আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়কে কোটি-কোটি টাকা ঘুষ দিতে চেয়েছে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কিন্তু তিনি ঘুষ নেননি!
এ যুগে এমন মহামানব বিরল! তাঁর এই কথা শুনে আমার চোখে জল চলে আসল, হুদাহুদি!
৬ বাচ্চা মারা গেছে আদ-দ্বীন হাসপাতালে, এটা ভয়াবহ অপরাধ। দায়ীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিন কোন সমস্যা নাই। কিন্তু যে হাসপাতাল লক্ষ-লক্ষ দরিদ্র মানুষকে সেবা দিয়েছে শত-শত গুরুতর রোগি এখনও ভর্তি—কলমের এক খোঁচায় আস্ত একটা হাসপাতাল বন্ধ করে দেবেন, এ অকল্পনীয়, অভূতপূর্ব!
২৫০ টাকায় কিডনি ডায়ালাইসিস, পৃথিবীর কোথাও হয় বলে আমার জানা নাই! এখানে হয়!
যাই হোক, সরকার থেকে শক্তিশালী তো আর কেউ নাই...! আকাশপানে তাকিয়ে থাকা ব্যতীত এই দরিদ্র মানুষদের তো আর কোন গতি নাই! আল্লাহ ভরসা!
কিন্তু এই যে ডায়ালাইসিস না-করতে পেরে রোগীর মৃত্যু হলো ওই রোগীরও কিন্তু ২ সন্তান আছে! এটার দায় কী সরকার বাহাদুর নেবেন?
আর আমাদের মন্ত্রীবাহাদুরের কাছে ছোট্ট একটা বিষয় জানার ছিল, সবিনয়ে। আপনি ঘুষের প্রস্তাব লাথি মেরে সরিয়ে দিলেন, আলহামদুলিল্লাহ!
কিন্তু আপনি এটা আজ মিডিয়ার সামনে বলছেন, এর আগ পর্যন্ত তো আমরা জানি না, কেউই জানে না। এই তথ্য আপনি আগে জানান নাই কেন? কেন গোপন করেছেন? কেন ঘুষ দাতাকে আইনের কাছে সোপর্দ করলেন না!
এটা তো সুস্পষ্ট আইনের ব্যতয়! দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ২০২: তথ্য গোপন। এর জন্য শাস্তি? সাধারণ অপরাধে ৬ মাস জেল/জরিমানা। মৃত্যুদণ্ড/যাবজ্জীবন অপরাধে ২ বছর জেল/জরিমানা।
আবার দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ২১৭: সরকারি কর্মচারীর গাফিলতি!শাস্তি? ২ বছর জেল/জরিমানা/উভয়।
দাঁড়ান-দাঁড়ান, আরও আছে! দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এ ধারা ২১: দুর্নীতির তথ্য গোপন করলে ৩ বছর জেল, জরিমানা!
নাকি, মন্ত্রী বাহাদুরদের জন্য অন্য আইন!
No comments:
Post a Comment