Tuesday, November 9, 2010

দেশের চেয়ে দল বড়ো, দলের চেয়ে ব্যক্তি

কারা কারা যেন একবার খুব হইচই করছিলেন এটা নিয়ে, শিশু এবং পাগল ব্যতীত কেউ নিরেপেক্ষ হতে পারে না। কী জানি, পাগলদের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলার সুযোগ হয়নি এবং শিশুদের মধ্যেও এই বিষয়ে আলাপ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়নি!

আমি পূর্বের একটা লেখায় লিখেছিলাম, এই দেশে দলহীন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার! কেউ দল করবে কি করবে না এটা তার ব্যক্তিগত অভিরুচি, কেউ দল করতে পারবে না এমন আইনও দেশে চালু হয়নি। এই নিয়ে কারও অমত নাই, আমারও। দলবাজি [১] চলবে, এটা রোখার ক্ষমতা কারও নাই।
কাপড় একেকজন একেক কায়দায় পরে, কারও কারও পরার কায়দা আমাদের কাছে অশালীন মনে হয়। কিন্তু কখনও-কখনও যখন মানুষ কাপড় খুলে পুরোপুরি দিগম্বর হয়ে পড়ে তখন অশ্লীলতার পর্যায়ে চলে যায়।
আগেও লিখেছিলাম, বুড়া বুড়া রাজনৈতিক নেতারা যখন রাজনীতিবিদদের সন্তানদের নিয়ে কুতর্কে জড়িয়ে পড়েন তখন বিষয়টা আমার কাছে স্রেফ অশ্লীল [২] মনে হয়।
রাজনীতিবিদদেরকেও যখন অতি শিক্ষিত মানুষ ছাড়িয়ে যান, তখন গভীর বিষাদে বলতে হয়, আপনারাও!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন আবুল বাশার বলেন, "দেশের আকাশ-বাতাসসহ প্রতিটি কণা 'আমি তারেক জিয়া বলছি' ডাকটি শুনতে চায়।" (প্রথম আলো/ ০৪.০৯.১০)
কলা অনুষদের ডিন সদরুল আমিন বলেন, "আমরা চাই তারেক জিয়া আমাদের মাঝে ফিরে আসুন...।"
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন তাজমেরী এস এ ইসলাম বলেন, "...তারেক রহমান দেশের বাইরে বসে  আত্মসমালোচনা ও আত্মবিশ্লেষণ করছেন।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, "তারেক রহমান তারুণ্যের অহংকার। তাঁর দেহে দেশপ্রেম ও স্বাধীনচেতার রক্ত বইছে।...।"(প্রথম আলো/ ০৪.০৯.১০)

এঁরা হচ্ছেন সাদা দলের লোকজন। সাদা-কালো-হলুদ-পীত দল আমি আগে ভাল বুঝতাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও দল থাকতে হয়, এঁরা বিভিন্ন রঙের ছড়ি বনবন করে ঘোরান এরচেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে? তাহলে আমরা এই দৃশ্যগুলো দেখে আঁতকে উঠার ভান করি কেন? স্যাররা দল করার জন্য পারলে ... খুলে ফেলবেন আর তাঁদের সুযোগ্য ছাত্ররা চারতলা থেকে সহপাঠিকে ফেলে দেবে [৩] এতে কাতর হওয়ার, অবাক হওয়ার কী আছে!
আমাদের দেশে যখন লম্বা-লম্বা বাতচিত করার সুযোগ আসে তখন পরিচিত কিছু মুখ ঘুরেফিরে চলেই আসে। যেমন ধরা যাক, নতুন বছরে কিছু লোকজন বাণী-টাণী দেবেন। পত্রিকায় এদের কাছ থেকে যখন আমরা শুনি, অবাক হই! আহা, এই দেশ নিয়ে ভাবতে ভাবতে এঁরা কেমন করে সমস্ত টিস্যু শেষ করে ফেলছেন। বা নতুন কোন পত্রিকা বের হবে তখন এঁদের আর্শীবাদের বড়ো প্রয়োজন।
এই অল্প মানুষদের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ। ইনি 'তারেক বন্দনা' অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন। তিনি বলেন, "তারেক জিয়া জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য পুত্র হওয়ায় তাঁকে ভালবাসি, কারণ, তিনি একজন সুযোগ্য নেতার কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছেন।" (প্রথম আলো/ ০৪.০৯.১০) 

জ্বী, এমাজউদ্দীন স্যার, সুযোগ্য তো বটেই। আপনি বললে এটা না-মেনে উপায় আছে, বলুন? মামুন-খাম্বা সব বাদ দিলাম কেবল আপনাকে একটা উদাহরণ দেই। ২০০৬ সালের ১ জুন তারেক রহমান ব্যক্তিগত সফরে যাওয়ার জন্য সংসদ থেকে গাড়ি বহরের জন্য ৫৩০ লিটার অকটেন নেন। অথচ তিনি সংসদের কেউ ছিলেন না!
ডিয়ার স্যার, খানিকটা তকলীফ করে যদি সংসদের পরিবহন পুলে পাঠানো চিঠিটায় খানিকটা চোখ বুলিয়ে নিতেন।

এমাজউদ্দীন স্যার, আপনার কাছে আমার একটা প্রশ্ন ছিল। আপনারা তো অনেক জ্ঞানী মানুষ, তর্কে তো আপনাদের সঙ্গে পারার যো নেই তাই অল্প কথায় বলি, জিয়াউর রহমানের এই সুযোগ্য পুত্রদ্বয় সদলবলে বৈদেশে আছেন ক-বছর হতে চলল? ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তারেক জিয়া বিদেশ যাত্রা করেন। ওখানে তাঁর কি চিকিৎসা এখনও চালু আছে? এই ২ বছর প্রবাসে থাকা এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পেছনে কত টাকা খরচ হয়েছে এ পর্যন্ত? এটা কি স্যার আমাদেরকে একটু জানানো যায়?

স্যার, আপনারা তো সর্বজ্ঞ তবুও বেয়াদবী না নিলে একটু বলি, তারেক জিয়ার তো হাজার-হাজার কোটি টাকা নাই যে তিনি বছরের পর বছর ধরে বিদেশে বসবাস করতে থাকবেন। ওখানে কোন চাকরি-বাকরি করেন বলেও তো শুনিনি! আপনি বলবেন, তারেক জিয়ার খরচ তাঁর মা চালাচ্ছেন।
খালেদা জিয়া ১ কোটি ২৫ লাখ কালো টাকা সাদা করার পরও মনোয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া আয়কর বিবরন অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ ৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এবং শেখ হাসিনার ৩ কোটি ৫৪ লাখ।
নাকি কোকো ওয়ান-টু-থ্রি-ফোর-ফাইভ...থেকে খরচটা চলছে? যাক বাঁচোয়া, নইলে বসে বসে খেলে রাজার ভান্ডার ফুরিয়ে যায় আর এ তো মাত্র কয়েক কোটি টাকার মামলা।

অফ-টপিক: বয়স্ক মানুষদের নগ্ন দেখতে ভাল লাগে না।

সহায়ক লিংক:
১. দলবাজি: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_19.html 
২. অশ্লীলতা: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_22.html 
৩. নীল-গোলাপী-সাদা দল: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_09.html

6 comments:

mutasim said...

অফ-টপিক: বয়স্ক মানুষদের নগ্ন দেখতে ভাল লাগে না।

কমেন্ট টা পইড়া অনেকক্ষণ হাসলাম.........

Ratul said...

Hah hah ha. Ai sob manush ra amader teacher.amra nosto hobo na to kon sala nosto hobe?

।আলী মাহমেদ। said...

:) @mutasim

।আলী মাহমেদ। said...

এঁরা হচ্ছেন আমাদেরকে নষ্ট বানাবার মেশিন! @Ratul

বোহেমিয়ান said...

কতটা নীচে নামলে গালি দিতেও লজ্জা লাগে?! একজন দুর্নীতিবাজকে প্রশংসা করতে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা! থুঃ!

।আলী মাহমেদ। said...

এরাই আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখান। আবার মুক্তচিন্তার দৈনিকগুলোতে শক্ত চিন্তা নামের ভাবনা প্রসব করে বড়ো বড়ো বুলি কপচান। এটাই আমাদের নিয়তি...@বোহেমিয়ান