Saturday, December 5, 2009

চন্দ্রগ্রস্ত একজন মানুষ!


করপোরেট জগতের মানুষদের কাছ থেকে আমি নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখি। এরা একেকটা চলমান রোবট! ট্রাক এবং রোবটদের কাছ থেকে ১০০ হাত দূরে থাকাই মনুষ্যেচিত আচরণ।

এই দেশ দু-ভাগ হয়ে আছে; এমবিএ ডিগ্রি একদিকে অন্যদিকে তাবৎ ডিগ্রি। কেউ ফিলোসফিতে মাস্টার্স করেছে, নাকি সাইকোলজিতে, তাতে কী আসে যায়! এদের অনেককে খুব কাছ থেকে আমার দেখার সুযোগ হয়েছে। আমি শ্বাস আটকে ভাবতাম, এরা কী এই দেশের কেউ, নাকি এলিয়েন? কোন মতে একটা এমবিএ ডিগ্রি বাগাতে পারলে আর কিছু লাগে না, না? ব্যস, তখন মানুষটা হয়ে যায় 'হর্স-মাউথ'। চিঁ হিঁ হিঁ । সে বলবে সবাই শুনবে। তখন গুবগুবাগুব বাদ্যর প্রয়োজন নাই, মুখই যথেষ্ঠ!

কিন্তু এই মানুষটা আমার ধারণা পাল্টে দেন। আমার গোপন লুকানো দিকটা যেদিন হাত দিয়ে ছুঁয়ে দিলেন, কী যে অবাক হয়েছিলাম! করপোরেট জগতের এই মানুষটা ওদিন ফোনে অনেকখানি বিভ্রান্ত করে দিলেন। তাঁর তীব্র ইচ্ছা, ফুল-মুনে মাধবকুন্ড যাওয়ার। বেশ! ফুল-মুনে পাহাড়ের চুড়ায় বসে থাকার আকাঙ্খা এই প্রথম না। হুমায়ূন আহমেদের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের কথা শুনে শুনে ক্লান্তি এসে যায়। কিন্তু এরপর যেটা বললেন, তার ইচ্ছা, ত্রিশূল গেড়ে যে সাধুটা ওখানে বসে থাকত...ইত্যাদি ইত্যাদি। ইত্যাদি।
ত্রিশূল, সাধু! সাধুর চোখ দিয়ে অতি নাগরিক একজন মানুষ জ্যোৎস্না দেখতে চাচ্ছে! হা ঈশ্বর, তাও করপোরেট জগতের একজন মানুষ! 


ত্রিশূলের পাশাপাশি আরেকটা বিষয় আমার মাথায় আসে, সাধুরা ধ্যান করার সময় আধ হাত লম্বা একটা কাঠের জিনিস ব্যবহার করতেন। এটা সচরাচর বাঁ হাতের নীচে থাকত। হিন্দু ধর্মাম্বলীদের যাদের পেয়েছি জনে জনে জিজ্ঞেস করেছি এই জিনিসটা নাম কী? আফসোস, কেউ এখনও বলতে পারেননি- এদের মধ্যে কিছু পন্ডিত শ্রেণীর মানুষও আছেন। কেউ কেউ আশা দিয়েছেন, জানতে পারলে আমাকে জানাবেন। আজ (৭.১২.০৯) এটার একটা নমুনা যোগাড় করলাম। 
যাই হোক, আজ খানিকটা বুঝতে পারি, মানুষটা কেমন করে অন্য একজন মানুষের গোপন দিক অবলীলায়-চট করে বুঝে ফেলেন। যেমন করে তাঁর মত অতি নাগরিক একজন মানুষ, ফ্ল্যাট নামের কংক্রিটের বস্তিতে থেকেও আকাশ নামের একটুকরো জানালা গলে উপচে পড়া একফালি জোৎস্না দু-হাতে সরাতে সরাতে এগুতে থাকেন! সুতীব্র অনিচ্ছায় যান্ত্রিক আলোর সুইচ হাতড়ে বেড়ান!
আজ আমার মনে হচ্ছে, আমার মত মোটাদৃষ্টির মানুষদের লেখালেখি করার চেষ্টা করাটা সমীচীন না। লিখবে তো এইসব মানুষেরা! এঁদের দিব্যদৃষ্টি দিয়ে ফালি ফালি করে কাটবে, জোড়া লাগাবে। এই মানুষটার জন্য আমার বড়ো দুঃখ হয়, ভুল জায়গায় ভুল একটা মানুষ!

*ফুল-মুনে, সেল ফোনের ৩.২ মেগাপিক্সেল লেন্স দিয়ে চন্দ্রের ছবি তোলার চেষ্টা করাটা চন্দ্রের সঙ্গে এক ধরনের 'চন্দ্র-বেয়াদবি'।  আশা করছি, চন্দ্রমহাশয় আমার 'খাস্তাহাল' অবস্থা বিবেচনায় রাখবেন।
**তদুপরি ছবি-স্বত্ব: সংরক্ষিত

No comments: