আমার মতে, জ্ঞান হচ্ছে একটা সরলরেখা। আপনি শিখতে থাকবেন আর এগুতে থাকবেন—একটা সরলরেখা। থামাথামি নাই—নাথিং গনা স্টপ ইয়্যু!
আর, নির্বুদ্ধিতা হচ্ছে, আমি অনেক বড়—আমি জানি—অনেক জানি। তখন সরলরেখাটা ক্রমশ বৃত্তে রূপ নেয়। বে-সিন, ব্যস! ওই মানুষটা তখন অনবরত বৃত্তে ঘুরপাক খায়। এক বস্তা ডুমকফ—নির্বোধ!
আজকের কাগজ হুমায়ুন আজাদের একটা সাক্ষাৎকার ছাপিয়েছিল। ১৯৯২ সালে।
হু. আজাদ (হুমায়ুন আজাদ):
আমি যদি হুমায়ুন আজাদের লেখার পাঠক হতাম তাহলে তার বই আগ্রহ সহকারে পড়তাম। আর মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বলতাম, কবিতার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তবে আরো কবিতা লেখা উচিত ছিলো। সমালোচনার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, হয়তো বাংলাদেশের সমালোচকদের মধ্যে দু'জনের একজন।
ভাষা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনিই সবচেয়ে ভালো। কিশোর সাহিত্যের ক্ষেত্রে বলতাম, তার লেখাই মননশীল হয়েছে। কলামের ক্ষেত্রেও 'ভাবতাম তার কলামই শ্রেষ্ঠ, যেমন ভাবেন অন্য পাঠকরা; নারীবাদী তার ক্ষেত্রে বলতাম, বাংলাদেশে নারীবাদের কোনো জননী নেই, জনক রয়েছে, সে হচ্ছে হুমায়ুন আজাদ।
কাগজ: লেখক হিসেবে মূল্যায়ন করুন?
হু. আজাদ: লেখক হিসেবে এখন কিছু বলতে চাইনা। বলবো আরো পনেরো বছর পর।
(আজকের কাগজ ১২.১১.৯২)
হু আ (হুমায়ুন আজাদ):
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশংকর বা বিভূতিভূষন- এদেরকে বিশ্বমাপের বা দ্বিতীয়-তৃতীয় মাপের বলেও মনে করি না।
মননশীলতার কথা যদি ধরা হয়, পাশ্চাত্যে বা পশ্চিমে আমার চেয়ে বেশি মননশীল কেউ আছে বলে আমার মনে হয় না। ভাষা বিজ্ঞানের যে চর্চা আমি করেছি সেটা বিশ্বমাপের নয়, কিন্তু বাংলাদেশে যারা ভাষাবিজ্ঞানের চর্চা করছে, তাদের প্রায় সবার চেয়ে গুরুত্বপূর্ন আমার কাজ। সাহিত্য সমালোচনার ক্ষেত্রে আমি দুইজনকে গন্য করি। একজন অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তি সৈয়দ আলী আহসান, আব্দুল মান্নান সৈয়দ। তাঁরা বেশ ভালো কাজ করেছেন। এঁদের চেয়ে ভালো কাজ বাংলাদেশেতো বটেই পশ্চিম বাংলায়ও হয়নি।
(বিচিন্তা ১৪/২/৯২)


No comments:
Post a Comment