Sunday, May 16, 2010

স্বপ্নের কারখানা

আমরা তো শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামানের [১] মতো কঠিন শিক্ষাবিদ না যে হঠাৎ মনে পড়ল, আরে, আমার তো মনেই ছিল না যে আমি একজন শিক্ষক! বা মতিউর রহমানের [২] মতো বিশাল মাপের মানুষ না যে, নিজেকে ব্যতীত সব বদলে ফেলব, কারণ নিজেকে আমার বদলাবার কিছু নাই। আমি সমস্ত বদলের উপরে, চলমান একজন দেবতা আর কী!

আমরা যারা খুব সাধারণ, আমাদের কাজ-স্বপ্নগুলোও বড়ো সাধারণ। ছোট-ছোট স্বপ্ন আমরা বুকে হরদম লালন করি। আমরা মনে করি, রাস্তায় কলার খোসাটা আমরাই সরাবো। কলার খোসাটা সরবার জন্য আমরা হাঁ করে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকব না।

আমার নিজস্ব জাগতিক সমস্যা এতো প্রবল, স্বপ্নগুলো প্রায় ভুলতেই বসেছিলাম। কিন্তু আমি প্রবল ভাবে বিশ্বাস করি, মন থেকে চাইলে অদেখা স্বপ্ন সলাজে দরোজার পাশে এসে দাঁড়াবেই- তাকে আসতেই হবে। আমার মধ্যে 'প্লাসিবো' ভাবটা প্রবল- অন্যের জন্য যা চাই তা কেমন কেমন করে যেন পেয়ে যাই!

আমার ছোট-ছোট স্বপ্নগুলো নিয়ে আবারও স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম। কেউ কেউ অযাচিত মমতার হাত বাড়িয়ে দিলেন। এঁদের আমি চিনি না, এঁরাও আমাকে চেনেন না, তাতে কী কিছু আসে যায়? ক্রমশ আমার এই স্বপ্নগুলো "আমাদের স্বপ্নে" রূপান্তরিত হয়। আমি থেকে আমরা...। 

কেবল স্বপ্নের কথা। আরও চমৎকার স্বপ্ন দেখার পরামর্শ-ভাবনা। আমি "স্বপ্ন" নামের একটা নতুন বিভাগ যোগ করছি। এখানে কেবল ছোট-ছোট স্বপ্নের কথাই বলা হবে। 
কেউ ভুলেও যেন এটা না ভাবেন, আমি খুব বড়ো কিছু করে ফেলছি। তাহলে আমি বলব, যারা এমনটা ভাবেন তাঁরা বোকার স্বর্গে বাস করেন। আমি কেবল পুরো বিষয়টা সমন্বয় করছি, আর কিছু না। এটুকুই আমার ভূমিকা। তবে হ্যাঁ, আমার যে অল্প মনন আছে তার সবটুকু আমি এখানে ঢেলে দেয়ার চেষ্টা করব।

আমার অনেক দিনের ইচ্ছা-স্বপ্ন, অসহায়, নিরন্ন বাচ্চাদের জন্য একটা আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। এই সব বাচ্চাদের [৩] যখন দেখতাম তখন নিজেকে কী অসহায়ই না লাগত। এদের জন্য কিচ্ছু করতে পারছিলাম না। মানুষ হিসাবে নিজেকে জাস্ট পোকা-পোকা মনে হতো। একজনের কাছে ২টা বাচ্চাকে [৪] দু-এক দিনের জন্য রাখতে দিয়েছিলাম এ আমাকে না জানিয়ে এই বাচ্চাগুলোকে বের করে দিয়েছিল। মানুষটাকে আমি কঠিন অভিশাপ দেই, তার মৃত্যু যন্ত্রণা যেন প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত হয়।

আমার কাছের লোকজনরা আমাকে কঠিন প্রকৃতির মানুষ হিসাবেই জানেন- কে বলেছে, কঠিন মানুষরা কাঁদতে জানে না? এরা হয়তো ঘটা করে কাঁদার নিয়মটা জানে না, জানলে ভালো হতো। কেউ কেউ প্রকাশ্যে কাঁদে, কেউ বাথরুমে...।

অনেক পূর্বেই এটা করার কথা ছিল কিন্তু আমার স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, অন্তত ১ বছর চালাবার মত টাকা না থাকলে এই কাজে হাত দেব না। কারণ, দু-এক মাস চালিয়ে টাকার জন্য বন্ধ করে দিতে হলে এ আরেক অন্যায়। ভাসিয়ে দেয়া শিশুগুলো যাবেটা কোথায়?

কিছু কিছু পাগলমানুষদের কারণে এই সব বাচ্চাদের সহসাই একটা গতি হচ্ছে। কেবল বাচ্চাদের জন্য আশ্রয়ই না, আমার আরও ভাবনা আছে। আগে এটা দাঁড় করে নেই। এর পাশাপাশি একটা বৃদ্ধাশ্রম করার ভাবনাও আমার আছে। এতে একটা অভাবনীয় কাজ হবে, বাচ্চারা তাদের হারিযে যাওয়া বাবা-মা, দাদা-দাদির সংস্পর্শ পাবে। পাশাপাশি বয়স্করাও পাবেন বাচ্চাদের সংস্পর্শ। 
আমি কিছু বৃদ্ধাশ্রমে দেখেছি, মানুষগুলো কী নিঃসঙ্গই না থাকেন- কেবল মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা! তাদের এই নিঃসঙ্গতা থেকেই ভাবনাটা আমার মাথায় আসে। এই ভাবনার সূত্রপাত এই মাকে [৫] দেখে, তাঁর প্রতি আমার অজস্র ভালোবাসা।

শিশুদের চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগীতা করা হবে হপ্তা-দশ দিনের মধ্যে। যার প্রধান অতিথী থাকবেন এই দেশের একজন সেরা সন্তান [৬]। এই শিশুরা এবং তাদের মারা শিখুক একজন নষ্ট রাজনীতিবিদ বা একজন পচে যাওয়া আমলার হাত থেকে পুরস্কার নেয়ার চেয়ে এমন একজন আগুনপুরুষের [৭] কাছ থেকে পুরষ্কার নেয়াটা অনেক মর্যাদার। 

আমার মাথায় অসংখ্য ভাবনা গিজগিজ করে। একেক করে এদের বেরুবার জায়গা করে দিতে হবে নইলে আমি যে মারা পড়ব। এখনই আমি মরতে চাই না, অনেক কাজ যে বাকী।

*স্বপ্ন: http://tinyurl.com/3y7bpz3

সহায়ক লিংক: 
১. শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামান: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_03.html 
২. মতি ভাইয়ার অ-শপথ: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_19.html 
৩. এলিয়েন: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_08.html 
৪. দু-বোন: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_13.html 
৫. মা (বৃদ্ধাশ্রম): http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_9329.html 
৬. নৌ-কমান্ডো: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_18.html 
৭. অগ্নিপুরুষ: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_22.html

3 comments:

।আলী মাহমেদ। said...

সচরাচর আমি মন্তব্য ডিলিট করি না কিন্তু আমার এই পোস্টে আপনার এমন মন্তব্য এবং লিংক দেয়াটা সন্দেহজনক। তাই আপনার মন্তব্য ডিলিট করলাম। @Yumei

Mahbub said...

শুভ ভাই, একটা ব্যপার লক্ষ্য করেছি। যেসব কাজে বা পোস্টে বাস্তবিক ভাবে কিছু করার আছে সেসব পোস্টে কেউ কমেন্ট করে না ! করে ক্যাচাল লাগানো পোস্টে।

" পোস্টের বিষয়বস্তুতে পরে বিস্তারিত আলাপ হবে দূরালোপোনীতে"

।আলী মাহমেদ। said...

সুমন,
তাতে কী আসে যায়?
তাতে কী স্বপ্নের কারখানা থেমে থাকে!