Search

Tuesday, July 7, 2026

জীবন বড় সুন্দর—জীবন বড় অসুন্দর!

'জীবন বড় সুন্দর' নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম, ২০২০ সালে। সাগরকে নিয়ে []। দেখা হয়েছিল ঠিক এই অবস্থায়! ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়। তখন তার জন্য একটা হুইল-চেয়ারের ব্যবস্থা করা গিয়েছিল।


শিশুটার ২ পা, এক হাত নেই। দুর্ঘটনার পর-পরই বাবা-মাও তাকে ফেলে দেয়।
আমি জীবনের কাছ থেকে শিখছিলাম কিন্তু বাবা-মা তার আপন সন্তানকে কেমন করে ফেলে দেয় এটা তখন মাথায় আসছিল না!

সেসময় ভাসানী নামের তার এই ভাই তাকে আগলে রেখেছিল যেটা আমাকে অসম্ভব, অসম্ভব মুগ্ধ করেছিল। এই কাল-কাল লিকলিকে ছেলেটার মধ্যে কী আছে যা আমার মধ্যে নাই! এত মায়া-এত মায়া!

এয়ারপোর্ট রেল-স্টেশনে আমি ট্রেন ধরব। ট্রেনের অপেক্ষায় আছি। জাগতিক কষ্টে খানিকটা অন্যমনস্ক ছিলাম সম্ভবত! আক্ষরিকভাবেই আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পা আটকে আছে—জোর করে কেউ ধরে রেখেছে। তাকিয়ে দেখি বড়সড় একটা বাচ্চা ছেলে।

অনেক সময় এরা নেশার টাকার জন্য এই কাজ করে। এই ছেলেটি কিন্তু টাকা চাচ্ছে না। হাসি-হাসি মুখ করে বলছে, 'স্যা..., আপনে ভাল আছেন'? আমার স্মৃতিশক্তি ভয়াবহ কিন্তু আমি চিনতে পারলাম, 'তুমি সাগর না'? এরপরই এ আমাকে বলছে, 'স্যা..., কি খাইবেন? আপনে একটা-কিছু খান'?

আমার চেহারায় কঠিন-কঠিন একটা ভাব আছে। মানুষটাও আমি কঠিন টাইপের কিন্তু আমার চোখ ভরে এসেছে! ট্রেন আসার আগ-পর্যন্ত এর সাথে কথা হয়, অনেক। তার ভাই ভাসানীও তাকে ফেলে চলে গিয়েছে। এখন এক পৃথিবী—এক সাগর! মাঝামাঝি কিছু নেই!

আমার পুরনো কষ্ট ফিরে আসে। মেঘে-মেঘে বেলা হয়ে যাচ্ছে বিদায়বেলা ঘনিয়ে আসছে কিন্তু এদের জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারলাম না। একটা পাইপমানুষ হয়েই রয়ে গেলাম—এই গ্রহে এসেছি কেবল খেতে আর বর্জ্যত্যাগে! 

ট্রেন ঢুকছে। যাওয়ার সময় তাকে বলি, 'দাঁড়াও, তোমার একটা ছবি তুলি'।

'দাঁড়াও' এই কথাটা কথাচ্ছলে বলা কিন্তু এ তো আর দাঁড়াতে পারবে না। আমার নিজের পা'র দিকে তাকিয়ে নিজেকে বড় অপরাধী মনে হচ্ছিল....!

সূত্র:

১. জীবন বড় সুন্দরhttps://www.ali-mahmed.com/2020/03/blog-post.html?m=1



No comments:

WhatsApp