'সালমান মুক্তাদির' নামের ছোকরাকে নিয়ে আমাকে লিখতে হলো, কপাল—আমার ভাষায়, শব্দের অপচয়!
ধর্ষণ, বলৎকার এই শব্দগুলো পারতপক্ষে আমি লিখি না, লিখতে চাই না! কিন্তু এই লেখার জন্য 'এটা' লেখাটা জরুরি। ধর্ষণ নিয়ে ধর্মীয় শিক্ষক আহমাদুল্লাহ বলছেন, 'শরীয়া আইনে ধর্ষণের শাস্তি 'যিনা-প্লাস' মানে যিনার চেয়েও ভয়াবহ'!
"আমরা নিজেরাই নিজেদের কপালে আঘাত করেছি...!"
যাই হোক, সালমান মুক্তাদিরের মত মানুষ যখন শরীয়া আইন চাচ্ছে এটা একটা টার্নিং পয়েন্ট! প্র, ইউনূসের মত টুপি লাগিয়ে একে, সালমানকে বক্তৃতা করতে দেখলে আমি অন্তত অবাক হবো না!
শোনেন, হে 'শরীয়া সালমান', শরীয়া আইন সৌদি আরবে চালু আছে। আমরা বোঝার সুবিধার জন্য সৌদির উদাহরণ ধরি। যিনার যে শাস্তি, তার জন্য ৪ জন সাক্ষীর প্রয়োজন হয়। হে-হে-হে, কেউ তো আর দরোজা-জানালা খুলে ওই কাজ করে না! তাই 'হুদ' শাস্তির মাধ্যমে তাকে পাথর মেরে-মেরে, মেরে ফেলা যাবে না। এই ক্ষেত্রে আপনি সালমান বিরাট সুবিধা পাবেন।
কিন্তু স্যার, আপনার যে সচিত্র ছায়াছবিগুলো বাজারে ছড়িয়ে পড়েছিল সেটা নিয়ে ঝামেলা, মানে ডাইরেক্ট প্রাণ খোয়াতে পারেন। স্যার, একটু বুঝিয়ে বলি! শরীয়া আইন, 'তাজির'-এ ভিডিও কিন্তু স্ট্রং এভিডেন্স! বিচারক এটাকে স্পষ্ট প্রমাণ ধরে জেল-বেত্রাঘাত-মৃত্যুদন্ড দিতে পারেন! তো, স্যার, আপনার একটা ভিডিওই কিন্তু যথেষ্ট! ইয়ে, একটু মাথায় রাখবেন, ১০০ দোররা! ৮-১০টা দোররা মারলেই বাহ্যজ্ঞান লোপ পায় আর ১০০!
এই যে শরীয়া আইন চাওয়া আরেকজন!
যাক, এরা যখন এত করে শরীয়া আইন চাচ্ছেন তবে তাই হোক। শুরু হোক, হুজুরদের বলৎকারের বিচার দিয়ে। সৌদি আরবে বলৎকারকে 'লিওয়াত বিল ইকরাহ' মানে জোর করে পায়ুপথে যৌন নির্যাতন বলা হয়। যার মূল শাস্তি মৃত্যুদণ্ড!
সৌদি শরীয়া কোর্টে এটাকে ধর্ষণ এবং সমকামিতা দুই অপরাধ একসাথে ধরা হয়। তাই শিরচ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডই কার্যকর রায়।
না-না, হুজুরদের বিরুদ্ধে 'হুদ' ৪ জন সাক্ষী লাগবে না। এখানে প্রযোজ্য হবে, 'তাজির'। মেডিকেল রিপোর্ট, DNA, ভিকটিমের জবানবন্দি, আসামির স্বীকারোক্তি, বিশেষ করে সিসিটিভি, যেকোনো শক্ত প্রমাণেই বিচারক 'তাজির' হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারবেন।
বেশ! শুরু হোক তবে এই সব হুজুরদেরকে দিয়ে। কারণ এঁরা শ্রদ্ধেয় ধর্মীয় শিক্ষক এবং আমাদের ছোট-ছোট বাচ্চাদেরকে এঁদের কাছে আমরা রেখেছিলাম আমানত হিসাবে। অনেকে রেখেছিলেন বেহেস্তে যাওয়ার সিড়ি হিসাবে...!
* ICJ রিপোর্ট। এখানে লেখা আছে:
"Shari’a law... allows sentences ranging from imprisonment and flogging to death for deviant sexual behavior"
১. সৌদি কোর্ট 'বলৎকার' শব্দ ব্যবহার করে না। (কিন্তু আমরা আনন্দের সঙ্গে যুক্ত করব) SPA তে 'homosexual acts' লিখে। শরীয়া ফিকহ এবং আন্তর্জাতিক রিপোর্টে এটাকে 'sodomy/ লিওয়াত' বলা হয়।
২. জোরপূর্বক বলৎকার হলে, নীচে উল্লেখিত ১ ও ২ নং কেসের মতো মৃত্যুদণ্ডই স্ট্যান্ডার্ড শাস্তি। এটাকে 'হিরাবাহ' ধারায় ফেলে।
৩. ২০২০-এর পর সৌদিতে বেত্রাঘাত বাতিল হলেও লিওয়াত/বলৎকারের মৃত্যুদণ্ড আইনে আছে।
সৌদি আরবে বলৎকার/লিওয়াতের বিচার কেসের লিস্ট: ১. ২০০২ আবহা কেস, মৃত্যুদণ্ড! অপরাধ: ৩ জন সৌদি নাগরিকের বিরুদ্ধে 'sodomy অভিযোগ। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টেটমেন্টে 'sodomy, same-sex marriage and incitement to paedophilia' লেখা ছিল।
শাস্তি: ১ জানুয়ারি ২০০২-এ আবহা, আসির প্রদেশে প্রকাশ্যে শিরচ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। -রেফারেন্স: European Parliament H-0033/2002, Amnesty International UK, 2015
২. জুলাই ২০০০ আবহা কেস, মৃত্যুদণ্ড! অপরাধ: ৬ জন পুরুষের বিরুদ্ধে 'লিওয়াত/ সমকামিতা' অভিযোগ। Amnesty এর ভাষায় 'charges partly relating to their sexual orientation"। শরীয়া ফিকহে এটা বলৎকার/ লিওয়াত।
শাস্তি: জুলাই ২০০০-এ আবহা, আসির প্রদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। -রেফারেন্স: Amnesty International UK
সূত্র: ১. নির্মলেন্দু গুণ: https://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_3336.html?m=1
