Monday, July 30, 2018

খুনের মিছিল!

এই মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত বাস মালিক এবং এদের পেছনের ‘দাঁতাল-দাতলাগুলোকে’ আইনের আওতায় না-আনা হবে। ড্রাইভার-হেলপারকে ধরা না-ধরা সমান। 
কোন পান্ডা কোন বাস মালিক কেমন করে বাসগুলো চালাচ্ছে একটু পত্র-পত্রিকায় চোখ বুলালে অনেকটা আঁচ করা যাবে। আমার হাতে এখন বাংলাদেশ প্রতিদিনের ২০ এপ্রিল ২০১৮ সালের একটা রিপোর্ট- ‘বেপরোয়া পরিবহনের মালিক কারা’। অধিকাংশ বাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোনও-না-কোনও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। এই রিপোর্টের একাংশও সত্য হলে তা ভয়াবহতাকে ছাড়িয়ে যায়।
ভিডিও ঋণ: সময় টিভি
মন্ত্রী মহোদয় শাহজাহান খানকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি হাসতে-হাসতে আবার পাল্টা প্রশ্নও ছুড়ে দিয়েছেন, ভারতে লোক মরলে বিশেষ কথা হয় না আমাদের এখানে কেন এত কথা, ব্লা-ব্লা-ব্লা। ভারতের সঙ্গে তুলনা কেন! [*] মারা গেছে আমাদের সন্তান আমাদের গড়াগড়ি করে কান্নার সময় আপনার এই সমস্ত রসিকতা কেন?
শোনেন, আমরাও একটা রসিকতা করি। ভারতের লোকজনেরা গরুর মুত খায় তা আমরাও কী মুত খাওয়া শুরু করব নাকি! ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বান্দরের আর্শীবাদ নিয়ে আপ্লুত হন। দেশের রাজনীতিবিদরাও কি বান্দর খোঁজা শুরু করবেন!
আমাদের সড়ক পরিবহন মন্ত্রী মহোদয় খুবই অমায়িক ভঙ্গিতে হাত নেড়ে-নেড়ে দুনিয়ার তাবৎ বিষয় বুঝিয়ে দেন। তিনি তো এর দায় এড়াতে পারেন না তাই মন্ত্রী মহোদয় যদি একটু এই বিষয়ে এই বাবাটাকে একটু বোঝাতেন।
যার মেয়ে দিয়া খানম মিম খুন হয়েছে। বাবা জাহাঙ্গির আলম মেয়ের ভাঙ্গা ছাতা নিয়ে হাহাকার করছেন। আহারে-আহারে, বাবাটা...।

এই দেশ কেউ মালেয়শিয়া কেউ সুইটজারল্যান্ড বানাবার তালে আছেন। কেউ জেলায়-জেলায় বিমানবন্দর করার স্বপ্নে বিভোর। বেচারা মুরগিই খেতে পায় না সেখানে আমরা একের-পর-এক হাতি কিনে উল্লসিত। হাতির খাবারের চিন্তা করার সময় কোথায় আমাদের চারদিকে যে কেবল উন্নয়ন।

এই তো সেদিনের কথা। নেপালের আইনমন্ত্রী শের বাহাদুর তামপাং। কাঠমান্ডুর এক অনুষ্ঠানে এক বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন। বাংলাদেশে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়তে আসা নেপালি মেয়েদের নিয়ে, ‘সনদ নিতে গিয়ে তারা নিজেদেরকে বিক্রি করে দেয়’। ব্যস, আর যায় কোথায় সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। মন্ত্রী তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন এবং দুঃখপ্রকাশ করেন। কিন্তু লাভ হয়নি! অবশেষে তিনি পদত্যাগ করেন।
সামান্য নেপাল হওয়ার মুরোদ নাই আমাদের...।

* পোস্টের একেবারে নীচে আমি যে ভিডিওটা পোস্ট করছি এটা দুর্বলচিত্তের মানুষকে না-দেখার জন্য কাতর অনুরোধ করি।  তাহলে কেন এটা এখানে দিচ্ছি? কেবল মনে হচ্ছে কেবল মনে হচ্ছে আমার সন্তান যেন এমন করে পড়ে আছে...।
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.



No comments: