Saturday, December 19, 2009

স্যাররা, দলবাজি বন্ধ করেন

আগেও লিখেছিলাম, চর্বিতচর্বণ করি। আমাদের জন্মের পর থেকেই বিভাজন শুরু হয়। এটা মানুষের বাচ্চা, না পশুর বাচ্চা? মানুষের বাচ্চা, বেশ। এটা কি ছেলে বাচ্চা, না মেয়ে বাচ্চা? ধর্ম কি? হিন্দু, মুসলমান, খ্রীস্টান, নাকি নাস্তিক? এরপর দেশের বাড়ি কই? তবলার ঠুকঠাকের পর আসল কথা, মানুষটা কোন দল করে?
এই দেশে দল করেন না এমন মানুষ খুঁজতে বেগ পেতে হয় বৈকি! জাদুঘরে খোঁজ করলে অন্য কথা।

মুক্তিযোদ্ধাদেরও দল আছে। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধা; হালে জামাতের মুক্তিযোদ্ধাও আত্মপ্রকাশ করেছেন! রেলওয়ে মুক্তিযোদ্ধাও আছেন (বাস্তবে এটা এখন একটা চা-র দোকান। রেলস্টেশনে রাতারাতি গজিয়ে উঠেছে)! কালে কালে ২০ বছর বয়সের মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গেও আমরা পরিচিত হব। ইনশাল্লাহ!

ড. মো: আনোয়ার হোসেনের 'রিমান্ড ও কারাগারের দিনলিপি' বইটা পড়ছিলাম। পড়ছিলাম বললে ভুল হবে, গোগ্রাসে গিলছিলাম। মানুষটার চোখ দিয়ে কত অজানা বিষয়ের সঙ্গে যে পরিচিত হচ্ছিলাম। 

ড. আনোয়ার হোসেন কেবল কর্নেল তাহেরের ভাই হিসাবেই পরিচিত না। প্রজ্ঞাবান একজন মানুষ এবং অসম্ভব সাহসি। তাঁর সঙ্গে আটক শিক্ষকগণ এবং অন্য শিক্ষক অমর্যাদার সঙ্গে যখন আত্মসমর্পন করতে চাইছিলেন তখন মানুষটা একাই লড়াই চালিয়ে গেছেন। আমি যে কী মুগ্ধ হয়েছিলাম!

কিন্তু আমি ধাক্কাটা খেলাম তখন যখন মানুষটা নীল জামা গায়ে চড়িয়ে এলেন! অর্থাৎ মানুষটা নীল দল করেন। শিক্ষকদের যে নীল, সাদা, গোলাপি দল আছে এটা আমার জানা ছিল না। আমি হতভম্ব হয়ে ভাবছিলাম, শিক্ষক হচ্ছেন পিতাসম, সমস্ত ছাত্র তাদের সন্তান। বিশ্ববিদ্যালয়ের, সরকারে কোন সিদ্ধান্তে তাঁদের অমত থাকলে তাঁরা এর প্রতিবাদ করবেন, সমস্যা তো নাই কিন্থু এর জন্য দলবাজী করার আবশ্যকতা কী! শিক্ষকরূপি পিতা তার সন্তান ছাত্রদের দলবাজি শেখাবেন এতে আর অবাক হওয়ার কী আছে!
আচ্ছা, বিচারপতিদের দল নাই? এই যেমন হলুদ, কালো, লাল। না-থাকলে চালু হওয়া আবশ্যক

সেই দিন আর দূরে নাই মসজিদেও এর সুচর্চা হবে। নামাজ শুরু করার পূর্বে মাইকে বলা হবে, সামনের কাতারে কেবল লাল দল থাকবেন হলুদ দল পেছনের কাতারে লাল।
 

অবশ্য জুতাজুতির মাধ্যমে এর আগমনি বার্তা দেয়া হয়ে গেছে এখন আমরা প্রকাশ্যে এর বাস্তবায়ন চাই। 
আমিন!

2 comments:

Samsir said...

Apne kon dol?

।আলী মাহমেদ। said...

আমি কোন্দলে নাই!