Friday, June 29, 2007

প্রকৃতির পছন্দ অপছন্দ…

প্রকৃতির ভারী পছন্দ চিরাচরিত পথ ধরে হাঁটা- অন্য পথও তার অজানা নেই বলেই হয়তো আগ্রহের কমতি। প্রকৃতির আমোদের শেষ নাই- ক্রমশ শেকড় ছড়িয়ে যাওয়ায়। যেন ছোট্ট একটা শিশু খেলছে আপন মনে।

কোন কোন পুরুষ অন্য একজন পুরুষের প্রতি অন্য রকম আকর্ষণ বোধ করেন, কেন? এটা মনোবিদরা ভালো বলতে পারবেন। আমাদের দেশে এ নিয়ে খুব একটা কাজ করা হয়েছে বলে তো শুনিনি। এই যে কেউ কেউ, এরা কেন আগ্রহ বোধ করেন! আমাদের পূর্বপুরুষের কাছ থেকে কি ধার করা খানিকটা স্মৃতি?

সভ্যতার শুরুতে মানুষের চিন্তা ভাবনা, কর্মকান্ড ছিল অবাধ। জ্ঞান উন্মেষের কারণে মানুষ দলবদ্ধ হয়ে চলা শুরু করে, পরে সমাজবদ্ধ। ফলশ্রুতিতে এই সমাজকে টিকিয়ে রাখতে যথারীতি আমদানী হলো ত্যাগ। মানুষের অবাধ ভাবনা ভাগ হয়ে গেল সু এবং কুতে। কু প্রবৃত্তিগুলোকে বাঁধা হলো পরতের পর পরত শেকলে। আমাদের অচেতন মন কি সেই ভারাক্রানত স্মৃতিতে কাবু। প্রকৃতির বিরুদ্ধে যাওয়ার জন্য মানুষের মন কি সর্বদাই মুখিয়ে থাকে- কে জানে, হবে হয়তো বা!

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা এক ধরনের অসুখ। তাঁরা চেষ্টা করছেন নষ্ট জিন সরিয়ে ফেলতে। এটা আমার এক বন্ধুকে বলামাত্র তিনি মৃদু আপত্তি জানালেন, তার মনোভাব বুঝতে আমার বাকী ছিল না। কোন এক বিচিত্র কারণে তিনি আমাকে খানিকটা সমীহ করেন। সম্ভবত বয়সের কারণেই। এই মানুষটা অগাধ পড়াশোনা বিভিন্ন বিষয়ে- আমাদের মতো মানুষদের এমন নমুনা দেখে লজ্জায় মাথা কাটা যায়! আমার গোপন ইচ্ছা ছিল তার সঙ্গে তর্কে যাওয়ার এ দাবী করি না। আমি জানি ইয়া লম্বা লম্বা চোথা ধরিয়ে দেবেন, তাও ইংরাজীতে। কে যায় বেল তলায়!

যে কথাটা বলা হয়নি তাঁকে। মানুষের এই গোপন ইচ্ছার জন্য অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে। জেনেটিক সমস্যা বহুলাংশে দায়ী। এটা বললেই তিনি রে রে করে তেড়ে আসতেন। তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলতেন, এইটা খুব একটা ঢং হইছে, কিছু হইলেই দাও দোষ জিন-এর।

আমাদের দেশে এই সমস্যা নিয়ে খুব একটা কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। অথচ উড়িয়ে দেয়া চলে এটা বলাও চলে না। যে সচেনতা গড়ে উঠার প্রয়োজন ছিল তা অনুপস্থিত। ফলশ্রুতিতে অজান্তেই অনেকে জড়িয়ে পড়েন। এই প্রসঙ্গে আমাদের ভঙ্গিটা হচ্ছে অনেকটা ওই কাকের মতো- চক্ষু বন্ধ করে আছি বলে কেউ আমাকে দেখছে না। উন্নত দেশগুলোতে যে ভাবে ঘটা করে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, আমাদের দেশের কাঠামোতে আপাতত এটা সম্ভব হয়ে উঠে না। অনেক অজানা দিক আমরা জানতে পারছি না। অথচ এই নিগ্রহ যে কতোটা ভয়াবহ, কতোটা বিচিত্র যারা খানিকটা জানেন, মাথা খারাপ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

তো, এটা ছাড়াও বিশেষ কিছু পেশার লোকজনের মধ্যে এর হার প্রবল। কোন কোন পেশা এটা জনে জনে বলে বিতর্ক আর বাড়াই না। তবে একটা প্রসঙ্গ শেয়ার করি, সাগরে যেসব নাবিকরা ঘুরে বেড়ান দীর্ঘ দিন নারী বিবর্জিত- এদের মধ্যে এই হারটা আশংকাজনক। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সাগরপারে এরা সহজলভ্য।

তেমনি কিছু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও এই হার ভয়াবহ। তৈরী হচ্ছে একেকটা বৃষবৃক্ষ। এবং এই কান্ডের জন্য অনেক কারণ ব্যতীত ধর্মীয় গ্রন্থের পরোক্ষ উস্কানীও অন্যতম কারণ।