Tuesday, July 31, 2018

চলমান দানব এক!

কুমিল্লার চান্দিনায় আজকেও ট্রাক চাপায় এক স্কুল ছাত্রী নিহত হয়েছে।
এটা একটা সংখ্যা মাত্র, এই দেশের জন্য! কিন্তু তার বাবা-মার জন্য এটা কেবল একটা সংখ্যা না। সন্তানের নিথর দেহ সামনে নিয়ে শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দলা পাকায়, গলায় এসে। বোধবুদ্ধি হারিয়ে যায়। নইলে সন্তানহারা বেকুব বাবা কেন বারবার বলবেন, তার মেয়ের লাশ নামাবার সময়, ‘আরে কী করো-কী করো, আস্তে নামাও না মাইয়াডা দুক্কু পায় না বুঝি’

খুনের মিছিলে [১] মন্ত্রীর ‘তেলিয়া’ হাসি এটার মূল সমস্যা না। সমস্যা অন্যত্র। চলে আসা এই সব চলমান খুনের সঙ্গে অনেক সংস্থা জড়িত। শত-হাজার কোটি টাকার ব্যবসা এটা। পরিবহনের সঙ্গে জড়িত গুন্ডাদের কথা বাদ দিলেও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটা চার-চক্র যান দূরের কথা এক-চক্র যানও রাস্তায় চলবে, এ অসম্ভব। অল্প কিছু উদাহরণ ব্যতীত একটা গাড়িও মাসিক সেলামি না-দিয়ে রাস্তায় নামার চিন্তা বাতুলতা মাত্র। বিআরটিএ-এর আঙ্গুলের নরোম পরশ ব্যতীত কোন ফিটনেসবিহীন গাড়ি চক্রব্যূহ ভেদ করবে এটা কেবল বাংলাদেশের রঙিনচশমা-সাদাগোঁফ বুদ্ধিজীবী ব্যতীত অন্য কেউ বিশ্বাস করেন এটা অন্তত আমি বিশ্বাস করি না।

এই সব চক্রের ফাঁদে আটকা পড়ে গেছি আমরা, বেচারা, ট্যাক্সপেয়িরা। আটকে পড়েছি নানা জনের লাল চোখের লালিমায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চোখ রাঙানির উপৱই আছি আমরা। কেউ আমাদেরকে চোখ লাল করে বলেন, হাত বাইরে রাখেন কেন? কেউ বলেন, রাস্তার পাশে দাঁড়ান কেন? কেউ-না কোন দিন আবার দুম করে বলে বসেন, বাসা থেকে বের হোন কেন?
চারদিকের উন্নয়নের চাপে নাভিশ্বাস আমাদের কেবল নাকটা কোনও প্রকারে ভাসিয়ে রেখেছি আমরা। সমুদ্র থেকে মহাশূন্য সবই জয় করা শেষ এখন আর করার কিছুই নাই আমাদের।
আমি জানি না কে প্রথম এই ভিডিওটা আপলোড করেন। তাঁর প্রতি নতজানু হয়ে সালাম জানাই। এই একটা ভিডিও গোটা দেশের চিত্র তুলে ধরেছে- বানরের হাতে ক্ষুর! একটা চলমান দানবকে আমরা রাস্তায় ছেড়ে দিয়েছি। আপনি হতে পারেন আন্তর্জাতিক লাইসেন্সধারী একজন চালক তাতে কী আসে যায়! দানব আপনাকে স্রেফ নরোম একতাল মাংসপিন্ড বানিয়ে দেবে। আপনি হতে পারেন বুদ্ধি গড়িয়ে পাঞ্জাবি ভিজে যায় এমন একজন বুদ্ধিজীবী তাতে কিছুই যায় আসে না- আপনার মগজ গড়াবে উত্তপ্ত পিচে।

মে আই আস্ক, এই চলমান দানব প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর আমাদের বেতনভুক্ত কর্মচারী মহোদয়গণ কী করছেন? যাত্রী বোঝাই হয়ে কেমন করে এটা একটি ব্যস্ত রাস্তায় চলে? আহা, আমাদের বেতনভুক্ত কর্মচারী মহোদয়গণ একেকজন তো পাজারো স্পোর্টস ব্যতীত যত্রতত্র হুটার না-বাজিয়ে চলাফেরা করে আরামই পান না। কী দবদবা একেকজনের! 

স্যার-মহোদয়গণ, আপনারা আপনাদের মত করে থাকুন কেবল দয়া করে আমাদের সন্তানদের প্রাণটা আমাদের কাছেই রাখতে দিন। আমাদেরকে আমাদের মতো করেই থাকতে দিন এন্ড রিমেম্বার, ডোন্ট শো ইয়্যুর রেড আইজ…।

সহায়ক সূত্র:
১. খুনের মিছিলhttps://www.ali-mahmed.com/2018/07/blog-post_30.html

No comments: