Monday, September 14, 2020

একজন ওসি প্রদীপ, একজন স্যার এবং একটি বিদেশী দূতাবাস!

এই সত্য গল্পটা এই বঙ্গালদেশের বঙ্গবুদ্ধিজীবীরা পেছনে চশমা লাগিয়ে (পেছনে চশমা লাগাবার স্থানটা নিয়ে আমি কারও সঙ্গে বিতর্কে যাব না কারণ আদতে চোখও একটা গর্তই...) যতটা সহজ-রঙিন দেখবেন বিষয়টা আসলে এতোটা রঙিন না।
কে এই ওসি প্রদীপ? ওসি প্রদীপ [] গোটা সমাজ ব্যবস্থার একটা উদাহরণ মাত্র। ইয়ে ফেটে ওসি প্রদীপের জন্ম একটা দুর্ঘটনা মাত্র বা এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা এটা আমি বলতে চাই না। এই প্রদীপ সম্বন্ধে আমি পরে আলোচনায় আসছি। তার কিছু কর্মকান্ডের খানিকটা নমুনা জানা যাক। তার অনেক কান্ডই আছে কিন্তু আমি এটা বেছে নিয়েছি এই কারণে এটা একজন সাংবাদিক বিষয়ক। এই দেশের একজন সাংবাদিককে প্রদীপ 'রাঙ্গেহাতে' (হাতেনাতে) ধরেছে, মদ, অস্ত্রসহ:

কিন্তু আমরা সেই অস্ত্রবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ওরফে সাংবাদিকের মুখে একটু শুনি আসলে কী ঘটেছিল? কী নির্মম অত্যাচারই না করা হয়েছিল এই সাংবাদিককে।
 

এছাড়াও আমরা এই লেখায় [] ফরিদুল মোস্তফার এবং প্রতিবেশীদের মুখে শুনেছি কেমন করে অস্ত্র এবং মাদক দিয়ে এই সাংবাদিককে নরকদর্শন করানো হয়েছে।
সব বাদ দিলাম। প্রদীপ অন্য সাংবাদিককে যে হুমকি দিচ্ছে ওখানে সে অকপটে স্বীকার করছে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার সঙ্গে সে কী করেছে!

উড য়্যু পারমিট মি, আমি খুবই অমায়িক একটা প্রশ্ন করতে চাই, আমাদের দেশের সমস্ত সংবাদপত্রের সাংবাদিক মহোদয়গণ তখন কোথায় ছিলেন? অন্তত এই প্রবাদেও যদি বিশ্বাস করেন যে কাউয়া কাউয়ার মাংস খায় না তাহলেও তো আপনাদের ভাইয়ের পাশে আপনাদের দাঁড়াবার কথা। নাকি আপনারা আমাদের দেশের বঙ্গালবুদ্ধিজীবীদের মত ইয়েতে চশমা লাগান? নাকি আবার সেই সময়টায় ইয়েতে লাগানো সেই চশমা পরে 'কুহুতুর' পর্বতে হাওয়া খেতে চলে গিয়েছিলেন?
ওসি প্রদীপের সিনিয়রাই-বা তখন কোথায় ছিলেন? ওসি প্রদীপ (জীবিত) সঙ্গে একজন এসপির ফোনালাপ তো আমরা শুনলাম। তিনি বলছেন, দশ-বারো দিন লাগিয়ে মেজর (মৃত) সিনহা কী ছবি তোলে? শোনো কথা! ভাগ্যিস, মেজর সিনহা বছর লাগিয়ে মুভি বানাতে যাননি নইলে এই এসপি মহোদয়ের জ্ঞান হারাবার অবস্থা হত:

ওসি প্রদীপ প্রিজন ভ্যানেও কথা বলে! 'কথা বলে' কথাটা ঠিক হল না কথা বলতে পারে। কোনো 'একজন স্যারের' কাছে তার ক্ষোভ প্রকাশ করছে। হোয়াড আ দেশ, মাইরি!

বেতনভুক্ত কর্মচারী প্রদীপ ক্রসফায়ারের নামে যেসব খুন করত সেই খুন করার জন্য আমাদের ট্যাক্সের পয়সায় কিনে-দেওয়া সার্ভিস রিভলবার ছাড়াও তার চাঁদাবাজির পয়সায় ৭ লাখ টাকা দিয়ে সে ওয়ালটার (সম্ভবত প্রথম আলো ভুল করেছে। হবে ওয়ালথার) পিস্তল কিনেছিল খুন করার জন্য। এটায় নাকি খুন করতে আরাম:

সব কথার শেষ কথা-'ওস্তাদের মাইর শেষ রাতে'। ওয়াল্লা, ওসি প্রদীপের নাকি কানেশন বিদেশী-এক দূতাবাসের সঙ্গে!
কোন দূতাবাস? সেটা এখানে আলোচ্য বিষয় না। একজন ওসির কানেকশন একটা দূতাবাসের সঙ্গে, ভাবা যায়! ভাবাভাবি বাদ দিয়ে কোন-একদিন হয়তো শুনব কোন-এক মুচিরও কোন-এক দূতাবাসের সঙ্গে হট-কানেকশন আছে। সে প্রয়োজনে দূতাবাসে ফোন করে এটাও জানতে চায় তার বউয়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটাবার উপযুক্ত সময় কখন...।

সহায়ক সূত্র:
১. হায় সিনহা...: https://www.ali-mahmed.com/2020/08/blog-post_9.html      

No comments: