যদি দোয়া-অভিশাপে বিশ্বাস করে তাহলে ঘর ফেরা লক্ষ-লক্ষ মানুষকে যে নিদারুণ কষ্ট দেয়া হয়েছে, এদের সমস্ত অভিশাপ জড়ো হয়ে, এর জন্য দায়ীদের তাড়া করুক, নরক অবধি।
আমাদের দেশের সুশীল কলমবাজ মহোদয়গণের ইয়ে এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না কারণ এরা গণতন্ত্রের লাউ গাছের বিচি লাগাতে ব্যস্ত।  এই দেশের সুশীলরা প্রকারান্তরে অ-মরদরা অনেক আঁক কষে বের করেছেন, হরতাল না হলে নাকি গণতন্ত্রের শিশুটির শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। সঠিক হিসাবটা আমার কাছে এখন নাই, বিএনপি যখন ক্ষমতায় তখন আওয়ামী লীগ সম্ভবত ১৭৩ দিন হরতাল দিয়েছিল কিন্তু ১৭৩ সেকেন্ড আগেও বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে হটাতে পারেনি। এই হচ্ছে ন-মু-না!

পূর্বে আওয়ামী লীগ দলের পক্ষ থেকে জলিল সাহেব হরতাল ঘোষণা করতেন, এখন দেলোয়ার সাহেব। আওয়ামী লীগের তো গভীর রাতেও হরতাল ঘোষণা করার নজির আছে। সেবার গভীর রাতে হরতাল ঘোষণা করার কারণে অনেকে জানতেনও না যে ওদিন হরতাল, অনেক বাচ্চা সকালে স্কুলেও চলে গিয়েছিল। তখন আর এখনকার মত জনে জনে মোবাইল ফোন ছিল না। সেই বাবা-মাদের উৎকন্ঠা জলিল সাহেবদের স্পর্শ করত না। কারণ এরা অমর হয়ে এই গ্রহে এসেছেন!
হরতাল ডেকে শেখ হাসিনা বিদেশও চলে গেছেন। এমন কত উদাহরণ...।

তখন জলিল সাহেবকে আমার ঈশ্বর-ঈশ্বর মনে হতো- মর্তধামের ঈশ্বর। 'হও' বললেই হয়ে যায়! বাহ, এই মানুষটার মুখের কথায় এই দেশের সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়! মর্তধামের ঈশ্বরের এতো ক্ষমতা, না-জানি আকাশলোকের ঈশ্বরের কত ক্ষমতা!
হরতাল চলাকালে একজন বাবা ফোনে হাসপাতালে ছটফট করতে থাকা তার সন্তানের আর্ত চিৎকার শুনবেন কিন্তু তার মাথায় হাত রাখার জন্য যেতে পারবেন না কারণ জলিল সাহেবদের মত মর্তধামের ঈশ্বরের এতে মত নাই। তখন ইচ্ছা করলেই গাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেয়া যায়, চড়চড় করে যখন একজন চামড়া পুড়তে থাকত সেই শব্দ কি জলিল সাহেবদের আমোদিত করত?
এখন জলিল সাহেবের জায়গায় এসেছেন মর্তধামের নতুন ঈশ্বর, দেলোয়ার সাহেব। আহ, কী একজন নেতা! সংসদ ভবনের ক্যাফেটেরিয়ারে আলকাতরা পাওয়া গেলে ঘটিতে করে তিনি এটাও নিয়ে যেতেন [২] এতে সন্দেহ নেই।

জাফর ইকবাল স্যারদের মতো মানুষরা ছাপার অক্ষরে কথা বলতে থাকুন, চোখে রঙিন চশমা লাগিয়ে, সাদা গোঁফ ঝুলিয়ে, প্রয়োজনে গলায় প্ল্যাকার্ড আটকে এই দাবী জানাতে থাকুন, "শিক্ষা বিভাগকে হরতালের আওতার বাইরে রাখা হোক"[৩]
আমি স্পষ্ট করে বলি, আইন করে হরতাল বন্ধ করে দেয়া হোক। যিনি হরতাল ঘোষণা করবেন সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করা হোক। নইলে দল বদলাবে, হরতাল বদলাবে না- ক্রমশ এই দানব আকাশ ছাড়িয়ে যাবে।
আমার ধারণা ছিল অসভ্যতা কেবল রাজনীতিবিদরাই করেন এখন দেখছি এই কাতারে মিছিলের মত দলে দলে লোকজনরা যোগ দিচ্ছেন!
আমাদের দেশের সেনাবাহিনী, মার্সেনারি-ভাড়াটে সৈন্য হিসাবে বিশ্বে সংখ্যায় প্রথম কাতারে 'ইউএন' শিল্ডের আড়ালে। এখন এঁরা দেখছি অরুচিকর কর্মকান্ডেও পিছিয়ে নেই। খালেদা জিয়াকে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার পর বাড়িটা সিলগালা করে দেয়া হয়েছিল। সিলগালা করার কিছু আনুষ্ঠানিকতা আছে তেমনি এটা খুলে দেয়া বিষয়েও। কোন কর্তৃপক্ষ কোন অধিকার বলে, কে সিলগালা করে দিলেন কে খুলে দিলেন এটা আমাদের জানা প্রয়োজন। খালেদা জিয়ার যে জিনিসপত্র ওখানে থেকে গিয়েছিল এটা যথাযথ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে ছিল।
এরা পরদিনই মিডিয়াকে ওখানে নিয়ে গেলেন কার নির্দেশে? যারা হেলমেট না-থাকার কারণে প্রকাশ্যে রাস্তায় স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কান ধরে উঠবস করান তারা কবে থেকে এমন সহৃদয় হয়ে গেলেন? কবে থেকে?
আমরা আমাদের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকায় এদেরকে একের-পর-এক ট্রেনিং দেয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি কি এটা শেখার জন্য, একজনের সিলগালা করে রাখা বাড়ি খুলে বেডরুম-বাথরুম দেখাবার জন্য মিডিয়াকে জড়ো করতে? ওয়ারড্রোবে রাখা অর্ন্তবাস কি কি রঙের অপদার্থ মিডিয়াকে এই ছবি তোলার সুযোগ করে দেয়ার জন্য?
তারচেয়ে বরং এটা জানালে তথ্যবহুল হতো্, এঁর পরিবহন পুলে যে গাড়িগুলো রাখা আছে, কেবল শুনে আসছি মূল্যবান গাড়ি কিন্তু কোনও চু ভাই এটা বলছে না এগুলোর দাম কত?  

'ফোকাস বাংলা' নামের এক অপদার্থ মিডিয়া ড্রয়ারের ভেতর কি কি ম্যাগাজিন আছে সেটারও চকচকে ছবি ছাপিয়েছে। বেশ-বেশ, বস্তুনির্ভর সাংবাদিকতা বলে কথা! তা, যারা ফোকাস বাংলা চালান এরা কি রঙের আন্ডারওয়্যার পরেন এটা জানার কৌতুহল হচ্ছে আমার। হতে পারে না এমন, এরা এমন এক চিত্র-বিচিত্র আন্ডারওয়্যার পরেন যেটায় এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে যত রঙ আবিষ্কার হয়েছে তার সবগুলো আছে? বা এমনও হতে পারে মাইকেল প্যান্টের উপর আন্ডারওয়্যার নামের যে জিনিসটা পরে রাখতেন ফোকাস বাংলার লোকজনরা ওরকম একটা জিনিস শার্টের উপর পরেন। কে মাথার দিব্যি দিয়েছে এমনটা হতে পারে না? বেশ পারে।

ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জ, ই, মামুন একজন সিনিয়র মানুষ। তিনিও কী অবলীলায়ই না বেডরুম-বাথরুম দেখালেন! ওয়েল, মামুন কেবল এটুকু করেই থেমে গেলেন কেন? তিনি ক্যামেরা কেন জুম করলেন না, বাথরুমের কমোডের ঢাকনা উঠিয়ে এটা কেন দেখালেন না যে কমোডের পানি কি রঙের? 'ফ্ল্যাশম্যাটিক' ব্যবহার করা হয়েছিল কিনা কমোডের পানিটাকে নীল রাখার জন্য? ফাঁকে ফ্ল্যাশম্যাটিকের বিজ্ঞাপনটাও হয়ে যেত।
ডিয়ার জ, ই, মামুন, এই দেশের অধিকাংশ মানুষ হাই-কমোড চেনে না অথচ এরাও কিন্তু আপনাদের অনুষ্ঠান দেখে। এখন হাই-কমোড জিনিসটা কি এটা জানানোও কিন্তু আপনাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ট্রায়াল হিসাবে আপনাদের চ্যানেল মালিককে এই হাই-কমোডে উবু করে বসিয়ে সাধারণ জনগণকে দেখালে মন্দ হতো না। এবং আপনি রাশভারী গলায় কিছু প্রশ্ন রাখতেন তিনি নির্বোধ চেহারাটাকে বোধসম্মত করে ফাঁকে কিছু তার সফলতার ইতিহাসও বলে ফেলতেন।
রুচিবাগীশ জ, ই, মামুন আপনি একজন সিনিয়র সাংবাদিক, আপনার কাছ থেকে আমরা আরও তথ্য নির্ভর সংবাদ আশা করি, কেন আপনি এই দৃশ্যটাও দেখালেন না এটা ভেবে পাচ্ছি না, এ অন্যায়!

দেশের চেয়ে দল বড়ো, দলের চেয়ে ব্যক্তি [৪], ব্যক্তির চেয়েও বাড়ি বড়ো, তারচেয়েও  বড়ো অরুচি...।

সহায়ক লিংক:
১. দাবা: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_15.html
২. খাদক: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_12.html 
৩. শিক্ষা বিভাগ হরতালের আওতার...: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_3914.html
৪. দেশের চেয়ে দল বড়ো...: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_09.html     

No comments: