Tuesday, May 26, 2020

মন, এক শক্তিশালী অস্ত্র!

লেখক, Ahmad Jamshed Kamal

ছবি ঋণ: Biography.com
"হ্যারি হুডিনি তখন তুখোড় পারফরমেন্স দেখিয়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। একের পর এক বন্ধ দরজা খুলে খুলে নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন সত্যিকার জাদুকরী অবস্থানে। তাঁকে ছোঁয়া তখন অসম্ভব।

তো সে সময় একদিন তিনি প্রচন্ড কনফিডেন্স আর দাম্ভিকতা নিয়ে ঘোষণা দিলেন, যে-কোন জেলের তালা ভেঙে ১ ঘণ্টার ভেতর বের হতে পারবেন। এই দাম্ভিক চ্যালেঞ্জ সবাই স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছিল কারণ তিনি তখন 'দ্যা হ্যারি হুডিন', অদমনীয়। কিন্তু দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাচীন একটি জেলের কর্মকর্তারা চ্যালেঞ্জটি একসেপ্ট করেন। জেলটির সবগুলো সেল ছিল সবচেয়ে মজবুত লোহার বার দিয়ে বানানো।
হুডিনির একটিই কন্ডিশন ছিল, তাঁকে তাঁর নিজের অভ্যস্ত জামা কাপর পরে ঢুকতে দিতে হবে।

অবশেষে দিনটি এলো, জেলের চারপাশে অসংখ্য দর্শকের ভীড়। হুডিনি তাঁর স্বভাবজাত কনফিডেন্স নিয়ে জেলে ঢুকলেন, জেলর তাঁকে নিয়ে সেলের কাছে গেলেন, হুডিনি সেলে ঢোকার পর জেলর প্রচন্ড ভারী দরজাটি টেনে বন্ধ করে দিলেন। সময় এক ঘণ্টা, দর্শকরা তুমুল উত্তেজিত। হুডিনি তাঁর শার্ট খুললেন, প্যান্ট-এর বেল্ট খুলে বের করলেন দশ ইঞ্চি লম্বা প্রচন্ড শক্ত আর ফ্লেক্সিবল ষ্টীলের তার। অনমনীয় কনফিডেন্স আর ব্যঙ্গাত্মক হাসি মুখে শুরু করলেন সেলের তালা ভাঙ্গার চেষ্টা। ১ ঘণ্টার ভেতর তখন ৩০ মিনিট পার হয়েছে, হুডিনির অভিব্যক্তিতে তখন আর কনফিডেন্সের ছিটেফোঁটা নেই। তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ১ ঘণ্টার মাথায় তাঁর সারা শরীর ঘেমে ভিজে গেছে। তিনি চেষ্টা বন্ধ করেননি! ঠিক ২ ঘণ্টার মাথায় হুডিনি পরাজিত, বিধ্বস্ত। ব্যর্থতার ভারে ভয়ানক বিপর্যস্ত, নুইয়ে পরে সেলের দেয়ালে পিঠ রেখে ক্লান্তিতে যখন হেলে পরলেন, সেলের ভারী দরজাটি খুলে গেল।

খুলে গেল কারণ দরজাটি কখনোই বন্ধ ছিল না। বিষয়টি খুব ট্রিকি, আসলে সেলের দরজাটির তালা মোটেও বন্ধ ছিল না। কিন্তু হুডিনির মাথায় ছিল ভারী লোহার বন্ধ সেল আর অসম্ভব জটিল একটি তালা, যা কিনা দেশের সেরা তালা মিস্ত্রির বানানো। খুব সাধারণ এক জেলরের সামান্য একটি 'মাইন্ড ট্রিক'-এর কাছে হেরে গেলেন দ্যা হ্যারি হুডিনি।
'মন' ভীষণ রকম পাওয়ার-ফুল। আপনার মনে ঠিক কতটি বন্ধ দরজা আছে যা আসলে খোলা? ঠিক কতবার আপনি আটকে গিয়েছেন আপনার মনের জেলখানায়, শুধুমাত্র 'ওভার থিংকিং'-এর কারণে? আগে থেকে ঠিক করে রাখা 'মাইন্ড-সেটের' কারণে? যা কিনা খুব সহজেই অতিক্রম করা যেত, যায়?

একটি প্রাচীন কথা আছে, 'যদি মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা শত্রুকে আপনি হারাতে পারেন, বাইরের কোন শত্রু আপনাকে ঘায়েল করতে পারবে না'। আপনার ভয়ানক পাওয়ার-ফুল মন আপনাকে বারবার বলবে 'আপনি এই কাজের জন্যে প্রস্তুত নন', 'আপনি দুর্বল, কাজটি শক্ত মানুষের জন্যে', 'চেষ্টা কইরেন না, হেরে যাবেন'? অনেক অনেক বার। মন আপনাকে অনেক 'মিথ্যে ভয়' দেখাবে, দুর্বল করবে। বের হতে চান? আপনার 'মন'-কে তাঁর মতামতের জন্যে ধন্যবাদ জানিয়ে মনের বলে দেয়া আপাত বন্ধ দরজাগুলো খুলে এগিয়ে যান। আপনাকে রোখার সাধ্য কারো নেই। কারণ হুডিনি আপনাকে দেখিয়ে দিয়েছেন, সত্যিকার বন্ধ দরজা গুলো আসলে আপনার মনের জেলখানায় বাস করে।"

Sunday, May 10, 2020

একালের ডাকাত!

আগে চোরাবেটা চুরি করত, ভয়ে-ভয়ে। আদুল গায়ে বিস্তর তেল-টেল মেখে। ধরা পড়লে খালি গা চুপচুপে তেলের কল্যাণে যদি বাঁচা যায়। ডাকাতরা অবশ্য এইসবের ধার ধারত না তবে লোকজন হারে-রেরে-রে-রেরে করে তেড়ে আসলে 'উক্কা দৌড়'। যারা খানদানি তাদের কথা সামান্য আলাদা। মানির মান বলে কথা-তারা  পালিয়ে যাওয়ার পূর্বে দু-চারটা ফাঁকা গুলি ফুটিয়ে যেত।

সেসব সেকালের কথা। এখনকার নিয়ম অনেকখানি আলাদা।

Tuesday, May 5, 2020

আমার বাবা নামের মানুষটা!

লেখকমনোরম পলক

"৫৩ দিন পরে ৫৪ ধারার মামলা। পিঠমোড়া করে তো শুধু কাজলকে বাধেনি আমাদের পুরো পরিবারটিকে বেঁধেছে একসাথে। একটার পর একটা মামলা দিয়ে বাঁধছে। আমাদের পরিবারে আমরা ৫ জন মানুষ। মাথাপ্রতি একটি করে মামলা। তিনটি Digital sequrity act মামলা দিয়েছে।

Monday, May 4, 2020

গুণের নুন-নুনের গুণ!

আমি পূর্বের অনেক লেখায় বলেছি একটা দেশকে চেনার জন্য প্রথমেই তাকাতে হবে ওই দেশের বুদ্ধিজীবীদের পানে। এরা সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলছেন নাকি গাজীকে পাজি পাজিকে গাজি বলছেন। আমাদের পোড়া এই দেশে সেই গাটসওয়ালা

Saturday, May 2, 2020

আনন্দ-বঞ্চনার কাব্য।

"এই এপ্রিলেই রচিত হয়েছিলো আমাদের আরেকটি সাহসী গল্প, বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস, আরেকটি গৌরবোজ্জ্বল দিন। কিন্তু ১৯ বছর আগের ঘটে যাওয়া সেই বীরত্বগাঁথা মনে রাখেনি কেউ। হয়নি কোথাও স্মৃতিচারণ। জীবন বাজি রাখা যোদ্ধারা পাননি কোনো স্বীকৃতি। সার্বভৌমত্ব রক্ষার সে যুদ্ধে প্রাণ হারানো শহীদের পরিবারগুলো পায়নি কোনো প্রণোদনা। গৌরবান্বিত দিনটি ঘিরে পালিত হয় না কোনো দিবস। নিভৃতে চলে গেলো পুরো এপ্রিল কিন্তু মেলেনি কোথাও একবিন্দু সাড়া!

Friday, May 1, 2020

জাফর ইকবালের ট্রেঞ্চ!

লেখক, জেনারেল Alm Fazlur Rahman, [১] তাঁর অনুমতিক্রমে লেখাটা এখানে হুবহু দেয়া হল।