Search

Friday, June 19, 2026

প্রেস এ্যাডভাইস, সেই নোংরা টেলিফোন!

লেফটেন্যান্ট জেনারেল হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ যিনি 'লেজে হোমো এরশাদ' নামে পরিচিত ছিলেন, আমাদের কাছে! ০৩.০১.৯২ সালে মিনার মাহমুদের বিচিন্তায় ছাপা হয়েছিল:

"এরশাদ ক্ষমতায় ছিলেন ৩১৫৯ দিন। বাংলাদেশের ইতিহাসের এটাই এখন পর্যন্ত সর্ব দীর্ঘ শাসনকাল। স্বাভাবিকভাবেই এ আমলে প্রেস এ্যাডভাইসের সংখ্যাও অনেক। এক হিসেব অনুযায়ী '৮২ থেকে '৯০-এর আট বছরে সর্বমোট ৬৯৩ দিন সংবাদপত্রকে 'এ্যাডভাইস' দেয়া হয়েছে।

এরশাদ জমানায় প্রদত্ত অভিনব কিছু প্রেস এ্যাডভাইস তুলে ধরা যেতে পারে।

৭ মে, ১৯৮২

তথ্য অধিদপ্তর: কমলাপুর বৌদ্ধমন্দিরে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের বক্তৃতার ছবি শেষ পাতায় এবং খবর ছাপতে হবে প্রথম পাতাম।

২১ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২

তথ্য অধিদপ্তর: মোহামেডান-আবাহনী খেলা চলার সময় যে গুলি হয়েছে সে সম্পর্কে বাসস যে খবর পরিবেশন করবে শুধু সেটা ছাপা হবে।

২১ ডিসেম্বর, ১৯৮২

তথ্য অধিদপ্তর: জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের খবর ছবিসহ তৃতীয় পাতায় ছাপতে হবে।

১৯ মে, ১৯৮৩

তথ্য অধিদপ্তর: খুলনা পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের ছাত্ররা শিক্ষা মন্ত্রীকে 'কালো পতাকা' দেখিয়েছে। এ খবর ছাপা হবে না।

১৮ আগস্ট, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: প্রেসিডেন্ট এরশাদ মনপুরা গিয়ে পোলিও আক্রান্ত যে শিশুটিকে কোলে নিয়েছেন তা ভালভাবে ছাপতে হবে, প্রয়োজনে ছবিসহ।

১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: মীরপুর ডিফেন্স স্টাফ কলেজে  অধ্যায়নরত একজন কেনীয় ক্যাডেট গতকাল মাতাল অবস্থায় বনানীতে পানিতে ডুবে মারা গেছেন। এ খবর প্রকাশিত হবে না।

১৬ সেপ্টম্বর, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: উপ সামরিক আইন প্রশাসক এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদের ছবি ব্যবহার করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেছেন, আর ছবি ছাপা হয় না।

২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫

প্রেসিডেন্ট সচিবালয়: আগামীকাল শেখ হাসিনা যে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন তাতে যুতসই প্রশ্ন করার জন্যে রিপোর্টারকে বলে দিতে হবে।

২১ অক্টোবর, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: জে এরশাদ জগন্নাত হলে যাওয়ার সময় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের কাছে তার গাড়ীর উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনার কোন বিবরণ ছাপা হবে না। 

৩ নভেম্বর, ১৯৮৫

প্রেসিডেন্ট সচিবালয়: মালয়েশিয়া যাত্রার প্রাক্কালে জে এরশাদ যে কবিতা লিখেছেন তা ছাপতে হবে। 

২৯ জানুয়ারী, ১৯৯০

প্রধানমন্ত্রী: কোন পরিস্থিতিতেই আমার খবর বা ছবিকে জে এরশাদের ছবি বা খবরের চেয়ে প্রাধান্য দেয়া যাবে না।

এবার কিছু গুরুতর রাজনৈতিক প্রেস এ্যাডভাইস।

৩ নভেম্বর, ১৯৮২

তথ্য অধিদপ্তর: শেখ মুজিবের বাড়ীর সামনে এবং বনানী কবরস্থানের সামনে পুলিশের সংগে সংঘর্ষের কোন খবর ছাপা হবে না।

১৪ ফেব্রুয়ারী, ১৯৮৩

তথ্য অধিদপ্তর: আজকে ঢাকা শহরে যে সব ঘটনা (গুলী, হত্যা) ঘটেছে, সেসব বিষয়ে কোন খবর ছাপা হবে না। 

৯ এপ্রিল, ১৯৮৩

তথ্য অধিদপ্তর: জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (মিলন)-এর সাংবাদিক সম্মেলনের খবর ভালভাবে ছাপতে হবে।

২৪ জুলাই, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: পুলিশের গুলীতে মিরপুরের দুজন নিহত হওয়ার খবর ছাপা যাবে না।

২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বাহিনীর হামলায় সেনাবাহিনীর দু'জন অফিসার নিহত হওয়ার খবর ছাপা হবে না।

২২ অক্টোবর, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: জে এরশাদ আগামীকাল প্রেস কনফারেন্সে বক্তৃতা করবেন। এমন একজনকে পাঠাতে হবে যে বিব্রতকর কোন প্রশ্ন করবে না।

৫ ডিসেম্বর, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন করতোয়ায় বাংলাদেশী ও ভারতীয় নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর ছাপা হবে না।

২৪ জুলাই, ১৯৯০

তথ্য অধিদপ্তর: যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সচিবালয়ের লিফটে এক ঘন্টা আটকা পড়েছিলেন। বেরিয়ে আসার পর লিফটম্যানকে হেনস্তা করায় সবিচালয়ের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীরা তাকে ঘেরাও করে। খবরটি ছাপা যাবে না।

২৫ জুলাই, ১৯৯০

শান্তিবাহিনী রাঙ্গামাটিতে রেডিও রিলে স্টেশনে হামলা চালিয়ে তা কিছুক্ষণ দখল করে রাখে খবরটি ছাপা হবে না।

১৬ অক্টোবর, ১৯৯১

....মহিলার সংগে প্রেসিডেন্ট জে এরশাদের ছবি ছাপা যাবে না।

২৬ নভেম্বর, ১৯৯০

তথ্য অধিদপ্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদের বিরুদ্ধে হামলার সময় যে মাইক্রোবাসটি ব্যবহৃত হয় তা ছিল শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের। এ খবর ছাপা যাবে না।

এরশাদের পতনের পরও প্রেস এ্যাডভাইস এসেছে। আসছে। এইরূপ প্রথম এ্যাডভাইস ছিল অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের টুঙ্গিপাড়া সফর সংক্রান্ত। মুজিবের মাজার জেয়ারত শেষে জনাব সাহাবুদ্দিন সেখানে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। কিন্তু ঢাকায় জিয়ার মাজারে বক্তৃতা দেয়ার মত লোক পাওয়া যায়নি। সরকার এ্যাডভাইস পাঠিয়ে এ খবর ছাপতে নিষেধ করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় দুটি বড় ধরনের এ্যাডভাইস ছিল বাবরী মসজিদ এবং সামরিক বিষয়াদির খবর সংক্রান্ত। বাবরী মসজিদ নিয়ে সরকার উত্তেজক খবর পরিবেশন করতে নিষেধ করে। অন্যদিকে সামরিক প্রসঙ্গে সরকার জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি স্মরন করিয়ে দিয়ে বলেন যে, এখন থেকে সামরিক বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট কোন খবর প্রকাশ অবশ্যই এড়িয়ে যেতে হবে। তথ্য অধিদপ্তর এই নির্দেশের যথেষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।

-মনোয়ার মুস্তাফা"






No comments:

WhatsApp