Monday, December 7, 2009

পাখি উড়ে যায়, ফেলে যায় পালক


ভারমুক্ত লাগছে। আমাকে খুনি বানাবার অপচেষ্টা থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। থ্যাংকস বাডি। মৌমাছি ভাইজানরা গাট্টি-বোঁচকা নিয়ে পগার পার হয়েছেন। ফেলে যাওয়া বাসাটা আমাকে দান করে গেছেন।

আচ্ছা, এরা বুঝল কেমন করে, আমার মত অকর্মণ্য, বাতিল একজন মানুষকে দিয়ে অহেতুক খুনাখুনি করানো সমীচীন হবে না। ওয়াল্লা, আমি কি তাহলে এতদিন এদের ওয়াচে ছিলাম- আমার অজান্তেই আমাকে চোখে চোখে রাখা হয়েছে? এদের গোয়েন্দা বিভাগ কী আমাদের দেশের গোয়েন্দাদের চেয়েও চৌকশ! তাই হবে। 

এখন আবার চড়ুই পাখির উপদ্রব! এদের কাজের সূক্ষতার জবাব নাই। এরা দীর্ঘদিন ধরে আছে আমার অজান্তেই, যথারীতি বিনা ভাড়ায়। কসম, টেরটিও পাইনি। এতো সাবধানি এরা! 

একটা বাবুই পাখির বাসার খুব শখ ছিল। যাকেই বলি একটা যোগাড় করে দিতে তিনি অমায়িক ভঙ্গিতে বলেন, আছে তো।
আমি চকচকে চোখে বলি, দেন না একটা যোগাড় করে। তারা আমাকে নিয়ে তালগাছের নীচে দাঁড় করিয়ে দেন। দেখো দিকি কান্ড, আমি কী তালগাছে তরতর করে চড়তে পারি। এদের এককথা, এরা নাকি তালগাছে বাসা না বাঁধলে আরাম পায় না। আমি ঠান্ডা-ঠান্ডা শ্বাস ছাড়ি। কেন রে বাপ, নীচু কোন গাছে বাসা করলে কেউ কী দা নিয়ে তাড়া করবে!
পোড়া মরিচ গিয়ে পড়ে খিচুরিতে। একদিন দেখি আমার নারকেলগাছে বাবুই পাখির অনেকগুলো বাসা। কি কারণে জানি না, একেক করে বাসাগুলো মাটিতে পড়া শুরু হলো। আমি এগুলো কুড়িয়ে আনি। বেশ কটা জমে গেল। একটা বাতির চারপাশে ঝুলিয়ে দিলাম।

চড়ুই পাখি এই বাতিটার ভেতর বাসা গেড়েছে, বোঝার কোন জো নাই। আমি যখন আয়েশ করে সিগারেট ধরাই, প্রায়শ কাঁচের ঠুনঠুন শব্দ হয়। আমি ভাবি, কাঁচ বাতাসে নড়ে বুঝি। এভাবে দিনের পর দিন পার হয়েছে।

কিন্তু তোমরা আমার সঙ্গে চালবাজি করে পার পাবে না, বদমাশ। তোমরা কি আমার মত ইশকুলে নেকাপড়া করেছ, সায়েন্সের কিলাশ করেছো? প্রতিবিম্ব বুঝো? ওই গাধারা, পেছনের দেয়ালে তোদের অস্পষ্ট ছায়া দেখা যায় রে। হু-হু, বাওয়া চড়ুই, আজ হাতেনাতে রহস্য উদঘাটিত।    

*ছবিস্বত্ব: সংরক্ষিত

No comments: