Tuesday, July 31, 2018

চলমান দানব এক!

কুমিল্লার চান্দিনায় আজকেও ট্রাক চাপায় এক স্কুল ছাত্রী নিহত হয়েছে।
এটা একটা সংখ্যা মাত্র, এই দেশের জন্য! কিন্তু তার বাবা-মার জন্য এটা কেবল একটা সংখ্যা না। সন্তানের নিথর দেহ সামনে নিয়ে শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দলা পাকায়, গলায় এসে। বোধবুদ্ধি হারিয়ে যায়। নইলে সন্তানহারা বেকুব বাবা কেন বারবার বলবেন, তার মেয়ের লাশ নামাবার সময়, ‘আরে কী করো-কী করো, আস্তে নামাও না মাইয়াডা দুক্কু পায় না বুঝি’

খুনের মিছিলে [১] মন্ত্রীর ‘তেলিয়া’ হাসি এটার মূল সমস্যা না। সমস্যা অন্যত্র। চলে আসা এই সব চলমান খুনের সঙ্গে অনেক সংস্থা জড়িত। শত-হাজার কোটি টাকার ব্যবসা এটা। পরিবহনের সঙ্গে জড়িত গুন্ডাদের কথা বাদ দিলেও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটা চার-চক্র যান দূরের কথা এক-চক্র যানও রাস্তায় চলবে, এ অসম্ভব। অল্প কিছু উদাহরণ ব্যতীত একটা গাড়িও মাসিক সেলামি না-দিয়ে রাস্তায় নামার চিন্তা বাতুলতা মাত্র। বিআরটিএ-এর আঙ্গুলের নরোম পরশ ব্যতীত কোন ফিটনেসবিহীন গাড়ি চক্রব্যূহ ভেদ করবে এটা কেবল বাংলাদেশের রঙিনচশমা-সাদাগোঁফ বুদ্ধিজীবী ব্যতীত অন্য কেউ বিশ্বাস করেন এটা অন্তত আমি বিশ্বাস করি না।

এই সব চক্রের ফাঁদে আটকা পড়ে গেছি আমরা, বেচারা, ট্যাক্সপেয়িরা। আটকে পড়েছি নানা জনের লাল চোখের লালিমায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চোখ রাঙানির উপৱই আছি আমরা। কেউ আমাদেরকে চোখ লাল করে বলেন, হাত বাইরে রাখেন কেন? কেউ বলেন, রাস্তার পাশে দাঁড়ান কেন? কেউ-না কোন দিন আবার দুম করে বলে বসেন, বাসা থেকে বের হোন কেন?
চারদিকের উন্নয়নের চাপে নাভিশ্বাস আমাদের কেবল নাকটা কোনও প্রকারে ভাসিয়ে রেখেছি আমরা। সমুদ্র থেকে মহাশূন্য সবই জয় করা শেষ এখন আর করার কিছুই নাই আমাদের।
আমি জানি না কে প্রথম এই ভিডিওটা আপলোড করেন। তাঁর প্রতি নতজানু হয়ে সালাম জানাই। এই একটা ভিডিও গোটা দেশের চিত্র তুলে ধরেছে- বানরের হাতে ক্ষুর! একটা চলমান দানবকে আমরা রাস্তায় ছেড়ে দিয়েছি। আপনি হতে পারেন আন্তর্জাতিক লাইসেন্সধারী একজন চালক তাতে কী আসে যায়! দানব আপনাকে স্রেফ নরোম একতাল মাংসপিন্ড বানিয়ে দেবে। আপনি হতে পারেন বুদ্ধি গড়িয়ে পাঞ্জাবি ভিজে যায় এমন একজন বুদ্ধিজীবী তাতে কিছুই যায় আসে না- আপনার মগজ গড়াবে উত্তপ্ত পিচে।

মে আই আস্ক, এই চলমান দানব প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর আমাদের বেতনভুক্ত কর্মচারী মহোদয়গণ কী করছেন? যাত্রী বোঝাই হয়ে কেমন করে এটা একটি ব্যস্ত রাস্তায় চলে? আহা, আমাদের বেতনভুক্ত কর্মচারী মহোদয়গণ একেকজন তো পাজারো স্পোর্টস ব্যতীত যত্রতত্র হুটার না-বাজিয়ে চলাফেরা করে আরামই পান না। কী দবদবা একেকজনের! 

স্যার-মহোদয়গণ, আপনারা আপনাদের মত করে থাকুন কেবল দয়া করে আমাদের সন্তানদের প্রাণটা আমাদের কাছেই রাখতে দিন। আমাদেরকে আমাদের মতো করেই থাকতে দিন এন্ড রিমেম্বার, ডোন্ট শো ইয়্যুর রেড আইজ…।

সহায়ক সূত্র:
১. খুনের মিছিলhttps://www.ali-mahmed.com/2018/07/blog-post_30.html

Monday, July 30, 2018

খুনের মিছিল!

এই মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত বাস মালিক এবং এদের পেছনের ‘দাঁতাল-দাতলাগুলোকে’ আইনের আওতায় না-আনা হবে। ড্রাইভার-হেলপারকে ধরা না-ধরা সমান। 
কোন পান্ডা কোন বাস মালিক কেমন করে বাসগুলো চালাচ্ছে একটু পত্র-পত্রিকায় চোখ বুলালে অনেকটা আঁচ করা যাবে। আমার হাতে এখন বাংলাদেশ প্রতিদিনের ২০ এপ্রিল ২০১৮ সালের একটা রিপোর্ট- ‘বেপরোয়া পরিবহনের মালিক কারা’। অধিকাংশ বাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোনও-না-কোনও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। এই রিপোর্টের একাংশও সত্য হলে তা ভয়াবহতাকে ছাড়িয়ে যায়।
ভিডিও ঋণ: সময় টিভি
মন্ত্রী মহোদয় শাহজাহান খানকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি হাসতে-হাসতে আবার পাল্টা প্রশ্নও ছুড়ে দিয়েছেন, ভারতে লোক মরলে বিশেষ কথা হয় না আমাদের এখানে কেন এত কথা, ব্লা-ব্লা-ব্লা। ভারতের সঙ্গে তুলনা কেন! [*] মারা গেছে আমাদের সন্তান আমাদের গড়াগড়ি করে কান্নার সময় আপনার এই সমস্ত রসিকতা কেন?
শোনেন, আমরাও একটা রসিকতা করি। ভারতের লোকজনেরা গরুর মুত খায় তা আমরাও কী মুত খাওয়া শুরু করব নাকি! ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বান্দরের আর্শীবাদ নিয়ে আপ্লুত হন। দেশের রাজনীতিবিদরাও কি বান্দর খোঁজা শুরু করবেন!
আমাদের সড়ক পরিবহন মন্ত্রী মহোদয় খুবই অমায়িক ভঙ্গিতে হাত নেড়ে-নেড়ে দুনিয়ার তাবৎ বিষয় বুঝিয়ে দেন। তিনি তো এর দায় এড়াতে পারেন না তাই মন্ত্রী মহোদয় যদি একটু এই বিষয়ে এই বাবাটাকে একটু বোঝাতেন।
যার মেয়ে দিয়া খানম মিম খুন হয়েছে। বাবা জাহাঙ্গির আলম মেয়ের ভাঙ্গা ছাতা নিয়ে হাহাকার করছেন। আহারে-আহারে, বাবাটা...।

এই দেশ কেউ মালেয়শিয়া কেউ সুইটজারল্যান্ড বানাবার তালে আছেন। কেউ জেলায়-জেলায় বিমানবন্দর করার স্বপ্নে বিভোর। বেচারা মুরগিই খেতে পায় না সেখানে আমরা একের-পর-এক হাতি কিনে উল্লসিত। হাতির খাবারের চিন্তা করার সময় কোথায় আমাদের চারদিকে যে কেবল উন্নয়ন।

এই তো সেদিনের কথা। নেপালের আইনমন্ত্রী শের বাহাদুর তামপাং। কাঠমান্ডুর এক অনুষ্ঠানে এক বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন। বাংলাদেশে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়তে আসা নেপালি মেয়েদের নিয়ে, ‘সনদ নিতে গিয়ে তারা নিজেদেরকে বিক্রি করে দেয়’। ব্যস, আর যায় কোথায় সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। মন্ত্রী তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন এবং দুঃখপ্রকাশ করেন। কিন্তু লাভ হয়নি! অবশেষে তিনি পদত্যাগ করেন।
সামান্য নেপাল হওয়ার মুরোদ নাই আমাদের...।

* পোস্টের একেবারে নীচে আমি যে ভিডিওটা পোস্ট করছি এটা দুর্বলচিত্তের মানুষকে না-দেখার জন্য কাতর অনুরোধ করি।  তাহলে কেন এটা এখানে দিচ্ছি? কেবল মনে হচ্ছে কেবল মনে হচ্ছে আমার সন্তান যেন এমন করে পড়ে আছে...।
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.



Saturday, July 28, 2018

‘লন্ডভন্ড’-‘ভন্ডভন্ড’।

আমাদের ভ্যালুজগুলো আর থাকছে না। গায়ের কাপড়গুলো একে করে খসে পড়ছে। ছাত্র-শিক্ষকদের পিতা-পুত্রের যে সম্পর্ক এই সব এখন কেবল কেতাবেই আছে সম্ভবত। আমাদের পিতারা যখন আপিস, চাষের মাঠে তখন এই শিক্ষকরাই আমাদেরকে আঙ্গুল ধরে-ধরে পাঠশালায় শিখিয়েছেন। এখনও আমরা যারা বেকুব তারা প্রাইমারি স্কুলের কোনও শিক্ষককে দূর থেকে দেখলেও মরা সাপের মত সোজা হয়ে যাই।
এই সব বেকুবগিরি করার চল সম্ভবত এখন আর নাই। থাকাটা সমীচীনও না। কারণ দেশ এতোই দ্রুত এগুচ্ছে সুইটজারল্যান্ড হলো বলে! আমাদের পুরনো ভ্যালুজগুলো ধরে রাখা অর্থহীন, গ্লানিকর এখন।

একজন সংসদ সদস্য তার শিক্ষকের গায়ে হাত তোলেন [১], মামলা করেন [২] এবং সেই ১০০ কোটি টাকার মামলা আমাদের ন্যায়ালয় যখন গ্রহণ করেন তখনই সব ভেঙ্গে পড়ে। 


শিক্ষকদের প্রতি যখন আঙ্গুল উঁচিয়ে তার ছাত্র কথা বলে, অমার্জিত আচরণ করে, গায়ে হাত তুলতে আসে তখনও আমাদের গায়ে এক চিলতে কাপড় থাকে কিন্তু কোনও শিক্ষক তার ছাত্রদের পক্ষে দাঁড়াবার কারণে যখন তার পায়ের নীচের মাটি ‘লন্ডভন্ড’-‘ভন্ডভন্ড’ হয়ে যায় তখন আমাদের নগ্ন হওয়ার আর বাকি থাকে না।


সহায়ক সূত্র:
১. পিতা তোমার…: https://www.ali-mahmed.com/2018/01/blog-post_19.html 
২. খসে পড়ে...: https://www.ali-mahmed.com/2018/03/blog-post_22.html 
* ছবি (স্মারক) ঋণ: জনাব, Ar Raji: https://www.facebook.com/arraji


সবই সিস্টেম!

আমি বারবার যেটা বলে আসছি সেটা হচ্ছে, ‘আমরা এমনই’! আমরা একেকজন চলমান জম্বি। ঘুরছি-ফিরছি, খাচ্ছি-দাচ্ছি, চকচকে পোশাকে এবং চামড়ায় গলিত শবটাকে ঢেকে রাখছি। ফরমালিনে চুবানো দেহটা থেকে তরল পদার্থটা সরে গেলেই ভক করে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়বে।

হানিফ পরিবহনের বাসকর্মীরা (বাসের চালক, সুপারভাইজার, চালকের সহকারী) যে ছেলেটাকে (সাইদুর রহমান পায়েল) নৃশংস ভাবে খুন করল এরা তো এই সিস্টেমেরই অংশ যে সিস্টেমে আমরা অধিকাংশ মানুষ দিনযাপন করছি। আন্দোলন করে যারা মার খেল তারাই আজ গরাদের পেছনে! অথচ যারা নৃশংস ভাবে মেরেছে তারা ক্লিনশেভেও অদৃশ্য গোঁফে তা দিয়ে বেড়াচ্ছে। সিস্টেম।

আমাদের সকালটা শুরু হয় অন্য রকম করে। একজন আলোকিত মানুষ যার কাছ থেকে অন্ধকারের মানুষেরা ভয়ে-শ্রদ্ধায় দশ হাত দূরে থাকবে সেই অন্ধকারের মানুষটাকে (চালু নাম হচ্ছে টিকেট কালোবাজারী) আলোকিত মানুষটা ফিসফিস করে বলে, ‘ভাই একটা টিকেট হবে’? কারণ দশ দিন পূর্বেই টিকেট সোয়া লাখ টন কয়লার মত উড়ে গেছে।
ও ভাল কথা, অভিযুক্ত কয়লাখাদকদের একজনকে দেখলাম ছুটি দেওয়া হয়েছে হজে যাওয়ার জন্য। ভাল, এটাই সিস্টেম!

এখন আবার দেখছি কয়লা ময়লা ধুতে গেছে এটা সত্য না। কয়লার উড়াউড়ি মিছা কথা। কয়লা নাকি বিএনপির সময় থেকেই চুরি হচ্ছিল এখনকার সরকার এটা ধরেছে। এটাও এক প্রকারের সিস্টেমের কথা। ওহ, ট্রেনের টিকেট প্রসঙ্গে মনে পড়ল। আশার কথা আগামীতে ট্রেন, ট্রেনের টিকেট এইসবের বালাই আর থাকবে না। কারণ দেশেই ‘হাউয়াই জাহাজ’ বানানো হবে। এবং প্রতিটি জেলায় বিমানবন্দর হবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় মানুষ বিমানে যাবে তখন আর ট্রেনের প্রয়োজন কী! এটাও সিস্টেমের উন্নয়ন।

মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে গেছি। কথা হচ্ছিল, বাসকর্মীদের খুন নিয়ে। ঘটনাটা আমরা সবাই জানি। পায়েল নামের ছেলেটা বন্ধুদের নিয়ে হানিফের বাসে ভ্রমণ করছিল। যানজটে যখন বাস স্থির তখন বাথরুম করার জন্য নেমেছিল। যানজট কমে এলে বাস ছেড়ে দেয়। পায়েল ওই বাসের পেছন-পেছন দৌড়াতে থাকে। অবশেষে নাগাল পেয়ে উঠার চেষ্টাকালে আহত হয়ে পড়ে যায়। পায়েল মরে গেছে এটা ভেবে বাসকর্মী ৩ জন মিলে তাকে একটা সেতু থেকে ফেলে দেয়।

সিস্টেম আমাদেরকে এটাই শিখিয়েছে মেরে পালিয়ে যেতে হবে। না-পালালে ২টা ঝুঁকি আছে। গণপিটুনি। কখনও-কখনও এর ফাঁদে পড়ে চ্যাপটা হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা। আবার একশ ভাগ নির্দোষ মানুষও রাস্তা থেকে কাউকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আমাদের দেশের সমস্ত ক্ষমতা তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা শুরু হয়। আর আইনের শাসনের কথা না-বলাই ভাল। যে দেশের চালকদের গরু-ছাগল চিনলেই চলে সেখানে তাদেরকে আইন স্পর্শ করার সুযোগ কোথায়!

যাই হোক, আরেক সিস্টেমের কথা বলি। এদেশে কোনও অপরাধি অপরাধ করলে আইনের লোকজনেরা কোমরে দড়ি লাগিয়ে তার বুড়া বাপ-মা-চাচা-চাচিকে ধরে নিয়ে আসেন। বুড়া-বুড়ি তাঁদের দোষ খুঁজে গ্লানি পাওয়ার কিছু নেই- গলায় যে দড়ি লাগানো হয় না এতেই জনগণ বেজায় খুশি।
আমরা এটা বিলক্ষণ জানি অতিরিক্ত লাভের লকলকে জিহ্বার কারণে বাস মালিকদের বেঁধে দেওয়া কঠিন সময়, একজন চালককে ১০/১৫ ঘন্টা চালাতে বাধ্য করা এমন অজস্র উদাহরণ আছে।

তো, এই সিস্টেমের হাত ধরেই বলি এই যে হানিফ বাসকর্মীরা অকল্পনীয় খুনটা করল এই কারণে কি তাদের বাসের মালিকের কোমরে না-হোক অদৃশ্য লেজেও দড়ি লাগানো হবে না?

Wednesday, July 25, 2018

সুখীমানব!

আমার এখানে কেউ বেড়াতে এলে আমি খুব আগ্রহ করে এঁর কাছে নিয়ে যেতাম এটা বলে, আসেন, আপনাকে একজন সুখী মানুষ দেখাই। কেউ কাঁধ ঝাঁকাতেন তো কেউ ঠোঁট বাঁকাতেন। তাদের এই তচ্ছিল্য আমি গায়ে মাখতাম না। আমি আমার মত করে ব্যাখ্যা করতাম।

এই মানুষটাকে অনেক দিন ধরে স্টেশনে দেখি ওভারব্রিজের নীচে। গতবার শীতের তীব্রতায় যখন সবাই কাবু তখন এই মানুষটাকে একজন একটা কম্বল দিলে পরদিন দেখা গেল সেটা এঁর গায়ে নেই, উধাও। জিজ্ঞেস করলে এই মানুষটা অস্পষ্ট গলায় বলেছিলেন, এক বুড়া নাকি শীতে কষ্ট করছিল তাকে দিয়ে দিয়েছেন। শোনো কথা, শীতে নিজে হি হি করে কাঁপেন- পুরো শীতটা তো এই হাফপ্যান্ট পরে কাটিয়ে দিলেন!

কথায় সিলেটের টান। কেউ দেখেনি তিনি কারও কাছ থেকে পয়সা চেয়েছেন। শত-শত বার এঁকে খাবার খাওয়ার কথা বা অন্য কোনও সহায়তার কথা বললেও বড় অমায়িক এক ভঙ্গিতে না করেছেন। কখনও-কখনও, কেবল চা সঙ্গে দু-একটা বিস্কুট! তিনি না বলার পূর্বে দু-হাত উপরে তুলে এমন এক শারীরিক ভঙ্গি করতেন, মুখে কোনও শব্দ উচ্চারণ না-করলেও তিনি যে তীব্র ভাল লাগায় ডুবে আছেন এমনটাই বোঝা যেত। তাঁর এই অদেখা ভাল লাগা দেখার চোখ আমাদের কই। এক জীবনের কত কিছুরই না প্রয়োজন হয় আমাদের। বাড়ে চোখের লোভের আকার। বাড়ে হাহাকার।
আমি যখনই দেখেছি বসা, ঠিক এই ভঙ্গিতেই।
কেবল গতকাল দেখা গেল দিন-দুপুরে মানুষটা শুয়ে! বাইরে অঝোর বৃষ্টি। ভোর রাতে মানুষটা কখন অন্য ভুবনে যাত্রা করেছেন কেউ জানে না! তার পাশে এক বিন্দু জল ফেলার জন্য কেউ ছিল না। তাতে কী- প্রকৃতি নিশ্চয়ই কাঁদে অঝোরে, তার এমন সন্তানকে হারিয়ে। এমন এক শিশু যার কোনও অভিযোগ নেই, জীবনের প্রতি কারও প্রতি…।

Monday, July 23, 2018

ভারসাম্যহীন!

এদের নিয়ে দু-লাইন লেখাও মস্ত বেওকুফি। আনু মোহাম্মদ এটা লিখেছেন কি লেখেন নাই সেটা আমার কাছে জরুরি না। এখানে যে প্রশ্নগুলো করা হয়েছে তা আওয়ামের প্রশ্ন। অন্তত আমার প্রশ্ন তো বটেই।

এই নির্বোধ কী অবলীলায়ই না চুতিয়া ভাষায় ড. আনু মোহাম্মদকে নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, (তার অতি কুৎসিত গালাগালিগুলো এখানে লিখে তার পর্যায়ে নেমে আসার চেষ্টা করলাম না) কয় টাকা ট্যাক্স দেয়?
গ্রে মেটারের কতটা অভাব হলে কেউ এমন প্রশ্ন করতে পারে! একজন মানুষ বেতন-ব্যবসার থেকে ট্যাক্স দেওয়ার বাইরেও ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে টিস্যু ব্যবহার থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাবার আগ পর্যন্ত পেস্ট ব্যবহার করার মাধ্যমে হরদম পরোক্ষ ট্যাক্স দিয়েই যায়।

আদতেই যে আমাদের ট্যাক্সের টাকার যথার্থ প্রয়োগ হচ্ছে না এর যথার্থ উদাহরণ হচ্ছে ড. আনু মোহাম্মদকে গুম করার হুমকি দিয়েও এই মহিলা এখনও মুক্ত ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা কেউ-কেউ ক্ষিধার জ্বালায়, দায়ে পড়ে, অবস্থার শিকার হয়ে অপরাধ করি কিন্তু এর মত অতি অল্প কিছু এমন মানুষও আছে যারা ‘Born Criminal’ এদের রক্তে মিশে থাকে অপরাধ।

একে নিয়ে লেখাটা বেওকুফি কেন? আমি কোনও ক্রিমিনালের মনস্তত্ব বোঝার চেষ্টা করি। দুম করে কেন নিবরাসদের মত ব্রাইট ছেলেরা নৃশংস খুনি হয়ে যায় বা ডান হাত উড়ে গেছে রক্তে সব ভেসে যাচ্ছে কিন্তু কিশোর ছেলেটা বাঁ হাতে পানি খাবে না। এদের মস্তিষ্ক কে এলোমেলো করে দিল? আমি বোঝার চেষ্টা করি- কখনও বুঝতে পারি কখনও পারি না। নিবরাসরা চরম অপরাধ করেছিল এ সত্য কিন্তু এদের জন্য বুকের ভেতর থেকে একটা বেদনা পাক খেয়ে উঠে। কিন্তু Born Criminal দের বেলায় এই নিয়ম খাটে না।

এই মহিলা এমন না যে এখনই মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। এরা কচু গাছ কাটতে কাটতে ডাকাত হয়। অনেক আগেও তিনি একবার এক কান্ড করেছিলেন [১]। পাকিস্তানের এক মসজিদে বোমা হামলায় রক্তে ভেসে যাচ্ছে- বয়স্ক, শিশুরাও সেই নৃশংস হামলার শিকার আর এই মহিলা উল্লাস করছে। আসলে তিনি বিরাট দেশপ্রেমিক সাজার চেষ্টা করেছিলেন। উল্লাসের লেখা দেওয়ার পর অনেকে খানে এই ‘মদে’ (মহিলা দেশপ্রেমিক)-কে অনেক ‘সাবাসি’ দিয়েছিলেন!

এরা কেউ-কেউ চকচকে চামড়া (নিজের)-সাহিত্য-মুক্তিযুদ্ধ-ধর্ম চেতনার আড়ালে পশুত্ব আড়াল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পশুকে আটকাবার চেষ্টা যে বৃথা। সেদিনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম, এই মহিলার মানসিক ভারসাম্য ঠিক নেই। তখন একটা লেখায় আমি লিখেছিলাম, “এমনই এক দেশপ্রেমিকের(!) কথা বলি। লেখার হাত অতি কুৎসিত। তার এই ঘাটতি মিটে যেত চকচকে চামড়া দিয়ে। আফসোস…! অসম্ভব হৃদয়হীন কাজটা তিনি কেন করলেন? কারণ তিনি যে বিরাট দেশপ্রেমিক! এরপর...আমি যখনই তার মুখপানে তাকাব তখন দেখব অসংখ্য শুঁয়োপোকা। কিলবিল করছে। গা হিম করা- শরীর কেবল শিউরে শিউরে উঠবে। ইচ্ছা করবে গলায় আঙ্গুল দিয়ে বমি করলে যেন খানিকটা আরাম পাওয়া যাবে”।

আফসোস, এখন ফেসবুক নামের জায়গাটা হয়ে গেছে অতি কদর্য। এখানে এখন সাহিত্যও কপচানো হয়! কোন মৃত লেখকের সঙ্গে জড়িয়ে দুম করে একটা লেখা দিয়ে দেওয়া যায়, সেই লেখক মিয়া ছলিমুদ্দিন-কলিমুদ্দিনকে পরপর ৩বার বলে বসেন, ‘তোমার লেখায় গতি আছে…’। এখানেও থামাথামি নাই সেই লেখক তাঁর গল্প দেন এই শর্তে যে মিয়া কলিমুদ্দিন-ছলিমুদ্দিন তুমিই এটার নাট্যরূপ দিবা। ব্যস, ওখান লোকজন সেই গতিতে খানিকটা গ্রিজ লাগিয়ে দেন। তখন গাড়ি দুদ্দাড় যে গতিতে ছোটে তা আর থামার যা নেই।

কী যন্ত্রণা! এখন কোথাও ছবি উঠালে পাশের মানুষটা নিয়ম করে বলে উঠেবেন, ‘ফেসবুকে ছাড়বেন’? ফেসবুকের কল্যাণে রাতারাতি একেকজন স্টার হয়ে উঠে তখন এদের ভাষা দেখে মনে হয় এরা মাটিতে নেমে এসেছেন মাটির লোকজনকে উদ্ধার করতে।
এই মহিলা, এই বদ্ধউম্মাদের ফলোয়ার ৩০ হাজার। ভাবা যায়?
এখানে তার একটা পোস্টে অন্য এক মেয়ে মন্তব্য করার প্রেক্ষিতে এই বদ্ধউম্মাদ মহিলা ওই মেয়েকে 'যা করার' জন্য মন্তব্য করেছেন এর মত উম্মাদের কাছে কোনও মেয়েও নিরাপদ না। দেশ তো দূরের কথা...।


সহায়ক সূত্র:
১. একালের যোদ্ধা:  http://www.ali-mahmed.com/2014/06/blog-post_7193.html

Wednesday, July 18, 2018

বনবন করে ঘোরে সাইকেলের চাকা, ফুটবলও।

Elias Escribano নামের ছেলেটা ২ বছর ধরে বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে [১]। ইতিমধ্যে তার ৩৩টা দেশ ঘোরা শেষ। কিন্তু দেশ ঘোরার আকন্ঠ তৃষ্ণা এর এখনও শেষ হয়নি। মধ্যে কেবল ব্যাংককে অল্প সময়ের জন্য ওর বাবা-মার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। ওদিন ওর জন্মদিন ছিল।

বাংলাদেশে থাকতে মায়ারমারে যাওয়ার জন্য ছটফট করছিল। ভিসা সংক্রান্ত কি-এক সমস্যা ছিল। আমি তার অস্থিরতা দেখে বলেছিলাম, ‘সমস্যা হলে মায়ারমারে যাওয়া বাদ দাও’।
ও মাথা এপাশ-ওপাশ করে বলেছিল, ‘আরে, না-না, বল কী তুমি। ওখানে আমার যেতেই হবে। ওখানকার মানুষরা খুবই কষ্টে আছে’।

ওখানকার মানুষ মানে রোহিঙ্গারা। কিন্তু ও একবারও এ কথা বলেনি। ওর ভাষায় মানুষ। আমরা হিন্দু-মুসলমান, আস্তিক-নাস্তিক, পাহাড়ি-সেটেলার, এই দল-সেই দল এই সব বিভাজনে যখন একটা বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকি তখন বনবন করে এদের সাইকেলের চাকা ঘুরতে থাকে। তীব্র গতিতে ঘোরে পানামা, ক্রোয়েশিয়ার মত স্বল্প জনসংখ্যার দেশের ফুটবলও!

যদিও এ বাংলাদেশে এদের অবস্থা সচক্ষে দেখে গিয়েছিল তারপরও এক গোঁ! যাই হোক, ওখানকার কিছু ছবি পাঠিয়েছে। ছবিগুলো সাদাকালো কেন এটা আর জিজ্ঞেস করা হয়নি। যাদের জীবন থেকে রঙ হারিয়ে গেছে তাদের ছবি তো সাদাকালো হওয়াই সমীচীন।
©Elias Escribano
©Elias Escribano
©Elias Escribano
©Elias Escribano
©Elias Escribano
সহায়ক সূত্র:
১. পায়ের নীচে সর্ষে: http://www.ali-mahmed.com/2018/05/blog-post_8.html

Tuesday, July 17, 2018

বড় হতে চাইনি...।

অল্প কথায় অসাধারণ এক লেখা লিখেছেন কুঙ্গ থাঙ:

"কখনও বড় হতে চাইনি৷ বড়রা খেলাধুলা করে না, ছবি আঁকে না, সিগারেটের বাক্স জমায় না, পুরানো বোতল দিয়ে কটকটি কেনে না, প্রজাপতির ঝিলমিল ডানার পেছনে ছুটে না, গাছে উঠে না, নদীতীরে দৌড়ঝাঁপ করে না- কেবল টাকা-পয়সার হিসাব, জমিজমা, বাজার সদাই আর ঝগড়াঝাঁটি ৷

যেদিন জানতে পারি চল্লিশের পর মানুষ বুড়ো হতে থাকে সেদিন থেকেই চল্লিশ বয়সটাকে ভয় পাই ৷ আমি আর শৈশবের বন্ধু দেবাশিস মিলে ঠিক করেছিলাম আমরা শুধু চল্লিশ পর্যন্তই থাকব, তার বেশি একদিনও না ৷ তারপর কোথায় যাব কি করব সে চিন্তা তখন ছিল না৷
তারপর ভয় পেতে পেতে বড় হয়েছি , টাইমলাইন সেই চল্লিশ ধরে নিয়েই ৷ সুমন চাটুয্যের 'চল্লিশ পেরোলেই চালসে' শুনলে আতংক এসে ভর করত ৷ ভাবতাম এই বুঝি সব শেষ হয়ে এল ৷ যেদিন চল্লিশ পার করি সেদিন কাঠ হয়ে বন্ধুকে কল দেই, 'গুরু, দিন তো শেষ হয়ে গেল !'
সে তখন রোগী দেখায় ব্যস্ত, কিছু বুঝতে না পেরে বলল, 'পরে কল দিতেছি '৷ পরে আর সে কল দেয়নি, আমিও কাঁথামুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম ৷

সকালে উঠে দেখি সব ঠিকঠাক, পৃথিবী ঘুরছে আগের মতোই৷আমি জানি বয়স একটা প্রতীকী ব্যাপারমাত্র, জন্মের দিনক্ষণও৷ মানুষ সময়কে ঘন্টা মিনিটে ভাগ করে এইসব ব্যাপার আরোপ করেছে জীবনকে গুরুত্বপূর্ণ করতে৷তবু চল্লিশের কোঠায় এসে জীবনটাকে কেবল ভারবাহী মনে হয় ৷ দ্বায়িত্বের ভারে নুয়ে পড়া, আশেপাশের সকলকে সর্বদা খুশী রাখতে সজাগ, সর্বদা প্রশংসার পাত্র হতে সচেষ্ট ভারবাহী এক গাধা! দিন যত যায় নিজেকে ততই গাধাতর মনে হতে থাকে৷

চল্লিশের ট্র্যাজেডি হলো আপনি কেবল দিয়েই যাবেন, এই দিয়ে যাবার মধ্যেই আপনাকে জীবনের অর্থ খুঁজে নিতে হবে৷আপনার চুল সাদা হতে থাকবে, ১.৫ পাওয়ারের রিডিং গ্লাস ছাড়া আপনি কিছুই পড়তে পারবেন না, চাবি হারিয়ে ফেলবেন, ছাতা হারিয়ে ফেলবেন, বাজার থেকে কাঁকরোল আনতে ভুলে যাবেন, সিঁড়িতে উঠানামার সময় পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হবে।

বাসে কোন নারীর পাশে বসলে সম্ভাব্য যৌন হেনস্থার অপবাদের ভয়ে জড়সড় হয়ে বসে থাকবেন। প্রতিবেশিনীদের দেখলে মাথা নীচু করে হাঁটবেন যাতে সবাই আপনাকে চরিত্রবান বলতে পারে৷ অন্যথায় চল্লিশের আগে যে সমস্ত মহামনীষীরা বিদায় নিয়েছেন, কিংবা চল্লিশের পর যারা সাফল্যলাভ করেছেন তাদের জীবনী আপনাকে ধরিয়ে দেয়া হবে৷ ফলে এতদুর পর্যন্ত যে বেঁচে থাকলেন সেটাকেই সাফল্য ধরে নিয়ে আপনি দিন পার করতে থাকবেন।" কুঙ্গ থাঙ

Monday, July 16, 2018

ন্যানো কাপ!

এটাকে মাঠ বলা চলে না, বড় জোর উঠোন। এখানে নাকি এই স্কুলের মেয়েরা ফুটবল খেলে। হেড টিচার আমাকে এটা বলার পর আমার সংক্ষিপ্ত উত্তর হওয়ার কথা, ধুর, কীসব আউলা-ঝাউলা কথা বলেন! কিন্তু এটা বলা হলো না কারণ এই স্কুলের হেড টিচার একজন কামেল মানুষ।

এই ভদ্রলোককে নিয়ে আমি আগেও কাজ করেছি। আমরা তখন সেইসব বাচ্চাদেরকে খুঁজে  বের করেছিলাম। যেহেতু এটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এই স্কুলের অনেকের স্কুল ড্রেস নাই। এই নিয়ে কেউ-কেউ অন্যদের কাছে ছোট হয়ে থাকে। এবং তখন আমি দেখেছি এই হেড টিচার নামের মানুষটা কী আবেগের সঙ্গেই না কাজটা করেছিলেন।

তো একদিন আমি মেয়েদের ফুটবল নিয়ে লাত্থালাত্থি দেখে পুরো হাঁ হয়ে গেলাম। খেলা নিয়ে এদের যে কী তীব্র আগ্রহ এটা চোখে না-দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। হেড টিচারকে বললাম এক কাজ করেন দুইটা কাপ যোগাড় করা যাক আপনি একটা খেলা লাগিয়ে দেন। ঠিক হল বিশ্বকাপ ফাইনালের দিন হবে এই মেয়েদের খেলা, ন্যানো কাপ।

জায়গাটা এতই ছোট যে এখানে কোনও প্রকারেই বাইশ জনের খেলা চলে না। ঠিক হলো একেক দলে ৭জন করে খেলবে।
কোথায় মাটি, কোথায় ঘাস! এখানে এরা খেলে, ভাবা যায়! বুট-ফুট তো দূরের কথা জুতাই কোথায়!
এক পক্ষ একটা গোল দেয় তো অন্য পক্ষ জান বাজি রেখে ঝাপিয়ে পড়ে। দুই পক্ষই যখন ৬টা করে গোল দিয়ে ড্র হলো তখন খেলা টাইব্রেকারে গড়ালো।
৫টা করে গোল দুই পক্ষেরই। ড্র, কী সর্বনাশ। এই খেলার গতি কী! কোন পক্ষেরই ছাড়াছাড়ি নাই!
এটা একটা অসাধারণ ছবি। মনে হচ্ছে সূর্যও নেমে এসেছে খেলা দেখতে। এদের স্ট্যামিনার অভাব নাই কিন্তু খেলা শেষ করা প্রয়োজন। ঠিক হলো এবার ৩টা করে গোল। 
বড়ই আজব, দুই পক্ষেরই সমান গোল! রেফারি ওরফে হেড টিচারের কঠিন সিদ্ধান্ত। এবার ১টা করে গোল। শেষ পর্যন্ত অঘটন ঘটল। এক পক্ষের একটা বল মিস হলো গোল পোস্ট নামের পিলারে লেগে। 
যে পক্ষ রানার্স আপ হয়েছে তারা কোনও ভাবেই এই পরাজয় মেনে নিতে পারছিল না। এদের চোখের জল ট্যাপের জলের সঙ্গে মিশে যায়।
কোনও প্রকারেই এদের কান্না থামানো যাচ্ছিল না। এমন কি তখন এদেরকে রানার্স আপ কাপও দেয়া যায়নি। তখন আমরা আর এদের উপর জোর খাটালাম না কারণ এদের কান্না দেখে আমাদেরও চোখ ভিজে আসে। এই হেরে যাওয়া বাচ্চাগুলো আমাদের মত পোড় খাওয়া মানুষদেরকেও এদের কাতারে নামিয়ে নিয়ে এসেছিল। এটাই এদের বিজয়!
খেলায় বিজয়ী পক্ষ। সঙ্গে এদের ২ শিক্ষক- রেফারি এবং লাইনসম্যান। একেবারের বাঁয়ের ছেলেটা নাকি এদের কোচ! শোনো কথা, এদের আবার কোচও আছে।


ধন্যবাদ, মতি ভাইয়া!

আজকের পত্রিকার প্রথম পাতায় বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল- আমাদের মেয়েদের বিজয়ের ছবি দেখে ভাল লাগছে। জাগো বাংলাদেশ!
অবশেষে, প্রথম পাতায় মেয়েরা জায়গা পেল এই জন্য আমি মতিউর রহমান বাচ্চু, আমাদের মতি ভাইকে ধন্যবাদ জানাই।

গতকালকের পত্রিকায়ও এদের ছবি দূরের কথা খবরটাই খুঁজে পাওয়াও দায় ছিল! পূর্বের মত আরেকটা কুইজ চালু করে দেব কিনা ভাবছিলাম [১]। আরে বাপ, ফি রোজ কুইজ চালু করলে এত পুরষ্কার পাব কোথায়!

যাক, বুক থেকে একটা ভারী পাথর নেমে গেল! আমি আরও ভয়ে-ভয়ে ছিলাম এই কারণে মেয়েরা মতিউর রহমান বাচ্চু, আমাদের মতি ভাইয়ের পাকা ধানে মই দিল কিনা! আসলে পাকা ধানে মই’ এটা একটা কথার কথা- আজ আর সেইসব ধানক্ষেতই কই আর খেলার মাঠই-বা কই!

কে জানে, হয়তো এই মেয়েদের ছোড়া ক্রিকেট বলে মতি ভাইয়ের অফিসের কাঁচ-টাচ ভেঙ্গে থাকতে পারে। ঘটনা যাই হোক, এই মেয়েদের পক্ষ থেকে আমাগো মতি ভাইয়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।

মতি, ভাইয়া, গুসসা থুক দো…।

সহায়ক সূত্র: 
১. ইয়ে অমলিনhttp://www.ali-mahmed.com/2018/07/blog-post_10.html

Thursday, July 12, 2018

ট্রাম্প, তুই ল্যাংটা!

এক ইতরকে অন্য একজন পাদুকাঘাত করার পর সেই ইতর বলছে, আরেকটা দিয়া দেখ…। ইতিমধ্যে সেই ইতরকে দু-দশ চপেটাঘাত-পাদুকাঘাত করার পরও তার সেই একই রা, আরেকটা দিয়া দেখ মার্ডার হয়া যাইবি কিন্তু। পরে একজন সেই ইতরকে জিজ্ঞেস করল, মিয়া ঘটনা কী! তোমারে এত্তোগুলা জুতা মারল আর তুমি বা…! সেই ইতরের সাফ উত্তর, জুতায় তো আর গু লাগায়া মারে নেই, মারলে…।

ট্রাম্পের নামের মানুষটাকে আমি কখনও রাস্তাঘাটে পেয়ে গেলে পা ধরে সালাম করব। কারণ? এই মানুষটা অজান্তেই আমার যে কী নিদারুণ উপকার করেছে তা আর বলতে। এই গ্রহে সম্ভবত এমন কোনও অমানবিকতা নাই যেখানে আমেরিকার ‘ছেনেহের’ হাত না আছে।
কেবল ছোট্ট এই ভিডিওটা দেখলে খানিকটা আঁচ করা যাবে আমেরিকার নৃশংসতা!।

অথচ দেখো কান্ড গ্রহের ভাষা বলতে আমরা বুঝি আমেরিকার ভাষা, সাহিত্য বলতে আমেরিকার সাহিত্য, মুভি মানে হলিউডের মুভি। এমনকি ঘটা করে বিভিন্ন সেমিনার করে আমেরিকা আমাদেরকে মানবতা শেখায়। কেবল তাই না লেখালেখিও শেখায় আমেরিকা! আমাদের দেশের যে সমস্ত লেখক আমেরিকায় সাহিত্যসফর না-করেছেন তারা লেখক (!) হতে পারেননি।
আমাদের দেশের কিছু ‘বুড্ডিজীবী’, এই তালিকা দীর্ঘ। কেউ আছেন ভয়ে প্লেনের ‘জানালা’ বন্ধই করেন না কারণ খোদা-না-খাস্তা প্লেন ভুলেক্রমে পাকিস্তানের উপর দিয়ে চলে গেলে খোলা জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়বেন। অথচ যে আমেরিকা আমাদের এই যুদ্ধের কলকাঠি নেড়েছে পাকিস্তানের পশ্চাদদেশে হাত বুলিয়ে দিয়েছে সেই আমেরিকায় ‘ভরমন’ হোক বা ‘ল্যাকাপড়া’ করতে যেতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। আমেরিকায় কোনও প্রকারে যেতে পারলে আত্মা বন্ধক রাখতেও কোনও সমস্যা নেই।

বলছিলাম ট্রাম্পের পা ছুঁয়ে সালাম করার কথা। কেন-কেন? যে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারের শেষ নেই সেই আমেরিকাকে চুতিয়া বানাতে আপ্রাণ সহায়তা করেছে যে মানুষটি সে ট্রাম্প ব্যতীত আর কে! এই মানুষটা গা থেকে যেভাবে একেক করে কাপড় খুলে নগ্ন হয়ে গেছে তা অভূতপূর্ব বটে! একটা মানুষ সে যত সুদর্শন বা সুদর্শনাই হোক না কেন নগ্নগাত্র মানুষটা আর নুরা পাগলা, ক্যাটরিনা বা জরিনার মধ্যে কোনও তফাত নেই। ঝুলেপড়া ইয়ে কাকও ঠোকর দেবে কিনা এই নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ আছে।

তো, ট্রাম্প স্যারের অজস্র কর্মকান্ড থেকে সামান্য কিছু বলি। এই লোকটা এক ‘চুতিয়া টুইটবাজ’- এই আধুনিক যুগে এটা খুব অবাক হওয়ার কিছু না। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হয়েও এই মানুষটা যে প্রকারে টুইট করে তা একটা গুয়ে হামাগুড়ি দেওয়া বাচ্চাও করবে না। জানিস-জানিস আমার ইয়েটা না তার ইয়েটা থেকে বড়…!
এই মানুষটাকে (!) বলা হয় 'আনপ্রেডিক্টেবল ট্রাম্প'- এ কখন কি বলে বসবে বা করে বসবে তা আগাম আঁচ করা মুশকিল।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান যাচ্ছিল সানফ্রান্সিসকো থেকে মেক্সিকো। যাত্রীরা ট্রাম্পকে নিয়ে তুমুল তর্কে জড়িয়ে পড়লে ঠিক তখনই বিমানের পাইলটের গলা ভেসে আসে, ‘ক্যাপ্টেন বলছি। দয়া করে আমার বিমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়ে তর্কে জড়াবেন না’।
তবে এই মানুষটা যে বদ্ধউম্মাদ বা ল্যাংটা পাগল এই একটা উদাহরণই যথেষ্ঠ! ট্রাম্প এক প্রসঙ্গে মন্তব্য করে, ‘ইভানকা আমার মেয়ে না-হলে আমি তার সঙ্গে ডেটিংয়ে যেতাম’। লোকটার লাজ-লজ্জার কোন বালাই নাই। নিজের জামাতাকে দুম করে উপদেষ্টা করে বসে।মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা নতুন খসড়া আইন নিয়ে আলোচনার শুরুটা করেছিলেন ট্রাম্পকে মাথায় রেখে, তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে।

এমনিতে এ হচ্ছে বিশ্ব মিথ্যুক! মিথ্যা বলে ধরা পড়ে, ধরা পড়ে মিথ্যা বলে। নিজে কেবল এন্তার মিথ্যাই বলে না তার লোকজনকে দিয়েও বলায়। রাজনৈতিক পত্রিকা পলিটিকো লিখেছে, ‘ট্রাম্পের মুখপাত্র মাত্র পাঁচ মিনিটের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে চারটি মিথ্যা কথা বলেন’।
এমনিতে এ কুটিলও কম না- আড়াই কোটি ডলারে তার বিরুদ্ধে করা ৩ মামলার সুরাহা করেছে!

হোয়াইট হাউসের খবর সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের ‘ইউএস প্রেস কোর’ বলা হয়। তারা ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লেখেন কারণ ট্রাম্প প্রায়স টুইটারে ব্যক্তিগতভাবে কোনও-কোনও সাংবাদিককে উপহাস করেন, মামলার হুমকি দেন এমনকি শারীরিক প্রতিবন্ধিতার জন্য ব্যঙ্গও করেন।

এও এক অভূতপূর্ব! ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর ইয়েমেনে এক সামরিক অভিযানে নিহত হন নেভি সিলের কমান্ডো উইলিয়াম রায়ার ওয়েনস। তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প কিন্তু ওয়েনসের বাবা ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি!
আর তার অভিষেকে যে সমস্ত বিক্ষোভ হয়েছে তা আমেরিকার জন্য এক বড় লজ্জা!

উন্নত বিশ্বে যে বিষয়টা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় বা ন্যাক্কারজনক মনে করা হয় সেটা হচ্ছে বর্ণবাদ। অথচ ট্রাম্প এক কট্টর বর্ণবাদী। মুসলমানদের প্রতি তার বিদ্বেষ সুপরিচিত। মেক্সিকানদের ধর্ষক, মাদক পাচারকারী বলে সম্বোধন করা, দেওয়াল তুলে দেওয়া নিয়ে গোঁ ধরা। হাইতির সবাই এইডস রোগে আক্রান্ত, নাইজেরিয়রা বস্তিতে বাস করে এই সব অনবরত বকেই যাচ্ছে।
ট্রাম্পের সব চাইতে শুয়রসুলভ আচরণ হচ্ছে, জিরো টলারেন্সের নামে হাজার-হাজার শিশু-কিশোরকে তাদের পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলা। কেবল তাই না অনেকের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা অমানবিকই না রোমহর্ষকও বটে। ভার্জিনিয়ার কিশোর আটককেন্দ্র শেনানদোহ ভ্যালে জুভেনাইল সেন্টারে অভিবাসী কিশোরদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, তাদের নিয়ম করে মারা হয়। উলঙ্গ করে ঠান্ডা ঘরে আটকে রাখা হয়। কালো ব্যাগে মুখ ঢেকে নির্যাতনও চালানো হয়।
যুক্তরাজ্য সফরের পূর্বে লোকজন ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ঢাউস পুতুল উড়ালে যথারীতি ট্রাম্পের ইতরসুলভ উত্তর, 'আ ডোন্ড কেয়া'!
এ নতুন না রাতৈনিক নেতাদের প্রতি বিক্ষোভ জানাতে গিয়ে পচা ডিম-টিম ছুড়ে মারা হয়। কিন্তু পেশাবের কী কাজ! এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ২০০ গ্যালন পেশাব জমিয়েছে ট্রাম্পের জন্য।

খারাপ খবরের মিছিলের মধ্যে আনন্দদায়ক খবর। পর্নো তারকা স্টর্মি। এই ভদ্রমহিলাকে পেলে কদমবুসি করতাম। কারণ স্টর্মি সেই মহিলা যে ট্রাম্পের উদোম পশ্চাদ্দেশে আচ্ছা করে কয়েক ঘা লাগিয়েছিলেন। এই গ্রহের গ্রহবাবার ইয়েতে। ভাবা যায়!

ট্রাম্প জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন করে যখন উল্লাসে ফেটে পড়ছিল তখন ফিলিস্তিনে একের-পর-এক মানব সন্তান মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিল। এর ফল সুদূরপ্রসারী! আমেরিকা-ইসরাইল মিলে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে ফিলিস্তিনিদের পরিচয়! আমি ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারবিশের ‘আইডেনটিটি কার্ড’ কবিতার কয়েকটা লাইন এখানে জুড়ে দিচ্ছি: “লিখে রাখ প্রথম পৃষ্ঠার একেবারে ওপরে:
আমি মানুষকে করি না ঘৃণা …
কিন্তু যদি আমি ক্ষুধার্ত হই
দখলদারের মাংশও হতে পারে খাদ্য আমার
অতএব, সাবধান… 
সাবধান…
সাবধান…
আমার ক্ষুধা থেকে এবং আমার ক্ষোভ থেকে।“

কাউকে-কাউকে দুম করে বলতে শুনি, ট্রাম্প মেথরেরও অধম! দুঃখিত, আমি মেথর নামের এইসব মানুষদের কাছে ক্ষমাপূর্বক নতশিরে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি আমার সমস্ত জীবনে যত ইতর মানুষ দেখেছি তাদের মধ্যে ট্রাম্প ইতরেরও অধম। কয়েক বছর ধরে আমি ‘মেথরপট্টির’ একটা স্কুল পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার সুবাদে ওই হরিজন পল্লিতে দেখেছি ওখানকার লোকজনকেও বিব্রত হয়ে বলতে, ‘বাবু, হামাদেরও একটা ইজ্জত আছে…’।

মি. প্রেসিডেন্ট, স্যার পরিতাপের সঙ্গে আপনাকে বলি, ট্রাম্প, তুই ল্যাংটা!
ভিডিও ঋণ: Indecline 'GINGER'

Wednesday, July 11, 2018

রোগী কে?

প্রফেসর ডা. একেএম ফজলুল হক। এই ডাক্তার সাহেবকে নিয়ে ইতিপূর্বেও আমি বেশ কিছু লেখা লিখেছি [১], [২], [৩]। সব ফেলে কাউকে নিয়ে সিরিজ লেখা শুরু করলে তো সমস্যা। আমার মনে হয় এই প্রতিজ্ঞা করাটা এখন আমার জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে যে প্রফেসর ডা. ফজলুল হককে নিয়ে আর লিখিব না লিখিলে দাঁত দিয়ে চোখ কামড়াতে বাধ্য থাকিব।

কপালের ফের! এমন ঢোলবাজ মানুষ আমি আমার সমস্ত জীবনে তেমন একটা দেখেছি বলে তো মনে পড়ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিজের নামে অসংখ্য আইডি খুলে রেখেছেন।
নিজের একটা আইডি থেকে নিজেই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের পেজে আমন্ত্রণ জানান এমন করে, ‘দিস ইজ আওয়ার পাবলিক ফিগার পেজ’।
এমন লাজহীন একজন মানুষ বড় বিরল! নিজেই নিজেকে পাবলিক ফিগার ঘোষণা দিয়ে ঘোষণার স্তম্ভে পা ছড়িয়ে বসে থাকেন। কেন জানি না আমার চোখে ভাসে মানুষটা উবু হয়ে বিশেষ ভঙ্গিতে বসে আছেন।

প্রফেসর ডা. ফজলুল হক তার নিজের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোগিদের নিয়ে প্রচুর ভিডিও পোস্ট করেছেন। এগুলো কেবল ভয়ংকরসব ভিডিওই না। তিনি সম্ভবত রোগির গোপনীয়তা রক্ষার শপথ ভঙ্গ করেছেন। এই অধিকার একজন ডাক্তারেরও আছে বলে আমি মনে করি না। কেউ-কেউ এমনটাও বলবেন, এখানে হয়তো এটা রোগীর সম্মতিতে হয়েছে। তো?
মুমূর্ষু অবস্থায় বা চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ইশ্বরতুল্য একজন ডাক্তারের কথা ফেলে দেবে একজন সাধারণ রোগী, তাও বাংলাদেশের মত একটা দেশে। এ অকল্পনীয়!

এমনটা যদি হয়েও থাকে তাহলে আমি বলব এই মানুষগুলোকে কি পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, আপনাদের এই ভিডিওগুলো আমি আমার লোভের লকলকে জিভের জন্য জনসমক্ষে উপস্থাপন করব? এই ফজলুল হকের কাছে রোগী নামের এই মানুষগুলো একেকটা সাবজেক্ট হলেও এঁরা আমাদের কারও-না-কারও স্বজন। আমার মনে আছে আমার মার সঙ্গে যে ডাক্তার মহোদয় যেমন অসভ্য আচরণ করেছিলেন আমি ওই ডাক্তারকে নাম দিয়েছিলাম, ‘গু-ডাক্তার’ [৪]। ওদিন আমি যদি আমার মার কথা চিন্তা না করতাম তাহলে হয়তো তখন ওই ডাক্তারকে…থাক সে প্রসঙ্গ।

আচ্ছা ধরুন, কেউ যদি কোন-এক ফজু মিয়ার সাথে কেউ এমন চুক্তি করল পাওনা টাকা ফেরত না-দিতে পারলে তার শরীর থেকে ইয়েটা মানে এক পাউন্ড মাংস কেটে রাখবে তাহলে আইনের বক্তব্য কি?
এখন চিকিৎসা ব্যবসা আমুল বদলে গেছে। ওষুধ কোম্পানিগুলোর আচরণ নোংরারও অধম। এরা যে কেবল ডাক্তারদেরকেই অনৈতিক বানাচ্ছে তাই না তাদের মার্কেটিং-এর লোকজনকেও। তাই এরা যখন আপনার-আমার প্রেসক্রিপশনের ছবি উঠায় তখন আমরা বেকুব বদনে মাথা দোলাই। ওষুধ কোম্পানির লোকজনকে নাহয় চাকুরি বাঁচাতে গিয়ে নোংরামি করতে হয় কিন্তু ফজলুল হকের মত ডাক্তারকে কেন!
এখানে দেখা যাচ্ছে তিনি এক রোগির সঙ্গে বাতচিত করছেন। বাতচিতের নমুনা দেখে মনে হয় এই ডাক্তার সাহেব ডাক্তারখানা আর পায়খানা গুলিয়ে মুখপথ এবং পায়ুপথ একাকার করে ফেলেছেন। ভাগ্যিস, তিনি রোগীকে এই নির্দেশনা দেননি উবু হয়ে বসে কেমন করে বাথরুম সারতে হয় এটার ডেমো দেখাতে। ওরে, কালে-কালে তিনি না আবার রোগীকে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে বাথরুম সারার আবদার করে বসেন।

কিন্তু এই ভিডিও অন্য ভিডিও-এর কাছে নস্যি। তিনি এই ভদ্রমহিলাকে যে ভাষায় জেরা করছেন এটা কেবল অসভ্যতাই না সামাজিক অপরাধও বটে।
এই ভিডিওটা আরও ভয়ংকর। 
* আমি সবগুলো ভিডিও অস্পষ্ট করে দিলাম। তারপরও এঁদের কোন স্বজন আহত বোধ করলে আগাম ক্ষমা চাচ্ছি।

সহায়ক সূত্র:
১. হর্স মাউথ: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_19.html
২. ডাগদর কাম…: http://www.ali-mahmed.com/2016/02/blog-post_6.html
৩. এমন ডাক্তার…: http://www.ali-mahmed.com/2018/03/blog-post_31.html 
৪. গু ডাক্তার: http://www.ali-mahmed.com/2011/08/blog-post_27.html

হাতুড়ি মানব!

আমরা, সাধারণ মানুষ যারা, তারা জীবন নামের একটা আলো-ছায়ার বৃত্তে আটকে অনবরত ঘুরপাক খাই। আমাদের মধ্যে থেকে কেউ-কেউ বৃত্তের বাইরে যেতে পারেন না বটে কিন্তু তাঁর একটা পা থাকে বৃত্তের বাইরে। এঁরাই আমাদের আলোর দিশারি। যাদের চালু নাম বুদ্ধিজীবী। কিন্তু আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী মহোদয়গণ এতোটাই আলোকিত হয়ে যান যে আমাদের চোখ ঝলসে যায়। কালে-কালে আমরা পরিণত হই একটা কানা জাতিতে!

আমাদের এই বুদ্ধিজীবী ভদ্রলোক গত হয়েছেন চালু করে গেছেন ‘ভাষাকন্যা’ শব্দটা। কিন্তু সৈয়দ সাহেব শব্দটার বিশদ ব্যাখ্যায় আর যাননি [১]

আমাদের গুণ দাদা! অতি বিখ্যাত ‘খিস্তি-খেউর দাদা’ [২]। ভদ্রলোককে স্বাধীনতা পদক না-দেওয়া পর্যন্ত এমন গাল ফুলিয়ে রইলেন যে একটা ব্যাঙও হার মানে [৩]। 

আমাদের আরেক সৈয়দ সাহেব, সৈয়দ আবুল মকসুদ। ঢাকার ‘লুকজন’ কেন রাস্তায় মুত্র বিসর্জন করে এটা নিয়ে ক্ষেপে লাল হয়ে গেলেন। ওসময় পত্রিকার একটা খবর ছিল এমন, "ঢাকায় ৫৫ লক্ষ মানুষের জন্য ৪৫টি পাবলিক টয়লেট"। এই হিসাবটা ক্যালকুলেটরে করার চেষ্টা আর করলেন না যে আনুমানিক ১ লক্ষ মানুষের জন্য প্রায় ১টা টয়লেট! পাবলিক মুতে খালাশ তিনি লিখে [৪]

আমাদের আনিসুজ্জামান মহোদয়। তিনিই চালু করে দিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া শ্রেষ্ঠ বাঙালি [৫]! সোজা কথা, ২৩ কোটি বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে খালেদা জিয়াই শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বাংলাদেশের কেউ দাঁড়াতে তো পারলেনই না, ভারত থেকেও কেউ না। তিনি এখন আমাদের জাতীয় অধ্যাপক।

আমাদের জাফর ইকবাল, মহোদয়! লিখতে গেলেই এই ভদ্রলোকের প্রসঙ্গ বারবার চলে আসে। কেউ হয়তো পাকা গোঁফে তা দিয়ে দুম করে বলে বসবেন, আমি কেন তাঁর পাকা ধানে মই দিচ্ছি। বিষয়টা এমন না। স্যার কেন যেন এমন আজনবি ভাষায় কথা বলেন যা আমাদের মত সাধারণ মানুষের বোঝার যো নেই। এই যেমন বিশ্বজিৎকে যখন কোপানো হল এই ভদ্রলোক একটা ‘পানিজল’ টাইপের একটা লেখা লিখলেন। ওই লেখাটা এতই আবেগে থই থই ছিল যে ওটা পড়ার এক সপ্তাহ পর আমার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে গেল কারণ পানিজল-জলপানি চোখে ফিরে আসা আর সম্ভব ছিল না।
বিশ্বজিতের খবরটা পড়তে নাকি তাঁর এক সপ্তাহ সময় লেগেছিল, "...ঘটনার সপ্তাহ খানেক পর একটু সাহস সঞ্চয় করে আমি যখন খবরের কাগজগুলো পড়েছি...তখন আমি বুঝতে পেরেছি বিশ্বজিৎ লাল শার্ট পরেনি, রক্তে ভিজে তার শার্ট লাল হয়েছে..." [৬]
আহারে, বড় আজবোজ মানুষ তো! প্রায় ৭/৮ দিন এই ভদ্রলোকের কেবল সাহস সঞ্চয় করতেই সময় লেগে গেল! এবং তখন তিনি ফট শব্দে চট করে বুঝে গেলেন রক্তের রঙ লাল হয় এবং সেই রক্তে বিশ্বজিতের শার্ট…ব্লা-ব্লা-ব্লা।
ঋণ: মাছরাঙা টেলিভিশন
আচ্ছা থাকুক, এই সব উদাহরণ অনেক লম্বা- স্যারদের কথা বলে শেষ করা যাবে না। এতক্ষণ তবলার ঠুকঠাকের কারণটা হচ্ছে, আবদুল্লা আল মামুন নামের এক 'হাতুড়ি মানব' মাছরাঙা টেলিভিশনে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছে তাতে স্পষ্ট অজস্র প্রমাণ থাকার পরও বাংলাদেশের কোন আইন, কারও কোন শাসন তাকে স্পর্শ করেনি! ক্ষমতাশীন কেউ তাকে সামান্য বকাও দেননি!
যারা দেশ চালান তাঁরা আমাদের চেয়ে অনেক বুদ্ধি রাখেন বলেই তাঁরা ওখানে আছেন। এমনিতে নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করলে সরকারের বিপুল অর্জনও আছে। কেবল পদ্মা ব্রিজের কথাই ধরি না কেন। কিন্তু একজন আবদুল্লা আল মানুন যে একেক ঘায়ে পদ্মা ব্রিজের একেকটা স্প্যান ফেলে দিচ্ছে এটা কী তাঁদের চোখে ধরা পড়ছে না?! আফসোস, কফিনে এ এক অমায়িক পেরেক!

যাই হোক, কথা হচ্ছিল আলোকিত মানুষ নিয়ে। ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর একটা সাক্ষাৎকার পড়ে আমরা মনটা বিষণ্নতায় ছেয়ে গিয়েছিল। এক জায়গায় তিনি বলছিলেন, ‘যা ভাবি তা বলতে পারি না’। আমি জনান্তিকে বিড়বিড় করছিলাম, স্যার, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়ে এই কথা বললে আমরা কোথায় যাই কার কাছে যাই? কষ্টটা খানিক কমল দুদিন আগে তিনি কোটা সংক্রান্ত জটিলতার নৃশংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন, অল্প কিছু শিক্ষকসহ।
ঋণ: news24
অথচ এই খবরটা আমাদের দেশের এক পা এক আঙ্গুল এগিয়ে থাকা পত্রিকার কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না। পত্রিকার নাম বলার আগ্রহ পাচ্ছি না কারণ এই পত্রিকার সমালোচনা করলে এর কাটতি বেড়ে যায় এমনটাই ধারণা পত্রিকা সর্দারদের…। 

সহায়ক সূত্র:
১. শ্রদ্ধাস্পদেষু…: http://www.ali-mahmed.com/2015/05/blog-post_30.html 
২. গুণবান গুণ: http://www.ali-mahmed.com/2012/11/blog-post_28.html
৩. কবিবর…: http://www.ali-mahmed.com/2016/05/blog-post.html
৪. নরমুত্র: http://www.ali-mahmed.com/2011/02/blog-post_09.html
৫. আনিসুজ্জামান…: http://www.ali-mahmed.com/2013/03/blog-post_18.html 
৬. বিবেক নামের রাস্কেল: http://www.ali-mahmed.com/2012/12/blog-post_21.html

Tuesday, July 10, 2018

ইয়ে অমলিন!

গতকাল আমাদের মেয়েরা ক্রিকেটে স্বাগতিক হল্যান্ডকে একেবারে লম্বা করে দিয়েছে- ৭ উইকেটে হারিয়ে!

একবার একজন আমাকে বলেছিলেন কোন দেশ সম্বন্ধে জানতে হলে তার এয়ারপোর্ট এবং পত্রিকার নমুনা দেখবে। এয়ারপোর্টের বিষয়টা বুঝেছিলাম কিন্তু পত্রিকা কেন জরুরি এটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। উদাহরণের জন্য আমি একটি চালু দৈনিক পত্রিকাকে বেছে নিচ্ছি। সবাই নাকি এক পা এগিয়ে থাকে এই পত্রিকা থাকে এক পা এক আঙ্গুল এগিয়ে। অভিনন্দন, বাড়তি এক আঙ্গুলের জন্য।

গতকালের সালমাদের যে অর্জন এর ধারাবাহিকতা আজকের না। ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে নাকের পানি চোখের পানি একাকার করে দেওয়া। এবং পাকিস্তানি মিডিয়ার মুখে ইয়ে লাগানো জুতা ছুঁড়ে মারা। আমি পূর্বের লেখায়ও লিখেছিলাম পাকিস্তানি মিডিয়া আমাদের মেয়েদেরকে নিয়ে বিশেষ করে চেহারা নিয়ে যে অসভ্য, ইতরের আচরণ করেছে তা ওই ভিডিওটা দেখলে খানিকটা আঁচ করা যাবে [১]

পত্রিকা ভাইরে, আমরা বিশ্ব-ব্যালোল, বিশ্বকাপ, টংকা ওরফে টাকা এইসব খানিকটা বুঝি। বিশ্বকাপের খবর কাভার করার জন্য চার জন দুঁদে সাংবাদিক পাঠিয়েছেন, উত্তম। তাই বলে অফিস তো আর খালি হয়ে গেল না। ‘বিশ্বকাপ নিয়ে সবাই যখন ছাদে উড়ায় ঘুড়ি টুলে বসে যে চিবায় ন্যাতানো মুড়ি’, অন্তত তাকে ‘দম্পিউটারের’ সামনে বসিয়ে দিলেও তো হয়।

আচ্ছা এই সব ভারী-ভারী কথা নাহয় থাকুক হালকা চালের কিছু কথা বলা যাক। একটা কুইজ। প্রথম পৃষ্ঠা-শেষ পৃষ্টায় আমার মত বেকুব পাঠক আশা করি না যে এখানে সালমাদের বিজয়ের ছবি দূরের কথা এক কলাম কোন তথ্য থাকবে।
স্ক্রিণশট ঋণ: প্রথম আলো ৯ জুলাই ২০১৮
তাই এখানে চার পৃষ্ঠায় সালমাদের নিয়ে কোথায় লেখা হয়েছে এটা বের করতে পারলে পুরস্কার পাওয়া যাবে ফিফার বাংলাদেশ শাখার প্রেসিডেন্টের পদছাপসহ একটা ফুটবল। এই ফুটবলের সংখ্যা একেবারেই সীমিত।

সহায়ক সূত্র
পাকিস্তানি মিডিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2018/06/blog-post_10.html

Saturday, July 7, 2018

দমিনাস, জাফর ইকবাল এবং 'বাচপানা'!

ড. জাফর ইকবাল হালে একটি লেখা লিখেছেন। ‘ওয়ার্ল্ড কাপ’ [১]। সেখানে তিনি এক জায়গায় লিখেছেন, “…জাতীয় সঙ্গীত যে রকম শুধু কিছু শব্দ আর কিছু বাক্য নয় আরও অনেক বড় কিছু; জাতীয় পতাকাও সে রকম শুধু সেলাই করা দুই টুকরো কাপড় নয়, আরও অনেক বড় কিছু…”।

স্যার, আপনার তো অনেক বুদ্ধি-বলেন তো এ্ই ছবিতে আমাদের জাতীয় পতাকা কোনটা? আচ্ছা, আরও সহজ করে দেই। লাল বৃত্তটা যে দেখতে পারছেন ওই বৃত্তের ভেতরটাই আমাদের পতাকা। আপনার জন্য একটা কুইজ ওই পতাকাটা কিসে বাঁধা, বলেন তো? ইশশ রে, পারলে না, রুমকি- পারলেন না জাফর ইকবাল। 
আহা, পতাকা যে দু টুকরো সেলাই করা কাপড় নয় এটা আমরা এই প্রজন্ম আগেই জেনেছি বলেই তো যখন অন্য দেশের ঢাউস পতাকার সঙ্গে হেলাফেলা ভঙ্গিতে আমাদের জাতীয় পতাকা বেঁধে দেওয়া হয় তখন আমরা ক্ষোভে ধিক্কার জানিয়ে বলি, “…আহা, দেশপ্রেমিক একেকটা” [২]!

কী কান্ড, আমি আরও হতভম্ব হয়ে ভাবছিলাম এই আইডিয়া কার মাথা থেকে বেরিয়েছে! ওহ, এটা তাহলে আপনার আইডিয়া, হের জাফর ইকবাল?! আপনি এই লেখারই অন্যত্র লিখেছেন, “…আমার ধারণা তারপরও যদি কেউ তার প্রিয় ফুটবল টিমের দেশটির পতাকা টানাতে চায় তাহলে তার ওপর বাংলাদেশের একটি ফ্ল্যাগ টানিয়ে রাখতে পারে…।

খেলুড়েদের কল্যাণে আমি লম্বা ঝাড়ুর হাতলেও জাতীয় পতাকা বাঁধতে দেখেছি। অন্য পতাকার বেলায় রঙকরা বাঁশ আর আমাদের পতাকার বেলায় ঝাড়ুর হাতল! দিন নেই রাত নেই- রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে একেকটা জাতীয় পতাকা আর জাতীয় পতাকা রইল কই! অল্পবয়স্ক, লেখাপড়া কমজানা ছেলেপুলেদের কাছ থেকে আর কী আশা করা যাবে ডমিনাস, জাফর ইকবাল?
কিন্তু আপনি সেনর জাফর ইকবাল আপনি তো জানেন জাতীয় পতাকা ওড়াবার বেশ কিছু নিয়ম-কানুন আছে। বাড়ির জন্য এক হিসাব, গাড়ির জন্য অন্য মাপ। সূর্য ডুবে যাওয়ার সাথে-সাথে…ইত্যাদি ইত্যাদি।এই সব বিষয়ে আপনাকে জ্ঞান দেওয়াটা বাতুলতা মাত্র।

আবেগে, জ্ঞানের অভাবে কেউ-কেউ দুম করে একটা কান্ড করে বসে আমরা কখনও-কখনও দেখেও না-দেখার ভান করি। জনান্তিকে বলি, আরে ধুর, পোলাপাইনের কাজকারবার…। কিন্তু আপনি তো একেবারে চার-কোণা চাকা গড়গড় করে চালিয়ে দিলেন, কেউ চাইলে “…তাহলে তার ওপর বাংলাদেশের একটি ফ্ল্যাগ টানিয়ে রাখতে পারে…”।

আর আপনি যে লিখলেন, “…সেদিন আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সের মাঝে খেলা হচ্ছে- আমার বাসায় টেলেভিশন নেই তাই খেলা দেখতে পাচ্ছি না…”।
আহারে-আহারে! বিষণ্নতায় আক্রান্ত হলাম, বুঝলেন মঁশিয়ে জাফর ইকবাল, পূর্বেও আপনি তোতাপাখির মত বহুবার এই কথাটা বলেছেন অামার টেলিভেশন নাই। আপনার এই কথা শুনে-শুনে আপনার সাদা গোঁফের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের নিজেরই চুল সাদা হয়ে যাচ্ছে! আপনার সমস্যাটা কী, মশায়! আপনার কি টেলিভিশন কেনার টাকা নাই? না-থাকলে স্পষ্ট করে বলেন। আমরা চাঁদা করে আপনাকে একটা টেলিভিশন কিনে দেব নে ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট না কালার। না-না, সনি (একটা বিয়েতে যৌতুক নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। মেয়েপক্ষ বলেছিল কালার টেলিভিশন দেবে কিন্তু বরপক্ষ হইচই শুরু করল, না-না, কালার না সনি টেলিভিশন!)। ফান না, সত্যি-সত্যি আপনাকে কিনে দেওয়া হবে। আপনার গোঁফের শপথ।

নাকি ওসব কিছু না, আপনার কি ধারণা টেলিভিশন থাকাটা একটা ক্রাইমের পর্যায়ে পড়ে? বা এটা অতি কুৎসিত একটা তরল পদার্থ! যারা টেলিভিশন দিয়ে খবর চালায় তারা বড় বেতমিজ? আপনার এমনটা মনে হলে দোষ দেওয়া যায় না কিন্তু বারবার আপনি এটা ঘটা করে বলেন কেন?
দেখুন মহতারাম, আমাদের কারও বদনা নাই, কারও এসি নাই। এটা নিয়ে ইয়ের মত চর্বিতচর্বন করে জনে-জনে বলার তো কোন মানে হয় না। পরিশেষে পরিতাপের সঙ্গে বলি মেঘে-মেঘে বেলা হচ্ছে কিন্তু আপনার ভাবনার চরমোৎকর্ষ আর হচ্ছে না। আফসোস, বড়ই আফসোস! যেমনটা আপনি এই লেখায় আরও যোগ করেছেন, (ভিন দেশের পতাকার অাধিক্যের কারণে)“…হঠাৎ করে কেউ এ দেশে হাজির হলে এটি কোন দেশ সেটি নিয়ে বিভ্রান্ত হতে পারে”।

অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশে যে মানুষটা প্লেনে দাঁড়িয়ে আসবে এবং প্লেনের জানালা খুলে শোঁ শোঁ বাতাসে ঘুমিয়ে-ঘুমিয়ে সময়টা পার করে আমাদের এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে দেখল টিকেট-পাসপোর্টের সব লেখা পালিয়ে গেছে। পতাকার ছড়াছড়ি দেখে হড়হড় করে বমি করে ভাববে, কোন দেশে এলুম রে, বাপ।
ওয়েল, ওই লোকটার দায়িত্ব আপনার, আমাদের না…।

সহায়ক সূত্র:
http://www.banglatribune.com/columns/opinion/340083/%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%A1-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AA
২. জরু-গরু...http://www.ali-mahmed.com/2018/06/blog-post_29.html

Tuesday, July 3, 2018

ফেরা, না-ফেরার দেশে।

প্রবাসীদের মধ্যে কেউ-কেউ নিজেদের নিয়ে একটা নিষ্ঠুর রসিকতা করেন, ‘দেশে ফিরার সময় প্লেনে বইসা আইবেন না ভিআইপি হয়া আইবেন’। ভিআইপি মানে শুয়ে-শুয়ে আসা। মানুষটা দেশে ফেরেন বটে কিন্তু না-ফেরার দেশে। কফিনবন্দি!

একবার হলো কি (এটা সত্য ঘটনা) গ্রামের দরিদ্র পরিবারের একজন প্রবাসে মারা গেছেন। এখন তাকে দেশে ফেরত আনতে গেলে বিস্তর খরচ। লাশটিকে শূন্য হাতে ফিরতে হয় কিন্তু না-ফিরলে বেশ কিছু টাকা পাওয়া যায়। চুজ, হেলথ অর টোব্যাকো! সন্তানের লাশ না টাকা? মাটা অনেক ভেবে টাকা বেছে নিলেন।
আমরা নির্বোধ চোখে কেবল মার লোভটাকেই দেখলাম কিন্তু মাটার গড়াগড়িকরা কান্নাটা আর দেখব না! তাঁর যে আছে সোমত্ত মেয়ে, পরিবারের ক্ষিধার রাক্ষুসে আগুন।
ভিডিও ঋণ: সময় টিভি
সম্প্রতি যে ঘটনাটা ঘটল। এক এমপি সাহেবের বখা ছেলে গাড়ি চালাতে গিয়ে একজনকে মেরে ফেলল। রক্তের দাগ থেকেই যায়- ওখানে মগজের সঙ্গে লেপ্টে রইল অডির নাম্বারপ্লেট! সেই সূ্ত্র ধরে জানা গেল বিস্তারিত।

কেউ-কেউ এখনও বাস করেন কল্পনার স্বর্গে! অসমসাহসী একজন মানুষ মোটর সাইকেলে অডিকে তাড়া করে অবশেষে ধরেও ফেলেন। সমস্ত প্রমাণ এমপিপুত্র শাবাব চৌধুরির বিপক্ষে কিন্তু অসমসাহসী সেই মানুষটা সম্ভবত বিস্মৃত হয়েছিলেন এটা বাংলাদেশ! তাই একজন এমপিপুত্রের এহেন ধৃষ্টতাপূর্ণ কথা বলা সম্ভব!

যাই হোক, আমাদের দেশ যারা চালান তাঁরা এটা মাথায় রাখলেই ভাল করবেন এমন একজন শাবাব চৌধুরি একাই পদ্মার একটা স্প্যান ফেলে দেন। আমাদের দেশে আইনের লোকদের বহুল প্রচলিত একটা কথা আছে কেউ অভিযোগ করেনি, করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে [১]

কী আজব, কোনও এতিমকে খুন করে ফেললে কী বিচার হবে না এই যুক্তিতে যে তার কোনও স্বজন নাই তার পক্ষে অভিযোগ করার জন্য! আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে আইন সেই অপরাধের অপরাধীকে ধরবে, দ্যাটস অল। এখানে কেউ অভিযোগ করল কি করল না তাতে কী আসে যায়!
আরেকটা চালু সমস্যা হচ্ছে ‘আপস’। এই আপসের নামে অধিকাংশ অপরাধী পার পেয়ে যায়। এই ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কেউ-কেউ এই কারণে ভুক্তভোগি পরিবারকে ধিক্কার দিয়েছেন। ওই যে লেখার শুরুতে বললাম বাস্তবতা। বাস্তবতার চেয়ে কঠিন আর কিছু নাই।
কিন্তু আপসসম্মতিই তো শেষ কথা না। কারণ কেউ এমন একটা আপস করল যে সে তার আত্মা বন্ধক রাখবে। এই আপসটা তার সম্মতিক্রমে হচ্ছে কিন্তু আইনসম্মত কিনা সেটাও তো দেখার বিষয়।

সচরাচর আমাদের মন্ত্রী মহোদয়গণ এমন অবোধ্য ভাষায় কথা বলেন যা আমাদের আর বোঝার যো থাকে না। কিন্তু আইনমন্ত্রী মহোদয় এই ক্ষেত্রে স্পষ্ট করে বলেছেন, “যে ধারায় মামলা হয়েছে, তাতে মীমাংসার সুযোগ নেই। আমি যত দূর জেনেছি ও শুনেছি, মামলার পেনাল কোডের ধারা হচ্ছে ২৬৯ ও ৩০৪ পার্ট-২। এই দুটি ধারায় মামলা আপসযোগ্য নয়। বাদীপক্ষ একটি দরখাস্ত দিয়েছেন। যতই দরখাস্ত হোক না কেন, এই মামলার সম্পূর্ণ তদন্ত হবে। তদন্তের তথ্য অনুযায়ী পুলিশ প্রতিবেদন দেবে এবং আদালত সেটা বিচার করবে। (প্রথম আলো ২৬.০৬.২০১৮)”
আমি আইনমন্ত্রীকে আন্তরিক  ধন্যবাদ জানাই এই স্পষ্ট বক্তব্যের জন্য।

আমি আশাবাদি মানুষ। আশায়-আশায় বুক বাঁধি এই এমপিপুত্রকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে দেখব…।

সহায়ক সূত্র:
১. বেচারা এতিমদের গতি কীhttp://www.ali-mahmed.com/2010/10/blog-post_11.html