Tuesday, July 7, 2020

আমার শৈশবকাল!

আমার একটা সাদামাটা শৈশব ছিল। কথাটা অনেকখানি ভুল হলো। ছিল কেন? এখনও আছে। আমার দূর্ভাগ্য আমি শৈশবকাল থেকে এখনও বেরুতে পারিনি। ফল যা হয়েছে ক্রমশ হয়েছি, 'আ বিগ জিরো'। এই নিয়ে আমার কোন দুঃখ নাই, লাজ নাই।
কেন, কারণটা বলি। এই কথাটা আমি বহুবার বলেছি আবারও বলি, সবারই যখন একটা করে ক্যারিয়ার আছে আমার কোনও ক্যারিয়ার নাই। রসিকতা করে এ-ও বলি, আমার হাতে টিফিন ক্যারিয়ার। তো, হারাবারও খুব বেশি কিছু নেই। এটা বাড়তি অনেকখানি সুবিধা এনে দেয় আমাকে। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ...।
প্রবল ইচ্ছা, আমার এই শৈশববেলা যেন আমাকে ছেড়ে না-যায়। মস্তিষ্কের খাঁজে-খাঁজে ঠাসা থাকুক শৈশবের এই সমস্ত হাবিজাবি স্মৃতি। অপার্থিব যন্ত্রণাগুলো চাপা পড়ুক এই সব স্মৃতিগুলোর নীচে।

আমরা এটাকে বলতাম, 'পিছলি' বা পিছলি-গোটা! শংকর দা (শংকর সাঁওজাল) অবশ্য বললেন তাঁরা এটাকে বলতেন, 'উড়ি গাব' (বরিশালের ভাষায়)। কখনও-কখনও এটায় প্রচন্ড আওয়াজ হয়। আগে এটা আমাকে যেমন আনন্দ দিত এখনও সেই আনন্দের মাত্র খুব একটা কম না।

এখন অবশ্য আগের মত মার্বেল খেলা হয় না। 
কিন্তু আমার এখানে কেউ এলে তাকে মার্বেল খেলায় লাগিয়ে আলগোছে সটকে পড়ি []। 

এটার আওয়াজও কম ছিল না কিন্তু মুশকিল হচ্ছে এর বারুদ এখন আর পাওয়া যায় না। কিন্তু এরও বুদ্ধি আছে একটা, ম্যাচের কাঠি দিয়ে...।

এই লাটাইটার ম্যালা বয়স। এটা তখনকার যখন আমার বয়স আরও অনেক কম ছিল :)
কিন্তু লাটাইটা বুড়া হলেও এখনও দিব্যি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। যেমন, এই ঘুড়িটা উড়ে চমৎকার কিন্তু একটাই দোষ! না-না, যৌবনের কোন দোষ না। এই ঘুড়িটা পেটুক টাইপের- সুতা লাগে প্রচুর। ঈগলের মত আকাশের অনেক উপরে না-উড়ে এটা আরাম পায় না।

আহা, সেই টিনের নৌকা! বালতি বা বড় বউলে পানির মধ্যে ছেড়ে দেওয়া। ডাংগুলি কথা আর নাই বলি। গাদুরা [] নামের বন্ধুটার কাছে নিয়ম করে হারতাম। জেতাপার্টি গাদুরা সব কিনে ফেলত- তিতাস নদী, খাদ্য-গুদাম, এমনকি আমাদের বাসাটাও! বাবাকে না-জানিয়ে বাসাটা খেলার বাজিতে ধরেছিলাম এবং যথারীতি হেরেছিলাম। বলতে গেলে ওর বাসাতেই এখনও থাকি। ভাগ্যিস, বাবা বেঁচে নেই। কপাল, গাদুরাও বেঁচে নেই...।


অনেকে হেলাফেলা ভঙ্গিতে এটাকে চালাবার চেষ্টা করেন কিন্তু এটা চালাবার কিছু কায়দা-কানুনও রপ্ত করা লাগে!

তবে একটা খেলা, লাটিম। ওসময়ও কব্জা করতে পারিনি, এখনও। কেউ যখন বনবন করে লাটিম ঘোরায় আমি হাঁ করে তাকিয়ে থাকি। ঈর্ষায় কাতর হই। আর যখন ঝড়ের গতিতে তালুতে তুলে নেন তখন মনে হয় হাতটা সোনার পানি (আসল সোনার যা দাম নইলে সোনা দিয়ে দিতাম) দিয়ে মুড়িয়ে দেই।  
চেষ্টায় আছি। একদিন শিখব, শিখবই...।
আফসোস, আমাদের পরের প্রজন্মের কোন শৈশব নাই। এদের গায়ে রোদ-কাদামাটি নাই। আছে কেবল অহেতুক মেদ-আবর্জনা। একটা উদাহরণ দেই। এক ছেলে ক্যামব্রিজে গিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত। ওখানে তার খুব পছন্দ হয়েছে, ১. রোদ, ২. সাইকেল চালানো, ৩. এটা আমি এখন এখানে আলোচনায় আনতে চাচ্ছি না। কারণ এই প্রসঙ্গ নিয়ে 'টেন মিনিটস স্কুল' বিষয়ে দেশ উত্তাল। (ইচ্ছা করেই তাই ওই স্ক্রিণশটটা দিলাম না)।
তো, যেটা বলছিলাম, এই প্রজন্ম বা ফার্মের মুরগির প্রজন্মের সমস্যাটা হচ্ছে এরা ক্রমশ বড় হচ্ছে এক শূন্য অস্থিরতায়। শেকড় থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। এরা বিস্মৃত হচ্ছে, আমরা নারকেলগাছ আমাদের শেকড় বহু দূরে ছড়িয়ে। নারকেলগাছ 'রিপট' করা যায় না। আমরা বিদেশীদের মত টবের গাছ না- আজ এখানে তো কাল ওখানে।  আমরা যেমন এখনও দাদা-দাদি-বাবা-মা'র বুড়া হাড়গুলো বুকে জাপটে রাখি এদের কাছে এই সব ফেলনা-,পোকায়-খাওয়া হাড্ডি! কালে-কালে এর পরিণাম কী ভয়াবহ সেটার ফল দৃশ্যমান। বাপ বা মা আইসিউতে। পোলা স্ট্যাটাস দিয়ে বলছে, 'আমার আব্বু -আম্মু অসুস্থ। ফ্রাস, তোমরা প্রে করবা'। পোলা কিন্তু বাপের ধারেকাছেও নাই। সে অন্যত্র বসে-দাঁড়িয়ে-শুয়ে লাইক, মন্তব্য গুনছে। ঝটপট উত্তর দিচ্ছে। 
ক্যামব্রিজে গিয়ে ওখানে সাইকেল চালানো খুব মুগ্ধ করে, না? অথচ বাপ রক্ত পানি-করা টাকায় পোলাকে সাইকেল কিনে চালাতে বললে সে এটার ধারেকাছেও যাবে না।  কারণ বিভিন্ন, ইগো সমস্যা-ভাব সমস্যা-দা থেকে আছাড় বড় সমস্যা।
লকডাউনে ঘরে বসে-বসে পোলার চামড়া ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। বাবা এটা বলে-বলে ক্লান্ত হয়ে যাবে: গায়ে খানিকটা রোদ লাগা, বাপ। কে শোনে কার কথা! কিন্তু ক্যামব্রিজের রোদ। ওরি বাবা, মা-খ-ন। একেবারে সাহেবদের বা-টা-র...!
সহায়ক সূত্র:

2 comments:

রায়হান said...

দাদা,আপনি ভুল সময়ের মানুষ।আপনাদের দেশে ঘুরতে আসলে আপনার পায়ের ধুলো নিয়ে যাব।
বিশ্বম্ভর, আসাম

Unknown said...

আহা! কত প্রাণবন্ত শৈশব!