Wednesday, October 28, 2020

আহারে জীবন এবং DW: ভাল লাগা-মন্দ লাগা

আমাদের দেশের মিডিয়া খুব আগ্রহ নিয়ে এই সমস্ত প্রতিবেদনগুলো করে- যেমন সাকিব আমেরিকায় ঘাস কাটছে। অতি উত্তম। সাকিব ঘাস কাটতে পারে এই নিয়ে আমরা বঙ্গাল উল্লসিত। কারণ আমরা জানতাম না যে সাকিব ঘাস কাটতে জানে এবং আগে জানলে অন্যদের কথা জানি না আমার বাগানের ঘাসটা কাটিয়ে নিতাম। অবশ্যই ঘন্টা হিসাবে পে করতাম।

যাই হোক, সম্প্রতি ডয়চে ভেলে, বসনিয়ায় কয়েক শত বাংলাদেশি যে পশুর মত জীবন যাপন করছেন তা নিয়ে বাংলার করা অসাধারণ এই ভিডিও প্রতিবেদন চোখে পড়ল। আহারে-আহারে! বুকের ভেতর থেকে হাহাকার পাক খেয়ে উঠে। একজন আদম সন্তান একটু ভাল থাকার জন্য পশুর চেয়েও খারাপ সময় পার করতে বাধ্য হচ্ছে! আহ, একটা মানুষ ২ বছর ধরে জঙ্গলে পড়ে আছে কেবল ইউরোপের কোন-একটা দেশে যাওয়ার আশায়।

মন্দের ভাল, এই প্রতিবেদনের সুবাদে হয়তো এদের জীবনটা খানিকটা বদলে যাবে, কে জানে! এমন একটা প্রতিবেদন কেবল একটা সংস্থার সুনামই বাড়ায় না। আমি বিশ্বাস করি, আই বেট, এই প্রতিবেদনের পেছনের মানুষদের আজীবন তাড়া করবে এই সমস্ত অসহায় মানুষদের ব্লেসিংস...। 

 

ভিডিও ঋণ: ডয়চে ভেলে 

এটার খোঁজ আমি জানতে পারি এদেশের একটা পত্রিকার বরাতে। এটা অবশ্য ভাল একটা সংবাদ যে এখন বাংলা ভাষার লোকজনেরা ডয়চে ভেলেকে আগের চেয়ে অনেক ভাল করেই জানতে পারছে মায় আমাদের দেশের মিডিয়াও। বাংলা ভাষার লোকজনরা এক সময় ডয়চে ভেলে বললে হাঁ করে তাকিয়ে থাকত।

এবার খানিকটা মন্দ লাগার কথা বলা যাক। ডয়চে ভেলে নতুন একটা টক-শো শুরু করেছে 'খালেদ মুহিউদ্দিন জানতে চায়'। খালেদ মুহিউদ্দিন এখন ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগের প্রধান। অতি উত্তম! বাংলা বিভাগের প্রধান মুহিউদ্দিন নাকি ছলিমুদ্দিন এটা আমার আলোচ্য বিষয় না। 'খালেদ মুহিউদ্দিন জানতে চায়', এই বিষয়ে পরে আসছি।

আমার কাছে যেটা মনে হয় নগ্ন গাত্রই কেবল অশ্লীল না- পাবে গিয়ে দুধ চাওয়াটাও অশ্লীল। আরেকটা ঘটনা মনে পড়ল, আমাদের দেশে কোন-এক শাসকের আমলে পত্রিকা বের করার জন্য লাইন পড়ে গেল। আন্ডা-ঝান্ডা কোন নামই বাদ গেল না। নামের বড় আকাল তখন! তো, এক সম্পাদক সাহেব যখন দেখলেন তার প্রস্তাবিত সবগুলো নামই বরাদ্দ হয়ে গেছে তখন তিনি বললেন, তাহলে স্যার আমার নামেই দিয়ে দিন। এটা কিন্তু সত্য ঘটনা। ওসময় পত্রিকায় এসেছিল।

যাই হোক, 'খালেদ মুহিউদ্দিন জানতে চায়'। নরোম করে বলি, খালেদ মুহিউদ্দিন কী জানতে চায়, কেন জানতে চায়? আর খানিকটা কঠিন করে বলি, হু দ্য হেল খালেদ মুহিউদ্দিন? এই দেশের লর্ড, নবাব ছলিমুল্লা? সে কী প্রজাদের বিষয়ে জানতে চায়? সে কী? সে একটা প্রতিষ্ঠান? কেন তাকে জানাবার দায় পড়েছে আমাদের!

গ্রে-মেটার আর রেকটাম মেটার কতটা জড়াজড়ি হলে, চিন্তার কতটা দৈন্যতা হলে একটা অনুষ্ঠানের নাম হয়, 'খালেদ মুহিউদ্দিন জানতে চায়'।  

No comments: