Search

Saturday, June 11, 2022

সাহেব আসিলেন, বিনা পয়সায় ট্রেনে চড়িলেন, ৬ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট ৬ সেকেন্ডে দেখিলেন!

২০১৬ সালে আখাউড়া-লাকসাম ডাবল লাইনের খরচ ধরা হয়েছিল ৬৫০০ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের তারিখ দেওয়া ছিল ২০২০ সালের জুন মাস। এখন ২০২২ সালের জুন মাস। অনায়াসে ২ বছর চলে গেছে কিন্তু এই কাজ এখনও চলমান। কবে নাগাদ শেষ হবে এটা আমরা প্রজাতন্ত্রের ট্যাক্সপেয়িরা জানি না বটে কিন্তু প্রজাতন্ত্রের বেতনভুক্ত কর্মচারিরা বিলক্ষণ জানবেন এমনটা আশা করাটা দোষের না। তবে অতীব আশার বিষয় হচ্ছে, আমাদের জীবদ্দশায় এর শেষ দেখে যেতে পারলেই আমরা খুশি!

তো, আজ রেলসচিব মহোদয় আখাউড়া-লাকসাম ডাবল লাইনের কর্মকান্ডের একটা হেস্তনেস্ত করে ছাড়বেন এমনটাই আমরা আশা করেছিলাম। কারণ ঢাক-ঢোল, কাঁসা-বাটি কোন বাদ্যই বাদ পড়েনি। দস্তরমতো বাতাসে সার্কুলার উড়ছিল যে মহোদয় আসছেন।

অবশেষে তিনি আসিলেন। ২০ মিনিট ট্রেন দাঁড় করিয়ে রাখিলেন। সাহেব ওভারব্রিজে পয়দল চড়িলেন। হাজার-হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট চোখের নিমিষেই বুঝিলেন!

দৈনিক ইত্তেফাক জানাচ্ছে:

আখাউড়ায় যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড় করিয়ে রেখে রেলওয়ে জংশন এলাকা পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড.মো. হুমায়ুন কবির। এতে যাত্রীদের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়...

সূত্র: https://tinyurl.com/2p8dyzbj

ঘটনাটা এমন। তিনি দলবল নিয়া বিলাসবহুল সেলুন কার হইতে ('স্বপদে', সদর্পে) নামিলেন। বিশাল বাহিনী সহযোগে স্টেশনময় হেলিয়া-দুলিয়া হাঁটিয়া চলিলেন। সদলবলে টগবগ করিয়া ওভারব্রিজে উঠিলেন, নিমিষে চারপাশে চোখ বুলাইলেন। ওভারব্রিজ অক্ষত রাখিয়া দুদ্দাড় বেগে নামিয়া আসিলেন। আহারে, এর বাইরে তাঁহার এতো সময় কোথায়, রে বাওয়া। অতঃপর মিডিয়ার সঙ্গে কথাও বলিলেন। 'অতঃপরেরও পর' ট্রেন ছাড়িবার ব্যবস্থাও করিলেন।  এই কারণে আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।

ওদিকে শত-শত যাত্রি যাহারা গাঁটের পয়সা খরচ করিয়া টিকেট কাটিয়া ছিলেন তাহারা স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটক দেখিতে-দেখিতে নিজেদের মুন্ডু নিজেরাই চিবানো ব্যতীত উপায় কী! আহা, বড় ভদ্র জাতি যে আমরা...।

অথচ দেখুন উন্নত দেশগুলোর 'লুকজনেরা' কত্তো অভদ্র, কত্তো খারাপ। অষ্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অজান্তেই একজন নাগরিকের বাগানের ঘাস মাড়িয়ে দিয়ে ছিলেন বলে সেই মন্ত্রীকে ওই নাগরিক না-হক কথা শুনিয়ে দেয় []।

শেইম-শেইম! আমরা ওই সব দেশের নাগরিকদের এই সমস্ত আচরণের নিন্দা জানাই।

সহায়ক সূত্র: 

১. উহাদের দেশের জনগণ খুব 'খ্রাপ', বড়ই বেতমিজ         

No comments: